(খণ্ড: ১)
আহকামুস সালাতি আলাল জানাযাতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: -)
أحكام الصلاة على الجنازة في المسجد القسم: مسائل فقهية
الكتاب: أحكام الصلاة على الجنازة في المسجد
المؤلف: أبو الفداء زين الدين قاسم بن قُطْلُوْبَغَا السُّوْدُوْنِي (نسبة إلى معتق أبيه سودون الشيخوني) الجمالي الحنفي (ت 879هـ)
المحقق: أبو المنذر المنياوي
الناشر: مخطوط ينشر لأول مرة بالمكتبة الشاملة، 1434 هـ
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للأصل (نسخة المحقق)]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 محرم 1434
মসজিদে জানাজার নামাজের বিধানসমূহ বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
কিতাব: মসজিদে জানাজার নামাজের বিধানসমূহ
লেখক: আবুল ফিদা জয়নুদ্দিন কাসিম বিন কুতলুবুগা আস-সুদুনি (তার পিতার মুক্তিদাতা সুদুন আশ-শাইখুনির প্রতি সম্বন্ধযুক্ত) আল-জামালি আল-হানাফি (মৃত্যু ৮৭৯ হিজরি)
সম্পাদক: আবু আল-মুনজির আল-মিনইয়াওয়ি
প্রকাশক: মাকতাবা শামিলাতে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত পাণ্ডুলিপি, ১৪৩৪ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের নম্বর প্রদান মূলের (সম্পাদকের কপি) অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ মহররম ১৪৩৪
(খণ্ড: ১)
আহকামুস সালাতি আলাল জানাযাতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ১)
أحكام الصلاة على الجنازة في المسجد
تصنيف الحافظ
زين الدين قاسم بن قُطْلُوبُغَا الحَنَفِي
المتوفى سنة 879 هـ
حققه وعلق عليه
أبو المنذر مَحْمُود بن مُحمَّدِ بن مُصْطَفَى المِنِياوِي
عفا الله تعالى عنه وعن والديه
মসজিদে জানাজার নামাজের বিধানসমূহ
হাফেজ (الحافظ) এর রচনা
জাইন উদ্দিন কাসিম বিন কুতলুবুগা আল-হানাফী
মৃত্যু ৮৭৯ হিজরি
সম্পাদনা ও টীকা প্রদান করেছেন
আবু আল-মুনজির মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন মুস্তফা আল-মিনিয়াওয়ী
আল্লাহ তাআলা তাকে এবং তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১)
আহকামুস সালাতি আলাল জানাযাতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً}.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً}.
أما بعد، ..
فهذا جهد المقل في تحقيق مخطوط " أحكام الصلاة على الجنازة في المسجد " وهي ضمن سلسلة رسائل ألفها الحافظ قاسم بن قطلوبغا الحنفي - رحمه الله تعالى -.
عملي في المخطوط:1 - قمت بنسخ المخطوط.
2 - ترجمت لمعظم الأعلام الوارد أسماؤهم في الرسالة الذين ليس لهم شهرة كبيرة.
3 - التعريف ببعض الكتب التي ينقل عنها المؤلف.
4 - تخريج الأحاديث والآثار الواردة في الرسالة مع الحكم على أسانيدها ما أمكنني ذلك.
حول المخطوط:جاءت هذه الرسالة في صدر مجموع فيه بضع وعشرين رسالة للحافظ ابن قطلوبغا.
بيانات المخطوط (المجموع):
اسم المؤلف: قاسم بن قطلوبغا الحنفي / ت 879 هـ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল।
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।”
“হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট আবেদন করো এবং তোমরা রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।”
“হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।”
অতঃপর, ..
এটি "মসজিদে জানাজার নামাজের বিধান" নামক পাণ্ডুলিপিটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে একজন নগণ্য ব্যক্তির প্রচেষ্টা। এটি হাফেজ কাসেম বিন কুতলুবুগা আল-হানাফি (রহিমাহুল্লাহ) রচিত পত্রাবলি সিরিজের একটি অংশ।
পাণ্ডুলিপিতে আমার কাজ:১ - আমি পাণ্ডুলিপিটি প্রতিলিপি করেছি।
২ - এই পত্রে উল্লিখিত এমন অধিকাংশ ব্যক্তিবর্গের জীবনী আলোচনা করেছি যারা খুব বেশি প্রসিদ্ধ নন।
৩ - লেখক যে সকল কিতাব থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন, সেগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটির পরিচয় তুলে ধরেছি।
৪ - এই পত্রে বর্ণিত হাদিস ও আসার (آثار) সমূহের উৎস নির্দেশ (تخريج) করার সাথে সাথে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সেগুলোর সনদ (أسانيد) সমূহের ওপর হুকুম (حكم) বা মান বর্ণনা করেছি।
পাণ্ডুলিপি প্রসঙ্গে:এই পত্রটি হাফেজ ইবনে কুতলুবুগার বিশটিরও অধিক পত্র সম্বলিত একটি সংকলনের শুরুতে স্থান পেয়েছে।
পাণ্ডুলিপির (সংকলনের) তথ্যাবলি:
লেখকের নাম: কাসেম বিন কুতলুবুগা আল-হানাফি / মৃত্যু ৮৭৯ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
আহকামুস সালাতি আলাল জানাযাতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
عدد الأوراق: 123 ورقة بكل ورقة وجهان، ما عدا الأخيرة فهي وجه واحد وفيها خاتمة الرسالة الأخيرة والمجموع كامل ومكتوب بخط واضح، وتحتل رسالتنا موضوع التحقيق أقل من ثلاث ورقات فتبدأ من منتصف الوجه الأول من الورقة رقم 26، وتنتهي في السطر الأول من الوجه الثاني للورقة رقم 28 وتتمة الورقة بها رسالة في التراويح والوتر.
وكل ورقة بها وجهان وبكل وجه من 29: 30 سطر، وبكل سطر ما لا يزيد على 13 كلمة.
مصدر المخطوط: مكتبة برنستون نيوجيرسي أمريكا.
رقم المخطوط: جاريت 3393.
ملاحظة: بآخره رسالة: تعريف المسترشد في حكم الغراس في المسجد لابن أمير حاج حلبي.
صور المخطوط:
الوجه الأول للورقة الأولى:
পাতার সংখ্যা: ১২৩টি পাতা, প্রতিটি পাতার দুটি পার্শ্ব রয়েছে, কেবল শেষ পাতাটি ব্যতীত যা এক পার্শ্ববিশিষ্ট এবং তাতে সর্বশেষ পত্রের সমাপ্তি রয়েছে। সমগ্র সংকলনটি পূর্ণাঙ্গ এবং স্পষ্ট হস্তাক্ষরে লিখিত। আমাদের তাহকিক (تحقيق) বা গবেষণার বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট পত্রটি তিন পাতারও কম জায়গা জুড়ে রয়েছে; এটি ২৬ নম্বর পাতার প্রথম পৃষ্ঠার মাঝখান থেকে শুরু হয়ে ২৮ নম্বর পাতার দ্বিতীয় পৃষ্ঠার প্রথম লাইনে শেষ হয়েছে। উক্ত পাতার অবশিষ্ট অংশে তারাবিহ ও বিতর সম্পর্কিত একটি পত্র রয়েছে।
প্রতিটি পাতার দুটি পার্শ্ব রয়েছে এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ২৯ থেকে ৩০টি লাইন রয়েছে, আর প্রতি লাইনে অনধিক ১৩টি শব্দ রয়েছে।
পাণ্ডুলিপির উৎস: প্রিন্সটন লাইব্রেরি, নিউ জার্সি, আমেরিকা।
পাণ্ডুলিপির নম্বর: গ্যারেট ৩৩৯৩।
দ্রষ্টব্য: এর শেষে একটি পত্র রয়েছে: ইবনে আমির হাজ্জ হালাবি রচিত 'তারিফুল মুস্তারশিদ ফি হুকমিল ঘিরাসি ফিল মাসজিদ'।
পাণ্ডুলিপির চিত্রসমূহ:
প্রথম পাতার প্রথম পৃষ্ঠা:
(খণ্ড: ১)
আহকামুস সালাতি আলাল জানাযাতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
الوجه الأول من الورقة الأخيرة:
শেষ পত্রের প্রথম পৃষ্ঠা:
(খণ্ড: ১)
আহকামুস সালাতি আলাল জানাযাতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
تحقيق نسبة المخطوط للمؤلف:والرسالة منسوبة لقاسم بن قُطْلُوبُغا، وهي ضمن سلسلة رسائله ومكتوب على طرتها اسمه بخط واضح لا طمس فيه، وقال قال ابن عابدين في حاشيته رد المحتار (2/ 224): (مطلب في كراهة صلاة الجنازة في المسجد:
(قوله: وقيل تنزيها) رجحه المحقق ابن الهمام وأطال؛ ووافقه تلميذه العلامة ابن أمير حاج، وخالفه تلميذه الثاني الحافظ الزيني قاسم في فتواه برسالة خاصة، فرجح القول الأول لإطلاق المنع).
