(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: -)
شرح بهجة المحافل وبغية الأماثل   (الأشخر اليمني)

القسم: السيرة النبوية

الكتاب: شرح (بهجة المحافل وبغية الأماثل في تلخيص المعجزات والسير والشمائل، لعماد الدين يحيى بن أبى بكر بن العامري الحرضي [ت 893 هـ])

المؤلف: جمال الدين محمد الأشخر اليمني [ت 991 هـ]

الناشر: المطبعة الجمالية - مصر

(وصورتها دور نشر مثل دار صادر - بيروت)

الطبعة: الأولى،1330 هـ - 1912 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বাহজাতুল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতুল আমাসিল-এর ব্যাখ্যা   (আল-আশখার আল-ইয়ামানি)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী

গ্রন্থ: ব্যাখ্যা (বাহজাতুল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতুল আমাসিল ফী তালখিসিল মুজিজাত ওয়াস সিয়ার ওয়াশ শামায়েল, ইমাদুদ্দীন ইয়াহইয়া বিন আবু বকর বিন আল-আমিরি আল-হারাদি [মৃ. ৮৯৩ হিজরী] কৃত)

লেখক: জামালুদ্দীন মুহাম্মদ আল-আশখার আল-ইয়ামানি [মৃ. ৯৯১ হিজরী]

প্রকাশক: আল-মাতবাআ আল-জামালিয়া - মিশর

(এবং এটি দার সাদের - বৈরুত-এর মতো প্রকাশনা সংস্থাগুলো দ্বারা পুনর্মুদ্রিত হয়েছে)

সংস্করণ: প্রথম، ১৩৩০ হিজরী - ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌الجزء الأول

‌‌[خطبة الكتاب والكلام على تفسيرها]

بسم الله الرحمن الرحيم

وبه أستعين وعليه أتوكل أحمدك اللهم على ما اسبلت من نعمائك التوام الشوامل. وأشكرك على ما أجزلت من آلائك العوام الكوامل. حمدا أستنزل به فيض جودك الهاطل. وشكرا استمطر به غيث كرمك الواصل. وأشهد أن لا اله الله وحدك لا شريك لك ولا مماثل. شهادة تتكفل ببلوغ المرام من دخول دار السلام والسلامة من كل خطب هائل. وأشهد ان محمدا عبدك ورسولك وحبيبك وخليلك اصطفيته من خيرة العرب وأشرف القبائل. وأيدته بالبراهين القطعية وأوضح الدلائل. وجعلته مجمعا للخيرات ومنبعا للفضائل. وزينته باحسن الاخلاق وأكرم الشمائل ومدحته بما منحته فقلت «وانك لعلى خلق عظيم» وأنت أصدق قائل. اللهم صل وسلم على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه الا ماجد الاماثل. كلما ذكرك وذكره ذاكر وغفل عن ذكرك وذكره غافل (وبعد) فان بهجة المحافل. للامام الحافظ أبي زكريا يحيى بن أبي بكر العامري العلامة الفاضل. لما كانت من أحسن الكتب المصنفة والاسفار المؤلفة في الفنون المختلفة من تلخيص المعجزات والسير والشمائل. واشتملت على آيات قرآنية وأحاديث نبوية ومسائل فقهية وآداب شرعية ولغوية واحتاجت لنصب علم على ما فيها من المجاهل. يستدل به الناهل على أعذب المناهل.

استخرت الله تعالى في نصب علم يسهل مجهلها ويحل مشكلها ويفتح مغلقها ويقيد مطلقها ويعزي غالب أحاديثها وأقاويلها الى المخرج والقائل وشحته من شرح مسلم للامام النووى الجليل ومن التوشيح والديباج للسيوطى الحافظ النبيل ومن تفسير الحسين بن مسعود الفراء البغوى معالم التنزيل مستعينا غالبا بالنقل عنه عن ابن اسحاق وغيره ممن هو عنه ناقل وأسأل من لا تبرمه المسائل. ولا يخيب لديه السائل. أن يجعل ذلك
প্রথম খণ্ড

[গ্রন্থের ভূমিকা এবং এর ব্যাখ্যার ওপর আলোচনা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং আমি তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি ও তাঁরই ওপর ভরসা করি। হে আল্লাহ! আমি আপনার প্রশংসা করছি আপনার সেই ধারাবাহিক ও পরিব্যাপ্ত নেয়ামতসমূহের জন্য যা আপনি বর্ষণ করেছেন। এবং আপনার সেই সাধারণ ও পূর্ণাঙ্গ দানসমূহের জন্য আপনার শুকরিয়া আদায় করছি যা আপনি প্রচুর পরিমাণে প্রদান করেছেন। এমন প্রশংসা যার মাধ্যমে আমি আপনার মুষলধারে বর্ষিত বদান্যতার প্রবাহ কামনা করি, এবং এমন শুকরিয়া যার মাধ্যমে আমি আপনার নিরবচ্ছিন্ন করুণার বৃষ্টি প্রার্থনা করি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, আপনি একক, আপনার কোনো শরীক নেই এবং আপনার কোনো সদৃশ নেই। এমন এক সাক্ষ্য যা দারুস সালামে (শান্তির আবাসে) প্রবেশের মাধ্যমে পরম লক্ষ্য অর্জন এবং প্রতিটি ভয়াবহ বিপদ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আপনার বান্দা, আপনার রসূল, আপনার প্রিয় এবং আপনার অন্তরঙ্গ বন্ধু। আপনি তাঁকে আরবের শ্রেষ্ঠ এবং গোত্রসমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা মর্যাদাবান থেকে মনোনীত করেছেন। তাঁকে অকাট্য প্রমাণাদি ও সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি দ্বারা শক্তিশালী করেছেন। তাঁকে কল্যাণের আধার এবং শ্রেষ্ঠত্বের উৎস বানিয়েছেন। তাঁকে সর্বোত্তম চরিত্র এবং অত্যন্ত সম্মানিত স্বভাব দ্বারা অলঙ্কৃত করেছেন এবং তাঁকে আপনি যা দান করেছেন তার মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন, "নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত", আর আপনিই সর্বাপেক্ষা সত্যবাদী বক্তা। হে আল্লাহ! আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর মহান ও শ্রেষ্ঠ পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন, যতবার কোনো স্মরণকারী আপনাকে ও তাঁকে স্মরণ করবে এবং যতবার কোনো গাফেল আপনাকে ও তাঁকে স্মরণ করা হতে বিমুখ থাকবে। (অতঃপর) নিশ্চয়ই ইমাম হাফেজ আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন আবু বকর আল-আমেরি, যিনি একজন প্রাজ্ঞ আল্লামা, তাঁর রচিত 'বাহজাতুল মাহাফিল' গ্রন্থটি যখন বিভিন্ন বিদ্যায় রচিত শ্রেষ্ঠ কিতাব ও সংকলনসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো—যা মুজেজা, সিরাত এবং শামায়েলের সারসংক্ষেপ সম্বলিত এবং যাতে কুরআনের আয়াত, নববী হাদিস, ফিকহী মাসায়েল এবং শরয়ি ও ভাষাগত আদবসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; এবং এর মধ্যকার অজ্ঞাত বিষয়গুলোর ওপর একটি নির্দেশক স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল, যার মাধ্যমে জ্ঞানপিপাসু ব্যক্তি অত্যন্ত সুমিষ্ট পানির নহরের সন্ধান পাবে।

আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি এমন একটি নির্দেশক স্থাপনের বিষয়ে যা এর অজ্ঞাত বিষয়গুলোকে সহজ করবে, জটিলতাগুলো নিরসন করবে, রুদ্ধ দ্বার উন্মুক্ত করবে, অনির্দিষ্ট বিষয়কে সুনির্দিষ্ট করবে এবং এর অধিকাংশ হাদিস ও বক্তব্যকে মূল বর্ণনাকারী ও প্রবক্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করবে। আমি একে সজ্জিত করেছি মহান ইমাম নববীর ‘শারহ মুসলিম’ থেকে, হাফেজ ও শ্রেষ্ঠ আলেম সুয়ূতির ‘আত-তাওশীহ’ ও ‘আদ-দিবাজ’ থেকে এবং হুসাইন বিন মাসউদ আল-ফাররা আল-বাগভীর তাফসির ‘মাআলিমুত তানজিল’ থেকে। এক্ষেত্রে আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁর সেই বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছি যা তিনি ইবনে ইসহাক ও অন্যান্যদের থেকে গ্রহণ করেছেন। আমি তাঁর কাছেই প্রার্থনা করি যাঁকে অধিক প্রার্থনা ক্লান্ত করে না এবং যাঁর কাছে কোনো প্রার্থনাকারী বিফল হয় না, তিনি যেন একে...

(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ৩)
الحمد لله الواحد البر الرحيم* الفاطر الصمد العليم* الذى بعث محمدا صلى الله عليه وآله وسلم بالحنيفية السمحة والدين القويم* وبصربه بعد العمى وكشف به الغما وهدا به من الضلالة وآتاه الخلق خالصا من شوائب الآفات وعملا صالحا يجري علىّ بعد الممات وان يبلغنى بمنه ما أنا منه آمل. وان يحشرني ووالدى ومشايخى وسائر المؤمنين في زمرة نبيه محمد خاتم النبيين صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه أجمعين ما ضحك البرق مبتسما وبكي الودق منسجما وأحيا الحيا موات الارض. فانتعش به كل غصن ذابل.

آمين (شرح بعض ألفاظ الخطبة) قال المؤلف غفر الله زلته وأقال عثرته آمين.

(بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ)

(الحمد لله) بدأ بهما تأسيا بالقرآن العظيم وعملا بقوله صلى الله عليه وسلم كل امر ذى بال لا يبدأ فيه ببسم الله الرحمن الرحيم أقطع أخرجه الرهاوى في الاربعين من حديث أبى هريرة ولابن ماجه والبيهقي في السنن والرهاوى من حديثه لا يبدأ فيه بالحمد لله زاد الرهاوى والصلاة على فهو أقطع أبتر ممحوق من كل بركة ومنه يؤخذ تفسير أجذم الذي في صحيح ابن حبان ومعنى ذى بال أى حال يهتم به وجمع بين الابتدائين عملا بالروايتين واشارة الى عدم تعارضهما اذ الابتداء حقيقى واضافي فبالبسملة حصل الاول وبالحمد لله حصل الثاني وقدم البسملة عملا بالكتاب والاجماع واشتقاق الاسم والحمد ومتعلقاتهما مستوفاة في كتب الفقه فلا نطيل بذكرها (البر) هو العطوف على عباده المحسن الى جميع خلقه بالبر والرزق (الفاطر) هو الخالق المخترع على غير مثال سابق (الصمد) هو السيد الذى انتهى سؤدده أو الدائم الباقى بعد فناء خلقه أو الذي يصمد اليه في النوائب أو الذى لا جوف له أو الذى لا يأكل ولا يشرب أو المقصود أو الذى لا عيب فيه أو المالك أو الحليم أو الملك أو الكامل أو الذى لا شئ فوقه أو الذى لا يوجد أحد بصفته أقوال (محمدا) سمى به لكثرة خصاله المحمودة وسيأتى بسط الكلام عليه حيث ذكره المصنف (بالحنيفية) هي المائلة عن كل دين الى دين الاسلام والحنف لغة الميل وحذف الموصوف وهو الملة (السمحة) أى التى لا حرج فيها ولا ضيق (والدين) أى دين الاسلام (القويم) الذى لا اعوجاج فيه (وبصربه بعد العمى) أى هدى به بعد الضلالة (وكشف) أى أزال به (الغما) بضم المعجمة وتشديد الميم وهو الغم العظيم وأصلها المد لكن يقصر لمجاورة العمى (وآتاه) بمد الهمزة أى أعطاه (الخلق) بضم اللام وسكونها الدين والطبع والسجية وحقيقتها صورة الانسان الباطنة وهى نفسه ومعانيها وأوصافها ولها أوصاف حسنة وسيئة والثواب والعقاب يتعلقان باوصاف الصورة الباطنة أكثر من تعلقهما بالصورة الظاهرة وكان صلى الله عليه وسلم من ذلك بالمحل الأعلى كما وصفه جل وعلا «إِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ» أى دين عظيم بقوله لا دين أحب الى الله تعالى ولا أرضا عنده منه وهو الاسلام وقيل القرآن وقيل آدابه وقيل ما كان يأتمر به من أمر الله وينتهي عنه من نهي الله وقيل لانه امتثل تأديب الله عز وجل بقوله «خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ» الآية وفسر عياض الخلق العظيم بالطبع الكريم وقيل ليس له همة الا الله
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এক, কল্যাণকামী ও পরম দয়ালু। তিনি অনাদি স্রষ্টা, অভাবমুক্ত ও সর্বজ্ঞ। তিনি মুহাম্মদকে (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর বর্ষিত হোক) উদার একনিষ্ঠ ধর্মাদর্শ ও সুদৃঢ় জীবনব্যবস্থা সহকারে পাঠিয়েছেন। তাঁর মাধ্যমে তিনি অন্ধত্বের পর দৃষ্টি দান করেছেন, দুঃখ-দুর্দশা দূর করেছেন এবং পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়েত দিয়েছেন। তিনি তাকে দান করেছেন যাবতীয় দোষত্রুটিমুক্ত পবিত্র চরিত্র এবং এমন নেক আমল যা আমার মৃত্যুর পরও জারি থাকে। আর তাঁর করুণায় তিনি যেন আমাকে সেই পর্যন্ত পৌঁছে দেন যা আমি তাঁর নিকট প্রত্যাশা করি। আর আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, আমার উস্তাদগণকে এবং সকল মুমিনকে যেন তাঁর নবী, নবীকুল শিরোমণি মুহাম্মদের (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) দলে হাশর করেন; তাঁর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত বর্ষিত হোক—যতক্ষণ বিদ্যুৎ হাসিমুখে চমকাবে এবং মেঘমালা মুষলধারে ক্রন্দন করবে এবং বৃষ্টি মৃত ভূমিকে সঞ্জীবিত করবে, ফলে প্রতিটি শুষ্ক শাখা সতেজ হয়ে উঠবে।

আমীন (খুতবার কিছু শব্দের ব্যাখ্যা)। লেখক—আল্লাহ তাঁর পদস্খলন ক্ষমা করুন এবং তাঁর ভুলসমূহ মার্জনা করুন—বলেন: আমীন।

(পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে)

(সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য) মহান কুরআনের অনুসরণ করে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর ওপর আমল করে তিনি এ দুটি দিয়ে শুরু করেছেন যে, "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' দিয়ে শুরু করা হয় না, তা বরকতহীন।" আর-রাহাবী তাঁর 'আরবাঈন' গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাজাহ, বাইহাকী তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে এবং আর-রাহাবী তাঁর হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে, "যা 'আলহামদুলিল্লাহ' দিয়ে শুরু হয় না..."। আর-রাহাবী আরও যোগ করেছেন: "এবং আমার ওপর দরুদ পাঠ করা হয় না, তা কর্তিত, লেজকাটা ও সকল বরকত থেকে বঞ্চিত।" এখান থেকেই 'আজজাম' (ছিন্ন) শব্দের ব্যাখ্যা নেওয়া হয়েছে যা সহীহ ইবনে হিব্বানে এসেছে। 'যী বালিন' শব্দের অর্থ হলো এমন অবস্থা যা গুরুত্ববহ। দুটি বর্ণনার ওপর আমল করতে এবং তাদের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই—তা নির্দেশ করতে তিনি উভয় প্রারম্ভিক বাক্যকে একত্রিত করেছেন। কারণ শুরু হওয়াটা প্রকৃতগত এবং আপেক্ষিক হতে পারে। ফলে 'বিসমিল্লাহ' দ্বারা প্রথমটি এবং 'আলহামদুলিল্লাহ' দ্বারা দ্বিতীয়টি অর্জিত হয়েছে। তিনি কিতাব ও ইজমার ওপর আমল করে 'বিসমিল্লাহ'কে আগে রেখেছেন। 'নাম', 'প্রশংসা' এবং এ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর বুৎপত্তি ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে বিস্তারিত রয়েছে, তাই এখানে দীর্ঘায়িত করছি না। (কল্যাণকামী) তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, দয়া ও রিজিকের মাধ্যমে তাঁর সকল সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহকারী। (অনাদি স্রষ্টা) তিনি সেই স্রষ্টা যিনি কোনো পূর্ব নমুনা ছাড়াই উদ্ভাবন করেন। (অভাবমুক্ত) তিনি সেই শ্রেষ্ঠ সত্তা যাঁর মহত্ত্ব চূড়ান্ত পর্যায়ে, অথবা তিনি সেই চিরঞ্জীব যিনি সৃষ্টির বিনাশের পরও অবশিষ্ট থাকেন, অথবা যাঁর অভিমুখ হওয়া হয় বিপদ-আপদে, অথবা যাঁর কোনো অভ্যন্তরীণ শূন্যতা নেই, অথবা যিনি পানাহার করেন না, অথবা যিনি মূল লক্ষ্য, অথবা যাঁর কোনো ত্রুটি নেই, অথবা তিনি মালিক, অথবা সহনশীল, অথবা রাজা, অথবা পূর্ণাঙ্গ, অথবা যাঁর ওপরে কিছু নেই, অথবা যাঁর গুণাবলীতে দ্বিতীয় কেউ নেই—এগুলো বিভিন্ন মত। (মুহাম্মদ) এই নামে তাঁকে নামকরণ করা হয়েছে তাঁর প্রশংসনীয় গুণাবলীর আধিক্যের কারণে। লেখক যেখানে তাঁকে উল্লেখ করেছেন, সেখানে এর বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে। (একনিষ্ঠ ধর্মাদর্শ সহকারে) এটি এমন দ্বীন যা অন্য সকল ধর্ম থেকে বিমুখ হয়ে ইসলামের দিকে ঝুঁকে থাকে। শাব্দিক অর্থে 'হানাফ' মানে ঝুঁকে পড়া। এখানে বিশেষ্যটি অর্থাৎ 'মিল্লাত' (ধর্মাদর্শ) ঊহ্য রয়েছে। (উদার) অর্থাৎ যাতে কোনো সংকীর্ণতা বা কাঠিন্য নেই। (এবং জীবনব্যবস্থা) অর্থাৎ ইসলাম ধর্ম। (সুদৃঢ়) যাতে কোনো বক্রতা নেই। (এবং অন্ধত্বের পর দৃষ্টি দান করেছেন) অর্থাৎ গোমরাহির পর তাঁর মাধ্যমে হেদায়েত দিয়েছেন। (এবং দূর করেছেন) অর্থাৎ দূরীভূত করেছেন। (দুঃখ-দুর্দশা) গাইন বর্ণে পেশ এবং মীম বর্ণে তাশদীদ সহকারে, এর অর্থ হলো চরম উদ্বেগ। এর মূল শব্দে দীর্ঘস্বর ছিল কিন্তু 'অন্ধত্ব' শব্দের সগোত্রীয় করার জন্য তা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। (এবং তাকে দান করেছেন) দীর্ঘ স্বরে হামজা সহকারে, অর্থাৎ তাকে দান করেছেন। (চরিত্র) লাম বর্ণে পেশ অথবা সাকিন সহকারে, এর অর্থ হলো দ্বীন, স্বভাব এবং প্রকৃতি। এর প্রকৃত অর্থ হলো মানুষের অভ্যন্তরীণ রূপ, যা হলো তার আত্মা এবং এর অর্থ ও বৈশিষ্ট্যসমূহ। এর সুন্দর ও মন্দ উভয় প্রকার বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সওয়াব ও আযাব বাহ্যিক আকৃতির চেয়ে অভ্যন্তরীণ রূপের বৈশিষ্ট্যের সাথেই বেশি সম্পৃক্ত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শিখরে ছিলেন, যেমন মহান আল্লাহ তাঁর বর্ণনা দিয়ে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।" অর্থাৎ মহান দ্বীনের ওপর। বলা হয়ে থাকে যে, আল্লাহর নিকট ইসলামের চেয়ে অধিক প্রিয় ও পছন্দনীয় কোনো দ্বীন নেই। কেউ বলেছেন এর অর্থ কুরআন, কেউ বলেছেন এর আদব, আবার কেউ বলেছেন এর অর্থ হলো আল্লাহর আদেশ পালন করা এবং নিষেধ থেকে বিরত থাকা। আরও বলা হয়েছে কারণ তিনি মহান আল্লাহর এই শিষ্টাচারের অনুসরণ করেছিলেন: "আপনি ক্ষমা প্রদর্শন করুন এবং সৎকাজের নির্দেশ দিন..." (আয়াত)। আয়ায 'মহান চরিত্র'কে মহৎ স্বভাব হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। আবার কেউ বলেছেন: আল্লাহ ছাড়া তাঁর আর কোনো লক্ষ্য ছিল না।
(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ৪)
العظيم والقلب السليم* واختصه بالشفاعة العظمى والمقام المحمود والتبجيل والتكريم* وأرسله الى الكافة وآمن به بعد المخافة وجعله من أوسط العرب وأعز الجراثيم* صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم. أفضل الصلاة والتسليم (وبعد)

(و) آتاه (القلب) سمى به لكثرة تقلبه أو لانه خالص ما في البدن وخالص كل شئ قلبه أو لانه وضع في الجسد مقلوبا أقوال أصحها الاول فقد أخرج الطبراني من حديث أبى موسي بسند حسن انما سمى القلب من تقلبه (السليم) هو الخالى عن كل وصف ذميم كالشرك والشك والذنوب الباطنه كالكبر والحسد والرياء والعجب (واختصه) أى افرده وميزه (بالشفاعة) هى لغة الرغبة والزيادة وسمى الشفيع شفيعا لزيادته في الرغبة وشفع أوّل كلامه بآخره (العظمى) هى الشفاعة في فصل القضاء واراحة الناس من طول الوقوف وسيأتي انه اختص بشفاعات أخر سوى هذه (والمقام المحمود) هو هذه الشفاعة أيضا قالوا وزائدة أو إعطاؤه لواء الحمد أو اخراجه طائفة من النار أو أن يكون أقرب من جبرائيل وعليها قالوا وللتغاير (وأرسله الى الكافة) قال الجوهرى الكافة جمع من الناس يقال لقيتهم كافة أى جميعهم انتهى وعن سيبويه ان التعريف في كافة لا يجوز بل يستعمل منكرا منصوبا على الحال كقاطبة انتهى والمراد بالكافة الانس والجن وفي الملائكة خلاف مشهور واختار السبكى وغيره انه مرسل اليهم أيضا (وآمن) بالمد (به) الخلق كافة من ان يصيب كافرهم في الدنيا ما أصاب الامم السالفة من الخسف والمسخ عموما وآمن به المؤمنين في الآخرة من النار (وأعز الجراثيم) جمع جرثومة بضم الجيم والمثلثة بينهما واو ساكنة وجرثومة كل شئ أصله وأصله التراب المجتمع في أصل الشجر والذي تسفيه الريح قاله في القاموس (وآله) هم جميع الامة أو بنو هاشم وبنو المطلب أو أهل بيته وذريته أقوال رجح النووي في شرح مسلم الاول قال وهو اختيار الازهري وغيره من المحققين ورجح الاكثرون الثاني وهو الاظهر نعم قدير ادبهم هنا الأوّل لخبر آل محمد كل تقى أخرجه الطبراني في الاوسط من حديث أنس بسند فيه ضعف (وصحبه) اسم جمع لصاحب وهو من لقيه ولو مرة مؤمنا ومات على ذلك كما هو المعروف عند المحدثين واشترط الاصوليون طول مجالسته على طريق التبع له ويروى عن ابن المسيب اشتراط أن يقيم معه سنة وان يغزو معه وهذا شاذ يلزم منه ان لا يعد جرير بن عبد الله وأمثاله من الصحابة (فائدة) جملة طبقاتهم على ما ذكره الحاكم اثنتا عشرة طبقة الاولى من تقدم اسلامه الثانية أصحاب دار الندوة الثالثة مهاجرة الحبشة الرابعة من بايع ليلة العقبة الخامسة أصحاب العقبة الثانية السادسة أوّل المهاجرين الذين لحقوا رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل أن يدخل المدينة السابعة أهل بدر الثامنة المهاجرة بين بدر والحديبية التاسعة أهل بيعة الرضوان العاشرة المهاجرة بين الحديبية والفتح الحادية عشرة مسلمة الفتح الثانية عشرة الصبيان والاطفال الذين رأوا رسول الله صلى الله عليه وسلم ويدخل فيها من ميز ومن لم يميز وجملة من مات النبي صلى الله عليه وسلم عنهم مائة ألف وأربعة عشر ألفا كما نقله ابن الصلاح عن أبي زرعة الرازي (وبعد) مبنية على الضم كأصلها كلمة يؤتى بها للانتقال من أسلوب الى آخر وكان صلى الله
মহান এবং সুস্থ হৃদয়ের অধিকারী। আর তিনি তাঁকে সুমহান সুপারিশ, প্রশংসিত স্থান, পরম সম্মান ও মর্যাদার জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। তিনি তাঁকে সকল সৃষ্টির নিকট প্রেরণ করেছেন এবং ভয়ের পর তাঁর মাধ্যমে নিরাপত্তা প্রদান করেছেন। তাঁকে করেছেন আরবদের শ্রেষ্ঠ বংশের অন্তর্ভুক্ত এবং সর্বাপেক্ষা সম্মানিত উৎসজাত। আল্লাহর রহমত, শান্তি, শ্রেষ্ঠ সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের প্রতি। (অতঃপর)

(আর) তিনি তাঁকে দান করেছেন (হৃদয়)। হৃদয়ের নামকরণ করা হয়েছে এর অতিশয় পরিবর্তনের কারণে, অথবা এজন্য যে এটি দেহের বিশুদ্ধতম অংশ, আর প্রত্যেক জিনিসের বিশুদ্ধ অংশই তার 'কলব' বা সারভাগ। অথবা এজন্য যে এটি শরীরের মধ্যে উল্টোভাবে রাখা হয়েছে—এসব মতের মধ্যে প্রথমটিই অধিকতর সঠিক। কেননা তাবারানী আবু মুসা থেকে হাসান সনদে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, হৃদয়ের নামকরণ করা হয়েছে এর পরিবর্তনের কারণেই। (সুস্থ) এটি শিরক, সন্দেহ এবং অভ্যন্তরীণ গুনাহ যেমন অহংকার, হিংসা, লোকদেখানো আমল ও আত্মঅহমিকা—এসব দোষণীয় গুণাবলী থেকে মুক্ত। (এবং তিনি তাঁকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন) অর্থাৎ তাঁকে একক ও স্বতন্ত্র করেছেন (সুপারিশের মাধ্যমে)। আভিধানিকভাবে শাফাআত হলো আকাঙ্ক্ষা ও বৃদ্ধি করা। সুপারিশকারীকে শাফী' বলা হয় আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি করার কারণে এবং তার কথার শুরুর সাথে শেষকে যুক্ত করার কারণে। (সুমহান) এটি হলো বিচার ফয়সালার সময়কার সুপারিশ এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সুপারিশ। পরবর্তীতে আসবে যে, এটি ছাড়াও তিনি আরও অন্যান্য সুপারিশের জন্যও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। (এবং প্রশংসিত স্থান) এটিও সেই সুপারিশই। আলেমগণ বলেন, এটি অতিরিক্ত কিছু, অথবা তাঁকে প্রশংসার ঝাণ্ডা প্রদান করা, অথবা একদলকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনা, অথবা জিবরাঈলের অধিক নিকটবর্তী হওয়া; বৈচিত্র্য বুঝানোর জন্য তারা এ কথা বলেছেন। (এবং তাঁকে সকল সৃষ্টির নিকট প্রেরণ করেছেন) জাওহারী বলেন: কাফফাহ অর্থ মানুষের সমষ্টি। বলা হয়: আমি তাদের সকলের সাথে সাক্ষাৎ করেছি। সিবওয়াইহি থেকে বর্ণিত যে, কাফফাহ শব্দে আলিফ-লাম যোগ করা জায়েজ নয়, বরং এটি 'কাতিবাহ' শব্দের ন্যায় 'হাল' হিসেবে অনির্দিষ্ট ও জবরযুক্ত ব্যবহৃত হয়। কাফফাহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মানুষ ও জিন। আর ফেরেশতাদের ব্যাপারে প্রসিদ্ধ মতভেদ রয়েছে; সুবকী ও অন্যান্যগণ এই মত গ্রহণ করেছেন যে তিনি তাদের প্রতিও প্রেরিত। (এবং নিরাপত্তা প্রদান করেছেন) সকল সৃষ্টিকে (তাঁর মাধ্যমে) যাতে এই দুনিয়াতে তাদের মধ্যকার কাফেরদের ওপর পূর্ববর্তী উম্মতদের ন্যায় ভূমিধস বা আকৃতি পরিবর্তনের মতো ব্যাপক আজাব আপতিত না হয়। আর মুমিনদেরকে পরকালে জাহান্নাম থেকে নিরাপত্তা প্রদান করেছেন। (এবং সম্মানিত উৎসসমূহ) এটি 'জুসরুমা' শব্দের বহুবচন। কোনো জিনিসের 'জুসরুমা' হলো তার মূল। কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে এর মূল হলো গাছের গোড়ায় জমা হওয়া মাটি যা বাতাস উড়িয়ে আনে। (এবং তাঁর পরিবার) তারা হলো সম্পূর্ণ উম্মত, অথবা বনী হাশিম ও বনী মুত্তালিব, অথবা তাঁর আহলে বাইত ও বংশধর। ইমাম নববী মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থে প্রথম মতটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং বলেছেন এটি আজহারী ও অন্যান্য গবেষকগণের পছন্দ। অধিকাংশ আলেম দ্বিতীয় মতটিকে প্রধান্য দিয়েছেন এবং এটিই অধিকতর স্পষ্ট। তবে এখানে প্রথম মতটিই উদ্দেশ্য হতে পারে ওই হাদীসের কারণে যেখানে বলা হয়েছে: মুহাম্মাদের পরিবার হলো প্রত্যেক মুত্তাকী ব্যক্তি। তাবারানী আওসাত গ্রন্থে আনাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন যার সনদে দুর্বলতা রয়েছে। (এবং তাঁর সাহাবীগণ) এটি সাহাবীর সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। সাহাবী হলেন ওই ব্যক্তি যিনি ঈমান অবস্থায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন—একবার হলেও—এবং সেই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন, যেমনটি মুহাদ্দিসগণের নিকট প্রসিদ্ধ। উসুলবিদগণ তাঁর অনুসরণের ভিত্তিতে দীর্ঘ সময় সাহচর্যের শর্তারোপ করেছেন। ইবনে মুসাইয়িব থেকে বর্ণিত যে, তিনি এক বছর অবস্থান এবং তাঁর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণের শর্ত দিয়েছেন। তবে এটি বিরল মত; এর ফলে জারীর ইবনে আব্দুল্লাহর মতো ব্যক্তিদের সাহাবী হওয়া থেকে বাদ পড়ার আবশ্যকীয়তা দেখা দেয়। (ফায়দা) হাকেম যা উল্লেখ করেছেন সে অনুযায়ী তাদের স্তর মোট বারোটি। প্রথম: যারা অগ্রে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। দ্বিতীয়: দারুন নদওয়ার সাথে সংশ্লিষ্টগণ। তৃতীয়: হাবশার হিজরতকারীগণ। চতুর্থ: যারা প্রথম আকাবায় শপথ নিয়েছেন। পঞ্চম: দ্বিতীয় আকাবার অংশগ্রহণকারীগণ। ষষ্ঠ: প্রথম হিজরতকারীগণ যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় প্রবেশের পূর্বে তাঁর সাথে মিলিত হয়েছেন। সপ্তম: বদরের অধিবাসী। অষ্টম: বদর ও হুদায়বিয়ার মধ্যবর্তী সময়ের হিজরতকারীগণ। নবম: বাইয়াতে রিদওয়ানের অংশগ্রহণকারীগণ। দশম: হুদায়বিয়া ও বিজয়ের মধ্যবর্তী সময়ের হিজরতকারীগণ। একাদশ: বিজয়ের সময়কার মুসলিমগণ। দ্বাদশ: ওইসব কিশোর ও শিশু যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছে; এর মধ্যে যারা ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে পারে এবং যারা পারে না সবাই অন্তর্ভুক্ত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুকালে যাদের রেখে গেছেন তাদের সংখ্যা এক লক্ষ চৌদ্দ হাজার, যেমনটি ইবনে সালাহ আবু যুরআ রাজী থেকে বর্ণনা করেছেন। (অতঃপর) এটি তার মূল রূপ অনুযায়ী পেশ বিশিষ্ট। এটি এক ভঙ্গি থেকে অন্য ভঙ্গিতে যাওয়ার শব্দ। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম...
(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[مطلب في الكلام على أما بعد]

فمن أجل ما ينبغي معرفته وتعريفه وصرف العناية اليه وتدوينه وتصنيفه الكلام فى العلوم النبوية والصفات المحمدية لصدورها عن الصدر الذي انبعثت عنه العلوم كلها جملة وتفصيلا فروعا وأصولا فشرف العلم شرف المعلوم منه وقد صنفت العلماء في ذلك كتبا كثيرة ما بين تاريخ وشمائل. وأقوال وأفعال واحكام وغير ذلك ومنهم المقل والمكثر وليس فيهم مقصر كل على مبلغ علمه ومقدار فهمه وفوق كل ذى علم عليم*

 

‌‌[الكلام على المؤلفات في التاريخ النبوى وتقسيم الكتاب الى قسمين]

فمن أجل التواريخ النبوية السيرة الكبرى لمحمد بن اسحق المطلبي مولاهم ثم تهذيبها لعبد الملك بن هشام النحوى.

عليه وسلم وأصحابه يأتون بأصلها وهو اما بعد في خطبهم وقد عقد البخاري بابا في استحبابها وذكر فيه جملة من الاحاديث وأوّل من تكلم بها داود وهو فصل الخطاب الذي أوتيه قاله بعض المفسرين وقال المحققون فصل الخطاب الفصل بين الحق والباطل وقيل أوّل من تكلم بها يعرب بن قحطان وقيل قس بن ساعدة الايادي وقيل يعقوب وفيه حديث ضعيف أخرجه الدارقطني وقيل كعب بن لؤى وقيل سحبان ابن وائل ولذلك يقول

لقد علم الحي اليمانون انني … إذا قلت أما بعد أنى خطيبها

قال الحافظ ابن حجر تتبع الحافظ عبد القادر الرهاوي طرق الاحاديث التي رفع فيها أما بعد فأخرجه عن اثنين وثلاثين صحابيا انتهى قلت منهم جابر وعمرو بن تغلب وعائشة وأبو حميد الساعدي وزيد بن أرقم وعقبة بن عامر وأبو الدرداء وأبو مسعود وأبو سعيد (ما ينبغي) أي يفرض كفاية (العناية) بكسر العين المهملة وتخفيف النون الاعتناء بالشئ والتعب فيه والتهمم بشأنه (تدوينه) كتبه في الديوان وهو بكسر المهملة وقد يفتح فارسي معرب قال الجوهري أصله دوان فعوض من احدى الواوين ياء وفي سبب تسميته بذلك وجهان أحدهما ان كسرى اطلع يوما على كتاب ديوانه وهم يحسبون مع أنفسهم فقال ديوانه أي مجانين ثم حذفت الهاء لكثرة الاستعمال الثاني ان الديوان بالفارسية اسم للشياطين فسمي الكتاب باسمهم لحذقهم بالامور ووقوفهم على الجلي والخفي منها (تصنيفه) أي جعله أصنافا أي أنواعا (الكلام) بالنصب اسم ان «1» (عن الصدر) بسكون الدال وهو السيد الذي صدر عن رأيه (فشرف العلم) بضم الراء وفتح الفاء والعلم بالرفع فاعل ويجوز بفتح الراء وضم الفاء مصدر والعلم بالجر بالاضافة (ما بين تاريخ) هو ذكر أوقات الحوادث والارخ بالضم والفتح الوقت وكذا الاراخ والاسم الارخة بالضم قاله في القاموس (وشمائل) جمع شمال بكسر المعجمة وتخفيف الميم وهي الخلق (وفوق كل ذي علم عليم) أي أعلم منه حتى ينتهى العلم الى الله عز وجل (محمد بن اسحق) بن يسار (المطلبي مولاهم) أي مولى بني المطلب مدني امام يكني أبا بكر قال الذهبي رأى أنسا وروي عن عطاء والزهري وعنه شعبة والحمادان والسفيانان ويونس بن بكير وأحمد ابن خالد كان صدوقا من بحور العلم وله غرائب في سعة ما روي يستنكر واختلف في الاحتجاج به والاصح ان حديثه حسن بل قد صححه جماعة مات سنة احدى وخمسين ومائة وجده يسار صحابي روي انه أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فمسح رأسه ودعا له بالبركة ذكره ابن مندة وأبو نعيم بهذا اللفظ (عبد الملك ابن هشام) بن أيوب قال الشمني أصله من البصرة وتوفي بمصر سنة ثلاث عشرة ومائتين (النحوي)

--------------------------------------------

(1) لعل نسخة الشارح وبعد فإن من أجل.
‌‌[অতঃপর (আম্মা বা'দ) সংক্রান্ত আলোচনার পরিচ্ছেদ]

যেসব বিষয় জানা ও জানানো, যেদিকে নিবিষ্টচিত্তে মনোনিবেশ করা এবং যা লিপিবদ্ধ ও সংকলন করা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা হলো নববী ইলম এবং মুহাম্মাদী গুণাবলি সংক্রান্ত আলোচনা। কেননা এগুলো সেই মহান সত্তা থেকে উৎসারিত হয়েছে, যাঁর নিকট থেকে শাখা-প্রশাখা ও মূলনীতিসহ সমস্ত ইলম সামগ্রিক ও বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়েছে। আর ইলমের মর্যাদা নির্ভর করে তার বিষয়বস্তুর মর্যাদার ওপর। উলামায়ে কিরাম এ বিষয়ে বহু গ্রন্থ সংকলন করেছেন, যার মধ্যে ইতিহাস, শামায়িল (চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য), বাণী, কর্ম, বিধান এবং অন্যান্য বিষয়াদি রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ সংক্ষেপে আবার কেউ বিস্তারিতভাবে লিখেছেন, তবে তাঁদের মধ্যে কেউই ত্রুটি করেননি; বরং প্রত্যেকেই নিজ নিজ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার স্তর অনুযায়ী কাজ করেছেন। আর প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরে একজন মহাজ্ঞানী রয়েছেন।

 

‌‌[নববী ইতিহাসের সংকলনসমূহ এবং গ্রন্থটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করার আলোচনা]

নববী ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হলো মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক আল-মুত্তালিবী (তাঁদের আযাদকৃত দাস)-এর আস-সিরাতুল কুবরা, অতঃপর আব্দুল মালিক ইবন হিশাম আন-নাহবী কর্তৃক এর পরিমার্জিত সংস্করণ।

আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ তাঁদের খুতবায় এর মূল রূপ অর্থাৎ 'অতঃপর' (আম্মা বা'দ) শব্দটি ব্যবহার করতেন। ইমাম বুখারী এটি ব্যবহারের মুস্তাহাব হওয়ার বিষয়ে একটি অধ্যায় রচনা করেছেন এবং তাতে বেশ কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন। সর্বপ্রথম এই শব্দটির মাধ্যমে কথা বলেছেন দাউদ (আলাইহিস সালাম), আর এটিই সেই 'ফাসলুল খিতাব' (মীমাংসাকারী বাগ্মিতা) যা তাঁকে দান করা হয়েছিল—এটি কিছু মুফাসসিরের মত। তবে গবেষক উলামাগণ বলেন, 'ফাসলুল খিতাব' হলো সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী। কেউ বলেন সর্বপ্রথম এটি ব্যবহার করেছেন ইয়ারুব ইবন কাহতান, কেউ বলেন কুস ইবন সায়িদা আল-ইয়াদি, আবার কেউ ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-এর কথা বলেন; এ বিষয়ে দারাকুতনি একটি দুর্বল হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবার কারো মতে এটি কা'ব ইবন লুয়াই বা সাহবান ইবন ওয়াইল সর্বপ্রথম বলেছেন। একারণেই কবি বলেন:

নিশ্চয়ই ইয়ামানি গোত্রসমূহ জেনেছে যে আমি... যখন 'অতঃপর' (আম্মা বা'দ) বলি তখন আমিই তাদের শ্রেষ্ঠ বক্তা।

