(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: -)
وداع الرسول صلى الله عليه وسلم لأمته   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: وداع الرسول صلى الله عليه وسلم لأمته - دروسٌ، ووصايا، وعبرٌ، وعظات

المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 102

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

নিজের উম্মতের প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিদায়   (সাঈদ বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনী)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


বই: নিজের উম্মতের প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিদায় - শিক্ষা, অসিয়ত, শিক্ষাগ্রহণ, এবং নসিহতসমূহ

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনী

প্রকাশক: সাফীর প্রেস, রিয়াদ

পরিবেশক: আল-জুরাইসী ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভারটাইজিং, রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০২

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ যিলকদ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة مؤلفات سعيد بن وهف القحطاني

95

 

وداع الرسول صلى الله عليه وسلم لأمته

دروس، ووصايا، وعبرٌ، وعظات

 

تأليف الفقير إلى اللَّه تعالى

سعيد بن علي بن وهف القحطاني
সাঈদ বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহানির রচনাবলি গ্রন্থমালা

৯৫

 

তাঁর উম্মতের প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিদায়

পাঠসমূহ, উপদেশাবলি, শিক্ষা এবং নসিহত

 

মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দার রচনায়

সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহানি
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد للَّه، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ باللَّه من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده اللَّه فلا مضلَّ له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى اللَّه عليه، وعلى آله، وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلّم تسليماً كثيراً. أما بعد:

فهذه رسالة مختصرة في "وداع النبي الكريم، والرسول العظيم صلى الله عليه وسلم لأمته"، بينت فيه باختصار: خلاصة نسب النبي صلى الله عليه وسلم، وولادته، ووظيفته، واجتهاده، وجهاده، وخير أعماله، ووداعه لأمته في عرفات، ومنى، والمدينة، ووداعه للأحياء والأموات، ووصاياه في تلك المواضع، ثم بداية مرضه، واشتداده، ووصاياه لأمته، ووداعه لهم عند احتضاره، واختياره الرفيق الأعلى، وأنه مات شهيداً، ومصيبة المسلمين بموته، وميراثه، ثم حقوقه على أمته، وذكرت الدروس، والفوائد، والعبر، والعظات المستنبطة في آخر كل مبحث من هذه المباحث.

واللَّه أسأل أن يجعله عملاً مقبولاً نافعًا لي، ولإخواني المسلمين؛ فإنه وليُّ ذلك، والقادر عليه، وأن يعلّمنا جميعًا ما ينفعنا، ويوفّق
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের সবার ওপর অজস্র রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। অতঃপর:

এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা যা "উম্মতের প্রতি দয়ালু নবী ও মহান রাসূল (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর বিদায়" প্রসঙ্গে। এতে আমি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি: নবী (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর বংশপরিচয়ের সারসংক্ষেপ, তাঁর জন্ম, তাঁর দায়িত্ব, তাঁর প্রচেষ্টা, তাঁর জিহাদ, তাঁর সর্বোত্তম আমলসমূহ এবং আরাফাত, মিনা ও মদীনায় তাঁর উম্মতের প্রতি তাঁর বিদায় সম্ভাষণ। আরও রয়েছে জীবিত ও মৃতদের প্রতি তাঁর বিদায় এবং সেসব স্থানে তাঁর প্রদানকৃত অসিয়তসমূহ। এরপর তাঁর অসুস্থতার সূচনা, এর তীব্রতা বৃদ্ধি এবং উম্মতের প্রতি তাঁর অসিয়তসমূহ, মৃত্যুশয্যায় থাকাকালীন তাঁদের প্রতি তাঁর বিদায় ও মহান সঙ্গীকে (রফিক আল-আলা) বেছে নেওয়া। আরও উল্লেখ করেছি যে তিনি শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁর মৃত্যুতে মুসলিমদের মহা বিপদ, তাঁর উত্তরাধিকার এবং তাঁর উম্মতের ওপর তাঁর প্রাপ্য অধিকারসমূহ। প্রতিটি আলোচনার শেষে আমি সেসব থেকে সংগৃহীত শিক্ষা, উপকারিতা, দৃষ্টান্ত ও উপদেশসমূহ উল্লেখ করেছি।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এটিকে আমার এবং আমার মুসলিম ভাইদের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য ও উপকারী আমল হিসেবে কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। তিনি যেন আমাদের সকলকে আমাদের জন্য যা উপকারী তা শিক্ষা দেন এবং তাওফীক দান করেন...
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ৪)
جميع المسلمين إلى الاهتداء بهدي سيد المرسلين. وصلى اللَّه وسلّم، وبارك على عبده ورسوله، وخيرته من خلقه؛ نبيِّنا، وإمامنا، وقدوتنا، وحبيبنا محمد بن عبد اللَّه، وعلى آله وأصحابه، وسلّم تسليمًا كثيرًا.

المؤلف

حرر في ليلة الخميس 21/ 3/1416هـ
সকল মুসলিমকে রাসূলগণের সরদারের হেদায়েতের অনুসারী হওয়ার আহ্বান জানাই। আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা; আমাদের নবী, আমাদের ইমাম, আমাদের আদর্শ ও আমাদের প্রিয় মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর; আর তাদের ওপর বর্ষিত হোক অশেষ শান্তি।

লেখক

২১/ ৩/ ১৪১৬ হিজরি, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এটি লিখিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المبحث الأول: خلاصة نسبه ووظيفته صلى الله عليه وسلم -

هو محمد بن عبد اللَّه، بن عبد المطلب، بن هاشم، بن عبد

مناف، بن قصي، بن كِلَاب، بن مرة، بن كعب، بن لؤي، بن

غالب، بن فِهْر، بن مالك، بن النضر، بن كنانة، بن خزيمة، بن مدركة، بن إلياس، بن مُضر، بن نزار، بن معدّ، بن عدنان (1)، فهو عليه الصلاة والسلام من قريش، وقريش من العرب، والعرب من ذرية إسماعيل بن إبراهيم عليه وعلى نبينا أفضل الصلاة والسلام (2).

ولد صلى الله عليه وسلم عام الفيل بمكة في شهر ربيع الأول (3) يوم الإثنين (4)

الموافق 571م (5)، وتوفي صلى الله عليه وسلم وله من العمر ثلاث وستون سنة، منها:

--------------------------------------------

(1) البخاري مع الفتح،، كتاب مناقب الأنصار، باب مبعث النبي صلى الله عليه وسلم، 7/ 162، قبل الحديث رقم 3851.

(2) انظر نسب النبي صلى الله عليه وسلم إلى آدم: البداية والنهاية لابن كثير، 2/ 195، وسيرة ابن هشام، 1/ 1.

(3) هذا هو الصحيح المشهور أنه ولد صلى الله عليه وسلم عام الفيل في شهر ربيع الأول، وقد نقل بعضهم الإجماع على ذلك، انظر: تهذيب السيرة للإمام النووي، ص 20.

(4) التحديد بيوم الإثنين ثابت؛ لقوله صلى الله عليه وسلم حينما سئل عن صومه: ((فيه ولدت وفيه أُنزِل عليَّ))، مسلم، 2/ 820، برقم 1162، أما تحديد تاريخ اليوم، ففيه عدة أقوال: فقيل في اليوم الثاني، وقيل لثمانٍ، وقيل لعشر، وقيل: لسبعة عشر، وقيل في الثاني عشر، وقيل غير ذلك، وأشهر وأقرب الأقوال قولان: الأول: أنه ولد لثمانٍ مضين من ربيع الأول، ورجحه ابن عبد البر عن أصحاب التاريخ. انظر: البداية والنهاية، 2/ 260، وقال: <هو أثبت<. القول الثاني: أنه ولد في الثاني عشر من ربيع الأول، قال ابن كثير في البداية والنهاية: <وهذا هو المشهور عند الجمهور"، 2/ 260، وجزم به ابن إسحاق. انظر: سيرة ابن هشام، 1/ 171.

(5) انظر: الرحيق المختوم، ص 53.
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বংশপরিচয় ও নবুওয়াতের দায়িত্বের সারসংক্ষেপ-

তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ, বিন আব্দুল মুত্তালিব, বিন হাশিম, বিন আব্দু মানাফ, বিন কুসাই, বিন কিলাব, বিন মুররাহ, বিন কাব, বিন লুআই, বিন গালিব, বিন ফিহর, বিন মালিক, বিন নাদর, বিন কিনানাহ, বিন খুযাইমাহ, বিন মুদ্রিকাহ, বিন ইলিয়াস, বিন মুদার, বিন নিযার, বিন মা’দ, বিন আদনান (১)। সুতরাং তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—তিনি কুরাইশ বংশের অন্তর্ভুক্ত, কুরাইশরা আরবদের অন্তর্ভুক্ত এবং আরবরা ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্র ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর; তাঁর ওপর এবং আমাদের নবীর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক (২)।

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হস্তীবর্ষে মক্কায় রবিউল আউয়াল মাসে (৩) সোমবার (৪) জন্মগ্রহণ করেন, যা ৫৭১ খ্রিস্টাব্দের (৫) সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তেষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন, যার মধ্যে:

--------------------------------------------

(১) বুখারি মাআল ফাতহ, কিতাব মানাকিবুল আনসার, পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত লাভ, ৭/ ১৬২, হাদিস নং ৩৮৫১-এর পূর্বে।

(২) আদম (আলাইহিস সালাম) পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বংশপরিচয় দেখুন: ইবনে কাসীরের আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/ ১৯৫; এবং সীরাতে ইবনে হিশাম, ১/ ১।

(৩) এটিই বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ মত যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হস্তীবর্ষের রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন। কেউ কেউ এ বিষয়ে ইজমা বা ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন, দেখুন: ইমাম নববীর তাহযীবুস সীরাহ, পৃষ্ঠা ২০।

(৪) সোমবারের বিষয়টি সুসাব্যস্ত; কারণ তাঁকে যখন তাঁর রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন: ((এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনেই আমার ওপর ওহি অবতীর্ণ হয়েছে)), মুসলিম, ২/ ৮২০, হাদিস নং ১১৬২। তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কয়েকটি মত রয়েছে: বলা হয়েছে দুই তারিখ, কেউ বলেছেন আট তারিখ, কেউ দশ তারিখ, কেউ সতের তারিখ, কেউ বারো তারিখ, আবার কেউ কেউ অন্য কিছু বলেছেন। সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও নিকটবর্তী মত দুটি: প্রথমত, তিনি রবিউল আউয়ালের আট তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পর জন্মগ্রহণ করেছেন। ইবনে আব্দুল বার ঐতিহাসিকদের উদ্ধৃতিতে একে প্রধান্য দিয়েছেন। দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/ ২৬০, তিনি বলেছেন: "এটিই অধিক সুপ্রতিষ্ঠিত"। দ্বিতীয় মত: তিনি রবিউল আউয়ালের বারো তারিখে জন্মগ্রহণ করেছেন। ইবনে কাসির আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া-তে বলেছেন: "জমহুর বা অধিকাংশের নিকট এটিই প্রসিদ্ধ", ২/ ২৬০। ইবনে ইসহাক এটি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছেন। দেখুন: সীরাতে ইবনে হিশাম, ১/ ১৭১।

(৫) দেখুন: আর-রাহীকুল মাখতূম, পৃষ্ঠা ৫৩।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ৬)
أربعون قبل النبوة، وثلاثة وعشرون نبيّاً رسولاً، نُبِّئَ بإقرأ، وأُرسل بالمدثر، وبلده مكة، وهاجر إلى المدينة، بعثه اللَّه بالنذارة عن الشرك، ويدعو إلى التوحيد، أخذ على هذا عشر سنين يدعو إلى التوحيد، وبعد العشر عُرج به إلى السماء، وفرضت عليه الصلوات الخمس، وصلّى في مكة ثلاث سنين، وبعدها أُمِر بالهجرة إلى المدينة، فلما استقر بالمدينة (1) أُمِر ببقية شرائع الإسلام، مثل: الزكاة، والصيام، والحج، والجهاد، والأذان، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وغير ذلك، أخذ على هذا عشر سنين، وبعدها توفي صلى الله عليه وسلم، ودينه باقٍ، وهذا دينه، لا خير إلا دلَّ أمته عليه، ولا شرَّ إلا حذَّرها منه، وهو خاتم الأنبياء والمرسلين، لا نبي بعده، وقد بعثه اللَّه إلى الناس كافة، وافترض اللَّه طاعته على الجن والإنس، فمن أطاعه دخل الجنة، ومن عصاه دخل النار (2).

وخلاصة القول: إن الدروس والفوائد والعبر والعظات في هذا المبحث كثيرة، منها:

--------------------------------------------

(1) وصل إلى المدينة صلى الله عليه وسلم يوم الإثنين من شهر ربيع الأول، وحدده بعضهم باليوم الثاني عشر من ربيع الأول، انظر: فتح الباري، 7/ 224.

(2) انظر: الأصول الثلاثة للشيخ محمد بن عبد الوهاب، ص75، 76.
নবুওয়াতের পূর্বে চল্লিশ বছর এবং তেইশ বছর নবী ও রাসূল হিসেবে (অতিবাহিত করেন)। 'ইকরা' এর মাধ্যমে তিনি নবুওয়াত লাভ করেন এবং 'আল-মুদ্দাসসির' এর মাধ্যমে রাসূল হিসেবে প্রেরিত হন। তাঁর শহর ছিল মক্কা এবং তিনি মদীনায় হিজরত করেন। আল্লাহ তাঁকে শিরক থেকে সতর্ক করার এবং তাওহীদের দিকে আহ্বান জানানোর জন্য প্রেরণ করেছেন। তিনি দশ বছর পর্যন্ত তাওহীদের দাওয়াত দিতে থাকেন। দশ বছর পর তাঁকে আকাশে আরোহণ (মিরাজ) করানো হয় এবং তাঁর ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ করা হয়। তিনি মক্কায় তিন বছর নামায আদায় করেন। এরপর তাঁকে মদীনায় হিজরতের নির্দেশ দেওয়া হয়। যখন তিনি মদীনায় স্থিতি লাভ করলেন (১), তখন তাঁকে ইসলামের অবশিষ্ট বিধানাবলীর নির্দেশ দেওয়া হলো, যেমন: যাকাত, রোজা, হজ, জিহাদ, আযান, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ এবং অন্যান্য বিষয়। তিনি এই অবস্থায় দশ বছর অতিবাহিত করেন। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেন। তাঁর দ্বীন বিদ্যমান আছে এবং এটাই তাঁর দ্বীন। এমন কোনো কল্যাণ নেই যা তিনি তাঁর উম্মতকে বাতলে দেননি এবং এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা থেকে তিনি তাদের সতর্ক করেননি। তিনি সর্বশেষ নবী ও রাসূল, তাঁর পরে কোনো নবী নেই। আল্লাহ তাঁকে সকল মানুষের নিকট প্রেরণ করেছেন এবং জ্বিন ও মানুষের ওপর তাঁর আনুগত্য ফরজ করেছেন। অতএব, যে ব্যক্তি তাঁর আনুগত্য করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং যে ব্যক্তি তাঁর অবাধ্য হবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে (২)।

সারকথা হলো: এই আলোচনার শিক্ষা, উপকারিতা, দৃষ্টান্ত ও উপদেশসমূহ অনেক, তন্মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রবিউল আউয়াল মাসের সোমবার দিন মদীনায় পৌঁছান এবং কেউ কেউ একে রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। দেখুন: ফাতহুল বারী, ৭/২২৪।

(২) দেখুন: শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের আল-উসুলুস সালাসা, পৃষ্ঠা ৭৫, ৭৬।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌1 - أن النبي صلى الله عليه وسلم خيار من خيار من خيار، فهو أحسن الناس، وخيرهم نسباً، وأرجح العالمين عقلاً، وأفضل الخلق منزلة في الدنيا والآخرة، وأرفع الناس ذكراً، وأكثر الأنبياء أتباعاً يوم القيامة.

‌‌2 - أن إقامة الاحتفالات بمولد النبي صلى الله عليه وسلم كل عام في اليوم الثاني عشر من ربيع الأول بدعة منكرة؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يفعل ذلك في حياته، ولم يفعله الصحابة من بعده رضي الله عنهم، ولا التابعون لهم بإحسان في القرون المفضلة، ومع ذلك؛ فإن تحديد ميلاد النبي باليوم الثاني عشر من ربيع الأول لم يُجْزَم به، وإنما فيه خلاف، وحتى ولو ثبت فالاحتفال به بدعة لما تقدم؛ ولقوله صلى الله عليه وسلم: ((من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد)) (1)، وفي رواية لمسلم: ((من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد)) (2).