লেখকের প্রতি পাণ্ডুলিপিটির সম্বন্ধ যাচাইকরণ:এই রিসালাহটি কাসিম ইবন কুতলুবুগার প্রতি সম্বন্ধযুক্ত এবং এটি তাঁর সংকলিত রিসালাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এর প্রচ্ছদপৃষ্ঠায় তাঁর নাম অত্যন্ত স্পষ্টাক্ষরে লিখিত আছে, যেখানে কোনো অস্পষ্টতা বা মোছার চিহ্ন নেই। ইবন আবিদিন তাঁর টীকাগ্রন্থ ‘রাদ্দ আল-মুহতার’ (২/২২৪)-এ বলেছেন: (মসজিদে জানাজার নামাজ আদায়ের অপছন্দনীয়তা সংক্রান্ত আলোচনা:
(তাঁর বক্তব্য: ‘এবং বলা হয়েছে এটি তানজিহি [অপছন্দনীয়]’)—গবেষক ইবনুল হুমাম একেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন; তাঁর ছাত্র প্রাজ্ঞ আল্লামা ইবন আমির হাজ্জ তাঁর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। কিন্তু তাঁর দ্বিতীয় ছাত্র হাফেজ (الحافظ) জাইনি কাসিম একটি স্বতন্ত্র রিসালায় প্রদত্ত ফতোয়ায় তাঁর বিরোধিতা করেছেন এবং নিষেধাজ্ঞার ব্যাপকতার কারণে প্রথম মতটিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন)।
(খণ্ড: ১)
আহকামুস সালাতি আলাল জানাযাতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ترجمة المصنِّف (1):
اسمه ونسبه ولقبه وكنيته:هو: قاسم بن قُطْلُوبُغا بن عبد الله السُّودوني، الجَمالي، المصري، الحنفي.
لقبه: «زين الدين» أو «الزين»، وربما لُقِّبَ «الشَّرَف».
كنيته: أبو العدل.
ونسبته: السودوني، وهي نسبة لمُعتق أبيه سودون الشيخوني نائب السَّلْطنة في ذلك العصر.
مولده ونشأته:ولد الحافظ ابن قطلوبغا في المحرم سنة اثنتين وثمانمائة بالقاهرة.
ومات أبوه وهو صغير، فنشأ يتيماً، وحفظ القرآن وكتباً عرض بعضها على
العز بن جماعة، وتكسب بالخياطة وقتاً، وبرع فيها.
طلبه للعلم وشيوخه:-أقبل الحافظ ابن قطلوبغا على الاشتغال مبكراً، فسمع تجويد القرآن على «الزراتيتي».
--------------------------------------------
লেখকের জীবনী (১):
তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপাধি ও উপনাম:তিনি হলেন: কাসেম ইবনে কুতলুবুগা ইবনে আবদুল্লাহ আস-সুদুনী, আল-জামালী, আল-মিসরী, আল-হানাফী।
তাঁর উপাধি: ‘যয়নুদ্দীন’ অথবা ‘আয-যাইন’, এবং কখনও কখনও তিনি ‘আশ-শারাফ’ উপাধিতেও ভূষিত হতেন।
তাঁর উপনাম: আবুল আদল।
তাঁর সম্বন্ধ (نسبة): আস-সুদুনী; এটি তাঁর পিতার মুক্তিদাতা সুদুন আশ-শাইখুনীর দিকে সম্বন্ধিত, যিনি তৎকালীন যুগের নায়েবে সুলতান ছিলেন।
তাঁর জন্ম ও লালন-পালন:হাফেজ (الحافظ) ইবনে কুতলুবুগা ৮০২ হিজরীর মহরম মাসে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি শৈশবেই পিতৃহারা হন, ফলে এতিম হিসেবে লালিত-পালিত হন। তিনি কুরআন হিফজ করেন এবং কিছু কিতাব মুখস্থ করেন যার কিছু অংশ তিনি ইজ্জ ইবনে জামাআ’র নিকট পেশ করেন। তিনি এক সময় দর্জিগিরির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং এতে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন।
তাঁর ইলম অর্জন ও শিক্ষকগণ:-হাফেজ (الحافظ) ইবনে কুতলুবুগা অল্প বয়সেই ইলম অর্জনে মনোনিবেশ করেন এবং ‘আয-যারাতিীতি’র নিকট তাজবিদের সাথে কুরআন পাঠ শ্রবণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুস সালাতি আলাল জানাযাতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
- وبعض التفسير على «العلاء البخاري».
- وأخذ علوم الحديث عن «التاج أحمد الفرغاني النعماني» قاضي بغداد، و «الحافظ ابن حجر».
- والفقه وأصوله عن «السراج»، و «المجد الرومي»، و «النظام السيرامي»، و «العز عبد السلام البغدادي»، و «عبد اللطيف الكرماني»، و «العلاء البخاري»، و «الشرف السبكي».
- وأصول الدين عن «العلاء»، و «البسطامي»، وكذا قرأ على «السعد بن الديري» في سنة اثنتين وثلاثين شرحه لـ «عقائد النسفي».
- والفرائض والميقات عن «ناصر الدين البارنباري» وغيره، واستمد فيها وفي الحساب كثيراً بالسيد علي تلميذ ابن المجدي.
- والعربية عن العلاء، والتاج، والمجد، والسبكي.
- والصرف عن البسطامي.
- والمعاني والبيان عن العلاء، والنظام، والبسطامي.
- والمنطق عن السبكي.
- وبعضهم في الأخذ عنه أكثر من بعض.
- واشتدت عنايته بملازمة ابن الهمام بحيث سمع عليه غالب ما كان يقرأ عنده في هذه الفنون وغيرها، وذلك من سنة خمس وعشرين حتى مات، وكان معظم انتفاعه به ومما قرأه عليه الربع الأول من «شرحه للهداية» وقطعة من «توضيح صدر الشريعة» وجميع «المسايرة» من تأليفه.
- وطلب الحديث بنفسه يسيراً فسمع على الحافظ ابن حجر، وابن الجزري، والشهاب الواسطي، والزين الزركشي، والشمس بن المصري، والبدر حسين البوصيري، وناصر الدين الفاقوسي، والتاج الشرابيشي، والتقي المقريزي، وعائشة الحنبلية، والطبقة.
- ونظر في كتب الأدب ودواوين الشعر فحفظ منها شيئاً كثيراً.
এবং ‘আল-আলা আল-বুখারি’-র নিকট তাফসিরের কিছু অংশ অধ্যয়ন করেছেন।
এবং বাগদাদের কাজি ‘তাজ আহমদ আল-ফারগানি আন-নুমানি’ ও ‘আল-হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার’-এর নিকট থেকে হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞান (علوم الحديث) অর্জন করেছেন।
এবং ‘আস-সিরাজ’, ‘আল-মাজদ আর-রুমি’, ‘আন-নিজাম আস-সিরামি’, ‘আল-ইজ্জ আবদুস সালাম আল-বাগদাদি’, ‘আব্দুল লতিফ আল-কিরমানি’, ‘আল-আলা আল-বুখারি’ এবং ‘আশ-শারাফ আস-সুবকি’-র নিকট ফিকহ ও ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) শিক্ষা করেছেন।
এবং ‘আল-আলা’ ও ‘আল-বিস্তামি’-র নিকট ধর্মতত্ত্বের মূলনীতি (أصول الدين) অধ্যয়ন করেছেন। একইভাবে তিনি আটশত বত্রিশ হিজরি সনে ‘আস-সাদ ইবনে আদ-দাইরি’-র নিকট ‘আকায়িদ আন-নাসাফি’-র ওপর তাঁর রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থটি পাঠ করেছেন।
এবং ‘নাসিরুদ্দিন আল-বারানবারি’ ও অন্যদের নিকট উত্তরাধিকার আইন (الفرائض) ও সময় নির্ধারণ বিদ্যা (الميقات) শিক্ষা করেছেন। এই শাস্ত্রে এবং গণিতশাস্ত্রে তিনি ইবনুল মাজদির ছাত্র সাইয়িদ আলির নিকট থেকে অনেক উপকৃত হয়েছেন।
এবং আল-আলা, আত-তাজ, আল-মাজদ ও আস-সুবকির নিকট আরবি ভাষা শিক্ষা করেছেন।
এবং আল-বিস্তামির নিকট শব্দ রূপান্তরবিদ্যা (الصرف) পাঠ করেছেন।
এবং আল-আলা, আন-নিজাম ও আল-বিস্তামির নিকট অলংকারশাস্ত্র (المعاني والبيان) শিক্ষা করেছেন।
এবং আস-সুবকির নিকট যুক্তিবিদ্যা (المنطق) অধ্যয়ন করেছেন।
তাঁদের কারো কারো নিকট থেকে তিনি অন্যদের তুলনায় অধিক জ্ঞান অর্জন করেছেন।
ইবনুল হুমামের সংস্রবে থাকার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল, যার ফলে তিনি তাঁর নিকট এই সকল শাস্ত্র এবং অন্যান্য বিষয়ের অধিকাংশ পাঠ শ্রবণ করেছেন; যা আটশত পঁচিশ হিজরি থেকে শুরু করে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। তাঁর মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক উপকৃত হয়েছেন এবং তাঁর নিকট যা পাঠ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে তাঁর রচিত ‘আল-হিদায়া’-র ব্যাখ্যাগ্রন্থের প্রথম এক-চতুর্থাংশ, ‘তাওদিহ সদরুশ শরীআহ’-র একটি অংশ এবং তাঁর নিজের রচিত ‘আল-মুসাইয়ারা’-র সম্পূর্ণ অংশ।
তিনি নিজেও স্বল্প পরিসরে হাদিস অন্বেষণ (طلب الحديث) করেছেন এবং আল-হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার, ইবনুল জাযারি, আশ-শিহাব আল-ওয়াসিতি, আজ-জাইন আজ-যারকাশি, আশ-শামস ইবনুল মিসরি, আল-বদর হুসাইন আল-বুসাইরি, নাসিরুদ্দিন আল-ফাকুসি, আত-তাজ আশ-শারাবশি, আত-তাকি আল-মাকরিজি, আইশা আল-হানবালিয়া ও সমপর্যায়ের স্তরের (الطبقة) মনীষীদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
তিনি সাহিত্যগ্রন্থ এবং কাব্যগ্রন্থসমূহ গভীর অভিনিবেশ সহকারে পাঠ করেছেন এবং তার একটি বিশাল অংশ মুখস্থ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আহকামুস সালাতি আলাল জানাযাতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
رحلاته:- ارتحل الحافظ ابن قطلوبغا مع شيخه التاج النعماني إلى الشام بحيث أخذ عنه «جامع مسانيد أبي حنيفة» للخوارزمي، و «علوم الحديث» لابن الصلاح، وغيرهما، وأجاز له في سنة ثلاث وعشرين.