হাফিজ ইবন হাজার বলেন, হাফিজ আব্দুল কাদির আল-রুহাভি সেই হাদিসগুলোর সূত্রসমূহ অনুসন্ধান করেছেন যেগুলোতে 'অতঃপর' (আম্মা বা'দ) শব্দটি মারফু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি তা বত্রিশ জন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত। আমি (গ্রন্থকার) বলি, তাঁদের মধ্যে জাবির, আমর ইবন তাগলিব, আয়েশা, আবু হুমাইদ আস-সাঈদী, যাইদ ইবন আরকাম, উকবা ইবন আমির, আবু দারদা, আবু মাসউদ এবং আবু সাঈদ রয়েছেন। (যা উচিত) অর্থাৎ যা ফরজে কিফায়া। (মনোনিবেশ/যত্ন) 'আইন' বর্ণে জের এবং 'নুন' বর্ণে তাশদিদ ছাড়া; এর অর্থ কোনো বিষয়ের প্রতি যত্নশীল হওয়া, ক্লান্তি স্বীকার করা এবং গুরুত্ব প্রদান করা। (লিপিবদ্ধকরণ) কোনো দপ্তরে বা দিওয়ানে লিখে রাখা। দিওয়ান শব্দটি 'দাল' বর্ণে জের বা জবর সহকারে উচ্চারিত হয়, এটি মূলত ফারসি থেকে আগত। জাওহারী বলেন, এর মূল হলো 'দাওয়ান', যার একটি 'ওয়াও'-এর পরিবর্তে 'ইয়া' এসেছে। এর নামকরণের দুটি কারণ রয়েছে: প্রথমটি হলো, পারস্য সম্রাট কিসরা একদিন তাঁর হিসাবরক্ষকদের গণনারত দেখে বলেছিলেন 'দিওয়ানা' অর্থাৎ তারা পাগল; পরবর্তীতে অধিক ব্যবহারের ফলে 'হা' বর্ণটি বিলুপ্ত হয়। দ্বিতীয় কারণ হলো, ফারসি ভাষায় শয়তানদের 'দিওয়ান' বলা হয়; হিসাবরক্ষকদের সূক্ষ্ম ও জটিল বিষয়ে পারদর্শিতা এবং প্রকাশ্য ও গোপন সব বিষয়ে জ্ঞানের কারণে তাঁদের নথিপত্রকে শয়তানদের নামে নামকরণ করা হয়েছে। (সংকলন) অর্থাৎ কোনো বিষয়কে বিভিন্ন প্রকার বা শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা। (আলোচনা/কথা) এটি নসব অবস্থায় 'ইন্না' এর নাম হিসেবে বসেছে। (সত্তা/বক্ষ) 'দাল' বর্ণে সাকিন সহকারে; এর দ্বারা সেই নেতাকে বোঝানো হয়েছে যাঁর মতামতের ভিত্তিতে সকল সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। (জ্ঞানের মর্যাদা) 'রা' বর্ণে পেশ এবং 'ফা' বর্ণে জবর সহকারে; এখানে 'ইলম' শব্দটি কর্তা হিসেবে পেশযুক্ত। অথবা 'রা' বর্ণে জবর ও 'ফা' বর্ণে পেশ সহকারে এটি মাসদার হতে পারে এবং 'ইলম' শব্দটি মুদাফ ইলাইহি হিসেবে জেরযুক্ত হতে পারে। (ইতিহাস) এর অর্থ হলো ঘটনাবলির সময় উল্লেখ করা। 'আরখ' (পেশ বা জবর সহকারে) মানে সময়; তেমনিভাবে 'আরাখ' এবং 'আরখাহ' শব্দটিও ব্যবহৃত হয়, যেমনটি কামুস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। (শামায়িল) এটি 'শিমাল' (শিন বর্ণে জের ও মিম বর্ণে তাশদিদ ছাড়া) শব্দের বহুবচন, যার অর্থ চরিত্র বা স্বভাব। (প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরে একজন মহাজ্ঞানী রয়েছেন) অর্থাৎ তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী কেউ আছেন, যতক্ষণ না সেই জ্ঞানের উৎস আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে। (মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক) ইবন ইয়াসার আল-মুত্তালিবী, তাঁদের আযাদকৃত দাস। তিনি মদিনার অধিবাসী ইমাম ছিলেন, যাঁর উপনাম আবু বকর। যাহাবী বলেন: তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে দেখেছেন এবং আতা ও যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে শু'বা, দুই হাম্মাদ, দুই সুফিয়ান, ইউনুস ইবন বুকাইর এবং আহমাদ ইবন খালিদ বর্ণনা করেছেন। তিনি অত্যন্ত সত্যবাদী এবং ইলমের সমুদ্র ছিলেন। তবে তাঁর বর্ণনার আধিক্যের কারণে কিছু বিরল বিষয়ও বর্ণিত হয়েছে যা সমালোচিত। তাঁর বর্ণনার মাধ্যমে দলিল পেশ করার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; তবে বিশুদ্ধ মত হলো তাঁর হাদিস 'হাসান' (উত্তম), এমনকি একদল আলিম একে 'সহিহ'ও বলেছেন। তিনি একশত একান্ন হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর দাদা ইয়াসার একজন সাহাবী ছিলেন; বর্ণিত আছে যে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসেছিলেন এবং নবীজি তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে বরকতের দোয়া করেছিলেন—ইবন মান্দাহ ও আবু নুয়াইম এই শব্দেই তা উল্লেখ করেছেন। (আব্দুল মালিক ইবন হিশাম) ইবন আইয়ুব। শামানি বলেন: তাঁর আদি নিবাস বসরা এবং তিনি দুইশত তেরো হিজরিতে মিশরে মৃত্যুবরণ করেন। (ব্যাকরণবিদ/নাহবি)।

--------------------------------------------

(১) সম্ভবত ব্যাখ্যাকারকের পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী মূল পাঠ হলো: "অতঃপর (আম্মা বা'দ), নিশ্চয়ই যা মর্যাদা সম্পন্ন..."।
(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ৬)
وأحسن مختصر في ذلك خلاصة السير للمحب الطبري وفي الشمائل كتاب أبي عيسى الترمذي وجامع أبي محمد ابن حبان رحمهما الله تعالى ومما لم ينسج على منواله ولا سمحت القرائح بمثاله كتاب الشفا للقاضى الامام عياض بن موسى اليحصبي رحمه الله تعالى فانه تكلم في ذات النبوة وأحكامها والمجوزات عليها ولها مع ما وشحه به من الشمائل المرضيات والهدى والمعجزات بقوة عبارة وتلويح إشارة على أحسن أسلوب وامنح تقسيم وترتيب فشكر الله سعيه وأعاد عليه نفعه ولما رأيت ما حبى به القوم من محبة سيد البشر وما يرجون من نفعه يوم غد في المحشر وانتهى اليّ قوله صلى الله عليه وآله وسلم نعمتان مغبون فيهما كثير من الناس الصحة والفراغ باسكان المهملة (المحب الطبري) هو أحمد بن عبد الله بن محمد بن أبي بكر بن محمد بن ابراهيم المكي الحسيني يكني أبا العباس ولد في جمادى الآخرة سنة خمس عشرة وستمائة وتوفي في جمادى الآخرة وقيل في رمضان وقيل في ذي القعدة سنة أربع وتسعين وستمائة (وفي الشمائل) أي وأحسن مختصر في الشمائل (كتاب) بالرفع (أبي عيسى) هو محمد بن عيسى بن سورة بفتح المهملة والراء بينهما واو ساكنة السلمى الضرير قيل ولد أكمه أخذ عن البخاري وغيره من المشايخ وشارك البخاري في بعض شيوخه وكان أحد الأئمة المقتدى بهم في علم الحديث (الترمذي) نسبة الى ترمذ بفتح الفوقية وكسر الميم وبكسرهما وبضمهما آخره معجمة وتوفي بها في شهر رجب سنة تسع وسبعين ومائتين (ابن حبان) بكسر المهملة وبالموحدة اسمه محمد بن أحمد بن حبان (وممالم ينسج) أي لم يحك والنسج الحياكة وهي بالجيم (منواله) بكسر الميم وسكون النون هو في الاصل عود النساج الذي يلف عليه الثوب واستعير هنا (ولا سمحت) أي جادت (القرائح) جمع قريحة بالقاف والمهملة وهي الذكاء والفطنة قال أهل اللغة وأصلها أوّل ما يستنبط من ماء النهر يقال لفلان قريحة أي استنباط للعلم بجودة الطبع (عياض) بكسر المهملة وتخفيف التحتية آخره معجمة (ابن موسى) بن عياض هو الامام الجليل الحافظ النبيل الجامع لاشتات الفنون ولد سنة ست وسبعين وأربعمائة ونشأ في طلب العلم والاجتهاد في تحصيله فبهر بجودة ذهنه وذكاء فهمه عارفا بالشروط والاحكام والوثائق ضابطا لكتبه جيد الشعر حسن التأليف لم يوجد بسبتة في عصر من الاعصار من التعاليق مثل ماله وحاز من الرياسة في بلده ومن الرفعة ما لم يصل اليه أحد من أهلها وما زاده ذلك الا تواضعا وخشية لله تعالى قال ابن خلكان وهو امام الحديث في وقته وأعرف الناس بعلومه وبالنحو واللغة وكلام العرب وأيامها توفي في جمادى الآخرة سنة أربع وأربعين وخمسمائة ودفن بمراكش (اليحصبي) بالتحتية والمهملتين فالموحدة نسبة الى يحصب بن مالك قبيلة من حمير وصاده مثلثة في الاسم وكذا في النسب قاله في القاموس قال وزعم الجوهري انه في النسب بالفتح فقط (وانتهى الى) أي بالاسناد الصحيح (نعمتان مغبون فيهما الخ) أخرجه البخاري والترمذي وابن ماجه من حديث أبي هريرة (الصحة والفراغ) للطبراني من حديث ابن عباس الامن والعافية قال العلماء معنى الحديث ان الانسان لا يتفرغ لطاعة
এই বিষয়ে সর্বোত্তম সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ হলো মুহিব্বুদ্দীন আত-তাবারীর 'খুলাসাতুস সিয়ার' এবং শামায়েল (রাসূলুল্লাহর গুণাবলি) বিষয়ে আবু ঈসা আত-তিরমিজীর গ্রন্থ এবং আবু মুহাম্মদ ইবনে হিব্বানের 'জামে'—আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন। আর যা ইতিপূর্বে এমন শৈলীতে বোনা হয়নি এবং প্রতিভাও যার অনুরূপ প্রকাশ করতে সক্ষম হয়নি, তা হলো ইমাম কাজী আয়ায বিন মূসা আল-ইয়াহসুবী (রাহিমাহুল্লাহ) এর রচিত 'আশ-শিফা' গ্রন্থটি। কেননা তিনি এতে নবুওয়াতের সারসত্তা, এর আহকামসমূহ এবং এর ক্ষেত্রে যা সম্ভব ও প্রযোজ্য তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি একে সুশোভিত করেছেন পছন্দনীয় শামায়েল, হিদায়াত এবং মুজিযাসমূহ দ্বারা; অত্যন্ত শক্তিশালী প্রকাশভঙ্গি এবং নিগূঢ় ইঙ্গিতমালার মাধ্যমে, যা সর্বোত্তম শৈলী এবং সুশৃঙ্খল বিন্যাসে সজ্জিত। আল্লাহ তাঁর প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং তাঁর ফায়দা তাঁকে ফিরিয়ে দিন। আমি যখন দেখলাম যে, লোকেরা মানবজাতির সরদারের প্রতি ভালোবাসার যে নিয়ামত প্রাপ্ত হয়েছে এবং কিয়ামতের দিন তাঁর থেকে যে উপকারের আশা তারা পোষণ করে—আর আমার নিকট পৌঁছেছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের এই বাণী: "দুটি নিয়ামত এমন রয়েছে, যাতে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; তা হলো সুস্থতা ও অবসর" (ফারাগ শব্দের 'রা' বর্ণটি সুকুনসহ বা জযমযুক্ত)।

(মুহিব্বুদ্দীন আত-তাবারী) তিনি হলেন আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-মাক্কী আল-হুসাইনী। তাঁর কুনিয়া হলো আবুল আব্বাস। তিনি ছয়শ পনেরো হিজরীর জুমাদাল আখিরা মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ছয়শ চুরানব্বই হিজরীর জুমাদাল আখিরায় ইন্তেকাল করেন। কেউ বলেছেন রমজানে, আবার কেউ বলেছেন যিলকদ মাসে। (আর শামায়েল বিষয়ে) অর্থাৎ শামায়েল শাস্ত্রের সর্বোত্তম সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ। (গ্রন্থটি) রফ-সহ (পেশ যোগে)। (আবু ঈসা) তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরা—সিন বর্ণে ফাতহা এবং রা বর্ণ, এই দুটির মাঝে ওয়াও বর্ণটি সুকুনযুক্ত—আস-সুলামী আদ-দাহীর। বলা হয় যে, তিনি জন্মান্ধ ছিলেন। তিনি বুখারী ও অন্যান্য মাশায়েখদের থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং বুখারীর সাথে তাঁর কিছু উস্তাদ অভিন্ন। তিনি হাদিস শাস্ত্রের অনুসরণযোগ্য ইমামদের একজন ছিলেন। (আত-তিরমিজী) এটি তিরমিজ অঞ্চলের প্রতি সম্বন্ধিত। তা বর্ণে ফাতহা এবং মীম বর্ণে কাসরা যোগে, অথবা উভয় বর্ণে কাসরা যোগে, অথবা উভয় বর্ণে যম্মাহ যোগে; শেষ বর্ণটি যাল (معجمة)। তিনি সেখানে দুইশ উনআশি হিজরীর রজব মাসে ইন্তেকাল করেন। (ইবনে হিব্বান) হা বর্ণে কাসরা এবং বা (موحدة) বর্ণ যোগে, তাঁর নাম মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হিব্বান। (আর যা বোনা হয়নি) অর্থাৎ যা অনুরূপ তৈরি করা হয়নি। নাসজ অর্থ হলো কাপড় বোনা। (তার শৈলী বা কাঠামো) মীম বর্ণে কাসরা এবং নূন বর্ণে সুকুন যোগে। এটি মূলত তাঁতির সেই কাষ্ঠখণ্ড যার ওপর কাপড় জড়ানো হয়; এখানে তা রূপকার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। (এবং সক্ষম হয়নি) অর্থাৎ উদারতা বা দান করেনি। (প্রতিভাসমূহ) এটি কারীহাহ শব্দের বহুবচন; ক্বাফ এবং হা বর্ণ যোগে। এর অর্থ হলো মেধা ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধি। ভাষাবিদগণ বলেন, এর মূল অর্থ হলো নদীর পানির প্রথম নির্যাস যা আহরণ করা হয়। বলা হয়, অমুকের 'কারীহাহ' আছে, অর্থাৎ তাঁর স্বভাবজাত উৎকর্ষের কারণে জ্ঞান উদ্ভাবনের ক্ষমতা আছে। (আয়ায) আইন বর্ণে কাসরা এবং ইয়া বর্ণে তাশদীদ ছাড়া (تخفيف), শেষে যদ (معجمة) বর্ণ। (ইবনে মূসা) বিন আয়ায। তিনি অত্যন্ত সম্মানিত ইমাম, বিজ্ঞ হাফেজ এবং বিভিন্ন শাস্ত্রের সংকলক। তিনি চারশ ছিয়াত্তর হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং জ্ঞান অর্জন ও তাতে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বেড়ে ওঠেন। তিনি তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ এবং ধীশক্তির তীক্ষ্ণতায় সকলকে বিমোহিত করেন। তিনি (ফিকহী) শর্তাবলি, আহকাম ও দলিলাদি সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন এবং তাঁর কিতাবসমূহ নিখুঁতভাবে সংরক্ষণকারী ছিলেন। তিনি চমৎকার কাব্য রচনা করতেন এবং তাঁর রচনাশৈলী ছিল অত্যন্ত সুন্দর। সিউটা (سبتة) শহরে কোনো যুগেই তাঁর রচনার অনুরূপ টীকা বা ব্যাখ্যাগ্রন্থের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তিনি নিজ শহরে এমন নেতৃত্ব ও উচ্চমর্যাদা লাভ করেছিলেন যা অন্য কেউ অর্জন করতে পারেনি। আর এই সম্মান আল্লাহর প্রতি তাঁর বিনয় ও ভয়কেই কেবল বৃদ্ধি করেছে। ইবনে খাল্লিকান বলেন, তিনি তাঁর সময়ের হাদিসের ইমাম ছিলেন এবং হাদিস শাস্ত্র, নাহু (ব্যাকরণ), অভিধান, আরবদের ইতিহাস ও ঘটনাবলি সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত ছিলেন। তিনি পাঁচশ চুয়াল্লিশ হিজরীর জুমাদাল আখিরা মাসে ইন্তেকাল করেন এবং মারাক্কেশে সমাধিস্থ হন। (আল-ইয়াহসুবী) ইয়া, দুটি হা ও সাদ এবং বা বর্ণ যোগে। এটি ইয়াহসুব বিন মালিক—যা হিময়ার গোত্রের একটি শাখা—এর প্রতি নিসবত বা সম্বন্ধ। নামের সাদ বর্ণটিতে তিনটি হরকত (যবর, যের, পেশ) সম্ভব, নিসবতের ক্ষেত্রেও তাই। এটি 'কামুস' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, আল-জাওহারী দাবি করেছেন নিসবতের ক্ষেত্রে এটি কেবল ফাতহা বা যবর যোগে হবে। (আমার নিকট পৌঁছেছে) অর্থাৎ সহিহ সনদে পৌঁছেছে। (দুটি নিয়ামত যাতে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত...) এটি বুখারী, তিরমিজী এবং ইবনে মাজাহ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস হিসেবে উদ্ধৃত করেছেন। (সুস্থতা ও অবসর) তাবারানীর বর্ণনায় ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে 'নিরাপত্তা ও আফিয়াত' শব্দে এসেছে। ওলামায়ে কেরাম বলেন, হাদিসের অর্থ হলো—মানুষ ইবাদতের জন্য অবসর পায় না...

(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ৭)
سارعت الى جمع مختصر جامع في هذا المعنى يتلخص الكلام فيه (في ثلاثة أقسام) مبنية على فنون حقها أن يفرد كل واحد منها بالتصنيف على حدته

«القسم الاول» فى تلخيص سيرته صلى الله عليه وعلى آله وسلم من مولده الى وفاته وما يتعلق بذلك وفيه ستة أبواب

(الباب الاول) في شرف نسبه ومحتده وفضل بلدي وفاته ومولده وما مهد الله له من الفضائل قبل وجوده وعدد آبائه من لدنه الى آدم صلى الله عليه وسلم

(الباب الثاني) في تاريخ مولده الى نبوته وماجرى في تضاعيف ذلك من عيون الحوادث

(الباب الثالث) فيما كان من ذلك من نبوته الى هجرته صلى الله عليه وآله وسلم

(الباب الرابع) في هجرته وما بعدها الى وفاته صلى الله عليه وآله وسلم

(الباب الخامس) فى ذكر بنيه وبناته وأزواجه وأعمامه وعماته ومرضعاته واخوته من الرضاعة وأخواته وذكر مواليه وخدامه من الاحرار ومن كان يحرسه ورسله الى الملوك وكتابه وأصحابه العشرة النجباء وأنصاره النقباء وأهل الفتوى في حياته

(الباب السادس) فى ذكر دوابه من الخيل والبغال والحمير ونعمه وغنمه وسلاحه ومساكنه وملبوساته وغير ذلك من أنواع آلاته وخاتمه وعدد سراياه وغزواته صلى الله عليه وآله وسلم

«القسم الثاني» في أسمائه الكريمة وخلقته الوسيمة وخصائصه ومعجزاته وباهر آياته الله الا اذا كان مكفيا صحيح الجسم آمنا وقد يحصل له خصلة أو خصلتان فقط ثم لا تحصل له الثالثة فمن حصل له الخصال الثلاث وكسل عن طاعة ربه كان مغبونا في بحارة الآخرة أي خاسرا (سارعت) من المفاعلة المختصة بالواحد كبادرت وعاقبت وطارفت ويصح ان تكون المفاعلة في كلامه على بابها ويكون معناه سابقت هجوم ضد الصحة والفراغ من المرض والاشتغال أو سابقت هجوم الاجل (مختصر) هو في الاصطلاح قليل اللفظ كثير المعنى ويرادفه الوجيز (يتلخص) أي يتبين (حدته) بكسر الحاء وفتح الدال المهملتين أي على انفراده (القسم الاول) (ومحتده) بفتح الميم وسكون المهملة وكسر الفوقية بعدها مهملة وهو الاصل والطبع قاله في القاموس (ونعمه) أي ابله والنعم الابل خاصة فاذا قيل انعام دخل فيها البقر والغنم وقيل بل النعم شامل لها وللبقر والغنم أيضا سميت بذلك لانعام الله عز وجل بها فقوله (وغنمه) على الثاني من باب ذكر الخاص بعد العام على حد فاكهة ونخل ورمان (وخلقته الوسيمة) بالمهملة أي الحسنة والوسامة الحسن والجمال يقال منه وسم بفتح الواو وضم السين وسامة ووساما بفتحهما فهو وسم وجمعه
আমি এই বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সংক্ষিপ্ত সংকলন করার প্রতি দ্রুত অগ্রসর হলাম, যাতে আলোচনাটি (তিনটি বিভাগে) সংক্ষেপিত হয়েছে। এটি এমন কিছু বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে রচিত, যার প্রত্যেকটি পৃথকভাবে স্বতন্ত্র রচনার দাবি রাখে।

«প্রথম বিভাগ» তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সীরাত বা জীবনচরিত্রের সারসংক্ষেপ এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি সম্পর্কে; এতে ছয়টি অধ্যায় রয়েছে।

(প্রথম অধ্যায়) তাঁর বংশমর্যাদা ও মূলভিত্তি, তাঁর জন্ম ও মৃত্যুর শহরের ফযীলত, তাঁর অস্তিত্ব লাভের পূর্বে আল্লাহ তাঁর জন্য যেসব ফযীলত নির্ধারিত করে রেখেছিলেন এবং তাঁর থেকে শুরু করে আদম (আলাইহিস সালাম) পর্যন্ত তাঁর পিতৃপুরুষদের সংখ্যা সম্পর্কে।

(দ্বিতীয় অধ্যায়) তাঁর জন্মের তারিখ থেকে নবুওয়াত পর্যন্ত এবং এর মধ্যবর্তী সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি সম্পর্কে।

(তৃতীয় অধ্যায়) তাঁর নবুওয়াত থেকে হিজরত (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত সময়কালের ঘটনাবলি সম্পর্কে।

(চতুর্থ অধ্যায়) তাঁর হিজরত এবং এর পর থেকে তাঁর ওফাত (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত সময়কাল সম্পর্কে।

(পঞ্চম অধ্যায়) তাঁর পুত্র-কন্যা, পত্নীগণ, চাচা-ফুফু, স্তন্যদানকারিণীগণ, দুগ্ধভাই-বোন, তাঁর মুক্তিকৃত দাস, স্বাধীন খাদেমগণ, দেহরক্ষীগণ, রাজন্যবর্গের নিকট প্রেরিত দূতগণ, লেখকগণ, তাঁর দশজন মহৎ সাহাবী, তাঁর আনসার নকীবগণ এবং তাঁর জীবদ্দশায় ফতোয়া প্রদানকারী ব্যক্তিবর্গের বর্ণনায়।

(ষষ্ঠ অধ্যায়) তাঁর চতুষ্পদ জন্তু যেমন ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা, তাঁর উট ও বকরি, তাঁর অস্ত্রশস্ত্র, বাসস্থান, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং অন্যান্য আসবাবপত্র, আংটি এবং তাঁর পরিচালিত ছোট যুদ্ধাভিযান ও বড় যুদ্ধের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) সংখ্যা বর্ণনায়।

«দ্বিতীয় বিভাগ» তাঁর সম্মানিত নামসমূহ, সুন্দর শারীরিক গঠন, তাঁর বৈশিষ্ট্যসমূহ, মুজিযা এবং তাঁর সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি সম্পর্কে। আল্লাহ... যদি না সে অভাবমুক্ত হয়, সুস্থ দেহের অধিকারী হয় এবং নিরাপদ থাকে। কখনও কখনও তার মাঝে কেবল একটি বা দুটি বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয় কিন্তু তৃতীয়টি অর্জিত হয় না। যার এই তিনটি বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয়েছে, অথচ সে তার রবের আনুগত্যের ক্ষেত্রে অলসতা করে, সে আখিরাতের পণ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে প্রবঞ্চিত হবে অর্থাৎ সে ক্ষতিগ্রস্ত। (আমি ত্বরান্বিত করলাম): এটি 'মুফায়ালাহ' রূপের ক্রিয়া যা একবচনের জন্য নির্ধারিত, যেমন: 'আমি দ্রুত করলাম', 'আমি শাস্তি দিলাম' এবং 'আমি নতুন কিছু করলাম'। তাঁর বক্তব্যে এই 'মুফায়ালাহ' তার মূল অর্থেই হওয়া সম্ভব, সেক্ষেত্রে এর অর্থ হবে: আমি সুস্থতা ও অবসরের বিপরীতে অসুস্থতা ও ব্যস্ততার আক্রমণের পূর্বেই অগ্রগামী হলাম, অথবা মৃত্যুর সময় উপস্থিত হওয়ার পূর্বেই অগ্রগামী হলাম। (সংক্ষিপ্ত): পরিভাষায় যা অল্প শব্দের কিন্তু অধিক অর্থবহ, এবং 'সংক্ষিপ্ত' বা 'সারকথা' এর সমার্থক। (সংক্ষেপিত হয়েছে): অর্থাৎ সুস্পষ্ট হয়েছে। (স্বতন্ত্র): হা বর্ণে কাসরা এবং দাল বর্ণে ফাতহা যোগে, অর্থাৎ পৃথকভাবে। (প্রথম বিভাগ) (মাওতিদ): মিম বর্ণে ফাতহা, হা বর্ণে সুকুন এবং তা বর্ণে কাসরা ও পরবর্তীতে দাল বর্ণ। এর অর্থ হলো উৎস ও স্বভাব, যা 'কামূস' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। (তার উটসমূহ): অর্থাৎ তার উট। 'নাআম' দ্বারা বিশেষভাবে উটকেই বোঝানো হয়। আর যখন 'আনআম' বলা হয়, তখন তাতে গরু ও ছাগলও অন্তর্ভুক্ত হয়। কেউ কেউ বলেছেন, 'নাআম' শব্দটিও উট, গরু ও ছাগল—সবগুলোকেই অন্তর্ভুক্ত করে। এর নাম এরূপ রাখা হয়েছে কারণ আল্লাহ তাআলা এগুলো দ্বারা নেয়ামত দান করেছেন। সুতরাং তাঁর উক্তি (ও তার ছাগলসমূহ) দ্বিতীয় মতানুসারে 'সাধারণের পর বিশেষের উল্লেখ'—এই নিয়মের অন্তর্ভুক্ত, যেমন: 'ফলমূল এবং খেজুর ও ডালিম' কথাটিতে হয়েছে। (তাঁর সুন্দর গঠন): সীন বর্ণ যোগে, অর্থাৎ উত্তম। 'ওয়াসামাহ' অর্থ হলো সৌন্দর্য ও শ্রী। বলা হয়ে থাকে 'ওয়াসুমা' (ওয়াত্ত বর্ণে ফাতহা ও সীন বর্ণে যম্মাহ যোগে), সৌন্দর্য ও শ্রী (উভয়টিতে ফাতহা যোগে); সুতরাং তিনি সুন্দর এবং এর বহুবচন...
(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ৮)
وفيه أربعة أبواب

(الباب الاول) فى الاسماء وما تضمنت من المناسبات

(الباب الثاني) في صفة خلقه الوسيم وتناسب أعضائه واستواء اجزائه وما جمع الله فيه من صفة الكمالات

(الباب الثالث) في الخصائص وهو نوعان

(الاول) في خصائصه صلى الله عليه وعلى آله وسلم دون الانبياء قبله وما اختصت به أمته ببركته

(الثاني) فيما اختص به دون أمته من الواجبات والمباحات والمحرمات

(الباب الرابع) فيما أيده الله به من المعجزات وخرق العادات

«القسم الثالث» في شمائله وفضائله وأقواله وأفعاله في جميع أحواله وفيه ثلاثة أبواب

(الباب الاول) في عادته وسجيته في المباحات والمعتادات الضروريات

(الباب الثاني) في الاخلاق المعنويات التى جمعها حسن الخلق

(الباب الثالث) في شمائله في العبادات المتكررات

وهذا القسم رحمك الله واسطة عقد هذه الاقسام ومحله منها محل اللطائف من الاجسام لما حوى من التنبيه على جمل شرعية وآداب مرعية وسنن مأثورة وهيآت مهجورة لقلة الاستعمال واقتداء الجهال بأهل الاهمال وأذيله بباب جامع في فضل أهل بيت رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وصحابته ومن يعظم لا جله وفضل حديثه ومحدثيه واختم جميع ذلك بفضل الصلاة عليه وعلى آله والتسليم صلى الله عليه وآله وسلم واسئل الله الكريم الرحمن الرحيم أن يعظم لي في جمعه الفائدة ويعيد على من بركاته أعظم عائدة وأن يجعل إجازتي فيه الرضى والنزول في جوار المصطفى وأولادي ووالدي واخواني وحامتى والمسلمين وجميع الاصحاب انه عظيم الرجاء سميع الدعاء وهو حسبي ونعم الوكيل نعم المولى ونعم النصير

وسماء (وسجيته) بفتح المهملة وكسر الجيم وتشديد التحتية أي عادته (مأثورة) بالمثلثة أي منقولة (مهجورة) أي متروكة (ووالدي) بكسر الدال وتشديد التحتية جمع والد (وحامتي) بالمهملة والمد وتشديد الميم وفي بعض النسخ وخاصتى باعجام الخاء واهمال الصاد والحامة الخاصة الذين يختص بهم ويختصون به ويهتم بأمرهم ويحرقه قيل وهو مأخوذ من الماء الحميم وهو الحار
এতে চারটি অধ্যায় রয়েছে

(প্রথম অধ্যায়) নামসমূহ এবং এর অন্তর্ভুক্ত প্রাসঙ্গিক বিষয়াবলি সম্পর্কে

(দ্বিতীয় অধ্যায়) তাঁর সুন্দর দৈহিক গঠন, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সামঞ্জস্য, শরীরের অঙ্গসমূহের সুঠাম হওয়া এবং আল্লাহ তায়ালা তাঁর মাঝে পূর্ণাঙ্গ গুণাবলির যা কিছু একত্রিত করেছেন সে সম্পর্কে

(তৃতীয় অধ্যায়) বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে, আর তা দুই প্রকার

(প্রথম প্রকার) তাঁর ঐসব বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে যা তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণের পরিবর্তে কেবল তাঁরই (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) জন্য নির্দিষ্ট এবং তাঁর বরকতে তাঁর উম্মত যা বিশেষ প্রাপ্তি হিসেবে লাভ করেছে

(দ্বিতীয় প্রকার) যা তাঁর উম্মতের পরিবর্তে কেবল তাঁরই জন্য নির্দিষ্ট ছিল; যেমন- ওয়াজিব, মুবাহ এবং হারাম বিষয়সমূহ

(চতুর্থ অধ্যায়) আল্লাহ তায়ালা তাঁকে যেসব মোজেজা এবং অলৌকিক ঘটনাবলির মাধ্যমে শক্তিশালী করেছেন সে সম্পর্কে

«তৃতীয় অংশ» তাঁর শামায়েল (দৈহিক ও চারিত্রিক গুণাবলি), ফজিলত এবং তাঁর সকল অবস্থায় তাঁর বাণী ও কার্যাবলি সম্পর্কে; এতে তিনটি অধ্যায় রয়েছে

(প্রথম অধ্যায়) মুবাহ বিষয়াদি, প্রাত্যহিক অভ্যাস এবং প্রয়োজনীয় বিষয়াবলির ক্ষেত্রে তাঁর অভ্যাস ও স্বভাব সম্পর্কে

(দ্বিতীয় অধ্যায়) আধ্যাত্মিক চরিত্র সম্পর্কে, যা উত্তম চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত

(তৃতীয় অধ্যায়) তাঁর নিয়মিত ইবাদতসমূহের ক্ষেত্রে তাঁর শামায়েল সম্পর্কে

হে আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, এই অংশটি হলো এই ভাগগুলোর মধ্যে কণ্ঠহারের মধ্যমণির মতো এবং এসবের মাঝে এর স্থান হলো দেহের মাঝে সূক্ষ্ম প্রাণসত্তার মতো। কারণ এতে রয়েছে শরিয়তের বিধিবিধানের সারসংক্ষেপ, পালনীয় আদবসমূহ, বর্ণিত সুন্নাতসমূহ এবং এমন কিছু পদ্ধতি যা ব্যবহারের স্বল্পতা এবং অলস ব্যক্তিদের অনুসরণ করার ফলে বর্জিত হয়ে পড়েছে। আমি এর শেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের আহলে বাইত, তাঁর সাহাবীগণ এবং যাঁদেরকে তাঁর সম্মানে সম্মান প্রদর্শন করা হয় তাঁদের ফজিলত, এবং তাঁর হাদিস ও হাদিস বিশারদগণের ফজিলত সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যায় যুক্ত করছি। আর আমি এসব কিছু সমাপ্ত করব তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ ও সালাম পাঠের ফজিলতের মাধ্যমে; আল্লাহ তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। আমি মহান দাতা, পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন এর সংকলনের মাঝে আমার জন্য মহৎ উপকার নিহিত রাখেন এবং এর বরকত যেন পাঠকারীর ওপর ব্যাপকভাবে ফিরিয়ে দেন। আর তিনি যেন এর মাধ্যমে আমার প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং আমাকে, আমার সন্তানদের, পিতামাতাকে, ভাইদেরকে, আত্মীয়-স্বজনদেরকে, মুসলমানদেরকে এবং সকল সঙ্গীকে মোস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সান্নিধ্যে স্থান দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সুউচ্চ প্রত্যাশার স্থল এবং দোয়া শ্রবণকারী। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক, কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী।

এবং (সাজিয়্যাহ) ‘সিন’ বর্ণে জবর, ‘জিম’ বর্ণে জের এবং ‘ইয়া’ বর্ণে তাশদিদ সহকারে, অর্থাৎ তাঁর স্বভাব। (মা’সূরাহ) ‘ছা’ বর্ণ যোগে, অর্থাৎ যা বর্ণিত হয়েছে। (মাহজুরাহ) অর্থাৎ যা বর্জিত বা পরিত্যক্ত। (ওয়ালিদাইয়্যা) ‘দাল’ বর্ণে জের এবং ‘ইয়া’ বর্ণে তাশদিদ সহকারে, এটি ‘ওয়ালিদ’ (পিতা) শব্দের বহুবচন। (হামাতি) ‘হা’ বর্ণ যোগে, দীর্ঘ স্বর এবং ‘মিম’ বর্ণে তাশদিদ সহকারে; কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে ‘খাসসাতি’ (আমার খাস ব্যক্তিবর্গ) হিসেবে এসেছে। ‘হামাহ’ হলো ঐসব বিশেষ ব্যক্তি যাঁদের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও তাঁদের সাথে জড়িত, যাঁদের বিষয়ে তিনি গুরুত্ব প্রদান করেন এবং ব্যথিত হন। বলা হয়েছে যে, এটি ‘হামিম’ শব্দ থেকে গৃহীত, যার অর্থ হলো উত্তপ্ত পানি।
(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌[القسم الاول في تلخيص سيرته]

القسم الاول في تلخيص سيرته وهو محتو على ستة أبواب حسب ما تقدم

‌‌[الباب الاول من القسم الاول في مولده وشرف نسبه ومحتده]

الباب الاول- «فى شرف نسبه ومحتده وما مهد الله له من الفضائل قبل وجوده وفضل بلدي وفاته ومولده وعدد آبائه من لدنه الى آدم صلى الله عليه وآله وسلم»

قال الله تعالى لَقَدْ جاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ. قريء بضم الفاء وفتحها وكلاهما متضمنان لفضيلة نسبه أما قراءة الضم فقال المفسرون لم تكن في العرب قبيلة الا ولها على رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم ولادة وقرابة وعليه حمل ابن عباس قوله تعالى إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبى وعلى قراءة الفتح فهو أبلغ في المدح لان النفيس الخيار الجيد ومثله في الآية الاخرى لقد منّ الله على المؤمنين إذ بعث فيهم رسولا من أنفسهم وقال تعالى كَما أَرْسَلْنا فِيكُمْ رَسُولًا مِنْكُمْ وروي عن على بن أبي طالب رضى الله عنه في قوله تعالى مِنْ أَنْفُسِكُمْ قال عنه صلى الله عليه وسلم نسبا وحسبا وصهرا ليس في آبائى من لدن آدم سفاح كلها نكاح. قال ابن الكلبي كتبت للنبي صلى الله عليه وآله وسلم خمسمائة أم فما وجدت فيهن سفاحا ولا شيئا كانت عليه الجاهلية

‌‌[مطلب في الكلام على أنكحة الجاهلية]

(قال المؤلف غفر الله له) وقد كان نكاح الجاهلية على أربعة أنحاء. فنكاح منها نكاح الناس اليوم يخطب الرجل الى الرجل وليته أو بنته فيصدقها ثم ينكحها. والنكاح الآخر كان الرجل يقول لامرأته اذا طهرت من طمثها أرسلى الى فلان فاستبضعي منه فيعتز لها زوجها فلا يمسها أبدا حتى يتبين حملها من ذلك الرجل الذي تستبضع منه فاذا تبين حملها أصابها زوجها اذا أحب وانما يفعل ذلك رغبة في نجابة الولد فكان هذا النكاح نكاح الاستبضاع. ونكاح آخر يجتمع الرهط ما دون القسم الاول (حسب ما) بفتح المهملة أي على قدره وعدده وقد تسكن سينه أيضا (ليس في آبائي من لدن آدم سفاح كلها نكاح) أخرجه البيهقي في الدلائل من حديث أنس رضي الله عنه (قال ابن الكلبى الخ) حكاه عنه ابن شعبة وابن عساكر (على أربعة أنحاء) بفتح الهمزة وسكون النون وبالمهملة جمع نحو وهو الجهة والمقصد والمراد هنا علي أربعة أقسام (وليته) بفتح الواو وكسر اللام وتشديد التحتية أى قريبته من أخت ونحوها (طهرت) مثلث الهاء والضم أشهر (من طمثها) بفتح المهملة وسكون الميم وبالمثلثة وهو من أسماء الحيض وهي عشرة حيض وطمث وضحك واكبار واعصار وعراك ودراس وفراك بالفاء وطمس ونفاس (فاستبضعى) بالموحدة والمهملة أي اطلبى منه الجماع لاجل الولد وأصله الاصابة في البضع وهو الفرج (الرهط) الجماعة نحو العشرة لا واحد
[প্রথম অংশ: তাঁর সীরাতের সারসংক্ষেপ]

প্রথম অংশ তাঁর সীরাতের সারসংক্ষেপ প্রসঙ্গে, যা পূর্বে উল্লিখিত বর্ণনা অনুযায়ী ছয়টি অধ্যায় সম্বলিত।

[প্রথম অংশের প্রথম অধ্যায়: তাঁর জন্ম, বংশমর্যাদা এবং আদি উৎস প্রসঙ্গে]

প্রথম অধ্যায়— «তাঁর বংশমর্যাদা ও আদি উৎস, তাঁর অস্তিত্বে আসার পূর্বে আল্লাহ তাঁর জন্য যেসব শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করে রেখেছিলেন, তাঁর মৃত্যু ও জন্মের শহরের ফযীলত এবং আদম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে তাঁর পর্যন্ত পিতৃপুরুষদের সংখ্যা প্রসঙ্গে»

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে একজন রাসূল এসেছেন।" এটি 'ফা' বর্ণে পেশ (যম্মাহ) এবং যবর (ফাতহাহ) উভয়ভাবেই পঠিত হয়েছে। আর উভয় কিরাআতই তাঁর বংশীয় শ্রেষ্ঠত্বের মাহাত্ম্য বহন করে। পেশ যোগে কিরাআতের ক্ষেত্রে মুফাসসিরগণ বলেন: আরবদের এমন কোনো গোত্র ছিল না যার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্মগত ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল না। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) মহান আল্লাহর বাণী: "কেবল আত্মীয়তার সৌহার্দ্য ব্যতিরেকে" এর ক্ষেত্রে এই অর্থই গ্রহণ করেছেন। আর যবর যোগে কিরাআতের ক্ষেত্রে এটি প্রশংসার বর্ণনায় অধিক অর্থবহ, কেননা 'নাফীস' শব্দের অর্থ হলো সর্বোত্তম ও উৎকৃষ্ট। অন্য আয়াতেও এর অনুরূপ এসেছে: "অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের নিজেদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন।" এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "যেমন আমি তোমাদের মধ্যে তোমাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়েছি।" আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল্লাহর বাণী "তোমাদের মধ্য থেকে" এর ব্যাখ্যায় বর্ণিত আছে যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: "বংশমর্যাদা, চারিত্রিক আভিজাত্য এবং বৈবাহিক সম্পর্কের দিক থেকে; আদম থেকে আমার পর্যন্ত পিতৃপুরুষদের মধ্যে কোনো ব্যভিচার ছিল না, বরং তার সবই ছিল বৈধ নিকাহ।" ইবনুল কালবি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর পাঁচশ জন নারী পূর্বপুরুষের তালিকা লিপিবদ্ধ করেছি, তাদের কারো মধ্যেই আমি কোনো ব্যভিচার অথবা জাহিলী যুগের কোনো কুপ্রথার লেশমাত্র পাইনি।

[জাহিলী যুগের বিবাহ পদ্ধতি সংক্রান্ত আলোচনা]

(লেখক—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন—বলেন) জাহিলী যুগে বিবাহ ছিল চার প্রকার। প্রথম প্রকার হলো বর্তমান সময়ের মানুষের বিবাহের মতো: একজন লোক অন্য লোকের কাছে তার অভিভাবকত্বাধীন নারী অথবা তার কন্যার বিয়ের প্রস্তাব দিত, অতঃপর মোহরানা নির্ধারণ করে তাকে বিবাহ করত। দ্বিতীয় প্রকার বিবাহ ছিল এমন: কোনো লোক তার স্ত্রীকে বলত যখন সে তার ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হতো: "অমুকের কাছে যাও এবং তার সাথে সহবাসের মাধ্যমে সন্তান প্রার্থনা করো।" এরপর তার স্বামী তার থেকে পৃথক থাকত এবং তাকে স্পর্শ করত না যতক্ষণ না ওই লোক থেকে তার গর্ভধারণ নিশ্চিত হতো। যখন তার গর্ভধারণ প্রকাশ পেত, তখন স্বামী চাইলে তার সাথে সহবাস করত। সন্তান যাতে অভিজাত ও গুণবান হয় সেই আকাঙ্ক্ষা থেকেই তারা মূলত এমনটা করত; এই বিবাহ ছিল 'নিকাহুল ইস্তিবদা'। এবং অন্য এক প্রকার বিবাহ ছিল যেখানে একদল লোক একত্রিত হতো যা প্রথম অংশের চেয়ে কম (হাশবা মা) অর্থাৎ তার পরিমাণ ও সংখ্যা অনুযায়ী। কখনও 'সিন' বর্ণটি সাকিনও হতে পারে। (আদম থেকে আমার পিতৃপুরুষদের মধ্যে কোনো ব্যভিচার ছিল না, সবই ছিল বৈধ নিকাহ)—এটি বাইহাকী 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' গ্রন্থে আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন। (ইবনুল কালবি বলেন...)—এটি ইবনে শুব্বাহ এবং ইবনে আসাকির তার থেকে উদ্ধৃত করেছেন। (চার প্রকার)—হামযাহ-এর ফাতহাহ এবং নূন-এর সুকুন যোগে; এটি 'নাহউ' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ দিক বা উদ্দেশ্য, এখানে এর দ্বারা চারটি বিভাগ বোঝানো হয়েছে। (তার অভিভাবকত্বাধীন নারী)—ওয়াও-এর ফাতহাহ, লাম-এর কাসরাহ এবং ইয়া-তে তাশদীদ যোগে; অর্থাৎ তার নিকটাত্মীয় যেমন বোন বা অনুরূপ কেউ। (পবিত্র হতো)—হাহ বর্ণটিতে তিনটি হরকতই হতে পারে, তবে পেশ (যম্মাহ) যোগে পড়া অধিক প্রসিদ্ধ। (তার ঋতুস্রাব থেকে)—ত্ব-এর ফাতহাহ এবং মীম-এর সুকুন যোগে; এটি ঋতুস্রাবের অন্যতম নাম। ঋতুস্রাবের নাম দশটি: হায়য, ত্বমাস, দহিক, ইবার, ই'সার, ই'রাক, দিরাস, ফিরাক (ফা বর্ণ দিয়ে), ত্বমাস এবং নিফাস। (সহবাস প্রার্থনা করো)—বা এবং সোয়াদ যোগে; অর্থাৎ সন্তানের জন্য তার কাছে সহবাস প্রার্থনা করো। এর মূল অর্থ হলো 'বুয' তথা লজ্জাস্থানে মিলন। (দল)—দশজনের কাছাকাছি একটি দল, যার কোনো একবচন নেই।
(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ১০)
العشرة فيدخلون على المرأة كلهم يصيبها فاذا حملت ووضعت ومرت ليالى بعد أن تضع أرسلت اليهم فلم يستطع رجل منهم أن يمتنع حتى يجتمعوا عندها تقول لهم قد عرفتم الذي كان من أمركم وقد ولدت وهو ابنك يا فلان تسمى من أحبت باسمه فتلحق به ولدها لا يستطيع ان يمتنع منه الرجل. والنكاح الرابع يجتمع الناس الكثير فيدخلون على المرأة لا تمنع من جاءها وهن البغايا كن ينصبن على أبوابهن رايات تكون علما فمن أرادهن دخل عليهن فاذا حملت احداهن ووضعت حملها جمعوا لها القافة ثم الحقوا ولدها بالذي يرون فالتاط به ودعى به ابنه لا يمتنع الرجل من ذلك.

