(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
تثبيت دلائل النبوة القسم: السيرة النبوية
الكتاب: تثبيت دلائل النبوة
المؤلف: القاضى عبد الجبار بن أحمد الهمذاني [المعتزلي] (ت 415 هـ)
حققه وقدم له: د عبد الكريم عثمان [ت 1392 هـ]
الناشر: دار العربية، بيروت - لبنان
(وصورتها دور مثل دار المصطفى - مصر)
عام النشر: 1386 هـ - 1966 م
عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নবুওয়াতের নিদর্শনাদি সুদৃঢ়করণ বিভাগ: সীরাতুন্নবী
গ্রন্থ: নবুওয়াতের নিদর্শনাদি সুদৃঢ়করণ
লেখক: কাযী আব্দুল জব্বার বিন আহমদ আল-হামাদানি [মুতাযিলী] (মৃত্যু ৪১৫ হিজরি)
সম্পাদনা ও উপস্থাপনা: ড. আব্দুল কারীম উসমান [মৃত্যু ১৩৯২ হিজরি]
প্রকাশক: দারুল আরাবিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন
(এবং এর অনুরূপ অনুলিপি দারুল মুস্তফা - মিসরের মতো প্রকাশনীসমূহ থেকেও প্রকাশিত হয়েছে)
প্রকাশের বছর: ১৩৮৬ হিজরি - ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক নম্বরযুক্ত)
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১)
المقدّمةبسم الله الرحمن الرحيم
إن الإيمان بالنبوة أو قيام صلة بين الله والانسان بواسطة احد عباده الذي نسميه نبيا او رسولا من أهم ما يميز الأديان السماوية عن غيرها من الديانات، إذ أن هناك أديانا كالبرهمية تؤمن بوجود الله لكنها تنكر النبوات ولا ترى حاجة لوجود هذه الصلة بين الله والانسان، وحجتهم في ذلك، أن ما أتى به الانبياء إما موافق للعقل ففي العقل غنى عنه أو مخالف له فلا حاجة لنا به، لأن العقل هو المصدر الوحيد الذي نستدل به على حقائق الأمور.
والحق أن من المستحيل ان نؤمن بفكرة وجود الخالق المدبر ولا نتبعها بالايمان برعايته لخلقه وتدبيره المستمر للكون. إذ ما الفائدة من الخلق اذا لم يعن الخالق بشؤون خلقه، أما أن العقل قد يعارض ما تأتي به النبوة فليس هذا ضروريا، لأن جميع الأمور التي نزلت بها الرسالات السماوية يقرها العقل الذي يعتمد على تفكير علمي منظم، هذا بالاضافة الى ان لكل من العقل والوحي ميدانه الخاص في كثير من المسائل، واذا امكن لنا ان نتوصل بالمنطق التجريبي والرياضي الى حقائق علوم الكون والحياة فإننا لا نستطيع بغير الوحي ان نتوصل الى حقائق ما وراء المادة.
ভূমিকাপরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নবুওয়াতের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা অথবা আল্লাহ এবং মানুষের মাঝে তাঁরই এমন এক বান্দার মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন করা—যাকে আমরা নবী বা রাসূল বলে সম্বোধন করি—আসমানি ধর্মসমূহকে অন্যান্য ধর্ম থেকে পৃথককারী অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। কেননা এমন কিছু ধর্ম রয়েছে, যেমন—ব্রাহ্মণ্যবাদ, যারা আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করলেও নবুওয়াতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহ ও মানুষের মাঝে এই ধরনের সম্পর্কের কোনো প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে না। তাদের যুক্তি হলো—নবীরা যা নিয়ে এসেছেন তা হয় বুদ্ধির অনুকূল হবে, আর বুদ্ধির অনুকূল হলে বুদ্ধিই তার জন্য যথেষ্ট (অতিরিক্ত কিছুর প্রয়োজন নেই); অথবা তা বুদ্ধির পরিপন্থী হবে, আর সেক্ষেত্রে আমাদের তার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ বুদ্ধিই একমাত্র উৎস যার মাধ্যমে আমরা বস্তুর প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে প্রমাণ লাভ করি।
প্রকৃতপক্ষে, একজন মহান স্রষ্টা ও পরিকল্পনাকারীর অস্তিত্বে বিশ্বাস করার পর তাঁর সৃষ্টির প্রতি তাঁর যত্ন এবং মহাবিশ্বের ওপর তাঁর নিরবচ্ছিন্ন ব্যবস্থাপনার ওপর বিশ্বাস না রাখা অসম্ভব। কারণ, যদি স্রষ্টা তাঁর সৃষ্টির বিষয়াবলি দেখাশোনা না-ই করেন, তবে এই সৃষ্টির সার্থকতা কী? আর বুদ্ধিবৃত্তি নবুওয়াতের আনীত বার্তার সাথে বিরোধ করতে পারে—এমনটা হওয়া আবশ্যক নয়; কারণ আসমানি রিসালাত বা বার্তাসমূহ যেসব বিষয় নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে, সুশৃঙ্খল বৈজ্ঞানিক চিন্তার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত বুদ্ধি সেগুলোকে স্বীকার করে নেয়। এর পাশাপাশি অনেক বিষয়ের ক্ষেত্রে বুদ্ধি এবং ওহি—উভয়েরই নিজস্ব ক্ষেত্র রয়েছে। যদি আমরা পরীক্ষামূলক ও গাণিতিক যুক্তির মাধ্যমে মহাবিশ্ব এবং জীবন বিজ্ঞানের বিভিন্ন সত্যে উপনীত হতে সক্ষম হই-ও, তথাপি ওহি বা ঐশী প্রত্যাদেশ ব্যতীত আমরা অতিপ্রাকৃতিক বা ইন্দ্রিয়াতীত জগতের সত্যসমূহ সম্পর্কে অবগত হতে পারব না।
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২)
والصلة بين الله والرسل تتم بوسائل متعددة لن نبحث في تفصيلها وانما سنلقي نظرة سريعة على أهم هذه الوسائل لنأخذ فكرة عنها.
إن الوحي غالبا ما ييدأ بالرؤى الصادقة، وفي قصص الأنبياء كثير من حوادث هذه الرؤى. وقد قص علينا القرآن كيف انها طريقة من طرق الوحي عند ما حدثنا عن ابراهيم واسماعيل عليهما السلام، وكيف أمر ابراهيم بذبح ابنه «فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قالَ يا بُنَيَّ إِنِّي أَرى فِي الْمَنامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانْظُرْ ماذا تَرى، قالَ يا أَبَتِ افْعَلْ ما تُؤْمَرُ» «1» .