- وكذا دخل إسكندرية وقرأ بها على الكمال بن خير، وقاسم التروجي.
- وحَجَّ غير مرة.
- وزار بيت المقدس.
تصديه للتدريس والإفتاء، ونبذة عن تلاميذه:- تصدى الحافظ ابن قطلوبغا للتدريس والإفتاء قديماً.
- وأخذ عنه الفضلاء في فنون كثيرة.
- وأسمع من لفظه «جامع مسانيد أبي حنيفة» بمجلس الناصري ابن الظاهر جقمق، بروايته له عن التاج النعماني، عن محيي الدين أبي الحسن حيدرة بن أبي الفضائل محمد بن يحيى العباسي مدرس المستنصرية ببغداد سماعاً، عن صالح بن عبد الله بن الصباغ، عن أبي المؤيد محمد بن محمود بن محمد الخوارزمي مؤلفه.
- وكان الناصري ممن أخذ عنه واختص بصحبته بل هو فقيه أخيه الملقب بعد بالمنصور.
- وكذا قرئ الجامع المذكور ببيت المحب بن الشحنة وسمعه عليه هو وغيره وحمله الناس عنه قديماً وحديثاً.
- وممن أخذ عنه السخاوي رحمه الله فقال عن نفسه: صحبته قديماً، وسمعت منه مع ولدي المسلسل بسماعه له على الواسطي، وكتبت عنه من نظمه وفوائده أشياء، بل قرأت عليه «شرح ألفية العراقي».
- وممن كتب عنه من نظمه ونثره البقاعي.
مكانته العلمية بين أبناء عصره:- عُرِفَ الحافظ ابن قطلوبغا بقوة الحافظة والذكاء وأشير إليه بالعلم، وأَذِنَ له غير واحد بالإفتاء والتدريس.
তাঁর সফরসমূহ:- হাফিজ (الحافظ) ইবনে কুতলুবুগা তাঁর উস্তাদ তাজুন নুমানির সাথে সিরিয়া সফর করেন এবং সেখানে তাঁর নিকট থেকে খাওয়ারিজমি রচিত ‘জামি মাসানিদ আবি হানিফা’ ও ইবনুস সালাহ রচিত ‘উলূমুল হাদিস’ সহ অন্যান্য কিতাব গ্রহণ করেন। তিনি ৮২৩ হিজরি সনে তাঁকে অনুমতি (إجازة) প্রদান করেন।
- তদ্রূপ তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় প্রবেশ করেন এবং সেখানে আল-কামাল বিন খায়ের ও কাসিম আত-তারুজির নিকট পাঠ গ্রহণ করেন।
- তিনি একাধিকবার হজ পালন করেন।
- এবং তিনি বায়তুল মুকাদ্দাস যিয়ারত করেন।
অধ্যাপনা ও ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব এবং তাঁর ছাত্রদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:- হাফিজ (الحافظ) ইবনে কুতলুবুগা অনেক পূর্ব থেকেই অধ্যাপনা ও ফতোয়া প্রদানের (إفتاء) কাজে আত্মনিয়োগ করেন।
- বহু গুণীজন তাঁর নিকট থেকে বিভিন্ন শাস্ত্রে জ্ঞান অর্জন করেছেন।
- তিনি নাসিরি ইবনে জাহির জাকমাক-এর মজলিসে নিজ মুখে ‘জামি মাসানিদ আবি হানিফা’ পাঠ করে শোনান। এটি তিনি তাজুন নুমানির সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বাগদাদের মুসতানসিরিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মুহিউদ্দিন আবুল হাসান হায়দারাহ বিন আবিল ফাদায়েল মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-আব্বাসির নিকট থেকে শ্রবণের মাধ্যমে (سماعاً), তিনি সালেহ বিন আব্দুল্লাহ বিন আস-সাব্বাগ থেকে, আর তিনি এর লেখক আবুল মুয়ায়্যিদ মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন মুহাম্মদ আল-খাওয়ারিজমি থেকে বর্ণনা করেছেন।
- নাসিরি তাঁর নিকট থেকে যারা জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তাঁর বিশেষ সান্নিধ্য লাভ করেছেন তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; বরং তিনি তাঁর ভাই (যিনি পরবর্তীতে আল-মনসুর উপাধিতে ভূষিত হন) এর ফকিহ (فقيه) ছিলেন।
- তদ্রূপ আল-মুহিব্ব ইবনুশ শিহনার বাড়িতে উক্ত ‘জামি’ গ্রন্থটি পাঠ করা হয় এবং তিনি ও অন্যরা তাঁর নিকট তা শ্রবণ করেন। প্রাচীন ও বর্তমান কালের বহু মানুষ তাঁর নিকট থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
- তাঁর নিকট থেকে যারা জ্ঞান অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে ইমাম সাখাভি (রহিমাহুল্লাহ) অন্যতম। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেন: "আমি দীর্ঘকাল তাঁর সান্নিধ্যে ছিলাম এবং আমি ও আমার পুত্র তাঁর নিকট থেকে আল-ওয়াসিতির সূত্রে তাঁর শ্রবণকৃত ‘মুসালসাল’ (المسلسل) হাদিস শুনেছি। আমি তাঁর কবিতা ও শিক্ষণীয় বিষয়াবলি থেকে অনেক কিছু লিপিবদ্ধ করেছি, এমনকি আমি তাঁর নিকট ‘শারহু আলফিয়্যাতিল ইরাকি’ পাঠ করেছি।"
- আল-বিকাঈও তাঁর নিকট থেকে তাঁর রচিত কবিতা ও গদ্য লিপিবদ্ধ করেছেন।
তৎকালীন আলেমদের মাঝে তাঁর বৈজ্ঞানিক মর্যাদা:- হাফিজ (الحافظ) ইবনে কুতলুবুগা তাঁর প্রখর স্মৃতিশক্তি ও মেধার জন্য সুপরিচিত ছিলেন এবং ইলমের ক্ষেত্রে তাঁর দিকেই ইঙ্গিত করা হতো (অর্থাৎ তিনি অনন্য ছিলেন)। একাধিক ব্যক্তি তাঁকে ফতোয়া প্রদান (إفتاء) ও অধ্যাপনার অনুমতি প্রদান করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আহকামুস সালাতি আলাল জানাযাতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
- ووصفه ابن الديري بالشيخ العالم الذكي.
- والحافظ ابن حجر بالإمام العلامة المحدث الفقيه الحافظ.
- ووصفه كذلك بالشيخ الفاضل المحدث الكامل الأوحد.
- ووصفه الزين رضوان بقوله: من حُذَّاق الحنفية، كَتَب الفوائد واستفاد وأفاد.
- وقال السخاوي: هو إمام، علامة، قوي المشاركة في فنون، ذاكر لكثير من الأدب ومتعلقاته، واسع الباع في استحضار مذهبه وكثير من زواياه وخباياه، متقدِّم في هذا الفن، طلق اللسان، قادر على المناظرة وإفحام الخصم، لكن حافظته أحسن من تحقيقه.
- وقال السخاوي كذلك: قد انفرد عن علماء مذهبه الذين أدركناهم بالتقدم في هذا الفن، وصار بينهم من أجلة شأنه
… وقُصِدَ بالفتاوى في النوازل والمهمات فبلغوا باعتنائه بهم مقاصدهم غالباً؛ واشتهر بذلك.
- وقال البقاعي: كان مفنناً في علوم كثيرة: الفقه، والحديث، والأصول، وغيرها، ولم يُخَلَّف بعده حنفياً مثله. ثم بالغ في أذيته بما ذكره السخاوي.
إقباله على التأليف والتصنيف:
أقبل الحافظ ابن قطلوبغا على التأليف من سنة عشرين وثمانمائة، أي عندما كان في الثامنة عشرة من عمره، وهلم جرا.
مؤلفاته:برع الحافظ ابن قطلوبغا في علوم شتى وكانت له يد في التصنيف والتأليف في غالب الفنون، ورأيت أن أقتصر هنا على ذكر أهم مصنفاته الخاصة بعلم الرجال لأنبه على مدى اعتنائه بهذا الفن ونبوغه فيه:
1 - «الإيثار برجال معاني الآثار».
2 - رجال «الموطأ» لمحمد بن الحسن.
3 - رجال «الآثار» لمحمد بن الحسن.
4 - رجال «مسند أبي حنيفة» لابن المقري.
