(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: -)
العلمانية - نشأتها وتطورها القسم: الفرق والردود
الكتاب: العِلمانيَّة - نشأتهَا وتطوّرهَا وآثارُهَا في الحيَاة الإسلاميَّة المُعَاصِرَة
المؤلف: سفر بن عبد الرحمن الحوالي
أصل الكتاب: رسالة دكتوراة للمؤلف
الناشر: دار الهجرة
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ذو الحجة 1433
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ - এর উদ্ভব ও বিকাশ বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডন
গ্রন্থ: ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ - এর উদ্ভব, বিকাশ এবং সমকালীন ইসলামি জীবনে এর প্রভাবসমূহ
লেখক: সাফর ইবনে আবদুর রহমান আল-হাওয়ালি
গ্রন্থের উৎস: লেখকের পিএইচডি থিসিস
প্রকাশক: দারুল হিজরাহ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের সংখ্যাবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২ জিলহজ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: -)
ملخص هذه المادّةتحدثت مقدمة الكتاب عن التقليد الأعمى الذي أصاب الأمة الإسلامية، والذي تمثل في الانبهار القاتل بالأمم الأخرى والاستمداد غير الواعي من مناهجها ونظمها وقيمها، ومن خلالها تبين سبب اختيار موضوع العلمانية؛ مع ذكر المباحث التي اشتملت عليها هذه الرسالة، وجاء في ختام هذه المقدمة بيان معنى العلمانية ومدلولاتها وموقف الإسلام من هذا الغزو الوافد على بلاد المسلمين.
ثم ورد الحديث عن التحريف والابتداع في الدين النصراني، وابتدئ بالحديث عن تحريف العقيدة سواء كان في قضية الألوهية أو تحريف الأناجيل وتأليف الأناجيل الكاذبة، ثم انتقل إلى الحديث عن تحريف الشريعة متمثلاً في فصل الدين عن الدولة، مدعين نسبتها إلى المسيح عليه السلام، ثم تحدث عن البدع المستحدثة في الدين النصراني كالرهبانية والغلو في الدين والأسرار المقدسة وعبادة الصور والتماثيل والمعجزات والخوارق وصكوك الغفران، التي جعلت النصرانية توصم بأنها ديانة تركيبية انصهرت فيها عقائد وخرافات وآراء متباينة شكلت ديناً غير متسق ولا متجانس.
تلا ذلك ذكر الأسباب التي أدت إلى ظهور العلمانية في المجتمع الأوروبي، وبيان الصراع بين الكنيسة والعلم في القرن السابع عشر والثامن عشر ومطلع العصر الحديث، والذي يعتبر من أعمق وأعقد المشكلات في التاريخ الفكري الأوروبي. ثم ورد الكلام عن الثورة الفرنسية التي كانت فاتحة عصر جديد ضد الكنيسة والملاك الإقطاعيين، وقد جرى الحديث بعده عن الفكر اللاديني ومدارسه الإلحادية التي سعت إلى تقويض الدين واجتثاث مبادئه من النفوس، واختتم هذا الباب بالكلام عن نظرية التطور الداروينية.
وقد تطرق الكتاب إلى الحديث عن العلمانية في الحكم بعد ذلك، فبيّن أن عملية الفصل بين السياسة وبين الدين والأخلاق بمفهومها المعاصر لم تكن معروفة لدى سياسيي القرون الوسطى، ثم تكلم عن العلمانية في الاقتصاد، وبين أن للكنيسة أثراً فعالاً في اقتصاد القرون الوسطى، موضحاً أثر المذاهب اللادينية على الاقتصاد، ثم تحدث عن علمانية العلم الناتجة عن الصراع بين الكنيسة والعلم.
وعقب هذا انتقل إلى الحديث عن العلمانية في الاجتماع والأخلاق وأثرها على المجتمعات اللادينية في القرون الوسطى والعصور الحديثة، مع بيان أثر العلمانية في الأدب والفن والذي أدى إلى ضياع المجتمعات الغربية اللادينية.
وبعدها تكلم عن أسباب العلمانية في الحياة الإسلامية، فبين أن انحراف الأمة الإسلامية في مفهوم الألوهية والإيمان بالقدر من أسباب تقبل المسلمين الذاتي للأفكار العلمانية، وكذلك التخطيط اليهودي الصليبي وتنفيذه في الحملات الصليبية على العالم الإسلامي كان له الأثر الكبير في انتشار العلمانية في البلاد الإسلامية، ثم انتقل إلى بيان مظاهر العلمانية في الحياة الإسلامية، وأكد أن هذه المظاهر العلمانية قد أدت إلى إنشاء جيل أكثر مسخاً وانحلالاً، مما أدى إلى انتشار الفوضى الأخلاقية في جميع أرجاء العالم الإسلامي.
واختتم الكتاب ببيان حكم العلمانية في الإسلام، ثم ورد توضيح بعض النواحي التي تتنافى فيها العلمانية مع الإسلام، مع ذكر النتائج السيئة التي يجنيها الإنسان بسبب اعتناقه لنظام العلمانية.
بسم الله الرحمن الرحيم
العلمانية نشأتها وتطورها وآثارها في الحياة الإسلامية المعاصرة
الشيخ/ سفر بن عبد الرحمن الحوالي
এই বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপগ্রন্থের ভূমিকায় মুসলিম উম্মাহর মধ্যে জেঁকে বসা সেই অন্ধ অনুকরণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যা অন্য জাতির প্রতি মারাত্মক মোহ এবং তাদের পদ্ধতি, ব্যবস্থা ও মূল্যবোধ থেকে অসচেতনভাবে রসদ সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এর মাধ্যমেই ধর্মনিরপেক্ষতা বিষয়টি নির্বাচনের কারণ স্পষ্ট করা হয়েছে; সেই সাথে এই অভিসন্দর্ভে অন্তর্ভুক্ত অধ্যায়গুলোর বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এই ভূমিকার শেষে ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ ও তাৎপর্য এবং মুসলিম দেশগুলোতে আগত এই বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি বর্ণিত হয়েছে।
এরপর খ্রিস্টধর্মে বিকৃতি ও নতুনত্ব (বিদআত) প্রবর্তনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। শুরুতে আকিদা বা বিশ্বাসের বিকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, তা উপাস্য হওয়ার ধারণা (উলুহিয়্যাত) সম্পর্কিত হোক কিংবা ইঞ্জিলসমূহের বিকৃতি ও জাল ইঞ্জিল রচনার বিষয়ে হোক। এরপর শরিয়তের বিকৃতির আলোচনায় স্থানান্তরিত হওয়া হয়েছে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে পৃথক করার মাধ্যমে—দাবি করা হয়েছে যে এটি মসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর শিক্ষা। অতঃপর খ্রিস্টধর্মে প্রবর্তিত নবউদ্ভাবিত বিষয়গুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যেমন: বৈরাগ্যবাদ, ধর্মে অতিরঞ্জন, পবিত্র রহস্যসমূহ, ছবি ও মূর্তিপূজা, অলৌকিক ঘটনা ও অলৌকিকত্ব এবং পাপমোচনপত্র (ইন্ডালজেন্স)। এসবের কারণেই খ্রিস্টধর্ম একটি সংশ্লেষিত ধর্ম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন বৈসাদৃশ্যপূর্ণ আকিদা, কুসংস্কার ও মতবাদ একীভূত হয়ে এমন একটি ধর্মে রূপ নিয়েছে যা অসংলগ্ন ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
এর পরেই ইউরোপীয় সমাজে ধর্মনিরপেক্ষতা উদ্ভবের কারণসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে। সতেরো ও আঠারো শতাব্দী এবং আধুনিক যুগের শুরুতে গির্জা ও বিজ্ঞানের মধ্যকার দ্বন্দ্বের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যা ইউরোপীয় বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসের অন্যতম গভীর ও জটিল সমস্যা হিসেবে বিবেচিত। এরপর ফরাসি বিপ্লব সম্পর্কে আলোচনা এসেছে, যা গির্জা এবং সামন্তবাদীদের বিরুদ্ধে এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল। এরপর ধর্মহীন চিন্তাধারা এবং এর নাস্তিক্যবাদী মতবাদগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যা মানুষের অন্তর থেকে ধর্মকে সমূলে উৎপাটন এবং এর মূলনীতিগুলোকে ধ্বংস করতে সচেষ্ট ছিল। এই পরিচ্ছেদটি ডারউইনের বিবর্তনবাদের আলোচনার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে।
অতঃপর গ্রন্থটি শাসনব্যবস্থায় ধর্মনিরপেক্ষতার প্রসঙ্গের দিকে ধাবিত হয়েছে। এতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সমকালীন ধারণায় রাজনীতি থেকে ধর্ম ও নৈতিকতাকে পৃথক করার প্রক্রিয়াটি মধ্যযুগীয় রাজনীতিবিদের কাছে পরিচিত ছিল না। এরপর অর্থনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং মধ্যযুগীয় অর্থনীতিতে গির্জার কার্যকর প্রভাবের কথা উল্লেখ করে অর্থনীতির ওপর ধর্মহীন মতবাদগুলোর প্রভাব ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এরপর গির্জা ও বিজ্ঞানের দ্বন্দ্বের ফলে সৃষ্ট বিজ্ঞানের ধর্মনিরপেক্ষায়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
এর পরপরই সমাজ ও নৈতিকতায় ধর্মনিরপেক্ষতার আলোচনা এবং মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগে ধর্মহীন সমাজগুলোর ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সেই সাথে সাহিত্য ও শিল্পকলায় ধর্মনিরপেক্ষতার প্রভাবও বর্ণনা করা হয়েছে, যা পশ্চিমা ধর্মহীন সমাজগুলোর পতনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এরপর মুসলিম জীবনে ধর্মনিরপেক্ষতার কারণসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লেখক দেখিয়েছেন যে, উলুহিয়্যাতের ধারণা এবং ভাগ্যের ওপর বিশ্বাসের ক্ষেত্রে মুসলিম উম্মাহর বিচ্যুতিই ছিল মুসলমানদের মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাধারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করার অন্যতম কারণ। তেমনিভাবে মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে ক্রুসেড যুদ্ধগুলোতে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নও মুসলিম দেশগুলোতে ধর্মনিরপেক্ষতা বিস্তারে বড় প্রভাব ফেলেছিল। এরপর তিনি মুসলিম জীবনে ধর্মনিরপেক্ষতার বহিঃপ্রকাশসমূহ বর্ণনায় অগ্রসর হয়েছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই ধর্মনিরপেক্ষ প্রকাশভঙ্গিগুলো এমন এক প্রজন্ম তৈরি করেছে যারা অধিকতর বিকৃত ও চারিত্রিক অবক্ষয়ের শিকার, যার ফলে পুরো মুসলিম বিশ্বে নৈতিক বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছে।
গ্রন্থটি সমাপ্ত হয়েছে ইসলামে ধর্মনিরপেক্ষতার বিধান বর্ণনার মাধ্যমে। অতঃপর এমন কিছু দিক স্পষ্ট করা হয়েছে যেখানে ধর্মনিরপেক্ষতা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক। সেই সাথে ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে মানুষ যেসব অশুভ পরিণতির সম্মুখীন হয় তাও উল্লেখ করা হয়েছে।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ধর্মনিরপেক্ষতা: এর উদ্ভব, ক্রমবিকাশ এবং সমকালীন মুসলিম জীবনে এর প্রভাব
শায়খ সফর ইবনে আব্দুর রহমান আল-হাওয়ালি
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ৫)
- بسم الله الرحمن الرحيم:
((وَقَالَ اللَّهُ لا تَتَّخِذُوا إِلَهَيْنِ اثْنَيْنِ إِنَّمَا هُوَ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَإِيَّايَ فَارْهَبُونِ * وَلَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَهُ الدِّينُ وَاصِباً أَفَغَيْرَ اللَّهِ تَتَّقُونَ)) [النحل:51 - 52].
((قُلْ إِنَّ صَلاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ * لا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ)) [الأنعام:162 - 163].
((أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْماً لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ)) [المائدة:50].
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে:
((আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন: তোমরা দুইজন ইলাহ গ্রহণ করো না; তিনিই তো একমাত্র ইলাহ। সুতরাং তোমরা কেবল আমাকেই ভয় করো। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তা তাঁরই এবং নিরবচ্ছিন্ন আনুগত্য কেবল তাঁরই প্রাপ্য। তবে কি তোমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ভয় করবে?)) [আন-নাহল: ৫১ - ৫২]।
((বলুন: নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার ইবাদত, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই; আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই মুসলিমদের মধ্যে প্রথম।)) [আল-আনআম: ১৬২ - ১৬৩]।
((তবে কি তারা জাহেলিয়াতের বিচারব্যবস্থা কামনা করে? আর নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিধান দানে আল্লাহর চেয়ে উত্তম আর কে হতে পারে?)) [আল-মায়িদাহ: ৫০]।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ৭)
-
مقدمة الكتاب:إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادى له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
أما بعد: فقد أعظم الله تعالى المنة على هذه الأمة بأن بعث فيها أفضل رسول، وأنزل إليها أكمل دين وأقوم شريعة، فكانت الأمة التي استحقت أن تسمى "المسلمين" لتحقق معاني الإسلام فيها؛ إسلام القلب والجوارح، إسلام الفرد والمجتمع، إسلام الحياة كلها لله تعالى وحده لا شريك له.
وهو الإسلام الذي تضمنته تلك الكلمة العظيمة التي تعدل الكون كله؛ بل ترجح به (لا إله إلا الله) وظلت الأمة الإسلامية قروناً تقود الجماعة البشرية، وتسيطر على العالم المتحضر إلا قليلاً، وتتبوأ مركز الأمة الوسط بين العالمين؛ كل ذلك بفضل إدراكها لتلك الكلمة العظيمة، والعمل بمقتضاها، وتحقيق مدلولها في واقع الحياة، ثم أخذ شأن الأمة الإسلامية في الانحطاط، وحضارتها في الذبول، وفقدت شيئاً فشيئاً، مركزها المرموق ومنزلتها السامية، ولم يكن لذلك من
-
গ্রন্থের ভূমিকা:নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
অতঃপর: আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের ওপর সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল পাঠিয়েছেন এবং তাদের প্রতি পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ও সুদৃঢ় শরীয়ত অবতীর্ণ করেছেন। ফলে এটি এমন এক উম্মতে পরিণত হয়েছে যারা 'মুসলিম' নামে অভিহিত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে; কারণ তাদের মাঝে ইসলামের প্রকৃত মর্ম বাস্তবায়িত হয়েছিল—অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ইসলাম, ব্যক্তি ও সমাজের ইসলাম এবং সমগ্র জীবনের ইসলাম যা কেবল এক অদ্বিতীয় আল্লাহর জন্য নিবেদিত।
আর এটিই সেই ইসলাম যা এই সুমহান কালিমার অন্তর্নিহিত বিষয়, যা সমগ্র মহাবিশ্বের সমান, বরং তার চেয়েও ভারী; আর তা হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই)। মুসলিম উম্মাহ শতাব্দীকাল ধরে মানবগোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিয়েছে এবং সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া সমগ্র সভ্য বিশ্বের ওপর কর্তৃত্ব বজায় রেখেছে। তারা বিশ্ববাসীর মাঝে 'মধ্যপন্থী জাতি'র মর্যাদাপূর্ণ স্থান দখল করেছিল। এই সব কিছুই ছিল সেই সুমহান কালিমার প্রকৃত মর্ম উপলব্ধি করা, তার দাবি অনুযায়ী আমল করা এবং বাস্তব জীবনে তার অর্থের প্রতিফলন ঘটানোর বদৌলতে। অতঃপর মুসলিম উম্মাহর অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে এবং তাদের সভ্যতা ম্লান হয়ে যায়। তারা ধীরে ধীরে তাদের সেই অনন্য মর্যাদা ও উচ্চাসীন অবস্থান হারিয়ে ফেলে। আর এর কারণ কেবল এটিই ছিল যে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ৮)
سبب إلا أن نور (لا إله إلا الله) قد خفت، ومقتضياتها قد أهملت، ومدلولاتها قد انحسرت.