فلما بعث محمد صلي الله عليه وآله وسلم بالحق هدم نكاح الجاهلية كله الا نكاح الناس اليوم رويناه في صحيح البخارى ومسلم وسنن أبى داود من رواية عروة بن الزبير عن عائشة رضي الله تعالى عنها موقوفا عليها.

وهذا من أعظم العناية أن أجرى الله سبحانه وتعالى نكاح آبائه من آدم الى أن أخرجه من بين أبويه على نمط واحد وفق شريعته صلى الله عليه وعلى آله وسلم.

له من لفظه (ومرت ليالى) بسكون التحتية (بالذى يرون) بفتح الياء من الرأى وبضمها من الظن (فالتاط به) بهمزة وصل وسكون اللام ثم فوقية ثم ألف ثم مهملة أي التصق به (في صحيح البخارى) هو أبو عبد الله محمد بن اسماعيل بن ابراهيم بن المغيرة بن بردزبه بفتح الموحدة وسكون الراء وكسر المهملة وسكون الزاي وفتح الموحدة على المشهور وبه جزم ابن ماكولا وهو بالفارسية الزارع الجعفي مولاهم أسلم جده المغيرة على يد اليمان الجعفى فنسب اليه نسبة ولاء ويقال انه عمي في صغره وكانت أمه مستجابة الدعوة فدعت الله فاعاد عليه بصره ولد يوم الجمعة بعد الصلاة لثلاث عشرة خلت من شوال سنة أربع وتسعين ومائة ببخارى ومات ليلة السبت ليلة الفطر سنة ست وخمسين ومائتين ودفن بخرتنك قرية من عمل بخاري (وسنن أبى داود) هو سليمان بن الاشعث بالمثلثة السجستانى ولد سنة ثلاثين ومائتين ومات بالبصرة يوم الجمعة سادس عشر شوال سنة خمس وسبعين ومائتين (من رواية عروة بن الزبير) بن العوام بن خويلد بن أسد أخي عبد الله لابويه كنيته أبو عبد الله يروي عن أبويه وخالته وعلي وخلائق قال ابن سعد كان فقيها عالما كثير الحديث ثبتا مأمونا كان يصوم الدهر ومات صائما سنة ثلاث وتسعين أو أربع وتسعين قولان (عن عائشة) هى بنت أبى بكر الصديق حبيبة رسول الله صلى الله عليه وسلم فقيهة نساء الامة ومناقبها كثيرة عاشت خمسا وستين سنة وتوفيت سنة تسع وخمسين أو ثمان وخمسين ليلة الثلاثاء لسبع عشرة ليلة خلت من رمضان وصلى عليها أبو هريرة ودفنت بالبقيع بوصية منها (نمط) بفتح النون والميم وبالمهملة أي نوع والنمط في الاصل نوع من أنواع البسط لا يستعمل في غيره الا مقيدا قاله الجوهري
দশজন পর্যন্ত পুরুষ একসাথে একজন মহিলার কাছে আসত এবং তারা সবাই তার সাথে মিলিত হত। যখন সে গর্ভবতী হতো এবং সন্তান প্রসব করত, তখন প্রসবের কিছুদিন পর সে তাদের কাছে সংবাদ পাঠাত। তাদের মধ্যে কেউ বিরত থাকতে পারত না, যতক্ষণ না তারা সবাই তার কাছে জমা হতো। সে তাদের বলত, "তোমরা তোমাদের বিষয়টি জানো, আর আমি এখন একটি সন্তান জন্ম দিয়েছি। হে অমুক! এ তোমার ছেলে।" সে যাকে পছন্দ করত তার নাম বলত এবং তার সন্তানকে তার সাথে যুক্ত করত। সেই ব্যক্তি তা অস্বীকার করতে পারত না। চতুর্থ প্রকার বিয়ে ছিল, যেখানে অনেক মানুষ একত্রিত হয়ে একজন মহিলার কাছে যেত এবং সে আগত কাউকেই বাধা দিত না। তারা ছিল পতিতা। তারা তাদের দরজায় একটি পতাকা টাঙিয়ে রাখত যা নিদর্শন হিসেবে কাজ করত। যে চাইত সে তাদের কাছে প্রবেশ করত। যখন তাদের কেউ গর্ভবতী হতো এবং সন্তান প্রসব করত, তখন তারা বংশলক্ষণবিদদের একত্রিত করত। অতঃপর তারা যে ব্যক্তিকে উপযুক্ত মনে করত তার সাথে সন্তানকে যুক্ত করত। ফলে সে তার সাথে যুক্ত হয়ে যেত এবং তাকে তার সন্তান বলে ডাকা হতো। ঐ ব্যক্তি তা অস্বীকার করতে পারত না।

অতঃপর যখন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) সত্যসহ প্রেরিত হলেন, তখন তিনি জাহেলিয়াত আমলের সকল বিয়ে বিলুপ্ত করে দিলেন বর্তমানকালের মানুষের বিয়ের রীতি ব্যতীত। আমরা এটি সহীহ বুখারী, মুসলিম এবং সুনানে আবু দাউদে উরওয়াহ ইবনুল জুবায়ের থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা) থেকে বর্ণিত হিসেবে বর্ণনা করেছি।

এটি মহান আল্লাহর বিশেষ তত্ত্বাবধানের অন্তর্ভুক্ত যে, তিনি আদম থেকে শুরু করে তাঁর পিতামাতার মাধ্যমে তাঁকে দুনিয়াতে আনা পর্যন্ত তাঁর পিতৃপুরুষদের বিয়ের ধারাটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) শরীয়ত অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে পরিচালনা করেছেন।

মূল পাঠের শব্দাবলীতে: (ও মাররাত লায়ালি) নিচের ইয়া বর্ণে সুকুনসহ। (বিল্লাজি ইয়ারাওনা) ইয়া বর্ণে জবরসহ অর্থ 'দেখা' থেকে, অথবা ইয়া বর্ণে পেশসহ অর্থ 'ধারণা করা' থেকে। (ফালতাতা বিহি) হামজায়ে ওয়াসল, লাম-এ সুকুন, তারপর তা, আলিফ এবং ত-এ মুহমালাসহ; এর অর্থ সে তার সাথে লেগে গেল বা সংযুক্ত হলো। (সহীহ বুখারী)-এর লেখক হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইবরাহিম বিন আল-মুগীরা বিন বারদিজবাহ। বা বর্ণে জবর, রা বর্ণে সুকুন, দাল বর্ণে যের, যা বর্ণে সুকুন এবং বা বর্ণে জবরসহ প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী এবং ইবন মাকুলা এটিই নিশ্চিত করেছেন। এটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ 'কৃষক'। তিনি জু'ফী গোত্রের আযাদকৃত দাস ছিলেন। তাঁর দাদা মুগীরা আল-ইয়ামান আল-জু'ফীর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন, ফলে তাঁর দিকেই তাঁর সম্বন্ধ করা হয়। বলা হয়ে থাকে যে, শৈশবে তিনি অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর মাতা ছিলেন এমন এক নারী যাঁর দোয়া কবুল হতো। তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন এবং আল্লাহ তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি ১৯৪ হিজরীর ১৩ই শাওয়াল জুমার নামাজের পর বুখারায় জন্মগ্রহণ করেন। ২৫৬ হিজরীর ঈদুল ফিতরের রাতে শনিবার দিবাগত রাতে তিনি ইন্তেকাল করেন এবং বুখারার একটি গ্রাম খারতাংকে তাঁকে সমাহিত করা হয়। (সুনানে আবু দাউদ)-এর লেখক হলেন সুলায়মান বিন আশ'আস সাজিস্তানী। তিনি ২৩০ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৭৫ হিজরীর ১৬ই শাওয়াল জুমার দিনে বসরায় ইন্তেকাল করেন। (উরওয়াহ ইবনুল জুবায়ের)-এর বর্ণনা থেকে: তিনি হলেন ইবনুল আওয়াম বিন খুয়াইলিদ বিন আসাদ, আব্দুল্লাহর সহোদর ভাই। তাঁর উপনাম আবু আব্দুল্লাহ। তিনি তাঁর পিতামাতা, খালা, আলী (রা.) এবং অসংখ্য লোকের কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবন সাদ বলেছেন, তিনি ছিলেন ফকীহ, আলেম, প্রচুর হাদীসের বর্ণনাকারী, নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত। তিনি সারা বছর রোজা রাখতেন এবং ৯৩ বা ৯৪ হিজরীতে রোজা রাখা অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। (আয়েশা)-এর বর্ণনা থেকে: তিনি আবু বকর সিদ্দিকের কন্যা এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রিয়তমা। তিনি উম্মতের নারী ফকীহদের অন্যতম এবং তাঁর ফযীলত অনেক। তিনি পঁয়ষট্টি বছর জীবিত ছিলেন এবং ৫৮ অথবা ৫৯ হিজরীর ১৭ই রমজান মঙ্গলবার রাতে ইন্তেকাল করেন। আবু হুরায়রা (রা.) তাঁর জানাজা পড়ান এবং তাঁর অসিয়ত অনুযায়ী তাঁকে জান্নাতুল বাকীতে সমাহিত করা হয়। (নামাত) নুন ও মীম বর্ণে জবর এবং ত-এ মুহমালাসহ; এর অর্থ প্রকার বা ধরন। মূলত 'নামাত' বলতে এক প্রকার বিছানাকে বোঝায় যা অন্য ক্ষেত্রে কোনো শর্ত ছাড়া ব্যবহৃত হয় না, যেমনটি জাওহারী বলেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ১১)
وعن ابن عباس في قوله وَتَقَلُّبَكَ فِي السَّاجِدِينَ قال من نبي حتى أخرجتك نبيّا.

وروينا في صحيح البخاري عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم. بعثت من خير قرون بني آدم قرنا فقرنا حتى كنت من القرن الذي كنت منه. وروينا في جامع أبى عيسى الترمذى عن واثلة بن الاسقع قال قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم ان الله اصطفى من ولد ابراهيم اسماعيل واصطفى من ولد اسماعيل بني كنانة واصطفى من بنى كنانة قريشا واصطفى من قريش بنى هاشم واصطفانى من بنى هاشم صححه الترمذي.

وعن ابن عمر رضي الله تعالى عنه انه صلى الله عليه وسلم قال ان الله عز وجل اختار خلقه فاختار منهم (وعن ابن عباس) هو عبد الله بن عباس بن عبد المطلب أبو العباس ابن عم رسول الله صلى الله عليه وسلم أمه لبابة بنت الحرث بن حزن الهلالية فضله وعلمه أشهر من أن يذكر ومناقبه لا تحصى وكان عمره يوم وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاث عشرة سنة أو خمس عشر سنة قولان وتوفي سنة سبع وستين أو ثمان وستين قولان بالطائف وهو ابن احدى وسبعين سنة أو ثمان وسبعين قولان وكف بصره في آخر عمره فقال في ذلك

ان يأخذ الله من عيني نورهما … ففي لساني وقلبى منهما نور

قلبى ذكي وعقلي غير ذي دخل … وفي فمي صارم كالسيف مشهور

(روينا) قال المزي يقال روينا بفتح الراء والواو وبضم الراء وكسر الواو المشددة (عن أبي هريرة) اسمه عبد الرحمن بن صخر على الاصح في اسمه واسم أبيه من نحو ثلاثين قولا قاله النووي وقال غيره بل يزيد وأخرج الحاكم عنه قال كان اسمى عبد الشمس بن صخر فسماني النبى صلى الله عليه وسلم عبد الرحمن واختار بعض المتأخرين فيه انه عمير بن عامر واحتج باتفاق أهل النسب على ذلك وبذلك جزم الكلبى ومال اليه الحافظ الدمياطى كان رضي الله عنه حافظا متثبتا صاحب صيام وقيام قال عكرمة كان يسبح في اليوم اثنى عشر ألف تسبيحة ولى امرة المدينة مرات وتوفي سنة سبع وخمسين أو تسع وخمسين قولان (قرنا فقرنا) قال الحسن وغيره القرن عشر سنين وقال قتادة سبعون وقال النخعى أربعون وقال زرارة بن أبي أو في مائة وعشرون وعبد الملك بن عمير مائة وسيأتى المختار فيه على قوله صلى الله عليه وسلم خيركم قرنى (واثلة) بمثلثة مكسورة (ابن الاسقع) بسين وعين مهملتين وأصل الاسقع طوير في ريشه خضرة ورأسه أبيض قال في القاموس قال الذهبي كان واثلة من أهل الصفة غزاتبوك ومات سنة ثلاث وثمانين أو خمس وثمانين قولان وهو ابن مائة سنة أو ثمان وتسعين قولان بعد ان كف بصره ببيت المقدس أو بدمشق قولان (صححه الترمذي) وأخرجه أيضا عن واثلة مسلم في صحيحه (وعن ابن عمر) هو عبد الله بن عمر أبو عبد الرحمن العدوي شهد الاحزاب والحديبية وفيه قال
ইবনে আব্বাস থেকে আল্লাহর বাণী "এবং সাজদাকারীদের মাঝে আপনার চলাফেরা" প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "(অর্থাৎ) এক নবী থেকে অন্য নবী পর্যন্ত, যতক্ষণ না আমি আপনাকে নবী হিসেবে বের করেছি।"

এবং আমরা সহীহ বুখারীতে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি আদম সন্তানের সর্বোত্তম প্রজন্মগুলো থেকে একের পর এক প্রজন্ম অতিক্রম করে প্রেরিত হয়েছি, এমনকি আমি সেই প্রজন্মে উপনীত হয়েছি যাতে আমি বিদ্যমান ছিলাম।" এবং আমরা জামে আবু ঈসা তিরমিযীতে ওয়াসিলা ইবনুল আসকা থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ইবরাহীমের সন্তানদের মধ্য থেকে ইসমাঈলকে মনোনীত করেছেন, আর ইসমাঈলের সন্তানদের মধ্য থেকে বনী কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, আর বনী কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, আর কুরাইশ থেকে বনী হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনী হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন।" তিরমিযী এটি সহীহ বলেছেন।

এবং ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান তাঁর সৃষ্টিজগতকে নির্বাচন করেছেন এবং তাদের মধ্য থেকে মনোনীত করেছেন..." (এবং ইবনে আব্বাস থেকে): তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব আবু আব্বাস, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চাচাতো ভাই। তাঁর মা হলেন লুবাবাহ বিনতে হারিস ইবনে হাযন আল-হিলালিয়্যাহ। তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও জ্ঞান এতই প্রসিদ্ধ যে তা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই এবং তাঁর গুণাবলী অগণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তেকালের দিন তাঁর বয়স ছিল তেরো বছর অথবা পনেরো বছর—এ নিয়ে দুটি মত রয়েছে। তিনি সাতষট্টি হিজরী অথবা আটষট্টি হিজরীতে তায়েফে ইন্তেকাল করেন—এ ক্ষেত্রেও দুটি মত রয়েছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল একাত্তর অথবা আটাত্তর বছর—এ নিয়েও দুটি মত রয়েছে। জীবনের শেষ ভাগে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন, তখন তিনি এ বিষয়ে বলেছিলেন:

আল্লাহ যদি আমার দুই চোখ থেকে তাদের জ্যোতি কেড়ে নেন … তবে আমার জিহ্বা ও হৃদয়ে সেই জ্যোতি বিদ্যমান রয়েছে।

আমার হৃদয় তীক্ষ্ণ এবং আমার বুদ্ধি কলুষমুক্ত … আর আমার মুখে রয়েছে তরবারির মতো ধারালো সুপ্রসিদ্ধ জিহ্বা।

(আমরা বর্ণনা করেছি) মিযযী বলেছেন, এটি 'রুওয়াইনা' (র এবং ও-তে ফাতাহ দিয়ে) অথবা 'রুউইনা' (র-তে পেশ এবং ও-তে যের দিয়ে) উভয়ভাবেই পড়া যায়। (আবু হুরায়রা থেকে) তাঁর নাম আব্দুর রহমান ইবনে সাখর, তাঁর এবং তাঁর পিতার নামের ব্যাপারে প্রায় ত্রিশটি মতের মধ্যে এটিই অধিক সঠিক; এ কথা নববী বলেছেন। অন্যেরা বলেছেন, বরং মতের সংখ্যা আরও বেশি। হাকেম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (আবু হুরায়রা) বলেছেন: আমার নাম ছিল আব্দুশ শামস ইবনে সাখর, অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নাম রাখলেন আব্দুর রহমান। পরবর্তীকালের কোনো কোনো আলিম তাঁর নাম উমাইর ইবনে আমের বলে পছন্দ করেছেন এবং বংশবিদদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এর সপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। কালবী এটিই নিশ্চিত করেছেন এবং হাফেজ দিমইয়াতিও এর প্রতি ঝুঁকেছেন। তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন অত্যন্ত প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী, নির্ভরযোগ্য এবং অধিক পরিমাণে রোজা ও নফল নামাজে অভ্যস্ত। ইকরিমা বলেন, তিনি প্রতিদিন বারো হাজার বার তাসবীহ পাঠ করতেন। তিনি কয়েকবার মদীনার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সাতান্ন হিজরী অথবা ঊনষাট হিজরীতে ইন্তেকাল করেন—এ নিয়ে দুটি মত রয়েছে। (প্রজন্মের পর প্রজন্ম) হাসান ও অন্যান্যরা বলেছেন 'কর্ন' (প্রজন্ম) মানে দশ বছর। কাতাদাহ বলেছেন সত্তর বছর। নাখয়ী বলেছেন চল্লিশ বছর। যুরারাহ ইবনে আবি আওফা বলেছেন একশ বিশ বছর এবং আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর বলেছেন একশ বছর। এ বিষয়ে পছন্দসই মতটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার প্রজন্ম" আলোচনার সময় সামনে আসবে। (ওয়াসিলা) 'সা' বর্ণে যের সহকারে। (ইবনুল আসকা) সীন ও আইন বর্ণদ্বয় নুকতাহীন। আসকা মূলত এমন এক ছোট পাখি যার পালকে সবুজাভ আভা থাকে এবং যার মাথা সাদা; 'আল-কামুস' গ্রন্থে এমনটি বলা হয়েছে। যাহাবী বলেন, ওয়াসিলা ছিলেন আহলে সুফফার অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি তিরাশি হিজরী অথবা পঁচাশী হিজরীতে ইন্তেকাল করেন—এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল একশ বছর অথবা আটানব্বই বছর—এ নিয়েও দুটি মত রয়েছে। বায়তুল মুকাদ্দাস অথবা দামেস্কে তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলার পর তিনি ইন্তেকাল করেন—এ ক্ষেত্রেও দুটি মত রয়েছে। (তিরমিযী এটি সহীহ বলেছেন) এবং মুসলিমও তাঁর সহীহ গ্রন্থে ওয়াসিলা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। (এবং ইবনে উমর থেকে) তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে উমর আবু আব্দুর রহমান আল-আদভী। তিনি খন্দক ও হুদাইবিয়াহর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর সম্পর্কে তিনি বলেছেন—
(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ১২)
بنى آدم فاختار منهم العرب ثم اختار منهم قريشا فاختار منهم بنى هاشم ثم اختار بنى هاشم فاختارني منهم فلم أزل خيارا من خيار ألا من أحب العرب فبحبى أحبهم ومن أبغض العرب فببغضى أبغضهم رواه الطبرى.

قال القاضى عياض رحمه الله تعالى وأما شرف نسبه وكرم بلده ومنشئه فمما لا يحتاج الى اقامة دليل ولا بيان مشكل ولا خفي منه فانه نخبة بنى هاشم وأفضل سلالة قريش وصميمها وأشرف العرب وأعزهم نفرا من قبل أبيه وأمه ومن أهل مكة أكرم بلاد الله على الله وعلى عباده. ثم روى بسنده الى ابن عباس رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم ان الله سبحانه وتعالى قسم الخلق قسمين فجعلنى من خيرهم قسما فذلك قوله تعالى أَصْحابُ الْيَمِينِ وأَصْحابُ الشِّمالِ فأنا من أصحاب اليمين وأنا خير أصحاب اليمين ثم جعل القسمين ثلاثا فجعلنى في خيرها ثلثا فذلك قوله أَصْحابُ الْمَيْمَنَةِ وأَصْحابُ الْمَشْئَمَةِ والسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ فانا من السابقين وأنا خير السابقين ثم جعل الأثلاث قبائل فجعلنى من خيرها قبيلة وذلك قوله تعالى وَجَعَلْناكُمْ شُعُوباً وَقَبائِلَ الآية فانا أتقى ولد آدم وأكرمهم على الله تعالى ولا فخر وجعل القبائل بيوتا فجعلنى في خيرها بيتا ولا فخر فذلك قوله تعالى إِنَّما يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيراً ومعنى قوله- ولا فخر أى لست أقوله مفتخرا متطاولا ولا محتقرا لغيرى إنما هو من باب التحدث بالنعم قال الله تعالى وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ

النبى صلى الله عليه وسلم ان عبد الله رجل صالح وقال جابر ما منا أحد الا ومالت به الدنيا ومال بها الا ابن عمر قال ابن المسيب مات وما أحد أحب إلي ان ألقى الله بمثل عمله منه كانت ولادته قبل المبعث بسنة على ما قيل ومات بمكة سنة أربع وسبعين عن ثمانين أو أربع وثمانين سنة قولان وصلى عليه الحجاج ودفن بالمحصب أو بذي طوي أو بسرف أقوال (رواه) من حديث ابن عمر (الطبري) هو الحافظ محمد بن جرير توفي سنة عشر وثلاثمائة (نخبة) بضم النون وسكون المعجمة ثم موحدة وهي الخيار (سلالة قريش) بضم السين المهملة وهو ما اسئل من الشيء (وصميمها) بالمهملة أي خالصها وصميم كل شيء خالصه (ثم روي) أي عياض (بسنده) مصدر أسند الحديث يسنده اذا نسبه الى غيره (الي ابن عباس) وأخرج الحديث الترمذي في سننه عن العباس أيضا (قسم الخلق قسمين) قيل فيه اشارة الى هابيل وقابيل قال الحافظ وسبب هذا الحديث ان العباس قال يا رسول الله ان قريشا تذاكروا احسابهم فجعلوا مثلك مثل نخله في كبوة من الارض فقال ان الله قسم الخلق الحديث.
আদম সন্তানগণ, অতঃপর তিনি তাদের মধ্য থেকে আরবদের বেছে নিলেন, তারপর তাদের থেকে কুরাইশদের বেছে নিলেন, এরপর তাদের মধ্য থেকে বনু হাশিমকে বেছে নিলেন, পুনরায় বনু হাশিমকে বেছে নিলেন এবং তাদের থেকে আমাকে বেছে নিলেন। ফলে আমি সর্বদা সর্বোত্তমদের মধ্য থেকে সর্বোত্তম হিসেবেই বিদ্যমান ছিলাম। জেনে রাখো, যে ব্যক্তি আরবদের ভালোবাসল সে আমার ভালোবাসার কারণেই তাদের ভালোবাসল, আর যে আরবদের ঘৃণা করল সে আমার প্রতি ঘৃণার কারণেই তাদের ঘৃণা করল। এটি তাবারী বর্ণনা করেছেন।

কাযী আইয়ায (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেন, তাঁর বংশের মর্যাদা এবং তাঁর শহর ও জন্মভূমির আভিজাত্যের বিষয়টি এমন যা প্রমাণের মুখাপেক্ষী নয় এবং এতে কোনো অস্পষ্টতা বা গোপনীয়তা নেই। কারণ তিনি হলেন বনু হাশিমের নির্যাস এবং কুরাইশ বংশের সর্বোত্তম ও বিশুদ্ধতম বংশধর। তিনি আরবদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত এবং তাঁর পিতা ও মাতা উভয় দিক থেকেই সর্বাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তিনি মক্কাবাসী, যা আল্লাহর নিকট এবং তাঁর বান্দাদের নিকট আল্লাহর সর্বাধিক সম্মানিত শহর। এরপর তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে নিজ সনদে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সৃষ্টিজগতকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্য থেকে সর্বোত্তম ভাগে রেখেছেন। আর তা-ই হলো মহান আল্লাহর বাণী: 'ডান দিকের দল এবং বাম দিকের দল'। সুতরাং আমি ডান দিকের দলের অন্তর্ভুক্ত এবং আমি ডান দিকের দলের শ্রেষ্ঠতম। অতঃপর তিনি এই দুই ভাগকে তিন ভাগে বিভক্ত করলেন এবং আমাকে তাদের সর্বোত্তম এক-তৃতীয়াংশে রাখলেন। আর তা-ই হলো তাঁর বাণী: 'ডান দিকের দল, বাম দিকের দল এবং অগ্রবর্তীগণ, অগ্রবর্তীগণ'। সুতরাং আমি অগ্রবর্তীগণের অন্তর্ভুক্ত এবং আমি অগ্রবর্তীগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। এরপর তিনি এই তিন ভাগকে বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করলেন এবং আমাকে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম গোত্রে রাখলেন। আর তা-ই হলো মহান আল্লাহর বাণী: 'আর আমি তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি' (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। সুতরাং আমি আদম সন্তানদের মধ্যে সর্বাধিক আল্লাহভীরু এবং আল্লাহর নিকট তাদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত, আর এতে কোনো অহংকার নেই। অতঃপর তিনি গোত্রগুলোকে বিভিন্ন পরিবারে বিভক্ত করলেন এবং আমাকে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম পরিবারে রাখলেন, আর এতে কোনো অহংকার নেই। আর তা-ই হলো মহান আল্লাহর বাণী: 'হে নবী-পরিবার! আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করতে'। আর তাঁর উক্তি 'এতে কোনো অহংকার নেই' এর অর্থ হলো—আমি এই কথা অহংকারবশত কিংবা বড়ত্ব জাহির করার জন্য বলছি না এবং অন্যকে তুচ্ছ করার জন্যও নয়; বরং এটি হলো নিয়ামতের বর্ণনা দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন: 'আর তোমার রবের নিয়ামতের কথা বর্ণনা করো'।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন যে, আবদুল্লাহ একজন নেককার লোক। জাবির (রা.) বলেন, আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার প্রতি দুনিয়া ঝোঁক সৃষ্টি করেনি বা সে দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়েনি, একমাত্র ইবনে উমর ব্যতীত। ইবনুল মুসাইয়িব বলেন, তিনি ইন্তেকাল করেছেন অথচ আমার নিকট তাঁর মতো আমল নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করার চেয়ে প্রিয় আর কেউ নেই। বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর জন্ম হয়েছিল নবুওয়াত প্রকাশের এক বছর পূর্বে এবং তিনি চুয়াত্তর হিজরীতে আশি বা চুরাশি বছর বয়সে মক্কায় ইন্তেকাল করেন—এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। হাজ্জাজ তাঁর জানাযার সালাত পড়ান এবং তাঁকে মুহাসসাব অথবা যি-তুওয়া অথবা সারাফ নামক স্থানে দাফন করা হয়—এসব বর্ণনা রয়েছে। (বর্ণনা করেছেন) ইবনে উমরের হাদীস থেকে (তাবারী), তিনি হলেন হাফেজ মুহাম্মদ বিন জারীর, যিনি তিনশ দশ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। (নুখবাহ) নুন অক্ষরে পেশ এবং খ-এ সাকিন ও এরপর বা, এর অর্থ হলো মনোনীত বা শ্রেষ্ঠ। (সুলালাতু কুরাইশ) সিন অক্ষরে পেশ, এর অর্থ কোনো বস্তু থেকে যা নির্যাস হিসেবে বের করা হয়। (সামিমিহা) সোয়াদ অক্ষরে যবর, যার অর্থ বিশুদ্ধ; কোনো বস্তুর 'সামিম' হলো তার বিশুদ্ধ অংশ। (সুম্মা রুইয়া) অর্থাৎ আইয়ায বর্ণনা করেছেন (বি-সানাদিহি) যা আসনাদা শব্দ থেকে আগত, যখন কোনো হাদীসকে অন্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। (ইবনে আব্বাসের প্রতি) তিরমিযীও তাঁর সুনান গ্রন্থে আব্বাস থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (সৃষ্টিজগতকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন) বলা হয়েছে যে, এতে হাবিল ও কাবিলের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। হাফেজ বলেন, এই হাদীসের প্রেক্ষাপট হলো—আব্বাস (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কুরাইশরা যখন তাদের আভিজাত্য নিয়ে আলোচনা করছিল, তখন তারা আপনার উপমা দিয়েছিল একটি আবর্জনাপূর্ণ ভূমিতে জন্মানো একটি খেজুর গাছের মতো। তখন তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে বিভক্ত করেছেন... (হাদীসের শেষ পর্যন্ত)।
(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ১৩)
وعن عائشة رضي الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم أتاني جبريل فقال قلبت مشارق الارض ومغاربها فلم أر رجلا أفضل من محمد ولم أربني اب أفضل من بنى هاشم.

وما أحسن قول أبى طالب حيث مدح قريشا وخيرها ثم خير منهم بنى عبد مناف ثم خير منهم بني هاشم ثم خير محمدا على الكل فقال:

وان فخرت يوما فان محمدا … هو المصطفى من سرها وصميمها

وقال أيضا

فأصبح فينا أحمد في أرومة … تقصر عنها سورة المتطاول

وقال ابنه طالب بن أبي طالب

فما ان جنينا في قريش عظيمة … سوى ان حمينا خير من وطيء الثرى

‌‌[فصل: وأما ما مهد الله له في قدم نبوته وذكره]

«فصل واما ما مهد الله له في قدم نبوته وذكره»

فروى القاضي عياض رحمه الله من ذلك في كتابه الشفا اخبارا كثيرة وكثيرا ما أنقل منه الا ما كان من فن التواريخ فانه لم يأت بشئ منها قال الله تعالى وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثاقَ النَّبِيِّينَ لَما آتَيْتُكُمْ مِنْ كِتابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جاءَكُمْ رَسُولٌ مُصَدِّقٌ لِما مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنْصُرُنَّهُ الآية* وفي معناها ما روى عن على بن أبى طالب رضي الله تعالى عنه قال لم يبعث الله نبيا من لدن آدم الا وأخذ عليه العهد في محمد صلى الله عليه وآله وسلم لئن بعث وهو حي ليؤمنن به ولينصرنه ويأخذ العهد بذلك على قومه* ونحوه عن السدي وقتادة* وروي عن قتادة ان النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال كنت أوّل الانبياء في الخلق وآخرهم في البعث فلذلك ذكر في الآية مقدما على نوح وغيره

(وعن عائشة عنه صلي الله عليه وسلم أتاني جبريل الى آخره) أخرجه الحاكم في الكنى وابن عساكر عنها (وما أحسن قول) بالنصب على التعجب.

(فصل) واما ما مهد الله له (ونحوه عن السدي) بضم السين وتشديد الدال المهملتين منسوب الى سدة باب الجامع والمراد به هاهنا التابعى الكبير اسماعيل بن عبد الرحمن الراوي عن ابن عباس لا الصغير وهو محمد بن مروان الراوى عن هشام بن عروة والاعمش وهو متروك متهم (وقتادة) هو ابن دعامة بكسر الدال وفتحها السدوسى الاعمى الحافظ المفسرمات كهلا سنة سبع عشرة ومائة (وروي عن قتادة الى آخره) أخرجه عنه ابن سعد في الطبقات مرسلا (أول الانبياء) لابن سعد أوّل الناس.
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: জিবরাঈল আমার নিকট এসে বললেন, আমি পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তসমূহ অনুসন্ধান করেছি, কিন্তু মুহাম্মাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো ব্যক্তিকে দেখিনি এবং বনী হাশেমের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো পিতৃকুল দেখিনি।

আবু তালিবের উক্তিটি কতই না চমৎকার যেখানে তিনি কুরাইশ বংশের প্রশংসা করেছেন এবং তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তাদের মধ্যে বনী আবদে মানাফকে শ্রেষ্ঠ বলেছেন, এরপর তাদের মধ্যে বনী হাশেমকে শ্রেষ্ঠ সাব্যস্ত করেছেন এবং পরিশেষে সবার উপরে মুহাম্মাদকে শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করে বলেছেন:

আর আমি যদি কোনোদিন গর্ব করি, তবে নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ... তিনিই হচ্ছেন বংশমর্যাদার সারবত্তা ও মূল অন্তঃসার থেকে মনোনীত ব্যক্তিত্ব।

তিনি আরও বলেছেন:

ফলে আমাদের মাঝে আহমাদ এমন এক সুউচ্চ বংশমূলে অধিষ্ঠিত হয়েছেন... যার নাগাল পেতে দাম্ভিকদের আস্ফালনও ব্যর্থ হয়।

এবং তাঁর পুত্র তালিব ইবনে আবি তালিব বলেছেন:

কুরাইশদের মাঝে আমরা এমন কোনো বড় অপরাধ করিনি... কেবল এই অপরাধ ছাড়া যে, আমরা পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী সর্বোত্তম ব্যক্তিকে সুরক্ষা দিয়েছি।

‌‌[পরিচ্ছেদ: তাঁর নবুওয়াতের অনাদিত্ব এবং তাঁর স্মরণের উচ্চতা সম্পর্কে আল্লাহ যা প্রস্তুত করেছেন]

«পরিচ্ছেদ: এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর নবুওয়াতের প্রাচীনতা ও তাঁর সুখ্যাতি সম্পর্কে যা নির্ধারণ করেছেন»

কাযী আয়াজ (রহিমাহুল্লাহ) এ বিষয়ে তাঁর 'আশ-শিফা' গ্রন্থে অনেক বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। আমি প্রায়শই সেখান থেকে উদ্ধৃতি দেই, তবে ইতিহাসের বিষয়গুলো বাদে, কারণ তিনি সেগুলোর কিছুই উল্লেখ করেননি। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আর স্মরণ করুন, যখন আল্লাহ নবীদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি, এরপর তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়নকারী হিসেবে যখন একজন রাসূল আসবেন, তখন তোমরা অবশ্যই তাঁর ওপর ঈমান আনবে এবং অবশ্যই তাঁকে সাহায্য করবে..." (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। আর এর মর্মার্থ সম্পর্কে আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: আল্লাহ তাআলা আদম থেকে শুরু করে এমন কোনো নবী পাঠাননি যার নিকট থেকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে এই অঙ্গীকার গ্রহণ করেননি যে—যদি তিনি জীবিত থাকাবস্থায় মুহাম্মাদ প্রেরিত হন, তবে তিনি অবশ্যই তাঁর প্রতি ঈমান আনবেন এবং তাঁকে সাহায্য করবেন; এবং তিনি যেন তাঁর কওমের থেকেও এই মর্মে অঙ্গীকার গ্রহণ করেন। সুদ্দী এবং কাতাদাহ থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কাতাদাহ থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমি সৃষ্টির দিক থেকে নবীদের মধ্যে প্রথম এবং প্রেরিত হওয়ার দিক থেকে সর্বশেষ। এ কারণেই আয়াতে নূহ ও অন্যদের পূর্বে তাঁর উল্লেখ করা হয়েছে।

(আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, জিবরাঈল আমার কাছে এসেছেন—শেষ পর্যন্ত) এটি হাকেম 'আল-কুনা' গ্রন্থে এবং ইবনে আসাকির তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। (আবু তালিবের উক্তিটি কতই না চমৎকার)—এখানে 'মা আহসানা' শব্দটি বিস্ময়সূচক ক্রিয়া হিসেবে নসব যোগে পঠিত হয়েছে।

(পরিচ্ছেদ) এবং আল্লাহ তাঁর জন্য যা প্রস্তুত করেছেন (এবং সুদ্দী থেকেও অনুরূপ বর্ণিত)—সুদ্দী শব্দটি সীন বর্ণে পেশ এবং দাল বর্ণে তাশদীদ যুক্ত, যা জামে মসজিদের প্রবেশপথের চত্বরের (সুদ্দাহ) সাথে সম্পর্কিত। এখানে সুদ্দী দ্বারা বড় তাবিঈ ইসমাঈল ইবনে আবদুর রহমান উদ্দেশ্য, যিনি ইবনে আব্বাসের বর্ণনাকারী। ছোট সুদ্দী (মুহাম্মাদ ইবনে মারওয়ান) উদ্দেশ্য নয়, যিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ ও আমাশ থেকে বর্ণনা করেন এবং তিনি পরিত্যক্ত ও অভিযুক্ত। (কাতাদাহ) তিনি হলেন ইবনে দিআমাহ (দাল বর্ণে কাসরা বা ফাতহা উভয়ই হতে পারে), আস-সাদুসী, দৃষ্টিহীন হাফেজ ও মুফাসসির। তিনি একশত সতের হিজরিতে প্রৌঢ় বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। (কাতাদাহ থেকে বর্ণিত—শেষ পর্যন্ত) এটি ইবনে সাদ তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। (নবীদের মধ্যে প্রথম)—ইবনে সাদের বর্ণনায় রয়েছে 'মানুষের মধ্যে প্রথম'।
(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ১৪)
وعن العرباض بن سارية رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم. يقول انى عبد الله وخاتم النبيين وان آدم لمنجدل في طينته وانا عدة أبى ابراهيم وبشارة عيسى بن مريم. وكان آدم في الازل يكنى بأبى محمد وأبى البشر* وروي انه تشفع بمحمد صلى الله عليه وسلم حين أصاب الخطيئة فتاب الله عليه* وعن البراء قال قلنا يا رسول الله متى وجبت لك النبوة قال وآدم بين الروح والجسد* وروي عن عمر بن الخطاب رضى الله عنه قال في كلام بكى به النبي صلى الله عليه وآله وسلم بأبي وأمي أنت يا رسول الله لقد بلغ من فضيلتك عند الله أن بعثك آخر الانبياء وذكرك في أولهم فقال وَإِذْ أَخَذْنا مِنَ النَّبِيِّينَ مِيثاقَهُمْ وَمِنْكَ وَمِنْ نُوحٍ الآية بأبي وأمي أنت يا رسول الله لقد بلغ من فضيلتك عند الله أن أهل النار يودون ان يكونوا اطاعوك وهم بين أطباقها يعذبون يقولون يا لَيْتَنا أَطَعْنَا اللَّهَ وَأَطَعْنَا الرَّسُولَا.

