(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: -)
نيل المرام من تفسير آيات الأحكام   (صديق حسن خان)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: نيل المرام من تفسير آيات الأحكام

المؤلف: أبو الطيب محمد صديق خان بن حسن بن علي ابن لطف الله الحسيني البخاري القِنَّوجي (ت 1307هـ)

تحقيق: محمد حسن إسماعيل - أحمد فريد المزيدي

دار النشر: دار الكتب العلمية

تاريخ النشر: 30/01/2003

عدد الصفحات: 471

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নায়লুল মারাম মিন তাফসিরি আয়াতিল আহকাম   (সিদ্দিক হাসান খান)

বিভাগ: কুরআনুল কারিমের বিজ্ঞানসমূহ এবং তাফসিরের মূলনীতি


গ্রন্থ: নায়লুল মারাম মিন তাফসিরি আয়াতিল আহকাম

লেখক: আবু ত্যৈয়ব মুহাম্মদ সিদ্দিক খান বিন হাসান বিন আলী ইবনে লুতফুল্লাহ আল-হুসাইনী আল-বুখারী আল-কান্নওজি (মৃত্যু ১৩০৭ হিজরি)

সম্পাদনা: মুহাম্মদ হাসান ইসমাইল - আহমদ ফরিদ আল-মাজিদি

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ

প্রকাশকাল: ৩০/০১/২০০৩

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌ترجمة المصنف

بسم الله الرّحمن الرّحيم هو أبو الطيب صديق بن حسن بن علي الحسيني القنوجي البخاري كان الله له في الدنيا والآخرة وحباه فيهما بنعمه الذاخرة الوافرة الفاخرة، تولد في سنة 1248 ثمان وأربعين ومائتين وألف القدسية على صاحبها الصلاة والتحية، ونشأ بموطنه بلدة قنوج وما إليها من الأقطار الهندية، فهو مولده ومسكنه ومرباه ومحتده وداره ومثواه، يرجع نسبه إلى حضرة سيد السادة وقدوة القادة زين العابدين علي بن حسين السبط بن علي بن أبي طالب كرّم الله وجهه. تلمذ العلوم الدرسية على الوجه المرسوم على شيوخ هذا العهد، منهم الشيخ الفاضل المفتي محمد صدر الدين خان الدهلوي. من تلامذة الشيخ الكامل عبد العزيز، وأخيه الشيخ العامل رفيع الدين ابني الشيخ الأجل مسند الوقت أحمد شاه ولي الله المحدث الدهلوي رحمهم الله تعالى. واستفاد العلوم الملية من التفاسير والأحاديث وما يليهما من مشيخة اليمن الميمون والهند منهم الشيخ القاضي حسن بن محسن السبعي الأنصاري تلميذ الشيخ الماهر محمد بن ناصر الحازمي تلميذ القاضي الإمام العلامة المجتهد المطلق الرباني محمد بن علي بن محمد اليمني الشوكاني والشيخ المعمر الصالح عبد الحق بن فضل الله الهندي، والشيخ التقي محمد يعقوب المهاجر إلى مكة المكرمة أخو الشيخ محمد إسحق حفيد الشيخ عبد العزيز المحدث الدهلوي رحمهم الله تعالى. وكلهم أجازوا له مشافهة وكتابة إجازة مأثورة عامة تامة، وممن استجاز منه العالم الكامل والمحدث الفاضل الشيخ يحيى بن محمد بن أحمد بن حسن الحازمي قاضي عدن حالا أجاز له حسب اقتراحه في ذي الحجة سنة 1295 الهجرية، والشيخ العلامة زينة أهل الاستقامة السيد نعمان خير الدين الوسي زاده مفتي بغداد حالا أجاز له في هذا العام الحاضر وهو سنة 1296 الهجرية، ثم طالع بفرط شوقه وصحيح ذوقه كتبا كثيرة ودواوين شتى في العلوم المتعددة والفنون المتنوعة. ومر عليها
লেখকের জীবনী

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। তিনি হলেন আবু তৈয়ব সিদ্দিক বিন হাসান বিন আলী আল-হুসাইনি আল-কান্নুজি আল-বুখারি। আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর সহায় হোন এবং উভয় জগতে তাঁকে তাঁর অফুরন্ত, পর্যাপ্ত ও শ্রেষ্ঠ নেয়ামতসমূহ দ্বারা ধন্য করুন। তিনি ১২৪৮ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন—সেই হিজরতের অধিকারীর (নবী মুহাম্মদ ﷺ) প্রতি রহমত ও অভিবাদন বর্ষিত হোক। তিনি তাঁর জন্মভূমি ভারতের কান্নুজ শহর ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলে লালিত-পালিত হন। এটিই তাঁর জন্মস্থান, আবাসস্থল, বেড়ে ওঠার জায়গা, বংশীয় উৎস, আদি নিবাস এবং বিশ্রামস্থল। তাঁর বংশপরম্পরা সাইয়িদদের নেতা এবং নেতৃবৃন্দের আদর্শ জয়নুল আবেদিন আলী বিন হুসাইন আস-সিবত বিন আলী বিন আবু তালিব (আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে সম্মানিত করুন)-এর সাথে মিলিত হয়েছে। তিনি তৎকালীন যুগের প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই সময়ের প্রখ্যাত শায়খদের কাছে পাঠ্য বিষয়সমূহে জ্ঞানার্জন করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিদগ্ধ শায়খ মুফতি মুহাম্মদ সদরুদ্দিন খান দেহলভি, যিনি কামিল শায়খ আব্দুল আজিজ ও তাঁর কর্মনিষ্ঠ ভাই শায়খ রফিউদ্দিনের ছাত্র ছিলেন; তাঁরা উভয়েই সমসাময়িক মহান মুসনিদ আহমদ শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভি (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)-এর পুত্র। তিনি বরকতময় ইয়ামেন ও ভারতের প্রাজ্ঞ মাশায়েখদের নিকট থেকে তাফসির, হাদিস ও সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় ইলমসমূহ অর্জন করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ কাজি হাসান বিন মুহসিন আস-সুবয়ি আল-আনসারি; যিনি দক্ষ শায়খ মুহাম্মদ বিন নাসির আল-হাজিমির ছাত্র, আর তিনি হলেন প্রখ্যাত ইমাম, আল্লামা, পূর্ণাঙ্গ মুজতাহিদ ও রব্বানি কাজি মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-ইয়ামানি আশ-শাওকানির ছাত্র। আরও রয়েছেন দীর্ঘজীবী নেককার শায়খ আব্দুল হক বিন ফজলুল্লাহ আল-হিন্দি এবং মুত্তাকি শায়খ মুহাম্মদ ইয়াকুব—যিনি মক্কা মুকাররমায় হিজরত করেছিলেন, তিনি শায়খ মুহাম্মদ ইসহাকের ভাই এবং শায়খ আব্দুল আজিজ মুহাদ্দিস দেহলভি (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)-এর নাতি। তাঁরা সকলেই তাঁকে মৌখিকভাবে এবং লিখিতভাবে পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ ইজাজত প্রদান করেছেন। যাঁরা তাঁর নিকট থেকে ইজাজত প্রার্থনা করেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিদগ্ধ আলিম ও মুহাদ্দিস শায়খ ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাসান আল-হাজিমি, যিনি বর্তমানে এডেনের কাজি; লেখক তাঁর অনুরোধে ১২৯৫ হিজরির জিলহজ মাসে তাঁকে ইজাজত প্রদান করেন। আরও ইজাজত নিয়েছেন শায়খ আল্লামা, অবিচল নিষ্ঠাবানদের ভূষণ সাইয়িদ নুমান খায়রুদ্দিন আলুসি জাদে, যিনি বর্তমানে বাগদাদের মুফতি; লেখক তাঁকে বর্তমান ১২৯৬ হিজরি সনে ইজাজত প্রদান করেছেন। অতঃপর তিনি প্রবল অনুরাগ ও বিশুদ্ধ রুচির সাথে বিভিন্ন শাস্ত্র ও বিবিধ বিষয়ের অসংখ্য কিতাব ও সংকলন অধ্যয়ন করেন এবং সেগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করেন।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৪)
مرورا بالغا على اختلاف أنحائها وأتى عليها بصميم همته وعظيم نهمته بأكمل ما يكون حتى حصل منها على فوائد كثيرة وعوائد أثيرة أغنته عن الاستفادة عن أبناء الزمان وأقنعته عن مذاكرة فضلاء البلدان، وجمع بعونه تعالى وحسن توفيقه ولطف تيسيره من نفائس العلوم والكتب ومواد التفسير والحديث وأسبابها ما يعسر عده ويطول حده.

وأوعى من ضروب الفضائل العلمية والتحقيقات النفسية ما قصرت عنه أيدي أبناء الزمان، ويعجز دون بيانه ترجمان اليراع عن إبراز هذا الشأن، ولله الحمد على ما يكون وعلى ما كان. ثم ألقى عصا التسيار والترحال بمحروسة بهوبال، من بلاد مالوة الدكن فنزل بها نزول المطر على الدمن وأقام بها وتوطن وأخذ الدار والسكن، وتمول وتولد واستوزر وناب وألف وصنف وعاد إلى العمران من بعد خراب. وكان فضل الله عليه عظيما جزيلا والحمد لله الذي فضله على كثير ممن خلق تفضيلا، ثم اختص بعونه تعالى وصونه بتدوين علوم الكتاب العزيز وأحكام السنّة المطهرة البيضاء وتلخيصها وتخليص أحكامها من شوب الآراء ومفاسد الأهواء. وهذا إن شاء الله تعالى خاص به في هذا العهد الأخير. والله يختص برحمته من يشاء كيف وعلماء الأقطار الهندية وإن بالغ بعضهم في الإرشاد إلى اتباع السنّة وقرره في مؤلفاته وحرره في مصنفاته على وجه ثبت به على رقاب أهل الحق والمنّة، وشمر بعضهم عن ساق الجد والاجتهاد في الدعوة إلى اعتقاد التوحيد ورد الشرك والتقليد باللسان والبيان، بل بالسيف والسنان. لكن لم يدون أحد منهم أحكام الكتاب العزيز وعلوم السنّة المطهرة من العبادة والمعاملة وغيرها خالصة عن آراء الرجال نقية عن أقوال العلماء على هذه الحالة المشاهدة في كتبه المختصرة والمطولة كالروضة الندية ومسك الختام شرح بلوغ المرام، وعون الباري، وفتح البيان، ورسالة القضاء والإفتاء والإمامة والغزو والفتن والنار وغير ذلك مما طبع واشتهر وشاع وسارت به الركبان إلى أقطار العالم من العرب والعجم كالحجاز واليمن، وما إليها ومصر والعراق والقدس وطرابلس وتونس والجزائر ومدن الهند والسند وبلغار ومليبار وبلاد الفرس. وهذا من فضل الله تعالى على عباده المؤمنين وكتب إليه علماء الآفاق ومحرروها ومحدثو الديار ومفسروها كتبا كثيرة أثنوا فيها على تلك التواليف ودعوا له بإخلاص الفؤاد لحسن الدنيا والأخرى تقبل الله فيه هذه الدعوات وختم بالحسنى وأحسن إليه بتيسير المنجيات، وهذه الخطوط والرقائم قد ألحقت في خواتيم مؤلفاته فانظر إليها في تضاعيف محرراته يتضح لك القول الحق والكلام الصدق إن شاء
তিনি বিভিন্ন প্রান্তজুড়ে পূর্ণাঙ্গভাবে পরিভ্রমণ করেছেন এবং স্বীয় ঐকান্তিক হিম্মত ও প্রবল জ্ঞানপিপাসার মাধ্যমে পূর্ণতমরূপে সেগুলোতে বিচরণ করেছেন; এমনকি সেখান থেকে তিনি প্রভূত উপকার ও দুর্লভ সম্পদ লাভ করেছেন, যা তাঁকে সমসাময়িকদের থেকে সাহায্য গ্রহণ করার অমুখাপেক্ষী করেছে এবং বিভিন্ন দেশের গুণীজনদের সাথে জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনার প্রয়োজনীয়তা মিটিয়ে তাঁকে সন্তুষ্ট করেছে। আর তিনি আল্লাহ তাআলার সাহায্য, উত্তম তাওফীক এবং দয়ালু সহজীকরণে দুষ্প্রাপ্য ইলম ও কিতাব এবং তাফসীর ও হাদীসের উপাদান ও আনুষঙ্গিক বিষয়াদি এত বেশি পরিমাণে সংগ্রহ করেছেন, যা গণনা করা কঠিন এবং যার সীমা সুদীর্ঘ।

তিনি বিভিন্ন প্রকার ইলমী ফযীলত ও অনন্য তাহকীকাত (গবেষণা) এমনভাবে ধারণ করেছেন, যা অর্জনে সমসাময়িকদের হাত ব্যর্থ হয়েছে; আর লেখনীর বর্ণনাভঙ্গি এই শান ও মর্যাদা প্রকাশ করতে অক্ষম। যা হয়েছে এবং যা হচ্ছে—সবকিছুর জন্য আল্লাহরই প্রশংসা। অতঃপর তিনি দাক্ষিণাত্যের মালওয়া অঞ্চলের সংরক্ষিত ভোপাল নগরীতে তাঁর সফরের বিরতি ঘটান। সেখানে তিনি শুষ্ক ভূমিতে বৃষ্টির ন্যায় অবতরণ করেন এবং সেখানে অবস্থান ও স্থায়ী বসবাস শুরু করেন এবং ঘরবাড়ি ও আবাস গ্রহণ করেন। তিনি সম্পদশালী হন, তাঁর সন্তানাদি হয়, তিনি মন্ত্রিত্ব ও প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পালন করেন এবং কিতাব ও গ্রন্থ রচনা করেন; আর ধ্বংসাবশেষের পর তিনি একে আবাদ ও জনপদে পরিণত করেন। তাঁর ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ ছিল অতি মহান ও অসীম। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁকে তাঁর সৃষ্টির অনেকের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। অতঃপর তিনি আল্লাহর সাহায্য ও হেফাযতে মহাগ্রন্থের (কুরআন) ইলম এবং পবিত্র উজ্জ্বল সুন্নাহর বিধানসমূহ সঙ্কলন করার জন্য এবং ব্যক্তিগত মতামতের মিশ্রণ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা থেকে সেগুলোর বিধানকে সারসংক্ষেপ ও মুক্ত করার কাজে বিশেষভাবে আত্মনিয়োগ করেন। আর ইনশাআল্লাহ তাআলা, এই শেষ যুগে এটি তাঁরই বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমতের জন্য খাস করে নেন। এটি কীভাবে সম্ভব নয়? যেখানে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ওলামায়ে কেরাম—যদিও তাঁদের কেউ কেউ সুন্নাহ অনুসরণের নির্দেশনায় চরম প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং তা স্বীয় গ্রন্থাবলীতে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত ও লিপিবদ্ধ করেছেন এমনভাবে যা সত্যনিষ্ঠ ও অনুগ্রহভাজন ব্যক্তিদের স্কন্ধে সাব্যস্ত হয়েছে; আবার তাঁদের কেউ কেউ তাওহীদের আকিদার দাওয়াত দিতে এবং শিরক ও তাকলীদ নিরসনে জবান ও বয়ানের মাধ্যমে, এমনকি তলোয়ার ও বল্লমের মাধ্যমেও কঠোর পরিশ্রম ও ইজতিহাদের কোমর বেঁধেছিলেন। কিন্তু তাঁদের কেউই মহাগ্রন্থের বিধানাবলী এবং ইবাদত, মুয়ামালাত ও অন্যান্য বিষয়ে পবিত্র সুন্নাহর ইলমসমূহকে মানুষের ব্যক্তিগত মতামত থেকে মুক্ত এবং আলেমদের উক্তি থেকে পরিশুদ্ধ অবস্থায় এমনভাবে সঙ্কলন করেননি, যা তাঁর সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত গ্রন্থাবলীতে পরিলক্ষিত হয়; যেমন—'আর-রওযাতুন নাদিয়্যাহ', 'মিসকুল খিতাম শারহু বুলুগিল মারাম', 'আউনুল বারী', 'ফাতহুল বায়ান' এবং বিচার ব্যবস্থা, ফতোয়া প্রদান, ইমামত, যুদ্ধবিগ্রহ, ফেতনা ও জাহান্নাম বিষয়ক রিসালাসমূহ এবং অন্যান্য কিতাব যা মুদ্রিত ও প্রসিদ্ধ হয়েছে এবং ছড়িয়ে পড়েছে। আর কাফেলাগুলো আরব ও অনারব বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যেমন—হিজায, ইয়েমেন ও তৎসংলগ্ন এলাকা, মিসর, ইরাক, কুদস (জেরুজালেম), ত্রিপোলি, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া এবং হিন্দুস্তান, সিন্ধু, বুলগার, মালাবার ও পারস্যের শহরগুলোতে তাঁর এই কিতাবসমূহ বহন করে নিয়ে গেছে। আর এটি মুমিন বান্দাদের ওপর আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহ। দিগন্তবিস্তৃত অঞ্চলের আলেম ও লেখকগণ এবং বিভিন্ন জনপদের মুহাদ্দিস ও মুফাসসিরগণ তাঁর নিকট বহু পত্র পাঠিয়েছেন, যাতে তাঁরা সেই রচনাগুলোর প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের জন্য অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে দোয়া করেছেন। আল্লাহ তাঁর ব্যাপারে এই দোয়াগুলো কবুল করুন, তাঁর শেষ পরিণতি কল্যাণময় করুন এবং নাজাতদায়ক বিষয়সমূহ সহজ করার মাধ্যমে তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করুন। এই পত্র ও লিপিগুলো তাঁর রচনার পরিশিষ্টে যুক্ত করা হয়েছে। সুতরাং তাঁর লিখিত বিষয়গুলোর ভাঁজে ভাঁজে সেগুলো লক্ষ্য করুন, তাহলে আপনার কাছে ইনশাআল্লাহ সত্য কথা ও সঠিক বক্তব্য স্পষ্ট হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৫)
الله تعالى. ثم خوله سبحانه من المال الكثير والحكم الكبير والآل السعداء والأخلاف الصلحاء والنسب الحميد والحسب المزيد ما يقصر عن كشفه لسان اليراع ولو كشف عنه الغطاء ما ازداد الواقف عليه إلا يقينا وإن يأباه بعض الطباع، وهو الذي يقول لا خلافه مقتديا بأسلافه بفم الحال ولسان المقال: اعْمَلُوا آلَ داوُدَ شُكْراً وَقَلِيلٌ مِنْ عِبادِيَ الشَّكُورُ (13) ، وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَتَ اللَّهِ لا تُحْصُوها إِنَّ الْإِنْسانَ لَظَلُومٌ كَفَّارٌ (34) ، وهو قد طعن الآن في عشر الخمسين من العمر المستعار مع ما هو مبتلي به من سياسة الرياسة وقلة الشغل بالعلم والدراسة، وفقد الأحبة والأنصار الأعداء الجاهلين بالقضايا والأقدار والمرجو من حضرة رب العالمين أن يجعله من قال فيهم وآتيناه في الدنيا حسنة وإنه في الآخرة لمن الصالحين والحمد لله الذي جعله محسودا ولم يجعله حاسدا وخلقه صابرا شكورا ولم يخلقه فظا غليظ القلب «لله در الحسد ما أعدله بدأ بصاحبه فقتله» . وهذه أسماء كتبه المؤلفة على ترتيب حروف المعجم المطبوعة في مطابع بهوبال المحمية ومصر والقسطنطينية والشام وغيرها من البلاد العظام، ويزيد الله في الخلق ما يشاء وهو المتفضل ذو الأنعام. الألف: أبجد العلوم، إتحاف النبلاء المتقين بإحياء مآثر الفقهاء المحدثين، الاحتواء على مسئلة الاستواء، الإدراك لتخريج أحاديث رد الإشراك، الإذاعة لما كان وما يكون بين يدي الساعة، أربعون حديثا في فضائل الحج والعمرة، إفادة الشيوخ بمقدار الناسخ والمنسوخ، إكسير في أصول التفسير، إكليل الكرامة في تبيان مقاصد الإمامة، الانتقاد الرجيح في شرح الاعتقاد الصحيح. الباء الموحدة: بدور الأهلة من ربط المسائل بالأدلة، بغية الرائد في شرح العقائد، البلغة إلى أصول اللغة، بلوغ السول من أقضية الرسول. التاء الفوقانية: تميمة الصبي في ترجمة الأربعين من أحاديث النبي صلى الله عليه وآله وسلم. الثاء المثلثة: ثمار التنكيت في شرح أبيات التثبيت. الجيم: الجنة في الأسوة الحسنة بالسنة. الحاء المهملة: حجج الكرامة في

آثار القيامة، الحرز المكنون من لفظ المعصوم المأمون، حصول المأمول من علم الأصول، الحطة بذكر الصحاح الستة، حل الأسئلة المشكلة. الخاء المعجمة: خبية الأكوان في افتراق الأمم على المذاهب والأديان. الدال المهملة: دليل الطالب إلى أرجح المطالب. الذال المعجمة: ذخر المحتي من آداب المفتي. الراء المهملة: رحلة الصديق إلى البيت العتيق، الروضة الندية شرح الدرر البهية، رياض الجنة في تراجم أهل السنة. السين المهملة: السحاب المركوم الممطر بأنواع الفنون وأصناف العلوم- وهو القسم الثاني من هذا الكتاب، سلسلة العسجد في ذكر مشائخ السند. الشين المعجمة: شمع انجمن در
মহান আল্লাহ। অতঃপর তিনি, মহাপবিত্র সত্তা, তাকে দান করেছেন প্রচুর ধন-সম্পদ, সুমহান রাজত্ব, সৌভাগ্যবান পরিবার, সৎ উত্তরসূরি, প্রশংসিত বংশমর্যাদা এবং ক্রমবর্ধমান আভিজাত্য, যা বর্ণনা করতে কলমের জিহ্বা অক্ষম। যদি এ থেকে পর্দা উন্মোচন করা হতো, তবে প্রত্যক্ষকারীর কেবল নিশ্চিত বিশ্বাসই বৃদ্ধি পেত, যদিও কোনো কোনো স্বভাব তা অস্বীকার করে। আর তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের অনুসরণ করে উপস্থিত অবস্থা ও কথার ভাষায় কোনো ভিন্নতা ছাড়াই বলেন: "হে দাউদ পরিবার! তোমরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ আমল করো। আর আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পই কৃতজ্ঞ" (১৩), এবং "যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামত গণনা করো, তবে তার সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না। নিশ্চয়ই মানুষ অতিমাত্রায় জালিম ও অকৃতজ্ঞ" (৩৪)। তিনি বর্তমানে এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের পঞ্চাশের দশকে পদার্পণ করেছেন, সেই সাথে তিনি প্রশাসনিক রাজনীতিতে ব্যতিব্যস্ত থাকা এবং ইলম ও জ্ঞানচর্চায় কম সময় দিতে পারা, এবং প্রিয়জন ও সাহায্যকারীদের হারানো, আর ফয়সালা ও তাকদির সম্পর্কে অজ্ঞ শত্রুদের মোকাবিলা করার পরীক্ষায় লিপ্ত রয়েছেন। রাব্বুল আলামীনের দরবারে আশা এই যে, তিনি তাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করবেন যাদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "আর আমি তাকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করেছি এবং পরকালেও সে অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাকে ঈর্ষার পাত্র করেছেন কিন্তু কারো প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ করেননি; তাকে ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং রূঢ় ও কঠোর হৃদয়ের অধিকারী হিসেবে সৃষ্টি করেননি। "হিংসা কতই না ইনসাফপূর্ণ! সে নিজের মালিকের থেকেই শুরু করে এবং তাকেই ধ্বংস করে।" আর এগুলো হলো বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির নাম, যা সুরক্ষিত ভোপাল, মিসর, কনস্টান্টিনোপল, শাম এবং অন্যান্য বড় বড় শহরের ছাপাখানা থেকে মুদ্রিত হয়েছে। আল্লাহ সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন এবং তিনি অনুগ্রহকারী ও নেয়ামতদাতা। আলিফ: আবজাদুল উলুম; ফকিহ ও মুহাদ্দিসগণের নিদর্শনাবলি পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে মুত্তাকী অভিজাতদের উপহার; আরশের উপর আল্লাহর উঠার মাসআলা সংক্রান্ত বিশদ আলোচনা; শিরক খণ্ডনমূলক হাদিসসমূহের উৎস নির্ণয়ের জ্ঞান; কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে যা ঘটেছে এবং যা ঘটবে তার প্রচার; হজ ও উমরার ফজিলত সম্পর্কে চল্লিশটি হাদিস; নাসিখ ও মানসুখের পরিমাণ সম্পর্কে শায়খদের উপদেশ; তাফসিরের মূলনীতি বিষয়ক পরশপাথর; ইমামতের উদ্দেশ্য বর্ণনায় সম্মানের মুকুট; সঠিক আকিদার ব্যাখ্যায় অগ্রগণ্য সমালোচনা। বা: দলিলের সাথে মাসআলাসমূহের সংযোগে উদিত পূর্ণিমা; আকিদা ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে অন্বেষণকারীর লক্ষ্য; ভাষাতত্ত্বের মূলনীতি পর্যন্ত পৌঁছার পাথেয়; রাসূলের বিচার ফয়সালা হতে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো। তা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের চল্লিশটি হাদিসের অনুবাদে শিশুদের রক্ষা কবজ। সা: সাব্যস্তকারী কবিতাসমূহের ব্যাখ্যায় সূক্ষ্ম তত্ত্বের ফল। জিম: সুন্নাহর উত্তম আদর্শ অনুসরণে জান্নাত। হা:

কিয়ামতের আলামত বর্ণনায় সম্মানের দলিলসমূহ; নিষ্পাপ ও নিরাপদ (রাসূল) এর বাণী হতে সংরক্ষিত দুর্গ; উসূলে ইলম হতে কাঙ্ক্ষিত অর্জন; সিহাহ সিত্তা বর্ণনায় গুনাহ মাফ; জটিল প্রশ্নাবলির সমাধান। খা: মাযহাব ও ধর্মের ভিত্তিতে উম্মাহর বিভক্তি বর্ণনায় সৃষ্টিজগতের রহস্য। দাল: শ্রেষ্ঠ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষার্থীর পথপ্রদর্শক। যাল: মুফতির আদব বর্ণনায় সংগ্রাহকের সম্পদ। রা: প্রাচীন গৃহের (কাবা) অভিমুখে বন্ধুর সফরনামা; আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'শিশিরসিক্ত বাগান'; আহলে সুন্নতের জীবনী বর্ণনায় জান্নাতের বাগান। সিন: বিবিধ কলা ও বিভিন্ন জ্ঞানবর্ষী ঘন মেঘমালা—এটি এই গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ড; সনদের শায়খদের স্মরণে স্বর্ণের শিকল। শিন: সভার প্রদীপ...
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬)
ذكر شعراء زمن. الصاد المهملة: الصافية في شرح الشافية في علم الصرف. الضاد المعجمة: ضالة الناشد الغريب من بشرى الكئيب في شرح المنظوم المسمى بتأنيس الغريب. الظاء المعجمة: ظفر اللاضي بما يجب في القضاء على القاضي. العين المهملة: العبرة مما جاء في الغزو والشهادة والهجرة، العلم الخفاق من علم الاشتقاق، عون الباري بحل أدلة البخاري في أربع مجلدات قيد الطبع بتحقيقنا. الغين المعجمة:

غصن البان المورق بمحسنات البيان، غنية القاري في ترجمة ثلاثيات البخاري. الفاء:

فتح البيان في مقاصد القرآن- أربع مجلدات، فتح المغيث بفقه الحديث، الفرع النامي من الأصل السامي. القاف: قصد السبيل إلى ذم الكلام والتأويل، قضاء الأرب من مسئلة النسب، قطف الثمر من عقائد أهل الأثر. الكاف: كشف الالتباس عما وسوس به الخناس في رد الشيعة بالهندية. اللام: لف القماط على تصحيح بعض ما استعملته العامة من الأغلاط، لقطة العجلان مما تمس إلى معرفته حاجة الإنسان. الميم: مثير ساكن الغرام إلى روضات دار السلام، مراتع الغزلان من تذكار أدباء الزمان، مسك الختام من شرح بلوغ المرام- مجلدان ضخمان، منهج الوصول إلى اصطلاح أحاديث الرسول، الموعظة الحسنة بما يخطب به في شهور السنة. النون: نشوة السكران من صهباء تذكار الغزلان، نيل المرام من تفسير آيات الأحكام- وهو كتابنا هذا. الواو:

الوشي المرقوم في بيان أحوال العلوم المنثور منها والمنظوم وهو القسم الأول من هذا الكتاب، الهاء: هداية السائل إلى أدلة المسائل. الياء: يقظة أولي الاعتبار مما ورد في ذكر النار وأصحاب النار، وهذا آخر ذكر الكتب المؤلفة إلى هذا التاريخ ثم اتفق أنه أتحف إلى حضرة السلطان المعظم عبد الحميد خان ملك الدولة العثمانية تفسيره فتح البيان في مقاصد القرآن وكتب إليه كتابا في ذلك فجاء إليه من بابه العالي المثال الغالي جوابا عليه مع نيشان الدرجة الثانية المسمى بمجيدية ويقال له أرنجي بالتركية. وورد مكتوب من السيد خير الدين باشا الصدر الأعظم مع كتاب أقوم المسالك في أحوال الممالك هدية منه إليه وهذه نسختهما.

افتخار الأعالي والأعاظم مستجمع جميع المعالي والمفاخم صديق حسن خان دام علوه زوج سيدة المخدرات إكليلة المحصنات شاهجان بيكم دامت عصمتها التي هي من نوابة هند رئيسة خطة بهوبال اتصفت ذاته العالية الصفات بالأوصاف التي تمدح وتقبل لنا في حق كرامته اعتبار وتوجه سلطاني وقد سلمنا جنابه للدلالة على ذلك من جانبنا السني
সমকালীন কবিদের বিবরণ। সদ (নুক্তাবিহীন): শব্দতত্ত্ব বিজ্ঞানে ‘আশ-শাফিয়া’-র ব্যাখ্যায় ‘আস-সাফিয়া’। দ্বদ (নুক্তাযুক্ত): ‘তানিসুল গারিব’ নামক কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যায় ‘দ্বাল্লাতুন নাশিদুল গারিব মিন বুশরাল কায়িব’। জো (নুক্তাযুক্ত): বিচারকের ওপর বিচারকার্য পরিচালনার আবশ্যকতা বিষয়ে ‘জাফারুল লাদি’। আইন (নুক্তাবিহীন): যুদ্ধ, শাহাদাত ও হিজরত বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তা থেকে শিক্ষা বা ‘আল-ইবরা’; শব্দমূলতত্ত্ব বিদ্যা থেকে ‘আল-আলামুল খাফফাক’; চার খণ্ডে বুখারি শরিফের দলিলসমূহের সমাধানে ‘আউনুল বারি’, যা আমাদের সম্পাদনায় মুদ্রণাধীন। গাইন (নুক্তাযুক্ত):

অলঙ্কারশাস্ত্রের সৌন্দর্যমণ্ডিত ‘গুসনুল বান আল-মুউরিক’; বুখারি শরিফের সুলাসিয়াত বা তিন রাবি বিশিষ্ট হাদিসসমূহের অনুবাদে ‘গুনিয়াতুল কারি’। ফা:

কুরআনের উদ্দেশ্যসমূহ বর্ণনায় চার খণ্ডে ‘ফাতহুল বায়ান’; হাদিসের ফিকহ বা তত্ত্ব বিষয়ে ‘ফাতহুল মুগিস’; সুউচ্চ মূল থেকে প্রস্ফুটিত শাখা ‘আল-ফারউুন নামি’। কফ: ইলমুল কালাম ও অপব্যাখ্যার নিন্দায় ‘কাসদুস সাবিল’; বংশ পরিচয় সংক্রান্ত মাসআলায় ‘কাজাউল আরাব’; আহলে আসার বা সালাফদের আকিদা বিষয়ে ‘কাতফুস সামার’। কাফ: শিয়াদের খণ্ডনে হিন্দি ভাষায় ‘কাশফুল ইলতিবাস’। লাম: সাধারণ মানুষের প্রচলিত ভুলসমূহ সংশোধনে ‘লাফফুল কুমাত’; মানুষের প্রয়োজনীয় জ্ঞানসমূহ নিয়ে ‘লুকতাতুল আজলান’। মীম: জান্নাতের বাগিচাসমূহের প্রতি অনুরাগের উদ্দীপক ‘মুসিরু সাকিনিল গ্রাম’; সমকালীন সাহিত্যিকদের স্মৃতিচারণে ‘মারতিউল গিজলান’; বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যায় দুই বিশাল খণ্ডে ‘মিসকুল খিতাম’; রাসূলের (সা.) হাদিসের পরিভাষা সংক্রান্ত ‘মানহাজুল উসুল’; বছরের বিভিন্ন মাসে প্রদত্ত খুতবাসমূহ নিয়ে ‘আল-মাওয়িজাতুল হাসানাহ’। নুন: সাহিত্যিক স্মৃতিচারণের সুধায় মত্ততা বিষয়ে ‘নাশওয়াতুস সাকরান’; আহকামের আয়াতসমূহের তাফসির ‘নাইলুল মারাম’—যা আমাদের এই বর্তমান কিতাব। ওয়াও:

গদ্য ও পদ্যে রচিত বিভিন্ন বিদ্যার অবস্থা বর্ণনায় ‘আল-ওয়াশইউল মারকুম’, যা এই কিতাবের প্রথম অংশ। হা: মাসআলাসমূহের দলীলের দিকে জিজ্ঞাসুর পথনির্দেশ ‘হিদায়াতুস সায়িল’। ইয়া: জাহান্নাম ও জাহান্নামীদের বর্ণনায় যা বর্ণিত হয়েছে সে বিষয়ে সচেতনতা বা ‘ইয়াকজাতু উলিল ইতিবার’। এই তারিখ পর্যন্ত রচিত গ্রন্থসমূহের তালিকা এখানেই শেষ হলো। অতঃপর এটি একটি কাকতালীয় ঘটনা ছিল যে, তিনি উসমানীয় সাম্রাজ্যের অধিপতি মহামান্য সুলতান আব্দুল হামিদ খানের দরবারে তাঁর তাফসির ‘ফাতহুল বায়ান ফী মাকাসিদিল কুরআন’ উপহার হিসেবে পাঠান এবং এ বিষয়ে সুলতানের কাছে একটি পত্র লেখেন। এর জবাবে সুলতানের উচ্চদরবার (বাবে আলী) থেকে একটি মহামূল্যবান উত্তরসহ ‘মজিদিয়া’ নামক দ্বিতীয় শ্রেণীর পদক পাঠানো হয়, তুর্কি ভাষায় যাকে ‘অরিঞ্জি’ বলা হয়। গ্র্যান্ড উজির সাইয়্যিদ খাইরুদ্দিন পাশার পক্ষ থেকে ‘আকওয়ামুল মাসালিক ফি আহওয়ালিল মামালিক’ কিতাবসহ একটি পত্র উপহার হিসেবে তাঁর কাছে আসে। সেই পত্র দুটির অনুলিপি নিম্নরূপ:

উচ্চমর্যাদা ও মহত্ত্বের গৌরব, সমস্ত শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রশংসনীয় গুণের আধার সিদ্দিক হাসান খান (তাঁর মর্যাদা চিরস্থায়ী হোক), যিনি ভারতের ভোপাল অঞ্চলের প্রধান এবং পর্দানশীন ও পবিত্রা নারী শাহজাহান বেগম (তাঁর পবিত্রতা চিরস্থায়ী হোক)-এর স্বামী। তাঁর উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন সত্তা এমন সব গুণে গুণান্বিত যা প্রশংসিত ও গ্রহণযোগ্য। তাঁর সম্মানের প্রতি আমাদের সুলতানি মূল্যায়ন ও বিশেষ দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে এর প্রমাণস্বরূপ আমরা তাঁর মহানুভবতার সমীপে এই পদক অর্পণ করছি।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭)
الجوانب السلطاني قطعة نشان ذي الشان من الرتبة الثانية وأصدرنا إليه هذه البراءة العالية الشأن حرر في اليوم العشرين من شهر ربيع الأول سنة ست وتسعين ومائتين وألف انتهى. وقد هنأه على ذلك جمع جم من أهل العلم وأرخ له المؤرخون من شعراء الرياسة منها قصيدة الشيخ الأديب والسفير اللبيب محمد حسن بن محمد إسمعيل الدهاوي المتخلص بالفقير أولها:

تجلى لنا نور الهنا ووفى البشر … ومن زهر أفنان الورى عبق النشر

وعندل طير الأنس في روضة المنى … على فنن الأفراح وانشرح الصدر

وهذه القصيدة بتمامها مع الكتابة التي كانت على اسم حضرة السلطان محررة في تاريخ بلدة بهوبال المحمية صانها الله وإيانا عن كل رزية وبلية بجاه نبيه المصطفى خير البرية صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه كل بكرة وعشية.

 

‌‌وفاته:

توفي سنة ألف وثلاثمائة وسبعة هجرية 1307 هـ، وعاش تسعا وخمسين سنة قمرية، وسبعا وخمسين سنة شمسية «1» .

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في: أبجد العلوم [3/ 271- 280]- الأعلام للزركلي [6/ 167]- معجم المؤلفين [3/ 358] .
রাজকীয় পক্ষ থেকে দ্বিতীয় র্যাঙ্কের 'নিশান যিশ-শান' পদক প্রদান করা হয়েছে এবং আমরা তাঁর প্রতি এই উচ্চমর্যাদাপূর্ণ সনদ জারি করেছি। এটি ১২৯৬ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের বিশ তারিখে লিখিত হয়েছে। সমাপ্ত। আলেম সমাজের এক বিশাল সমাবেশ তাঁকে এর জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং নেতৃস্থানীয় কবি ও ঐতিহাসিকগণ তাঁর এই উপলক্ষকে ইতিহাসের পাতায় ধরে রেখেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো সাহিত্যিক শেখ এবং বিচক্ষণ দূত মুহাম্মদ হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইসমাইল আদ-দাহাবি (যার কাব্যনাম আল-ফাকির)-এর একটি কাসিদা, যার শুরু হলো:

আমাদের কাছে সৌভাগ্যের আলো উদ্ভাসিত হয়েছে এবং সুসংবাদ পূর্ণতা পেয়েছে … আর সৃষ্টিজগতের ডালপালার ফুল থেকে সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়েছে

আকাঙ্ক্ষার বাগানে আনন্দের পাখি গান গেয়ে উঠেছে … খুশির ডালে ডালে, আর অন্তর হয়েছে প্রশস্ত

এই সম্পূর্ণ কাসিদাটি মহামান্য সুলতানের নামে থাকা লিপি সহ সংরক্ষিত ভোপাল শহরের ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে; আল্লাহ সেই শহরকে এবং আমাদের সকল বিপদ-আপদ ও মুসিবত থেকে রক্ষা করুন সৃষ্টির সেরা মনোনীত নবী (আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর সকাল-সন্ধ্যা রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর সম্মানে।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

তিনি ১৩০৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং ঊনষাট বছর চান্দ্রবর্ষ ও সাতান্ন বছর সৌরবর্ষ অনুযায়ী জীবন অতিবাহিত করেন «১»।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন: আবজাদুল উলুম [৩/ ২৭১-২৮০] - আজ-জিরিকলি কৃত আল-আ'লাম [৬/ ১৬৭] - মু'জামুল মুয়াল্লিফিন [৩/ ৩৫৮]।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৯)
مقدمة المؤلف

قال العبد الضعيف الخامل المتواري صديق بن حسن بن علي القنوجي البخاري ختم الله له بالحسنى:

الحمد لله ربّ العالمين وصلى الله على سيدنا محمد النبي الأمين وعلى آله الطاهرين وصحبه الراشدين.

وبعد:

فهذه الآيات التي يحتاج إلى معرفتها راغب في معرفة الأحكام الشرعية القرآنية، وقد قيل: إنها خمسمائة آية، وما صح ذلك، وإنما هي مائتا آية أو قريب من ذلك.

وإن عدلنا عنه وجعلنا الآية كل جملة مفيدة يصح أن تسمى كلاما في عرف النحاة، كانت أكثر من خمسمائة آية. وهذا القرآن من شكّ فيه فليعد.

ولا أعلم أن أحدا من العلماء أوجب حفظها غيبا، بل شرط أن يعرف مواضعها حتى يتمكن عند الحاجة من الرجوع إليها، فمن نقلها إلى كراسة وأفردها كفاه ذلك.

ولم أستقص فيه نوعين من آيات الأحكام:

أحدهما: ما مدلوله بالضرورة كقوله سبحانه وتعالى: وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكاةَ [سورة البقرة: آية 43] للأمان من جهله، إلا أن تشتمل الآية من ذلك على ما لا يعلم بالضرورة بل بالاستدلال، فأذكرها لأجل القسم الاستدلالي منهما كآية الوضوء والتيمم.

وثانيهما: ما اختلف المجتهدون في صحة الاحتجاج فيه على أمر معين وليس بقاطع الدلالة ولا واضحها، فإنّه لا يجب على من لا يعتقد فيه دلالة أن يعرفه إذ لا ثمرة لإيجاب معرفة الاستدلال به، وذلك كالاستدلال على تحريم لحوم الخيل بقوله تعالى:

لِتَرْكَبُوها وَزِينَةً [سورة النحل: آية 8] وهذا لا تجب معرفته إلا على من يحتج به
লেখকের ভূমিকা

দুর্বল, নগণ্য ও নিভৃতচারী বান্দা সিদ্দিক বিন হাসান বিন আলী আল-কান্নৌজি আল-বুখারি—আল্লাহ তাকে উত্তম পরিণাম দান করুন—বলেছেন:

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা আমানতদার নবী মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পবিত্র পরিবার-পরিজন ও সৎপথপ্রাপ্ত সাহাবীদের ওপর।

অতঃপর:

এগুলো হলো সেই সকল আয়াত, যা জানা কুরআনের শরয়ী বিধান সম্পর্কে জ্ঞান লাভে আগ্রহী ব্যক্তির জন্য প্রয়োজন। বলা হয়ে থাকে যে এগুলো পাঁচশত আয়াত, তবে এটি সঠিক নয়; বরং এগুলো দুইশত আয়াত বা এর কাছাকাছি।

আর আমরা যদি এর ব্যতিক্রম করি এবং ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায় যাকে বাক্য বলা যায় এমন প্রতিটি পূর্ণাঙ্গ বাক্যকেই আয়াত হিসেবে গণ্য করি, তবে তা পাঁচশ আয়াতেরও অধিক হবে। আর এই কুরআন সম্পর্কে যার সন্দেহ আছে সে যেন তা পুনরায় গণনা করে দেখে।

আলেমদের মধ্যে কেউ এগুলো মুখস্থ করাকে আবশ্যক করেছেন বলে আমার জানা নেই; বরং শর্ত হলো এগুলোর অবস্থান জানা, যাতে প্রয়োজনে সেগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করা সম্ভব হয়। সুতরাং কেউ যদি এগুলোকে একটি খাতায় লিখে পৃথক করে রাখে, তবে তার জন্য সেটিই যথেষ্ট।

আমি এতে বিধান সংক্রান্ত দুই প্রকারের আয়াত বিস্তারিত বর্ণনা করিনি:

প্রথমটি হলো: যার অর্থ স্বতসিদ্ধভাবে জানা যায়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো [সূরা আল-বাকারাহ: আয়াত ৪৩]। এ বিষয়ে অজ্ঞ থাকার অবকাশ নেই বলে এগুলো উল্লেখ করিনি। তবে যদি আয়াতের মধ্যে এমন কিছু থাকে যা স্বতসিদ্ধভাবে নয় বরং প্রমাণের মাধ্যমে জানা যায়, তবে আমি তার প্রামাণিক অংশের খাতিরে সেটি উল্লেখ করেছি, যেমন ওজু ও তায়াম্মুমের আয়াত।

দ্বিতীয়টি হলো: নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে যে সকল আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করার শুদ্ধতা নিয়ে মুজতাহিদগণ মতভেদ করেছেন এবং যেগুলোর অর্থগত নির্দেশ সুস্পষ্ট বা অকাট্য নয়। কেননা যে ব্যক্তি এতে নির্দিষ্ট কোনো বিধানের প্রমাণ আছে বলে বিশ্বাস করে না, তার জন্য সেটি জানা আবশ্যক নয়; কারণ এর মাধ্যমে দলিল গ্রহণের বিষয়টি জানার কোনো ফল নেই। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: যাতে তোমরা সেগুলোতে আরোহণ করো এবং তা সৌন্দর্যের উপকরণ হয় [সূরা আন-নাহল: আয়াত ৮]—এর মাধ্যমে ঘোড়ার গোশত হারাম হওয়ার ব্যাপারে দলিল পেশ করা। এটি জানা কেবল তার জন্যই আবশ্যক যে এর মাধ্যমে দলিল পেশ করে।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১০)
من المجتهدين إذ لا سبيل إلى حصر كل ما يظنّ أو يجوز فيه استنباط الأحكام من خفيّ معانيه، ولا طريق إلى ذلك إلا عدم الوجدان وهي من أضعف الطرق عند علماء البرهان.

وليس القصد إلا ذكر ما يدل على الأحكام دلالة واضحة، لتكون عناية طالب الأحكام به أكثر وإلا فليس يحسن من طالب العلم أن يهمل النظر في جميع كتاب الله تعالى مقدما للعناية فيه، شاملا للطائف معانيه، مستنبطا للأحكام والآداب من ظواهره وخوافيه، فإنه الأمان من الضلال، والعمود الأعظم في جميع الأحوال، والأنيس في الوحدة، والغوث في الشدّة، والنور في الظّلمة، والفرج للغمة، والشفاء للصدور، والفيصل عند اشتباه الأمور. فلا ينبغي أن يغفل عنه لحظة، ولا أن يزهد منه في لفظة.

وقد أفرد السيد الإمام الحافظ محمد بن إبراهيم الوزير- رحمه الله تعالى- فضائل القرآن والتنبيه على الاعتماد عليه في مصنف مفرد.

وها أنا أفسر تلك الآيات المشار إليها بتفسير وجيز جامع لما له وعليه، ولم آخذ فيها من الأقوال المختلفة إلا الأرجح، ومن الدلائل المتنوعة إلا الأصح الأصرح.

ولعمري لا يوجد قط تفسير موجز بهذا النمط.

وكانت بدايته في أول شهر صفر ونهايته فيه من حدود سنة سبع وثمانين ومائتين وألف الهجرية على صاحبها الصلاة والتحية. وسميته «نيل المرام من تفسير آيات الأحكام» .

وألفت بعد ذلك تفسيرا لمقاصد القرآن المسمى ب «فتح البيان» جامعا للرواية والدراية والاستنباط والأحكام. فإن كنت ممن يريد الصعود على معارج التحقيق، والقعود في محراب التدقيق، فعليك بذلك التفسير ولعلك لا تجد مثله في إخوانه إن شاء الله القدير.

والله سبحانه أسأل أن يجعل هذا المختصر خالصا لوجهه الكريم وينفع المسلمين بلطفه العميم.
মুজতাহিদগণের নিকট থেকে; কেননা এর গূঢ় অর্থরাজি থেকে বিধান আহরণের ক্ষেত্রে যা কিছু ধারণা করা হয় বা বৈধ মনে করা হয়, তার সবটুকুকে সীমাবদ্ধ করার কোনো পথ নেই। আর এ ক্ষেত্রে ‘অনুপলব্ধি’ ব্যতীত অন্য কোনো পথ নেই, যা প্রমাণ-বিশারদ আলেমগণের নিকট অত্যন্ত দুর্বল একটি পথ।

আর আমার উদ্দেশ্য কেবল ঐ বিষয়গুলো উল্লেখ করা যা বিধানের ওপর সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ পেশ করে, যাতে বিধান অন্বেষণকারীর মনোযোগ সেদিকে অধিক নিবদ্ধ হয়। নতুবা একজন জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য এটি মোটেও শোভনীয় নয় যে, সে মহান আল্লাহর কিতাবকে পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনার ক্ষেত্রে অবহেলা করবে; বরং তাকে এর প্রতি বিশেষ যত্নশীল হতে হবে, এর সূক্ষ্ম অর্থসমূহকে অনুধাবন করতে হবে এবং এর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য দিকগুলো থেকে বিধান ও আদবসমূহ আহরণ করতে হবে। কারণ এটিই হলো পথভ্রষ্টতা থেকে নিরাপত্তা, সর্বাবস্থায় সর্বশ্রেষ্ঠ স্তম্ভ, একাকীত্বের সঙ্গী, বিপদের আশ্রয়, অন্ধকারের আলো, দুঃখের মুক্তি, অন্তরের আরোগ্য এবং সংশয়পূর্ণ বিষয়সমূহের চূড়ান্ত মীমাংসাকারী। সুতরাং এক মুহূর্তের জন্যও এটি থেকে বিমুখ হওয়া উচিত নয় এবং এর একটি শব্দের প্রতিও অনাগ্রহ দেখানো সমীচীন নয়।

সায়্যিদ ইমাম হাফেজ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম আল-ওয়াযীর (রাহিমাহুল্লাহ) কুরআনের ফযীলত এবং এর ওপর নির্ভর করার বিষয়ে সতর্কীকরণের জন্য একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন।

আর আমি এখানে উল্লিখিত আয়াতসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ ব্যাখ্যা পেশ করছি যা এর যাবতীয় দিককে অন্তর্ভুক্ত করে। আমি এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন মতামতের মধ্য থেকে কেবল সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মতটি এবং নানাবিধ দলিলের মধ্য থেকে কেবল বিশুদ্ধতম ও সুস্পষ্টতম দলিলটি গ্রহণ করেছি।

আমার জীবনের কসম! এই ধারার এমন কোনো সংক্ষিপ্ত তাফসীর ইতিপূর্বে কখনোই পাওয়া যায়নি।

এর সূচনা ছিল সফর মাসের শুরুতে এবং সমাপ্তিও ছিল একই মাসে ১২৮৭ হিজরি সনের দিকে; এই সনের প্রবর্তকের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। আমি এই গ্রন্থের নাম রেখেছি ‘নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম’।

এরপর আমি কুরআনের মাকাসিদ বা উদ্দেশ্যসমূহের ওপর ‘ফাতহুল বায়ান’ নামক একটি তাফসীর রচনা করেছি, যা বর্ণনা, যুক্তি, বিধান আহরণ এবং বিধানাবলীর এক অনন্য সংকলন। সুতরাং আপনি যদি গবেষণার উচ্চশিখরে আরোহণ করতে চান এবং সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের মিহরাবে আসীন হতে চান, তবে আপনার জন্য সেই তাফসীরটি অপরিহার্য; আর আপনি সম্ভবত এর সমজাতীয় গ্রন্থগুলোর মধ্যে এর কোনো তুলনা খুঁজে পাবেন না, যদি সর্বশক্তিমান আল্লাহ চান।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই সংক্ষিপ্ত সংকলনটিকে একমাত্র তাঁর মহান চেহারার জন্য কবুল করেন এবং তাঁর অশেষ করুণায় এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌تفسير سورة البقرة وهي مائتان وست وثمانون آية

قال القرطبي: «مدنية نزلت في مدد شتى، وقيل: هي أول سورة نزلت بالمدينة.

