(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
شرح الأزهرية   (خالد الأزهري)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: شرح الأزهرية

المؤلف: خالد بن عبد الله بن أبي بكر بن محمد الجرجاويّ الأزهري، زين الدين المصري، وكان يعرف بالوقاد (ت 905هـ)

الناشر: المطبعة الكبرى ببولاق، القاهرة

عدد الصفحات: 63

إهداء من دار الفلاح للبحث العلمي وتحقيق التراث الإسلامي

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 ذو الحجة 1433

শারহুল আজহারিয়া   (খালিদ আল-আজহারী)

বিভাগ: ব্যাকরণ (النحو) ও রূপতত্ত্ব (الصرف)


কিতাব: শারহুল আজহারিয়া

লেখক: খালিদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর বিন মুহাম্মদ আল-জারজাওয়ী আল-আজহারী, জয়নুদ্দিন আল-মিসরী, এবং তিনি আল-ওয়াক্কাদ নামে পরিচিত ছিলেন (মৃত্যু ৯০৫ হিজরি)

প্রকাশক: আল-মাতবাআহ আল-কুবরা, বুলাক, কায়রো

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৩

বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ইসলামী ঐতিহ্য (تراث) সম্পাদনার (تحقيق) জন্য দারুল ফালাহ-এর পক্ষ থেকে উপহার

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২ জিলহজ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
شرح الأزهرية

للشيخ خالد الأزهري

 

طبعة المطبعة الكبرى ببولاق
শরহে আজহারিয়া

শেখ খালিদ আল-আজহারী বিরচিত

 

বুলাকের আল-মাতবাআ আল-কুবরা সংস্করণ
(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله على جميع الأحوال، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له المنزه كلامه عن الألفاظ بالحروف في المقال، وأشهد أن سيدنا محمد عبده ورسوله المميز بين الهدى والضلال، صلى الله عليه وسلم وعلى آله الذين جعلهم الله مصدر الصحيح الأفعال، وعلى أصحابه الموصوفين بالسلام من اللحن في المقال صلاة وسلامًا دائمين متلازمين لا يعتريهما نقص ولا زوال وبعد فيقول العبد الفقير إلى مولاه الغني، خالد بن عبد الله ابن أبى بكر الأزهري.

قد سألني من اعتقد صلاحه ولا تسعني مخالفته أن أشرح مقدمتي الأزهرية، في علم العربية، التي أمليتها لبعض الطلبة شرحا لطيفا فأجبته إلى ذلك طلبا للثواب، وترغيبا للطلاب، جعله الله خالصًا لوجهه الكريم، وموجبا للفوز لديه أنه على ما يشاء قدير، وبالإجابة جدير
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রাপ্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক ও অদ্বিতীয়; তাঁর কালাম শব্দ ও বর্ণের উচ্চারিত সীমাবদ্ধতা থেকে পবিত্র। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি সঠিক পথ ও ভ্রান্তির মাঝে পার্থক্যকারী। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন, যাদেরকে আল্লাহ বিশুদ্ধ (صحيح) কর্মের উৎস হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আর তাঁর সেই সাহাবীগণের ওপরও, যারা কথাবার্তায় ব্যাকরণগত ভুল (لحن) থেকে মুক্ত হওয়ার গুণে গুণান্বিত। তাঁদের ওপর বর্ষিত হোক এমন চিরন্তন ও অবিচ্ছিন্ন রহমত ও শান্তি, যার কোনো ক্ষয় বা সমাপ্তি নেই। অতঃপর, তাঁর মহান অমুখাপেক্ষী প্রতিপালকের মুখাপেক্ষী বান্দা খালিদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আবি বকর আল-আজহারি বলছেন—

এমন এক ব্যক্তি—যাঁর নেক আমল ও সততার প্রতি আমি আস্থাশীল এবং যাঁর অনুরোধ উপেক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়—তিনি আমার নিকট আরজ করেছেন যেন আমি আরবি ব্যাকরণ বিষয়ের ওপর আমার রচিত গ্রন্থ মুকাদ্দিমাতুল আজহারিয়া-এর একটি সহজবোধ্য ব্যাখ্যা লিখি, যা ইতিপূর্বে আমি কিছু শিক্ষার্থীর জন্য শ্রুতিলিখন হিসেবে দান করেছিলাম। সওয়াব অর্জনের উদ্দেশ্যে এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার মানসে আমি তাঁর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছি। আল্লাহ তাআলা এটিকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করুন এবং তাঁর নিকট মহা-সাফল্য লাভের অসীলা বানিয়ে দিন। নিশ্চয়ই তিনি যা ইচ্ছা করেন তা করতে সক্ষম এবং প্রার্থনা কবুলের জন্য তিনিই যোগ্য।
(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
(الكلام) عند اللغويين عبارة عن القول وما كان مكتفيا بنفسه كما ذكره في القاموس وفي اصطلاح المتكلمين
ভাষাবিদগণের নিকট (কালাম) (الكلام) হলো এমন উক্তি যা স্বয়ংসম্পূর্ণ, যেমনটি আল-কামুস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে; আর ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদদের (متكلمين) পরিভাষায় (اصطلاح) ...
(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
عبارة عن المعنى القائم بالنفس و (في اصطلاح النحويين) أي في عرفهم (عبارة عما) أي مؤلف (اشتمل على ثلاثة أشياء) لا زائد عليها على الصحيح وهي (اللفظ والإفادة) التامة (والقصد) وقيد التركيب لا حاجة إليه فاللفظ في الأصل مصدر لفظت الشيء إذا طرحته ثم نقل في عرف النحاة إلى الملفوظ كالخلق بمعنى المخلوق إلا أن الخلق بمعنى المخلوق مجاز لغوي واللفظ بمعنى الملفوظ حقيقة عرفية ومن ثم ساغ استعماله في الحد لإن الحدود تصان عن المجاز وكان قياسه أن يشمل كل مطروح كما أن الخلق يشمل كل مخلوق إلا أن النحاة خصوه بما بطرحه اللسان من الصوت المشتمل على بعض الحروف وتلخص من هذا أن النحاة تصرفوا فيه تصرفين وهما النقل والتخصيص أي النقل من المصدر إلى اسم المفعول والتخصيص بما يطرحه اللسان ودن غيره من الحروف واستعماله في الحدود أولى من استعمال الصوت لأن الصوت جنس بعيد لانطلاقه على ذي الحروف وغيره بخلاف اللفظ فإنه اسم الصوت جنس بعيد لانطلاقه على ذي الحروف وغيره بخلاف اللفظ فإنه اسم لصوت مشتمل على ذي مقاطع كالظواهر والضمائر البارزة أو ما هو في قوة ذلك كالضمائر المستترة فإنها الفاظ بالقوة ألا ترى أنها مستحضرة عند النطق بها بما يلابسها من العوامل استحضار الأخفاء معه والصوت عرض بقوم بمحل يخرج من داخل الرئة إلى خارجها مع النفس مستطيلًا ممتدًا متصلًا بمقطع من مقاطع حروف الحلق واللسان والشفتين وإطلاق المقطع على المخرج من اطلاق الحال على المحل إذ المقطع حرف مع حركة أو حرفان ثانيهما ساكن على ما صرح به ابن سينا في المويسيقى والفارابي في كتاب الألفاظ والمخرج محل خروج الحرف والأفادة مصدر افاد والمراد بها افهام معنى من اللفظ يحسن السكوت عليه من المتكلم أو من السامع خلاف التكلم منهما على الخلاف في ذلك واصحها أولها لأن السكوت خلاف التكلم فكما أن التكلم صفة المتكلم يكون السكوت صفته أيضًا فخرج بذلك المفردات كلها والمركبات التي لا تفيد الفائدة المذكورة لكونها غير مشتملة على اسناد كغلام زيد والمركبات الإسنادية التي لا تفيد أما لكونها ناقصة نحو أن قام زيد

এটি অন্তরে বিদ্যমান অর্থের একটি অভিব্যক্তি এবং (ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায় (اصطلاح النحويين)) অর্থাৎ তাদের প্রচলিত রীতি অনুসারে (এটি এমন একটি বিষয়ের অভিব্যক্তি) যা একটি সংকলন (যা তিনটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে), বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে এর অতিরিক্ত কিছু নয়। আর সেগুলো হলো (উচ্চারণ (اللفظ)), পূর্ণাঙ্গ (সার্থকতা (الإفادة)) এবং (উদ্দেশ্য (القصد))। আর বাক্য গঠনের (তারকিব) শর্তারোপ করার কোনো প্রয়োজন নেই। মূলত 'লফজ' (উচ্চারণ) শব্দটি 'লাফাজতু' ক্রিয়ামূল থেকে আগত একটি মাসদার (مصدر), যার অর্থ হলো কোনো কিছুকে নিক্ষেপ করা। অতঃপর ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায় একে 'মালফুজ' (উচ্চারিত বিষয়) অর্থে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেমন 'খালক্ব' শব্দটিকে 'মাখলুক্ব' (সৃষ্টি) অর্থে ব্যবহার করা হয়। তবে 'খালক্ব' শব্দটিকে 'মাখলুক্ব' অর্থে ব্যবহার করা একটি আভিধানিক রূপক (مجاز لغوي), আর 'লফজ' শব্দটিকে 'মালফুজ' অর্থে ব্যবহার করা একটি পারিভাষিক বাস্তবতা (حقيقة عرفية)। এ কারণেই সংজ্ঞায় (حد) এর ব্যবহার বৈধ হয়েছে, কারণ সংজ্ঞাকে রূপক থেকে মুক্ত রাখা আবশ্যক। এর যৌক্তিক দাবি ছিল যে এটি প্রতিটি নিক্ষিপ্ত বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করবে, ঠিক যেমন 'খালক্ব' প্রতিটি সৃষ্টিকেই অন্তর্ভুক্ত করে। তবে ব্যাকরণবিদগণ একে জিহ্বা থেকে নির্গত এমন শব্দের সাথে নির্দিষ্ট করেছেন যা কিছু বর্ণকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর দ্বারা সারসংক্ষেপ দাঁড়ায় যে, ব্যাকরণবিদগণ এতে দুই ধরণের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন: রূপান্তর (النقل) এবং বিশেষায়ন (التخصيص)। অর্থাৎ, মাসদার (مصدر) থেকে ইসমে মাফউল (اسم المفعول) হিসেবে রূপান্তর এবং জিহ্বা থেকে নির্গত বর্ণের জন্য বিশেষায়ন, যা অন্য কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে না। আর সংজ্ঞায় 'লফজ' শব্দটি ব্যবহার করা 'সাওত' (শব্দ) ব্যবহারের চেয়ে অধিক উত্তম। কারণ 'সাওত' একটি সাধারণ শ্রেণী (جنس بعيد), যা বর্ণযুক্ত এবং বর্ণহীন উভয় শব্দকেই বোঝায়। পক্ষান্তরে 'লফজ' হলো এমন শব্দের নাম যা নির্দিষ্ট বিরতি বা সংযোগস্থলকে (مقاطع) অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন প্রকাশ্য বর্ণ এবং প্রকাশ্য সর্বনামসমূহ (الضمائر البارزة), অথবা যা তার সমতুল্য শক্তি রাখে যেমন উহ্য সর্বনামসমূহ (الضمائر المستترة); কারণ এগুলো মূলত সুপ্ত উচ্চারণ। আপনি কি দেখছেন না যে, আমিলসমূহের (العوامل) সাথে উচ্চারণের সময় এগুলোকে সেভাবেই উপস্থিত করা হয় যেভাবে সুপ্ত বিষয়গুলোকে করা হয়। আর 'সাওত' (শব্দ) হলো এমন একটি আপেক্ষিক গুণ (عرض) যা একটি নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে, যা ফুসফুসের ভেতর থেকে নিঃশ্বাসের সাথে দীর্ঘায়িত ও প্রসারিত হয়ে কণ্ঠনালি, জিহ্বা এবং ওষ্ঠের কোনো একটি উচ্চারণস্থলের (مقاطع) সাথে মিলিত হয়ে বের হয়। আর উচ্চারণস্থলকে 'মাখরাজ' (مخرج) বলা হলো আধারকে আধেয় হিসেবে নামকরণের অন্তর্ভুক্ত। কেননা 'মাক্বত্বা' (বিরতিস্থল) হলো হরকাহ (স্বরচিহ্ন) যুক্ত একটি বর্ণ অথবা দুটি বর্ণ যার দ্বিতীয়টি সাকিন (ثانيهما ساكن), যেমনটি ইবনে সিনা 'আল-মুসিকা' গ্রন্থে এবং আল-ফারাবি 'কিতাবুল আলফাজ' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আর 'মাখরাজ' হলো বর্ণের নির্গমন স্থান। এবং 'ইফাদাহ' (সার্থকতা (الإفادة)) হলো 'আফাদা' ক্রিয়ার মাসদার (مصدر), যার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো উচ্চারিত শব্দের মাধ্যমে এমন একটি অর্থ অনুধাবন করা যার ওপর বক্তা বা শ্রোতার নীরব থাকা সঠিক হয়। এখানে মতভেদ থাকলেও বিশুদ্ধতম (أصح) মত হলো প্রথমটি। কারণ নীরবতা হলো কথা বলার বিপরীত। সুতরাং কথা বলা যেমন বক্তার গুণ, নীরব থাকাও তেমনি বক্তার গুণ। এর মাধ্যমে সমস্ত একক শব্দসমূহ (المفردات) এবং ঐসব যৌগিক শব্দসমূহ (المركبات) বাদ পড়ে গেছে যা উল্লিখিত সার্থকতা প্রদান করে না, কারণ সেগুলোতে কোনো অন্বয় বা সম্পর্ক (إسناد) নেই, যেমন 'গুলামু জাইদ' (জায়েদের গোলাম)। একইভাবে ঐসব ইসনাদযুক্ত যৌগিক শব্দও বাদ পড়বে যা পূর্ণ সার্থকতা প্রদান করে না, যেমন অসম্পূর্ণ বাক্য 'যদি জায়েদ দাঁড়ায়'।

(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
أو لكون مضمونها معلوم الثبوت أو الانتفا بالضرورة فالأول نحو الجزؤ أقل من الكل والثاني نحو الكل أقل من الجزء والقصد الإرادة وهي أن يقصد المتكلم أفادة السامع أي سامع كان فخرج بذلك كلام النائم والساهي ونحوهما وذهب ابن الضائع بمعجمة فمهملة إلى أن القصد لا يشترط فإنه مستفاد من حصول الفائدة لان قول النائم قام زيد مثلا لا يستفاد منه شيء والمتأخرون على خلاف قوله منهم الجزولي في مقدمته وابن مالك في تسهيله وابن عصفور في مقربه ولا حاجة لذكر التركيب لما سيأتي ولا إلى ذكر الوضع لأن الصحيح اختصاصه بالمفردات والكلام في المركبات ودلالتها غير وضعية على الأصح مثال اجتماع هذه الثلاثة اعني اللفظ والإفادة والقصد العلم نافع فالعلم نافع لفظ لأنه صوت مشتمل على بعض حروف الحلق واللسان والشفتين وهي بعض الحروف الهجائية فالهمزة والعين والألف من الحلق واللسان والشفتين وهي بعض الحروف الهجائية فالهمزة والعين والألف من الحلق واللام والنون من اللسان والميم والفاء من الشفتين ومفيد لأنه أفهم معنى يحسن السكوت من المتكلم عليه بحيث لا يصير السامع منتظر الشيء أخر ومقصود بالإفادة لأن المتكلم قصد به إفادة السامع إذا كان السامع يجهل ذلك والإفادة المذكورة تستلزم التركيب وكل مركب لا بدله من اجزاء يتركب منها (وأجزاء الكلام التي يتركب منها ثلاثة أشياء: الاسم، والفعل، والحرف) وهي الكلمات الثلاث ولا رابع لها وذهب أبو جعفر ابن صابر إلى أن اسم الفعل قسم رابع وسماه خالفة لأنه خلف عن الفعل وهذا القول حدث بعد انعقاد الإجماع على الثلاثة فلا يعتد به والمراد أن الكلام يتركب من مجموعها لا من جميعها فإن التركيب الواقع بينها على ضربين أحدهما غير مفيد فائدة الكلام، وهو ستة أقسام:

أحدها: تركيب حرفين نحو ليتما.

والثاني: تركيب حرف واسم نحو الرجل.

والثالث: تركيب اسمين لا إسناد بينهما كغلام زيد.

والرابع: تركيب فعل وحرف نحو قلما.

والخامس: تركيب فعل واسم نحو حبذا.

والسادس: تركيب اسم وحرف نحو ذاك والضرب الثاني ما يفيد فائدة الكلام وهو قسمان أحدها تركيب فعل واسم على وجه بكون الفعل حديثا عن الاسم نحو قام زيد وتسمى جملة فعلية والثاني تركيب
অথবা তার বিষয়বস্তু অনিবার্যভাবে (بالضرورة) প্রমাণিত (الثبوت) বা নেতিবাচক (الانتفا) হওয়ার বিষয়টি সুপরিচিত হওয়ার কারণে। প্রথমটির উদাহরণ যেমন—অংশ মোটের চেয়ে কম, এবং দ্বিতীয়টি যেমন—মোট অংশের চেয়ে কম। আর উদ্দেশ্য (القصد) হলো ইচ্ছা; আর তা হলো বক্তা যেকোনো শ্রোতাকে কোনো বিষয়ে অর্থবহ ফায়দা (الإفادة) প্রদানের ইচ্ছা পোষণ করা। এর ফলে ঘুমন্ত বা অসতর্ক ব্যক্তির কথা বহির্ভূত হয়ে যাবে। ইবনুল দায়ি’—যিনি বিন্দুযুক্ত ‘দদ’ এবং বিন্দুবীহীন ‘আইন’ বর্ণযোগে এই নাম লেখেন—এই মত পোষণ করেছেন যে, উদ্দেশ্য (القصد) শর্ত নয়; কারণ ফায়দা অর্জিত হওয়া থেকেই তা বুঝে নেওয়া যায়। কেননা ঘুমন্ত ব্যক্তির কথা যেমন—‘জায়েদ দাঁড়িয়েছে’, তা থেকে কোনো কিছু অর্জিত হয় না। তবে পরবর্তী আলেমগণ (المتأخرون) তাঁর মতের বিরোধিতা করেছেন; তাঁদের মধ্যে আল-জাযুলি তাঁর মুকাদ্দিমা গ্রন্থে, ইবনে মালিক তাঁর তাসহিল গ্রন্থে এবং ইবনে আসফুর তাঁর মুকাররিব গ্রন্থে তাঁর বিরোধিতা করেছেন। আর এখানে গঠন (التركيب) উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই যা সামনে আসবে, তেমনিভাবে পারিভাষিক স্থাপন (الوضع) উল্লেখ করারও প্রয়োজন নেই। কারণ বিশুদ্ধ (الصحيح) মতানুযায়ী এটি একক শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আর কালাম বা বাক্য হলো যৌগিক (المركبات) শব্দের ক্ষেত্রে; আর বিশুদ্ধতর (الأصح) মত অনুযায়ী যৌগিক পদসমূহের অর্থ প্রদানের বিষয়টি পারিভাষিক স্থাপনের (وضعية) অন্তর্ভুক্ত নয়। এই তিনটি বিষয়ের—অর্থাৎ শব্দ (اللفظ), অর্থবহ হওয়া (الإفادة) ও উদ্দেশ্য (القصد)—এর সমষ্টির উদাহরণ হলো: ‘জ্ঞান উপকারী’। সুতরাং ‘জ্ঞান উপকারী’ একটি শব্দ (اللفظ), কারণ এটি এমন এক আওয়াজ যা কণ্ঠনালী, জিহ্বা ও ওষ্ঠাগত কিছু বর্ণের সমষ্টি, যা বর্ণমালার অন্তর্ভুক্ত। যেমন—হামজা, আইন ও আলিফ কণ্ঠনালী থেকে; লাম ও নুন জিহ্বা থেকে এবং মিম ও ফা ওষ্ঠদ্বয় থেকে উচ্চারিত হয়। এটি অর্থবহ (مفيد), কারণ এটি এমন এক অর্থ প্রকাশ করে যার ওপর বক্তার নীরব থাকা সঠিক হয়, ফলে শ্রোতা অন্য কিছুর অপেক্ষায় থাকে না। এটি ফায়দা প্রদানের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যমূলক (مقصود), কারণ বক্তা এর মাধ্যমে শ্রোতাকে অবগত করার ইচ্ছা করেছে যদি শ্রোতা তা না জেনে থাকে। আর উক্ত অর্থবহ হওয়া বা ফায়দা প্রদান করা বাক্য গঠনের (التركيب) দাবি রাখে। আর প্রত্যেক যৌগিক (مركب) বিষয়ের জন্য কিছু অংশ প্রয়োজন যা দ্বারা সেটি গঠিত হয়। (আর বাক্যের অংশসমূহ যা দ্বারা এটি গঠিত হয় তা তিনটি বিষয়: বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং অব্যয়)। এগুলোই হলো তিনটি পদ, এর চতুর্থ কোনোটি নেই। আবু জাফর ইবনে সাবির মনে করেন যে, ক্রিয়াবিশেষ্য একটি চতুর্থ প্রকার এবং তিনি এর নামকরণ করেছেন ‘খালফা’, কারণ এটি ক্রিয়ার স্থলাভিxto হয়। কিন্তু এই মতটি তিন প্রকারের ওপর ঐক্যমত্য (الإجماع) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর উত্থাপিত হয়েছে, তাই এটি গ্রহণযোগ্য নয়। এর অর্থ হলো কালাম বা বাক্য এগুলোর সমষ্টি থেকে গঠিত হয়, সবগুলো থেকে নয়। কেননা এগুলোর মধ্যে বিদ্যমান গঠন (التركيب) দুই প্রকার; এক প্রকার যা বাক্যের মতো অর্থবহ ফায়দা দেয় না, আর এটি ছয় প্রকার:

প্রথমটি: দুটি অব্যয় দ্বারা গঠিত গঠন, যেমন—‘লাইতামা’।

দ্বিতীয়টি: একটি অব্যয় ও একটি বিশেষ্য দ্বারা গঠিত গঠন, যেমন—‘আর-রাজুলু’।

তৃতীয়টি: দুটি বিশেষ্য দ্বারা গঠিত গঠন যাদের মাঝে কোনো সম্পর্ক (إسناد) নেই, যেমন—‘গুলামু যাইদ’।

চতুর্থটি: একটি ক্রিয়া ও একটি অব্যয় দ্বারা গঠিত গঠন, যেমন—‘কাল্লামা’।

পঞ্চমটি: একটি ক্রিয়া ও একটি বিশেষ্য দ্বারা গঠিত গঠন, যেমন—‘হাব্বাযা’।

ষষ্ঠটি: একটি বিশেষ্য ও একটি অব্যয় দ্বারা গঠিত গঠন, যেমন—‘যাকা’। আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো যা বাক্যের ন্যায় অর্থবহ ফায়দা প্রদান করে, আর এটি দুই প্রকার: এর একটি হলো একটি ক্রিয়া ও একটি বিশেষ্যের এমনভাবে গঠিত হওয়া যেখানে ক্রিয়াটি বিশেষ্য সম্পর্কে একটি সংবাদ প্রদান করে, যেমন—‘কামু যাইদ’, আর একে ক্রিয়াধর্মী বাক্য বলা হয়। আর দ্বিতীয়টি হলো গঠন (تركيب)
(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
اسمين على وجه يكون احدهما خبرا عن الأخر نحو زيد عدل.

وتسمى جملة اسمية، ولا دخل للحرف في ذلك لأنه ليس مقصود بالذات وإنما يؤتى به لمجرد الربط بين اسمين نحو زيد في الدار، أو فعلين نحو أن تضرب اضرب، أو فعل واسم نحو مررت بزيد، أو جملين نحو أن جاء زيدا كرمته (فعلامة الاسم) المميزة له عن قسميه (الخفض) وهو الكسرة التي تحدث عند دخول عامل الخفض سواء كان الخافض حرفا أو اسما ولا ثالث لهما على الأصح نحو بزيد وغلام زيد (والتنوين) وهو نون ساكنة تلحق الآخر تثبت وصلا غالبا فيهن وتحذف خطا ووقفا غالبا.

فمن غير الغالب أن التنوين قد يحرك لالتقاء الساكنين (نحو) محظورا انظر وقد يلحق الأول نحو شربت ما بالقصر وقد يحذف وصلا إذا كان في علم موصوف بابن مضاف إلى علم نحو قال (زيد) بن عمرو وبحذف تنوين زيد تخفيفًا.

وهو اقسام أربعة:

الأول تنوين التمكين نحو زيد ورجل.

والثاني: تنوين التنكير نحو سيبويه وصه.

والثالث: تنوين المقابلة نحو هندات ومسلمات فإنه في مقابلة النون في زيدين ومسلمين في كونه علامة لتمام الاسم كما أن النون قائمة مقام التنوين الذي في الواحد في ذلك قاله الرضى والرابع تنوين العوض نحو جوار ويومئذ فالأول عوض عن حرف أصلي وهو الياء وأصله جواري والثاني عوض عن جملة وليس منه العوض عن المفرد في مثل كل وبعض فإن تنوبتهما تنوين تمكين يزول عند الإضافة ويوجد عند عدمها هذا هو الصحيح (والألف واللام) في الاسم والصفة (نحو الغلام) واليقظان ودخول (وحرف الخفض نحو من الله) ومن الرسول وقس الباقي (وعلامة الفعل قد) وتدخل على الماضي (نحو قد قام زيد) وعلى المضارع نحو (وقد يقوم والسين) وتختص بالمضارع (نحو سيقوم) السفهاء (وتاء التأنيث الساكنة) وتختص بالماضي (نحو: قامت) وقعدت (وياء المخاطبة مع الطلب) بالصيغة وتختص بالأمر (نحو قومى) بخلاف الطلب باللام فإنها تدخل على المضارع نحوو لتقومي يا هند.

(وعلامة الحرف) عدمية وهي (ألا يقبل شيئًا من ذلك) المذكور من علامات الاسم وعلامات الفعل وما لم يذكر من علاماتهما فترك العلامة علامة له
দুটি বিশেষ্য এমনভাবে মিলিত হওয়া যাতে একটি অপরটি সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করে, যেমন: 'জায়েদ ন্যায়পরায়ণ (عدل)'।

একে নামবাচক বাক্য বলা হয়; এতে অব্যয়ের কোনো ভূমিকা নেই, কারণ এটি স্বয়ংক্রিয়াভাবে উদ্দেশ্য নয়, বরং কেবল দুটি বিশেষ্যের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য আনা হয়—যেমন: 'জায়েদ ঘরে আছে', অথবা দুটি ক্রিয়ার মধ্যে সংযোগের জন্য; যেমন: 'যদি তুমি প্রহার করো, তবে আমি প্রহার করব', অথবা একটি ক্রিয়া ও একটি বিশেষ্যের মধ্যে সংযোগের জন্য; যেমন: 'আমি জায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম', অথবা দুটি বাক্যের মধ্যে সংযোগের জন্য; যেমন: 'জায়েদ আসলে আমি তাকে সম্মান করব'। (বিশেষ্যের চিহ্ন) যা তাকে অপর দুই প্রকার থেকে পৃথক করে, তা হলো (নিম্নস্বর বা জের), আর তা হলো সেই কাসরা যা আমিল-এর প্রবেশের ফলে উৎপন্ন হয়। এই আমিল হয় অব্যয় হবে অথবা বিশেষ্য হবে; বিশুদ্ধ (الصحيح) অভিমত অনুযায়ী এই দুটি ছাড়া তৃতীয় কোনোটি নেই। যেমন: 'জায়েদের মাধ্যমে' এবং 'জায়েদের গোলাম'। (এবং তানভীন), যা একটি সাকিন যুক্ত নূন, যা শব্দের শেষে যুক্ত হয়; এটি উচ্চারণের সময় বহাল থাকে কিন্তু লিখার সময় এবং থামার (ওয়াকফ) সময় সাধারণত বিলুপ্ত হয়ে যায়।

তবে কদাচিৎ তানভীন দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে হরকতযুক্ত হতে পারে, যেমন: 'মাহজূরানিনজুর' (محظورًا انظر)। কখনো এটি প্রথম অংশে যুক্ত হয়, যেমন: 'শারিবতু মা-আন' (শربت ماء)। আবার কখনো এটি সংযোগের সময় বিলুপ্ত হয় যদি সেটি এমন কোনো বিশেষ্য (আলম) হয় যার গুণ হিসেবে 'ইবন' (ابن) শব্দ থাকে এবং তা অন্য কোনো বিশেষ্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়, যেমন: (জায়েদ) ইবনে আমর; এখানে উচ্চারণ সহজকরণের জন্য জায়েদ-এর তানভীন বিলুপ্ত হয়েছে।

এটি চার প্রকার:

প্রথমটি: স্থায়িত্বের তানভীন, যেমন: 'জায়েদ' এবং 'রুজুল' (ব্যক্তি)।

দ্বিতীয়টি: অনির্দিষ্টকরণের তানভীন, যেমন: 'সিবওয়াইহি' এবং 'সহ'।

তৃতীয়টি: ভারসাম্যের তানভীন, যেমন: 'হিন্দাতুন' এবং 'মুসলিমাতুন'। এটি 'জায়েদাইনি' এবং 'মুসলিমিনা' শব্দদ্বয়ের নূন-এর বিপরীতে ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি বিশেষ্যের পূর্ণতার চিহ্ন; যেমনটি একবচনের ক্ষেত্রে তানভীন পূর্ণতার চিহ্ন হিসেবে কাজ করে—ইমাম রাযী এমনটিই বলেছেন। চতুর্থটি হলো বিনিময়ের তানভীন, যেমন: 'জাওয়ারিন' এবং 'ইয়াওমায়িযিন'। প্রথমটি মূল অক্ষর তথা 'ইয়া'-এর পরিবর্তে এসেছে, যার মূল ছিল 'জাওয়ারি'। দ্বিতীয়টি একটি বাক্যের পরিবর্তে এসেছে। তবে 'কুল্লুন' এবং 'বাদুন'-এর তানভীন বিনিময়ের তানভীন নয়, বরং এগুলো স্থায়িত্বের তানভীন যা সম্বন্ধ করার সময় বিলুপ্ত হয় এবং সম্বন্ধ না থাকলে বিদ্যমান থাকে—এটিই বিশুদ্ধ (الصحيح) মত। (এবং আলিফ ও লাম) যা বিশেষ্য ও গুণের শুরুতে আসে, যেমন: (বালক) এবং 'জাগ্রত'। এবং (জরের অব্যয়) প্রবেশ করা, যেমন: (আল্লাহর পক্ষ থেকে) এবং রাসুলের পক্ষ থেকে; বাকিগুলোও এর ওপর কিয়াসযোগ্য। (এবং ক্রিয়ার চিহ্ন হলো 'কাদ'), যা অতীতকালের ক্রিয়ার শুরুতে আসে, যেমন: (জায়েদ দাঁড়িয়েছে) এবং বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালের ক্রিয়ার শুরুতে আসে, যেমন: (কখনো কখনো সে দাঁড়ায়)। (এবং 'সীন'), যা কেবল বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালের ক্রিয়ার জন্য নির্ধারিত, যেমন: (শীঘ্রই নির্বোধরা বলবে)। (এবং সাকিনযুক্ত স্ত্রীলিঙ্গবাচক 'তা'), যা কেবল অতীতকালের ক্রিয়ার জন্য নির্ধারিত, যেমন: (সে দাঁড়িয়েছে) এবং সে বসেছে। (এবং সম্বোধনসূচক 'ইয়া' যখন সিগার মাধ্যমে প্রার্থনা বা আদেশ বুঝায়), এটি আদেশের (আমর) জন্য নির্দিষ্ট, যেমন: (তুমি দাড়াও)। পক্ষান্তরে 'লাম'-এর মাধ্যমে নির্দেশ এর বিপরীত, কারণ তা বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালের ক্রিয়ার ওপর প্রবেশ করে, যেমন: 'হে হিন্দ! তুমি অবশ্যই দাঁড়াবে'।

(এবং অব্যয়ের চিহ্ন) হলো অভাবমূলক, আর তা হলো (এসবের কোনোটিই গ্রহণ না করা), অর্থাৎ বিশেষ্য ও ক্রিয়ার উল্লিখিত আলামতগুলো সে গ্রহণ করবে না। এছাড়া তাদের যেসব আলামত এখানে উল্লেখ করা হয়নি, সেগুলোও সে গ্রহণ করবে না। সুতরাং কোনো আলামত না থাকাই হলো এর আলামত।
(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
(ثم اللفظ قسمان مفرد ومركب) لأنه لا يخلوا ما أن لا يدل جزؤه على جزء معناه أو يدل الأول المفرد كزيد.