(وعن العرباض) بكسر المهملة وسكون الراء بعدها موحدة فألف فمعجمة (ابن سارية) بالمهملة والراء والتحتية وهو السلمي قال الذهبي وابن ماكولا كان من الثمانين ومن أهل الصفة مات سنة خمس وسبعين (لمنجدل) أى ساقط يقال جدله بالجيم أي رماه بالجدالة وهي الارض فانجدل أى سقط (وعدة) بكسر العين وفتح الدال المخففة المهملتين بوزن هبة أي وأنا عدة (أبي ابراهيم) الذى وعده به ربه حين دعاه فقال ربنا (وابعث فيهم رسولا منهم) الآية (وروى انه تشفع بمحمد الى آخره) أخرجه الحاكم وصححه من حديث ابن عباس ولفظه لما اقترف آدم الخطيئة قال يا رب بمحمد الا ما غفرت لى قال يا آدم من أين عرفت محمدا ولم أخلقه قال يا رب انك لما خلقتنى بيدك ونفخت في من روحك رفعت رأسى فرأيت على قوائم العرش مكتوبا لا اله الا الله محمد رسول الله فعرفت انك لم تضف الى اسمك الا أحب الخلق اليك فقال الله عز وجل صدقت يا آدم انه لأحب الخلق الي ان سألتنى بحقه فقد غفرت لك ولولاه ما خلقتك وفي هذا الحديث طلب التوسل به صلى الله عليه وسلم الى الله عز وجل وان ذلك سيرة السلف الصالح الانبياء والاولياء ولا فرق في ذلك بين ذكر التوسل والاستغاثة والتوجه والتشفع والتضرع به صلى الله عليه وسلم وبغيره من الانبياء وكذا الاولياء وفاقا للسبكى وخلافا لابن عبد السلام (فائدة) قال اليافعى في الارشاد روى الشيخ تاج الدين بن عطاء الله عن شيخه ابى العباس المرسى عن شيخه أبي الحسن الشاذلى قدس الله أسرارهم انه قال لاصحابه من كانت له حاجة الى الله تعالى فليتوسل اليه بالامام أبي حامد الغزالي (وعن البراء) بالتخفيف هو ابن عازب الصحابي ابن الصصابى شهد أحدا وهو أوّل مشاهده ومات بعد السبعين أيام مصعب بن الزبير (قال وآدم بين الروح والجسد) أخرج هذا الحديث أيضا ابن سعد وأبو نعيم في الحلية من حديث ميسرة وأخرجه الفخر بن سعد من حديث ابي الجدعاء وأخرجه الطبراني في الكبير من حديث ابن عباس (بأبي أنت وأمي)
ইরবাজ ইবনে সারিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর বান্দা এবং শেষ নবী, যখন আদম (আ.) তখনও তাঁর কাদা-মাটির মধ্যে পড়ে ছিলেন। আমি আমার পিতা ইবরাহিমের দুআ এবং ঈসা ইবনে মারিয়ামের সুসংবাদ।" আদম (আ.) অনাদিকাল থেকেই আবুল মুহাম্মদ এবং আবুল বাশার (মানুষের পিতা) উপনামে পরিচিত ছিলেন। বর্ণিত আছে যে, যখন তিনি ভুল করেছিলেন, তখন তিনি মুহাম্মাদ (সা.)-এর উসিলায় সুপারিশ প্রার্থনা করেছিলেন, ফলে আল্লাহ তাঁর তাওবা কবুল করেন। বারা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নবুয়ত কখন সাব্যস্ত হয়েছে? তিনি বললেন: "যখন আদম (আ.) রুহ এবং শরীরের মাঝামাঝি অবস্থায় ছিলেন।" উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি নবী (সা.)-এর প্রতি কান্নাসিক্ত কণ্ঠে কিছু কথা বলেছিলেন: "আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর নিকট আপনার মর্যাদা এতটাই পৌঁছেছে যে, তিনি আপনাকে শেষ নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং নবীদের তালিকার শুরুতে আপনার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন— 'স্মরণ করো, যখন আমি নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং আপনার কাছ থেকে ও নূহের কাছ থেকে...' (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আল্লাহর নিকট আপনার মর্যাদা এতটাই যে, জাহান্নামবাসীরা যখন আগুনের স্তরের মধ্যে শাস্তিতে থাকবে, তখন তারা আফসোস করে বলবে: 'হায়! আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম এবং রাসূলের আনুগত্য করতাম!'"

(ইরবাজ থেকে): আইন বর্ণে কাসরা (জের), রা বর্ণে সুকুন (জজম), এরপর বা, এরপর আলিফ এবং এরপর দদ বর্ণ। (ইবনে সারিয়া): সিন এবং রা বর্ণের পর ইয়া। তিনি হলেন আস-সুলামী। যাহাবি এবং ইবনে মাকুলা বলেন: তিনি আস-সুফফার অধিবাসী আশি জনের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি পঁচাত্তর হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। (লমানজাদিল) অর্থাৎ পতিত বা শায়িত। বলা হয়, সে তাকে 'জাদল' করেছে অর্থাৎ জমিনে আছড়ে ফেলেছে। 'জাদালাহ' মানে মাটি। সুতরাং 'ইনজাদাল' মানে সে পড়ে গেল। (এবং ঈদা): আইন বর্ণে কাসরা এবং দাল বর্ণে ফাতহা, হিবাহ্ শব্দের ওজনে। এর অর্থ: আমি সেই প্রতিশ্রুত ফল (আমার পিতা ইবরাহিম থেকে): যা তাঁর রব তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যখন তিনি দুআ করেছিলেন: "হে আমাদের রব! তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন রাসূল পাঠান..." (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। (এবং বর্ণিত আছে যে, তিনি মুহাম্মাদের মাধ্যমে সুপারিশ প্রার্থনা করেছেন—শেষ পর্যন্ত): হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আব্বাসের হাদিস থেকে সহিহ বলেছেন। হাদিসের শব্দগুলো হলো: যখন আদম (আ.) ভুল করলেন, তিনি বললেন, "হে আমার রব! মুহাম্মাদের উসিলায় আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি আপনি যেন আমাকে ক্ষমা করে দেন।" আল্লাহ বললেন, "হে আদম! তুমি কিভাবে মুহাম্মাদকে চিনলে অথচ আমি তাকে এখনও সৃষ্টি করিনি?" তিনি বললেন, "হে আমার রব! যখন আপনি আমাকে আপনার হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং আমার মধ্যে আপনার রুহ ফুঁকে দিয়েছেন, তখন আমি মাথা তুললাম এবং আরশের স্তম্ভগুলোর উপর লেখা দেখলাম—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, আপনি আপনার নামের সাথে সৃষ্টির মধ্যে সেই ব্যক্তির নামই যুক্ত করবেন যাকে আপনি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন।" তখন মহান আল্লাহ বললেন, "হে আদম, তুমি সত্য বলেছ। নিশ্চয়ই সে সৃষ্টির মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। যেহেতু তুমি তার উসিলায় আমার কাছে প্রার্থনা করেছ, তাই আমি তোমাকে ক্ষমা করলাম। আর সে না থাকলে আমি তোমাকে সৃষ্টি করতাম না।" এই হাদিসে নবী (সা.)-এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে উসিলা প্রার্থনা করার প্রমাণ রয়েছে এবং এটিই ছিল আম্বিয়া এবং আউলিয়াদের মতো সালাফে সালেহীনদের রীতি। আর উসিলা, সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিগাসা), আল্লাহর দিকে নিবিষ্ট হওয়া (তাওয়াজ্জুহ), সুপারিশ চাওয়া (তাশাফফু) এবং নবী (সা.) বা অন্য নবীদের মাধ্যমে রোনাজারি করা—এগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তেমনি আউলিয়াদের উসিলায়ও এটি বৈধ, যা সুবকির মতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ইবনে আবদুস সালামের মতের বিরোধী। (ফায়দা): আল-ইয়াফেয়ী 'আল-ইরশাদ' গ্রন্থে বলেন, শায়খ তাজউদ্দিন ইবনে আতাউল্লাহ তাঁর শায়খ আবুল আব্বাস আল-মুরসি থেকে এবং তিনি তাঁর শায়খ আবুল হাসান আশ-শাযিলি (আল্লাহ তাঁদের রহস্য পবিত্র করুন) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর সাথীদের বলতেন: "আল্লাহর কাছে যার কোনো প্রয়োজন রয়েছে, সে যেন ইমাম আবু হামিদ আল-গাজ্জালির উসিলা নিয়ে তাঁর কাছে প্রার্থনা করে।" (বারা থেকে): এখানে তাশদিদ হবে না। তিনি হলেন সাহাবী ইবনে সাহাবী বারা ইবনে আযিব। তিনি উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যা ছিল তাঁর প্রথম যুদ্ধ। তিনি মুসআব ইবনে যুবায়েরের যুগে ৭০ হিজরির পরে মৃত্যুবরণ করেন। (তিনি বললেন: আদম যখন রুহ এবং শরীরের মাঝে ছিলেন): ইবনে সাদ এবং আবু নুয়াইম 'হিলয়াহ' গ্রন্থে মায়সারা থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ফখর ইবনে সাদ আবু জাদআ থেকে এবং তাবারানি 'আল-কাবীর'-এ ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। (আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক...)
(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ১৫)
وروى الشيخ أبو الحسن الحرانى المغربى في كتابه الذي صنفه في أسماء النبي صلى الله عليه وسلم وتفسيرها أنه صلى الله عليه وسلم نسب نفسه فقال انا احمد وانا محمد بن عبد الله بن عبد المطلب ثم رفع نسبه الى آدم ثم قال وآدم من تراب والتراب من الزبد والزبد من الموج والموج من الماء والماء من الذرة والدرة من الضبابة والضبابة أنشئت من نور محمد صلى الله عليه وعلى آله وسلم فان صح هذا من جهة النقل فهو صلى الله عليه وآله وسلم أصل الوجود الانسانى خلقا وتكوينا* وما أحسن قول السيد الحكيم ابى عبد الله الترمذي فيه صلى الله تعالى عليه وسلم

قد ورث المجد بآبائه … وورّث المجد لابنائه

وقام قطبا لمحيط العلا … والمجد قد حف بأرجائه

وطهرت اجزاؤه فاغتدى … يطهر الكل باجزائه

وكان ظلا فمحاه السنا … ومثبتا فان بافنائه

وكان في غيبة أكوانه … يقطر ماء المجد من مائه

أي مفدي (الحرانى) بفتح المهملة وتشديد الراء وبالنون نسبة الى حران بلد بالشام (الضبابة) بفتح المعجمة هي السحابة الرقيقة (فان صح هذا من جهة النقل) يؤيد صحته ما أخرجه عبد الرزاق في مسنده بسند مستقيم من حديث جابر قال قلت يا رسول الله اخبرنى باول شئ خلقه الله قبل الاشياء قال يا جابر ان الله خلق قبل الاشياء نور نبيك من نوره فجعل ذلك النور يدور بالقدرة حيث يشاء الله تعالى ولم يكن في ذلك الوقت لوح ولا قلم ولا جنة ولا نار ولا ملك ولا سماء ولا أرض ولا شمس ولا قمر ولا جنى ولا انسى فلما أراد الله تعالى ان يخلق الخلق قسم ذلك النور أربعة أجزاء فخلق من الجزء الاول السماوات ومن الثاني الارضين ومن الثالث الجنة والنار ثم قسم الرابع أربعة أجزاء فخلق من الاول نور أبصار المؤمنين ومن الثاني نور قلوبهم وهي المعرفة بالله تعالى ومن الثالث نور ألسنتهم وهو التوحيد لا اله الا الله محمد رسول الله الحديث وفيه طول ومنه يؤخذ انه صلى الله عليه وسلم أصل سائر المكونات (أبي عبد الله الترمذى) هو محمد بن على المؤذن كان اماما حافظا زاهدا صاحب تصانيف مفيدة (قدورث) بكسر الراء مخففا (المجد) أى الكرم (وورث) بفتح الراء مشددا (وقام قطبا) أي فردا في مقامه الذي اقيم فيه وقطب القوم سيدهم ومن يدور أمرهم عليه (حف) بالمهملة أى احدق (بارجائه) أي جوانبه (فمحاه السنا) أى النور (ومثبتا) أي موجودا معنى (فان) أي غير موجود صورة ورفعه على انه خبر مبتدإ محذوف أي وهو فان (بافنائه) بفتح الهمزة جمع فناء بكسر الفاء وبالنون وهو في الاصل جانب الدار مما يلى وجهها واستعير هنا (يقطر ماء المجد من مائه) اشار إلي القطرات التي تقاطرت من نوره صلى الله عليه وسلم وخلق منها الانبياء كما ورد في حديث ضعيف أوّل ما خلق الله نوري فغلب عليه الحياء فقطرت منه مائة ألف قطرة وأربعة وعشرون ألف قطرة فخلق الله من كل قطرة نبيا ويؤيد هذا الحديث
শেখ আবু আল-হাসান আল-হাররানি আল-মাগরিবি তাঁর সেই গ্রন্থে, যা তিনি নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামসমূহ ও সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে সংকলন করেছেন, বর্ণনা করেছেন যে— নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের বংশপরিচয় তুলে ধরে বলেছেন: "আমি আহমদ এবং আমি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব।" অতঃপর তিনি তাঁর বংশধারা আদম পর্যন্ত উন্নীত করেন এবং বলেন: "আর আদম মাটি থেকে সৃষ্ট, মাটি ফেনা থেকে, ফেনা তরঙ্গ থেকে, তরঙ্গ পানি থেকে, পানি অণু থেকে, অণু মুক্তা থেকে এবং মুক্তা সৃষ্টি হয়েছে কুয়াশা থেকে, আর কুয়াশা সৃষ্টি করা হয়েছে মুহাম্মদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) নূর থেকে।" যদি বর্ণনার দিক থেকে এটি বিশুদ্ধ হয়ে থাকে, তবে সৃষ্টির সূচনা ও অস্তিত্বের গঠনের দিক থেকে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) মানব অস্তিত্বের মূল। আর সাইয়্যিদ হাকিম আবু আবদুল্লাহ তিরমিজি তাঁর (সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে কতই না চমৎকার বলেছেন:

তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছেন … এবং তাঁর সন্তানদের মাঝে সেই শ্রেষ্ঠত্ব রেখে গিয়েছেন।

তিনি উচ্চমর্যাদার পরিমণ্ডলের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে অধিষ্ঠিত হয়েছেন … আর শ্রেষ্ঠত্ব তাঁর চতুর্দিককে পরিবেষ্টন করে রেখেছে।

তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ ছিল পবিত্র, ফলে তিনি … তাঁর পবিত্র অঙ্গগুলোর মাধ্যমে সবকিছুকে পবিত্র করেছেন।

তিনি ছিলেন এমন এক ছায়া যাকে জ্যোতি অপসারিত করেছে … এবং তিনি অর্থে বিদ্যমান কিন্তু বাহ্যিক অবয়বে নশ্বর।

তিনি যখন স্বীয় অস্তিত্বের অদৃশ্যে অবস্থান করছিলেন … তখন তাঁর পানি থেকে শ্রেষ্ঠত্বের পানি ফোঁটা ফোঁটা করে ঝরছিল।

অর্থাৎ ‘আল-হাররানি’—হা বর্ণে ফাতহা, রা বর্ণে তাশদিদ এবং নুনসহ; এটি সিরিয়ার হাররান নামক শহরের দিকে সম্পৃক্ত। ‘আয-জাবাবাহ’—যাল বর্ণে ফাতহাসহ, এর অর্থ হলো পাতলা মেঘ। (যদি বর্ণনার দিক থেকে এটি বিশুদ্ধ হয়ে থাকে)—এর বিশুদ্ধতাকে সমর্থন করে যা ইমাম আবদুর রাজ্জাক তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে জাবির (রা.)-এর হাদিস থেকে সঠিক সনদে বর্ণনা করেছেন। জাবির (রা.) বলেন, আমি আরজ করলাম: হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহ সকল সৃষ্টির পূর্বে সর্বপ্রথম কী সৃষ্টি করেছেন তা আমাকে জানান। তিনি বললেন: হে জাবির! নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর আগে তোমার নবীর নূরকে তাঁর নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর সেই নূর আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী কুদরতের মাধ্যমে বিচরণ করতে থাকে। তখন লওহ, কলম, জান্নাত, জাহান্নাম, ফেরেশতা, আকাশ, পৃথিবী, সূর্য, চন্দ্র, জিন বা মানুষ কিছুই ছিল না। যখন আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করতে চাইলেন, তখন সেই নূরকে চার ভাগে বিভক্ত করলেন। প্রথম অংশ থেকে আসমানসমূহ, দ্বিতীয় অংশ থেকে জমিনসমূহ এবং তৃতীয় অংশ থেকে জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করলেন। অতঃপর চতুর্থ অংশকে পুনরায় চার ভাগে ভাগ করলেন। প্রথম অংশ থেকে মুমিনদের দৃষ্টির জ্যোতি, দ্বিতীয় অংশ থেকে তাদের অন্তরের নূর—যা আল্লাহর পরিচয় (মারিফত), এবং তৃতীয় অংশ থেকে তাদের জিহ্বার নূর—যা তাওহিদ অর্থাৎ 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ' সৃষ্টি করলেন। হাদিসটি দীর্ঘ। এখান থেকেই গ্রহণ করা হয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সমস্ত অস্তিত্বের মূল। (আবু আবদুল্লাহ তিরমিজি)—তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-মুআজ্জিন, যিনি একজন ইমাম, হাফিজ, দুনিয়াবিমুখ এবং বহু উপকারী গ্রন্থের প্রণেতা ছিলেন। ‘কাদ ওয়ারিছা’—রা বর্ণে কাসরা ও হালকা উচ্চারণে। ‘আল-মাজদ’—অর্থাৎ সম্মান বা শ্রেষ্ঠত্ব। ‘ওয়া ওয়াররাছা’—রা বর্ণে ফাতহা ও তাশদিদসহ। ‘ওয়া ক্বামা কুতুবান’—অর্থাৎ তিনি তাঁর সেই মাকামে একক ব্যক্তিত্ব যেখানে তাঁকে রাখা হয়েছে। আর কোনো সম্প্রদায়ের ‘কুতুব’ হলেন তাদের নেতা এবং যাঁর ওপর তাদের যাবতীয় কর্মকাণ্ড আবর্তিত হয়। ‘হাফ্ফা’—হা বর্ণে ফাতহাসহ, অর্থাৎ পরিবেষ্টন করেছে। ‘বি আরজাইহি’—অর্থাৎ তাঁর চারপাশ। ‘ফামাহাহুস সানা’—অর্থাৎ আলো। ‘ওয়া মুছবাতান’—অর্থাৎ অর্থগতভাবে বিদ্যমান। ‘ফানিন’—অর্থাৎ বাহ্যিক অবয়বে অবিদ্যমান; এটি উহ্য মুক্তাদার খবর হিসেবে পেশ (রাফা) করা হয়েছে, যার অর্থ ‘তিনি নশ্বর’। ‘বি আফনাইহি’—হামজাতে ফাতহাসহ ‘ফানা’ (ফাতে কাসরা ও নুনসহ) এর বহুবচন; মূলত এর অর্থ বাড়ির আঙিনা বা সামনের দিক, তবে এখানে রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ‘ইয়াকতুরু মাউল মাজদি মিন মা-ইহি’—এটি সেই ফোঁটাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করছে যা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নূর থেকে ঝরছিল এবং যা থেকে নবীগণ সৃষ্টি হয়েছেন, যেমনটি একটি দুর্বল হাদিসে এসেছে: "আল্লাহ সর্বপ্রথম আমার নূর সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাতে লজ্জা প্রবল হলে তা থেকে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার ফোঁটা নির্গত হয় এবং আল্লাহ প্রতিটি ফোঁটা থেকে একজন করে নবী সৃষ্টি করেন।" এই হাদিসটি উক্ত বিষয়টিকে সমর্থন করে।
(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ১৬)
وعن ابن عباس رضى الله عنهما قال لما خلق الله آدم أهبطني الله الى الارض في صلبه وجعلنى في صلب نوح في السفينة. وقذف بى في النار في صلب ابراهيم. ثم لم يزل ينقلنى في الاصلاب الكريمة. الى الارحام الطاهرة. حتى اخرجنى الله من بين ابوي لم يلتقيا على سفاح قط والى هذا المعنى اشار عمه العباس رضى الله تعالى عنه. حيث قال يا رسول الله انى احب ان امدحك. قال قل لا يفضض الله فاك فقال:

من قبلها طبت في الظلال وفي … مستودع حيث يخصف الورق

ثم هبطت البلاد لا بشر … انت ولا مضغة ولا علق

بل نطفة تركب السفين وقد … ألجم نسرا واهله الغرق

وردت نار الخليل مكتتما … تجول فيها ولست تحترق

تنقل من صالب الى رحم … اذا مضى عالم بدا طبق

ما أخرجه ابن مردويه من حديث أبي ذر قال قلت يا رسول الله كم الأنبياء قال مائة ألف وأربعة وعشرون ألفا قلت يا رسول الله كم الرسل منهم قال ثلاثمائة وثلاثة عشر جم غفير قلت يا رسول الله من كان أولهم قال آدم ثم قال يا أباذر أربعة سريانيون آدم وشيث ونوح واخنوخ وهو ادريس وهو أوّل من خط بالقلم وأربعة من العرب هود وصالح وشعيب ونبيك يا أباذر وأوّل نبي من بني اسرائيل أى من بعد اولاده موسى وآخرهم عيسى وأوّل النبيين آدم وآخرهم نبيك وأخرج هذا الحديث ابن حبان في كتابه الأنواع والتقاسيم وصححه لكن عده ابن الجوزي في الموضوعات واتهم به ابراهيم بن هشام والله أعلم وعن ابن عباس أخرجه عياض في الشفا (على سفاح) بكسر المهملة وتخفيف الفاء آخره مهملة أي زنا* شعر العباس رضي الله عنه (لا يفضض) بالفاء وتكرير المعجمة الاولى مضمومة وهو دعاء بلفظ النهي ومعناه لا يسقط الله اسنانك (فائدة) قال ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم للنابغة أيضا فعاش عشرين ومائة سنة فلم تسقط له سن ذكره عياض في الشفا وسيذكره المصنف في المعجزات (من قبلها) قال الشمني أى قبل الدين أو النبوة أو الولادة (مستودع) بفتح الدال (يخصف) باعجام الخاء واهمال الصاد مبنى للمفعول (مضغة) أى قطعة لحم بقدر ما يتضغ في الفم (ولا علق) جمع علقة وهي قطعة من دم غليظ (نطفة) هى في الاصل الماء القليل كالنطفة (تركب السفين) قال الجوهرى السفن جمع سفينة فعيلة بمعنى فاعلة كأنها تسفن الماء أى تقشره بالقاف والمعجمة (نسرا) بفتح النون أحد اصنام قوم نوح قال أهل الاخبار كان لآدم خمس بنين سموا نسرا وودا وسواعا ويغوث ويعوق وكانوا عبادا فماتوا فحزن أهل عصرهم عليهم فصور لهم ابليس أمثالهم من صفر ونحاس ليستأنسوا بهم فجعلوا في مؤخر المجلس فلما هلك أهل ذلك العصر قال اللعين لاولادهم هؤلاء آلهة آبائكم فعبدوهم ثم ان للطوفان دفنها فأخرجها اللعين للعرب كما سيأتي (من صالب) قال الهروى أى من صليب يقال لهم صلب وصليب وصالب ثلاث لغات وقال ابن الاثير الصالب الصلب وهو قليل الاستعمال (عالم) بفتح اللام (بدا طبق) أي عالم قاله الهروى نقلا عن ابن عرفة قال يقال مضى طبق وجاء طبق
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করলেন, তখন আল্লাহ আমাকে তাঁর পৃষ্ঠদেশে রেখে পৃথিবীতে অবতরণ করালেন। তিনি আমাকে নূহের পৃষ্ঠদেশে নৌকায় স্থাপন করেছিলেন। ইব্রাহিমের পৃষ্ঠদেশে থাকাকালীন আমাকে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এরপর তিনি নিরন্তর আমাকে সম্মানিত পৃষ্ঠদেশ থেকে পবিত্র গর্ভসমূহে স্থানান্তরিত করতে থাকলেন, যতক্ষণ না আল্লাহ আমাকে এমন এক পিতা-মাতার মাধ্যমে প্রকাশ করলেন যারা কখনো ব্যভিচারে মিলিত হননি। তাঁর চাচা আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এই অর্থের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন যখন তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার প্রশংসা গীতি পাঠ করতে চাই। তিনি বললেন: বলো, আল্লাহ যেন তোমার মুখগহ্বর (দাঁতসমূহ) অক্ষুণ্ণ রাখেন। অতঃপর তিনি বললেন:

তার আগে আপনি ছায়াতলে এবং সেই আমানতস্থলে পবিত্র ছিলেন যেখানে পাতা দ্বারা শরীর আবৃত করা হচ্ছিল …

অতঃপর আপনি পৃথিবীতে এমনভাবে অবতরণ করলেন যখন আপনি মানুষ ছিলেন না … কোনো মাংসপিণ্ড বা রক্তপিণ্ডও ছিলেন না

বরং আপনি ছিলেন এক পবিত্র বিন্দু যা নৌকায় আরোহণ করেছিল, যখন … নাসর নামক প্রতিমা এবং তার অনুসারীরা নিমজ্জিত হচ্ছিল

আপনি ইব্রাহিম খলিলের আগুনে গোপনে প্রবেশ করেছিলেন … যেখানে আপনি বিচরণ করছিলেন অথচ দগ্ধ হননি

আপনি এক পৃষ্ঠদেশ থেকে অন্য গর্ভে স্থানান্তরিত হতে থাকলেন … যখনই এক প্রজন্ম গত হলো, তখন অন্য এক স্তরের আবির্ভাব ঘটল

ইবনে মারদুওয়াইহ আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! নবীদের সংখ্যা কত? তিনি বললেন: এক লক্ষ চব্বিশ হাজার। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তাদের মধ্যে রাসূলের সংখ্যা কত? তিনি বললেন: তিনশত তেরোজন—এক বিশাল জামাত। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তাদের মধ্যে প্রথম কে ছিলেন? তিনি বললেন: আদম। তারপর তিনি বললেন: হে আবু যার! চারজন নবী ছিলেন সুরইয়ানি (সিরীয়): আদম, শীস, নূহ এবং আখনুখ—যিনি হলেন ইদ্রিস, এবং তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি কলম দিয়ে লিখেছিলেন। আর চারজন হলেন আরব: হুদ, সালিহ, শুয়াইব এবং হে আবু যার, তোমার নবী। বনী ইসরাঈলের প্রথম নবী অর্থাৎ আদমের সন্তানদের পর মুসা এবং তাদের শেষ নবী হলেন ঈসা। আর নবীদের মধ্যে প্রথম হলেন আদম এবং সর্বশেষ হলেন তোমার নবী। ইবনে হিব্বান তাঁর 'আল-আনওয়া ওয়াত তাকাসিম' গ্রন্থে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং এটিকে সহীহ বলেছেন। তবে ইবনে জাওযী একে জাল হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং ইব্রাহিম বিন হিশামকে এর জন্য অভিযুক্ত করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন। ইবনে আব্বাস থেকে এটি ক্বাযী আয়ায 'আশ-শিফা' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ব্যভিচার অর্থে সিন বর্ণে কাসরা এবং ফা বর্ণে তাশদীদহীন শব্দ। আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কবিতা: 'আল্লাহ যেন না ফেলেন' শব্দটির অর্থ হলো এটি মূলত বদদোয়ার বিপরীত অর্থে একটি দু'আ, যার অর্থ আল্লাহ যেন তোমার দাঁত অক্ষুণ্ণ রাখেন। (শিক্ষা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাবিগাহর জন্যও এমন দু'আ করেছিলেন, ফলে তিনি একশত বিশ বছর জীবিত ছিলেন কিন্তু তাঁর একটি দাঁতও পড়েনি; ক্বাযী আয়ায 'আশ-শিফা' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং লেখক 'মু'জিজাত' অধ্যায়ে এটি পুনরায় উল্লেখ করবেন। 'তার আগে' শব্দ সম্পর্কে শুমনি বলেন, অর্থাৎ দ্বীন, নবুওয়াত বা জন্মের আগে। 'আমানতস্থল' শব্দটি দাল বর্ণে ফাতহা সহকারে। 'আবৃত করা' শব্দটি খা বর্ণে নুকতা এবং সদ বর্ণে নুকতাহীন হয়ে কর্মবাচ্যের শব্দ। 'মাংসপিণ্ড' অর্থাৎ মুখের গ্রাস পরিমাণ মাংসের টুকরো। 'রক্তপিণ্ড' হলো জমাটবদ্ধ রক্ত। 'পবিত্র বিন্দু' এটি মূলত সামান্য পরিমাণ পানি। 'নৌকায় আরোহণ' সম্পর্কে জাওহারী বলেন, সুফুন হলো সাফিনাহ এর বহুবচন, যা মূলত পানি চিরে চলা বা পানির উপরিভাগ স্পর্শ করে চলা বোঝায়। 'নাসরান' নূন বর্ণে ফাতহা সহকারে, এটি নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর জাতির অন্যতম প্রতিমা। ঐতিহাসিকগণ বলেন, আদমের পাঁচজন পুত্র ছিলেন যাদের নাম ছিল নাসর, ওয়াদ্দ, সুওয়া, ইয়াগুস এবং ইয়াউক। তারা ইবাদতকারী বান্দা ছিলেন, যখন তারা মারা গেলেন তখন তাদের সমসাময়িকরা শোকাতুর হলেন। ইবলিস তাদের সান্ত্বনার জন্য তামা ও পিতল দিয়ে তাদের প্রতিকৃতি তৈরি করে দিল যাতে তারা সেগুলোকে দেখে স্বস্তি পায়। সেগুলো মজলিসের পেছনের দিকে রাখা হতো। যখন সেই যুগের লোকেরা মারা গেল, তখন অভিশপ্ত ইবলিস তাদের সন্তানদের বলল: এরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের উপাস্য। ফলে তারা তাদের পূজা করতে শুরু করল। এরপর মহাপ্লাবন সেগুলোকে সমাহিত করে ফেলেছিল, যা পরবর্তীতে অভিশপ্ত ইবলিস আরবদের জন্য বের করে আনে, যেমনটি সামনে আলোচিত হবে। 'পৃষ্ঠদেশ থেকে' সম্পর্কে হারাবী বলেন, এর তিনটি ভাষাগত রূপ রয়েছে। ইবনুল আসীর বলেন, এটি পৃষ্ঠদেশ অর্থে ব্যবহৃত হয়, তবে এর ব্যবহার কম। 'জগত' শব্দটি লাম বর্ণে ফাতহা সহকারে। 'অন্য স্তরের আবির্ভাব' অর্থাৎ নতুন এক জগত বা প্রজন্মের আবির্ভাব; ইবনে আরাফাহ থেকে হারাবী এটি উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেন, এর অর্থ হলো এক প্রজন্ম গত হলো এবং অন্য প্রজন্মের আগমন ঘটল।
(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ১৭)
حتى احتوى بيتك المهيمن من … خندف علياء تحتها النطق

وانت لما ولدت أشرقت الأر … ض وضاءت بنورك الافق

فنحن في ذلك الضياء وفي ال … نور وسبل الرشاد نخترق

عرجت سبع الطباق منتهيا … وسرت تحت الجلال تعتبق

صلى عليك الاله دائمة … مديد خلق وكلما نطقوا

‌‌[فصل: فيما ورد من فضل بلدى مولده ووفاته]

(فصل) فيما ورد من فضل بلدي مولده ووفاته* قال المؤلف غفر الله له جمع الله سبحانه لنبيه صلى الله عليه وعلى آله وسلم انواع التفضيل والاعزاز والتبجيل وتخير له في البلد كما هيأله في النسب فجعل مولده ومبعثه بمكة ومهاجره ووفاته بالمدينة* ولا خلاف بين العلماء أنهما افضل البلدان على الاطلاق ثم اختلفوا في ايهما افضل فذهب اهل مكة واهل الكوفة الى تفضيل مكة وهو قول الشافعي وعليه جماعة من المالكية وذهب مالك واكثر المدنيين الى تفضيل المدينة أى مضي عالم وجاء عالم (حتي احتوى بيتك) بالرفع فاعل ومفعوله علياء (المهيمن) أي الشاهد على فضلك (خندف) بكسر المعجمة وسكون النون وكسر المهملة ويجوز فتحها والخندفة مشية كالهرولة وهو لقب ليلى بنت عمران بن الحاف بن قضاعة امرأة الياس بن مضر بن نزار فهي جدة النبي صلى الله عليه وسلم لانها أم مدركة (النطق) بضم النون والمهملة قال ابن الاثير جمع نطاق وهي اعراض من حبال بعصها فوق بعض أي نواح وأوساطها منها شبهت بالنطق التي يشد بها أوساط الناس ضربه مثلا له صلى الله عليه وسلم في ارتفاعه وتوسطه في عترته وجعله تحتهم بمنزلة أوساط الحبال* وقال الجوهري النطاق شقة تلبسها المرأة وتشد وسطها ثم ترسل الاعلى على الاسفل الى الركبة والاسفل ينجر في الارض وليس لها حجزة ولا شق ولا ساقان والجمع نطق (وضاءت) أصله اضاءت رباعي ثلث لضرورة الشعر وهي في لغة قليلة أيضا (فائدة) في بعض كتب السنن انه لما فرغ من هذه الابيات قال له النبى صلى الله عليه وسلم لا فض فوك ولا بر من يجفوك

(فصل) فيما ورد من فضل بلدي مولده ووفاته (الشافعي) هو أبو عبد الله محمد بن ادريس بن العباس ابن عثمان بن شافع بن السائب الشيبة بن عبيد بن عبد بن يزيد بن هاشم بن المطلب بن عبد مناف ولد بغزة قرية من قرى الشام سنة خمسين ومائة فمكث بها سنتين ثم حمل الى مكة المشرفة فنشأ بها وتعلم بها القرآن على سفيان بن عيينة وغيره ثم خرج الى المدينة وقرأ على مالك بن أنس الموطأ وحفظه ثم دخل الى بغداد واقام بها سنتين وصنف بها كتبه القديمة ثم عاد الى مكة وأقام بها سنة سبع وسبعين ثم عاد الى بغداد وأقام بها اشهرا ولم يصنف بهاشيأ ثم خرج الى مصر وصنف بها كتبه الجديدة واقام بها الي ان مات ودفن هنالك وكان موته ليلة الجمعة وقد صلى العشاء الاخيرة آخر ليلة من رجب ودفن يوم الجمعة وقال الربيع انصرفنا من دفن الشافعي فرأينا هلال شعبان وكان ذلك في سنة أربع ومائتين وكان عمره أربعا وخمسين سنة (وذهب مالك) هو ابن أنس صاحب المذهب ولد سنة ثلاث وتسعين أو احدى وتسعين أو أربع وتسعين
আপনার ঘর আধিপত্য বিস্তার করেছে এমন উচ্চতায় যা খানদাফ বংশের অন্তর্গত, যার নিচে রয়েছে স্তরে স্তরে সজ্জিত শাখাগুলো।

আর আপনি যখন জন্মগ্রহণ করেছেন তখন পৃথিবী উদ্ভাসিত হয়েছে এবং আপনার নূরে দিগন্তসমূহ আলোকিত হয়েছে।

অতএব আমরা সেই জ্যোতিতে এবং সেই নূরে এবং হিদায়াতের পথে এগিয়ে চলছি।

আপনি সাত স্তরের আকাশ অতিক্রম করে শেষ প্রান্তে পৌঁছেছেন এবং মহিমার নিচে সুগন্ধি ছড়িয়ে ভ্রমণ করেছেন।

আল্লাহ আপনার প্রতি সর্বদা রহমত বর্ষণ করুন, সৃষ্টির স্থায়িত্বকাল পর্যন্ত এবং যতক্ষণ তারা কথা বলবে।

‌‌[পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্মস্থান ও মৃত্যুস্থানের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে]