- এবং ইবনুল দাইরি তাঁকে শেখ, আলিম ও বুদ্ধিমান বলে বর্ণনা করেছেন।
- এবং হাফেজ ইবনে হাজার তাঁকে ইমাম (الإمام), আল্লামাহ (العلامة), হাদিস বিশারদ (المحدث), ফকিহ (الفقيه) এবং হাফেজ (الحافظ) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
- তিনি তাঁকে একইভাবে ফাদিল শেখ, পূর্ণাঙ্গ ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী হাদিস বিশারদ (المحدث) হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।
- জাইন রিদওয়ান তাঁর বর্ণনায় বলেছেন: তিনি হানাফি মাজহাবের অত্যন্ত দক্ষ পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; তিনি ইলমি ফায়দাগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন এবং নিজে উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও উপকৃত করেছেন।
- এবং সাখাভি বলেছেন: তিনি একজন ইমাম (إمام) ও আল্লামাহ (علامة)। বিভিন্ন শাস্ত্রে তাঁর গভীর বিচরণ ছিল; তিনি সাহিত্য ও এর অনুষঙ্গগুলোর অনেক বিষয় স্মরণে রাখতেন। নিজ মাজহাবের মাসআলাসমূহ এবং এর সূক্ষ্ম ও গোপন দিকগুলো উপস্থাপনে তাঁর বিশাল ব্যুৎপত্তি ছিল। এই বিদ্যায় তিনি অগ্রগণ্য ছিলেন, অত্যন্ত বাগ্মী ছিলেন এবং বিতর্ক ও প্রতিপক্ষকে নিরুত্তর করতে সক্ষম ছিলেন; তবে তাঁর মুখস্থ শক্তি (حافظته) তাঁর তাহকিক (تحقيقه) বা সূক্ষ্ম পর্যালোচনার চেয়েও প্রখর ছিল।
- সাখাভি আরও বলেছেন: তিনি তাঁর সমসাময়িক নিজ মাজহাবের আলেমদের মধ্যে এই বিদ্যায় শ্রেষ্ঠত্ব ও অনন্যতার কারণে একক অবস্থানে ছিলেন এবং তাঁদের মাঝে তিনি উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হয়েছিলেন
… আপদকালীন সমস্যা ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফতোয়া গ্রহণের জন্য তাঁর শরণাপন্ন হওয়া হতো এবং তাঁর বিশেষ মনোযোগের কারণে আবেদনকারীরা সাধারণত তাদের লক্ষ্য লাভে সফল হতো; তিনি এই কারণে সুপরিচিত ছিলেন।
- এবং বিকায়ি বলেছেন: তিনি ফিকহ (الفقه), হাদিস, উসুল (الأصول) সহ অনেক শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। তাঁর পরে তাঁর মতো আর কোনো হানাফি আলেম উত্তরসূরি হিসেবে আসেননি। এরপর তিনি সাখাভি যা উল্লেখ করেছেন তার মাধ্যমে তাঁকে কষ্ট দেওয়ার ব্যাপারে অতিশয়োক্তি করেছেন।
গ্রন্থ রচনা ও সংকলনে তাঁর আত্মনিয়োগ:<
হাফেজ ইবনে কুতলুবুগা ৮২০ হিজরি থেকে গ্রন্থ রচনায় আত্মনিয়োগ করেন, অর্থাৎ যখন তাঁর বয়স ছিল আঠারো বছর এবং এরপর থেকে তা অব্যাহত থাকে।
তাঁর রচনাবলি:হাফেজ ইবনে কুতলুবুগা বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন এবং অধিকাংশ শাস্ত্রেই গ্রন্থ সংকলন ও রচনায় তাঁর বিশেষ দক্ষতা ছিল। রাবি পরিচিতি শাস্ত্র (علم الرجال) বা রিজাল শাস্ত্রের প্রতি তাঁর মনোযোগ এবং এই বিদ্যায় তাঁর মেধার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলার জন্য আমি এখানে কেবল এই শাস্ত্র সংক্রান্ত তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলো উল্লেখ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি:
1 - «আল-ইসার বি-রিজালি মা'আনিল আসার»।
2 - মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের «মুয়াত্তা»-এর রাবিদের পরিচয় (رجال)।
3 - মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের «আল-আসার»-এর রাবিদের পরিচয় (رجال)।
4 - ইবনুল মুকরির «মুসনাদে আবু হানিফা»-এর রাবিদের পরিচয় (رجال)।
(খণ্ড: ১)
আহকামুস সালাতি আলাল জানাযাতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
5 - ترتيب «الإرشاد» للخليلي، في مجلد.
6 - ترتيب «التمييز» للجوزقاني، في مجلد.
7 - ترتيب «أسئلة الحاكم» للدارقطني.
8 - من روى عن أبيه عن جده، في مجلد.
9 - الاهتمام الكلي بإصلاح ثقات العجلي، في مجلد.
10 - زوائد رجال «الموطأ» على الكتب الستة.
11 - زوائد رجال «مسند الشافعي» على الكتب الستة.
12 - زوائد رجال «سنن الدارقطني» على الكتب الستة.
13 - الثقات ممن لم يقع في الكتب الستة، وهو الذي بين يديك.
14 - تقويم «اللسان في الضعفاء»، في مجلدين.
15 - حاشية على «المشتبه» للحافظ ابن حجر.
16 - حاشية على «التقريب» للحافظ ابن حجر.
17 - تاج التراجم.
الوظائف التي تولاها:لم يَلِ الحافظ ابن قطلوبغا مع انتشار ذكره وظيفة تناسبه بل كان في غالب عمره أحد صوفية الأشرفة، إلى أن استقر في تدريس الحديث بقبة البيبرسية.
المؤاخذات عليه:
وصف السخاويُّ الحافظ ابن قطلوبغا بأنه مغرم بالانتقاد ولو لمشايخه حتى بالأشياء الواضحة، والإكثار من ذكر ما يكون من هذا القبيل بحضرة كل أحد ترويجاً لكلامه بذلك، كثير الطرح لأمور مشكلة يمتحن بها وقد لا يكون عنده جوابها، ولهذا كان بعضهم يقول: إن كلامه أوسع من علمه، قال السخاوي: أما أنا فأزيد على ذلك بأن كلامه أحسن من قلمه.
5 - আল-খালিলি রচিত 'আল-ইরশাদ'-এর বিন্যাস, এক খণ্ডে।
6 - আল-জাওযাকানি রচিত 'আত-তাময়িজ'-এর বিন্যাস, এক খণ্ডে।
7 - আদ-দারাকুতনি বর্ণিত 'আসইলাতুল হাকিম'-এর বিন্যাস।
8 - যারা তাদের পিতার সূত্রে এবং পিতা তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, এক খণ্ডে।
9 - আল-ইজলির নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (الثقات) সংশোধন সংক্রান্ত পূর্ণ মনোযোগ, এক খণ্ডে।
10 - ছয়টি কিতাবের অতিরিক্ত মুয়াত্তা-এর বর্ণনাকারীগণ।
11 - ছয়টি কিতাবের অতিরিক্ত মুসনাদে শাফি-এর বর্ণনাকারীগণ।
12 - ছয়টি কিতাবের অতিরিক্ত সুনানে আদ-দারাকুতনি-এর বর্ণনাকারীগণ।
13 - ছয়টি কিতাবে স্থান না পাওয়া নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ (الثقات), আর এটিই সেই গ্রন্থ যা বর্তমানে আপনার সম্মুখে রয়েছে।
14 - 'আল-লিসান'-এ উল্লিখিত দুর্বল বর্ণনাকারীদের (الضعفاء) মূল্যায়ন, দুই খণ্ডে।
15 - হাফিজ ইবনে হাজার রচিত 'আল-মুশতাবিহ'-এর ওপর টীকা।
16 - হাফিজ ইবনে হাজার রচিত 'আত-তাকরিব'-এর ওপর টীকা।
17 - তাজুত তারাজিম।
যে সকল দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন:হাফিজ ইবনে কুতলুবুগার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়লেও তিনি তাঁর যোগ্য কোনো পদের দায়িত্ব পাননি; বরং তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি আল-আশরাফিয়া-র সুফিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যে পর্যন্ত না তিনি কুব্বাতুল বাইবারসিয়াহ-তে হাদিস অধ্যাপনার দায়িত্বে থিতু হন।
তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত আপত্তিসমূহ:
আল-সাখাভি হাফিজ ইবনে কুতলুবুগা সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সমালোচনা করতে অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন, এমনকি তাঁর শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এবং সুস্পষ্ট বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও। তাঁর বক্তব্য প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি এই ধরণের বিষয়গুলো সবার উপস্থিতিতে অতিরিক্ত মাত্রায় উল্লেখ করতেন। তিনি এমন অনেক জটিল অমীমাংসিত বিষয় উত্থাপন করতেন যা দ্বারা পরীক্ষা নেওয়া হয়, অথচ অনেক সময় তাঁর নিজের কাছেই সেগুলোর উত্তর থাকত না। এই কারণেই কেউ কেউ বলতেন: "তাঁর বাচনভঙ্গি তাঁর জ্ঞানের চেয়েও প্রশস্ত।" সাখাভি বলেন: "আমি এর সাথে আরও যোগ করতে চাই যে, তাঁর কথা তাঁর কলমের (লেখার) চেয়েও সুন্দর।"
(খণ্ড: ১)
আহকামুস সালাতি আলাল জানাযাতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
صفاته الخُلُقية:وصف السخاويُّ الحافظَ ابن قطلوبغا بأنه كان غاية في التواضع، وطَرْح التكلف وصفاء الخاطر جداً، وحُسْن المحاضرة، لا سيما في الأشياء التي يحفظها، وعدم اليبس والصلابة، والرغبة في المذاكرة للعلم، وإثارة الفائدة، والاقتباس ممن دونه مما لعله لم يكن أتقنه.