وقد تكون وسيلة الاتصال الالهام في حالة اليقظة كما حدث للرسول محمد عليه الصلاة والسلام اذ أتاه هذا الالهام وهو جالس بين المسلمين وعبر عنه بقوله «هذا رسول رب العالمين نفث في روعي أنه لا تموت نفس حتى تستكمل رزقها..» .
وقد يكون الاتصال بأن يكلم الله الرسول مباشرة كما حصل لموسى عليه السلام مما قص علينا القرآن قصته «فَلَمَّا أَتاها نُودِيَ مِنْ شاطِئِ الْوادِ الْأَيْمَنِ فِي الْبُقْعَةِ الْمُبارَكَةِ مِنَ الشَّجَرَةِ أَنْ يا مُوسى إِنِّي أَنَا اللَّهُ
… » «2» .
والطريقة المعتادة في حصول الاتصال بين الله والرسل هي الوحي بواسطة جبريل عليه السلام «نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ عَلى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ بِلِسانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ» «3» ، وكان جبريل أحيانا ينزل مجسدا ويراه المسلمون كما حصل
--------------------------------------------
আল্লাহ এবং রাসূলগণের মধ্যে সংযোগ একাধিক উপায়ে সম্পন্ন হয় যার বিস্তারিত আমরা আলোচনা করব না, বরং আমরা একটি ধারণা পাওয়ার জন্য এই উপায়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণগুলোর ওপর সংক্ষেপে দৃষ্টিপাত করব।
নিশ্চয়ই ওহী অধিকাংশ ক্ষেত্রে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে শুরু হয় এবং নবীদের কাহিনীসমূহে এ ধরণের স্বপ্নের বহু ঘটনা রয়েছে। কুরআন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছে যে, এটি কীভাবে ওহীর একটি পদ্ধতি ছিল, যখন আমাদের নিকট ইব্রাহিম ও ইসমাইল আলাইহিমাস সালাম সম্পর্কে আলোচনা করেছে এবং কীভাবে ইব্রাহিমকে তার পুত্রকে জবেহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল: “অতঃপর সে যখন তার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হলো, তখন সে বলল, হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখছি যে, আমি তোমাকে জবেহ করছি, অতএব দেখ তোমার অভিমত কী। সে বলল, হে আব্বাজান! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তা-ই করুন।” (১)।
আর যোগাযোগের মাধ্যমটি জাগ্রত অবস্থায় ইলহামও হতে পারে, যেমনটি রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ক্ষেত্রে ঘটেছিল যখন তিনি মুসলিমদের মাঝে উপবিষ্ট থাকা অবস্থায় তাঁর নিকট এই ইলহাম এসেছিল এবং তিনি তা এই বলে ব্যক্ত করেছিলেন: “নিশ্চয়ই জগতসমূহের প্রতিপালকের দূত আমার অন্তরে ফুঁকে দিয়েছেন যে, কোনো প্রাণ ততক্ষণ মৃত্যুবরণ করবে না যতক্ষণ না সে তার রিজিক পূর্ণভাবে গ্রহণ করবে...।”
আবার যোগাযোগটি এমন হতে পারে যে আল্লাহ সরাসরি রাসূলের সাথে কথা বলবেন, যেমনটি মুসা আলাইহিস সালামের ক্ষেত্রে ঘটেছিল যা কুরআন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছে: “অতঃপর যখন সে সেখানে পৌঁছালো, তখন উপত্যকার ডানদিকের বরকতময় ভূমিতে অবস্থিত একটি গাছ থেকে তাকে আহ্বান করে বলা হলো, হে মুসা! নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ...।” (২)।
আর আল্লাহ এবং রাসূলগণের মধ্যে যোগাযোগের সাধারণ পদ্ধতি হলো জিবরাইল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে ওহী হওয়া: “বিশ্বস্ত আত্মা এটি নিয়ে আপনার হৃদয়ে অবতরণ করেছে যাতে আপনি সতর্ককারী হতে পারেন, সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।” (৩)। আর জিবরাইল কখনো কখনো সশরীরে অবতীর্ণ হতেন এবং মুসলিমরা তাঁকে দেখতে পেতেন যেমনটি ঘটেছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
في حديث أركان الايمان والإحسان وأشراط الساعة الذي روي عن عمر ابن الخطاب رضي الله عنه.
ومن الطبيعي حين يدعي انسان ما انه يتصل بالله ويحمل منه الى الناس رسالة ترتب عليهم تكاليف وواجبات ان يطالبه الناس بالدليل على صدقه، ولم ير القرآن في هذا ما يخرج على المعقول والمنطق حتى انه قصّ علينا ان ذلك حصل من بعض الانبياء «وَإِذْ قالَ إِبْراهِيمُ رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِ الْمَوْتى، قالَ أَوَلَمْ تُؤْمِنْ، قالَ بَلى وَلكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي» «1» .
ومن هنا ظهرت الحاجة الى وجود ما يثبت النبوة، وتعد المعجزات من أهم الوسائل التي أنزلها الله على رسله ليقتنع الناس انهم لا يمثلون أنفسهم وإنما يمثلون الله تعالى، ولا شك ان الايمان بالرسل مرتبط ارتباطا وثيقا بالايمان بالله وبالغيب الذي يعتبر من اهم صفات المسلم التقي «الم، ذلِكَ الْكِتابُ لا رَيْبَ فِيهِ هُدىً لِلْمُتَّقِينَ، الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ» «2» .
والقرآن يتحدث عن مجموعة من المعجزات المادية منها والمعنوية. والمعجزة في حقيقتها هي الحادث الخارق للعادة والقوانين التي يلاحظها الناس وتسير عليها حوادث الكون يجريه الله تأييدا للأنبياء. وقد حاول البعض ان يعطي المعجزة صورة الأمر العادي الذي يحصل في الطبيعة بطريق الصدقة أو العلم، ولكن المعجزة في الواقع تفقد معناها وكونها دلالة على صدق النبي اذا فقدت الصفة الخارقة.
فاذا قال مدعي النبوة إن دلالة صدقي أن تطلع الشمس من المغرب وهي تطلع عادة من المشرق كان ذلك دلالة وتأييدا له، أما اذا أخبر قومه ان الشمس تطلع من المشرق فليس في طلوعها ما يثبت أي إعجاز.