إلّا قوله تعالى: وَاتَّقُوا يَوْماً تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ فإنها آخر آية نزلت من السماء ونزلت يوم النّحر في حجة الوداع بمنى، وآيات الربا أيضا من أواخر ما نزل من القرآن» ، انتهى «1» .

وقد وردت في فضلها أحاديث «2» .

[الآية الأولى]

هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ ما فِي الْأَرْضِ جَمِيعاً ثُمَّ اسْتَوى إِلَى السَّماءِ فَسَوَّاهُنَّ سَبْعَ سَماواتٍ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ (29) .

هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ قال ابن كيسان: أي من أجلكم «3» .

وفيه دليل على أن الأصل في الأشياء المخلوقة الإباحة حتى يقوم دليل على النقل عن هذا الأصل، ولا فرق بين الحيوانات وغيرها مما ينتفع به من غير ضرر، وفي تأكيد ما في الأرض بقوله: جَمِيعاً أقوى دلالة على هذا.

وقد استدل بهذه الآية على تحريم أكل الطين لأنه تعالى خلق لنا ما في الأرض دون نفس الأرض.

--------------------------------------------

(1) تفسير القرطبي [1/ 152] .

(2) رواه البخاري في الصحيح ح [5009] ، رواه أحمد [4/ 274] والترمذي ح [2882] وابن حبان ح [783] وصححه الحاكم [1/ 562، 2/ 260] .

(3) انظر التفسير للقرطبي [1/ 251] والشوكاني في «فتح القدير» [1/ 60] .
সূরা আল-বাকারার তাফসীর, যা দুইশত ছিয়াশিটি আয়াত।

ইমাম কুরতুবী বলেছেন: «এটি মাদানী (মাদিনায় অবতীর্ণ), যা বিভিন্ন সময়ে নাজিল হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন: এটিই প্রথম সূরা যা মাদিনায় নাজিল হয়েছিল।

তবে মহান আল্লাহর বাণী: 'আর তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন তোমাদেরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে' ব্যতীত; কারণ এটি আসমান থেকে নাজিল হওয়া সর্বশেষ আয়াত এবং এটি বিদায় হজের কুরবানির দিন মিনায় নাজিল হয়েছিল। সুদের আয়াতগুলোও কুরআনের সর্বশেষ অবতীর্ণ হওয়া অংশগুলোর অন্তর্ভুক্ত», সমাপ্ত «১»।

এর ফজিলত সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে «২»।

[প্রথম আয়াত]

তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদের জন্য জমিনে যা কিছু আছে তার সব সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আকাশের দিকে উঠলেন এবং সেগুলোকে সাতটি আসমানে সুবিন্যস্ত করলেন। আর তিনি সব বিষয়ে সর্বজ্ঞ (২৯)।

'তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন' - ইবনে কায়সান বলেছেন: অর্থাৎ তোমাদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে «৩»।

এতে এই প্রমাণ রয়েছে যে, সৃষ্ট বস্তুসমূহের মূল বিধান হলো বৈধতা (ইবাহাত), যতক্ষণ না এই মূল বিধান থেকে সরে আসার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে প্রাণী এবং অন্যান্য জিনিসের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই যা থেকে কোনো ক্ষতি ছাড়াই উপকৃত হওয়া যায়। 'জমিনে যা কিছু আছে' এর সাথে 'সব' শব্দের ব্যবহারের মাধ্যমে করা তাগিদ এই বিষয়ের শক্তিশালী প্রমাণ বহন করে।

আর এই আয়াতের মাধ্যমে মাটি খাওয়া হারাম হওয়ার পক্ষে দলিল পেশ করা হয়েছে, কারণ মহান আল্লাহ আমাদের জন্য জমিনের ভেতরকার বস্তুগুলো সৃষ্টি করেছেন, খোদ জমিনকে নয়।

--------------------------------------------

(১) তাফসীরে কুরতুবী [১/ ১৫২]।

(২) বুখারী সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং [৫০০৯], আহমাদ [৪/ ২৭৪], তিরমিযী হাদিস নং [২৮৮২], ইবনে হিব্বান হাদিস নং [৭৮৩] এবং হাকিম একে সহীহ বলেছেন [১/ ৫৬২, ২/ ২৬০]।

(৩) দেখুন: তাফসীরে কুরতুবী [১/ ২৫১] এবং শাওকানী রচিত «ফাতহুল কাদির» [১/ ৬০]।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১২)
وقال الرازي في «تفسيره» : إن لقائل أن يقول: إن في جملة الأرض ما يطلق عليه أنه في الأرض فيكون جامعا للوصفين، ولا شك أن المعادن داخلة في ذلك وكذلك عروق الأرض وما يجري مجرى البعض لها ولأن تخصيص الشيء بالذكر لا يدل على نفي الحكم عما عداه؟ انتهى.

وقد ذكر صاحب «الكشاف» «1» ما هو أوضح من هذا فقال: إن قلت: هل لقول من زعم أن المعنى خلق لكم الأرض وما فيها وجه صحة؟ قلت: إن أراد بالأرض الجهات السفلية دون الغبراء- كما تذكر السماء ويراد الجهات العلوية- جاز ذلك فإن الغبراء وما فيها واقعة في الجهات السفلية. انتهى.

قال الشوكاني في «فتح القدير» «2» . وأما التراب فقد ورد في السنة تحريمه «3» ، وهو أيضا ضار فليس مما ينتفع به أكلا ولكنه ينتفع به في منافع أخرى وليس المراد منفعة خاصة كمنفعة الأكل بل كلما يصدق عليه أنه ينتفع به بوجه من الوجوه.

وقد أخرج عبد بن حميد وابن جرير عن قتادة في قوله تعالى هذا سَخَّرَ لَكُمْ ما فِي الْأَرْضِ: جميعا كرامة من الله ونعمة لابن آدم وبلغة ومنفعة إلى أجل «4» .

[الآية الثانية]

وَإِذْ أَخَذْنا مِيثاقَ بَنِي إِسْرائِيلَ لا تَعْبُدُونَ إِلَّا اللَّهَ وَبِالْوالِدَيْنِ إِحْساناً وَذِي الْقُرْبى وَالْيَتامى وَالْمَساكِينِ وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْناً وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكاةَ ثُمَّ تَوَلَّيْتُمْ إِلَّا قَلِيلًا مِنْكُمْ وَأَنْتُمْ مُعْرِضُونَ (83) .

وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْناً أي قولوا لهم قولا حسنا، فهو صفة مصدر محذوف وهو مصدر كبشرى.

--------------------------------------------

(1) انظر الكشاف [1/ 60] وفتح القدير [1/ 60] .

(2) انظر فتح القدير [1/ 60] .

(3) أخرجه البيهقي في السنن الكبرى [10/ 11] وأخرجه ابن عدي في الكامل [5/ 192- 193] انظر الكامل [4/ 250] ولسان الميزان [3/ 356] والفوائد المجموعة [ص 130] واللآلئ [2/ 247] .

(4) انظر فتح القدير [1/ 61] .
এবং আর-রাজি তার 'তাফসির'-এ বলেছেন: কোনো বক্তা বলতে পারেন যে, জমিনের সামগ্রিকতার মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যাকে জমিনের অভ্যন্তরে বলা হয়, ফলে তা উভয় বৈশিষ্ট্যের (জমিনের অংশ হওয়া এবং জমিনের ভেতরে থাকা) অধিকারী হয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে খনিজ পদার্থসমূহ এর অন্তর্ভুক্ত, অনুরূপভাবে জমিনের শিকড়সমূহ এবং যা জমিনের অংশ হিসেবে গণ্য হয় তাও এর অন্তর্ভুক্ত। কারণ কোনো বিষয়কে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা তার বাইরে অন্য কিছু থেকে বিধান রহিত হওয়ার প্রমাণ বহন করে না। সমাপ্ত।

আর 'আল-কাশশাফ'-এর লেখক এর চেয়েও স্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন; তিনি বলেছেন: যদি আপনি বলেন, যারা দাবি করেন যে এর অর্থ হলো—"তিনি তোমাদের জন্য জমিন ও তার মধ্যে যা আছে তা সৃষ্টি করেছেন"—তাদের এই কথার কি কোনো সঠিক দিক আছে? আমি বলব: তিনি যদি জমিন বলতে ধূসর মাটি ব্যতীত নিম্নদেশীয় দিকসমূহকে উদ্দেশ্য করে থাকেন—যেভাবে আকাশ উল্লেখ করে ঊর্ধ্বদেশীয় দিকসমূহকে উদ্দেশ্য করা হয়—তবে তা বৈধ। কেননা ধূসর মাটি এবং তার মধ্যে যা আছে তা নিম্নদেশীয় দিকসমূহের মধ্যেই অবস্থিত। সমাপ্ত।

আশ-শাওকানি 'ফাতহুল কাদির'-এ বলেছেন: আর মাটির ব্যাপারে সুন্নাহে এর নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে, এবং এটি ক্ষতিকারকও বটে; সুতরাং এটি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে উপকৃত হওয়ার মতো কিছু নয়। তবে এটি অন্যান্য উপকারে ব্যবহৃত হয়। আর এখানে উদ্দেশ্য কোনো বিশেষ উপকার নয় যেমন খাওয়ার উপকারিতা, বরং এমন সব বিষয়ই উদ্দেশ্য যার দ্বারা কোনো না কোনোভাবে উপকৃত হওয়া যায়।

আবদ ইবনে হুমাইদ এবং ইবনে জারির কাতাদা থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী "তিনি জমিনে যা আছে তা তোমাদের জন্য অনুগত করে দিয়েছেন" এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন: এই সব কিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মানস্বরূপ এবং আদম সন্তানের জন্য নেয়ামত ও একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জীবন ধারণের উপকরণ ও উপকার।

[দ্বিতীয় আয়াত]

আর যখন আমি বনী ইসরাঈলের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করবে না এবং পিতামাতা, আত্মীয়স্বজন, এতিম ও মিসকিনদের সাথে সদাচরণ করবে; আর মানুষের সাথে উত্তম কথা বলবে, সালাত কায়েম করবে এবং জাকাত প্রদান করবে। তারপর তোমাদের অল্প কজন ছাড়া সবাই মুখ ফিরিয়ে নিলে এবং তোমরা ছিলে অগ্রাহ্যকারী। (৮৩)।

আর মানুষের সাথে উত্তম কথা বলো—অর্থাৎ তাদের সাথে উত্তম কথা বলো; এটি একটি উহ্য ক্রিয়ামূলের বিশেষণ, আর এটি 'বুশরা'র ন্যায় একটি ক্রিয়ামূল।

--------------------------------------------

(১) আল-কাশশাফ [১/ ৬০] এবং ফাতহুল কাদির [১/ ৬০] দেখুন।

(২) ফাতহুল কাদির [১/ ৬০] দেখুন।

(৩) এটি আল-বায়হাকি 'আস-সুনান আল-কুবরা' [১০/ ১১] গ্রন্থে এবং ইবনে আদি 'আল-কামিল' [৫/ ১৯২-১৯৩] গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। 'আল-কামিল' [৪/ ২৫০], 'লিসানুল মিজান' [৩/ ৩৫৬], 'আল-ফাওয়ায়েদ আল-মাজমুআহ' [পৃষ্ঠা ১৩০] এবং 'আল-লাআলি' [২/ ২৪৭] দেখুন।

(৪) ফাতহুল কাদির [১/ ৬১] দেখুন।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
وقرأ حمزة والكسائي حسنا بفتح الحاء والسين وكذلك قرأ زيد بن ثابت وابن مسعود «1» .

وقال الأخفش: هما بمعنى واحد مثل البخل والبخل والرّشد والرّشد.

والظاهر أن هذا القول الذي أمرهم الله به لا يختص بنوع معين بل كلما صدق عليه أنه حسن شرعا كان من جملة ما يصدق عليه هذا الأمر.

وقد قيل إن ذلك هو كلمة التوحيد وقيل: الصدق، وقيل: الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وقيل: هو اللين في القول والعشرة وحسن الخلق، وقيل غير ذلك «2» .

أخرج ابن جرير عن ابن عباس في قوله هذا: قال الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر «3» .

وروى البيهقي في «الشعب» عن عليّ عليه السلام في قوله وَقُولُوا لِلنَّاسِ، قال:

يعني الناس كلهم.

ومثله روى عبد بن حميد وابن جرير عن عطاء «4» .

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو عبيد وابن المنذر كما عند السيوطي في «الدر المنثور» [1/ 210] أخرجه سعيد بن منصور في السنن [2/ 567- ط آل حميد] ح [195] وانظر الشوكاني في فتح القدير [1/ 108] [ص 103] .

(2) انظر «تفسير الطبري» [1/ 436- 437] وفتح القدير [1/ 108] والدر المنثور للسيوطي [1/ 210] ومعالم التنزيل [1/ 90] للبغوي.

(3) رواه الطبري [1/ 436] ح [1457] وروى ابن جرير الطبري [1/ 436] ح [1454] انظر التفسير لابن أبي حاتم [1/ 257] ح [846] والدر المنثور للسيوطي [1/ 210] .

(4) أخرجه ابن جرير في تفسيره [1/ 437] ح [1459 و 1460] وسعيد بن منصور في سننه [2/ 566- ط آل حميد] ح [194] .]
হামযাহ ও কিসাঈ 'হা' এবং 'সীন' উভয় বর্ণে ফাতহাহ (যবর) যোগে 'হাসানান' পাঠ করেছেন এবং যায়িদ বিন সাবিত ও ইবনে মাসউদও অনুরূপ পড়েছেন।

আখফাশ বলেন: উভয়টি একই অর্থবোধক, যেমন 'বুখল' ও 'বাখাল' এবং 'রুশদ' ও 'রাশাদ'।

প্রকাশ্যত এই কথাটি, যা পালনের জন্য আল্লাহ তাদের আদেশ দিয়েছেন, তা কোনো নির্দিষ্ট প্রকারের সাথে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শরীয়তের দৃষ্টিতে যা কিছু উত্তম বলে গণ্য, তার সবই এই আদেশের অন্তর্ভুক্ত হবে।

বলা হয়েছে যে, এটি হলো তাওহীদের বাণী। কেউ বলেছেন: সত্যবাদিতা। কেউ বলেছেন: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ। কেউ বলেছেন: এটি হলো কথা ও আচরণের কোমলতা এবং সচ্চরিত্রতা। এছাড়া আরও অন্যান্য উক্তিও বর্ণিত হয়েছে।

ইবনে জারীর ইবনে আব্বাস থেকে এই আয়াতাংশের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এর অর্থ হলো সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ।

বায়হাকী ‘শুআবুল ঈমান’-এ আলী (আলাইহিস সালাম) থেকে আল্লাহর বাণী ‘মানুষের সাথে কথা বলো’ এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন:

অর্থাৎ সকল মানুষের সাথে।

আবদ বিন হুমাইদ ও ইবনে জারীরও আতা থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আবু উবাইদ ও ইবনুল মুনযির এটি বর্ণনা করেছেন যেমনটি সুয়ূতী ‘আদ-দুররুল মানসুর’ [১/২১০]-এ উল্লেখ করেছেন। সাঈদ বিন মানসূর তাঁর সুনান [২/৫৬৭- আল-হুমাইদ সংস্করণ] হাদিস নং [১৯৫]-এ এটি বর্ণনা করেছেন এবং শওকানী ‘ফাতহুল কাদীর’ [১/১০৮] [পৃষ্ঠা ১০৩]-এ দেখুন।

(২) ‘তাফসীরে তাবারী’ [১/৪৩৬-৪৩৭], ‘ফাতহুল কাদীর’ [১/১০৮], সুয়ূতীর ‘আদ-দুররুল মানসুর’ [১/২১০] এবং বাগাভীর ‘মাআলিমুত তানযীল’ [১/৯০] দেখুন।

(৩) তাবারী এটি [১/৪৩৬] হাদিস নং [১৪৫৭]-এ বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে জারীর তাবারী এটি [১/৪৩৬] হাদিস নং [১৪৫৪]-এ বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবী হাতিমের তাফসীর [১/২৫৭] হাদিস নং [৮৪৬] এবং সুয়ূতীর ‘আদ-দুররুল মানসুর’ [১/২১০] দেখুন।

(৪) ইবনে জারীর তাঁর তাফসীরে [১/৪৩৭] হাদিস নং [১৪৫৯ ও ১৪৬০]-এ এবং সাঈদ বিন মানসূর তাঁর সুনানে [২/৫৬৬- আল-হুমাইদ সংস্করণ] হাদিস নং [১৯৪]-এ এটি বর্ণনা করেছেন।]
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
[الآية الثالثة]

وَاتَّبَعُوا ما تَتْلُوا الشَّياطِينُ عَلى مُلْكِ سُلَيْمانَ وَما كَفَرَ سُلَيْمانُ وَلكِنَّ الشَّياطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ وَما أُنْزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبابِلَ هارُوتَ وَمارُوتَ وَما يُعَلِّمانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولا إِنَّما نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلا تَكْفُرْ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُما ما يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ وَما هُمْ بِضارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَيَتَعَلَّمُونَ ما يَضُرُّهُمْ وَلا يَنْفَعُهُمْ وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَراهُ ما لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلاقٍ وَلَبِئْسَ ما شَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ لَوْ كانُوا يَعْلَمُونَ (102) .

السّحر: هو ما يفعله السّاحر من الحيل والتخييلات التي يحصل بسببها للمسحور ما يحصل من الخواطر الفاسدة الشبيهة بما يقع لمن يرى السّراب فيظنه ماء، وما يظنه راكب السفينة أو الدابة من أن الجبال تسير «1» .

وقد اختلف: هل له حقيقة أم لا؟ فذهبت المعتزلة وأبو حنيفة إلى أنه خدع لا أصل له ولا حقيقة وذهب من عداهم إلى أن له حقيقة مؤثرة «2» .

وقد صح أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم سحر: سحره لبيد بن الأعصم اليهودي حتى كان يخيل إليه أنه يأتي الشيء ولم يكن قد أتاه!! ثم شفاه الله سبحانه «3» والكلام في ذلك يطول.

قال الزجاج في قوله وَما يُعَلِّمانِ مِنْ أَحَدٍ: تعليم إنذار من السحر لا تعليم دعاء إليه.

قال: وهو الذي عليه أكثر أهل اللغة والنظر ومعناه أنهما يعلمان على النهي فيقولان لهم: لا تفعلوا كذا ومِنْ في قوله مِنْ أَحَدٍ زائدة للتوكيد.

وقد قيل: إن قوله يُعَلِّمانِ من الإعلام لا من التعليم. وقد جاء في كلام العرب تعلم بمعنى أعلم، كما حكاه ابن الأنباري وابن الأعرابي وهو كثير في أشعارهم كقول كعب بن مالك:

تعلم رسول الله أنك مدركي … وأن وعيدا منك كالأخذ باليد

وقال القطامي:

تعلم أن بعد الغيّ رشدا … وأن لذلك الغي انقشاعا

--------------------------------------------

(1) انظر فتح القدير [1/ 119] .

(2) انظر فتح الباري [10/ 222] وشرح النووي [13/ 174- 175] . [.....]

(3) أخرجه البخاري في الصحيح [10/ 221] ح [5763] ومسلم في الصحيح [4/ 1719] ح [2189] .
[তৃতীয় আয়াত]

এবং তারা অনুসরণ করল যা শয়তানরা সুলাইমানের রাজত্বে পাঠ করত। সুলাইমান কুফরী করেননি, বরং শয়তানরাই কুফরী করেছিল। তারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত এবং যা বাবেলে হারুত ও মারুত নামক দুই ফেরেশতার ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল। তারা কাউকে তা শিক্ষা দিত না যতক্ষণ না এই বলত যে, ‘আমরা তো কেবল পরীক্ষা, সুতরাং তুমি কুফরী করো না।’ অতঃপর তারা তাদের থেকে এমন বিষয় শিখত যার দ্বারা তারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিত। অথচ তারা আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত তা দিয়ে কারও কোনো ক্ষতি করতে পারত না। তারা এমন বিষয় শিখত যা তাদের ক্ষতি করত এবং তাদের কোনো উপকারে আসত না। আর তারা নিশ্চিতভাবে জানত যে, যে কেউ তা ক্রয় করবে, পরকালে তার কোনো অংশ নেই। আর যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছে তা কতই না মন্দ, যদি তারা জানত! (১০২)।

জাদু: এটি হলো জাদুকর কর্তৃক সম্পাদিত এমন কিছু কৌশল ও কল্পনা, যার ফলে জাদুর শিকার ব্যক্তির মনে এমন কিছু ভ্রান্ত চিন্তার উদয় হয়, যা মরীচিকা দেখে পানি মনে করা কিংবা নৌকা বা পশুর পিঠে আরোহী ব্যক্তির পাহাড়সমূহকে চলমান মনে করার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

এটি নিয়ে মতভেদ রয়েছে: এর কি কোনো বাস্তবতা আছে কি নেই? মুতাজিলাগণ এবং আবু হানিফা এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, এটি একটি প্রতারণা মাত্র যার কোনো মূল ভিত্তি বা বাস্তবতা নেই। আর তারা ব্যতীত অন্যান্যরা এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, এর প্রভাব সৃষ্টিকারী বাস্তবতা রয়েছে।

এটি প্রমাণিত যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম জাদুর শিকার হয়েছিলেন: ইয়াহুদী লাবিদ ইবনুল আসম তাঁকে জাদু করেছিল, এমনকি তাঁর কাছে মনে হতো যে তিনি কোনো কাজ করেছেন অথচ তিনি তা করেননি!! এরপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁকে আরোগ্য দান করেন। এ বিষয়ে আলোচনা দীর্ঘ।

আল-যাজ্জাজ তাঁর এই বাণীতে "এবং তারা কাউকে শিক্ষা দিত না" সম্পর্কে বলেছেন: এটি জাদুর ব্যাপারে সতর্ক করার শিক্ষা, জাদুর দিকে আহ্বান করার শিক্ষা নয়।

তিনি বলেন: অধিকাংশ ভাষাবিদ ও চিন্তাবিদ এই মতের ওপর রয়েছেন এবং এর অর্থ হলো তারা নিষেধ করার উদ্দেশ্যে শিক্ষা দিতেন। ফলে তারা তাদের বলতেন: তোমরা এমন করো না। আর তাঁর বাণী "কেউ" (মিন আহাদিন) এর মধ্যে "মিন" অব্যয়টি তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে।

বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর বাণী "তারা শিক্ষা দিত" শব্দটি 'ইলাম' (অবহিত করা) থেকে এসেছে, 'তালিম' (শিক্ষা দান) থেকে নয়। আরবদের কথাবার্তায় 'তাআল্লাম' (জেনে নাও) শব্দটি 'আলাম' (অবহিত করা) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি ইবনুল আনবারী ও ইবনুল আরাবী বর্ণনা করেছেন। তাদের কবিতায় এর প্রচুর ব্যবহার রয়েছে, যেমন কা'ব বিন মালিকের উক্তি:

জেনে নিন হে আল্লাহর রাসুল যে আপনি আমাকে পাকড়াও করবেন … এবং আপনার পক্ষ থেকে আসা ধমক হলো হাত দিয়ে পাকড়াও করার মতো।

এবং আল-কাত্তামি বলেছেন:

জেনে রেখো যে পথভ্রষ্টতার পর সুপথ রয়েছে … এবং সেই পথভ্রষ্টতা একসময় কেটে যায়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন ফাতহুল কাদির [১/১১৯]।

(২) দেখুন ফাতহুল বারী [১০/২২২] এবং শরহে নববী [১৩/১৭৪-১৭৫]। [.....]

(৩) এটি বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন [১০/২২১], হাদিস নং [৫৭৬৩] এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন [৪/১৭১৯], হাদিস নং [২১৮৯]।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
وفي قوله: فَلا تَكْفُرْ أبلغ إنذارا وأعظم تحذيرا: أي أن هذا ذنب يكون من فعله كافرا فلا تكفر. وفيه دليل على أن تعلم السحر كفر وظاهره عدم الفرق بين المعتقد وغير المعتقد، وبين من تعلّمه ليكون ساحرا ومن تعلّمه ليقدر على دفعه.

وفي إسناد التفريق إلى السّحرة وجعل السّحر سببا لذلك، دليل على أن للسحر تأثيرا في التلوث بالحب والبغض، والجمع والفرقة، والقرب والبعد.

وقد ذهبت طائفة من العلماء إلى أن الساحر لا يقدر على أكثر مما أخبر الله من التفرقة لأن الله تعالى ذكر ذلك في معرض الذم للسّحر وبين ما هي الغاية في تعليمه فلو كان يقدر على أكثر من ذلك لذكره.

وقالت طائفة أخرى: إن ذلك خرج مخرج الأغلب وأن السّاحر يقدر على غير ذلك المنصوص عليه أيضا.

وقيل: ليس للسّحر تأثير في نفسه أصلا، لقوله: وَما هُمْ بِضارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ.

والحق أنه لا تنافي بين قوله: فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُما ما يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ وبين قوله: وَما هُمْ بِضارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ فإن المستفاد من جميع ذلك أن للسحر تأثيرا في نفسه ولكنه لا يؤثر ضررا إلا فيمن أذن الله بتأثيره فيه.