(পরিচ্ছেদ) তাঁর জন্মস্থান ও মৃত্যুস্থানের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে। লেখক (আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন) বলেন: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য সব ধরনের শ্রেষ্ঠত্ব, সম্মান ও মহিমা একত্রিত করেছেন। তাঁর বংশধারা যেমন উত্তমভাবে নির্ধারণ করেছেন, তাঁর জন্য স্থানও তেমনি পছন্দ করেছেন। তাই তাঁর জন্ম ও নবুওয়াত প্রকাশের স্থান বানিয়েছেন মক্কায় এবং হিজরত ও মৃত্যুর স্থান বানিয়েছেন মদীনায়। আলেমদের মধ্যে এতে কোনো দ্বিমত নেই যে, এই দুটি শহরই নিঃশর্তভাবে সর্বোত্তম শহর। তবে কোনটি বেশি শ্রেষ্ঠ তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। মক্কাবাসী ও কুফাবাসীরা মক্কাকে শ্রেষ্ঠ মনে করেন, এটি ইমাম শাফেয়ীর মত এবং মালেকী মাযহাবের একদলের অভিমত। অন্যদিকে ইমাম মালেক ও অধিকাংশ মদীনাবাসী মদীনাকে শ্রেষ্ঠ মনে করেন। অর্থাৎ এক আলেম চলে গেলেন এবং আরেক আলেম আসলেন। (যাতে আপনার ঘর বেষ্টন করেছে) এখানে 'ঘর' শব্দটি কর্তা এবং 'উচ্চতা' শব্দটি কর্ম। (আল-মুহাইমিন) অর্থাৎ আপনার শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষী। (খানদাফ) খ-বর্ণে কাসরা (ই-কার), নুন-বর্ণে সুকুন এবং দাল-বর্ণে কাসরা যোগে; এটি ফাতহা (আ-কার) দিয়েও পড়া যায়। 'খানদাফাহ' হলো দ্রুত হাঁটার একটি ধরণ। এটি লায়লা বিনতে ইমরান বিন আল-হাফ বিন কুদাআহ-এর উপাধি, যিনি ইলিয়াস বিন মুদার বিন নিজার-এর স্ত্রী। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রপিতামহী, কারণ তিনি মুদরিকাহ-এর মা। (আন-নুতুক্ব) নুন এবং তা বর্ণে পেশ যোগে। ইবনুল আসীর বলেন, এটি 'নিতাক্ব' এর বহুবচন, যা রশির এমন অংশ যা একটির উপর আরেকটি থাকে, অর্থাৎ বিভিন্ন দিক ও তার মধ্যবর্তী অংশ। একে সেই 'নিতাক্ব' (কোমরবন্ধ) এর সাথে তুলনা করা হয়েছে যা মানুষ কোমরের মধ্যভাগে বাঁধে। এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উচ্চমর্যাদা এবং তাঁর বংশের মধ্যমণি হওয়ার একটি রূপক উদাহরণ। আল-জাওহারী বলেন, নিতাক্ব হলো কাপড়ের একটি খণ্ড যা নারীরা পরিধান করে এবং কোমরের মাঝখানে বাঁধে, তারপর উপরের অংশটি নিচের অংশের উপর দিয়ে হাঁটু পর্যন্ত ঝুলিয়ে দেয় এবং নিচের অংশটি মাটিতে হেঁচড়ে চলে; এর কোনো কোমরবন্ধনী, ছেঁড়া অংশ বা দুটি পায়ের অংশ থাকে না। এর বহুবচন হলো 'নুতুক্ব'। (ওয়াদ্বআত) এর মূল রূপ হলো 'আদ্বআত' (আলোকিত করা), কবিতার ছন্দের প্রয়োজনে এটি তিন বর্ণের ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে; যদিও স্বল্প পরিসরে এটি ভাষাগতভাবেও সিদ্ধ। (ফায়দা) হাদীসের কিছু গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন তিনি এই কবিতাগুলো আবৃত্তি শেষ করলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন, "আল্লাহ তোমার মুখকে সর্বদা অক্ষত রাখুন এবং যে তোমার সাথে রূঢ় আচরণ করে সে যেন কল্যাণ থেকে বঞ্চিত থাকে।"

(পরিচ্ছেদ) তাঁর জন্মস্থান ও মৃত্যুস্থানের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে। (শাফেয়ী) তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস বিন আল-আব্বাস বিন উসমান বিন শাফি বিন আস-সায়িব আশ-শাইবাহ বিন উবাইদ বিন আবদ বিন ইয়াজিদ বিন হাশিম বিন আল-মুত্তালিব বিন আবদে মানাফ। তিনি ১৫০ হিজরিতে শামের গাজা নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানে দুই বছর অবস্থানের পর তাঁকে মক্কায় নিয়ে আসা হয় এবং সেখানেই তিনি বড় হন। তিনি সুফিয়ান বিন উইয়াইনা ও অন্যদের কাছে কুরআন শিক্ষা করেন। এরপর তিনি মদীনায় গিয়ে ইমাম মালেক বিন আনাসের কাছে 'মুয়াত্তা' পাঠ করেন এবং তা মুখস্থ করেন। পরবর্তীতে তিনি বাগদাদে প্রবেশ করেন এবং সেখানে দুই বছর অবস্থান করে তাঁর পুরাতন কিতাবসমূহ সংকলন করেন। এরপর ১৭৭ সালে মক্কায় ফিরে আসেন। পরবর্তীতে আবার বাগদাদে গিয়ে কয়েক মাস অবস্থান করেন তবে সেখানে নতুন কিছু লেখেননি। সবশেষে তিনি মিশরে যান এবং সেখানে তাঁর নতুন কিতাবসমূহ সংকলন করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল জুমাবার রাতে, রজব মাসের শেষ রাতে এশার সালাতের পর এবং জুমাবারে তাঁকে দাফন করা হয়। রাবী বলেন, শাফেয়ীর দাফন শেষে ফেরার সময় আমরা শাবানের চাঁদ দেখতে পাই। সেটি ছিল ২০৪ হিজরি এবং তাঁর বয়স ছিল ৫৪ বছর। (ইমাম মালেকের মত) তিনি হলেন মালেকী মাযহাবের ইমাম আনাসের পুত্র; তিনি ৯৩, ৯১ অথবা ৯৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ১৮)
وهو قول عمر بن الخطاب رضى الله عنه ولا خلاف ان موضع قبره افضل البقاع صلى الله عليه وسلم لما وردان كلا يدفن في تربته التي خلق منها وهو صلى الله عليه وسلم أفضل المخلوقات فتعين أنها افضل البقاع والله اعلم

«فمما ورد في فضل مكة» من الآيات والاحاديث قوله تعالى وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثابَةً لِلنَّاسِ وَأَمْناً وقال تعالى إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبارَكاً وَهُدىً لِلْعالَمِينَ فِيهِ آياتٌ بَيِّناتٌ مَقامُ إِبْراهِيمَ وَمَنْ دَخَلَهُ كانَ آمِناً وقال تعالي أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا جَعَلْنا حَرَماً آمِناً وَيُتَخَطَّفُ النَّاسُ مِنْ حَوْلِهِمْ وقال تعالي إِنَّما أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ رَبَّ هذِهِ الْبَلْدَةِ الَّذِي حَرَّمَها وقال تعالى أَوَلَمْ نُمَكِّنْ لَهُمْ حَرَماً آمِناً يُجْبى إِلَيْهِ ثَمَراتُ كُلِّ شَيْءٍ رِزْقاً مِنْ لَدُنَّا. والآيات الواردة في هذا المعنى كثيرة غير منحصرة.

‌‌[مطلب في الكلام على ما ورد في فضل مكة]

واما الاحاديث فروينا في صحيح البخارى عن ابن عباس رضى الله تعالى منهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يوم فتح مكة إن هذا البلد حرمه الله أو سبع وتسعين أقوال وتوفي سنة سبع وتسعين ومائة (ولا خلاف ان موضع قبره أفضل البقاع) الارضية والسمائية بل أفضل من العرش والكرسى كما جزم غير واحد من أصحابنا وغيرهم (لما ورد ان كلا يدفن في تربته الى آخره) اخرجه الترمذي الحكيم في نوادر الاصول من حديث أبي هريرة قال العلماء وهو أحسن ما يستدل به على تفضيل مدفنه صلى الله عليه وسلم على سائر البقاع حتي موضع الكعبة المشرفة والعرش والكرسى كما مر آنفا وعلى فضيلة أبي بكر وعمر رضى الله تعالى عنهما لانهما خلقا من تلك الطينة وخلق منها عيسى أيضا كما سيأتي انه يدفن ثم (وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ) يعني الكعبة (مَثابَةً لِلنَّاسِ) أي معاذا وملجأ قاله ابن عباس أو مرجعا لهم يثوبون اليه من كل جانب ويحجونه قاله مجاهد وسعيد بن جبير أو مجتمعا قاله قتادة وعكرمة (وَأَمْناً) أي يأمنون فيه من اذى المشركين (إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ) أي أوّل بيت ظهر على الماء عند خلق السماء والارض (لَلَّذِي بِبَكَّةَ) هي مكة نفسها قاله جماعة أو بكة موضع البيت ومكة اسم البلد كله وقيل بكة موضع البيت والمطاف (مُبارَكاً) منصوب على الحال أى ذا بركة (وَهُدىً لِلْعالَمِينَ) أي لأنه قبلة المؤمنين (فِيهِ آياتٌ بَيِّناتٌ) قرأ ابن عباس بينة لقوله (مَقامُ إِبْراهِيمَ) ولم يذكر سواه والآخرون بالجمع على انه أراد مقام ابراهيم وغيره من الآيات التى ثم فاقتصر عليه لفظا ومنه الحجر الاسود وزمزم والحطيم وغير ذلك (وَمَنْ دَخَلَهُ كانَ آمِناً) أي لا يباح فيه وذلك بدعاء ابراهيم حيث قال رَبِّ اجْعَلْ هذا بَلَداً آمِناً (وَيُتَخَطَّفُ النَّاسُ مِنْ حَوْلِهِمْ) يعني العرب يسبي بعضهم بعضا وأهل مكة آمنون (الَّذِي حَرَّمَها) أي جعلها حرما آمنا لا يسفك فيها دم ولا يظلم فيها أحد ولا يصاد صيدها ولا يختلا خلاها (يُجْبى إِلَيْهِ) أي يجلب ويجتمع (فروينا في صحيح البخاري عن ابن عباس) أخرجه عنه مسلم وأبو داود أيضا (ان هذا البلد حرمه الله) زادوا في رواية يوم خلق السموات والارض ففيه ان تحريمها من أوّل الزمان كما عليه الاكثرون وأجابوا عن قوله ان ابراهيم حرم مكة وهو في صحيح مسلم من حديث جابر بأن تحريمها كان خفيا فأظهره ابراهيم وأشاعه لا انه ابتدأه وقيل بل ابتدأه
এটি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর উক্তি। আর এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবরের স্থানটি সকল ভূখণ্ডের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। কেননা বর্ণিত হয়েছে যে, প্রত্যেককে সেই মাটি থেকেই দাফন করা হয় যা থেকে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর যেহেতু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সৃষ্টির সেরা, তাই এটি নিশ্চিত হয় যে সেটিই শ্রেষ্ঠ ভূখণ্ড। আল্লাহই ভালো জানেন।

«মক্কার মর্যাদার বর্ণনায় যা বর্ণিত হয়েছে» আয়াত ও হাদিসসমূহের মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: "আর স্মরণ করো, যখন আমি এই ঘরকে মানুষের জন্য মিলনস্থল ও নিরাপদ স্থান বানালাম।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "নিশ্চয়ই প্রথম ঘর যা মানুষের জন্য স্থাপন করা হয়েছে, তা তো বাক্কায় (মক্কায়) অবস্থিত; তা বরকতময় ও বিশ্ববাসীর জন্য হেদায়াত। তাতে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ রয়েছে, (যেমন) মাকামে ইবরাহিম। আর যে সেখানে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ হবে।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "তারা কি দেখে না যে, আমি একটি নিরাপদ হারাম (পবিত্র এলাকা) তৈরি করেছি, অথচ তাদের চারপাশ থেকে মানুষকে ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়া হয়?" আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আমি তো কেবল এই শহরের রবের ইবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি, যিনি একে পবিত্র করেছেন।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আমি কি তাদের জন্য একটি নিরাপদ হারামের ব্যবস্থা করে দেইনি, যেখানে আমার পক্ষ থেকে রিজিক হিসেবে সবকিছুর ফলমূল সংগৃহীত হয়?" এই মর্মে বর্ণিত আয়াতসমূহ অনেক এবং অগণিত।

‌‌[মক্কার মর্যাদা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার আলোচনা]

আর হাদিসের কথা বলতে গেলে, আমরা সহীহ বুখারীতে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা বিজয়ের দিন বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই শহরটিকে আল্লাহ পবিত্র ঘোষণা করেছেন।" এটি একশ সাতানব্বইটি মতের একটি অথবা তিনি একশ সাতানব্বই হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। (আর এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, তাঁর কবরের স্থানটি শ্রেষ্ঠ ভূখণ্ড) তা পার্থিব হোক বা আকাশমণ্ডলীয়, বরং তা আরশ এবং কুরসির চেয়েও শ্রেষ্ঠ, যেমনটি আমাদের একাধারে অনেক আলেম এবং অন্যান্যরা দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেছেন। (কেননা বর্ণিত হয়েছে যে, প্রত্যেককে তার মাটিতেই দাফন করা হয় - শেষ পর্যন্ত) এটি তিরমিযী হাকিম 'নাওয়াদিরুল উসুল'-এ আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। ওলামাগণ বলেছেন, এটিই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাফনের স্থানকে কাবা শরীফ, আরশ এবং কুরসি সহ অন্যান্য সকল স্থানের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের সর্বোত্তম দলিল, যেমনটি একটু আগেই অতিক্রান্ত হয়েছে। এবং এটি আবু বকর ও উমর (রা.)-এর মর্যাদারও প্রমাণ, কারণ তাঁরা সেই মাটি থেকেই সৃষ্টি হয়েছেন। ঈসা (আ.)-কেও সেই মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, যেমনটি সামনে আসবে যে তাঁকে সেখানে দাফন করা হবে। (আর যখন আমি ঘরকে করলাম) অর্থাৎ কাবাকে (মানুষের মিলনস্থল) অর্থাৎ আশ্রয়স্থল ও নিরাপদ জায়গা, যা ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন। অথবা এর অর্থ তাদের প্রত্যাবর্তনস্থল, যেখানে তারা সকল প্রান্ত থেকে বারবার ফিরে আসবে এবং হজ করবে, যা মুজাহিদ ও সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেছেন। অথবা একত্রিত হওয়ার স্থান, যা কাতাদাহ ও ইকরিমা বলেছেন। (ও নিরাপদ) অর্থাৎ তারা সেখানে মুশরিকদের কষ্ট দেওয়া থেকে নিরাপদ থাকবে। (নিশ্চয়ই প্রথম ঘর যা মানুষের জন্য স্থাপন করা হয়েছে) অর্থাৎ আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির সময় পানির ওপর যে প্রথম ঘরটি প্রকাশিত হয়েছিল। (যা বাক্কায় অবস্থিত) এটি মক্কা নিজেই, একদল আলিম এটি বলেছেন। অথবা 'বাক্কা' হলো ঘরের (কাবার) স্থান আর মক্কা পুরো শহরের নাম। আবার বলা হয়েছে 'বাক্কা' হলো ঘরের এবং তাওয়াফের স্থান। (বরকতময়) এটি অবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে যার অর্থ বরকতপূর্ণ। (এবং বিশ্ববাসীর জন্য হিদায়াত) কারণ এটি মুমিনদের কিবলা। (তাতে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ রয়েছে) ইবনে আব্বাস (রা.) একে একবচনে 'সুস্পষ্ট নিদর্শন' পড়েছেন মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: (মাকামে ইবরাহিম), এবং তিনি এটি ছাড়া অন্য কিছুর উল্লেখ করেননি। অন্যরা বহুবচনে পড়েছেন এই উদ্দেশ্যে যে এর দ্বারা মাকামে ইবরাহিম এবং সেখানকার অন্যান্য নিদর্শনসমূহ বোঝানো হয়েছে, তবে শব্দগতভাবে শুধু মাকামে ইবরাহিমের উল্লেখ করা হয়েছে। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো হাজরে আসওয়াদ, যমযম, হাতিম এবং অন্যান্য বিষয়। (যে সেখানে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ হবে) অর্থাৎ সেখানে রক্তপাত বা ক্ষতি করা বৈধ নয়। আর এটি ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়ার ফল যখন তিনি বলেছিলেন: 'হে আমার রব, একে নিরাপদ শহর বানিয়ে দিন'। (অথচ তাদের চারপাশ থেকে মানুষকে ছিনতাই করা হয়) অর্থাৎ আরবদের একদল অন্যদলকে বন্দি করে নিয়ে যেত, কিন্তু মক্কাবাসী নিরাপদ থাকতো। (যিনি একে পবিত্র করেছেন) অর্থাৎ একে নিরাপদ পবিত্র এলাকা বানিয়েছেন, সেখানে রক্তপাত করা হবে না, কারো ওপর জুলুম করা হবে না, সেখানকার শিকার তাড়া করা হবে না এবং সেখানকার ঘাস কাটা হবে না। (যার দিকে সংগৃহীত হয়) অর্থাৎ আনা হয় এবং একত্রিত করা হয়। (সহীহ বুখারীতে ইবনে আব্বাস থেকে আমরা বর্ণনা করেছি) মুসলিম এবং আবু দাউদও এটি বর্ণনা করেছেন। (নিশ্চয়ই এই শহরটিকে আল্লাহ পবিত্র করেছেন) কোনো কোনো বর্ণনায় বর্ধিত করা হয়েছে: 'যেদিন তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন'। এতে প্রমাণিত হয় যে এর পবিত্রতা সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকেই, যেমনটি অধিকাংশ আলিমের মত। আর "ইবরাহিম (আ.) মক্কাকে পবিত্র করেছেন" মর্মে সহীহ মুসলিমে জাবির (রা.) থেকে যে বর্ণনা এসেছে তার উত্তরে তাঁরা বলেছেন যে, এর পবিত্রতা আগে থেকেই ছিল কিন্তু তা অস্পষ্ট ছিল, ইবরাহিম (আ.) তা প্রকাশ ও প্রচার করেছেন; তিনি এর সূচনা করেননি। তবে কেউ কেউ বলেছেন তিনি এর সূচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ১৯)
لا يعضد شوكه ولا ينفر صيده ولا تلتقط لقطته الا من عرّفها وفي رواية أخرى ولا يختلى خلاها قال العباس رضي الله عنه يا رسول الله الا الاذخر فانه لقينهم ولبيوتهم قال الا الأذخر

وروينا في جامع الترمذي عن عبد الله بن عدى بن الحمراء رضي الله عنه انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو على راحلته بالحزورة بمكة يقول لمكة والله انك لخير أرض الله وأحب أخذا بظاهر هذا الحديث ونحوه من الاحاديث وأجابوا عن الاول بأن معناه ان الله كتب في اللوح المحفوظ أو في غيره يوم خلق السموات والارض ان ابراهيم سيحرم مكة بأمر الله تعالى وفيه تحريم القتال بمكة وان بغى أهلها على أهل العدل وبه قال بعض الفقهاء بل يضيق عليهم حتى يرجعوا الى الطاعة لكن نص الشافعى على جواز قتالهم لان قتال البغاة من حقوق الله تعالى التى لا يجوز اضاعتها فحفظها في الحرم أولى من اضاعتها وهذا هو الصواب واختار في سير الواقدي في الحديث ان معناه تحريم نصب القتال عليهم وقتالهم بما يعم كالمنجنيق وغيره اذا أمكن اصلاح الحال بدون ذلك بخلاف ما اذا تحصن الكفار في بلد آخر فانه يجوز قتالهم على كل حال بكل شيء ووقع في شرح التلخيص للقفال المروزي انه لا يجوز القتال بمكة حتى لو تحصن فيها جماعة من الكفار لم يجز لنا قتالهم قال النووي وهذا غلط ظاهر (لا يعضد) أي لا يقطع بالمعضد وهو آلة كالفأس (شوكه) قال النووي فيه دليل على تحريم قطع الشوك المؤذي وهذا الذى اختاره المتولي وقال جمهور أصحابنا لا يحرم لانه مؤذ فأشبه الفواسق الخمس ويخصون الحديث بالقياس قال والصحيح ما اختاره المتولي (ولا ينفر صيده) أي لا يزعج فالاتلاف أولى (لقطته) بفتح القاف على اللغة المشهورة ويجوز اسكانها وهو اسم للملقوط (ولا يختلي) أي لا يؤخذ ولا يقطع (خلاها) بفتح المعجمة مقصور هو الرطب من الكلأ (الا الاذخر) بالنصب ويجوز رفعه على البدل وهو بكسر الهمزة وسكون الذال وكسر الخاء المعجمتين نبت طيب الرائحة (لقينهم) بفتح القاف وسكون التحتية بعدها نون هو الحداد والصائغ أى يحتاج اليه القين في وقود النار (ولبيوتهم) أي يحتاجون اليه في سقوفها ويجعل فوق الخشب وبينه وفي رواية في الصحيح فانه لبيوتنا ولقبورنا أي يسدون به خلال اللبنات في القبور (فقال الا الاذخر) هذا محمول على انه أوحى اليه في الحال باستثناء الاذخر وتخصيصه من العموم أو أوحى اليه قبل ذلك ان طلب أحد الاستثناء بشيء فاستثنه أو انه اجتهد في الجميع قاله النووي (وروينا في جامع الترمذي) وسنن النسائى والدار قطنى بسند قال البكري على شرط الشيخين (عن عبد الله بن عدي) هو قرشي زهري من أنفسهم وقيل بل ثقفى حليف لقريش يكنى أبا عمرو وقيل أبا عمر له صحبة ورواية بعد في أهل الحجاز وكان ينزل فيما بين قديد وعسفان وذكره الطبري فيمن روي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من بني زهرة وهو مبني على انه من أنفسهم وذكر غيره ان شريقا والد الاخنس بن شريق اشترى عبدا فأعتقه وأنكحه بنته فولدت له عبد الله وعمرا ابني عدي بن الحمراء أو لهم عبد الله بن عدي آخر يروي عنه عبد الله بن الخيار (ابن الحمراء) بالمهملة والراء والمد (بالحزورة) بفتح المهملة والزاي والواو المشددة والراء كذا يقوله المحدثون وسكون الزاي وتخفيف الواو بوزن قسورة كذا ضبطه ابن السراج بالوجهين فزعم الدارقطني ان الاول تصحيف معترض ومحلها
এর কাঁটা কাটা যাবে না, এর শিকারকে তাড়িয়ে দেওয়া যাবে না এবং এর পড়ে থাকা বস্তু তোলা যাবে না কেবল সে ব্যক্তি ছাড়া যে তা ঘোষণা করবে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে: এর কাঁচা ঘাস কাটা যাবে না। আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ইযখির ঘাস ব্যতীত। কারণ এটি তাদের কর্মকারদের জন্য এবং তাদের ঘরবাড়ির কাজের জন্য প্রয়োজন। তিনি বললেন: ইযখির ব্যতীত।

জামে তিরমিযীতে আব্দুল্লাহ বিন আদি বিন আল-হামরা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মক্কার হাযওয়ারাহ নামক স্থানে তাঁর সওয়ারীর ওপর থাকা অবস্থায় মক্কাকে উদ্দেশ্য করে বলতে শুনেছেন: আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর জমিনের মধ্যে সর্বোত্তম এবং আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়। এই হাদীস এবং এ জাতীয় অন্যান্য হাদীসের প্রকাশ্য অর্থের ওপর ভিত্তি করে তারা প্রথম হাদীসটির উত্তর দিয়েছেন যে, এর অর্থ হলো আল্লাহ তাআলা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিনে লাওহে মাহফুযে বা অন্য কোথাও লিখে রেখেছেন যে, ইবরাহীম আলাইহিস সালাম আল্লাহর নির্দেশে মক্কাকে হারাম (মর্যাদাপূর্ণ) সাব্যস্ত করবেন। এতে মক্কায় যুদ্ধ করার নিষিদ্ধতা প্রমাণিত হয়, যদিও সেখানকার বাসিন্দারা ন্যায়পরায়ণদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। কিছু ফকীহ এটাই বলেছেন; বরং তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে যতক্ষণ না তারা আনুগত্যে ফিরে আসে। কিন্তু ইমাম শাফেঈ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট মত দিয়েছেন। কারণ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা আল্লাহর হকসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা নষ্ট করা জায়েয নয়; সুতরাং হারামের সীমানায় তা রক্ষা করা নষ্ট করার চেয়ে অধিক উত্তম। আর এটিই সঠিক মত। ওয়াকিদির 'সিয়ার' গ্রন্থে হাদীসের অর্থ এই পছন্দ করা হয়েছে যে, এর দ্বারা তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া এবং মেঞ্জানিকের মতো বিধ্বংসী অস্ত্রের মাধ্যমে সর্বাত্মক যুদ্ধ করা নিষিদ্ধ যখন তা ছাড়া পরিস্থিতি সংশোধন করা সম্ভব হয়। এর বিপরীতে যখন কাফিররা অন্য কোনো শহরে দুর্গ তৈরি করে অবস্থান করে, তখন সকল অবস্থায় সবকিছুর মাধ্যমে তাদের সাথে যুদ্ধ করা জায়েয। কাফফাল আল-মারওয়াযীর 'শারহুত তালখীস' গ্রন্থে এসেছে যে, মক্কায় যুদ্ধ করা জায়েয নয়, এমনকি যদি একদল কাফির সেখানে দুর্গ তৈরি করে অবস্থান নেয় তবে তাদের সাথে যুদ্ধ করা আমাদের জন্য জায়েয হবে না। ইমাম নববী বলেন: এটি একটি স্পষ্ট ভুল। (কাটা যাবে না) অর্থাৎ কুঠারের মতো কোনো যন্ত্র দিয়ে কাটা যাবে না। (এর কাঁটা) ইমাম নববী বলেন, এতে কষ্টদায়ক কাঁটা কাটার নিষিদ্ধতার প্রমাণ রয়েছে এবং ইমাম মুতাওয়াল্লী এই মতটিই গ্রহণ করেছেন। আমাদের শাফেঈ মাযহাবের অধিকাংশ আলেম বলেছেন, এটি হারাম নয় কারণ এটি কষ্টদায়ক, তাই এটি পাঁচটি অনিষ্টকারী প্রাণীর সদৃশ; তারা কিয়াসের মাধ্যমে হাদীসটিকে সুনির্দিষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, সঠিক মত হলো সেটি যা ইমাম মুতাওয়াল্লী পছন্দ করেছেন। (এর শিকারকে তাড়ানো যাবে না) অর্থাৎ তাকে অস্থির করা যাবে না, সুতরাং একে নষ্ট বা হত্যা করা তো আরও বড় অপরাধ। (এর পড়ে থাকা বস্তু) প্রসিদ্ধ ভাষা অনুযায়ী ক্বাফ বর্ণে ফাতহা যোগে, তবে সাকিন দিয়ে পড়াও জায়েয, এটি কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুর নাম। (কাটা যাবে না) অর্থাৎ নেওয়া যাবে না এবং কাটা যাবে না। (এর কাঁচা ঘাস) খু বর্ণে ফাতহা যোগে, এর অর্থ কাঁচা সবুজ ঘাস। (ইযখির ব্যতীত) নসব যোগে, তবে বদল হিসেবে রফা দিয়ে পড়াও জায়েয; এটি হামযাহতে কাসরা, যাল বর্ণে সুকুন এবং খা বর্ণে কাসরা যোগে এক প্রকার সুগন্ধি উদ্ভিদ। (তাদের কর্মকারদের জন্য) ক্বাফ বর্ণে ফাতহা এবং ইয়া বর্ণে সুকুন ও এরপর নুন যোগে, এর অর্থ কর্মকার ও স্বর্ণকার। অর্থাৎ আগুন জ্বালানোর জন্য কর্মকারদের এটির প্রয়োজন হয়। (এবং তাদের ঘরবাড়ির জন্য) অর্থাৎ তারা ঘরের ছাদে এটি ব্যবহারের প্রয়োজন বোধ করে, যা কাঠের ওপর এবং মধ্যখানে রাখা হয়। সহীহ বুখারীর এক বর্ণনায় রয়েছে: "আমাদের ঘরের জন্য এবং আমাদের কবরের জন্য", অর্থাৎ কবরের ইটের ফাঁকসমূহ বন্ধ করার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। (অতঃপর তিনি বললেন: ইযখির ব্যতীত) এটি এই অর্থে গ্রহণ করা হবে যে, সেই মুহূর্তেই ইযখিরকে বাদ দেওয়ার এবং সাধারণ বিধান থেকে একে বিশেষিত করার জন্য ওহী নাজিল হয়েছিল। অথবা এর আগেই ওহী নাজিল হয়েছিল যে, যদি কেউ কোনো কিছু বাদ দেওয়ার আবেদন করে তবে তা বাদ দিও। অথবা তিনি সামগ্রিক বিষয়ে ইজতিহাদ করেছিলেন। ইমাম নববী এটি উল্লেখ করেছেন। (জামে তিরমিযীতে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে) এবং সুনানে নাসাঈ ও দারাকুতনীতে এমন সনদে বর্ণিত হয়েছে যা সম্পর্কে আল-বাকরী বলেছেন যে এটি শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর শর্তানুযায়ী। (আব্দুল্লাহ বিন আদি থেকে) তিনি কুরাইশী যুহরী গোত্রভুক্ত, আবার বলা হয়েছে যে তিনি সাকীফ গোত্রের এবং কুরাইশদের মিত্র ছিলেন। তাঁর কুনিয়াত ছিল আবু আমর, মতান্তরে আবু উমর। তিনি সাহাবী ছিলেন এবং তাঁর থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি হিজাযবাসীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং কাদীদ ও উসফানের মধ্যবর্তী স্থানে বসবাস করতেন। ইমাম তাবারী তাঁকে বনু যুহরার সেই ব্যক্তিদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন; এটি এই ভিত্তির ওপর যে তিনি স্বয়ং সেই গোত্রভুক্ত ছিলেন। অন্যেরা উল্লেখ করেছেন যে, আখনাশ বিন শারীকের পিতা শারীক একজন দাস ক্রয় করেছিলেন এবং তাকে মুক্তি দিয়ে নিজের কন্যার সাথে বিবাহ দিয়েছিলেন; অতঃপর তাঁর গর্ভে আদি বিন আল-হামরার দুই পুত্র আব্দুল্লাহ ও আমর জন্মগ্রহণ করেন। অথবা তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ বিন আদি নামক অন্য একজন ছিলেন যার থেকে আব্দুল্লাহ বিন আল-খাইয়ার বর্ণনা করেছেন। (ইবনুল হামরা) হা বর্ণ, রা বর্ণ এবং মদ্ সহকারে। (হাযওয়ারাহ নামক স্থানে) হা বর্ণে ফাতহা, যা এবং ওয়াও বর্ণে তাশদীদ ও রা বর্ণ সহকারে; মুহাদ্দিসগণ এভাবেই উচ্চারণ করেন। আবার যা বর্ণে সুকুন এবং ওয়াও বর্ণে তাশদীদ ছাড়া 'কাসওয়ারা' শব্দের ওজনেও পড়া হয়; ইবনে সিরাজ উভয়ভাবেই এটি নির্ধারণ করেছেন। ইমাম দারাকুতনী দাবি করেছেন যে প্রথমটি ভুল পাঠ এবং বিতর্কিত স্থান।
(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ২০)
أرض الله الى ولولا اني أخرجت منك ما خرجت صححه الترمذي.

وعن أبي شريح العدوى انه قال لعمرو بن سعيد وهو يبعث البعوث الى مكة أذن لى أيها الامير أحدثك حديثا قام به رسول الله صلى الله عليه وسلم الغد من يوم الفتح فسمعته اذناى ووعاه قلبى وأبصرته عيناي حين تكلم به انه حمد الله واثنى عليه ثم قال ان مكة حرمها الله ولم يحرمها الناس فلا يحل لامرء يؤمن بالله واليوم الآخر ان يسفك بها دما ولا يعضد بها شجرة فان أحد ترخص لقتال رسول الله صلى الله عليه وسلم فقولوا له ان الله أذن لرسوله ولم يأذن لكم وانما اذن لى ساعة من نهار وقد عادت حرمتها اليوم كحرمتها بالامس وليبلغ الشاهد الغائب.

وفي مسند أبى داود الطيالسى من رواية عبد الله بن الزبير ورفعه ان الصلاة في المسجد بأسفل مكة عند منارة المسجد الذي على جياد وكان عندها سوق الخياطين وما في الطبراني انها شرقى مكة تصحيف (وعن أبي شريح) أخرجه عنه مالك والشيخان والترمذي والنسائى وهو باعجام الشين واهمال الحاء مصغر (العدوي) قال النووي ويقال له الكعبي والخزاعى واسمه خويلد بن عمرو أو عمرو بن خويلد أو عبد الرحمن أو هانئ بن عمرو أقوال أسلم قبل فتح مكة وتوفي بالمدينة سنة ثمان وستين (لعمرو بن سعيد) ابن الاسد بن العاص الاموي يكني أبا أمية قال في التوشيح ليس صحابيا ولا من التابعين باحسان قال الذهبي خرج على عبد الملك ثم خدعه وأمنه فقتله صبرا سنة سبعين (وهو يبعث البعوث) أى يرسل الجيوش (الى مكة) لقتال عبد الله بن الزبير لامتناعه عن متابعة يزيد بن معاوية واعتصامه بالحرم وكان عمرو والى يزيد على المدينة (أحدثك) مجزوم بالجزاء (الغد) بالنصب (فسمعته أذناى ووعاه قلبي وأبصرته عيناي) قال ذلك مبالغة في تحقيق حفظه اياه وتيقنه زمانه ومكانه ولفظه (حرمها الله ولم يحرمها الناس) أى ان تحريمها كان يوحى من الله تعالى لا انها اصطلح الناس على تحريمها (يسفك بها دما) بكسر الفاء على المشهور وحكى ضمها أى يسل (وانما أذن لي ساعة من نهار) كانت تلك الساعة من طلوع الفجر الى العصر وفيه حجة لمن يقول ان مكة فتحت عنوة وهو مذهب أبي حنيفة والاكثرين وقال الشافعي وجماعة فتحت صلحا وتأولوا الحديث على ان القتال كان جائزا له صلى الله عليه وسلم في مكة ولو احتاج اليه لفعله ولكن لم يحتج اليه (وليبلغ الشاهد الغائب) فيه وجوب نقل العلم وإشاعة الدين والسنن والاحكام وتتمة الحديث فقيل لابي شريح ما قال لك عمرو قال أنا أعلم بذلك منك يا أبا شريح ان الحرم لا يعيذ عاصيا أى لا يعصمه ولا فارا بخربة بفتح المعجمة وسكون الراء على المشهور ويقال بضم المعجمة قالوا وأصلها سرقة الابل ثم أطلقت على كل جناية وفي صحيح البخاري انها البلية وقال الخليل انها الفساد في الدين (أبي داود) اسمه سليمان بن داود بن الجارود توفي سنة أربع وعشرين ومائتين (الطيالسى) بفتح المهملة والتحتية المخففة وكسر اللام (من رواية عبد الله بن الزبير) أخرجه عنه أيضا أحمد وابن حبان وأخرجه أحمد وابن ماجه من حديث
আল্লাহর ভূমি... আর যদি আমাকে তোমার থেকে বের করে দেওয়া না হতো, তবে আমি বের হতাম না। তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন।

আবু শুরাইহ আল-আদাবী থেকে বর্ণিত যে, তিনি আমর বিন সাঈদকে বললেন যখন সে মক্কার দিকে সৈন্যবাহিনী পাঠাচ্ছিল: হে আমির, আমাকে অনুমতি দিন, আমি আপনাকে এমন একটি হাদীস শোনাব যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের পরের দিন বলেছিলেন। আমার দুই কান তা শুনেছে, আমার অন্তর তা ধারণ করেছে এবং আমার দুই চোখ তাঁকে দেখেছিল যখন তিনি কথা বলছিলেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন, অতঃপর বললেন: নিশ্চয়ই মক্কাকে আল্লাহ পবিত্র (হারাম) করেছেন, মানুষ একে পবিত্র করেনি। তাই আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাসী কোনো ব্যক্তির জন্য সেখানে রক্তপাত করা অথবা সেখানকার কোনো গাছ কাটা বৈধ নয়। যদি কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুদ্ধের অজুহাতে সেখানে যুদ্ধের অনুমতি খুঁজতে চায়, তবে তাকে বলে দিও যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলকে অনুমতি দিয়েছিলেন কিন্তু তোমাদের অনুমতি দেননি। আর আমাকে কেবল দিনের একটি মুহূর্তের জন্যই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আজ পুনরায় এর পবিত্রতা তেমনিভাবে ফিরে এসেছে যেমনটি গতকাল ছিল। আর উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে এ সংবাদ পৌঁছে দেয়।