--------------------------------------------
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত ঈমানের রুকনসমূহ, ইহসান এবং কিয়ামতের আলামত সম্পর্কিত হাদিসে।
এটা খুবই স্বাভাবিক যে, যখন কোনো ব্যক্তি দাবি করে যে সে আল্লাহর সাথে যুক্ত এবং তাঁর পক্ষ থেকে মানুষের কাছে এমন কোনো বার্তা নিয়ে এসেছে যা তাদের ওপর বিভিন্ন দায়িত্ব ও কর্তব্য অর্পণ করে, তখন মানুষ তার সত্যতার প্রমাণ দাবি করবে। কুরআন একে যুক্তি ও বিবেচনাবোধের পরিপন্থী মনে করেনি, এমনকি কুরআন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছে যে, এটি কোনো কোনো নবীর ক্ষেত্রেও ঘটেছিল: “আর স্মরণ করো, যখন ইব্রাহিম বলল, হে আমার রব! আমাকে দেখান আপনি কীভাবে মৃতকে জীবিত করেন। তিনি বললেন, তবে কি তুমি বিশ্বাস করোনি? সে বলল, অবশ্যই, কিন্তু আমার হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য।” (১)।
এখান থেকেই নবুওয়ত প্রমাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। মুজিযা বা অলৌকিক ঘটনাবলি হলো অন্যতম প্রধান মাধ্যম যা আল্লাহ তাঁর রাসূলদের ওপর অবতীর্ণ করেছেন যাতে মানুষ নিশ্চিত হতে পারে যে, তারা নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করছেন না বরং তারা মহান আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব করছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসূলদের প্রতি ঈমান আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং গায়েবের (অদৃশ্যের) প্রতি ঈমানের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত, যা একজন মুত্তাকী মুসলিমের অন্যতম প্রধান গুণ: “আলিফ-লাম-মীম। এই সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত। যারা গায়েবের প্রতি ঈমান আনে।” (২)।
কুরআন বিভিন্ন ধরনের বস্তুগত ও আত্মিক মুজিযা সম্পর্কে আলোচনা করে। প্রকৃতপক্ষে মুজিযা হলো এমন এক অলৌকিক ঘটনা যা মানুষের পর্যবেক্ষণাধীন অভ্যাস এবং মহাবিশ্বের ঘটনাবলি যে নিয়মে চলে তার পরিপন্থী, যা আল্লাহ নবীদের সমর্থনে পরিচালনা করেন। কেউ কেউ মুজিযাকে প্রকৃতির স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন যা দৈবক্রমে বা বিজ্ঞানের মাধ্যমে ঘটে থাকে, কিন্তু বাস্তবে মুজিযা যদি তার অলৌকিক বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলে, তবে তা তার তাৎপর্য এবং নবীর সত্যতার প্রমাণ হওয়ার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে।
সুতরাং যদি কোনো নবুওয়ত দাবিদার বলে যে, আমার সত্যতার প্রমাণ হলো সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়া—অথচ তা সাধারণত পূর্ব দিক থেকে উদিত হয়—তবে তা তার জন্য একটি প্রমাণ ও সমর্থন হবে। কিন্তু সে যদি তার কওমকে সংবাদ দেয় যে সূর্য পূর্ব দিক থেকে উদিত হয়, তবে এই উদিত হওয়ার মাঝে কোনো মুজিযা প্রমাণিত হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
ومن المعجزات المادية: ناقة صالح، وقد قص القرآن خبرها بقوله:
«قالُوا إِنَّما أَنْتَ مِنَ الْمُسَحَّرِينَ، ما أَنْتَ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنا فَأْتِ بِآيَةٍ إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ، قالَ هذِهِ ناقَةٌ لَها شِرْبٌ وَلَكُمْ شِرْبُ يَوْمٍ مَعْلُومٍ، وَلا تَمَسُّوها بِسُوءٍ فَيَأْخُذَكُمْ عَذابُ يَوْمٍ عَظِيمٍ» «1» . ومنها معجزة عصا موسى التي حدثنا القرآن خبرها بقوله: «قال لئن اتخذت إله غيري لأجعلنك من المسجونين، قال او لو جئتك بشيء مبين، قال: فأت به إن كنت من الصادقين، فألقى عصاه فاذا هي ثعبان مبين، ونزع يده فاذا هي بيضاء للناظرين» . ومنها معجزات عيسى عليه السلام، التي عناها القرآن بقوله: «أَنِّي أَخْلُقُ لَكُمْ مِنَ الطِّينِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ فَأَنْفُخُ فِيهِ فَيَكُونُ طَيْراً بِإِذْنِ اللَّهِ وَأُبْرِئُ الْأَكْمَهَ وَالْأَبْرَصَ وَأُحْيِ الْمَوْتى بِإِذْنِ اللَّهِ، وَأُنَبِّئُكُمْ بِما تَأْكُلُونَ وَما تَدَّخِرُونَ فِي بُيُوتِكُمْ، إِنَّ فِي ذلِكَ لَآيَةً لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ» .
والملاحظ ان معظم الأمم التي أتتها المعجزات اصرت على كفرها وإلحادها ولم تؤمن، وقد بين القرآن ان الهداية بيد الله، وأنه مهما تكن قيمة المعجزة فان نفوسا كثيرة لن ترتدع أو مؤمن «وَلَوْ فَتَحْنا عَلَيْهِمْ باباً مِنَ السَّماءِ فَظَلُّوا فِيهِ يَعْرُجُونَ، لَقالُوا: إِنَّما سُكِّرَتْ أَبْصارُنا، بَلْ نَحْنُ قَوْمٌ مَسْحُورُونَ «2» » .
هل هناك أبلغ من هذه المعجزة؟ إن البعض سيقول انه السحر او خداع البصر، لذلك فإنه تعالى يخبر الرسول بهذا المعنى بقوله: «وَما مَنَعَنا أَنْ نُرْسِلَ بِالْآياتِ إِلَّا أَنْ كَذَّبَ بِهَا الْأَوَّلُونَ، وَآتَيْنا ثَمُودَ النَّاقَةَ مُبْصِرَةً فَظَلَمُوا بِها، وَما نُرْسِلُ بِالْآياتِ إِلَّا تَخْوِيفاً «3» » .