‌‌3 - أن وظيفة النبي صلى الله عليه وسلم هي الدعوة إلى التوحيد، وإنقاذ الناس من ظلمات الشرك إلى نور التوحيد، ومن ظلمات المعاصي والسيئات إلى نور الطاعات والأعمال الصالحات، ومن الجهل إلى المعرفة والعلم، فلا خير إلا دلَّ أمته عليه، ولا شر إلا حذَّرها منه صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

(1) البخاري، برقم 2697، ومسلم، برقم 1718.

(2) انظر: رسالة التحذير من البدع لسماحة شيخنا العلامة عبد العزيز بن عبد اللَّه ابن باز رحمه الله.
১ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বোত্তমদের মধ্য হতে মনোনীত সর্বোত্তম বংশজাত, তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, বংশীয়ভাবে তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিতে বিশ্ববাসীর মধ্যে অধিক ভারসাম্যপূর্ণ, দুনিয়া ও আখিরাতে মর্যাদার দিক থেকে সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, মানুষের মধ্যে সর্বোচ্চ খ্যাতির অধিকারী এবং কিয়ামতের দিন নবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুসারী বিশিষ্ট।

২ - প্রতি বছর রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মোৎসব বা ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা একটি গর্হিত বিদআত; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবনে তা করেননি, তাঁর পরে সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তা করেননি এবং সর্বোত্তম যুগসমূহে নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারী তাবেয়ীগণও তা করেননি। তা সত্ত্বেও, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম তারিখ রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখ হিসেবে সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়, বরং এতে মতভেদ রয়েছে। এমনকি যদি তা প্রমাণিতও হতো, তবুও এটি পালন করা পূর্বোক্ত কারণে বিদআত হতো; আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর কারণে: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছুর উদ্ভাবন করবে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত" (১), এবং মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: "যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যার ওপর আমাদের এই আদর্শ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত" (২)।

৩ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দায়িত্ব হলো তাওহীদের দিকে দাওয়াত দেওয়া এবং মানুষকে শিরকের অন্ধকার থেকে তাওহীদের আলোর দিকে উদ্ধার করা, এবং নাফরমানি ও পাপাচারের অন্ধকার থেকে আনুগত্য ও নেক আমলের আলোর দিকে এবং মূর্খতা থেকে পরিচিতি ও জ্ঞানের দিকে উদ্ধার করা। সুতরাং এমন কোনো কল্যাণ নেই যা তিনি তাঁর উম্মতকে দেখিয়ে দেননি এবং এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা থেকে তিনি তাদের সতর্ক করেননি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।

--------------------------------------------

(১) বুখারী, হাদিস নং ২৬৯৭, এবং মুসলিম, হাদিস নং ১৭১৮।

(২) দেখুন: আমাদের শ্রদ্ধেয় শাইখ আল্লামা আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ ইবন বায (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পুস্তিকা 'তাহযীর মিনাল বিদা' (বিদআত হতে সতর্কীকরণ)।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌المبحث الثاني: جهاده واجتهاده وأخلاقه

‌‌1 - كان صلى الله عليه وسلم أسوة وقدوة وإماماً يُقتدى به؛ لقوله تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا} (1)؛ ولهذا كان صلى الله عليه وسلم يصلي حتى تفطَّرت قدماه، وانتفخت وورمت، فقيل له: أتصنع هذا وقد غفر اللَّه لك ما تقدم من ذنبك وما تأخر؟ قال: ((أفلا أكون عبداً شكوراً)) (2).

‌‌2 - وكان يصلّي من الليل إحدى عشرة ركعة، وربما صلّى ثلاث عشرة ركعة (3)، وكان يصلّي الرواتب اثنتي عشرة ركعة (4)، وربما صلاّها عشر ركعات (5)، وكان يصلّي الضحى أربع ركعات، ويزيد ما شاء اللَّه (6)، وكان يطيل صلاة الليل، فربما صلّى فقرأ بما يقرب من خمسة أجزاء في الركعة الواحدة (7)، فكان ورده من الصلاة كل يوم

--------------------------------------------

(1) سورة الأحزاب، الآية: 21.

(2) البخاري، برقم 1130، ومسلم، برقم 2819.

(3) البخاري، برقم 1147، ومسلم، برقم 737.

(4) مسلم، برقم 728.

(5) مسلم، برقم 729، والبخاري، برقم 1172.

(6) مسلم، برقم 719.

(7) مسلم، برقم 772.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জিহাদ, ইজতিহাদ এবং চারিত্রিক গুণাবলি

১ - তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন এক অনুপম আদর্শ, অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব এবং এমন এক ইমাম যাকে অনুসরণ করা হয়; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ, তার জন্য যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে} (১); এই কারণেই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত আদায় করতেন যতক্ষণ না তাঁর পা ফেটে যেত এবং ফুলে ও ভারী হয়ে যেত। তাঁকে বলা হলো: আপনি কি এমনটি করছেন অথচ আল্লাহ আপনার অগ্র-পশ্চাতের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন? তিনি বললেন: ((আমি কি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না?)) (২)।

২ - তিনি রাতে এগারো রাকাত সালাত আদায় করতেন, এবং কখনও কখনও তেরো রাকাত সালাত আদায় করতেন (৩), তিনি বারো রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা (রাওয়াতিব) আদায় করতেন (৪), আবার কখনও দশ রাকাত আদায় করতেন (৫), তিনি চাশতের (দুহা) সালাত চার রাকাত আদায় করতেন এবং আল্লাহ যতটুকু চাইতেন ততোটুকু বৃদ্ধি করতেন (৬), তিনি রাতের সালাত দীর্ঘ করতেন, ফলে কখনও কখনও এক রাকাতেই প্রায় পাঁচ পারার কাছাকাছি তিলাওয়াত করতেন (৭), ফলে প্রতিদিন সালাতে তাঁর নিয়মিত আমল ছিল

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১।

(২) বুখারী, নম্বর ১১৩০, এবং মুসলিম, নম্বর ২৮১৯।

(৩) বুখারী, নম্বর ১১৪৭, এবং মুসলিম, নম্বর ৭৩৭।

(৪) মুসলিম, নম্বর ৭২৮।

(৫) মুসলিম, নম্বর ৭২৯, এবং বুখারী, নম্বর ১১৭২।

(৬) মুসলিম, নম্বর ৭১৯।

(৭) মুসলিম, নম্বর ৭৭২।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ৯)
وليلة أكثر من أربعين ركعة، منها الفرائض سبع عشرة ركعة (1).

 

‌‌3 - وكان يصوم غير رمضان ثلاثة أيام من كل شهر (2)، ويتحرَّى صيام الإثنين والخميس (3)، وكان يصوم شعبان إلا قليلاً، بل كان يصومه كله (4)، ورغَّب في صيام ست من شوال (5)، وكان صلى الله عليه وسلم يصوم حتى يقال: لا يفطر، ويفطر حتى يقال: لا يصوم (6)، وما استكمل شهراً غير رمضان إلا ما كان منه في شعبان، وكان يصوم يوم عاشوراء (7)، وروي عنه صوم تسع ذي الحجة (8)، وكان يواصل الصيام اليومين والثلاثة، وينهى عن الوصال، وبيَّن أنه صلى الله عليه وسلم ليس كأمته؛ فإنه يبيت عند ربه يُطعمه ويسقيه (9)، وهذا على الصحيح: ما يجد من لذّة العبادة والأنس والراحة وقرة العين

بمناجاة اللَّه تعالى؛

--------------------------------------------

(1) كتاب الصلاة لابن القيم، ص 140.

(2) مسلم، برقم 1160.

(3) الترمذي، برقم 745، والنسائي، 4/ 202، برقم 2186، وغيرهما.

(4) البخاري، رقم 1969، و1970، ومسلم، برقم 1156، و1157.

(5) مسلم، برقم 1164.

(6) البخاري برقم 1971، ومسلم، برقم 1156.

(7) البخاري، برقم 2000 - 2007، ومسلم، برقم 1125.

(8) النسائي، 4/ 205، برقم 2372، وأبو داود،، برقم 2437، وأحمد، 6/ 288، برقم 22334، وانظر: صحيح النسائي، برقم 2236.

(9) البخاري، برقم 1961 - 1964، ومسلم، برقم 1102 - 1103.
এবং রাতে চল্লিশ রাকাতের অধিক (সালাত আদায় করতেন), যার মধ্যে সতেরো রাকাত ছিল ফরয (১)।

 

‌‌৩ - তিনি রমযান ব্যতীত প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখতেন (২), এবং সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোযা পালনে যত্নশীল হতেন (৩), তিনি শাবান মাসের সামান্য অংশ ব্যতীত প্রায় পুরো মাসই রোযা রাখতেন, বরং তিনি প্রায় পুরো শাবান মাসই রোযা রাখতেন (৪), এবং শাওয়ালের ছয় রোযার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন (৫), রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে রোযা রাখতেন যে বলা হতো: তিনি আর রোযা ভঙ্গ করবেন না; আবার এমনভাবে রোযা ভঙ্গ করতেন যে বলা হতো: তিনি আর রোযা রাখবেন না (৬), তিনি রমযান ব্যতীত অন্য কোনো মাস পূর্ণ রোযা রাখতেন না, তবে শাবান মাসে তিনি তা করতেন, আর তিনি আশুরার দিনে রোযা রাখতেন (৭), তাঁর থেকে যিলহজ্জের নয় দিন রোযা রাখার কথা বর্ণিত হয়েছে (৮), এবং তিনি দুই বা তিন দিন একটানা বিরামহীন রোযা রাখতেন এবং অন্যদের বিরামহীন রোযা রাখতে নিষেধ করতেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের মতো নন; কেননা তিনি তাঁর রবের নিকট রাত কাটান, আর তিনি তাঁকে আহার ও পান করান (৯)। আর বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এর তাৎপর্য হলো: আল্লাহ তাআলার সাথে নিভৃত কথোপকথনের মাধ্যমে তিনি যে ইবাদতের স্বাদ, পরম প্রশান্তি, আরাম ও চোখের শীতলতা লাভ করতেন;

আল্লাহ তাআলার সাথে নিভৃত কথোপকথনের মাধ্যমে;

--------------------------------------------

(১) ইবনুল কাইয়্যিম রচিত কিতাবুস সালাত, পৃষ্ঠা ১৪০।

(২) মুসলিম, হাদীস নং ১১৬০।

(৩) তিরমিযী, হাদীস নং ৭৪৫, এবং নাসাঈ, ৪/২০২, হাদীস নং ২১৮৬, এবং অন্যান্য।

(৪) বুখারী, হাদীস নং ১৯৬৯ এবং ১৯৭০, মুসলিম, হাদীস নং ১১৫৬ এবং ১১৫৭।

(৫) মুসলিম, হাদীস নং ১১৬৪।

(৬) বুখারী হাদীস নং ১৯৭১, মুসলিম, হাদীস নং ১১৫৬।

(৭) বুখারী, হাদীস নং ২০০০ - ২০০৭, মুসলিম, হাদীস নং ১১২৫।

(৮) নাসাঈ, ৪/২০৫, হাদীস নং ২৩৭২, এবং আবু দাউদ, হাদীস নং ২৪৩৭, এবং আহমাদ, ৬/২৮৮, হাদীস নং ২২৩৩৪, এবং দেখুন: সহীহ নাসাঈ, হাদীস নং ২২৩৬।

(৯) বুখারী, হাদীস নং ১৯৬১ - ১৯৬৪, মুসলিম, হাদীস নং ১১০২ - ১১০৩।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ১০)
ولهذا قال: ((يا بلال أرحنا بالصلاة)) (1)، وقال: ((وجُعِلَتْ قُرّة عيني في الصلاة)) (2).

 

‌‌4 - وكان يُكثر الصدقة، وكان أجود بالخير من الريح المرسلة حينما يلقاه جبريل عليه الصلاة والسلام (3)؛ فكان يعطي عطاء من لا يخشى الفاقة؛ ولهذا أعطى رجلاً غنماً بين جبلين، فرجع الرجل إلى قومه وقال: يا قومي، أسلموا؛ فإن محمداً يعطي عطاءً لا يخشى الفاقة (4)، فكان صلى الله عليه وسلم أكرم الناس، وأشجع الناس (5)، وأرحم الناس، وأعظمهم تواضعاً، وعدلاً، وصبراً، ورفقاً، وأناةً، وعفواً، وحلماً، وحياءً، وثباتاً على الحق.

5 - وجاهد صلى الله عليه وسلم في جميع ميادين الجهاد: جهاد النفس، وله أربع مراتب: جهادها على تعلّم أمور الدين، والعمل به، والدعوة إليه على بصيرة، والصبر على مشاقّ الدعوة، وجهاد الشيطان، وله مرتبتان: جهاده على دفع ما يلقي من الشبهات، ودفع ما يُلقي من الشهوات، وجهاد الكفار، وله أربع مراتب: بالقلب، واللسان،

--------------------------------------------

(1) أبو داود،، برقم 8549، وأحمد، 5/ 393، برقم 23088.

(2) النسائي، 7/ 61، برقم 3940، وأحمد، 3/ 128، برقم 14037، وانظر: صحيح النسائي، 3/ 827.

(3) البخاري، برقم 6، ومسلم، برقم 2308.

(4) مسلم،4/ 1806، برقم 2312.

(5) البخاري مع الفتح، 10/ 455، برقم 6033، ومسلم،4/ 1804، برقم 2307.
এজন্যই তিনি বলেছেন: "হে বিলাল, সালাতের মাধ্যমে আমাদের প্রশান্তি দাও" (১), এবং তিনি বলেছেন: "আর সালাতে আমার চক্ষুর শীতলতা রাখা হয়েছে" (২)।

 

‌‌৪ - এবং তিনি প্রচুর সদকা করতেন, আর যখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি কল্যাণকর কাজে প্রবাহিত বায়ুর চেয়েও বেশি দানশীল হতেন (৩); তিনি এমনভাবে দান করতেন যেমন কোনো ব্যক্তি অভাবের আশঙ্কা করে না; এজন্যই তিনি এক ব্যক্তিকে দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী সকল ছাগল দান করেছিলেন, তখন সেই ব্যক্তি তার কওমের কাছে ফিরে গিয়ে বলল: হে আমার কওম, তোমরা ইসলাম গ্রহণ করো; কারণ মুহাম্মাদ এমনভাবে দান করেন যে তিনি অভাবের ভয় করেন না (৪)। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল, সর্বাধিক সাহসী (৫), সর্বাধিক দয়ালু এবং বিনয়, ন্যায়বিচার, ধৈর্য, কোমলতা, ধীরস্থিরতা, ক্ষমা, সহনশীলতা, লজ্জা এবং সত্যের ওপর অটল থাকার ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম।

৫ - এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিহাদের সকল ময়দানে জিহাদ করেছেন: নফসের জিহাদ, যার চারটি স্তর রয়েছে: দ্বীনের বিষয়াবলি শিক্ষা করার ক্ষেত্রে নফসের সাথে জিহাদ, সে অনুযায়ী আমল করা, প্রজ্ঞার সাথে সেদিকে দাওয়াত দেওয়া এবং দাওয়াতের কষ্টসমূহের ওপর ধৈর্য ধারণ করা। আর শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদ, যার দুটি স্তর রয়েছে: শয়তান যেসব সন্দেহ নিক্ষেপ করে তা প্রতিহত করার জিহাদ এবং সে যেসব কুপ্রবৃত্তি নিক্ষেপ করে তা প্রতিহত করার জিহাদ। আর কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ, যার চারটি স্তর রয়েছে: অন্তরের মাধ্যমে, জিহ্বার মাধ্যমে,

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ, নম্বর ৮৫৪৯, এবং আহমাদ, ৫/৩৯৩, নম্বর ২৩০৮৮।

(২) নাসাঈ, ৭/৬১, নম্বর ৩৯৪০, এবং আহমাদ, ৩/১২৮, নম্বর ১৪০৩৭, এবং দেখুন: সহীহ নাসাঈ, ৩/৮২৭।

(৩) বুখারী, নম্বর ৬, এবং মুসলিম, নম্বর ২৩০৮।

(৪) মুসলিম, ৪/১৮০৬, নম্বর ২৩১২।

(৫) ফাতহুল বারীসহ বুখারী, ১০/৪৫৫, নম্বর ৬০৩৩, এবং মুসলিম, ৪/১৮০৪, নম্বর ২৩০৭।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ১১)
والمال، واليد، وجهاد أصحاب الظلم، وله ثلاث مراتب: باليد، ثم باللسان، ثم بالقلب. فهذه ثلاث عشرة مرتبة من الجهاد، وأكمل الناس فيها محمد صلى الله عليه وسلم؛ لأنه كمّل مراتب الجهاد كلها، فكانت ساعاته موقوفة على الجهاد: بقلبه، ولسانه، ويده، وماله؛ ولهذا كان أرفع العالمين ذكراً، وأعظمهم عند اللَّه قدراً (1)، وقد دارت المعارك الحربية بينه وبين أعداء التوحيد، فكان عددَ غزواته التي قادها بنفسه سبع وعشرون غزوة، وقاتل في تسع منها، أما المعارك التي أرسل جيشها، ولم يقدها، فيقال لها سرايا، فقد بلغت ستاً وخمسين سرية (2).

