(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: -)
مكانة الإمام أبي حنيفة في الحديث   (محمد عبد الرشيد النعماني)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: مكانة الإمام أبي حنيفة في الحديث

المؤلف: محمد عبد الرشيد النعماني الباكستاني (ت 1420هـ)

اعتنى به: الشيخ عبد الفتاح أبو غُدّة

الناشر: مكتب المطبوعات الإسلامية، حلب

الطبعة: الرابعة، 1416 م

عدد الصفحات: 156

أعده للمكتبة الشاملة/ توفيق بن محمد القريشي

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 ذو الحجة 1433

হাদিস শাস্ত্রে ইমাম আবু হানিফার মর্যাদা   (মুহাম্মদ আবদুর রশীদ আন-নুমানী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: হাদিস শাস্ত্রে ইমাম আবু হানিফার মর্যাদা

লেখক: পাকিস্তানি মুহাম্মদ আবদুর রশীদ আন-নুমানী (মৃত্যু ১৪২০ হি.)

সম্পাদনায়: শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ

প্রকাশক: মাকতাবুল মাতবুআত আল-ইসলামিয়্যাহ, আলেপ্পো

সংস্করণ: চতুর্থ, ১৪১৬ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৬

মাকতাবা শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন/ তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ জিলহজ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: -)
مكانة الإمام أبي حنيفة في الحديث

الشيخ محمد عبد الرشيد النعماني

 

اعتنى به الشيخ عبد الفتاح أبو غدة

 

- عدد الأجزاء: 1.

- عدد الصفحات: 163.

أعده للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، - غفر الله له ولوالديه -.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].
হাদিসশাস্ত্রে ইমাম আবু হানিফার মর্যাদা

শায়খ মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ আল-নুমানী

 

এটি সম্পাদনা ও বিন্যাস করেছেন শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ

 

- খণ্ড সংখ্যা: ১।

- পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৩।

আল-মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য এটি প্রস্তুত করেছেন তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশী—আল্লাহ তাকে এবং তার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন।

[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]।
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌مَكَانَةُ الإِمَامِ أَبِي حَنِيفَةَ فِي الحَدِيثِ

بقلم العلَاّمة المحدث الناقد المحقق البارع الفقيه

الشيخ محمد عبد الرشيد النعماني

 

مَدَّ اللهُ تعالى في عُمُرِهِ

 

اعتنى به عبد الفتاح أبو غدة

 

الناشر

مكتب المطبوعات الإسلامية بحلب
হাদিস শাস্ত্রে ইমাম আবু হানিফার মর্যাদা

রচনায়: আল্লামা, মুহাদ্দিস, সমালোচক, সুনিপুণ গবেষক ও ফকিহ

শাইখ মুহাম্মদ আবদুর রশিদ আন-নুমানি

 

আল্লাহ তাআলা তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন

 

সম্পাদনায়: আবদ আল-ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ

 

প্রকাশক

মাকতাবুল মাতবুআত আল-ইসলামিয়া, আলেপ্পো
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২)
- الطبعة الأولى في باكستان، في مجلة الدراسات الإسلامية الصادرة عن الجامعة العالمية في إسلام آباد في العدد الأول لسنة 1409 هـ.

 

- الطبعة الثانية بلكنو الهند في مجلة البعث الإسلامي، سَنَةَ 1411 هـ.

 

- الطبعة الثالثة بكراتشي - إدارة القرآن والعلوم الإسلامية، سَنَةَ 1412 هـ.

 

- الطبعة الرابعة مزيدة من النصوص والتحقيق في بيروت، سَنَةَ 1416 هـ.

 

قامت بطباعته وإخراجه دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع

بيروت - لبنان.
- প্রথম সংস্করণ পাকিস্তানে, ইসলামাবাদে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় হতে প্রকাশিত 'ইসলামি গবেষণা সাময়িকী'-র ১৪০৯ হিজরি সনের প্রথম সংখ্যায়।

 

- দ্বিতীয় সংস্করণ ভারতের লখনউতে 'আল-বা'সুল ইসলামি' সাময়িকীতে, ১৪১১ হিজরি সনে।

 

- তৃতীয় সংস্করণ করাচিতে - ইদারাতুল কুরআন ওয়াল উলূমিল ইসলামিয়া, ১৪১২ হিজরি সনে।

 

- চতুর্থ সংস্করণ বৈরুতে, পরিবর্ধিত পাঠ্য ও গবেষণাসহ, ১৪১৬ হিজরি সনে।

 

দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়া মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা এটি মুদ্রণ ও প্রকাশ করেছে

বৈরুত - লেবানন।
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৩)
مَكَانَةُ الإِمَامِ أَبِي حَنِيفَةَ فِي الحَدِيثِ

 

بقلم العلَاّمة المحدث الناقد المحقق البارع الفقيه

الشيخ محمد عبد الرشيد النعماني

 

مَدَّ اللهُ تعالى في عُمُرِهِ

 

اعتنى به عبد الفتاح أبو غدة

 

الناشر

مكتب المطبوعات الإسلامية بحلب
হাদিস শাস্ত্রে ইমাম আবু হানিফার মর্যাদা

 

বিজ্ঞ ফকিহ, নিপুণ গবেষক, সমালোচক, মুহাদ্দিস ও আল্লামার কলমে

শায়খ মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ আল-নুমানী

 

আল্লাহ তায়ালা তাঁর হায়াত দীর্ঘায়িত করুন

 

সম্পাদনায়: আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ

 

প্রকাশক

মাকতাবুল মাতবুয়াতিল ইসলামিয়্যাহ, আলেপ্পো
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌كَلِمَةُ التَقْدِيمِ:

بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله ولي المتقين الصالحين، والصلاة والسلام التامان الدائمان على رسول الهُدى وإمام التقى المبعوث رحمة للعالمين، وعلى آله وصحبه وتابعيهم بإحسان إلى يوم الدين.

 

أما بعد فهذا سِفْرٌ نفيس فريد، وأثر نافع مجيد " مكانة الإمام أبي حنيفة في الحديث " تأليف العلَاّمة المحقق المحدث الناقد الشيخ محمد عبد الرشيد النعماني - حَفِظَهُ اللهُ تَعَالَى - شيخ الحديث وعلومه سابقًا في جامعة العلوم الإسلامية في مدينة كراتشي بباكستان، التي أسسها شيخنا العلَاّمة الجليل المحدث البارع الفقيه الأصولي الشيخ أبو المحاسن السيد محمد يوسف الحسيني البَنُّورِي - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى -.

 

وتميزت هذه الطبعة عن سابقاتها المطبوعة في الهند وباكستان بأنها قُرِئَتْ على الشيخ - حَفِظَهُ اللهُ تَعَالَى وَرَعَاهُ -، فَبَدَّلَ بعض عباراته، وأضاف إليه زيادات كثيرة مهمة، علمًا بأن الشيخ ما يزال يضيف إلى هذا الكتاب ما يُعَزِّزُ مباحثه وَيُحَقِّقُ مقاصده.

 

وقد جمع المؤلف - حَفِظَهُ اللهُ تَعَالَى - جواهر هذه النصوص، وَنَظَمَ هذه الشذرات والفصوص جَمْعَ بَخِيلٍ ضَاعَ فِي التُّرَابِ خَاتَمُهْ.
‌প্রস্তাবনা:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মুত্তাকি ও নেককারদের অভিভাবক; এবং পূর্ণাঙ্গ ও চিরন্তন সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক হিদায়াতের রাসূল, তাকওয়ার ইমাম এবং বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে প্রেরিত মহানবীর ওপর, আর তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারীদের ওপর।

 

অতঃপর, এটি একটি অমূল্য ও অনন্য গ্রন্থ এবং একটি কল্যাণকর ও মহান রচনা— "হাদিস শাস্ত্রে ইমাম আবু হানিফার অবস্থান"। এর রচয়িতা হলেন বিজ্ঞ গবেষক, মুহাদ্দিস ও সমালোচক শায়খ মুহাম্মদ আবদুর রশিদ আল-নুমানি —আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাজত করুন— যিনি পাকিস্তানের করাচি শহরের জামিয়া উলুমিল ইসলামিয়ার হাদিস ও হাদিস শাস্ত্রের প্রাক্তন শায়খুল হাদিস। এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আমাদের শায়খ, মহান আলেম, সুদক্ষ মুহাদ্দিস, ফকিহ ও উসুলবিদ শায়খ আবুল মাহাসিন সাইয়িদ মুহাম্মদ ইউসুফ আল-হুসাইনি আল-বান্নুরি —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—।

 

ভারত ও পাকিস্তানে প্রকাশিত পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর তুলনায় এই সংস্করণটির বৈশিষ্ট্য হলো, এটি শায়খের সামনে পাঠ করা হয়েছে —আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাজত ও রক্ষা করুন—। তিনি এর কিছু বর্ণনা পরিবর্তন করেছেন এবং এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নতুন অংশ যুক্ত করেছেন। উল্লেখ্য যে, শায়খ এখনও এই কিতাবে এমন বিষয়াদি যোগ করে চলেছেন যা এর আলোচনাগুলোকে শক্তিশালী করে এবং এর উদ্দেশ্যসমূহকে পূর্ণতা দান করে।

 

লেখক —আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাজত করুন— এই সকল উদ্ধৃতির মণি-মুক্তা একত্রিত করেছেন এবং এই জ্ঞান-কণা ও রত্নরাজিকে অত্যন্ত যত্নসহকারে বিন্যস্ত করেছেন, যেমন একজন কৃপণ ব্যক্তি ধুলোয় হারিয়ে যাওয়া তার আংটিটি অতি যতন ও ব্যাকুলতার সাথে খুঁজে সংগ্রহ করে।
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৬)
فالتقطها بشفافية ذهنه العلمي، ودقة ذهنه الذكي، وصبره الصابر على مصابرته، وقدرته على استخراج اللؤلؤ من مَغَاصِهِ وَمَخْبَأَتِهِ، وهكذا فليكن الصبرُ على تحصيل الفرائد، وتجميع الخرائد.

صَابَرَ الصَّبْرُ فَاسْتَغاَثَ بِهِ الصَّبْرُ … فَقَالَ الصَّبُورُ يَا صَبْرُ صَبْرًا!

 

وقد ألف غير واحد من الأئمة الكبار غير الحنفية من محدثين وفقهاء ومؤرخين، تآليف مستقلة، لدفع التهويشات التي يُثِيرُهَا بعض المتعصبين على الإمام أبي حنيفة رضي الله عنه.

ومن هؤلاء الأئمة الكبار الإمام الفقيه المحدث حافظ المغرب أبو عمر بن عبد البر المالكي، والإمام الحافظ المحدث شمس الدين الذهبي الشافعي، والإمام الفقيه المحدث يوسف بن حسن بن عبد الهادي الحنبلي الدمشقي الصالحي المعروف بابن المِبْرَدْ المُتَوَفَّى سَنَةَ 909، والإمام المحدث الحافظ السيوطي الشافعي، والإمام الحافظ المحدث محمد بن يوسف الصالحي الشافعي والإمام الفقيه الشافعي الكبير ابن حجر الهَيْتَمِي المكي، وغيرهم.

 

فقد ألفوا الكتب المطولة في فضائل أبي حنيفة ومناقبه، وبيان إمامته وجلالته، وَذَبُّوا عنه ألسنة الحاسدين والشانئين من أصحاب مذاهبهم وغيرهم.

 

وتميز هذا الكتاب الذي بين يدي القارئ بأنه مقصور على بيان مكانة الإمام أبي حنيفة في الحديث خاصة.

 

فرأيت طَبْعَ هذا الكتاب في البلاد العربية بعد طبعه مرات في الهند وباكستان، لأنه قد تَفَشَّى دَاءُ الغَمْطِ لمقام الإمام أبي حنيفة رضي الله عنه من جهة الحديث، في بعض البلدان منها، فَتَلَفَّتَتْ الأنظار إلى مثل هذا التأليف، لِيَرُدَّ التهويش عن الإمام أبي حنيفة - رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ -، وَيُعَرِّفَ بما عليه أساطين العلم بالحديث ورجاله، من توقير وتعظيم وتوثيق وتبجيل للإمام أبي حنيفة
তিনি তা তাঁর ইলমি মেধার স্বচ্ছতা, তাঁর প্রখর বুদ্ধিমত্তার সূক্ষ্মতা, ধৈর্যের ওপর তাঁর সুদৃঢ় ধৈর্য এবং এর গভীর তলদেশ ও লুকানো স্থান থেকে মুক্তো আহরণের সক্ষমতার মাধ্যমে চয়ন করেছেন; বিরল ও মূল্যবান জ্ঞান অর্জনের ধৈর্য এমনই হওয়া উচিত।

ধৈর্য ধৈর্যের সাথে ধৈর্য ধারণ করল, ফলে ধৈর্যই তার কাছে আর্তনাদ করল … অতঃপর ধৈর্যশীল ব্যক্তি বললেন, হে ধৈর্য! ধৈর্য ধরো!

 

ইমাম আবু হানিফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিরুদ্ধে কিছু গোঁড়া ব্যক্তির তোলা বিভ্রান্তি নিরসনে হানাফি মাযহাবের বাইরের অনেক বড় বড় ইমাম, মুহাদ্দিস, ফকিহ এবং ঐতিহাসিকগণ স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করেছেন।

এই বড় ইমামদের মধ্যে রয়েছেন ফকিহ ও মুহাদ্দিস, মাগরিবের হাফেজ আবু উমর ইবনে আব্দুল বার মালেকি; ইমাম, হাফেজ ও মুহাদ্দিস শামসুদ্দিন আয-যাহাবি শাফেয়ি; ইমাম, ফকিহ ও মুহাদ্দিস ইউসুফ বিন হাসান বিন আব্দুল হাদি হাম্বলি দিমাস্কি সালিহি (যিনি ইবনুল মিবরাদ নামে পরিচিত, মৃত্যু ৯০৯ হিজরি); ইমাম, মুহাদ্দিস ও হাফেজ সুয়ূতি শাফেয়ি; ইমাম, হাফেজ ও মুহাদ্দিস মুহাম্মদ বিন ইউসুফ সালিহি শাফেয়ি; এবং বড় ফকিহ ইবনে হাজার আল-হাইতামি মক্কি শাফেয়ি, ও অন্যান্যরা।

 

তাঁরা ইমাম আবু হানিফার মর্যাদা ও গুণাবলি এবং তাঁর ইমামত ও শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনায় দীর্ঘ কিতাব রচনা করেছেন। তাঁরা নিজেদের মাযহাবের ও অন্যান্য মাযহাবের হিংসুক ও নিন্দুকদের জবান থেকে তাঁকে রক্ষা করেছেন।

 

পাঠকের সামনে থাকা এই কিতাবটির বৈশিষ্ট্য হলো, এটি বিশেষভাবে হাদিসের ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফার অবস্থান বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ।

 

ভারত ও পাকিস্তানে কয়েকবার ছাপানোর পর আরব দেশগুলোতেও এই কিতাবটি ছাপানোর প্রয়োজনীয়তা আমি অনুভব করেছি। কারণ, সেসব দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে হাদিসের ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মর্যাদাকে অবজ্ঞা করার ব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছে। তাই এ জাতীয় রচনার দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ হয়েছে, যেন তা ইমাম আবু হানিফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রতিহত করতে পারে এবং হাদিস ও রিজাল শাস্ত্রের দিকপালগণ ইমাম আবু হানিফার প্রতি যে শ্রদ্ধা, সম্মান, নির্ভরযোগ্যতা ও উচ্চ মর্যাদা পোষণ করতেন, তা তুলে ধরতে পারে।
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৭)
وعلمه وفهقه ودينه وورعه ورفيع إمامته، فيكون هذا المؤلف منارة للمستهدين وَمُذَكِّرًا للمتعصبين المُجَافِينَ، واللهُ الهادي إلى سواء السبيل، وصلى اللهُ وسلم على نبينا ورسولنا سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، والحمد لله رب العالمين.