وقد أجمع أهل العلم على أن له تأثيرا في نفسه وحقيقة ثابتة ولم يخالف في ذلك إلا المعتزلة وأبو حنيفة «1» كما تقدم.

وفي قوله: وَيَتَعَلَّمُونَ ما يَضُرُّهُمْ وَلا يَنْفَعُهُمْ تصريح بأن السحر لا يعود على صاحبه بفائدة ولا يجلب إليه منفعة بل هو ضرر محض وخسران بحت» «2» .

قال أبو السعود: فيه أن الاجتناب عما لا تؤمن غوائله خير: كتعلم الفلسفة التي لا يؤمن أن تجر إلى الغواية. انتهى.

والمراد بالشراء هنا الاستبدال، أي من استبدل ما تتلو الشياطين على كتاب الله.

--------------------------------------------

(1) قال ابن هبيرة: وأجمعوا على أن السحر له حقيقة، إلا أبا حنيفة فإنه قال: لا حقيقة له عنده.

انظر، الإفصاح لابن هبيرة [2/ 185] .

(2) انظر فتح القدير [1/ 120- 121] .
এবং তাঁর বাণী: 'কাজেই তুমি কুফরি করো না' এর মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত জোরালো হুঁশিয়ারি এবং মহান সতর্কবার্তা; অর্থাৎ এটি এমন এক গুনাহ যার কারণে সম্পাদনকারী কাফির হয়ে যায়, সুতরাং তুমি কুফরি করো না। আর এতে এই দলিল রয়েছে যে, জাদু শিক্ষা করা কুফরি। এর বাহ্যিক অর্থ হলো—আকিদা পোষণকারী এবং আকিদা পোষণ না করা ব্যক্তির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, তেমনি জাদুকর হওয়ার জন্য যে জাদু শেখে এবং যে তা প্রতিহত করার সক্ষমতা অর্জনের জন্য শেখে, তাদের মধ্যেও কোনো পার্থক্য নেই।

বিচ্ছেদ সৃষ্টির কাজকে জাদুকরদের প্রতি সম্বন্ধ করা এবং জাদুকে তার কারণ সাব্যস্ত করার মধ্যে এই দলিল রয়েছে যে, ভালোবাসা ও ঘৃণা, মিলন ও বিচ্ছেদ এবং নৈকট্য ও দূরত্বের কলুষিত প্রভাব সৃষ্টিতে জাদুর ভূমিকা রয়েছে।

ওলামায়ে কেরামের একটি দল মনে করেন যে, আল্লাহ তাআলা বিচ্ছেদ সৃষ্টির ব্যাপারে যতটুকু খবর দিয়েছেন, জাদুকর তার অতিরিক্ত আর কিছুর ক্ষমতা রাখে না। কেননা আল্লাহ তাআলা জাদুর নিন্দা করার প্রেক্ষাপটে এটি উল্লেখ করেছেন এবং তা শিক্ষার চূড়ান্ত লক্ষ্য কী তা বর্ণনা করেছেন; যদি জাদুকর এর চেয়ে বেশি কিছুর সক্ষমতা রাখত, তবে আল্লাহ অবশ্যই তা উল্লেখ করতেন।

অন্য একটি দল বলেছেন: বিষয়টি অধিকাংশ ক্ষেত্রে যা ঘটে সেই হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, অন্যথায় জাদুকর এই বর্ণিত বিষয় ছাড়াও আরও অনেক কিছুর ক্ষমতা রাখে।

আবার বলা হয়েছে: জাদুর নিজস্ব কোনো প্রভাব নেই, কারণ আল্লাহ বলেছেন: 'তারা আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তা দ্বারা কারো কোনো ক্ষতি করতে পারে না'।

প্রকৃত সত্য হলো, আল্লাহর বাণী: 'অতঃপর তারা তাদের থেকে এমন বিদ্যা শিখত যার দ্বারা তারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত' এবং আল্লাহর বাণী: 'তারা আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তা দ্বারা কারো কোনো ক্ষতি করতে পারে না'—এই দুটির মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। কেননা এ সমস্ত কিছু থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, জাদুর নিজস্ব প্রভাব রয়েছে, তবে তা কেবল তার ওপরই কার্যকর হয় যার ব্যাপারে আল্লাহ প্রভাবান্বিত হওয়ার অনুমতি প্রদান করেন।

আহলে ইলমগণ এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, জাদুর প্রভাব ও বাস্তব অস্তিত্ব রয়েছে। এ ব্যাপারে মুতাজিলা এবং আবু হানিফা ছাড়া আর কেউ দ্বিমত পোষণ করেননি, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আর আল্লাহর বাণী: 'তারা এমন কিছু শিখত যা তাদের ক্ষতি করত এবং তাদের কোনো উপকারে আসত না' এর মধ্যে সুস্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে যে, জাদু তার চর্চাকারীর কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না এবং কোনো উপকারও দেয় না; বরং এটি নিছক ক্ষতি ও চরম লোকসান।

আবুস সাউদ বলেন: এর মধ্যে এই শিক্ষা রয়েছে যে, যে বিষয়গুলোর অকল্যাণ থেকে নিরাপদ থাকা যায় না তা থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়; যেমন দর্শন শাস্ত্র শিক্ষা করা, যা পথভ্রষ্টতার দিকে টেনে নেওয়ার আশঙ্কা থেকে মুক্ত নয়। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)

আর এখানে 'ক্রয় করা' বলতে বিনিময় করাকে বোঝানো হয়েছে; অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের পরিবর্তে শয়তানদের পাঠ করা বিষয়গুলোকে গ্রহণ করে নিয়েছে।

--------------------------------------------

(১) ইবনু হুবাইরা বলেন: তারা (ওলামাগণ) ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে জাদুর বাস্তবতা আছে, তবে আবু হানিফা ব্যতীত; কেননা তাঁর মতে এর কোনো বাস্তবতা নেই।

দেখুন, আল-ইফসাহ, ইবনু হুবাইরা [২/ ১৮৫]।

(২) দেখুন, ফাতহুল কাদির [১/ ১২০-১২১]।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
والخلاق: النصيب عند أهل اللغة.

[الآية الرابعة]

وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَما تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ واسِعٌ عَلِيمٌ (115) .

وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَما تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ المشرق: موضع الشروق، والمغرب:

موضع الغروب. أي هما ملك لله وما بينهما من الجهات والمخلوقات، فيشتمل الأرض كلها.

وقوله: فَأَيْنَما تُوَلُّوا أي أيّ جهة تستقبلونها فهناك وجه الله أي المكان الذي يرتضي لكم استقباله. وذلك يكون عند التباس جهة القبلة التي أمرنا بالتوجه إليها بقوله سبحانه: فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرامِ وَحَيْثُ ما كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ.

قال في «الكشاف» : والمعنى أنكم إذا منعتم أن تصلوا في المسجد الحرام أو في بيت المقدس فقد جعلت لكم الأرض مسجدا، فصلوا في أي بقعة شئتم من بقاعها وافعلوا التولية فيها، فإن التولية ممكنة في كل مكان لا تختص أماكنها في مسجد دون مسجد ولا في مكان دون مكان «1» . انتهى.

قال الشوكاني في «فتح القدير» : وهذا التخصيص لا وجه له فإن اللفظ أوسع منه وإن كان المقصود به بيان السبب فلا بأس «2» . انتهى.

وأخرج ابن المنذر وابن أبي حاتم والحاكم- وصححه- والبيهقي في «سننه» عن ابن عباس قال: أول ما نسخ من القرآن فيما ذكر لنا- والله أعلم- شأن القبلة. قال الله تعالى: وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ الآية فاستقبل رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فصلى نحو بيت المقدس وترك البيت العتيق، ثم صرفه الله إلى البيت ونسخها فقال: وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرامِ «3» .

--------------------------------------------

(1) انظر الكشاف [1/ 90] وفتح القدير [1/ 131] .

(2) انظر فتح القدير [1/ 131] .

(3) [صحيح] أخرجه الطبري في التفسير [1/ 549] ح [1835] وأبو عبيد القاسم بن سلام في «الناسخ والمنسوخ» ح [21] والبيهقي في السنن [2/ 12] وابن أبي حاتم في التفسير وابن المنذر كما في الدر المنثور [1/ 265] والحاكم في المستدرك [2/ 267، 268] /] .
খালাক: ভাষাবিদগণের মতে এর অর্থ হলো অংশ বা ভাগ্য।

[চতুর্থ আয়াত]

আর আল্লাহর জন্যই পূর্ব ও পশ্চিম। সুতরাং তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও না কেন, সেখানেই আল্লাহর চেহারা রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। (১১৫)।

আর আল্লাহর জন্যই পূর্ব ও পশ্চিম। সুতরাং তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও না কেন, সেখানেই আল্লাহর চেহারা রয়েছে। মাশরিক: সূর্যোদয়ের স্থান, আর মাগরিব:

সূর্যাস্তের স্থান। অর্থাৎ এ দুটিই আল্লাহর মালিকানাধীন এবং এ দুটির মধ্যবর্তী সকল দিক ও সৃষ্টিজগতও তাঁরই, যা সমগ্র জমিনকে অন্তর্ভুক্ত করে।

আর তাঁর বাণী: "সুতরাং তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও না কেন" অর্থাৎ তোমরা যে কোনো দিকই অভিমুখ করো না কেন, সেখানেই আল্লাহর চেহারা রয়েছে; অর্থাৎ সেই স্থানটি যা তিনি তোমাদের জন্য অভিমুখী হওয়া পছন্দ করেন। আর এটি ঘটে থাকে কিবলার দিক নির্ণয়ে অস্পষ্টতা দেখা দিলে, যে কিবলার দিকে মুখ করার জন্য সুবহানাহু ওয়া তা'আলা নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "সুতরাং আপনি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফেরান এবং তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, সেদিকেই তোমাদের মুখ ফেরাও।"

‘কাশশাফ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো, যখন তোমাদের মসজিদুল হারাম বা বাইতুল মাকদিসে সালাত আদায়ে বাধা দেওয়া হয়, তখন আমি তোমাদের জন্য জমিনকে মাসজিদ বানিয়ে দিয়েছি। অতএব তোমরা এর যে কোনো ভূখণ্ডে ইচ্ছা সালাত আদায় করো এবং সেদিকে মুখ ফেরাও। কেননা অভিমুখ হওয়া প্রতিটি স্থানেই সম্ভব; এটি কোনো নির্দিষ্ট মাসজিদ বা নির্দিষ্ট কোনো স্থানের জন্য নির্ধারিত নয়। (১) সমাপ্ত।

শাওকানী ‘ফাতহুল কাদির’ গ্রন্থে বলেছেন: এই নির্দিষ্টকরণের কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই, কেননা শব্দটির অর্থ এর চেয়েও ব্যাপক। তবে যদি এর দ্বারা শানে নুযূল বর্ণনা করা উদ্দেশ্য হয়, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। (২) সমাপ্ত।

ইবনে মুনযির, ইবনে আবি হাতিম, হাকীম (যিনি একে সহীহ বলেছেন) এবং বাইহাকী তাঁর ‘সুনান’ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট যা বর্ণিত হয়েছে—আল্লাহ ভালো জানেন—তা অনুযায়ী কুরআনের মধ্যে সর্বপ্রথম যা রহিত করা হয়েছিল তা হলো কিবলার বিষয়টি। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: "আর আল্লাহর জন্যই পূর্ব ও পশ্চিম..." আয়াতটি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বাইতুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন এবং প্রাচীন ঘর (কাবা) পরিহার করতেন। এরপর আল্লাহ তাঁকে কাবার দিকে ফিরিয়ে দেন এবং পূর্বের হুকুমটি রহিত করে বলেন: "আর আপনি যেখান থেকেই বের হন না কেন, আপনার মুখ মসজিদুল হারামের দিকে ফেরান।" (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-কাশশাফ [১/ ৯০] এবং ফাতহুল কাদির [১/ ১৩১]।

(২) দেখুন: ফাতহুল কাদির [১/ ১৩১]।

(৩) [সহীহ] তাবারী এটি তাফসীরে [১/ ৫৪৯], হাদিস নং [১৮৩৫], আবু উবাইদ কাসিম বিন সালাম ‘আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ’-এ, হাদিস নং [২১], বাইহাকী ‘আস-সুনান’-এ [২/ ১২], ইবনে আবি হাতিম তাফসীরে, ইবনে মুনযির যেমনটি ‘আদ-দুররুল মানসুর’-এ [১/ ২৬৫] বর্ণিত হয়েছে এবং হাকীম ‘আল-মুস্তাদরাক’-এ [২/ ২৬৭, ২৬৮] বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
وأخرج ابن المنذر عن ابن مسعود نحوه.

وأخرج ابن أبي شيبة وعبد بن حميد ومسلم والترمذي والنسائي وغيرهم عن ابن عمر قال: كان النبي صلى الله عليه وآله وسلم يصلي على راحلته تطوعا أينما توجهت «1» . ثم قرأ ابن عمر هذه الآية فَأَيْنَما تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ: وقال: في هذا أنزلت هذه الآية. وأخرج نحوه عنه ابن جرير «2» والدارقطني «3» والحاكم وصححه.

وقد ثبت في «صحيح البخاري» من حديث جابر وغيره عن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم أنه كان يصلي على راحلته قبل المشرق فإذا أراد أن يصلي المكتوبة نزل واستقبل القبلة وصلى «4» . وروى نحوه من حديث أنس مرفوعا، أخرجه ابن أبي شيبة وأبو داود «5» .

وأخرج عبد بن حميد والترمذي- وضعفه- وابن ماجة وابن جرير وغيرهم عن عامر بن ربيعة قال: كنا مع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم في ليلة سوداء مظلمة فنزلنا منزلا فجعل الرجل يأخذ الأحجار فيعمل مسجدا فيصلي فيه فلما أن أصبحنا إذا نحن قد صلينا على غير القبلة! فقلنا: يا رسول الله لقد صلينا ليلتنا هذه لغير القبلة؟ فأنزل الله: وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ الآية، فقال: مضت صلاتكم «6» .

وأخرج الدارقطني وابن مردويه والبيهقي عن جابر مرفوعا نحوه إلا أنه ذكر أنهم خطوا خطوطا، وأخرج نحوه ابن مردويه بسند ضعيف عن ابن عباس مرفوعا، وأخرج

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في الصحيح ح [700] والبخاري في الصحيح [2/ 574] ح [1096] وابن أبي شيبة [2/ 236] ومالك في الموطأ [1/ 151] وأحمد في المسند [2/ 66] والطبري في التفسير ح [1841] والنسائي في السنن [1/ 244] و [2/ 61] والبيهقي في السنن [2/ 4] /] .

(2) انظر تفسير الطبري ح [1841] و [1842] /] .

(3) سنن الدارقطني [1/ 396] /] .

(4) أخرجه البخاري في الصحيح [1/ 503] ح [400] ، [1094] ، [1099] ، [4140] وعبد الرزاق في المصنف ح [4510] و [4516] والدارمي في السنن [1/ 356] وابن حبان في الصحيح [6/ 265- مع الإحسان] ح [2521] والبيهقي في السنن [2/ 6] وابن أبي شيبة في المصنف [1/ 236] ح [8512] /] .

(5) [حسن] أخرجه ابن أبي شيبة في المصنف [2/ 236] وأبو داود في السنن [2/ 9] ح [1225] /] .

(6) [حسن] أخرجه الترمذي في السنن [2/ 176] ح [345] ورواه الدارقطني في السنن [1/ 272] ورواه ابن جرير الطبري في التفسير [1/ 550] ح [1843] ورواه الطيالسي في مسنده ح [1145] وابن ماجه [1/ 165] والبيهقي في السنن [2/ 11] ورواه الحاكم في المستدرك [1/ 206] والدارقطني [1/ 271] والبيهقي في السنن [2/ 10، 11- 12] .
ইবনুল মুনযির ইবনে মাসউদ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আবি শাইবা, আবদ বিন হুমাইদ, মুসলিম, তিরমিযী, নাসায়ী এবং অন্যান্যরা ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সওয়ারির পিঠে নফল সালাত আদায় করতেন, তা যেদিকেই মুখ ফিরিয়ে চলত (১)। এরপর ইবনে উমর এই আয়াত পাঠ করেন: "তোমরা যেদিকেই মুখ ফিরাও, সেদিকেই আল্লাহর চেহারা বিদ্যমান।" এবং বলেন: এই বিষয়েই এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে। ইবনে জারীর (২), দারাকুতনী (৩) এবং হাকেম তাঁর থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম একে সহীহ বলেছেন।

আর 'সহীহ বুখারী'-তে জাবির ও অন্যান্যদের হাদীস থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি পূর্ব দিকে মুখ করে তাঁর সওয়ারির ওপর সালাত আদায় করতেন, কিন্তু যখন তিনি ফরয সালাত আদায় করার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি নিচে নামতেন এবং কিবলামুখী হয়ে সালাত আদায় করতেন (৪)। আর আনাস থেকে মারফূ’ হিসেবে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, যা ইবনে আবি শাইবা এবং আবু দাউদ (৫) বর্ণনা করেছেন।

আবদ বিন হুমাইদ, তিরমিযী (যিনি একে দুর্বল বলেছেন), ইবনে মাজাহ, ইবনে জারীর এবং অন্যান্যরা আমির বিন রাবীআ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা এক ঘুটগুটে অন্ধকার রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। আমরা এক স্থানে অবতরণ করলাম। তখন একেকজন লোক পাথর সংগ্রহ করে সালাতের স্থান বানাতে শুরু করল এবং সেখানে সালাত আদায় করল। যখন সকাল হলো, তখন দেখা গেল যে আমরা কিবলা ছাড়া অন্য দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছি! আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা এই রাতে কিবলা ছাড়া অন্য দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছি? তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন: "পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই..." আয়াতটি। এরপর তিনি বললেন: তোমাদের সালাত হয়ে গেছে (৬)।

দারাকুতনী, ইবনে মারদুওয়াইহি এবং বায়হাকী জাবির থেকে মারফূ’ হিসেবে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে সেখানে উল্লেখ আছে যে তারা কিছু রেখা টেনেছিলেন। ইবনে মারদুওয়াইহি ইবনে আব্বাস থেকে দুর্বল সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি আরও বর্ণনা করেছেন

--------------------------------------------

(১) মুসলিম সহীহ গ্রন্থে হা/ [৭০০], বুখারী সহীহ গ্রন্থে [২/৫৭৪] হা/ [১০৯৬], ইবনে আবি শাইবা [২/২৩৬], মালিক মুয়াত্তায় [১/১৫১], আহমাদ মুসনাদে [২/৬৬], তাবারী তাফসীরে হা/ [১৮৪১], নাসায়ী সুনানে [১/২৪৪] ও [২/৬১] এবং বায়হাকী সুনানে [২/৪] বর্ণনা করেছেন।

(২) দেখুন তাবারীর তাফসীর হা/ [১৮৪১] ও [১৮৪২]।

(৩) সুনানে দারাকুতনী [১/৩৯৬]।

(৪) বুখারী সহীহ গ্রন্থে [১/৫০৩] হা/ [৪০০], [১০৯৪], [১০৯৯], [৪১৪০], আবদুর রাজ্জাক মুসান্নাফে হা/ [৪৫১০] ও [৪৫১৬], দারেমী সুনানে [১/৩৫৬], ইবনে হিব্বান সহীহ গ্রন্থে [৬/২৬৫- ইহসানসহ] হা/ [২৫২১], বায়হাকী সুনানে [২/৬] এবং ইবনে আবি শাইবা মুসান্নাফে [১/২৩৬] হা/ [৮৫১২] বর্ণনা করেছেন।

(৫) [হাসান] ইবনে আবি শাইবা মুসান্নাফে [২/২৩৬] এবং আবু দাউদ সুনানে [২/৯] হা/ [১২২৫] বর্ণনা করেছেন।

(৬) [হাসান] তিরমিযী সুনানে [২/১৭৬] হা/ [৩৪৫], দারাকুতনী সুনানে [১/২৭২], ইবনে জারীর তাবারী তাফসীরে [১/৫৫০] হা/ [১৮৪৩], তায়ালিসি তাঁর মুসনাদে হা/ [১১৪৫], ইবনে মাজাহ [১/১৬৫], বায়হাকী সুনানে [২/১১], হাকেম মুস্তাদরাকে [১/২০৬], দারাকুতনী [১/২৭১] এবং বায়হাকী সুনানে [২/১০, ১১-১২] বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
نحوه أيضا سعيد بن منصور وابن المنذر عن عطاء يرفعه وهو مرسل.

وأخرج ابن أبي حاتم عن ابن عباس: فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ قال: قبلة الله أينما توجهت شرقا أو غربا.

وأخرج ابن أبي شيبة والدارقطني والترمذي- وصححه- وابن ماجة عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: «ما بين المشرق والمغرب قبلة» «1» وأخرج ابن أبي شيبة والدارقطني والبيهقي عن ابن عمر مثله، وأخرج ابن أبي شيبة والبيهقي عن عمر نحوه.

[الآية الخامسة]

وَإِذِ ابْتَلى إِبْراهِيمَ رَبُّهُ بِكَلِماتٍ فَأَتَمَّهُنَّ قالَ إِنِّي جاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِماماً قالَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي قالَ لا يَنالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ (124) .

لا يَنالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ (124) . اختلف في المراد بالعهد فقيل: الإمامة وقيل:

النبوة، وقيل: عهد الله: أمره. وقيل: الأمان من عذاب الآخرة! ورجحه الزجاج، والأول أظهر كما يفيده السياق.

وقد استدل بهذه الآية جماعة من أهل العلم على أن الإمام لا بد أن يكون من أهل العدل والعمل بالشرع كما ورد، لأنه إذا زاغ عن ذلك كان ظالما.

ويمكن أن ينظر إلى ما يصدق عليه اسم العهد وما تفيده الإضافة من العموم فيشمل جميع ذلك اعتبارا بعموم اللفظ من غير نظر إلى السبب ولا إلى السياق، فيستدل به على اشتراط السلامة من وصف الظلم في كل ما تعلق بالأمور الدينية.

وقد اختار ابن جرير «2» أن هذه الآية وإن كانت ظاهرة في الخبر أنه لا ينال عهدي بالإمامة ظالما، ففيه تعظيم من الله لإبراهيم الخليل: أنه سيوجد من ذريته من هو ظالم لنفسه. انتهى.

--------------------------------------------

(1) [صحيح] أخرجه ابن أبي شيبة في المصنف [2/ 141] ح [7440] والترمذي في السنن [2/ 173] ح [344] ومن طريق البغوي في «شرح السنة» [2/ 327] ح [446] ورواه ابن ماجة في السنن [1/ 323] ح [1011] ورواه الحاكم في المستدرك [1/ 205، 206] انظر الميزان [3/ 621] ح [7839] ورواه البيهقي في السنن [2/ 9] ورواه الدارقطني في السنن [1/ 270- 271] انظر المصنف لابن أبي شيبة [2/ 140- 141] ومالك في الموطأ [1/ 196] /] .

(2) تفسير الطبري [1/ 578] . [.....]
অনুরূপভাবে সাঈদ ইবনে মানসুর এবং ইবনুল মুনযির আতা থেকে এটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এটি মুরসাল।

এবং ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: "সেখানেই আল্লাহর চেহারা" - তিনি বলেন: আল্লাহর কিবলা, তুমি পূর্ব বা পশ্চিম যেদিকেই মুখ ফেরাও না কেন।

ইবনে আবি শাইবা, দারা কুতনি, তিরমিযী—তিনি একে সহিহ বলেছেন—এবং ইবনে মাজাহ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যবর্তী স্থানই কিবলা।" ইবনে আবি শাইবা, দারা কুতনি এবং বায়হাকী ইবনে উমর থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবি শাইবা এবং বায়হাকী উমর থেকেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

[পঞ্চম আয়াত]

এবং যখন ইব্রাহীমকে তার প্রতিপালক কয়েকটি বাক্য দ্বারা পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি সেগুলো পূর্ণ করলেন। তিনি বললেন, ‘নিশ্চয় আমি তোমাকে মানুষের জন্য ইমাম (নেতা) নিযুক্ত করছি।’ তিনি (ইব্রাহীম) বললেন, ‘আর আমার বংশধরদের থেকেও?’ তিনি (আল্লাহ) বললেন, ‘আমার অঙ্গীকার জালেমদের পর্যন্ত পৌঁছাবে না’ (১২৪) ।

আমার অঙ্গীকার জালেমদের পর্যন্ত পৌঁছাবে না (১২৪)। অঙ্গীকার (আহদ) দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে: এটি হলো ইমামত। কেউ বলেছেন: নবুওয়াত। আবার কেউ বলেছেন: আল্লাহর অঙ্গীকার হলো তাঁর আদেশ। কেউ বলেছেন: পরকালের আজাব থেকে নিরাপত্তা! আর যাজ্জাজ একে প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে প্রথম মতটিই অধিক স্পষ্ট, যা প্রেক্ষাপট থেকে বোঝা যায়।

একদল আলিম এই আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, ইমামকে অবশ্যই ন্যায়পরায়ণ হতে হবে এবং বর্ণিত শরয়ি বিধান অনুযায়ী আমলকারী হতে হবে। কারণ তিনি যদি তা থেকে বিচ্যুত হন, তবে তিনি জালেম হিসেবে গণ্য হবেন।

"অঙ্গীকার" (আহদ) শব্দটির প্রয়োগ এবং এর সাথে সম্পৃক্ততার ব্যাপকতার দিকে লক্ষ্য করলে বলা যায় যে, এটি সবকিছুকেই শামিল করে। এখানে শব্দের ব্যাপকতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বা প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে। ফলে দ্বীনি বিষয়াবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ক্ষেত্রে জুলুমের বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত থাকার শর্তের ওপর এটি দ্বারা দলিল প্রদান করা যায়।

ইবনে জারীর পছন্দ করেছেন যে, যদিও এই আয়াতটি বাহ্যিকভাবে সংবাদ দিচ্ছে যে ইমামতের অঙ্গীকার কোনো জালেমের কাছে পৌঁছাবে না, তবুও এতে আল্লাহর পক্ষ থেকে ইব্রাহীম খলীলকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে যে, তাঁর বংশধরদের মধ্যে এমন লোকও আসবে যারা নিজেদের প্রতি জুলুমকারী হবে। সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) [সহিহ] এটি ইবনে আবি শাইবা আল-মুসান্নাফ [২/১৪১] হা. [৭৪৪০], তিরমিযী আস-সুনান [২/১৭৩] হা. [৩৪৪] এবং বগভীর মাধ্যমে শারহুস সুন্নাহ [২/৩২৭] হা. [৪৪৬] গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাজাহ আস-সুনান [১/৩২৩] হা. [১০১১] এবং হাকেম আল-মুস্তাদরাক [১/২০৫, ২০৬] গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। দেখুন: আল-মিযান [৩/৬২১] হা. [৭৮৩৯]। বায়হাকী আস-সুনান [২/৯] এবং দারা কুতনি আস-সুনান [১/২৭০-২৭১] গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। দেখুন: ইবনে আবি শাইবার মুসান্নাফ [২/১৪০-১৪১] এবং মালিক আল-মুওয়াত্তা [১/১৯৬]।

(২) তাফসীরে তাবারী [১/৫৭৮]। [.....]
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
قال الشوكاني في «فتح القدير» «1» : ولا يخفى عليك أنه لا جدوى لكلامه هذا فالأولى أن يقال: إن هذا الخبر في معنى الأمر لعباده أن لا يولّوا أمور الشرع ظالما.