والثاني المركب كغلام زيد (والمفرد ثلاثة أقسام) اسم وفعل وحرف لأنه لا يخلوا ما أن يستقل بالفهومية أولا الثاني الاسم والأول الفعل والعناد حقيقي يمنع الجمع والخلو وقد علم بذلك حد كل واحد منها للاحاطة بالمشترك وهو الجنس وما به يمتاز كل عن الأخر وهو الفصل والقسم الأول الاسم وهو ثلاثة أقسام (مظهر نحو: زيد) ورجل (ومضمر نحو: أنت) وهو (مبهم نحو: هذا) وهذه لأنه لا يخلو أما أن يصلح لكل جنس أولا الأول المبهم والثاني أما أن يكون كناية عن غيره أولا.

الأول المضمر والثاني المظهر والقسم الثاني (والفعل) وهو (ثلاثة) أقسام على الأصح (ماض نحو: قام ومضارع نحو: يقوم وأمر نحو: قم) لأنه لا يخلو ما أن يدل على الاستقبال أولا الثاني الماضي والأول أما أن يختص بالاستقبال أولا الثاني المضارع والأول لأمر وذهب الكوفيون إلى أنه قسمان كما سيأتي:

والقسم الثالث (والحرف) وهو (ثلاثة أقسام قسم مشترك بين الأسماء والأفعال) فيدخل عليهما ولا يعمل شيئًا (نحو هل) تقول هل زيدا أخوك وقل قام زيد وإنما تكون هل مشتركة إذا لم يكن في حيزها فعل فإن كان في حيزها فعل (ومختص بالأسماء نحو: في) به فزيد من هل زيد قام فاعل بمحذوف دل عليه المذكور تقديره هل قام زيد قام وقسم (ومختص بالأفعال) فيعمل فيها (نحو لم) كقوله تعالى: {لم يلد ولم يولد} وسمي الاسم اسما لسموه على قسميه بالاخبار به وعنه وسمى الفعل فعلا باسم اصله وهو المصدر لأن المصدر هو فعل الفاعل حقيقة وسمى الحرف حرفا لوقوعه في الكلام حرفا أي طرفا ليس مقصودا بالذات (والمركب ثلاثة أقسام): الأول (أضافي) وهو كل كلمتين نزلت ثانيتهما منزلة التنوين مما قبلها (كغلام زيد، ومزجى) بجامع أن المضاف إليه والتنوين كل منهما ملازم حالة واحدة والإعراب على ما قبله والثاني مزجى وهو كل كلمتين نزلت ثانيتهما منزلة تاء التأنيث مما قبلها (كبعلبك) بجامع
(অতঃপর শব্দ (اللفظ) দুই প্রকার: একক (مفرد) এবং যৌগিক (مركب)); কারণ এটি এমন হওয়া থেকে মুক্ত নয় যে, হয় তার অংশ তার অর্থের কোনো অংশের ওপর দালালত বা নির্দেশ (دلالة) করবে না অথবা করবে। প্রথমটি হলো একক (مفرد), যেমন ‘যায়দ’।

আর দ্বিতীয়টি হলো যৌগিক (مركب), যেমন ‘যায়দ-এর গোলাম’। (এবং একক (مفرد) তিন প্রকার:) বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف); কারণ এটি এমন অবস্থা থেকে মুক্ত নয় যে, হয় এটি অর্থ বুঝানোর ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র হবে অথবা হবে না। দ্বিতীয়টি বিশেষ্য (اسم) এবং প্রথমটি ক্রিয়া (فعل)। আর এই বৈপরীত্যটি হলো প্রকৃত (حقيقي), যা একত্র হওয়া এবং শূন্য হওয়া উভয়কেই বাধা দেয়। এর মাধ্যমে প্রত্যেকটির সংজ্ঞা জানা গেল সাধারণ বিষয়কে পরিবেষ্টন করার মাধ্যমে যা হলো শ্রেণি (الجنس), এবং যার মাধ্যমে একটি অন্যটি থেকে পৃথক হয় তা হলো ব্যবচ্ছেদকারী বৈশিষ্ট্য (الفصل)। প্রথম প্রকার হলো বিশেষ্য (اسم), যা তিন প্রকার: (প্রকাশ্য (مظهر), যেমন: যায়দ) ও ব্যক্তি, (এবং সর্বনাম (مضمر), যেমন: তুমি) এবং (অস্পষ্ট (مبهم), যেমন: এটি) ও এইটি; কারণ এটি এমন হওয়া থেকে মুক্ত নয় যে, হয় তা প্রতিটি শ্রেণির জন্য উপযোগী হবে অথবা হবে না। প্রথমটি হলো অস্পষ্ট (مبهم) এবং দ্বিতীয়টি হয় অন্য কিছুর ইশারা বা কিনায়া (كناية) হবে অথবা হবে না।

প্রথমটি হলো সর্বনাম (مضمر) এবং দ্বিতীয়টি হলো প্রকাশ্য (مظهر)। দ্বিতীয় বিভাগ হলো (ক্রিয়া (فعل)), যা বিশুদ্ধতম মতানুসারে (তিন) প্রকার: (অতীতকাল (ماض), যেমন: ‘সে দাঁড়িয়েছে’, বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল (مضارع), যেমন: ‘সে দাঁড়াচ্ছে বা দাঁড়াবে’ এবং আদেশসূচক (أمر), যেমন: ‘দাঁড়াও’); কারণ এটি এমন হওয়া থেকে মুক্ত নয় যে, হয় তা ভবিষ্যৎ নির্দেশ করবে অথবা করবে না। দ্বিতীয়টি হলো অতীতকাল (ماض) এবং প্রথমটি হয় ভবিষ্যতের জন্য নির্দিষ্ট হবে অথবা হবে না। দ্বিতীয়টি বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল (مضارع) এবং প্রথমটি হলো আদেশসূচক (أمر)। কুফাবাসীদের মতে ক্রিয়া দুই প্রকার, যা অচিরেই বর্ণিত হবে।

আর তৃতীয় বিভাগ হলো (অব্যয় (حرف)), যা (তিন প্রকার: এক প্রকার বিশেষ্য (اسم) ও ক্রিয়া (فعل)-এর মধ্যে সাধারণ (مشترك)), যা উভয়ের ওপরই প্রবেশ করে এবং কোনো আমল (عمل) করে না। (যেমন: ‘হাল’ (هل)), আপনি বলবেন: ‘হাল যায়দুন আখুকা’ (যায়দ কি তোমার ভাই?) এবং বলা হয়: ‘কমা যায়দুন’ (যায়দ দাঁড়িয়েছে)। ‘হাল’ তখনই সাধারণ (مشترك) হয় যখন তার পরিসরে কোনো ক্রিয়া থাকে না। আর যদি তার পরিসরে কোনো ক্রিয়া থাকে, (এবং যা বিশেষ্যের জন্য বিশেষিত (مختص), যেমন: ‘ফী’ (في)) তার মাধ্যমে; তবে ‘হাল যায়দুন কমা’ বাক্যে ‘যায়দ’ হলো এমন এক উহ্য আমেলের কর্তা (فاعل), যা উল্লিখিত অংশ দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে; এর সম্ভাব্য রূপ হলো ‘হাল কমা যায়দুন কমা’। আর এক প্রকার (ক্রিয়ার জন্য বিশেষিত (مختص)), যা তাতে আমল (عمل) করে (যেমন: ‘লাম’ (لم)), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি}। বিশেষ্যকে বিশেষ্য (اسم) নামকরণ করা হয়েছে তার অন্য দুই প্রকারের ওপর উচ্চমর্যাদার (سمو) কারণে, তার মাধ্যমে সংবাদ প্রদান এবং তার সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের যোগ্য হওয়ার কারণে। ক্রিয়াকে ক্রিয়া (فعل) নামকরণ করা হয়েছে তার মূলের নামে, যা হলো ক্রিয়ামূল (المصدر); কারণ ক্রিয়ামূলই হলো প্রকৃতপক্ষে কর্তার কাজ (فعل)। অব্যয়কে অব্যয় (حرف) নামকরণ করা হয়েছে বাক্যে তা এক প্রান্তে (حرف) অর্থাৎ পার্শ্বে পতিত হওয়ার কারণে, যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে উদ্দেশ্য নয়। (আর যৌগিক (مركب) তিন প্রকার:) প্রথমটি হলো (সম্বন্ধযুক্ত (أضافي)), যা হলো এমন দুটি শব্দ যার দ্বিতীয়টি তার পূর্বের শব্দের জন্য তানভীন (تنوين)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে (যেমন: ‘যায়দ-এর গোলাম’)। (এবং মিশ্র (مزجى)) এই সামঞ্জস্যের কারণে যে, মুদাফ ইলাইহি (المضاف إليه) এবং তানভীন (تنوين) উভয়েই একটি নির্দিষ্ট অবস্থায় অপরিবর্তনীয় থাকে এবং ই’রাব (الإعراب) তার পূর্বের শব্দের ওপর হয়। আর দ্বিতীয়টি হলো মিশ্র (مزجى), যা হলো এমন দুটি শব্দ যার দ্বিতীয়টি তার পূর্বের শব্দের জন্য তায়ি তানিছ (تاء التأنيث)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে (যেমন: ‘বালব্যাক’ (بعلبك)) এই সামঞ্জস্যের কারণে...
(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
أن الجزء الأول ملازم حالة واحدة وهي الفتح والإعراب على الجزء الثاني والثالث (وإسنادي) وهو كل كلمتين اسندت أحداهما إلى الأخرى (كقام زيد) ثم الاسم قسمان معرب ومبني ولا ثالث لهما خلافا لقوم ذهبوا إلى أن المضاف إلى ياء المتكلم ليس معربا ولا مبنيا وسموه خصيا (والمعرب من الأسماء ما تغير آخره) حقيقة كآخر زيد أو مجازا كآخر يد (بعامل يقتضي رفعه أو نصبه أو جره) تقول جاء زيد ورأيت زيدا ومررت بزيد وتقول طالت يد وقبلت يدا ونظرت إلى يد واختلف في امرئ واينم في قولك جاء امرؤ واينم ورأيت امرأ وإينما ومررت بامرئ واينم فقال البصريون حركة ما قبل الآخر اتباع لحركة الآخر وهو الصحيح وقال الكوفيون معرب من مكانين (والمبنى -وسيأتي بيانه- بخلافه) وهو ما لم يتغير آخر ملفظا أو تقديرا نحو جاء هؤلاء ورأيت هؤلاء ومررت بهؤلاء بكسر الهمزة في الأحوال الثلاثة (والمعرب قسمان: ما يظهر إعرابه) لفظا (وما يقدر) فيه (فالذي يظهر إعرابه قسمان) صحيح الأخر وهو ما آخره حرف صحيح كزيد وما آخره حرف يشبه (الصحيح) وهو ما كان في (الآخر) حرف صحيح (كزيد وما آخره حرف يشبه الصحيح) وهو ما كان في آخره واو أو ياء قبلهما ساكن (نحو دلو وظبي) تقول هذا ولو وظبي ورأيت دلو أو ظبيا ومررت بدلو وظبي فتظهر فيه الحركات كما تظهر في الصحيح (والذي يقدر فيه الإعراب قسمان ما يقدر فيه حرف وما يقدر فيه حركة فالذي يقدر فيه حرف جمع المذكر السالم المضاف لياء المتكلم في حالة الرفع فأنه يقدر فيه) حرف جمع المذكر السالم لمضاف لياء المتكلم في حالة الرفع فأنه يقدر فيه (الواو نحو جاء مسلمي) أصله مسلموى اجتمعت الواو والياء وسبقت أحداهما بالسكون قلبت الواو ياء وأدغمت الياء في الياء وقلبت الضمة كسرة وقدرت الواو دون الضمة لأن جمع المذكر السالم معرب بالحروف على المشهور (والذي يقدر فيه حركة قسمان: ما يقدر للتعذر كالفتى وغلامى) تقول جاء الفتى وغلامى ورأيت الفتى وغلامى ومررت بالفتى وغلامى وموجب هذا التقديرات ذات الألف لا تقبل الحركة بحال وما قبل ياء المتكلم اشتغل بحركة المناسبة فتقدر فيهما الحركات الثلاث وذهب ابن مالك إلى أن المضاف للياء تقدر فيه الضمة والفتحة فقط وتظهر الكسرة في حال الجر واعترض بأن الكسرة موجودة قبل دخول عامل الجروله أن يدعى أن كسرة المناسبة ذهبت وخلفتها

নিশ্চয়ই প্রথম অংশটি সর্বদা একটি অবস্থায় স্থির থাকে, আর তা হলো ফাতহ (فتح); এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় অংশের ওপর ই'রাব (إعراب) কার্যকর হয়। এবং ইসনাদি (إسنادي) হলো এমন প্রতিটি শব্দসমষ্টি যেখানে একটিকে অন্যটির দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে (যেমন: قام زيد - যায়েদ দাঁড়িয়েছে)। অতঃপর বিশেষ্য (اسم) দুই প্রকার: পরিবর্তনশীল (معرب) এবং অপরিবর্তনশীল (مبني)। এর বাইরে তৃতীয় কোনো প্রকার নেই। তবে একদল আলিমের মত ভিন্ন; তারা মনে করেন যে, 'ইয়ায়ে মুতাকাল্লিম'-এর দিকে সম্বন্ধিত শব্দ পরিবর্তনশীল (معرب) বা অপরিবর্তনশীল (مبني) কোনোটিই নয় এবং তারা একে 'খাসি' (خصيا) নামে অভিহিত করেছেন।

পরিবর্তনশীল (معرب) বিশেষ্য তা-ই যার শেষাংশ পরিবর্তিত হয়; প্রকৃতগতভাবে যেমন 'যায়েদ' (زيد)-এর শেষাংশ, অথবা রূপকভাবে যেমন 'ইয়াদ' (يد)-এর শেষাংশ। এটি ঘটে এমন কারকের (عامل) কারণে যা শব্দটিকে রফ' (رفع), নসব (نصب) অথবা জর (جر) প্রদান করে। উদাহরণস্বরূপ আপনি বলবেন: جاء زيد (যায়েদ এসেছে), رأيت زيدا (আমি যায়েদকে দেখেছি) এবং مررت بزيد (আমি যায়েদের নিকট দিয়ে গিয়েছি)। একইভাবে বলবেন: طالت يد (হাতটি লম্বা হয়েছে), قبلت يدا (আমি একটি হাত চুম্বন করেছি) এবং نظرت إلى يد (আমি একটি হাতের দিকে তাকালাম)।

'ইমরু' (امرؤ) এবং 'আইনাম' (اينم) শব্দের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। আপনি যখন বলেন: جاء امرؤ واينم, رأيت امرأ وإينما এবং مررت بامرئ واينম; তখন বসরীগণ বলেন: শেষ অক্ষরের পূর্ববর্তী অক্ষরের হরকত শেষ অক্ষরের হরকতের অনুগামী হয় এবং এটিই সঠিক (صحيح)। অন্যদিকে কুফীগণ বলেন: এটি দুই স্থান থেকে পরিবর্তনশীল (معرب)।

আর অপরিবর্তনশীল (مبني) —যার বর্ণনা সামনে আসবে— এর বিপরীত। অর্থাৎ যার শেষাংশ উচ্চারণে বা অনুমানে পরিবর্তিত হয় না। যেমন: جاء هؤلاء, رأيت هؤلاء এবং مررت بهؤلاء; এখানে তিন অবস্থাতেই হামযার নিচে কাসরা (كسر) হওয়ার মাধ্যমে তা অপরিবর্তিত রয়েছে।

পরিবর্তনশীল (معرب) দুই প্রকার: যার ই'রাব (إعراب) প্রকাশ্য (لفظا) এবং যার ই'রাব উহ্য বা অনুমিত (تقديرا)। যার ই'রাব প্রকাশ পায় তা দুই প্রকার: 'সহিহুল আখের' (صحيح الأخر), যার শেষে কোনো সঠিক (صحيح) বর্ণ থাকে যেমন 'যায়েদ' (زيد)। এবং যার শেষ বর্ণটি সঠিকের (صحيح) সদৃশ, অর্থাৎ যার শেষে ওয়াও (و) বা ইয়া (ي) থাকে এবং তার পূর্ববর্তী বর্ণটি সাকিন (ساكن) হয়। যেমন: 'দালউ' (دلو) এবং 'জাবি' (ظبي)। আপনি বলবেন: هذا دلو وظبي, رأيت دلوا وظبيا এবং مررت بدلو وظبي। এখানে হরকতসমূহ প্রকাশ পায় যেমনটি সহিহ (صحيح) শব্দের ক্ষেত্রে প্রকাশ পায়।

যার মধ্যে ই'রাব অনুমিত থাকে তা দুই প্রকার: যাতে বর্ণ অনুমিত থাকে এবং যাতে হরকত অনুমিত থাকে। যাতে বর্ণ অনুমিত থাকে তা হলো সেই 'জামা মুজাক্কার সালিম' যা 'ইয়ায়ে মুতাকাল্লিম'-এর দিকে সম্বন্ধিত হয়েছে রফ' (رفع) অবস্থায়। সেখানে ওয়াও (و) অনুমিত থাকে। যেমন: جاء مسلمي। এর মূল ছিল مسلموي; এখানে ওয়াও এবং ইয়া একত্রিত হয়েছে এবং প্রথমটি সাকিন হওয়ায় ওয়াও-কে ইয়া দ্বারা পরিবর্তন করে ইয়া-কে ইয়া-তে ইদগাম (إدغام) করা হয়েছে। আর দম্মাহ-কে কাসরা দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। এখানে দম্মাহর পরিবর্তে ওয়াও অনুমিত ধরা হয়েছে, কারণ প্রসিদ্ধ মতানুসারে 'জামা মুজাক্কার সালিম' বর্ণের মাধ্যমে পরিবর্তনশীল (معرب)।

যাতে হরকত অনুমিত থাকে তা দুই প্রকার: অপারগতার কারণে যা অনুমিত হয় যেমন: ফাতা (فتى) এবং গুলামী (غلامى)। আপনি বলবেন: جاء الفتى وغلامى, رأيت الفتى وغلامى এবং مررت بالفتى وغلامى। এই অনুমানের কারণ হলো আলিফ কোনো অবস্থাতেই হরকত গ্রহণ করে না। আর 'ইয়ায়ে মুতাকাল্লিম'-এর পূর্ববর্তী বর্ণটি সামঞ্জস্যপূর্ণ হরকতে (حركة المناسبة) ব্যস্ত থাকে। তাই উভয় ক্ষেত্রে তিনটি হরকতই অনুমিত ধরা হয়। ইবনে মালিক (র.) মনে করেন যে, ইয়া-এর দিকে সম্বন্ধিত শব্দে শুধুমাত্র দম্মাহ (ضمة) এবং ফাতহাহ (فتحة) অনুমিত হয়, আর জর (جر) অবস্থায় কাসরা (كسرة) প্রকাশ পায়। তবে এর বিপরীতে আপত্তি করা হয়েছে যে, জর (جر) প্রদানকারী কারক (عامل) আসার পূর্বেই কাসরা বিদ্যমান ছিল। এর সপক্ষে যুক্তি দেওয়া যেতে পারে যে, সামঞ্জস্যপূর্ণ কাসরাটি চলে গেছে এবং জরের কাসরাটি তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
كسرة لإعراب كما قالوا في شرب إذا بنوه للمفعول أن الكسرة فيه غير الكسرة في المبني للفاعل (وما يقدر للاستثقال كالقاضي) فإنه يقدر فيه الضمة والكسرة وتظهر فيه الفتحة لخفتها تقول جاء القاضي بضمة مقدرة ومررت بالقاضي بكسرة مقدرة وموجب هذا التقدير أن الياء المكسورة ما قبلها ثقيلة وتحريكها يزيدها ثقلا والمبني قسمان ما يظهر فيه حركة البناء وما يقدر فيه فالذي يظهر فيه حركة البناء نحو أين بالبناء على الفتح للخفة وأمس بالبناء على الكسر على أصل التقاء الساكنين وحيث بالبناء على الضم تشبيها بالغايات على أحدى اللغات التسع بتثليث الثاء مع الياء والواو والألف والذي يقدر فيه حركة البناء نحو المنادي المفرد المبني قبل النداء نحويا سيبويه ويا حذام فإنك تقدر فيه الضمة ويظهر أثر ذلك في التابع تقول يا سيبويه العالم بالرفع اتباعا للضم المقدر في آخره والعالم بالنصب اتباعا لمحله ويمتنع العالم بالجر اتباعا للفظة لأن حركة البناء الأصلية لا يجوز اتباعها بخلاف العارضة بسبب النداء ونحو والفعل قسمان معرب ومبني ولا ثالث لهما فالمعرب الفعل المضارع المجرد من نونى الإناث والتوكيد نحو يضرب وإن يضرب ولم يضرب والمبني الفعل الماضي اتفاقًا وكان حقه أن يبنى على السكون لأنه الأصل في البناء وإنما بنى على حركة لمشابهته الاسم في وقوعه صفة وصلة وخبرا وحالا في قولك مررت برجل ضرب وجاء الذي ضرب وزيد ضرب ورأيت زيد قد ضرب وكانت الحركة فتحة لتعادل خفتها ثقل الفعل والأمر مبنى على الأصح عند البصريين وذهب الكوفيون إلى أنه مضارع معرب مجزوم بلام الأمر تقديرا فاصل اضرب عندهم لتضرب حذفت اللام تخفيفا ثم التاء للالتباس بالمضارع وقفا ثم اتى بهمزة الوصل (ثم المعرب من الأفعال قسمان: ما يظهر إعرابه، وما بقدر، فالذي يظهر إعرابه: الفعل) المضارع (الصحيح الآخر) كيضرب ولن يضرب ولم يضرب والذي يقدر إعرابه قسمان ما يقدر فيه حرف وما يقدر فيه حركة فالذي يقدر فيه حرف الفعل المضارع المرفوع المتصل به واو الجماعة أو ألف الأثنين أو ياء المخاطبة إذا أكد بالنون فإنه يقدر فيه نون

ইরাবের (إعراب) জন্য কাসরা (كسرة), যেমনটি তারা ‘শুরাবা’ (شرب) শব্দের ক্ষেত্রে বলেছেন যখন একে মাজহুল (مبني للمفعول) হিসেবে গঠন করা হয় যে, এতে কাসরা (كسرة) হলো সেই কাসরা (كسرة) থেকে ভিন্ন যা মারফু (مبني للفاعل) অবস্থায় থাকে। (এবং যা উচ্চারণের গুরুভার হওয়ার কারণে উহ্য (مقدر) থাকে যেমন ‘আল-কাদি’ (القاضي)), কেননা এতে দাম্মাহ (ضمة) এবং কাসরা (كسرة) উহ্য (مقدر) থাকে, আর ফাতাহ (فتحة) হালকা হওয়ার কারণে প্রকাশ পায়। আপনি বলবেন ‘জাআল কাদি’ উহ্য দাম্মাহ (ضمة مقدرة) সহকারে এবং ‘মারারতু বিল কাদি’ উহ্য কাসরা (كسرة مقدرة) সহকারে। এই উহ্য রাখার কারণ হলো, ইয়া-র পূর্বে কাসরা (كسرة) হওয়াটা গুরুভার এবং তাতে হরকত প্রদান করা এই গুরুভারকে আরও বৃদ্ধি করে। মাবনি (مبني) দুই প্রকার: যাতে বিনার (بناء) হরকত প্রকাশ পায় এবং যাতে তা উহ্য (مقدر) থাকে। যাতে বিনার (بناء) হরকত প্রকাশ পায় তার উদাহরণ হলো ‘আইনা’ (أين), যা হালকা হওয়ার কারণে ফাতাহর (فتح) ওপর মাবনি (بناء) হয়েছে; এবং ‘আমসি’ (أمس), যা দুই সাকিন (ساكن) একত্রিত হওয়ার মূলনীতির ভিত্তিতে কাসরার (كسর) ওপর মাবনি (بناء) হয়েছে; এবং ‘হাইসু’ (حيث), যা নয়টি উপভাষার একটি অনুযায়ী গায়াত-সমূহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় দাম্মাহর (ضم) ওপর মাবনি (بناء) হয়েছে (এক্ষেত্রে ইয়া, ওয়াও এবং আলিফ সহকারে ‘সা’ বর্ণটিতে তিনটি হরকতই পঠিত হয়)। আর যাতে বিনার (بناء) হরকত উহ্য (مقدر) থাকে তার উদাহরণ হলো একবচন মুনাদা (منادي), যা ডাকার পূর্বে মাবনি (مبني) ছিল, যেমন ‘ইয়া সিবওয়াইহি’ (يا سيبويه) এবং ‘ইয়া হাদামি’ (يا حذام)। আপনি এতে দাম্মাহ (ضمة) উহ্য (مقدر) ধরবেন এবং এর প্রভাব পরবর্তী অনুগামী শব্দের মধ্যে প্রকাশ পাবে। আপনি বলবেন ‘ইয়া সিবওয়াইহিল আলিমু’ (يا سيبويه العالم) শেষে উহ্য দাম্মাহর (ضم مقدر) অনুবর্তী হয়ে রফ (رفع) সহকারে, অথবা ‘আল-আলিমা’ (العالم) নসব (نصب) সহকারে এর স্থলের অনুবর্তী হয়ে। তবে এক্ষেত্রে জর (جر) সহকারে ‘আল-আলিমি’ (العالم) বলা অসম্ভব, কারণ বিনার (بناء) মূল হরকতকে অনুসরণ করা জায়েজ নেই, যা নিদা-র (نداء) কারণে আগত সাময়িক হরকতের বিপরীত। এবং ফি’ল (فعل) দুই প্রকার: মুরব (معرب) ও মাবনি (مبني), এ দুটির কোনো তৃতীয় প্রকার নেই। মুরব (معرب) হলো সেই মুদারি (مضارع) ফি’ল যা স্ত্রীবাচক নুন এবং তাকিদের নুন থেকে মুক্ত, যেমন ‘ইয়াদরিবু’ (يضرب), ‘আন ইয়াদরিবা’ (أن يضرب) এবং ‘লাম ইয়াদরিব’ (لم يضرب)। আর মাদি (ماضي) ফি’ল সর্বসম্মতিক্রমে মাবনি (مبني)। এর নিয়ম ছিল সাকিনের (سكون) ওপর মাবনি (بناء) হওয়া, কারণ সাকিনই (سكون) হলো বিনার (بناء) মূল। তবে একে হরকতের ওপর মাবনি (بناء) করা হয়েছে ইসিমের (اسم) সাথে এর সাদৃশ্যের কারণে—সিফাত (صفة), সিলাহ (صلة), খবর (خبر) এবং হাল (حال) হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ক্ষেত্রে; যেমন আপনার কথা: ‘মারারতু বি রাজুলিন দরাবা’ (আমি এমন একজন লোকের পাশ দিয়ে গেলাম যে প্রহার করেছে), ‘জাআল্লাজি দরাবা’ (যে প্রহার করেছে সে এসেছে), ‘যাইদুন দরাবা’ (যাইদ প্রহার করেছে) এবং ‘রাআইতু যাইদান কদ দরাবা’ (আমি যাইদকে দেখলাম যে সে প্রহার করেছে)। এই হরকতটি ছিল ফাতাহ (فتحة) যাতে এর হালকা হওয়া ফি’লের (فعل) গুরুভারের সাথে ভারসাম্য রক্ষা করে। আর আমর (أمر) বা আদেশসূচক ক্রিয়া বসরাবাসীদের নিকট বিশুদ্ধতম (أصح) মতানুসারে মাবনি (مبني)। কুফাবাসীদের মতে এটি একটি মুরব (معرب) মুদারি (مضارع) ফি’ল যা উহ্য ‘লামে আমর’ (لام الأمر) দ্বারা মাজজুম (مجزوم) হয়েছে। তাদের মতে ‘ইদরিব’ (اضرب) এর মূল ছিল ‘লিতাদরিব’ (لتضرب), যা সহজ করার জন্য ‘লাম’ বিলুপ্ত করা হয়েছে, এরপর ওয়াকফ (وقف) অবস্থায় মুদারির (مضارع) সাথে সংশয় এড়াতে ‘তা’ বর্ণটি ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং শেষে হামজাতুল ওয়াসল আনা হয়েছে। (এরপর মুরব (معرب) ফি’লসমূহ দুই প্রকার: যার ইরাব (إعراب) প্রকাশ পায় এবং যার ইরাব (إعراب) উহ্য (مقدر) থাকে। যার ইরাব (إعراب) প্রকাশ পায় তা হলো) মুদারি (مضارع) (সহিহুল আখির (صحيح الآخر) ফি’ল) যেমন: ‘ইয়াদরিবু’ (يضرب), ‘লান ইয়াদরিবা’ (لن يضرب) এবং ‘লাম ইয়াদরিব’ (لم يضرب)। আর যার ইরাব (إعراب) উহ্য (مقدر) থাকে তা দুই প্রকার: যাতে হরফ বা বর্ণ উহ্য (مقدر) থাকে এবং যাতে হরকত উহ্য (مقدر) থাকে। যাতে হরফ উহ্য (مقدر) থাকে তা হলো সেই মারফু (مرفوع) মুদারি (مضارع) ফি’ল যার সাথে ওয়াও জামাত (واو الجماعة), আলিফ ইছনাইন (ألف الاثنين) বা ইয়া মুখাতাবা (ياء المخاطبة) যুক্ত থাকে, যখন একে নুন দ্বারা তাকিদ প্রদান করা হয়, তখন এতে নুন উহ্য (مقدر) থাকে।

(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
الرفع نحو لتبلون ولتبلوان ولتبلين فلتبلون أصله لتبلوونن بواوين وثلاث نونات تحركت الواو الواو الأولى وانفتح ما قبلها قلبت ألفا فاجتمع ساكنان واو الجماعة ونون التوكيد المدغمة فحركت الواو بالضمة لالتقاء الساكنين ولم تحذف لعدم ما يدل عليها (فإن قلت) إذا تحركت الواو بالضم وانفتح ما قبلها يجب قلبها ألفا ولم تقلب ههنا (قلت) الضمة العارضة لا اعتداد بها فلا يعل لاجلها ولتبلوان اصله لتبلوانن حذفت نون الرفع لتوالي النونات ولتبلين أصله لتبلونين تحركت الواو وانفتح ما قبلها قلبت الفا فالتقى ساكنان الألف وياء المخاطبة فحذفت الألف لالتقاء الساكنين وحذفت نون الرفع لتوالى النونات فاجتمع ساكنان ياء المخاطبة والنون الأولى من نونى التوكيد فحركت الياء بحركة تجانسها وهي الكسرة وحيث حذفت نون الرفع لتوالي النونات فإنها تقدر حرصا على بقاء علامة الرفع والذي يقدر فيه حركة قسمان ما يقدر تعذرا وهو ما في آخره الف كيخشى فإنه يقدر فيه الضمة والفتحة نحو هو يخشى ولن يخشى وما يقدر استثقلالا وهو ما في آخره واو كيدعو وما في آخره ياء نحو يرمى فأنه يقدر فيه الضيمة فقط وتظهر الفتحة نحو هو يخشى ولن يخشى وما يقدر استثقالا وهو ما في آخره واو كيدعو وما في آخره ياء نحو يرمى فإنه يقدر فيه الضيمة فقط وتظهر الفتحة على الواو والياء لخفتها والمبنى من الأفعال قسمان مبنى على الفتح كضرب واستخرج إذا لم يتصل به ضمير رفع متحرك أو واو الجماعة ومبنى على السكون أو نائبه فالأول كاضرب فأنه مبنى على السكون والثاني كاغزوا خش وارم وقولا وقولوا وقولى فإنه مبنى على نائب السكون وهو الحذف المحذوف من اغزالوا وقولي فإنه مبنى على نائب السكون وهو الحذف فالمحذوف من اغزالوا والضمة قبلها دليل عليها ومن اخش الألف والفتحة قبلها دليل عليها ومن ارم الياء والكسرة قبلها دليل عليها ومن قولا وقولوا وقولي النون والحروف كلها مبنية لأنها لا يتداول عليها ما تفتقر في دلالته إلى الإعراب وهي بالنسبة إلى البناء لا يتداول عليها ما تفتقر في دلالته إلى الإعراب وهي بالنسبة إلى البناء أربعة أقسام قسم مبنى على السكون وهو الأصل نحو لم من الحروف الجازمة وقسم مبنى على الفتح للخفة نحو ليت من الحروف الناسخة وقسم مبني على الكسر على أصل التقاء الساكنين نحو جير بفتح الجيم