--------------------------------------------
বস্তুগত মুজিযাসমূহের মধ্যে রয়েছে: সালিহ (আ.)-এর উটনী; কুরআন তার সংবাদ প্রদান করে বলেছে:
«তারা বলল, ‘তুমি তো কেবল জাদুগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত। তুমি আমাদের মতোই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নও। সুতরাং তুমি যদি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও তবে একটি নিদর্শন নিয়ে এসো।’ তিনি বললেন, ‘এটি একটি উটনী; এর জন্য রয়েছে পানি পানের একটি নির্দিষ্ট দিন এবং তোমাদের জন্যও রয়েছে পানি পানের একটি নির্দিষ্ট দিন। আর তোমরা একে কোনো মন্দভাবে স্পর্শ করো না, অন্যথায় এক মহাদিবসের আজাব তোমাদের পাকড়াও করবে’»। এর মধ্যে আরও রয়েছে মূসা (আ.)-এর লাঠির মুজিযা, যার সংবাদ কুরআন আমাদের দিয়ে বলেছে: «তিনি (ফেরাউন) বললেন, ‘তুমি যদি আমি ছাড়া অন্য কাউকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাকে কারাবন্দিদের অন্তর্ভুক্ত করব।’ তিনি (মূসা) বললেন, ‘আমি যদি তোমার কাছে কোনো স্পষ্ট বিষয় নিয়ে আসি তবুও কি?’ সে বলল, ‘তবে তা নিয়ে এসো, যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও।’ অতঃপর তিনি তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলেন, অমনি তা একটি স্পষ্ট অজগর হয়ে গেল। এবং তিনি তাঁর হাত বের করলেন, আর তৎক্ষণাৎ তা দর্শকদের কাছে শুভ্র উজ্জ্বল প্রতীয়মান হলো»। এর মধ্যে আরও রয়েছে ঈসা আলাইহিস সালামের মুজিযাসমূহ, যার প্রতি ইঙ্গিত করে কুরআন বলেছে: «নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য মাটি দিয়ে পাখির আকৃতির মতো কিছু তৈরি করি, তারপর তাতে ফুঁ দেই, ফলে আল্লাহর অনুমতিতে তা পাখি হয়ে যায়। আর আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করি এবং আল্লাহর অনুমতিতে মৃতকে জীবিত করি। আর তোমরা যা খাও এবং যা তোমাদের ঘরে জমা করে রাখো, আমি তোমাদের তা জানিয়ে দিই। নিশ্চয়ই এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে, যদি তোমরা মুমিন হও»।
লক্ষণীয় যে, যেসব জাতির কাছে মুজিযা এসেছিল তাদের অধিকাংশ তাদের কুফরি ও নাস্তিকতার ওপর অটল ছিল এবং ঈমান আনেনি। কুরআন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে হিদায়াত আল্লাহর হাতে, এবং মুজিযার গুরুত্ব যা-ই হোক না কেন, অনেক সত্তাই নিবৃত্ত হবে না বা ঈমান আনবে না: «আর যদি আমি তাদের জন্য আসমানের কোনো দরজা খুলে দিতাম এবং তারা তাতে আরোহণ করতে থাকত, তবুও তারা বলত, ‘আমাদের দৃষ্টি কেবল আচ্ছন্ন করে দেওয়া হয়েছে, বরং আমরা এক জাদুগ্রস্ত জাতি’»।
এই মুজিযার চেয়ে অধিক প্রভাবশালী আর কী হতে পারে? কেউ কেউ বলবে যে এটি জাদু বা চোখের প্রতারণা। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা রাসূলকে এই মর্মে সংবাদ দিচ্ছেন: «পূর্ববর্তীরা নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করেছিল বলেই আমি নিদর্শনসমূহ পাঠানো থেকে বিরত রয়েছি। আর আমি সামুদ জাতিকে নিদর্শন হিসেবে একটি চাক্ষুষ উটনী দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা তার ওপর জুলুম করেছিল। আর আমি ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেই নিদর্শনসমূহ পাঠিয়ে থাকি»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
أما المعجزات المعنوية والعقلية فأهمها: القرآن الكريم الذي نزل على محمد عليه الصلاة والسلام. ونستطيع ان نلاحظ بهذه المناسبة ان هذه المعجزة ترتبط ارتباطا وثيقا بالرسالة. والمعجزات إما ذاتية تتعلق بنقل ماهية الرسالة او انها خارجة عن جوهرها، ومعجزة القرآن من النوع الاول لأنها عقلية تخاطب الفكر البشري وتعتمد على الاقناع العقلي اكثر مما تعتمد على القناعة الحسية التي هي اساس المعجزات المادية. ولا شك ان البشرية- حتى بعثة الرسول- كانت قطعت شوطا كبيرا من الرقي العقلي، فأمكن ان تخاطب عقولهم مباشرة، وخطاب العقل أكثر شمولا ودواما واستقرارا، لذلك كان القرآن الكريم معجزة الرسول حتى أبد الدهر.
اختلف العلماء والباحثون في حقيقة الاعجاز في القرآن، ويمكن ان نحدد آراء هؤلاء العلماء في ثلاثة اتجاهات رئيسية:
1- اتجاه يرى ان المعجز في القرآن هو صياغته اللفظية الخارقة للعادة وبلاغته الواضحة التي اعجزت العرب ان يأتوا بمثله.
2- واتجاه يرى الاعجاز فيما ورد في القرآن من الإعلام عن الغيوب وعن حوادث الامم السابقة وتاريخها وعقائدها، فقد أشار القرآن الى حوادث ستقع في المستقبل ثم وقعت كما حدّث، مثال ذلك قوله تعالى: «ألم، غلبت الروم في أدنى الارض وهم من بعد غلبهم سيغلبون، في بضع سنين» .