وإنما قلنا إنه في معنى الأمر لأن إخباره تعالى لا يجوز أن يتخلف، وقد علمنا أنه قد نال عهده من الإمامة وغيرها كثيرا من الظالمين. انتهى.

وأخرج عبد بن حميد عن ابن عباس في قوله تعالى: قالَ إِنِّي جاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِماماً يقتدى بدينك وهديك وسنتك. قالَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي إماما لغير ذريتي؟ قالَ لا يَنالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ (124) . أن يقتدى بدينهم وهديهم وسنتهم.

وأخرج الفريابي وابن أبي حاتم عنه قال: قال الله لإبراهيم: إِنِّي جاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِماماً فأبى أن يفعل ثم قال: قالَ لا يَنالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ 124.

وأخرج عبد الرزاق وعبد بن حميد وابن جرير عن قتادة قال: هذا عند الله يوم القيامة لا ينال عهده ظالما. فأما في الدنيا فقد نالوا عهده فوارثوا به المسلمين وغازوهم وناكحوهم فلما كان يوم القيامة قصر الله عهده وكرامته على أوليائه «2» .

وأخرج عبد بن حميد وابن جرير عن مجاهد في تفسير الآية أنه قال: لا أجعل إماما ظالما يقتدى به «3» .

وأخرج ابن إسحاق وابن جرير وابن أبي حاتم عن ابن عباس في الآية قال: يخبره أنه إن كان في ذريته ظالم فلا ينال عهده، ولا ينبغي له أن يوليه شيئا من أمره.

وأخرج عبد بن حميد وابن جرير وابن المنذر عنه أنه قال: ليس لظالم عليك عهد في معصية الله «4» .

وقد أخرج وكيع وابن مردويه من حديث علي عليه السلام عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم في قوله:

لا يَنالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ (124) : قال: «لا طاعة إلا في المعروف» «5» .

وأخرج عبد بن حميد من حديث عمران بن حصين: سمعت النبي صلى الله عليه وآله وسلم يقول: «لا

--------------------------------------------

(1) فتح القدير [1/ 138] .

(2) أخرجه ابن جرير في التفسير [1/ 579] ح [1959] .

(3) أخرجه ابن جرير في التفسير [1/ 578- 579] ح [1954] .

(4) انظر تفسير الطبري [1/ 579] .

(5) أصله عند البخاري في الصحيح [8/ 58] ح [4340] ومسلم [3/ 1468] ح [1840] .
'ফাতহুল কাদির' (১) গ্রন্থে শাওকানি বলেছেন: আপনার কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, তার এই কথার কোনো সার্থকতা নেই। বরং অগ্রগণ্য বিষয় হলো এটি বলা যে: এই সংবাদটি মূলত তাঁর বান্দাদের প্রতি একটি নির্দেশের অর্থে এসেছে যে, তারা যেন কোনো জালেমকে শরীয়তের বিষয়ের দায়িত্ব অর্পণ না করে।

আমরা কেন বলেছি যে এটি নির্দেশের অর্থে, তার কারণ হলো মহান আল্লাহর সংবাদ বিফল হওয়া সম্ভব নয়; অথচ আমরা জানি যে অনেক জালেমই ইমামত ও অন্যান্য বিষয়ে আল্লাহর অঙ্গীকার (কর্তৃত্ব) লাভ করেছে। (সমাপ্ত)।

মহান আল্লাহর বাণী: "তিনি বললেন, আমি তোমাকে মানুষের জন্য ইমাম (নেতা) করছি" - এর ব্যাখ্যায় আবদ বিন হুমাইদ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এর অর্থ হলো তোমার দ্বীন, হিদায়াত ও সুন্নাত অনুসরণ করা হবে। তিনি (ইবরাহিম) আরজ করলেন: "এবং আমার বংশধরদের থেকেও কি আমার বংশধর ছাড়া অন্যদের জন্য ইমাম হবে?" আল্লাহ বললেন: "আমার অঙ্গীকার জালেমদের কাছে পৌঁছাবে না" (১২৪)। অর্থাৎ তাদের দ্বীন, হিদায়াত ও সুন্নাত অনুসরণ করা হবে না।

ফিরইয়াবি ও ইবনে আবি হাতিম তাঁর (ইবনে আব্বাস) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ ইবরাহিমকে বললেন: "আমি তোমাকে মানুষের জন্য ইমাম করছি।" তখন তিনি তা করতে চাইলেন, অতঃপর আল্লাহ বললেন: "আমার অঙ্গীকার জালেমদের কাছে পৌঁছাবে না" (১২৪)।

আবদুর রাজ্জাক, আবদ বিন হুমাইদ এবং ইবনে জারির কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এটি কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট কার্যকর হবে, তখন কোনো জালেম তাঁর অঙ্গীকার পাবে না। তবে দুনিয়াতে তারা তাঁর অঙ্গীকার লাভ করেছে, যার মাধ্যমে তারা মুসলিমদের উত্তরাধিকারী হয়েছে, তাদের সাথে যুদ্ধ করেছে এবং তাদের সাথে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। কিন্তু যখন কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে, আল্লাহ তাঁর অঙ্গীকার ও সম্মানকে কেবল তাঁর ওলীদের জন্য সীমাবদ্ধ করে দেবেন (২)।

আবদ বিন হুমাইদ ও ইবনে জারির আয়াতটির ব্যাখ্যায় মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি কোনো জালেমকে ইমাম বানাবো না যাকে অনুসরণ করা যায় (৩)।

ইবনে ইসহাক, ইবনে জারির ও ইবনে আবি হাতিম আয়াতটির ব্যাপারে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ তাকে (ইবরাহিমকে) সংবাদ দিচ্ছেন যে, যদি তাঁর বংশধরদের মধ্যে কোনো জালেম থাকে তবে সে আল্লাহর অঙ্গীকার লাভ করবে না, এবং আল্লাহর কোনো বিষয়ের দায়িত্ব তাকে অর্পণ করা সমীচীন নয়।

আবদ বিন হুমাইদ, ইবনে জারির ও ইবনে মুনজির তাঁর (ইবনে আব্বাস) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর অবাধ্যতার কাজে কোনো জালেমের জন্য তোমার ওপর কোনো আনুগত্যের অঙ্গীকার নেই (৪)।

ওয়াকি' এবং ইবনে মারদুইয়াহ আলী আলাইহিস সালামের সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন:

"আমার অঙ্গীকার জালেমদের কাছে পৌঁছাবে না" (১২৪): তিনি বলেন: "কেবল সৎকাজেই আনুগত্য করতে হবে" (৫)।

আবদ বিন হুমাইদ ইমরান বিন হুসাইন বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "না

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল কাদির [১/ ১৩৮]।

(২) ইবনে জারির এটি তাফসির গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন [১/ ৫৭৯] হা [১৯৫৯]।

(৩) ইবনে জারির এটি তাফসির গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন [১/ ৫৭৮- ৫৭৯] হা [১৯৫৪]।

(৪) দ্রষ্টব্য: তাবারির তাফসির [১/ ৫৭৯]।

(৫) এর মূল ভিত্তি বুখারি রহ.-এর সহিহ গ্রন্থে [৮/ ৫৮] হা [৪৩৪০] এবং মুসলিম রহ.-এর সহিহ গ্রন্থে [৩/ ১৪৬৮] হা [১৮৪০] বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২০)
طاعة لمخلوق في معصية الله» «1» .

وأخرج ابن جرير عن ابن عباس أنه قال في تفسير الآية: ليس للظالم عهد، وإن عاهدته فانقضه «2» .

قال ابن كثير: وروى عن مجاهد وعطاء ومقاتل بن حيان نحوه «3» .

[الآية السادسة] وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثابَةً لِلنَّاسِ وَأَمْناً وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقامِ إِبْراهِيمَ مُصَلًّى وَعَهِدْنا إِلى إِبْراهِيمَ وَإِسْماعِيلَ أَنْ طَهِّرا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ (125) .

وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقامِ إِبْراهِيمَ مُصَلًّى قرأ نافع وابن عامر بفتح الخاء على أنه فعل ماض، وقرأ الباقون على صيغة الأمر.

والمقام في اللغة: موضع القيام.

واختلف في تعيين المقام على أقوال أصحها أنه الحجر الذي يعرفه الناس ويصلون عنده ركعتي الطواف.

وقيل المقام: الحج كله. وروي ذلك عن عطاء ومجاهد.

وقيل: عرفة والمزدلفة، وروي عن عطاء أيضا.

وقال الشعبي: الحرم كله مقام إبراهيم. وروي عن مجاهد.

وأخرج البخاري وغيره من حديث أنس عن عمر بن الخطاب: «وافقت ربي في ثلاث ووافقني ربي في ثلاث. قلنا: يا رسول الله لو اتخذت من مقام إبراهيم مصلى؟

فنزلت وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقامِ إِبْراهِيمَ مُصَلًّى. وقلت: يا رسول الله: إن نساءك يدخل عليهن البر والفاجر فلو أمرتهنّ أن يحتجبن؟ فنزلت آية الحجاب. واجتمع على رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم

--------------------------------------------

(1) [صحيح] أخرجه أحمد في المسند [5/ 66] والطيالسي في المسند ح [856] والحاكم في المستدرك [3/ 443] .

انظر شرح السنة للبغوي [10/ 44] وصحيح ابن حبان [10/ 430 و 431] .

(2) أخرجه ابن جرير في التفسير [1/ 579] ح [1957] .

(3) تفسير ابن كثير [1/ 159] .
আল্লাহর অবাধ্যতায় কোনো সৃষ্টির আনুগত্য নেই» «১» ।

ইবনে জারীর ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এই আয়াতের তাফসিরে বলেছেন: যালিমের জন্য কোনো অঙ্গীকার নেই, আর যদি তুমি তার সাথে অঙ্গীকার করোও, তবে তা ভঙ্গ করো «২» ।

ইবনে কাসীর বলেন: মুজাহিদ, আতা এবং মুকাতিল বিন হাইয়ান থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে «৩» ।

[ষষ্ঠ আয়াত] আর স্মরণ করো, যখন আমি এই ঘরকে মানুষের প্রত্যাবর্তনস্থল ও নিরাপদ স্থান বানিয়েছিলাম এবং (বলেছিলাম) তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে নামাযের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো। আর আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ দিয়েছিলাম যে, তোমরা আমার ঘরকে পবিত্র করো তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী এবং রুকু ও সিজদাকারীদের জন্য (১২৫)।

“তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে নামাযের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো”—নাফি' এবং ইবনে আমির ‘খা’ বর্ণে ফাতহা (যবর) যোগে অতীতকালীন ক্রিয়া হিসেবে পড়েছেন। আর অবশিষ্টগণ এটিকে আদেশবাচক রূপে পড়েছেন।

অভিধানে ‘মাকাম’ অর্থ হলো: দাঁড়ানোর স্থান।

মাকাম নির্দিষ্ট করার ব্যাপারে বিভিন্ন উক্তি রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ মত হলো, এটি সেই পাথর যা মানুষ চেনে এবং যার নিকটে তারা তাওয়াফের দুই রাকাত নামায পড়ে।

কেউ কেউ বলেন: মাকাম হলো পুরো হজ্জ। আতা ও মুজাহিদ থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে।

আবার বলা হয়েছে: এটি আরাফাত ও মুযদালিফা। এটিও আতা থেকে বর্ণিত হয়েছে।

শাবী বলেন: পুরো হারাম এলাকাটিই মাকামে ইবরাহীম। এটি মুজাহিদ থেকেও বর্ণিত হয়েছে।

বুখারী ও অন্যান্যরা আনাস (রা.)-এর সূত্রে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: «আমি আমার প্রতিপালকের সাথে তিনটি বিষয়ে একমত হয়েছি। আমরা বলেছিলাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি মাকামে ইবরাহীমকে নামাযের স্থান হিসেবে গ্রহণ করতেন?

তখন অবতীর্ণ হলো—“তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে নামাযের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো”। আর আমি বলেছিলাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার স্ত্রীদের নিকট নেককার-বদনসীব উভয় ধরনের লোকই প্রবেশ করে, আপনি যদি তাঁদেরকে পর্দার আদেশ করতেন? তখন পর্দার আয়াত নাযিল হলো। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধে একত্রিত হলো...

--------------------------------------------

(১) [সহীহ] আহমাদ তাঁর মুসনাদ [৫/ ৬৬], তায়ালিসি তাঁর মুসনাদ হাদীস নং [৮৫৬] এবং হাকেম তাঁর মুসতাদরাক [৩/ ৪৪৩] গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

বাগাভীর শারহুস সুন্নাহ [১০/ ৪৪] এবং সহীহ ইবনে হিব্বান [১০/ ৪৩০ ও ৪৩১] দেখুন।

(২) ইবনে জারীর তাঁর তাফসির [১/ ৫৭৯] হাদীস নং [১৯৫৭] গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(৩) তাফসিরে ইবনে কাসীর [১/ ১৫৯]।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২১)
نساؤه في الغيرة فقلت لهن: «عسى ربه إن طلقكن أن يبدله أزواجا خيرا منكن فنزلت كذلك» «1» وأخرجه مسلم وغيره مختصرا من حديث ابن عمر عنه.

وأخرج مسلم وغيره من حديث جابر: أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم رمل ثلاثة أشواط ومشى أربعة حتى إذا فرغ عمد إلى مقام إبراهيم وصلى خلفه ركعتين ثم قرأ: وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقامِ إِبْراهِيمَ مُصَلًّى «2» .

واختلفوا في قوله مصلى: فمن فسّر المقام بمشاهد الحج ومشاعره قال: مصلى مدعى من الصلاة التي هي الدعاء، ومن فسّر المقام بالحجر قال: معناه اتخذوا من مقام إبراهيم قبلة لصلاتكم، فأمروا بالصلاة عنده. وهذا هو الصحيح.

ثم العندية تصدق بجهاته الأربع والتخصيص بكون المصلي خلفه إنما استفيد من فعل النبي صلى الله عليه وآله وسلم والصحابة من بعده رضي الله عنهم.

وفي مقام إبراهيم أحاديث كثيرة مستوفاة في الأمهات وغيرها.

والأحاديث الصحيحة تدل على أن مقام إبراهيم هو الحجر الذي كان إبراهيم يقوم عليه لبناء الكعبة لما ارتفع الجدار أتاه إسماعيل به ليقوم فوقه، كما في البخاري من حديث ابن عباس «3» . وهو الذي كان ملصقا بجدار الكعبة وأول من نقله عمر بن الخطاب، كما أخرجه عبد الرزاق «4» والبيهقي بإسناد صحيح، وابن أبي حاتم وابن مردويه من طرق مختلفة.

وأخرج ابن أبي حاتم من حديث جابر في وصف حج النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: «لما طاف النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال له عمر هذا مقام إبراهيم؟ قال نعم» وأخرج نحوه ابن مردويه.

أَنْ طَهِّرا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ (125) المراد بالتطهير قيل: من

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في الصحيح [8/ 168] ح [4483] وأحمد في المسند [1/ 24، 36- 37] وفي فضائل الصحابة ح [434] و [437] .

وأخرجه الدارمي في السنن [2/ 44] والبخاري في الصحيح ح [4790] والترمذي في الجامع [5/ 190] ح [2959] و [2960] .

(2) أخرجه مسلم في الصحيح [2/ 921] ح [1263] ومالك في الموطأ [1/ 364] والترمذي في الجامع [3/ 212] ح [857] والدارمي في السنن [2/ 42] والنسائي في السنن [5/ 230] .

(3) أخرجه البخاري في الصحيح [6/ 396- 398] ح [3364] .

(4) أخرجه عبد الرزاق في المصنف [5/ 48] ح [8955] .
তাঁর স্ত্রীগণ যখন ঈর্ষা করতে লাগলেন, তখন আমি তাঁদেরকে বললাম: ‘যদি তিনি তোমাদেরকে তালাক দিয়ে দেন, তবে হয়তো তাঁর প্রতিপালক তাঁকে তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়ে উত্তম স্ত্রী দান করবেন’। তখন সেভাবেই নাযিল হলো। মুসলিম ও অন্যান্যরা ইবনে উমর (রা.)-এর সূত্রে তাঁর থেকে এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।

মুসলিম ও অন্যান্যরা জাবির (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তিন চক্কর রমল (দ্রুত পদচারণা) করলেন এবং চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হাঁটলেন। যখন তিনি শেষ করলেন, তখন তিনি মাকামে ইবরাহিমের দিকে অগ্রসর হলেন এবং এর পেছনে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: ‘আর তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো’।

‘মুসাল্লা’ (সালাতের স্থান) শব্দটির ব্যাখ্যায় উলামাগণ মতভেদ করেছেন। যারা ‘মাকাম’ শব্দটিকে হজের বিভিন্ন নিদর্শন ও পবিত্র স্থানসমূহ দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন, তাঁরা বলেছেন: ‘মুসাল্লা’ মানে দোয়ার জায়গা, যা সালাত তথা দোয়া থেকে উদ্ভূত। আর যারা মাকামকে পাথর হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, তাঁরা বলেছেন: এর অর্থ হলো তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে তোমাদের সালাতের কিবলা হিসেবে গ্রহণ করো। ফলে তাঁর নিকট সালাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এটিই সঠিক মত।

এরপর মাকামের ‘নিকটবর্তী হওয়া’ বলতে এর চার দিকের যে কোনো দিকই হতে পারে। তবে সালাত আদায়কারীর মাকামের পেছনে থাকার বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরবর্তী সাহাবায়ে কিরাম (রা.)-এর আমল থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।

মাকামে ইবরাহিম সম্পর্কে অনেক হাদিস রয়েছে যা মূল হাদিসগ্রন্থসমূহ ও অন্যান্য কিতাবে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।

সহিহ হাদিসসমূহ একথার প্রমাণ দেয় যে, মাকামে ইবরাহিম হলো সেই পাথর যার ওপর দাঁড়িয়ে ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) কাবাঘর নির্মাণ করতেন। যখন দেয়াল উঁচু হয়ে গেল, তখন ইসমাইল (আলাইহিস সালাম) পাথরটি নিয়ে আসলেন যাতে তিনি এর ওপর দাঁড়িয়ে কাজ করতে পারেন, যেমনটি বুখারিতে ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এটি আগে কাবার দেয়ালের সাথে লেগে থাকত। সর্বপ্রথম উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এটি সরিয়ে (বর্তমানে যেখানে আছে সেখানে) স্থাপন করেন, যা আব্দুর রাজ্জাক ও বায়হাকি সহিহ সনদে এবং ইবনে আবি হাতিম ও ইবনে মারদাওয়াই বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আবি হাতিম জাবির (রা.) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের হজের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেন: ‘যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাওয়াফ করলেন, তখন উমর (রা.) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, এটিই কি মাকামে ইবরাহিম? তিনি বললেন, হ্যাঁ’। ইবনে মারদাওয়াইও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

‘আমার ঘরকে পবিত্র রাখো তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী এবং রুকু ও সিজদাকারীদের জন্য’ (১২৫)। পবিত্রকরণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে:

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে [৮/ ১৬৮], হাদিস নং [৪৪৮৩] এবং আহমাদ তাঁর মুসনাদে [১/ ২৪, ৩৬-৩৭] ও ফাযায়িলুস সাহাবাহ গ্রন্থে হাদিস নং [৪৩৪] ও [৪৩৭] এ বর্ণনা করেছেন।

আর দারেমি তাঁর সুনানে [২/ ৪৪], বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে হাদিস নং [৪৭৯০] এবং তিরমিযী তাঁর জামি‘ গ্রন্থে [৫/ ১৯০], হাদিস নং [২৯৫৯] ও [২৯৬০] এ বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে [২/ ৯২১], হাদিস নং [১২৬৩], মালিক তাঁর মুওয়াত্তায় [১/ ৩৬৪], তিরমিযী তাঁর জামি‘ গ্রন্থে [৩/ ২১২], হাদিস নং [৮৫৭], দারেমি তাঁর সুনানে [২/ ৪২] এবং নাসাঈ তাঁর সুনানে [৫/ ২৩০] এ বর্ণনা করেছেন।

(৩) এটি বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে [৬/ ৩৯৬-৩৯৮], হাদিস নং [৩৩৬৪] এ বর্ণনা করেছেন।

(৪) এটি আব্দুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফে [৫/ ৪৮], হাদিস নং [৮৯৫৫] এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২২)
الأوثان، وقيل: من الآفات والريب، وقيل: من الكفر وقول الزور والرجس، وقيل: من النجاسات وطواف الجنب والحائض وكل خبيث.

والظاهر أنه لا يختص بنوع من هذه الأنواع وأن كل ما يصدق عليه مسمى التطهير فهو يتناوله تناولا شموليا.

والإضافة في قوله: بَيْتِيَ للتشريف والتكريم. وقرأ الحسن وابن أبي إسحاق وأهل المدينة وهشام وحفص: بيتي بفتح الياء، وقرأ الآخرون بإسكانها.

والمراد بالبيت: الكعبة.

والطائف: الذي يطوف به ويدور حوله. وقيل: الغريب الطارئ على مكة.

والعاكف: المقيم. وأصل العكوف في اللغة: اللزوم والإقبال على الشيء، وقيل: هو المجاور دون المقيم من أهلها.

والمراد بقوله وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ (125) : المصلون، وخص هاتين الركعتين بالذكر لأنهما أشرف أركان الصلاة.

أخرج ابن أبي حاتم عن ابن عباس قال: إذا كان قائما فهو من الطائفتين، وإذا كان جالسا فهو من العاكفين، وإذا كان مصليا فهو من الركع السجود.

وأخرج عبد بن حميد وابن أبي حاتم عن عمر بن الخطاب أنه سئل عن الذين ينامون في المسجد؟ فقال: هم العاكفون.

[الآية السابعة]

قَدْ نَرى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّماءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضاها فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرامِ وَحَيْثُ ما كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ وَإِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتابَ لَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّهِمْ وَمَا اللَّهُ بِغافِلٍ عَمَّا يَعْمَلُونَ (144) .

فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرامِ وَحَيْثُ ما كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ المراد بالشطر: الناحية والجهة، وهو منتصب على الظرفية. ومنه قول الشاعر:

أقول لأمّ زنباع أقيمي … صدور العيس شطر بني تميم
মূর্তিসমূহ; কেউ কেউ বলেছেন: আপদ ও সন্দেহ থেকে; কেউ কেউ বলেছেন: কুফর, মিথ্যা কথা ও অপবিত্রতা থেকে; আবার কেউ কেউ বলেছেন: নাপাকি, অপবিত্র অবস্থায় ও ঋতুবতী অবস্থায় তওয়াফ করা এবং সকল প্রকার মন্দ বিষয় থেকে।

প্রকাশ্যত এটি এই প্রকারগুলোর কোনো একটির সাথে নির্দিষ্ট নয়, বরং যার ওপরই 'পবিত্রকরণ' শব্দটি প্রযোজ্য হয়, এটি তাকে সামগ্রিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করে।

আল্লাহর বাণী: 'আমার ঘর'-এ সম্বন্ধপদটি সম্মান ও মর্যাদার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। হাসান, ইবনে আবি ইসহাক, মদীনাবাসীগণ, হিশাম এবং হাফস 'বাইতিয়া' (ইয়া-তে যবরসহ) পাঠ করেছেন, আর অন্য পাঠগণ এটি সাকিন (ইয়া-তে জযমসহ) পাঠ করেছেন।

এখানে 'ঘর' বলতে কাবাকে বোঝানো হয়েছে।

তওয়াফকারী: যে কাবার চারদিকে তওয়াফ করে ও ঘোরে। কেউ কেউ বলেছেন: মক্কায় আগত বহিরাগত মুসাফির।

আকিফ: অবস্থানকারী। আভিধানিক অর্থে 'উকূফ' হলো কোনো জিনিসের সাথে লেগে থাকা এবং তার প্রতি মনোনিবেশ করা। কেউ কেউ বলেছেন: এটি মক্কার স্থায়ী বাসিন্দাদের পরিবর্তে যারা সেখানে সাময়িকভাবে অবস্থান করে তাদের বোঝায়।

'রুকুকারী ও সিজদাকারীগণ' (১২৫) কথাটি দ্বারা সালাত আদায়কারীদের বোঝানো হয়েছে। সালাতের এই দুটি রোকনকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ এগুলো সালাতের সর্বাধিক সম্মানিত স্তম্ভ।

ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: যখন সে দাঁড়িয়ে থাকে তখন সে তওয়াফকারীদের অন্তর্ভুক্ত, যখন সে বসা থাকে তখন সে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত, আর যখন সে সালাত আদায় করে তখন সে রুকু ও সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

আবদ বিন হুমাইদ এবং ইবনে আবি হাতিম উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে মসজিদে ঘুমানো ব্যক্তিদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: তারাই হলো অবস্থানকারী।

[সপ্তম আয়াত]

নিশ্চয়ই আমরা আপনার আকাশের দিকে বারবার মুখ ফিরানো দেখতে পাই। সুতরাং আমরা অবশ্যই আপনাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব যা আপনি পছন্দ করেন। অতএব আপনি আপনার মুখ মসজিদে হারামের দিকে ফিরান। আর তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদের মুখমণ্ডল তার দিকেই ফিরিয়ে নাও। আর যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে, তারা অবশ্যই জানে যে এটি তাদের রবের পক্ষ থেকে সত্য। আর তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ গাফেল নন (১৪৪)।

'অতএব আপনি আপনার মুখ মসজিদে হারামের দিকে ফিরান। আর তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদের মুখমণ্ডল তার দিকেই ফিরিয়ে নাও'। এখানে 'শাতরা' বলতে দিক ও অভিমুখ বোঝানো হয়েছে, এবং এটি স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে জবরযুক্ত হয়েছে। কবির উক্তিতেও এটি পাওয়া যায়:

আমি উম্মে যাম্বাউকে বলছি, তুমি উটগুলোর বুক বনী তামীমের দিকের দিকে স্থির রাখো।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد يراد بالشطر النصف، ومنه: «الوضوء شطر الإيمان» «1» ويرد بمعنى البعض مطلقا. ولا خلاف في أن المراد بشطر المسجد بناء الكعبة.

وقد حكى القرطبي الإجماع على أن استقبال عين الكعبة فرض على المعاين، وعلى أن غير المعاين يستقبل الناحية. ويستدل على ذلك بما يمكنه الاستدلال به «2» .

وأخرج ابن أبي شيبة وعبد بن حميد وابن جرير عن أبي العالية قال: شطر المسجد الحرام: تلقاؤه «3» .

وأخرج عبد بن حميد وأبي داود في «ناسخه» وابن جرير وابن أبي حاتم عن البراء في قوله تعالى هذا، قال: قبله «4» .

وأخرج عبد بن حميد وابن جرير وابن المنذر وابن أبي حاتم والحاكم وصححه- والبيهقي في سننه عن علي مثله «5» .

وأخرج أبو داود في «ناسخه» وابن جرير والبيهقي عن ابن عباس قال: شطره:

نحوه «6» .

وأخرج ابن جرير عنه قال: البيت كله قبلة، وقبلة البيت الباب «7» .

وأخرج البيهقي في «سننه» عنه مرفوعا قال: «البيت قبلة لأهل المسجد والمسجد قبلة لأهل الحرم، والحرم قبلة لأهل الأرض في مشارقها ومغاربها من أمتي» «8» .

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن أبي شيبة في المصنف كما في الجامع الصغير وقد ذكره شيخنا في «صحيح الجامع» تحت ح [7152] .

(2) انظر تفسير القرطبي [2/ 160] . [.....]

(3) أخرجه الطبري في التفسير [2/ 23] ح [2242] .

(4) أخرجه الطبري في التفسير [2/ 24] ح [2250] .

(5) أخرجه الطبري في التفسير [2/ 25] ح [2256] والبيهقي في السنن الكبرى [2/ 3] .

(6) أخرجه الطبري في التفسير [2/ 24] ح [2243] والبيهقي في السنن [2/ 3] .

(7) أخرجه الطبري في التفسير [2/ 25] ح [2255] .

(8) [ضعيف] أخرجه البيهقي في السنن الكبرى [2/ 10] انظر الميزان [3/ 190] .
কখনও 'শাতর' বলতে অর্ধেক বোঝানো হয়, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে: «পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক» «১»। আবার এটি সাধারণভাবে কোনো কিছুর অংশ বা দিক অর্থেও ব্যবহৃত হয়। আর 'মসজিদের শাতর' বলতে যে কাবার মূল কাঠামোকে বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই।

কুরতুবী এই মর্মে ইজমা (ঐক্যমত) বর্ণনা করেছেন যে, কাবার সামনে উপস্থিত ব্যক্তির জন্য সরাসরি কাবার দিকে মুখ করা ফরজ, আর যে সামনে উপস্থিত নেই তার জন্য কাবার দিকের দিকে মুখ করা কর্তব্য। এর সপক্ষে সে সম্ভাব্য সকল দালিলিক প্রমাণ ব্যবহার করতে পারবে «২»।

ইবনে আবী শায়বাহ, আবদ বিন হুমাইদ এবং ইবনে জারীর আবুল আলিয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: মসজিদুল হারামের শাতর হলো: তার সম্মুখভাগ «৩»।

আবদ বিন হুমাইদ, আবু দাউদ তাঁর ‘নাসিখ’ গ্রন্থে, ইবনে জারীর এবং ইবনে আবী হাতিম মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বারা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: তার দিকে «৪»।

আবদ বিন হুমাইদ, ইবনে জারীর, ইবনে মুনযির, ইবনে আবী হাতিম, হাকেম—যিনি একে সহীহ বলেছেন—এবং বাইহাকী তাঁর ‘সুনান’ গ্রন্থে আলী (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন «৫»।

আবু দাউদ তাঁর ‘নাসিখ’ গ্রন্থে, ইবনে জারীর এবং বাইহাকী ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ‘শাতরাহু’ সম্পর্কে বলেছেন:

তার দিকে «৬»।

ইবনে জারীর তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: পুরো কাবা গৃহই কিবলা, আর কাবার কিবলা হলো তার দরজা «৭»।

বাইহাকী তাঁর ‘সুনান’ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে মারফু হিসেবে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী হিসেবে) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «কাবা গৃহ হলো মাসজিদবাসীদের জন্য কিবলা, মাসজিদ হলো হারাম (মক্কা) এলাকার অধিবাসীদের জন্য কিবলা, আর হারাম এলাকা হলো আমার উম্মতের পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের সকল মানুষের জন্য কিবলা» «৮»।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আবী শায়বাহ এটি ‘মুসান্নাফ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যেমনটি ‘জামেউস সগীর’ গ্রন্থে রয়েছে। আমাদের শায়খ এটি ‘সহীহুল জামে’ গ্রন্থে [৭১৫২] নম্বর হাদিসের অধীনে উল্লেখ করেছেন।

(২) দেখুন: তাফসীরে কুরতুবী [২/ ১৬০]। [.....]

(৩) তাবারী এটি তাঁর তাফসীরে [২/ ২৩] হাদিস নং [২২৪২] বর্ণনা করেছেন।

(৪) তাবারী এটি তাঁর তাফসীরে [২/ ২৪] হাদিস নং [২২৫০] বর্ণনা করেছেন।

(৫) তাবারী তাঁর তাফসীরে [২/ ২৫] হাদিস নং [২২৫৬] এবং বাইহাকী ‘সুনানুল কুবরা’ গ্রন্থে [২/ ৩] এটি বর্ণনা করেছেন।

(৬) তাবারী তাঁর তাফসীরে [২/ ২৪] হাদিস নং [২২৪৩] এবং বাইহাকী ‘সুনান’ গ্রন্থে [২/ ৩] এটি বর্ণনা করেছেন।

(৭) তাবারী এটি তাঁর তাফসীরে [২/ ২৫] হাদিস নং [২২৫৫] বর্ণনা করেছেন।

(৮) [যঈফ বা দুর্বল] বাইহাকী এটি ‘সুনানুল কুবরা’ গ্রন্থে [২/ ১০] বর্ণনা করেছেন। দেখুন: আল-মীজান [৩/ ১৯০]।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
[الآية الثامنة]

إِنَّ الصَّفا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلا جُناحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِما وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْراً فَإِنَّ اللَّهَ شاكِرٌ عَلِيمٌ (158) .

أصل الصفا: الحجر الأملس، وهو هنا علم لجبل من جبال مكة معروف.

وكذلك المروة: علم لجبل بمكة معروف، وأصلها في اللغة واحدة المروي وهي الحجارة الصغار التي فيها لين، وقيل: التي فيه صلابة، وقيل: تعم الجميع، وقيل: إنها الحجارة البيض البراقة، وقيل: إنها الحجارة السود.

والشعائر: جمع شعيرة وهي العلامة من أعلام مناسكه. والمراد بها مواضع العبادة التي أشعرها الله إعلاما للناس: من الموقف والمسعى والمنحر. ومنه إشعار الهدي أي إعلامه بغرز حديدة في سنامه.

وحج البيت في اللغة: قصده، وفي الشرع، الإتيان بمناسك الحج التي شرعها الله سبحانه.

والعمرة في اللغة: الزيادة، وفي الشرع: الإتيان بالنسك المعروف على الصفة الثابتة.

والجناح: أصله من الجنوح: وهو الميل، ومنه الجوانح لاعوجاجها.

ورفع الجناح يدل على الوجوب، وبه قال أبو حنيفة وأصحابه والثوري، وحكى الزمخشري في «الكشاف» عن أبي حنيفة أنه يقول: إنه واجب وليس بركن، وعلى تاركه دم.

وقد ذهب إلى عدم الوجوب ابن عباس وابن الزبير وأنس بن مالك وابن سيرين.

ومما يقوي دلالة هذه الآية على عدم الوجوب قوله تعالى في آخر الآية: وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْراً إلخ.

وذهب الجمهور إلى أن السعي واجب ونسك من جملة المناسك وهو قول عبد الله بن عمر وجابر وعائشة وبه قال الحسن وإليه ذهب الشافعي ومالك واختاره الشوكاني «1» وهو الراجح.

--------------------------------------------

(1) فتح القدير [1/ 160] .
[অষ্টম আয়াত]

নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি কাবা গৃহের হজ করবে অথবা উমরাহ পালন করবে, তার জন্য এই দুইটির মধ্যে সায়ী (প্রদক্ষিণ) করাতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো নেক কাজ করবে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ গুণগ্রাহী ও সর্বজ্ঞ (১৫৮)।

সাফা-এর মূল অর্থ: মসৃণ পাথর। এখানে এটি মক্কার একটি সুপরিচিত পাহাড়ের বিশেষ নাম।

অনুরূপভাবে মারওয়া: মক্কার একটি সুপরিচিত পাহাড়ের নাম। ভাষাগতভাবে এর মূল অর্থ হলো 'মারউই'-এর একবচন, যা মূলত এমন ছোট পাথর যাতে কিছুটা কোমলতা আছে। কেউ কেউ বলেছেন: যাতে কঠোরতা আছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন: এটি সব ধরনের পাথরের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। কেউ বলেছেন: এটি উজ্জ্বল সাদা পাথর। আবার কেউ বলেছেন: এটি কালো পাথর।

শাআইর (নিদর্শনসমূহ): এটি 'শাঈরাহ'-এর বহুবচন, যার অর্থ ইবাদতের বিধানসমূহের কোনো একটি নিদর্শন বা চিহ্ন। এর দ্বারা ইবাদতের সেই স্থানসমূহকে বোঝানো হয়েছে যেগুলোকে আল্লাহ মানুষের জন্য ইবাদতের চিহ্ন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; যেমন: অবস্থানস্থল (আরাফা), সায়ীর স্থান ও কোরবানি করার স্থান। এ থেকেই এসেছে হজের পশুকে চিহ্নিত করা (ইশআর), অর্থাৎ পশুর কুঁজে লোহার টুকরো বিঁধিয়ে চিহ্ন দেওয়া যাতে বোঝা যায় এটি কোরবানির পশু।

ভাষাগতভাবে কাবা ঘরের 'হজ' হলো: কোনো কিছুর সংকল্প করা। আর শরীয়তের পরিভাষায়: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কর্তৃক প্রবর্তিত হজের বিধিবিধানসমূহ পালন করার উদ্দেশ্যে আগমন করা।

ভাষাগতভাবে 'উমরাহ' হলো: বৃদ্ধি করা। আর শরীয়তের পরিভাষায়: সাব্যস্ত পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে সুপরিচিত ইবাদতসমূহ পালন করা।

'জুনাহ' (দোষ): এর মূল উৎস হলো 'জুনুহ', যার অর্থ ঝুঁকে পড়া। আর পাঁজরের হাড়কে তাদের বক্রতার কারণে 'জাওয়ানিহ' বলা হয়।

দোষ বা পাপ তুলে নেওয়ার ঘোষণা এটি ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ দেয়। ইমাম আবু হানিফা, তাঁর সাথীবৃন্দ এবং সুফিয়ান সাওরি এই মত পোষণ করেছেন। আল-যামাখশারি 'আল-কাশশাফ' গ্রন্থে ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: এটি ওয়াজিব কিন্তু রুকন (অপরিহার্য স্তম্ভ) নয়; এবং এটি বর্জনকারীর ওপর দণ্ডস্বরূপ পশু কোরবানি (দম) দেওয়া আবশ্যক।

ইবনে আব্বাস, ইবনে যুবাইর, আনাস ইবনে মালিক এবং ইবনে সিরিন এটি ওয়াজিব না হওয়ার মত পোষণ করেছেন।

এই আয়াতের শেষে মহান আল্লাহর বাণী: "আর যে ব্যক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো নেক কাজ করবে..." ইত্যাদি অংশটি এই আমলটি ওয়াজিব না হওয়ার মতকে শক্তিশালী করে।

জমহুর বা অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম এই মত গ্রহণ করেছেন যে, সায়ী করা ওয়াজিব এবং এটি হজের সামগ্রিক আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি বিধান। এটি আবদুল্লাহ ইবনে উমর, জাবির ও আয়েশা (রা.)-এর অভিমত। ইমাম হাসান বসরী এটিই বলেছেন এবং ইমাম শাফেঈ ও ইমাম মালিকও এই মত গ্রহণ করেছেন। আল-শাওকানি একেই পছন্দ করেছেন এবং এটিই অগ্রগণ্য মত।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল কাদির [১/ ১৬০]।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
واستدلوا بما أخرجه الشيخان وغيرهما عن عائشة أن عروة قال لها: أرأيت قول الله تعالى: إِنَّ الصَّفا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلا جُناحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِما

فما أرى على أحد جناحا أن لا يطوف بهما؟ فقالت عائشة: بئسما قلت يا ابن أختي! إنها لو كانت على ما أولتها لكانت فلا جناح عليه أن لا يطوف بهما ولكنها إنما أنزلت في الأنصار قبل أن يسلموا: كانوا يهلون لمناة الطاغية التي كانوا يعبدونها وكان من أهلّ لها يتحرج أن يطوف بالصفا والمروة في الجاهلية، فأنزل الله، إِنَّ الصَّفا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلا جُناحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِما الآية. قالت عائشة: ثم قد بين رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم الطواف بهما فليس لأحد أن يدع الطواف بهما «1» .

وأخرج مسلم وغيره عنها أنها قالت: لعمري ما أتم الله حج من لم يسع بين الصفا والمروة ولا عمرته لأن الله تعالى قال: إِنَّ الصَّفا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعائِرِ اللَّهِ «2» .

وأخرج الطبراني عن ابن عباس قال: سئل رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فقال: «إن الله كتب عليكم السعي فاسعوا» «3» .

وأخرج أحمد في «مسنده» والشافعي وابن سعد وابن المنذر وابن قانع والبيهقي عن حبيبة بنت أبي تجراة قالت: رأيت رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يطوف بين الصفا والمروة والناس بين يديه وهو وراءهم يسعى حتى أرى ركبتيه من شدة السعي يدور به إزاره وهو يقول:

«اسعوا فإن الله عز وجل كتب عليكم السعي» «4» .

وهو في «مسند أحمد» من طريق شيخه عبد الله بن المؤمل عن عطاء بن أبي رباح

--------------------------------------------

(1) [متفق عليه] أخرجه البخاري في الصحيح [3/ 497] ح [1643] ومسلم في الصحيح [2/ 928] ح [1277] .

(2) أخرجه مسلم في الصحيح ح [1277] .

(3) [ضعيف] أخرجه الطبراني في الكبير [11/ 184] ح [11437] وفي الأوسط كما في المجمع [3/ 239] انظر الميزان [4/ 168] .

(4) [حسن] أخرجه الشافعي في الأم [2/ 231] ومن طريق الدارقطني في السنن [2/ 256] والبغوي في شرح السنة [7/ 140] ح [1921] والبيهقي في السنن الكبرى [5/ 98] وأبو نعيم في الحلية [9/ 159] وأخرجه أحمد في المسند [6/ 421] والطبراني في الكبير كما في المجمع [3/ 247] وابن سعد في الطبقات [8/ 180] والحاكم [4/ 70] .

انظر الفتح [3/ 498] والارواء ح [1172] .
তারা দলিল হিসেবে শাইখাইন এবং অন্যদের বর্ণিত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি পেশ করেছেন যে, উরওয়াহ তাঁকে বলেছিলেন: আপনি কি মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে লক্ষ্য করেছেন: ‘নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি কাবা ঘরের হজ বা উমরা করবে, তার জন্য এই দুটির মাঝে তাওয়াফ (সাঈ) করায় কোনো গুনাহ নেই’

সুতরাং আমি মনে করি না যে, কেউ যদি এ দুটির মাঝে তাওয়াফ না করে তবে তার কোনো গুনাহ হবে? আয়েশা (রা.) বললেন: হে ভাগিনা! তুমি কতই না মন্দ কথা বললে! বিষয়টি যদি তেমন হতো যেমনটি তুমি ব্যাখ্যা করেছ, তবে আয়াতটি হতো— ‘তার জন্য এ দুটির মাঝে তাওয়াফ না করায় কোনো গুনাহ নেই’। বরং এটি মূলত আনসারদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে; ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তারা মানাত নামক সেই পাপিষ্ঠ মূর্তির নামে তালবিয়া পাঠ করত যার তারা পূজা করত। জাহিলিয়াত যুগে যারা মানাতের নামে তালবিয়া পাঠ করত তারা সাফা ও মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ করাকে সংকীর্ণতা (পাপ) মনে করত। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: ‘নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি কাবা ঘরের হজ বা উমরা করবে, তার জন্য এই দুটির মাঝে তাওয়াফ করায় কোনো গুনাহ নেই’— এই আয়াত। আয়েশা (রা.) আরও বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এ দুটির মাঝে তাওয়াফ করাকে বর্ণনা করে দিয়েছেন, সুতরাং কারো জন্য এ দুটির মাঝে তাওয়াফ বর্জন করার সুযোগ নেই। «১»।

মুসলিম ও অন্যরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: আমার জীবনের শপথ! আল্লাহ সেই ব্যক্তির হজ পূর্ণ করেন না যে সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করেনি, না তার উমরা পূর্ণ করেন; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: ‘নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত’ «২»।

তাবারানি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর সাঈ করা লিখে দিয়েছেন (ফরজ করেছেন), সুতরাং তোমরা সাঈ করো’ «৩»।

আহমাদ তাঁর ‘মুসনাদ’-এ এবং শাফিঈ, ইবনে সাদ, ইবনে মুনযির, ইবনে কানি ও বায়হাকী হাবিবা বিনতে আবি তাজরাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে সাফা ও মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ করতে দেখেছি, যখন মানুষ তাঁর সামনে ছিল এবং তিনি ছিলেন তাদের পেছনে; তিনি সাঈ করছিলেন এমনকি অতি দ্রুত সাঈ করার ফলে তাঁর পরিহিত লুঙ্গি তাঁর চারপাশে আবর্তিত হচ্ছিল এবং আমি তাঁর হাঁটু দেখতে পাচ্ছিলাম। তিনি বলছিলেন:

‘তোমরা সাঈ করো, কেননা আল্লাহ পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত তোমাদের ওপর সাঈ করা লিখে দিয়েছেন’ «৪»।

এটি ‘মুসনাদে আহমাদ’-এ তাঁর উস্তাদ আবদুল্লাহ ইবনুল মুআম্মিল-এর সূত্রে আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) [মুত্তাফাকুন আলাইহি] আল-বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে [৩/৪৯৭] হা. [১৬৪৩] এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে [২/৯২৮] হা. [১২৭৭] বর্ণনা করেছেন।

(২) মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে হা. [১২৭৭] বর্ণনা করেছেন।

(৩) [যঈফ] আত-তাবারানি তাঁর আল-কাবীর গ্রন্থে [১১/১৮৪] হা. [১১৪৩৭] এবং আল-আওসাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যেমনটি আল-মাজমা‘ গ্রন্থে [৩/২৩৯] রয়েছে। আল-মীযান [৪/১৬৮] দেখুন।

(৪) [হাসান] আশ-শাফিঈ তাঁর আল-উম্ম গ্রন্থে [২/২৩১] বর্ণনা করেছেন এবং আদ-দারাকুতনি তাঁর সুনান গ্রন্থে [২/২৫৬], আল-বাগাবী তাঁর শারহুস সুন্নাহ গ্রন্থে [৭/১৪০] হা. [১৯২১], আল-বায়হাকী তাঁর আস-সুনান আল-কুবরা গ্রন্থে [৫/৯৮], আবু নুআইম আল-হিলইয়াহ গ্রন্থে [৯/১৫৯], আহমাদ আল-মুসনাদ গ্রন্থে [৬/৪২১], আত-তাবারানি আল-কাবীর গ্রন্থে যেমনটি আল-মাজমা‘ গ্রন্থে [৩/২৪৭] রয়েছে, ইবনে সাদ আত-তাবাকাত গ্রন্থে [৮/১৮০] এবং আল-হাকেম [৪/৭০] বর্ণনা করেছেন।

আল-ফাতহ [৩/৪৯৮] এবং আল-ইরওয়া হা. [১১৭২] দেখুন।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
عن صفية بنت شيبة عنها.

ورواه من طريق أخرى عن عبد الرزاق أخبرنا معمر عن واصل مولى ابن عيينة عن موسى بن عبيدة عن صفية بنت شيبة أن امرأة أخبرتها- فذكرته- ويؤيد ذلك حديث:

«خذوا عني مناسككم» «1» .

[الآية التاسعة؟]

إِنَّما حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنْزِيرِ وَما أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ باغٍ وَلا عادٍ فَلا إِثْمَ عَلَيْهِ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ (173) .

قرأ أبو جعفر حرم على البناء للمفعول وإِنَّما كلمة موضوعة للحصر تثبت ما تناوله الخطاب وتنفي ما عداه وقد حصرت هنا التحريم في الأمور المذكورة بعدها.

والميتة: ما فارقتها الروح من غير ذكاة. وقد خصص هذا العموم بمثل حديث:

«أحل لنا ميتتان ودمان فأما الميتتان فالجراد والحوت، وأما الدمان فالطحال والكبد» «2» . أخرجه أحمد وابن ماجة والدارقطني والحاكم وابن مردويه عن ابن عمر.

ومثل حديث جابر في العنبر «3» الثابت في الصحيحين مع قوله: أُحِلَّ لَكُمْ صَيْدُ الْبَحْرِ [المائدة: 96] .

فالمراد بالميتة هنا ميتة البر لا ميتة البحر.

وقد ذهب أكثر أهل العلم إلى جواز أكل جميع حيوانات البحر: حيها وميتها، وقال بعض [أهل العلم] «4» : إنه يحرم من حيوانات البحر ما يحرم شبهه في البر.

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في الصحيح [2/ 943] ح [1297] وأبو داود في السنن [2/ 207] ح [1970] والنسائي في السنن ح [2/ 50] والترمذي في الجامع [1/ 168] .

(2) [صحيح] أخرجه أحمد في المسند [2/ 97] والشافعي في الأم [2/ 256] ومن طريقة البغوي في شرح السنة [11/ 244] ح [2803] وابن ماجه في السنن [3314] انظر الكامل لابن عدي [1/ 397] ورواه البيهقي [1/ 254] .

(3) أخرجه البخاري [9/ 615] ح [5493، 5494] ومسلم في الصحيح [3/ 1535] ح [1935] . [.....]

(4) ما بين المعكوفين سقط من المطبوع وهو مستدرك من فتح القدير [1/ 169] .
সাফিয়্যাহ বিনতে শায়বাহ থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন।

এটি অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে; আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা’মার থেকে, তিনি ইবনে উয়াইনাহর মুক্তদাস ওয়াসিল থেকে, তিনি মুসা বিন উবাইদাহ থেকে, তিনি সাফিয়্যাহ বিনতে শায়বাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক নারী তাকে সংবাদ দিয়েছেন—অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেন। আর এটি এই হাদিস দ্বারা সমর্থিত হয়:

«তোমরা আমার কাছ থেকে তোমাদের হজের নিয়মাবলি গ্রহণ করো» ।

[নবম আয়াত?]