 

6 - وكان صلى الله عليه وسلم أحسن الناس معاملة، فإذا استسلف سلفًا قضى خيراً منه؛ ولهذا جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم يتقاضاه بعيراً، فأغلظ له في القول، فهم به أصحابه فقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((دعوه، فإنّ لصاحب الحقّ مقالاً))، فقالوا: يا رسول اللَّه: لا نجد إلا سنًّا هو خير من سنّه فقال صلى الله عليه وسلم: ((أعطوه))، فقال الرجل: أوفيتني أوفاك اللَّه، فقال صلى الله عليه وسلم: ((إنّ خير عباد اللَّه أحسنهم قضاءً)) (3)، واشترى من جابر بن عبد اللَّه رضي الله عنه بعيراً، فلما جاء جابر بالبعير قال له صلى الله عليه وسلم: ((أتراني ماكستك))؟ قال: لا يا

--------------------------------------------

(1) زاد المعاد، 3/ 5، 10، 12.

(2) انظر: شرح النووي، 12/ 95، وفتح الباري، 7/ 279 - 281، و8/ 153.

(3) البخاري، برقم 2305، ومسلم، برقم 1600.
এবং সম্পদ, হাত এবং যালিমদের বিরুদ্ধে জিহাদ। এর তিনটি স্তর রয়েছে: হাতের দ্বারা, তারপর জিহ্বার দ্বারা, তারপর অন্তরের দ্বারা। এই হলো জিহাদের তেরোটি স্তর। আর মানুষের মধ্যে এতে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ছিলেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম); কারণ তিনি জিহাদের সকল স্তর পূর্ণ করেছেন। তাঁর প্রতিটি মুহূর্ত জিহাদের জন্য উৎসর্গিত ছিল: তাঁর অন্তর, তাঁর জিহ্বা, তাঁর হাত এবং তাঁর সম্পদের দ্বারা। এই কারণেই তিনি বিশ্ববাসীর মাঝে স্মরণে সর্বোচ্চ এবং আল্লাহর নিকট তাঁর মর্যাদা সর্বশ্রেষ্ঠ (১)। তাঁর এবং তাওহীদের শত্রুদের মধ্যে যুদ্ধ বিগ্রহ সংঘটিত হয়েছিল। তাঁর পরিচালিত যুদ্ধের (গাযওয়াহ) সংখ্যা ছিল সাতাশটি, যার মধ্যে নয়টিতে তিনি সরাসরি যুদ্ধ করেছেন। আর যে সব যুদ্ধে তিনি বাহিনী পাঠিয়েছেন কিন্তু নিজে নেতৃত্ব দেননি, সেগুলোকে ‘সারিয়্যাহ’ বলা হয়; এগুলোর সংখ্যা ছাপ্পান্নটি (২)।

 

৬ - এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লেনদেনের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম ছিলেন। যখন তিনি কোনো ঋণ গ্রহণ করতেন, তখন তার চেয়ে উত্তমভাবে তা পরিশোধ করতেন। এই কারণেই এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে একটি উটের দাবি নিয়ে আসল এবং তাঁর সাথে কঠোর ভাষায় কথা বলল। সাহাবীগণ তার প্রতি উদ্যত হলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: ((তাকে ছেড়ে দাও, কেননা পাওনাদারের কথা বলার অধিকার আছে।)) তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কেবল তার উটের বয়সের চেয়ে উত্তম উটই পাচ্ছি। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: ((তাকেই দিয়ে দাও।)) তখন লোকটি বলল: আপনি আমাকে পূর্ণ হক দিয়েছেন, আল্লাহ আপনাকে পূর্ণ প্রতিদান দিন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: ((নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে সেই সর্বোত্তম, যে পরিশোধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো)) (৩)। তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে একটি উট ক্রয় করেছিলেন। জাবির যখন উটটি নিয়ে আসলেন, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: ((তুমি কি মনে করো যে আমি তোমার সাথে দরদাম করেছি?)) তিনি বললেন: না হে...

--------------------------------------------

(১) যাদুল মা'আদ, ৩/ ৫, ১০, ১২।

(২) দেখুন: শারহু নববী, ১২/ ৯৫; এবং ফাতহুল বারী, ৭/ ২৭৯ - ২৮১, এবং ৮/ ১৫৩।

(৩) বুখারী, হাদিস নং ২৩০৫, এবং মুসলিম, হাদিস নং ১৬০০।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ১২)
رسول اللَّه، فقال: ((خذ الجمل، والثمن)) (1).

 

7 - وكان صلى الله عليه وسلم أحسن الناس خلقاً؛ لأن خلقه القرآن؛ لقول عائشة رضي الله عنها: ((كان خلقه القرآن)) (2)؛ ولهذا قال صلى الله عليه وسلم: ((إنما بُعثت لأتمم مكارم الأخلاق)) (3).

8 - وكان صلى الله عليه وسلم أزهد الناس في الدنيا، فقد ثبت عنه صلى الله عليه وسلم أنه اضطجع على الحصير فأثَّر في جنبه، فدخل عليه عمر بن الخطاب رضي الله عنه، ولما استيقظ جعل يمسح جنبه، فقال: يا رسول اللَّه لو اتخذت فراشاً أوثر من هذا؟ فقال صلى الله عليه وسلم: ((ما لي وللدنيا، ما مثلي ومثل الدنيا إلا كراكب سار في يوم صائف، فاستظلّ تحت شجرة ساعة من نهار، ثم راح وتركها)) (4)، وقال: ((لو كان لي مثلُ أُحُدٍ ذهباً ما يَسُرُّني أن لا يمرّ عليَّ ثلاثٌ، وعندي منه شيء، إلا شيءٌ أرصُدُهُ لدين)) (5).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: ((ما شبع آل محمد من طعام ثلاثة أيام

--------------------------------------------

(1) البخاري مع الفتح، 3/ 67، برقم 2097، ومسلم، 3/ 1221، برقم 715.

(2) مسلم، 1/ 513، برقم 746.

(3) البيهقي بلفظه، 10/ 192، وأحمد، 2/ 381، برقم 8952، وانظر: الصحيحة للألباني، برقم 45.

(4) الترمذي، برقم 2377، وغيره، وانظر: الأحاديث الصحيحة، برقم 439، وصحيح الترمذي، 2/ 280.

(5) البخاري، برقم 2389، ومسلم، برقم 991.
আল্লাহর রাসুল, অতঃপর তিনি বললেন: ((তুমি উটটি নাও এবং এর মূল্যও নাও)) (১)।

 

৭ - আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী; কেননা তাঁর চরিত্র ছিল কুরআন; আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর উক্তি অনুযায়ী: ((তাঁর চরিত্র ছিল কুরআন)) (২); এই কারণেই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই আমি প্রেরিত হয়েছি উত্তম চরিত্রকে পূর্ণতা দান করার জন্য)) (৩)।

৮ - আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন দুনিয়ার প্রতি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনাসক্ত (যাহিদ)। তাঁর সম্পর্কে প্রমাণিত যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চাটাইয়ের ওপর শয়ন করতেন যা তাঁর পার্শ্বদেশে দাগ ফেলে দিয়েছিল। অতঃপর উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন, আর যখন তিনি জাগ্রত হলেন এবং নিজের পার্শ্বদেশ মুছতে লাগলেন, তখন তিনি (উমর) বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আপনি যদি এর চেয়ে আরামদায়ক কোনো বিছানা গ্রহণ করতেন? তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: ((দুনিয়ার সাথে আমার কীসের সম্পর্ক? আমার এবং দুনিয়ার উদাহরণ তো সেই আরোহীর মতো যে গ্রীষ্মের তপ্ত দিনে ভ্রমণ করল, অতঃপর দিনের কিছু সময় একটি গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিল, তারপর তা ছেড়ে প্রস্থান করল)) (৪)। এবং তিনি বলেছেন: ((যদি আমার কাছে উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ থাকত, তবে তিন দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর তার কোনো অংশ আমার কাছে অবশিষ্ট থাকা আমাকে আনন্দিত করত না, কেবল ঋণের জন্য যা আমি সংরক্ষণ করি তা ব্যতীত)) (৫)।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((মুহাম্মাদের পরিবার তিন দিন পর্যন্ত পেট ভরে খাবার খাননি...

--------------------------------------------

(১) বুখারি ফাতহুল বারীসহ, ৩/৬৭, হাদিস নং ২০৯৭; মুসলিম, ৩/১২২১, হাদিস নং ৭১৫।

(২) মুসলিম, ১/৫১৩, হাদিস নং ৭৪৬।

(৩) বায়হাকি তাঁর নিজস্ব শব্দে, ১০/১৯২; আহমাদ, ২/৩৮১, হাদিস নং ৮৯৫২; এবং দেখুন: আলবানীর আস-সহীহাহ, হাদিস নং ৪৫।

(৪) তিরমিজি, হাদিস নং ২৩৭৭ ও অন্যান্য; এবং দেখুন: আল-আহাদিস আস-সহীহাহ, হাদিস নং ৪৩৯; সহিহ তিরমিজি, ২/২৮০।

(৫) বুখারি, হাদিস নং ২৩৮৯; মুসলিম, হাদিস নং ৯৯১।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ১৩)
حتى قُبض)) (1)، والمقصود أنهم لم يشبعوا ثلاثة أيام بلياليها متوالية، والظاهر أن سبب عدم شبعهم غالباً كان بسبب قلّة الشيء عندهم، على أنهم قد يجدون ولكن يؤثرون على أنفسهم (2)؛ ولهذا قالت عائشة رضي الله عنها: ((خرج النبي صلى الله عليه وسلم من الدنيا ولم يشبع من خبز الشعير)) (3)، وقالت: ((ما أكل آل محمد صلى الله عليه وسلم أُكلتين في يوم إلا إحداهما تمر)) (4)، وقالت: ((إنا لننظر إلى الهلال ثلاثة أهلة في شهرين، وما أُوقدت في أبيات رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم نار، فقال عروة: ما كان يقيتكم؟ قالت: الأسودان: التمر، والماء)) (5)، والمقصود بالهلال الثالث: وهو يُرى عند انقضاء الشهرين.

وعن عائشة رضي الله عنها قالت: ((كان فراشُ رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم من أدَم، وحشوُهُ ليفٌ)) (6)، ومع هذا كان يقول صلى الله عليه وسلم: ((اللَّهم اجعل رِزْقَ آل محمدٍ قوتاً)) (7).

--------------------------------------------

(1) البخاري مع الفتح، 9/ 517 و549، برقم 5374، و5416.

(2) انظر: فتح الباري، 9/ 517، و549، برقم 5374، ومن حديث عائشة رضي الله عنها، برقم 5416.

(3) البخاري مع الفتح، 9/ 549، برقم 5414.

(4) البخاري مع الفتح، 11/ 283، برقم 6455.

(5) البخاري مع الفتح، 11/ 283، برقم 6459.

(6) البخاري، برقم 6456.

(7) البخاري، برقم 6460، ومسلم، برقم 1055، والقوت: هو ما يقوت البدن من غير إسراف، وهو معنى الرواية الأخرى عند مسلم (كفافاً)، ويكف عن الحاجة، وقال أهل اللغة: القوت: هو ما يمسك الرمق، وفي الكفاف سلامة من آفات الغنى والفقر جميعاً، واللَّه أعلم، الفتح، 11/ 293، وشرح النووي، 7/ 152، والأبي، 3/ 537.
মৃত্যু পর্যন্ত)) (১), এর অর্থ হলো তারা টানা তিন দিন ও তিন রাত পেট ভরে খাননি। আর প্রতীয়মান হয় যে, তাদের পেট ভরে না খাওয়ার কারণ ছিল মূলত খাদ্যের স্বল্পতা, যদিও কখনো খাদ্য থাকা সত্ত্বেও তারা অন্যদের নিজেদের ওপর অগ্রাধিকার দিতেন (২); এজন্যই আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন: ((নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন অথচ তিনি কখনো যবের রুটি খেয়ে পেট ভরেননি)) (৩), তিনি আরও বলেছেন: ((মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবার কোনো দিন দুই বেলা আহার করেননি যার একটি খেজুর ছিল না)) (৪), তিনি আরও বলেছেন: ((আমরা দুই মাসে তিনটি নতুন চাঁদ দেখতাম অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরসমূহে কোনো আগুন জ্বালানো হতো না। তখন উরওয়াহ জিজ্ঞেস করলেন: আপনাদের জীবনধারণের অবলম্বন কী ছিল? তিনি বললেন: দুটি কালো বস্তু: খেজুর এবং পানি)) (৫), আর তৃতীয় চাঁদ বলতে উদ্দেশ্য হলো যা দুই মাস শেষ হওয়ার সময় দেখা যায়।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিছানা ছিল চামড়ার এবং তার ভেতরে ছিল খেজুর গাছের আঁশ)) (৬), আর তা সত্ত্বেও তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: ((হে আল্লাহ! মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারের রিজিককে প্রয়োজনীয় জীবনোপকরণ (কুত) হিসেবে নির্ধারণ করুন)) (৭)।

--------------------------------------------

(১) আল-বুখারি মাআল ফাতহ, ৯/৫১৭ ও ৫৪৯, নম্বর ৫৩৭৪ ও ৫৪১৬।

(২) দেখুন: ফাতহুল বারী, ৯/৫১৭ ও ৫৪৯, নম্বর ৫৩৭৪, এবং আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদিস থেকে, নম্বর ৫৪১৬।

(৩) আল-বুখারি মাআল ফাতহ, ৯/৫৪৯, নম্বর ৫৪১৪।

(৪) আল-বুখারি মাআল ফাতহ, ১১/২৮৩, নম্বর ৬৪৫৫।

(৫) আল-বুখারি মাআল ফাতহ, ১১/২৮৩, নম্বর ৬৪৫৯।

(৬) আল-বুখারি, নম্বর ৬৪৫৬।

(৭) আল-বুখারি, নম্বর ৬৪৬০, এবং মুসলিম, নম্বর ১০৫৫। 'কুত' হলো যা অপচয় ছাড়াই শরীরের শক্তি বজায় রাখে। আর এটিই মুসলিমের অন্য বর্ণনায় বর্ণিত (কিফাফান) শব্দের অর্থ, যা প্রয়োজন পূরণের জন্য যথেষ্ট। ভাষাবিদগণ বলেছেন: 'কুত' হলো যা প্রাণ বাঁচিয়ে রাখে। আর 'কিফাফ'-এর মধ্যে ধনাঢ্যতা ও দারিদ্র্য উভয়ের ফিতনা থেকে নিরাপত্তা রয়েছে। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। আল-ফাতহ, ১১/২৯৩, শরহে নববী, ৭/১৫২ এবং আল-আবী, ৩/৫৩৭।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ১৪)
9 - وكان صلى الله عليه وسلم أورع الناس؛ ولهذا قال: ((إني لأنقلب إلى أهلي فأجد التمرة ساقطة على فراشي، أو في بيتي، فأرفعها لآكلها، ثم أخشى أن تكون من الصدقة، فألقيها)) (1)، وأخذ الحسن بن علي تمرةً من تمر الصدقة، فجعلها في فيه، فقال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: ((كَخْ، ِكَخْ، ارمِ بها، أما علمت أنَّا لا نأكل الصدقة))؟ (2).