ولما كانت كلمة (لا إله إلا الله) هي روح هذه الأمة وسر وجودها ومنبع حياتها، فإنها ظلت تفقد من ذاتيتها وأصالتها بمقدار ما تفقد من نور هذه الكلمة العظيمة، حتى آل الأمر في العصور الأخيرة إلى الفقدان الكامل أو شبه الكامل.
وعندما تصاب أمة من الأمم بهذا المرض المدمر "فقدان الذات" فإن أبرز أعراضه يتمثل في الانبهار القاتل بالأمم الأخرى والاستمداد غير الواعي من مناهجها ونظمها وقيمها.
وقد وقع ذلك في حياة الأمة الإسلامية تأويلاً لقوله صلى الله عليه وسلم: {لتركبن سنن من كان قبلكم شبراً بشبر، وذراعاً بذراع، حتى لو أن أحدهم دخل جحر ضب لدخلتم، وحتى لو أن أحدهم جامع امرأته بالطريق لفعلتموه}.
ولم يكن أخطر من هذا المرض إلا الجهل بحقيقته وعدم إدراك أسبابه، فكان التشخيص الخاطئ سبباً في العلاج الخاطئ، الذي جاء بمضاعفات جديدة.
لقد خُيِّل للأمة أن هذا الداء العضال يمكن مداواته باستعارات ساذجة، ومظاهر جوفاء، وترقيعات صفيقة، تتلقاها جميعها من الكفار الذين أصبحت تخجل من أن تسميهم بهذا الاسم؛ بل أسمتهم "العالم المتحضر" و"الأمم الراقية"!!
وكان استعدادنا الذاتي وقابليتنا للذوبان هما المبرر الأكبر للحرب
এর একমাত্র কারণ হলো 'আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই' (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ)-এর নূর স্তিমিত হয়ে পড়া, এর দাবি ও চাহিদাকে অবজ্ঞা করা এবং এর মর্মার্থসমূহ সংকুচিত হয়ে আসা।
যেহেতু 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এই কালিমাই হলো এই উম্মতের রূহ, এর অস্তিত্বের রহস্য এবং এর জীবনের উৎস, তাই এই মহান কালিমার নূর যতটুকু বিলীন হয়েছে, এই জাতিও ঠিক ততটুকুই তার স্বকীয়তা ও মৌলিকত্ব হারিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সাম্প্রতিক যুগে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সেই স্বকীয়তা পূর্ণাঙ্গরূপে বা প্রায় পূর্ণাঙ্গরূপে বিলীন হয়ে গেছে।
কোনো জাতি যখন এই ধ্বংসাত্মক ব্যাধি অর্থাৎ 'আত্ম-বিস্মৃতি'তে আক্রান্ত হয়, তখন এর প্রধান উপসর্গ হিসেবে অন্য জাতিগুলোর প্রতি এক ধরনের আত্মঘাতী মুগ্ধতা প্রকাশ পায় এবং তাদের আদর্শ, শাসনব্যবস্থা ও মূল্যবোধ থেকে অবচেতনভাবে রসদ গ্রহণের প্রবণতা তৈরি হয়।
আর মুসলিম উম্মাহর জীবনে এটি ঘটেছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই বাণীর বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে, যেখানে তিনি বলেছেন: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি বিঘত বিঘত এবং হাত বরাবর অনুসরণ করবে। এমনকি তারা যদি কোনো গুইসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে। এমনকি তাদের কেউ যদি জনপথের ওপর তার স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে থাকে, তবে তোমরাও তা-ই করবে।"
এই ব্যাধির চেয়েও বিপজ্জনক বিষয় ছিল এর প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং এর কারণসমূহ উপলব্ধি করতে না পারা। ফলে ভুল রোগ নির্ণয় ভুল চিকিৎসার পথে চালিত করেছে, যা নতুন সব জটিলতার জন্ম দিয়েছে।
এই উম্মত মনে করে নিয়েছিল যে, এই দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসা সম্ভব কিছু সাদামাটা ধার করা বিষয়, অন্তঃসারশূন্য বাহ্যিকতা এবং স্থূল জোড়াতালির মাধ্যমে; যার সবকটিই সে গ্রহণ করেছে সেই কাফিরদের কাছ থেকে, যাদেরকে এই নামে সম্বোধন করতে সে আজ লজ্জিত বোধ করে; বরং তাদের নাম দিয়েছে "সভ্য বিশ্ব" এবং "উন্নত জাতিসমূহ"!!
আর আমাদের নিজস্ব মানসিক প্রস্তুতি এবং অন্যতে বিলীন হয়ে যাওয়ার প্রবণতাই ছিল যুদ্ধের সবচেয়ে বড় অজুহাত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ৯)
النفسية الشرسة التي نسميها "الغزو الفكري" تلك التي استهدفت مقومات وجودنا وأسس أصالتنا.
وجاءت طلائع الغزو الفكري -كما هو الحال في سبل الشيطان- متعددة الشعارات، متباينة الاتجاهات، عليها من البهرجة والبريق ما يكفي لتضليل وإغراء أمة منبهرة مهزوزة.
جاءت الاشتراكية والقومية والوطنية والديمقراطية والحرية وفلسفة التطور واللادينية، وغيرها من المسميات والشعارات، وسرت عدوى هذه الأوبئة سريان النار في الهشيم، وتغلغلت في العقول والقلوب التي فقدت رصيدها من (لا إله إلا الله) أو كادت، وتربت على ذلك أجيال ممسوخة هزيلة، أخذت على عاتقها مهمة تعبيد أمتها للغرب والإجهاز على منابع الحياة الكامنة فيها.
ومرت في مطلع هذا القرن حقبة مظلمة، راجت فيها سوق الأفكار الموبوءة والمذاهب المنحرفة، حتى أظهر أعداء الإسلام تفاؤلهم بأن هذه الأمة ستلفظ أنفاسها عما قليل.
ولكن الله تعالى رد كيدهم في نحورهم، وأنبت في وسط الركام والظلام رجالاً صدقوا ما عاهدوا الله عليه، فانفجرت في كل بلد إسلامي حركة جهادية، وانبثق من تلك الحركات فكر أصيل يستمد من الكتاب والسنة مباشرة، مهتدياً بالوثبات التجديدية التي لم يخل منها عصر من عصور الإسلام، وتكمن قوة هذا الفكر -بل حياته- في سر واحد فقط، هو إدراك أن سبب انحطاط هذه الأمة هو انحرافها عن حقيقة "لا إله إلا الله" وأن الطريق إلى بعثها يبتدئ من تصحيح مفهوم هذه الكلمة وما تفرع منها، وإزالة ما علق في ذهن الأمة حولها من غبش واضطراب.
সেই উগ্র মানসিকতা যাকে আমরা "সাংস্কৃতিক আগ্রাসন" বলে অভিহিত করি, যা আমাদের অস্তিত্বের মূল উপজীব্য এবং আমাদের মৌলিকত্বের ভিত্তিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।
সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের অগ্রবর্তী বাহিনীগুলো—শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণের মতোই—বহুবিধ স্লোগান ও ভিন্ন ভিন্ন পন্থায় আবির্ভূত হয়েছে; যেগুলোতে এমন চাকচিক্য ও ঔজ্জ্বল্য ছিল যা একটি বিমুগ্ধ ও বিপর্যস্ত উম্মাহকে পথভ্রষ্ট ও প্রলুব্ধ করার জন্য যথেষ্ট ছিল।
সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেমবাদ, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, বিবর্তনবাদ দর্শন এবং ধর্মহীনতাসহ আরও নানা নাম ও স্লোগান আত্মপ্রকাশ করল এবং এই মহামারিগুলোর সংক্রমণ শুকনো খড়ে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ল। এগুলো সেই সমস্ত মস্তিষ্ক ও হৃদয়ে শিকড় গেড়ে বসল যারা ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই’ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ)-এর সঞ্চয় হারিয়েছিল বা হারানোর উপক্রম হয়েছিল। এর ফলে এমন এক বিকৃত ও রুগ্ন প্রজন্মের সৃষ্টি হলো, যারা নিজের জাতিকে পাশ্চাত্যের গোলামে পরিণত করা এবং তাদের ভেতরে সুপ্ত থাকা জীবনের উৎসসমূহকে সমূলে বিনাশ করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিল।
এই শতাব্দীর শুরুর দিকে একটি অন্ধকার যুগ অতিক্রান্ত হয়েছে, যেখানে বিষাক্ত মতাদর্শ ও বিচ্যুত মতবাদগুলোর বাজার তুঙ্গে ছিল; এমনকি ইসলামের শত্রুরা এমন আশাবাদ ব্যক্ত করতে শুরু করেছিল যে, এই উম্মাহ অচিরেই তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবে।
কিন্তু মহান আল্লাহ তাদের ষড়যন্ত্র তাদেরই বিরুদ্ধে ফিরিয়ে দিলেন এবং এই ধ্বংসস্তূপ ও অন্ধকারের মাঝে এমন একদল পুরুষের উত্থান ঘটালেন, যারা আল্লাহর সাথে করা তাদের অঙ্গীকারে সত্যনিষ্ঠ ছিলেন। ফলে প্রতিটি মুসলিম দেশে এক একটি জিহাদী আন্দোলনের বিষ্ফোরণ ঘটল এবং সেই আন্দোলনগুলো থেকে এক বিশুদ্ধ চিন্তাধারার উন্মেষ ঘটল যা সরাসরি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে প্রাণরস সংগ্রহ করে। এটি সেই সংস্কারমূলক বিপ্লবগুলোর দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল যা ইসলামের ইতিহাসের কোনো যুগেই অনুপস্থিত ছিল না। এই চিন্তাধারার শক্তি—বরং এর প্রাণশক্তি—কেবল একটি রহস্যের মাঝে নিহিত, আর তা হলো এই উপলব্ধি যে: এই উম্মাহর অধঃপতনের মূল কারণ হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর প্রকৃত হাকিকত থেকে তাদের বিচ্যুতি। আর এই উম্মাহর পুনর্জাগরণের পথ শুরু হয় এই কালিমার সঠিক ধারণা এবং তা থেকে উৎসারিত বিষয়াদির সংশোধন এবং এই কালিমা সম্পর্কে উম্মাহর মনে জেঁকে বসা অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি দূর করার মধ্য দিয়ে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ১০)
وكان مقتضى هذا الإدراك -من الوجهة المنهجية العلمية- أن ما يسمى "علم الكلام" الذي شغل علماء العقائد الماضون به أنفسهم أصبح مسألة تاريخية، وأن العودة إلى صفاء العقيدة الإسلامية ووضوح تصوراتها ومفهوماتها تستدعي منهجية أصيلة نقية كل النقاء من التأثيرات الإغريقية القديمة، ومن إيحاءات وسموم الغزو الفكري الحديث.
ولم يكن الإيمان بهذه الحقيقة سهل المنال؛ بل إن الرجال الذين اكتشفوها عانوا بأنفسهم مرارة التجربة وهم يحاولون دراسة الإسلام وفق منهجية غريبة عنه، ورأوا أن من حق دينهم ومن حقنا نحن الأجيال التالية ألا تتكرر المأساة، وأن ينيروا الطريق باختطاط منهج علمي أصيل، وتأسيس دراسات إسلامية تخصصية تدرس العقيدة الإسلامية، بل تدرس الأفكار والمذاهب غير الإسلامية على ضوء ذلك المنهج الأصيل.
وكان من هؤلاء الرجال: الشيخ الفاضل محمد أمين المصري رحمه الله (الرئيس السابق لقسم الدراسات العليا بكيلة الشريعة بمكة المكرمة) الذي بذل جهده لإدخال مادة "المذاهب الفكرية" ضمن برنامج الدراسات العليا لفرع العقيدة.
وكان من توفيق الله -تعالى- أن عهد بتدريس هذه المادة إلى علم من أعلام الفكر الإسلامي المعاصر، هو الأستاذ " محمد قطب" حفظه الله.
وكان من توفيقه سبحانه لكاتب هذا البحث أن يلتحق بفرع العقيدة، وأن يختار رسالته لنيل درجة التخصص الأولى "الماجستير" في هذه المادة وعلى يد ذلك الأستاذ.
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই উপলব্ধির অনিবার্য দাবি ছিল এই যে, তথাকথিত "ইলমুল কালাম" যা অতীত যুগের আকীদা শাস্ত্রের পণ্ডিতগণকে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছিল, তা এখন একটি ঐতিহাসিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ইসলামী আকীদার শুভ্রতা এবং এর ধারণা ও বোধের স্বচ্ছতায় ফিরে যাওয়ার জন্য এমন এক মৌলিক পদ্ধতির প্রয়োজন যা প্রাচীন গ্রিক প্রভাব এবং আধুনিক বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের ইঙ্গিত ও বিষক্রিয়া থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও পরিশুদ্ধ।
এই সত্য উপলব্ধি করা সহজসাধ্য ছিল না; বরং যেসব মনীষী এটি আবিষ্কার করেছেন, তারা ইসলামের সাথে সংগতিহীন এক বিজাতীয় পদ্ধতির আলোকে ইসলাম অধ্যয়নের চেষ্টা করতে গিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার দহন সহ্য করেছেন। তারা অনুভব করেছিলেন যে, তাঁদের দ্বীনের দাবি এবং আমাদের মতো পরবর্তী প্রজন্মের অধিকার হলো এই বিয়োগান্তক ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে। তাঁরা চেয়েছিলেন একটি মৌলিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির রূপরেখা প্রণয়নের মাধ্যমে পথকে আলোকিত করতে এবং এমন বিশেষায়িত ইসলামী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ভিত্তি স্থাপন করতে, যা কেবল ইসলামী আকীদাই অধ্যয়ন করবে না, বরং সেই মৌলিক পদ্ধতির আলোকে অনৈসলামিক চিন্তাধারা ও মতবাদসমূহকেও ব্যবচ্ছেদ করবে।
এই বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন: পুণ্যবান শায়খ মুহাম্মদ আমীন আল-মিসরী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন), যিনি মক্কা মুকাররমার শরীয়াহ অনুষদের উচ্চতর শিক্ষা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান ছিলেন। তিনি আকীদা বিভাগের উচ্চতর শিক্ষা পাঠ্যক্রমে "বুদ্ধিবৃত্তিক মতবাদসমূহ" বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন।
এটি মহান আল্লাহর বিশেষ তাওফীক ছিল যে, তিনি এই বিষয়টি পাঠদানের দায়িত্ব সমসাময়িক ইসলামী চিন্তাধারার অন্যতম দিকপাল অধ্যাপক "মুহাম্মদ কুতুব" (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন)-এর ওপর অর্পণ করেছিলেন।
এই গবেষণার লেখকের প্রতিও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ছিল যে, তিনি আকীদা বিভাগে ভর্তি হতে পেরেছেন এবং সেই মহান অধ্যাপকের তত্ত্বাবধানেই এই বিষয়ের ওপর তাঁর প্রথম বিশেষায়িত ডিগ্রি "মাস্টার্স"-এর গবেষণাপত্র প্রস্তুত করার সুযোগ লাভ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ১১)
أسباب اختيار المؤلف لموضوع العلمانية:وإذ كان عليَّ أن أختار مذهباً فكرياً ليكون موضوعاً لرسالتي، فقد هداني الله لاختيار مذهب العلمانية وآثرته على غيره لأسباب، منها:
1 - غموض المدلول الحقيقي لهذا الاصطلاح الخادع بالنسبة لكثير من المثقفين فضلاً عن العامة، فبالرغم من الكساد الذي بدأت المذاهب الأخرى كالشيوعية والاشتراكية تمنى به بعد اكتشاف الجماهير لحقيقتها، ما تزال أسهم العلمانية مرتفعة، سواء باسمها الصريح، أو تحت شعار الديمقراطية، أو شعار "الدين لله والوطن للجميع" أو شعار "لا دين في السياسة ولا سياسة في الدين".