وقال السخاوي: ربما تفقده الأعيان من الملوك والأمراء ونحوهم فلا يدبر نفسه في الارتفاق بذلك بل يسارع إلى إنفاقه ثم يعود لحالته وهكذا مع كثرة عياله وتكرر تزويجه، وبالجملة فهو مقصر في شأنه.
وذكر أنه لما عُرض عليه السكن بقاعة مشيخة المؤيدية لضيق منزله وارتفاعه لم يقبل.
نظمه:مما نظمه الحافظ ابن قطلوبغا رداً لقول القائل:
إن كنت كاذبة التي حدثتني
… فعليك إثم أبي حنيفة أو زُفَر
الواثبين على القياس تمرداً
… والراغبين عن التمسك بالأثر
فقال:
كذب الذي سب المآثم للذي
… قاس المسائل بالكتاب وبالأثر
إن الكتاب وسُنَّةَ المختار قد
… دلَّا عليه فدع مقالة من فشر
مرضه ووفاته:تَعَلَّلَ الحافظ ابن قطلوبغا مدة طويلة بمرض حاد وبعسر التبول والحصاة وغير ذلك، وتنقل لعدة أماكن إلى أن تحول قبيل موته بيسير بقاعة بحارة الديلم بالقاهرة، فلم يلبث أن مات فيها في ليلة الخميس رابع ربيع الآخر سنة (879هـ).
وصُليَ عليه من الغد تجاه جامع المارداني في مشهد حافل، ودفن على باب المشهد المنسوب لعقبة عند أبويه وأولاده، وتأسف الناس على فقده.
চারিত্রিক গুণাবলি:আল্লামা সাখাভী হাফেজ ইবনে কুতলুবুগাকে অত্যন্ত বিনয়ী, লৌকিকতা বর্জিত এবং অত্যন্ত স্বচ্ছ চিন্তার অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি চমৎকার আলোচনার (المحاضرة) পারদর্শী ছিলেন, বিশেষত সেসব বিষয়ে যা তিনি মুখস্থ রাখতেন। তাঁর মাঝে কোনো রূঢ়তা বা কঠোরতা ছিল না। তিনি ইলমি আলোচনা (المذاكرة) ও জ্ঞানগত উপকার প্রসারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। এমনকি নিজের চেয়ে নিম্নস্তরের ব্যক্তিদের থেকেও তিনি জ্ঞান আহরণ (الاقتباس) করতেন, যেসব বিষয়ে হয়তো তিনি তখনো পুরোপুরি পারদর্শী হয়ে ওঠেননি।
সাখাভী আরও বলেন: বাদশাহ, আমীর-ওমরাহ এবং উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা প্রায়শই তাঁর খোঁজখবর নিতেন এবং উপঢৌকন পাঠাতেন, কিন্তু তিনি সেসবের মাধ্যমে নিজের সচ্ছলতার ব্যবস্থা করতেন না; বরং দ্রুত তা দান করে দিতেন এবং পুনরায় নিজের আগের সাধারণ অবস্থায় ফিরে যেতেন। অধিক সন্তান-সন্ততি এবং একাধিকবার বিয়ে করা সত্ত্বেও তাঁর অবস্থা এমনই ছিল। সংক্ষেপে বলতে গেলে, তিনি নিজের পার্থিব বিষয়ের প্রতি উদাসীন ছিলেন।
বর্ণিত আছে যে, তাঁর নিজস্ব বাসস্থান সংকীর্ণ ও উঁচুতে হওয়ার কারণে যখন তাঁকে মুআইয়্যিদীয়া মাদরাসার শায়খের বাসভবনে থাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তখন তিনি তা গ্রহণ করেননি।
কবিতা:হাফেজ ইবনে কুতলুবুগা নিচের পঙক্তিগুলোর জবাবে কিছু কবিতা রচনা করেছিলেন, যেখানে জনৈক বক্তা বলেছিল:
যদি সেই নারী মিথ্যাবাদী হয় যে আমাকে সংবাদ দিয়েছে
… তবে তোমার ওপর আবু হানিফা বা যুফারের সমপরিমাণ পাপ বর্তাবে।
যারা অবাধ্য হয়ে কেবল কিয়াসের (القياس) ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে
… এবং আছার (الأثر) বা বর্ণনা আঁকড়ে ধরা থেকে বিমুখ থাকে।
জবাবে তিনি বলেন:
সেই ব্যক্তি মিথ্যা বলেছে যে তাকে পাপে অভিযুক্ত করেছে, যে কিতাব ও আছারের (الأثر) আলোকে মাসআলাসমূহে কিয়াস (قاس) করেছে।
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর কিতাব এবং মনোনীত রাসুলের সুন্নাহ (سُنَّةَ) এর সপক্ষে দলীল প্রদান করেছে; সুতরাং যে অসার কথা বলে তার বক্তব্য ত্যাগ করো।
অসুস্থতা ও মৃত্যু:হাফেজ ইবনে কুতলুবুগা দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র রোগ, মূত্রকচ্ছতা, পাথুরীরোগসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভোগেন। তিনি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন এবং মৃত্যুর অল্পকাল আগে কায়রোর 'হারাতুদ দাইলাম' এলাকার একটি কক্ষে স্থানান্তরিত হন। সেখানেই ৮৭৯ হিজরীর ৪ঠা রবিউস সানি, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তিনি ইন্তেকাল করেন।
পরদিন আল-মারদানি মসজিদের সামনে এক বিশাল শোকাতুর জনসমাবেশে (مشهد) তাঁর জানাজা সম্পন্ন হয়। তাঁকে উকবা (রা.)-এর মাকবারার প্রবেশদ্বারে তাঁর পিতামাতা ও সন্তানদের পাশে দাফন করা হয়। তাঁর বিয়োগে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত শোক প্রকাশ করে।
(খণ্ড: ১)
আহকামুস সালাতি আলাল জানাযাতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
النص المحقق:قال رحمه الله: [ق 26/أ] قد ظن بعض الناس من صلاة شيخ الإسلام سعد الدين الديري (1) على إبراهيم بن الجيهان في الجامع الأزهر أنه لا كراهة لذلك عندنا وأنه لا معنى لتركه لذلك وصلاتي على بعض الناس في الرحاب فسألني فقلت: المنقول المنع، قال: قال الإمام محمد بن الحسن (2) في موطئه (3): لا يصلى على جنازة في مسجد، وقال الإمام الطحاوي (4) في معاني الآثار: النهي
--------------------------------------------
সম্পাদিত পাঠ:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [পৃষ্ঠা ২৬/ক] জামে আজহারে শায়খুল ইসলাম সাদউদ্দীন আদ-দাইরি (১) কর্তৃক ইব্রাহিম ইবনুল জাইহানের জানাজা পড়ার কারণে কিছু মানুষ ধারণা করেছে যে, আমাদের নিকট এতে কোনো অপছন্দনীয় (كراهة) বিষয় নেই এবং এটি বর্জন করার কোনো অর্থ হয় না। এমতাবস্থায় রাহবাহ (প্রাঙ্গণ) এলাকায় কিছু লোকের ওপর আমার জানাজা পড়া সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করা হলে আমি বললাম: বর্ণিত (المنقول) বর্ণনা অনুযায়ী এটি নিষিদ্ধ (المنع)। তিনি বলেন: ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসান (২) তার মুওয়াত্তায় (৩) বলেছেন: মসজিদে জানাজার নামাজ পড়া যাবে না। ইমাম তাহাবি (৪) মাআ'নিল আসার গ্রন্থে এর নিষেধাজ্ঞা (النهي) সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুস সালাতি আলাল জানাযাতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
عن الصلاة في المسجد وكراهتها هو قول أبي حنيفة ومحمد، وهو قول أبي يوسف أيضا غير أن أصحاب الإملاء رووا عنه أنه قال: إذا كان مسجد أفرد للصلاة على الجنازة فيه يصلى على الجنازة فيه فلا بأس أن (1).