 

وكتبه

عبد الفتاح أبو غُدَّة.

 

في الرياض: 1 من ذي القعدة 1415 هـ.
এবং তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা, দ্বীনদারি, খোদাভীতি ও তাঁর সুউচ্চ ইমামত; যাতে এই সংকলনটি হেদায়েত অন্বেষণকারীদের জন্য আলোকবর্তিকা এবং সত্যবিমুখ গোঁড়া ব্যক্তিদের জন্য উপদেশক হয়। আর আল্লাহই সঠিক পথের দিশারী। আমাদের নবী ও রাসূল আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

লিখেছেন

আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ।

 

রিয়াদে: ১ যিলকদ ১৪১৫ হিজরী।
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৯)
مَكَانَةُ الإِمَامِ أَبِي حَنِيفَةَ فِي الحَدِيثِ

 

بقلم العلَاّمة المحدث الناقد المحقق البارع الفقيه

الشيخ محمد عبد الرشيد النعماني

 

مَدَّ اللهُ تعالى في عُمُرِهِ

 

اعتنى به عبد الفتاح أبو غدة
হাদিস শাস্ত্রে ইমাম আবু হানিফার মর্যাদা

 

রচনায়: আল্লামা, মুহাদ্দিস, সমালোচক, দক্ষ গবেষক ও ফকিহ

শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুর রশীদ আন-নুমানী

 

আল্লাহ তাআলা তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন

 

বিন্যাস ও সম্পাদনায়: আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌تَقْدِمَةُ المُؤَلِّفِ:

بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله رب العالمين، والعاقبة للمتقين، ولا عدوان إلا على الظالمين، والصلاة والسلام على سيد الأنبياء والمرسلين سيدنا محمد خاتم النبيين، وعلى آله الطاهرين وصحبه الطيبين، وسائر أئمة الدين من الفقهاء المجتهدين والحفاظ المُحَدِّثِينَ، لا سيما إمامنا الأعظم أبا حنيفة النعمان بن ثابت أول المجتهدين المتبوعين.

 

أما بعد: فإن من الحقائق الواضحة أن الأئمة المتبوعين - رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمْ - وفي مقدمتهم الإمام الأعظم أبو حنيفة - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى - قد أجمع المسلمون على هدايتهم ودرايتهم، وتواتر عند الأمة فضلهم وعلمهم ونصحهم لله ولرسوله ولكتابه وللمؤمنين، وجعلهم الله تعالى بمنزلة النجوم في السماء يهتدي بهم كل مؤمن مسترشد ويقتدي بهم كل متنسك متعبد، فهم يستحقون منا كل تقدير وإجلال لما لهم علينا من المنن الكثيرة والفضل العميم.

 

وهم وغيرهم من علماء السلف من السابقين ومن بعدهم من التابعين أهل الخبر والأثر وأهل الفقه والنظر لا يُذْكَرُونَ إلا بالجميل، ومن ذكرهم بسوء فهو على غير السبيل، كما دَلَّ عليه الكتاب والسنة وكما نص عليه علماء الأمة.

 

ومع ذلك فقد نشأت في هذا العصر المتأخر الزَّمِنِ ناشئة حديثة لا تدري
লেখকের ভূমিকা:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং শুভ পরিণাম পরহেযগারদের জন্য, আর সীমালঙ্ঘনকারীদের ব্যতীত কারো ওপর শত্রুতা নেই। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের সর্দার, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যিনি নবীদের সমাপ্তিকারী, এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ, তাঁর উত্তম সাথীবর্গ এবং মুজতাহিদ ফকীহ ও হাফেয মুহাদ্দিসগণসহ দ্বীনের সকল ইমামদের ওপর, বিশেষ করে আমাদের ইমামে আযম আবু হানিফা নুমান বিন সাবিত-এর ওপর, যিনি অনুসরণীয় মুজতাহিদগণের মধ্যে প্রথম।

 

অত:পর: এটি একটি সুস্পষ্ট সত্য যে, অনুসরণীয় ইমামগণ - আল্লাহ তায়ালা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন - এবং তাঁদের অগ্রভাগে ইমামে আযম আবু হানিফা - আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহম করুন - তাঁদের হিদায়াত ও প্রজ্ঞার বিষয়ে মুসলমানরা ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন। উম্মতের কাছে তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব, জ্ঞান এবং আল্লাহ, তাঁর রাসূল, তাঁর কিতাব ও মুমিনদের প্রতি তাঁদের নসিহত বা কল্যাণকামিতার বিষয়টি অবিচ্ছিন্নভাবে (তাওয়াতুর সূত্রে) প্রমাণিত। আল্লাহ তায়ালা তাঁদেরকে আকাশের নক্ষত্রতুল্য করেছেন, যাদের মাধ্যমে প্রত্যেক পথপ্রত্যাশী মুমিন পথ খুঁজে পায় এবং প্রত্যেক ইবাদতকারী আবেদ তাঁদের অনুসরণ করে। সুতরাং আমাদের ওপর তাঁদের অগাধ অনুগ্রহ ও ব্যাপক শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তাঁরা আমাদের পক্ষ থেকে পরম শ্রদ্ধা ও সম্মানের যোগ্য।

 

তাঁরা এবং সালাফদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অন্যান্য আলেমগণ, যাঁরা বর্ণনা ও হাদীসের বিশেষজ্ঞ এবং ফিকহ ও গবেষণার অধিকারী, তাঁদেরকে কেবল উত্তম গুণাবলির মাধ্যমেই স্মরণ করা হয়। আর যে কেউ তাঁদেরকে মন্দভাবে স্মরণ করে, সে সঠিক পথে নেই; যেমনটি কুরআন ও সুন্নাহ প্রমাণ করেছে এবং উম্মতের আলেমগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

 

তা সত্ত্বেও, বর্তমান এই অবক্ষয়িত যুগে এক নতুন প্রজন্মের উদ্ভব ঘটেছে যারা জানে না
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১২)
ما عليها، فجعلت تَتَقَوَّلُ على الأئمة بما هم بَرَاءٌ منه، وتستصغر شأنهم وَتُكْبِرُ شأن أنفسها بمحاذاتهم والتقدم عليهم، وَخَصَّتْ الإمام أبا حنيفة بالطعن الشديد عليه والوقيعة فيه بما بَرَّأَهُ اللهُ منه، فكان عند الله وجيهًا.

 

فأناس من هذه الناشئة بَدَؤُوا بنشر المغامز والمطاعن الباطلة التي تتضمن الطعن في إيمان أبي حنيفة ودينه وفقهه - وهو أحد الأئمة المجمع على إمامتهم -، وقد بَيَّنَ بطلانها خلائق العلماء المتقدمين والمتأخرين وَحَذَّرُوا من الالتفات إليها وأنذروا، فما نفعت هؤلاء النُّذُرُ، وانبرى آخرون فتلقفوا أقاويل معدودة من كتب الجرح والتعديل هي معلولة بأنواع من العلل ومتلبسة بملابسات لا يقبل معها الجرح، تلقفوا هذه الأقاويل وبدؤوا يطعنون في حفظ هذا الإمام الجليل وضبطه وفهمه، وهؤلاء الأئمة هم أركان علم الجرح والتعديل وبأيديهم لوائهما، وتناسوا أيضًا إجماع الجهابذة الحفاظ المتأخرين على إسقاط وإبطال تلك المغامز والأقاويل المعلولة، وإطباقهم على الثناء عليه وتبجيله وتقريظه!!.

 

فأحببت - تنديدًا بالمعتنين المعاندين ورحمة بضعفاء الفهم المُغْتَرِّينَ - أن أجمع في هذا الكتاب ثناء العلماء القُدَامَى والمتأخرين على الإمام أبي حنيفة - رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ - من ناحية مكانته الرفيعة في علم الحديث والسُنَّةِ خاصة، وأوضح ما له من المنزلة السامية والمرتبة المنيفة في ذلك، عسى الله تعالى أن يهدي به التائهين عن الحق فيفوزوا ولا يهلكوا مع الهالكين.

 

وفضائل هذا الإمام ومناقبه كثيرة لا يحصيها العَدُّ، وقد ذكرت طائفة كبيرة من المتقدمين والمتأخرين كثيرًا منها في أجزاء مفردة وكتب مستقلة وفي ضمن كتب التواريخ والتراجم، ولكن جُلَّ تلك الكتب ليس بمتناول أيدي عامة القُرَّاءِ، ففي هذا الجمع والاختيار ذريعة حسنة لاطلاعهم على نخبة من تلك المناقب الوافرة والفضائل الجسام.
ইমামদের প্রতি এমন মিথ্যা অপবাদ দিতে লাগল যা থেকে তাঁরা সম্পূর্ণ মুক্ত। তারা তাঁদের মর্যাদাকে খাটো করল এবং তাঁদের সমকক্ষ হওয়ার বা তাঁদের চেয়ে অগ্রগামী হওয়ার দাবি করে নিজেদের জাহির করতে লাগল। বিশেষভাবে তারা ইমাম আবু হানিফাকে লক্ষ্য করে কঠোর সমালোচনা ও কুৎসা রটনা শুরু করল, অথচ আল্লাহ তাঁকে এসব থেকে নির্দোষ রেখেছেন। তিনি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাবান ছিলেন।

 

এই নব্য প্রজন্মের কিছু মানুষ বানোয়াট দোষারোপ ও অপবাদ প্রচার শুরু করল, যার মধ্যে ইমাম আবু হানিফার ঈমান, দ্বীনদারিতা এবং ফিকহ নিয়ে কটাক্ষ ছিল—অথচ তিনি এমন ইমামদের অন্তর্ভুক্ত যাঁর ইমামতের ওপর ইজমা বা সর্বসম্মত ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অসংখ্য আলেম এসবের অসারতা বর্ণনা করেছেন এবং এগুলোকে ভ্রূক্ষেপ করার ব্যাপারে সতর্ক ও হুঁশিয়ার করেছেন। কিন্তু এই হুঁশিয়ারি তাদের কোনো উপকারে আসেনি। আবার অন্যরা ময়দানে নেমে ‘জারাহ ও তাদিল’ (সমালোচনা ও যাচাইকরণ) শাস্ত্রের কিতাবসমূহ থেকে হাতেগোনা কিছু বর্ণনা আঁকড়ে ধরল, যে বর্ণনাগুলো বিভিন্ন ত্রুটিযুক্ত এবং এমন কিছু পরিস্থিতির শিকার যার ফলে কোনো সমালোচনা গ্রহণযোগ্য হয় না। তারা এই বর্ণনাগুলো গ্রহণ করে এই মহান ইমামের স্মরণশক্তি, নির্ভুলতা ও প্রজ্ঞা নিয়ে কটাক্ষ করতে শুরু করল। অথচ এই ইমামগণই ছিলেন জারাহ ও তাদিল শাস্ত্রের মূল ভিত্তি এবং তাঁদের হাতেই ছিল এর ঝাণ্ডা। তারা পরবর্তী যুগের বিশেষজ্ঞ হাফেজদের ওই ঐকমত্যের কথা ভুলে গেল যেখানে তাঁরা এই ত্রুটিপূর্ণ দোষারোপ ও বর্ণনাগুলোকে বাতিল ও অকেজো ঘোষণা করেছেন, এবং তাঁর প্রশংসা, শ্রদ্ধা ও গুণকীর্তনের ওপর একমত হয়েছেন!!

 

তাই আমি—জেদি হঠকারীদের নিন্দা স্বরূপ এবং বিভ্রান্তির শিকার দুর্বল বোধসম্পন্নদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে—এই কিতাবে ইমাম আবু হানিফা (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর প্রতি প্রাচীন ও পরবর্তী আলেমদের প্রশংসাগুলো একত্র করতে পছন্দ করেছি, বিশেষত হাদিস ও সুন্নাহ শাস্ত্রে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার দিক থেকে। এবং এ ক্ষেত্রে তাঁর সুমহান অবস্থান ও উন্নত স্তরের বিষয়টি স্পষ্ট করেছি। আশা করা যায় এর মাধ্যমে আল্লাহ সত্যচ্যুতদের হেদায়েত দান করবেন, ফলে তারা মুক্তি পাবে এবং ধ্বংসপ্রাপ্তদের সাথে ধ্বংস হবে না।

 

এই ইমামের ফজিলত ও গুণাবলি এত বেশি যে তা গুণে শেষ করা যায় না। প্রাচীন ও পরবর্তী অনেক আলেম এর একটি বড় অংশ স্বতন্ত্র পুস্তিকা, পৃথক গ্রন্থ এবং ইতিহাস ও জীবনী বিষয়ক কিতাবসমূহে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সেসব কিতাবের অধিকাংশই সাধারণ পাঠকদের নাগালের মধ্যে নেই। তাই এই সংকলন ও চয়ন তাদের সামনে সেই প্রচুর গুণাবলি ও বিশাল ফজিলতসমূহের বাছাইকৃত অংশ তুলে ধরার এক উত্তম মাধ্যম হবে।
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৩)
وليس هذا الذي أمام القارئ كُلَّ ما أردت ذكره في هذا الكتاب، وإنما أقدم إلى القُرَّاءِ ما تيسر إلى الآن، وأسأل اللهَ تعالى التوفيق لإتمامه حسب ما يُحِبُّهُ ويرضاهُ، ورضي اللهُ تعالى عن الأئمة الهادين المهديين أجمعين، وجزاهم عن الإسلام والمسلمين دار الكرامة وَمَقْعَدَ الصِّدْقِ عنده، وأسأله سبحانه سؤال خاشع ضارع أن يتقبل هذا العمل مني ويجعله ذُخْرًا لآخرتي إنه خير مأمول وبالإجابة جدير، والحمد لله تعالى أولاً وآخرًا، وصلى الله تعالى وسلم على سيدنا محمد خاتم أنبيائه وعلى آله وأصحابه نخبة أصفيائه وأوليائه إلى يوم الدين.

 

وكتبه الفقير إلى الله تعالى

محمد عبد الرشيد النعماني

 

في كراتشي 20 شعبان سَنَةَ 1415 هـ.
পাঠকের সামনে যা উপস্থিত তা এই কিতাবে আমি যা উল্লেখ করতে চেয়েছি তার সবকিছু নয়, বরং এখন পর্যন্ত যা সহজ হয়েছে তাই পাঠকদের নিকট পেশ করছি। আর আমি মহান আল্লাহর নিকট এটি তাঁর পছন্দ ও সন্তুষ্টি অনুযায়ী পূর্ণ করার তাওফিক প্রার্থনা করছি। মহান আল্লাহ সকল হেদায়েতকারী ও সঠিক পথপ্রাপ্ত ইমামগণের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁদেরকে তাঁর নিকট মর্যাদার নিবাস ও সত্যের আসনে ভূষিত করুন। আর আমি তাঁর নিকট বিনম্র ও বিনীতভাবে প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন আমার এই আমল কবুল করেন এবং একে আমার আখেরাতের সঞ্চয় হিসেবে গ্রহণ করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম আশার স্থল এবং দুয়া কবুল করার যোগ্য। সকল প্রশংসা শুরুতে ও শেষে মহান আল্লাহর জন্য, এবং মহান আল্লাহ দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন তাঁর নবীদের সমাপ্তকারী আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর মনোনীত শ্রেষ্ঠ বন্ধু সাহাবীগণের ওপর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত।

 

আর এটি লিখেছেন মহান আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী

মুহাম্মাদ আব্দুর রশীদ আন-নুমানী

 

করাচিতে, ২০ শাবান, ১৪১৫ হিজরী।
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله تعالى وسلم على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

 

أما بعد: فهذا ما جمعته في بيان " مكانة الإمام الأعظم أبي حنيفة - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى - في علم الحديث "، والمرجو من الله سبحانه أن يجعله ذريعة لإزالة الشبهات التي أثارها الخصوم حول حفظه وثقته في الحديث وأمانته، وأسأله تعالى أن يجعل سعيي مشكورًا وذنبي مغفورًا وهو خير مأمول وبالإجابة جدير.