2 - التوافق بين ذات العلمانية بوصفها فكرة غربية واعية وبين موضوعها المتمثل في عزل الدين عن توجيه الحياة، وهو ما يعاني منه الواقع الإسلامي المعاصر، فالعلمانية -موضوعياً- موجودة في كل نواحي الحياة الإسلامية المعاصرة، وإن لم يكن لها وجود ذاتي متكامل، كما هو الحال في أوروبا .. هذا التوافق يجعل تقبلها -ذاتياً- أمراً سهلاً، ومن ثم يحتم على ذوي الاختصاص دراستها وكشف زيفها وإيضاح تعارضها مع المفهوم الصحيح للإسلام ومقتضيات "لا إله إلا الله".
وقد عرفت منذ اللحظة الأولى أن مهمتي ليست بيسيرة، وأن عليَّ أن أخوض في ميادين بعيدة عن مجال دراستي الشرعية البحتة، جاعلاً كل قراءاتي السابقة في الفكر الغربي بمثابة التمهيد فقط لما يجب علي أن أنهض به.
وفعلاً خصصت نصف المدة المحددة للرسالة -تقريباً- في اطلاع دائب وقراءة متواصلة، مسترشداً بالتوجيهات القيمة والآراء
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের বিষয়বস্তু নির্বাচনে লেখকের কারণসমূহ:যেহেতু আমাকে আমার গবেষণাপত্রের বিষয় হিসেবে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক মতবাদ নির্বাচন করতে হতো, তাই আল্লাহ আমাকে 'ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ' (সেকুলারিজম) মতবাদটি বেছে নেওয়ার তাওফিক দান করেছেন এবং আমি কয়েকটি কারণে অন্য সব বিষয়ের ওপর একে প্রাধান্য দিয়েছি, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - সাধারণ মানুষের কথা বাদ দিলেও বহু শিক্ষিত মানুষের কাছে এই প্রতারণাপূর্ণ পরিভাষাটির প্রকৃত অর্থের অস্পষ্টতা। সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজমের মতো অন্যান্য মতবাদগুলোর প্রকৃত রূপ জনগণের সামনে উন্মোচিত হওয়ার পর সেগুলোর আবেদন হ্রাস পেতে শুরু করলেও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের কদর এখনও আকাশচুম্বী। তা কখনো তার নিজস্ব নামে, কখনো গণতন্ত্রের আবরণে, আবার কখনো "ধর্ম আল্লাহর জন্য আর দেশ সবার জন্য" অথবা "রাজনীতিতে কোনো ধর্ম নেই এবং ধর্মে কোনো রাজনীতি নেই"—এই জাতীয় স্লোগানের আড়ালে সক্রিয় রয়েছে।
২ - একটি সচেতন পশ্চিমা ধারণা হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের মূল নির্যাস এবং জীবন পরিচালনা থেকে ধর্মকে বিচ্ছিন্ন করার যে লক্ষ্য—এই দুইয়ের মধ্যে বিদ্যমান সমন্বয় বর্তমান মুসলিম বিশ্বের বাস্তব পরিস্থিতির সাথে মিলে যায়। কেননা আধুনিক মুসলিম জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বস্তুগতভাবে বিদ্যমান রয়েছে, যদিও ইউরোপের মতো এখানে এর কোনো স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ অস্তিত্ব গড়ে ওঠেনি। এই সামঞ্জস্যের কারণে একে মানসিকভাবে গ্রহণ করা সহজ হয়ে পড়ে; ফলে বিশেষজ্ঞ মহলের জন্য এটি অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায় যে, তারা বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করবেন, এর অসারতা উন্মোচন করবেন এবং ইসলামের সঠিক ধারণা ও 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর দাবিগুলোর সাথে এর যে বৈপরীত্য রয়েছে তা স্পষ্ট করবেন।
আমি প্রথম মুহূর্ত থেকেই জানতাম যে আমার এই কাজ সহজ হবে না। আমাকে এমন সব ময়দানে বিচরণ করতে হবে যা আমার বিশুদ্ধ শরিয়াহ ভিত্তিক অধ্যয়নের গণ্ডির বাইরের বিষয়। তাই পশ্চিমা চিন্তা ও দর্শনের ওপর আমার পূর্ববর্তী সমস্ত পাঠকে আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের একটি প্রস্তুতি হিসেবে গণ্য করেছি।
বাস্তবে আমি আমার গবেষণার জন্য নির্ধারিত সময়ের প্রায় অর্ধেক সময় ব্যয় করেছি নিরবচ্ছিন্ন অধ্যয়ন ও গভীর গবেষণায়, যেখানে মূল্যবান দিকনির্দেশনা এবং সুচিন্তিত মতামতের আলোকেই আমি পরিচালিত হয়েছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
السديدة التي كان أُستاذي الفاضل يزودني بها باستمرار، فاطلعت على أمهات النظريات والاتجاهات في السياسة والاقتصاد والعلم والاجتماع والأدب والفن، وكنت كلما ازددت إيغالاً في الاطلاع ازدادت ثقتي، وقوي عزمي على إكمال الطريق، ومع أن المراجع المذكورة آخر الرسالة لا تساوي إلا جزءاً مما قرأت، فإنني لا أشعر بشيء من الخسارة، بل أحمد الله تعالى الذي أراني الفكر الجاهلي الأوروبي على حقيقته .. والحق أنني علمت علم اليقين أن هذا الفكر ليس باطلاً فحسب، بل هو أيضاً تافه هزيل، وتمنيت من أعماقي أن يهب الله كل شباب أمتي ما وهب لي من معرفة تفاهته وهزاله.
المباحث التي اشتملت عليها الرسالة:ثم ابتدأت الكتابة مقسماً الموضوع خمسة أبواب:
- الباب الأول: موضوعه دين أوروبا الذي انحرفت عنه إلى اللادينية، أثبت فيه تحريف الدين النصراني، وأنه لا يمثل دين الله الحق، لا في العقيدة ولا في الشريعة، وتعرضت بالنقد للتحريفات والبدع والخرافات النصرانية، ورغم اتفاقي مع دعاة اللادينية في نقد النصرانية، فقد كنت مخالفاً لهم في منهجهم، وفي بعض الأحيان أعرض وجهة نظرهم وأنقدها.
وسيلحظ القارئ في هذا الباب الإفاضة وعدم التساهل، وما ذاك إلا نتيجة اقتناعي بأن السبب الأكبر في انحراف أوروبا من صنع الكنيسة، وأن الإسلام يحارب الخرافة كما يحارب الإلحاد.
- الباب الثاني: موضوعه أسباب العلمانية.
مع أن تحريف النصرانية في الحقيقة هو السبب الممهد للعلمانية، فقد خصصت هذا الباب للأسباب المباشرة لها، وهي:
1 - الطغيان الكنسي: دينياً وسياسياً ومالياً، مؤيداً بالشواهد التاريخية.
সেই সঠিক দিকনির্দেশনা যা আমার শ্রদ্ধেয় উস্তাদ আমাকে অনবরত প্রদান করতেন, ফলে আমি রাজনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শিল্পের প্রধান তত্ত্ব ও ধারাগুলো অধ্যয়ন করি। আমি যতই গভীরভাবে অধ্যয়ন করতে থাকি, ততই আমার আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে এবং এই পথ পূর্ণ করার সংকল্প সুদৃঢ় হয়। যদিও এই গবেষণাপত্রের শেষে উল্লেখিত তথ্যসূত্রগুলো আমার পঠিত বিষয়ের সামান্য অংশ মাত্র, তবুও আমি কোনো প্রকার ক্ষতির অনুভব করছি না; বরং আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি আমাকে ইউরোপীয় জাহেলি চিন্তাধারার প্রকৃত রূপ দেখিয়েছেন। সত্য কথা এই যে, আমি নিশ্চিতভাবে জানতে পেরেছি যে, এই চিন্তাধারা কেবল ভ্রান্তই নয়, বরং তা অতি তুচ্ছ ও অসার। আমি আমার হৃদয়ের গভীর থেকে কামনা করি যে, আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের সকল যুবককে সেই জ্ঞান দান করুন যা তিনি আমাকে এর অসারতা ও তুচ্ছতা সম্পর্কে দান করেছেন।
গবেষণাপত্রটিতে অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ:এরপর আমি বিষয়বস্তুকে পাঁচটি অধ্যায়ে ভাগ করে লেখা শুরু করি:
- প্রথম অধ্যায়: এর আলোচ্য বিষয় হলো ইউরোপের ধর্ম, যা থেকে তারা বিচ্যুত হয়ে ধর্মহীনতার দিকে ধাবিত হয়েছে। এতে আমি খ্রিষ্টধর্মের বিকৃতি প্রমাণ করেছি এবং এটি যে আকিদা বা শরিয়ত কোনো দিক থেকেই আল্লাহর সত্য ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করে না, তা তুলে ধরেছি। আমি খ্রিষ্টীয় বিকৃতি, বিদআত ও কুসংস্কারের সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ করেছি। যদিও খ্রিষ্টধর্মের সমালোচনার ক্ষেত্রে আমি ধর্মহীনতার প্রবক্তাদের সাথে একমত, কিন্তু তাদের পদ্ধতির সাথে আমি দ্বিমত পোষণ করেছি এবং মাঝে মাঝে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে তা খণ্ডন করেছি।
পাঠক এই অধ্যায়ে বিস্তারিত বর্ণনা এবং আপসহীনতা লক্ষ্য করবেন; আর এটি মূলত এই বিশ্বাসের ফল যে, ইউরোপের বিচ্যুতির প্রধান কারণ গির্জার কর্মকাণ্ড এবং ইসলাম যেমন কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তেমনি নাস্তিকতার বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করে।
- দ্বিতীয় অধ্যায়: এর আলোচ্য বিষয় সেক্যুলারিজমের কারণসমূহ।
যদিও খ্রিষ্টধর্মের বিকৃতিই মূলত সেক্যুলারিজমের পথ প্রশস্তকারী প্রকৃত কারণ, তবুও আমি এই অধ্যায়টিকে এর প্রত্যক্ষ কারণগুলোর জন্য নির্ধারিত করেছি, যা হলো:
১ - গির্জার স্বৈরাচার: ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে, যা ঐতিহাসিক প্রমাণাদিসহ উপস্থাপিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
2 - الصراع بين الكنيسة والعلم، عرضت فيه الصراع النكد عرضاً تاريخياً منذ نظرية كوبرنيك إلى نظرية نيوتن مروراً بمدرسة النقد التاريخي، ومذهب الربوبيين والملحدين الأوائل.
3 - الثورة الفرنسية: التي نجحت في إقامة أول دولة اللادينية في أوروبا النصرانية، أضحت أسبابها وآثارها واستغلال القوى الهدامة لها.
4 - نظرية التطور: التي كانت إيذاناً بانتهاء وصاية الكنيسة الفكرية على أوروبا، وانسحابها من الميدان إلى الأبد .. وقد تحدثت عن الآثار المدمرة للنظرية في الفكر والحياة وتطبيقها المريب في حقول المعرفة وميادين السلوك.
والحق أن هناك أسباباً قد لا تقل عن هذه، غير أنني آثرت ألا أعرضها، بصفتها أسباباً مستقلة، فالقوى الهدامة "اليهود" يمكن اعتبارها سبباً مستقلاً، لكنني لم أعرضها بهذا الاعتبار، لأن اليهود كما سيتضح من ثنايا البحث - يستغلون الأحداث ولا يصنعونها، فاكتفيت بعرض نماذج من استغلالاتهم في مواطنها، مثل:
استغلال الثورة الفرنسية لتحطيم الرابطة الدينية والخروج من (الجيتو) .. واستغلال الداروينية لنشر الإلحاد والإباحية .. واستغلال الثورة الصناعية للسيطرة على اقتصاد العالم .. واستغلال الديمقراطية لتوجيه السياسة الدولية.
على أنني قد عرضت نظريات اليهود مستقلة في مواطنها، مثل: ريكاردو، وماركس في الاقتصاد، ودوركايم وفرويد في الاجتماع والأخلاق، وذلك لضمان وحدة الموضوعات وتماسكها، ومثل هذا يقال في حركة الإصلاح الديني التي هزت الكنيسة وحطمت الوحدة الشكلية للعالم المسيحي.
২ - গির্জা ও বিজ্ঞানের মধ্যকার দ্বন্দ্ব: এখানে আমি সেই তিক্ত দ্বন্দ্বের একটি ঐতিহাসিক রূপরেখা তুলে ধরেছি, যা কোপারনিকাসের তত্ত্ব থেকে শুরু করে নিউটনের তত্ত্ব পর্যন্ত বিস্তৃত। পাশাপাশি এতে ঐতিহাসিক সমালোচনা পদ্ধতি (Historical Criticism), ঈশ্বরবাদ (Deism) এবং আদি নাস্তিকদের মতবাদসমূহ আলোচিত হয়েছে।
৩ - ফরাসি বিপ্লব: যা খ্রিস্টীয় ইউরোপে প্রথম ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সফল হয়েছিল। এর কারণ, প্রভাব এবং ধ্বংসাত্মক শক্তিসমূহ কর্তৃক এর অপব্যবহারের বিষয়টি এখানে স্পষ্ট করা হয়েছে।
৪ - বিবর্তনবাদ: যা ছিল ইউরোপের ওপর গির্জার বুদ্ধিবৃত্তিক অভিভাবকত্বের অবসান এবং চিরতরে ময়দান থেকে তাদের পিছু হটার সংকেত। আমি চিন্তাধারা ও জীবন ব্যবস্থায় এই তত্ত্বের ধ্বংসাত্মক প্রভাব এবং জ্ঞান ও আচরণের ক্ষেত্রে এর সন্দেহজনক প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করেছি।
সত্য বলতে কি, আরও কিছু কারণ রয়েছে যা এগুলোর চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে আমি সেগুলোকে স্বতন্ত্র কারণ হিসেবে উপস্থাপন না করাকেই শ্রেয় মনে করেছি। উদাহরণস্বরূপ, ধ্বংসাত্মক শক্তি তথা "ইহুদিদের" একটি স্বতন্ত্র কারণ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে; কিন্তু আমি সেভাবে তা উপস্থাপন করিনি। কারণ, গবেষণার গভীরে গেলে এটি স্পষ্ট হবে যে—ইহুদিরা মূলত ঘটনাপ্রবাহকে কাজে লাগায়, তারা তা তৈরি করে না। তাই আমি প্রাসঙ্গিক স্থানগুলোতে তাদের এই সুযোগ গ্রহণের কিছু নমুনা তুলে ধরাই যথেষ্ট মনে করেছি, যেমন:
ধর্মীয় বন্ধন ছিন্ন করা এবং 'ঘেটো' থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ফরাসি বিপ্লবকে ব্যবহার করা; নাস্তিকতা ও অনৈতিকতা ছড়ানোর জন্য ডারউইনবাদকে ব্যবহার করা; বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য শিল্প বিপ্লবকে ব্যবহার করা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি পরিচালনার জন্য গণতন্ত্রকে ব্যবহার করা।
তবে বিষয়ের ঐক্য ও সামঞ্জস্য রক্ষার খাতিরে আমি ইহুদিদের বিভিন্ন তত্ত্বকে তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রভাবে আলোচনা করেছি। যেমন: অর্থনীতিতে রিকার্ডো ও মার্ক্স এবং সমাজবিজ্ঞান ও নীতিশাস্ত্রে ডুরখেইম ও ফ্রয়েড। একইভাবে 'ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন' (Reformation) সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়েছে, যা গির্জাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল এবং খ্রিস্টান বিশ্বের বাহ্যিক ঐক্যকে তছনছ করে দিয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
- الباب الثالث: العلمانية في الحياة الأوروبية:
وهو الباب الرئيسي في الموضوع، وقد قسمته حسب التقسيم التقليدي ستة فصول:
- الأول: في الحكم والسياسة، تعرضت فيه للفكر السياسي اللاديني وأشهر نظرياته، مثل: النظرية الخيالية، نظرية العقد الاجتماعي، نظرية الحق الإلهي، ثم النظريات الحديثة التي تقوم على " الميكافيللية، فلسفة التطور، الديمقراطية" بتفسيريها الليبرالي والشيوعي.