فقد حصل ان الفرس غلبت الروم، فأخبر القرآن عن هذه الواقعة، وأنبأ ان الروم سينتصفون من خصومهم في بضع سنين، وتم ذلك فعلا؛ وبما ان الانسان لا يقدر على علم الغيب فان القرآن منزل من قبل الله وفيه من الاعجاز ما فيه. ثم إن القرآن تحدث عن تاريخ الأمم السابقة وأديانها
আধ্যাত্মিক এবং বুদ্ধিগত মুজিজাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো: পবিত্র কুরআন, যা মুহাম্মদ (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে। আমরা এই প্রসঙ্গে লক্ষ্য করতে পারি যে, এই মুজিজাটি রিসালাতের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। মুজিজাগুলো হয় সত্তাগত যা রিসালাতের সারমর্ম পৌঁছে দেওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট, অথবা এগুলো তার মূল সত্তার বহির্ভূত। কুরআনের মুজিজা প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত; কারণ এটি বুদ্ধিগত যা মানব চিন্তাকে সম্বোধন করে এবং এটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রত্যয়ের চেয়ে বুদ্ধিগত প্রত্যয়ের ওপর বেশি নির্ভর করে, যা মূলত বস্তুগত মুজিজাগুলোর ভিত্তি। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মানবজাতি—রাসূলের আবির্ভাব পর্যন্ত—বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতির এক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছিল, ফলে সরাসরি তাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে সম্বোধন করা সম্ভব হয়েছিল। আর বুদ্ধিবৃত্তিক সম্বোধন অধিকতর ব্যাপক, দীর্ঘস্থায়ী এবং স্থিতিশীল; একারণেই পবিত্র কুরআন অনন্তকাল পর্যন্ত রাসূলের মুজিজা হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।
কুরআনের অলৌকিকত্বের (ইজায) স্বরূপ নিয়ে আলেম ও গবেষকগণ মতভেদ করেছেন। এই আলেমদের মতামতগুলোকে আমরা প্রধান তিনটি ধারায় চিহ্নিত করতে পারি:
১- একটি ধারা মনে করে যে, কুরআনের মুজিজা হলো এর অলৌকিক শাব্দিক গঠনশৈলী এবং এর সুস্পষ্ট সাবলীলতা (বালাগাত), যা আরবদেরকে এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে অক্ষম করে দিয়েছে।
২- অন্য একটি ধারা মনে করে যে, মুজিজা হলো কুরআনে বর্ণিত অদৃশ্যের সংবাদ এবং পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ঘটনাবলি, তাদের ইতিহাস ও আকিদা সংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে। কুরআন ভবিষ্যতে ঘটবে এমন কিছু ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেছিল, যা পরবর্তীতে হুবহু সেভাবেই ঘটেছে। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: «আলিফ-লাম-মিম। রোমানরা নিকটবর্তী এলাকায় পরাজিত হয়েছে। এবং তারা তাদের পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে, কয়েক বছরের মধ্যে»।
ঘটনাটি ছিল এই যে, পারস্য রোমানদের ওপর জয়ী হয়েছিল, তখন কুরআন এই ঘটনার সংবাদ দেয় এবং ভবিষ্যদ্বাণী করে যে রোমানরা কয়েক বছরের মধ্যে তাদের শত্রুদের ওপর জয়লাভ করবে; আর বাস্তবে তা-ই ঘটেছিল। যেহেতু মানুষ অদৃশ্যের জ্ঞান লাভে সক্ষম নয়, সেহেতু কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং এতে অলৌকিকত্বের যা থাকার তা বিদ্যমান। অতঃপর কুরআন পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ইতিহাস ও তাদের ধর্ম সম্পর্কে আলোচনা করেছে...
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
حديث العليم بكل صغيرة وكبيرة من احداثها وشؤونها، ولما كان الرسول عليه السلام أميا لم يطلع على كتب الأقدمين- التي لا تشير هي ايضا بدقة الى تلك الامور- فلا بد انه تعالى هو الذي اخبر نبيه بهذه الاشياء.
3- وأخيرا فقد اتجه كثير من العلماء الى ان الاعجاز في القرآن هو فيما ورد فيه من انظمة انسانية بالغة الرقي لم يشهد الخلق لها مثيلا في ضمان مصلحة بني الانسان وتأمين حياته الخيرة، فقد ورد في القرآن انظمة لحياة الانسان في شتى الوان النشاط البشري السياسي والاقتصادي والاجتماعي والاخلاقي والروحي، ولما كانت هذه الانظمة يستحيل ان يقدر عليها اي انسان فلا بد ان يكون القرآن منزلا من الله مثبتا لرسالة الرسول.
والواقع إن الاعجاز القرآني يشمل هذه النواحي جميعا: فهو فى اللفظ العجيب والتركيب البلاغي البديع، وهو في اخباره عن الغيوب وانباء الامم السابقة، وهو في انظمته الرائعة السامية؛ ولا نستطيع ان نقول بحصر الاعجاز في جانب واحد، لأن القرآن معجزة الرسول الى الناس جميعا في مختلف ازمانهم وامكنتهم، لذا كان لا بد ان يحوي هذه الوجوه المتعددة، فاذا آمن العربي به لإعجازه البلاغي فقد يؤمن به الرومي لإخباره عن الامم السابقة كما قد يؤمن به الفارسي للأنظمة التي فيه، فالقرآن معجز كله، لفظا ومعنى ونظاما.
وبعد فإن الكتاب الذي بين ايدينا يبحث في النبوة وإثباتها، وقد عرض له القاضي «1» في أكثر من موضع من كتبه، إلا انه تكلم عنه بالتفصيل في كتابين:
--------------------------------------------
ক্ষুদ্র ও বৃহৎ প্রতিটি ঘটনা ও বিষয় সম্পর্কে সর্বজ্ঞের বাণী; আর যেহেতু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিরক্ষর ছিলেন, তিনি পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহ পাঠ করেননি—যেগুলো নিজেও এই বিষয়গুলো সম্পর্কে নির্ভুলভাবে কোনো ইঙ্গিত প্রদান করে না—সেহেতু এটি নিশ্চিত যে, মহান আল্লাহ তাআলাই তাঁর নবীকে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত করেছেন।
৩- পরিশেষে, অনেক আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে, কুরআনের অলৌকিকতা (ইজায) হলো এতে বর্ণিত অত্যন্ত উন্নতমানের মানবীয় বিধানসমূহের মধ্যে, যার সদৃশ সৃষ্টিজগত কখনো প্রত্যক্ষ করেনি মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে এবং তাদের সুন্দর জীবনকে নিরাপদ করতে। কুরআনে মানবজীবনের বিভিন্ন প্রকারের কর্মকাণ্ড যেমন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বিষয়াবলির বিধান বর্ণিত হয়েছে। আর যেহেতু এই বিধানসমূহ প্রণয়ন করা কোনো মানুষের পক্ষে অসম্ভব, তাই কুরআন অবশ্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং তা রাসূলের রিসালাতের সত্যতার প্রমাণ।
প্রকৃতপক্ষে, কুরআনের অলৌকিকতা এই সকল দিককেই অন্তর্ভুক্ত করে: তা যেমন এর বিস্ময়কর শব্দচয়ন ও অপূর্ব আলঙ্কারিক শৈলীতে বিদ্যমান, তেমনি তা এর অদৃশ্যের সংবাদ প্রদান ও পূর্ববর্তী জাতিসমূহের খবরাখবরের মাঝে, আবার তা এর চমৎকার ও সুউচ্চ বিধানসমূহের মধ্যেও বর্তমান। আমরা এই অলৌকিকতাকে কেবল একটি দিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে পারি না; কারণ কুরআন হলো বিভিন্ন সময় ও স্থানের সকল মানুষের জন্য রাসূলের মুজিজা। অতএব, এতে এই বহুবিধ দিক থাকা আবশ্যক ছিল। সুতরাং কোনো আরব যদি এর আলঙ্কারিক অলৌকিকতার কারণে এর ওপর ঈমান আনে, তবে কোনো রোমান হয়তো পূর্ববর্তী জাতিসমূহের সংবাদ প্রদানের কারণে ঈমান আনবে, আবার কোনো পারসিক হয়তো এতে বিদ্যমান বিধানসমূহের কারণে ঈমান আনবে। তাই কুরআন শব্দ, অর্থ ও বিধান—সব দিক থেকেই অলৌকিক।
অতপর, আমাদের সম্মুখে বিদ্যমান এই গ্রন্থটি নবুওয়াত এবং তা প্রমাণের বিষয়ে আলোচনা করে। আল-কাযী (১) তাঁর কিতাবসমূহের একাধিক স্থানে এই বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন, তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন দুটি কিতাবে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
1- الجزء الخامس عشر من موسوعته الكبيرة «المفني في اصول الدين» وقد أسماه «النبوات» .