 

وقد كان أبو حنيفة - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى - أحد أئمة الدنيا فقهًا وعلمًا وورعًا وحفظًا وضبطًا، وكان معدودًا في الأجواد الأسخياء، وَالأَلبَّاءِ الأكياء، مع الدين والعبادة والتهجد وكثرة التلاوة وقيام الليل.

 

وكان مِمَّنْ عُنِيَ بعلم الكتاب والسنة وَسَعَى في طلب الحديث ورحل فيه، وكثرت عنايته بالسنن وجمعه لها، وَذَبِّهِ عن حريمها، وقمعه من خالفها أو رام مُبَايَنَتَهَا، مؤثرًا لِسُنَّةِ رسول الله - صَلََّى اللهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - على غيرها، وهو أول من عَرَّجَ على الأقوياء من الثقات، وترك الضعفاء في الروايات، لزم الحديث والفقه، وواظب على الورع والعبادة، حتى صَارَ عَلَمًا يُرْجَعُ إِلَيْهِ في الأمصار وملجأ يُقْتَدَى به في الأقطار.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং মহান আল্লাহ সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

 

অতঃপর: এটি হলো হাদিসশাস্ত্রে "ইমাম আজম আবু হানিফা - আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন - এর মর্যাদা" বর্ণনায় আমার সংকলিত অংশ। আর মহান আল্লাহর কাছে আশা এই যে, তিনি একে সেই সব সংশয় নিরসনের মাধ্যম হিসেবে কবুল করবেন যা বিরোধীরা তাঁর হাদিস মুখস্থ রাখা, নির্ভরযোগ্যতা এবং আমানতদারিতার বিষয়ে উত্থাপন করেছে। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমার এই প্রচেষ্টাকে কবুল করেন এবং আমার গুনাহ ক্ষমা করেন; তিনি সর্বোত্তম আশার স্থল এবং প্রার্থনা কবুল করার যোগ্য।

 

আবু হানিফা - আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন - ফিকহ, ইলম, তাকওয়া, স্মৃতিশক্তি এবং শব্দ ও অর্থগত নির্ভুলতার ক্ষেত্রে পৃথিবীর অন্যতম ইমাম ছিলেন। দ্বীনদারী, ইবাদত, তাহাজ্জুদ, অধিক তিলাওয়াত এবং রাত জাগরণের পাশাপাশি তিনি দানশীল, উদার, বুদ্ধিমান ও মেধাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

 

তিনি সেই সকল ব্যক্তিদের একজন ছিলেন যারা কিতাব ও সুন্নাহর ইলমের প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন, হাদিস অন্বেষণে সচেষ্ট ছিলেন এবং এর জন্য দেশভ্রমণ করেছেন। সুন্নাহর প্রতি তাঁর মনোযোগ, তা সংগ্রহ করা, তার মর্যাদা রক্ষা করা এবং যারা সুন্নাহর বিরোধিতা করে বা তা থেকে বিচ্যুত হতে চায় তাদের দমনে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তিনি অন্য সবকিছুর ওপর আল্লাহর রাসূল - আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন - এর সুন্নাহকে প্রাধান্য দিতেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি নির্ভরযোগ্য শক্তিশালী রাবীদের প্রতি মনোনিবেশ করেছেন এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বলদের বর্জন করেছেন। তিনি হাদিস ও ফিকহকে আঁকড়ে ধরেছিলেন এবং তাকওয়া ও ইবাদতে অবিচল ছিলেন, এমনকি তিনি এমন এক সুউচ্চ ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন যাঁর কাছে বিভিন্ন জনপদের মানুষ সমাধানের জন্য ফিরে আসত এবং দূর-দূরান্তের মানুষ তাঁর অনুসরণ করত।
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৬)
وأحواله في العلم والحفظ والصيانة والإتقان، والاجتهاد في تحصيل العلم والفقه ونشرهما، والصبر على ترك مناصب السلطان، وبذل النفس وإشاعة العلم والعبادة والكرم، وهوان الدنيا عنده وعدم المبالاة بحطام هذه الفانية الزائلة، مع الدين والسلامة وجمع أنواع الخير: أكثر من أن يُحْصَرَ، وأشهر من أَنْ يُشَهَّرَ.

 

وقد انعقد الإجماع على إمامته وجلالته وَعُلُوِّ مرتبته، وكمال فضيلته، وأقاويل السلف كثيرة مشهورة في الثناء عليه في ورعه وزهده وعبادته، ومجانبته السلطان وإنكاره ولاية القضاء، ووفور علمه وكثرة حديثه، وبراعته في الفقه واتباعه السُنَّةَ، وأخبار إجلال أعيان أئمة زمانه من جميع الأقطار إياه واعترافهم بمزاياه وفيرة مستفيضة، وكل ذلك مُدَوَّنٌ في كتب التواريخ والرجال، لا حاجة لنا بذكرها.

 

‌‌عنايته بطلب الحديث:

وقد شهد له أئمة النقد وكبار المُحَدِّثِينَ بعنايته بطلب الحديث وارتحاله في ذلك ومعاناته في تحصيله.

 

قال الحافظ الذهبي في ترجمة أبي حنيفة في كتاب " سير أعلام النبلاء " (1): «وَعُنِيَ بِطَلَبِ الآثَارِ، وَارْتَحَلَ فِي ذَلِكَ». اهـ.

 

وقال أيضًا (2): «إِنَّ الإِمَامَ أَبَا حَنِيفَةَ طَلَبَ الحَدِيثَ وَأَكْثَرَ مِنْهُ فِي سَنَةِ مِائَةٍ وَبَعْدَهَا». اهـ.

--------------------------------------------

(1) 6/ 392 من الطبعة الثالثة ببيروت سَنَةَ 1405 هـ.

(2) 6/ 396.
তার ইলম, হিফয, সংরক্ষণ, নিপুণতা এবং ইলম ও ফিকহ অর্জন ও তা প্রচারের ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম, সুলতানি পদ ত্যাগে ধৈর্য ধারণ, আত্মত্যাগ, ইলমের প্রসার, ইবাদত, বদান্যতা এবং তাঁর কাছে দুনিয়ার তুচ্ছতা ও এই নশ্বর জগতের ধ্বংসশীল সামগ্রীর প্রতি অনাগ্রহ, এর সাথে তাঁর দ্বীনদারি, নিষ্ঠা এবং সকল প্রকার কল্যাণের সমাবেশ—এতই বেশি যা গণনা করা সম্ভব নয় এবং এতটাই সুপ্রসিদ্ধ যে তা বর্ণনা করার প্রয়োজন পড়ে না।

 

তাঁর ইমামত, মহত্ত্ব, উচ্চ মর্যাদা এবং শ্রেষ্ঠত্বের পূর্ণতার ওপর ইজমা বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর পরহেজগারি, দুনিয়াবিমুখতা, ইবাদত, সুলতানদের থেকে দূরে থাকা, বিচারকের পদ গ্রহণে অস্বীকৃতি, ইলমের প্রাচুর্য, হাদিসের আধিক্য, ফিকহ শাস্ত্রে দক্ষতা এবং সুন্নাহর অনুসরণের প্রশংসা করে সালাফদের অসংখ্য উক্তি সুপ্রসিদ্ধ রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সমসাময়িক শ্রেষ্ঠ ইমামগণের তাঁকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং তাঁর গুণাবলীর স্বীকৃতির সংবাদসমূহ অত্যন্ত ব্যাপক ও বিস্তারিত। এই সবকিছু ইতিহাস ও রিজাল শাস্ত্রের (বর্ণনাকারী বিষয়ক) কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ আছে, যা আমাদের এখানে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।

 

‌‌হাদিস অন্বেষণে তাঁর যত্ন:

জারহ-ওয়াত তাদিল (হাদিস যাচাই-বাছাই) শাস্ত্রের ইমামগণ এবং বড় বড় মুহাদ্দিসগণ হাদিস অন্বেষণে তাঁর বিশেষ যত্ন, এ উদ্দেশ্যে তাঁর দেশ ভ্রমণ এবং হাদিস অর্জনে তাঁর কঠোর শ্রমের সাক্ষ্য দিয়েছেন।

 

হাফেজ আয-যাহাবি 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' গ্রন্থে আবু হানিফার জীবনীতে বলেছেন (১): "তিনি আসার (হাদিস ও বর্ণনা) অন্বেষণে বিশেষ যত্নবান ছিলেন এবং এ উদ্দেশ্যে সফর করেছেন।" সমাপ্ত।

 

তিনি আরও বলেছেন (২): "নিশ্চয়ই ইমাম আবু হানিফা একশ হিজরি এবং তার পরবর্তী সময়ে হাদিস অন্বেষণ করেছেন এবং তা প্রচুর পরিমাণে অর্জন করেছেন।" সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) ৬/ ৩৯২, বৈরুত থেকে প্রকাশিত তৃতীয় সংস্করণ, ১৪০৫ হিজরি।

(২) ৬/ ৩৯৬।
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৭)
وقال أيضًا في جزئه الذي صنفه في " مناقب أبي حنيفة " في ذكر شيوخه (1): «وَسَمِعَ الحَدِيثَ مِنْ عَطَاءٍ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ بِمَكَّةَ، وَقَالَ: " مَا رَأَيْتُ أَفْضَلَ مِنْ عَطَاءٍ "».

 

قلت: وكان عطاء أيضًا يُفَضِّلُهُ على تلامذته، فكان أبو حنيفة إذا حضر مجلس السماع أوسع له وأدناه كما سيأتي.

 

وقال في " دول الإسلام " (2): «وأكبر شيوخه عطاء بن أبي رباح، وشيخه في الفقه حماد بن أبي سليمان». اهـ.

 

وقال الحافظ أبو بكر الخطيب في " تاريخ بغداد " (3): «أَخْبَرَنَا أَبُو نعيم الحافظ، [قَالَ]: حَدَّثَنَا أَبُو بكر عبد الله بن يحيى الطلحي، [قَالَ]: حَدَّثَنَا عثمان بن عبيد الله الطلحي، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيل بن مُحَمَّد الطلحي، [قَالَ]: حَدَّثَنَا سعيد بن سالم البصري، قال: سمعت أبا حنيفة، يقول: " لقيت عطاء بمكة، فسألته عن شيء "، فقال: " من أين أنت؟ " قلت: " من أهل الكوفة "، قال: " أنت من أهل القرية الذين فرقوا دينهم وكانوا شيعا؟ " قلت: " نعم "، قال: " فمن أي الأصناف أنت؟ " قلت: " ممن لا يسب السلف، ويؤمن بالقدر، ولا يكفر أحدًا بذنب "، قال: فقال لي عطاء: " عرفت فالزم "». اهـ.

 

وقال الإمام المحدث الفقيه شيخ الخطيب البغدادي، القاضي

--------------------------------------------

(1) " مناقب الإمام أبي حنيفة وصاحبيه ": ص 11 طبع مصر.

(2) " دول الإسلام " للذهبي: 1/ 79 طبع دائرة المعارف النظامية بحيدر آباد الدكن بالهند سنة 1337.

(3) 13/ 331.
তিনি তাঁর "মানাকিবে আবি হানিফা" (আবু হানিফার গুণাবলি) গ্রন্থে তাঁর শিক্ষকদের আলোচনায় আরও বলেছেন (১): «তিনি মক্কায় আতা ইবনে আবি রাবাহর নিকট থেকে হাদিস শুনেছেন এবং বলেছেন: "আমি আতার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কাউকে দেখিনি"»।

 

আমি বলছি: আতাও তাঁকে তাঁর অন্যান্য ছাত্রদের ওপর প্রাধান্য দিতেন। তাই আবু হানিফা যখন হাদিস শ্রবণের মজলিসে উপস্থিত হতেন, তিনি তাঁর জন্য জায়গা প্রশস্ত করে দিতেন এবং তাঁকে তাঁর নিকটবর্তী করতেন, যেমনটি সামনে আসবে।

 

তিনি "দুওয়ালুল ইসলাম" গ্রন্থে (২) বলেছেন: «তাঁর প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে আতা ইবনে আবি রাবাহ অন্যতম এবং ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর শিক্ষক হলেন হাম্মাদ ইবনে আবি সুলাইমান»। (সমাপ্ত)।

 

হাফেজ আবু বকর আল-খাতিব "তারিখে বাগদাদ" গ্রন্থে (৩) বলেছেন: «আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবু নুআইম, [তিনি বলেন]: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া আত-তালহি, [তিনি বলেন]: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে উবাইদুল্লাহ আত-তালহি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আত-তালহি, [তিনি বলেন]: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে সালিম আল-বাসরি, তিনি বলেন: আমি আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: "আমি মক্কায় আতার সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁকে একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম", তখন তিনি বললেন: "তুমি কোথা থেকে এসেছ?" আমি বললাম: "কুফাবাসীদের মধ্য থেকে", তিনি বললেন: "তুমি কি সেই জনপদের লোক যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ডবিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে?" আমি বললাম: "হ্যাঁ", তিনি বললেন: "তবে তুমি কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত?" আমি বললাম: "আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা সালাফদের (পূর্বসূরিদের) গালি দেয় না, তাকদিরে বিশ্বাস রাখে এবং কোনো পাপের কারণে কাউকে কাফের সাব্যস্ত করে না", তিনি বলেন: তখন আতা আমাকে বললেন: "তুমি (সত্য) চিনেছ, সুতরাং তা আঁকড়ে ধরো"»। (সমাপ্ত)।

 

ইমাম, মুহাদ্দিস, ফকিহ এবং খাতিব আল-বাগদাদির উস্তাদ, কাজি...

--------------------------------------------

(১) "মানাকিবে ইমাম আবু হানিফা ওয়া সাহিবাইহি": পৃষ্ঠা ১১, মিশর সংস্করণ।

(২) যাহাবির "দুওয়ালুল ইসলাম": ১/ ৭৯, দাইরাতুল মাআরিফ আন-নিজামিয়্যাহ কর্তৃক মুদ্রিত, হায়দ্রাবাদ ডেকান, ভারত, ১৩৩৭ হিজরি।

(৩) ১৩/ ৩৩১।
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৮)
أبو عبد الله بن علي الصيمري في كتابه " أخبار أبي حنيفة وأصحابه " (1): «أخبرنَا عبد الله بن مُحَمَّد قَالَ حدثَنَا مُكَرَّمٌ قَالَ: حدثَنَا عبد الصَّمَدِ بن عبيد الله، عَن عبد الله بن مُحَمَّد بن نوح، قَالَ: ثَنَا حَفْص بن يحيى، قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن أبان عَن الحَارِث بْن عبد الرَّحْمَن قَالَ:" كُنَّا نَكُون عِنْد عَطاء بَعْضنَا خلف بعض، فَإِذا جَاءَ ابو حنيفَة أوسع لَهُ وَأَدْنَاهُ». اهـ.