وقد انتهجت أسلوب النقد بطريق العرض، فقد كنت أعرض أية نظرية كما يراها أصحابها عرضاً يوحي للقارئ بنقدها دون أن أتقول عليهم، وهكذا في بقية الفصول.
وقد رأيت أن أفضل أسلوبٍ لرد هذه النظريات هو عرض آثارها الواقعية ونتائجها التطبيقية، مستشهداً بشهود من أهلها، وذلك لسببين:
1 - أن تطبيق أية نظرية هو المحك الحقيقي لنجاحها أو إخفاقها.
2 - أن مناقشة تفصيلات النظريات اللادينية المختلفة فوق كونها تستهلك جهداً كبيراً لا تتفق مع حكم الإسلام فيها، الذي يرفض تلك التصورات جملة رفضاً أساسيا، كما سيتضح في الباب الخامس.
- الثاني: في الاقتصاد، تحدثت فيه عن النظام الإقطاعي، ثم عن المذاهب اللادينية الاقتصادية: المذهب الطبيعي الفيزيوقراطي، المذهب الكلاسيكي الرأسمالي، المذهب الشيوعي، عارضاً نظريات كل مذهب، ثم عقبت على ذلك بعرض الواقع المعاصر والنتائج
তৃতীয় অধ্যায়: ইউরোপীয় জীবনে ধর্মনিরপেক্ষতা:
এটি এই বিষয়ের প্রধান অংশ, এবং আমি একে প্রচলিত বিভাজন অনুযায়ী ছয়টি পরিচ্ছেদে ভাগ করেছি:
- প্রথম: শাসনব্যবস্থা ও রাজনীতি প্রসঙ্গে; এতে আমি ধর্মহীন রাজনৈতিক চিন্তাধারা এবং এর প্রসিদ্ধ মতবাদসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি, যেমন: কাল্পনিক মতবাদ (ইউটোপীয়), সামাজিক চুক্তি মতবাদ, ঐশ্বরিক অধিকার মতবাদ। এরপর আধুনিক মতবাদসমূহ যা 'ম্যাকিয়াভেলিবাদ, বিবর্তনীয় দর্শন ও গণতন্ত্রের' উদারনৈতিক ও সাম্যবাদী ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
আমি বর্ণনার মাধ্যমেই সমালোচনার পদ্ধতি অনুসরণ করেছি। আমি যেকোনো মতবাদকে তার প্রবক্তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী এমনভাবে উপস্থাপন করেছি, যা পাঠকের মনে এর সমালোচনা উদ্রেক করে, অথচ আমি তাদের ওপর কোনো কিছু আরোপ করিনি। বাকি পরিচ্ছেদগুলোতেও একই পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে।
আমি মনে করেছি যে, এই মতবাদগুলো খণ্ডন করার সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো এগুলোর বাস্তব প্রভাব ও প্রায়োগিক ফলাফল তুলে ধরা এবং তাদের নিজস্ব পণ্ডিতদের সাক্ষ্য উদ্ধৃত করা। এর দুটি কারণ রয়েছে:
১ - যেকোনো মতবাদের প্রয়োগই হলো তার সাফল্য বা ব্যর্থতার প্রকৃত কষ্টিপাথর।
২ - বিভিন্ন ধর্মহীন মতবাদের বিস্তারিত খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা করা বিপুল শ্রমসাপেক্ষ হওয়ার পাশাপাশি এ বিষয়ে ইসলামের বিধানের সাথেও সংগতিপূর্ণ নয়; কারণ ইসলাম এই ধারণাগুলোকে সামগ্রিকভাবে এবং মৌলিকভাবেই প্রত্যাখ্যান করে, যা পঞ্চম অধ্যায়ে স্পষ্ট হবে।
- দ্বিতীয়: অর্থনীতি প্রসঙ্গে; এতে আমি সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং এরপর ধর্মহীন অর্থনৈতিক মতবাদসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি: প্রাকৃতিক মতবাদ (ফিজিওক্র্যাসি), ধ্রুপদী পুঁজিবাদী মতবাদ এবং সাম্যবাদী মতবাদ। এখানে প্রতিটি মতবাদের তত্ত্ব উপস্থাপন করার পর সমকালীন বাস্তবতা ও ফলাফল তুলে ধরে এর ওপর আলোকপাত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الفظيعة التي نجمت عن فصل الاقتصاد عن الدين، مؤيداً كل ذلك بالشواهد الواقعية، سواء في الغرب الرأسمالي أو الشرق الشيوعي.
- الثالث: علمانية العلم، تحدثت فيه عن الأسس والملابسات التي قامت عليها لادينية العلم، مثل: موقف الكنيسة، والإرث الديني والوثني في النفسية الأوروبية، الذي يصور الإله عدواً للإنسان، يتعمد تجهيله كما في سفر التكوين وأساطير الإغريق .. ومظاهر لادينية العلم مثل: استبعاد الغائية والاكتفاء بالعلل الصورية، حذف اسم الله من أي بحث علمي، والاستعاضة بتعبيرات ملتوية كما في مسألة أصل الحياة، وتعميم التفسيرات الميكانيكية للكون والحياة، ورفع شعار العلم للعلم في الغرب، والعلم للمذهب في الدول الشيوعية.
وعقبت -كالمعتاد- بالحديث عن أثر الفصل بين العلم والدين في المجتمع المعاصر ونتائجه السيئة، مثل: انتشار الإلحاد، وظهور الفوضى العقائدية والقلق على الأجيال المثقفة، واستحالة العلم نفسه إلى خطر يهدد البشرية جمعاء.
- الرابع: علمانية الاجتماع والأخلاق، مهدت له بالحديث عن مجتمع وأخلاق القرون الوسطى في ظل الكنيسة، ثم فصلت القول في النظريات والمدارس الاجتماعية اللادينية -مبتدئاً بالحديث عن أصول وولادة علم الاجتماع - وهي: نظرية العقد الاجتماعي- المدرسة الطبيعية، المدرسة الوضعية العقلية (كونت، دوركايم) النظرية الاجتماعية الشيوعية، النظرية العضوية والنفعيون، الدراسات النفسية الحديثة (السلوكية - التحليل النفسي) "، ثم أردفت لذلك بالحديث عن الواقع الاجتماعي والأخلاقي المعاصر مكتفياً بنموذج واحد، هو قضية المرأة وما نجم عنها من الشرور الاجتماعية المستطيرة .. وقدمت نماذج واقعية للهبوط الخلقي الشائن الذي تعاني منه المجتمعات اللادينية المعاصرة، شرقاً وغرباً.
অর্থনীতিকে ধর্ম থেকে পৃথক করার ফলে যে ভয়াবহ পরিণতিগুলো উদ্ভূত হয়েছে, আমি সেগুলোকে পুঁজিবাদী পশ্চিম এবং সাম্যবাদী পূর্ব—উভয় অঞ্চলের বাস্তব প্রমাণাদির মাধ্যমে সমর্থন করেছি।
- তৃতীয়: বিজ্ঞানের ধর্মনিরপেক্ষতা; এখানে আমি বিজ্ঞানের ধর্মহীনতার ভিত্তি ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোচনা করেছি। যেমন: গির্জার অবস্থান, ইউরোপীয় মনস্তত্ত্বে বিদ্যমান ধর্মীয় ও পৌত্তলিক উত্তরাধিকার—যা স্রষ্টাকে মানুষের শত্রু হিসেবে চিত্রিত করে এবং মনে করে যে তিনি মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে অজ্ঞ রাখতে চান, যেমনটি আদিপুস্তক (বুক অব জেনেসিস) এবং গ্রীক উপকথাগুলোতে পাওয়া যায়। এছাড়া বিজ্ঞানের ধর্মহীনতার বিভিন্ন বহিঃপ্রকাশ নিয়ে আলোচনা করেছি, যেমন: চূড়ান্ত উদ্দেশ্যবাদকে (Teleology) বর্জন করে কেবল রূপগত কারণগুলোর (Formal causes) ওপর নির্ভর করা, যেকোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে আল্লাহর নাম মুছে ফেলা এবং জীবনের উৎপত্তির মতো বিষয়গুলোতে প্যাঁচানো পরিভাষা ব্যবহার করা, মহাবিশ্ব ও জীবনের যান্ত্রিক ব্যাখ্যার সাধারণীকরণ এবং পশ্চিমা বিশ্বে 'বিজ্ঞানের জন্য বিজ্ঞান' আর সাম্যবাদী দেশগুলোতে 'মতাদর্শের জন্য বিজ্ঞান' স্লোগান তোলা।
পূর্বের ন্যায় আমি এখানেও সমসাময়িক সমাজে বিজ্ঞান ও ধর্মের পৃথকীকরণের প্রভাব এবং এর অশুভ পরিণতি নিয়ে আলোচনা করেছি। যেমন: নাস্তিকতার বিস্তার, আদর্শিক বিশৃঙ্খলা ও শিক্ষিত প্রজন্মের অস্থিরতা এবং খোদ বিজ্ঞানই সমগ্র মানবজাতির জন্য এক ভয়াবহ হুমকিতে পরিণত হওয়া।
- চতুর্থ: সমাজ ও নৈতিকতার ধর্মনিরপেক্ষতা; গির্জার ছত্রছায়ায় মধ্যযুগের সমাজ ও নৈতিকতা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে আমি এর অবতারণা করেছি। এরপর আমি সমাজবিজ্ঞানের উদ্ভব ও জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে ধর্মহীন সামাজিক মতবাদ ও চিন্তাধারাগুলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছি; যথা: সামাজিক চুক্তি মতবাদ, প্রাকৃতিক মতবাদ, প্রত্যক্ষবাদী বুদ্ধিবৃত্তিক ঘরানা (কোঁৎ, ডুরখেইম), সাম্যবাদী সামাজিক মতবাদ, জৈবিক মতবাদ ও উপযোগবাদ এবং আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক গবেষণা (আচরণবাদ ও মনোবিশ্লেষণ)। অতঃপর বর্তমান সময়ের সামাজিক ও নৈতিক বাস্তবতার আলোচনার ক্ষেত্রে কেবল একটি দৃষ্টান্ত—নারী ইস্যু এবং তা থেকে উদ্ভূত ভয়াবহ সামাজিক অনিষ্টগুলোর ওপর আলোকপাত করেছি। এছাড়া প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সমসাময়িক ধর্মহীন সমাজগুলোতে চারিত্রিক অধঃপতনের যে লজ্জাজনক চিত্র বিদ্যমান, তার বাস্তব নমুনা পেশ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
- الخامس: في الأدب والفن، تحدثت فيها عن الاتجاهات الأدبية الأوروبية:
1 - عصر النهضة "الكلاسيكية الجديدة" وما هدفت إليه من بعث التراث الوثني الإغريقي وإنماء النزعة الإنسانية.
2 - العصر الحديث:
أ- الرومانسية: تصويرها للهروب، مثاليتها، تأليه الطبيعة.
ب- الواقعية: نشأتها، أهدافها، ميزاتها الفنية.
3 - الأدب المعاصر "من الواقعية إلى اللامعقول" المؤثرات الفكرية والاجتماعية فيه، اتجاهاته الكبرى:
أ- الإباحية، مع سرد نماذج لها.
ب- الضياع "اللاانتماء" مع أمثلة أدبية له.
وفي مقابل الواقع المعاصر في كل مجال عرضت هنا نماذج موجزة لمدارس الضياع المعاصرة " الوجودية، الرمزية، السوريالية، العلمية
… إلخ".
وكان من أبرز العقبات التي واجهتني في هذا الباب محاولة عرض النظريات المعقدة بأسلوب موجز سهل الإدراك .. وأحمد الله إذ أعانني على ذلك.
- السادس: ماذا بقى للدين، وهو تكملة عامة للباب مع التركيز على يوم الدين أو ساعته، وبيان الإفلاس الذي منيت به الكنائس، وكيف أصبحت مباءات للمفاسد العصرية.
- الباب الرابع: العلمانية في الحياة الإسلامية:
لقد رأيت منذ وضع خطة الموضوع، أنه لا ينبغي بحث
- পঞ্চম: সাহিত্য ও শিল্পকলা প্রসঙ্গে; এতে আমি ইউরোপীয় সাহিত্যিক মতবাদসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করেছি:
১ - রেনেসাঁ বা নবজাগরণ যুগ "নব্য-ক্ল্যাসিকবাদ" এবং গ্রিক পৌত্তলিক ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিতকরণ ও মানবতাবাদের প্রসারে এর লক্ষ্যসমূহ।
২ - আধুনিক যুগ:
ক- রোমান্টিকতাবাদ: এর পলায়নপরতার চিত্রায়ণ, এর আদর্শবাদ এবং প্রকৃতির দেবত্বারোপ।
খ- বাস্তববাদ: এর উদ্ভব, লক্ষ্যসমূহ এবং শৈল্পিক বৈশিষ্ট্যসমূহ।
৩ - সমকালীন সাহিত্য "বাস্তববাদ থেকে অযৌক্তিকতা পর্যন্ত", এতে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক প্রভাব এবং এর প্রধান ধারাগুলো:
ক- অশ্লীলতা বা অবাধ যৌনাচার, এর বিভিন্ন নমুনার বর্ণনা সহ।
খ- লক্ষ্যহীনতা বা "বিচ্ছিন্নতাবোধ", এর সাহিত্যিক উদাহরণ সহ।
এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সমকালীন বাস্তবতার বিপরীতে আমি এখানে সমকালীন লক্ষ্যহীনতার বিভিন্ন মতবাদের সংক্ষিপ্ত নমুনা পেশ করেছি যথা: "অস্তিত্ববাদ, প্রতীকবাদ, পরাবাস্তববাদ, বিজ্ঞানবাদ
... ইত্যাদি"।
এই অধ্যায়ে আমার সম্মুখীন হওয়া সবচেয়ে প্রধান বাধাগুলোর একটি ছিল জটিল তত্ত্বগুলোকে সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য শৈলীতে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা... আর আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি যে তিনি আমাকে এতে সাহায্য করেছেন।
- ষষ্ঠ: ধর্মের জন্য কী অবশিষ্ট রইল? এটি এই অধ্যায়ের একটি সাধারণ পরিশিষ্ট, যেখানে বিচার দিবস বা তার নির্দিষ্ট সময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং গির্জাগুলো যে দেউলিয়াত্বের শিকার হয়েছে এবং কীভাবে সেগুলো আধুনিক পাপাচারের আখড়ায় পরিণত হয়েছে তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
- চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইসলামি জীবনে ধর্মনিরপেক্ষতা:
এই বিষয়ের পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় থেকেই আমি অনুধাবন করেছি যে, এটি আলোচনা করা সমীচীন হবে না...
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
العلمانية بصفتها مذهباً فكرياً غربياً دون التعرض لآثارها في الحياة الإسلامية.