2- الكتاب الذي بين ايدينا «تثبيت دلائل نبوة لسيدنا محمد» .
أما في الكتاب الاول فإنه يعنى بالحديث عن اساس نظرية النبوة وفكرة المعجزة بصورة عامة، ثم يفصل الحديث عن عدد من المعجزات الحسية ويبين اختلافها عن السحر والشعوذة والصدفة وخفة اليد.
لكنه في كتابنا هذا يتحدث عن اثبات نبوة محمد صلى الله عليه وسلم بصورة خاصة، ويلح على جانب الإخبار عن الغيوب سواء جاء في القرآن الكريم او في احاديث الرسول، فيتتبع هذه الاخبار مبينا الى اي حد يصدقها الواقع والتاريخ.
إن القاضي يؤمن بالمعجزات الحسية التي وردت في القرآن والسنة الصحيحة يستنكر موقف البعض كالنظّام من إنكارها، ويرى الإعلام عن الغيوب من اهم دلائل النبوة، كما ان القرآن في رأيه حجة من نواح ثلاثة: فهو حجة «من طريق الفصاحة والبلاغة، وهو حجة لما فيه من الاخبار بالغيوب، وهو حجة لما فيه من التنبيه على دلائل العقول» «1» .
وحين تفصيل كلامه عن دلائل النبوة لا يلتزم القاضي البقاء في نطاق الحوادت او الدلائل بل يعرج- كعادة القدماء- على كل ما يجد الحديث عنه ضروريا بالمناسبة.
--------------------------------------------
১- তাঁর বিশাল বিশ্বকোষ 'আল-মুগনি ফি উসুল আদ-দিন'-এর পঞ্চদশ খণ্ড, যার নাম তিনি রেখেছেন 'আন-নুবুওয়াত'।
২- আমাদের হাতে থাকা গ্রন্থটি হলো 'তাতবিত দলাইলুন নুবুওয়াহ লি সাইয়িদিনা মুহাম্মদ'।
প্রথম গ্রন্থে তিনি সাধারণভাবে নবুওয়াতের তত্ত্বের ভিত্তি এবং মুজিজার ধারণা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এরপর তিনি বেশ কিছু ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিজা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং জাদু, ভোজবাজি, কাকতালীয় ঘটনা ও হাতের কারসাজি থেকে সেগুলোর পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন।
তবে আমাদের বর্তমান এই গ্রন্থে তিনি বিশেষভাবে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াতের সত্যতা প্রমাণের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি গায়েব বা অদৃশ্য বিষয়ের সংবাদ প্রদানের দিকের ওপর জোর দিয়েছেন, তা পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হোক কিংবা রাসূলের হাদিসে। তিনি এই সংবাদগুলো পর্যালোচনা করে দেখিয়েছেন যে, বাস্তবতা এবং ইতিহাস এগুলোকে কতটা সত্য বলে সাক্ষ্য দেয়।
কাজী সাহেব পবিত্র কুরআন এবং সহিহ সুন্নাহতে বর্ণিত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিজাসমূহের ওপর বিশ্বাস রাখেন এবং নাজ্জামের মতো কিছু ব্যক্তির এগুলো অস্বীকার করার অবস্থানের নিন্দা জানান। তিনি অদৃশ্যের সংবাদ প্রদানকে নবুওয়াতের অন্যতম প্রধান প্রমাণ হিসেবে গণ্য করেন। তাঁর মতে, কুরআন তিনটি দিক থেকে প্রমাণস্বরূপ: এটি এর প্রাঞ্জলতা ও অলঙ্কার শাস্ত্রের দিক থেকে একটি প্রমাণ, এটিতে থাকা অদৃশ্যের সংবাদের কারণে একটি প্রমাণ এবং এটিতে বিচারবুদ্ধির দলীলসমূহের প্রতি দিকনির্দেশনা থাকার কারণে একটি প্রমাণ (১)।
নবুওয়াতের প্রমাণাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার সময় কাজী কেবল নির্দিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ বা দলীলের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেন না; বরং প্রাচীন পণ্ডিতদের রীতি অনুযায়ী, প্রাসঙ্গিকভাবে যে সমস্ত বিষয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন মনে করেন, সেগুলোর দিকেও আলোকপাত করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
لذا فاننا نستطيع من خلال هذا الكتاب ان نتعرف على موقف القاضي من الاديان المختلفة: السماوية منها وغير السماوي، وموقفه من الفلسفة اليونانية، ومن اخذ بها ممن يسمون بفلاسفة الاسلام، واخيرا موقفه من الاتجاهات العقائدية الاسلامية المختلفة وخاصة الاتجاه الباطني. وللقاضي مع هذه الاتجاهات جولات ومناقشات طويلة متشعبة.