মুসনাদে আবু দাউদ আত-তায়ালিসীতে আবদুল্লাহ ইবনুল যুবায়ের এর বর্ণনায় মারফু সূত্রে বর্ণিত আছে যে, মক্কার নিম্নভাগে মিনারার নিকটবর্তী মসজিদে নামায পড়া, যা জিয়াদে অবস্থিত এবং তার কাছে দর্জিদের বাজার ছিল। তাবারানীতে যা এসেছে যে এটি মক্কার পূর্ব দিকে, তা মূলত পাণ্ডুলিপির লিখন বিভ্রাট (তাসহিফ)। (আবু শুরাইহ থেকে) ইমাম মালিক, শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম), তিরমিযী এবং নাসাঈ তাঁর থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাঁর নামের ‘শুরাইহ’ শব্দটি শীন বর্ণে নুকতাযুক্ত এবং হা বর্ণে নুকতাহীন অবস্থায় তাসগীর (ক্ষুদ্রত্ববাচক) হিসেবে উচ্চারিত। (আল-আদাবী) ইমাম নববী বলেন, তাঁকে আল-কা’বী এবং আল-খুযা’ঈও বলা হয়। তাঁর নাম খুয়াইলিদ বিন আমর, অথবা আমর বিন খুয়াইলিদ, অথবা আবদুর রহমান, অথবা হানি বিন আমর - এ নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। তিনি মক্কা বিজয়ের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং ৬৮ হিজরীতে মদীনায় মৃত্যুবরণ করেন। (আমর বিন সাঈদ) ইবনুল আসাদ বিন আল-আস আল-উমাবী, তাঁর কুনিয়াত আবু উমাইয়া। ‘আত-তাওশীহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, তিনি সাহাবী নন এবং উত্তমভাবে অনুসরণকারী তাবেঈদের অন্তর্ভুক্তও নন। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি আবদুল মালিকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন, অতঃপর তিনি তাকে ধোঁকা দিয়ে নিরাপত্তা প্রদান করেন এবং পরে ৭০ হিজরীতে বন্দী অবস্থায় তাকে হত্যা করেন। (যখন সে সৈন্যবাহিনী পাঠাচ্ছিল) অর্থাৎ বাহিনী প্রেরণ করছিল (মক্কার দিকে) আবদুল্লাহ ইবনুল যুবায়েরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য, কারণ তিনি ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়ার আনুগত্য করতে অস্বীকার করেছিলেন এবং পবিত্র হারমে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আমর সে সময় মদীনার গভর্নর হিসেবে ইয়াজিদের পক্ষে নিযুক্ত ছিলেন। (আমি আপনাকে শোনাব) শব্দটি ব্যাকরণগতভাবে জাযার বা প্রতিদান হিসেবে জাযাম অবস্থায় এসেছে। (পরের দিন) শব্দটি নাসব অবস্থায়। (আমার দুই কান তা শুনেছে, আমার অন্তর তা ধারণ করেছে এবং আমার দুই চোখ তাঁকে দেখেছিল) তিনি এ কথাগুলো বলেছিলেন হাদীসটি তাঁর যথাযথ মুখস্থ থাকা এবং এর সময়, স্থান ও শব্দসমূহ সম্পর্কে সুনিশ্চিত হওয়ার ব্যাপারে জোরালো গুরুত্ব দেওয়ার জন্য। (আল্লাহ একে পবিত্র করেছেন, মানুষ একে পবিত্র করেনি) অর্থাৎ এর পবিত্রতা ও নিষিদ্ধতা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওহী স্বরূপ ছিল, মানুষ নিজেরা একমত হয়ে একে পবিত্র করেনি। (সেখানে রক্তপাত করা) শব্দটি ফা বর্ণের নিচে কাসরা দিয়ে পড়া প্রসিদ্ধ, তবে পেশ বা যম্মাহ দিয়ে পড়ার বর্ণনাও আছে। অর্থাৎ রক্ত প্রবাহিত করা। (আমাকে কেবল দিনের একটি মুহূর্তের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছিল) সেই সময়টুকু ছিল ফজর থেকে আসর পর্যন্ত। যারা বলেন মক্কা যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়েছিল, তাদের জন্য এতে দলিল রয়েছে; আর এটিই ইমাম আবু হানীফা এবং অধিকাংশ ফকীহদের মাযহাব। ইমাম শাফিঈ এবং একদল আলিম বলেছেন মক্কা সন্ধির মাধ্যমে বিজিত হয়েছিল, এবং তাঁরা এই হাদীসের ব্যাখ্যা করেছেন যে, যুদ্ধ করা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য মক্কায় বৈধ ছিল এবং যদি তাঁর প্রয়োজন হতো তবে তিনি তা করতেন, কিন্তু কার্যত তাঁর যুদ্ধ করার প্রয়োজন হয়নি। (উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়) এতে ইলম বর্ণনা করা এবং দ্বীন, সুন্নাহ ও আহকাম প্রচার করার আবশ্যকতা প্রমাণিত হয়। হাদীসের অবশিষ্টাংশ হলো: আবু শুরাইহকে জিজ্ঞেস করা হলো, আমর আপনাকে কী উত্তর দিয়েছিল? তিনি বললেন, আমর বলেছিল: হে আবু শুরাইহ, আমি এ বিষয়ে আপনার চেয়ে বেশি অবগত; নিশ্চয়ই হারম কোনো অপরাধীকে আশ্রয় দেয় না এবং অপরাধ করে পলায়নকারীকেও আশ্রয় দেয় না। প্রসিদ্ধ মতানুসারে খা বর্ণের উপর ফাতহা এবং রা বর্ণের উপর সাকিন দিয়ে শব্দটি উচ্চারিত। কেউ কেউ খা বর্ণের উপর যম্মাহ দিয়েও পড়েছেন। তাঁরা বলেন, এর মূল অর্থ ছিল উট চুরি, পরে তা সকল অপরাধের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে থাকে। সহীহ বুখারীতে আছে যে এর অর্থ হলো মুসিবত। আর খলীল বলেন এর অর্থ হলো দ্বীনের মধ্যে বিশৃঙ্খলা। (আবু দাউদ) তাঁর নাম সুলাইমান বিন দাউদ বিন আল-জারুদ, তিনি ২২৪ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। (আত-তায়ালিসী) ত-এর উপর ফাতহা, ইয়া-এর উপর হালকা ফাতহা এবং লামের নিচে কাসরা দিয়ে উচ্চারিত। (আবদুল্লাহ ইবনুল যুবায়ের এর বর্ণনা থেকে) ইমাম আহমাদ এবং ইবনে হিব্বানও তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম আহমাদ ও ইবনে মাজাহ এটি অপর এক হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ২১)
الحرام تفضل على الصلاة في غيره بمائة الف صلاة وقد حسب ذلك فبلغت صلاة واحدة فى المسجد الحرام عمر خمس وخمسين سنة وستة أشهر وعشرين ليلة ولا تسقط هذه التضاعيف شيأ من الفوائت كما يتخيله كثير من الجهال نبه عليه الامام النووى رحمه الله قال بعض المفسرين في قوله تعالى فِيهِ آياتٌ بَيِّناتٌ مَقامُ إِبْراهِيمَ وَمَنْ دَخَلَهُ كانَ آمِناً أى من النار وقيل من الطلب وكان في الجاهلية من أحدث حدثا ولجأ اليه امن ويمشى القاتل على قاتله فيه من غير خفاره والسباع تطلب الصيد فاذا دخل الحرم كفت عنه وهذا كقوله تعالى وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثابَةً لِلنَّاسِ وَأَمْناً وذلك بدعاء ابراهيم عليه الصلاة والسلام حيث قال رَبِّ اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ آمِناً* ولها في القرآن ثمانية اسماء مكة وبكة وأم القرى والقرية والبلد والبلد الامين والبلدة ومعاد ومن أسمائها في غير القرآن الرأس والقادسية والمسجد الحرام جابر وأخرجه البيهقي من حديث ابن عمر وأخرجه الطبرانى من حديث أبى الدرداء وأخرجه أبو نعيم في الحلية من حديث أنس ورفعه أى الى النبى صلى الله عليه وسلم (عمر خمس وخمسين سنة وستة أشهر وعشرين ليلة) أى باعتبار السنة عددية وهي ثلاثمائة وستون يوما أما باعتبارها هلالية وهي ثلاثمائة وأربعة وخمسون يوما فبلغ عمره ستا وخمسين سنة وستة أشهر وقد يزيد يوما فيبلغ صلاة اليوم والليله عمر مائتين واثنين وثمانين سنة وستة أشهر فيبلغ صلاة ثلاثة أيام ولياليهن عمر سبعة وأربعين وثمانمائة سنة وستة أشهر وذلك من جملة المنافع المذكورة في قوله تعالى لِيَشْهَدُوا مَنافِعَ لَهُمْ وعن بعضهم ان صلاة واحدة جماعة بالمسجد الحرام تفضل ثواب ما صلى ببلده فرادى عمر نوح بنحو الضعف قال فان انضم الى ذلك أنواع اخر من الكمالات عجز الحساب عن حصر ثوابه (ولا تسقط هذه التضاعيف شيئا من الفوائت) أى لانه محض تضعيف وهو محض فضل فلا يسقط به التكليف (ويمشي القاتل على قاتله) أي مستحق قتله (خفارة) مثلث الخاء المعجمة وبالفاء والراء أى خفير وهو الصاحب (مكة) قال تعالى وَهُوَ الَّذِي كَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ عَنْهُمْ بِبَطْنِ مَكَّةَ سميت بذلك لانها تمك أعناق الفراعنة والجبابرة فلم يقصدها جبار بسوء الا هلك أو لانها تمك الذنوب أي تنقصها أو تفنيها (وبكة) قال الله تعالى إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ سميت بذلك لان الناس يتباكون بتشديد الكاف فيها أي يزدحمون وقيل ان هذا اسم لما بين جبليها وقيل للمطاف فقط (وأم القرى) سميت بذلك لانها أصل الارض اذ هي أوّل ما خلق منها وأم كل شيء أصله قال الله تعالى وَلِتُنْذِرَ أُمَّ الْقُرى (والقرية) قال الله تعالى الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنا أَخْرِجْنا مِنْ هذِهِ الْقَرْيَةِ سميت قرية لاجتماع الناس بها والقرى لغة الضم والجمع ومنه المقراة للحوض (والبلد) قال تعالى لا أُقْسِمُ بِهذَا الْبَلَدِ (والبلد الامين) قال تعالى وَهذَا الْبَلَدِ الْأَمِينِ (والبلدة) قال الله تعالى إِنَّما أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ رَبَّ هذِهِ الْبَلْدَةِ (ومعاد) قال الله تعالى إِنَّ الَّذِي فَرَضَ عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لَرادُّكَ إِلى مَعادٍ قال بعض المفسرين يعني مكة (الرأس) سميت بذلك لفضيلتها (والقادسية) بالقاف والدال والسين المهملتين وتشديد التحتية واشتقاقها من القدس وهو الطهارة

মসজিদুল হারামে সালাত আদায় করা অন্য স্থানের তুলনায় এক লক্ষ গুণ বেশি ফজিলতপূর্ণ। এটি হিসাব করা হয়েছে এবং দেখা গেছে যে, মসজিদুল হারামে এক ওয়াক্ত সালাত আদায়ের সওয়াব পঞ্চান্ন বছর ছয় মাস বিশ রাতের ইবাদতের সমান। সওয়াবের এই আধিক্য কোনো কাজা (ছুটে যাওয়া) সালাতকে মওকুফ করে দেয় না, যেমনটি অনেক মূর্খ লোক ধারণা করে থাকে। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। কিছু মুফাসসির মহান আল্লাহর এই বাণী—"তাতে রয়েছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ, মাকামে ইবরাহিম; আর যে সেখানে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ হবে"—এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, অর্থাৎ সে জাহান্নামের আগুন থেকে নিরাপদ হবে। কেউ কেউ বলেছেন, অর্থাৎ শত্রুর পিছুটান থেকে নিরাপদ থাকবে। জাহেলি যুগে কেউ কোনো অপরাধ করে সেখানে আশ্রয় নিলে সে নিরাপদ হয়ে যেত। এমনকি সেখানে হত্যাকারী তার জীবন হন্তারকের সামনে দিয়ে কোনো প্রহরা ছাড়াই চলাফেরা করত। বন্য প্রাণীরাও সেখানে শিকার তাড়া করত, কিন্তু হারামে প্রবেশ করলে তারা তা থেকে বিরত থাকত। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুরূপ—"আর স্মরণ করো, যখন আমি এই ঘরকে মানুষের প্রত্যাবর্তনের স্থান ও নিরাপদস্থল বানিয়েছিলাম।" এটি ইবরাহিম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর দোয়ার ফসল ছিল, যখন তিনি বলেছিলেন—"হে আমার প্রতিপালক! এই শহরকে নিরাপদ করুন।"

কুরআন মজিদে মক্কার আটটি নাম রয়েছে: মক্কা, বাক্কা, উম্মুল কুরা, আল-কারইয়াহ, আল-বালাদ, আল-বালাদ আল-আমিন, আল-বালদাহ এবং মা’আদ। কুরআন ছাড়া অন্যান্য কিতাবে এর কিছু নাম হলো: আর-রাস, আল-কাদিসিয়াহ এবং আল-মসজিদ আল-হারাম। জাবির (রা.) এটি বর্ণনা করেছেন এবং বায়হাকি ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিস থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন। তাবারানি আবু দারদা (রা.)-এর হাদিস থেকে এবং আবু নুআইম ‘হিলইয়া’ গ্রন্থে আনাস (রা.)-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত উন্নীত করেছেন।

(পঞ্চান্ন বছর ছয় মাস বিশ রাতের সমান) অর্থাৎ সংখ্যাতাত্ত্বিক বছরের হিসেবে, যা তিনশত ষাট দিনে হয়ে থাকে। আর চান্দ্র বছরের হিসেবে, যা তিনশত চুয়ান্ন দিনে হয়ে থাকে, তা ছাপ্পান্ন বছর ছয় মাস পর্যন্ত পৌঁছায়। কখনও একদিন বেশি হওয়ার ফলে একদিন ও এক রাতের সালাতের সওয়াব দুইশত বিরাশি বছর ছয় মাসের সমান হয়। ফলে তিন দিন ও তিন রাতের সালাতের সওয়াব আটশত সাতচল্লিশ বছর ছয় মাসের সমান হয়। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে উল্লিখিত কল্যাণেরই অংশ—"যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে।" কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ থেকে বর্ণিত আছে যে, মসজিদুল হারামে জামাতের সাথে এক ওয়াক্ত সালাত আদায় করা নিজ শহরে একাকী সালাত আদায়ের চেয়ে নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর আয়ুর প্রায় দ্বিগুণ সওয়াবের সমান। তিনি বলেন, যদি এর সাথে অন্যান্য পূর্ণতা যুক্ত হয়, তবে হিসাববিদগণ এর সওয়াব গণনা করতে অক্ষম হয়ে পড়বেন।

(এই বর্ধিত সওয়াব কোনো কাজা সালাতকে মওকুফ করে না) কারণ এটি নিছক সওয়াবের গুণিতক এবং নিছক আল্লাহর অনুগ্রহ, এর দ্বারা শরিয়তের দায়বদ্ধতা (জিম্মাদারি) শেষ হয়ে যায় না। (হত্যাকারী তার হন্তারকের সামনে দিয়ে চলাফেরা করে) অর্থাৎ যে ব্যক্তি তাকে হত্যার অধিকার রাখে তার সামনে দিয়েও সে নির্ভয়ে চলে। (খিফারা) শব্দটি 'খা' বর্ণে তিন হরকতের সাথেই পড়া যায়, যার অর্থ হলো সঙ্গী বা প্রহরী।

(মক্কা) মহান আল্লাহ বলেন: "তিনিই সেই সত্তা যিনি মক্কা উপত্যকায় তাদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত তাদের থেকে নিবৃত্ত রেখেছেন।" একে মক্কা বলা হয় কারণ এটি স্বৈরাচারী ও জাব্বারদের ঘাড় মটকিয়ে দেয়; কোনো স্বৈরাচারী মন্দ উদ্দেশ্য নিয়ে এর সংকল্প করলে সে ধ্বংস হয়ে যায়। অথবা একারণে যে, এটি গুনাহসমূহকে চুষে নেয় অর্থাৎ কমিয়ে দেয় বা নিশ্চিহ্ন করে দেয়। (বাক্কা) আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি নির্মিত হয়েছে, তা হলো সেটি যা বাক্কায় অবস্থিত।" একে বাক্কা বলা হয় কারণ মানুষ সেখানে ভিড় করে (ইয়াতাবাক্কুন)। কেউ কেউ বলেছেন, এটি দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানের নাম, আবার কেউ বলেছেন এটি কেবল তাওয়াফের জায়গার (মাতাফ) নাম।

(উম্মুল কুরা) একে এই নামে ডাকা হয় কারণ এটি পৃথিবীর মূল কেন্দ্র, কেননা পৃথিবী সৃষ্টির সময় এটিই প্রথম সৃষ্টি হয়েছিল। আর কোনো জিনিসের 'উম্ম' মানে হলো তার মূল। আল্লাহ তাআলা বলেন: "যাতে আপনি উম্মুল কুরা (মক্কাবাসী)-কে সতর্ক করতে পারেন।" (আল-কারইয়াহ) আল্লাহ তাআলা বলেন: "যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এই জনপদ থেকে বের করে নিন।" মানুষের সমাবেশের কারণে একে 'কারইয়াহ' (জনপদ) বলা হয়। আভিধানিক অর্থে 'আল-কুররা' মানে হলো একত্রিত করা ও জমা করা, যেখান থেকে হাউজের জন্য 'মিকরাআ' শব্দটি এসেছে। (আল-বালাদ) আল্লাহ বলেন: "আমি এই শহরের শপথ করছি।" (আল-বালাদ আল-আমিন) আল্লাহ বলেন: "এবং এই নিরাপদ শহরের শপথ।" (আল-বালদাহ) আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমি তো কেবল এই শহরের প্রতিপালকের ইবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি।" (মা’আদ) আল্লাহ তাআলা বলেন: "যিনি আপনার ওপর কুরআনকে অপরিহার্য করেছেন, তিনি আপনাকে অবশ্যই প্রত্যাবর্তনস্থলে ফিরিয়ে আনবেন।" কিছু মুফাসসির বলেন, এখানে মা’আদ বলতে মক্কাকে বোঝানো হয়েছে। (আর-রাস) এর শ্রেষ্ঠত্বের কারণে একে এই নামে ডাকা হয়। (আল-কাদিসিয়াহ) এটি কাফ, দাল ও সিন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত, যার বুৎপত্তি হয়েছে ‘কুদুস’ থেকে, যার অর্থ পবিত্রতা।

(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ২২)
والمكتان وأم روح وأم رحم وام الرحمة وام كوثى (قال المؤلف) ومن الآيات البينات فيه الحجر الاسود والحطيم وآثار قدمى ابراهيم وانبثاق ماء زمزم بعقب جبريل غياثا لهاجر واسمعيل غنية عن الطعام والشراب ودوى للغليل ثم ان بها جماع المشاعر ومولد المصطفى ومنها بدأ الدين (والمكتان) تثنية مكة (وأم روح) بفتح الراء وآخره حاء مهملة والروح لغة الراحة سميت بذلك لانها يستراح فيها من الذنوب (وأم رحم) بضم الراء واسكان الحاء المهملة سميت بذلك لتراحم الناس بها وروى أم زحم بالزاي وسميت بذلك لتزاحمهم بها (وأم كوثى) بضم الكاف واسكان الواو وفتح الثاء المثلثة محل بها سميت به قيل لبني عبد الدار وقيل بناحية قعيقعان وقيل بمني (تتمة) من أسمائها أيضا صلاح بكسر المهملة والبناء على الكسر كقطام وحذام ويجوز صرفه كما في القاموس وغيره ومنها الباسة بموحدة ومهملة والناسة بنون ومهملة والعرش بضم المهملة والراء ثم معجمة والمقدسة والحاطمة والبنية بفتح الموحدة وكسر النون ونادرة بالنون والمهملة والهاء بوزن فاعلة ونادر بلاهاء والمأموم قال النووي لا نعلم أبدا أكثر من أسماء مكة والمدينة لكونهما أفضل الارض وذلك لكثرة الصفات المقتضية للتسمية وكثرة الاسماء تدل على شرف المسمى ولهذا كثرت أسماء الله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم حتى قيل ان لله تعالى الف اسم ولرسوله كذلك انتهى وقال شيخنا ابن حجر الهيتمي أوصل بعض المتأخرين أسماء المدينة الى قريب من الف وكذلك مكة (الحجر الاسود) أخرج أحمد وسمويه من حديث أنس والنسائى من حديث ابن عباس الحجر الاسود من الجنة وأخرج أحمد وابن عدي والبيهقى في الشعب من حديث ابن عباس الحجر الاسود من الجنة كان أشد بياضا من الثلج حتى سودته خطايا أهل الشرك وللطبراني من حديثه أيضا ولولا ما مسه من رجس الجاهلية ما مسه ذو عاهة الابرأ وأخرج ابن خزيمة من حديثه أيضا الحجر الاسود ياقوتة بيضاء من ياقوت الجنة وانما سودته خطايا المشركين ومن فضائله ما أخرجه ابن خزيمة من حديث ابن عباس انه يبعث يوم القيامة مثل أحد يشهد لمن استلمه وقبله من أهل الدنيا ومنها ما أخرجه الخطيب وابن عساكر من حديث جابر الحجر يمين الله في الارض يصافح بها عباده زاد الديلمي في مسند الفردوس من حديث أنس فمن مسحه فقد بايع الله وما أخرجه الازرقي من حديث أبي بن كعب الحجر الاسود نزل به ملك من السماء والملك هذا هو جبريل وقيل غيره (والحطيم) هو ما بين زمزم والمقام قال بعض المفسرين ان فيه قبر سبعين نبيا وقيل الحطيم جدار حجر البيت قال النضر يسمى حطيما لان البيت رفع وترك ذاك محطوما (وآثار قدمي ابراهيم) قال البغوي قد اندرست من كثرة المسح بالايدي (وانبثاق) أي انفجار وهو بنون ثم باء موحدة ثم ثاء مثلثة (ماء زمزم) سميت بذلك لان أم اسماعيل لما أمسكت على الماء حال خروجه قالت زم زم كذا قاله بعض المفسرين (غياثا) مصدر وهو بكسر الغين المعجمة (لهاجر) بالهاء ويبدل همزة ممدودة والجيم مفتوحة فيهما (واسمعيل) قيل سمي بذلك لان ابراهيم كان يدعو أن يرزقه الله ولدا ويقول اسمع ايل وايل هو الله عز وجل على ما سيأتي فيه فلما ولد سماه اسماعيل (غنية) مصدر وهو بضم الغين المعجمة (جماع المشاعر) بالنصب ويجوز رفعه على ارادة الشان وكذا قوله (ومولد المصطفى) والمصطفى المختار (بدأ الدين) بالهمز كما

এবং মক্কাতান, উম্মু রুহ, উম্মু রহম, উম্মুর রহমাহ এবং উম্মু কুসা। (গ্রন্থকার বলেন) এতে অবস্থিত সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে হাজরে আসওয়াদ, হাতীম, ইব্রাহীমের দুই পায়ের চিহ্ন এবং জিবরাঈলের পদাঘাতে যমযম কূপের পানির প্রবাহ—যা হাজেরা ও ইসমাইলের জন্য সাহায্যস্বরূপ, যা খাদ্য ও পানীয়ের অভাব পূরণকারী এবং পিপাসার্তের জন্য পরিতৃপ্তিদায়ক ছিল। অতঃপর এতে সকল ইবাদতের স্থানসমূহের (মাশায়ির) সমাবেশ ঘটেছে, এটি মুস্তফার জন্মস্থান এবং এখান থেকেই দ্বীনের সূচনা হয়েছে। (মক্কাতান) হলো মক্কার দ্বিবচন। (উম্মু রুহ) র-এ জবর এবং শেষে হ-সহ। রুহ শব্দটির শাব্দিক অর্থ প্রশান্তি; এর এই নামকরণের কারণ হলো সেখানে গুনাহ থেকে প্রশান্তি লাভ করা যায়। (উম্মু রহম) র-এ পেশ এবং হ-এ সাকিনসহ; এর এই নামকরণের কারণ হলো সেখানে মানুষের পারস্পরিক দয়া। আবার উম্মু যাহম-ও (যা-সহ) বর্ণিত হয়েছে এবং মানুষের ভিড়ের কারণে এর এই নামকরণ করা হয়েছে। (উম্মু কুসা) কাফ-এ পেশ, ওয়াও-এ সাকিন এবং তিন নুকতাওয়ালা সা-এ জবরসহ; এটি সেখানকার একটি স্থানের নাম যার নামে এর নামকরণ হয়েছে। কেউ বলেন এটি বনু আবদুদ্দার-এর জন্য, কেউ বলেন এটি কুআইকিআন অঞ্চলে, আবার কেউ বলেন এটি মিনায় অবস্থিত। (পরিশিষ্ট) মক্কার অন্যান্য নামের মধ্যে রয়েছে ‘সালাহি’ (সাদ-এর নিচে যেরসহ) যা ‘কাতামি’ ও ‘হাযামি’-এর মতো যেরের ওপর ভিত্তি করে গঠিত, তবে কামুস ও অন্যান্য কিতাব অনুযায়ী এর রূপান্তর হওয়াও জায়েয। আরও কিছু নাম হলো আল-বাসসাহ, আন-নাসসাহ, আল-আরশ (আইন-এ পেশ ও র-সহ, এরপর শীন), আল-মুকাদ্দাসাহ, আল-হাতিমাহ, আল-বুনিয়্যাহ (বা-এ জবর ও নুন-এ যেরসহ), নাদিরাহ (নুন ও ‘হা’ সহ ফা-ইলাহ এর ওজনে), নাদির (হা ব্যতীত) এবং আল-মামুম। ইমাম নববী বলেন, মক্কা ও মদীনার চেয়ে অধিক নামসম্পন্ন আর কোনো স্থান আমাদের জানা নেই, কারণ এই দুটি ভূখণ্ড পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম স্থান। নামকরণের কারণ স্বরূপ অসংখ্য গুণাবলি থাকার কারণেই এর নামের আধিক্য ঘটেছে। আর নামের আধিক্য মূলত নামধারীর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নামের সংখ্যা অনেক; এমনকি বলা হয়েছে যে, মহান আল্লাহর এক হাজার নাম রয়েছে এবং তাঁর রাসূলের জন্যও তদ্রূপ। সমাপ্ত। আমাদের শাইখ ইবনে হাজার হাইতামী বলেন, পরবর্তী যুগের কোনো কোনো আলিম মদীনার নামসমূহকে প্রায় এক হাজারের কাছাকাছি পৌঁছিয়েছেন এবং মক্কার ক্ষেত্রেও তাই। (হাজরে আসওয়াদ) ইমাম আহমাদ ও সামুওয়াইহ আনাস-এর সূত্রে এবং নাসায়ী ইবনে আব্বাস-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে আগত। ইমাম আহমাদ, ইবনে আদী এবং বায়হাকী ‘শুআবুল ঈমান’-এ ইবনে আব্বাস-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে অবতীর্ণ হয়েছে, এটি বরফের চেয়েও বেশি সাদা ছিল, অতঃপর মুশরিকদের পাপরাশি একে কালো করে দিয়েছে। তাবারানী তাঁর থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, জাহিলিয়্যাতের অপবিত্রতা যদি একে স্পর্শ না করত, তবে কোনো রোগাক্রান্ত ব্যক্তিই এটি স্পর্শ করলে আরোগ্য লাভ না করে থাকত না। ইবনে খুযাইমাহ তাঁর থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, হাজরে আসওয়াদ জান্নাতের ইয়াকুত পাথরসমূহের মধ্যে একটি সাদা ইয়াকুত পাথর; কেবল মুশরিকদের গুনাহসমূহ একে কালো করে দিয়েছে। এর ফযীলতসমূহের মধ্যে রয়েছে ইবনে খুযাইমাহ বর্ণিত ইবনে আব্বাস-এর হাদীস—কিয়ামতের দিন একে উহুদ পাহাড়ের ন্যায় সমুত্থিত করা হবে, এটি দুনিয়াবাসীদের মধ্যে যারা একে ইস্তিলাম (স্পর্শ) করেছে ও চুম্বন করেছে তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। আরও বর্ণিত হয়েছে খতীব ও ইবনে আসাকির কর্তৃক জাবির-এর সূত্রে যে, এই পাথরটি যমীনে আল্লাহর ডান হাত, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দাদের সাথে মুসাফাহা করেন। দায়লামী ‘মুসনাদুল ফিরদাউস’-এ আনাস-এর সূত্রে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, যে ব্যক্তি এটি স্পর্শ করল সে যেন আল্লাহর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করল। আযরাকী উবাই ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হাজরে আসওয়াদ আকাশ থেকে একজন ফেরেশতা নিয়ে অবতরণ করেছেন, আর এই ফেরেশতা হলেন জিবরাঈল, তবে কেউ কেউ অন্য কারো কথা বলেছেন। (আল-হাতীম) এটি যমযম ও মকামে ইব্রাহীমের মধ্যবর্তী স্থান। কোনো কোনো মুফাসসির বলেছেন যে, সেখানে সত্তরজন নবীর কবর রয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেন হাতীম হলো কাবাগৃহের হিযর-এর প্রাচীর। নযর বলেছেন যে, একে হাতীম বলা হয় কারণ কাবাগৃহকে উঁচু করা হয়েছে আর এই অংশটিকে ভেঙে যাওয়া অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। (ইব্রাহীমের দুই পায়ের চিহ্ন) বাগভী বলেন, হাত দিয়ে বারবার স্পর্শ করার ফলে এই চিহ্নগুলো বর্তমানে প্রায় মুছে গেছে। (ইনবিসাক) অর্থাৎ বিদীর্ণ হওয়া বা বেগে বের হওয়া; এটি নুন, এরপর এক নুকতাওয়ালা বা, এরপর তিন নুকতাওয়ালা সা দিয়ে গঠিত। (যমযম পানি) এই নামকরণের কারণ হলো ইসমাইলের মাতা যখন পানি বের হওয়ার সময় তা ধরে রাখতে চাচ্ছিলেন, তখন তিনি বলছিলেন ‘যম যম’। কোনো কোনো মুফাসসির এরূপ বলেছেন। (গিয়াছান) এটি একটি মাসদার বা ক্রিয়ামূল, যা গাইন বর্ণে যেরের সাথে গঠিত। (হাজেরা) হা বর্ণ দিয়ে, কখনও এটিকে দীর্ঘ হামযা দ্বারাও পরিবর্তন করা হয় এবং উভয় ক্ষেত্রে জীম বর্ণে জবর হবে। (ইসমাইল) বলা হয় তাঁর এই নামকরণের কারণ হলো—ইব্রাহীম আল্লাহর নিকট সন্তান লাভের জন্য দুআ করতেন এবং বলতেন ‘ইসমা ঈল’ (হে ইলাহ, শ্রবণ করুন), আর ‘ঈল’ হলো মহান আল্লাহর নাম, যা সামনে বিস্তারিত আসবে। অতঃপর যখন তাঁর সন্তান ভূমিষ্ঠ হলো, তখন তিনি তাঁর নাম রাখলেন ইসমাইল। (গুনিয়াহ) এটি একটি মাসদার যা গাইন বর্ণে পেশ দিয়ে গঠিত। (জিমাউল মাশায়ির) যবর যোগে পাঠ্য, তবে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝাতে পেশ যোগেও পড়া জায়েয। তদ্রূপ তাঁর কথা—(এবং মুস্তফার জন্মস্থান)। মুস্তফা অর্থ মনোনীত। (দ্বীনের সূচনা) এটি হামযা যোগে গঠিত।

(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ২৩)
غريبا بعد ان كان قد عفا وأوّل ما نزل بها القرآن العظيم وعكف في عرصاتها الملائكة والانبياء عليهم الصلاة والتسليم ثم هى قبلة المصلين في جميع الآفاق واليها تنزع القلوب بدعاء الخليل وأمن الخلاق وبها أعظم جوامع الدنيا وفي خمسة عشر موضعا منها يستجاب الدعاء ثم لها من الخصائص التى لا تحصى ولا تعد ولا تستقصى

يا أهل تدريس العلوم جميعها … وذوى عقول قد صفت من ريبة

هل تعلمون محلة معروفة … جمعت كمكة في عداد فضيلة

‌‌[مطلب وأما ما جاء في فضل المدينة]

(وأما ما جاء في فضل المدينة) فروينا في صحيحى البخاري ومسلم من رواية على وأبي هريرة وابى حميد الساعدى وسفيان بن ابى زهير وابي بكرة وأنس بن مالك وابي سعيد الخدرى سيأتي (عفا) بالعين المهملة والفاء أي اندرس وذهب أثره (وأوّل ما نزل بها القرآن العظيم) نزل بها من السور ما عدا البقرة وآل عمران والنساء والمائدة والانفال وبراءة والنور والاحزاب وسورة محمد صلى الله عليه وسلم والفتح والحجرات والحديد وما بعدها الى الملك وهي عشر متوالية والمطففين قيل وهي أول سورة مدنية ولم يكن والنصر والمعوذتان فتلك سبع وعشرون واختلف في الرعد وهل أتى على الانسان والكوثر والراجح انها مكية والله أعلم (الآفاق) جمع أفق بالاسكان وهي الناحية (بدعاء الخليل) يعني قوله فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ الآية ويحكي عن الحسن البصري كما ذكره النووي في الاذكار وغيره انه (وفي خمسة عشر موضعا) بكسر المعجمة (يستجاب الدعاء) وهي في الطواف وعند الملتزم وتحت الميزاب وفي البيت وعند زمزم وعلى الصفا والمروة وفي المسعى وخلف المقام وفي عرفات والمزدلفة وفي منى وعند الجمرات الثلاث (وذوى عقول) جمع عقل سمي به لأنه يعقل صاحبه عن الرذائل ومن أسمائه اللب والنهي والحجر والزبر والحجا (من ريبة) أي شك (عداد) بكسر العين* واماما جاء في فضل المدينة (البخاري) مرت ترجمته. ومسلم هو ابن الحجاح القشيرى ولد سنة ست ومائتين ومات بنيسابور لخمس بقين من رجب سنة احدى وستين ومائتين وهو ابن خمس وخمسين سنة (وأبي حميد) اسمه عبد الرحمن وقيل المنذر بن سعد هو وأبوه صحابيان (وأبي بكرة) اسمه نفيع بنون وفاء ومهملة مصغر بن الحارث بن كلدة وقيل اسمه مشروح كني بذلك لما في الصحيحين انه تدلى من حصن الطائف على بكرة ونزل الى النبي صلى الله عليه وسلم ثالث ثلاثة وعشرين من عبيد أهل الطائف توفي سنة احدى وخمسين (وأبي سعيد الخدري) اسمه سعد بن مالك بن سنان استشهد أبوه مالك بن سنان يوم أحد كما سيأتي وتوفي أبو سعيد سنة أربع وسبعين يوم الجمعة ودفن بالبقيع قال ابن مندة وأبو نعيم وابن عبد البر كان أبو سعيد يحفى شاربه ويصفر لحيته من فضلاء الصحابة المكثرين من الرواية عنه صلى الله عليه وسلم غزا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم اثنتي عشرة غزوة روى عنه جماعة من الصحابة ومن التابعين وخدرة بضم
অপরিচিত হওয়ার পর, যখন এর চিহ্ন মুছে গিয়েছিল। এখানেই সর্বপ্রথম মহান কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আঙিনায় ফেরেশতা ও নবীগণ (তাঁদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) অবস্থান করেছেন। এরপর এটি হলো সকল প্রান্তের সালাত আদায়কারীদের কিবলা এবং খলিল (ইবরাহিম আলাইহিস সালাম)-এর দুআ ও স্রষ্টার নিরাপত্তার কারণে হৃদয়সমূহ এর দিকে ধাবিত হয়। এতে রয়েছে বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম জামে মসজিদসমূহ এবং এর পনেরটি স্থানে দুআ কবুল হয়। এরপর এর এমন সব বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা গণনা করা যায় না এবং যার শেষ নেই।

হে সকল জ্ঞানচর্চাকারী এবং সেই সকল সংশয়মুক্ত নির্মল বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিগণ!… তোমরা কি এমন কোনো পরিচিত জনপদের কথা জানো, যা মর্যাদার বিচারে মক্কার মতো গুণাবলী ধারণ করতে পেরেছে?

‌‌[মদীনার ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার বিবরণ]