রাফ' (الرفع) বা পেশযুক্ত অবস্থা, যেমন: لتبلون, لتبلوان এবং لتبلين। لتبلون শব্দটির আদি রূপ ছিল لتبلوونن—দুটি 'ওয়াও' এবং তিনটি 'নূন' সহযোগে। এখানে প্রথম 'ওয়াও'টি হরকতযুক্ত এবং তার পূর্ববর্তী বর্ণ জবরযুক্ত হওয়ায় সেটিকে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়, ফলে দুটি সাকিন (ساكن)—জমানুরূপ 'ওয়াও' এবং ইদগামকৃত তাকিদসূচক নূন (نون التوكيد)—একত্রে মিলিত হয়। তখন দুই সাকিনের মিলন (التقاء الساكنين) হেতু 'ওয়াও' বর্ণটিতে পেশ প্রদান করা হয়; আর এটি বিলুপ্ত করা হয়নি কারণ সেখানে এমন কোনো চিহ্ন ছিল না যা বিলুপ্তির সপক্ষে প্রমাণ দেয়। (যদি আপনি প্রশ্ন করেন) যখন 'ওয়াও' পেশযুক্ত হয় এবং তার পূর্ববর্ণ জবরযুক্ত হয়, তখন তাকে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করা ওয়াজিব, কিন্তু এখানে কেন তা করা হলো না? (উত্তরে আমি বলব) এখানকার পেশটি হলো অস্থায়ী (عارضة), আর অস্থায়ী বিষয়ের কোনো ধর্তব্য নেই, তাই এর কারণে কোনো রূপান্তর বা তালীলা (إعلال) ঘটে না। لتبلوان এর মূল রূপ ছিল لتبلوانن; এখানে ধারাবাহিকভাবে একাধিক 'নূন' আসার কারণে রাফ' (الرفع)-এর নূনটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। لتبلين এর মূল রূপ ছিল لتبلونين; এখানে 'ওয়াও' হরকতযুক্ত এবং তার পূর্ববর্ণ জবরযুক্ত হওয়ায় সেটিকে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়, ফলে দুটি সাকিন (ساكن)—আলিফ এবং সম্বোধনবাচক 'ইয়া'—একত্রে মিলিত হয়। দুই সাকিনের মিলন (التقاء الساكنين) হেতু আলিফটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে একাধিক 'নূন' আসার কারণে রাফ' (الرفع)-এর নূনটিও বিলুপ্ত হয়েছে। এরপর আবারও দুটি সাকিন (ساكن)—সম্বোধনবাচক 'ইয়া' এবং তাকিদসূচক নূনের প্রথমটি—একত্রে মিলিত হওয়ায় 'ইয়া' বর্ণটিকে তার সমজাতীয় হরকত তথা কাসরা বা যের প্রদান করা হয়েছে। আর যেখানে ধারাবাহিকভাবে একাধিক 'নূন' আসার কারণে রাফ' (الرفع)-এর নূন বিলুপ্ত হয়, সেখানে রাফ'-এর চিহ্ন অবশিষ্ট রাখার স্বার্থে তা উহ্য (مقدر) হিসেবে গণ্য হয়।

যেসব ক্ষেত্রে হরকত উহ্য (مقدر) থাকে তা দুই প্রকার। এক প্রকার হলো যা অসম্ভবতা (تعذر)-এর কারণে উহ্য থাকে, আর তা হলো সেই শব্দ যার শেষে আলিফ রয়েছে, যেমন: يخشى। এতে পেশ এবং জবর উভয়ই উহ্য থাকে, যেমন: هو يخشى এবং لن يخشى। অন্য প্রকারটি হলো যা শ্রুতিকটুতা বা ভারবোধ (استثقال)-এর কারণে উহ্য থাকে, যেমন এমন শব্দ যার শেষে 'ওয়াও' রয়েছে যেমন: يدعو, অথবা শেষে 'ইয়া' রয়েছে যেমন: يرمى। এই ক্ষেত্রগুলোতে কেবল পেশ বা যাম্মাহ উহ্য থাকে, এবং ফাতহা বা জবর স্পষ্টরূপে প্রকাশিত হয়। যেমন: هو يخشى এবং لن يخشى। আর যা শ্রুতিকটুতা (استثقال)-এর কারণে উহ্য থাকে তা হলো যার শেষে 'ওয়াও' রয়েছে যেমন يدعو অথবা শেষে 'ইয়া' রয়েছে যেমন يرمى, এতে কেবল পেশ উহ্য থাকে এবং 'ওয়াও' ও 'ইয়া'-এর ওপর জবর বা ফাতহা স্পষ্ট হয় তার উচ্চারণগত লঘুতা বা সহজবোধ্যতার কারণে।

ক্রিয়ার মধ্যে অপরিবর্তনীয় (مبني) রূপ দুই প্রকার। এক প্রকার হলো যা জবর বা ফাতহার ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبنى على الفتح), যেমন: ضرب এবং استخرج, যদি এর সাথে কোনো হরকতযুক্ত রাফ' প্রদানকারী সর্বনাম বা জমানুরূপ 'ওয়াও' যুক্ত না হয়। অন্য প্রকারটি হলো যা সাকিন বা তার স্থলাভিষিক্তের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। প্রথম প্রকারের উদাহরণ হলো اضرب, যা সাকিনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبنى على السكون)। দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ হলো اغز, اخش এবং ارم এবং قولا, قولوا, قولى; এগুলো সাকিনের স্থলাভিষিক্ত তথা বিলোপ (الحذف)-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত। সুতরাং اغز থেকে যা বিলুপ্ত হয়েছে এবং তার পূর্ববর্তী পেশ যার প্রমাণ বহন করে, তা হলো 'ওয়াও'। اخش থেকে আলিফ বিলুপ্ত হয়েছে এবং পূর্ববর্তী জবর তার প্রমাণ। ارم থেকে 'ইয়া' বিলুপ্ত হয়েছে এবং পূর্ববর্তী যের তার প্রমাণ। আর قولا, قولوا এবং قولى থেকে 'নূন' বিলুপ্ত হয়েছে।

সমস্ত অব্যয় বা বর্ণ (الحروف) হলো অপরিবর্তনীয় (مبنية), কারণ এগুলোর এমন কোনো অর্থের পরিবর্তন ঘটে না যা স্পষ্টভাবে বোঝার জন্য ই'রাব (إعراب)-এর প্রয়োজন হয়। অপরিবর্তনীয়তার (البناء) বিচারে এগুলো চার প্রকার। এক প্রকার হলো সাকিনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبنى على السكون) যা অপরিবর্তনীয়তার মূল ভিত্তি, যেমন জযম প্রদানকারী অব্যয় لم। দ্বিতীয় প্রকার হলো লঘুতা বা উচ্চারণের সহজতার কারণে জবরের ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبنى على الفتح), যেমন হরফে নাসিখ ليت। তৃতীয় প্রকার হলো দুই সাকিনের মিলনের মূলনীতির ভিত্তিতে যেরের ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبنى على الكسر), যেমন জিম বর্ণে জবরসহ جير।

(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وسكون الياء التحتية من الحروف الجوابيه وقسم مبنى على الضم تشبيها بالغايات نحو منذ من الحروف الجارة بخلاف الرافعة فإنها اسم (والبناء) على القول بأنه معنوى (لزوم آخر الكلمة حالة واحدة لغير اعتلال) كلزوم كم للسكون ولزوم ابن للفتح ولزوم هؤلاء للكسر ولزوم حيث للضم وعلى القول بأنه لفظي ما جيء به لا لبيان مقتضى العامل من شبه الإعراب وليس حكاية ولا نقلا ولا اتباعا ولا تخلصا من ساكنين فالحكاية نحو من زيدا لمن قال رأيت زيدا والنقل نحو فمن أوتى بضم النون نقلا من الهمزة والإتباع نحو الحمد لله بكسر الدال اتباعا لكسر اللام والتخلص من التقاء الساكنين نحو لم يكن الذين كفروا وأنواع البناء أربعة ضم وكسر وهما خفيفان ولخفتهما داخلا الكلم الثلاث الاسم والفعل والحرف فالسكون والفتح يشترك فيهما الاسم نحوكم وأين والفعل نحوقم وبان والحرف نحو لم وأن والكسر والضم يختص بهما الاسم والحرف ولا يدخلان الفعل مثال دخول الكسر في الاسم والحرف امس وجير ومثال دخول الضم في الاسم والحرف منذ في لغة من رفع بهذا أو جرفا لرافعة اسم والجارة حرف (والإعراب) على القول بأنه لفظي ما جيء به لبيان مقتضى العامل من حركة أو حرف أو سكون أو حذف وعلى القول بأنه معنوى (تغير آخر الاسم) المتمكن (والفعل المضارع) الخالي على النونين (لفظا أو تقديرا، بعامل ملفوظ به أو مقدر) مثال تغيير الاسم لفظا أو تقدير بعامل ملفوظ به جاء زيد والفتى ورأيت زيدا والفتى ومررت بزيد والفتى ومثال تغيير الفعل لفظا أو تقديرا بعامل ملفوظ به لن يضرب ولم يضرب ولن يخشى ومثال تغيير الاسم لفظا أو تقديرا بعامل مقدر زيد والفتى في جواب من قال من قام وفي جواب من قال من رأيت فزيد والفتى في الأول مرفوعان بفعل مجذوف تقديره قام زيد والفتى وفي الثاني منصوبان بفعل محذوف تقديره رأيت زيدا والفتى ومثال تغيير الفعل لفظا أو تقديرا بعامل مقدر حتى يقوم ويسعى زيد فيقوم ويسعى منصوبان بعامل مقدر وهو أن المصدرية وأنواع

এবং নিচের 'ইয়া' বর্ণটি সুকুন হওয়া যা উত্তর প্রদানের বর্ণমালার অন্তর্ভুক্ত। একটি অংশ দম্মাহ বা পেশ-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (মাবনি), যা প্রান্তসীমার (গায়েত) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ; যেমন অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত 'মুনজু' (منذ), যা রফ প্রদানকারী 'মুনজু' থেকে ভিন্ন, কারণ সেটি একটি বিশেষ্য। (বিনা বা অপরিবর্তনীয়তা) এই মতানুসারে যে এটি একটি অর্থগত বিষয়: (শব্দের শেষাংশ কোনো রোগ বা ত্রুটি ছাড়াই একটি অবস্থায় অপরিহার্যভাবে স্থির থাকা); যেমন 'কাম' শব্দের সুকুনের ওপর স্থির থাকা, 'ইবনা' এর ফাতহা বা জবরের ওপর স্থির থাকা, 'হাউলা-ই' এর কাসরা বা জেরের ওপর স্থির থাকা এবং 'হাইসু' এর দম্মাহ বা পেশের ওপর স্থির থাকা। আর এই মতানুসারে যে এটি একটি শাব্দিক বিষয়: যা আমিল বা ক্রিয়কের চাহিদা বর্ণনার জন্য আসেনি বরং ই'রাব বা শব্দরূপান্তরের সাদৃশ্যযুক্ত; এবং এটি অনুকরণ, রূপান্তর, অনুসরণ কিংবা দুই সুকুন বিশিষ্ট বর্ণের মিলনজনিত সমস্যার সমাধান নয়।

অনুকরণ (হিকাহ) এর উদাহরণ হলো 'মান জাইদান' সেই ব্যক্তির জন্য যে বলল 'আমি জায়েদকে দেখেছি'। রূপান্তর (নাকল) এর উদাহরণ হলো 'ফামান উতিয়া', যেখানে হামজাহ থেকে হরকত স্থানান্তরের মাধ্যমে নুন বর্ণটিতে পেশ প্রদান করা হয়েছে। অনুসরণ (ইত্তিবা) এর উদাহরণ হলো 'আলহামদু লিল্লাহ', যেখানে ল্যাম বর্ণের কাসরাকে অনুসরণ করে দাল বর্ণে কাসরা প্রদান করা হয়েছে। দুই সুকুন বিশিষ্ট বর্ণের মিলনজনিত সমস্যার সমাধান (তাখাল্লুস) এর উদাহরণ হলো 'লাম ইয়াকুনিল্লাজিনা কাফারু'। বিনার প্রকারভেদ চারটি: দম্মাহ ও কাসরা—এই দুটি লঘু বা হালকা, আর তাদের এই লঘুতার কারণে তারা তিন প্রকার শব্দের (বিশেষ্য, ক্রিয়া ও অব্যয়) মধ্যেই প্রবেশ করে। সুকুন এবং ফাতহা বিশেষ্যের ক্ষেত্রে (যেমন: কাম ও আইনা), ক্রিয়ার ক্ষেত্রে (যেমন: কুম ও বানা) এবং অব্যয়ের ক্ষেত্রে (যেমন: লাম ও আন্না) সাধারণ বা উভয়ের মধ্যে বিদ্যমান। কিন্তু কাসরা এবং দম্মাহ কেবল বিশেষ্য ও অব্যয়ের জন্য নির্দিষ্ট এবং তারা ক্রিয়ার মধ্যে প্রবেশ করে না।

বিশেষ্য ও অব্যয়ে কাসরা প্রবেশের উদাহরণ হলো 'আমসি' এবং 'জাইরি'। বিশেষ্য ও অব্যয়ে দম্মাহ প্রবেশের উদাহরণ হলো 'মুনজু', সেই সম্প্রদায়ের ভাষায় যারা এর মাধ্যমে রফ প্রদান করে অথবা যারা একে বিশেষ্য বা অব্যয় হিসেবে গণ্য করে। (ই'রাব বা শব্দরূপান্তর) এই মতানুসারে যে এটি শাব্দিক: যা আমিল বা ক্রিয়কের চাহিদা বর্ণনার জন্য হরকত, বর্ণ, সুকুন কিংবা বিলোপের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। আর এই মতানুসারে যে এটি অর্থগত: (মুতামাক্কিন বিশেষ্য এবং দুই নুন থেকে মুক্ত মুজারি ক্রিয়ার শেষাংশের পরিবর্তন, যা শাব্দিকভাবে বা পরোক্ষভাবে উচ্চারিত বা উহ্য কোনো আমিলের প্রভাবে হয়ে থাকে)।

বিশেষ্যের পরিবর্তনের উদাহরণ—শাব্দিকভাবে হোক বা পরোক্ষভাবে এবং উচ্চারিত আমিলের মাধ্যমে—যেমন: 'জাআ জাইদুন ওয়াল ফাতা' (জায়েদ ও যুবকটি এসেছে), 'রাআইতু জাইদান ওয়াল ফাতা' (আমি জায়েদ ও যুবকটিকে দেখেছি) এবং 'মারারতু বি-জাইদিন ওয়াল ফাতা' (আমি জায়েদ ও যুবকটির পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি)। ক্রিয়ার পরিবর্তনের উদাহরণ—শাব্দিকভাবে হোক বা পরোক্ষভাবে এবং উচ্চারিত আমিলের মাধ্যমে—যেমন: 'লান ইয়াদরিবা', 'লাম ইয়াদরিব' এবং 'লান ইয়াখশা'। বিশেষ্যের পরিবর্তনের উদাহরণ—শাব্দিকভাবে হোক বা পরোক্ষভাবে এবং উহ্য বা গোপন আমিলের মাধ্যমে—যেমন: 'জাইদুন ওয়াল ফাতা' সেই ব্যক্তির উত্তরে যে জিজ্ঞেস করল: 'কে দাঁড়িয়েছে?' অথবা সেই ব্যক্তির উত্তরে যে জিজ্ঞেস করল: 'তুমি কাকে দেখেছ?' প্রথম ক্ষেত্রে 'জাইদুন' ও 'ফাতা' একটি উহ্য ক্রিয়ার কারণে মারফু বা পেশযুক্ত হয়েছে যার সম্ভাব্য রূপ হলো 'কামা জাইদুন ওয়াল ফাতা'। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তারা একটি উহ্য ক্রিয়ার কারণে মানসুব বা জবরযুক্ত হয়েছে যার সম্ভাব্য রূপ হলো 'রাআইতু জাইদান ওয়াল ফাতা'। ক্রিয়ার পরিবর্তনের উদাহরণ—শাব্দিকভাবে হোক বা পরোক্ষভাবে এবং উহ্য আমিলের মাধ্যমে—যেমন: 'হাত্তা ইয়াকুমা ওয়া ইয়াস'আ জাইদুন'। এখানে 'ইয়াকুমা' এবং 'ইয়াস'আ' একটি উহ্য আমিলের কারণে মানসুব হয়েছে, যা হলো 'আন' মাসদারিয়া এবং অন্যান্য প্রকারসমূহ...

(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
(أنوع الإعراب أربعة: رفع ونصب وخفض وجزم فالرفع والنصب يشتركان في الأسماء والأفعال والخفض يختص بالأسماء والجزم يختص بالأفعال) مثال دخول الرفع والنصب والخفض في الأسماء ما أحسن زيد برفع زيد على التقى وبنصبه على التعجب وبخفضه على الاستفهام والنون في الأولين مفتوحة وفي الثالث مرفوعة ومثال دخول الرفع والنصب والجزم في الأفعال نحو لا تأكل السمك وتشرب اللبن برفع تشرب على الاستئناف وبنصبه على المصاحبة في النهي وبجزمه على النهي عن الشرب ايضًا ومثال دخول الرفع في الأسماء والأفعال زيد يقوم على الابتداء والخبر فزيد اسم مرفوع بالابتداء وعلامة رفعه الضمة ويقوم خبره وهو فعل مضارع مرفوع بالتجريد من الناصب والجازم وعلامة رفعه الضمة ومثال دخول النصب في الأسماء والأفعال أن زيدا لن يضرب فزيدا اسم منصوب بان على أنه اسمها وعلامة نصبه الفتحة ويضرب فعل مضارع منصوب بلن وعلامة نصبه الفتحة ومثال اختصاص الاسم بالخفض نحو بزيد مررت فزيد اسم مخفوض بالباء وعلامة خفضه الكسرة ومثال اختصاص الفعل بالجزم نحو لم يقم فيقم فعل مضارع مجزوم بلم وعلامة جزمه السكون وإنما اختص الاسم بالخفض والفعل بالجزم للتعادل بينهما فإن الاسم خفيف والفعل ثقيل والسكون اخف من التحريك فاعطى الخفيف الثقيل والثقيل الخفيف لتعادل خفة الاسم ثقل التحريك ويعادل ثقل الفعل خفة السكون وإنما قلنا الاسم مفيف والفعل ثقيل لأن مدلول الاسم بسيط ومدلول الفعل مركب من الحدث والزمان والمركب ثقيل والبسيط خفيف ولهذه الأنواع الأربعة وتتميز بها عن أنواع البناء (وعلاماته الأصلية أربعة) على عدد أنواع الإعراب الأربعة كل علامة منها تختص بنوع الأولى (الضمة) وهي (علامة للرفع نحو جاء زيد) فزيد فاعل مرفوع وعلامة رفعه الضمة والثانية (الفتحة) وهي علامة (للنصب نحو رأيت زيدا) فزيدا مفعول وهو منصوب وعلامة نصبه الفتحة والثالثة (الكسرة)
(ব্যাকরণিক রূপান্তরের (إعراب) প্রকারভেদ চারটি: পেশ (رفع), জবর (نصب), জের (خفض) এবং সাকিন (جزم)। সুতরাং পেশ (رفع) ও জবর (نصب) বিশেষ্য (أسماء) ও ক্রিয়া (أفعال) উভয়ের মধ্যেই অংশীদারিত্ব রাখে, জের (خفض) কেবল বিশেষ্যের (أسماء) জন্য নির্দিষ্ট এবং সাকিন (جزم) কেবল ক্রিয়ার (أفعال) জন্য নির্দিষ্ট।) বিশেষ্যের (أسماء) ক্ষেত্রে পেশ (رفع), জবর (نصب) ও জেরের (خفض) প্রবেশের উদাহরণ হলো 'মা আহসান জাইদ' (ما أحسن زيد)। এখানে তাকওয়া বা পরহেজগারি (التقى) অর্থে 'জাইদ' শব্দটি পেশ (رفع) যোগে, বিস্ময় (التعجب) প্রকাশে জবর (نصب) যোগে এবং জিজ্ঞাসার (الاستفهام) ক্ষেত্রে জের (خفض) যোগে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রথম দুই ক্ষেত্রে 'নুন' বর্ণটি জবরযুক্ত হলেও তৃতীয় ক্ষেত্রে তা পেশযুক্ত। ক্রিয়ার (أفعال) ক্ষেত্রে পেশ (رفع), জবর (نصب) ও সাকিনের (جزم) প্রবেশের উদাহরণ হলো যেমন: 'লা তাকুলিস সামাকা ওয়া তাশরাবুল লাবানা' (لا تأكل السمك وتشرب اللبن)। এখানে 'তাশরাব' শব্দটি নতুন বাক্য শুরু (الاستئناف) হিসেবে পেশ (رفع) যুক্ত হতে পারে, নিষেধের সাথে সংশ্লিষ্টতা (المصاحبة) হিসেবে জবর (نصب) যুক্ত হতে পারে এবং পান করা থেকেও নিষেধের (النهي) অর্থে সাকিন (جزم) যুক্ত হতে পারে। বিশেষ্য (أسماء) ও ক্রিয়ার (أفعال) মধ্যে পেশের (رفع) প্রবেশের উদাহরণ হলো: 'জাইদুন ইয়াকুমু' (زيد يقوم)। এটি উদ্দেশ্য (الابتداء) ও বিধেয় (الخبر) এর সমন্বয়। এখানে 'জাইদ' হলো একটি বিশেষ্য (اسم), যা উদ্দেশ্য (الابتداء) হওয়ার কারণে পেশযুক্ত (مرفوع) হয়েছে এবং এর পেশের আলামত (علامة رفعه) হলো পেশ (الضمة)। আর 'ইয়াকুমু' হলো তার বিধেয় (خبر), যা একটি বর্তমানকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع)। এটি জবর ও সাকিন প্রদানকারী (الناصب والجازم) থেকে মুক্ত থাকার কারণে পেশযুক্ত (مرفوع) হয়েছে এবং এর পেশের আলামত (علامة رفعه) হলো পেশ (الضمة)। বিশেষ্য (أسماء) ও ক্রিয়ার (أفعال) ক্ষেত্রে জবরের (نصب) প্রবেশের উদাহরণ হলো: 'ইন্না জাইদান লান ইয়াদরিবা' (أن زيدا لن يضرب)। এখানে 'জাইদান' হলো একটি বিশেষ্য (اسم), যা 'ইন্না'-এর কারণে জবরযুক্ত (منصوب) হয়েছে যেহেতু এটি তার বিশেষ্য (اسمها) এবং এর জবরের আলামত (علامة نصبه) হলো জবর (الفتحة)। আর 'ইয়াদরিবা' হলো একটি বর্তমানকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع), যা 'লান'-এর কারণে জবরযুক্ত (منصوب) হয়েছে এবং এর জবরের আলামত (علامة نصبه) হলো জবর (الفتحة)। বিশেষ্যের (الاسم) সাথে জেরের (خفض) বৈশিষ্ট্যযুক্ত হওয়ার উদাহরণ হলো যেমন: 'বি-জাইদিন মারারতু' (بزيد مررت)। এখানে 'জাইদ' একটি বিশেষ্য (اسم), যা 'বা' (الباء) হরফের কারণে জেরযুক্ত (مخفوض) হয়েছে এবং এর জেরের আলামত (علامة خفضه) হলো জের (الكسرة)। ক্রিয়ার (الفعل) সাথে সাকিন (جزم) বৈশিষ্ট্যযুক্ত হওয়ার উদাহরণ হলো যেমন: 'লাম ইয়াকুম' (لم يقم)। এখানে 'ইয়াকুম' একটি বর্তমানকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع), যা 'লাম'-এর কারণে সাকিনযুক্ত (مجزوم) হয়েছে এবং এর সাকিনের আলামত (علامة جزمه) হলো সাকিন (السكون)। বিশেষ্যকে জের (خفض) এবং ক্রিয়াকে সাকিনের (جزم) জন্য নির্দিষ্ট করার কারণ হলো তাদের মধ্যে সমতা রক্ষা করা। কারণ বিশেষ্য হলো হালকা (خفيف) এবং ক্রিয়া হলো ভারী (ثقيل); আর সাকিন (السكون) হলো হরকতের (التحريك) চেয়ে হালকা। তাই ভারসাম্য বজায় রাখতে হালকা শব্দকে ভারী এবং ভারী শব্দকে হালকা প্রদান করা হয়েছে, যাতে বিশেষ্যের সাবলীলতা ও হরকতের ভার এবং ক্রিয়ার ভার ও সাকিনের (السكون) সাবলীলতা পরস্পর সমান হয়। আমরা কেন বললাম যে বিশেষ্য (الاسم) হালকা এবং ক্রিয়া (الفعل) ভারী? কারণ বিশেষ্যের অর্থ হলো সরল (بسيط), পক্ষান্তরে ক্রিয়ার অর্থ ঘটনা (الحدث) ও সময়ের (الزمان) সমন্বয়ে গঠিত (مركب); আর যা যৌগিক (مركب) তা ভারী এবং যা সরল (بسيط) তা হালকা। এই চারটি প্রকারের মাধ্যমেই ব্যাকরণিক রূপান্তরের (إعراب) ধরনসমূহ গাঠনিক রূপ (البناء) থেকে পৃথক হয়। (এর মৌলিক আলামতসমূহ চারটি (وعلاماته الأصلية أربعة)) যা ব্যাকরণিক রূপান্তরের (إعراب) চারটি প্রকারের সংখ্যার সমান। প্রতিটি আলামতের একটি নির্দিষ্ট প্রকার রয়েছে। প্রথমটি হলো (পেশ (الضمة)), যা (পেশযুক্ত হওয়ার আলামত (علامة للرفع), যেমন: 'জাআ জাইদুন' (جاء زيد))। এখানে 'জাইদ' হলো পেশযুক্ত (مرفوع) কর্তা (فاعل) এবং এর পেশের আলামত (علامة رفعه) হলো পেশ (الضمة)। দ্বিতীয়টি হলো (জবর (الفتحة)), যা (জবরযুক্ত হওয়ার আলামত (علامة للنصب), যেমন: 'রাআইতু জাইদান' (رأيت زيدا))। এখানে 'জাইদান' হলো কর্ম (مفعول) এবং এটি জবরযুক্ত (منصوب) অবস্থায় রয়েছে, এর জবরের আলামত (علامة نصبه) হলো জবর (الفتحة)। আর তৃতীয়টি হলো (জের (الكسرة))।
(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وهي علامة (للخفض نحو مررت بزيد) فزيد مخفوض بالباء وعلامة خفضه الكسرة والرابعة (السكون) وهو علامة (للجزم نحو لم يضرب) فيضرب مجزوم بلم وعلامة جزمه السكون ولها مواضع تقع فيها (فأما الضمة فتكون علامة للرفع في أربعة مواضع) الأول (في الاسم المفرد نحو جاء زيد والفتى) فزيد والفتى مرفوعان على الفاعلية وعلامة رفعهما ضمة ظاهرة في زيد مقدرة في الفتى والثاني (وفي جمع التكسير) وهو ما تغير فيه بناء واحده (نحو جاء الرجال والأسارى) فالرجال والأسارى مرفوعان على الفاعلية وعلامة رفعهما ضمة ظاهرة في الرجال مقدرة في الأسارى والثالث (في جمع المؤنث السالم) اسما كان واصفة (نحو جاءت الهندات المسلمات) فإن كان المؤنث علما فإنه بجمع هذا الجمع بلا شرط كهندات وإن كان صفة وله مذكر فشرطه أن يكون مذكرة قد جمع بواو ونون كمسلمات وان لم يكن له مذكر فشرطه أن لا يكون مؤنثه مجردا من التاء كحائض والرابع (في الفعل المضارع المعرب نحو يضرب) ويخشى فيضرب ويخشى مرفوعان وعلامة رفعهما ضمة ظاهرة في يضرب مقدرة في يخشى (وأما الفتحة فتكون علامة للنصب في ثلاثة مواضع) الأول (في الاسم المفرد المنصرف نحو) رأيت زيدا والفتى فزيدا والفتى منصوبان وعلامة نصبهما فتحة ظاهرة في زيد مقدرة في الفتى والثاني في جمع التكسير نحو رأيت الرجال والأسارى فالرجال والأسارى منصوبان بفتحة ظاهرة في الرجال مقدرة في الأسارى والثالث في الفعل المضارع المعرب نحو لن يضرب ولن يخشى فيضرب ويخشى منصوبان وعلامة نصبهما فتحة ظاهرة في يضرب مقدرة في يخشى وأما الكسرة فتكون علامة للخفض في ثلاثة مواضع تقع فيها الأول في الاسم المفرد المنصرف نحو مررت بزيد والفتى فزيد والفتى مخفوضان وعلامة خفضهما كسرة ظاهرة في زيد مقدرة في الفتى والثاني في جميع التكسير المنصرف (نحو يعوذون برجال) ويرفقون بالأسارى فرجال والأسارى مخفوضان وعلامة خفضهما كسرة ظاهرة في الرجال مقدرة في الأسارى والثالث في (جمع المؤنث السالم باقيًا على جمعيته نحو مررت

এটি নিম্নমুখী অবস্থার (الخفض) একটি চিহ্ন, যেমন: ‘আমি যায়দ-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি’। এখানে যায়দ শব্দটি ‘বা’ (ب) বর্ণের কারণে নিম্নমুখী অবস্থায় (الخفض) রয়েছে এবং তার চিহ্ন হলো কাসরা (الكسرة)। চতুর্থটি হলো সুকুন (السكون), যা জজমযুক্ত অবস্থার (الجزم) চিহ্ন, যেমন: ‘সে প্রহার করেনি’। এখানে ‘ইয়াদরিব’ শব্দটি ‘লাম’ এর কারণে জজমযুক্ত অবস্থায় (الجزم) রয়েছে এবং তার চিহ্ন হলো সুকুন (السكون)। এগুলোর বিভিন্ন ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে এগুলো প্রযুক্ত হয়। দাম্মা (الضمة) চারটি ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থার (الرفع) চিহ্ন হয়ে থাকে। প্রথমত: একবচন বিশিষ্ট বিশেষ্যের (الاسم المفرد) ক্ষেত্রে, যেমন: ‘যায়দ এসেছে’ এবং ‘যুবকটি এসেছে’। এখানে যায়দ এবং যুবক উভয়ই কর্তৃকারক (الفاعلية) হওয়ার কারণে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় (الرفع) রয়েছে। যায়দ-এর ক্ষেত্রে চিহ্নটি একটি প্রকাশ্য (ظاهرة) দাম্মা এবং যুবকের ক্ষেত্রে তা একটি উহ্য (مقدرة) দাম্মা। দ্বিতীয়ত: অনিয়মিত বহুবচনের (جمع التكسير) ক্ষেত্রে; আর তা হলো যার একবচনের রূপটি (بناء واحده) পরিবর্তিত হয়ে যায়, যেমন: ‘পুরুষরা এসেছে’ এবং ‘বন্দিরা এসেছে’। এখানে পুরুষরা এবং বন্দিরা কর্তৃকারক (الفاعلية) হওয়ার কারণে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় (الرفع) রয়েছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে চিহ্নটি প্রকাশ্য (ظاهرة) দাম্মা এবং বন্দিদের ক্ষেত্রে তা উহ্য (مقدرة)। তৃতীয়ত: নিয়মিত স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচনের (جمع المؤنث السالم) ক্ষেত্রে, তা নামবাচক বিশেষ্য (اسما) হোক কিংবা বিশেষণ (صفة), যেমন: ‘হিন্দরা এসেছে’ এবং ‘মুসলিম নারীরা এসেছে’। যদি স্ত্রীলিঙ্গ শব্দটি কোনো নামবাচক বিশেষ্য (علم) হয়, তবে তা কোনো শর্ত ছাড়াই এই পদ্ধতিতে বহুবচন হবে যেমন ‘হিন্দাত’। আর যদি তা বিশেষণ (صفة) হয় এবং তার পুংলিঙ্গ (مذكر) রূপ থাকে, তবে শর্ত হলো তার পুংলিঙ্গকে অবশ্যই ‘ওয়াও’ এবং ‘নুন’ সহযোগে বহুবচন হতে হবে যেমন ‘মুসলিমাত’। আর যদি তার কোনো পুংলিঙ্গ (مذكر) না থাকে, তবে শর্ত হলো তার স্ত্রীলিঙ্গ রূপটি ‘তা’ (التاء) বর্ণ থেকে মুক্ত হতে পারবে না যেমন ‘হায়েদ’। চতুর্থত: পরিবর্তনশীল (المعرب) বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার (الفعل المضارع) ক্ষেত্রে, যেমন: ‘সে প্রহার করছে’ এবং ‘সে ভয় পাচ্ছে’। এখানে ‘ইয়াদরিবু’ এবং ‘ইয়াখশা’ উভয়ই ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় (الرفع) রয়েছে এবং তাদের চিহ্ন হলো যথাক্রমে প্রকাশ্য (ظاهرة) এবং উহ্য (مقدرة) দাম্মা। আর ফাতহা (الفتحة) তিনটি ক্ষেত্রে জবরযুক্ত অবস্থার (النصب) চিহ্ন হয়ে থাকে। প্রথমত: রূপান্তরযোগ্য (المنصرف) একবচন বিশিষ্ট বিশেষ্যের (الاسم المفرد) ক্ষেত্রে, যেমন: ‘আমি যায়দকে এবং যুবকটিকে দেখেছি’। এখানে যায়দ এবং যুবক উভয়ই জবরযুক্ত অবস্থায় (النصب) রয়েছে এবং তাদের চিহ্ন হলো যথাক্রমে প্রকাশ্য (ظاهرة) ও উহ্য (مقدرة) ফাতহা। দ্বিতীয়ত: অনিয়মিত বহুবচনের (جمع التكسير) ক্ষেত্রে, যেমন: ‘আমি পুরুষদের এবং বন্দিদের দেখেছি’। এখানে পুরুষরা এবং বন্দিরা উভয়ই প্রকাশ্য (ظاهرة) ও উহ্য (مقدرة) ফাতহা দ্বারা জবরযুক্ত অবস্থায় (النصب) রয়েছে। তৃতীয়ত: পরিবর্তনশীল (المعرب) বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার (الفعل المضارع) ক্ষেত্রে, যেমন: ‘সে কখনোই প্রহার করবে না’ এবং ‘সে কখনোই ভয় পাবে না’। এখানে উভয়ই জবরযুক্ত অবস্থায় (النصب) রয়েছে এবং তাদের চিহ্ন হলো যথাক্রমে প্রকাশ্য (ظاهرة) ও উহ্য (مقدرة) ফাতহা। আর কাসরা (الكسرة) তিনটি ক্ষেত্রে নিম্নমুখী অবস্থার (الخفض) চিহ্ন হয়ে থাকে। প্রথমত: রূপান্তরযোগ্য (المنصرف) একবচন বিশিষ্ট বিশেষ্যের (الاسم المفرد) ক্ষেত্রে, যেমন: ‘আমি যায়দ-এর পাশ দিয়ে এবং যুবকটির পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি’। এখানে যায়দ এবং যুবক উভয়ই নিম্নমুখী অবস্থায় (الخفض) রয়েছে এবং তাদের চিহ্ন হলো যথাক্রমে প্রকাশ্য (ظاهرة) ও উহ্য (مقدرة) কাসরা। দ্বিতীয়ত: সকল রূপান্তরযোগ্য (المنصرف) অনিয়মিত বহুবচনের (جمع التكسير) ক্ষেত্রে, যেমন: ‘তারা পুরুষদের নিকট আশ্রয় চায়’ এবং ‘তারা বন্দিদের প্রতি দয়া করে’। এখানে পুরুষরা এবং বন্দিরা নিম্নমুখী অবস্থায় (الخفض) রয়েছে এবং তাদের চিহ্ন হলো যথাক্রমে প্রকাশ্য (ظاهرة) ও উহ্য (مقدرة) কাসরা। তৃতীয়ত: নিয়মিত স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচনের (جمع المؤنث السالم) ক্ষেত্রে যা তার বহুবচন রূপেই বহাল রয়েছে, যেমন: ‘আমি অতিক্রম করেছি...’