والحق أن العلمانية في العالم الإسلامي جديرة برسالة مستقلة، لكنني أرجو أن أكون قد وفقت لعرض أسبابها ومظاهرها عرضاً شافياً .. مع مراعاة حجم الرسالة ومدتها، هذا مع أن الحديث عن العلمانية ونتائجها في أوروبا هو في الحقيقة شامل لمظاهرها في كل مكان على سبيل الإجمال.
وقد قسمت هذا الباب إلى فصلين كبيرين:
الأول: أسباب العلمانية في العالم الإسلامي، وقد أوجزتها في سببين بارزين:
انحراف المسلمين الذي يقابل تحريف النصرانية في أوروبا، أوضحت فيه صور ذلك الانحراف، لاسيما ما يتعلق منها بالتوحيد والعقيدة، وانحسار مفهومات الإسلام في مجال الشعائر التعبدية بتأثير الأفكار الصوفية والركود الحضاري العام، واختتمته بنماذج لتقبل المسلمين الذاتي للعلمانية.
2 - التخطيط اليهودي الصليبي: تحدثت فيه عن جذور العداوة التاريخية للمسلمين من قبل اليهود والنصارى، وأبديتها، والخطة الجديدة للغزو، وإفادتها من الواقع الإسلامي المنحرف، وقسمت المؤامرة إلى أربعة أجنحة كبرى (قوى الاحتلال المباشر، المستشرقون، المبشرون، الطوائف اليهودية والنصرانية والباطنية) .. وفصلت القول في جهود وأعمال كل جناح في سبيل تحقيق الهدف المشترك: إخراج المسلمين من دينهم وصبغهم بالصبغة الغربية اللادينية.
একটি পাশ্চাত্য মতাদর্শ হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতা, ইসলামী জীবনে এর প্রভাবসমূহ নিয়ে আলোচনা করা ছাড়াই।
বস্তুত মুসলিম বিশ্বে ধর্মনিরপেক্ষতা বিষয়টি একটি স্বতন্ত্র গবেষণাপত্রের দাবি রাখে। তবে আমি আশা করি যে, এই গবেষণাপত্রের কলেবর ও সময়সীমা বিবেচনায় নিয়ে এর কারণ ও বহিঃপ্রকাশগুলো পর্যাপ্তভাবে উপস্থাপনে সক্ষম হয়েছি। তদুপরি, ইউরোপে ধর্মনিরপেক্ষতা এবং এর ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা মূলত সব স্থানের সাধারণ বহিঃপ্রকাশগুলোকেই সামগ্রিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করে।
আমি এই অধ্যায়কে দুটি বড় পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মুসলিম বিশ্বে ধর্মনিরপেক্ষতার কারণসমূহ; আমি একে দুটি প্রধান কারণে সংক্ষেপিত করেছি:
১. মুসলমানদের বিচ্যুতি, যা ইউরোপে খ্রিস্টধর্মের বিকৃতির সমান্তরাল। আমি এতে সেই বিচ্যুতির স্বরূপ ব্যাখ্যা করেছি, বিশেষ করে তাওহিদ ও আকীদার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো। এছাড়া সুফিভাবধারা ও সাধারণ সভ্যতাগত স্থবিরতার প্রভাবে ইবাদত-বন্দেগির গণ্ডিতে ইসলামের ধারণাগুলোর সংকুচিত হয়ে পড়া নিয়ে আলোচনা করেছি। পরিশেষে, মুসলমানদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধর্মনিরপেক্ষতাকে গ্রহণ করার কিছু দৃষ্টান্ত দিয়ে এটি সমাপ্ত করেছি।
২ - ইহুদি-ক্রুসেডার পরিকল্পনা: এতে আমি ইহুদি ও খ্রিস্টানদের পক্ষ থেকে মুসলমানদের প্রতি ঐতিহাসিক শত্রুতার শিকড় ও এর স্থায়িত্ব এবং আগ্রাসনের নতুন পরিকল্পনা ও বিচ্যুত মুসলিম বাস্তবতা থেকে এর ফায়দা গ্রহণের বিষয়টি আলোচনা করেছি। আমি এই ষড়যন্ত্রকে চারটি বড় শাখায় বিভক্ত করেছি (প্রত্যক্ষ দখলদার শক্তি, প্রাচ্যবিদ, মিশনারি এবং ইহুদি, খ্রিস্টান ও বাতেনি উপদলসমূহ)। সাধারণ লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি শাখার প্রচেষ্টা ও কার্যক্রম আমি সবিস্তারে বর্ণনা করেছি; আর সেই লক্ষ্যটি হলো: মুসলমানদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বের করে আনা এবং তাদেরকে পশ্চিমা ধর্মহীন আদর্শে রঞ্জিত করা।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الثاني: مظاهر العلمانية في الحياة الإسلامية: وهو فصل كبير قسمته إلى ثلاثة أقسام:
1 - في الحكم والتشريع: تحدثت فيه عن بداية الانحراف المتمثلة في تخلف المسلمين الحضاري، وجمود الاستنباط الفقهي، وتوهم دعاة اليقظة بأن سبب تأخر المسلمين هو عجزهم التنظيمي والإداري وما أدى ذلك إليه من تبلور فكرة (الإصلاح) .. واستيراد التنظيمات ثم التشريعات الكافرة، وكيف انتهى الأمر بالحركة الإصلاحية إلى العلمانية الكاملة في تركيا، وإلى إقصاء الشريعة في البلاد العربية، ومصر خاصة، بالتعاون بين الاستعمار ودعاة الإصلاح، وأثر ذلك في ظهور الأفكار السياسية اللادينية والأحزاب المتعددة الانتماءات.
2 - في التربية والثقافة: تحدثت فيه عن المستوى التربوي والثقافي للعالم الإسلامي قبل احتكاكه بالحضارة الغربية اللادينية، وكيف تمت الازدواجية الخطرة في التعليم، وحركة التغريب الأولى، ثم عن الدعوات الهادفة إلى لادينية التربية والثقافة، مثل " الدعوة إلى اقتباس الحضارة الغربية خيرها وشرها، واحتقار الماضي الإسلامي تربوياً وتاريخياً، وتطوير الأزهر، وتطبيق المناهج التعليمية الغربية، واستيراد المذاهب اللادينية في الفكر والأدب".
3 - في الاجتماع والأخلاق: ابتدأته بالحديث عن سوء تمثيل المجتمع الإسلامي لحقيقة الإسلام، والتقبل الذاتي لتقليد الغرب، ثم فصلت القول فيما أًسْمِي (قضية تحرير المرأة)، ابتداءً من جمال الدين الأفغاني ورفاعة الطهطاوى، وانتهاءً بقاسم أمين وحركة النهضة النسائية، مع إيضاح دور العلماء والزعماء والأدباء الذين
দ্বিতীয়: ইসলামী জীবনে ধর্মনিরপেক্ষতার বহিঃপ্রকাশ: এটি একটি দীর্ঘ অধ্যায় যা আমি তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছি:
১ - শাসন ও আইন প্রণয়নে: এতে আমি বিচ্যুতির সেই সূচনা সম্পর্কে আলোচনা করেছি যা মুসলমানদের সভ্যতাগত পশ্চাৎপদতা, ফিকহী গবেষণার স্থবিরতা এবং জাগরণের প্রবক্তাদের মাঝে এই ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছিল যে, মুসলমানদের এই পিছিয়ে পড়ার কারণ হলো তাদের সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক অক্ষমতা। এর ফলেই 'সংস্কার' ভাবনার দানা বাঁধা... এবং কুফরি ব্যবস্থাপনা ও এরপর কুফরি আইন আমদানির পথ প্রশস্ত হয়। এতে আরও আলোচিত হয়েছে যে, কীভাবে এই সংস্কার আন্দোলন তুরস্কে পূর্ণাঙ্গ ধর্মনিরপেক্ষতা এবং আরব দেশগুলোতে—বিশেষ করে মিশরে—উপনিবেশবাদ ও সংস্কারের প্রবক্তাদের যোগসাজশে শরীয়াহকে রাষ্ট্রীয় জীবন থেকে নির্বাসিত করার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। এছাড়া ধর্মহীন রাজনৈতিক চিন্তাধারা ও বিচিত্র আদর্শের রাজনৈতিক দলগুলোর উত্থানে এর প্রভাবও এখানে বর্ণিত হয়েছে।
২ - শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে: এতে আমি ধর্মহীন পশ্চিমা সভ্যতার সংস্পর্শে আসার পূর্বে মুসলিম বিশ্বের শিক্ষা ও সংস্কৃতির মান নিয়ে আলোচনা করেছি। এরপর শিক্ষাব্যবস্থায় কীভাবে বিপজ্জনক দ্বিমুখিতা ও প্রাথমিক পাশ্চাত্যকরণ প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছিল তা বর্ণনা করেছি। এছাড়া শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে ধর্মহীন করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত বিভিন্ন দাওয়াত ও প্রচারণা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যেমন—"পশ্চিমা সভ্যতার ভালো-মন্দ নির্বিশেষে সবকিছুই গ্রহণ করার আহ্বান, শিক্ষা ও ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে ইসলামী অতীতকে অবজ্ঞা করা, আল-আযহারের সংস্কার, পাশ্চাত্য শিক্ষাক্রমের প্রয়োগ এবং চিন্তা ও সাহিত্যে ধর্মহীন মতবাদসমূহের আমদানি"।
৩ - সমাজ ও নৈতিকতায়: এটি আমি শুরু করেছি ইসলামের প্রকৃত রূপ প্রকাশে মুসলিম সমাজের ব্যর্থতা এবং পশ্চিমা অনুকরণের প্রতি গড়ে ওঠা মানসিক প্রবণতার আলোচনার মাধ্যমে। এরপর আমি তথাকথিত "নারী মুক্তি আন্দোলন" সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি—যার শুরু হয়েছিল জামালুদ্দিন আফগানি ও রিফাতুত তাহতাওয়ি থেকে এবং সমাপ্তি ঘটেছিল কাসেম আমিন ও নারী জাগরণ আন্দোলনের মাধ্যমে। সেই সঙ্গে ওই সকল ওলামা, নেতা ও সাহিত্যিকদের ভূমিকাও স্পষ্ট করা হয়েছে যারা...
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أسهموا في المؤامرة، وسريان الفكرة إلى بلاد الشام والمغرب فضلاً عن تركيا، والنتائج الواقعية لها.
- الباب الخامس: حكم العلمانية في الإسلام:
وقد رأيت أن يكون هو خاتمة أبواب الرسالة، وقسمته إلى فصلين:
الأول: فصل تمهيدي بعنوان: هل للعلمانية في العالم الإسلامي مبرر؟
أوضحت فيه الفروق الجوهرية بين الإسلام والنصرانية المحرفة عقيدةً وشريعةًَ وتاريخاً وواقعاً، مما ينفي أي مبرر عقلي لاستيراد هذا المذهب المنحرف.
الثاني: حكم العلمانية في الإسلام:
بينت فيه حكم العلمانية على ضوء أصول العقيدة الإسلامية والمدلول الحقيقي لكلمة "لا إله إلا الله" ومفهومي "الطاغوت والعبادة" وخرجت من ذلك بنتيجة هي أن العلمانية تتنافى مع الإسلام من جهتين:
1 - كونها حكماً بغير ما أنزل الله.
2 - كونها شركاً في عبادة الله، وفصلت القول في ذلك مورداً الأدلة من الآيات والأحاديث ومستشهداً بأقوال علماء السلف.
ومن خلال ذلك ناقشت شبهة التعلل بحرية أداء الشعائر التي تسمح بها بعض الأنظمة العلمانية، وشبهة قصور الشريعة عن مجاراة التطور الإنساني والإحاطة بجوانب الحياة المعاصرة.
والحق أن تضخم حجم الرسالة مع انتهاء المدة المقررة لها قد حالا دون الإفاضة والتفصيل في بعض الموضوعات -لاسيما ما يتعلق بالواقع الإسلامي المعاصر- كما حالا دون وضع فهارس تفصيلية للأعلام والموضوعات تعين القارئ على الإفادة من الرسالة بصورة أوفى، أما التعريف بالأعلام فعلَّه يتضح من خلال عرض نظرياتهم
তারা এই ষড়যন্ত্রে অংশ নিয়েছে এবং শামে (সিরিয়া অঞ্চল), মাগরেব (উত্তর আফ্রিকা) ও তুরস্কের পাশাপাশি এই মতাদর্শের বিস্তার এবং এর বাস্তব পরিণতির ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।
- পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ইসলামে ধর্মনিরপেক্ষতার বিধান:
আমি এই অংশটিকে অভিসন্দর্ভের সমাপনী অধ্যায় হিসেবে নির্ধারণ করা সমীচীন মনে করেছি এবং একে দুটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:
প্রথম: একটি প্রারম্ভিক অনুচ্ছেদ যার শিরোনাম: 'মুসলিম বিশ্বে ধর্মনিরপেক্ষতার কি কোনো যৌক্তিকতা আছে?'
এতে আমি আকিদা, শরীয়ত, ইতিহাস এবং বাস্তবতার নিরিখে ইসলাম এবং বিকৃত খ্রিষ্টধর্মের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্যসমূহ স্পষ্ট করেছি, যা এই ভ্রান্ত মতবাদ আমদানির যেকোনো বুদ্ধিভিত্তিক যৌক্তিকতাকে নাকচ করে দেয়।
দ্বিতীয়: ইসলামে ধর্মনিরপেক্ষতার বিধান:
এতে আমি ইসলামী আকিদার মূলনীতি, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর প্রকৃত তাৎপর্য এবং 'তাগুত ও ইবাদত'-এর ধারণার আলোকে ধর্মনিরপেক্ষতার বিধান বর্ণনা করেছি। এর মাধ্যমে আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, ধর্মনিরপেক্ষতা দুটি দিক থেকে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক:
১ - এটি আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান ব্যতিরেকে শাসনকার্য পরিচালনা করার নামান্তর।
২ - এটি আল্লাহর ইবাদতের ক্ষেত্রে শিরক। আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং কুরআন ও সুন্নাহর দলিল উপস্থাপনের পাশাপাশি সালাফদের (পূর্বসূরী আলেমদের) বাণী দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছি।
এরই প্রেক্ষাপটে আমি কিছু ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতার অজুহাত এবং মানবীয় বিবর্তন ও সমকালীন জীবনের সকল দিক অন্তর্ভুক্ত করতে শরীয়তের অক্ষমতা সংক্রান্ত সংশয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি।
প্রকৃতপক্ষে, অভিসন্দর্ভের কলেবর বৃদ্ধি পাওয়া এবং নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে কিছু বিষয়ে সবিস্তার আলোচনা করা সম্ভব হয়নি—বিশেষ করে সমসাময়িক মুসলিম বাস্তবতার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো। তেমনিভাবে ব্যক্তিবর্গ ও বিষয়াদির বিস্তারিত সূচী তৈরি করাও সম্ভব হয়নি, যা পাঠককে এই অভিসন্দর্ভ থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে উপকৃত হতে সাহায্য করত। তবে ব্যক্তিবর্গের পরিচিতি সম্ভবত তাদের মতবাদগুলো আলোচনার মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ২০)
وآرائهم بالإضافة إلى الإشارة إلى سنة الوفاة، وقد أعرف العلم في الحاشية إذا اقتضى الأمر ذلك.
وكل ما أرجوه هو أن يتقبل الله مني هذا العمل خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفع بهذه المحاولة المتواضعة من يسلك هذا الطريق من بعد، لنصل إلى فكر إسلامي أصيل متكامل.