তিনি তো কেবল তোমাদের জন্য হারাম করেছেন মৃত জানোয়ার, রক্ত, শূকরের মাংস এবং ঐসব জন্তু যা আল্লাহর পরিবর্তে অন্য কারও নামে জবাই করা হয়েছে। তবে যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে, কিন্তু সে নাফরমান ও সীমালঙ্ঘনকারী নয়, তার উপর কোন গুনাহ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (১৭৩) ।

আবু জাফর 'হাররামা' শব্দটিকে কর্মবাচ্যে (মাজহুল হিসেবে) পাঠ করেছেন। আর 'ইন্নামা' শব্দটি সীমাবদ্ধ করার (হসর) জন্য ব্যবহৃত হয়, যা সম্বোধনে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা সাব্যস্ত করে এবং এর বাইরে অন্য কিছুকে অস্বীকার করে। এখানে হারাম হওয়াকে এর পরবর্তী বিষয়গুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

মৃত প্রাণী: যার প্রাণ শরয়ি জবাই ছাড়া নির্গত হয়েছে। এই ব্যাপকতা বা সাধারণ অর্থকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে এই হাদিসের ন্যায় দলিল দ্বারা:

«আমাদের জন্য দুই প্রকার মৃত প্রাণী ও দুই প্রকার রক্ত হালাল করা হয়েছে। মৃত দুই প্রকার হলো পঙ্গপাল ও মাছ, আর রক্ত দুই প্রকার হলো প্লীহা ও কলিজা» । এটি আহমদ, ইবনে মাজাহ, দারাকুতনি, হাকেম এবং ইবনে মারদুওয়াই ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ বর্ণিত আম্বর (তিমি মাছ) সংক্রান্ত জাবিরের হাদিস এবং আল্লাহর বাণী: তোমাদের জন্য সমুদ্রের শিকার হালাল করা হয়েছে [আল-মায়িদাহ: ৯৬] ।

সুতরাং এখানে মৃত দ্বারা স্থলের মৃত প্রাণী উদ্দেশ্য, সমুদ্রের মৃত প্রাণী নয়।

অধিকাংশ আলেম সমুদ্রের সকল প্রাণী খাওয়ার বৈধতার দিকে গিয়েছেন, তা জীবিত হোক বা মৃত। তবে কতিপয় [আলেম] বলেছেন: সমুদ্রের প্রাণীদের মধ্যে যা স্থলের হারামের সদৃশ, তা হারাম।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে [২/৯৪৩], হাদিস নং [১২৯৭], আবু দাউদ তার সুনানে [২/২০৭], হাদিস নং [১৯৭০], নাসায়ি তার সুনানে [২/৫০] এবং তিরমিজি তার জামি’তে [১/১৬৮] বর্ণনা করেছেন।

(২) [সহিহ] আহমদ তার মুসনাদে [২/৯৭], শাফেয়ি আল-উম্ম-এ [২/২৫৬] এবং তার সূত্রে বাগভি শারহুস সুন্নাহ-য় [১১/২৪৪], হাদিস নং [২৮০৩] এবং ইবনে মাজাহ তার সুনানে [৩৩১৪] বর্ণনা করেছেন। ইবনে আদির আল-কামিল [১/৩৯৭] দেখুন। বায়হাকি এটি বর্ণনা করেছেন [১/২৫৪]।

(৩) বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে [৯/৬১৫], হাদিস নং [৫৪৯৩, ৫৪৯৪] এবং মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে [৩/১৫৩৫], হাদিস নং [১৯৩৫] বর্ণনা করেছেন। [...]

(৪) ব্র্যাকেটের ভেতরের অংশটি মূল মুদ্রিত সংস্করণ থেকে বাদ পড়েছিল, যা ফাতহুল কাদির [১/১৬৯] থেকে সংগৃহীত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
وتوقف ابن حبيب في خنزير الماء.

قال ابن القاسم وأنا أتقيه ولا أراه حراما.

وقد اتفق العلماء على أن الدم حرام. وفي الآية الأخرى: أَوْ دَماً مَسْفُوحاً [الأنعام: 145] فيحمل المطلق على المقيد، لأن ما خلط باللحم غير محرم. قال القرطبي بالإجماع. وقد روت عائشة أنها كانت تطبخ اللحم فتعلو الصفرة على البرمة من الدم فيأكل ذلك النبي صلى الله عليه وآله وسلم ولا ينكره «1» .

وقوله: وَلَحْمَ الْخِنْزِيرِ، ظاهر هذه الآية والآية الأخرى أعني قوله: قُلْ لا أَجِدُ فِي ما أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّماً عَلى طاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَماً مَسْفُوحاً أَوْ لَحْمَ خِنزِيرٍ [الأنعام: 145] أن المحرم إنما هو اللحم فقط، وقد اجتمعت الأمة على تحريم شحمه كما حكاه القرطبي في «تفسيره» «2» . وقد ذكر جماعة من أهل العلم أن اللحم يدخل تحته الشحم وحكى القرطبي الإجماع أيضا على أن جملة الخنزير محرّمة إلا الشعر فإنه يجوز الخرازة به وقيل أراد بلحمه جميع أجزائه! وإنما خص اللحم بالذكر لأنه المقصود لذاته بالأكل.

والإهلال: رفع الصوت، يقال أهلّ بكذا أي رفع صوته. ومنه إهلال الصبي واستهلاله وهو صياحه عند ولادته.

والمراد هنا ما ذكر عليه اسم غير الله كاللات والعزى إذا كان الذابح وثنيا، والنار إذا كان الذابح مجوسيا ولا خلاف في تحريم هذا وأمثاله.

قال الشوكاني في «فتح القدير» : ومثله ما يقع من المعتقدين للأموات من الذبح على قبورهم فإنه مما أهل به لغير الله ولا فرق بينه وبين الذبح للوثن «3» . انتهى.

قلت: ومثله ما يقع من المعتقدين للأولياء من الذبح لهم فإنه مما أهلّ به لغير الله وإن لم يذكروا اسمهم عليه عند الذبح، ولا فرق بينه وبين الذبح للطواغيت. وقد أكثر أهل العلم من الكلام في هذه المسألة في تواليف مفردة لا نشتغل بذكرها خشية الإطالة.

--------------------------------------------

(1) أخرجه بنحوه الطبري في التفسير [5/ 380] ح [14093] .

(2) تفسير القرطبي [2/ 222] وفتح القدير للشوكاني [1/ 169] وابن عطية في المحرر الوجيز [2/ 49] .

(3) انظر فتح القدير للشوكاني [1/ 170] .
ইবনে হাবিব জলহস্তী সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে বিরত থেকেছেন।

ইবনুল কাসিম বলেন, আমি এটি থেকে বেঁচে চলি তবে আমি একে হারাম মনে করি না।

ওলামাগণ রক্ত হারাম হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। অন্য আয়াতে রয়েছে: “অথবা প্রবহমান রক্ত” [আল-আন’আম: ১৪৫]। সুতরাং সাধারণ (রক্ত) শব্দটিকে এই শর্তযুক্ত শব্দের অর্থে গ্রহণ করা হবে, কেননা মাংসের সাথে মিশে থাকা রক্ত হারাম নয়। কুরতুবী এ ব্যাপারে ইজমা বা ঐক্যমত্যের কথা উল্লেখ করেছেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মাংস রান্না করতেন এবং রক্তের কারণে হাঁড়ির উপরে হলদে ভাব ফুটে উঠত, আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তা খেতেন এবং তা নিষেধ করতেন না।

আর তাঁর বাণী: “এবং শূকরের মাংস”, এই আয়াতের বাহ্যিক অর্থ এবং অপর আয়াতের অর্থ—অর্থাৎ তাঁর বাণী: “বলুন, আমার নিকট যে ওহী পাঠানো হয়েছে তাতে আহারকারীর জন্য যা সে আহার করে এমন কিছু হারাম পাচ্ছি না, মৃত জন্তু অথবা প্রবহমান রক্ত কিংবা শূকরের মাংস ব্যতীত” [আল-আন’আম: ১৪৫]—একথা প্রকাশ করে যে, কেবল মাংসই হারাম। অথচ উম্মত এর চর্বি হারাম হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত্য পোষণ করেছে, যেমনটি কুরতুবী তাঁর ‘তাফসীর’-এ উল্লেখ করেছেন। একদল আলেম উল্লেখ করেছেন যে, মাংস শব্দের অধীনে চর্বিও অন্তর্ভুক্ত। কুরতুবী এই ইজমাও বর্ণনা করেছেন যে, পশম ছাড়া শূকরের পুরো দেহটাই হারাম; কারণ পশম দ্বারা সেলাইয়ের কাজ করা জায়েজ। আর বলা হয়েছে যে, মাংস দ্বারা তার শরীরের সকল অংশই উদ্দেশ্য! মূলত মাংসের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ এটিই মূলত খাওয়ার মূল উদ্দেশ্য।

আর ‘ইহলাল’ হলো: আওয়াজ উঁচু করা। বলা হয় ‘সে অমুক বিষয়ে ইহলাল করেছে’ অর্থাৎ সে তার আওয়াজ উঁচু করেছে। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো শিশুর ‘ইহলাল’ ও ‘ইস্তিহলাল’, যা হলো জন্মের সময় তার চিৎকার করে ওঠা।

এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যার ওপর আল্লাহ ছাড়া অন্যের নাম নেওয়া হয়েছে, যেমন লাত ও উজ্জা-এর নাম নেওয়া—যদি জবেহকারী মূর্তিপূজক হয়; অথবা আগুনের নাম নেওয়া—যদি জবেহকারী অগ্নিপূজক হয়। এই ধরনের সকল বস্তু হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই।

শাওকানী ‘ফাতহুল কাদীর’-এ বলেছেন: “এর অনুরূপ হলো মৃত ব্যক্তিদের অলৌকিক ক্ষমতায় বিশ্বাসীদের পক্ষ থেকে তাদের কবরের ওপর জবেহ করার ঘটনা; কেননা এটি আল্লাহ ছাড়া অন্যের উদ্দেশ্যে উৎসর্গকৃত এবং মূর্তির উদ্দেশ্যে জবেহ করার সাথে এর কোনো পার্থক্য নেই।” সমাপ্ত।

আমি বলছি: এর অনুরূপ হলো যারা ওলীদের অলৌকিক ক্ষমতায় বিশ্বাসী তাদের পক্ষ থেকে ওলীদের উদ্দেশ্যে জবেহ করা; এটিও আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য উৎসর্গকৃত, যদিও জবেহ করার সময় তারা ওলীদের নাম উচ্চারণ না করে। তাগুতের উদ্দেশ্যে জবেহ করার সাথে এর কোনো পার্থক্য নেই। আলেমগণ এই মাসআলাটি নিয়ে স্বতন্ত্র কিতাবসমূহে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন, আলোচনার দৈর্ঘ্যতা বৃদ্ধির ভয়ে আমরা তা উল্লেখ করছি না।

--------------------------------------------

(১) তাবারী অনুরূপ বর্ণনা করেছেন তাফসীরে [৫/ ৩৮০], হাদিস [১৪০৯৩]।

(২) তাফসীরে কুরতুবী [২/ ২২২], শাওকানীর ফাতহুল কাদীর [১/ ১৬৯] এবং ইবনে আতিয়্যাহর আল-মুহাররার আল-ওয়াজিজ [২/ ৪৯]।

(৩) শাওকানীর ফাতহুল কাদীর দেখুন [১/ ১৭০]।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
ومن أراد تفصيل ذلك فعليه بتفسيرنا «فتح البيان في مقاصد القرآن» فقد أوردنا فيه جملة صالحة فيه غنية لطالبي الحق وبالله التوفيق.

والمراد من المضطر: من صيره الجوع والعدم إلى الاضطرار إلى الميتة.

والمراد بالباغي: من يأكل فوق حاجته.

والعادي: من يأكل هذه المحرمات وهو يجد عنها مندوحة. وقيل: غير باغ على المسلمين وعاد عليهم فيدخل في الباغي والعادي قطاع الطريق والخارجون على السلطان وقاطعو الرحم ونحوهم، وقيل: المراد غير باغ على مضطر آخر، ولا عاد سدا لجوعه.

وأخرج ابن أبي حاتم عن ابن عباس في قوله غَيْرَ باغٍ وَلا عادٍ يقول: من أكل شيئا من هذه وهو مضطر فلا حرج عليه ومن أكله وهو غير مضطر فقد بغى واعتدى.

وأخرج ابن المنذر وابن أبي حاتم عنه في قوله غَيْرَ باغٍ قال: في الميتة، وَلا عادٍ قال: في الأكل.

وأخرج سعيد بن منصور وابن أبي شيبة وعبد بن حميد وابن المنذر وابن أبي حاتم عن مجاهد في قوله غَيْرَ باغٍ وَلا عادٍ قال: غير باغ على المسلمين ولا معتد عليهم:

من خرج يقطع الرحم أو يقطع السبيل أو يفسد في الأرض أو مفارقا للجماعة والأئمة، أو خرج في معصية الله فاضطر إلى الميتة لم تحل له.

وأخرج ابن أبي حاتم وأبو الشيخ عن أبي سعيد بن جبير قال: العادي الذي يقطع الطريق.

وقوله: فَلا إِثْمَ عَلَيْهِ يعني في أكله، إن الله غفور لمن أكل من الحرام رحيم به إذا حل له الحرام في الاضطرار.

[الآية العاشرة]

يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصاصُ فِي الْقَتْلى الْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ وَالْأُنْثى بِالْأُنْثى فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ شَيْءٌ فَاتِّباعٌ بِالْمَعْرُوفِ وَأَداءٌ إِلَيْهِ بِإِحْسانٍ ذلِكَ تَخْفِيفٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَرَحْمَةٌ فَمَنِ اعْتَدى بَعْدَ ذلِكَ فَلَهُ عَذابٌ أَلِيمٌ (178) .

كُتِبَ عَلَيْكُمُ معناه: فرض عليكم وأثبت ومنه قول عمر بن أبي ربيعة:
যে ব্যক্তি এর বিস্তারিত বিবরণ চায়, তার উচিত আমাদের তাফসির ‘ফাতহুল বায়ান ফি মাকাসিদিল কুরআন’ অধ্যয়ন করা। কেননা সত্য অন্বেষণকারীদের জন্য সেখানে আমরা পর্যাপ্ত ও প্রয়োজনীয় আলোচনা সন্নিবেশিত করেছি। আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।

আর ‘মুতদার’ (বিপন্ন) বলতে তাকে বোঝানো হয়েছে, যাকে ক্ষুধা ও অভাব মৃত প্রাণী ভক্ষণ করতে বাধ্য করেছে।

আর ‘বাগী’ (সীমালঙ্ঘনকারী) বলতে তাকে বোঝানো হয়েছে, যে তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত আহার করে।

আর ‘আদী’ (অতিক্রমকারী) হলো সে, যে এই হারাম বস্তুগুলো ভক্ষণ করে অথচ তার কাছে বিকল্প ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকে। কেউ কেউ বলেন: বাগী ও আদী বলতে মুসলমানদের ওপর বিদ্রোহ না করা এবং তাদের ওপর চড়াও না হওয়া বোঝানো হয়েছে; এমতাবস্থায় বাগী ও আদীর সংজ্ঞায় ডাকাত, রাষ্ট্রক্ষমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী এবং অনুরূপ ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত হবে। আবার কেউ কেউ বলেন: এর অর্থ হলো অন্য কোনো বিপন্ন ব্যক্তির ওপর সীমালঙ্ঘন না করা এবং নিজের ক্ষুধা নিবারণের সীমার বাইরে না যাওয়া।

ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আল্লাহর বাণী ‘সীমালঙ্ঘনকারী ও অতিক্রমকারী না হয়ে’ প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি নিরুপায় অবস্থায় এগুলোর কিছু আহার করবে তার কোনো পাপ নেই; আর যে ব্যক্তি নিরুপায় না হয়ে তা আহার করবে, সে সীমালঙ্ঘন ও অন্যায় করল।

ইবনে মুনজির এবং ইবনে আবি হাতিম তাঁর (ইবনে আব্বাস) থেকে ‘সীমালঙ্ঘনকারী নয়’ শব্দটির ব্যাখ্যায় ‘মৃত প্রাণীর ক্ষেত্রে’ এবং ‘অতিক্রমকারী নয়’ শব্দটির ব্যাখ্যায় ‘আহারের ক্ষেত্রে’ বর্ণনা করেছেন।

সাঈদ বিন মানসুর, ইবনে আবি শাইবাহ, আবদ বিন হুমাইদ, ইবনে মুনজির এবং ইবনে আবি হাতিম মুজাহিদ থেকে ‘সীমালঙ্ঘনকারী ও অতিক্রমকারী না হয়ে’ শব্দদ্বয়ের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: মুসলমানদের ওপর বিদ্রোহ না করা এবং তাদের প্রতি শত্রুতা না করা:

যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করতে, বা ডাকাতি করতে, বা যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে, কিংবা মুসলিম জামাত ও ইমামদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছে, অথবা আল্লাহর অবাধ্যতামূলক কোনো কাজে লিপ্ত অবস্থায় বের হয়েছে এবং এমতাবস্থায় নিরুপায় হয়ে মৃত প্রাণী ভক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, তবে তা তার জন্য হালাল হবে না।

ইবনে আবি হাতিম এবং আবুশ শাইখ আবু সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: ‘আদী’ বা অতিক্রমকারী হলো সে, যে পথিমধ্যে ডাকাতি করে।

আর আল্লাহর বাণী: ‘তবে তার কোনো পাপ নেই’ অর্থাৎ তার আহারের ক্ষেত্রে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই ব্যক্তির জন্য ক্ষমাশীল যে হারাম থেকে ভক্ষণ করেছে এবং তার প্রতি দয়ালু যখন তার জন্য নিরুপায় অবস্থায় হারামটি হালাল করা হয়েছে।

[দশম আয়াত]

হে মুমিনগণ! নিহতদের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কিসাস (প্রতিশোধ গ্রহণ) বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি, দাসের বদলে দাস এবং নারীর বদলে নারী। তবে তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে যাকে কিছুটা ক্ষমা করা হবে, সে ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করা এবং সদাচারের সাথে তাকে (রক্তপণ) আদায় করা উচিত। এটি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে একটি শিথিলতা ও দয়া। এরপরও যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন করবে, তার জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (১৭৮)।

‘তোমাদের ওপর বিধিবদ্ধ করা হয়েছে’ এর অর্থ হলো: তোমাদের ওপর ফরজ বা আবশ্যক করা হয়েছে এবং সাব্যস্ত করা হয়েছে। উমর ইবনে আবি রাবিআহ-র উক্তি থেকেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়:
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
كتب القتل والقتال علينا … وعلى الغانيات جر الذيول

وهذا إخبار من الله سبحانه لعباده بأنه شرع لهم ذلك. وقيل: إنّ كُتِبَ هذا إشارة إلى ما جرى به القلم في اللوح المحفوظ.

والْقِصاصُ أصله: قصّ الأثر: أي اتباعه. ومن القاص لأنه يتبع الآثار، وقص الشعر اتباع أثره، فكأن القاتل يسلك طريقا من القتل يقص أثره فيها ومنه قوله تعالى فَارْتَدَّا عَلى آثارِهِما قَصَصاً (64) [الكهف: 64] . وقيل: إن القصاص مأخوذ من القص وهو القطع يقال: قصصت بينهما: أي قطعته.

وقد استدل بهذه الآية القائلون بأن الحرّ لا يقتل بالعبد وهم الجمهور. وذهب أبو حنيفة وأصحابه والثوري وابن أبي ليلى وداود إلى أنه يقتل به إذا كان غير سيده، وأما سيده فلا يقتل به إجماعا، إلا ما روي عن النخعي، فليس بمذهب أبي حنيفة ومن معه على الإطلاق، ذكره الشوكاني في «شرح المنتقى» .

قال القرطبي: وروى ذلك عن علي وابن مسعود وبه قال سعيد بن المسيب وإبراهيم النخعي وقتادة والحكم بن عتبة واستدلوا بقوله تعالى وَكَتَبْنا عَلَيْهِمْ فِيها أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ [سورة المائدة: 45] وأجاب الأولون عن هذا الاستدلال بأن قوله تعالى:

الْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ مفسر لقوله تعالى: النَّفْسَ بِالنَّفْسِ، وقالوا أيضا: إن قوله وَكَتَبْنا عَلَيْهِمْ فِيها، يفيد أن ذلك حكاية عما شرعه الله لبني إسرائيل في التوراة.

ومن جملة ما استدل به الآخرون قوله صلى الله عليه وآله وسلم: «المسلمون تتكافأ دماؤهم» «1» .

ويجاب عنه بأنه مجمل والآية مبينة، ولكنه يقال إن قوله تعالى الْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ إنما أفاد بمنطوقه أن الحرّ يقتل بالحر والعبد يقتل بالعبد، وليس فيه ما يدل على أن الحرّ لا يقتل بالعبد إلا باعتبار المفهوم، فمن أخذ بمثل هذا المفهوم لزمه القول به هنا ومن لم يأخذ بمثل هذا المفهوم لم يلزمه القول به هنا، والبحث في هذا محرر في علم الأصول.

--------------------------------------------

(1) [صحيح] أخرجه أحمد في المسند [2/ 191- 192، 211] وأبو داود في السنن [3/ 81] ح [2751، 4531] وابن ماجه في السنن [2/ 895] ح [2683] والبيهقي في السنن الكبرى [8/ 29] .
আমাদের ওপর হত্যা ও যুদ্ধ বিধিবদ্ধ করা হয়েছে ... আর রূপসীবালকাদের ওপর আঁচল টেনে চলা।

এটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের প্রতি একটি সংবাদ যে, তিনি তাদের জন্য তা বিধিবদ্ধ করেছেন। আরও বলা হয়েছে যে: ‘বিধিবদ্ধ করা হয়েছে’ (কুতিবা) দ্বারা লওহে মাহফুজে কলম যা লিখেছে তার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

‘কিসাস’ (প্রতিশোধ) শব্দের মূল অর্থ হলো: পদাঙ্ক অনুসরণ করা; অর্থাৎ কোনো কিছুর পিছু নেওয়া। এখান থেকেই ‘কাস’ (গল্পকার) শব্দটি এসেছে, কারণ সে খবরের পিছু নেয়। চুল কাটার ক্ষেত্রেও পদাঙ্ক অনুসরণের অর্থ বিদ্যমান, যেন হত্যাকারী হত্যার এমন এক পথ অবলম্বন করে যাতে তার পদচিহ্ন অনুসরণ করা হয়। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: ‘অতঃপর তারা নিজেদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে ফিরে চলল’ (সূরা আল-কাহাফ: ৬৪)। আরও বলা হয়েছে যে: ‘কিসাস’ শব্দটি ‘কাস’ থেকে উদ্ভূত যার অর্থ কর্তন করা। বলা হয়: ‘আমি তাদের দুজনের মাঝে ফয়সালা করে দিলাম’, অর্থাৎ কেটে আলাদা করে দিলাম।

জুমহুর (অধিকাংশ) আলিমগণ এই আয়াতের মাধ্যমে দলীল পেশ করেছেন যে, দাসের বিনিময়ে স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করা হবে না। অন্যদিকে ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর সঙ্গীগণ, সাওরী, ইবনে আবি লায়লা এবং দাউদ জাহিরী এই মত পোষণ করেছেন যে, যদি দাসটি হত্যাকারীর নিজ দাস না হয় তবে তার বিনিময়ে স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করা হবে। তবে নিজ দাসের বিনিময়ে তাকে হত্যা করা হবে না—এ ব্যাপারে ইজমা (ঐক্যমত্য) রয়েছে; কেবল ইব্রাহিম নাখায়ী থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা ভিন্ন। তবে এটি ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর অনুসারীদের নিরঙ্কুশ মাযহাব নয়, যেমনটি শাওকানী ‘শারহুল মুনতাকা’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

ইমাম কুরতুবী বলেন: এটি আলী ও ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, ইব্রাহিম নাখায়ী, কাতাদা ও হাকাম ইবনে উতবা এই মত দিয়েছেন। তাঁরা মহান আল্লাহর বাণী দ্বারা দলীল পেশ করেছেন: ‘আর আমি তাদের জন্য তাতে বিধান দিয়েছিলাম যে, প্রাণের বদলে প্রাণ’ (সূরা আল-মায়িদাহ: ৪৫)। প্রথম পক্ষ (জুমহুর) এই দলীলের জবাবে বলেছেন যে, মহান আল্লাহর বাণী:

‘স্বাধীনের বদলে স্বাধীন এবং দাসের বদলে দাস’ আয়াতটি ‘প্রাণের বদলে প্রাণ’ আয়াতের ব্যাখ্যাস্বরূপ। তাঁরা আরও বলেছেন যে: ‘আমি তাদের জন্য তাতে বিধান দিয়েছিলাম’—এ কথাটি বুঝায় যে এটি বনী ইসরাঈলের জন্য তাওরাতে আল্লাহ যা বিধিবদ্ধ করেছিলেন তার একটি বর্ণনা মাত্র।

অন্য পক্ষ যেসব দলীল পেশ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের বাণী: ‘মুসলিমদের রক্ত (মূল্যের দিক থেকে) পরস্পর সমান’। (১)

এর জবাবে বলা হয় যে, এটি একটি সংক্ষিপ্ত (মুজমাল) বর্ণনা আর আয়াতটি হলো তার বিশদ ব্যাখ্যা (মুবাইয়িন)। তবে এও বলা হয় যে, মহান আল্লাহর বাণী ‘স্বাধীনের বদলে স্বাধীন এবং দাসের বদলে দাস’ এর শাব্দিক অর্থ (মানতুক) কেবল এটাই সাব্যস্ত করে যে, স্বাধীনের বদলে স্বাধীনকে এবং দাসের বদলে দাসকে হত্যা করা হবে। এর মধ্যে এমন কিছু নেই যা সরাসরি ইঙ্গিত দেয় যে দাসের বদলে স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করা যাবে না, কেবল ‘মাফহুম’ (উদ্দেশ্যমূলক অর্থ) বিবেচনা করা ছাড়া। সুতরাং যারা এই ধরনের ‘মাফহুম’ গ্রহণ করেন, তাঁদের জন্য এখানে তা মেনে নেওয়া আবশ্যক। আর যারা এই ধরনের ‘মাফহুম’ গ্রহণ করেন না, তাঁদের জন্য এখানে এটি মানা আবশ্যক নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত গবেষণা উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে সুসংবদ্ধভাবে আলোচিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) [সহীহ] এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ তাঁর মুসনাদে [২/ ১৯১-১৯২, ২১১], আবু দাউদ তাঁর সুনানে [৩/ ৮১] হাদিস নং [২৭৫১, ৪৫৩১], ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে [২/ ৮৯৫] হাদিস নং [২৬৮৩] এবং বায়হাকী তাঁর সুনানে কুবরা-তে [৮/ ২৯]।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
وقد استدل بهذه الآية القائلون بأن المسلم يقتل بالكافر وهم الكوفيون والثوري، لأن الحرّ يتناول الكافر كما يتناول المسلم، وكذا العبد والأنثى يتناولان الكافر كما يتناولان المسلم. واستدلوا أيضا بقوله تعالى أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ لأن النفس تصدق على النفس الكافرة كما تصدق على النفس المسلمة.