‌‌10 - ومع هذه الأعمال المباركة العظيمة، فقد كان صلى الله عليه وسلم يقول: ((خذوا من الأعمال ما تطيقون، فإن اللَّه لا يملُّ حتى تملُّوا، وأحبّ العمل إلى اللَّه ما داوم عليه صاحبه، وإن قلَّ))، وكان آلُ محمد صلى الله عليه وسلم إذا عَمِلُوا عملاً أثبتوه (3)، ((وكان صلى الله عليه وسلم إذا صلى صلاة داوم عليها)) (4)، وقد تقالَّ عبادةَ النبيِّ صلى الله عليه وسلم نفرٌ من أصحابه صلى الله عليه وسلم، وقالوا: وأين نحن من النبي صلى الله عليه وسلم؟ وقد غفر اللَّه له ما تقدم من ذنبه وما تأخر، فقال بعضهم: أمَّا أنا، فأنا أصلّي الليل أبدًا، وقال بعضهم: أنا أصوم ولا أفطر، وقال بعضهم: أنا أعتزل النساء، فلا أتزوج أبداً، [وقال بعضهم: لا

--------------------------------------------

(1) البخاري، برقم 2432، ومسلم، 2/ 751، برقم 1070.

(2) مسلم، 2/ 751، برقم 1069.

(3) البخاري مع الفتح، 4/ 213، برقم 1970، 11/ 294، ومسلم، 1/ 541، برقم 782، و2/ 811.

(4) البخاري مع الفتح، 4/ 213، وانظر: صحيح البخاري، حديث رقم 6461 - 6467.
৯ - এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক পরহেযগার; এই কারণেই তিনি বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই আমি যখন আমার পরিবারের কাছে ফিরে আসি, তখন আমার বিছানায় বা আমার ঘরে পড়ে থাকা একটি খেজুর দেখতে পাই। আমি তা খাওয়ার জন্য তুলে নিই, অতঃপর আমার মনে ভয় হয় যে এটি সদকার খেজুর কি না, তাই আমি তা ফেলে দিই।" (১), এবং হাসান ইবন আলী সদকার খেজুর থেকে একটি খেজুর নিয়ে নিজের মুখে দিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "ছিঃ ছিঃ, ওটা ফেলে দাও। তুমি কি জান না যে আমরা সদকার মাল খাই না?" (২)।

‌‌১০ - এবং এই মহান বরকতময় আমলসমূহ সত্ত্বেও, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: "তোমরা আমল থেকে ততটুকুই গ্রহণ করো যতটুকু করার সামর্থ্য তোমাদের আছে, কেননা তোমরা পরিশ্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ (প্রতিদান দিতে) পরিশ্রান্ত হন না। আর আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো যা আমলকারী নিয়মিত করে, যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়।" এবং মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরিবার যখন কোনো কাজ করতেন, তখন তা দৃঢ়ভাবে নিয়মিত করতেন (৩), "এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কোনো সালাত আদায় করতেন, তখন তা নিয়মিত করতেন।" (৪)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একদল সাহাবী তাঁর ইবাদতকে (নিজেদের তুলনায়) অল্প মনে করলেন এবং বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তুলনায় আমরা কোথায়? অথচ আল্লাহ তাঁর পূর্বের ও পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তখন তাদের একজন বলল: আমি সারা রাত সর্বদা সালাত আদায় করব। অন্যজন বলল: আমি সর্বদা সিয়াম পালন করব এবং কখনো সিয়াম ভঙ্গ (বিরতি) করব না। আর অন্যজন বলল: আমি নারীবিমুখ থাকব এবং কখনো বিবাহ করব না। [এবং তাদের কেউ বলল: না...

--------------------------------------------

(১) বুখারী, হাদিস নং ২৪৩২; এবং মুসলিম, ২/৭৫১, হাদিস নং ১০৭০।

(২) মুসলিম, ২/৭৫১, হাদিস নং ১০৬৯।

(৩) ফাতহুল বারীসহ বুখারী, ৪/২১৩, হাদিস নং ১৯৭০, ১১/২৯৪; এবং মুসলিম, ১/৫৪১, হাদিস নং ৭৮২, ও ২/৮১১।

(৪) ফাতহুল বারীসহ বুখারী, ৪/২১৩; এবং দেখুন: সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৬৪৬১ - ৬৪৬৭।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ১৫)
آكل اللحم]، فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم، فجاء إليهم فقال: ((أنتم الذين قلتم كذا وكذا؟ أما واللَّه إني لأخشاكم للَّه، وأتقاكم له، لكني أصوم وأفطر، وأصلي وأرقد، وأتزوج النساء، فمن رغب عن سنتي فليس مني)) (1)، والمراد بالسنة الهدي والطريقة؛ لا التي تقابل الفرض، والرغبة عن الشيء الإعراض عنه إلى غيره، ومع هذه الأعمال الجليلة، فقد كان يقول عليه الصلاة والسلام: ((سدِّدوا وقاربوا، واعلموا أنه لن ينجو أحدٌ منكم بعمله)) قالوا: ولا أنت يا رسول اللَّه؟ قال: ((ولا أنا، إلَاّ أن يتغمَّدنيَ اللَّهُ برحمةٍ منه وفضلٍ))، وفي رواية: ((سدِّدوا وقاربوا، واغدوا، وروحوا، وشيءٌ من الدُّلجة، والقَصْدَ القَصْدَ تبلغوا)) (2)، وكان يقول: ((يا مقلّب القلوب ثبِّت قلبي على دينك)) (3)، ويقول: ((اللَّهم مصرِّف القلوب صرِّف قلوبنا على طاعتك)) (4).

 

وخلاصة القول: أن‌‌ الدروس والفوائد والعبر والعظات في هذا المبحث كثيرة منها:

‌‌1 - أن النبي صلى الله عليه وسلم قدوة كل مسلم صادق مع اللَّه تعالى في كل

--------------------------------------------

(1) البخاري مع الفتح، 9/ 104، برقم 5063 ومسلم، 2/ 1020، برقم 1401، وما بين المعقوفين من رواية مسلم.

(2) البخاري، برقم 6463، 6464، ومسلم، 4/ 2170.

(3) الترمذي، 5/ 238، برقم 2140، وغيره، وانظر: صحيح الترمذي، 3/ 171.

(4) مسلم، 4/ 2045، برقم 2654.
মাংস ভক্ষণকারী], এই সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছালে তিনি তাদের নিকট আসলেন এবং বললেন: ((তোমরাই কি সেই যারা এমন এমন কথা বলেছ? আল্লাহর শপথ, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের চেয়ে আল্লাহকে বেশি ভয় করি এবং তোমাদের চেয়ে তাঁর প্রতি বেশি তাকওয়া অবলম্বন করি; কিন্তু আমি রোজা রাখি এবং রোজা ভঙ্গ করি, নামাজ পড়ি এবং নিদ্রা যাই, আর নারীদের বিবাহ করি। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ থেকে বিমুখ হবে সে আমার দলভুক্ত নয়)) (১)। আর সুন্নাহ বলতে এখানে আদর্শ ও পথ উদ্দেশ্য; যা ফরজের বিপরীত পরিভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয় তা নয়। আর কোনো বিষয় থেকে বিমুখ হওয়ার অর্থ হলো তা বর্জন করে অন্য কিছুর দিকে ঝুঁকে পড়া। এই সকল মহান আমল থাকা সত্ত্বেও নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলতেন: ((তোমরা সঠিক পথে অটল থাকো এবং মধ্যপন্থা অবলম্বন করো, আর জেনে রেখো যে, তোমাদের কেউই কেবল তার আমলের মাধ্যমে মুক্তি পাবে না))। তারা জিজ্ঞেস করল: আপনিও কি নন, হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: ((আমিও নই, যতক্ষণ না আল্লাহ আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে রহমত ও অনুগ্রহ দ্বারা আচ্ছাদিত করেন))। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: ((তোমরা সঠিক পথে অটল থাকো, মধ্যপন্থা অবলম্বন করো এবং সকাল ও সন্ধ্যায় এবং রাতের শেষভাগে ইবাদত করো। আর পরিমিতিবোধ বজায় রাখো, পরিমিতিবোধ বজায় রাখো, তবেই তোমরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে)) (২)। তিনি আরও বলতেন: ((হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখুন)) (৩), এবং বলতেন: ((হে আল্লাহ, হে অন্তরসমূহের মোড় পরিবর্তনকারী, আমাদের অন্তরসমূহকে আপনার আনুগত্যের দিকে ঘুরিয়ে দিন)) (৪)।

 

সারকথা হলো: এই আলোচনার শিক্ষা, উপকারিতা, দৃষ্টান্ত ও উপদেশসমূহ অনেক, যার মধ্যে রয়েছে:

‌‌১ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রতি প্রতিটি সত্যনিষ্ঠ মুসলিমের জন্য আদর্শ প্রতিটি

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারীসহ বুখারি, ৯/১০৪, হাদিস নং ৫০৬৩ এবং মুসলিম, ২/১০২০, হাদিস নং ১৪০১, আর বন্ধনীভুক্ত অংশটি মুসলিমের বর্ণনা থেকে।

(২) বুখারি, হাদিস নং ৬৪৬৩, ৬৪৬৪ এবং মুসলিম, ৪/২১৭০।

(৩) তিরমিজি, ৫/২৩৮, হাদিস নং ২১৪০ ও অন্যান্য, দেখুন: সহিহ তিরমিজি, ৩/১৭১।

(৪) মুসলিম, ৪/২০৪৫, হাদিস নং ২৬৫৪।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ১৬)
الأمور؛ لقوله تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا} (1).

 

‌‌2 - أن النبي صلى الله عليه وسلم أحسن الناس خَلْقاً، وخُلُقاً، وألينهم كفّاً، وأطيبهم ريحاً، وأكملهم عقلاً، وأحسنهم عشرة، وأعلمهم باللَّه، وأشدهم له خشية (2)، وأشجع الناس، وأكرم الناس، وأحسنهم قضاء، وأسمحهم معاملة، وأكثرهم اجتهاداً في طاعة ربه، وأصبرهم وأقواهم تحمّلاً، وأشدّهم حياءً، ولا ينتقم لنفسه، ولا يغضب لها، ولكنه إذا انتُهِكت حرمات اللَّه، فإنه ينتقم للَّه تعالى، وإذا غضب للَّه لم يقم لغضبه أحد، والقوي، والضعيف، والقريب، والبعيد، والشريف، وغيره عنده في الحق سواء، وما عاب طعاماً قطُّ إن اشتهاه أكله، وإن لم يشتهه تركه، ويأكل من الطعام المباح ما تيسَّر، ولا يتكلَّف في ذلك، ويقبل الهدية، ويكافئ عليها، ويخصف نعليه، ويرقّع ثوبه، ويخدم في مهنة أهله، ويحلِبُ شاته، ويخدِمُ نفسه، وكان أشدَّ الناس تواضعاً، ويجيب الداعي: من غني أو فقير، أو دنيء أو شريف، وكان يحب المساكين، ويشهد جنائزهم، ويعود مرضاهم، ولا

يحقر

--------------------------------------------

(1) سورة الأحزاب، الآية: 21.

(2) ولهذا قال عبد اللَّه بن الشَّخِّير: أتيت رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وهو يصلي ولجوفه أزيزٌ كأزيز المِرجل من البكاء، أبو داود،، برقم 904، وصححه الألباني في مختصر الشمائل، برقم 276، ومعنى: أزير المرجل: أي غليان القدر.
সকল বিষয়; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "নিশ্চয় তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, এমন ব্যক্তির জন্য যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।" (১)।

 

‌‌২ - নিশ্চয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের মধ্যে শারীরিক গঠন ও চরিত্রে সর্বোত্তম ছিলেন, এবং তিনি ছিলেন হাতের তালু স্পর্শে সবচেয়ে নরম, সুঘ্রাণে সবচেয়ে চমৎকার, বুদ্ধিবৃত্তিতে পূর্ণতম, সাহচর্যে সর্বোত্তম, আল্লাহ সম্পর্কে সবচেয়ে জ্ঞানী এবং তাঁর প্রতি সবচেয়ে বেশি ভীত (২), মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সাহসী, সবচেয়ে দানশীল, পাওনা পরিশোধে সবচেয়ে উত্তম, লেনদেনে সবচেয়ে উদার, আপন রবের আনুগত্যে সবচেয়ে বেশি প্রচেষ্টাকারী, সবচেয়ে ধৈর্যশীল ও সহনশীলতায় সবচেয়ে শক্তিশালী, লজ্জাশীলতায় সবচেয়ে প্রবল; তিনি নিজের জন্য কোনো প্রতিশোধ নিতেন না এবং নিজের কারণে রাগান্বিত হতেন না, তবে যখন আল্লাহর পবিত্র বিষয়াদি লঙ্ঘিত হতো, তখন তিনি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রতিশোধ নিতেন। যখন তিনি আল্লাহর জন্য রাগান্বিত হতেন, তখন তাঁর ক্রোধের সামনে কেউ দাঁড়াতে পারত না। সত্যের ক্ষেত্রে শক্তিশালী, দুর্বল, নিকটবর্তী, দূরবর্তী, সম্ভ্রান্ত বা অন্য সবাই তাঁর কাছে সমান ছিল। তিনি কখনো কোনো খাবারের দোষ ধরতেন না; যদি তা পছন্দ হতো তবে খেতেন, আর অপছন্দ হলে তা ছেড়ে দিতেন। তিনি সহজলভ্য হালাল খাবার আহার করতেন এবং এ ব্যাপারে কোনো কৃত্রিমতা করতেন না। তিনি উপহার গ্রহণ করতেন এবং তার প্রতিদান দিতেন। তিনি নিজের জুতা মেরামত করতেন, নিজের পোশাকে তালি লাগাতেন, পরিবারের গৃহস্থালি কাজে সাহায্য করতেন, নিজের বকরি দোহন করতেন এবং নিজের কাজ নিজেই করতেন। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বিনয়ী; ধনী বা দরিদ্র, নগণ্য বা সম্ভ্রান্ত—যেকোনো আহ্বানকারীর ডাকে তিনি সাড়া দিতেন। তিনি মিসকিনদের ভালোবাসতেন, তাদের জানাজায় শরিক হতেন, তাদের অসুস্থদের দেখতে যেতেন এবং কাউকে তুচ্ছ জ্ঞান করতেন না

তুচ্ছ জ্ঞান করতেন না

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১।

(২) এ কারণেই আব্দুল্লাহ ইবনে শিখখীর বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলাম যখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন এবং কান্নার কারণে তাঁর বুকের ভেতর থেকে ডেকচি টগবগ করার শব্দের মতো শব্দ আসছিল। আবু দাউদ, হাদিস নং ৯০৪, আলবানি একে মুখতাসারুশ শামাইল-এ সহিহ বলেছেন, হাদিস নং ২৭৬। ‘আজিজুল মিরজাল’ অর্থ: পাতিল ফুটে ওঠার শব্দ বা টগবগানি।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ১৭)
فقير لفقره، ولا يهاب مَلكاً لملكه، وكان يركب الفرس، والبعير، والحمار، والبغلة، ويُردف خلفه، ولا يدع أحداً يمشي خلفه (1)، وخاتمه فضة، وفصه منه، يلبسه في خنصره الأيمن، وربما يلبسه في الأيسر، وكان يعصب على بطنه الحجر من الجوع، وقد آتاه اللَّه مفاتيح خزائن الأرض، ولكنه اختار الآخرة، وكان يُكثر الذكر، دائم الفكر، ويُقلّ اللغو، ويُطيل الصلاة، ويُقصر الخطبة، ويُحبّ الطيب، ولا يردّه، ويكره الروائح الكريهة، وكان أكثر الناس تبسماً، وضحك في أوقات حتى بدت نواجذه (2)، ويمزح ولا يقول إلا حقّاً، ولا يجفو أحداً، ويقبل عذر المعتذر إليه، وكان يأكل بأصابعه الثلاث ويلعقهن، ويتنفس في الشرب ثلاثاً خارج الإناء، ويتكلّم بجوامع الكلم، وإذا تكلّم تكلَّم بكلام بيِّنٍ فَصْلٍ، يحفظه من جلس إليه، ويعيد الكلمة ثلاثاً إذا لم تفهم حتى تُفهم عنه، ولا يتكلم من غير حاجة، وقد جمع اللَّه له مكارم الأخلاق، ومحاسن الأفعال، فكانت معاتبته تعريضاً، وكان يأمر بالرفق، ويحثّ عليه، وينهى عن العنف، ويحثّ على العفو والصّفح، والحلم، والأناة، وحسن الخلق، ومكارم الأخلاق، وكان يحب

--------------------------------------------

(1) أحمد 3/ 398، وابن ماجه، برقم 246، والحاكم، 4/ 481، وابن حبان (موارد)، 2099 ، وانظر: الأحاديث الصحيحة، برقم 1557.