 

قلت: وصنيعه هذا معه يدل على أن الإمام أبا حنيفة كان من أنجب تلامذته في الحديث، وقد ذكر الإمام عبد الوهاب الشعراني في كتابه " الميزان الكبرى " (2) سَنَدَ: أبو حنيفة، عن عطاء، عن ابن عباس، كما ذكر سَنَدَ: مالك، عن نافع، عن ابن عمر، حينما تعرض لبيان أسانيد المجتهدين في الكتاب والسنة.

 

كذلك شيخه في الفقه حماد بن أبي سليمان أيضًا يجلسه في صدر الحلقة حذاءه، قال الحافظ أبو بكر الخطيب في " تاريخ بغداد " (3): «أَخْبَرَنَا الخلال، قَالَ: أَخْبَرَنَا الحريري، أن النخعي حدثهم قال: حَدَّثَنِي جعفر بن مُحَمَّد بن حازم، قَالَ: حَدَّثَنَا الوليد بن حماد، عن الحسن بن زياد، عن زفر بن الهذيل، قال: سمعت أبا حنيفة، يقول: " كنت أنظر في الكلام حتى بلغت فيه مبلغًا يشار إلي فيه بالأصابع، وكنا نجلس بالقرب من

--------------------------------------------

(1) ص 83 طبع حيدر آباد الدكن بالهند سَنَةَ 1394 هـ.

(2) 1/ 48.

(3) 13/ 332، 333.
আবু আব্দুল্লাহ বিন আলি আস-সাইমারি তাঁর "আখবারু আবি হানিফা ওয়া আসহাবিহি" (১) গ্রন্থে বলেন: «আমাদেরকে আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুকাররাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল সামাদ বিন উবাইদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন নুহ থেকে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাফস বিন ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন আবান বর্ণনা করেছেন হারিস বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি বলেন: "আমরা আতার নিকট একে অপরের পেছনে বসতাম, এমতাবস্থায় যখন আবু হানিফা আসতেন, তিনি তাঁর জন্য জায়গা প্রশস্ত করে দিতেন এবং তাঁকে নিজের নিকটে নিতেন"»। সমাপ্ত।

 

আমি বলি: তাঁর এই আচরণ ইমাম আবু হানিফার প্রতি নির্দেশ করে যে, তিনি হাদিস শাস্ত্রে তাঁর সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইমাম আব্দুল ওয়াহহাব আশ-শারানি তাঁর "আল-মিজানুল কুবরা" (২) গ্রন্থে আবু হানিফা, আতা থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে—এই সনদটি উল্লেখ করেছেন, যেমনটি তিনি কিতাব ও সুন্নাহর ক্ষেত্রে মুজতাহিদগণের সনদ বর্ণনার সময় মালিক, নাফে থেকে, ইবনে উমর থেকে—এই সনদটি উল্লেখ করেছেন।

 

তদ্রূপ ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর উস্তাদ হাম্মাদ বিন আবি সুলাইমানও তাঁকে মজলিসের সম্মুখভাগে তাঁর মুখোমুখি বসাতেন। হাফেজ আবু বকর আল-খাতিব "তারিখে বাগদাদ" (৩) গ্রন্থে বলেন: «আমাদেরকে আল-খাল্লাল সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদেরকে আল-হারিরি সংবাদ দিয়েছেন যে, আন-নাখায়ি তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাফর বিন মুহাম্মাদ বিন হাযিম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ওয়ালিদ বিন হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন হাসান বিন যিয়াদ থেকে, তিনি জুফার বিন আল-হুযাইল থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি: "আমি ইলমুল কালাম নিয়ে চর্চা করতাম এমনকি এতে আমি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিলাম যে মানুষ আঙুল দিয়ে আমাকে ইশারা করে দেখাত, আর আমরা নিকটে বসতাম...

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা ৮৩, হায়দ্রাবাদ ডেকান, ভারত মুদ্রণ, ১৩৯৪ হিজরি।

(২) ১/ ৪৮।

(৩) ১৩/ ৩৩২, ৩৩৩।
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৯)
حلقة حماد بن أبي سليمان، فجاءتني امرأة يومًا، فقالت لي: " رجل له امرأة أمة أراد أن يطلقها للسنة، كم يطلقها؟ "، " فلم أدر ما أقول، فأمرتها أن تسأل حماد ثم ترجع فتخبرني "، فسألت حمادًا، فقال: " يطلقها وهي طاهر من الحيض والجماع تطليقة، ثم يتركها حتى تحيض حيضتين، فإذا اغتسلت فقد حلت للأزواج "، فرجعت فأخبرتني، فقلت: " لا حاجة لي في الكلام، وأخذت نعلي فجلست إلى حماد، فكنت أسمع مسائله، فأحفظ قوله، ثم يعيدها من الغد فأحفظها، ويخطئ أصحابه "، فقال: " لا يجلس في صدر الحلقة بحذائي غير أبي حنيفة "». اهـ.

 

قلتُ: هذا يدل على جودة حفظ الإمام وإتقانه.

 

وقال الحافظ أبو بكر الخطيب في " تاريخ بغداد " (1): «أَخْبَرَنِي مُحَمَّد بن عبد الملك القرشي،: أنبأنا أَبُو العباس أَحْمَد بن مُحَمَّد بن الحسين الرازي، حَدَّثَنَا علي بن أَحْمَد القاري، أخبرنا مُحَمَّد بن فضيل هو البلخي العابد، قال: حدثنا أَبُو مطيع، قال: قال أَبُو حنيفة: دخلت على أبي جعفر أمير المؤمنين، فقال لي: " يا أبا حنيفة عمن أخذت العلم؟ " قال: قلت: " عن حماد، عن إبراهيم، عن عُمَر بن الخطاب، وعلي بن أبي طالب، وعبد الله بن مسعود، وعبد الله بن عباس "، قال: فقال أَبُو جعفر: " بخ، بخ، استوثقت ما شئت يا أبا حنيفة الطيبين الطاهرين المباركين، - صَلَوَاتُ اللهِ عَلَيْهِمْ - "». اهـ.

 

هكذا وقع في المطبوع من " تاريخ بغداد "، والصواب «عَنْ إِبْرَاهِيمَ

--------------------------------------------

(1) 13/ 334.
হাম্মাদ বিন আবি সুলাইমানের মজলিস; একদিন এক মহিলা আমার কাছে এল এবং আমাকে বলল: "এক ব্যক্তির স্ত্রী একজন দাসী, সে তাকে সুন্নাহ মোতাবেক তালাক দিতে চায়, সে তাকে কতবার তালাক দেবে?" আমি কী বলব বুঝতে পারলাম না। তাই আমি তাকে নির্দেশ দিলাম যেন সে হাম্মাদকে জিজ্ঞাসা করে এবং তারপর ফিরে এসে আমাকে জানায়। সে হাম্মাদকে জিজ্ঞাসা করল, তখন তিনি বললেন: "সে তাকে হায়েয (ঋতুস্রাব) ও সহবাস থেকে পবিত্র থাকা অবস্থায় এক তালাক দেবে, এরপর তাকে ছেড়ে দেবে যতক্ষণ না তার দুই হায়েয অতিবাহিত হয়। অতঃপর সে যখন গোসল করবে, তখন সে অন্য স্বামীদের জন্য বৈধ হয়ে যাবে।" সে ফিরে এসে আমাকে সংবাদ দিল। আমি বললাম: "তর্কালাপে আমার আর কোনো প্রয়োজন নেই।" আমি আমার জুতো জোড়া নিলাম এবং হাম্মাদের কাছে গিয়ে বসলাম। আমি তার মাসআলাগুলো শুনতাম এবং তার বক্তব্য মুখস্থ করতাম। পরদিন তিনি যখন তা পুনরায় বলতেন, আমি তা স্মরণ রাখতাম অথচ তার অন্যান্য সাথীরা ভুল করত। তখন তিনি (হাম্মাদ) বললেন: "আমার সামনে মজলিসের প্রধান স্থানে আবু হানিফা ছাড়া আর কেউ বসবে না।" সমাপ্ত।

 

আমি বলি: এটি ইমামের মুখস্থ শক্তি এবং নিপুণতার উৎকর্ষতা প্রমাণ করে।

 

হাফেজ আবু বকর আল-খাতিব "তারিখে বাগদাদ" গ্রন্থে (১) বলেছেন: "মুহাম্মাদ বিন আব্দুল মালিক আল-কুরাশি আমাকে জানিয়েছেন: আবুল আব্বাস আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন আল-রাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী বিন আহমাদ আল-কারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন ফুদাইল—যিনি আল-বালখি আল-আবিদ—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হানিফা বলেছেন: আমি আমিরুল মুমিনিন আবু জাফরের দরবারে প্রবেশ করলাম। তিনি আমাকে বললেন: 'হে আবু হানিফা, আপনি কার থেকে ইলম অর্জন করেছেন?' তিনি বলেন, আমি বললাম: 'হাম্মাদ থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি উমর বিন আল-খাত্তাব, আলী বিন আবি তালিব, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ এবং আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস থেকে।' তিনি বলেন, তখন আবু জাফর বললেন: 'সাবাশ, সাবাশ! হে আবু হানিফা, আপনি অতি উত্তম, পবিত্র ও বরকতময় ব্যক্তিদের থেকে সুদৃঢ় দলিল গ্রহণ করেছেন—তাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—'।" সমাপ্ত।

 

"তারিখে বাগদাদ"-এর মুদ্রিত কপিতে এভাবেই এসেছে, তবে সঠিক হলো "ইব্রাহিম থেকে...

--------------------------------------------

(১) ১৩/ ৩৩৪।
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২০)
عَنْ أَصِْحَابِ عُمَرَ بْنَ الخَطَّابِ … الخ». صرح به العَلَاّمَةُ الكوثري في " التأنيب " (1).

 

قلتُ: وقد فاق الإمام في طلب الحديث على مشايخ عصره فقد روى الحافظ الذهبي في " مناقب أبي حنيفة " (2) عن الإمام مِسْعَرٍ بْنِ كِدَامٍ، قَالَ: «طَلَبْتُ مَعَ أَبِي حَنِيفَةَ الحَدِيثَ فَغَلَبَنَا، وَأَخَذْنَا فِي الزُّهْدِ فَبَرَعَ عَلَيْنَا، وَطَلَبْنَا الفِقْهَ فَجَاءَ مِنْهُ مَا تَرَوْنَ». اهـ.

 

قلتُ: ومسعر بن كدام هذا ذكره الذهبي في " تذكرة الحفاظ " وَحَلَاّهُ في كتابه " سير أعلام النبلاء " بالإمام الثبت شيخ العراق الحافظ.

 

وقال صدر الأئمة المكي: «وكان مسعر بن كدام أحد مفاخر الكوفة في حفظه وزهده وكان من شيوخ أبي حنيفة، روى عنه في " مسنده "» (3).

--------------------------------------------

(1) " تأنيب الخطيب ": ص 29.

(2) ص 27.

(3) من " مناقب الإمام الأعظم " لصدر الأئمة الموفق: 2/ 37، طبع دائرة المعارف بحيدر آباد الدكن بالهند.
‘উমর বিন আল-খাত্তাবের সাথীদের থেকে ... ইত্যাদি’। আল্লামা কাওসারী এটি ‘আত-তানীবে’ (১) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

 

আমি বলি: ইমাম হাদীস অন্বেষণে তাঁর সমসাময়িক শাইখদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। হাফিজ আয-যাহাবী ‘মানাকিবু আবি হানিফাহ্’-তে (২) ইমাম মিসআ’র বিন কিদাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি আবু হানিফার সাথে হাদীস অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাদের ছাড়িয়ে গিয়েছেন। আমরা যুহদ (দুনিয়া বিমুখতা) অবলম্বন করেছি, তিনি আমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। আমরা ফিকহ অন্বেষণ করেছি, তখন তাঁর থেকে তা-ই প্রকাশ পেয়েছে যা তোমরা দেখছো»। ইতি।

 

আমি বলি: এই মিসআ’র বিন কিদামকে যাহাবী ‘তাযকিরাতুল হুফফায’-এ উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর কিতাব ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’-তে তাঁকে নির্ভরযোগ্য ইমাম, ইরাকের শাইখ এবং হাফিজ হিসেবে ভূষিত করেছেন।

 

এবং সদরুল আইম্মাহ মক্কী বলেন: «মিসআ’র বিন কিদাম তাঁর হিফয এবং যুহদের কারণে কুফার অন্যতম গর্বের পাত্র ছিলেন। তিনি আবু হানিফার অন্যতম শাইখ ছিলেন, তিনি তাঁর থেকে নিজের ‘মুসনাদ’-এ বর্ণনা করেছেন» (৩)।

--------------------------------------------

(১) “তানীবে খতীব”: পৃষ্ঠা ২৯।

(২) পৃষ্ঠা ২৭।

(৩) সদরুল আইম্মাহ আল-মুওয়াফফাক রচিত “মানাকিবে ইমামে আযম” থেকে: ২/ ৩৭, ভারতের হায়দ্রাবাদ ডেকানের দাইরাতুল মাআরিফ থেকে মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌إِمَامَةُ أَبِي حَنِيفَةَ فِي الحَدِيثِ:

وقد شهد الأئمة في القديم والحديث بإمامة أبي حنيفة في الحديث، قال الإمام المحدث حافظ المغرب أبو عمر يوسف بن عبد البر النمري القرطبي الأندلسي - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى - في كتابه المعروف " جامع بيان العلم وفضله وما ينبغي في روياته وحمله " (1): حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ رَحْمُونَ قَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ بَكْرِ بْنِ دَاسَهْ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا دَاوُدَ سُلَيْمَانَ بْنَ الأَشْعَثِ السِّجِسْتَانِيَّ يَقُولُ: «رَحِمَ اللَّهُ مَالِكًا كَانَ إِمَامًا، رَحِمَ اللَّهُ الشَّافِعِيَّ كَانَ إِمَامًا، رَحِمَ اللَّهُ أَبَا حَنِيفَةَ كَانَ إِمَامًا».

 

وقال في كتابه " الانتقاء في فضائل الثلاثة فقهاء، مالك والشافعي وأبي حنيفة رضي الله عنهم وذكر عيون من أخبارهم وأخبار أصحابهم للتعريف بجلالة أقدارهم " (2): حَدثنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ بْنُ عَبْدِ المُؤْمِنِ بْنِ يَحْيَى رحمه الله قَالَ أَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدٌ بْنُ بَكْرٍ بْنُ عَبْدِ الرَازَّقِ التَّمَّارُ المَعْرُوفُ بِابْنِ دَاسَهْ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا دَاوُدَ سُلَيْمَانَ بْنَ

--------------------------------------------

(1) 2/ 163، طبع إدارة الطباعة المنيرية بمصر.