(আর মদীনার ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে) আমরা সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আলী, আবু হুরায়রা, আবু হুমাইদ আস-সাঈদী, সুফিয়ান ইবনে আবু যুহাইর, আবু বাকরা, আনাস ইবনে মালিক এবং আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেছি যা সামনে আসবে। (আফা) ‘আইন’ ও ‘ফা’ সহযোগে, যার অর্থ হলো চিহ্ন মুছে যাওয়া বা বিলুপ্ত হওয়া। (এবং এখানেই সর্বপ্রথম মহান কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে) মক্কায় সূরা বাকারা, আলে ইমরান, নিসা, মায়িদা, আনফাল, বারাআত (তাওবা), নূর, আহযাব, সূরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), ফাতহ, হুজুরাত, হাদীদ এবং এর পরবর্তী সূরাগুলো থেকে মুলক পর্যন্ত (যা ধারাবাহিকভাবে দশটি সূরা), এবং মুতাফফিফীন ছাড়া অন্যান্য সূরাগুলো অবতীর্ণ হয়েছে। বলা হয় যে, এটিই (মুতাফফিফীন) প্রথম মাদানী সূরা। এছাড়া ‘লাম ইয়াকুন’ (বাইয়্যিনাহ), নাসর এবং মুআউবিযাতাইন (ফালাক ও নাস)—এগুলোসহ মোট সাতাশটি সূরা মক্কায় অবতীর্ণ হয়নি। সূরা রা’দ, দাহর (ইনসান) এবং কাওসার সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে, তবে অগ্রগণ্য মত হলো এগুলো মক্কী। আল্লাহই ভালো জানেন। (আফাক) হলো ‘উফুক’-এর বহুবচন, যার অর্থ হলো দিগন্ত বা দিক। (খলিলের দুআর বরকতে) অর্থাৎ তাঁর এই উক্তি: ‘অতএব আপনি মানুষের অন্তরসমূহকে তাদের অনুরাগী করে দিন...’ আয়াতাংশ। ইমাম নববী আল-আযকার ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণনা করেছেন যে, হাসান বসরী (রহ.) থেকে বর্ণিত আছে (পনেরটি স্থানে) ‘জিম’ বর্ণে কাসরা যোগে (দুআ কবুল হয়)। স্থানগুলো হলো: তাওয়াফের সময়, মুলতাযামে, মীযাবে রহমতের নিচে, কাবার অভ্যন্তরে, যমযমের নিকট, সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে, মাসআ (সাঈ করার স্থান)-তে, মাকামে ইবরাহিমের পেছনে, আরাফাতে, মুযদালিফায়, মিনায় এবং তিন জামারাতে। (বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিগণ) ‘আকল’-এর বহুবচন, একে আকল (বেড়ি) বলা হয় কারণ এটি তার অধিকারীকে নিকৃষ্ট কাজ থেকে বিরত রাখে। এর অন্যান্য নাম হলো লুব্ব, নুহা, হিজর, যিবর এবং হিযা। (সন্দেহ থেকে) অর্থাৎ সংশয় থেকে। (ইদাদ) ‘আইন’ বর্ণে কাসরা যোগে। আর মদীনার ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে—(বুখারী) তাঁর জীবনী পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। আর মুসলিম হলেন ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশাইরী। তিনি ২০৬ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৬১ হিজরীর রজব মাসের শেষ পাঁচ দিন বাকি থাকতে ৫৫ বছর বয়সে নিশাপুরে ইন্তেকাল করেন। (আবু হুমাইদ) তাঁর নাম আবদুর রহমান, আবার বলা হয় মুনযির ইবনে সা’দ। তিনি এবং তাঁর পিতা উভয়েই সাহাবী ছিলেন। (আবু বাকরা) তাঁর নাম নুফাই — ‘নুন’, ‘ফা’ এবং ‘আইন’ (তাসগীর বা ক্ষুদ্রতাসূচক রূপে) — ইবনে হারিস ইবনে কালদাহ। কারো মতে তাঁর নাম মাশরুহ। তাঁর এই উপাধি (আবু বাকরা) হওয়ার কারণ সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তায়েফের দুর্গ থেকে একটি কপিকলের (বাকরা) সাহায্যে ঝুলে নিচে নেমে এসেছিলেন এবং তেইশজন দাসের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়েছিলেন। তিনি ৫১ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। (আবু সাঈদ আল-খুদরী) তাঁর নাম সাদ ইবনে মালিক ইবনে সিনান। তাঁর পিতা মালিক ইবনে সিনান ওহুদ যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন, যা সামনে আলোচিত হবে। আবু সাঈদ ৭৪ হিজরীতে জুমুআর দিনে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে জান্নাতুল বাকীতে দাফন করা হয়। ইবনে মানদাহ, আবু নুআইম এবং ইবনে আব্দুল বার বলেন, আবু সাঈদ তাঁর গোঁফ ছোট রাখতেন এবং দাড়িতে হলুদ খেযাব লাগাতেন। তিনি উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অধিক হাদিস বর্ণনাকারীদের অন্যতম ছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বারোটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁর থেকে সাহাবী ও তাবিঈদের একটি বড় দল হাদিস বর্ণনা করেছেন। ‘খুদরা’ শব্দটি ‘খা’ বর্ণে পেশ যোগে হবে।
(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ২৪)
وعائشة وعبد الله بن زيد بن عاصم وسعد بن ابى وقاص وسهل بن حنيف وجابر بن سمرة ورافع بن خديج وابن عمر أحاديث متفرقة انه قال صلى الله عليه وآله وسلم امرت بقرية تأكل القرى يقولون يثرب وهى المدينة تنفي الناس كما ينفي الكير خبث الحديد وانه حرم ما بين لابتيها كما حرم ابراهيم مكة وانه سماها طابه ونهى عن تسميتها يثرب وأخبر ان الايمان يأرز المعجمة وسكون المهملة قبيلة معروفة من الانصار (وسعد بن أبي وقاص) اسم أبي وقاص مالك بن أهيب بضم الهمزة ابن عبد مناف بن زهرة بن كلاب أسلم سعد بعد ستة نفر وقيل بعد أربعة وهو ابن سبع عشرة سنة وشهد بدرا وما بعدها وتوفي سنة خمس وخمسين أو ثمان وخمسين أو أربع وخمسين أقوال وكانت وفاته بالعقيق على سبعة أميال من المدينة فحمل على أعناق الرجال الى المدينة وأدخل المسجد وصلى عليه مروان وأزواج النبي صلى الله عليه وسلم وكان آخر المهاجرين موتا فلما حضرته الوفاة دعا بخلق جبة له من صوف فقال كفنوني فيها فاني كنت لقيت المشركين فيها يوم بدر وهي علي وانما كنت أخبأها لذلك ذكر ذلك ابن مندة وأبو نعيم وابن عبد البر (وسهل بن حنيف) بالمهملة والنون والفاء مصغرا ابن وهب الاوسي شهد المشاهد كلها وثبت يوم أحد وكان بايع على الموت ومات بالكوفة سنة ثمان وثلاثين وصلى عليه علي قال ابن عبد البر وغيره وكبر عليه ستا وقال انه بدرى (وجابر بن سمرة) بفتح المهملة وضم الميم ابن جنادة السوائى بضم المهملة صحابي ابن صحابى (ورافع بن خديج) بالمعجمة فالمهملة آخره جيم بوزن رغيف ابن رافع بن عدي بن جشم الحارثي شهد أحدا وأكثر المشاهد أصابه سهم فنزع وبقي النصل ومات منه سنة أربع وسبعين وهو ابن ثمان وستين سنة (وابن عمر) هو عبد الله بن عمر وقد مضت ترجمته (أحاديث) غير منصرف وهو بالنصب معمول فروينا (متفرقة) بالنصب (أمرت بقرية الى آخره) أخرجه الشيخان وأبو داود من حديث أبي هريرة ومعناه أمرت بالهجرة اليها واستيطانها (تأكل القرى) ذكروا في معناه وجهين أحدهما انها مركز جيوش الاسلام في أوّل الامر فمنها فتحت القرى وغنمت أموالها وسباياها والثاني ان أكلها وميرتها من القرى المنفتحة واليها تساق غنائمها (يقولون) يعنى بعض الناس من المنافقين (يثرب) برفع الباء أي يقولون هي يثرب (و) انما (هي المدينة) ففيه كما قال النووي كراهة تسميتها يثرب وفيه حديث في مسند أحمد وحكي عن عيسى بن دينار انه قال من سماها يثرب كتبت عليه خطيئة وسبب كراهته ان لفظه من التثريب وهو التوبيخ والملامة وكان صلى الله عليه وسلم يحب الاسم الحسن ويكره الاسم القبيح وأما تسميتها في القرآن يثرب فانما هو حكاية عن قول المنافقين الذين في قلوبهم مرض (تنفي الناس) أي شرارهم وخبيثهم (كما ينفي الكير) بكسر الكاف وهو الذي يوقد تحته الحداد (خبث الحديد) وفي رواية بدله الفضة وخبثهما وسخهما الذي تخرجه النار وليس ذلك مختصا بزمنه صلى الله عليه وسلم على الاظهر خلافا لعياض (لابتيها) هما الحرتان والمدينة بين حرتين والحرة الارض الملبسة حجارة سودا وهي غير مهموزة كما قال النووي وغيره (يأرز)
আয়েশা, আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ ইবনে আসেম, সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, সাহল ইবনে হুনাইফ, জাবির ইবনে সামুরাহ, রাফে ইবনে খাদিজ এবং ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন হাদীসসমূহ যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমাকে এমন এক জনপদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যা অন্য জনপদগুলোকে গ্রাস করবে। লোকেরা তাকে ইয়াসরিব বলে, অথচ তা হলো মদিনা। তা মানুষকে এমনভাবে পরিষ্কার করে যেমন হাপর লোহার মরিচা দূর করে।" এবং তিনি মদিনার দুই পাথুরে ভূমির মধ্যবর্তী অঞ্চলকে হারাম ঘোষণা করেছেন যেমন ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) মক্কাকে হারাম ঘোষণা করেছিলেন। তিনি এর নাম রেখেছেন 'তাবাহ্' এবং একে ইয়াসরিব নামে ডাকতে নিষেধ করেছেন। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, ঈমান সেখানে সংকুচিত হয়ে ফিরে আসবে। (খাজরাজ—যা যাল-এর নুকতাহ এবং সিনের জযম সহকারে) আনসারদের একটি সুপরিচিত গোত্র। (সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস): আবু ওয়াক্কাসের নাম হলো মালিক ইবনে উহাইব (হামযার পেশ যোগে), ইবনে আবদে মানাফ ইবনে যুহরাহ ইবনে কিলাব। সা'দ ছয়জন অথবা মতান্তরে চারজনের পরে ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন তার বয়স ছিল সতেরো বছর। তিনি বদর এবং পরবর্তী সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ৫৫ হিজরি অথবা ৫৮ হিজরি অথবা ৫৪ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন (একাধিক মত)। তার মৃত্যু হয়েছিল 'আকিক' নামক স্থানে যা মদিনা থেকে সাত মাইল দূরে। তাকে মানুষের কাঁধে বহন করে মদিনায় আনা হয় এবং মসজিদে প্রবেশ করানো হয়। মারওয়ান এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণীগণ তার জানাজা পড়েন। তিনি ছিলেন মুহাজিরদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী। যখন তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল, তিনি তার পশমের তৈরি একটি পুরনো জুব্বা আনতে বললেন এবং বললেন: "আমাকে এতেই কাফন দিও, কেননা বদরের দিন আমি এই জুব্বা পরেই মুশরিকদের মোকাবিলা করেছিলাম এবং আমি এটি এই দিনের জন্যই জমিয়ে রেখেছিলাম।" এটি ইবনে মানদাহ, আবু নুয়াইম এবং ইবনে আবদিল বার উল্লেখ করেছেন। (সাহল ইবনে হুনাইফ): হুনাইফ (সিন, নুন এবং ফা সহকারে তাসগির বা ক্ষুদ্রার্থবাচক শব্দ), তিনি ওহব আল-আওসির পুত্র। তিনি সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং ওহুদ যুদ্ধে অবিচল ছিলেন। তিনি মৃত্যুর শপথ করেছিলেন এবং ৩৮ হিজরি সালে কুফায় ইন্তেকাল করেন। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তার জানাজা পড়ান। ইবনে আবদিল বার এবং অন্যান্যরা বলেছেন যে, তিনি তার জানাজায় ছয়টি তাকবীর দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে তিনি একজন বদরি সাহাবী। (জাবির ইবনে সামুরাহ): সামুরাহ (সিনের যবর এবং মিমের পেশ যোগে), তিনি জুনাদা আস-সুওয়াইর (সিনের পেশ যোগে) পুত্র, তিনি একজন সাহাবী এবং সাহাবীর পুত্র। (রাফে ইবনে খাদিজ): খাদিজ (খ এবং দাল সহকারে শেষে জিম, 'রাগিফ' এর ওজনে), তিনি রাফে ইবনে আদি ইবনে জুশাম আল-হারিসির পুত্র। তিনি ওহুদ এবং অধিকাংশ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তাকে একটি তীর বিদ্ধ করেছিল যা পরে তুলে ফেলা হয় কিন্তু তীরের ফলা রয়ে গিয়েছিল এবং তার কারণেই ৭৪ হিজরি সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন, তখন তার বয়স ছিল আটষট্টি বছর। (ইবনে উমর): তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে উমর এবং তার জীবনী পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। (আহাদিস): শব্দটি গাইরে মুনসারিফ এবং এটি মানসুব অবস্থায় আমলকৃত যা আমরা বর্ণনা করেছি। (মুতাফাররিকাহ): এটি মানসুব। (আমাকে একটি জনপদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে... শেষ পর্যন্ত): এটি শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) এবং আবু দাউদ আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন। এর অর্থ হলো, আমাকে সেখানে হিজরত করার এবং সেখানে বসতি স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (জনপদগুলোকে গ্রাস করবে): এর অর্থের ব্যাপারে তারা দুটি দিক উল্লেখ করেছেন। প্রথমটি হলো, এটি ইসলামের শুরুর দিকে ইসলামী সেনাবাহিনীর কেন্দ্র ছিল, এখান থেকেই বিভিন্ন জনপদ বিজিত হয়েছে এবং সেগুলোর সম্পদ ও যুদ্ধবন্দী অর্জিত হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো, এর খাদ্য ও রসদ বিজিত জনপদগুলো থেকে আসত এবং গনিমতের মাল এখানেই নিয়ে আসা হতো। (তারা বলে): অর্থাৎ মুনাফিকদের মধ্য থেকে কিছু লোক। (ইয়াসরিব): বা-এর পেশ যোগে, অর্থাৎ তারা বলে এটি ইয়াসরিব। (অথচ) মূলত (তা হলো মদিনা): ইমাম নববী যেমন বলেছেন, এতে একে ইয়াসরিব নামে ডাকার অপছন্দনীয়তা প্রকাশ পায়। মুসনাদে আহমদে এ সংক্রান্ত একটি হাদীস রয়েছে এবং ঈসা ইবনে দীনার থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, "যে ব্যক্তি একে ইয়াসরিব বলবে তার আমলনামায় একটি পাপ লেখা হবে।" এটি অপছন্দ করার কারণ হলো, এর শব্দমূল 'তাসরিব' থেকে এসেছে যার অর্থ হলো তিরস্কার ও ভর্ৎসনা। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্দর নাম পছন্দ করতেন এবং মন্দ নাম অপছন্দ করতেন। আর কুরআনে একে 'ইয়াসরিব' বলা হয়েছে কেবল মুনাফিকদের উক্তির উদ্ধৃতি হিসেবে যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে। (মানুষকে দূর করে): অর্থাৎ তাদের মধ্য থেকে যারা মন্দ ও অপবিত্র। (যেমন হাপর দূর করে): কাফ-এর যের যোগে, যা কামাররা আগুন জ্বালাতে ব্যবহার করে। (লোহার মরিচা): অন্য বর্ণনায় এর পরিবর্তে রৌপ্য এসেছে। মরিচা বা খবিশ হলো তাদের ময়লা যা আগুন বের করে দেয়। এটি কেবল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সময়ের সাথে খাস বা নির্দিষ্ট নয়, বরং এটিই অধিক স্পষ্ট মত, যদিও কাজি আয়াজ এর ভিন্নমত পোষণ করেছেন। (তার দুই লাভা বা প্রস্তরময় ভূমির মাঝে): অর্থাৎ দুটি হাররাহ। মদিনা দুটি হাররাহর মাঝখানে অবস্থিত। হাররাহ হলো এমন ভূমি যা কালো পাথরে আবৃত। এটি হামযা যুক্ত নয় যেমনটি ইমাম নববী এবং অন্যরা বলেছেন। (ইয়ারিযু/সংকুচিত হয়)...
(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ২৫)
اليها كما تأرز الحية الى جحرها وقال فيمن تحمل عن المدينة والمدينة خير لهم لو كانوا يعلمون وانها لا يدخلها رعب المسيح الدجال ولا الطاعون وانه كان اذا قدم من سفر فنظر الى جدرات المدينة أوضع راحلته وان كان على دابة حركها من حبها ودعا لها بمثل ما دعا به ابراهيم لاهل مكة واخبر انه لا يدعها احد رغبة عنها الا ابدل الله فيها من هو خير منه بتحتية فهمزة ساكنة فراء مكسورة وحكي ضمها وفتحها فزاي أي ينضم ويجتمع (اليها) أي الى المدينة قال عياض معناه ان الايمان أولا وآخرا بهذه الصفة لانه في أوّل الاسلام كان كل من خلص ايمانه وصح اسلامه أتى المدينة اما مهاجرا مستوطنا واما متشوقا الى رؤية رسول الله صلى الله عليه وسلم ومتعلما منه ومتقربا ثم بعد هذا الى زمن الخلفاء كذلك ولاخذ سيرة العدل منهم والاقتداء بجمهور الصحابة فيها ثم من بعدهم من العلماء الذين كانوا سرج الوقت وأئمة الهدى لاخذ السنن المنتشرة بها عنهم وكان كل ثابت الايمان منشرح الصدر به يرحل اليها ثم بعد ذلك في كل وقت والى زماننا لزيارة قبره الشريف والتبرك بمشاهدة آثار أصحابه فلا يأتيها الا مؤمن انتهى وفي رواية لمسلم ان الايمان ليأرز الى بين المسجدين وأراد مسجد مكة والمدينة (فيمن تحمل) بفتحات (والمدينة خير لهم) أخرجه مالك والبخاري ومسلم وأبو داود من حديث سفيان بن أبي زهير وأوّل الحديث تفتح الشام فيخرج من المدينة قوم بأهليهم يبسون والمدينة خير لهم لو كانوا يعلمون ثم تفتح اليمن فيخرج قوم باهليهم يبسون والمدينة خير لهم لو كانوا يعلمون ثم يفتح العراق فيخرج من المدينة قوم باهليهم يبسون والمدينة خير لهم لو كانوا يعلمون ومعنى يبسون يسوقون الى الرحيل مسرعين في الامصار قال أبو عبيد البس سوق الابل ويبسون بتحتية مفتوحة فموحدة بضم وبكسر وروي بضم التحتية مع كسر الموحدة* وقوله خير لهم أي للمرتحلين عنها إلى غيرها (رعب) أي خوف (المسيح) سمي بذلك لانه ممسوح العين وقيل لمسحه الارض اذا خرج والاشهر انه بفتح الميم وتخفيف السين واهمال الحاء كوصف عيسى وقيل هو بكسر الميم وتشديد السين وقيل باعجام الخاء كالاول مسيخ وقيل كالثاني (الدجال) سمي به لكذبه وتمويهه وكل كذاب ومموه يسمى دجالا (ولا الطاعون) ان قلت أما أفضليتها بعدم دخول الدجال فظاهرة وأما الطاعون فكيف يكون عدم دخوله اياها فضيلة لها مع انه شهادة لكل مسلم كما أخرجه أحمد والشيخان من حديث أنس (قلت) لا مانع من ان يكون كذلك ثم يكون عدم دخوله المدينة فضيلة لانما جعل شهادة ورحمة للمؤمنين من هذه الامة رحمة لها اذ كانت أمة مرحومة والا فخبسه عذاب كما أخرجه أحمد والبخاري من حديث عائشة وأخرجه الشيخان والترمذي من حديث أنس فلما كان كذلك كان عدم دخوله المدينة فضيلة لها بهذا الاعتبار قال العلماء وفيه معجزة له صلى الله عليه وسلم فان الاطباء قديما وحديثا عجزوا عن دفع الطاعون عن شخص واحد فضلا عن بلد والمدينة رفع النبي صلى الله عليه وسلم الطاعون منها الى يوم القيامة (الى جدرات) جمع جدار وفي بعض نسخ البخاري دوحات المدينة جمع دوحة وهي الشجرة (أوضع) باعجام الضاد واهمال العين أي أسرع ومنه ولا وضعوا خلالكم وفان البر ليس بالايضاع (الا أبدل الله فيها من هو خير منه) هذا عام أبدا على الاصح وقيل مختص

তার দিকে, যেমন সাপ তার গর্তের দিকে সংকুচিত হয়ে ফিরে আসে। আর তিনি সেই ব্যক্তির ব্যাপারে বলেছেন যে মদীনা ছেড়ে চলে যায়: "মদীনা তাদের জন্য উত্তম ছিল, যদি তারা জানত।" আর এতে দাজ্জাল মসীহের আতঙ্ক কিংবা প্লেগ মহামারি প্রবেশ করবে না। যখন তিনি কোনো সফর থেকে ফিরে আসতেন এবং মদীনার দেয়ালগুলোর দিকে তাকাতেন, তখন তিনি তার বাহনটিকে দ্রুত চালনা করতেন; আর যদি কোনো পশুর পিঠে থাকতেন, তবে মদীনার প্রতি ভালোবাসার কারণে সেটিকে দ্রুত গতিতে ছুটাতেন। তিনি মদীনার জন্য তেমনই দুআ করেছেন যেমন ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) মক্কার অধিবাসীদের জন্য করেছিলেন। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, কেউ মদীনার প্রতি বিরাগবশত তা ত্যাগ করলে আল্লাহ তার পরিবর্তে সেখানে এমন একজনকে দান করেন যে তার চেয়ে উত্তম। 'তা'রিজু' শব্দটি নিচে দুটি নকতাযুক্ত বর্ণ (ইয়া), তারপর সুকুনযুক্ত হামযা, এরপর কাসরাযুক্ত রা (কারো মতে যম্মাহ বা ফাতহাও বর্ণিত হয়েছে), এরপর যা—এর অর্থ হলো সংকুচিত হওয়া এবং একত্রিত হওয়া (তার দিকে) অর্থাৎ মদীনার দিকে। কাযী ইয়াদ বলেন, এর অর্থ হলো—ঈমান শুরু এবং শেষে এই গুণের অধিকারী হবে; কারণ ইসলামের সূচনালগ্নে যার ঈমান খাঁটি এবং ইসলাম বিশুদ্ধ ছিল, সে মদীনাতেই আসত—হয় হিজরতকারী ও স্থায়ী নিবাসী হিসেবে, নতুবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখার ব্যাকুলতা নিয়ে, তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে এবং তাঁর নৈকট্য লাভ করতে। এরপর খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগ পর্যন্ত এমনই ছিল; তাঁদের থেকে ইনসাফের সীরাত গ্রহণ এবং সেখানে অবস্থানরত সাহাবীগণের জামাআতের অনুসরণ করার জন্য। এরপর তাঁদের পরবর্তী উলামায়ে কিরামের যুগেও—যাঁরা ছিলেন সময়ের প্রদীপ এবং হিদায়াতের ইমাম—সেখানে ছড়িয়ে থাকা সুন্নাতসমূহ তাঁদের কাছ থেকে গ্রহণ করার জন্য। যারই ঈমান সুদৃঢ় এবং বক্ষ ঈমানের নূরে উদ্ভাসিত ছিল, সে মদীনার দিকেই সফর করত। এরপর পরবর্তী প্রত্যেক সময়ে এবং আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত তাঁর পবিত্র রওজা যিয়ারত এবং তাঁর সাহাবীগণের স্মৃতিচিহ্নসমূহ দর্শনের বরকত লাভের জন্য মদীনায় আগমন ঘটে। সুতরাং মুমিন ছাড়া কেউ সেখানে আসে না—এখানেই (কাযী ইয়াদের উক্তি) সমাপ্ত। মুসলিমের এক রিওয়ায়াতে আছে: "ঈমান দুই মসজিদের মধ্যবর্তী স্থানে গুটিয়ে আসবে", এখানে মক্কা ও মদীনার মসজিদ উদ্দেশ্য। (ফিম্যান তাহাম্মালা) সবগুলো যবরসহ। (মদীনা তাদের জন্য উত্তম) এটি মালিক, বুখারী, মুসলিম এবং আবু দাউদ সুফিয়ান ইবনে আবি যুহাইর-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন। হাদীসের শুরুটি হলো: "সিরিয়া বিজিত হবে, তখন মদীনা থেকে একদল লোক তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে বেরিয়ে পড়বে, তারা তাদের পশুপাল দ্রুত হাঁকিয়ে নিয়ে যাবে (ইউবিস্সুন), অথচ মদীনা তাদের জন্য উত্তম ছিল যদি তারা জানত। তারপর ইয়ামেন বিজিত হবে, একদল লোক তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে বেরিয়ে পড়বে, তারা পশুপাল দ্রুত হাঁকিয়ে নিয়ে যাবে, অথচ মদীনা তাদের জন্য উত্তম ছিল যদি তারা জানত। তারপর ইরাক বিজিত হবে, তখন একদল লোক তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে বেরিয়ে পড়বে, তারা পশুপাল দ্রুত হাঁকিয়ে নিয়ে যাবে, অথচ মদীনা তাদের জন্য উত্তম ছিল যদি তারা জানত।" 'ইউবিস্সুন' শব্দের অর্থ হলো পশুপালকে বিভিন্ন শহরে দ্রুত হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া। আবু উবাইদ বলেন: 'আল-বাস্সু' হলো উট হাঁকানো। 'ইউবিস্সুন' শব্দটি শুরুতে যবরযুক্ত ইয়া, এরপর বা-এর উপর পেশ অথবা যের দিয়ে বর্ণিত হয়েছে। কারো মতে শুরুতে পেশ এবং বা-এর নিচে যের দিয়েও বর্ণিত হয়েছে। (উত্তম তাদের জন্য) অর্থাৎ যারা মদীনা ছেড়ে অন্য স্থানে চলে যাচ্ছে তাদের জন্য। (আতঙ্ক) অর্থাৎ ভয়। (মসীহ) তাকে এই নামে ডাকা হয় কারণ তার এক চোখ মোছা (অন্ধ), অথবা বলা হয় কারণ সে বের হওয়ার পর পৃথিবী ভ্রমণ করবে (মুছে ফেলবে)। প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী এটি মীম-এর উপর যবর এবং সীন-এর উপর তাশদীদ ছাড়া হালকা উচ্চারণে, যা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর গুণবাচক নামের মতো। কারো মতে মীমের নিচে যের এবং সীনের উপর তাশদীদসহ। কারো মতে শেষ বর্ণটি 'খা' (মাসিখ) প্রথম উচ্চারণের মতো, আবার কারো মতে দ্বিতীয় উচ্চারণের মতো। (দাজ্জাল) তার মিথ্যাচার এবং প্রতারণার কারণে তাকে এই নামকরণ করা হয়েছে; প্রত্যেক চরম মিথ্যাবাদী ও প্রতারককে 'দাজ্জাল' বলা হয়। (কিংবা প্লেগ মহামারি) যদি আপনি বলেন: দাজ্জাল প্রবেশ না করাটা মদীনার শ্রেষ্ঠত্ব হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট, কিন্তু প্লেগ মহামারি প্রবেশ না করাটা কীভাবে শ্রেষ্ঠত্ব হতে পারে যখন এটি প্রত্যেক মুসলিমের জন্য শাহাদাত বা শহীদ হওয়ার মর্যাদা, যেমনটি আহমাদ ও শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন? (উত্তরে আমি বলব) এটি শহীদ হওয়ার কারণ হতে বাধা নেই, আবার মদীনায় এর প্রবেশ না করাটাও মদীনার জন্য একটি ফযীলত বা শ্রেষ্ঠত্ব; কেননা এই উম্মতের মুমিনদের জন্য এটিকে শাহাদাত ও রহমত স্বরূপ করা হয়েছে কারণ এটি একটি রহমতপ্রাপ্ত উম্মত। অন্যথা মূলগতভাবে এটি ছিল একটি শাস্তি (আযাব), যেমনটি আহমাদ ও বুখারী আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদীস থেকে এবং শাইখাইন ও তিরমিযী আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন। যেহেতু বিষয়টি এমন, তাই মদীনায় এর প্রবেশ না করাটা এই বিচারে মদীনার জন্য একটি বৈশিষ্ট্য ও শ্রেষ্ঠত্ব। উলামায়ে কিরাম বলেন, এর মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি মুজিযা রয়েছে; কেননা অতীত ও বর্তমানের চিকিৎসকরা একজন ব্যক্তি থেকে প্লেগ দূর করতে অক্ষম ছিলেন, পুরো শহর তো দূরের কথা। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামত পর্যন্ত মদীনা থেকে প্লেগ উঠিয়ে নিয়েছেন। (জাদারাত) এটি 'জিদার' (দেয়াল) এর বহুবচন। বুখারীর কোনো কোনো কপিতে 'দাওহাত' এসেছে, যা 'দাওহা' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ বড় গাছ। (আওদা'আ) 'দদ' এবং 'আইন' বর্ণসহ, যার অর্থ দ্রুত চালনা করা। কুরআন মাজীদের আয়াত "তারা তোমাদের মাঝে দ্রুত ছুটাছুটি করত" এবং "দ্রুত উট চালনা করা নেক কাজ নয়" শব্দগুলো এখান থেকেই এসেছে। (আল্লাহ তার পরিবর্তে সেখানে এমন একজনকে দান করেন যে তার চেয়ে উত্তম) বিশুদ্ধ মতানুযায়ী এটি সর্বদা কার্যকর এবং সাধারণ হুকুম, তবে কেউ কেউ বলেছেন এটি বিশেষ সময়ের জন্য ছিল।

(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ২৬)
ولا يثبت احد على لأوائها وجدها الا كنت له شفيعا أو شهيدا يوم القيامة وانه لا يريدها احد بسوء الا أذابه الله ذوب الرصاص أو ذوب الملح في الماء (وما رويناه) خارج الصحيحين انه صلى الله عليه وآله وسلم قال المدينة مهاجري فيها مضجعى وفيها مبعثي حقيق على أمتى حفظ جيرانى ما اجتنبوا الكبائر من حفظهم كنت له شهيدا أو شفيعا يوم القيامة ومن لم يحفظهم سقي من طينة الخبال. وقال غبار المدينة شفاء من الجذام وقال كل البلاد افتتحت بالسيف والمدينة افتتحت بالقرآن وقال ما على الارض بقعة هي أحب إلي من أن بمدة حياته صلى الله عليه وسلم (لاوائها) بسكون الهمزة وبالمد والتحتية هي الشدة وما يعظم مشقته ويحرج له الصدر من ضيق عيش أو قحط أو خوف ونحو ذلك (وجهدها) بفتح الجيم وهي لغة قليلة وبضمها هو المشقة واما بمعنى الطاقة فالمشهور بالضم وحكى بالفتح (الا كنت له شفيعا أو شهيدا) الاظهر ان أوهنا ليست للشك فلا يزيد القاريء بعدها قال بل اما للتقسيم فيكون شفيعا للعاصين وشهيدا للمطيعين أو شهيدا لمن مات في حياته وشفيعا لمن مات بعده وهذه خصيصة زائدة لاهل المدينة على شهادته لجميع الامة واما بمعنى الواو على حد قوله مِائَةِ أَلْفٍ أَوْ يَزِيدُونَ فيكون لاهل المدينة شفيعا وشهيدا هذا معنى ما قال عياض (وانه لا يريدها أحد بسوء) قاله مسلم في صحيحه قال ابن حاتم في حديث 7 بن نحس بدل سوء شرا وفي رواية بدهم بكسر الموحدة وفتح المهملة وسكون الهاء وهي المقاتلة والامر العظيم (الا اذابه الله) أي أهلكه (ذوب) مصدر ذاب يذوب (الرصاص) مثلث الراء والفتح أشهر أي في النار كما في بعض روايات مسلم قال عياض وهو يرفع اشكال الاحاديث التي لم يذكر فيها وتبين ان هذا حكمه في الآخرة قال وقد يكون المراد به من أرادها في حياة النبى صلى الله عليه وسلم كفى المسلمون شره واضمحل كيده كما يضمحل الرصاص في النار أو يكون ذلك لمن أرادها في الدنيا فلا يمهله الله ولا يمكن له سلطانا بل يذهبه عن قريب كما انقض بنيان من حاربها أيام بني أمية مثل عقبة بن مسلم فانه هلك في منصرفه عنها ثم هلك مرسله يزيد بن معاوية على أثر ذلك وغيرهما ممن صنع صنعهما قال وقيل وقد يكون المراد من كادها اغتيالا وطلبا لغرتها في غفلة فلا يتم له أمره (أو ذوب الملح في الماء) ليست أو للشك قيل الاول في رواية وهذا في أخرى (مهاجري) بضم الميم وفتح الجيم أى موضع هجرتي (فيها مضجعي) يعني قبره صلى الله عليه وسلم وهذا من اعلام النبوة (حقيق) أي واجب (جيراني) يعني أهل المدينة ومن داناهم وأراد حفظهم من الاذى مطلقا ما لم يرتكبوا ما يوجب حدا فان ارتكبوه أقيم عليهم كغيرهم كما يرشد اليه قوله (ما اجتنبوا الكبائر) جمع كبيرة وهي كل ما جاء فيها وعيد شديد في الكتاب أو السنة وان لم يوجب حدا وعرفت بانها كل جريمة تؤذن بقلة اكتراث مرتكبها بالدين ورقة الديانة (كنت له شفيعا الى آخره) يأتى فيه ما مر قريبا في أهل المدينة (سقى من طينة الخبال) بفتح المعجمة والموحدة وهي عرق أهل النار وما ينحل من أجسادهم بذوبانها (غبار المدينة شفاء من الجذام) أخرجه أبو نعيم في الطب من حديث ثابت بن قيس بن شماس ولابن السني يبرئ الجذام وللزبير بن بكار يطفيء الجذام (كل البلاد افتتحت بالسيف الى آخره) أخرجه البيهقي في الشعب من حديث عائشة وأراد صلى الله عليه وسلم بذلك قدوم

আর কিয়ামতের দিন আমি সেই ব্যক্তির জন্য সুপারিশকারী অথবা সাক্ষী হব, যে মদিনার কষ্ট ও কঠোরতায় ধৈর্য ধারণ করবে। আর যে কেউ মদিনার প্রতি মন্দের ইচ্ছা পোষণ করবে, আল্লাহ তাকে গলিত সীসার মতো অথবা পানির মধ্যে লবণ গলে যাওয়ার মতো গলিয়ে দেবেন। (আমরা যা বর্ণনা করেছি) সহীহাইনের বাইরে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মদিনা আমার হিজরতের স্থান, সেখানেই আমার শয্যা (কবর) এবং সেখান থেকেই আমার পুনরুত্থান। আমার উম্মতের ওপর আমার প্রতিবেশীদের (মদিনাবাসী) সম্মান রক্ষা করা আবশ্যক, যতক্ষণ তারা কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে। যারা তাদের সম্মান রক্ষা করবে, আমি কিয়ামতের দিন তাদের জন্য সাক্ষী অথবা সুপারিশকারী হব। আর যে ব্যক্তি তাদের রক্ষা করবে না, তাকে ‘ত্বীনাতুল খাবাল’ পান করানো হবে। তিনি আরও বলেছেন: মদিনার ধূলিকণা কুষ্ঠরোগের নিরাময়। তিনি আরও বলেছেন: সমস্ত শহর তরবারির মাধ্যমে বিজিত হয়েছে, কিন্তু মদিনা বিজিত হয়েছে কুরআনের মাধ্যমে। তিনি আরও বলেছেন: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবদ্দশায় জমিনের কোনো ভূখণ্ড তাঁর কাছে মদিনার চেয়ে অধিক প্রিয় ছিল না। (লাওয়া-ইহা) হামজাহ সাকিন, মাদ এবং ‘ইয়া’ যোগে এর অর্থ হলো কঠোরতা এবং যা চরম কষ্টের কারণ হয় এবং জীবনযাত্রার সংকট, দুর্ভিক্ষ বা ভয়ের কারণে মনকে সংকুচিত করে দেয়। (জাহদিহা) জীম বর্ণে ফাতহাহ দিয়ে, যা একটি বিরল ভাষাভঙ্গি, আর দাম্মাহ দিয়ে এর অর্থ হলো কষ্ট। আর যদি সক্ষমতা অর্থে হয় তবে দাম্মাহ দিয়েই বেশি পরিচিত, তবে ফাতহাহ দিয়েও বর্ণিত হয়েছে। (তবে আমি তার জন্য সুপারিশকারী অথবা সাক্ষী হব) অধিক স্পষ্ট মত হলো যে, এখানে ‘অথবা’ (আও) শব্দটি সন্দেহের জন্য নয়; তাই পাঠক এর পরে ‘তিনি বলেছেন’ বাক্যটি বৃদ্ধি করবেন না। বরং এটি বিভাজনের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে; অর্থাৎ পাপীদের জন্য সুপারিশকারী এবং অনুগতদের জন্য সাক্ষী হবেন। অথবা তাঁর জীবদ্দশায় যারা মারা গেছেন তাদের জন্য সাক্ষী এবং যারা পরে মারা গেছেন তাদের জন্য সুপারিশকারী হবেন। এটি পুরো উম্মতের জন্য তাঁর সাক্ষ্যদানের অতিরিক্ত মদিনাবাসীদের জন্য একটি বিশেষ মর্যাদা। অথবা এটি ‘ওয়াও’ (এবং) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি ‘এক লক্ষ বা ততোধিক’ আয়াতের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে তিনি মদিনাবাসীদের জন্য সুপারিশকারী ও সাক্ষী উভয়ই হবেন। এটিই কাজী ইয়াজের বক্তব্যের মর্মার্থ। (আর যে কেউ এর প্রতি মন্দের ইচ্ছা পোষণ করবে) মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে হাতিম ৭ নম্বর হাদিসে ‘সু’ (মন্দ) এর পরিবর্তে ‘শার’ (অনিষ্ট) শব্দ ব্যবহার করেছেন। অন্য বর্ণনায় ‘বি-দাহম’ শব্দ এসেছে, যার অর্থ হলো যুদ্ধ ও ভয়াবহ পরিস্থিতি। (আল্লাহ তাকে গলিয়ে দেবেন) অর্থাৎ তাকে ধ্বংস করবেন। ‘যাওবা’ শব্দটি ‘যাবা-ইয়াযুবু’ ক্রিয়ামূলের মাসদার। (আর-রাসাস) সীসা; ‘র’ বর্ণে তিন প্রকার হরকতই সম্ভব, তবে ফাতহাহ সবচেয়ে বেশি পরিচিত। মুসলিমের কিছু বর্ণনায় এসেছে, ‘আগুনের মধ্যে’, কাজী ইয়াজ বলেন, এটি ঐসব হাদিসের অস্পষ্টতা দূর করে যেখানে আগুনের কথা উল্লেখ নেই এবং স্পষ্ট করে দেয় যে এটি আখিরাতের শাস্তির বিধান। তিনি আরও বলেন, এর দ্বারা এমন ব্যক্তিও উদ্দেশ্য হতে পারে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় মদিনার অনিষ্ট চেয়েছিল, ফলে মুসলিমরা তার অনিষ্ট থেকে রক্ষা পায় এবং তার ষড়যন্ত্র আগুনের সীসার মতো বিলীন হয়ে যায়। অথবা এটি দুনিয়াতে মদিনার অনিষ্ট কামনাকারীদের ক্ষেত্রেও হতে পারে, যাদের আল্লাহ অবকাশ দেবেন না এবং কোনো কর্তৃত্ব লাভের সুযোগ দেবেন না, বরং শীঘ্রই তাদের ধ্বংস করবেন। যেমনটি উমাইয়া যুগে মদিনার সাথে যুদ্ধকারীদের পতন ঘটেছিল, যেমন উকবা বিন মুসলিম, যে মদিনা থেকে ফেরার পথে ধ্বংস হয়েছিল এবং এরপর তাকে প্রেরণকারী ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়াও এর পরপরই মারা যায়। তাদের মতো যারা আচরণ করেছিল তাদের অবস্থাও একই হয়েছিল। তিনি বলেন, এটিও বলা হয়েছে যে, এর অর্থ হতে পারে যে ব্যক্তি অতর্কিত আক্রমণ বা অসতর্ক অবস্থায় মদিনার ক্ষতি করতে চায়, তার উদ্দেশ্য সফল হবে না। (অথবা পানিতে লবণ গলে যাওয়ার মতো) এখানে ‘অথবা’ শব্দটি সন্দেহের জন্য নয়; বলা হয়েছে যে প্রথমটি এক বর্ণনায় এবং এটি অন্য বর্ণনায় এসেছে। (মুহাজারি) মিম বর্ণে দাম্মাহ এবং জীম বর্ণে ফাতহাহ সহ, যার অর্থ আমার হিজরতের স্থান। (সেখানেই আমার শয্যা) অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কবর মোবারক। এটি নবুওয়াতের অন্যতম নিদর্শন। (হাকীকুন) অর্থাৎ আবশ্যক। (আমার প্রতিবেশীগণ) অর্থাৎ মদিনাবাসী এবং তাদের নিকটবর্তী যারা। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাদের যেকোনো কষ্ট থেকে রক্ষা করা, যতক্ষণ না তারা এমন কোনো অপরাধ করে যাতে শরয়ি শাস্তি (হদ) প্রযোজ্য হয়। যদি তারা তা করে, তবে অন্যদের মতো তাদের ওপরও তা কার্যকর করা হবে। যেমনটি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে নির্দেশিত হয়েছে: (যতক্ষণ তারা কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে)। কবিরা গুনাহ হলো সেই সব পাপ যেগুলোর ব্যাপারে কিতাব বা সুন্নাহতে কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে, যদিও তাতে দণ্ডবিধি নির্ধারিত না থাকে। এর সংজ্ঞা এভাবেও দেওয়া হয়েছে যে, এটি এমন অপরাধ যা অপরাধীর দ্বীনের প্রতি উদাসীনতা ও ঈমানের দুর্বলতাকে প্রকাশ করে। (আমি তার জন্য সুপারিশকারী হব...) এর ব্যাখ্যা মদিনাবাসীদের ব্যাপারে যা একটু আগে গত হয়েছে তা-ই। (তাকে ‘ত্বীনাতুল খাবাল’ পান করানো হবে) ‘খ’ এবং ‘বা’ বর্ণে ফাতহাহ যোগে, এটি হলো জাহান্নামীদের ঘাম এবং তাদের শরীর গলে যা নির্গত হয়। (মদিনার ধূলিকণা কুষ্ঠরোগের নিরাময়) আবু নুয়াইম তাঁর ‘তিব্ব’ গ্রন্থে সাবিত বিন কায়েস বিন শাম্মাস-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে সুন্নির বর্ণনায় ‘কুষ্ঠরোগ ভালো করে’ এবং যুবায়ের বিন বাকার-এর বর্ণনায় ‘কুষ্ঠরোগ নিভিয়ে দেয়’ শব্দ এসেছে। (সব দেশ তরবারির মাধ্যমে বিজিত হয়েছে...) বায়হাকী তাঁর ‘শুয়াবুল ঈমান’ গ্রন্থে আয়েশা (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এর দ্বারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় তাঁর আগমনের বিষয়টিকে বুঝিয়েছেন।

(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ২৭)
يكون قبرى فيها منها ثلاث مرات. وقال من مات في أحد الحرمين حاجا أو معتمرا بعثه الله يوم القيامة لا حساب عليه ولا عذاب. وفي طريق آخر بعث من الآمنين يوم القيامة وقال من استطاع أن يموت بالمدينة فليمت بها فانى أشفع لمن يموت بها.

وروي عن زيد بن اسلم عن أبيه في قوله تعالى وَقُلْ رَبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَلْ لِي مِنْ لَدُنْكَ سُلْطاناً نَصِيراً قال مدخل صدق المدينة ومخرج صدق مكة وسلطانا نصيرا الانصار وسماها الله تعالى الدار في قوله تعالى وَالَّذِينَ تَبَوَّؤُا الدَّارَ وَالْإِيمانَ الآيات وذكر أن لها في التوراة أربعين إسما منها المدينة وطيبة وطابة والمسكينة وجابرة والمجبورة والمرحومة والهدراء والعذاب والمحبة والمحبوبة والقاصمة.