(2) النواجذ: الأنياب، وقيل: [هي الضواحك، وهي التي تبدو عند الضحك] النهاية، 5/ 20 ..
তিনি কোনো অভাবীকে তার অভাবের কারণে তুচ্ছজ্ঞান করতেন না এবং কোনো রাজাকে তার রাজত্বের কারণে ভয় পেতেন না। তিনি ঘোড়া, উট, গাধা এবং খচ্চরের পিঠে আরোহণ করতেন এবং নিজের পিছনে আরোহী বসাতেন। তিনি কাউকে তাঁর পিছনে (পায়ে হেঁটে) চলতে দিতেন না (১)। তাঁর আংটি ছিল রূপার এবং এর উপরিভাগটিও (নগ) ছিল রূপার; তিনি তা ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে পরতেন, আবার কখনো বাম হাতেও পরতেন। ক্ষুধার কারণে তিনি পেটে পাথর বাঁধতেন, অথচ আল্লাহ তাঁকে জমিনের ধনভাণ্ডারের চাবিকাঠি দান করেছিলেন; কিন্তু তিনি পরকালকেই বেছে নিয়েছিলেন। তিনি প্রচুর যিকির করতেন, সর্বদা চিন্তামগ্ন থাকতেন, অনর্থক কথা কম বলতেন, সালাত দীর্ঘ করতেন এবং খুতবা সংক্ষিপ্ত করতেন। তিনি সুগন্ধি পছন্দ করতেন এবং তা প্রত্যাখ্যান করতেন না, আর দুর্গন্ধ অপছন্দ করতেন। তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বাধিক হাস্যোজ্জ্বল; কখনো কখনো এমনভাবে হাসতেন যে তাঁর মাড়ির দাঁত (২) বের হয়ে পড়ত। তিনি রসিকতা করতেন তবে সত্য বৈ কিছু বলতেন না। তিনি কারো প্রতি রূঢ়তা করতেন না এবং ক্ষমা প্রার্থনাকারীর ওজর কবুল করতেন। তিনি তিন আঙুলে খাবার খেতেন এবং আঙুলগুলো চেটে নিতেন। পানীয় পান করার সময় পাত্রের বাইরে তিনবার নিঃশ্বাস নিতেন। তিনি অত্যন্ত অর্থবহ ও সংক্ষিপ্ত শব্দে কথা বলতেন। যখন কথা বলতেন, অত্যন্ত স্পষ্টভাবে কথা বলতেন, যা তাঁর মজলিসে বসা ব্যক্তি মুখস্থ করে নিতে পারত। কথা বোধগম্য না হলে তিনি তা তিনবার পুনরাবৃত্তি করতেন। প্রয়োজন ছাড়া তিনি কথা বলতেন না। আল্লাহ তাঁর মধ্যে মহত্তম চরিত্র ও সর্বোত্তম কর্মসমূহ একত্রিত করেছিলেন। তাঁর তিরস্কার হতো পরোক্ষ ইঙ্গিতে। তিনি নম্রতার আদেশ দিতেন ও এর প্রতি উৎসাহিত করতেন এবং রূঢ়তা থেকে নিষেধ করতেন। তিনি ক্ষমা, মার্জনা, সহনশীলতা, ধৈর্য, উত্তম চরিত্র ও মহানুভবতার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতেন। তিনি ভালোবাসতেন...

--------------------------------------------

(১) আহমাদ ৩/৩৯৮, ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২৪৬, হাকেম ৪/৪৮১, ইবনে হিব্বান (মাওয়ারিদ) ২০৯৯; এবং দেখুন: আল-আহাদিসুস সহিহাহ, হাদিস নং ১৫৫৭।

(২) নাওয়াজিয: কষের দাঁত; বলা হয়েছে: [এগুলো হলো হাসির সময় প্রকাশ পাওয়া দাঁত] আন-নিহায়াহ, ৫/২০।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ১৮)
التيمّن في طهوره، وتنعُّله، وترجُّله، وفي شأنه كله، وكانت يده اليسرى لخلائه وما كان من أذى، وإذا اضطجع اضطجع على جنبه الأيمن، ووضع كفه اليمنى تحته خده الأيمن، وإذا عرَّس (1) قُبيل الصبح نصب ذراعه ووضع رأسه على كفه، وكان مجلسه: مجلس علم، وحلم، وحياء، وأمانة ، وصيانة، وصبر، وسكينة، ولا ترفع فيه الأصوات، ولا تنتهك فيه الحرمات، يتفاضلون في مجلسه بالتقوى، ويتواضعون، ويُوقِّرون الكبار، ويرحَمُون الصغار، ويُؤثرون المحتاج، ويخرجون دعاة إلى الخير، وكان يجلس على الأرض، ويأكل على الأرض، وكان يمشي مع الأرملة والمسكين، والعبد، حتى يقضي له حاجته. ومر على الصبيان يلعبون، فسلَّم عليهم، وكان لا يصافح النساء غير المحارم، وكان يتألّف أصحابه، ويتفقدهم، ويُكرم كريم كلّ قومٍ، ويُقبل بوجهه وحديثه على من يُحدثه، حتى على أشرِّ القوم يتألّفهم بذلك، ولم يكن فاحشاً، ولا متفحشاً، ولا صخَّاباً (2)، ولا يجزي بالسيئة

السيئة؛ بل يعفو، ويصفح، ويحلم، ولم يضرب خادماً، ولا امرأة، ولا شيئاً قط، إلا أن يجاهد

--------------------------------------------

(1) التعريس: نزول المسافر آخر الليل نزلةً للنوم والاستراحة. انظر: النهاية في غريب الحديث، 3/ 206.

(2) الصّخَّاب: الصخب والسخب: الضجة، واضطراب الأصوات للخصام، فهو صلى الله عليه وسلم لم يكن صخَّاباً في الأسواق، ولا في غيرها. النهاية، 3/ 14.
পবিত্রতা অর্জন, জুতো পরিধান, চুল আঁচড়ানো এবং তাঁর প্রতিটি কাজেই তিনি ডান দিককে প্রাধান্য দিতেন। তাঁর বাম হাত ছিল শৌচকর্ম এবং কষ্টদায়ক কোনো কিছু দূর করার কাজে ব্যবহারের জন্য। যখন তিনি শয়ন করতেন, তখন নিজের ডান পাশে শুতেন এবং তাঁর ডান হাতের তালু ডান গালের নিচে রাখতেন। আর যখন তিনি সুবহে সাদেকের অল্প আগে বিশ্রামের জন্য যাত্রাবিরতি করতেন (১), তখন তিনি তাঁর বাহু খাড়া করে রাখতেন এবং হাতের তালুর ওপর মাথা রাখতেন। তাঁর মজলিস ছিল ইলম (জ্ঞান), সহনশীলতা, লজ্জা, আমানতদারি, সুরক্ষা, ধৈর্য এবং স্থিরতার মজলিস। সেখানে উচ্চস্বরে কথা বলা হতো না এবং কোনো পবিত্র বিষয়ের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হতো না। তাঁর মজলিসে উপস্থিত ব্যক্তিরা তাকওয়ার ভিত্তিতে একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করত। তারা বিনয়ী হতো, বড়দের সম্মান করত, ছোটদের স্নেহ করত, অভাবীদের অগ্রাধিকার দিত এবং কল্যাণের আহ্বায়ক হিসেবে সেখান থেকে বের হতো। তিনি মাটির ওপর বসতেন, মাটির ওপর আহার করতেন এবং বিধবা, মিসকিন ও দাসের প্রয়োজনে তাদের সাথে পথ চলতেন যতক্ষণ না তাদের প্রয়োজন পূরণ হতো। তিনি শিশুদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সালাম দিতেন। তিনি গাইরে মাহরাম নারীদের সাথে করমর্দন করতেন না। তিনি তাঁর সাহাবীদের আপন করে নিতেন, তাদের খোঁজখবর রাখতেন এবং প্রত্যেক কওমের সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান জানাতেন। তিনি যার সাথে কথা বলতেন, তাঁর দিকে পূর্ণ মনোযোগ ও চেহারা নিবদ্ধ করতেন; এমনকি কওমের সবচেয়ে মন্দ লোকের সাথেও তাদের অন্তর জয়ের জন্য তা-ই করতেন। তিনি কটুভাষী ছিলেন না, অশ্লীলতা অবলম্বনকারী ছিলেন না, শোরগোলকারী (২) ছিলেন না এবং মন্দের প্রতিদান মন্দ

দিয়ে দিতেন না; বরং তিনি ক্ষমা করতেন, মার্জনা করতেন এবং সহনশীলতা প্রদর্শন করতেন। তিনি কোনো সেবক, নারী বা অন্য কোনো কিছুকে কখনো আঘাত করেননি, কেবল জিহাদের ক্ষেত্র ছাড়া।

--------------------------------------------

(১) আত-তা’রীস: মুসাফিরের শেষ রাতে ঘুম ও বিশ্রামের জন্য যাত্রাবিরতি করা। দেখুন: আন-নিহায়াহ ফি গরিবিল হাদিস, ৩/২০৬।

(২) আস-সাখ্খাব: আস-সাখাব বা আস-সাখাব হলো শোরগোল এবং ঝগড়ার কারণে শব্দের বিশৃঙ্খলা। সুতরাং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাজারে বা অন্য কোথাও হট্টগোলকারী বা চিৎকারকারী ছিলেন না। আন-নিহায়াহ, ৩/১৪।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ১৯)
في سبيل اللَّه تعالى، وما خُيِّر بين شيئين إلا اختار أيسرهما، ما لم يكن إثماً، فإن كان إثماً، كان أبعد الناس عنه.

وقد جمع اللَّه له كمال الأخلاق، ومحاسن الشيم، وآتاه من العلم والفضل، وما فيه النجاة، والفوز، والسعادة في الدنيا والآخرة، ما لم يُؤتِ أحداً من العالمين، وهو أمّيٌّ لا يقرأ، ولا يكتب، ولا معلِّمَ له من البشر، واختاره اللَّه على جميع الأولين والآخرين، وجعل دينه للجن والناس أجمعين إلى يوم الدين، فصلوات اللَّه، وسلامه عليه، صلاةً وسلاماً دائمين إلى يوم الدين؛ فإن خلقه كان القرآن.

فينبغي الاقتداء به صلى الله عليه وسلم، والتأسّي به في جميع أعماله، وأقواله، وجدِّه واجتهاده، وجهاده، وزهده، وورعه، وصدقه وإخلاصه، إلا في ما كان خاصّاً به، أو ما لا يُقدر على فعله؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: ((خذوا من الأعمال ما تطيقون، فإنّ اللَّه لا يملّ حتى تملّوا (1)) (2)؛ ولقوله صلى الله عليه وسلم: ((ما نهيتكم عنه فاجتنبوه، وما أمرتكم به فأتوا منه ما استطعتم)) (3).

--------------------------------------------

(1) تقدم تخريجه.

(2) انظر: تهذيب السيرة النبوية للإمام النووي، ص 56، ومختصر السيرة النبوية للحافظ عبد الغني المقدسي، ص 77، وحقوق المصطفى للقاضي عياض، 1/ 77 - 215، ومختصر الشمائل المحمدية للترمذي، ص 112 - 188.

(3) البخاري، برقم 7288، ومسلم، برقم 2619.
মহান আল্লাহর পথে; এবং যখনই তাঁকে দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো, তিনি সহজটিই গ্রহণ করতেন, যতক্ষণ না তা কোনো পাপের কাজ হতো। আর যদি তা পাপের কাজ হতো, তবে তিনি মানুষের মধ্যে তা থেকে সর্বাপেক্ষা দূরে থাকতেন।

আল্লাহ তাঁর জন্য চরিত্রের পূর্ণতা ও উত্তম স্বভাবসমূহকে একত্রিত করেছেন এবং তাঁকে এমন জ্ঞান ও মর্যাদা এবং দুনিয়া ও আখিরাতের মুক্তি, বিজয় ও সৌভাগ্য দান করেছেন, যা সৃষ্টিজগতের আর কাউকে দান করেননি। অথচ তিনি উম্মী ছিলেন, পড়তেন না, লিখতেন না এবং মানুষের মধ্যে তাঁর কোনো শিক্ষক ছিল না। আল্লাহ তাঁকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষের ওপর মনোনীত করেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত সকল জিন ও মানুষের জন্য তাঁর দ্বীনকে নির্ধারণ করেছেন। অতএব আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—চিরস্থায়ী রহমত ও শান্তি কিয়ামত দিবস পর্যন্ত; কেননা তাঁর চরিত্র ছিল কুরআন স্বরূপ।

সুতরাং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুসরণ করা এবং তাঁর সকল কাজ, কথা, প্রচেষ্টা ও পরিশ্রম, জিহাদ, দুনিয়াবিমুখতা, পরহেযগারী, সত্যবাদিতা ও আন্তরিকতার ক্ষেত্রে তাঁকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা আবশ্যক। তবে যা কেবল তাঁর জন্য নির্দিষ্ট ছিল অথবা যা করার সামর্থ্য অন্যের নেই, তা ব্যতীত। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আমল থেকে ততটুকুই গ্রহণ করো যতটুকু তোমাদের সামর্থ্যে কুলায়। কারণ আল্লাহ তাআলা ততক্ষণ পর্যন্ত সওয়াব দান বন্ধ করেন না যতক্ষণ না তোমরা আমল করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ো (১)" (২); এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই বাণীর কারণে: "আমি তোমাদের যা নিষেধ করেছি তা থেকে বিরত থাকো, আর যা আদেশ করেছি তা সাধ্যমতো পালন করো" (৩)।

--------------------------------------------

(১) এর তথ্যসূত্র পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(২) দ্রষ্টব্য: ইমাম নববী রচিত 'তাহযীবুস সীরাতিন নববিয়্যাহ', পৃষ্ঠা ৫৬; হাফেজ আবদুল গণি মাকদিসি রচিত 'মুখতাসারুস সীরাতিন নববিয়্যাহ', পৃষ্ঠা ৭৭; কাযী আয়ায রচিত 'হুকুকুল মুস্তফা', ১/ ৭৭-২১৫; এবং তিরমিযী রচিত 'মুখতাসারুশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ', পৃষ্ঠা ১১২-১৮৮।

(৩) বুখারী, হাদিস নং ৭২৮৮; মুসলিম, হাদিস নং ২৬১৯।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌المبحث الثالث: خير أعماله خواتمها

كان صلى الله عليه وسلم إذا عمل عملاً أثبته، وداوم عليه؛ ولهذا قال: ((إن أحب الأعمال إلى اللَّه تعالى ما داوم عليه صاحبه، وإن قلّ)) (1)، وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: ((كان النبي صلى الله عليه وسلم يعتكف في كل رمضان عشرة أيام، فلما كان العام الذي قُبض فيه اعتكف عشرين يوماً، وكان يُعرض عليه القرآن في كل عام مرة، فلما كان العام الذي قُبض فيه عرض القرآن مرتين)) (2).

وعن عائشة رضي الله عنها قالت: كان رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يكثر أن يقول قبل أن يموت: ((سبحانك اللَّهم وبحمدك، أستغفرك وأتوب إليك))، قالت: قلت: يا رسول اللَّه، ما هذه الكلمات التي أراك أحدثتها تقولها؟ قال: ((جُعِلت لي علامةٌ في أمتي إذا رأيتها قلتها: {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ} (3)، وقد قال ابن عباس رضي الله عنهما لعمر عن هذه: {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ} إنها: أجل رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم أعلمه إياه، فقال: ما أعلم منها إلا ما تعلم)) (4)، وقيل: نزلت {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ} يوم

--------------------------------------------

(1) البخاري، برقم 43، ورقم 1151، ومسلم، 1/ 540، و2/ 811، برقم 782، واللفظ له.

(2) البخاري مع الفتح، 9/ 43، و4/ 213، برقم 2044، و4998.

(3) مسلم، 1/ 351، برقم 484.