حمل القاضي عبد الجبار على الفلسفة اليونانية عموما وبين ان كتبهم التي وصلت الينا فيها الشيء الكثير من النقص والتحوير والتعديل اجراه أصحاب الاغراض والاتجاهات العقائدية المختلفة لتأييد عقائدهم وآرائهم، وأفرد ارسطو بحملة عنيفة وخاصة في كتابه «الآثار العلوية» وانتقد نظريته في الكون والكواكب وما يراه من انها غير قابلة للقسمة او الزيادة او النقصان وانها حية عالمة سميعة بصيرة تخلق وترزق وتحيي وتميت «1» .
ومن الغريب انه ينتقد نظرية الرازي في اللذة والألم، وقوله ان الله لا يستطيع ان يخلق الانسان إلا بالطريق الطبيعي، ويتهمه بالإلحاد، ولكنه يتجاوز عن رأيه في النبوة مع انه يخالف الاتجاه الاسلامي العام فيه «2» .
أما الكندي فانه- برأي القاضي- احد الملاحدة الذين تظاهروا بالاسلام لكنهم ما فتئوا يكيدون له ويمكرون به، وقد عرض لرأيه في المد والجزر وأن القمر سبب لحصولهما فشدد النكير عليه.
ويظهر انه ينتقد فكرة القانون بصورة عامة لما كان يظنه من انها تحد من
--------------------------------------------
সুতরাং আমরা এই গ্রন্থের মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মের প্রতি ক্বাযীর অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারি: আসমানি ও অ-আসমানি উভয়ই। এছাড়া গ্রিক দর্শনের প্রতি তার অবস্থান এবং যারা তথাকথিত 'ইসলামি দার্শনিক' হিসেবে পরিচিত হয়ে এই দর্শন গ্রহণ করেছেন তাদের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি, এবং পরিশেষে বিভিন্ন ইসলামি আকিদাগত মতাদর্শ—বিশেষ করে বাতেনি মতাদর্শের প্রতি তার অবস্থান সম্পর্কে অবগত হতে পারি। এই মতাদর্শগুলোর ব্যাপারে ক্বাযীর দীর্ঘ ও বহুমুখী পর্যালোচনা ও আলোচনা রয়েছে।
ক্বাযী আব্দুল জাব্বার সাধারণভাবে গ্রিক দর্শনের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের যে কিতাবসমূহ আমাদের নিকট পৌঁছেছে তাতে প্রচুর অসম্পূর্ণতা, বিকৃতি ও রদবদল রয়েছে, যা বিভিন্ন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গোষ্ঠী ও আকিদাগত মতাদর্শের অনুসারীরা নিজেদের আকিদা ও মতবাদ সমর্থনের জন্য সম্পন্ন করেছে। তিনি এরিস্টটলকে কঠোর আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করেছেন, বিশেষ করে তার 'আল-আসারুল উলউইয়্যাহ' নামক কিতাবে; তিনি মহাবিশ্ব ও গ্রহ-নক্ষত্র সম্পর্কে এরিস্টটলের তত্ত্বের সমালোচনা করেছেন এবং তার এই ধারণার প্রতিবাদ জানিয়েছেন যে, এগুলো বিভাজন, বৃদ্ধি বা হ্রাসের অযোগ্য এবং এগুলো জীবন্ত, সর্বজ্ঞ, শ্রবণকারী ও দ্রষ্টা, যা সৃষ্টি করে, রিযিক দেয় এবং জীবন ও মৃত্যু দান করে (১)।
আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, তিনি সুখ ও দুঃখ সম্পর্কে আল-রাযীর তত্ত্বের সমালোচনা করেন এবং আল-রাযীর এই বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন যে, আল্লাহ প্রাকৃতিক পথ ব্যতীত মানুষ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন। তিনি তাকে নাস্তিকতার দায়ে অভিযুক্ত করেন, অথচ নবুওয়াত সম্পর্কে আল-রাযীর মতামতের ব্যাপারে তিনি নীরব থাকেন, যদিও তা এই বিষয়ে সাধারণ ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গির পরিপন্থী (২)।
আর আল-কিন্দি—ক্বাযীর মতে—তিনি ছিলেন সেইসব নাস্তিকদের একজন যারা ইসলামের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল কিন্তু সর্বদা এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তে লিপ্ত ছিল। ক্বাযী জোয়ার-ভাটা সম্পর্কে আল-কিন্দির মত তুলে ধরেছেন যে, চাঁদ এগুলোর কারণ, এবং এ বিষয়ে তিনি তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এবং প্রতীয়মান হয় যে, তিনি সাধারণভাবে প্রাকৃতিক নিয়মের ধারণার সমালোচনা করেন, কারণ তিনি মনে করতেন যে এটি সীমিত করে দেয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
قدرة الخلق المطلق من قبل الله وكونه خالق للاشياء جميعا على الاستمرار وأنه يخلقها من لا شيء «1» . ويبدو هذا واضحا من بيانه لفعل الاحراق بالنار «2» ، وحقيقة الشفاء بالدواء، وقد نبه الاطباء بهذه المناسبة الى ان مهمتهم يجب ان تنحصر في معرفة العادات والتجارب فلا تتعدى ذلك الى الاهتمام بمعرفة اصول الأشياء «3» .
أما موقف القاضي من اصحاب النجوم وسائر من يدعي معرفة الغيب والمستقبل فقد كان شديد العنف عليهم، ولفت النظر الى حقيقة بديهية ولكنها لبداهتها قد تغيب على المرء، وهي ان المنجم «يكذب في ألف شيء ويخطىء في ألف شيء فلا يحفظ عليه لأن ذلك غير منكر منه، فاذا اتفق له الصواب في شيء واحد تعجبوا وحفظ لقلته من مثله ولأنه اتى من غير معدنه «4» .