وروى أن في التوراة يا مسكينة لا تقبلى الكنوز ارفع أجاجيرك على أجاجير القرى* وقال الشيخ الامام جمال الدين ابو عبد الله محمد بن احمد المصرى رحمه الله في كتابه تأليف ما أنست الهجرة من معالم دار الهجرة بروايتى لذلك عن شيخى الامام الحافظ محب الدين محمد مصعب بن عمير على أهل المدينة مقرئا لهم القرآن فأسلم أكثرهم (من مات في أحد الحرمين الى آخره) أخرجه أبو داود والدارقطني وغيرهما فظاهر الحديث حصول ذلك له وان لم يدفن بهما أو يكون ذلك جرى مجرى الغالب ان من مات بارض دفن بها (وفي طريق آخر) أخرجها من مر آنفا لكن بلفظ (بعث من الآمنين) (من استطاع أن يموت بالمدينة الى آخره) أخرجه أحمد والترمذي وابن حبان من حديث ابن عمر قال الترمذي حديث صحيح ومنه يؤخذ تفضيل الموت بالمدينة عليه بمكة كما جزم به بعضهم والصحيح عكسه (عن زيد بن أسلم عن أبيه) هو أسلم الحبشى مولى عمر رضي الله عنه وقيل انه من سبى اليمن والاصح انه من بجاوة بكسر الموحدة ثم جيم يكنى أبا خالد وأبا زيد مات سنة ثمانين وفي صحبته خلاف مشهور (منها المدينة) مشتقة من دان بمعنى أطاع والدين الطاعة أو من مدن بالمكان اذا أقام به قولان لاهل العربية (وطيبة وطابة) مشتقان من الطيب وهو الرائحة الحسنة والطاب والطيب لغتان وقيل من الطيب بفتح الطاء وكسر الياء التحتية المشددة وهو الطاهر لخلوصها من الشرك وطهارتها وقيل من طيب العيش (والهدراء) بهاء مفتوحة ثم مهملة ساكنة ثم راء ممدودة سميت بذلك لنمو الاعمال فيها وتضعيفها من قولهم أرض هادرة اذا كانت كثيرة العشب متناهية (والقاصمة) بالقاف والمهملة أي المهلكة لكل جبار بها وفي نسخة والعاصمة بمهملتين أي لكل من لجا اليها من كل مخوف أو من الدجال والطاعون (وروي ان) بفتح الهمزة (الكنوز) جمع كنز وهو كل مال لا تؤدي زكاته (ارفع) بالرفع (أجاجيرك) بهمزة مفتوحة ثم جيم ثم ألف ثم جيم مكسورة ثم تحتية ساكنة ثم راء أي جوانبك وارجائك (تأليف) جمع (الهجرة) الترك (دار الهجرة) يعني المدينة الشريفة

সেখানে আমার কবর হবে—এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন। তিনি আরও বললেন: যে ব্যক্তি হজ বা উমরা পালনকারী অবস্থায় দুই হারামের যেকোনো একটিতে মৃত্যুবরণ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে এমন অবস্থায় পুনরুত্থিত করবেন যে, তার ওপর কোনো হিসাব হবে না এবং কোনো শাস্তি হবে না। অন্য এক বর্ণনায় আছে, সে কিয়ামতের দিন নিরাপদ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পুনরুত্থিত হবে। তিনি আরও বললেন: যার পক্ষে মদিনায় মৃত্যুবরণ করা সম্ভব, সে যেন সেখানেই মৃত্যুবরণ করে; কেননা যে ব্যক্তি সেখানে মৃত্যুবরণ করবে, আমি তার জন্য সুপারিশ করব।

যায়েদ বিন আসলাম তাঁর পিতা থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: "এবং বলুন, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে উত্তম প্রবেশস্থলে প্রবেশ করান এবং আমাকে উত্তম নির্গমনস্থল দিয়ে বের করুন, আর আপনার পক্ষ থেকে আমাকে এক সাহায্যকারী শক্তি দান করুন।" তিনি বলেন, "উত্তম প্রবেশস্থল" হলো মদিনা এবং "উত্তম নির্গমনস্থল" হলো মক্কা, আর "সাহায্যকারী শক্তি" হলো আনসারগণ। মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীতে মদিনাকে "আদ-দার" (নিবাস) নামে অভিহিত করেছেন: "আর যারা এই নিবাসে ও ঈমানে আগে থেকেই বসবাস করছে..."। উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাওরাত কিতাবে মদিনার চল্লিশটি নাম রয়েছে, যার মধ্যে আছে: আল-মদিনা, তয়্যিবাহ, তাবাহ, আল-মিসকিনাহ, জাবিরাহ, আল-মাজবুরাহ, আল-মারহুমাহ, আল-হাদরা, আল-আযাব, আল-মহব্বাহ, আল-মহবুবাহ এবং আল-কাসিমাহ।

বর্ণিত আছে যে, তাওরাতে রয়েছে: হে মিসকিনাহ (মদিনা), তুমি গুপ্তধন গ্রহণ করো না, তুমি তোমার সীমানাকে অন্যান্য জনপদের সীমানার উপরে উঠাও। শায়খ ইমাম জামালুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-মিসরি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর "তালিফু মা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মাআলিম দারে হিজরাহ" গ্রন্থে আমার বর্ণিত রেওয়ায়েতের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন—যা আমি আমার শায়খ ইমাম হাফেজ মুহিবুদ্দিন মুহাম্মাদ মুসআব বিন উমাইর থেকে বর্ণনা করছি—তিনি যখন মদিনাবাসীদের কাছে কুরআন পাঠ করে শোনাতেন, তখন তাদের অধিকাংশ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। (যে ব্যক্তি দুই হারামের কোনো একটিতে মারা যায়... শেষ পর্যন্ত): এটি আবু দাউদ, দারাকুতনি এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। হাদিসের বাহ্যিক অর্থ হলো, এটি তার জন্য অর্জিত হবে যদিও সে সেখানে দাফন না হয়, অথবা এটি স্বাভাবিক অবস্থার প্রেক্ষিতে বলা হয়েছে যে, সাধারণত যে ব্যক্তি যে ভূমিতে মারা যায় তাকে সেখানেই দাফন করা হয়। (অন্য এক বর্ণনায়): পূর্বোক্ত বর্ণনাকারীই এটি বর্ণনা করেছেন, তবে "নিরাপদ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পুনরুত্থিত হবে" শব্দে। (যার পক্ষে মদিনায় মৃত্যুবরণ করা সম্ভব... শেষ পর্যন্ত): এটি আহমাদ, তিরমিজি এবং ইবনে হিব্বান ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিজি বলেন, এটি একটি সহিহ হাদিস। এখান থেকেই মক্কার চেয়ে মদিনায় মৃত্যুবরণ করার শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি গ্রহণ করা হয়েছে, যা কেউ কেউ সুনিশ্চিতভাবে বলেছেন। তবে সঠিক মতটি এর বিপরীত। (যায়েদ বিন আসলাম তার পিতা থেকে): তিনি হলেন আসলাম আল-হাবাশি, উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর মুক্তদাস। কেউ কেউ বলেন তিনি ইয়েমেনের যুদ্ধবন্দী ছিলেন। অধিকতর সঠিক মত হলো তিনি "বাজাওয়া" (ব-এর নিচে কাসরা ও জিম যোগে) নামক স্থান থেকে এসেছেন। তাঁর উপনাম আবু খালিদ বা আবু যায়েদ। তিনি ৮০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর সাহাবি হওয়ার ব্যাপারে প্রসিদ্ধ মতভেদ আছে। (তন্মধ্যে আল-মদিনা): এটি "দানা" ধাতু থেকে উদ্ভূত যার অর্থ আনুগত্য করা, আর "দ্বীন" অর্থ আনুগত্য। অথবা এটি "মাদানা" থেকে যা কোনো স্থানে বসবাস করা অর্থে ব্যবহৃত হয়—আরবি ভাষাবিদদের দুটি মত। (তয়্যিবাহ ও তাবাহ): এ দুটি "তীব" শব্দ থেকে উদ্ভূত যার অর্থ সুগন্ধ। "তীব" ও "তব" একই অর্থের দুটি শব্দ। কেউ কেউ বলেন এটি "তয়্যিব" (ত-এর উপরে ফাতহা এবং ইয়া-এর নিচে কাসরা ও তাশদীদসহ) থেকে এসেছে, যার অর্থ পবিত্র। শিরক থেকে মুক্ত ও পবিত্র হওয়ার কারণে একে এই নামে ডাকা হয়। আবার কেউ বলেছেন এটি জীবনযাত্রার সচ্ছলতা থেকে এসেছে। (আল-হাদরা): হা-এর উপরে ফাতহা, দাল-এর উপরে সুকুন এবং আলিফে মামদুদা যোগে। সেখানে আমলের প্রবৃদ্ধি ও বহুগুণ হওয়ার কারণে একে এই নামকরণ করা হয়েছে। যেমন বলা হয় "আরদুন হাদিরাহ" অর্থাৎ অত্যন্ত ঘাসযুক্ত উর্বর ভূমি। (আল-কাসিমাহ): কফ ও সিন যোগে, যার অর্থ প্রত্যেক অহংকারীকে ধ্বংসকারী। কোনো পাণ্ডুলিপিতে "আল-আসিমাহ" (আইন ও সিন যোগে) এসেছে, যার অর্থ প্রত্যেক আতঙ্কিত ব্যক্তির আশ্রয়স্থল অথবা দাজ্জাল ও প্লেগ রোগ থেকে রক্ষাকারী। (বর্ণিত আছে যে): হামযার উপরে ফাতহা যোগে। (গুপ্তধনসমূহ): এটি "কাঞ্জ" শব্দের বহুবচন, আর তা হলো ওই সম্পদ যার যাকাত প্রদান করা হয়নি। (উঠাও): রফা যোগে। (তোমার সীমানাসমূহ): হামযার উপর ফাতহা, জিম, আলিফ এবং কাসরাযুক্ত জিম ও সাকিনযুক্ত ইয়া ও র যোগে—এর অর্থ তোমার পার্শ্বসমূহ ও এলাকাসমূহ। (তালিফ): সংকলন। (হিজরাহ): ত্যাগ করা। (দারে হিজরাহ): অর্থাৎ মদিনা শরিফ।

(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ২৮)
ابن أبي حامد المصري حفيد المصنف قراءة منى عليه لجميع الكتاب بالمسجد النبوي الشريف الى جانب المنبر المنيف وسمعته جميعا بالمسجد الحرام من لفظ شيخنا إمام الوقت أبي الفتح محمد ابن أبي بكر بن الحسين المراغي نضر الله وجوههما قالا اخبرنا به الشيخ الامام ابراهيم بن على اليعمرى عن المؤلف قال وبعد فان العناية بالمدينة الشريفة متعينة والرعاية لعظم حرمتها لكل خير متضمنة والوسيلة بنشر شرفها شافعة والفضيلة لاشتات معاهدها جامعة لأنها طابة ذات الحجرة المفضلة ودار الهجرة المكملة وحرم النبوة المشرف بالآيات المنزلة والمسجد الذى تشد اليه الرحال المرقلة والبقعة التي تهبط الاملاك عليها والمدينة التى يأرز الايمان اليها والمشهد الذى تفوح أرواح نجد من ثياب زائريه والمورد الذى لا يروي من الشوق غلة وارديه والعرصة التى خصها الله تعالى بالنبى الاطهر والحرمة التي فيها الروضة المقدسة بين القبر والمنبر والتربة التى سمت بساكنها على الآفاق وفضلت بقاع الارض على الاطلاق فهي كما قيل شعرا:

جزم الجميع بأن خير الارض ما … قد حاط ذات المصطفى وحواها

ونعم لقد صدقوا بساكنها علت … كالنفس حين زكت زكي مأواها

وقال القاضى عياض رحمه الله وجدير بمواطن عمرت بالوحى والتنزيل وتردد فيها جبريل وميكائيل وعرجت منها الملائكة والروح وضجت عرصاتها بالتقديس والتسبيح واشتملت تربتها على جسد سيد البشر وانتشر عنها من دين الله وسنة رسوله ما انتشر مدارس آيات ومساجد صلوات ومشاهد الفضائل والخيرات ومعاهد البراهين والمعجزات ومناسك الدين ومشاعر المسلمين ومواقف سيد المرسلين ومتبوء خاتم النبيين حيث انفجرت النبوة وفاض عبابها ومواطن مهبط الرسالة وأوّل أرض مس جلد المصطفى ترابها أن تعظم عرصاتها (حفيد) هو ولد الولد (المنيف) الزائد بالفضل على غيره (المراغي) نسبة الى المراغ قبيلة معروفة من الازد وهي بفتح الميم والراء المخففة آخره معجمة (نضر الله) بتشديد الضاد المعجمة وتخفيفها والتشديد أكثر أي حسن وجمل (اليعمري) بفتح الميم وضمها (الاشتات) بالمعجمة والفوقية المكررة أي المتفرقات (المرقلة) بالقاف أي المسرعة (والمورد) بفتح الميم وكسر الراء (غلة) بضم الغين المعجمة وهى العطش (المقدسة) أي المطهرة والقدس الطهارة وسمى جبريل روح القدس لانه لم يقارف ذنبا (سمت) أي علت والسمو العلو (على الآفاق) جمع أفق وهو الناحية كمامر (وفضلت) وبفتح الضاد (زكت) بالزاي بمعنى طهرت (جدير) بالجيم والاهمال بوزن عظيم أي حقيق ويرادفه حرى وخليق وقمن في المعنى وخليق في الوزن أيضا (بمواطن) لا ينصرف (وضجت) بالمعجمة والجيم من الضجيج وهو رفع الصوت (حيث) مبنى على الضم (عبابها) بضم المهملة وبموحدتين وهو معظم السيل وارتفاعه
ইবনে আবি হামিদ আল-মিসরি, যিনি গ্রন্থকারের নাতি; তাঁর নিকট মসজিদে নববীর সেই সুউচ্চ মিম্বরের পাশে বসে আমি সম্পূর্ণ গ্রন্থটি পাঠ করেছি। এছাড়া আমি পবিত্র মসজিদে হারামে আমাদের শাইখ, সমকালের ইমাম আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর ইবনে আল-হুসাইন আল-মারগির নিকট থেকে তাঁর নিজ মুখে পুরো বিষয়টি শ্রবণ করেছি; আল্লাহ তাঁদের চেহারাকে উজ্জ্বল করুন। তাঁরা দুজনেই বলেছেন: আমাদের নিকট শাইখ ইমাম ইব্রাহিম বিন আলি আল-ইয়ামারি গ্রন্থকারের সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: অতঃপর, শরিফ বা সম্মানিত মদিনার প্রতি যত্নবান হওয়া অপরিহার্য এবং এর সুমহান পবিত্রতার রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রতিটি কল্যাণের ধারক। এর মর্যাদা প্রচারের মাধ্যমটি একটি সুপারিশকারী হিসেবে গণ্য এবং এর ছড়িয়ে থাকা পবিত্র নিদর্শনগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব হলো একত্রিতকারী। কারণ এটিই সেই 'তাবাহ' যা সর্বোত্তম কক্ষের (হুজরা) অধিকারী এবং হিজরতের পূর্ণাঙ্গ আবাসস্থল। এটি নবুওয়তের সেই পবিত্র সীমানা যা অবতীর্ণ আয়াতসমূহ দ্বারা সম্মানিত, এবং এমন এক মসজিদ যার পানে দ্রুতগামী বাহন নিয়ে সফর করা হয়। এটি সেই ভূখণ্ড যেখানে ফেরেশতারা অবতরণ করেন এবং এটিই সেই শহর যেখানে ঈমান এসে আশ্রয় গ্রহণ করে। এটি এমন এক পুণ্যভূমি যার জিয়ারতকারীদের পোশাক থেকে নজদ এলাকার সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ে এবং এটি এমন এক প্রস্রবণ যা পানকারীর তৃষ্ণাকে কখনো অপূর্ণ রাখে না। এটি সেই প্রাঙ্গণ যাকে মহান আল্লাহ অতি পবিত্র নবীর জন্য খাস করেছেন এবং সেই পবিত্র এলাকা যার ভেতরে মিম্বর ও কবরের মাঝখানে জান্নাতের বাগান বা রওজা বিদ্যমান। এটি সেই মাটি যা তার অধিবাসীর কারণে দিগন্তের উপরে আরোহণ করেছে এবং সামগ্রিকভাবে পৃথিবীর সকল ভূখণ্ডের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। যেমনটি কবিতায় বলা হয়েছে:

সকলে এ ব্যাপারে একমত যে জমিনের সর্বোত্তম অংশ হলো সেটিই … যা মুস্তফা (সা.)-এর পবিত্র সত্তাকে বেষ্টন করে আছে এবং তাঁকে ধারণ করেছে।

হ্যাঁ, তারা সত্যিই বলেছেন; এর অধিবাসীর কারণেই এটি উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছে … যেমন আত্মা যখন পবিত্র হয়, তখন তার থাকার জায়গাটিও পবিত্র হয়ে যায়।

কাজী আয়াজ (রহ.) বলেন: সেই সব স্থান সুমহান মর্যাদার যোগ্য যা ওহি এবং আসমানি কিতাব অবতীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে আবাদ হয়েছে এবং যেখানে জিবরাঈল ও মিকাইল (আ.) যাতায়াত করেছেন। যেখান থেকে ফেরেশতা ও রূহ আরোহণ করেছেন এবং যার প্রাঙ্গণসমূহ আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণায় মুখরিত হয়েছে। এর মাটি মানবজাতির শ্রেষ্ঠতম নেতার দেহ মোবারককে ধারণ করেছে এবং এখান থেকেই আল্লাহর দ্বীন ও তাঁর রাসুলের সুন্নাত চতুর্দিকে বিস্তৃত হয়েছে। এগুলো হলো আয়াতের পাঠশালা, নামাজের মসজিদ, ফযিলত ও কল্যাণের কেন্দ্রস্থল, দলিল-প্রমাণ ও মুজিযার মিলনস্থল, দ্বীনের বিধিবিধান পালনের স্থান, মুসলমানদের আবেগ ও অনুভূতির কেন্দ্র এবং রাসুলদের সর্দারের অবস্থানের জায়গা। এটি সর্বশেষ নবীর আবাসস্থল যেখানে নবুওয়তের ঝর্ণাধারা উৎসারিত হয়েছে এবং এর প্রবল ঢেউ প্রবাহিত হয়েছে। এটি রিসালাত অবতীর্ণ হওয়ার স্থান এবং সেই প্রথম মাটি যা মুস্তফা (সা.)-এর পবিত্র ত্বকের পরশ লাভ করেছে—এমন স্থানের প্রাঙ্গণগুলোকে সম্মান করা একান্ত কর্তব্য। (হাফিদ) অর্থ হলো নাতি বা পুত্রের সন্তান। (আল-মুনিফ) অর্থ হলো যা অন্যের তুলনায় ফযিলত বা মর্যাদায় অগ্রগামী। (আল-মারগি) হলো আজদ গোত্রের একটি সুপরিচিত গোত্র 'মারগ'-এর দিকে সম্পৃক্ততা; এটি মিম বর্ণে জবর এবং রা বর্ণে তাশদিদহীন জবর দিয়ে গঠিত এবং শেষে 'গাইন' বর্ণ রয়েছে। (নাজ্জারাল্লাহ) এখানে দাদ বর্ণে তাশদিদ দিয়ে অথবা তাশদিদ ছাড়া উভয়ভাবেই পড়া যায়, তবে তাশদিদযুক্ত রূপটিই অধিক প্রচলিত, যার অর্থ হলো আল্লাহ উজ্জ্বল ও সুন্দর করুন। (আল-ইয়ামারি) এখানে মিম বর্ণে জবর অথবা পেশ উভয়টিই হতে পারে। (আল-আশতাত) যার অর্থ হলো বিবিধ বা বিচ্ছিন্ন বস্তুসমূহ। (আল-মুরকিলাহ) ক্বফ বর্ণ দিয়ে গঠিত, যার অর্থ হলো দ্রুতগামী। (আল-মাওরিদ) মিম বর্ণে জবর এবং রা বর্ণে জের দিয়ে গঠিত। (গুল্লাত) গাইন বর্ণে পেশ দিয়ে গঠিত, যার অর্থ হলো প্রচণ্ড তৃষ্ণা। (আল-মুকাদ্দাসাহ) অর্থাৎ অতি পবিত্র; আর কুদ্দুস মানে হলো পবিত্রতা। জিবরাঈল (আ.)-কে রূহুল কুদ্দুস বলা হয় কারণ তিনি কোনো পাপ স্পর্শ করেননি। (সামাত) অর্থাৎ এটি সুউচ্চ হয়েছে; 'সুমু' মানে উচ্চতা। (আলাল আফাক) এটি উফুক শব্দের বহুবচন, যার অর্থ হলো দিগন্ত বা প্রান্ত। (ফুদিল্যাত) এখানে দাদ বর্ণে জবর হবে। (যাকাত) যা যা বর্ণ দিয়ে গঠিত এবং এর অর্থ হলো পবিত্র হওয়া। (জাদির) জিম বর্ণের পর দাল বর্ণ দিয়ে গঠিত, যা 'আজিম' শব্দের ওজনে এবং এর অর্থ হলো যোগ্য বা উপযুক্ত; হারি, খালিক এবং কামান শব্দগুলো এর সমার্থক। (মাওয়াতিন) শব্দটি রূপান্তরিত হয় না। (দাজ্জাত) দাদ এবং জিম বর্ণ দিয়ে গঠিত, যা 'দাজিজ' শব্দ থেকে এসেছে এবং এর অর্থ হলো আওয়াজ উঁচু করা। (হাইসু) শব্দটি পেশের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। (উবাবাহা) আইন বর্ণে পেশ এবং দুইবার বা বর্ণ যোগে গঠিত, যার অর্থ হলো প্লাবনের মূল অংশ বা তার উচ্চতা।
(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ২৯)
وتتنسم نفحاتها وتقبل ربوعها وجدراتها وأنشد شعرا:

يادار خير المرسلين ومن به … هدي الانام وخص بالآيات

عندى لاجلك لوعة وصبابة … وتشوق متوقد الجمرات

وعلي عهد إن ملأت محاجرى … من تلكم الجدرات والعرصات

لاعفرنّ مصون شيبى بالثرى … من كثرة التقبيل والرشفات

لولا العوادي والاعادى زرتها … أبدا ولو سحبا على الوجنات

لكن سأهدى من حفيل تحيتى … لقطين تلك الدار والحجرات

اذكى من المسك المفتق نفحة … تغشاه بالآصال والبكرات

ونخصه بزواكى الصلوات … ونوامى التسليم والبركات

وكثرته (وأنشد) مبنى للفاعل والمراد عياض كما قال الشمني زاد هذه الابيات له (لوعة) بفتح اللام حرارة الشوق (وصبابة) بالمهملة والموحدة المكررة بوزن سحابة هي رقة الشوق (لولا العوادى) ما يعدو على الانسان ويصول من النوائب شبهها بعد والسبع (والاعادي) جمع عدو (من حفيل) بالمهملة والفاء بوزن عظيم أي جميع قال الجوهري في الصحاح حفل القوم واحتفلوا أى اجتمعوا (القطين) بالقاف ثم مهملة بوزن الاول والقطين هو القاطن أي المقيم (المفتق) بتشديد الفوقية المفتوحة أي المستخرج الرائحة (بزواكى ونوامي) بفتح الياءين لاقامة الوزن (تنبيهان) الاول فات المصنف ذكر الاحاديث الواردة في فضل الصلاة في مسجده صلى الله عليه وسلم وكان ينبغي له الاتيان بذلك كما أتى به في فضل الصلاة في المسجد الحرام. وذلك كقوله صلى الله عليه وسلم صلاة في مسجدي هذا أفضل من ألف صلاة فيما سواه من المساجد الا المسجد الحرام أخرجه أحمد والشيخان والترمذي والنسائي من حديث أبي هريرة وأخرجه أحمد ومسلم والنسائي وابن ماجه من حديث ابن عمر وأخرجه مسلم من حديث ميمونة وأخرجه أحمد من حديث جبير بن مطعم وسعد بن أرقم وأخرجه أحمد وابن ماجه من حديث جابر وأخرجه أحمد وابن حبان من حديث ابن الزبير وأخرجه البيهقي من حديث ابن عمر وأخرجه الطبراني من حديث أبي الدرداء فتبلغ صلاة واحدة في مسجده صلى الله عليه وسلم عمر ستة أشهر هلالية وثلاثة وعشرين يوما والنفل في ذلك كالفرض خلافا للطحاوي قال النووي وذلك فيما يرجع الى الثواب ولا يتعدى الى الاجزاء عن الفوائت بلا خلاف وقد مرّ عنه نظير ذلك في الصلاة في المسجد الحرام قال وهذه الفضيلة مختصة بنفس مسجده صلى الله عليه وسلم الذى كان في زمانه دون ما زيد بعده وهذا هو الصحيح وان نظر فيه السيوطي مستشهدا بحديث أخرجه الزبير بن بكار (الثاني) هل المسجد الذي أسس على التقوى هو أو مسجد قبا قال النووي بالاول مستدلا بالحديث الصحيح في صحيح مسلم وسنن الترمذي والنسائي عن أبي سعيد أنه صلى الله عليه وسلم لما سئل عن المسجد الذي أسس على التقوى أخذ كفا من حصا فضرب به الارض ثم قال هو مسجدكم
এবং এর সুগন্ধি গ্রহণ করা হয় এবং এর প্রাঙ্গণ ও দেয়ালগুলো চুম্বন করা হয় এবং তিনি কবিতা পাঠ করেন:

হে শ্রেষ্ঠ রাসুলের আবাসভূমি, যাঁর মাধ্যমে … সৃষ্টিজগত হিদায়াত পেয়েছে এবং যাকে নিদর্শনাদি দ্বারা বিশেষিত করা হয়েছে।

আপনার তরে আমার হৃদয়ে রয়েছে দহন ও অনুরাগ … এবং প্রজ্জ্বলিত অঙ্গারের ন্যায় ব্যাকুলতা।

আমার ওপর অঙ্গীকার রইল যে, যদি আমার নয়নযুগল পূর্ণ হয় … ঐসকল দেয়াল ও প্রাঙ্গণ দর্শনে,

তবে আমি অবশ্যই আমার সংরক্ষিত শুভ্র দাড়িকে ধূলিধূসরিত করব … অধিক পরিমাণে চুম্বন ও স্পর্শের আতিশয্যে।

যদি বাধা-বিপত্তি ও শত্রুরা না থাকত, তবে আমি তা জিয়ারত করতাম … সর্বদা, এমনকি গাল ঘষে ঘষে পথ চলে হলেও।

কিন্তু আমি আমার পূর্ণ অভিবাদন থেকে উপহার পেশ করব … সেই ঘর ও কক্ষসমূহের বাসিন্দার প্রতি।

যা বিদীর্ণ মৃগনাভির সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুবাসিত … যা তাঁকে সকাল ও সন্ধ্যায় পরিবেষ্টন করে থাকে।

আর আমরা তাঁকে বিশেষিত করি পবিত্র দরুদসমূহ … এবং উত্তরোত্তর বৃদ্ধিশীল সালাম ও বরকতসমূহের মাধ্যমে।

এবং এর আধিক্য (তিনি পাঠ করলেন) কথাটি কর্তৃবাচ্যে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন আল্লামা ইয়ায, যেমনটি শুমুন্নি বলেছেন যে তিনি এই পংক্তিগুলো তাঁর জন্য যুক্ত করেছেন। (লাউআহ) ‘লাম’ বর্ণের ফাতহা বা যবরসহ, এর অর্থ হলো বিরহজ্বালা। (সাবাহবাহ) ‘সিন’ এবং দ্বিত্ব ‘বা’ বর্ণের মাধ্যমে ‘সাহাবাহ’ এর ওজনে, এর অর্থ হলো অনুরাগের কোমলতা। (লাউলাল আওয়াওয়াদি) যা মানুষকে আক্রমণ করে এবং বিপদের মাধ্যমে পরাস্ত করে, একে শত্রু ও হিংস্র প্রাণীর সাথে তুলনা করা হয়েছে। (আল-আআদি) এটি ‘আদুউ’ (শত্রু) এর বহুবচন। (মিন হাফিল) ‘হা’ এবং ‘ফা’ বর্ণের মাধ্যমে ‘আযিম’ এর ওজনে, অর্থাৎ পরিপূর্ণ বা সমষ্টি। জাওহারি ‘সিহাহ’ গ্রন্থে বলেছেন, ‘হাফালাল ক্বাওমু ও ইহতাফালু’ অর্থাৎ লোকেরা সমবেত ও একত্রিত হয়েছে। (আল-কাতিন) ‘কাফ’ এবং পরবর্তী বর্ণগুলোর মাধ্যমে প্রথম শব্দের ওজনে, কাতিন অর্থ হলো বসবাসকারী বা স্থায়ী বাসিন্দা। (আল-মুফাত্তাক) ‘তা’ বর্ণের তাশদীদ ও যবরসহ, এর অর্থ হলো যা থেকে সুগন্ধি বের করা হয়েছে। (বি-যাওয়াকি ওয়া নাওয়ামি) ছন্দ রক্ষার জন্য উভয় শব্দের শেষ ‘ইয়া’ বর্ণে যবর দেয়া হয়েছে। (দুটি সতর্কীকরণ) প্রথম: গ্রন্থকার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মসজিদে সালাত আদায়ের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন। অথচ মাসজিদুল হারামে সালাতের ফজিলত যেভাবে তিনি উল্লেখ করেছেন, এটিও সেভাবে নিয়ে আসা তাঁর জন্য উচিত ছিল। যেমন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী: "আমার এই মসজিদে এক ওয়াক্ত সালাত মাসজিদুল হারাম ব্যতীত অন্য সকল মসজিদে এক হাজার সালাতের চেয়েও উত্তম।" এটি ইমাম আহমাদ, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি ও নাসাঈ আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ, মুসলিম, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। মুসলিম মাইমুনা রাযিয়াল্লাহু আনহার হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আহমাদ জুবাইর বিন মুতয়িম ও সাদ বিন আরকাম রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে এবং আহমাদ ও ইবনে মাজাহ জাবির রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আহমাদ ও ইবনে হিব্বান ইবনুয যুবাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে এবং বাইহাকি ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে এবং তাবারানি আবু দারদা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। সুতরাং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে এক ওয়াক্ত সালাত সাধারণ সময়ের ছয় চান্দ্র মাস ও তেইশ দিনের সালাতের সমান হয়। এক্ষেত্রে নফল ইবাদতও ফরযের মতোই ফজিলতপূর্ণ, যা ইমাম তহাবির মতের পরিপন্থী। ইমাম নববী বলেছেন, এই ফজিলত সওয়াবের আধিক্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তবে সর্বসম্মতিক্রমে এটি ছুটে যাওয়া সালাত কাযা করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট হবে না। মাসজিদুল হারামে সালাত সম্পর্কেও তাঁর পক্ষ থেকে অনুরূপ আলোচনা অতিক্রান্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, এই ফজিলত তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মূল মসজিদের সাথেই নির্দিষ্ট যা তাঁর যুগে ছিল, পরবর্তী সময়ে যা বৃদ্ধি করা হয়েছে তার জন্য নয়। এটিই সঠিক মত, যদিও আল্লামা সুয়ূতী যুবাইর বিন বাক্কার কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদিসের মাধ্যমে এতে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। (দ্বিতীয়) ‘যে মসজিদ তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত’ তা কি এই মসজিদ নাকি মসজিদে কুবা? ইমাম নববী প্রথমটির (মসজিদে নববী) কথা বলেছেন, যেখানে তিনি সহীহ মুসলিম, সুনানে তিরমিজি ও নাসাঈতে বর্ণিত সহীহ হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন যে, আবু সাঈদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঐ মসজিদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যা তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত, তখন তিনি এক মুষ্টি কঙ্কর নিলেন এবং তা জমিনে নিক্ষেপ করে বললেন: "এটি হলো তোমাদের এই মসজিদ।"
(খণ্ড: ১) শারহু বাহজাতিল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতিল আমাসিল (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌[فصل في ذكر آبائه صلى الله عليه وسلم]

(فصل) وأما عدد آبائه فهو صلي الله عليه وآله وسلم أبو القاسم وأبو الارامل وأبو ابراهيم (محمد بن عبد الله) بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصى بن كلاب بن مرة ابن كعب بن لؤى بن غالب بن فهر بن مالك بن النضر بن كنانة بن خزيمة بن مدركة بن الياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان بن أددبن مقوم بن ناحور هذا لمسجد المدينة قال هذا نص بانه المسجد الذي أسس على التقوى المذكور في القرآن قال السيوطي في الديباج قلت تعارضه أحاديث أخر منها ما أخرجه أبو داود بسند صحيح عن أبي هريرة رضى الله عنه ان النبي صلى الله عليه وسلم قال نزلت هذه الآية (فيه رجال يحبون أن يتطهروا والله يحب المتطهرين) في أهل قبالانهم كانوا يستنجون بالماء والحق ان القولين شهيران والاحاديث لكل منهما شاهدة ولهذا مال الحافظ عماد الدين ابن كثير الى الجمع وترجيح التفسير انه مسجد قبا لكثرة أحاديثه الواردة وبيان سبب نزول الآية قال ولا ينافي ذلك حديث مسلم وغيره لانه اذا كان مسجد قبا أسس على التقوي فمسجد النبي صلي الله عليه وسلم أولى بذلك (خاتمة) الشام بعد الحرمين أفضل البقاع لحديث الشام صفوة الله من بلاده أخرجه الطبراني والحاكم من حديث أبي امامة ولانها أرض المحشر والمنشر كما أخرجه أبو الحسن بن شجاع الربعي في فضائل الشام من حديث أبي ذر ولان نوره صلى الله عليه وسلم ليلة الولادة سطع عليها ثم اليمن لحديث الايمان يمان وهو مشهور في الصحيحين وغيرهما ثم الغرب لحديث لا يزال أهل الغرب ظاهرين الى آخره وهو في صحيح مسلم ولا يقال هذا الحديث فيه فضيلة أهل الغرب لهذا لانا نقول تقرر ان المفاضلة في الاشخاص حقيقة انما هي بحسب الديانة والتقوى ولا شك ان للبقاع تأثيرا في صلاح الطباع وفسادها من حيث إثارة الشهوات وغيرها كما ذكروا نظير ذلك في الفصول فصلاح الاشخاص حينئذ سببه صلاح البقعة واعتدالها وعدم خروجها عن الحد في تأثير الطبائع الاربع والله أعلم*

(فصل) وأما عدد آبائه (محمد) سمى به لخصاله المحمودة وكان ذلك بالهام من الله لجده (ابن عبد الله) قيل كان اسمه عبد الدار وقيل عبد قصى فلما فدى من الذبح سماه أبوه عبد الله (فهر) بفاء مكسورة فهاء ساكنة فراء قال في التوشيح هو قريش فقيل الاول اسمه والثاني لقبه وقيل عكسه (النضر) بالمعجمة (مدركة) اسمه عمرو وقيل عامر (الياس) بفتح الهمزة على لفظ الياس الذي هو ضد الرجاء واللام فيه للمح الصفة وقيل بالكسر كاسم النبي الياس وهو مشتق من قولهم أليس الشجاع أى لم يفر. قال النووي في التهذيب هو بكسر الهمزة على الصحيح الاشهر. وقال عياض في المشارق ضبطه ابن الانباري بفتح الهمزة ولام التعريف (مضر) بالمعجمة والراء بوزن عمر سمى بذلك لمحبته اللبن الماضر أي الحامض قيل وهو أول من حدا الابل وكان حسن الصوت وأخرجه ابن سعد عن عبد الله بن خالد مرسلا لا تسبوا مضر فانه كان قد أسلم (نزار) بنون وزاي فراء ككتاب قاله في القاموس وضبطه غيره بكسر النون وفتحها وهو مشتق من النزر وهو القليل سمى به لانه كان فريد عصره قاله أبو الفرج الاصبهاني (معد) بفتح الميم والعين وتشديد الدال المهملتين (عدنان) بالمهملة والنون بوزن مروان (ادد) بضم ففتح كعمر وبضمتين أيضا قال في القاموس وهو مصروف (مقوم) بكسر الواو اسم فاعل وبفتحها اسم مفعول (ناحور) بنون ومهملة وراء
[পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পূর্বপুরুষদের বর্ণনায়]

(পরিচ্ছেদ) আর তাঁর পূর্বপুরুষদের সংখ্যা প্রসঙ্গে; তিনি হলেন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম আবুল কাসিম, বিধবাদের পিতা এবং ইবরাহিমের পিতা (মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ) ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আব্দে মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে আন-নাদর ইবনে কিনানাহ ইবনে খুজাইমাহ ইবনে মুদরিকাহ ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিজার ইবনে মা’আদ ইবনে আদনান ইবনে আদাদ ইবনে মুকাউওয়াম ইবনে নাহুর। মদিনার এই মসজিদ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি হলো সেই মসজিদ যার ভিত্তি কুরআনে বর্ণিত তাকওয়ার ওপর স্থাপিত হয়েছে। সুয়ূতী 'আদ-দিবাজ' গ্রন্থে বলেন, আমি বলছি যে, এর বিপরীতে অন্যান্য হাদিস রয়েছে যার মধ্যে একটি আবু দাউদ সহিহ সনদে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, এই আয়াত— (তাতে এমন লোক রয়েছে যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে, আর আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন)—কুবা বাসীদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে কারণ তারা পানি দিয়ে শৌচকার্য সম্পাদন করত। সত্য কথা এই যে, উভয় মতই প্রসিদ্ধ এবং হাদিসসমূহ উভয়টির পক্ষেই সাক্ষ্য দেয়। এজন্য হাফেজ ইমাদউদ্দীন ইবনে কাসির দুই মতের সমন্বয় এবং কুবা মসজিদের তাফসিরকে প্রাধান্য দেওয়ার দিকে ঝুঁকেছেন এর সপক্ষে বর্ণিত হাদিসের আধিক্যের কারণে এবং আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ স্পষ্ট করার জন্য। তিনি বলেন, এটি মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক নয়, কারণ যদি কুবা মসজিদের ভিত্তি তাকওয়ার ওপর স্থাপিত হয়, তবে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদ এর জন্য অধিকতর যোগ্য। (উপসংহার) হারামাইন (মক্কা ও মদিনা)-এর পর শাম হলো সর্বোত্তম ভূখণ্ড, কারণ হাদিসে এসেছে—শাম হলো আল্লাহর জমিনের মধ্যে তাঁর মনোনীত ভূখণ্ড। তাবারানি ও হাকেম এটি আবু উমামা থেকে বর্ণনা করেছেন। কারণ এটি হলো হাশর ও নশর (পুনরুত্থান ও সমাবেশের) ময়দান, যেমনটি আবু হাসান বিন শুজা আল-রাবঈ 'ফাদায়িলে শাম' গ্রন্থে আবু যর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। আরও কারণ হলো, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্মের রাতে তাঁর নূর সেখান থেকে বিচ্ছুরিত হয়েছিল। এরপর ইয়ামেনের স্থান, কারণ হাদিসে এসেছে—ঈমান হলো ইয়ামেনি, যা বুখারি, মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে প্রসিদ্ধ। এরপর পশ্চিম অঞ্চল, কারণ হাদিসে আছে—পশ্চিম অঞ্চলের মানুষ সর্বদা বিজয়ী থাকবে শেষ পর্যন্ত, যা সহিহ মুসলিমে রয়েছে। এমনটি বলা যাবে না যে, এই হাদিসটি কেবল পশ্চিম অঞ্চলের অধিবাসীদের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এসেছে, কারণ আমরা বলছি যে, এটি প্রতিষ্ঠিত সত্য যে ব্যক্তিদের পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব মূলত ধর্মীয় আনুগত্য ও তাকওয়ার ভিত্তিতে হয়। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, স্থান বা ভূখণ্ডের প্রভাব মানুষের স্বভাবের ভালো বা মন্দের ওপর পড়ে, প্রবৃত্তি উসকে দেওয়া বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে; যেমনটি ঋতু পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং ব্যক্তিদের স্বভাবের ভালো হওয়া তখন সেই ভূখণ্ডের ভালো হওয়া, তার ভারসাম্যতা এবং চার প্রকৃতির প্রভাবের সীমা অতিক্রম না করার কারণে হয়ে থাকে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

(পরিচ্ছেদ) আর তাঁর পূর্বপুরুষদের বর্ণনায়— (মুহাম্মাদ) তাঁর প্রশংসনীয় গুণাবলির জন্য এই নামকরণ করা হয়েছে এবং এটি ছিল তাঁর দাদার প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ইলহাম। (ইবনে আব্দুল্লাহ) বলা হয় তাঁর নাম ছিল আব্দুদ দার, আবার বলা হয় আব্দে কুসাই, কিন্তু যখন যবেহ (কুরবানি) থেকে মুক্তিপণ দেওয়া হলো তখন তাঁর পিতা নাম রাখেন আব্দুল্লাহ। (ফিহর) 'ফা' বর্ণে কাসরা, 'হা' বর্ণে সুকুন এবং শেষে 'রা'। 'তাত্ত্বিশ' গ্রন্থে বলা হয়েছে, তিনি হলেন কুরাইশ। বলা হয় প্রথমটি নাম এবং দ্বিতীয়টি উপাধি, আবার এর বিপরীতটিও বলা হয়। (আন-নাদর) 'দাদ' বর্ণযোগে। (মুদরিকাহ) তাঁর নাম আমর, আবার বলা হয় আমির। (ইলিয়াস) হামজার ওপর ফাতহা যোগে 'ইলিয়াস' শব্দের মতো যা আশার বিপরীত (হতাশা), এখানে 'লাম' বর্ণটি গুণের আধিক্য বোঝাতে এসেছে। আবার বলা হয় কাসরা যোগে নবী ইলিয়াস (আলাইহিস সালাম)-এর নামের মতো। এটি তাদের কথা 'আলাইসা আশ-শুজা' (বীর কখনো পালায় না) থেকে উদ্ভূত। নববী 'আত-তাজিব' গ্রন্থে বলেন, বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী এটি হামজার নিচে কাসরা যোগে। আর ইয়াদ 'আল-মাশারিক' গ্রন্থে বলেন, ইবনুল আনবারি এটি হামজার ওপর ফাতহা এবং লামে তারিফ (আলিফ-লাম) যোগে লিখেছেন। (মুদার) 'দাদ' বর্ণে ফাতহা এবং 'রা' যোগে 'উমর'-এর ওজনে। টক দুধ বা 'মাদির' পছন্দ করার কারণে তাঁর এই নামকরণ করা হয়েছে। বলা হয়, তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি উট চালনার গান বা 'হুদা' গেয়েছিলেন এবং তিনি সুকণ্ঠের অধিকারী ছিলেন। ইবনে সাদ এটি আব্দুল্লাহ বিন খালিদ থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে—তোমরা মুদারকে গালি দিও না, কারণ তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। (নিজার) 'নুন', 'যা' এবং 'রা' যোগে 'কিতাব'-এর ওজনে, যা কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে। অন্যরা এটি নুন বর্ণে কাসরা ও ফাতহা উভয়ভাবে পড়েছেন। এটি 'নাজর' থেকে উদ্ভূত যার অর্থ অল্প; তাঁর এই নামকরণ করা হয়েছে কারণ তিনি তাঁর যুগের অনন্য ব্যক্তি ছিলেন, এ কথা আবু ফারাজ আল-আসফাহানি বলেছেন। (মা’আদ) মিম ও আইন বর্ণে ফাতহা এবং 'দাল' বর্ণে তাশদিদ যোগে। (আদনান) 'আইন' ও 'নুন' বর্ণ যোগে 'মারওয়ান'-এর ওজনে। (আদাদ) প্রথম বর্ণে পেশ এবং দ্বিতীয় বর্ণে জবর যোগে 'উমর'-এর মতো, আবার দুই পেশ যোগেও পড়া হয়। কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে এটি কাসরাহীন শব্দ। (মুকাউওয়াম) 'ওয়াও' বর্ণে কাসরা যোগে ইসমে ফায়েল অথবা ফাতহা যোগে ইসমে মাফউল। (নাহুর) 'নুন' এবং 'হা' ও 'রা' বর্ণ যোগে।