(4) البخاري مع الفتح، 8/ 130، برقم 3627.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর কর্মসমূহের শ্রেষ্ঠ অংশ হলো তার সমাপ্তি

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোনো আমল করতেন, তখন তা সুদৃঢ় করতেন এবং নিয়মিত তা পালন করতেন; এই কারণেই তিনি বলেছেন: "আল্লাহ তাআলার নিকট সর্বাধিক প্রিয় আমল হলো তা-ই, যা আমলকারী নিয়মিত করে, যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়।" (১) আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি রমজানে দশ দিন ইতিকাফ করতেন। তবে যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, সে বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেছিলেন। আর প্রতি বছর তাঁর নিকট একবার কুরআন পেশ করা হতো, তবে যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, সে বছর তাঁর নিকট দুইবার কুরআন পেশ করা হয়েছিল।" (২)।

আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ইন্তেকালের পূর্বে অধিক পরিমাণে বলতেন: "হে আল্লাহ! আপনার প্রশংসার সাথে আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট তওবা করছি।" তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! এই বাক্যগুলো কী যা আমি আপনাকে নতুনভাবে বলতে দেখছি? তিনি বললেন: "আমার উম্মতের মধ্যে আমার জন্য একটি নিদর্শন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে যে, যখন আমি তা দেখব তখন যেন তা বলি: {যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে} (৩)। আর ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এই সূরা— {যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে} সম্পর্কে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলেছিলেন যে, এটি হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তিরোধানের সময়, যা তাঁকে অবগত করা হয়েছে। তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "আমি এ সম্পর্কে তা-ই জানি যা তুমি জানো।" (৪)। আর বলা হয়েছে যে, {যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে} নাজিল হয়েছিল সেই দিন...

--------------------------------------------

(১) বুখারি, হাদিস নং ৪৩ এবং ১১৫১; মুসলিম, ১/৫৪০ এবং ২/৮১১, হাদিস নং ৭৮২, এবং শব্দাবলি তাঁর।

(২) ফাতহুল বারীসহ বুখারি, ৯/৪৩ এবং ৪/২১৩, হাদিস নং ২০৪৪ এবং ৪৯৯৮।

(৩) মুসলিম, ১/৩৫১, হাদিস নং ৪৮৪।

(৪) ফাতহুল বারীসহ বুখারি, ৮/১৩০, হাদিস নং ৩৬২৭।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ২১)
النحر، والنبي صلى الله عليه وسلم في منى بحجة الوداع (1)، وقيل: نزلت أيام التشريق (2)، وعند الطبراني أنها لما نزلت هذه السورة أخذ رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم أشدَّ ما كان اجتهاداً في أمر الآخرة (3)؛ ولهذا قالت عائشة رضي الله عنها: كان رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يكثر أن يقول في ركوعه وسجوده: ((سبحانك اللَّهم ربنا وبحمدك، اللَّهم اغفر لي)) يتأول القرآن (4)، ومعنى ذلك أنه يفعل ما أمر به فيه، وهو قوله تعالى: {فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا} (5).

وخلاصة القول: إن الدروس والفوائد والعبر المستنبطة من هذا المبحث كثيرة، ومنها:

 

‌‌1 - الحث على المداومة على العمل الصالح، وأن قليلاً دائماً خير من كثير منقطع؛ لأن بدوام العمل الصالح القليل تدوم الطاعة والذكر، والمراقبة، والنية، والإخلاص، والإقبال على الخالق، والقليل الدائم يثمر؛ لأنه يزيد على الكثير المنقطع أضعافاً

كثيرة (6).

--------------------------------------------

(1) انظر: البخاري مع الفتح، 8/ 734، برقم 3627، وقيل: عاش بعدها إحدى وثمانين يوماً. فتح 8/ 734.

(2) انظر: المرجع السابق، 8/ 130.

(3) انظر: فتح الباري، 8/ 130.

(4) البخاري، برقم 794، ومسلم، برقم 484.

(5) انظر: شرح النووي، 4/ 447.

(6) انظر: فتح الباري 1/ 103، وشرح النووي 6/ 318.
কুরবানির দিন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের সময় মিনায় ছিলেন (১)। বলা হয়েছে: এটি আইয়ামে তাশরিকের দিনগুলোতে নাজিল হয়েছে (২)। তাবারানির বর্ণনায় রয়েছে যে, যখন এই সূরাটি নাজিল হলো, তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আখিরাতের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি কঠোর পরিশ্রম শুরু করলেন (৩); এই কারণেই আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রুকু এবং সিজদায় অধিক পরিমাণে বলতেন: "হে আল্লাহ, আমাদের রব! আপনার প্রশংসাসহ আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।" তিনি কুরআনের নির্দেশ পালন করতেন (৪)। এর অর্থ হলো, এতে তাঁকে যা আদেশ করা হয়েছে তিনি তাই করতেন, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: "অতএব আপনি আপনার রবের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয়ই তিনি পরম তওবা কবুলকারী" (৫)।

সারসংক্ষেপ হলো: এই আলোচনা থেকে উদ্ভূত শিক্ষা, উপকারিতা এবং উপদেশসমূহ অনেক, যার মধ্যে রয়েছে:

 

‌১ - নেক আমল বা সৎকর্মে অবিচল থাকার উৎসাহ প্রদান, এবং এটি যে অল্প কিন্তু নিয়মিত আমল বিচ্ছিন্ন অনেক আমলের চেয়ে উত্তম; কারণ অল্প নেক আমল নিয়মিত করার মাধ্যমে আনুগত্য, জিকির, আল্লাহর পর্যবেক্ষণ, নিয়ত, ইখলাস এবং স্রষ্টার প্রতি একাগ্রতা অব্যাহত থাকে। আর অল্প নিয়মিত আমল ফলপ্রসূ হয়; কারণ এটি বিচ্ছিন্ন অনেক আমলের চেয়ে বহু গুণ বেশি বৃদ্ধি পায় (৬)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ফাতহুল বারীসহ বুখারি, ৮/ ৭৩৪, হাদিস নং ৩৬২৭। বলা হয়েছে: এরপর তিনি একাশি দিন জীবিত ছিলেন। ফাতহ ৮/ ৭৩৪।

(২) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস, ৮/ ১৩০।

(৩) দেখুন: ফাতহুল বারী, ৮/ ১৩০।

(৪) বুখারি, হাদিস নং ৭৯৪, এবং মুসলিম, হাদিস নং ৪৮৪।

(৫) দেখুন: শারহুন নববী, ৪/ ৪৪৭।

(৬) দেখুন: ফাতহুল বারী ১/ ১০৩, এবং শারহুন নববী ৬/ ৩১৮।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌2 - من أجهد نفسه في شيء من العبادات لا يطيق العمل به خُشِيَ عليه أن يمل فيفضي به ذلك إلى تركه (1).

‌‌3 - الإنسان المسلم كلما تقدم في العمر اجتهد في العمل على حسب القدرة والطاقة، ليلقى اللَّه على خير أحواله؛ ولأن الأعمال بالخواتيم، وخير الأعمال الصالحة خواتيمها (2).

--------------------------------------------

(1) انظر: فتح الباري 4/ 215.

(2) انظر: فتح الباري 4/ 285، و 9/ 46.
২ - ইবাদতের এমন কোনো কাজে যে ব্যক্তি নিজেকে অতিমাত্রায় পরিশ্রান্ত করে তোলে যা পালন করা তার সাধ্যাতীত, তার ব্যাপারে এই আশঙ্কা করা হয় যে সে ক্লান্ত হয়ে পড়বে, ফলে তা তাকে সেটি বর্জনের দিকে ধাবিত করবে (১)।

৩ - মুসলিম ব্যক্তি বয়সের ভারে যত অগ্রসর হয়, সে সক্ষমতা ও শক্তি অনুযায়ী আমল করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়, যাতে সে তার সর্বোত্তম অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারে; আর যেহেতু আমলসমূহ শেষ পরিণতির ওপর নির্ভরশীল, এবং সর্বোত্তম নেক আমলসমূহ হলো তার সমাপ্তিসমূহ (২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ফাতহুল বারী ৪/ ২১৫।

(২) দেখুন: ফাতহুল বারী ৪/ ২৮৫, এবং ৯/ ৪৬।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المبحث الرابع: وداعه لأمته، ووصاياه في حجة الوداع

‌‌1 - أذانه في الناس بالحج:

1 - بعد أن بلَّغ صلى الله عليه وسلم البلاغ المبين، وأدّى الأمانة، ونصح الأمة، وجاهد في اللَّه حقَّ جهاده، أعلن في الناس، وأذَّن فيهم، وأعلمهم أنه حاجٌّ في السنة العاشرة - بعد أن مكث في المدينة تسع سنين، كلها معمورة بالجهاد والدعوة والتعليم - وبعد هذا النداء العظيم الذي قصد به صلى الله عليه وسلم إبلاغ الناس فريضة الحج، ليتعلموا المناسك منه صلى الله عليه وسلم؛ وليشهدوا أقواله، وأفعاله، ويوصيهم ليبلغ الشاهد الغائب، وتشيع دعوة الإسلام، وتبلغ الرسالة القريب والبعيد (1)، قال جابر رضي الله عنه: إن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم مكث تسع سنين لم يحجَّ، ثم أذَّن في الناس في العاشرة أن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم حاجٌّ، فقدم المدينة بشر كثير، كلهم يلتمس أن يأتمَّ برسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، ويعمل مثل عمله … وساق الحديث، وفيه: حتى إذا استوت به ناقته على البيداء (2)، نظرت إلى مدِّ بصري بين يديه من راكب وماشٍ، وعن يمينه مثل ذلك، وعن يساره مثل ذلك، ومن خلفه مثل ذلك (3) ، ورسول اللَّه صلى الله عليه وسلم بين أظهرنا،

وعليه

--------------------------------------------

(1) انظر: شرح النووي على صحيح مسلم، 8/ 422 ، وشرح الأبي، 4/ 244.

(2) البيداء: اسم للمفازة والصحراء التي لا شيء فيها، وهي هنا موضع بذي الحليفة. فتح الملك المعبود،، 2/ 9.

(3) قيل كان عددهم تسعين ألفاً، وقيل مائة وثلاثين ألفاً. انظر: المرجع السابق، 2/ 9، و 105.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর উম্মতকে বিদায় জানানো এবং বিদায় হজ্জে তাঁর অসিয়তসমূহ

১ - মানুষের মাঝে হজ্জের ঘোষণা প্রদান:

১ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্টভাবে দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার পর, আমানত আদায় করার পর, উম্মতকে নসিহত করার পর এবং আল্লাহর পথে যথাযথভাবে জিহাদ করার পর মানুষের মাঝে ঘোষণা করলেন, তাদের মাঝে আহ্বান জানালেন এবং তাদের অবহিত করলেন যে, তিনি দশম হিজরিতে হজ্জ পালন করবেন—মদিনায় নয় বছর অবস্থানের পর, যার প্রতিটি বছর জিহাদ, দাওয়াত এবং শিক্ষাদানে পূর্ণ ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই মহান আহ্বানের মাধ্যমে মানুষকে হজ্জের ফরজিয়ত পৌঁছে দেওয়ার ইচ্ছা করেছিলেন, যাতে তারা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছ থেকে হজ্জের নিয়মাবলী শিখতে পারে; তাঁর কথা ও কাজগুলো প্রত্যক্ষ করতে পারে এবং তিনি তাদের অসিয়ত করবেন যাতে উপস্থিত ব্যক্তি অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেয়, ইসলামের দাওয়াত ছড়িয়ে পড়ে এবং রিসালাত নিকট ও দূরবর্তীদের কাছে পৌঁছে যায় (১)। জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নয় বছর (মদিনায়) অবস্থান করেন এবং হজ্জ করেননি। অতঃপর দশম বছরে মানুষের মাঝে ঘোষণা দেওয়া হলো যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজ্জ করবেন। তখন মদিনায় অসংখ্য মানুষের সমাগম হলো, যারা সবাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অনুসরণ করতে এবং তিনি যেভাবে আমল করেন সেভাবে আমল করতে ইচ্ছুক ছিলেন... এবং তিনি হাদিসটি বর্ণনা করেন, যাতে রয়েছে: এমনকি যখন তাঁর উটনী তাঁকে নিয়ে বায়দা প্রান্তরের উপরে উঠল (২), আমি আমার দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত তাঁর সামনে আরোহী ও পদব্রজে গমনকারীদের দেখলাম, তাঁর ডানেও তদ্রূপ, বামেও তদ্রূপ এবং তাঁর পেছনেও তদ্রূপ ছিল (৩)। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝে ছিলেন,

এবং তাঁর ওপর

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শারহু নববী আলা সহিহ মুসলিম, ৮/ ৪২২ এবং শারহুল আবী, ৪/ ২৪৪।

(২) আল-বায়দা: এটি এমন মরুভূমি বা জনমানবহীন প্রান্তর যেখানে কিছুই নেই। এখানে এটি যুল-হুলাইফার একটি স্থান। ফাতহুল মালিকুল মাবুদ, ২/ ৯।

(৩) বলা হয়েছে তাদের সংখ্যা ছিল নব্বই হাজার, আবার বলা হয়েছে এক লক্ষ ত্রিশ হাজার। দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস, ২/ ৯ এবং ১০৫।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ২৪)
ينزل القرآن، وهو يعلم تأويله، وما عمل به من شيء عملنا به … وساق الحديث، وقال: حتى إذا أتى عرفة فوجد القبة قد ضُرِبت له بنمرة، فنزل بها.

 

‌‌2 - وداعه، ووصيته لأمته في عرفات:

قال جابر رضي الله عنه: حتى إذا زاغت الشمس أمر بالقصواء فرحلت له، فأتى بطن الوادي، فخطب الناس، وقال: ((إن دماءكم وأموالكم حرام عليكم كحرمة يومكم هذا، في شهركم هذا، في بلدكم هذا، ألا كل شيء من أمر الجاهلية تحت قدمي موضوع (1)، ودماء الجاهلية موضوعة، وإن أول دمٍ أضع من دمائنا دم ابن ربيعة بن الحارث، كان مسترضعاً في بني سعد، فقتلته هذيل، وربا الجاهلية موضوع، وأول رباً أضع ربانا؛ ربا عباس بن عبد المطلب؛ فإنه موضوع كله (2)، فاتقوا اللَّه في النساء، فإنكم أخذتموهن بأمان اللَّه، واستحللتم فروجهن بكلمة اللَّه (3)، ولكم عليهن أن لا يوطئن

--------------------------------------------

(1) والمعنى أنه أبطل كل شيء من أمور الجاهلية، وصار كالشيء الموضوع تحت القدمين، فلا يعمل به في الإسلام، فجعله كالشيء الموضوع تحت القدم من حيث إهماله، وعدم المبالاة به. انظر: شرح النووي، 8/ 432، وشرح الأبي، 4/ 255، وفتح الملك المعبود،، 2/ 18.

(2) والمعنى الزائد على رأس المال باطل أما رأس المال فلصاحبه بنص القرآن، انظر: شرح النووي 8/ 433.

(3) قيل: الكلمة هي: الأمر بالتسريح بالمعروف، أو الإمساك بإحسان، وقيل: هي لا إله إلا اللَّه، وقيل: الإيجاب والقبول، وقيل: هي قوله تعالى: {فَانكِحُواْ مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ}، سورة النساء، الآية: 3. قال النووي، 8/ 433: ((وهذا هو الصحيح، ويدخل فيه القبول والإيجاب))، وشرح الأبي، 4/ 256، وفتح الملك المعبود،، 2/ 19.
কুরআন নাযিল হচ্ছিল, আর তিনি এর ব্যাখ্যা জানতেন। তিনি যা যা আমল করতেন, আমরাও তা-ই আমল করতাম … এরপর তিনি হাদীস বর্ণনা করলেন এবং বললেন: এমনকি যখন তিনি আরাফায় আসলেন, তখন দেখলেন যে নামিরা নামক স্থানে তাঁর জন্য একটি তাবু টাঙানো হয়েছে, তখন তিনি সেখানে অবস্থান নিলেন।

 

‌‌২ - তাঁর বিদায় এবং আরাফাতের ময়দানে তাঁর উম্মতের প্রতি তাঁর ওসিয়ত (উপদেশ):

জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: অতঃপর যখন সূর্য ঢলে পড়ল, তিনি কাসওয়া নামক উটনীর প্রস্তুতি নিতে আদেশ করলেন। তাঁর জন্য জিন কাসা হল। এরপর তিনি উপত্যকার মাঝখানে আসলেন এবং উপস্থিত লোকদের উদ্দেশে খুতবা প্রদান করলেন। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত এবং তোমাদের ধন-সম্পদ তোমাদের জন্য তেমনিভাবে হারাম (পবিত্র), যেমন পবিত্র তোমাদের আজকের এই দিন, তোমাদের এই মাস এবং তোমাদের এই শহর। জেনে রাখো, জাহিলিয়াত আমলের সব বিষয় আমার পায়ের নিচে রাখা হলো (বাতিল করা হলো) (১)। জাহিলিয়াতের সময়ের রক্তের দাবি রহিত করা হলো। আমাদের রক্তগুলোর মধ্যে ইবনে রাবিআ ইবনে আল-হারিসের রক্তের দাবি আমি প্রথম রহিত করছি; সে বনু সা’দ গোত্রে দুধ পান করছিল, তখন হুযাইল গোত্র তাকে হত্যা করেছিল। জাহিলিয়াতের সুদ রহিত করা হলো। আমাদের সুদগুলোর মধ্যে প্রথম যে সুদ আমি রহিত করছি তা হলো আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সুদ; তার যাবতীয় সুদ রহিত করা হলো (২)। নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো, কেননা তোমরা আল্লাহর আমানতের মাধ্যমে তাদের গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর বাণীর মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থানকে হালাল করে নিয়েছ (৩)। তোমাদের প্রতি তাদের কর্তব্য হলো তারা যেন তোমাদের বিছানায় এমন কাউকে পদচারণা করতে না দেয় যাকে তোমরা অপছন্দ করো..."