وإنني إذ أشكر الله تعالى على توفيقه ومَنِّه، لأشكر من بعده فضيلة نائب رئيس الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، وسعادة عميد كلية الشريعة بمكة المكرمة، وفضيلة المشرف على هذه الرسالة .. وكل من أسهم بجهده المشكور في شيء منها، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
এবং তাঁদের অভিমতসমূহ, সেই সাথে তাঁদের মৃত্যুসালের উল্লেখ। প্রয়োজনবোধে আমি পাদটীকায় কোনো ব্যক্তির পরিচয় প্রদান করেছি।
আমার একান্ত প্রত্যাশা এই যে, মহান আল্লাহ যেন আমার এই আমলকে কবুল করেন এবং তা একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির নিমিত্তে গণ্য করেন। আরও প্রত্যাশা করি যে, উত্তরকালে যারা এই পথে অগ্রসর হবেন, তাঁরা যেন এই বিনম্র প্রচেষ্টার মাধ্যমে উপকৃত হন, যাতে আমরা একটি বিশুদ্ধ ও পূর্ণাঙ্গ ইসলামি চিন্তাধারায় উপনীত হতে পারি।
মহান আল্লাহর তাওফিক ও অনুগ্রহের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায়ের পাশাপাশি আমি মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর, মক্কার শরিয়াহ অনুষদের সম্মানীয় ডিন, এই গবেষণাপত্রের শ্রদ্ধেয় তত্ত্বাবধায়ক এবং যাঁরা নিজ নিজ প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই কার্যে অবদান রেখেছেন, তাঁদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমাদের সর্বশেষ প্রার্থনা হলো—সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ২১)
-
تعريف العلمانية:لفظ العلمانية ترجمة خاطئة لكلمة ( Secularism) في الإنجليزية، أو ( secularity) بالفرنسية (1) وهي كلمة لا صلة لها بلفظ "العلم" ومشتقاته على الإطلاق.
فالعلم في الإنجليزية والفرنسية معناه ( Science) ، والمذهب العلمي نطلق عليه كلمة ( Scientism) (2) والنسبة إلى العلم هي ( Scientific) أو ( Scientifique) في الفرنسية.
ثم إن زيادة الألف والنون غير قياسية في اللغة العربية، أي في الاسم المنسوب، وإنما جاءت سماعاً ثم كثرت في كلام المتأخرين كقولهم: (روحاني، وجسماني، ونوراني
… ).
والترجمة الصحيحة للكلمة هي (اللادينية) أو (الدنيوية) لا بمعنى ما يقابل الأخروية فحسب، بل بمعنى أخص هو ما لا صلة له بالدين، أو ما كانت علاقته بالدين علاقة تضاد.
وتتضح الترجمة الصحيحة من التعريف الذي تورده المعاجم ودوائر المعارف الأجنبية للكلمة:
--------------------------------------------
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের (আলমানিয়্যাহ) সংজ্ঞা:'আলমানিয়্যাহ' পরিভাষাটি ইংরেজি শব্দ (Secularism) কিংবা ফরাসি শব্দ (secularity)-এর একটি ত্রুটিপূর্ণ অনুবাদ (১); এই শব্দটির সাথে 'ইলম' (বিজ্ঞান) শব্দ এবং এর কোনো ব্যুৎপত্তিগত রূপের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই।
কেননা ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় বিজ্ঞানের প্রতিশব্দ হলো (Science), এবং বৈজ্ঞানিক মতবাদকে বলা হয় (Scientism) (২)। আর বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত বা বিজ্ঞানভিত্তিক বিশেষণকে ইংরেজিতে (Scientific) এবং ফরাসিতে (Scientifique) বলা হয়।
তাছাড়া, আরবি ভাষায় সম্বন্ধবাচক বিশেষ্যের (ইসম মানসুব) ক্ষেত্রে অতিরিক্ত 'আলিফ' ও 'নুন' যুক্ত হওয়া কোনো নিয়মিত ব্যাকরণিক নিয়ম (কিয়াসী) নয়; বরং এটি কেবল শ্রুতিনির্ভর (সামায়ী) হিসেবে এসেছে। পরবর্তী যুগের লেখকদের বক্তব্যে এর ব্যাপক প্রচলন ঘটে, যেমন তাদের ব্যবহৃত শব্দাবলি: (রুহানি/আধ্যাত্মিক, জিসমানি/শারীরিক, নূরানি/জ্যোতির্ময়...)।
এই শব্দটির সঠিক অনুবাদ হলো 'লা-দিনিয়্যাহ' (ধর্মহীনতা) বা 'দুনিয়াউইয়্যাহ' (পার্থিবতা)। এটি কেবল পারলৌকিকতার বিপরীত শব্দ হিসেবে নয়, বরং আরও সুনির্দিষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয়—যা হলো ধর্মের সাথে সম্পর্কহীনতা, অথবা ধর্মের সাথে যার অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত ও সাংঘর্ষিক।
বিদেশি অভিধান ও বিশ্বকোষসমূহে শব্দটির যে সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে, তা থেকে এর সঠিক অনুবাদটি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ২২)
تقول دائرة المعارف البريطانية مادة ( secularism) : ( هي حركة اجتماعية تهدف إلى صرف الناس وتوجيههم من الاهتمام بالآخرة إلى الاهتمام بهذه الدنيا وحدها).
ذلك أنه كان لدى الناس في العصور الوسطى رغبة شديدة في العزوف عن الدنيا والتأمل في الله واليوم الآخر، وفي مقاومة هذه الرغبة طفقت الـ ( Secularism) تعرض نفسها من خلال تنمية النزعة الإنسانية، حيث بدأ الناس في عصر النهضة يظهرون تعلقهم الشديد بالإنجازات الثقافية والبشرية وبإمكانية تحقيق مطامحهم في هذه الدنيا القريبة.
وظل الاتجاه إلى الـ ( Secularism) يتطور باستمرار خلال التاريخ الحديث كله، باعتبارها حركة مضادة للدين ومضادة للمسيحية (1).
ويقول قاموس العالم الجديد لوبستر، شرحاً للمادة نفسها:
1 - الروح الدنيوية، أو الاتجاهات الدنيوية، ونحو ذلك، وعلى الخصوص: نظام من المبادئ والتطبيقات ( Practices) يرفض أي شكل من أشكال الإيمان والعبادة.
2 - الاعتقاد بأن الدين والشئون الكنسية لا دخل لها في شئون الدولة وخاصة التربية العامة (2).
ويقول معجم أكسفورد شرحاً لكلمة ( secular) :
1- دنيوي، أو مادي، ليس دينيا ولا روحياً: مثل التربية اللادينية، الفن أو الموسيقى اللادينية، السلطة اللادينية، الحكومة المناقضة للكنيسة.
--------------------------------------------
এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা 'সেক্যুলারিজম' (secularism) নিবন্ধে উল্লেখ করেছে: "এটি এমন একটি সামাজিক আন্দোলন যার লক্ষ্য মানুষকে পরকাল-কেন্দ্রিক চিন্তা থেকে বিমুখ করে কেবল ইহলৌকিক জগতের প্রতি মনোনিবেশ করানো।"
বস্তুত মধ্যযুগের মানুষের মাঝে পার্থিব বিরাগ এবং আল্লাহ ও পরকাল নিয়ে ধ্যানের এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান ছিল। এই আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিহত করার লক্ষ্যেই সেক্যুলারিজম বা ইহলৌকিকতাবাদ মানবতাবাদের বিকাশের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে। রেনেসাঁ যুগে মানুষ তাদের জাগতিক সাফল্য, সাংস্কৃতিক অর্জন এবং এই নিকটবর্তী পৃথিবীতেই তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের সম্ভাবনার প্রতি গভীরভাবে আসক্ত হতে শুরু করে।
আধুনিক ইতিহাসের সমগ্র পর্যায় জুড়ে সেক্যুলারিজমের এই ধারাটি একটি ধর্মবিরোধী এবং খ্রিস্টধর্ম-বিরোধী আন্দোলন হিসেবে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিকশিত হয়েছে (১)।
'ওয়েবস্টার্স নিউ ওয়ার্ল্ড ডিকশনারি' একই শব্দের ব্যাখ্যায় বলেছে:
১ - ইহলৌকিক চেতনা, বা পার্থিব প্রবণতা এবং তদ্রূপ বিষয়াদি; বিশেষত: এমন এক আদর্শিক ও ব্যবহারিক (Practices) ব্যবস্থা যা সকল প্রকার বিশ্বাস ও উপাসনাকে প্রত্যাখ্যান করে।
২ - এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, রাষ্ট্রীয় কার্যাবলীতে—বিশেষত জনশিক্ষার ক্ষেত্রে—ধর্ম ও গির্জার কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকবে না (২)।
'অক্সফোর্ড ডিকশনারি' 'সেক্যুলার' (secular) শব্দের ব্যাখ্যায় বলেছে:
১- পার্থিব বা বস্তুগত, যা ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক নয়: যেমন ধর্মহীন শিক্ষা, ধর্মহীন শিল্প বা সংগীত, ধর্মহীন কর্তৃপক্ষ, এবং গির্জা-বিরোধী সরকার।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
2 - الرأي الذي يقول: إنه لا ينبغي أن يكون الدين أساساً للأخلاق والتربية (1).
ويقول " المعجم الدولي الثالث الجديد" مادة: ( Secularism) .
" اتجاه في الحياة أو في أي شأن خاص يقوم على مبدأ أن الدين أو الاعتبارات الدينية يجب ألَاّ تتدخل في الحكومة، أو استبعاد هذه الاعتبارات استبعاداً مقصوداً، فهي تعني مثلاً السياسة اللادينية البحتة في الحكومة.
وهي نظام اجتماعي في الأخلاق مؤسس على فكرة وجوب قيام القيم السلوكية والخلقية على اعتبارات الحياة المعاصرة والتضامن الاجتماعي دون النظر إلى الدين" (2).
ويقول المستشرق أربري في كتابه "الدين في الشرق الأوسط" عن الكلمة نفسها:
"إن المادية العلمية والإنسانية والمذهب الطبيعي والوضعية كلها أشكال للادينية، واللادينية صفة مميزة لأوروبا وأمريكا، ومع أن مظاهرها موجودة في الشرق الأوسط، فإنها لم تتخذ أي صيغة فلسفية أو أدبية محددة، والنموذج الرئيسي لها هو فصل الدين على الدولة في الجمهورية التركية (3).
والتعبير الشائع في الكتب الإسلامية المعاصرة هو "فصل الدين عن الدولة" وهو في الحقيقة لا يعطي المدلول الكامل للعلمانية الذي ينطبق على الأفراد وعلى السلوك الذي قد لا يكون له صلة بالدولة،
--------------------------------------------
২ - সেই মতবাদ যা বলে: ধর্মকে নৈতিকতা ও শিক্ষার ভিত্তি হওয়া উচিত নয় (১)।
এবং "ওয়েবস্টার্স থার্ড নিউ ইন্টারন্যাশনাল ডিকশনারি" 'সেকুলারিজম' (Secularism) শব্দপ্রসঙ্গে বলে:
"এটি জীবন দর্শনের বা যেকোনো বিশেষ বিষয়ের এমন এক প্রবণতা যা এই মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, সরকার পরিচালনায় ধর্ম বা ধর্মীয় ধ্যান-ধারণার হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়, অথবা এই জাতীয় বিষয়াবলিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বর্জন করা; উদাহরণস্বরূপ, এটি সরকার পরিচালনায় বিশুদ্ধ ধর্মহীন রাজনীতিকে বোঝায়।
এটি নৈতিকতার এমন একটি সামাজিক ব্যবস্থা যা এই ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, চারিত্রিক ও আচরণগত মূল্যবোধগুলো ধর্মের তোয়াক্কা না করে সমকালীন জীবনের প্রেক্ষাপট ও সামাজিক সংহতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা অপরিহার্য" (২)।
প্রাচ্যতত্ত্ববিদ আর্বারি তাঁর "রিলিজিয়ন ইন দ্য মিডল ইস্ট" গ্রন্থে এই একই শব্দ সম্পর্কে বলেন:
"বৈজ্ঞানিক বস্তুবাদ, মানবতাবাদ, প্রকৃতিবাদ এবং প্রত্যক্ষবাদ—এই সবই হলো ধর্মহীনতার (সেকুলারিজম) বিভিন্ন রূপ। আর এই ধর্মহীনতা ইউরোপ ও আমেরিকার একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে এর কিছু নিদর্শন বিদ্যমান, তবে তা কোনো নির্দিষ্ট দার্শনিক বা সাহিত্যিক রূপ পরিগ্রহ করেনি। এর প্রধান আদর্শগত রূপ হলো তুরস্ক প্রজাতন্ত্রে রাষ্ট্র থেকে ধর্মের পৃথকীকরণ (৩)।
সমকালীন ইসলামি গ্রন্থাবলিতে প্রচলিত অভিব্যক্তি হলো "রাষ্ট্র থেকে ধর্মের পৃথকীকরণ", যা প্রকৃতপক্ষে 'সেকুলারিজম'-এর পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করে না; কারণ এটি ব্যক্তি এবং তার আচরণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যার সাথে রাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক নাও থাকতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ولو قيل: إنها فصل الدين عن الحياة لكان أصوب، ولذلك فإن المدلول الصحيح للعلمانية إقامة الحياة على غير الدين، سواء بالنسبة للأمة أو للفرد، ثم تختلف الدول أو الأفراد في موقفها من الدين بمفهومه الضيق المحدود، فبعضها تسمح به، كالمجتمعات الديمقراطية الليبرالية، وتسمي منهجها (العلمانية المعتدلة - Non Religious) أي: أنها مجتمعات لادينية ولكنها غير معادية للدين وذلك مقابل ما يسمى (العلمانية المتطرفة- antireligious) ، أي: المضادة للدين، ويعنون بها المجتمعات الشيوعية وما شاكلها.
وبديهي أنه بالنسبة للإسلام لا فرق بين المسميين، فكل ما ليس دينياً من المبادئ والتطبيقات فهو في حقيقته مضاد للدين، فالإسلام واللادينية نقيضان لا يجتمعان ولا واسطة بينهما (1).
--------------------------------------------
আর যদি বলা হয় যে: এটি জীবন থেকে ধর্মকে পৃথকীকরণ, তবে তা অধিকতর সঠিক হতো। তাই ধর্মনিরপেক্ষতার সঠিক তাৎপর্য হলো ধর্মহীনতার ওপর জীবন পরিচালনা করা, তা জাতি বা ব্যক্তি—উভয় ক্ষেত্রেই হোক না কেন। অতঃপর রাষ্ট্র বা ব্যক্তিরা ধর্মের সংকীর্ণ ও সীমাবদ্ধ সংজ্ঞার নিরিখে তাদের অবস্থানের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। কেউ কেউ ধর্ম পালনের অনুমতি দেয়, যেমন উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক সমাজসমূহ, যারা তাদের কর্মপদ্ধতিকে 'মধ্যপন্থী ধর্মনিরপেক্ষতা' (অধর্মীয়) বলে অভিহিত করে; অর্থাৎ এগুলো অধর্মীয় সমাজ হলেও ধর্মের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন নয়। এর বিপরীতে রয়েছে তথাকথিত 'চরমপন্থী ধর্মনিরপেক্ষতা' (ধর্ম-বিরোধী), যার অর্থ ধর্মের বিরুদ্ধাচরণ; এবং এর দ্বারা তারা সাম্যবাদী সমাজ ও এই জাতীয় ব্যবস্থাসমূহকে বুঝিয়ে থাকে।
এবং এটা স্বতঃসিদ্ধ যে, ইসলামের দৃষ্টিতে এই দুই নামকরণের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কেননা নীতি ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে যা কিছু ধর্মীয় নয়, তা মূলত ধর্ম-বিরোধীই। সুতরাং ইসলাম এবং ধর্মহীনতা হলো পরস্পরবিরোধী দুটি বিষয় যা একত্রে অবস্থান করতে পারে না এবং এদের মাঝে কোনো মধ্যপন্থা নেই (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
-
الباب الأول: دين أوروبا أو النصرانية بين التحريف والإبداع:الفصل الأول: التحريف:
أولاً: تحريف العقيدة.