وقول صاحب الهداية (2) في مختارات النوازل: ولا يصلى صلاة الجنازة في مسجد يصلى فيه الجماعة عندنا للحدث (3) وسواء كان الميت في المسجد، أو خارجا منه في ظاهر الرواية، وفي رواية: إذا كان
--------------------------------------------
মসজিদে (জানাজার) নামাজ আদায় করা এবং এর অপছন্দনীয়তা (كراهة) সম্পর্কে ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মাদের অভিমত এটিই। এটি ইমাম আবু ইউসুফেরও অভিমত, তবে 'আল-ইমলা'র রচয়িতাগণ তাঁর থেকে বর্ণনা (رواية) করেছেন যে তিনি বলেছেন: যদি এমন কোনো মসজিদ থাকে যা কেবল জানাজার নামাজের জন্যই নির্দিষ্ট করা হয়েছে, তবে সেখানে জানাজার নামাজ পড়তে কোনো অসুবিধা নেই (১)।
এবং 'মুখতারাতুল নাওয়াজিল' গ্রন্থে হিদায়া প্রণেতার (২) বক্তব্য হলো: আমাদের নিকট এমন মসজিদে জানাজার নামাজ পড়া হবে না যেখানে জামাত অনুষ্ঠিত হয়, হাদিসের কারণে (৩)। আর মৃতদেহ মসজিদের অভ্যন্তরে থাকুক বা বাইরে থাকুক—'জাহিরুর রিওয়ায়াহ' (ظاهر الرواية) অনুযায়ী হুকুম একই। আর অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: যখন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুস সালাতি আলাল জানাযাতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الميت خارج المسجد لا يكره، وقال في المحيط (1): وتركه صلاة الجنازة في المسجد خلافا للشافعي، والصحيح قولنا لما روي صلى الله عليه وسلم قال: (من صلى على الجنازة في المسجد فلا [ق26 /ب] شيء له) (2) ولأن تنزيه المسجد واجب وفي إدخال المسجد الميت احتمال وقوع النجاسة فيه فيكره كما يكره إدخال الصبي والمجنون المسجد (3)؛ لأنه لا يؤمن من تلويث المسجد فكذا هذا، ولو وضعت الجنازة خارج المسجد والإمام خارج المسجد ومعه صف والباقي في المسجد، اختلفوا فيه فقيل: لا تكره الصلاة عليه، وهكذا روي عن أبي يوسف في النوازل أنه ليس له فيه احتمال تلويث المسجد، وقيل يكره؛ لأن المسجد أعد لأداء المكتوبات (4) فلا يقام فيه غيرها قصدا إلا بعذر، وقال في شرح
--------------------------------------------
মসজিদের বাইরে মৃতদেহ রেখে জানাজা পড়া অপছন্দনীয় নয়। 'আল-মুহিত' (১) গ্রন্থে বলা হয়েছে: ইমাম শাফি'ঈর মতের বিপরীতে মসজিদে জানাজার নামাজ বর্জন করা। আমাদের অভিমতটিই সঠিক (الصحيح), কারণ বর্ণিত হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি মসজিদে জানাজা পড়বে তার জন্য কোনো সওয়াব [ق26 /ব] নেই) (২)। তাছাড়া মসজিদকে পবিত্র রাখা আবশ্যক (واجب), আর মসজিদে মৃতদেহ প্রবেশ করালে সেখানে অপবিত্রতা লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই এটি অপছন্দনীয় (يكره), যেমনটা শিশু ও উন্মাদ ব্যক্তিকে মসজিদে প্রবেশ করানো অপছন্দনীয় (يكره) (৩); কারণ মসজিদ কলুষিত হওয়া থেকে নিরাপদ থাকা নিশ্চিত নয়, এটিও তদ্রূপ। আর যদি জানাজা মসজিদের বাইরে রাখা হয় এবং ইমাম মসজিদের বাইরে এক কাতার সঙ্গী নিয়ে দাঁড়ান আর বাকিরা মসজিদের ভেতরে থাকেন, তবে এ বিষয়ে ফকিহগণ ভিন্নমত পোষণ করেছেন। কেউ বলেছেন: তার ওপর নামাজ পড়া অপছন্দনীয় নয় (لا تكره)। ইমাম আবু ইউসুফ থেকে 'আন-নাওয়াজিল' গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে যে, এতে মসজিদ কলুষিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আবার কেউ বলেছেন এটি অপছন্দনীয় (يكره); কারণ মসজিদ কেবল ফরজ নামাজ (المكتوبات) আদায়ের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে (৪), তাই ওজর ছাড়া উদ্দেশ্যমূলকভাবে সেখানে অন্য কিছু আদায় করা হবে না। 'শরহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুস সালাতি আলাল জানাযাতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
القدوري المسمى بِالْمُضْمَرَاتِ (1) في قوله: ولا يصلى على ميت في مسجد جماعة: يكره أن يصلى على الميت في المسجد سواء كانت الجنازة في المسجد أو هي خارج المسجد والإمام في المسجد، وفي النسفية (2): سئل عن صلاة الجنازة وهي خارج والناس في المسجد هل يكره، فقال: كان المشايخ أهل سمرقند لا يكرهون ذلك ويصلون في المسجد والجنازة على باب المسجد حتى ورد عليهم السيد أبو شجاع فرأى منهم ذلك فقال: ما لكم تصلون على الجنازة في المسجد، قالوا: إن مشايخنا أجازوا ذلك، قال: قد يقدمهم مشايخ أخر لم يجوزوه، قالوا: ومن هم، قال إمام الأئمة أبو حنيفة ومن تبعه ونصوا على كراهة ذلك في كتبهم فاتفقوا على أن بنوا وراء المقصورة سقيفة بوضع الميت فيها وصفوف من الناس في هذه السقيفة ثم يتصل منه الصفوف التي في الجامع، قال: فالحاصل أن إدخال الجنازة في المسجد والصلاة عليها في المسجد مكروه عندنا، وفي وضع الجنازة على باب المسجد والإمام والقوم في المسجد اختلاف المشايخ ووضع الجنازة خارج المسجد وقيام الناس معه خارج المسجد ثم اتصال الصفوف بهم غير مكروه، وأما الحجاج فقال محمد في الموطأ ثنا مالك ثنا نافع عن ابن عمر أنه ما صلى على عمر إلا في المسجد (3) وقال محمد: لا يصلى على جنازة [في المسجد] (4)، وكذلك بلغنا عن أبي هريرة (5) وموضع الجنازة بالمدينة خارج المسجد، وهو الموضع
--------------------------------------------
আল-কুদুরির ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-মুতমারাত' (১)-এ বলা হয়েছে: "জামে মসজিদে মৃত ব্যক্তির জানাজা পড়া যাবে না": মসজিদে জানাজা পড়া মাকরুহ, চাই জানাজা মসজিদের ভেতরে হোক কিংবা বাইরে এবং ইমাম মসজিদের ভেতরে থাকুন। 'আন-নাসাফিয়্যাহ' (২) গ্রন্থে আছে: জানাজা বাইরে এবং মানুষ মসজিদের ভেতরে থাকা অবস্থায় জানাজা পড়া মাকরুহ কি না সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বলেন: সমরকন্দের মাশায়েখগণ একে মাকরুহ মনে করতেন না এবং জানাজা মসজিদের দরজায় রেখে তারা মসজিদের ভেতরে নামাজ পড়তেন। অবশেষে সাইয়্যেদ আবু শুজা তাদের নিকট এলেন এবং তাদের এই আমল দেখে বললেন: "তোমাদের কী হলো যে তোমরা মসজিদে জানাজা পড়ছো?" তারা বললেন: "আমাদের মাশায়েখগণ এর অনুমতি দিয়েছেন।" তিনি বললেন: "তাদের পূর্বে এমন অন্যান্য মাশায়েখগণ গত হয়েছেন যারা এর অনুমতি দেননি।" তারা জিজ্ঞাসা করলেন: "তারা কারা?" তিনি বললেন: "ইমামুল আইম্মাহ আবু হানিফা এবং তার অনুসারীগণ; তারা তাদের কিতাবসমূহে এর অপছন্দনীয়তার বিষয়ে স্পষ্ট বর্ণনা করেছেন।" অতঃপর তারা সকলে এই বিষয়ে একমত হলেন যে, মাকসুরার পেছনে একটি ছাউনি তৈরি করবেন যেখানে মৃতকে রাখা হবে এবং একদল মানুষ সেই ছাউনিতে কাতারবদ্ধ হবে, এরপর মসজিদের ভেতরে থাকা কাতারগুলো তাদের সাথে যুক্ত হবে। তিনি বলেন: সারকথা হলো, জানাজা মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করানো এবং তার ওপর নামাজ পড়া আমাদের নিকট মাকরুহ। আর জানাজা মসজিদের দরজায় রেখে ইমাম ও কওমের মসজিদের ভেতরে থাকার বিষয়ে মাশায়েখদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। তবে জানাজা মসজিদের বাইরে রাখা এবং মানুষের তাদের সাথে মসজিদের বাইরে দাঁড়ানো, অতঃপর কাতারগুলো তাদের সাথে যুক্ত হওয়া মাকরুহ নয়। আর হাজ্জাজদের ক্ষেত্রে, মুহাম্মদ মুওয়াত্তাতে বলেন: আমাদের নিকট মালেক বর্ণনা করেছেন, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর (রা.)-এর জানাজা মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও পড়া হয়নি (৩)। মুহাম্মদ বলেন: জানাজা [মসজিদে] (৪) পড়া যাবে না। একইভাবে আবু হুরায়রা (৫) থেকেও আমাদের কাছে পৌঁছেছে যে, মদিনায় জানাজা রাখার স্থান মসজিদের বাইরে ছিল, আর সেটি হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুস সালাতি আলাল জানাযাতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الذي كان النبي صلى الله عليه وسلم [ق 27 /أ] يصلى على الجنازة فيه (1)، فأفاد أن عمل النبي صلى الله عليه وسلم كان على خلاف ما وقع في الصلاة على أمير المؤمنين عمر رضي الله عنه فيحمل على العذر، وبه قال في المحيط، ولفظه: فلا يقام فيه - أي المسجد - غيرها - أي غير الصلاة - تعبدا إلا لعذر وهذا تأويل حديث عمر أنه لما قتل صلى عليه في المسجد كأنه كان لعذر وهو خوف الفتنة والصد عن الدفن عند النبي صلى الله عليه وسلم، وروى الإمام الطحاوي عن عائشة أنها لما توفي سعد بن أبي وقاص قالت: أدخلوا به المسجد حتى أصلي عليه فأنكر ذلك الناس عليها فقالت: صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم على سهيل بن البيضاء في المسجد " (2) قال: فذهب قوم إلى هذا
--------------------------------------------
যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম [পৃষ্ঠা ২৭/ক] জানাজার নামাজ পড়তেন (১), এটি নির্দেশ করে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল আমীরুল মুমিনীন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর জানাজার নামাজের ক্ষেত্রে যা ঘটেছিল তার ব্যতিক্রম ছিল। সুতরাং একে ওজরের (অজুহাত) ওপর ভিত্তি করে ধরা হবে। আর 'আল-মুহিত' গ্রন্থেও অনুরূপ বলা হয়েছে, যার শব্দাবলি হলো: "এতে—অর্থাৎ মসজিদে—জানাজা ব্যতীত অন্য কোনো নামাজ ইবাদত হিসেবে আদায় করা যাবে না ওজর ব্যতীত। আর এটিই উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসের ব্যাখ্যা যে, যখন তাঁকে শহীদ করা হয়, তখন তাঁর জানাজা মসজিদে পড়া হয়েছিল; সম্ভবত তা কোনো ওজরের কারণে ছিল, আর তা হলো ফিতনার ভয় এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে দাফন করতে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা।" ইমাম তাহাবী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু ইন্তেকাল করলেন, তখন তিনি বললেন: "তাঁকে মসজিদে নিয়ে এসো যাতে আমি তাঁর ওপর জানাজা পড়তে পারি।" মানুষ তাঁর এই কথার প্রতিবাদ জানালে তিনি বললেন: "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুহাইল ইবনুল বায়দা-এর জানাজা মসজিদেই পড়েছিলেন।" (২) তিনি বলেন: একদল আলিম এই মত গ্রহণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুস সালাতি আলাল জানাযাতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الحديث فقالوا: لا بأس بالصلاة على الجنازة في المساجد، واحتجوا أيضا بما روي عن ابن عمر أن عمر صلى عليه في المسجد (1)، وخالفهم في ذلك آخرون فكرهوا الصلاة على الجنائز في المساجد، واحتجوا بما حدثنا .. إلخ (2) فروى عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "من صلى على جنازة في مسجد فلا شيء له" (3)، قال: فلما اختلفت الروايات عن النبي صلى الله عليه وسلم في هذا الباب نظرنا في ذلك لنعلم المتأخر من الحديثين فنجعله ناسخا للمتقدم منهما، فوجدنا حديث عائشة دليلا على أنهم كانوا تركوا الصلاة على الجنائز في المسجد بعد أن كانت تفعل فيه وارتفع ذلك من فعلهم، وذهب معرفته عن عائشة فلم يكن ذلك عندها لكراهية حدثت بل كان الأمر عندها على أنهم كانوا يصلون عليها في المسجد لو شاءوا، لذلك أمرت به حتى أنكر ذلك الناس عليها وهم أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم لعلمهم بما غاب عنها فبان بذلك أن الإباحة للصلاة عليها في المسجد هي المتقدمة على ما في حديث عائشة من صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم على سهل بن البيضاء في المسجد وأن الترك للصلاة عليها في المسجد هو المتأخر عن ذلك [ق 27 / ب] على ما في حديث أبي هريرة وأن حديث أبي هريرة ناسخ لحديث عائشة (4)، وهذا الذي ذكرناه من النهي عن
--------------------------------------------
হাদিস প্রসঙ্গে তারা বলেছেন: মসজিদে জানাজার নামাজ পড়তে কোনো অসুবিধা নেই, এবং তারা ইবনে উমর থেকে বর্ণিত এই বর্ণনা দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন যে, উমর (রা.)-এর জানাজা মসজিদে পড়া হয়েছিল (১)। তবে অন্যগণ এর বিরোধিতা করেছেন এবং তারা মসজিদে জানাজার নামাজ পড়াকে অপছন্দ করেছেন। তারা আমাদের নিকট বর্ণিত... ইত্যাদি (২) দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, আবু হুরায়রা (রা.) নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি মসজিদে জানাজার নামাজ পড়বে, তার জন্য কোনো সওয়াব নেই" (৩)। তিনি বলেন: যখন এই অধ্যায়ে নবী (সা.) থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহে ভিন্নতা দেখা গেল, তখন আমরা সেগুলো পর্যালোচনা করলাম যাতে দুটি হাদিসের মধ্যে পরবর্তীটি জানতে পারি এবং সেটিকে পূর্ববর্তীটির জন্য রহিতকারী (ناسخ) হিসেবে গণ্য করতে পারি। ফলে আমরা আয়েশা (রা.)-এর হাদিসটিকে এই প্রমাণ হিসেবে পেলাম যে, তারা মসজিদে জানাজার নামাজ পড়া হতো এমন এক সময়ের পর তা বর্জন করেছিলেন এবং তাদের আমল থেকে তা উঠে গিয়েছিল। আর আয়েশা (রা.)-এর নিকট বিষয়টি অস্পষ্ট ছিল, তাই তার নিকট বিষয়টি নতুন কোনো অপছন্দনীয়তার কারণে ছিল না, বরং তার নিকট বিষয়টি এমন ছিল যে, তারা চাইলে মসজিদে জানাজা পড়তে পারতেন। একারণেই তিনি এর নির্দেশ দিয়েছিলেন, এমনকি লোকেরা তার এই নির্দেশের প্রতিবাদ করেছিলেন; আর তারা ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীগণ, কারণ তারা এমন বিষয় জানতেন যা আয়েশা (রা.)-এর জানা ছিল না। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, মসজিদে জানাজা পড়ার বৈধতা ছিল আয়েশা (রা.)-এর বর্ণিত নবী (সা.) কর্তৃক মসজিদে সুহাইল বিন বায়দা-এর জানাজা পড়ার হাদিসের সমসাময়িক পূর্ববর্তী বিষয়। আর মসজিদে জানাজা বর্জন করা হলো এর পরবর্তী বিষয় [পৃষ্ঠা ২৭ / খ], যা আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিসটি আয়েশা (রা.)-এর হাদিসের জন্য রহিতকারী (ناسخ) (৪)। আর এটিই যা আমরা বারণ করার ব্যাপারে উল্লেখ করেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুস সালাতি আলাল জানাযাতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الصلاة على الجنائز في المسجد وكراهيتها هو قول أبي حنيفة ومحمد وهو قول أبي يوسف أيضا غير أن أصحاب الإملاء رووا عنه أنه قال: إذا كان مسجد قد أفرد للصلاة على الجنائز فلا بأس أن يصلى على الجنائز فيه انتهى. وما نقله عن أبي يوسف قال في المحيط: اختلفوا هل له حكم المسجد، والصحيح أنه ليس بمسجد؛ لأنه (1) ما أعد للصلاة حقيقة؛ لأن صلاة الجنازة ليست بصلاة حقيقة، ولهذا يجوز إدخاله الميت فيه وحاجة الناس ماسة إلى أنه لم يكن مسجدا توسعة للأمر عليهم. انتهى. وقال الإمام أبو الحسين القدوري (2) في التجريد: قال أصحابنا: تكره الصلاة على الموتى في مسجد الجماعة، وقال الشافعي: يجوز. لنا حديث أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من صلى على ميت في المسجد فلا شيء له" ذكره أبو داود (3)، قلت: ورواه عن ابن أبي شيبة بلفظ: "من صلى على جنازة في المسجد فلا صلاة له" (4)، قال (5): وكان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا
--------------------------------------------
الصلاة على الجنائز في المسجد وكراهيتها هو قول أبي حنيفة ومحمد وهو قول أبي يوسف أيضا غير أن أصحاب الإملاء رووا عنه أنه قال: إذا كان مسجد قد أفرد للصلاة على الجنائز فلا بأس أن يصلى على الجنائز فيه انتهى. وما نقله عن أبي يوسف قال في المحيط: اختلفوا هل له حكم المسجد، والصحيح أنه ليس بمسجد؛ لأنه (1) ما أعد للصلاة حقيقة؛ لأن صلاة الجنازة ليست بصلاة حقيقة، ولهذا يجوز إدخاله الميت فيه وحاجة الناس ماسة إلى أنه لم يكن مسجدا توسعة للأمر عليهم. انتهى. وقال الإمام أبو الحسين القدوري (2) في التجريد: قال أصحابنا: تكره الصلاة على الموتى في مسجد الجماعة، وقال الشافعي: يجوز. لنا حديث أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من صلى على ميت في المسجد فلا شيء له" ذكره أبو الداود (3)، قلت: ورواه عن ابن أبي شيبة بلفظ: "من صلى على جنازة في المسجد فلا صلاة له" (4)، قال (5): وكان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুস সালাতি আলাল জানাযাতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ضاق بهم المكان رجعوا ولم يصلوا، وسيأتي له لفظ آخر والله أعلم، قال: ولا يقال أنه متروك الظاهر لأننا اجتمعنا على استحقاقه الثواب بسقوط الفرض؛ لأن الفرض وإن سقط فيجوز أن لا يحصل له الثواب وسقوط الفرض لا يوصف أنه له من غير فوات (1)، وروي أن النبي صلى الله عليه وسلم لما نعى النجاشي إلى أصحابه خرج فصلى عليه في المصلى (2)، ولو كان تجوز الصلاة في المسجد لم يكن للخروج معنى ولأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "جنبوا مساجدكم صبيانكم ومجانينكم " (3) وكان المعنى فيه أنه لا يؤمن تلويث المسجد منهم، وهذا موجود في الميت، ولأن الناس أفردوا للجنائز مسجدا في سائر الأعصار ولو جاز في المسجد لم يكن الإفراد (4) موضع لها معنى واحتجوا بأن عائشة لما مات سعد بن أبي وقاص قالت: ادخلوه المسجد لأصلي عليه فأنكر عليها ذلك فقالت: ما صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم على سهيل [ق28/أ] بن البيضاء إلا في المسجد" (5)،
--------------------------------------------
স্থান সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ায় তারা ফিরে যান এবং সালাত আদায় করেননি। এর অন্য একটি শব্দাবলি (لفظ) সামনে আসবে, আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ। তিনি বলেন: একে বাহ্যত পরিত্যক্ত (متروك) বলা যাবে না, কারণ আমরা একমত হয়েছি যে, ফরজ আদায় হওয়ার মাধ্যমে তিনি সওয়াবের অধিকারী হন; কেননা ফরজ যদিও আদায় হয়ে যায়, তবে সওয়াব অর্জিত না হওয়াও সম্ভব। আর ফরজ আদায় হওয়াকে ফাওত (বিচ্যুতি) ব্যতীত তার জন্য বর্ণনা করা যায় না (১)। বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর সাহাবীদের কাছে নাজ্জাশীর মৃত্যুসংবাদ দিলেন, তখন তিনি বের হলেন এবং ঈদগাহে (المصلى) তাঁর জানাজার সালাত আদায় করলেন (২)। যদি মসজিদে সালাত জায়েজ হতো, তবে বাইরে যাওয়ার কোনো অর্থ থাকত না। আর যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের মসজিদগুলো থেকে তোমাদের শিশু ও পাগলদের দূরে রাখো" (৩) এবং এর মর্মার্থ হলো যে, তাদের মাধ্যমে মসজিদ অপবিত্র হওয়ার আশঙ্কা থেকে নিরাপদ থাকা যায় না, আর এই বিষয়টি মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও বিদ্যমান। আর যেহেতু মানুষ সকল যুগে জানাজার জন্য পৃথক স্থান নির্দিষ্ট করে আসছেন, যদি মসজিদে জায়েজ হতো তবে এই পৃথকীকরণের (৪) কোনো অর্থ থাকত না। তারা এই মর্মে দলিল পেশ করেন যে, যখন সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস ইন্তেকাল করেন, তখন আয়েশা (রা.) বলেন: তাঁকে মসজিদে প্রবেশ করাও যাতে আমি তাঁর জানাজা পড়তে পারি। তখন বিষয়টি অপছন্দ করা হলে তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুহাইল [পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা ২৮/ক] ইবনে বায়দা-র জানাজা মসজিদেই পড়েছিলেন" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুস সালাতি আলাল জানাযাতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
والجواب: أن إنكارهم دل على أن الظاهر في الشرع خلاف ذلك، ولأنهم لا ينكرون ما يسوغ فيه الاجتهاد.