(2) ص 232 عنيت بنشره مكتبة القدسي بالقاهرة عام 1350 هـ.
হাদিস শাস্ত্রে ইমাম আবু হানিফার ইমামত (নেতৃত্ব):

প্রাচীন ও আধুনিককালের ইমামগণ হাদিস শাস্ত্রে আবু হানিফার ইমামতের সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। হাদিস বিশারদ ইমাম, মাগরিবের হাফেজ আবু ওমর ইউসুফ ইবনে আব্দুল বার আন-নামারি আল-কুরতুবি আল-আন্দালুসি -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন- তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাব "জামেউ বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি ওয়ামা ইয়ামবাগি ফি রিওয়ায়াতিহি ওয়া হামলিহি" (১)-এ বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনে রাহমুন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে বকর ইবনে দাসা-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশআছ আস-সিজিস্তানিকে বলতে শুনেছি: «আল্লাহ মালেকের ওপর রহম করুন, তিনি একজন ইমাম ছিলেন; আল্লাহ শাফেয়ির ওপর রহম করুন, তিনি একজন ইমাম ছিলেন; আল্লাহ আবু হানিফার ওপর রহম করুন, তিনি একজন ইমাম ছিলেন।»

 

এবং তিনি তাঁর কিতাব "আল-ইনতিকা ফি ফাদায়িলিল ছালাছাতি ফুকাহা: মালেক, শাফেয়ি ও আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং তাঁদের ও তাঁদের অনুসারীদের মর্যাদার উচ্চতা তুলে ধরার নিমিত্তে তাঁদের সংবাদসমূহের সারনির্যাস" (২)-এ বলেছেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মুমিন ইবনে ইয়াহইয়া -রাহিমাহুল্লাহ- বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে বকর ইবনে আব্দুল রাজ্জাক আত-তাম্মার, যিনি ইবনে দাসা নামে পরিচিত। তিনি বলেন: আমি আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে... শুনতে পেয়েছি।

--------------------------------------------

(১) ২/ ১৬৩, মিশরের ইদারাতুত তিবায়াতিল মুনিরিয়্যাহ কর্তৃক মুদ্রিত।

(২) পৃষ্ঠা ২৩২, ১৩৫০ হিজরি সালে কায়রোর মাকতাবাতুল কুদসি এর প্রকাশনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল।
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২২)
الأَشْعَثِ بْنِ إِسْحَاقَ السِّجِسْتَانِيَّ رحمه الله يَقُولُ: «رَحِمَ اللَّهُ مَالِكًا كَانَ إِمَامًا رَحِمَ اللَّهُ الشَّافِعِيَّ كَانَ إِمَامًا رَحِمَ اللَّهُ أَبَا حَنِيفَةَ كَانَ إِمَامًا».

 

فهذه شهادة الإمام الثبت سيد الحفاظ شَيْخُ السُنَّةِ أبي داود الأزدي السجستاني صاحب " السنن " - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى -، في حق الأئمة الثلاثة بإمامتهم، وتجد شرح هذه الإمامة مستوفى فيما كتبه الإمام الحافظ العلامة شيخ خراسان أبو بكر أحمد بن الحسين البيهقي - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى - في مدخل كتابه " دلائل النبوة ومعرفة أحوال صاحب الشريعة " (1) ونصه:

«فصل: ومما يحق معرفته في الباب، أن تعلم أن الله تعالى بعث رسوله، صلى الله عليه وسلم، بالحق، وأنزل عليه كتابه الكريم، وضمن حفظه كما قال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (2)، ووضع رسوله، صلى الله عليه وسلم من دينه وكتابه موضع الإبانة عنه، كما قال: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} (3)، وترك نبيه في أمته حتى يُبَيِّنَ لأمته ما بُعِثَ به، ثم قبضه الله تعالى إلى رحمته، وقد تركهم على الواضحة، فلا تَنْزِلُ بالمسلمين نازلة إِلا وَفِي كِتَابِ اللهِ وسنة رسول الله، صلى الله عليه وسلم بَيَانُهَا: نَصًّا أو دلالة.

--------------------------------------------

(1) 1/ 43 - 46 طبع بيروت، الطبعة الأولى: سَنَةَ 1405 هـ.

(2) [سورة الحجر، الآية: 9].

(3) [سورة النحل، الآية: 44].
আশআস ইবনে ইসহাক আস-সিজিস্তানি (রাহিমাহুল্লাহ) বলতেন: «আল্লাহ মালিকের ওপর দয়া করুন, তিনি একজন ইমাম ছিলেন; আল্লাহ শাফিয়ীর ওপর দয়া করুন, তিনি একজন ইমাম ছিলেন; আল্লাহ আবু হানিফার ওপর দয়া করুন, তিনি একজন ইমাম ছিলেন।»

 

এটি নির্ভরযোগ্য ইমাম, হাফিজগণের সর্দার, শাইখুস সুন্নাহ আবু দাউদ আল-আযদি আস-সিজিস্তানি—'আস-সুনান' এর সংকলক (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা)—এর সাক্ষ্য এই তিন ইমামের ইমামতির স্বপক্ষে। আর আপনি এই ইমামতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাবেন ইমাম হাফিজ আল্লামা শাইখুল খুরাসান আবু বকর আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-বাইহাকি (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) তাঁর কিতাব 'দালাইলুন নুবুওয়াহ ওয়া মারিফাতু আহওয়ালি সাহিবিশ শরিয়াহ' (১)-এর ভূমিকায় যা লিখেছেন তাতে। এর পাঠ নিম্নরূপ:

«পরিচ্ছেদ: এই বিষয়ে যা জানা অত্যাবশ্যক তা হলো, আপনি জানবেন যে আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, এবং তাঁর ওপর তাঁর সম্মানিত কিতাব নাযিল করেছেন, আর এর সংরক্ষণের দায়িত্ব তিনি নিজেই নিয়েছেন যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয় আমিই যিকর (কুরআন) নাযিল করেছি এবং নিশ্চয় আমিই এর সংরক্ষণকারী} (২)। এবং তিনি তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর দ্বীন ও কিতাবের বর্ণনাকারীর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন, যেমনটি তিনি বলেছেন: {এবং আমি আপনার প্রতি যিকর নাযিল করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে} (৩)। আর তিনি তাঁর নবীকে তাঁর উম্মতের মাঝে ততক্ষণ রেখেছিলেন যতক্ষণ না তিনি তাঁর উম্মতের কাছে তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যা নিয়ে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর রহমতের দিকে তুলে নেন, এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁদেরকে এক সুস্পষ্ট পথের ওপর রেখে গিয়েছিলেন। ফলে মুসলমানদের ওপর এমন কোনো সমস্যা আপতিত হয় না যার বর্ণনা আল্লাহর কিতাবে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাতে বিদ্যমান নেই; হোক তা সরাসরি ভাষ্যে অথবা ইংগিতে।

--------------------------------------------

(১) ১/ ৪৩ - ৪৬ বৈরুত মুদ্রণ, প্রথম সংস্করণ: ১৪০৫ হিজরি।

(২) [সূরা আল-হিজর, আয়াত: ৯]।

(৩) [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৪৪]।
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৩)
وجعل في أمته في كل عصر من الأعصار أئمة يقومون ببيان شريعته وحفظها على أمته، ورد البدعة عنها.

 

كما أَخْبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ أَحْمَدُ بن محمد الصُّوفِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ بْنُ عَدِيٍّ الحَافِظُ، حَدَّثَنَا عَبْدِ اللهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا مَعَانُ بن رفاعة، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرحمن العذري، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ، صلى الله عليه وسلم: «يَرِثُ هَذَا العِلْمَ مِنْ كُلِّ خَلَفٍ عُدُولُهُ ، يَنْفُونَ عَنْهُ تَأْوِيلَ الجَاهِلِينَ ، وَانْتِحَالَ الْمُبْطِلِينَ ، وَتَحْرِيفَ الغَالِينَ».

 

ورواه الوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرحمن، عن الثقة من أشياخهم، عَنِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم.

 

وقد وجد تصديق هذا الخبر في زمان الصحابة، ثم في كل عصر من الأعصار إلى يومنا هذا. وقام بمعرفة رواة السنة في كل عصر من الأعصار جماعة وقفوا على أحوالهم في التعديل والجرح وبينوها ودونوها في الكتب حتى من أراد الوقوف على معرفتها وَجَدَ السبيلَ إليها. وقد تكلم فقهاء الأمصار في الجرح والتعديل فمن سواهم من عُلَمَاءِ الحَدِيثَ.

 

أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الحُسَيْنِ السُّلَمِيُّ، حَدَّثَنَا أبو سعيد الخلال، حَدَّثَنَا أَبُو القَاسِمِ البَغَوِيُّ، حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلَانَ المروزي، قال: حدثني الْحِمَّانِيُّ عن أبي حنيفة قَالَ: «مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَكْذَبَ مِنْ جَابِرٍ الجُعْفِيِّ، وَلَا أَفْضَلَ مِنْ عَطَاءِ».
এবং তিনি তাঁর উম্মতের মধ্যে প্রতিটি যুগে এমন ইমামগণ সৃষ্টি করেছেন যারা তাঁর শরীয়ত বর্ণনা করার, উম্মতের জন্য তা সংরক্ষণ করার এবং তা থেকে বিদআত দূর করার দায়িত্ব পালন করেন।

 

যেমনটি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাদ আহমদ বিন মুহাম্মদ আস-সুফি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবু আহমদ বিন আদি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবুর রাবি' আজ-জাহরানি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হাম্মাদ বিন জায়েদ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মা'ন বিন রিফাআহ, ইব্রাহিম বিন আব্দুর রহমান আল-উযরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «প্রতিটি উত্তরসূরি প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গ এই জ্ঞানকে ধারণ করবেন, তারা এ থেকে মূর্খদের ভুল ব্যাখ্যা, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা দাবি এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি দূর করবেন।»

 

ওয়ালিদ বিন মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি তাদের শিক্ষকদের মধ্য হতে একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে।

 

এই সংবাদের সত্যতা সাহাবায়ে কেরামের যুগে পাওয়া গিয়েছে, অতঃপর প্রতিটি যুগে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত তা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিটি যুগে সুন্নাহর বর্ণনাকারীদের পরিচিতি লাভের জন্য একদল বিশেষজ্ঞ দাঁড়িয়েছেন যারা তাদের জারহ (সমালোচনা) ও তাদিল (নির্ভরযোগ্যতা) সংক্রান্ত অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন, তা বর্ণনা করেছেন এবং কিতাবসমূহে সংকলন করেছেন; এমনকি যে ব্যক্তি এ বিষয়ে জানতে চায় সে তার পথ খুঁজে পায়। বিভিন্ন শহরের ফকিহগণ এবং অন্যান্য হাদিস বিশারদগণ জারহ ও তাদিল বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

 

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আস-সুলামি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু সাঈদ আল-খাল্লাল, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবুল কাসিম আল-বাগাওয়ি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মাহমুদ বিন গাইলান আল-মারওয়াজি, তিনি বলেন: আমাকে আল-হিমানি বর্ণনা করেছেন আবু হানিফা থেকে, তিনি বলেন: «আমি জাবির আল-জু'ফি অপেক্ষা অধিক মিথ্যাবাদী এবং আতা অপেক্ষা অধিক উত্তম কাউকে দেখিনি।»
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৪)
قال: وحدثنا عَبْدُ الحَمِيدِ الحِمَّانِيُّ، قَالَ: سمعت أبا سعد الصغاني قام إلى أبي حنيفة، فقال: يا أبا حنيفة، ما تقول في الأخذ عن الثوري؟

فقال: «اكْتُبْ عَنهُ، فَإِنَّهُ ثِقَة مَا خَلَا أَحَادِيثَ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ الحَارِثِ [عَنْ عَلِيٍّ] وَحَدِيثِ جَابرٍ الجُعْفِيِّ».

 

وأَخْبَرَنَا أَبُو الحُسَيْنِ بْنُ الفَضْلِ القَطَّانُ، بِبَغْدَادَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ سفيان، قال: سمعت حرملة يقول: قال الشافعي: «الرِّوَايَةُ عَنْ حَرَامِ بْنِ عُثْمَانَ حَرَامٌ».

 

أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللهِ: الحُسَيْنُ بْنُ الحَسَنِ الغَضَائِرِيُّ ببغداد، حدثنا أحمد ابن سَلْمَانَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ محمد الصائغ، حدثنا عفّان: قال: حدثني يحيى ابن سعيد القطان، قال: سألت شعبة، وسفيان الثوري، ومالك بن أنس، وَسُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ: عَنْ الرجل يتهم في الحديث ولا يحفظ؟ فقالوا: بيّن أمره للناس.

 

وأَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ: الحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الرُّوذْبَارِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ:

أَحْمَدُ بْنُ كَامِلٍ بْنِ خَلَفٍ القاضي، قال: حدثني أبو سعد الهروي، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ خلّاد، قال: قيل «ليحيى بن سعيد»: أما تخشى أن يكون الذين تركت حديثهم خصماؤك عند الله؟

قال: لأن يكون هؤلاء خصمائي عند الله أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ يكون خصمي رسول الله صلى الله عليه وسلم، يقول: لم حدثت عني حديثا ترى أنه كذب؟

 

أخبرنا أبو عبد الله الْحَافِظُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الْفَقِيهُ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قال:

سمعت الشافعي، رحمه الله،
তিনি বললেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল হামিদ আল-হিমানী, তিনি বলেন: আমি আবু সাদ আস-সাগানীকে আবু হানিফার নিকট দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি: হে আবু হানিফা, আস-সাওরী থেকে (হাদিস) গ্রহণ করার ব্যাপারে আপনি কী বলেন?

তিনি বললেন: «তার থেকে লিখে নাও, কেননা তিনি নির্ভরযোগ্য; কেবল হারিস থেকে আবু ইসহাকের বর্ণিত হাদিসসমূহ [আলী (রা.) থেকে] এবং জাবির আল-জু'ফীর হাদিস ব্যতিরেকে।»

 

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন বিন আল-ফজল আল-কাত্তান বাগদাদে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন জাফর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব বিন সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমি হারমালাকে বলতে শুনেছি: শাফেয়ী বলেছেন: «হারাম বিন উসমান থেকে বর্ণনা করা হারাম।»

 

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আল-হাসান আল-গাযাইরি বাগদাদে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে সালমান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর বিন মুহাম্মদ আস-সায়েগ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফফান: তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শু'বাহ, সুফিয়ান আস-সাওরী, মালিক বিন আনাস এবং সুফিয়ান বিন উয়াইনাকে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যাকে হাদিসের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত করা হয় এবং সে তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে পারে না? তারা বললেন: মানুষের নিকট তার বিষয়টি স্পষ্ট করে দাও।

 

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আর-রুযবারী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর:

আহমদ বিন কামিল বিন খালাফ আল-কাজী, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাদ আল-হারাবী, আবু বকর বিন খাল্লাদ থেকে, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন সাঈদকে বলা হলো: «আপনি কি ভয় পান না যে, যাদের হাদিস আপনি পরিত্যাগ করেছেন তারা আল্লাহর নিকট আপনার প্রতিপক্ষ হবে?»

তিনি বললেন: «আল্লাহর নিকট তারা আমার প্রতিপক্ষ হওয়া আমার কাছে এর চেয়ে বেশি প্রিয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার প্রতিপক্ষ হয়ে বলবেন: কেন তুমি আমার পক্ষ থেকে এমন হাদিস বর্ণনা করলে যা তুমি মিথ্যা বলে মনে করতে?»

 

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ওয়ালিদ আল-ফকিহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান বিন সুফিয়ান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হারমালা বিন ইয়াহইয়া, তিনি বলেন:

আমি শাফেয়ী রহ.-কে বলতে শুনেছি,
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৫)
يقول: «لَوْلَا شُعْبَةُ مَا عُرِفَ الحَدِيثُ بِالعِرَاقِ، كَانَ يَجِيءُ إِلَى الرَّجُلِ فَيَقُولُ: " لَا تُحَدِّثْ وَإِلَاّ اسْتَعْدَيْتُ عَلَيْكَ السُّلْطَانَ "».

 

فعلى هذه الجملة كان ذَبُّهُمْ عن حريم السُنَّةِ. وشواهد ما ذكرنا كثيرة، وفيما ذكرنا عن التطويل غنية. اهـ.