ثانيا: تحريف الشريعة.
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইউরোপের ধর্ম তথা খ্রিষ্টধর্ম: বিকৃতি ও উদ্ভাবনের প্রেক্ষাপট:প্রথম অনুচ্ছেদ: বিকৃতি:
প্রথমত: আকিদাগত বিকৃতি।
দ্বিতীয়ত: শরিয়তগত বিকৃতি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الفصل الثاني: البدعة المستحدثة في الدين النصراني:
توطئة.
أولاً: رجال الدين الأكليروس.
ثانياً: الرهبانية.
ثالثاً: الأسرار المقدسة.
رابعاً: عبادة الصور والتماثيل.
المعجزات والخرافات.
صكوك الغفران.
দ্বিতীয় অধ্যায়: খ্রিস্টধর্মে উদ্ভাবিত নবপ্রথা (বিদআত):
উপক্রমণিকা।
প্রথমত: যাজকতন্ত্র (ক্লার্জি)।
দ্বিতীয়ত: সন্ন্যাসবাদ।
তৃতীয়ত: পবিত্র রহস্যসমূহ (স্যাক্রামেন্টস)।
চতুর্থত: চিত্র ও মূর্তিপূজা।
অলৌকিক ঘটনা ও অলীক উপকথা।
ক্ষমা ও পাপমুক্তির সনদ (ইন্ডালজেন্স)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
-
الفصل الأول: التحريف:
مقدمة:عرفت أوروبا الوثنية الدين النصراني منذ القرن الأول للميلاد بوصفه عقيدة شرقية سامية، كتلك العقائد التي ينظر إليها العالم الروماني الأبيقوري على أنها تعاليم مثالية صارمة، ولم يأل أباطرة الرومان جهداً في القضاء على هذه النحلة التي تفشت في مستعمراتهم، واستخدموا لتحقيق ذلك صنوف الاضطهاد والتنكيل طيلة القرون الثلاثة الأولى، ولكن أسباباً تاريخية -لا مجال لبحثها الآن- أدت إلى اعتناق الامبراطور "قسطنطين" للدين الجديد، ودعوته لعقد أول مجمع مسكوني مسيحي هو مجمع نيقية سنة (325)، الذي أعلنت المسيحية على أثره عقيدة رسمية للامبراطورية الرومانية.
وقد حظي الدين الجديد بإقبال فائق وجاذبية شديدة من قبل شعوب الامبراطورية، مما حدا بالمؤرخين (1) إلى تعليل ذلك بأسباب شتى نختار منها ما ذهب إليه باحث أميركي معاصر:
1 - العنصر التوفيقي: فإنك قد تجد في روايات الألغاز الإغريقية، وفي قصة إيزيس، وقصة مترا، وفي اليهودية وفي العقائد
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: বিকৃতি:ভূমিকা:পৌত্তলিক ইউরোপ খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দী থেকেই খ্রিস্টধর্মকে একটি প্রাচ্যীয় সেমিটিক ধর্মবিশ্বাস হিসেবে জানত, যাকে এপিকিউরিয়ান রোমান সমাজ কঠোর আদর্শিক শিক্ষা হিসেবে গণ্য করত। রোমান সম্রাটগণ তাদের উপনিবেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়া এই ধর্মমতকে নির্মূল করার জন্য কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখেননি এবং প্রথম তিন শতাব্দী জুড়ে তারা এর অনুসারীদের ওপর বিভিন্ন ধরণের নির্যাতন ও নিপীড়ন চালিয়েছিলেন। তবে ঐতিহাসিক কিছু কারণে—যা এখন আলোচনার অবকাশ নেই—সম্রাট 'কনস্টানটাইন' এই নতুন ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ৩২৫ খ্রিস্টাব্দে প্রথম খ্রিস্টীয় বিশ্বজনীন ধর্মসভা 'কাউন্সিল অব নিসিয়া' আহ্বান করেন। এর ফলেই খ্রিস্টধর্ম রোমান সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়।
এই নতুন ধর্মটি সাম্রাজ্যের জনগণের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রবল আকর্ষণ লাভ করেছিল। এটি ঐতিহাসিকদের (১) বিভিন্ন কারণ দর্শাতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যেখান থেকে আমরা একজন সমকালীন মার্কিন গবেষকের উপস্থাপিত কারণটি নির্বাচন করছি:
১ - সমন্বয়বাদী উপাদান: আপনি গ্রিক রহস্যগাঁথা বা উপাখ্যানে, আইসিসের কাহিনীতে, মিত্রার কাহিনীতে এবং ইহুদি ধর্ম ও বিভিন্ন বিশ্বাসের মাঝে এর উপাদানের মিল খুঁজে পাবেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الأخرى آنذاك: نماذج لكل ما اعتقد فيه المسيحيون كطقوس الطهارة، والإله الذي يموت ثم يبعث، والعذراء التي تحمل (1) ويوم الحساب وحفلات الربيع وحفلات الانقلاب الشتوي والشياطين والقديسين والملائكة.
2 - إن المسيحية بما وعدت من خلاص في عالم آخر لتعويض ما في هذه الدنيا من فقر وظلم وآلام، أثبتت أنها عقيدة شديدة الجاذبية للعامة في الامبراطورية المتداعية، إذ يرون فيها طريقاً خلَاّباً للهروب من عالم لا يحبونه، وإذن فقولنا: إن المسيحية ديانة الضعفاء والبسطاء والمظلومين قول صادق والأناجيل مصرحة بذلك.
3 - إن القواعد الدينية للمسيحية بلغت درجة من التعقيد، تكفي لأن تجتذب رجالاً من ذوي الميول الفلسفية، وإذن فإن عوامل النصر النهائي للمسيحية قواعدها الدينية التي اتحدت في نهاية القرن الثاني اتحاداً قوياً بالتقاليد الفكرية الإغريقية.
4 - رد الفعل الذي نشأ عن الاضطهاد المستمر في عصور المسيحية الأولى، والاضطهاد عندما يبلغ درجة معينة يقوي الفئة المضطهدة، ويدفع المضطهدين إلى وحدة أشد تماسكاً وأكثر نظاماً (2).
5 - يضاف إلى ذلك عامل سياسي مهم وهو حاجة الدولة الرومانية إلى عقيدة موحدة تخلصها من الصراعات العقائدية المزمنة.
وعلى أية حال، فقد دانت أوروبا بالمسيحية منذ سنة (325) وما زال العالم الغربي إلى اليوم يعتقد أنه عالم مسيحي، أو على الأقل كان كذلك يوماً من الأيام، لكن السؤال المهم هنا هو: هل هذه
--------------------------------------------
তৎকালীন অন্যান্য: খ্রিস্টানরা যেসব বিষয়ে বিশ্বাস করত তার নমুনা, যেমন পবিত্রতার আচার, এমন ঈশ্বর যিনি মৃত্যুবরণ করেন অতঃপর পুনরুত্থিত হন, কুমারী গর্ভধারণ (১), বিচার দিবস, বসন্ত উৎসব, শীতকালীন অয়নান্তের উৎসবসমূহ, শয়তান, সাধু এবং ফেরেশতা।
২ - খ্রিস্টধর্ম পরকালে যে মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল—যা এই দুনিয়ার দারিদ্র্য, জুলুম ও বেদনার ক্ষতিপূরণ হিসেবে কাজ করে—তা পতনোন্মুখ সাম্রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এক আকিদা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। কারণ তারা এতে তাদের অপ্রীতিকর জগত থেকে পলায়নের এক মনোরম পথ দেখতে পেত। অতএব আমাদের এই কথা যে: খ্রিস্টধর্ম দুর্বল, সাধারণ এবং মজলুমদের ধর্ম, তা একটি সত্য ভাষণ এবং ইঞ্জিলসমূহ স্পষ্টভাবে তা ব্যক্ত করে।
৩ - খ্রিস্টধর্মের ধর্মীয় বিধানসমূহ জটিলতার এমন এক স্তরে পৌঁছেছিল যা দার্শনিক প্রবণতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আকৃষ্ট করার জন্য যথেষ্ট ছিল। সুতরাং, খ্রিস্টধর্মের চূড়ান্ত বিজয়ের পেছনে কাজ করেছে এর সেই ধর্মীয় বিধানসমূহ, যা দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগে গ্রীক বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের সাথে সুদৃঢ়ভাবে একীভূত হয়েছিল।
৪ - প্রাথমিক খ্রিস্টীয় যুগে ক্রমাগত নির্যাতনের ফলে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়া; আর নির্যাতন যখন একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় পৌঁছায়, তখন তা নির্যাতিত গোষ্ঠীকে শক্তিশালী করে এবং তাদেরকে আরও সংহত ও সুশৃঙ্খল ঐক্যের দিকে চালিত করে (২)।
৫ - এর সাথে যুক্ত হয়েছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অনুষঙ্গ, আর তা হলো রোমান সাম্রাজ্যের একটি অভিন্ন আকিদার প্রয়োজনীয়তা, যা তাকে দীর্ঘস্থায়ী আদর্শিক সংঘাত থেকে মুক্তি দেবে।
যা-ই হোক, ৩২৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ইউরোপ খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হয় এবং আজ অবধি পাশ্চাত্য জগত বিশ্বাস করে যে তারা একটি খ্রিস্টীয় জগত, অথবা অন্ততপক্ষে তারা কোনো এক সময় তেমনটি ছিল। তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো: এই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الديانة المعتنقة هي الوحي الإلهي الذي أنزله الله تعالى على عبده المسيح عيسى ابن مريم عليه السلام؟
وبتعبير آخر: هل دانت أوروبا بالدين الحق لله تعالى، وعبدته حق عبادته، وعرفته معرفة صحيحة في أي مرحلة من مراحل تاريخها؟
إن أي مؤرخ أو باحث يلقي نظرة سريعة فاحصة على الحقبة التي شهدت ميلاد الدين النصراني، سيرى أن منطقة حوض البحر الأبيض كانت تموج بعقائد وأفكار متباينة نذكر منها:
1 - الديانة اليهودية: وهي ديانة مغلقة خاصة بأسباط بني إسرائيل، لكنها تتميز بأنها ديانة سماوية لها كتاب مقدس، وموطنها فلسطين، حيث ولد المسيح وأرسل.
2 - العقيدة المترائية: وهي عقيدة وثنية قديمة، قوامها الكاهن والمذبح، ترى أنه لا خلاص للإنسان إلا بافتداء نفسه عن طريق تقديم القرابين للآلهة بواسطة الكهان (1).
3 - الأفلاطونية الحديثة:، وهي عقيدة فلسفية تتلخص في أن العالم في تكوينه وتدبيره صدر عن ثلاثة عناصر:
- المنشئ الأزلي الأول.
- العقل الذي تولد منه كما يتولد الابن من أبيه.
- الروح الذي يتكون منه جميع الأرواح، والذي يتصل بالمنشئ الأول عن طريق العقل (2)، وكان موطنها الإسكندرية.
--------------------------------------------
গৃহীত ধর্মটি কি সেই ঐশী প্রত্যাদেশ, যা মহান আল্লাহ তাঁর বান্দা মাসিহ ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালামের ওপর অবতীর্ণ করেছিলেন?
অন্যভাবে বললে: ইউরোপ কি তার ইতিহাসের কোনো পর্যায়ে মহান আল্লাহর সত্য দ্বীন গ্রহণ করেছিল, তাঁর যথাযথ ইবাদত করেছিল এবং তাঁকে সঠিকভাবে চিনেছিল?
যেকোনো ঐতিহাসিক বা গবেষক যদি খ্রিস্টধর্মের উৎপত্তিকালের ওপর এক দ্রুত অথচ গভীর দৃষ্টিপাত করেন, তবে তিনি দেখতে পাবেন যে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলটি বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় বিশ্বাস ও মতাদর্শে পরিপূর্ণ ছিল, যার মধ্য থেকে আমরা উল্লেখ করছি:
১ - ইয়াহুদি ধর্ম: এটি একটি সীমাবদ্ধ ধর্ম যা কেবল বনী ইসরায়েলের গোত্রগুলোর জন্য নির্দিষ্ট ছিল। তবে এর বৈশিষ্ট্য হলো এটি একটি আসমানি ধর্ম যার পবিত্র কিতাব রয়েছে এবং এর আদিভূমি ছিল ফিলিস্তিন, যেখানে মাসিহ জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং প্রেরিত হয়েছিলেন।
২ - মিত্রবাদ: এটি একটি প্রাচীন পৌত্তলিক বিশ্বাস, যার মূল ভিত্তি ছিল পুরোহিত ও যজ্ঞবেদি। এই মতবাদ অনুযায়ী, পুরোহিতদের মাধ্যমে দেবতাদের উদ্দেশ্যে বলিদান বা কোরবানি পেশ করে নিজেকে উৎসর্গ করা ছাড়া মানুষের মুক্তির কোনো পথ নেই (১)।
৩ - নব্য-প্লেটোবাদ: এটি একটি দার্শনিক মতবাদ যার সারকথা হলো, মহাবিশ্ব তার গঠন ও পরিচালনায় তিনটি উপাদান থেকে উদ্ভূত হয়েছে:
- প্রথম অনাদি স্রষ্টা।
- বুদ্ধি (আকল), যা তাঁর থেকে নির্গত হয়েছে যেমন পিতা থেকে পুত্র জন্ম নেয়।
- আত্মা, যা থেকে সমস্ত আত্মা গঠিত হয় এবং যা বুদ্ধির মাধ্যমে প্রথম স্রষ্টার সাথে সংযুক্ত হয় (২)। এর কেন্দ্রস্থল ছিল আলেকজান্দ্রিয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
4 - الوثنية المصرية: ومن معتقداتها أن الآلهة ثلاثة:
- حورس، الذي كان ابناً لسيراييس.
- سيراييس، الذي هو في الوقت نفسه حورس.
- إيزيس، والدة حورس (1).
5 - الوثنية الرومانية: ديانة الامبراطورية الرسمية، ومن مبادئها:
- التثليث: (جوبيتر، مارس، كورنيوس).
- عبادة الامبراطور، إذ كان الأباطرة يدعون الربوبية، و"كان تأليه الحاكم تقليداً هلنستياً" (2).
- تقديس الصور والتماثيل وعبادتها (3).
6 - أفكار فلسفية: من أهمها: الفلسفة الرواقية، التي تعني من الوجهة العملية: الانقطاع عن الدنيا، وتعد إنكار الذات أسمى الغايات النبيلة، مناقضة بذلك الفلسفة الإباحية الأبيقورية التي كانت فاشية في المجتمع الروماني (4).
ولو أننا حاولنا أن نستنبط من مجموع هذه العقائد عقيدة واحدة مشتركة لخرجنا بعقيدة تقوم على ست دعائم:
1 - الإيمان بالتوراة اليهودية.
2 - اعتقاد الفداء والخلاص والوساطة بين الله والناس.
3 - التثليث.