(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
بهندات) مسلمات فهندات ومسلمات مخفوضان وعلامة خفضهما كسرة ظاهرة في آخرهما فإن زال معنى الجمعية منه بان جعل علما جاز فيه الصرف وعدمه فعلى الصرف يخفض بالكسرة مع التنوين وتركه وعلى منع الصرف يخفض بالفتحة بلا تنوين وأما السكون فيكون علامة للجزم في موضع واحد في الفعل المضارع الصحيح الآخر وهو ما ليس في آخره حرف علة (نحو لم يضرب) فيضرب مجزوم بلم وعلامة جزمه السكون (وأما العلامات الفروع فسبع) أربعة أحرف وحركتان وحذف فالأحرف (الواو والألف والياء والنون) والحركتان (الكسرة نيابة عن الفتحة) في جمع المؤنث السالم (والفتحة نيابة عن الكسرة) فيما لا ينصرف والسابعة (الحذف) فهذه السبعة تنوب عن الحركات الثلاث وعن السكون فمنها ما ينوب عن الضمة ومها ما ينوب عن الفتحة ومنها ما ينوب عن الكسرة ومنها ما ينوب عن السكون (فينوب عن الضمة ثلاثة الواو والألف والنون) وسيأتي أمثلتها (وينوب عن الفتحة أربعة الكسرة والياء والألف وحذف النون) كما سيأتي (وينوب عن الكسرة اثنان الفتحة والياء وينوب عن السكون واحدة وهي حذف الحرف) الأخير ولها مواضع تكون فيها (قالوا وتكون علامة للرفع نيابة عن الضمة في موضعين) لا ثالث لهما الأول (في جمع المذكر السالم) اسما كان أو صفة (نحو جاء الزيدون المسلمون فالزيدون المسلمون فاعل والفاعل مرفوع وعلامة رفعه الواو نيابة عن الضمة هذا هو المشهور والثاني) في الأسماء الستة وهي أبوك وأخوك وحموك وفوك وذو مال وهنوك بشرط أن تكون مفردة مكبرة مضافة لغير ياء المتكلم (نحو هذا أبوك وأخوك وحموك وفوك وذو مال وهنوك في لغة قليلة) حكاها سيبويه فهذه الأسماء الستة مرفوعة على الخبرية وعلامة رفعها الواو نيابة عن الضمة على المشهور (والألف) تكون علامة للرفع نيابة عن الضمة في المثنى المرفوع بنحو قال رجلان فرجلان فاعل والفاعل مرفوع وعلامة رفعه الألف نيابة عن الضمة على المشهور (وتكون الألف علامة للنصب نيابة عن الفتحة في الأسماء الستة) المتقدم ذكرها (نحو رأيت أباك وأخاك وحماك)

(হিন্দদের সাথে) এবং মুসলিমদের সাথে। এখানে হিন্দাত ও মুসলিমাত শব্দদ্বয় মাজরুর (مخفوض) অবস্থায় রয়েছে এবং তাদের জর (خفض) এর চিহ্ন হলো তাদের শেষে দৃশ্যমান কাসরা (كسرة)। যদি তা থেকে সমষ্টিবাচক অর্থ বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং তাকে একটি নির্দিষ্ট নাম (علم) হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে তাতে সারফ (صرف) বা তানবিন গ্রহণ করা এবং না করা উভয়টিই বৈধ। সারফ (صرف) এর ক্ষেত্রে তা তানবিনসহ কাসরা দ্বারা মাজরুর (مخفوض) হবে এবং সারফ না হলে (منع الصرف) তা তানবিন ছাড়াই ফাতহা দ্বারা মাজরুর (مخفوض) হবে। আর সুকুন (السكون) জজম (جزم) এর চিহ্ন হিসেবে একটি স্থানে ব্যবহৃত হয়, তা হলো সহীহুল আখির (صحيح الآخر) মুদারে ক্রিয়ার ক্ষেত্রে—যার শেষে কোনো হরফে ইল্লত (حرف علة) নেই। (যেমন: لم يضرب), এখানে يضرب শব্দটি لم এর কারণে মাজজুম (مجزوم) হয়েছে এবং তার জজম (جزم) এর চিহ্ন হলো সুকুন (السكون)। (আর উপ-চিহ্নসমূহ হলো সাতটি); চারটি হরফ, দুইটি হরকত এবং একটি বিলোপন (حذف)। হরফগুলো হলো (ওয়াও (الواو), আলিফ (الألف), ইয়া (الياء) এবং নুন (النون))। হরকত দুটি হলো (ফাতহার স্থলাভিষিক্ত কাসরা (الكسرة)) যা জমা মুয়ান্নাস সালেম (جمع المؤنث السالم)-এর ক্ষেত্রে হয়, এবং (কাসরার স্থলাভিষিক্ত ফাতহা (الفتحة)) যা গাইরে মুনসারিফ-এর ক্ষেত্রে হয়। সপ্তমটি হলো বিলোপন (الحذف)। এই সাতটি বিষয় তিনটি হরকত ও সুকুন (السكون)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়। এগুলোর মধ্যে কোনটি দাম্মার (ضمة) স্থলাভিষিক্ত হয়, কোনটি ফাতহার (فتحة) স্থলাভিষিক্ত হয়, কোনটি কাসরার (كسرة) স্থলাভিষিক্ত হয় এবং কোনটি সুকুন (سكون)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়। (দাম্মার স্থলাভিষিক্ত হয় তিনটি: ওয়াও, আলিফ এবং নুন); এগুলোর উদাহরণ সামনে আসবে। (ফাতহার স্থলাভিষিক্ত হয় চারটি: কাসরা, ইয়া, আলিফ এবং নুন বিলোপ (حذف النون)); যেমনটি সামনে আসবে। (কাসরার স্থলাভিষিক্ত হয় দুটি: ফাতহা এবং ইয়া; আর সুকুনের স্থলাভিষিক্ত হয় একটি: যা হলো শেষ অক্ষর বিলোপ (حذف الحرف)); এর ব্যবহারের নির্দিষ্ট ক্ষেত্র রয়েছে। (তারা বলেন, দুটি স্থানে দাম্মার স্থলাভিষিক্ত হয়ে ওয়াও রফ (رفع) এর চিহ্ন হয়), এর তৃতীয় কোনো ক্ষেত্র নেই। প্রথমটি হলো (জমা মুজাক্কার সালেম (جمع المذكر السالم)-এর ক্ষেত্রে), সেটি বিশেষ্য হোক বা বিশেষণ হোক। (যেমন: جاء الزيدون المسلمون; এখানে الزيدون এবং المسلمون হলো ফায়েল (فاعل), আর ফায়েল মারফু (مرفوع) হয়; এখানে রফ (رفع) এর চিহ্ন হলো দাম্মার স্থলাভিষিক্ত ওয়াও। এটিই প্রসিদ্ধ মত। আর দ্বিতীয়টি হলো) আসমাউল সিত্তাহ (الأسماء الستة)-এর ক্ষেত্রে; যা হলো: আবুকা, আখুকা, হামুকা, ফুকা, জু-মালিন এবং হানুকা। তবে শর্ত হলো এগুলোকে একবচন (مفرد), মূল রূপ (مكبر) এবং ইয়ায়ে মুতাকাল্লিম ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে মুজাফ (مضاف) হতে হবে। (যেমন: هذا أبوك وأخوك وحموك وفوك ও ذو مال এবং বিরল ভাষ্য অনুযায়ী هنوك), যা সিবাওয়াইহ বর্ণনা করেছেন। এই আসমাউল সিত্তাহগুলো খবর (خبر) হিসেবে মারফু (مرفوع) হয়েছে এবং প্রসিদ্ধ মতানুসারে এদের রফ (رفع) এর চিহ্ন হলো দাম্মার স্থলাভিষিক্ত ওয়াও। (আলিফ) দাম্মার স্থলাভিষিক্ত হয়ে রফ (رفع) এর চিহ্ন হয় মারফু দ্বিবচন (المثنى)-এর ক্ষেত্রে; যেমন: قال رجلان। এখানে رجلان হলো ফায়েল (فاعل), আর ফায়েল মারফু (مرفوع) হয় এবং প্রসিদ্ধ মতানুসারে এখানে রফ (رفع) এর চিহ্ন হলো দাম্মার স্থলাভিষিক্ত আলিফ। (এবং আলিফ ফাতহার স্থলাভিষিক্ত হয়ে নসব (نصب) এর চিহ্ন হয় আসমাউল সিত্তাহ (الأسماء الستة)-এর ক্ষেত্রে); পূর্বে যার উল্লেখ করা হয়েছে। (যেমন: رأيت أباك وأخاك وحماك)।

(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال وذا مال وهناك في لغة قليلة فاباك وما عطف عليه مفعول والمفعول منصوب وعلامة نصبه الالف نيابة عن الفتحة (والياء تكون علامة للخفض نيابة عن الكسرة في ثلاثة مواضع) الأول (في المثنى) المخفوض (نحو مروت بالزيدين) فالزيدين مخفوض وعلامة خفضه الياء المفتوح ما قبلها المكسور ما بعدها والثاني في جمع المذكر السالم نحو مررت بالزيدين مخفوض وعلامة خفضه الياء المكسور ما قبلها المفتوح ما بعدها نيابة عن الكسرة والثالث في الأسماء الستة المتقدم ذكرها نحو مررت بابيك وأخيك وحميك وفيك وذى مال وهنيك في لغة قليلة فأبيك وما عطف عليه مخفوض وعلامة خفضه الياء نيابة عن الكسرة (وتكون الياء علامة للنصب نيابة عن الفتحة في المثنى المنصوب نحو رأيت الزيدين) فالزيدين مفعول وهو منصوب وعلامة نصبه الياء المفتوح ما قبلها المكسور ما بعدها نيابة عن الفتحة (وفي جمع المذكر السالم نحو رأيت الزيدين) فالزيدين مفعول وهو منصوب وعلامة نصبه الياء المكسور ما قبلها المفتوح ما بعدها (والنون تكون علامة للرفع نيابة عن الضمة في الأفعال الخمسة وهي كل فعل مضارع اتصل به ألف اثنين أو واو جمع أو ياء مخاطبة نحو تفعلان ويفعلان) بالتاء والياء الفوقانية والتحتانية (وتفعلون ويفعلون) بالتاء والياء الفوقانية والتحانية (وتفعلين) بالتاء المثناة فوق لا غير فهذه الأفعال الخمسة مرفوعة وعلامة رفعها ثبوت النون نيابة عن الضمة هذا هو المشهور وقيل علامة رفع (والكسرة تكون علامة للنصب نيابة عن الفتحة في جمع المؤنث السالم) وهو ما جمع بالف وتاء مزيدتين (نحو رأيت الهندات) فالهندات مفعول وهو منصوب وعلامة نصبه الكسرة نيابة عن الفتحة حملوا نصبه على جره كما في جمع المذكر السالم ليلحق الفرع باصله (والفتحة تكون علامة للخفض نيابة عن الكسرة في الاسم الذي لا ينصرف) وهو ما اشبه الفعل في علتين فرعيتين مختلفتين مرجع احداهما اللفظ ومرجع الأخرى المعنى أو فرعية تقوم مقام الفرعيتين وذلك أن في الفعل فرعية عن الاسم في اللفظ

এবং বলা হয়েছে 'দা মাল' (ذا مال), এবং সেখানে একটি বিরল উপভাষা অনুযায়ী 'হানাকা' (هناك) বলা হয়। সুতরাং 'আবাকা' (أباك) এবং তার উপর যা আতফ করা হয়েছে তা হলো মাফউল (مفعول)। আর মাফউল (مفعول) নাসবপ্রাপ্ত (منصوب) হয় এবং তার নাসব (نصب)-এর আলামত হলো ফাতহা (فتحة)-এর পরিবর্তে আলিফ। (এবং তিনটি স্থানে কাসরা (كسرة)-এর পরিবর্তে 'ইয়া' জার (خفض)-এর আলামত হয়)। প্রথমটি হলো (দ্বিবচন (مثنى)-এর ক্ষেত্রে) যা জারপ্রাপ্ত (مخفوض), (যেমন- 'মারারতু বিয যায়দাইনি')। এখানে 'যায়দাইনি' শব্দটি জারপ্রাপ্ত (مخفوض) এবং তার জারের (خفض) আলামত হলো 'ইয়া', যার পূর্ববর্ণ ফাতহাযুক্ত এবং পরবর্তী বর্ণ কাসরাযুক্ত।

দ্বিতীয়টি হলো নিরাপদ পুরুষবাচক বহুবচনের (جمع المذكر السالم) ক্ষেত্রে; যেমন- 'মারারতু বিয যায়দিনা'। এটি জারপ্রাপ্ত (مخفوض) এবং তার জারের (خفض) আলামত হলো কাসরা (كسرة)-এর পরিবর্তে 'ইয়া', যার পূর্ববর্ণ কাসরাযুক্ত এবং পরবর্তী বর্ণ ফাতহাযুক্ত। তৃতীয়টি হলো পূর্বে উল্লেখিত ছয়টি বিশেষ্য বা আসমায়ে সিত্তাহ (الأسماء الستة)-এর ক্ষেত্রে; যেমন- 'মারারতু বি আবিকা, ওয়া আখিকা, ওয়া হামিকা, ওয়া ফিকা, ওয়া যী মালিন' এবং বিরল উপভাষা অনুযায়ী 'হানিয়িকা'। এখানে 'আবিকা' এবং তার উপর যা আতফ করা হয়েছে তা জারপ্রাপ্ত (مخفوض) এবং তার জারের (خفض) আলামত হলো কাসরা (كسرة)-এর পরিবর্তে 'ইয়া'।

(এবং মানসুব (منصوب) দ্বিবচন (مثنى)-এর ক্ষেত্রে ফাতহা (فتحة)-এর পরিবর্তে 'ইয়া' নাসব (نصب)-এর আলামত হয়, যেমন- 'রাআইতুয যায়দাইনি')। এখানে 'যায়দাইনি' হলো মাফউল (مفعول) এবং তা নাসবপ্রাপ্ত (منصوب), আর তার নাসব (نصب)-এর আলামত হলো ফাতহা (فتحة)-এর পরিবর্তে 'ইয়া', যার পূর্ববর্ণ ফাতহাযুক্ত এবং পরবর্তী বর্ণ কাসরাযুক্ত। (এবং নিরাপদ পুরুষবাচক বহুবচনের (جمع المذكر السالم) ক্ষেত্রে; যেমন- 'রাআইতুয যায়দিনা')। এখানে 'যায়দিনা' মাফউল (مفعول) এবং তা নাসবপ্রাপ্ত (منصوب), আর তার নাসব (نصب)-এর আলামত হলো সেই 'ইয়া' যার পূর্ববর্ণ কাসরাযুক্ত এবং পরবর্তী বর্ণ ফাতহাযুক্ত।

(আর পাঁচটি ক্রিয়া বা আফআলে খামসাহ (الأفعال الخمسة)-এর ক্ষেত্রে দম্মাহ (ضمة)-এর পরিবর্তে 'নুন' রাফা (رفع)-এর আলামত হয়; আর তা হলো এমন প্রতিটি ফেলে মুদারে (فعل مضارع) যার সাথে আলিফে ইছনাইন বা দ্বিবচনের আলিফ, অথবা ওয়াও জামা বা বহুবচনের ওয়াও, অথবা ইয়ায়ে মুখাতাবাহ বা সম্বোধনের ইয়া যুক্ত হয়; যেমন- 'তাফআলানি' এবং 'ইয়াফআলানি') উপরের 'তা' এবং নিচের 'ইয়া' সহযোগে। (এবং 'তাফআলুনা' ও 'ইয়াফআলুনা') উপরের 'তা' এবং নিচের 'ইয়া' যোগে। (এবং 'তাফআলিনা') শুধুমাত্র উপরের দুই নুকতাযুক্ত 'তা' দিয়ে। এই পাঁচটি ক্রিয়া (الأفعال الخمسة) হলো রাফাপ্রাপ্ত (مرفوعة) এবং এদের রাফা (رفع)-এর আলামত হলো দম্মাহ (ضمة)-এর পরিবর্তে নুনের স্থিতি (ثبوت النون)। এটিই প্রসিদ্ধ মত, এবং বলা হয়ে থাকে রাফা-এর আলামত...

(এবং নিরাপদ স্ত্রীবাচক বহুবচনের (جمع المؤنث السالم) ক্ষেত্রে ফাতহা (فتحة)-এর পরিবর্তে কাসরা (كسرة) নাসব (نصب)-এর আলামত হয়)। আর তা হলো যা অতিরিক্ত আলিফ ও 'তা' যোগে বহুবচন করা হয়েছে; (যেমন- 'রাআইতুল হিন্দাতি')। এখানে 'হিন্দাত' শব্দটি মাফউল (مفعول) এবং তা নাসবপ্রাপ্ত (منصوب), আর এর নাসব (نصب)-এর আলামত হলো ফাতহা (فتحة)-এর পরিবর্তে কাসরা (كسرة)। ব্যাকরণবিদগণ এর নাসবকে তার জারের অবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করেছেন যেমনটা নিরাপদ পুরুষবাচক বহুবচনের (جمع المذكر السالم) ক্ষেত্রে করা হয়, যাতে শাখাটি তার মূলের অনুগামী হয়।

(এবং গাইরে মুনসারিফ বা নমনীয়তাহীন বিশেষ্যের (الاسم الذي لا ينصرف) ক্ষেত্রে কাসরা (كسرة)-এর পরিবর্তে ফাতহা (فتحة) জার (خفض)-এর আলামত হয়)। আর তা হলো এমন বিশেষ্য (اسم) যা দুটি ভিন্ন গৌণ কারণের (علتين فرعيتين) উপস্থিতির দরুন ক্রিয়ার (فعل) সাদৃশ্যপূর্ণ হয়, যার একটি কারণ শব্দের (لفظ) সাথে এবং অন্যটি অর্থের (معنى) সাথে সম্পর্কিত; অথবা এমন একটি গৌণ কারণ যা দুটি গৌণ কারণের স্থলাভিষিক্ত হয়। আর তা এই কারণে যে, ক্রিয়ার (فعل) মাঝে শব্দের (لفظ) দিক থেকে বিশেষ্য (اسم)-এর একটি গৌণতা বিদ্যমান।

(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وهو عند البصريين اشتقاقه من المصدر فضرب مثلا مشتق من الضرب وعند الكوفيين التركيب لان الاسم كالمفرد والفعل كالمركب والمفرد صل المركب وفرعية في المعنى وهو احتياجه إلى الفاعل والفاعل لا يكون إلا اسما ثم الاسم الذي لا ينصرف نوعان الأول ما يمتنع صرفه بفرعية واحدة (وهو ما كان على وزن صيغة منتهى الجموع وضابطه كل جمع بعد ألف تكسيره حرفان كمساجد، وصوامع، أو ثلاثة أوسطها ساكن) سواء كان في أوله ميم أو لا (كمصابيح وقناديل) وإنما استأثر هذا الجمع بالمنع لأنه بمثابة جمعين (أو كان مختوما بالف التأنيث المقصورة) وهي ألف مفردة ويمتنع صرف مصحوبها كيف ما وقع سواء وقع نكرة كذكرى أو معرفة كرضوى أو جمعا كجرحى أو صفة (كحبلى أو الممدودة كحمراء) وهي ألف قبلها ألف فتقلب هي همزة ويمتنع صرف مصحوبها كيفما وقع سواء وقع نكرة كصحراء أم معرفة كزكريا أم جمعا كأصدقاء أم صفة كحمراء وإنما استأثر ما فيه ألف التأنيث بالمنع لأنه تأنيث لازم فنزل لزومه منزلة تأنيث آخر والثاني ما يمتنع صرفه بفرعتين وهو نوعان ما يمتنع صرفه مع العلمية وما يمتنع مع الوصفية فالأول ما أشرنا إليه بقولنا (أو اجتمع فيه العلمية وزيادة الألف والنون) المضارعين لألف التأنيث الممدودة لأنهما في بناء يخص المذكر كما أن الألف التأنيث في بناء يخص المؤنث وإنهما لا تلحقهما التاء (كعمران) فإن فيه العملية وهي فرع التنكير والزيادة وهي فرع المزيد عليه أو العلمية والتركيب المزجي كبعلبك فإن فيه العلمية وهي فرع التنكير والتركيب وهو فرع الأفراد (أو العلمية والتركيب المزجي كبعلبك، أو العلمية ووزن الفاعل) لفظا ومعنى أو لفظا لا معنى أو معنى لا لفظا فالأول كفاطمة والثاني كطلحة لرجل والثالث نحو زينب لامرأة وهو تأنيث معنوي وشرط تحتم منعه الصرف الزيادة على الثلاثة كما مثلنا أو تحرك الوسط كسقر أو العجمة كحمص أو النقل من المذكر إلى المؤنث كزيد لامرأة فإن تخلف شرط من هذه الشروط جاز الصرف وعدمه كهند ودعد وجمل فمن صرفه نظر إلى خفة اللفظ وإنها قد قاومت أحدى الفرعيتين ومن لم يصرفه
বসরার ব্যাকরণবিদদের (البصريين) মতে, এর ব্যুৎপত্তি বা ইশতিকাক (اشتقاقه) হলো মূল ধাতু বা মাসদার (المصدر) থেকে। উদাহরণস্বরূপ: ‘দারাবা’ (ضرب) শব্দটি ‘আদ-দারব’ (الضرب) থেকে উদ্ভূত। কুফাবাসীদের (الكوفيين) মতে এটি একটি যৌগিক গঠন (التركিব); কেননা বিশেষ্য (الاسم) হলো একবচনের (المفرد) মতো, আর ক্রিয়া (الفعل) হলো যৌগিকের (المركب) মতো; আর একবচনই হলো যৌগিকের মূল। অর্থের দিক থেকে এর গৌণতা (فرعية) হলো এটি কর্তার (الفاعل) মুখাপেক্ষী হওয়া, আর কর্তা কেবল বিশেষ্যই (اسما) হতে পারে। এরপর, রূপান্তরহীন বিশেষ্য (الاسم الذي لا ينصرف) দুই প্রকার। প্রথমটি হলো যার রূপান্তর একটি মাত্র গৌণ কারণের (فرعية واحدة) দ্বারা রহিত (يمتنع صرفه) হয় (আর তা হলো যা চূড়ান্ত বহুবচনের রূপের (صيغة منتهى الجموع) ওজনে আসে। এর নিয়ম হলো—এমন প্রত্যেক বহুবচন যার আলিফে তাকসীর (ألف تكسيره)-এর পরে দুটি অক্ষর থাকে যেমন: মাসাজিদ (مساجد) ও সাওয়ামি’ (صوامع), অথবা তিনটি অক্ষর থাকে যার মধ্যাক্ষরটি সুকুনযুক্ত বা সাকিন (ساكن))। চাই তার শুরুতে ‘মিম’ থাকুক বা না থাকুক (যেমন: মাসাবীহ (مصابيح) ও কানাদীল (قناديل))। মূলত এই বহুবচনটি রূপান্তরহীন হওয়ার বিশেষত্ব লাভ করেছে কারণ এটি দুটি বহুবচনের স্থলাভিষিক্ত। (অথবা যা আলিফে তানিছ মাকসুরা (الف التأنيث المقصورة) দ্বারা সমাপ্ত হয়), এটি একটি একক আলিফ এবং এর সাথে যুক্ত শব্দের রূপান্তর বাধাগ্রস্ত হয় সেটি যেভাবেই আসুক না কেন—চাই তা অনির্দিষ্ট (نكرة) হিসেবে যেমন: যিকরা (ذكرى), নির্দিষ্ট (معرفة) হিসেবে যেমন: রাদওয়া (رضوى), বহুবচন (جمعا) হিসেবে যেমন: জারহা (جرحى), অথবা বিশেষণ (صفة) হিসেবে (যেমন: হুবলা (حبلى), কিংবা মামদুদা (الممدودة) যেমন: হামরা (حمراء))। এটি হলো এমন আলিফ যার পূর্বে একটি আলিফ থাকে, ফলে তা হামজায় (همزة) রূপান্তরিত হয় এবং এর সাথে যুক্ত শব্দের রূপান্তর রহিত হয় সেটি যেভাবেই আসুক না কেন—চাই তা অনির্দিষ্ট (نكرة) হিসেবে যেমন: সাহরা (صحراء), নির্দিষ্ট (معرفة) হিসেবে যেমন: জাকারিয়া (زكريا), বহুবচন (جمعا) হিসেবে যেমন: আসদিকা (أصدقاء), অথবা বিশেষণ (صفة) হিসেবে যেমন: হামরা (حمراء)। আর যা আলিফে তানিছ (ألف التأنيث) যুক্ত তা রূপান্তরহীন হওয়ার বৈশিষ্ট্য লাভ করেছে কারণ এটি একটি অপরিহার্য স্ত্রীলিঙ্গ (تأنيث لازم), ফলে এর এই অপরিহার্যতা অন্য একটি স্ত্রীলিঙ্গের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে গণ্য হয়। দ্বিতীয় প্রকার হলো যা দুটি গৌণ কারণের (فرعتين) সমন্বয়ে রূপান্তরহীন (يمتنع صرفه) হয়। এটি আবার দুই প্রকার: যা নামবাচকতা বা আলামিয়্যাত (العلمية)-এর সাথে রূপান্তরহীন হয় এবং যা গুণবাচকতা বা ওয়াসফিয়্যাত (الوصفية)-এর সাথে রূপান্তরহীন হয়। প্রথমটি হলো যা আমরা এই বলে ইঙ্গিত করেছি: (অথবা যাতে নামবাচকতা (العلمية) এবং অতিরিক্ত আলিফ ও নুন (زيادة الألف والنون) একত্রিত হয়), যা আলিফে তানিছ মামদুদার (ألف التأنيث الممدودة) সদৃশ। কেননা এই দুটি এমন এক গঠনে থাকে যা পুংলিঙ্গের (المذكر) জন্য নির্দিষ্ট, যেমনটি আলিফে তানিছ স্ত্রীলিঙ্গের (المؤنث) জন্য নির্দিষ্ট গঠনে থাকে; আর এগুলোর শেষে ‘তা’ (التاء) যুক্ত হয় না (যেমন: ‘ইমরান’ (عمران))। এতে নামবাচকতা (العلمية) রয়েছে যা অনির্দিষ্টতা বা তানকীর (التنكير)-এর একটি শাখা এবং অতিরিক্ততা (الزيادة) রয়েছে যা মূল শব্দের একটি শাখা। অথবা নামবাচকতা (العلمية) ও মিশ্র যৌগিক গঠন (التركيب المزجي) যেমন: ‘বা’লাবাক্ক’ (بعلبك)। কেননা এতে নামবাচকতা (العلمية) রয়েছে যা অনির্দিষ্টতা বা তানকীর (التنكير)-এর শাখা এবং যৌগিকতা (التركيب) রয়েছে যা একক বা ইফরাদ (الأفراد)-এর শাখা। (অথবা নামবাচকতা (العلمية) ও কর্তার ওজন (وزن الفاعل)) শাব্দিক ও অর্থগতভাবে, অথবা শাব্দিকভাবে—অর্থগতভাবে নয়, অথবা অর্থগতভাবে—শাব্দিকভাবে নয়। প্রথমটির উদাহরণ ‘ফাতিমা’ (فاطمة), দ্বিতীয়টির উদাহরণ পুরুষের নাম ‘তালহা’ (طلحة), এবং তৃতীয়টির উদাহরণ নারীর নাম ‘যয়নাব’ (زينب), যা একটি অর্থগত স্ত্রীলিঙ্গ (تأنيث معنوي)। আর এর রূপান্তরহীন হওয়া আবশ্যক হওয়ার শর্ত হলো তিন অক্ষরের অধিক হওয়া যেমনটি আমরা উদাহরণ দিয়েছি, অথবা মধ্যাক্ষরটি হরকতযুক্ত হওয়া যেমন: ‘সাকার’ (سقر), অথবা অনারবীয় বা আজমি (العجمة) হওয়া যেমন: ‘হিমস’ (حمص), অথবা পুংলিঙ্গ থেকে স্ত্রীলিঙ্গে রূপান্তরিত হওয়া (النقل من المذكر إلى المؤنث) যেমন: কোনো মহিলার নাম ‘যায়েদ’ (زيد) রাখা। যদি এই শর্তগুলোর কোনোটি অনুপস্থিত থাকে, তবে রূপান্তর (الصرف) করা এবং না করা উভয়ই জায়েয হবে, যেমন: হিন্দ (هند), দা’দ (دعد) এবং জামাল (جمل)। যারা এর রূপান্তর (صرفه) করেছেন তারা শব্দের লঘুতা বা খফ্ফাত (خفة اللفظ)-এর দিকে লক্ষ্য করেছেন এবং এটি দুটি গৌণ কারণের একটিকে প্রতিহত করেছে। আর যারা এর রূপান্তর করেননি...
(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
نظر إلى وجود الفرعيتين في الجملة واختلف في الأولى منهما فعن سيبويه الأولى المنع من الصرف وعن أبي على الأولى الصرف وروى بالوجهين قول الشاعر:

لم تتلفع بفضل مئزرها دعد … ولم تسق دعد في العلب

 