 

وكذلك قال الإمام الحافظ أبو عيسى محمد بن عيسى بن سورة السلمي الترمذي رحمه الله في كتاب " العلل " من " جامعه " (1): «وَقد عَابَ بعض من لَا يفهم على أهل الحَدِيث الكَلَام فِي الرِّجَال وَقد وجدنَا غير وَاحِد من الأَئِمَّة من التَّابِعين قد تكلمُوا فِي الرِّجَال مِنْهُم الحسن الْبَصْرِي وطاووس تكلما فِي معبد الجُهَنِيّ وَتكلم سعيد بن جُبَير فِي طلق بن حبيب وَتكلم إِبْرَاهِيم النَّخعِي وعامر الشّعبِي فِي الحَارِث الأَعْوَر وَهَكَذَا رُوِيَ عَن أَيُّوب السّخْتِيَانِيّ وَعبد الله بن عون وَسليمَان التَّيْمِي وَشعْبَة بن الحجَّاج وسُفْيَان الثَّوْري وَمَالك بن أنس وَالأَوْزَاعِيّ وَعبد الله بن المُبَارك وَيحيى بن سعيد القطَّان ووكيع بن الْجراح وَعبد الرَّحْمَن بن مهْدي وَغَيرهم من أهل الْعلم أَنهم تكلمُوا فِي الرِّجَال وَضَعَّفُوا.

 

وَإِنَّمَا حملهم على ذَلِك عندنَا - وَالله أعلم - النَّصِيحَة للْمُسلمين لَا ظن بهم أَنهم أَرَادوا الطعْن على النَّاس أَو الْغَيْبَة إِنَّمَا أَرَادوا عندنَا أَن يبينوا ضعف هَؤُلَاءِ لكَي يعرفوا لأَن بَعضهم من الَّذين ضعفوا كَانَ صَاحب بدعة وَبَعْضهمْ كَانَ مُتَّهَمًا فِي الحَدِيث وَبَعْضُهُمْ كَانُوا

--------------------------------------------

(1) 13/ 305 - 309 مع " عارضة الأحوذي "، طبع مصر سَنَةَ 1352هـ.
তিনি বলেন: "শু'বাহ না থাকলে ইরাকে হাদিস পরিচিত হতো না। তিনি কোনো লোকের কাছে আসতেন এবং বলতেন: 'তুমি হাদিস বর্ণনা করো না, নতুবা আমি তোমার বিরুদ্ধে সুলতানের সাহায্য নেব'।"

 

সুন্নাহর পবিত্র সীমানা রক্ষায় তাদের প্রতিরক্ষা ছিল এই পর্যায়ের। আমরা যা উল্লেখ করেছি তার প্রমাণ অনেক, এবং দীর্ঘ আলোচনা পরিহার করে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট। সমাপ্ত।

 

অনুরূপভাবে ইমাম হাফিজ আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরা আস-সুলামি আত-তিরমিজি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) তাঁর "জামি" গ্রন্থের "আল-ইলাল" (১) অধ্যায়ে বলেছেন: "যাদের সঠিক বুঝ নেই তাদের কেউ কেউ হাদিস বিশারদদের ওপর বর্ণনাকারীদের সমালোচনা করার কারণে দোষারোপ করেছে। অথচ আমরা একাধিক ইমাম ও তাবেয়ীকে বর্ণনাকারীদের বিষয়ে কথা বলতে দেখেছি। তাদের মধ্যে হাসান বসরী ও তাউস মা'বাদ আল-জুহানি সম্পর্কে কথা বলেছেন। সাঈদ ইবনে জুবায়ের তালক ইবনে হাবিব সম্পর্কে কথা বলেছেন। ইব্রাহিম নাখয়ি ও আমের আশ-শা'বি হারিস আল-আ'ওয়ার সম্পর্কে কথা বলেছেন। এভাবেই আইয়ুব সাখতিয়ানি, আবদুল্লাহ ইবনে আউন, সুলাইমান আত-তাইমি, শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ, সুফিয়ান সাওরি, মালিক ইবনে আনাস, আওজায়ি, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, ওয়াকি ইবনুল জাররাহ, আবদুর রহমান ইবনে মাহদি এবং অন্যান্য ইলম অন্বেষণকারী আলেমদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে কথা বলেছেন এবং তাদের দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন।

 

আমাদের মতে—আর আল্লাহই ভালো জানেন—তাদেরকে এই কাজে যা উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো মুসলিমদের প্রতি কল্যাণকামিতা (নাসিহা)। তাদের সম্পর্কে এমন ধারণা করা যাবে না যে তারা মানুষের নিন্দা বা গিবত করার ইচ্ছা করেছিলেন। বরং আমাদের মতে তারা চেয়েছিলেন এই বর্ণনাকারীদের দুর্বলতা স্পষ্ট করে দিতে যাতে মানুষ তাদের সম্পর্কে জানতে পারে। কারণ যাদের দুর্বল বলা হয়েছে তাদের কেউ ছিল বিদআতি, কেউ হাদিসের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত, আবার কেউ ছিল...

--------------------------------------------

(১) ১৩/ ৩০৫ - ৩০৯, "আরিদাতুল আহওয়াজি" সহ, মিশর সংস্করণ, ১৩৫২ হিজরি।
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৬)
أَصْحَاب غَفلَة وَكَثْرَة خطأ فَأَرَادَ هَؤُلَاءِ الأَئِمَّة أَن يبينوا أَحْوَالهم شَفَقَة على الدين وتثبيتا، لأَن الشَّهَادَة فِي الدين أَحَق أَن يثبت فِيهَا من الشَّهَادَة فِي الحُقُوق وَالأَمْوَال … وسرد أقوالاً من أئمة هذا الفن في جرح كثير من الرواة، إلى أن قال:

حَدثنَا مَحْمُود بن غيلَان حَدثنَا أَبُو يحيى الحِمَّانِي قَالَ سَمِعت أَبَا حنيفَة يَقُول: «مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَكْذَبَ مِنْ جَابِرٍ الجُعْفِيِّ، وَلَا أَفْضَلَ مِنْ عَطَاءِ بْنَ أَبِي رَبَاحٍ». اهـ.

 

وقال شيخ البيهقي الحافظ الكبير إمام المحدثين أبو عبد الله محمد بن عبد الله النيسابوري الحاكم المعروف بابن البيع في كتابه " المستدرك على الصحيحين " (1) عند سرد طرق حديث «لَا نِكَاحَ إِلَاّ بِوَلِيٍّ» ما نَصُّهُ: «وَقَدْ وَصَلَ هَذَا الحَدِيثَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، جَمَاعَةٌ مِنْ أَئِمَّةِ المُسْلِمِينَ غَيْرُ مَنْ ذَكَرْنَاهُمْ، مِنْهُمْ أَبُو حَنِيفَةَ النُّعْمَانُ بْنُ ثَابِتٍ، وَرَقَبَةُ بْنُ مَصْقَلَةَ العَبْدِيُّ، وَمُطَرِّفُ بْنُ طَرِيفٍ الحَارِثِيُّ، وَعَبْدُ الحَمِيدِ بْنُ الحَسَنِ الهِلَالِيُّ، وَزَكَرِيَّا بْنُ أَبِي زَائِدَةَ، وَغَيْرُهُمْ، وَقَدْ ذَكَرْنَاهُمْ فِي البَابِ». اهـ.

 

وقال الحاكم أيضًا في كتابه " معرفة علوم الحديث " (2) ما نصه: «ذِكْرُ النَّوْعِ التَّاسِعِ وَالأَرْبَعِينَ مِنْ مَعْرِفَةِ عُلُومِ الحَدِيثِ هَذَا النَّوْعُ مِنْ هَذِهِ العُلُومِ مَعْرِفَةُ الأَئِمَّةِ الثِّقَاتِ الْمَشْهُورِينَ مِنَ التَّابِعِينَ وَأَتْبَاعِهِمْ، مِمَّنْ

--------------------------------------------

(1) 2/ 171، كتاب النكاح، طبع دائرة المعارف بحيدر آباد الدكن بالهند سَنَةَ 1340 هـ.

(2) ص 240 - 249، طبع القاهرة.
তারা ছিল অসতর্কতা ও অধিক ভুলের অধিকারী, তাই এই ইমামগণ দ্বীনের প্রতি মমতা ও তা সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে তাদের অবস্থা বর্ণনা করতে চেয়েছেন; কারণ অধিকার ও সম্পদের বিষয়ে সাক্ষ্যদানের চেয়ে দ্বীনি বিষয়ে সাক্ষ্য দান অধিকতর যাচাই-বাছাই ও সুদৃঢ়করণের দাবি রাখে ... এবং তিনি রাবিদের সমালোচনা বিষয়ে এই শাস্ত্রের ইমামদের অনেক উক্তি উল্লেখ করেছেন, শেষ পর্যন্ত তিনি বলেন:

মাহমুদ ইবনে গায়লান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যে আবু ইয়াহইয়া আল-হিম্মানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি: «আমি জাবির আল-জু'ফীর চেয়ে বড় মিথ্যাবাদী আর আতা ইবনে আবি রাবাহর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কাউকে দেখিনি।» সমাপ্ত।

 

বাইহাকীর শায়খ, মহান হাফেজ ও মুহাদ্দিসগণের ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আন-নাইসাবুরী আল-হাকিম, যিনি ইবনুল বাই' নামে পরিচিত, তিনি তার গ্রন্থ "আল-মুস্তাদরাক আলাস সহীহাঈন" (১)-এ «অভিভাবক ছাড়া কোনো বিবাহ নেই» হাদিসটির সনদসমূহ বর্ণনার সময় বলেন: «আমরা যাদের নাম উল্লেখ করেছি তারা ছাড়াও মুসলিম ইমামগণের একটি দল আবু ইসহাক থেকে এই হাদিসটি মুত্তাসিল হিসেবে বর্ণনা করেছেন; তাদের মধ্যে রয়েছেন আবু হানিফা নু'মান ইবনে সাবিত, রাকাবা ইবনে মাসকালা আল-আবদী, মুতাররিফ ইবনে তারিফ আল-হারিসি, আব্দুল হামিদ ইবনে হাসান আল-হিলালী, যাকারিয়া ইবনে আবি যায়িদাহ এবং আরও অনেকে। আমরা এই অধ্যায়ে তাদের কথা উল্লেখ করেছি।» সমাপ্ত।

 

আল-হাকিম তার "মা'রিফাতু উলূমিল হাদিস" (২) গ্রন্থে আরও বলেছেন: «হাদিস বিজ্ঞানের ঊনপঞ্চাশতম প্রকারের আলোচনা: এই শাস্ত্রের এই প্রকারটি হলো তাবিঈ ও তাবে-তাবিঈদের মধ্য থেকে প্রখ্যাত নির্ভরযোগ্য ইমামদের পরিচিতি প্রদান, যাদের মধ্য থেকে...»

--------------------------------------------

(১) ২/১৭১, কিতাবুন নিকাহ, ভারতের হায়দ্রাবাদ ডেকানস্থ দাইরাতুল মাআরিফ থেকে ১৩৪০ হিজরি সনে মুদ্রিত।

(২) পৃষ্ঠা ২৪০ - ২৪৯, কায়রো সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৭)
يَجْمَعُ حَدِيثَهُمْ لِلْحِفْظِ، وَالمُذَاكَرَةِ، وَالتَّبَرُّكِ بِهِمْ، وَبِذِكْرِهِمْ مِنَ المَشْرِقِ إِلَى الغَرْبِ، - فذكر خَلْقًا من أعيان كثير من البلدان -.

فمنهم من أهل المدينة: محمد بن مسلم الزهري، محمد بن المنكدر القرشي، وربيعة بن أبي عبد الرحمن الرائي، ومالك بن أنس الأصبحي، وجعفر بن محمد الصادق، وغيرهم.

 

ومن أهل مكة: مجاهد بن جبر، وعمرو بن دينار، وعبد الملك بن جُرَيْجٍ، وفضيل بن عياض، وغيرهم.

 

ومن أهل مصر: عمرو بن الحارث، ويزيد بن أبي حبيب، وحيوة بن شريح التجيبي، وغيرهم.

 

ومن أهل الشام: عبد الرحمن بن عمرو الأوزاعي، وشعيب بن أبي حمزة الحمصي، ومكحول الفقيه، وغيرهم.

 

ومن أهل اليمن: طاوس، وعبد الله بن طاوس، وغيرهما.

 

ومن أهل اليمامة: يحيى بن أبي كثير، وغيره.

 

ومن أهل الكوفة: عامر بن شراحيل الشعبي، وسعيد بن جبير الأسدي، وإبراهيم النخعي، وأبو إسحاق السبيعي، وحماد بن أبي سليمان، ومنصور بن المعتمر، ومغيرة بن مِقْسَمٍ الضَّبِّيِّ، والأعمش الأسدي، وَمِسْعَرْ بْنِ كِدَامٍ الهِلَالِيِّ، وأبو حنيفة النعمان بن ثابت التيمي، وسفيان بن سعيد الثوري، وداود بن نُصَيْرٍ الطائي، وَزُفَرْ بْنُ الهُذَيْلِ، وعافية بن يزيد القاضي، وغيرهم.
তাদের হাদিসসমূহ মুখস্থ করা, আলোচনা করা এবং তাঁদের মাধ্যমে ও তাঁদের স্মরণের মাধ্যমে বরকত অর্জনের লক্ষ্যে পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সংকলন করা হয়—অতঃপর তিনি বিভিন্ন অঞ্চলের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিকে উল্লেখ করেছেন—।

মদীনার অধিবাসীদের মধ্যে রয়েছেন: মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম আজ-জুহরি, মুহাম্মদ ইবনে আল-মুনকাদির আল-কুরাশি, রাবিআ ইবনে আবি আবদির রহমান আর-রায়ি, মালিক ইবনে আনাস আল-আসবাহি, জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদিক এবং আরও অনেকে।

 

মক্কার অধিবাসীদের মধ্যে রয়েছেন: মুজাহিদ ইবনে জাবর, আমর ইবনে দিনার, আব্দুল মালিক ইবনে জুরাইজ, ফুদাইল ইবনে ইয়াদ এবং আরও অনেকে।

 

মিশরের অধিবাসীদের মধ্যে রয়েছেন: আমর ইবনে আল-হারিস, ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব, হাইওয়া ইবনে শুরাইহ আত-তুজিবি এবং আরও অনেকে।

 

শামের অধিবাসীদের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুর রহমান ইবনে আমর আল-আওজায়ি, শুআইব ইবনে আবি হামজা আল-হিমসি, মাকহুল আল-ফকিহ এবং আরও অনেকে।

 

ইয়েমেনের অধিবাসীদের মধ্যে রয়েছেন: তাউস, আব্দুল্লাহ ইবনে তাউস এবং আরও অনেকে।

 

ইয়ামামার অধিবাসীদের মধ্যে রয়েছেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির এবং আরও অনেকে।

 

কুফার অধিবাসীদের মধ্যে রয়েছেন: আমির ইবনে শারাহিল আশ-শাবি, সাঈদ ইবনে জুবায়ের আল-আসাদি, ইবরাহিম আন-নাখায়ি, আবু ইসহাক আস-সাবি'য়ি, হাম্মাদ ইবনে আবি সুলাইমান, মানসুর ইবনুল মুতামির, মুগিরা ইবনে মিকসাম আদ-দাব্বি, আল-আমাশ আল-আসাদি, মিসআর ইবনে কিদাম আল-হিলালি, আবু হানিফা নুমান ইবনে সাবিত আত-তাইমি, সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আস-সাওরি, দাউদ ইবনে নুসাইর আত-তায়ি, জুফার ইবনুল হুযাইল, আফিয়া ইবনে ইয়াজিদ আল-কাদি এবং আরও অনেকে।
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৮)
ومن أهل الجزيرة: ميمون بن مهران، وعمرو بن ميمون بن مهران، وخالد بن معدان العابد، وغيرهم.