وذهب الجمهور إلى أنه لا يقتل المسلم بالكافر واستدلوا بما ورد من السنة عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم: «أنه لا يقتل مسلم بكافر» «1» وهو مبين لما يراد في الآيتين. والبحث في هذا يطول.

واستدل بهذه الآية القائلون بأن الذكر لا يقتل بالأنثى، وقرروا الدلالة على ذلك بمثل ما سبق إلا إذا أسلم أولياء المرأة الزيادة على ديتها من دية الرجل وبه قال مالك والشافعي وأحمد وإسحاق والثوري وأبو ثور.

وذهب الجمهور إلى أنه يقتل الرجل بالمرأة ولا زيادة»

، وهو الحق. قال الشوكاني وقد بسطنا البحث في «شرح المنتقى» فليرجع إليه «3» . انتهى.

قلت: وقد أوضحت المسألة في «مسك الختام شرح بلوغ المرام» فليعول عليه.

قوله فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ شَيْءٌ: من هنا عبارة عن القاتل أو الجاني، والمراد بالأخ: المقتول أو الولي.

والشيء: عبارة عن الدم. والمعنى: أن القاتل أو الجاني إذا عفي له من جهة المجني عليه أو الوليّ دم أصابه منه على أن يأخذ منه شيئا من الدية أو الأرش فليتبع المجني عليه الوليّ من عليه الدم فيما يأخذه منه من ذلك اتباعا للمعروف، وليؤد الجاني ما لزمه من الدية والأرش إلى المجني عليه أو إلى الوليّ أداء بإحسان.

وقيل: إن من عبارة عن الوليّ و (الأخ) يراد به القاتل. والشيء، الدية.

والمعنى: أن الولي إذا جنح إلى العفو عن القصاص إلى مقابل الدية فإن القاتل مخير بين

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في الصحيح [1/ 204] ح [111، 1870، 3047، 3172، 3179، 6755، 6903، 6915، 7300] والنسائي في السنن [8/ 23- 24] والترمذي في السنن ح [1412] والدرامي في السنن [2/ 110- 111] وأحمد في المسند [1/ 79] .

(2) انظر الإفصاح لابن هبيرة [2/ 158] .

(3) انظر فتح القدير [1/ 175] .

এই আয়াত দ্বারা তারা দলিল পেশ করেছেন যারা মনে করেন যে কাফিরের বিনিময়ে মুসলিমকে হত্যা করা হবে, তারা হলেন কূফীবাসীগণ এবং সাওরী। কারণ ‘স্বাধীন ব্যক্তি’ শব্দটি কাফির ও মুসলিম উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, তেমনি ‘দাস’ ও ‘নারী’ শব্দ দুটিও কাফির ও মুসলিম উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। তারা মহান আল্লাহর বাণী ‘প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ’ দ্বারাও দলিল দিয়েছেন, কেননা ‘প্রাণ’ শব্দটি যেমন মুসলিমের প্রাণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, তেমনি তা কাফিরের প্রাণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়।

জমহুর বা অধিকাংশ আলিমের মত হলো যে, কাফিরের বিনিময়ে মুসলিমকে হত্যা করা হবে না এবং তারা দলিল হিসেবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত সুন্নাহ পেশ করেছেন: «কাফিরের বিনিময়ে কোনো মুসলিমকে হত্যা করা যাবে না» এটি উভয় আয়াতে যা উদ্দেশ্য তা স্পষ্ট করে দেয়। এ বিষয়ে আলোচনা দীর্ঘ।

এই আয়াত দ্বারা তারা দলিল দিয়েছেন যারা মনে করেন যে নারীর বিনিময়ে পুরুষকে হত্যা করা হবে না। তারা এর প্রমাণ সেভাবেই সাব্যস্ত করেছেন যেভাবে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে, তবে যদি নারীর অভিভাবকগণ পুরুষের রক্তপণের (দিয়াত) অতিরিক্ত অংশ প্রদান করেন (তবে ভিন্ন কথা)। এটি মালিক, শাফিঈ, আহমাদ, ইসহাক, সাওরী এবং আবু সাওর-এর অভিমত।

জমহুর বা অধিকাংশের মত হলো যে, নারীর বিনিময়ে পুরুষকে হত্যা করা হবে এবং কোনো অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হবে না, আর এটাই সত্য। শাওকানী বলেছেন, আমরা ‘শারহুল মুনতাকা’ গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, সুতরাং সেদিকে প্রত্যাবর্তন করা উচিত। সমাপ্ত।

আমি বলছি: আমি বিষয়টি ‘মিসকুল খিতাম শারহু বুলুগিল মারাম’ গ্রন্থে স্পষ্ট করেছি, সুতরাং সেটির ওপর নির্ভর করা উচিত।

তাঁর বাণী ‘অতঃপর যাকে তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে কিছুটা ক্ষমা করা হবে’: এখানে ‘যাকে’ (মান) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হত্যাকারী বা অপরাধী, আর ‘ভাই’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নিহত ব্যক্তি বা তার অভিভাবক।

আর ‘কিছুটা’ (শাই) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রক্ত। এর অর্থ হলো: যখন হত্যাকারী বা অপরাধীকে নিহতের পক্ষ থেকে অথবা অভিভাবকের পক্ষ থেকে তাকে যে রক্তের দায় পেয়ে বসেছে সে বিষয়ে ক্ষমা করে দেওয়া হয় এই শর্তে যে, সে তার থেকে রক্তপণ (দিয়াত) বা ক্ষতিপূরণ (আরশ) গ্রহণ করবে, তখন অভিভাবক যেন প্রচলিত নিয়মে হত্যাকারীর নিকট থেকে তা গ্রহণ করার অনুসরণ করে, আর অপরাধী যেন ইহসানের সাথে তার ওপর ওয়াজিব হওয়া দিয়াত বা আরশ অভিভাবকের নিকট আদায় করে।

বলা হয়েছে যে: ‘যাকে’ (মান) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অভিভাবক এবং ‘ভাই’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হত্যাকারী। আর ‘কিছুটা’ (শাই) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দিয়াত।

এর অর্থ হলো: যখন অভিভাবক কিসাসের পরিবর্তে দিয়াতের দিকে ঝুঁকে পড়েন, তখন হত্যাকারীর সামনে সুযোগ থাকে

--------------------------------------------

(১) বুখারী কর্তৃক সহীহ গ্রন্থে উদ্ধৃত [১/ ২০৪] হাদিস নং [১১১, ১৮৭০, ৩০৪৭, ৩১৭২, ৩১৭৯, ৬৭৫৫, ৬৯০৩, ৬৯১৫, ৭৩০০], নাসাঈ কর্তৃক সুনান গ্রন্থে [৮/ ২৩- ২৪], তিরমিযী কর্তৃক সুনান গ্রন্থে হাদিস নং [১৪১২], দারেমী কর্তৃক সুনান গ্রন্থে [২/ ১১০- ১১১] এবং আহমাদ কর্তৃক মুসনাদ গ্রন্থে [১/ ৭৯]।

(২) ইবনুল হুবাইরা রচিত আল-ইফসাহ দেখুন [২/ ১৫৮]।

(৩) ফাতহুল কাদীর দেখুন [১/ ১৭৫]।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩১)
أن يعطيها ويسلم نفسه للقصاص، كما روي عن مالك أنه يثبت الخيار للقاتل في ذلك.

وذهب من عداه إلى أنه لا يخير إلا إذا رضي الأولياء بالدية، فلا خيار للقاتل وليتبع بالمعروف. وقيل: إن المراد بذلك أن من فضل له من الطائفتين على الأخرى شىء من الديات، فيكون عفي بمعنى فضل. وعلى جميع التقادير فتنكير شَيْءٌ للتقليل فيتناول العفو عن الشيء اليسير من الدية والعفو الصادر عن فرد من أفراد الورثة.

أخرج ابن أبي حاتم عن سعيد بن جبير قال: إن حيين من العرب اقتتلوا في الجاهلية قبل الإسلام بقليل فكان بينهم قتل وجراحات حتى قتلوا العبيد والنساء ولم يأخذ بعضهم من بعض حتى أسلموا، فكان أحد الحيين يتطاول على الآخر في العدة والأموال، فحلفوا أن لا يرضوا حتى يقتل بالعبد منا الحر منهم، وبالمرأة منا الرجل منهم. فنزلت هذه الآية.

وأخرج عبد بن حميد وابن جرير عن الشعبي نحوه.

وأخرج ابن جرير وابن المنذر وابن أبي حاتم والبيهقي في «سننه» عن ابن عباس قال: كانوا لا يقتلون الرجل بالمرأة ولكن يقتلون الرجل بالرجل والمرأة بالمرأة فأنزل الله تعالى: النَّفْسَ بِالنَّفْسِ «1» فجعل الأحرار في القصاص سواء فيما بينهم في العمد رجالهم ونساؤهم في النفس وفيما دون النفس، وجعل العبيد مستوين في العمد في النفس وفيما دون النفس رجالهم ونساؤهم.

وأخرج ابن جرير وابن مردويه عن أبي مالك قال: كان بين حيين من الأنصار قتال كان لأحدهما على الآخر الطول فكأنهم طلبوا الفضل فجاء النبي صلى الله عليه وآله وسلم ليصلح بينهم فنزلت هذه الآية الْحُرُّ بِالْحُرِّ «2» قال ابن عباس: فنسختها النَّفْسَ بِالنَّفْسِ.

وأخرج عبد بن حميد وابن جرير والحاكم- وصححه- والبيهقي في «سننه» عن ابن عباس: فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ قال: هو العمد رضي أهله بالعفو فَاتِّباعٌ بِالْمَعْرُوفِ أمر به الطالب، وَأَداءٌ إِلَيْهِ بِإِحْسانٍ من القاتل، قال: يؤدي المطلوب بإحسان «3» ،

--------------------------------------------

(1) انظر تفسير الطبري [2/ 108- 109] .

(2) أخرجه ابن جرير في التفسير [2/ 109] ح [2572] .

(3) أخرجه الطبري في التفسير [2/ 112] ح [2581] والحاكم في المستدرك [2/ 273] وصححه والبيهقي في السنن الكبرى [8/ 52] .
সে এটি (রক্তপণ) প্রদান করবে এবং কিসাসের জন্য নিজেকে সঁপে দেবে, যেমনটি ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এক্ষেত্রে হত্যাকারীকে ইখতিয়ার (পছন্দ করার অধিকার) দেওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত করেছেন।

অন্যান্য ফকীহগণ এই মত পোষণ করেছেন যে, নিহতের অভিভাবকরা রক্তপণে সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকারীকে কোনো ইখতিয়ার দেওয়া হবে না। অতএব হত্যাকারীর কোনো ইখতিয়ার নেই এবং অভিভাবক যেন বিধিসম্মতভাবে পাওনা দাবি করেন। কেউ কেউ বলেছেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, দুই দলের মধ্যে যে দলের রক্তপণের পরিমাণ অন্য দলের ওপর বেশি হবে (তা সমন্বয় করা), ফলে এখানে ‘ক্ষমা’ শব্দটি ‘অতিরিক্ত’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। সকল ব্যাখ্যার ভিত্তিতে, ‘কিছু’ শব্দটি অনির্দিষ্ট হওয়ার কারণে তা সামান্যতা বোঝায়; ফলে এটি রক্তপণের সামান্য অংশ ক্ষমা করা এবং ওয়ারিশদের মধ্য থেকে কোনো একজনের পক্ষ থেকে ক্ষমা করা—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।

ইবনে আবি হাতিম সাঈদ ইবনুল জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাহিলী যুগে ইসলামের আগমনের ঠিক আগ মুহূর্তে আরবের দুটি গোত্র একে অপরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। তাদের মধ্যে হত্যাকাণ্ড এবং জখমের ঘটনা ঘটেছিল, এমনকি তারা দাস ও নারীদেরও হত্যা করেছিল। ইসলাম গ্রহণ করার আগ পর্যন্ত এক পক্ষ অন্য পক্ষের থেকে এর কোনো বিচার নেয়নি। এরপর এক গোত্র অন্য গোত্রের ওপর জনবল ও সম্পদের শক্তিতে প্রভাব খাটাতে শুরু করল এবং তারা শপথ করল যে, আমাদের দাসের বদলে তাদের স্বাধীন ব্যক্তিকে এবং আমাদের নারীর বদলে তাদের পুরুষকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমরা সন্তুষ্ট হব না। তখন এই আয়াত অবতীর্ণ হয়।

আবদ ইবনে হুমাইদ এবং ইবনে জারীর আশ-শা'বী থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির, ইবনে আবি হাতিম এবং বাইহাকী তাঁর ‘সুনান’-এ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তারা নারীর বদলে পুরুষকে হত্যা করত না, বরং পুরুষের বদলে পুরুষ এবং নারীর বদলে নারীকে হত্যা করত। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন: ‘প্রাণের বদলে প্রাণ’ (১), ফলে তিনি হত্যার ক্ষেত্রে স্বাধীনদের মধ্যে কিসাস বা প্রতিশোধ গ্রহণকে সমান করে দিয়েছেন—চাই তারা পুরুষ হোক বা নারী, প্রাণের ক্ষেত্রে হোক বা অন্য অঙ্গহানির ক্ষেত্রে। একইভাবে তিনি হত্যার ক্ষেত্রে দাসদের মধ্যেও কিসাস সমান করে দিয়েছেন—চাই তারা পুরুষ হোক বা নারী, প্রাণের ক্ষেত্রে হোক বা অন্য অঙ্গহানির ক্ষেত্রে।

ইবনে জারীর এবং ইবনে মারদুওয়াইহ আবু মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনসারদের দুটি গোত্রের মধ্যে লড়াই হয়েছিল, যাদের মধ্যে একটির শক্তি অন্যটির চেয়ে বেশি ছিল। তারা যেন অতিরিক্ত শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম তাদের মধ্যে মীমাংসা করার জন্য আসলেন এবং এই আয়াত অবতীর্ণ হলো: ‘স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি’ (২)। ইবনে আব্বাস বলেন: ‘প্রাণের বদলে প্রাণ’ আয়াতটি একে রহিত করে দিয়েছে।

আবদ ইবনে হুমাইদ, ইবনে জারীর, হাকীম (যিনি একে সহীহ বলেছেন) এবং বাইহাকী তাঁর ‘সুনান’-এ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: ‘অতঃপর যাকে তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে কিছু ক্ষমা করা হয়’—তিনি বলেন: এটি হলো ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড যেখানে নিহতের পরিবার ক্ষমার (রক্তপণের) ব্যাপারে সম্মত হয়। ‘অতঃপর বিধি মোতাবেক অনুসরণ করা’—পাওনাদারকে এর আদেশ দেওয়া হয়েছে, ‘এবং তার প্রতি সৌজন্যের সাথে আদায় করা’—এটি হত্যাকারীর পক্ষ থেকে হবে; তিনি বলেন: যা দাবি করা হয়েছে তা সে সৌজন্যের সাথে আদায় করবে (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন তাবারীর তাফসীর [২/ ১০৮- ১০৯]।

(২) এটি ইবনে জারীর তাঁর তাফসীরে [২/ ১০৯] বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং [২৫৭২]।

(৩) এটি তাবারী তাঁর তাফসীরে [২/ ১১২] বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং [২৫৮১], হাকীম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে [২/ ২৭৩] বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন এবং বাইহাকী তাঁর সুনানুল কুবরা গ্রন্থে [৮/ ৫২] বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) নাইলুল মারাম মিন তাফসীরি আয়াতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩২)
ذلِكَ تَخْفِيفٌ مِنْ رَبِّكُمْ مما كان على بني إسرائيل.

وأخرج البخاري وغيره عن ابن عباس قال: كان في بني إسرائيل القصاص ولم تكن الدية فيهم فقال الله لهذه الأمة: كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصاصُ فِي الْقَتْلى إلى قوله فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ شَيْءٌ فالعفو أن يقبل الدية في العمد فَاتِّباعٌ بِالْمَعْرُوفِ وَأَداءٌ إِلَيْهِ بِإِحْسانٍ مما كتب على من كان قبلكم فَمَنِ اعْتَدى بَعْدَ ذلِكَ بأن قتل بعد قبول الدية فَلَهُ عَذابٌ أَلِيمٌ (178) «1» .

قلت: إن الله شرع لهذه الأمة العفو من غير عوض أو بعوض ولم يضيق عليهم كما ضيق على اليهود فإنه أوجب عليهم القصاص ولا عفو، وكما ضيق على النصارى فإنه أوجب عليهم العفو ولا دية.

وقد اختلف أهل العلم فيمن قتل القاتل بعد أخذ الدية فقال جماعة منهم مالك والشافعي: إنه كمن قتل ابتداء إن شاء الوليّ قتله وإن شاء عفا عنه.

قال قتادة وعكرمة والسّدي وغيرهم: يقتل البتة ولا يمكّن الحاكم الوليّ من العفو.

وقال الحسن: عذابه أن يرد الدية فقط ويبقى إثمه إلى عذاب الآخرة.

وقال عمر بن عبد العزيز: أمره إلى الإمام يصنع فيه ما رأى.

وأخرج ابن جرير عن قتادة قال: كان أهل التوراة إنما هو القصاص أو العفو ليس بينهما أرش، وكان أهل الإنجيل إنما هو العفو أمروا به، وجعل الله لهذه الأمة القتل والعفو والدية- إن شاؤوا- وأحلها لهم ولم يكن لأمة قبلهم.

وأخرج عبد الرزاق وابن أبي شيبة وأحمد وابن أبي حاتم والبيهقي عن أبي شريح الخزاعي أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: «من أصيب بقتل فإنه يختار إحدى ثلاث: إما أن يقتص، وإما أن يعفو وإما أن يأخذ الدية. فإن أراد الرابعة فخذوا على يديه، ومن اعتدى بعد ذلك فله نار جهنم خالدا فيها أبدا» «2» .

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في الصحيح [8/ 176] ح [4498، 6881] والنسائي في السنن [8/ 36] وعبد الرزاق في المصنف [10/ 85] ح [18450 و 18451] والبيهقي في السنن الكبرى [8/ 51، 52] والدارقطني في السنن [3/ 199] .

(2) [حسن] أخرجه عبد الرزاق في المصنف [10/ 86- 87] ح [18454] والدارمي في السنن
এটি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে একটি লঘূকরণ যা বনী ইসরাঈলের ওপর আরোপিত বিধানের চেয়ে সহজ।

বুখারী ও অন্যান্যরা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বনী ইসরাঈলের মধ্যে কেবল কিসাস (প্রতিশোধ) ছিল এবং তাদের মধ্যে দিয়াত (রক্তপণ) ছিল না। অতঃপর আল্লাহ এই উম্মতের উদ্দেশ্যে বললেন: 'তোমাদের ওপর নিহতদের ব্যাপারে কিসাস বিধিবদ্ধ করা হয়েছে' এই বাণী হতে 'অতঃপর যাকে তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে কিছুটা ক্ষমা করা হবে' পর্যন্ত। এই ক্ষমা হলো ইচ্ছাকৃত হত্যার ক্ষেত্রে রক্তপণ গ্রহণ করা। 'অতঃপর সদয়ভাবে অনুসরণ করা এবং সদাচারের সাথে তাকে তা আদায় করা'—এটি তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর যা বিধিবদ্ধ ছিল তার চেয়ে লঘূকরণ। 'অতঃপর যে ব্যক্তি এরপরেও সীমা লঙ্ঘন করবে' অর্থাৎ রক্তপণ গ্রহণের পর পুনরায় হত্যা করবে, 'তবে তার জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি' (১৭৮)।

আমি বলি: আল্লাহ এই উম্মতের জন্য বিনিময়হীন ক্ষমা অথবা বিনিময়ের (রক্তপণ) বিনিময়ে ক্ষমা উভয়টি বিধিবদ্ধ করেছেন এবং তাদের ওপর সংকীর্ণতা আরোপ করেননি যেমনটা তিনি ইহুদিদের ওপর সংকীর্ণতা করেছিলেন; কারণ তিনি তাদের ওপর কিসাস আবশ্যক করেছিলেন এবং কোনো ক্ষমার সুযোগ ছিল না। আর যেমন তিনি খ্রিস্টানদের ওপর সংকীর্ণতা করেছিলেন; কারণ তিনি তাদের ওপর কেবল ক্ষমার বিধান আবশ্যক করেছিলেন এবং কোনো রক্তপণ ছিল না।

রক্তপণ গ্রহণের পর যদি কেউ হত্যাকারীকে হত্যা করে ফেলে, তবে সে ব্যক্তির ব্যাপারে বিজ্ঞ আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম মালিক ও শাফেয়ীসহ একদল আলেম বলেছেন: সে ব্যক্তি নতুন করে হত্যা শুরুকারীর মতো গণ্য হবে; নিহতের অভিভাবক চাইলে তাকে হত্যা করতে পারে অথবা চাইলে তাকে ক্ষমা করতে পারে।

কাতাদাহ, ইকরিমা, সুদ্দী এবং অন্যান্যরা বলেছেন: তাকে অবশ্যই হত্যা করা হবে এবং শাসক অভিভাবককে ক্ষমা করার সুযোগ দেবেন না।

হাসান বসরী বলেছেন: তার শাস্তি হলো সে কেবল রক্তপণ ফিরিয়ে দেবে এবং তার পাপ আখেরাতের শাস্তির জন্য অবশিষ্ট থাকবে।

উমর ইবনে আব্দুল আজিজ বলেছেন: তার বিষয়টি শাসকের সিদ্ধান্তের ওপর ন্যস্ত, তিনি যা সমীচীন মনে করবেন তাই করবেন।

ইবনে জারীর কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: তাওরাতের অনুসারীদের জন্য কেবল কিসাস অথবা ক্ষমা ছিল, তাদের মধ্যে এর মাঝামাঝি কোনো রক্তপণ ছিল না। আর ইনজীলের অনুসারীদের কেবল ক্ষমার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। আল্লাহ এই উম্মতের জন্য হত্যা (কিসাস), ক্ষমা এবং রক্তপণ—যা তারা ইচ্ছা করে—নির্ধারণ করেছেন এবং তা তাদের জন্য হালাল করেছেন, যা তাদের পূর্ববর্তী কোনো উম্মতের জন্য ছিল না।

আব্দুর রাজ্জাক, ইবনে আবী শাইবা, আহমাদ, ইবনে আবী হাতিম ও বাইহাকী আবু শুরাইহ আল-খুযাঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যার কোনো আপনজন নিহত হয়, সে তিনটির যেকোনো একটি বেছে নিতে পারে: হয় সে কিসাস নেবে, অথবা সে ক্ষমা করবে, কিংবা সে রক্তপণ গ্রহণ করবে। যদি সে চতুর্থ কিছু চায় তবে তোমরা তাকে বাধা দাও। আর যে ব্যক্তি এরপর সীমা লঙ্ঘন করবে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন যেখানে সে চিরস্থায়ী হবে।"

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে [৮/১৭৬], হাদিস নং [৪৪৯৮, ৬৮৮১], নাসাঈ তাঁর সুনান গ্রন্থে [৮/৩৬], আব্দুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে [১০/৮৫], হাদিস নং [১৮৪৫০ ও ১৮৪৫১], বাইহাকী তাঁর সুনানুল কুবরা গ্রন্থে [৮/৫১, ৫২] এবং দারা কুতনী তাঁর সুনান গ্রন্থে [৩/১৯৯] বর্ণনা করেছেন।

(২) [হাসান] এটি আব্দুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে [১০/৮৬-৮৭], হাদিস নং [১৮৪৫৪] এবং দারেমী তাঁর সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।