أو العلمية ووزن الفعل وشرط الوزن اختصاصه بالفعل كشمر علما لفرس أو افتتاحه بزيادة هي في الفعل أولى لكونها تدل في الفعل ولا تدل على الاسم كاحرف المضارعة (كأحمد ويشكر) علمين لنبينا ولنوح صلى الله عليهما وسلم فإن الهمزة والياء لا يدلان في الاسم ويدلان في الفعل على المتكلم والغائب (أو العلمية والعدل) التقديري كعمر فإنه معدول عن عامر خوف الالتباس بالصفة (أو العلمية والعجمة) وشرط العجمة كون علميتها في اللغة الأعجمية والزيادة على الثلاثة (كإبراهيم) بخلاف فيروز ولجام فإنهما مصروفان لفقد الشرط الأول وبخلاف نوح ولوط وشيث فإنها مصروفة لفقد الشرط الثاني وقيل الثلاثي الساكن الوسط يجوز فيه الصرف وعدمه والتحرك الوسط متحتم المنع والنوع الثاني ما يمتنع مع الوصفية وهو ما اشرنا إليه بقولنا (أو الوصف والعدل) التحقيقي (كآخر) مقابل آخرين من قوله تعالى فعدة من أيام أخر فإنه صفة معدولة عن آخر بفتح الخاء فإن قياس افعل التفضيل إذا كان مجردا من أل والأضافة يجب أن يكون مفردا مذكرا ولو كان موصوفه مذكرا أو مؤنثا أو مجموعا (أو الوصف وزيادة الألف والنون كسكران) فإن مؤنثة سكرى ولا تكون الزيادة المانعة مع الصفة إلا في فعلان بالفتح بخلاف الزيادة المانعة مع العلمية (أو الوصف ووزن الفعل) وهو أفعل (كأحمر) فإن مؤنثه حمرا ولا يكون الوزن المانع مع الصفة إلا في أفعل بخلاف الوزن المانع مع العملية ويشترط لتأثير الصفة أمران كونها أصلية فيجب الصرف في قولك هذا قلب صفوان بمعنى قاس وهذا رجل أرنب بمعنى ذليل ضعيف القلب والثاني عدم قبولها التاء فيجب صرف ندمان وارمل لقولهم ندمانة وارملة (والحذف يكون علامة للجزم نيابة عن السكون في موضعين) الأول (في الفعل المضارع المعتل الآخر) أصالة وهو (كل فعل
বাক্যে দুটি গৌণ বৈশিষ্ট্যের (فرعيتين) উপস্থিতির দিকে লক্ষ্য করা হয়েছে। এদের মধ্যে প্রথমটির ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে; সিবওয়াইহ-এর মতে এটি রূপান্তরহীন (المنع من الصرف) হওয়া উত্তম, আর আবু আলীর মতে এটি রূপান্তরযোগ্য (الصرف) হওয়া উত্তম। কবির উক্তিটি উভয় পদ্ধতিতেই বর্ণিত হয়েছে:

দ'দ তার চাদরের অতিরিক্ত অংশ দিয়ে নিজেকে আবৃত করেনি … এবং দ'দকে বড় পাত্রে পান করানো হয়নি।

 

অথবা নামবাচকতা (العلمية) এবং ক্রিয়ার ওজন (وزن الفعل)। ওজনের শর্ত হলো এটি ক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট হতে হবে, যেমন একটি ঘোড়ার নাম 'শাম্মার' (شمر) রাখা; অথবা এমন অতিরিক্ত অক্ষর দিয়ে শুরু হওয়া যা ক্রিয়ার ক্ষেত্রে অধিক উপযোগী, কারণ এটি ক্রিয়ার মধ্যে অর্থ প্রকাশ করে কিন্তু বিশেষ্যের (নামের) মধ্যে করে না, যেমন মুজারি-এর অক্ষরসমূহ (যেমন আহমদ ও ইয়াশকর)। এই দুটি নাম যথাক্রমে আমাদের নবী এবং নূহ (আলাইহিমাস সালাম)-এর। কারণ হামজাহ এবং ইয়া বিশেষ্যের ক্ষেত্রে কোনো অর্থ প্রকাশ করে না, কিন্তু ক্রিয়ার ক্ষেত্রে উত্তম পুরুষ ও নাম পুরুষের অর্থ প্রকাশ করে। (অথবা নামবাচকতা এবং রূপান্তর (العدل)) যা আনুমানিক; যেমন উমর (عمر), এটি আমির (عامر) থেকে রূপান্তরিত (معدول) হয়েছে যাতে গুণের (সিফাত) সাথে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়। (অথবা নামবাচকতা এবং অনারবীয় উৎস (العجمة))। অনারবীয় হওয়ার শর্ত হলো অনারব ভাষায় সেটি নাম হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া এবং তিন অক্ষরের বেশি হওয়া (যেমন ইবরাহিম)। পক্ষান্তরে 'ফিরুজ' এবং 'লিজাম' শব্দ দুটি রূপান্তরযোগ্য (مصروفان), কারণ এখানে প্রথম শর্তটি অনুপস্থিত। অনুরূপভাবে নূহ, লূত এবং শিস নামগুলোও রূপান্তরযোগ্য (مصروفة), কারণ এগুলোতে দ্বিতীয় শর্তটি অনুপস্থিত। বলা হয়ে থাকে যে, তিন অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের মধ্যবর্তী অক্ষর সাকিন (স্থির) হলে সেটি রূপান্তরযোগ্য হওয়া বা না হওয়া উভয়ই জায়েজ। আর মধ্যবর্তী অক্ষর হরকতযুক্ত (গতিশীল) হলে তা অবশ্যই রূপান্তরহীন হওয়া অবধারিত। দ্বিতীয় প্রকারটি হলো যা গুণবাচকতার (الوصفية) কারণে রূপান্তরহীন হয়, যার দিকে আমরা ইঙ্গিত করেছি আমাদের এই কথার মাধ্যমে (অথবা গুণবাচকতা ও রূপান্তর (الوصف والعدل)) যা প্রকৃত; যেমন 'উখার' (أخر), যা 'আখারিন'-এর বিপরীত। আল্লাহ তাআলার বাণী: "অন্যান্য দিনগুলোতে সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে।" এটি 'আখার' (آخر) থেকে রূপান্তরিত (معدولة) একটি গুণবাচক শব্দ (صفة), যেখানে খা-বর্ণে ফাতহাহ রয়েছে। কারণ 'আফআলুত তাফদীল' (افعل التفضيل) যখন 'আল' এবং ইজাফাত (অন্বয়) থেকে মুক্ত থাকে, তখন নিয়ম অনুযায়ী তা একবচন ও পুংলিঙ্গ হওয়া ওয়াজিব, এমনকি তার বিশেষ্য (মউসুফ) পুংলিঙ্গ, স্ত্রীলিঙ্গ বা বহুবচন যাই হোক না কেন। (অথবা গুণবাচকতা এবং অতিরিক্ত আলিফ ও নুন, যেমন সাকরান/মাতাল)। কারণ এর স্ত্রীলিঙ্গ হলো 'সাকরা'। গুণবাচকতার সাথে রূপান্তর বাধা প্রদানকারী এই অতিরিক্ত অংশটি কেবল ফাতহাহ বিশিষ্ট 'ফালান' (فعلان) ওজনেই হতে পারে, যা নামবাচকতার ক্ষেত্রে রূপান্তর বাধা প্রদানকারী অতিরিক্ত অংশের চেয়ে ভিন্ন। (অথবা গুণবাচকতা এবং ক্রিয়ার ওজন (وزن الفعل)) যা হলো 'আফআলু' (أفعل); যেমন 'আহমারু' (লাল)। কারণ এর স্ত্রীলিঙ্গ হলো 'হামরাউ'। গুণবাচকতার ক্ষেত্রে রূপান্তর বাধা প্রদানকারী ওজন কেবল 'আফআলু' এর ক্ষেত্রেই হয়, যা নামবাচকতার ক্ষেত্রে রূপান্তর বাধা প্রদানকারী ওজনের চেয়ে ভিন্ন। গুণের প্রভাব কার্যকর হওয়ার জন্য দুটি শর্ত রয়েছে: প্রথমত এটি মূলগত (আসল) হতে হবে। অতএব, 'হাযা কালবুন সাফওয়ানুন' (এটি পাথরের মতো শক্ত হৃদয়) বাক্যে সাফওয়ানুন শব্দটি রূপান্তরযোগ্য (الصرف) হওয়া ওয়াজিব, যার অর্থ কঠোর। একইভাবে 'হাযা রাজুলুন আরনাবুন' (এটি খরগোশের মতো ভিতু লোক) বাক্যে আরনাবুন শব্দটি রূপান্তরযোগ্য (صرف), যার অর্থ হীন ও দুর্বল চিত্তের। দ্বিতীয় শর্ত হলো এটি 'তা' (গোল তা) গ্রহণ না করা। তাই নাদমান এবং আরমাল শব্দ দুটির ক্ষেত্রে রূপান্তর (صرف) হওয়া ওয়াজিব, কারণ তারা বলে থাকে নাদমানাহ এবং আরমালাহ। (এবং বিলোপ (الحذف) হওয়া সুকুন-এর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে জজম (الجزم)-এর আলামত হয় দুটি স্থানে)। প্রথমটি হলো: (এমন মুজারি ক্রিয়া যার শেষ অক্ষরটি অসুস্থ/দুর্বল (الفعل المضارع المعتل الآخر)) যা মৌলিকভাবে; আর তা হলো (প্রত্যেকটি ক্রিয়া...নূনের বিলুপ্তি (حذف النون))
(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
مضارع في آخره ألف نحو يخشى أو واو نحو يغزوا وياء نحو يرمى تقول لم يغز ولم يخش ولم يرم) فكل منها جازم ومجزوم وعلامة جزمه حذف آخره فالمحذوف من يخش الألف والفتحة قبلها دليل عليها لأن الفتحة تجانس الألف والمحذوف من يغر الواو والضمة قبلها دليل عليها لأن الضمة تجانس الواو والمحذوف من يرم الياء والكسرة قبلها دليل عليها لأن الكسرة تجانس الياء هذا هو المشهور وذهب سيبويه إلى أن الجازم حذف الحركة المقدرة واكتفى بها ثم لما صارت محذوف عند الجازم لا به ومن العرب من يجرى المعتل مجرى الصحيح فيحذف الضمة المقدرة ولا يحذف حرف العلة فيقول لم يخشى ولم يغزو ولم يرمي باثبات الألف والواو والياء وعلى ذلك جاء قوله:

إذا العجوز غضبت فطلق … ولا ترضاها ولا تملق

 

وقوله:

هجوت زبان ثم جئت معتذرا … كأنك لم تهجوا ولم تدعى

 

وقوله:

ألم يأتيك والأنباء تنمى … بما لا قلت ليون بنى زياد

 

وعلى اللغة المشهورة يحمل أمثال ذلك على الضرورة فإن كان حرف العلة غير أصلى بأن كان بدلا من همزة كيقرأ ويقرى ويوضو ثم دخل الجازم جاز حذف حرف العلة وتركه بناء على الاعتداد بالإبدال وعدمه والموضع الثاني (في الأفعال الخمسة) وتقدم أنها كل فعل مضارع اتصل به ألف اثنين أو واو جمع أو ياء مخاطبة (نحو لم يفعلا ولم يفعلا ولم يفعلوا ولم تفعلوا ولم تفعلي فهذه مجزومة بلم وعلامة جزمها حذف النون) هذا هو المشهور وعلى القول بأن إعرابها بحركات مقدرة على لاماتها فالجازم حذف الحركة المقدرة واكتفى بها وحذفت النون عند الجازم لا به كما تقدم (وحذف النون يكون علامة لنصبها) أي الأفعال الخمسة (أيضا نحو لن تفعلا ولن تعفعلا بالتاء) الفوقية والياء التحتية (ولن تفعلوا ولن تفعلوا) بالتاء الفوقية والياء التحتية (ولن تفعلي) بالتاء الفوقية لا غير فهذه منصوبة وعلامة نصبها كلها حذف النون نيابة عن الفتحة على المشهور وقيل منصوبة بحركة مقدرة على لاماتها وحذفت النون للفرق بين صورتي المرفوع
এমন বর্তমানকালীন ক্রিয়া (مضارع) যার শেষে আলিফ থাকে যেমন يخشى (সে ভয় পায়), অথবা ওয়াও থাকে যেমন يغزو (সে যুদ্ধ করে), অথবা ইয়া থাকে যেমন يرمي (সে নিক্ষেপ করে)। আপনি বলবেন: (لم يغز, لم يخش এবং لم يرم)। এদের প্রত্যেকটিই জজম প্রদানকারী (جازم) এবং জজমযুক্ত (مجزوم); আর এদের জজম হওয়ার আলামত (علامة جزمه) হলো শেষাক্ষর বিলুপ্ত হওয়া (حذف آخره)। সুতরাং يخش থেকে যা বিলুপ্ত হয়েছে তা হলো আলিফ এবং তার পূর্বের ফাতহাহ (জবর) এর প্রমাণ বহন করে; কেননা ফাতহাহ আলিফের সমগোত্রীয়। يغز থেকে যা বিলুপ্ত হয়েছে তা হলো ওয়াও এবং তার পূর্বের দাম্মাহ (পেশ) এর প্রমাণ বহন করে; কেননা দাম্মাহ ওয়াও-এর সমগোত্রীয়। আর يرم থেকে যা বিলুপ্ত হয়েছে তা হলো ইয়া এবং তার পূর্বের কাসরাহ (জের) এর প্রমাণ বহন করে; কেননা কাসরাহ ইয়া-এর সমগোত্রীয়। এটিই প্রসিদ্ধ অভিমত। তবে ইমাম সিবওয়াইহ-এর অভিমত হলো, জজম প্রদানকারী (جازম) মূলত উহ্য হরকতকে বিলুপ্ত করে এবং তিনি একেই যথেষ্ট মনে করেছেন। অতঃপর জজম প্রদানকারীর উপস্থিতিতে হরফটি বিলুপ্ত হয়েছে, তার কারণে নয়। আরবদের মধ্যে কেউ কেউ ত্রুটিপূর্ণ বর্ণযুক্ত (معتل) ক্রিয়াকে সুস্থ বা সহীহ ক্রিয়ার ন্যায় গণ্য করেন; ফলে তারা উহ্য দাম্মাহ বিলুপ্ত করেন কিন্তু ইল্লত বা দুর্বল বর্ণটি বিলুপ্ত করেন না। তারা আলিফ, ওয়াও এবং ইয়া বহাল রেখে বলেন: لم يخشى, لم يغزو এবং لم يرمي। সে অনুসারেই কবির এই উক্তিটি এসেছে:

যখন বৃদ্ধা রাগান্বিত হয় তখন তাকে তালাক দাও … তার প্রতি সন্তুষ্ট থেকো না এবং চাটুকারিতা করো না

 

এবং কবির এই উক্তি:

তুমি যাব্বানকে নিন্দা করলে তারপর ওজর পেশ করতে এলে … যেন তুমি তাকে নিন্দাও করোনি এবং তাকে ডাকওনি

 

এবং কবির এই উক্তি:

তোমার কাছে কি সেই সংবাদ পৌঁছেনি, অথচ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ছে … যা আমি বনু জিয়াদের লিউনদের উদ্দেশ্যে বলেছি

 

প্রসিদ্ধ ভাষা অনুযায়ী এই উদাহরণগুলোকে কাব্যিক প্রয়োজন (ضرورة)-এর ওপর ধরা হয়। যদি ইল্লত বা দুর্বল বর্ণটি মূল না হয়ে হামজার পরিবর্তে আসে, যেমন: يقرأ, يقرى এবং يوضو; অতঃপর তাতে জজম প্রদানকারী (جازم) প্রবেশ করে, তবে ইবদাল বা বর্ণ পরিবর্তন বিবেচনা করা বা না করার ভিত্তিতে দুর্বল বর্ণটি বিলুপ্ত করা বা রেখে দেওয়া উভয়ই জায়েজ। দ্বিতীয় স্থানটি হলো (পাঁচটি ক্রিয়া (الأفعال الخمسة) এর ক্ষেত্রে)। ইতোপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, এটি এমন প্রতিটি বর্তমানকালীন ক্রিয়া (مضارع) যার সাথে দ্বিবচনের আলিফ, বহুবচনের ওয়াও অথবা সম্বোধনের ইয়া যুক্ত হয় (যেমন: لم يفعلا, لم يفعلا, لم يفعلوا, لم تفعلوا এবং لم تفعلي; এগুলো لم দ্বারা জজমযুক্ত (مجزوم) এবং এদের জজম হওয়ার আলামত (علامة جزمه) হলো নূন বিলুপ্ত হওয়া (حذف النون))। এটিই প্রসিদ্ধ মত। আর যাদের মতে এগুলোর ইরাব বা বিভক্তি তাদের শেষাক্ষরে উহ্য হরকতের মাধ্যমে হয়, তাদের নিকট জজম প্রদানকারী (جازم) মূলত উহ্য হরকতকে বিলুপ্ত করে এবং তিনি একেই যথেষ্ট মনে করেছেন, আর নূন জজম প্রদানকারীর উপস্থিতিতে বিলুপ্ত হয়েছে, তার দ্বারা নয়—যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। (আর নূন বিলুপ্ত হওয়া (حذف النون) এদের নসব (نصب) হওয়ারও আলামত) অর্থাৎ পাঁচটি ক্রিয়া (الأفعাল الخمسة) এর ক্ষেত্রেও (যেমন: لن تفعلا এবং لن تفعلا; তা এবং ইয়া যোগে) এবং (لن تفعلوا এবং لن تفعلوا; তা এবং ইয়া যোগে) এবং (لن تفعلي; শুধুমাত্র তা যোগে)। এগুলো নসবযুক্ত (منصوب) এবং প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী এদের প্রত্যেকের নসব হওয়ার আলামত হলো ফাতহাহ-এর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নূন বিলুপ্ত হওয়া (حذف النون)। কেউ কেউ বলেছেন, এগুলো তাদের শেষাক্ষরে উহ্য হরকতের মাধ্যমে নসবযুক্ত (منصوب) হয়, আর নূনকে বিলুপ্ত করা হয়েছে মারফু বা রফা যুক্ত অবস্থার সাথে পার্থক্য করার জন্য।
(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
والمنصوب (والحاصل أن المعربات) من الأسماء والأفعال (قسمان) لا ثالث لهما (قسم بعرب بالحركات) الثلاث الضمة والفتحة والكسرة (وقسم يعرب بالحروف الأربعة) الألف والواو والياء والنون (فالذي يعرب بالحركات) من الأسماء والأفعال (أربعة أشياء) الأول (الاسم المفرد) مذكرا كان أو مؤنثا منصرفا كان أو غير منصرف معرفة كان أو نكرة جامدا كان أو مشتقا متبوعا كان أو تابعا والثاني (جمع التكسير) كذلك الأماجل منه على جمع المذكر السالم كسنين فإنه يعرب بالحروف والثالث (جمع المؤنث السالم) وما حمل عليه والرابع (الفعل المضارع) إذا لم يتصل به نون الأناث ولم تباشره نون التوكيد (وضابط هذه) الأشياء (الأربعة) التي تعرب بالحركات (ما كانت الضمة علامة لرفعه والذي يعرب بالحروف) الأربعة (أربعة أشياء أيضًا) الأول (المثنى) وما الحق به والثاني (جمع المذكر السالم) وما الحق به والثالث (الأسماء الستة) المعتلة المضافة والرابع (الأفعال الخمسة) على المشهور في جميع ذلك (وتفصيل هذه الأربعة المعربة) بالحروف (فالمثنى يرفع بالألف نحو جاء الزيدان) فالزيدان فاعل مرفوع وعلامة رفعه الألف نيابة عن الضمة والألف تنوب عن الضمة في التثنية خاصة (ويجر وينصب بالياء) المفتوح ما قبلها المكسور ما بعدها (نحو مررت بالمزيدين ورأيت الزيدين) فالزيدين في الأول مخفوض وعلامة خفضه الياء نيابة عن الكسرة والياء تنوب عن الكسرة في ثلاثة مواضع في المثنى وجمع المذكر السالم والأسماء الستة وفي المثال الثاني منصوب وعلامة نصبه الياء نيابة عن الفتحة والياء تنوب عن الكسرة في ثلاثة مواضع في المثنى وجمع المذكر السالم والأسماء الستة في المثال الثاني منصوب وعلامة نصبه الياء نيابة عن الفتحة والياء تنوب عن الفتحة في موضعين في التثنية وجمع المذكر السالم والأسماء الستة وفي المثال الثاني منصوب وعلامة نصبه الياء نيابة عن الفتحة والياء تنوب عن الفتحة في موضعين في التثنية وجمع المذكر السالم وقدم الخفض على النصب لأن النصب محمول عليه (وجمع المذكر السالم يرفع بالواو ونحو جاء الزيدون) فالزيدون فاعل وهو مرفوع وعلامة رفعه الواو نيابة عن الضمة والواو
নসবযুক্ত (المنصوب) (সারকথা হলো এই যে, রূপান্তরশীল শব্দসমূহ (المعربات)) বিশেষ্য (الأسماء) এবং ক্রিয়াসমূহের (الأفعال) মধ্য থেকে (দুই প্রকার (قسمان)), এ দুটির বাইরে তৃতীয় কোনো প্রকার নেই। (এক প্রকার যা হরকত বা স্বরচিহ্নের (الحركات) মাধ্যমে রূপান্তর গ্রহণ করে), যথা তিনটি হরকত: পেশ (الضمة), জবর (الفتحة) এবং যের (الكسرة)। (এবং অন্য প্রকারটি হলো যা চারটি অক্ষরের (الحروف) মাধ্যমে রূপান্তর গ্রহণ করে), যথা: আলিফ (الألف), ওয়াও (الواو), ইয়া (الياء) এবং নুন (النون)। (সুতরাং যা হরকতের (الحركات) মাধ্যমে রূপান্তর গ্রহণ করে) বিশেষ্য ও ক্রিয়াসমূহের মধ্য থেকে তা (চারটি বিষয়)। প্রথমটি হলো (একবচন বিশেষ্য (الاسم المفرد)), তা পুংলিঙ্গ (مذكرا) হোক বা স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنثا), পূর্ণ রূপান্তরশীল (منصرفا) হোক বা অসম্পূর্ণ রূপান্তরশীল (غير منصرف), নির্দিষ্ট (معرفة) হোক বা অনির্দিষ্ট (نكرة), জমাটবদ্ধ (جامدا) হোক বা উদ্ভূত (مشتقا), অনুসরণীয় (متبوعا) হোক বা অনুসারী (تابعا)। দ্বিতীয়টি হলো (ভঙ্গুর বহুবচন (جمع التكسير)), তদ্রূপ শব্দসমূহ; তবে এর মধ্যে যা সুস্থ পুরুষবাচক বহুবচনের (جمع المذكر السالم) ওজনে আসে যেমন ‘সিনিন’, তবে তা অক্ষরের (الحروف) মাধ্যমে রূপান্তর গ্রহণ করে। তৃতীয়টি হলো (সুস্থ স্ত্রীবাচক বহুবচন (جمع المؤনث السالم)) এবং যা এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চতুর্থটি হলো (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (الفعل المضارع)), যখন তার সাথে স্ত্রীবাচক নুন (نون الأناث) যুক্ত না হয় এবং সরাসরি তাকিদ বা নিশ্চয়তাবোধক নুন (نون التوكيد) যুক্ত না হয়। (এবং এই চারটি বিষয়ের মূলনীতি হলো) যা হরকতের মাধ্যমে রূপান্তর গ্রহণ করে (পেশ (الضمة) তার রফ’ বা পেশযুক্ত অবস্থার (رفع) চিহ্ন হয়)। (আর যা চারটি অক্ষরের (الحروف) মাধ্যমে রূপান্তর গ্রহণ করে) তাও (চারটি বিষয়)। প্রথমটি হলো (দ্বিবচন (المثنى)) এবং যা এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো (সুস্থ পুরুষবাচক বহুবচন (جمع المذكر السالم)) এবং যা এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তৃতীয়টি হলো (ছয়টি বিশেষ্য (الأسماء الستة)) যা ইল্লতযুক্ত ও সম্বন্ধযুক্ত। চতুর্থটি হলো (পাঁচটি ক্রিয়া (الأفعال الخمسة)), এসবের ক্ষেত্রে এটিই প্রসিদ্ধ মত। (অক্ষরের মাধ্যমে রূপান্তরপ্রাপ্ত এই চারটি বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ হলো: দ্বিবচন (المثنى) আলিফ (الألف) দ্বারা রফ’প্রাপ্ত (رفع) হয়, যেমন: দুই জায়েদ এসেছে)। এখানে ‘যাইদানি’ হলো রফ’যুক্ত (مرفوع) কর্তা (فاعل) এবং এর রফ’-এর চিহ্ন হলো পেশের (الضمة) স্থলাভিষিক্ত আলিফ (الألف)। আর আলিফ শুধুমাত্র দ্বিবচন বা تثنية (تثنية) হওয়ার ক্ষেত্রেই পেশের (الضمة) স্থলাভিষিক্ত হয়। (এবং এটি যের (جر) ও নসব (نصب) গ্রহণ করে ইয়া (الياء) দ্বারা) যার পূর্ববর্তী অক্ষরে জবর এবং পরবর্তী অক্ষরে যের থাকে (যেমন: আমি দুই জায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম এবং আমি দুই জায়েদকে দেখলাম)। প্রথম উদাহরণে ‘যাইদাইনি’ হলো নিম্নমুখী বা যেরযুক্ত (مخفوض) এবং এর জরের চিহ্ন হলো যেরের (الكسرة) স্থলাভিষিক্ত ইয়া (الياء)। আর ইয়া তিনটি স্থানে যেরের (الكسرة) স্থলাভিষিক্ত হয়: দ্বিবচন (المثنى), সুস্থ পুরুষবাচক বহুবচন (جمع المذكر السالم) এবং ছয়টি বিশেষ্যের (الأسماء الستة) ক্ষেত্রে। দ্বিতীয় উদাহরণে শব্দটি নসবযুক্ত (منصوب) এবং এর নসবের চিহ্ন হলো জবরের (الفتحة) স্থলাভিষিক্ত ইয়া (الياء)। ইয়া তিনটি স্থানে যেরের (الكسرة) স্থলাভিষিক্ত হয়: দ্বিবচন (المثنى), সুস্থ পুরুষবাচক বহুবচন (جمع المذكر السالم) এবং ছয়টি বিশেষ্যের (الأسماء الستة) ক্ষেত্রে। দ্বিতীয় উদাহরণে শব্দটি নসবযুক্ত (منصوب) এবং এর নসবের চিহ্ন হলো জবরের (الفتحة) স্থলাভিষিক্ত ইয়া (الياء)। আর ইয়া দুটি স্থানে জবরের (الفتحة) স্থলাভিষিক্ত হয়: দ্বিবচন বা تثنية (تثنية) এবং সুস্থ পুরুষবাচক বহুবচনের (جمع المذكر السالم) ক্ষেত্রে। দ্বিতীয় উদাহরণে শব্দটি নসবযুক্ত (منصوب) এবং এর নসবের চিহ্ন হলো জবরের (الفتحة) স্থলাভিষিক্ত ইয়া (الياء)। আর ইয়া দুটি স্থানে জবরের (الفتحة) স্থলাভিষিক্ত হয়: দ্বিবচন বা تثنية (تثنية) এবং সুস্থ পুরুষবাচক বহুবচনের (جمع المذكر السالم) ক্ষেত্রে। এখানে নসবের আগে যের বা নিম্নমুখিতাকে (الخفض) প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে কারণ নসব তার অনুগামী। (এবং সুস্থ পুরুষবাচক বহুবচন (جمع المذكر السالم) ওয়াও (الواو) দ্বারা রফ’প্রাপ্ত (رفع) হয়, যেমন: জায়েদগণ এসেছে)। এখানে ‘যাইদুনা’ হলো কর্তা (فاعل) এবং তা রফ’যুক্ত (مرفوع), আর এর রফ’-এর চিহ্ন হলো পেশের (الضمة) স্থলাভিষিক্ত ওয়াও (الواو) এবং ওয়াও...
(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
تنوب عن الضمة في موضعين في جمع المذكر السالم والأسماء الستة (ويجر وينصب بالياء المكسور ما قبلها المفتوح ما بعدها نحو مررت بالزيدين ورأيت الزيدين) والكلام فيهما كما تقدم في المثنى حرفا بحرف (والأسماء الستة ترفع بالواو نحو جاء أبوك وأخوك وحموك وفوك وهنوك وذو مال) فهذه مرفوعة وعلامة رفعها الواو نيابة عن الضمة والواو تنوب عن الضمة في موضعين في جمع المذكر السالم والأسماء الستة (وتنصب بالألف نحو رأيت أباك وأخاك وحماك وفاك وهناك وذا مال) فهذه منصوبة وعلامة نصبها الألف نيابة عن الفتحة والألف تنوب عن الفتحة في الأسماء الستة خاصة (وتخفض بالياء نحو مررت بأبيك وأخيك وحميك وفيك وهنيك وذى مال) فهذه مخفوضة وعلامة خفضها الياء نيابة عن الكسرة والياء تنوب عن الكسرة في ثلاثة مواضع في التثنية وجمع المذكر السالم والأسماء الستة (والأفعال الخمسة ترفع بثبوت النون نحو تفعلان ويفعلان) بالفوقية والتحتية (وتفعلون ويفعلون) بالفوقية والتحتية (وتفعلين) بالفوقية لا غير فهذه مرفوعة وعلامة رفعها ثبوت النون وثبوت النون يكون علامة للرفع في الأفعال الخمسة خاصة (وتنصب بحذف النون نحو: لن تفعلا، ولن يفعلا، ولن تفعلوا، ولن يفعلوا، ولن تفعلى وتحزم بحذف النون نحو لم تفعلا ولم يفعلا) بالفوقية والتحتية (ولم تفعلوا ولم يفعلوا) بالفوقية والتحتية (ولم تفعلي) بالفوقية فهذه مجزومة وعلامة جزمها حذف النون وحذف النون ينوب عن السكون في الأفعال الخمسة خاصة (وينصب بحذف النون نحو لن تفعلا ولن يفعلا ولن تفعلوا ولن يفعلوا ولن تفعلى) فهذه منصوبة وعلامة نصبها حذف النون وحذف النون ينوب عن الفتحة في الأفعال الخمسة خاصة.