--------------------------------------------
৪ - মিশরীয় পৌত্তলিকতা: এর বিশ্বাসসমূহের অন্যতম হলো যে উপাস্য তিনজন:
- হোরাস, যে ছিল সেরাপিসের পুত্র।
- সেরাপিস, যে একই সাথে হোরাস।
- আইসিস, হোরাসের মাতা (১)।
৫ - রোমান পৌত্তলিকতা: সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রীয় ধর্ম, যার মূলনীতিসমূহের অন্যতম হলো:
- ত্রিত্ববাদ: (জুপিটার, মার্স, কুয়িরিনাস)।
- সম্রাটের উপাসনা, যেহেতু সম্রাটগণ প্রভুত্বের দাবি করতেন এবং "শাসককে ঈশ্বরজ্ঞান করা ছিল একটি হেলেনিস্টিক ঐতিহ্য" (২)।
- প্রতিকৃতি ও মূর্তির পবিত্রতা বিধান এবং সেগুলোর উপাসনা (৩)।
৬ - দার্শনিক চিন্তাধারা: এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো: স্টোয়িক দর্শন, যার ব্যবহারিক অর্থ হলো: জগত-সংসার থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং এটি আত্মত্যাগ বা আত্মবিসর্জনকে সর্বোচ্চ মহৎ লক্ষ্য বলে মনে করে। এটি এপিকিউরিয়ান ভোগবাদী দর্শনের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল, যা রোমান সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল (৪)।
যদি আমরা এই সমস্ত মতবাদের সমষ্টি থেকে একটি অভিন্ন আকিদাহ নিরূপণ করার চেষ্টা করি, তবে আমরা এমন এক আকিদাহ পাব যা ছয়টি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত:
১ - ইহুদি তাওরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন।
২ - প্রায়শ্চিত্ত, মুক্তি এবং ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে মধ্যস্থতায় বিশ্বাস।
৩ - ত্রিত্ববাদ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
4 - الحلول (تجسد الإله في شكل بشري).
5 - تقديس الصور والتماثيل.
6 - الهروب من الحياة (الرهبانية).
ومن أول نظرة نلقيها على هذه الدعائم الست نرى أنها هي بعينها دعائم الدين النصراني الكنسي ولب تعاليمه التي سيطرت على الفكر الأوروبي ردحاً طويلاً من الزمن، وقد يدهش المرء لهذه النتيجة- رغم تسليمه بصحتها- ويتساءل: أيمكن أن يتحول دين سماوي خالص إلى مزيج مركب من خرافات ووثنيات متضاربة؟ وإذ أمكن ذلك فمن الذي قام بعملية التحول هذه؟ وأعجب منه: كيف احتفظت المسيحية باسمها ونسبتها وهي على هذه الحال؟
إن الكثير من مؤرخي الفكر الغربي قد تخلصوا من الإجابة على مثل هذه التساؤلات، بتقسيمهم الدين النصراني قسمين متباينين لا رابط بينهما سوى النسبة للمسيح:
1 - المسيحية الأصلية، أو "مسيحية يسوع".
2 - المسيحية الرسمية، أو "مسيحية بولس".
ويعنون بهذه العقيدة التي نشرتها الكنيسة ابتداء من سنة (325) وهي المزيج المشار إلى مركباته آنفاً.
يقول برنتن: "إن المسيحية الظافرة في مجلس نيقية -العقيدة الرسمية- في أعظم إمبراطورية في العالم مخالفة كل المخالفة لمسيحية المسيحيين في الجليل، ولو أن المرء اعتبر العهد الجديد التعبير النهائي عن العقيدة المسيحية لخرج من ذلك قطعاً لا بأن مسيحية القرن الرابع تختلف عن المسيحية الأولى فحسب، بل بأن مسيحية القرن الرابع لم تكن مسيحية بتاتاً" (1).
--------------------------------------------
৪ - হুলুল বা অবতারবাদ (মানুষের রূপে ঈশ্বরের দেহধারণ)।
৫ - ছবি ও মূর্তির পবিত্রকরণ।
৬ - জীবন বিমুখতা (সন্ন্যাসবাদ)।
এই ছয়টি স্তম্ভের ওপর প্রথম দৃষ্টিপাত করলেই আমরা দেখতে পাই যে, এগুলোই মূলত গির্জা-কেন্দ্রিক খ্রিষ্টধর্মের ভিত্তি এবং এর শিক্ষার মূল নির্যাস, যা দীর্ঘকাল ধরে ইউরোপীয় চিন্তাধারার ওপর আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছিল। কেউ এই ফলাফলে বিস্মিত হতে পারেন—যদিও তিনি এর সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন—এবং প্রশ্ন করতে পারেন: একটি বিশুদ্ধ আসমানি ধর্ম কি পরস্পরবিরোধী কুসংস্কার ও পৌত্তলিকতার এক জটিল মিশ্রণে রূপান্তরিত হওয়া সম্ভব? আর যদি তা সম্ভবই হয়, তবে এই রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি কে সম্পন্ন করেছিল? তার চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো: এমতাবস্থায় খ্রিষ্টধর্ম কীভাবে তার নাম ও সম্পৃক্ততা বজায় রাখল?
পশ্চিমা চিন্তাধারার অনেক ঐতিহাসিক এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া থেকে রেহাই পেতে খ্রিষ্টধর্মকে দুটি ভিন্ন ভাগে বিভক্ত করেছেন, যাদের মধ্যে মসীহ (আ.)-এর দিকে সম্পৃক্ততা ছাড়া আর কোনো যোগসূত্র নেই:
১ - আদি খ্রিষ্টধর্ম বা "যিশুর খ্রিষ্টধর্ম"।
২ - আনুষ্ঠানিক খ্রিষ্টধর্ম বা "পলের খ্রিষ্টধর্ম"।
এর দ্বারা তারা সেই আকিদাকে বোঝান যা গির্জা ৩২৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে প্রচার শুরু করেছিল এবং এটি হলো সেই সংমিশ্রণ যার উপাদানসমূহ ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্রিন্টন বলেন: "নাইসিয়া কাউন্সিলে বিজয়ী খ্রিষ্টধর্ম—যা বিশ্বের বৃহত্তম সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রীয় আকিদা ছিল—তা গালীল অঞ্চলের খ্রিষ্টানদের খ্রিষ্টধর্মের সম্পূর্ণ বিপরীত। যদি কেউ 'নিউ টেস্টামেন্ট'-কে খ্রিষ্টীয় বিশ্বাসের চূড়ান্ত অভিব্যক্তি হিসেবে গণ্য করেন, তবে তিনি অবশ্যই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন যে, চতুর্থ শতাব্দীর খ্রিষ্টধর্ম কেবল আদি খ্রিষ্টধর্ম থেকেই ভিন্ন ছিল না, বরং চতুর্থ শতাব্দীর খ্রিষ্টধর্ম আদতে কোনো খ্রিষ্টধর্মই ছিল না" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أما المؤرخ الإنجليزي ويلز، فيقول: "من الضروري أن نستلفت نظر القارئ إلى الفروق العميقة بين مسيحية نيقية التامة التطور وبين تعاليم يسوع الناصري، فمن الواضح تماماً أن تعاليم يسوع الناصري تعاليم نبوية من الطراز الجديد الذي ابتدأ بظهور الأنبياء العبرانيين، وهي لم تكن كهنوتية ولم يكن لها معبد مقدس حبساً عليها ولا هيكل، ولم يكن لديها شعائر ولا طقوس، وكان قربانها قلباً كسيراً خاشعاً، وكانت الهيئة الوحيدة فيها هيئة من الوعاظ، وكان رأس ما لديها من عمل هو الموعظة، بيد أن مسيحية القرن الرابع الكاملة التكوين، وإن احتفظت بتعاليم يسوع في الأناجيل -كنواة لها- كانت في صلبها ديانة كهنوتية من طراز مألوف للناس من قبل منذ آلاف السنين، وكان المذبح مركز طقوسها المنمقة، والعمل الجوهري في العبادة فيها هو القربان الذي يقربه قديس متكرس للقداس، ولها هيئة تتطور بسرعة مكونة من الشمامسة والقساوسة والأساقفة، ولئن اتشحت المسيحية بأردية خارجية تشابه نحل سيراييس أو آمون أو بعل مردك مشابهة غير عادية، فلا بد لنا أن نذكر أنه حتى كهانتها نفسها كانت مظاهر جديدة بأعيانها" "ولقد بلغ من جرأة الكتاب المتشككين أن أنكروا إمكان أن يسمى يسوع مسيحياً على الإطلاق" (1).
وإذا كان هذا هو رأي العلماء الباحثين، فإن من المفيد أن نعرف رأي رجال الكنيسة في هذا الأمر، وحسبنا أن نقرأ ما كتبه الدكتور "وليام تامبل" أسقف كنيسة كنتربري وحبر أحبار إنجلترا، حيث يقول:
--------------------------------------------
ইংরেজি ঐতিহাসিক ওয়েলস বলেন: "পাঠকের দৃষ্টি নিসিয়া কাউন্সিলের পূর্ণ বিকশিত খ্রিস্টধর্ম এবং নাসরতীয় যিশুর শিক্ষার মধ্যকার গভীর পার্থক্যের দিকে আকর্ষণ করা জরুরি। এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, নাসরতীয় যিশুর শিক্ষা ছিল হিব্রু নবীদের আবির্ভাবের মাধ্যমে সূচিত নতুন ধারার এক নবুওয়তি শিক্ষা; তা কোনো পৌরোহিত্যতান্ত্রিক ছিল না, এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট পবিত্র উপাসনালয় বা মন্দির ছিল না, ছিল না কোনো বিশেষ আচার বা প্রথা। এর উৎসর্গ ছিল একটি ভগ্ন ও বিনীত হৃদয়, আর এর একমাত্র কাঠামো ছিল প্রচারকদের দল এবং এর প্রধান কাজ ছিল উপদেশ প্রদান। অথচ চতুর্থ শতাব্দীর পূর্ণাঙ্গ রূপপ্রাপ্ত খ্রিস্টধর্ম—যদিও তা যিশুর শিক্ষাকে ইঞ্জিলসমূহে তার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ধরে রেখেছিল—মূলত ছিল হাজার বছর আগে থেকে মানুষের পরিচিত একটি পৌরোহিত্যতান্ত্রিক ধর্ম। এর জমকালো আচার-অনুষ্ঠানের কেন্দ্র ছিল বেদী, এবং এর ইবাদতের মৌলিক কাজ ছিল উৎসর্গ যা মাস উৎসর্গকারী কোনো পবিত্র যাজক সম্পন্ন করতেন। এর একটি দ্রুত বিকাশমান কাঠামো ছিল যা ডিকন, প্রিস্ট এবং বিশপদের সমন্বয়ে গঠিত। খ্রিস্টধর্ম যদি সেরাপিস, আমুন বা বেল মারদুক মতবাদের সাথে অস্বাভাবিক সাদৃশ্যপূর্ণ বাহ্যিক পোশাক পরিধান করে থাকে, তবে আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, এর পৌরোহিত্য নিজেই ছিল এক নতুন স্বতন্ত্র প্রকাশ।" "সংশয়বাদী লেখকদের দুঃসাহস এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, তারা যিশুকে আদৌ খ্রিস্টান বলা সম্ভব কি না তা অস্বীকার করেছেন" (১)।
যদি এটিই গবেষক পণ্ডিতদের অভিমত হয়, তবে এই বিষয়ে গির্জার যাজকদের মতামত জানাও ফলপ্রসূ হবে। আমাদের জন্য এটিই যথেষ্ট হবে যা ক্যান্টারবেরি চার্চের আর্চবিশপ এবং ইংল্যান্ডের প্রধান ধর্মগুরু ডক্টর "উইলিয়াম টেম্পল" লিখেছেন; তিনি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ - নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
"إن من الخطأ الفاحش أن نظن أن الله وحده هو الذي يقدم الديانة أو القسط الأكبر منها" (1).
وليس هذا الكلام فلتة من الحبر الكبير، أو سهواً غير مقصود، وإنما هو تعبير صريح صادق عن عقيدة الكنيسة وواقع تاريخها.
وعلى ضوء هذه الآراء نستطيع أن نعرف ما إذا كانت أوروبا قد اعتنقت النصرانية الحقة الموحاة من الله، أو اعتنقت المركب الذي صنعه أجداد الدكتور تامبل من آباء الكنيسة الأولين، واستخرجوه من العقائد السائدة في عصرهم آنذاك.
إن من الحقائق المقررة أن الكنيسة قد ارتكبت سلسلة من الأخطاء الشنيعة، يكفي أحدها لنزع الثقة منها بصفة نهائية، وإن أحداً من أعداء المسيح عليه السلام لم يسئ إليه وإلى تعاليمه النبوية كما أساءت الكنيسة التي تتبجح بالانتساب إليه، وتزعم أنها الحارس الأمين على مبادئه والممثل الشرعي له، ولقد كان "ليكونت دي نوي" صادقاً عندما قال: "إن ما أضافه الإنسان إلى الديانة المسيحية، والتفسيرات التي قدمها، والتي ابتدأت منذ القرن الثالث بالإضافة إلى عدم الاكتراث بالحقائق العلمية، كل ذلك قدم للماديين والملحدين أقوى الدلائل المعاضدة في كفاحهم ضد الدين" (2).
هذا، وليس من أهدافنا في هذا البحث التهجم على الكنيسة وفضح تصرفاتها، ولا كذلك تبرير التمرد الذي أعلنته أوروبا على خالقها في أثناء ثورتها على طغيان الكنيسة، لكن هدفنا هو الحقيقة التي هي ضالة المؤمن، لا سيما وأن القضية قضية إنسانية عامة، تعدت
--------------------------------------------
"এটি এক চরম ভুল ধারণা যে, কেবল আল্লাহই ধর্ম প্রদান করেছেন অথবা এর অধিকাংশ তাঁর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ" (১)।
এই উক্তিটি সেই মহান ধর্মযাজকের মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া কোনো কথা বা অনিচ্ছাকৃত কোনো বিচ্যুতি নয়, বরং এটি চার্চের আকিদা ও এর ইতিহাসের বাস্তবতার এক সুস্পষ্ট ও অকপট প্রকাশ।
এই মতামতের আলোকে আমরা জানতে পারি যে, ইউরোপ কি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ প্রকৃত খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিল, নাকি তারা সেই সংমিশ্রণটি গ্রহণ করেছিল যা ডক্টর টেম্পলের পূর্বসূরি চার্চের আদি ধর্মগুরুরা তৈরি করেছিলেন এবং তৎকালীন যুগে প্রচলিত বিভিন্ন বিশ্বাস থেকে যা তাঁরা আহরণ করেছিলেন।
এটি এক প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, চার্চ একের পর এক এমন জঘন্য ভুল করেছে যার একটিই তার ওপর থেকে চিরতরে আস্থা তুলে নেয়ার জন্য যথেষ্ট। ঈসা আলাইহিস সালামের শত্রুদের মধ্যে কেউই তাঁর প্রতি এবং তাঁর নবুওয়াতের শিক্ষার প্রতি এমন অবমাননা করেনি, যেমনটি করেছে সেই চার্চ—যারা তাঁর সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততার দম্ভ প্রকাশ করে এবং দাবি করে যে তারা তাঁর আদর্শের বিশ্বস্ত প্রহরী ও তাঁর বৈধ প্রতিনিধি। লিকোন্ত দ্যু নোয়ি সত্যই বলেছিলেন যখন তিনি উল্লেখ করেন: "মানুষ খ্রিস্টধর্মে যা কিছু সংযোজন করেছে এবং যে সকল ব্যাখ্যা সে প্রদান করেছে—যার শুরু হয়েছে তৃতীয় শতাব্দী থেকে—তার সাথে বৈজ্ঞানিক সত্যের প্রতি উদাসীনতা যুক্ত হয়ে বস্তুবাদী ও নাস্তিকদেরকে ধর্মের বিরুদ্ধে তাদের লড়াইয়ে শক্তিশালী সব প্রমাণ সরবরাহ করেছে" (২)।
তবে এই গবেষণায় আমাদের উদ্দেশ্য চার্চের ওপর আক্রমণ করা বা তাদের কর্মকাণ্ড ফাঁস করা নয়, কিংবা চার্চের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ইউরোপের বিপ্লবের সময় তাদের স্রষ্টার বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহ তারা ঘোষণা করেছিল তার যৌক্তিকতা প্রমাণ করাও নয়। বরং আমাদের লক্ষ্য হলো সেই সত্য অনুসন্ধান করা যা মুমিনের হারানো সম্পদ; বিশেষ করে যেহেতু এই বিষয়টি একটি সাধারণ মানবিক সংকট, যা ছাড়িয়ে গেছে...
--------------------------------------------