--------------------------------------------

(১) এর অর্থ হলো তিনি জাহিলিয়াতের সমস্ত বিষয় বাতিল করেছেন এবং তা পায়ের নিচে রাখা বস্তুর মতো হয়ে গেছে। ফলে ইসলামে তা আর কার্যকর হবে না। তিনি এটাকে বর্জন করা এবং এ নিয়ে কোনো প্রকার পরোয়া না করার দিক থেকে পায়ের নিচে রাখা বস্তুর মতো করে দিয়েছেন। দেখুন: শারহে নববী, ৮/৪৩২; শারহে আবি, ৪/২৫৫; ফাতহুল মালিক আল-মাবুদ, ২/১৮।

(২) এর অর্থ হলো মূলধনের অতিরিক্ত অংশ বাতিল, তবে মূলধন এর মালিকের প্রাপ্য হবে কুরআনের স্পষ্ট ঘোষণা অনুযায়ী। দেখুন: শারহে নববী ৮/৪৩৩।

(৩) বলা হয়েছে যে, 'বাণী' হলো: সদাচারের সাথে বিদায় দেওয়ার বা সদয়ভাবে রাখার নির্দেশ। আবার বলা হয়েছে: এটি হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। কেউ বলেছেন: ইজাব ও কবুল (প্রস্তাব ও গ্রহণ)। আবার বলা হয়েছে: এটি মহান আল্লাহর এই বাণী: {নারীদের মধ্যে তোমাদের যাকে ভালো লাগে তাকে বিয়ে করো}, সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩। ইমাম নববী (৮/৪৩৩) বলেছেন: "এটিই বিশুদ্ধ মত, আর এর মধ্যে ইজাব ও কবুলও অন্তর্ভুক্ত।" দেখুন: শারহে আবি, ৪/২৫৬; ফাতহুল মালিক আল-মাবুদ, ২/১৯।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ২৫)
فراشكم (1) أحداً تكرهونه، فإن فعلن ذلك فاضربوهن ضرباً غير مبرِّح (2)، ولهن عليكم رزقهن وكسوتهن بالمعروف، وقد تركت فيكم ما لن تضلوا بعده إن اعتصمتم به: كتاب اللَّه (3) ، وأنتم تسألون عني، فما أنتم قائلون؟)) قالوا: نشهد أنك قد بلّغت، وأدَّيت، ونصحت، فقال بإصبعه السبَّابة يرفعها إلى السماء، وينكتها إلى الناس: ((اللَّهمّ اشهد، اللَّهمّ اشهد)) ثلاث مرات (4)، وقد كان في الموقف جمٌّ غفير، لا يُحصي عددهم إلَاّ اللَّه تعالى (5).

وأُنزل على النبي صلى الله عليه وسلم في يوم عرفة يوم الجمعة قوله تعالى:

--------------------------------------------

(1) والمعنى: لا يأذن لأحد من الرجال أو النساء تكرهون أن يدخل منازلكم، وليس المراد من ذلك الزنا؛ لأنه حرام سواء كرهه الزوج أو لم يكرهه؛ ولأن فيه الحد. شرح النووي 8/ 433، والأبي، 4/ 257، وفتح الملك المعبود،، 2/ 20.

(2) غير المبرِّح: لا شديد ولا شاق، انظر: فتح الملك المعبود، 2/ 19، وشرح النووي 8/ 434.

(3) والمعنى قد تركت فيكم أمراً لن تخطئوا إن تمسكتم به في الاعتقاد والعمل، وهو كتاب اللَّه الذي لا يأتيه الباطل من بين يده، ولا من خلفه، وسكت عن السنة؛ لأن القرآن هو الأصل في الدين، أو لأن القرآن أمر باتباع السنة، كما قال سبحانه: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللَّهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ}. سورة النساء، الآية: 59. وقال: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا}. سورة الحشر، الآية: 7. انظر: فتح الملك المعبود، 2/ 20، وقد جاء عند الحاكم من حديث ابن عباس رضي الله عنه الوصية بـ" … كتاب اللَّه وسنة نبيه .. "، وصححه الألباني في صحيح الترغيب، برقم 36.

(4) أخرجه مسلم، برقم 1218.

(5) قيل: مائة وثلاثون ألفاً. انظر: فتح الملك المعبود، 2/ 105.
তোমাদের বিছানায় (১) এমন কাউকে (প্রবেশের অনুমতি না দেয়) যাকে তোমরা অপছন্দ করো। যদি তারা তা করে, তবে তোমরা তাদের প্রহার করো এমনভাবে যা কঠোর নয় (২)। এবং প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাদের জন্য খাদ্য ও বস্ত্রের সংস্থান করা তোমাদের দায়িত্ব। আর আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব (৩)। আর তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে; তখন তোমরা কী বলবে?)) তারা বলল: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি (অহি) পৌঁছে দিয়েছেন, (আমানত) আদায় করেছেন এবং নসিহত করেছেন। তখন তিনি তাঁর শাহাদাত আঙুল আকাশের দিকে তুললেন এবং মানুষের দিকে ইশারা করে বললেন: ((হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন! হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন!))—তিনবার (৪)। আর সেই সমাবেশে এক বিশাল জনসমষ্টি ছিল, মহান আল্লাহ ছাড়া যাদের সংখ্যা কেউ গণনা করতে পারে না (৫)।

আর জুমার দিনে আরাফার ময়দানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হয়:

--------------------------------------------

(১) এর অর্থ হলো: পুরুষ বা মহিলাদের মধ্য থেকে এমন কাউকে তোমাদের ঘরে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া যাদের তোমরা অপছন্দ করো। এর দ্বারা ব্যভিচার উদ্দেশ্য নয়; কারণ স্বামী অপছন্দ করুক বা না করুক তা হারাম; এবং এর জন্য নির্ধারিত দণ্ড (হদ) রয়েছে। শারহুন নববী ৮/৪৩৩, আল-আবী ৪/২৫৭ এবং ফাতহুল মালিকিল মাবুদ ২/২০।

(২) কঠোর নয়: যা তীব্র বা কষ্টদায়ক নয়। দেখুন: ফাতহুল মালিকিল মাবুদ ২/১৯ এবং শারহুন নববী ৮/৪৩৪।

(৩) অর্থ হলো—আমি তোমাদের মাঝে এমন একটি বিষয় রেখে গিয়েছি যা বিশ্বাস ও আমলের ক্ষেত্রে আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনো ভুল করবে না, আর তা হলো আল্লাহর কিতাব, যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না। সুন্নাহর কথা এখানে উল্লেখ করা হয়নি কারণ কুরআনই হলো দ্বীনের মূল উৎস, অথবা এজন্য যে কুরআন সুন্নাহ অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো}। সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৯। তিনি আরও বলেছেন: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো}। সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৭। দেখুন: ফাতহুল মালিকিল মাবুদ ২/২০। হাকেম-এ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে "আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ..." এর অসিয়ত বর্ণিত হয়েছে এবং আলবানী সহীহুত তারগীব-এ (নম্বর ৩৬) একে সহীহ বলেছেন।

(৪) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, নম্বর ১২১৮।

(৫) বলা হয়েছে: এক লক্ষ ত্রিশ হাজার। দেখুন: ফাতহুল মালিকিল মাবুদ ২/১০৫।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ২৬)
{الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلَامَ دِينًا} (1)، وهذه أكبر نعم اللَّه تعالى على هذه الأمة؛ حيث أكمل تعالى لهم دينهم فلا يحتاجون إلى دين غيره، ولا إلى نبي غير نبيهم صلى الله عليه وسلم؛ ولهذا جعله اللَّه خاتم الأنبياء، وبعثه إلى الجن والإنس، فلا حلال إلا ما أحلَّه، ولا حرام إلا ما حرَّمه، ولا دين إلا ما شرعه، وكل شيء أخبر به فهو حق وصدق، لا كذب فيه ولا خلف، {وَتَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلاً} (2)، أي صدقاً في الأخبار، وعدلاً في الأوامر والنواهي، فلما أكمل اللَّه لهم الدين تمت عليهم النعمة (3).

وقد ذُكر أن عمر بكى عندما نزلت هذه الآية في يوم عرفة، فقيل له: ما يبكيك؟ قال: أبكاني أنا كنا في زيادة من ديننا، فأما إذا أُكمل فإنه لم يكمل شيء إلا نقص (4) ، وكأنه رضي الله عنه توقع موت النبي صلى الله عليه وسلم قريباً.

 

‌‌3 - وداعه ووصيته لأمّته عند الجمرات:

قال جابر رضي الله عنه: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم يرمي على راحلته يوم النحر،

--------------------------------------------

(1) سورة المائدة، الآية: 3، والحديث أخرجه البخاري، برقم 45، ومسلم، برقم 3016، ورقم 3017.

(2) سورة الأنعام، الآية: 115.

(3) تفسير ابن كثير، 2/ 12.

(4) ذكره ابن كثير في تفسيره، 2/ 12، وعزاه بإسناده إلى تفسير الطبري، وهذا يشهد له قوله صلى الله عليه وسلم: ((بدأ الإسلام غريباً، وسيعود غريبًا كما بدأ … )) [أخرجه مسلم، برقم 145].
"আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম" (১), এটি এই উম্মতের ওপর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্ববৃহৎ নিয়ামত; যেহেতু মহান আল্লাহ তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিয়েছেন, ফলে তারা অন্য কোনো দ্বীনের মুখাপেক্ষী নয় এবং তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্য কোনো নবীরও প্রয়োজন নেই; এজন্যই আল্লাহ তাকে শেষ নবী হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং তাকে জিন ও মানবজাতির প্রতি পাঠিয়েছেন। সুতরাং তিনি যা হালাল করেছেন তা ছাড়া আর কোনো কিছু হালাল নেই, তিনি যা হারাম করেছেন তা ছাড়া আর কোনো কিছু হারাম নেই এবং তিনি যা শরয়ি বিধান হিসেবে দিয়েছেন তা ছাড়া আর কোনো দ্বীন নেই। তিনি যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন তা সত্য ও যথার্থ, তাতে কোনো মিথ্যা বা বৈপরীত্য নেই, "আপনার রবের বাণী সত্য ও ন্যায়ের দিক দিয়ে পূর্ণ হয়েছে" (২), অর্থাৎ সংবাদের ক্ষেত্রে সত্য এবং আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে ন্যায়পূর্ণ। সুতরাং আল্লাহ যখন তাদের জন্য দ্বীনকে পূর্ণ করলেন, তখন তাদের ওপর নিয়ামতও সম্পূর্ণ হলো (৩)।

বর্ণিত হয়েছে যে, আরাফার দিনে যখন এই আয়াত নাজিল হলো, তখন উমর (রা.) কাঁদলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কেন কাঁদছেন? তিনি বললেন: আমার কান্নার কারণ হলো, আমরা আমাদের দ্বীনের বৃদ্ধিতে ছিলাম। আর যখন কোনো কিছু পূর্ণতা পায়, তখন তাতে হ্রাস শুরু হয় (৪)। যেন তিনি (রা.) অচিরেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকাল হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন।

 

‌‌৩ - জামরাতের কাছে তাঁর বিদায় এবং উম্মতের প্রতি অসিয়ত:

জাবির (রা.) বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোরবানির দিনে তাঁর সওয়ারির ওপর বসে পাথর নিক্ষেপ করতে দেখেছি,

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৩; হাদিসটি বুখারি, নম্বর ৪৫ এবং মুসলিম, নম্বর ৩০১৬ ও ৩০১৭-এ বর্ণনা করেছেন।

(২) সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১১৫।

(৩) তাফসিরে ইবনে কাসির, ২/১২।

(৪) ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরে (২/১২) এটি উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর সনদে এটি তাবারির তাফসিরের দিকে সম্বন্ধিত করেছেন। আর এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর সাক্ষ্য দেয়: "ইসলামের শুরু হয়েছিল অপরিচিত অবস্থায় এবং অচিরেই তা আবার সূচনালগ্নের ন্যায় অপরিচিত হয়ে পড়বে..." [মুসলিম বর্ণনা করেছেন, নম্বর ১৪৫]।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ২৭)
ويقول: ((لتأخذوا مناسككم، فإني لا أدري لعلِّي لا أحُجُّ بعد حجتي هذه)) (1).

وعن أم الحصين رضي الله عنها قالت: حججت مع رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، فرأيته حين رمى جمرة العقبة وانصرف وهو على راحلته ومعه بلال وأسامة … فقال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم قولاً كثيراً، ثم سمعته يقول: ((إن أُمِّر عليكم عبد مجدَّع أسود يقودكم بكتاب اللَّه تعالى فاسمعوا له وأطيعوا)) (2).

 

‌‌4 - وصيته ووداعه لأمته يوم النحر:

عن أبي بكرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قعد على بعيره، وأمسك إنسان بخطامه - أو بزمامه - وخطب الناس، فقال: ((أتدرون أيُّ يوم هذا))؟ قالوا: اللَّه ورسوله أعلم، [فسكت] حتى ظننا أنه سيسميه بغير اسمه، فقال: ((أليس بيوم النحر))؟ قلنا: بلى يا رسول اللَّه! قال: ((فأي شهر هذا))؟ قلنا: اللَّه ورسوله أعلم، [فسكت] حتى ظننا أنه سيميه بغير اسمه، فقال: ((أليس بذي الحجة))؟ قلنا: بلى يا رسول اللَّه، قال: ((فأي بلد هذا))؟ قلنا: اللَّه ورسوله أعلم، [فسكت] حتى ظننا أنه سيسميه

بغير اسمه، قال: ((أليست البلدة الحرام))؟ قلنا: بلى يا رسول اللَّه ، قال: ((فإن دماءكم، وأموالكم، وأعراضكم، وأبشاركم عليكم حرام

--------------------------------------------

(1) مسلم، برقم 1297.

(2) مسلم، برقم 1298.
এবং তিনি বলেন: ((তোমরা তোমাদের হজের নিয়ম-কানুন শিখে নাও, কারণ আমি জানি না সম্ভবত এই হজের পর আমি আর হজ করব না)) (১)।

উম্মুল হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে হজ করেছি। আমি তাঁকে দেখেছি যখন তিনি জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করলেন এবং ফিরে আসলেন, তখন তিনি তাঁর উটের পিঠে আরোহী ছিলেন এবং তাঁর সাথে বিলাল ও উসামা ছিলেন … অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেক কথা বললেন, তারপর আমি তাঁকে বলতে শুনলাম: ((যদি তোমাদের ওপর এমন কোনো নাক-কান কাটা কৃষ্ণবর্ণের দাসকেও আমীর নিযুক্ত করা হয় যে তোমাদেরকে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী পরিচালিত করে, তবে তোমরা তার কথা শোনো এবং আনুগত্য করো)) (২)।

 

‌‌৪ - কুরবানির দিনে উম্মতের প্রতি তাঁর অসিয়ত ও বিদায়ি ভাষণ:

আবু বাকরা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উটের ওপর বসলেন এবং একজন মানুষ সেটির লাগাম—অথবা রশি—ধরে রইল। এরপর তিনি লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: ((তোমরা কি জানো আজ কোন দিন?)) তারা বলল: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সবচেয়ে ভালো জানেন। [অতঃপর তিনি নীরব রইলেন] এমনকি আমরা মনে করলাম যে তিনি হয়তো এই দিনটির অন্য কোনো নাম দেবেন। তারপর তিনি বললেন: ((এটি কি কুরবানির দিন নয়?)) আমরা বললাম: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: ((এটি কোন মাস?)) আমরা বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সবচেয়ে ভালো জানেন। [অতঃপর তিনি নীরব রইলেন] এমনকি আমরা মনে করলাম যে তিনি হয়তো এই মাসটির অন্য কোনো নাম দেবেন। তারপর তিনি বললেন: ((এটি কি যিলহজ মাস নয়?)) আমরা বললাম: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: ((এটি কোন শহর?)) আমরা বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সবচেয়ে ভালো জানেন। [অতঃপর তিনি নীরব রইলেন] এমনকি আমরা মনে করলাম যে তিনি হয়তো এই শহরটির অন্য কোনো নাম দেবেন। তিনি বললেন: ((এটি কি পবিত্র শহর নয়?)) আমরা বললাম: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: ((নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ, তোমাদের সম্মান এবং তোমাদের দেহ তোমাদের জন্য হারাম (অলঙ্ঘনীয়) ...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম, হাদিস নং ১২৯৭।

(২) মুসলিম, হাদিস নং ১২৯৮।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ২৮)
كحرمة يومكم هذا، في شهركم هذا، في بلدكم هذا [وستلقون ربكم فيسألكم عن أعمالكم، فلا ترجعوا بعدي كفاراً [أو ضُلَاّلاً يضرب بعضكم رقاب بعض، ألا ليبلغ الشاهد [منكم] الغائب، [فَرُبَّ مُبلَّغ أوعى من سامع]، ألا هل بلَّغت [ثم انكفأ (1) إلى كبشين أملحين فذبحهما .. )) (2) قال ابن عباس رضي الله عنهما: فوالذي نفسي بيده إنها لوصيته إلى أمته فليبلغ الشاهد الغائب (3).