 

(باب علامات الأفعال وأحكامها على التفصيل)

الآتي في كل واحد منها (علامة) الفعل (الماضي أن يقبل تاء التأنيث الساكنة نحو قامت) وتدل على تأنيث فاعل ذلك الفعل الذي لحقته لأن الاسم المذكر قد يستعمل في المؤنث وعكسه كزيد لأمراة وهند لرجل فيحتاج فعل المؤنث إلى التمييز بالتاء (وحكمه أن يفتح آخره) للتخفيف (سواء كان ثلاثيا نحو ضرب) وهرب (أو رباعيا نحو دحرج) وريج (أو خماسيا نحو انطلق) وانصلح (أو سداسيا نحو استخرج) واستعظم (ما لم يتصل به ضمير رفع متحرك فإنه يسكن) كراهة توالي أربع متحركات فيما هو كالكلمة الواحدة ولا فرق في الضمير المتحرك بين أن يكون للمتكلم وحده أو المعظم نفسه والمخاطب والمخاطبة ومثنيهما ومجموعهما (نحو: ضربنا وضربته وضربت) بضم التاء (وضربنا) بسكون الموحدة (وضربت) بفتح التاء وضربت بكسر التاء (وضربتما وضربتم وضربتن وضربن) وما لم
পেশ (ضمة)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়ে 'ওয়াও' (واو) দুটি ক্ষেত্রে আসে: সুসংগঠিত পুংলিঙ্গ বহুবচন (جمع المذكر السالم) এবং ছয়টি বিশেষ্য (الأسماء الستة)-এর ক্ষেত্রে। (আর এটি 'ইয়া' দ্বারা যার (جر) এবং নসব (نصب) প্রদান করা হয়, যার পূর্বের অক্ষরে কাসরা এবং পরের অক্ষরে ফাতহা থাকে; যেমন: আমি জায়েদগণের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম এবং আমি জায়েদগণকে দেখলাম)। এই দুই ক্ষেত্রে আলোচনা পূর্বে দ্বিবচন (مثنى)-এর আলোচনায় যেভাবে এসেছে ঠিক সেভাবেই প্রতিটি অক্ষরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। (আর ছয়টি বিশেষ্য (الأسماء الستة) 'ওয়াও' দ্বারা রাফা (رفع) প্রাপ্ত হয়, যেমন: তোমার পিতা এসেছে, তোমার ভাই এসেছে, তোমার শ্বশুর এসেছে, তোমার মুখ, তোমার লজ্জাস্থান এবং সম্পদশালী ব্যক্তি)। এগুলো রাফা (رفع) প্রাপ্ত এবং এদের রাফা-র আলামত হলো পেশ (ضمة)-এর পরিবর্তে স্থলাভিষিক্ত হওয়া 'ওয়াও' (واو)। আর 'ওয়াও' (واو) দুটি ক্ষেত্রে পেশ (ضمة)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়: সুসংগঠিত পুংলিঙ্গ বহুবচন (جمع المذكر السالم) এবং ছয়টি বিশেষ্য (الأسماء الستة)-এর ক্ষেত্রে। (এবং আলিফ দ্বারা নসব (نصب) প্রাপ্ত হয়, যেমন: আমি তোমার পিতাকে দেখেছি, তোমার ভাইকে দেখেছি, তোমার শ্বশুরকে দেখেছি, তোমার মুখকে এবং সম্পদশালী ব্যক্তিকে দেখেছি)। এগুলো নসব (نصب) প্রাপ্ত এবং এদের নসব-এর আলামত হলো ফাতহা (فتحة)-এর পরিবর্তে স্থলাভিষিক্ত হওয়া 'আলিফ' (ألف)। আর 'আলিফ' (ألف) বিশেষভাবে ছয়টি বিশেষ্য (الأسماء الستة)-এর ক্ষেত্রেই ফাতহা (فتحة)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়। (এবং 'ইয়া' দ্বারা যার (خفض) প্রাপ্ত হয়, যেমন: আমি তোমার পিতার নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম, তোমার ভাইয়ের নিকট দিয়ে, তোমার শ্বশুরের নিকট দিয়ে, তোমার মুখের নিকট দিয়ে, তোমার লজ্জাস্থানের নিকট দিয়ে এবং সম্পদশালী ব্যক্তির নিকট দিয়ে)। এগুলো যার (خفض) প্রাপ্ত এবং এদের যার-এর আলামত হলো কাসরা (كسرة)-এর পরিবর্তে স্থলাভিষিক্ত হওয়া 'ইয়া' (ياء)। আর 'ইয়া' (ياء) তিনটি ক্ষেত্রে কাসরা (كسرة)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়: দ্বিবচন (تثنية), সুসংগঠিত পুংলিঙ্গ বহুবচন (جمع المذكر السالم) এবং ছয়টি বিশেষ্য (الأسماء الستة)-এর ক্ষেত্রে। (এবং পাঁচটি ক্রিয়া (الأفعال الخمسة) 'নুন' অক্ষরের স্থিরতার মাধ্যমে রাফা (رفع) প্রাপ্ত হয়, যেমন: তোমরা দুইজন করছো এবং তারা দুইজন করছে) উপরের নুকতাযুক্ত ('তা') এবং নিচের নুকতাযুক্ত ('ইয়া') অক্ষরের মাধ্যমে। (তোমরা সকলে করছো এবং তারা সকলে করছে) উপরের নুকতাযুক্ত এবং নিচের নুকতাযুক্ত অক্ষরের মাধ্যমে। (এবং তুমি একজন নারী করছো) শুধুমাত্র উপরের নুকতাযুক্ত অক্ষরের মাধ্যমে, অন্য কিছু নয়। এগুলো রাফা (رفع) প্রাপ্ত এবং এদের রাফা-র আলামত হলো 'নুন' অক্ষরের স্থির থাকা (ثبوت النون)। আর 'নুন' অক্ষরের স্থির থাকা (ثبوت النون) বিশেষভাবে পাঁচটি ক্রিয়া (الأفعال الخمسة)-এর জন্যই রাফা-র আলামত হয়ে থাকে। (এবং 'নুন' বিলুপ্ত হওয়ার মাধ্যমে নসব (نصب) প্রাপ্ত হয়, যেমন: তারা দুইজন কখনোই করবে না, তোমরা দুইজন কখনোই করবে না, তারা সকলে কখনোই করবে না, তোমরা সকলে কখনোই করবে না, এবং তুমি একজন নারী কখনোই করবে না। আর 'নুন' বিলুপ্ত হওয়ার মাধ্যমে জজম (جزم) প্রাপ্ত হয়, যেমন: তারা দুইজন করেনি এবং তোমরা দুইজন করোনি) উপরের ও নিচের নুকতাযুক্ত অক্ষরের মাধ্যমে। (তারা সকলে করেনি এবং তোমরা সকলে করোনি) উপরের ও নিচের নুকতাযুক্ত অক্ষরের মাধ্যমে। (এবং তুমি একজন নারী করোনি) উপরের নুকতাযুক্ত অক্ষরের মাধ্যমে। এগুলো জজম (جزم) প্রাপ্ত এবং এদের জজম-এর আলামত হলো 'নুন' অক্ষর বিলুপ্ত হওয়া (حذف النون)। আর 'নুন' বিলুপ্ত হওয়া (حذف النون) বিশেষভাবে পাঁচটি ক্রিয়া (الأفعال الخمسة)-এর ক্ষেত্রে সুকুন (سكون)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়। (এবং 'নুন' বিলুপ্ত হওয়ার মাধ্যমে নসব (نصب) প্রাপ্ত হয়, যেমন: তারা দুইজন কখনোই করবে না, তারা দুইজন কখনোই করবে না, তারা সকলে কখনোই করবে না, তারা সকলে কখনোই করবে না এবং তুমি একজন নারী কখনোই করবে না)। এগুলো নসব (نصب) প্রাপ্ত এবং এদের নসব-এর আলামত হলো 'নুন' অক্ষর বিলুপ্ত হওয়া (حذف النون)। আর 'নুন' বিলুপ্ত হওয়া (حذف النون) বিশেষভাবে পাঁচটি ক্রিয়া (الأفعাল الخمسة)-এর ক্ষেত্রে ফাতহা (فتحة)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়।

 

(ক্রিয়া বা ফেলের আলামতসমূহ এবং বিস্তারিতভাবে সেগুলোর বিধান সংক্রান্ত অধ্যায়)

নিচে বর্ণিত প্রত্যেকটি হলো ক্রিয়ার (علامة) আলামত। (অতীতকালীন ক্রিয়া (الماضي)-এর আলামত হলো এটি সুকুনযুক্ত স্ত্রীলিঙ্গ জ্ঞাপক 'তা' (تاء التأنيث الساكنة) গ্রহণ করে, যেমন: সে একজন নারী দাঁড়িয়েছে)। এটি সেই ক্রিয়ার কর্তার স্ত্রীলিঙ্গ হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে যার সাথে এটি যুক্ত হয়। কারণ পুংলিঙ্গ বিশেষ্য অনেক সময় স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং এর উল্টোটাও হয়, যেমন: 'যায়েদ' কোনো মহিলার নাম হতে পারে এবং 'হিন্দ' কোনো পুরুষের নাম হতে পারে। তাই স্ত্রীলিঙ্গ ক্রিয়াকে 'তা' অক্ষরের মাধ্যমে পৃথক করার প্রয়োজন পড়ে। (আর এর বিধান হলো এর শেষাক্ষর ফাতহা বা জবরযুক্ত হওয়া) উচ্চারণে সহজ করার জন্য। (তা তিন অক্ষর বিশিষ্ট ক্রিয়া হোক, যেমন: সে প্রহার করেছে (ضرب)) এবং সে পলায়ন করেছে, (অথবা চার অক্ষর বিশিষ্ট হোক, যেমন: সে গড়িয়ে দিয়েছে (دحرج)) এবং সে বাতাস দিয়েছে, (অথবা পাঁচ অক্ষর বিশিষ্ট হোক, যেমন: সে চলে গেছে (انطلق)) এবং সে সংশোধিত হয়েছে, (অথবা ছয় অক্ষর বিশিষ্ট হোক, যেমন: সে বের করেছে (استخرج)) এবং সে বড় মনে করেছে। (যতক্ষণ না এর সাথে কোনো রাফা প্রদানকারী হরকতযুক্ত যমীর বা সর্বনাম যুক্ত হয়, এমতাবস্থায় এটি সুকুন (سكون) বা সাকিন হয়ে যায়) যাতে একটি শব্দের মতো স্থানে পর পর চারটি হরকতযুক্ত অক্ষর আসা অপছন্দনীয় না হয়। আর এই হরকতযুক্ত যমীরের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই যে সেটি উত্তম পুরুষ একবচনের জন্য হোক, অথবা নিজেকে বড় মনেকারীর জন্য হোক, কিংবা নাম পুরুষ বা মধ্যম পুরুষ এবং তাদের দ্বিবচন বা বহুবচনের জন্য হোক। (যেমন: আমরা প্রহার করেছি, আমি তাকে প্রহার করেছি এবং আমি প্রহার করেছি) 'তা' বর্ণে পেশ-সহযোগে। (এবং আমরা প্রহার করেছি) 'বা' বর্ণে সুকুন-সহযোগে। (এবং তুমি প্রহার করেছ) 'তা' বর্ণে ফাতহা-সহযোগে এবং তুমি প্রহার করেছ 'তা' বর্ণে কাসরা-সহযোগে। (এবং তোমরা দুইজন প্রহার করেছ, তোমরা সকলে প্রহার করেছ, তোমরা সকল নারী প্রহার করেছ এবং তারা সকল নারী প্রহার করেছে) আর যতক্ষণ না...
(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
يتصل به (أو واو جماعة الذكور فإنه يضم) لمناسبة الواو (نحو ضربوا) وأما ما نحو عزوا ورموا بفتح الزاى والميم فاصله غزووا ورسيوا استثقلت الضمة على الواو والياء فحذفت فالتقا ساكتان فحذفت الواو والياء لالتقاء الساكنين وبقى ما قبل واو الجماعة مفتوحا على حاله (وعلامة) الفعل (المضارع أن يقبل لم نحو لم يضرب) ولم يسمع (وحكمه أن يكون معربا) رفعا ونصبا وجزما (ما لم يتصل به نون النسوة فإنه يكون مبنيًا على السكون) (نحو يضربن) حملا على ضربن لان المضارع فرع الماضي وما لم تباشره (ونون التوكيد فإنه مبنيًّا على الفتح) لثقل التركيب ولا فرق في ذلك بين الثقيلة والخفيفة (نحو ليسجنن وليكونا) فإن لم تباشره كان معربا على الأصح نحو لقبلون ولا تتبعان وأما نرين بتشديد النون فيهن (وعلامة فعل الأمر أن يقبل ياء المخاطبة وأن يدل على الطلب نحو قومى) فإن دل اللفظ على الطلب ولم يقبل ياء المخاطبة فهو اسم فعل أمر نحو صم وأن قبل الياء ولم يدل على الطلب فهو فعل مضارع نحو تفومين (وحكمه أن يبنى على السكون أن كان صحيح الأخر نحو: اضرب، أو يبنى على حذف النون إذا كان مسندا لألف الاثنين نحو: اضربا، أو واو الجمع نحو: اضربوا، أو ياء المخاطبة نحو: اضربي أو يبنى على حذف حرف العلة) أصالة (أن كان معتل الآخر مطلقا) وهو ما آخره بالألف أو الواو أو الياء (نحو اسعَ، وادعُ، ارمِ) فاخش مبنى على حذف الالف واغز مبنى على حذف الواو وارم مبنى على حذف الياء وهذه الأحرف الثلاثة أو أخر أصالة بخلاف النون في الأفعال الخمسة فإنها ليست أخرا اصالة (أو يبنى على حذف النون أن كان مسند الألف اثنين نحو اضربا أو واوجع نحو اضربوا أو ياء المخاطبة نحو اضربى) وضابط ذلك أن لا مر يبنى على ما يجزم به مضارعه فإن كان مضارعه يجزم بالسكون فالامر مبني على السكون وإن كان مضارعه بجزم بحذف أخره فالأمر مبني على حذف الأخر وإن كان مضارعه يجزم بحذف النون فالأمر مبني على حذف الأخر وأن كان مضارعه بجزم بحذف اخره بالأمر مبني على حذف الأخر وإن كان مضارعه بجزم بحذف النون فالأمر مبنى على حذف النون (المرفوعات) من الأسماء (سبعة) الأول (الفاعل) والثاني (نائبه) والثالث والرابع (المبتدأ والخبر) والخامس (اسم كان وأخواتها) والسادس (خبر أن وأخواتها) والسابع (تابع المرفوع وهو أربعة نعت وتوكيد وعطف وبدل) قدم الفاعل لأنه أصل المرفوعات ثم نائبه لأنه يخلفه عند حذفه ثم المبتدأ وخبره لأن المبتدأ فاعل معنى

এর সাথে যুক্ত হয় (অথবা পুরুষবাচক বহুবচনের ওয়াও (واو جماعة الذكور), সেক্ষেত্রে এটি পেশযুক্ত হয়) ওয়াও-এর সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য (যেমন: দারাবু)। আর গাযাও এবং রামাও-এর মতো শব্দগুলোতে যা 'যা' এবং 'মীম'-এর জবর (فتح) সহকারে গঠিত, সেগুলোর মূল রূপ ছিল গাযাওয়ূ এবং রাসা ইয়ূ। ওয়াও এবং ইয়া-র ওপর পেশ (ضمة) উচ্চারণ করা গুরুভার মনে হওয়ায় তা বিলুপ্ত করা হয়েছে, অতঃপর দুই সুকুন বিশিষ্ট অক্ষরের মিলন (التقاء الساكنين) ঘটায় ওয়াও এবং ইয়া বিলুপ্ত হয়েছে এবং সমষ্টিবাচক ওয়াও-এর পূর্ববর্তী অক্ষরটি তার পূর্বাবস্থায় জবরযুক্ত রয়ে গেছে। (চিহ্ন) বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার (المضارع) চিহ্ন হলো এটি 'লাম' (لم) গ্রহণ করে (যেমন: লাম ইয়াদরিব) এবং এটি 'লাম ইউসমা' হিসেবে শোনা যায়নি। (এবং এর বিধান হলো এটি বিভক্তিযোগ্য (معرب) হওয়া) রফ (رفع), নসব (نصب) ও জজম (جزم)-এর ক্ষেত্রে (যতক্ষণ না এর সাথে স্ত্রীবাচক নূন (نون النسوة) যুক্ত হয়, সেক্ষেত্রে এটি সুকুনের ওপর অপরিবর্তনীয় (مبني) হয়) (যেমন: ইয়াদরিবনা), অতীতকালীন ক্রিয়া দারাবনা-এর ওপর ভিত্তি করে; যেহেতু বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (المضارع) হলো অতীতকালীন ক্রিয়ার একটি শাখা। এবং যতক্ষণ না এর সাথে সরাসরি যুক্ত হয় (তাকিদবাচক নূন (نون التوكيد), সেক্ষেত্রে এটি জবরের (فتح) ওপর অপরিবর্তনীয় (مبني) হয়) বাক্য গঠনের কাঠামোগত গুরুত্বের কারণে। এ ক্ষেত্রে ভারী নূন (ثقيلة) এবং হালকা নূন (خفيفة)-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই (যেমন: লাইয়ুসজানান্না এবং লাইয়াকুনান)। যদি তা সরাসরি যুক্ত না হয়, তবে বিশুদ্ধ মতানুসারে তা বিভক্তিযোগ্য (معرب) হবে, যেমন: লাতুক্ববিলুন্না এবং লা তাত্তাবিআনি। আর 'নরায়িন্না' শব্দটিতে নূন-এর ওপর তাশদিদ রয়েছে। (এবং আদেশসূচক ক্রিয়ার (فعل الأمر) চিহ্ন হলো এটি সম্বোধনসূচক ইয়া (ياء المخاطبة) গ্রহণ করবে এবং আদেশ বা প্রার্থনার অর্থ প্রদান করবে, যেমন: ক্বুমি)। যদি শব্দটি আদেশ বা প্রার্থনার অর্থ প্রকাশ করে কিন্তু সম্বোধনসূচক ইয়া গ্রহণ না করে, তবে তা আদেশসূচক ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য (اسم فعل أمر), যেমন: সুম। আর যদি ইয়া গ্রহণ করে কিন্তু আদেশ বা প্রার্থনার অর্থ প্রকাশ না করে, তবে তা বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (المضارع), যেমন: তাক্বুমিনা। (এবং এর বিধান হলো এটি সুকুনের ওপর অপরিবর্তনীয় (مبني) হবে যদি শেষ অক্ষরটি সঠিক বা রুগ্ন বর্ণহীন (صحيح الأخر) হয়, যেমন: ইদরিব; অথবা এটি নূন বিলোপের (حذف النون) ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় হবে যদি তা দ্বিবচনের আলিফের (ألف الاثنين) দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়, যেমন: ইদরিবা; অথবা সমষ্টিবাচক ওয়াও (واو الجمع)-এর ক্ষেত্রে, যেমন: ইদরিবু; অথবা সম্বোধনসূচক ইয়া (ياء المخاطبة)-এর ক্ষেত্রে, যেমন: ইদরিবি; অথবা এটি রুগ্ন বর্ণ বিলোপের (حذف حرف العلة) ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (مبني) হবে) মূলগতভাবে (যদি সর্বাবস্থায় এর শেষ অক্ষরটি রুগ্ন বর্ণ (معتل الآخر) হয়)। রুগ্ন বর্ণ হলো যার শেষে আলিফ, ওয়াও অথবা ইয়া থাকে (যেমন: ইসআ, উদউ, ইরমী)। অতএব, 'ফাখশা' শব্দটি আলিফ বিলোপের ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয়, 'উগজু' শব্দটি ওয়াও বিলোপের ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় এবং 'ইরমী' শব্দটি ইয়া বিলোপের ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয়। এই তিনটি অক্ষরই মূলগতভাবে শেষ বর্ণ, যা পাঁচটি ক্রিয়ার নূন-এর বিপরীত; কারণ সেই নূনটি মূলগতভাবে শেষ বর্ণ নয়। (অথবা এটি নূন বিলোপের (حذف النون) ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় হবে যদি তা দ্বিবচনের আলিফের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয় যেমন ইদরিবা, অথবা সমষ্টিবাচক ওয়াও যেমন ইদরিবু, অথবা সম্বোধনসূচক ইয়া যেমন ইদরিবি)। এর মূলনীতি হলো, আদেশসূচক ক্রিয়া (فعل الأمر) সেই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয় যার মাধ্যমে এর বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়াটি (المضارع) জজম (جزم) প্রাপ্ত হয়। যদি এর মুদারে সুকুনের মাধ্যমে জজম প্রাপ্ত হয়, তবে আদেশসূচক ক্রিয়াটি সুকুনের ওপর অপরিবর্তনীয় (مبني) হবে। যদি এর মুদারে শেষ বর্ণ বিলোপের মাধ্যমে জজম প্রাপ্ত হয়, তবে আদেশসূচক ক্রিয়াটি শেষ বর্ণ বিলোপের ওপর অপরিবর্তনীয় হবে। যদি এর মুদারে নূন বিলোপের মাধ্যমে জজম প্রাপ্ত হয়, তবে আদেশসূচক ক্রিয়াটি শেষ বর্ণ বিলোপের ওপর অপরিবর্তনীয় হবে। আর যদি এর মুদারে শেষ বর্ণ বিলোপের মাধ্যমে জজম প্রাপ্ত হয়, তবে আদেশসূচক ক্রিয়াটি শেষ বর্ণ বিলোপের ওপর অপরিবর্তনীয় হবে। এবং যদি এর মুদারে নূন বিলোপের মাধ্যমে জজম প্রাপ্ত হয়, তবে আদেশসূচক ক্রিয়াটি নূন বিলোপের (حذف النون) ওপর অপরিবর্তনীয় (مبني) হবে। (পেশযুক্ত শব্দসমূহ (المرفوعات)) বিশেষ্য বা ইসমের মধ্যে (সাতটি)। প্রথমটি হলো (কর্তা (فاعل)), দ্বিতীয়টি (কর্তার স্থলাভিষিক্ত (نائبه)), তৃতীয় ও চতুর্থটি (উদ্দেশ্য ও বিধেয় (المبتدأ والخبر)), পঞ্চমটি (কানা ও তার সমগোত্রীয়দের ইসম (اسم كان وأخواتها)), ষষ্ঠটি (ইন্না ও তার সমগোত্রীয়দের খবর (خبر أن وأخواتها)) এবং সপ্তমটি (পেশযুক্ত শব্দের অনুগামী (تابع المرفوع), যা চারটি: গুণবাচক শব্দ (نعت), তাকিদ (توكيد), সংযোজক শব্দ (عطف) এবং বদল (بدل))। কর্তাকে (فاعل) অগ্রগণ্য করা হয়েছে কারণ এটি পেশযুক্ত শব্দসমূহের মূল, এরপর কর্তার স্থলাভিষিক্তকে রাখা হয়েছে কারণ এটি কর্তা বিলোপের সময় তার স্থলাভিষিক্ত হয়, এরপর উদ্দেশ্য ও বিধেয়কে রাখা হয়েছে কারণ উদ্দেশ্য অর্থের দিক থেকে কর্তাস্বরূপ।

(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
لكونه مسند إليه والخبر مسند ثم اسم كان واخواتها لأنه مبتدأ في الأصل ثم خبران وأخواتها لأنه خبر في الأصل ثم التابع لأنه متأخر عن المتبوع وإذا اجتمعت التوابع قدم النعت ثم التوكيد ثم البدل ثم البيان ثم النسق (ولها أبواب) تذكر فيها.

(باب الفاعل وهو الاسم) الصرح أو المؤول (المسند إليه فعل) متعد أو لازم (أو شبهه) وهو اسم الفاعل وأمثلة المبالغة والصفة المشبهة واسم التفضيل (مقدم) أي الفعل أو شبهه (عليه) أي على الفاعل (على جهة قيامه به أو وقوعه منه فالأول) وهو اسناد الفعل إلى الفاعل على جهة قيامه به (نحو علم زيد) فإن العلم قائم بزيد أي متلبس به (والثاني) وهو اسناد الفعل إلى الفاعل على جهة وقوعه منه (نحو قام زيد) فإن القيام وقع من زيد أي أحدثه وعلم من هذين المثالين أن إسناد الفعل إلى الفاعل يكون حقيقة كالمثال الثاني ومجازا كالمثال الأول ومثال اسم الفاعل يكون حقيقة كالمثال الثاني ومجازا كالمثال الأول ومثال اسم الفاعل مختلف ألوانه ومثال اسم الفاعل مختلف الوانه ومثال ما يفيد المبالغة أضراب زيد ومثال الصفة المشبهة زيد حسن وجهه ومثال الاسم المؤول أو لم يكفهم أنا انزلنا أي انزالنا (وهو) أي الفاعل (على قسمين ظاهر ومضمر) (فالظاهر أقسام) ثمانية (الأول الاسم المفرد) المقابل للتثنية والجمع نحو (جاء زيد) فجاء فعل ماض وزيد فاعل (والثاني مثنى المذكر نحو جاء الزيدان) فالزيدان فاعل مرفوع وعلامة رفعه الألف (والثالث جمع المذكر السالم) برفع السالم صفة لجمع (نحو جاء الزيدون) فالزيدون فاعل مرفوع وعلامة رفعه الواو (والرابع جمع التكسير للمذكر نحو جاء الرجال) فالرجال جمع رجل (والخامس المفرد المؤنث نحو جاءت هند) فهند فاعل مؤنث لدخول التاء في فعلها (والسادس مثنى المؤنث نحو جاءت الفاطمتان) فالهندان مثنى مؤنث لدخول التاء في فعلهما (والسابع جمع المؤنث السالم) من التغير (نحو جاءت الهندات والثامن جمع التكسير للمؤنث نحو جاءت الهنود) فالهنود ججمع هند فإن قيل الزيدات والهندان والزيدون والهندات والزيود والهنود مفرداتها أعلام والعلم يدل على الوحدة فإذا زيد عليه ما يدل على التثنية
যেহেতু এটি উদ্দেশ্য (مسند إليه) এবং সংবাদ হলো বিধেয় (مسند), এরপর 'কানা' (كان) ও তার সমগোত্রীয়দের বিশেষ্য (اسم), কারণ এটি মূলত উদ্দেশ্য (مبتدأ) ছিল; এরপর 'ইন্না' (إن) ও তার সমগোত্রীয়দের সংবাদ (خبر), কারণ এটি মূলত বিধেয় (خبر) ছিল; এরপর অনুগামী (تابع), কারণ এটি অনুসৃত শব্দের পরে আসে। যখন সকল প্রকার অনুগামী (توابع) একত্রিত হয়, তখন প্রথমে বিশেষণ (نعت), এরপর তাকিদ (توكيد), এরপর স্থলাভিষিক্ত (بدل), এরপর স্পষ্টকারী (بيان) এবং সবশেষে সংযোজক (نسق) বসবে (এবং এর জন্য স্বতন্ত্র অধ্যায় রয়েছে) যা সামনে আলোচনা করা হবে।

(অধ্যায়: কর্তা (فاعل): আর এটি হলো এমন বিশেষ্য) যা সুস্পষ্ট অথবা ব্যাখ্যাত (مؤول), (যার দিকে একটি ক্রিয়াকে সম্পর্কিত করা হয়েছে) চাই তা সকর্মক (متعد) হোক বা অকর্মক (لازم), (অথবা ক্রিয়ার সদৃশ কোনো শব্দকে সম্পর্কিত করা হয়েছে) আর তা হলো কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل), আতিশয্যবোধক শব্দসমূহ (أمثلة المبالغة), গুণবাচক বিশেষণ (الصفة المشبهة) এবং তুলনামূলক বিশেষ্য (اسم التفضيل), (যা পূর্ববর্তী) অর্থাৎ ক্রিয়া বা ক্রিয়াসদৃশ শব্দটি (কর্তার উপর) অর্থাৎ কর্তা (فاعل) এর পূর্বে আসবে (এমনভাবে যে কাজটি তার দ্বারা সম্পাদিত হয়েছে অথবা তার মাঝে গুণ হিসেবে বিদ্যমান। প্রথমটি হলো) ক্রিয়াকে কর্তা (فاعل) এর দিকে এমনভাবে সম্বন্ধযুক্ত করা যা তার মাঝে গুণ হিসেবে বিদ্যমান, (যেমন: জায়েদ জেনেছে) এখানে জ্ঞান জায়েদের মাঝে বিদ্যমান বা তার সাথে সংশ্লিষ্ট। (দ্বিতীয়টি হলো) ক্রিয়াকে কর্তা (فاعل) এর দিকে এমনভাবে সম্বন্ধযুক্ত করা যা তার দ্বারা সম্পাদিত হয়েছে, (যেমন: জায়েদ দাঁড়িয়েছে) এখানে দাঁড়িয়েছে কাজটি জায়েদ থেকে প্রকাশ পেয়েছে অর্থাৎ সে এটি সম্পাদন করেছে। এই দুটি উদাহরণ থেকে জানা গেল যে, ক্রিয়াকে কর্তা (فاعل) এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা কখনো প্রকৃত অর্থে হয়, যেমন দ্বিতীয় উদাহরণে; আবার কখনো রূপক অর্থে হয়, যেমন প্রথম উদাহরণে। আর কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل)-এর উদাহরণ (যার রঙ ভিন্ন ভিন্ন) এবং কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل)-এর উদাহরণ (যার রঙ ভিন্ন ভিন্ন); আর আতিশয্যবোধক (مبالغة) শব্দের উদাহরণ হলো (জায়েদকে খুব প্রহারকারী); গুণবাচক বিশেষণের (الصفة المشبهة) উদাহরণ হলো (জায়েদ সুন্দর চেহারাবিশিষ্ট); আর ব্যাখ্যাত (مؤول) বিশেষ্যের উদাহরণ হলো (তাদের জন্য কি এটি যথেষ্ট নয় যে, আমি অবতীর্ণ করেছি, অর্থাৎ আমাদের অবতীর্ণ করা)। (আর এটি) অর্থাৎ কর্তা (فاعل) (দুই প্রকার: প্রকাশ্য ও উহ্য/সর্বনাম)। (প্রকাশ্য (ظاهر) আট প্রকার: প্রথমটি হলো একবচন (مفرد) বিশেষ্য) যা দ্বিবচন ও বহুবচনের বিপরীত, যেমন: (জায়েদ এসেছে), এখানে 'এসেছে' ক্রিয়া এবং 'জায়েদ' হলো কর্তা (فاعل)। (দ্বিতীয়টি হলো পুংলিঙ্গ দ্বিবচন (مثنى), যেমন: দুইজন জায়েদ এসেছে), এখানে 'দুইজন জায়েদ' হলো কর্তা (فاعل) যা রফ' অবস্থায় রয়েছে এবং এর রফ'-এর চিহ্ন হলো আলিফ। (তৃতীয়টি হলো পুংলিঙ্গ সুস্থ বহুবচন (جمع المذكر السالم)), এখানে 'সালেম' শব্দটি বহুবচনের বিশেষণ, (যেমন: জায়েদগণ এসেছে), এখানে 'জায়েদগণ' হলো কর্তা (فاعل) যা রফ' অবস্থায় রয়েছে এবং এর রফ'-এর চিহ্ন হলো ওয়াও। (চতুর্থটি হলো পুরুষের জন্য ভগ্ন বহুবচন (جمع التكسير), যেমন: পুরুষেরা এসেছে), এখানে 'পুরুষেরা' হলো 'পুরুষ' শব্দের বহুবচন। (পঞ্চমটি হলো স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث) একবচন, যেমন: হিন্দ এসেছে), এখানে 'হিন্দ' হলো স্ত্রীলিঙ্গ কর্তা (فاعل) কারণ ক্রিয়ার সাথে 'তা' যুক্ত হয়েছে। (ষষ্ঠটি হলো স্ত্রীলিঙ্গ দ্বিবচন (مثنى), যেমন: দুইজন ফাতেমা এসেছে), এখানে 'দুইজন হিন্দ' হলো স্ত্রীলিঙ্গ দ্বিবচন (مثنى) কারণ তাদের ক্রিয়ার সাথে 'তা' যুক্ত হয়েছে। (সপ্তমটি হলো স্ত্রীলিঙ্গ সুস্থ বহুবচন (جمع المؤنث السالم)) যা পরিবর্তন থেকে মুক্ত, (যেমন: হিন্দগণ এসেছে। আর অষ্টমটি হলো স্ত্রীলিঙ্গ ভগ্ন বহুবচন (جمع التكسير), যেমন: হিন্দগণ এসেছে), এখানে 'হিন্দুন' হলো 'হিন্দ' শব্দের বহুবচন। যদি প্রশ্ন করা হয় যে, জায়েদান, হিন্দান, জায়েদুন, হিন্দাত, জুয়ুদ এবং হুনুদ—এগুলোর একবচনসমূহ তো নামবাচক বিশেষ্য (علم), আর নামবাচক বিশেষ্য (علم) তো একক সত্তাকে বোঝায়; সুতরাং এর সাথে যখন দ্বিবচনের আলামত যুক্ত হবে...
(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
أو الجمع دل على التعدد والوحدة والتعدد متضادان قلت إذا اريد تثنية العلم أو جمعه قصد تكبره ثم يثنى ويجمع بدليل جواز دخول ال عليه عوضا عما فأنه من تعريف العملية والقسم الثاني (والضمير) وهو ما دل على متكلم أو مخاطب أو غائب وهو (أثنا عشر) نوعا (اثنان للمتكلم أكرمت أكرمنا) بسكون الميم (وخمسة للمخاطب أكرمت) بفتح التاء للمذكر (أكرمت) بكسرها (للمؤنثة أكرمتها) للمثنى مطلقا مذكرا كان أو مؤنثا (اكرمتم) لجمع الذكور (اكرمتن) لجمع الإناث والتاء في الجميع هي الفاعل وهي اسم مبني محله رفع لا يظهر فيه إعراب والحروف اللاحقة لها لا مدخل لها في الفاعلية (وخمسة للغائب أكرم) ففي أكرم ضمير مستتر تقديره هو (أكرمت) بسكون التاء ففي اكرمت ضمير مستتر تقديره هي (أكرما أكرموا أكرمن) فالألف والواو والنون هي الفاعل محلها رفع لا يظهر فيه إعراب.