 

ومن أهل البصرة: أيوب بن أبي تميمة السختياني، وشعبة بن الحجاج، وهشام بن حسان، وقتادة بن دعامة، وغيرهم.

 

ومن أهل واسط: العَوَّامُ بن حوشب، وأبو خالد يزيد بن عبد الرحمن الدَّالَانِي، وغيرهم.

 

ومن أهل خراسان: إبراهيم بن طهمان الفقيه العابد، وإبراهيم بن أدهم الزاهد من أهل بلخ، وشقيق بن إبراهيم الزاهد، والنضر بن محمد الشيباني، وغيرهم. - رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ -». انتهى.

 

وقال شيخ الإسلام العلامة أبو العباس تقي الدين أحمد بن عبد الحليم الشهير بابن تيمية الحنبلي في كتابه " منهاج السنة النبوية في نقض كلام الشيعة والقدرية " (1): «قَالَ أَبُو العَبَّاسِ بْنُ عُقْدَةَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبَّادٍ، سَمِعْتُ بَشَّارَ بْنَ دَرَّاعٍ، قَالَ: لَقِيَ أَبُو حَنِيفَةَ مُحَمَّدَ بْنَ النُّعْمَانِ فَقَالَ: عَمَّنْ رَوَيْتَ حَدِيثَ رَدِّ الشَّمْسِ؟ فَقَالَ: عَنْ غَيْرِ الذِي رَوَيْتَ عَنْهُ: «يَا سَارِيَةُ الجَبَلَ» …

قُلْتُ - القائل ابن تيمية - وَهَذَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ أَئِمَّةَ أَهْلِ العِلْمِ لَمْ يَكُونُوا يُصَدِّقُونَ بِهَذَا الحَدِيثِ ; فَإِنَّهُ لَمْ يَرْوِهِ إِمَامٌ مِنْ أَئِمَّةِ المُسْلِمِينَ. وَهَذَا أَبُو حَنِيفَةَ، أَحَدُ الأَئِمَّةِ المَشَاهِيرِ، وَهُوَ لَا يُتَّهَمُ عَلَى عَلِيٍّ، فَإِنَّهُ مِنْ

--------------------------------------------

(1) 4/ 194، 195 الطبعة الأميرية ببولاق، مصر سَنَةَ 1322 هـ.
জাযিরা অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে রয়েছেন: মাইমুন ইবনে মিহরান, আমর ইবনে মাইমুন ইবনে মিহরান, খালিদ ইবনে মাদান আল-আবিদ এবং আরও অনেকে।

 

বসরাবাসীদের মধ্যে রয়েছেন: আইয়ুব ইবনে আবি তামিমি আল-সাখতিয়ানি, শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ, হিশাম ইবনে হাসসান, কাতাদাহ ইবনে দি'য়ামাহ এবং আরও অনেকে।

 

ওয়াসিতবাসীদের মধ্যে রয়েছেন: আল-আওয়াম ইবনে হাওশাব, আবু খালিদ ইয়াযিদ ইবনে আবদুর রহমান আদ-দালানি এবং আরও অনেকে।

 

খোরাসানবাসীদের মধ্যে রয়েছেন: ফকিহ ও আবিদ ইবরাহিম ইবনে তাহমান, বলখ অঞ্চলের জাহেদ ইবরাহিম ইবনে আদহাম, জাহেদ শাকিক ইবনে ইবরাহিম, আন-নদর ইবনে মুহাম্মদ আশ-শায়বানি এবং আরও অনেকে। — তাদের সকলের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। — সমাপ্ত।

 

শায়খুল ইসলাম আল্লামা আবু আব্বাস তাকিউদ্দিন আহমদ ইবনে আব্দুল হালিম, যিনি ইবনে তাইমিয়া আল-হাম্বলি নামে সুপরিচিত, তাঁর "মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ফি নাকদি কালামিশ শিয়া ওয়াল কাদারিয়্যাহ" (১) গ্রন্থে বলেন: «আবু আব্বাস ইবনে উকদাহ বলেছেন, জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন সুলাইমান ইবনে আব্বাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি বাশার ইবনে দাররা-কে বলতে শুনেছি: আবু হানিফা মুহাম্মদ ইবনুন নু'মানের সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন, 'সূর্য ফিরিয়ে আনার হাদিসটি আপনি কার থেকে বর্ণনা করেছেন?' তিনি উত্তর দিলেন, 'আপনি যার থেকে "হে সারিয়াহ, পাহাড়ের দিকে লক্ষ্য করো" হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, তিনি ব্যতীত অন্য ব্যক্তির নিকট থেকে।' …

আমি (ইবনে তাইমিয়া) বলছি— এটি প্রমাণ করে যে, ইলমের অধিকারী ইমামগণ এই হাদিসটিকে সত্য বলে বিশ্বাস করতেন না; কেননা মুসলিমদের কোনো ইমামই এটি বর্ণনা করেননি। আর এই যে আবু হানিফা, তিনি প্রসিদ্ধ ইমামগণের একজন, আলীর ব্যাপারে তাঁর প্রতি কোনো বিদ্বেষের অভিযোগ আনা যাবে না, কেননা তিনি তো

--------------------------------------------

(১) ৪/ ১৯৪, ১৯৫, আমিরিয়া মুদ্রণালয়, বুলাক, মিশর, ১৩২২ হিজরি।
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৯)
أَهْلِ الكُوفَةِ دَارِ الشِّيعَةِ، وَقَدْ لَقِيَ مِنَ الشِّيعَةِ، وَسَمِعَ مِنْ فَضَائِلِ عَلِيٍّ مَا شَاءَ اللَّهُ، وَهُوَ يُحِبُّهُ وَيَتَوَلَاّهُ، وَمَعَ هَذَا أَنْكَرَ هَذَا الحَدِيثَ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ النُّعْمَانِ. وَأَبُو حَنِيفَةَ أَعْلَمُ وَأَفْقَهُ مِنَ الطَّحَاوِيِّ وَأَمْثَالِهِ، وَلَمْ يُجِبْهُ ابْنُ النُّعْمَانِ بِجَوَابٍ صَحِيحٍ، بَلْ قَالَ: عَنْ غَيْرِ مَنْ رَوَيْتَ عَنْهُ حَدِيثَ: «يَا سَارِيَةُ الجَبَلَ».

فَيُقَالُ لَهُ: هَبْ أَنَّ ذَلِكَ كَذِبٌ، فَأَيُّ شَيْءٍ فِي كَذِبِهِ مِمَّا يَدُلُّ عَلَى صِدْقِ هَذَا. فَإِنْ كَانَ كَذَلِكَ، فَأَبُو حَنِيفَةَ لَا يُنْكِرُ أَنْ يَكُونَ لِعُمَرَ وَعَلِيٍّ وَغَيْرِهِمَا كَرَامَاتٌ، بَلْ أَنْكَرَ هَذَا الحَدِيثَ ; لِلدَّلَائِلِ الكَثِيرَةِ عَلَى كَذِبِهِ، وَمُخَالَفَتِهِ لِلشَّرْعِ وَالْعَقْلِ، وَأَنَّهُ لَمْ يَرْوِهِ أَحَدٌ مِنَ الْعُلَمَاءِ الْمَعْرُوفِينَ بِالحَدِيثِ، مِنَ التَّابِعِينَ وَتَابِعِيهِمْ، وَهُمُ الذِينَ يَرْوُونَ عَنِ الصَّحَابَةِ، بَلْ لَمْ يَرْوِهِ إِلَاّ كَذَّابٌ أَوْ مَجْهُولٌ لَا يُعْلَمُ عَدْلُهُ وَضَبْطُهُ، فَكَيْفَ يُقْبَلُ هَذَا مِنْ مِثْلِ هَؤُلَاءِ؟!، وَسَائِرُ عُلَمَاءِ المُسْلِمِينَ يَوَدُّونَ أَنْ يَكُونَ مِثْلُ هَذَا صَحِيحًا ; لِمَا فِيهِ مِنْ مُعْجِزَاتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَفَضِيلَةِ عَلِيٍّ، عَلَى الَّذِينَ يُحِبُّونَهُ وَيَتَوَلَّوْنَهُ، وَلَكِنَّهُمْ لَا يَسْتَجِيزُونَ التَّصْدِيقَ بِالكَذِبِ، فَرَدُّوهُ دِيَانَةً، وَاللهُ أَعْلَمُ».

 

وقال في موضع آخر من الكتاب المذكور (1): « … أَئِمَّةِ أَهْلِ الحَدِيثِ وَالتَّفْسِيرِ وَالتَّصَوُّفِ وَالفِقْهِ، مِثْلِ الأَئِمَّةِ الأَرْبَعَةِ وَأَتْبَاعِهِمْ».

 

وقال أبو الفداء الحافظ ابن كثير الدمشقي - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى - في كتابه " البداية والنهاية " (2):

--------------------------------------------

(1) 1/ 172، 173.

(2) 6/ 85، 86 الطبعة الأولى سَنَةَ 1966، مكتبة المعارف - بيروت.
কুফাবাসী শিয়াদের আবাসের অধিবাসী ছিলেন, আর তিনি শিয়াদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং আলীর ফযীলত সম্পর্কে আল্লাহ যা চেয়েছেন তা শুনেছেন। তিনি তাঁকে ভালোবাসতেন এবং তাঁর প্রতি আনুগত্য পোষণ করতেন। এতদসত্ত্বেও তিনি মুহাম্মদ ইবনুল নুমান থেকে বর্ণিত এই হাদীসটি অস্বীকার করেছেন। আর আবু হানীফা ছিলেন তহাবী এবং তাঁর মত অন্যদের তুলনায় অধিক জ্ঞানী ও বিজ্ঞ ফকীহ। ইবনুন নুমান তাঁকে কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেননি, বরং তিনি বলেছিলেন: "হে সারিয়া, পাহাড়!" হাদীসটি যার সূত্রে আপনি বর্ণনা করেছেন, তিনি ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে বর্ণিত।

তখন তাঁকে বলা হয়: ধরে নিন যে ওটি মিথ্যা, তবে সেটির মিথ্যা হওয়ার মধ্যে এমন কী আছে যা এটির সত্যতা প্রমাণ করে? বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে আবু হানীফা উমর, আলী ও অন্যদের কারামত থাকাকে অস্বীকার করেন না। বরং তিনি এই হাদীসটি অস্বীকার করেছেন এর মিথ্যা হওয়ার স্বপক্ষে অসংখ্য দলীলের কারণে এবং এটি শরীয়ত ও বিবেকের পরিপন্থী হওয়ার কারণে। এছাড়া হাদীস শাস্ত্রের সুপরিচিত আলেমদের মধ্য থেকে তাবেয়ী বা তাবে-তাবেয়ীদের কেউ এটি বর্ণনা করেননি, অথচ তাঁরাই সাহাবীগণ থেকে বর্ণনা করে থাকেন। বরং এটি কোনো চরম মিথ্যাবাদী বা এমন কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তি ছাড়া কেউ বর্ণনা করেনি যার ন্যায়পরায়ণতা ও সংরক্ষণ ক্ষমতা (দাবত) সম্পর্কে জানা নেই। সুতরাং এই ধরণের লোকেদের কাছ থেকে এটি কীভাবে গ্রহণ করা যেতে পারে?! আর সাধারণ মুসলিম আলেমগণও কামনা করতেন যে এই ধরণের বর্ণনা যেন সহীহ হতো; কারণ এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুজিযা এবং আলীর ফযীলত রয়েছে, যা তাঁদের কাছে প্রিয় যারা তাঁকে ভালোবাসে ও আনুগত্য করে। কিন্তু তাঁরা মিথ্যার সত্যায়ন করাকে বৈধ মনে করেন না, তাই তাঁরা দ্বীনদারিতার খাতিরে এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

তিনি উল্লিখিত কিতাবের অন্য স্থানে বলেছেন (১): « … হাদীস, তাফসীর, তাসাউফ ও ফিকহ শাস্ত্রের ইমামগণ, যেমন চার ইমাম এবং তাঁদের অনুসারীগণ।»

 

আবুল ফিদা হাফিয ইবনে কাসীর আদ-দিমাশকী -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- তাঁর "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া" গ্রন্থে বলেছেন (২):

--------------------------------------------

(১) ১/ ১৭২, ১৭৩।

(২) ৬/ ৮৫, ৮৬; প্রথম সংস্করণ ১৯৬৬ সাল, মাকতাবাতুল মাআরিফ - বৈরুত।
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَالطَّحَاوِيُّ، رحمه الله، إِنْ كَانَ قَدِ اشْتَبَهَ عَلَيْهِ أَمْرُهُ - أي أمر حديث «رَدِّ الشَّمْسِ» لعلي -، فَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، رحمه الله إِنْكَارُهُ وَالتَّهَكُّمُ بِمَنْ رَوَاهُ. قَالَ أَبُو العَبَّاسِ بْنُ عُقْدَةَ: ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ، ثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبَّادٍ، سَمِعْتُ بَشَّارَ بْنَ دِرَاعٍ قَالَ: لَقِيَ أَبُو حَنِيفَةَ مُحَمَّدَ بْنَ النُّعْمَانِ، فَقَالَ: عَمَّنْ رَوَيْتَ حَدِيثَ رَدِّ الشَّمْسِ؟ فَقَالَ: عَنْ غَيْرِ الَّذِي رَوَيْتَ عَنْهُ: يَا سَارِيَةُ، الْجَبَلَ.

 

فَهَذَا أَبُو حَنِيفَةَ، رحمه الله، وَهُوَ مِنَ الْأَئِمَّةِ الْمُعْتَبَرِينَ، وَهُوَ كُوفِيٌّ لَا يُتَّهَمُ عَلَى حُبِّ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَتَفْضِيلِهِ بِمَا فَضَّلَهُ اللَّهُ بِهِ وَرَسُولُهُ، وَهُوَ مَعَ هَذَا يُنْكِرُ هَذَا عَلَى رَاوِيهِ.

 

وَقَوْلُ مُحَمَّدِ بْنِ النُّعْمَانِ لَهُ لَيْسَ بِجَوَابٍ، بَلْ مُجَرَّدُ مُعَارِضَةٍ لَا تُجْدِي، أَيْ أَنَا رَوَيْتُ فِي فَضْلِ عَلِيٍّ هَذَا الحَدِيثَ، وَهُوَ وَإِنْ كَانَ مُسْتَغْرَبًا فَهُوَ فِي الغَرَابَةِ نَظِيرَ مَا رَوَيْتَهُ أَنْتَ فِي فَضْلِ عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ فِي قَوْلِهِ: يَا سَارِيَةُ، الجَبَلَ. وَهَذَا لَيْسَ بِصَحِيحٍ مِنْ مُحَمَّدِ بْنِ النُّعْمَانِ، فَإِنَّ هَذَا لَيْسَ كَهَذَا، لَا إِسْنَادًا وَلَا مَتْنًا، وَأَيْنَ مُكَاشَفَةُ إِمَامٍ قَدْ شَهِدَ الشَّارِعُ لَهُ بِأَنَّهُ مُحَدَّثٌ بِأَمْرٍ جُزْءٍ مِنْ رَدِّ الشَّمْسِ طَالِعَةً بَعْدَ مَغِيبِهَا الذِي هُوَ أَكْبَرُ عَلَامَاتِ السَّاعَةِ؟!».