وقولها: "ما صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم على ابن البيضاء إلا في المسجد" دلالة عليهم لأنه لو كان يجوز ذلك لصلى على جميع الناس ولم يخصه، ولم نخصه بابن البيضاء، ولأنه يجوز أن يكون صلى عليه لعذر من مطر أو غيره ويجوز أن تكون الجنازة وضعت خارج المسجد وصلى عليه في المسجد فظنت عائشة أن الناس أنكروا عيها فعل الصلاة، وما روى عن عمر (1) أنه صلى على أبي بكر في المسجد (2)، وصلى صهيب على عمر في المسجد (3) يجوز أن يكون في مسجد الجنازة، قلت: وربما يقوي هذا أنها رضي الله عنها لم تحتج عليهم بفعلهم في عمر فإن وفاته سنة ثلاثة وعشرين ووفاة سعد خمس وخمسين، أو ست، أو سبع، قال: ولأنه لا يثبت به إجماع مع إنكار من أنكر على عائشة، قالوا: صلاة شرعية فلم يكره فعلها في المسجد كسائر الصلوات؟ قلنا: نقول بموجبه؛ لأن الصلاة لا تكره عندنا، وإنما يكره إدخال الميت، ولأن سائر الصلوات يؤمن فيها تلويث المسجد وتبطل بصلاة المستحاضة ومن به سلس البول، قالوا: المسجد أنظف من غيره من البقاع وكانت الصلوات فيه أفضل، قلنا: من أصلكم أن صلاة الاستسقاء والعيدين في غير المسجد أفضل، وإن كان المسجد أفضل البقاع انتهى. فإن قيل: قال شرف الأئمة العقيلي: إن الصلاة على الجنازة في المسجد مكروه كراهة تنزيه، قلت: الأظهر قول شرف الأئمة المكي أنها كراهة تحريم لما سمعت من قول محمد فإن أسلوبه في إطلاق المنع لذلك ومما سمعت من نسخ الإباحة، وظواهر
--------------------------------------------
والجواب: উত্তর হলো: তাঁদের অস্বীকৃতি প্রমাণ করে যে শরিয়তের প্রকাশ্য বিধান এর বিপরীত ছিল; কারণ যে বিষয়ে ইজতিহাদ (اجتهاد) করার অবকাশ থাকে, সে বিষয়ে তাঁরা সাধারণত আপত্তি করেন না।
আর তাঁর (আয়িশার) উক্তি: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনে বাইদার জানাজা কেবল মসজিদেই পড়েছিলেন" - এটি তাঁদের বিপক্ষেই একটি দলিল। কারণ যদি এটি জায়েজ হতো, তবে তিনি সকল মানুষের জানাজা মসজিদেই পড়তেন এবং বিষয়টিকে কেবল তাঁর জন্য নির্দিষ্ট করতেন না; আর আমরা বিষয়টিকে ইবনে বাইদার সাথে নির্দিষ্ট করিনি। তাছাড়া এমনও হতে পারে যে, তিনি বৃষ্টির মতো কোনো ওজরের কারণে তাঁর জানাজা মসজিদে পড়েছিলেন, অথবা জানাজা মসজিদের বাইরে রাখা হয়েছিল এবং তিনি মসজিদের ভেতরে দাঁড়িয়ে জানাজা পড়েছিলেন। এতে আয়েশা (রা.) ভেবেছিলেন যে, মানুষ জানাজা পড়ার কাজটির ওপর আপত্তি জানাচ্ছে। আর ওমর (রা.) (১) সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আবু বকর (রা.)-এর জানাজা মসজিদে পড়েছিলেন (২), এবং সুহাইব (রা.) ওমর (রা.)-এর জানাজা মসজিদে পড়েছিলেন (৩) - হতে পারে যে এটি জানাজা পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো মসজিদে হয়েছিল। আমি বলি: একে সম্ভবত এই বিষয়টি শক্তিশালী করে যে, তিনি (আয়িশা রা.) ওমর (রা.)-এর ক্ষেত্রে তাঁদের কৃত আমল দিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে দলিল পেশ করেননি। কেননা ওমর (রা.)-এর মৃত্যু ছিল ২৩ হিজরিতে এবং সা'দ (রা.)-এর মৃত্যু ছিল ৫৫, ৫৬ বা ৫৭ হিজরিতে। তিনি বলেন: যারা আয়েশা (রা.)-এর ওপর আপত্তি তুলেছেন, তাঁদের আপত্তির কারণে এর দ্বারা ইজমা (إجماع) প্রমাণিত হয় না। তাঁরা বলেন: এটি একটি শরয়ি নামাজ, তবে অন্যান্য নামাজের মতো মসজিদে এটি আদায় করা অপছন্দনীয় (মাকরুহ) হবে কেন? আমরা বলি: আমরা এর আবশ্যকতা মেনে নিচ্ছি; কারণ আমাদের নিকট নামাজ পড়া অপছন্দনীয় নয়, বরং কেবল মৃতদেহ প্রবেশ করানোই অপছন্দনীয়। এছাড়া অন্যান্য নামাজের ক্ষেত্রে মসজিদ অপবিত্র হওয়ার ভয় থাকে না, তবে ইস্তিহাজাগ্রস্ত নারী বা বহুমূত্র রোগীর নামাজের দ্বারা তা বাতিল হয়ে যায়। তাঁরা বলেন: মসজিদ অন্যান্য স্থান থেকে অধিক পরিচ্ছন্ন এবং সেখানে নামাজ পড়া অধিক উত্তম। আমরা বলি: আপনাদের নীতি অনুযায়ীই তো ইস্তিসকা এবং দুই ঈদের নামাজ মসজিদের বাইরে পড়া অধিক উত্তম, যদিও মসজিদ সর্বোত্তম স্থান। সমাপ্ত। যদি বলা হয়: শারাফুল আইম্মাহ আল-উকায়লি বলেছেন: মসজিদে জানাজার নামাজ পড়া মাকরুহে তানজিহি। আমি বলি: শারাফুল আইম্মাহ আল-মাক্কির উক্তিটিই অধিক স্পষ্ট যে, এটি মাকরুহে তাহরিমি। কারণ আপনি মুহাম্মদের (ইমাম মুহাম্মদ) উক্তি থেকে যা শুনেছেন, তাতে তাঁর বর্ণনাভঙ্গি এই নিষেধাজ্ঞাকে নিরঙ্কুশ রাখার পক্ষেই যায় এবং আপনি বৈধতা রহিত (نسخ) হওয়ার বিষয়ে যা শুনেছেন, তার কারণেও এটি স্পষ্ট হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুস সালাতি আলাল জানাযাতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الاستدلال قد روى الطيالسي حدثنا ابن أبي ذئب عن صالح مولى التوأمة قال: أدركت رجالا ممن أدرك النبي صلى الله عليه وسلم وأبا بكر إذا جاءوا فلم يجدوا إلا أن يصلون في المسجد رجعوا فلم يصلوا (1)، والله أعلم.
--------------------------------------------
দলিল উপস্থাপন: আত-তায়ালিসি বর্ণনা করেছেন (روى), ইবনে আবি যিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) সালেহ মাওলা আত-তাওয়ামাহ থেকে, তিনি বলেছেন: আমি এমন কিছু ব্যক্তিকে পেয়েছি যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন; তারা যখন আসতেন এবং মসজিদে (জামাতে) সালাত আদায় করার সুযোগ পেতেন না, তখন তারা ফিরে যেতেন এবং সালাত আদায় করতেন না (১), আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
--------------------------------------------