الباب الثاني:

من المرفوعات باب (نائب الفاعل) ونائب الفاعل (هو كل اسم حذف فاعله) لغرض من الأغراض (وأقيم هو) أي نائب الفاعل (مقامه) أي مقام الفاعل (وغير عامله إلى صيغة فعل) بضم وله وكسر نانية في الماضي (أو بفعل) بضم أوله وفتح ما قبل آخره في المضارع (أو) صيغة (مفعول) في الاسم (فإن كان عامله فعلا ماضيا ضم أوله وكسر ما قبل آخره نحو ضرب زيد) والأصل ضرب عمر وزيدا فحذف الفاعل وهو عمرو وأقيم المفعول وهو زيد مقام الفاعل فصار مرفوعا بعد أن كان منصوبا وعمدة بعد أن كان فضلة ومتصلا بالفعل بعد أن كان منفصلا عنه وامتنع تقديمه على الفعل بعد أن كان جائزا لتقديم عليه وانث الفعل لتأنيثه أن كان مؤنثا وغيره مع عامله عن صيغته الأصلية إلى فعل بضم أوله وكسر ما قبل آخره (أو تقديرا نحو كيل الطعام) والأصل كيل بضم الكاف وكسر الياء فاستثقلت الكسرة على الياء فنقلت منها إلى الكاف فصار كيل بكسر الياء فاستثقلت الكسرة على الياء فنقلت منها إلى الكاف فصار كيل بكسر الكاف وسكون الياء فكسر الياء مقدر (وإن كان) عامله (مضارعا ضم أوله وفتح ما قبل آخره تحقيقا نحو يُضرب زيد) فيضرب فعل مضارع مبني
অথবা বহুবচন বহুত্বের ওপর প্রমাণ বহন করে, অথচ একত্ব ও বহুত্ব পরস্পর বিরোধী। আমি বলব, যখন কোনো সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যকে দ্বিবচন বা বহুবচন করার ইচ্ছা করা হয়, তখন সেটিকে সাধারণ বিশেষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়, অতঃপর সেটিকে দ্বিবচন বা বহুবচন করা হয়। এর প্রমাণ হলো এতে ‘আল’ যুক্ত হওয়া বৈধ হওয়া, যা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যের সংজ্ঞার স্থলাভিষিক্ত হয়। দ্বিতীয় প্রকার হলো সর্বনাম, যা বক্তা, সম্বোধিত ব্যক্তি অথবা অনুপস্থিত ব্যক্তির ওপর প্রমাণ বহন করে। এটি বারো প্রকার। বক্তার জন্য দুটি: ‘আকরামতু’ (আমি সম্মানিত করেছি), ‘আকরামনা’ (আমরা সম্মানিত করেছি)—এখানে মিম সাকিনযুক্ত। সম্বোধিত ব্যক্তির জন্য পাঁচটি: ‘আকরামতা’—পুরুষের জন্য তা-তে জবরসহ; ‘আকরামতি’—নারীর জন্য তা-তে যেরসহ; ‘আকরামতুমা’—দ্বিবচনের জন্য সাধারণভাবে, তা পুরুষ হোক বা নারী; ‘আকরামতুম’—পুরুষ বহুবচনের জন্য; ‘আকরামতুন্না’—নারী বহুবচনের জন্য। এই সবগুলোর ক্ষেত্রে ‘তা’ হলো কর্তা এবং এটি একটি মাবনি বা অপরিবর্তনীয় বিশেষ্য যা রাফা-এর স্থলে রয়েছে, যার মধ্যে সরাসরি ইরাব বা বিভক্তি প্রকাশ পায় না। আর এর সাথে যুক্ত বর্ণগুলোর কর্তাবাচক হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা নেই। অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য পাঁচটি: ‘আকরামা’—এর মধ্যে একটি উহ্য সর্বনাম আছে যার মূল রূপ হলো ‘হুয়া’ (সে); ‘আকরামাত’—তা সাকিন হওয়ার কারণে এর মধ্যে একটি উহ্য সর্বনাম আছে যার মূল রূপ হলো ‘হিয়া’ (সে স্ত্রী); ‘আকরামা’, ‘আকরামূ’, ‘আকরামনা’—এখানে আলিফ, ওয়াও এবং নুন হলো কর্তা, যা রাফা-এর স্থলে অবস্থিত এবং এতে ইরাব প্রকাশ পায় না।

দ্বিতীয় অধ্যায়:

মারফুআত বা পেশযুক্ত পদসমূহের মধ্য থেকে একটি হলো নায়েবে ফায়েল (কর্তার স্থলাভিষিক্ত) সংক্রান্ত অধ্যায়। নায়েবে ফায়েল হলো এমন প্রতিটি বিশেষ্য যার কর্তাকে কোনো না কোনো উদ্দেশ্যে বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তাকে (নায়েবে ফায়েলকে) কর্তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। আর তার আমিল বা ক্রিয়াকে অতীতকালীন ক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রথম বর্ণে পেশ এবং দ্বিতীয় বর্ণে যের প্রদানের মাধ্যমে অথবা বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রথম বর্ণে পেশ এবং শেষ বর্ণের পূর্ববর্তী বর্ণে জবর প্রদানের মাধ্যমে অথবা বিশেষ্যের ক্ষেত্রে ‘মাফউল’ এর ওজনে পরিবর্তন করা হয়েছে। যদি তার আমিলটি অতীতকালীন ক্রিয়া হয়, তবে তার প্রথম বর্ণে পেশ এবং শেষ বর্ণের পূর্ববর্তী বর্ণে যের প্রদান করা হবে; যেমন: ‘জুরিবা যাইদুন’ (যায়েদ প্রহৃত হয়েছে)। এর মূল ছিল ‘জরাবা আমরুন যাইদান’ (আমর যায়েদকে প্রহার করেছে), অতঃপর কর্তা তথা আমরকে বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং কর্ম তথা যায়েদকে কর্তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। ফলে সেটি মানসুব (যবরযুক্ত) হওয়ার পর মারফু (পেশযুক্ত) হয়েছে, ফদলাহ (অতিরিক্ত অংশ) হওয়ার পর উমদাহ (আবশ্যকীয় অংশ) হয়েছে এবং ক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর তার সাথে সংযুক্ত হয়েছে। আর আগে ক্রিয়ার পরে আসা বৈধ থাকলেও এখন ক্রিয়ার আগে আসা নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। আর যদি কর্তা নারীবাচক হয় তবে ক্রিয়াটিকেও নারীবাচক করা হবে। আর আমিলকে তার মূল রূপ থেকে পরিবর্তন করে প্রথম বর্ণে পেশ ও শেষ বর্ণের পূর্ববর্তী বর্ণে যেরসহ ‘ফুয়িলা’ এর ওজনে নিয়ে আসা হয়েছে। অথবা এটি উহ্যভাবে হতে পারে; যেমন: ‘কীলাত তায়ামু’ (খাদ্য পরিমাপ করা হয়েছে)। এর মূল ছিল ‘কুয়িলা’—কাফ বর্ণে পেশ এবং ইয়া বর্ণে যেরসহ। কিন্তু ইয়া-এর ওপর যের ভারী হওয়ার কারণে তা কাফ-এর দিকে স্থানান্তর করা হয়েছে, ফলে তা ‘কীলা’ হয়েছে কাফ-এর যের এবং ইয়া-এর সাকিনসহ। সুতরাং ইয়া-এর যের এখানে উহ্য। আর যদি আমিলটি মুজারে বা বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া হয়, তবে স্পষ্টভাবে প্রথম বর্ণে পেশ এবং শেষ বর্ণের পূর্ববর্তী বর্ণে জবর প্রদান করা হবে; যেমন: ‘ইউজরাবু যাইদুন’। এখানে ইউজরাবু হলো কর্মবাচ্যের বর্তমানকালীন ক্রিয়া।
(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
للمفعول وزيد نائب الفاعل (أو تقديرا نحو يباع العبد) والأصل يبيع بضم أوله وفتح ما قبل آخره نقلت فتحة الياء إلى ما قبلها فقلبت الياء ألفا لتحركها الأصلي وانفتاح ما قبلها بعد النقل ففتح الياء مقدر (ويشد الحبل) والأصل يشدد الحبل بدالين ادغم أحد المثلين في الأخر ففتح أولهما مقدر (وإن كان عامله اسم فاعل جيء به على صيغة اسم المفعول تحقيقا نحو مضروب زيد) فضروب اسم مفعول وزيد نائب الفاعل والأصل ضارب عمر وزيدا فحذف الفاعل وحولت صيغة اسم الفاعل إلى صيغة اسم المفعول (أو تقديرا نحو قتيل عمرو) فقتيل بمعنى مقتول وعمرو نائب الفاعل فصيغة مفعول مقدرة (ونائب الفاعل على قسمين ظاهر كما مثلنا ومضمر نحو أكرمت) بضم التاء للمتكلم وحده (أكرمنا) بكسر التاء للمخاطبة المؤنثة (أكرمتها) للمثنى المخاطب مطلقا مذكرا كان أو مؤنثا (أكرمتم) لجمع المذكر (أكرمتن) لجمع المؤنث (أكرم) للمفرد المذكر الغائب (أكرمت) بسكون التاء للمفردة الغائبة (أكرما) للمثنى الغائب (أكرموا) لجمع المذكر الغائب (أكرمن) لجمع المؤنث الغائب (والفعل في جميع هذه الأمثلة مضموم الأول) وهو الهمزة (مكسور ما قبل الآخر) وهو الراء ويقال في الجميع قعل ماض مبنى لما لم يسم فاعله والضمير نائب الفاعل وهو اسم مبني لا يظهر فيه إعراب.

الباب الثالث والرابع:

من المرفوعات باب المبتدأ والخبر (المبتدأ هو الاسم المرفوع المجرد عن العوامل اللفظية غير الزائدة للإسناد) فخرج الفاعل حقيقة نحو قام زيد والفاعل مجاز نحو كان زيد قائما لعدم التجرد لأن عاملهما لفظي وهو الفعل وخرجت الأعداد المسرودة نحو واحد اثنين ثلاثة فإنها وأن جردت عن العوامل اللفظية لا إسناد فيها ودخل نحو بحسبك درهم فحسبك مبتدأ ودرهم خبره ولا يقدح في ذلك كونه مجرورا بحرف زائد لأن الحرف الزائد وجوده كلا وجود (والخبر هو الاسم المسند إلى المبتدأ) فخرج عامل الفاعل فإنه مسند إلى الفاعل لا إلى المبتدأ (مثال المبتدأ والخبر زيد قائم فزيد مبتدأ) لأنه مجرد عن العوامل
কর্মবাচ্যের জন্য এবং ‘যায়েদ’ হলো কর্ম-কর্তা (نائب الفاعل)। (অথবা উহ্যভাবে, যেমন: ‘দাসটিকে বিক্রি করা হচ্ছে’)। এর মূল রূপ ছিল ‘ইউবইয়াউ’ (يبيع), যার প্রথম বর্ণে পেশ এবং শেষের আগের বর্ণে যবর ছিল। ‘ইয়া’ বর্ণের যবরটি তার পূর্ববর্তী বর্ণে স্থানান্তর করা হয়েছে, ফলে ‘ইয়া’ বর্ণটি তার মূল হরকত এবং স্থানান্তরের পর পূর্ববর্তী বর্ণের যবরের কারণে আলিফে রূপান্তরিত হয়েছে। সুতরাং ‘ইয়া’ বর্ণের যবরটি এখানে উহ্য (مقدر)। (এবং দড়িটি শক্ত করে বাঁধা হচ্ছে)। এর মূল রূপ ছিল ‘ইউশদাদু’ (يشدد), যেখানে দুটি ‘দাল’ বর্ণ ছিল। সমজাতীয় দুটি বর্ণের একটিকে অপরটির মধ্যে সন্ধি (إدغام) করা হয়েছে, ফলে তাদের প্রথমটির যবর উহ্য (مقدر) রয়ে গেছে। (আর যদি এর আমলকারী কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم فاعل) হয়, তবে তাকে নিশ্চিতভাবে কর্মবাচক বিশেষ্যের (اسم مفعول) রূপে আনা হবে, যেমন: ‘মাদরুবুন যায়দুন’)। এখানে ‘মাদরুব’ হলো কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم مفعول) এবং ‘যায়েদ’ হলো কর্ম-কর্তা (نائب الفاعل)। এর মূল বাক্য ছিল ‘দ্বারাবা আমরুন যায়দান’, অতঃপর কর্তাকে বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং কর্তৃবাচক বিশেষ্যের রূপটিকে কর্মবাচক বিশেষ্যের রূপে পরিবর্তন করা হয়েছে। (অথবা উহ্যভাবে, যেমন: ‘কাতিলু আমরিন’)। এখানে ‘কাতিল’ শব্দটি ‘মাকতুল’ (নিহত) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং ‘আমর’ হলো কর্ম-কর্তা (نائب الفاعل)। সুতরাং এখানে কর্মবাচ্যের (مفعول) রূপটি উহ্য (مقدرة)। (আর কর্ম-কর্তা (نائب الفاعل) দুই প্রকার: প্রকাশ্য (ظاهر), যেমনটি আমরা উদাহরণ দিয়েছি, এবং সর্বনাম (مضمر), যেমন: ‘উকরিমতু’)। এখানে একবচন উত্তম পুরুষের জন্য ‘তা’ বর্ণে পেশ যোগ করা হয়েছে। ‘উকরিমনা’ (أكرمنا) স্ত্রীলিঙ্গ একবচন মধ্যম পুরুষের জন্য ‘তা’ বর্ণে যের যোগ করে। ‘উকরিমতুহা’ (أكرمتها) দ্বিবচন মধ্যম পুরুষের জন্য, তা পুরুষ হোক বা স্ত্রী। ‘উকরিমতুম’ (أكرمتم) বহুবচন পুরুষ মধ্যম পুরুষের জন্য। ‘উকরিমতুন্না’ (أكرمتن) বহুবচন স্ত্রী মধ্যম পুরুষের জন্য। ‘উকরিমা’ (أكرم) একবচন পুরুষ নাম পুরুষের জন্য। ‘উকরিমাত’ (أكرمت) একবচন স্ত্রী নাম পুরুষের জন্য ‘তা’ বর্ণে সুকুনসহ। ‘উকরিমা’ (أكرما) দ্বিবচন নাম পুরুষের জন্য। ‘উকরিমু’ (أكرموا) বহুবচন পুরুষ নাম পুরুষের জন্য। ‘উকরিমনা’ (أكرمن) বহুবচন স্ত্রী নাম পুরুষের জন্য। (আর এই সকল উদাহরণেই ক্রিয়াটির প্রথম বর্ণটি পেশযুক্ত), যা হলো হামযা, (এবং শেষের পূর্ববর্তী বর্ণটি যেরযুক্ত), যা হলো ‘রা’ বর্ণ। এই সবগুলোর ক্ষেত্রে বলা হয়: এটি এমন একটি অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض) যা কর্মবাচ্যে (مبني لما لم يسم فاعله) গঠিত, আর সর্বনামটি হলো কর্ম-কর্তা (نائب الفاعل)। এটি একটি অপরিবর্তনীয় বিশেষ্য (اسم مبني) যার মধ্যে শব্দরূপ (إعراب) প্রকাশ পায় না।

তৃতীয় ও চতুর্থ অধ্যায়:

কর্তৃকারকীয় পদসমূহের (مرفوعات) মধ্য থেকে উদ্দেশ্য (مبتدأ) ও বিধেয় (خبر) এর অধ্যায়। (উদ্দেশ্য (مبتدأ) হলো সেই কর্তৃকারকীয় (مرفوع) বিশেষ্য যা শাব্দিক আমলকারী (عوامل لفظية) থেকে মুক্ত থাকে এবং যা সম্বন্ধায়নের (إسناد) জন্য অতিরিক্ত নয়)। ফলে প্রকৃত কর্তা (فاعل) এর সংজ্ঞার বাইরে চলে যায়, যেমন: ‘কামা যায়দুন’। তদ্রূপ রূপক কর্তা (فاعل) ও বহির্ভূত হয়, যেমন: ‘কানা যায়দুন কায়িমান’। কারণ এগুলোতে মুক্ত থাকার শর্তটি অনুপস্থিত, যেহেতু এগুলোর আমলকারী শাব্দিক, আর তা হলো ক্রিয়া (فعل)। তদ্রূপ ক্রমিক সংখ্যাগুলোও এর বাইরে থাকবে, যেমন: এক, দুই, তিন। কারণ এগুলি শাব্দিক আমলকারী (عوامل لفظية) থেকে মুক্ত হলেও এতে কোনো সম্বন্ধায়ন (إسناد) নেই। তবে ‘বি-হাসবিকা দিরহামুন’ এর মতো উদাহরণগুলো এর অন্তর্ভুক্ত হবে। এখানে ‘হাসবিকা’ হলো উদ্দেশ্য (مبتدأ) এবং ‘দিরহামুন’ হলো তার বিধেয় (خبر)। অতিরিক্ত হরফ দ্বারা এটি জেরযুক্ত (مجرور) হওয়াতে কোনো সমস্যা নেই, কারণ অতিরিক্ত হরফের অস্তিত্ব না থাকার মতোই গণ্য। (আর বিধেয় (خبر) হলো সেই বিশেষ্য যা উদ্দেশ্যের (مبتدأ) দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مسند))। ফলে কর্তার (فاعل) আমলকারীটি বহির্ভূত হয়ে যায়, কারণ সেটি কর্তার (فاعل) দিকে সম্বন্ধযুক্ত থাকে, উদ্দেশ্যের (مبتدأ) দিকে নয়। (উদ্দেশ্য (مبتدأ) ও বিধেয়ের (خبر) উদাহরণ হলো ‘যায়দুন কায়িমুন’। এখানে ‘যায়েদ’ হলো উদ্দেশ্য (مبتدأ)), কারণ এটি শাব্দিক আমলকারীসমূহ (العوامل) থেকে মুক্ত।
(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
اللفظية للإسناد (وقائم خبر) لأنه مسند إلى المبتدأ (والمبتدأ قسمان ظاهر ومضمر) كما تقدم في الفاعل ونائبه (فالظاهر أقسام) ثمانية الأول (مفرد) مذكر (نحو زيد قائم) والثاني (ومثنى مذكر نحو الزيدان قائمان و) الثالث (جمع مذكر مكسر نحو الزيود قيام و) الرابع (جمع مذكر سالم نحو الزيدون قائمون و) الخامس (مفرد مؤنث نحو هند قائمة و) السادس (مثنى مؤنث نحو الهندان قائمتان و) السابع (جمع تكسير مؤنث نحو الهنود قيام و) الثامن (جمع مؤنث سالم نحو الهندات قائمات) والخبر في ذلك كله مطابق لمبتدئه في الأفراد والتثنية والجمع تكسير أو تصحيحا وأقسام الظاهر كثيرة جدا وفيما ذكرناه كفاية فإن الذكي يدرك بالمثال الواحد ما لا يدركه الغبي بألف شاهد والمبتدأ (المضمر) أقسام) (اثنا عشر) الأول (متكلم وحده نحو أنا قائم و) الثاني (متكلم ومعه غيره أو معظم نفسه نحو نحن قائمون و) الثالث (المخاطب المذكر نحو انت قائم و) الرابع (المخاطبة المؤنثة نحو أنت قائمة و) الخامس (مثنى المخاطب مطلقا نحو أنتما قائمان) لمثنى المذكر (أو قائمتان) لمثنى المؤنث والسادس (جمع المخاطب نحو انتم قائمون) السابع (جمع المؤنث المخاطب نحو انتن قائمات و) الثامن (المفرد الغائب نحو هو قائم و) التاسع (المفردة الغائبة نحو هي قائمة) والعاشر (مثنى الغائب مطلقا نحو هما قائمان) في مثنى المذكر (أو قائمتان) في مثنى المؤنث والحادي عشر (جمع الذكور الغائبين نحو هم قائمون و) الثاني عشر (جمع الإناث الغائبات نحو: هنَّ قائمات) فالمبتدأ في ذلك كله مبني لا يظهر فيه إعراب (والخبر قسمان مفرد وغير مفرد فالمفرد هناك ما ليس جملة ولا شبهها ولو كان مثنى أو مجموعا) لمذكر أو مؤنث (كما تقدم من الأمثلة فالخبر فيها كلها مفرد) لأنه ليس جملة ولا شبهها (وغير المفرد أربعة أشياء الأول الجملة الأسمية) وهي ما صدرت باسم (نحو زيد بوه قائم فزيد مبتدأ أول وأبوه مبتدأ ثاني وقائم خبر المبتدأ الثاني) وهو أبوه والمبدأ الثاني وخبره جملة اسمية في موضع رفع (خبر المبدأ الأول) وهو زيد والجملة إذا وقعت خبرا وكانت غير المبتدأ في المعنى فلا بد فيها من رابط والرابط

সনদ বা সূত্রের (إسناد) শাব্দিক রূপ (এবং ‘কায়েমুন’ হলো সংবাদ (خبر)); কারণ এটি মুক্তাদা বা উদ্দেশ্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مسند)। (আর মুক্তাদা দুই প্রকার: প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য বা সর্বনাম), যেমনটি ইতিপূর্বে ফায়েল (কর্তা) ও নায়েবে ফায়েলের আলোচনায় অতিক্রান্ত হয়েছে। (অতঃপর প্রকাশ্য বিশেষ্যের প্রকারসমূহ) আটটি; প্রথমটি হলো পুংলিঙ্গ (একক (مفرد)) (যেমন: ‘যাইদুন কায়েমুন’)। দ্বিতীয়টি হলো (এবং পুংলিঙ্গ দ্বিবচন, যেমন: ‘যাইদানি কায়েমানি’ এবং) তৃতীয়টি হলো (পুংলিঙ্গ ভগ্ন বহুবচন, যেমন: ‘যাইয়ুদু কুইয়্যামুন’ এবং) চতুর্থটি হলো (পুংলিঙ্গ সঠিক বহুবচন, যেমন: ‘যাইদুনা কায়েমুনা’ এবং) পঞ্চমটি হলো (স্ত্রীলিঙ্গ একক (مفرد), যেমন: ‘হিন্দুন কায়েমাতুন’ এবং) ষষ্ঠটি হলো (স্ত্রীলিঙ্গ দ্বিবচন, যেমন: ‘হিন্দানি কায়েমাতানি’ এবং) সপ্তমটি হলো (স্ত্রীলিঙ্গ ভগ্ন বহুবচন, যেমন: ‘হুনুদু কুইয়্যামুন’ এবং) অষ্টমটি হলো (স্ত্রীলিঙ্গ সঠিক বহুবচন, যেমন: ‘হিন্দাতুন কায়েমাতুন’)। এই সমস্ত প্রকারের ক্ষেত্রে সংবাদ (خبر) তার মুক্তাদার সাথে একবচন, দ্বিবচন ও বহুবচন হওয়ার ক্ষেত্রে এবং ভগ্ন বা সঠিক বহুবচন হওয়ার ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। প্রকাশ্য বিশেষ্যের প্রকারসমূহ অত্যন্ত অধিক, তবে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট; কেননা একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি একটি উদাহরণের মাধ্যমেই তা অনুধাবন করতে পারেন যা একজন স্থূলবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি হাজারো নজিরের মাধ্যমেও অনুধাবন করতে পারে না। আর (সর্বনাম) মুক্তাদার (বারোটি প্রকার) রয়েছে। প্রথমটি হলো (একক বক্তা, যেমন: ‘আনা কায়েমুন’ এবং) দ্বিতীয়টি হলো (বক্তার সাথে অন্য কেউ থাকা অথবা বক্তার নিজেকে সম্মান প্রদর্শন করা, যেমন: ‘নাহনু কায়েমুনা’ এবং) তৃতীয়টি হলো (মধ্যম পুরুষ পুংলিঙ্গ সম্বোধিত ব্যক্তি, যেমন: ‘আনতা কায়েমুন’ এবং) চতুর্থটি হলো (মধ্যম পুরুষ স্ত্রীলিঙ্গ সম্বোধিত ব্যক্তি, যেমন: ‘আনতি কায়েমাতুন’ এবং) পঞ্চমটি হলো (সাধারণভাবে মধ্যম পুরুষ দ্বিবচন, যেমন: ‘আনতুমা কায়েমানি’) পুংলিঙ্গ দ্বিবচনের জন্য (অথবা ‘কায়েমাতানি’) স্ত্রীলিঙ্গ দ্বিবচনের জন্য। ষষ্ঠটি হলো (মধ্যম পুরুষ পুংলিঙ্গ বহুবচন, যেমন: ‘আনতুম কায়েমুনা’)। সপ্তমটি হলো (মধ্যম পুরুষ স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচন, যেমন: ‘আনতুন্না কায়েমাতুন’ এবং) অষ্টমটি হলো (নাম পুরুষ পুংলিঙ্গ একক, যেমন: ‘হুয়া কায়েমুন’ এবং) নবমটি হলো (নাম পুরুষ স্ত্রীলিঙ্গ একক, যেমন: ‘হিয়া কায়েমাতুন’)। দশমটি হলো (সাধারণভাবে নাম পুরুষ দ্বিবচন, যেমন: ‘হুমা কায়েমানি’) পুংলিঙ্গ দ্বিবচনের ক্ষেত্রে (অথবা ‘কায়েমাতানি’) স্ত্রীলিঙ্গ দ্বিবচনের ক্ষেত্রে। একাদশটি হলো (নাম পুরুষ পুংলিঙ্গ বহুবচন, যেমন: ‘হুম কায়েমুনা’ এবং) দ্বাদশটি হলো (নাম পুরুষ স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচন, যেমন: ‘হুন্না কায়েমাতুন’)। এই সমস্ত ক্ষেত্রে মুক্তাদা হলো মাবনি বা অপরিবর্তনীয়, যার মধ্যে বাহ্যিক কোনো বিভক্তি প্রকাশ পায় না। (আর সংবাদ (خبر) দুই প্রকার: একক (مفرد) এবং একক নয় এমন। এক্ষেত্রে একক (مفرد) বলতে উদ্দেশ্য হলো যা বাক্য বা বাক্যের সদৃশ নয়, যদিও তা দ্বিবচন বা বহুবচন হয়) পুংলিঙ্গ অথবা স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রে (যেমনটি পূর্বের উদাহরণগুলোতে অতিক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং সেগুলোর সবকটিতেই সংবাদ (خبر) হলো একক (مفرد)); কারণ তা বাক্য বা বাক্যসদৃশ কোনটিই নয়। (আর একক নয় এমন সংবাদ (خبر) চারটি বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত। প্রথমটি হলো বিশেষ্যমূলক বাক্য), যা বিশেষ্য দিয়ে শুরু হয়। (যেমন: ‘যাইদুন আবুহু কায়েমুন’। এখানে ‘যাইদুন’ হলো প্রথম মুক্তাদা, ‘আবুহু’ হলো দ্বিতীয় মুক্তাদা এবং ‘কায়েমুন’ হলো দ্বিতীয় মুক্তাদার সংবাদ (خبر))। এই দ্বিতীয় মুক্তাদা এবং তার সংবাদ (خبر) মিলে একটি বিশেষ্যমূলক বাক্য হিসেবে রফ’ বা পেশের স্থলে (প্রথম মুক্তাদার সংবাদ (خبر) হিসেবে গণ্য হবে), যা হলো ‘যাইদুন’। আর বাক্য যখন সংবাদ (خبر) হিসেবে আসে এবং তা যদি অর্থের দিক থেকে হুবহু মুক্তাদা না হয়, তবে সেখানে একটি সংযোগকারী থাকা অপরিহার্য। আর সেই সংযোগকারীটি হলো...

(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
هنا (بين المبتدأ الأول وخبره لها من أبوه) فإنها عائدة على زيد والشيء (الثاني الجملة الفعلية) وهي ما صدرت بفعل (نحو زيد قعدا خوه فزيد مبتدأ) والجملة بعده وهي (قعد أخوه فعل وفاعل خبر زيد والرابط بينهما) أي بين زيد وخبره الهاء من أخوه لأنها عائدة على زيد والشيء (الثالث الظرف) المكاني والزماني نحو زيد عندك والسفر غدا (فزيد مبتدأ وعندك ظرف مكان متعلق بمحذوف وجوبا تقديره مستقر) أن قدر مفردا (أو استقر) أن قدر جملة (وذلك المحذوف خبرا لمبتدأ) على الصحيح وقس على ذلك السفر غدا الشيء (الرابع الجار والمجرور نحو زيد في الدار) والبرد في الشتاء (فزيد) والبرد كل منهما (مبتدأ وفي الدار) وفي الشتاء (جارو مجرور متعلق بمحذوف وجوبا تقديره مستقرا أو استقر وذلك المحذوف خبر المبتدأ) على الصحيح.

الباب الخامس:

من المرفوعات (باب اسم كان و) اسم (أخواتها أعلم) وفقك الله للعمل الصالح (أن كان وأخواتها ترفع الاسم) أي المبتدأ (وتنصب الخبر وهي ثلاثة عشر فعلا) الأول (كان) وهي لاتصاف المخبر عنه بالخبر في الماضي أما مع الدوام والاستمرار نحو كان الله غفورا رحيما وأما مع الانقطاع نحو كان الشيخ شابا والثاني (أمسى) وهي لاتصاف المخبر عنه بالخبر في المساء نحو أمسى البرد شديدا أو الثالث (أصبح) وهي لاتصاف المخبر عنه بالخبر في الصباح نحو اصبح السفر رخيصا والرابع (أضحى) وهي لاتصاف المخبر عنه بالخبر في الضحى نحو اضحى الفقيه مجتهدا والخامس (ظل) وهي لاتصاف المخبر عنه بالخبر في النهار نحو ظل زيد صائمًا والسادس (بات)، (صار) وهي للتحويل والانتقال نحو صار الجاهل عالما والثامن (ليس وهي لنفي الحال) عند الإطلاق والتجرد عن القرينة نحو ليس الصلح قائما أي الأن والتاسع والعاشر والحادي عشر والثاني عشر (ما زال وما فتئ وما برح وما انفك) وهذه الأربعة لملازمة الخبر للمخبر عنه على حسب ما يقتضيه الحال نحو ما زال الجود محبوبا وما فتئ العلم نافعا وما برح الجهل مضرا وما انفك الصبر مرا والثالث عشر (ما دام) وهي لاستمرار
এখানে (প্রথম মুবতাদা ও তার খবরের মাঝখানে 'লাহা' সর্বনামটি) যা যায়িদ-এর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী এবং দ্বিতীয় বিষয়টি হলো (ফেলিয়া বাক্য) আর তা হলো যা ক্রিয়া দ্বারা শুরু হয় (যেমন: 'যায়িদুন ক’আদা আখুহু' - এখানে যায়িদ হলো মুবতাদা)। তার পরবর্তী বাক্যটি হলো (ক’আদা আখুহু - এটি ক্রিয়া ও কর্তা মিলে যায়িদ-এর খবর এবং তাদের উভয়ের মাঝে একটি যোগসূত্র রয়েছে) অর্থাৎ যায়িদ এবং তার খবরের মাঝে 'আখুহু' শব্দের 'হা' সর্বনামটি বিদ্যমান, কারণ এটি যায়িদ-এর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। তৃতীয় বিষয়টি হলো (অধিকরণ/যরফ), যা স্থান ও কালবাচক হয়ে থাকে; যেমন: 'যায়িদ তোমার নিকট আছে' এবং 'ভ্রমণ আগামীকাল'। (এখানে যায়িদ হলো মুবতাদা এবং 'তোমার নিকট' হলো স্থানবাচক অধিকরণ যা আবশ্যিকভাবে একটি উহ্য শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট, যার সম্ভাব্য রূপ হলো 'অবস্থিত') যদি একে একক শব্দ হিসেবে ধরা হয়, (অথবা 'অবস্থিত হয়েছে') যদি একে বাক্য হিসেবে ধরা হয়। (এবং সেই উহ্য অংশটিই হলো মুবতাদার খবর) বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে। এরই ভিত্তিতে 'ভ্রমণ আগামীকাল' বাক্যটিকেও অনুমান করে নিন। চতুর্থ বিষয়টি হলো (জর ও মজুর, যেমন: যায়িদ ঘরের মধ্যে আছে) এবং 'শীতকালে ঠাণ্ডা'। (এখানে যায়িদ) এবং 'ঠাণ্ডা' এদের প্রত্যেকটি (মুবতাদা এবং ঘরের মধ্যে) ও 'শীতকালের মধ্যে' হলো (জর ও মজুর যা আবশ্যিকভাবে একটি উহ্য শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট, যার সম্ভাব্য রূপ হলো 'অবস্থিত' অথবা 'অবস্থিত হয়েছে' এবং সেই উহ্য অংশটিই হলো মুবতাদার খবর) বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে।

পঞ্চম অধ্যায়:

মারফু’আত বা পেশযুক্ত পদসমূহের আলোচনা (কানা-এর ইসিম ও তার সমজাতীয় শব্দাবলির ইসিমের অধ্যায়। জেনে রেখো) আল্লাহ তোমাকে নেক আমল করার তাওফীক দান করুন (নিশ্চয়ই কানা ও তার সমজাতীয় শব্দাবলি ইসিমকে রফা প্রদান করে) অর্থাৎ মুবতাদাকে (এবং খবরকে নসব প্রদান করে; আর এগুলো তেরোটি ক্রিয়া)। প্রথমটি হলো (কানা), এটি অতীতে খবরের গুণ দ্বারা খবর প্রদানকৃত সত্তার বিশেষিত হওয়া বোঝায়। তবে কখনো তা চিরস্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্নভাবে হয়, যেমন: 'আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু'; আবার কখনো তা বিচ্ছিন্নভাবেও হয়, যেমন: 'বৃদ্ধ ব্যক্তিটি যুবক ছিল'। দ্বিতীয়টি হলো (আমসা), এটি সন্ধ্যায় খবরের গুণ দ্বারা বিশেষিত হওয়া বোঝায়, যেমন: 'সন্ধ্যায় শীত তীব্রতর হলো'। তৃতীয়টি হলো (আসবাহা), এটি সকালে খবরের গুণ দ্বারা বিশেষিত হওয়া বোঝায়, যেমন: 'সকালে ভ্রমণ সস্তা হলো'। চতুর্থটি হলো (আদহা), এটি চাশতের সময় বা পূর্বাহ্নে খবরের গুণ দ্বারা বিশেষিত হওয়া বোঝায়, যেমন: 'পূর্বাহ্নে ফকীহ ব্যক্তিটি একজন মুজতাহিদ (مجتهد) হলেন'। পঞ্চমটি হলো (যাল্লা), এটি দিবসে খবরের গুণ দ্বারা বিশেষিত হওয়া বোঝায়, যেমন: 'যায়িদ সারা দিন রোযাদার ছিল'। ষষ্ঠটি হলো (বাতা), (সারা), যা রূপান্তর ও এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন: 'অজ্ঞ ব্যক্তিটি আলেম বা জ্ঞানী হলো'। অষ্টমটি হলো (লাইসা, যা বর্তমান কালকে নেতিবাচক বা অস্বীকার করার জন্য ব্যবহৃত হয়) যখন কোনো নির্দিষ্ট সংকেত বা উপলক্ষ্য ছাড়া সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, যেমন: 'সন্ধি বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত নয়'। নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ হলো (মা যালা, মা ফাতিয়া, মা বারিহা এবং মা ইনফাক্কা)। এই চারটি শব্দ পরিস্থিতি অনুযায়ী খবরের সাথে খবর প্রদানকৃত সত্তার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যেমন: 'দানশীলতা সর্বদা প্রিয়', 'জ্ঞান সর্বদা উপকারী', 'মূর্খতা সর্বদা ক্ষতিকারক' এবং 'ধৈর্য সর্বদা তিক্ত'। তেরোতম হলো (মা দামা), যা স্থায়িত্ব বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়...
(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
الخبر نحو لا راحة ما دام الاختلاف موجودا (وهذه الأفعال) الثلاثة عشر بالنسبة إلى العمل (على ثلاثة أقسام) الأول (ما يعمل بلا شرط وهو ثمانية من كان إلى ليس) أي كان وليس وما بينهما والثاني (وما يشترط فيه نفي) بأي أداة كانت (أو شبهه) وهو النهي والدعاء والاستفهام (وهو زال وفتئ وانفك وبرح) وإنما اشترط فيها ذلك لأن معناها النفي ونفي النفي اثبات والقسم الثالث (ما يشترط فيه تقدم ما المصدرية الظرفية وهو دام خاصة مثال كان قولك كان زيد قائما فكان فعل ماض ناقص يرفع الاسم وينصب الخبر زيد اسمها وهو مرفوع) وعلامة رفعه الضمة (وقائما خبرها وهو منصوب) وعلامة نصبه الفتحة وسميت ناقصة لافتقارها إلى خبر منصوب (وكذا القول في باقيها نقول أمسى زيد فقيها) فأمسى فعل ماض ناقص وزيد اسمها وفقيها خبرها (واصبح عمرو ورعًا) فاصبح فعل ماض ناقص وعمروا سمها وورعا خبرها (وأضحى محمد متعبدا) فاضحى فعل ماض ناقص ومحمد اسمها ومتعبدا خبرها (وظل بكر ساهرا) فظل فعل ماض ناقص وبكر اسمها وساهرا خبرها (وبات اخوك قائما) فبات فعل ماض ناقص وأخوك اسمها نائما خبرها (وصار السعر رخيصا) فصار فعل ماض ناقص والسعر اسمها ورخيصا خبرها (وليس الزمان منصفا) فليس فعل ماض ناقص والزمان اسمها ومنصفا خبرها (وما زال الرسول صادقا) فما نافية وزال فعل ماض ناقص والرسول اسمها وصادقا خبرها (وما فتى العبد خاضعا) فما نافية وفتى فعل ماض ناقص والعبد اسمها وخاضعا خبرها (وما انفك الفقيه مجتهدا) فما نافية وانفك فعل ماض ناقص والعبد اسمها وخاضعا خبرها (وما برح صاحبك متبسما) فما نافية وبرح فعل ماض ناقص وصاحبك اسمها ومتبسما خبرها (ولا أصحبك ما دام زيد مترددا إليك) فما مصدرية ظرفية وسميت ما هذه ظرفية لنيابتها عن الظرف وهو المدة ومصدرية لتأولها مع صلتها بمصدر والتقدير مدة دوام زيد مترددا إليك (وكذا القول فيما تصرف منها) من المضارع والأمر واسم الفاعل واسم المفعول وكذا المصدر على رأى الكوفيين (فتقول في مضارع كان يكون زيد قائمًا) فيكون فعل مضارع ناقص وزيد اسمها وقائما خبرها (وفي الأمر

খবর (خبر) যেমন: "যতদিন মতভেদ বিদ্যমান থাকবে ততদিন কোনো স্বস্তি নেই।" (এবং এই) তেরোটি (ক্রিয়া) আমল বা কার্যকারিতার বিচারে (তিনটি ভাগে বিভক্ত)। প্রথম প্রকার (যা কোনো শর্ত ছাড়াই আমল করে এবং সেগুলো সংখ্যায় আটটি; 'কানা' থেকে 'লাইসা' পর্যন্ত), অর্থাৎ: 'কানা', 'লাইসা' এবং এ দুটির মধ্যবর্তী ক্রিয়াসমূহ। দ্বিতীয় প্রকার (যার জন্য 'নফি' বা না-বোধক অর্থ থাকা শর্ত), তা যে কোনো অব্যয় দ্বারা হোক না কেন, (অথবা 'নফি'-এর সদৃশ কিছু শর্ত), আর তা হলো নেহি (নিষেধ), দোয়া এবং ইস্তেফহাম (জিজ্ঞাসা)। (আর সেগুলো হলো: 'যালা', 'ফাতাআ', 'ইনফাক্কা' এবং 'বারিহা')। এগুলোতে এই শর্তারোপ করা হয়েছে কারণ এগুলোর অর্থ হলো 'নফি' বা না-বোধক, আর না-বোধককে না-বোধক করা হলে তা ইতিবাচকতা বা 'ইসবাত' প্রকাশ করে। তৃতীয় প্রকার (যার পূর্বে ‘মা মাসদারিয়্যাহ যারফিয়্যাহ’ থাকা শর্ত; আর এটি বিশেষভাবে কেবল 'দামা' ক্রিয়াটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। উদাহরণস্বরূপ 'কানা'-র ক্ষেত্রে তোমার উক্তি: "যায়েদ দণ্ডায়মান ছিল", এখানে 'কানা' হলো একটি অসম্পূর্ণ (ناقص) অতীতকালীন ক্রিয়া যা ইসিমকে রফা প্রদান করে এবং খবরকে (خبر) নসব প্রদান করে; 'যায়েদ' হলো এর ইসিম এবং তা মারফু (مرفوع))। আর এর রফা-এর আলামত হলো দম্মাহ। ('ক্বয়িমান' হলো এর খবর (خبر) এবং তা মানসুব)। আর এর নসব-এর আলামত হলো ফাতহাহ। একে 'নাকেস' বা অসম্পূর্ণ (ناقص) নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি একটি মানসুব খবরের (خبر) মুখাপেক্ষী হয়। (একইভাবে অন্যান্যগুলোর ক্ষেত্রেও বলা হবে; আমরা বলি: "যায়েদ সন্ধ্যায় ফকীহ হলো")। এখানে 'আমসা' হলো একটি অসম্পূর্ণ (ناقص) অতীতকালীন ক্রিয়া, 'যায়েদ' হলো এর ইসিম এবং 'ফকীহান' হলো এর খবর (خبر)। (এবং "আমর ভোরে পরহেযগার হলো")। এখানে 'আসবাহা' হলো একটি অসম্পূর্ণ (ناقص) অতীতকালীন ক্রিয়া, 'আমর' এর ইসিম এবং 'ওয়ারিআন' হলো এর খবর (خبر)। (এবং "মুহাম্মদ চাশতের সময় ইবাদতকারী হলো")। এখানে 'আদহা' হলো একটি অসম্পূর্ণ (ناقص) অতীতকালীন ক্রিয়া, 'মুহাম্মদ' এর ইসিম এবং 'মুতায়াব্বিদান' হলো এর খবর (خبر)। (এবং "বকর সারাদিন জাগ্রত থাকল")। এখানে 'যাল্লা' হলো একটি অসম্পূর্ণ (ناقص) অতীতকালীন ক্রিয়া, 'বকর' এর ইসিম এবং 'সাহিরা' হলো এর খবর (خبر)। (এবং "তোমার ভাই দণ্ডায়মান অবস্থায় রাত কাটাল")। এখানে 'বাতা' হলো একটি অসম্পূর্ণ (ناقص) অতীতকালীন ক্রিয়া, 'আখুকা' হলো এর ইসিম এবং 'নায়েমান' হলো এর খবর (خبر)। (এবং "দাম সস্তা হলো")। এখানে 'সারা' হলো একটি অসম্পূর্ণ (ناقص) অতীতকালীন ক্রিয়া, 'আস-সি’রু' হলো এর ইসিম এবং 'রাখীসান' হলো এর খবর (خبر)। (এবং "সময় ন্যায়পরায়ণ নয়")। এখানে 'লাইসা' হলো একটি অসম্পূর্ণ (ناقص) অতীতকালীন ক্রিয়া, 'আয-যামান' হলো এর ইসিম এবং 'মুনসিফান' হলো এর খবর (خبر)। (এবং "রাসূল সর্বদা সত্যবাদী (صادق) ছিলেন")। এখানে 'মা' হলো নাফিয়াহ বা না-বোধক অব্যয়, 'যালা' হলো একটি অসম্পূর্ণ (ناقص) অতীতকালীন ক্রিয়া, 'আর-রাসূল' হলো এর ইসিম এবং 'সাদিক্বান' হলো এর খবর (خبر)। (এবং "বান্দা সর্বদা বিনয়ী থাকল")। এখানে 'মা' হলো নাফিয়াহ, 'ফাতাআ' হলো একটি অসম্পূর্ণ (ناقص) অতীতকালীন ক্রিয়া, 'আল-আব্দ' হলো এর ইসিম এবং 'খদিআন' হলো এর খবর (خبر)। (এবং "ফকীহ সর্বদা গবেষণায় লিপ্ত থাকলেন")। এখানে 'মা' হলো নাফিয়াহ, 'ইনফাক্কা' হলো একটি অসম্পূর্ণ (ناقص) অতীতকালীন ক্রিয়া, 'আল-আব্দ' হলো এর ইসিম এবং 'খদিআন' হলো এর খবর (خبر)। (এবং "তোমার সাথী সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল থাকল")। এখানে 'মা' হলো নাফিয়াহ, 'বারিহা' হলো একটি অসম্পূর্ণ (ناقص) অতীতকালীন ক্রিয়া, 'সাহিবুকা' হলো এর ইসিম এবং 'মুতাবাস্সিমান' হলো এর খবর (خبر)। (এবং "আমি তোমার সঙ্গী হব না যতদিন যায়েদ তোমার নিকট যাতায়াত করবে")। এখানে 'মা' হলো মাসদারিয়্যাহ যারফিয়্যাহ। এই 'মা'-কে যারফিয়্যাহ বলা হয় কারণ এটি 'যরফ' বা সময়ের প্রতিনিধিত্ব করে, আর তা হলো সময়কাল; আর মাসদারিয়্যাহ বলা হয় কারণ এটি তার 'সিলাহ' বা পরবর্তী বাক্যাংশের সাথে মিলে মাসদারের অর্থ প্রদান করে। এর প্রচ্ছন্ন রূপ হলো: "যায়েদের তোমার নিকট যাতায়াত করার স্থায়িত্বকাল পর্যন্ত"। (একইভাবে এই ক্রিয়াগুলো থেকে যা রূপান্তরিত হয় তার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য); যথা: মুযারে, আমর, ইসমুল ফায়েল, ইসমুল মাফউল এবং কুফী পণ্ডিতদের মতে মাসদারের ক্ষেত্রেও। (যেমন 'কানা'-র মুযারের ক্ষেত্রে তুমি বলবে: "যায়েদ দণ্ডায়মান হচ্ছে বা হবে")। এখানে 'ইয়াকুনু' হলো একটি অসম্পূর্ণ (ناقص) মুযারে ক্রিয়া, 'যায়েদ' হলো এর ইসিম এবং 'ক্বয়িমান' হলো এর খবর (خبر)। (এবং আমরের ক্ষেত্রে...)

(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
كن قائما) فكن فعل أمر ناقص واسمه مستتر فيه وقائما خبره (وفي اسم الفاعل كائن زيد قائمًا) فكائن اسم فاعل كان الناقصة وزيد اسمه وقائما خبره (وفي اسم المفعول) على رأى (مكون قائمًا) فكون اسم مفعول كان الناقصة محول عن اسم الفاعل الرافع للاسم الناصب للخبر (فحذف الفعل وأنيب عنه الخبر فارتفع ارتفاعه) وقيل لا يبنى من الناقصة اسم مفعول (وفي المصدر عجبت من كون زيدا قائما) فكون مصدر كان الناقصة وزيد مجرور بالأضافة وموضعه رفع على أنه اسمه وقائما خبره وقيل لا مصدر للناقصة (وقس على ذلك ما تصرف من أخواتها) وكلها يجوز استعمالها تامة إلا ثلاثة ليس وفتى وزال فإنها ملازمة للنقص ومعنى التمام أن تكتفى بمرفوعها ولا تحتاج إلى منصوب وتكون افعالا قاصرة ومعانيها مختلفة فمعنى كان وجد وظل أقام نهارا وبات أقام ليلا واضحى وأصبح وأمسى دخل في الضحى والصباح والمسا وبرح وانفك انفصل ودام بقى.

الباب السادس:

من المرفوعات باب خبران وخبر أخواتها (اعلم) وفقك الله (أن إن وأخواتها تنصب الاسم وترفع الخبر) تشبيها بفعل تقدم منصوبه على مرفوعه (وهي ستة أحرف إن المكسورة) الهمزة (وأن المفتوحة) الهمزة (وكأن ولكن المشددات) النونات الأربعة (وليت ولعل المفتوحات) ومعانيها مختلفة فإن المكسورة وأن المفتوحة لتوكيد النسبة ورفع الشك عنها والانكار لها وكان للتشبيه وهو الدلالة على مشاركة أمر لأمر في معنى ولكن للاستدراك وهو تعقيب الكلام برفع ما يتوهم ثبوته أو نفيه وليت للتمني وهو طلب ما لا طمع فيه عسر ولعل للترجي وهو طلب الأمر المحبوب (نقول أن زيدا قائم وبلغني أن زيد قائم) وتمتاز أن المفتوحة بكونها لا بد أن يطلبها عامل كما سئلنا بخلاف المكسورة وتقول (كأن زيد أسد فكأن حرف تشبيه ونصب وزيدا اسمها: وأسد خبرها) وقائم خبرها وتمتاز أن المفتوحة بكونها لا بد أن يطلبها عامل كما سئلنا بخلاف المكسورة وتقول كان زيد أسد فكأن حرف تشبيه ونصب وزيدا اسمها وأسد خبرها والأصل أن زيدا كأسد فقدمت الكاف على أن ليدل الكلام من أول الأمر على التشبيه كما في أخواتها (وقام الناس لكن زيدا جالس فلكن حرف استدراك وزيد اسمها) وهو منصوب (وجالس خبرها)
(কুন কায়িমান) এখানে 'কুন' (كن) হলো একটি আদেশবাচক অসম্পূর্ণ ক্রিয়া (فعل أمر ناقص), এর ইসিম (اسم) এর ভেতরে উহ্য রয়েছে এবং 'কায়িমান' (قائما) তার খবর (خبر)। (এবং কর্তৃবাচক বিশেষ্যের (اسم الفاعل) ক্ষেত্রে যেমন: 'কাইনুন যায়দুন কায়িমান') এখানে 'কাইনুন' (كائن) হলো অসম্পূর্ণ 'কানা' এর কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل), 'যয়দুন' (زيد) তার ইসিম (اسم) এবং 'কায়িমান' (قائما) তার খবর (خبر)। (এবং কর্মবাচক বিশেষ্যের (اسم المفعول) ক্ষেত্রে) একটি মতানুসারে (মুকওয়ানুন কায়িমান) এখানে 'মুকওয়ানুন' (مكون) হলো অসম্পূর্ণ 'কানা' এর কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم المفعول), যা সেই কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) থেকে রূপান্তরিত হয়েছে যা ইসিমকে রফা (رفع) প্রদানকারী এবং খবরকে নসব (نصب) প্রদানকারী ছিল। (অতঃপর ক্রিয়াটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং খবরকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, ফলে সেটি রফা (رفع) প্রাপ্ত হয়েছে)। মতান্তরে, অসম্পূর্ণ ক্রিয়া (ناقصة) থেকে কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم مفعول) গঠিত হয় না। (এবং ক্রিয়ামূলের (المصدر) ক্ষেত্রে যেমন: আমি যায়দ কায়িমান হওয়ার বিষয়ে আশ্চর্যবোধ করেছি) এখানে 'কাউনুন' (كون) হলো অসম্পূর্ণ 'কানা' এর ক্রিয়ামূল (مصدر), আর 'যয়দুন' সম্বন্ধের (إضافة) কারণে মাজরুর (مجرور) হয়েছে কিন্তু তার প্রকৃত স্থান হলো রফা (رفع) যেহেতু সেটি তার ইসিম (اسم), এবং 'কায়িমান' তার খবর (خبر)। আরও বলা হয়েছে যে, অসম্পূর্ণ ক্রিয়ার কোনো ক্রিয়ামূল (مصدر) নেই। (এবং এর ওপর ভিত্তি করেই এর সমগোত্রীয় শব্দগুলোর রূপান্তরকে অনুমান করে নিন)। এগুলোর সবগুলোই পূর্ণাঙ্গ ক্রিয়া (تامة) হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া বৈধ, তবে তিনটি শব্দ ব্যতীত: 'লায়সা' (ليس), 'ফাতা' (فتى) এবং 'যালা' (زال); কারণ এগুলো সর্বদা অসম্পূর্ণতা (نقص) গুণের সাথে অবিচ্ছেদ্য। পূর্ণাঙ্গ (تمام) হওয়ার অর্থ হলো—ক্রিয়াটি কেবল তার রফা যুক্ত পদের (مرفوع) মাধ্যমেই অর্থ পূর্ণ করে এবং কোনো নসব যুক্ত পদের (منصوب) প্রয়োজন বোধ করে না; তখন সেগুলো অকর্মক ক্রিয়া (أفعال قاصرة) হিসেবে গণ্য হয় এবং সেগুলোর অর্থও ভিন্ন ভিন্ন হয়। যেমন, 'কানা' এর অর্থ হয় অস্তিত্ব লাভ করা (وجد), 'যাল্লা' এর অর্থ হয় দিনের বেলা অবস্থান করা, 'বাতা' এর অর্থ হয় রাত্রি যাপন করা, এবং 'আদহা', 'আসবাহা' ও 'আমসা' এর অর্থ হয় যথাক্রমে চাশত, সকাল ও সন্ধ্যায় প্রবেশ করা। 'বারাহা' এবং 'ইনফাক্কা' এর অর্থ হয় বিচ্ছিন্ন হওয়া (انفصل) এবং 'দামা' এর অর্থ হয় স্থায়ী থাকা (بقى)।

ষষ্ঠ অধ্যায়:

রফা যুক্ত পদসমূহের (مرفوعات) মধ্য হতে 'ইন্না' এবং এর সমগোত্রীয় শব্দাবলির খবরের অধ্যায়। (জেনে রাখুন) আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দিন (নিশ্চয়ই 'ইন্না' এবং এর সমগোত্রীয় শব্দগুলো ইসিমকে (اسم) নসব (نصب) প্রদান করে এবং খবরকে (خبر) রফা (رفع) প্রদান করে), সেই ক্রিয়ার সাথে সাদৃশ্যতার কারণে যার নসব যুক্ত পদটি তার রফা যুক্ত পদের পূর্বে আসে। (এগুলো ছয়টি অক্ষর: কাসরা যুক্ত হামযা সহ 'ইন্না'), (ফাতহা যুক্ত হামযা সহ 'আন্না'), (তাশদীদ যুক্ত নূন সহ 'কাআন্না' এবং 'লাকিন্না'—এই চারটি নূন যুক্ত শব্দ), এবং (ফাতহা যুক্ত 'লায়তা' ও 'লাআল্লা')। এগুলোর অর্থ ভিন্ন ভিন্ন। কাসরা যুক্ত 'ইন্না' এবং ফাতহা যুক্ত 'আন্না' কোনো সম্বন্ধকে দৃঢ় করার জন্য (توكيد) এবং সে সম্পর্কে সন্দেহ (شك) ও অস্বীকৃতি (إنكار) দূর করার জন্য ব্যবহৃত হয়। 'কাআন্না' উপমা প্রদানের (تشبيه) জন্য ব্যবহৃত হয়, যা কোনো একটি বিষয়কে অন্য একটি বিষয়ের সাথে কোনো বিশেষ অর্থে অংশীদার করার নির্দেশ প্রদান করে। 'লাকিন্না' সংশয় নিরসনের (استدراك) জন্য ব্যবহৃত হয়, যা পূর্ববর্তী কথার পর এমন কোনো বিষয়ের অবতারণা করে যা দ্বারা সম্ভাব্য কোনো ভুল ধারণা বা অস্বীকৃতি দূর করা হয়। 'লায়তা' আকাঙ্ক্ষার (تمني) জন্য ব্যবহৃত হয়, যা এমন কোনো কঠিন বিষয় প্রার্থনা করা যার কোনো আশা নেই। আর 'লাআল্লা' প্রত্যাশার (ترجي) জন্য ব্যবহৃত হয়, যা কোনো পছন্দনীয় বিষয় প্রার্থনা করা। (আমরা বলি: 'ইন্না যায়দান কায়িমুন' এবং আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, 'আন্না যায়দান কায়িমুন')। ফাতহা যুক্ত 'আন্না' এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, একে অবশ্যই কোনো আমেল (عامل) বা প্রভাবক দাবি করতে হয়, যেমনটি আমাদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছে; কাসরা যুক্ত 'ইন্না' এর বিষয়টি এমন নয়। এবং আপনি বলবেন (কাআন্না যায়দান আসাদুন; এখানে 'কাআন্না' হলো উপমা প্রদানকারী ও নসব প্রদানকারী অক্ষর (حرف تشبيه ونصب), আর 'যায়দান' তার ইসিম (اسم) এবং 'আসাদুন' তার খবর (خبر))। এবং 'কায়িমুন' তার খবর। ফাতহা যুক্ত 'আন্না' এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, একে অবশ্যই কোনো আমেল (عامل) দাবি করতে হয়, যেমনটি আমাদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছে; কাসরা যুক্ত 'ইন্না' এর বিষয়টি এমন নয়। এবং আপনি বলবেন 'কাআন্না যায়দান আসাদুন'; এখানে 'কাআন্না' উপমা প্রদানকারী ও নসব প্রদানকারী অক্ষর এবং 'যায়দান' তার ইসিম ও 'আসাদুন' তার খবর। এর মূল রূপ ছিল 'ইন্না যায়দান কা-আসাদিন', অতঃপর 'কাফ' বর্ণটিকে 'ইন্না' এর পূর্বে নিয়ে আসা হয়েছে যাতে আলোচনার শুরু থেকেই উপমার (تشبيه) বিষয়টি স্পষ্ট হয়, যেমনটি তার অন্যান্য সমগোত্রীয় শব্দের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। (মানুষ দাঁড়িয়েছে কিন্তু যায়দ বসা; এখানে 'লাকিন্না' হলো সংশয় নিরসনকারী অক্ষর (حرف استدراك) এবং 'যায়দান' তার ইসিম (اسم)), যা নসব (منصوب) প্রাপ্ত এবং ('জালিসুন' তার খবর (خبر))।
(খণ্ড: ১) শারহুল আযহারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وهو مرفوع (وليت الحبيب قادم فليت حرف تمني والحبيب اسمها) وهو منصوب (وقادم خبرها) وهو مرفوع (ولعل الله راحم فلعل حرف ترج والله اسمها) وهو منصوب (وراحم خبرها) وهو مرفوع (باب تتميم النواسخ) وهو ما ينصب المبتدأ والخبر مفعولين (وهو ظننت وأخواتها) وهي سبعة ظننت وحسبت وزعمت خلت وعلمت ورأيت ووجدت فالأربعة الأول نفيد ترجيح وقوع المفعول الثاني والثلاثة الباقية تفيد تحقيق وقوعه (تقول ظننت زيدا قائما فظننت فعل وفاعل) الفعل ظن والفاعل ضمير المتكلم وهو التاء (وزيدا مفعول أول وقائما مفعول ثان وكذا القول في حسبت عمرا مقيما) فحسبت فعل وفاعل وعمرا مفعول أول ومقيما مفعول ثان (وزعمت راشدا صادقا) فزعمت فعل وفاعل وراشدا مفعول أول وصادقا مفعول ثان (وخلت الهلال لائحا) فخلت فعل وفاعل وراشدا مفعول أول ولايحا مفعول ثان (وعملت المستشار ناصحًا) فعلمت فعل وفاعل والمستشار مفعول أول وناصحا مفعول ثان (ورأيت الجود محبوبًا) فرأيت فعل وفاعل والجود مفعول أول ومحبوبا مفعول ثان (ووجدت الصدق منجيا وما أشبه ذلك) مما ينصب مفعولين أصليهما المبتدأ والخبر بخلاف نحو أعطيت زيدا درهما فإنه ليس من النواسخ لأن مفعوليه ليس أصلهما المبتدأ إذ لا يقال زيد درهم.

الباب السابع:

من المرفوعات (باب تابع المرفوع والمراد به) كل ثان اعرب بإعراب سابقه الحاصل والمتجدد فخرج الخبر فإنه مغرب بإعراب سابقة الحاصل دون المتجدد بدخول الناسخ وحال المنصوب نحو رأيت زيدا ضاحكا فأنه معرب بإعراب سابقه الحاصل ولا يتبع سابقه إذا زال عامل النصب وخلفه عامل الرفع أو الجر وينقسم التابع أربعة أقسام (النعت والعطف والتوكيد والبدل) ولكل منها كلام يخصه فالأول (النعت وهو التابع المشتق بالفعل أو بالقوة الموضح لمتبوعه أو المخصص له) مثال المشتق بالفعل (نحو جاني زيد العالم) والمشتق بالقوة نحو جاني زيد الدمشقي فإنه في قوة المنسوب إلى دمشق ونعنى بالمشتق بالقوة (ونحو جاني زيد الدمشقي) فإنه في قوة المنسوب إلى دمشق ونعنى بالمشتق بالفعل المشتق الصريح وهو اسم المفعول والصفة المشبهة واسم التفضيل
এবং এটি রফাপ্রাপ্ত (مرفوع) (আর 'লাইতাল হাবিবু ক্বদিমুন', এখানে 'লাইতা' আকাঙ্ক্ষাসূচক অব্যয় এবং 'আল-হাবিবু' তার ইসিম (اسم)) এবং এটি নসবপ্রাপ্ত (منصوب) ('ক্বদিমুন' তার খবর (خبر)) এবং এটি রফাপ্রাপ্ত (مرفوع) (এবং 'লা'আল্লাল্লাহু রাহিমুন', এখানে 'লা'আল্লা' প্রত্যাশামূলক অব্যয় এবং 'আল্লাহ' তার ইসিম (اسم)) এবং এটি নসবপ্রাপ্ত (منصوب) ('রাহিমুন' তার খবর (خبر)) এবং এটি রফাপ্রাপ্ত (مرفوع) (পরিচ্ছেদ: নাওয়াসিখের (نواسخ) পূর্ণতা দান) আর এটি মুবতাদা (مبتدأ) ও খবরকে (خبر) দুটি মাফউল (مفعول) হিসেবে নসব প্রদান করে (আর তা হলো যনন্তু ও তার সমগোত্রীয় শব্দসমূহ)। এগুলো সংখ্যায় সাতটি: যনন্তু, হাসিবতু, যা'আমতু, খিলতু, আলিমতু, রআইতু এবং ওয়াজাদতু। এর মধ্যে প্রথম চারটি শব্দ দ্বিতীয় মাফউলটি (مفعول ثان) ঘটার প্রবল সম্ভাবনার অর্থ প্রদান করে এবং অবশিষ্ট তিনটি শব্দ তা নিশ্চিতভাবে সংঘটিত হওয়ার অর্থ প্রকাশ করে। (আপনি বলবেন 'যনন্তু জাইদান ক্বয়িমান', এখানে 'যনন্তু' ফেল (فعل) ও ফায়েল (فاعل))। ক্রিয়াটি হলো 'যন' এবং কর্তা হলো মুতাকাল্লিম বা উত্তম পুরুষের জমির, যা হলো 'তা' [ت]। ('জাইদান' প্রথম মাফউল (مفعول أول) এবং 'ক্বয়িমান' দ্বিতীয় মাফউল (مفعول ثان); অনুরূপভাবে 'হাসিবতু আমরান মুক্বিমান' বাক্যের ক্ষেত্রেও একই ব্যাখ্যা)। এখানে 'হাসিবতু' ফেল (فعل) ও ফায়েল (فاعل), 'আমরান' প্রথম মাফউল (مفعول أول) এবং 'মুক্বিমান' দ্বিতীয় মাফউল (مفعول ثان)। ('যা'আমতু রাশিদান স-দিক্বান') এখানে 'যা'আমতু' ফেল (فعل) ও ফায়েল (فاعل), 'রাশিদান' প্রথম মাফউল (مفعول أول) এবং 'স-দিক্বান' দ্বিতীয় মাফউল (مفعول ثان)। ('খিলতুল হিলালা লা-ইহান') এখানে 'খিলতু' ফেল (فعل) ও ফায়েল (فاعل), 'আল-হিলালা' প্রথম মাফউল (مفعول أول) এবং 'লা-ইহান' দ্বিতীয় মাফউল (مفعول ثان)। ('আলিমতুল মুসতাশারা না-সিহান') এখানে 'আলিমতু' ফেল (فعل) ও ফায়েল (فاعل), 'আল-মুসতাশারা' প্রথম মাফউল (مفعول أول) এবং 'না-সিহান' দ্বিতীয় মাফউল (مفعول ثان)। ('রআইতুল জূদা মাহবূবান') এখানে 'রআইতু' ফেল (فعل) ও ফায়েল (فاعل), 'আল-জূদা' প্রথম মাফউল (مفعول أول) এবং 'মাহবূবান' দ্বিতীয় মাফউল (مفعول ثان)। ('ওয়াজাদতুস সিদক্বা মুনজিয়ান' এবং এই জাতীয় অন্যান্য উদাহরণ) যা এমন দুটি মাফউলকে (مفعول) নসব প্রদান করে যাদের মূল ভিত্তি ছিল মুবতাদা (مبتدأ) ও খবর (خبر); এর বিপরীতে 'আ'তাইতু জাইদান দিরহামান' এর মতো উদাহরণগুলো নাওয়াসিখের (نواسخ) অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ এর মাফউল দুটির মূল ভিত্তি মুবতাদা (مبتدأ) নয়; যেহেতু 'জাইদুন দিরহামুন' (জায়েদ একজন দিরহাম) বলা সম্ভব নয়।

সপ্তম অধ্যায়:

রফাপ্রাপ্ত (مرفوع) বিশেষ্যসমূহ (পরিচ্ছেদ: মারফুর অনুগামী বা তাবে (تابع) এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো) এমন প্রত্যেক দ্বিতীয় পদ যা তার পূর্ববর্তী পদের অর্জিত ও আগত এরাব (اعراب) অনুযায়ী গঠিত হয়। ফলে 'খবর' (خبر) এই সংজ্ঞার বাইরে চলে যায়, কেননা তা তার পূর্ববর্তী পদের কেবল অর্জিত এরাব গ্রহণ করে, কিন্তু নাসিখ (ناسخ) প্রবেশের ফলে আগত নতুন এরাব গ্রহণ করে না। অনুরূপভাবে মানসুবের (منصوب) হাল (حال), যেমন 'রআইতু জাইদান দ-হিকান'; এটি তার পূর্ববর্তী পদের অর্জিত এরাব অনুযায়ী গঠিত হয় এবং এটি তার পূর্ববর্তী পদের অনুগামী হয় না যখন নসব প্রদানকারী আমিল (عامل) দূরীভূত হয়ে সেখানে রফা (رفع) বা জর (جر) প্রদানকারী আমিল স্থলাভিষিক্ত হয়। আর অনুগামী বা তাবে (تابع) চার প্রকার: (ন'ত (نعت), আতফ (عطف), তাকিদ (توكيد) এবং বদল (بدل))। এদের প্রত্যেকের জন্য সুনির্দিষ্ট আলোচনা রয়েছে। প্রথমটি হলো (ন'ত (نعت): এটি এমন এক অনুগামী যা প্রকৃতভাবে বা অর্থগতভাবে শব্দমূল থেকে নির্গত হয়, যা তার অনুসরণীয় বিশেষ্যকে (متبوع) স্পষ্ট করে অথবা তাকে বিশিষ্টতা দান করে)। প্রকৃতভাবে নির্গত শব্দের উদাহরণ (যেমন: 'জা-আনি জাইদুন আল-আলিমু' [আমার নিকট জ্ঞানী জায়েদ এসেছে]) এবং অর্থগতভাবে নির্গত শব্দের উদাহরণ হলো 'জা-আনি জাইদুন আদ-দিমাশকিউ' [আমার নিকট দামেস্কি জায়েদ এসেছে], কেননা এটি দামেস্কের অধিবাসী হিসেবে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার অর্থ প্রদান করে। আর অর্থগতভাবে নির্গত শব্দ দ্বারা আমরা উদ্দেশ্য নিচ্ছি (যেমন: 'জা-আনি জাইদুন আদ-দিমাশকিউ'), যা মূলত দামেস্কের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার শক্তি বা অর্থ বহন করে। আর প্রকৃতভাবে নির্গত শব্দ বলতে আমরা স্পষ্ট ও সরাসরি নির্গত শব্দসমূহকে বুঝিয়ে থাকি, যা হলো ইসমুল মাফউল (اسم المفعول), সিফাতে মুশাব্বাহা (الصفة المشبهة) এবং ইসমুত তাফযিল (اسم التفضيل)।