 

وقال الحافظ ابن حجر في " لسان الميزان " (1):

«محمد بن علي بن النعمان بن أبي طريفة البجلي الكوفي

--------------------------------------------

(1) 5/ 300، 301.
আর ইমাম তহাবী (রহিমাহুল্লাহ) এর নিকট যদি এর বিষয়টি—অর্থাৎ আলীর জন্য 'সূর্য ফিরিয়ে আনার' হাদিসের বিষয়টি—অস্পষ্ট হয়ে থাকে, তবে ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) থেকে এটি অস্বীকার করার এবং যে এটি বর্ণনা করেছে তার প্রতি বিদ্রূপ করার কথা বর্ণিত হয়েছে। আবুল আব্বাস ইবনে উকদাহ বলেন: জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান ইবনে আব্বাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি বাশশার ইবনে দিরা’কে বলতে শুনেছি: আবু হানিফা মুহাম্মদ ইবনুন নু'মানের সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং বললেন: "আপনি কার পক্ষ থেকে সূর্য ফিরিয়ে আনার হাদিসটি বর্ণনা করেছেন?" তিনি উত্তরে বললেন: "যিনি আপনার নিকট 'হে সারিয়াহ, পাহাড়ের দিকে তাকাও!' হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, তিনি ব্যতীত অন্য কারও কাছ থেকে।"

 

সুতরাং ইনি হলেন আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ), যিনি নির্ভরযোগ্য ইমামদের একজন। তিনি কুফাবাসী ছিলেন, যার বিরুদ্ধে আলী ইবনে আবি তালিবের প্রতি ভালোবাসা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাকে যে মর্যাদা দিয়েছেন সেই অনুযায়ী তাকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অপবাদ দেওয়া যায় না। তা সত্ত্বেও তিনি বর্ণনাকারীর নিকট থেকে এটি অস্বীকার করেছেন।

 

আর মুহাম্মদ ইবনুন নু'মানের কথাটি কোনো উত্তর ছিল না, বরং এটি ছিল একটি নিছক অসার পাল্টা আপত্তি। অর্থাৎ: "আমি আলীর মর্যাদায় এই হাদিসটি বর্ণনা করেছি, যা যদিও বিস্ময়কর, তবুও তা বিস্ময়কর হওয়ার দিক থেকে আপনার বর্ণিত উমর ইবনুল খাত্তাবের মর্যাদাবিষয়ক 'হে সারিয়াহ, পাহাড়!' কথাটির অনুরূপ।" মুহাম্মদ ইবনুন নু'মানের এই দাবি সঠিক নয়; কেননা সনদ বা মতন কোনো দিক থেকেই এটি ওই ঘটনার মতো নয়। কোথায় এমন একজন ইমামের আধ্যাত্মিক উন্মোচন, যার ব্যাপারে শরীয়ত প্রণেতা সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তিনি একজন ইলহামপ্রাপ্ত ব্যক্তি—যা একটি আংশিক বিষয়—আর কোথায় অস্ত যাওয়ার পর সূর্যের পুনরায় উদিত হওয়া, যা কিয়ামতের বড় নিদর্শনগুলোর অন্যতম?!।

 

হাফিজ ইবনে হাজার 'লিসানুল মিজান' (১) গ্রন্থে বলেছেন:

«মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুন নু'মান ইবনে আবি তরিফাহ আল-বাজালি আল-কুফি

--------------------------------------------

(১) ৫/ ৩০০, ৩০১।
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৩১)
أبو جعفر الملقب «شَيْطَانَ الطَّاقِ». نسب إلى سوق في طاق المحامل بالكوفة كان يجلس للصرف بها فيقال: إنه اختصم مع صيرفي آخر في درهم زائف فغلب فقال: «أَنَا شَيْطَانُ الطَّاقِ».

وقيل: إن هشام بن الحكم شيخ الرافضة لما بلغه أنهم لقبوه شيطان الطاق سماه هو مؤمن الطاق.

ويقال: أول من لقبه بشيطان الطاق أبو حنيفة مع مناظرة جرت بحضرته بينه وبين بعض الحرورية … ، ووقعت له مناظرة مع أبي حنيفة في شيء يتعلق بفضائل علي - سُمِّيَ فيها: محمد بن النعمان نسبة إلى جده، فقال له أبو حنيفة كالمنكر عليه: «عَمَّنْ رَوَيْتَ حَدِيثَ رَدِّ الشَّمْسِ لِعَلِيٍّ؟ فَقَالَ: عَنْ مَنْ رَوَيْتَ أَنْتَ عَنْهُ: يَا سَارِيَةُ الجَبَلَ»؟. اهـ.

 

وقال الشيخ الإمام الحافظ الحجة شمس الدين أبو عبد الله محمد المعروف بابن قيم الجوزية الحنبلي في كتابه " إعلام الموقعين عن رب العالمين " (1): «وَقَدْ احْتَجَّ الأَئِمَّةُ الأَرْبَعَةُ وَالفُقَهَاءُ قَاطِبَةً بِصَحِيفَةِ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ، وَلَا يُعْرَفُ فِي أَئِمَّةِ الفَتْوَى إلَاّ مَنْ احْتَاجَ إلَيْهَا وَاحْتَجَّ بِهَا، وَإِنَّمَا طَعَنَ فِيهَا مَنْ لَمْ يَتَحَمَّلْ أَعْبَاءَ الفِقْهِ وَالفَتْوَى كَأَبِي حَاتِمٍ البُسْتِيِّ وَابْنِ حَزْمٍ وَغَيْرِهِمَا». اهـ.

 

وقال أيضًا في موضع آخر منه (2) ما نصه: «أَمَّا طَرِيقَةُ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ وَأَئِمَّةِ الحَدِيثِ كَالشَّافِعِيِّ وَالإِمَامِ أَحْمَدَ وَمَالِكٍ وَأَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ وَالبُخَارِيِّ وَإِسْحَاقَ … ». اهـ.

 

فهؤلاء الأئمة الجلة الأعلام، جهابذةُ النقد: أبو داود، والترمذي، والحاكم، والبيهقي، وابن عبد البر، وابن تيمية، وابن

--------------------------------------------

(1) 1/ 35 طبع الهند بأشرف المطابع الواقع بدهلي سَنَةَ 1314 هـ.

(2) نفس المصدر: 1/ 359.
আবু জাফর, যাকে ‘শাইতানুত্তাক্ব’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল। কুফার তাকুল মাহামিল নামক একটি বাজারের সাথে তাকে সম্পর্কিত করা হয়, যেখানে তিনি মুদ্রা বিনিময়ের জন্য বসতেন। বলা হয় যে, তিনি এক জাল দিরহাম নিয়ে অন্য এক মুদ্রা বিনিময়কারীর সাথে তর্কে লিপ্ত হন এবং তাতে জয়লাভ করেন। তখন তিনি বলেছিলেন: “আমি হলাম তাক্ব এর শয়তান।”

আর বলা হয় যে, রাফেযীদের শায়খ হিশাম ইবনুল হাকাম যখন জানতে পারলেন যে তারা তাকে ‘শাইতানুত্তাক্ব’ উপাধি দিয়েছে, তখন তিনি তার নাম দিলেন ‘মু’মিনুত্তাক্ব’।

আরও বলা হয় যে, তাকে ‘শাইতানুত্তাক্ব’ উপাধি প্রদানকারী প্রথম ব্যক্তি ছিলেন আবু হানিফা। এটি ঘটেছিল তার উপস্থিতিতে তার এবং জনৈক হারুরিয়্যাহ-র মধ্যে সংঘটিত একটি বিতর্কের সময় … , এবং আলীর ফযীলত সংক্রান্ত একটি বিষয়ে আবু হানিফার সাথে তার একটি বিতর্ক হয়েছিল—যাতে তাকে তার দাদার সাথে সম্পর্কিত করে মুহাম্মাদ ইবনুন নুমান নামে অভিহিত করা হয়েছিল। তখন আবু হানিফা তাকে অস্বীকার করার ভঙ্গিতে বললেন: “তুমি কার নিকট থেকে আলীর জন্য সূর্য ফিরিয়ে দেওয়ার হাদীস বর্ণনা করেছ?” তিনি উত্তরে বললেন: “আপনি যার নিকট থেকে ‘হে সারিয়া, পাহাড়ের দিকে লক্ষ্য করো’ (হাদীসটি) বর্ণনা করেছেন।” সমাপ্ত।

 

শায়খ, ইমাম, হাফিয, হুজ্জাহ শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ, যিনি ইবনুল কায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ আল-হাম্বালী নামে পরিচিত, তিনি তার ‘ইলামুল মুওয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন’ (১) গ্রন্থে বলেছেন: “চার ইমাম এবং ফকীহগণ সর্বসম্মতভাবে আমর ইবনে শুআইব-এর তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত পান্ডুলিপি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। ফতোয়া প্রদানকারী ইমামদের মধ্যে এমন কাউকে জানা যায় না যিনি এর মুখাপেক্ষী হননি এবং এটি দ্বারা দলিল পেশ করেননি। কেবলমাত্র তারাই এর সমালোচনা করেছেন যারা ফিকহ ও ফতোয়ার গুরুভার বহন করেননি, যেমন আবু হাতিম আল-বুসতী, ইবনে হাযম এবং অন্যান্যরা।” সমাপ্ত।

 

তিনি উক্ত গ্রন্থের অন্য এক স্থানে (২) নিম্নোক্ত বক্তব্য প্রদান করেছেন: “পক্ষান্তরে সাহাবী, তাবিঈ এবং হাদীসের ইমামগণ যেমন শাফিঈ, ইমাম আহমাদ, মালিক, আবু হানিফা, আবু ইউসুফ, বুখারী এবং ইসহাক … এর পথ ছিল...।” সমাপ্ত।

 

সুতরাং এই মহান ও প্রখ্যাত ইমামগণ, যারা সমালোচনার ক্ষেত্রে পারদর্শী ছিলেন: আবু দাউদ, তিরমিযী, হাকিম, বায়হাকী, ইবনে আব্দুল বার্র, ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং ইবনে

--------------------------------------------

(১) ১/ ৩৫, ভারতের দিল্লির আশরাফুল মাতাবি’ হতে ১৩১৪ হিজরীতে মুদ্রিত।

(২) একই উৎস: ১/ ৩৫৯।
(খণ্ড: ১) মাকানাতুল ইমাম আবি হানীফা ফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৩২)
القيم، وابن كثير، قد أذعنوا أن الإمام أبا حنيفة من أئمة الحديث المعروفين الذي يُرْجَعُ إلى أقوالهم في الجرح والتعديل والتصحيح والتعليل كسائر الحفاظ النقاد من أئمة المحدثين.

 

وقد اعترف جهابذة المحدثين والحفاظ من المتقدمين والمتأخرين ببراعته في الحديث وضبطه وإتقانه وحفظه وورعه في روايته.

 

قال الحافظ أبو بكر أحمد بن علي الخطيب البغدادي في " تاريخ بغداد " (1): «أَخْبَرَنَا الجوهري، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بن عمران المرزباني، قَالَ: حَدَّثَنَا عبد الواحد بن مُحَمَّد الخصيبي، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو مسلم الكجي إبراهيم بن عبد الله، قال: حَدَّثَنِي مُحَمَّد بن سعيد أَبُو عبد الله الكاتب، قال: سمعت عبد الله بن داود الخُرَيْبِي، يقول: " يَجِبُ عَلَى أَهْلِ الإِسْلَامِ أَنْ يَدْعُوا اللهَ لأَبِي حَنِيفَةَ فِي صَلَاتِهِمْ "، قَالَ: وَذَكَرَ حِفْظَهُ عَلَيْهِمْ السُّنَنَ والفِقْهَ». اهـ. (*)

 

قلت: وَالخُرَيْبِي هذا من كبار الحفاظ ذكره الذهبي في " تذكرة الحفاظ " (2) وَحَلَاّهُ «بِالحَافِظِ الإِمَامِ القُدْوَةِ»، ونقل عن وكيع أنه قال: «النَّظَرُ إِلَى وَجْهِ عَبْدِ اللهِ بْنَ دَاوُدٍ عِبَادَةٌ».

 

وذكر: «أن الخُرَيْبِي قيل له: رَجَعَ أَبُو حَنِيفَةَ عَنْ مَسَائِلَ كَثِيرَةٍ، قَالَ: " إِنَّمَا يَرْجِعُ الفَقِيهُ إِذَا اِتَّسَعَ عِلْمُهُ». اهـ.

 

فهذا الإمام الحافظ القدوة يصف أبا حنيفة بسعة العلم وحفظ السنن.

--------------------------------------------

(1) 13/ 344.

(2) 1/ 338.

 

[تَعْلِيقُ مُعِدِّ الكِتَابِ لِلْمَكْتَبَةِ الشَّامِلَةِ]:

(*) قارن في هذا القول بما ورد في صفحة 105 من هذا الكتاب.
ইবনুল কাইয়্যিম এবং ইবনে কাসীর স্বীকার করেছেন যে, ইমাম আবু হানিফা সেইসব প্রসিদ্ধ হাদিস বিশারদ ইমামদের অন্তর্ভুক্ত যাদের বক্তব্যকে জারহ ও তাদীল (হাদিস বর্ণনাকারীর সমালোচনা ও প্রশংসা), সহিহ সাব্যস্তকরণ এবং ত্রুটি নিরূপণের ক্ষেত্রে দলীল হিসেবে গ্রহণ করা হয়, ঠিক যেমন মুহাদ্দিসগণের অন্যান্য হাফেজ ও সমালোচক ইমামদের ক্ষেত্রে করা হয়।

 

পূর্ববর্তী ও পরবর্তীকালের বিজ্ঞ মুহাদ্দিস ও হাফেজগণ হাদিস শাস্ত্রে তাঁর প্রজ্ঞা, নির্ভুলতা, পারদর্শিতা, স্মৃতিশক্তি এবং হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর তাকওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

 

হাফেজ আবু বকর আহমদ বিন আলী আল-খতিব আল-বাগদাদী তাঁর "তারিখে বাগদাদ" (১) গ্রন্থে বলেন: «আল-জাওহারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইমরান আল-মারজুবানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ আল-খুসাইবী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুসলিম আল-কাজ্জী ইবরাহিম বিন আবদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন সাঈদ আবু আবদুল্লাহ আল-কাতিব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ বিন দাউদ আল-খুরাইবীকে বলতে শুনেছি: "মুসলমানদের জন্য তাদের সালাতে আবু হানিফার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা আবশ্যক", তিনি তাঁর মাধ্যমে সুন্নাহ ও ফিকহ সংরক্ষিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন।» সমাপ্ত। (*)

 

আমি বলি: এই আল-খুরাইবী বড় হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত, যাহাবী 'তাযকিরাতুল হুফফাজ' (২) গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁকে «হাফেজ, ইমাম ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব» হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ওকী' থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: «আবদুল্লাহ বিন দাউদের চেহারার দিকে তাকানো ইবাদত।»

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন: «খুরাইবীকে বলা হয়েছিল: আবু হানিফা অনেক মাসআলা থেকে ফিরে এসেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: "ফকিহ যখন তাঁর জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি পায় তখনই তিনি (ভুল থেকে) ফিরে আসেন।"» সমাপ্ত।

 

সুতরাং এই ইমাম, হাফেজ ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব আবু হানিফাকে জ্ঞানের বিশালতা এবং সুন্নাহ সংরক্ষণের গুণাবলী দ্বারা বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ১৩/ ৩৪৪।

(২) ১/ ৩৩৮।

 

[শামিলা লাইব্রেরির জন্য বইটির প্রস্তুতকারীর মন্তব্য]:

(*) এই উক্তির ব্যাপারে এই বইয়ের ১০৫ পৃষ্ঠায় যা বর্ণিত হয়েছে তার সাথে তুলনা করুন।