وسكوته صلى الله عليه وسلم بعد كل سؤال من هذه الأسئلة الثلاثة كان لاستحضار فهومهم، وليقبلوا عليه بكليتهم، وليستشعروا عظمة ما يخبرهم عنه (4).

وعن ابن عمر رضي الله عنه قال: ((وقف النبي صلى الله عليه وسلم يوم النحر بين الجمرات … وقال: ((هذا يوم الحج الأكبر))، وطَفِق (5) النبي يقول:

((اللَّهم اشهد))، وودع الناس، فقالوا: هذه حجة الوداع)) (6).

وقد فتح اللَّه أسماع جميع الحجاج بمنى حتى سمعوا خطبة النبي -

--------------------------------------------

(1) انكفأ: أي انقلب. انظر: شرح النووي، 11/ 183.

(2) البخاري، 3/ 26 برقم 67، و105، و1741، و3197، و4406، و4662، و5550، و7078، و7447، ومسلم، برقم 1679، والألفاظ من هذه المواضع.

(3) البخاري، برقم 1739.

(4) انظر: فتح الباري، 1/ 159.

(5) طفق: جعل، وشرع بقول.

(6) البخاري، برقم 1742.
তোমাদের এই দিনের পবিত্রতার মতো, তোমাদের এই মাসের (পবিত্রতার মতো), তোমাদের এই শহরের (পবিত্রতার মতো)। [তোমরা শীঘ্রই তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে এবং তিনি তোমাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। সুতরাং আমার পরে তোমরা কাফির (অথবা পথভ্রষ্ট) হয়ে যেও না, যেখানে একে অপরের ঘাড় কাটবে। সাবধান! তোমাদের মধ্যে উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে (এই বার্তা) পৌঁছে দেয়। কেননা, যার কাছে পৌঁছানো হয় সে হয়তো শ্রবণকারীর চেয়ে বেশি সংরক্ষণকারী হতে পারে। সাবধান! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? [অতঃপর তিনি দুটি সাদা-কালো ভেড়ার (১) দিকে ফিরে গেলেন এবং সেগুলো জবাই করলেন...]] (২) ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, এটি ছিল তাঁর উম্মতের প্রতি তাঁর অসিয়ত; সুতরাং উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেয় (৩)।

এই তিনটি প্রশ্নের প্রত্যেকটির পর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নীরবতা ছিল তাঁদের বোধশক্তিকে জাগ্রত করার জন্য, যাতে তাঁরা পূর্ণ মনোযোগ সহকারে তাঁর দিকে নিবিষ্ট হন এবং তিনি যা সংবাদ দিচ্ছেন তার মাহাত্ম্য উপলব্ধি করতে পারেন (৪)।

ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরবানির দিন জামরাসমূহের মাঝে অবস্থান করলেন … এবং বললেন: ((এটি হলো হজ্জে আকবরের দিন))। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (৫) বলতে শুরু করলেন:

((হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন)), অতঃপর তিনি মানুষের কাছ থেকে বিদায় নিলেন, তখন লোকেরা বলল: এটি বিদায় হজ্জ (৬)।

আল্লাহ তাআলা মিনায় সকল হাজীর শ্রবণশক্তি উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন, ফলে তারা নবীর খুতবা শুনতে পেয়েছিলেন -

--------------------------------------------

(১) ইনকাফাআ: অর্থাৎ ফিরে গেলেন। দেখুন: শারহুন নববী, ১১/ ১৮৩।

(২) বুখারি, ৩/ ২৬, হাদীস নম্বর ৬৭, ১০৫, ১৭৪১, ৩১৯৭, ৪৪০৬, ৪৬৬২, ৫৫৫০, ৭০৭৮, ৭৪৪৭; এবং মুসলিম, হাদীস নম্বর ১৬৭৯; শব্দগুলো এই স্থানসমূহ হতে গৃহীত।

(৩) বুখারি, হাদীস নম্বর ১৭৩৯।

(৪) দেখুন: ফাতহুল বারী, ১/ ১৫৯।

(৫) তাফিকা: শুরু করলেন এবং বলতে লাগলেন।

(৬) বুখারি, হাদীস নম্বর ১৭৪২।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ২৯)
صلى الله عليه وسلم - يوم النحر، وهذا من معجزاته أن بارك في أسماعهم وقوَّاها حتى سمعها القاصي والداني، حتى كانوا يسمعون وهم في منازلهم (1)، فعن عبد الرحمن بن معاذ التيمي رضي الله عنه قال: ((خطبنا رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم ونحن بمنى، فَفُتِحت أسماعُنا حتى كنا نسمع ما يقول، ونحن في منازلنا .. )) (2).

 

‌‌5 - وصيته صلى الله عليه وسلم لأمته في أوسط أيام التشريق:

وخطب صلى الله عليه وسلم الناس في اليوم الثاني عشر من ذي الحجة، وهو ثاني أيام التشريق، ويقال له: يوم الرؤوس؛ لأن أهل مكة يسمونه بذلك؛ لأكلهم رؤوس الأضاحي فيه، وهو أوسط أيام التشريق (3) ، فعن أبي نجيح، عن رجلين من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ، وهما من بني بكر، قالا: رأينا رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يخطب بين أوسط أيام التشريق، ونحن عند

راحلته، وهي خطبة رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم التي خطب (4) بمنى (5) ، وعن أبي

--------------------------------------------

(1) انظر: عون المعبود، 5/ 436، وفتح الملك المعبود، 2/ 106.

(2) أبو داود، برقم 1957، وفي آخره قصة تدل على أنه يوم النحر، والحديث صححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، برقم 1724، 1/ 369.

(3) انظر: عون المعبود شرح سنن أبي داود، 5/ 432، وفتح الملك المعبود تكملة المنهل العذب المورود، 2/ 100، وفتح الباري، 3/ 574.

(4) ومعنى قوله: <وهي خطبته التي خطب بمنى"، أي مثل الخطبة التي خطبها يوم النحر بمنى، فالخطبتان: في يوم النحر، وفي ثاني أيام التشريق اليوم الثاني عشر متحدتان في المعنى. انظر: عون المعبود، 5/ 431، وفتح الملك المعبود، 2/ 100.

(5) أبو داود، برقم 1952، ويشهد له حديث سرَّاء بنت نبهان، برقم 1953، وصحح حديث أبي نجيح الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 368، برقم 1720.
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - কুরবানির দিন; আর এটি ছিল তাঁর মুজিজাসমূহের অন্তর্ভুক্ত যে, আল্লাহ তাদের শ্রবণশক্তিতে বরকত দান করেছিলেন এবং তা শক্তিশালী করে দিয়েছিলেন, ফলে দূর ও নিকটের সবাই তা শুনতে পাচ্ছিল, এমনকি তারা তাদের আবাসস্থলে থাকা অবস্থায়ও শুনতে পাচ্ছিল (১)। আবদুর রহমান ইবনে মুয়াজ আত-তাইমি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনা থাকা অবস্থায় আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন, তখন আমাদের শ্রবণশক্তি খুলে দেওয়া হলো, ফলে তিনি যা বলছিলেন তা আমরা শুনতে পাচ্ছিলাম, অথচ আমরা আমাদের আবাসস্থলে ছিলাম... " (২)।

 

‌‌৫ - তাশরিকের দিনগুলোর মধ্যবর্তী দিনে স্বীয় উম্মতের প্রতি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অসিয়ত:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিলহজ মাসের বারো তারিখে জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দেন, যা ছিল তাশরিকের দ্বিতীয় দিন। আর একে 'ইয়াউমুর রুউস' (মাথাসমূহের দিন) বলা হয়; কারণ মক্কাবাসীরা একে এই নামে অভিহিত করত এই দিনে কুরবানির পশুদের মাথা ভক্ষণ করার কারণে। এটি ছিল তাশরিকের দিনগুলোর মধ্যবর্তী দিন (৩)। আবু নাজিহ থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুইজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন—যারা বনু বকর গোত্রের ছিলেন—তাঁরা বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাশরিকের মধ্যবর্তী দিনগুলোতে ভাষণ দিতে দেখেছি, তখন আমরা তাঁর বাহনের কাছে ছিলাম। আর এটি ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই ভাষণ যা তিনি (৪) মিনায় (৫) দিয়েছিলেন। এবং আবু... থেকে বর্ণিত।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আউনুল মাবুদ, ৫/৪৩৬; ফাতহুল মালিকিল মাবুদ, ২/১০৬।

(২) আবু দাউদ, হাদিস নং ১৯৫৭; এর শেষে একটি ঘটনা রয়েছে যা প্রমাণ করে যে এটি ছিল কুরবানির দিন। আলবানি 'সহিহ সুনানে আবু দাউদ'-এ হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন, হাদিস নং ১৭২৪, ১/৩৬৯।

(৩) দেখুন: আউনুল মাবুদ শারহু সুনানে আবি দাউদ, ৫/৪৩২; ফাতহুল মালিকিল মাবুদ তাকমিলাতুল মানহালিল আজবিল মাওরুদ, ২/১০০; ফাতহুল বারী, ৩/৫৭৪।

(৪) এবং তাঁর উক্তি "এটি তাঁর সেই ভাষণ যা তিনি মিনায় দিয়েছেন" এর অর্থ হলো: কুরবানির দিনে মিনায় তিনি যে ভাষণ দিয়েছিলেন তার অনুরূপ। সুতরাং কুরবানির দিনের ভাষণ এবং তাশরিকের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ১২ তারিখের ভাষণ—উভয়ই অর্থের দিক থেকে অভিন্ন। দেখুন: আউনুল মাবুদ, ৫/৪৩১; ফাতহুল মালিকিল মাবুদ, ২/১০০।

(৫) আবু দাউদ, হাদিস নং ১৯৫২; সাররা বিনতে নাবহান বর্ণিত হাদিসটি (নং ১৯৫৩) এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয়। আলবানি 'সহিহ সুনানে আবু দাউদ'-এ আবু নাজিহ বর্ণিত হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন, ১/৩৬৮, হাদিস নং ১৭২০।
(খণ্ড: ১) বিদাউর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লি উম্মতিহী (পৃষ্ঠা: ৩০)
نضرة قال: حدثني من سمع خطبة النبي صلى الله عليه وسلم وسْطَ أيام التشريق، فقال: ((يا أيها الناس إن ربكم واحد، وإن أباكم واحد، ألا لا فضل لعربي على أعجمي، ولا لعجمي على عربي، ولا لأحمر على أسود، ولا لأسود على أحمر إلا بالتقوى، أبلغت))؟ قالوا: بلَّغ رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، ثم قال: ((أي يوم هذا))؟ قالوا: يوم حرام، ثم قال: ((أيُّ شهر هذا))؟ قالوا: شهر حرام، ثم قال: ((أي بلد هذا))؟ قالوا: بلد حرام، قال: ((فإن اللَّه قد حرَّم بينكم دماءكم، وأموالكم، وأعراضكم، كحرمة يومكم هذا، في شهركم هذا، في بلدكم هذا، أبلغت؟)) قالوا بلَّغ رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، قال: ((ليبلغ الشاهد الغائب)) (1).

وهناك جمل من خطبه صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع في الأماكن المقدسة، منها حديث ابن عباس رضي الله عنه أن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم خطب الناس في حجة

الوداع، فقال: ((إن الشيطان قد يئس أن يُعبد بأرضكم، ولكن رضي أن يُطاع فيما سوى ذلك مما تحاقرون من أعمالكم فاحذروا، إني قد تركت فيكم ما إن اعتصمتم به فلن تضلوا أبداً، كتاب اللَّه وسنة

--------------------------------------------

(1) أحمد بترتيب عبد الرحمن البناء، 12/ 226، وهو في النسخة المحققة من المسند برقم 23489، وذكره الهيثمي في مجمع الزوائد وقال: رواه أحمد ورجاله رجال الصحيح، 3/ 266. وانظر: حديث أبي حرة الرقاشي عن عمه قال: كنت آخذ بزمام ناقة رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم في أوسط أيام التشريق أذود عنه الناس … وذكر فيه جملاً تراجع ويراجع سند الحديث في مسند أحمد، 5/ 72.
নাদলাহ বলেছেন: তিনি এমন এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যিনি তাশরিকের দিনগুলোর মাঝামাঝি সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুতবা শুনেছেন। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে লোকসকল! নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক এক এবং তোমাদের পিতাও এক। জেনে রেখো, কোনো আরবের ওপর কোনো অনারবের এবং কোনো অনারবের ওপর কোনো আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তেমনি কোনো লাল বর্ণের মানুষের ওপর কালো বর্ণের মানুষের এবং কোনো কালো বর্ণের মানুষের ওপর লাল বর্ণের মানুষের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কেবল তাকওয়া ব্যতীত। আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?" তারা বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৌঁছে দিয়েছেন। অতঃপর তিনি বললেন: "এটি কোন দিন?" তারা বললেন: পবিত্র দিন। এরপর তিনি বললেন: "এটি কোন মাস?" তারা বললেন: পবিত্র মাস। অতঃপর তিনি বললেন: "এটি কোন শহর?" তারা বললেন: পবিত্র শহর। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সম্মানকে তোমাদের মাঝে তেমনিভাবে পবিত্র করেছেন, যেমন পবিত্র তোমাদের আজকের এই দিনটি, তোমাদের এই মাসটি এবং তোমাদের এই শহরটি। আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?" তারা বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি বললেন: "উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়" (১)।

পবিত্র স্থানসমূহে বিদায় হজ্জের ভাষণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশ কিছু বাণী রয়েছে। তন্মধ্যে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসটি অন্যতম যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জে মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন।

তখন তিনি বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের এই ভূখণ্ডে তার ইবাদত করা হবে—এ বিষয়ে নিরাশ হয়েছে, কিন্তু তোমরা তোমাদের কর্মের মধ্য থেকে যেগুলোকে তুচ্ছ জ্ঞান করো, সেগুলোতে তার আনুগত্য করা হবে—এতেই সে সন্তুষ্ট। সুতরাং তোমরা সাবধান থেকো। আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাহ..."

--------------------------------------------

(১) আহমাদ, আব্দুর রহমান আল-বান্নার বিন্যাস অনুযায়ী, ১২/২২৬; এটি মুসনাদের তাহকীককৃত সংস্করণে ২৩৪৮৯ নম্বর হাদীস। হাইসামি এটি মাজমাউয যাওয়ায়েদ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, ৩/২৬৬। আরও দেখুন: আবু হুররাহ আর-রাকাশি তার চাচার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি তাশরিকের দিনগুলোর মাঝামাঝি সময়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উটনীর লাগাম ধরেছিলাম এবং লোকজনকে তাঁর কাছ থেকে সরিয়ে দিচ্ছিলাম... এবং তিনি সেখানে কিছু বক্তব্য উল্লেখ করেছেন যা যাচাইযোগ্য। হাদীসটির সনদ মুসনাদে আহমাদ, ৫/৭২-এ দেখা যেতে পারে।