ولا ينسى القاضي ان ينكر على رجال الباطنية موقفهم في التفرقة بين الصحابة وقولهم انهم ظلموا عليا رضي الله عنه، وبيّن بهذه المناسبة الصلة الوثيقة التي كانت تقوم بين الصحابة «5» . كما اتهم الباطنية بأنها كانت مستغلة من الملحدين والذين لم تطمئن قلوبهم بالايمان، اذ تستر هؤلاء بالباطنية وتظاهروا بالتشيع لعليّ لخدمة اغراضهم في تحطيم الاسلام عن طريق تفريق المسلمين وإظهار الصحابة بمظهر المعتدين الخارجين على حدود الاسلام، وعدد القاضي منهم
--------------------------------------------
আল্লাহর পক্ষ থেকে নিরঙ্কুশ সৃষ্টির ক্ষমতা এবং ক্রমাগতভাবে সমস্ত কিছুর স্রষ্টা হিসেবে তাঁর সত্তা এবং তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেন তা অনস্তিত্ব থেকে সৃষ্টি করেন «১»। আগুনের দহনক্রিয়া «২» এবং ওষুধের মাধ্যমে আরোগ্য লাভের প্রকৃত স্বরূপ বর্ণনায় বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। এই প্রসঙ্গে তিনি চিকিৎসকদের সতর্ক করেছেন যে, তাদের দায়িত্ব কেবল অভিজ্ঞতা ও অভ্যাসের জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত এবং বস্তুর মূল উৎস সন্ধানের পেছনে পড়ে থাকা তাদের উচিত নয় «৩»।
জ্যোতিষী এবং যারা গায়েব ও ভবিষ্যৎ জানার দাবি করে তাদের প্রতি কাজীর অবস্থান ছিল অত্যন্ত কঠোর। তিনি একটি স্বতঃসিদ্ধ সত্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যা অতি সুস্পষ্ট হওয়ার কারণে মানুষের দৃষ্টিগোচর না-ও হতে পারে; আর তা হলো—জ্যোতিষী ‘হাজারো বিষয়ে মিথ্যা বলে এবং হাজারো বিষয়ে ভুল করে, কিন্তু মানুষ তা মনে রাখে না কারণ তার ক্ষেত্রে এটিই স্বাভাবিক। তবে যদি একটি বিষয়েও তার কথা ঠিক হয়ে যায়, তবে তার মতো লোকের কাছ থেকে এমনটা ঘটার বিরলতার কারণে এবং এটি তার প্রকৃত উৎস থেকে না আসায় মানুষ অবাক হয় এবং সেটি মনে রাখে’ «৪»।
কাজী বাতেনিয়াদের সেই অবস্থানের প্রতিবাদ করতে ভোলেননি যেখানে তারা সাহাবীদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং দাবি করে যে তারা আলীর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) প্রতি জুলুম করেছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি সাহাবীদের মাঝে বিদ্যমান সুদৃঢ় সম্পর্কের বিষয়টিও স্পষ্ট করেছেন «৫»। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বাতেনিয়া মতবাদটি সেই সব নাস্তিক ও যাদের অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল হয়নি তাদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছিল। তারা বাতেনিয়া মতবাদের আড়ালে আত্মগোপন করেছিল এবং আলীর প্রতি অনুরাগের ভান করেছিল যাতে মুসলিমদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি এবং সাহাবীদেরকে ইসলামের সীমা লঙ্ঘনকারী জালেম হিসেবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে ইসলামকে ধ্বংস করার হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করা যায়। কাজী তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে গণনা করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
عددا من الفلاسفة والكتّاب، كالحداد والوراق والحصري وابن الراوندي وجابر وابن العميد.
ولم ينس القاضي ان يعرج على الديانات سواء منها غير السماوي كالديانات الفارسية والهندية القديمة «1» ، او السماوي في اصوله كالنصرانية، وخص هذه الاخيرة بتفصيل طويل طريف ونظر اليها على انها امتداد للحضارة الرومانية والفلسفة اليونانية، فالروم- في رأي القاضي- لم ينتصروا ولكن النصرانية تروّمت فأخذت أخلاق الرومان وتقاليدهم وآراء الفلسفة اليونانية وعقائدها بما فيها عقيدة التثليث، «وهذا التثليث الذي للنصارى قد كانت فلاسفة الروم تنحو نحوه في أن العقل والعاقل والمعقول تصير شيئا واحدا، ويقولون هرمس المثلث «2» » .
ولأهمية كتاب القاضي وطرافة الموضوعات التي تطرق لها، والأسلوب الذي تناولها فيه، كان موضع ثناء العلماء والكتاب متقدميهم ومحدثيهم، وقد اثنى عليه ابن العماد وابن شهبه وابن تيمة، وكتب عنه الشيخ الكوثري في مقدمة «تبيين كذب المفتري» : «ولم نر ما يقارب كتاب تثبيت دلائل النبوة للقاضي عبد الجبار في قوة الحجاج وحسن الصياغة في دفع شكوك المتشككين «3» » .
والحق اننا نستطيع ان نعد هذا الكتاب الاول من نوعه في موضوعه، ولا نعلم بين ما وقع في ايدينا ما يفوقه او يصل الى مرتبته.
--------------------------------------------
একদল দার্শনিক ও লেখক, যেমন আল-হাদ্দাদ, আল-ওয়াররাক, আল-হুসারি, ইবনে আল-রাওয়ান্দি, জাবির এবং ইবনে আল-আমিদ।
আর কাজী ধর্মসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করতেও ভুলেননি, তা অ-আসমানি হোক—যেমন প্রাচীন পারস্য ও ভারতীয় ধর্মসমূহ (১), অথবা মূলে আসমানি হোক—যেমন খ্রিষ্টধর্ম। তিনি শেষোক্ত ধর্মটি নিয়ে দীর্ঘ ও চমকপ্রদ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং এটিকে রোমান সভ্যতা ও গ্রীক দর্শনের সম্প্রসারণ হিসেবে গণ্য করেছেন। কাজীর মতে, রোমানরা বিজয়ী হয়নি বরং খ্রিষ্টধর্মই রোমানীকরণ হয়েছে; ফলে এটি রোমানদের চরিত্র, ঐতিহ্য এবং গ্রীক দর্শনের মতবাদ ও বিশ্বাসগুলো গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে ত্রিত্ববাদ অন্তর্ভুক্ত। "খ্রিষ্টানদের এই ত্রিত্ববাদের দিকেই রোমান দার্শনিকরা ইঙ্গিত করতেন যে—বুদ্ধি, বুদ্ধিমান এবং বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয় একই বস্তুতে পরিণত হয় এবং তারা একে 'ত্রয়ী হার্মিস' (২) বলত।"
কাজীর গ্রন্থের গুরুত্ব, এতে আলোচিত বিষয়বস্তুর চমৎকারিত্ব এবং যে শৈলীতে তিনি এগুলো উপস্থাপন করেছেন তার কারণে এটি প্রাচীন ও আধুনিক আলিম ও লেখকদের প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইবনে আল-ইমাদ, ইবনে শাহবাহ এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ এর প্রশংসা করেছেন। শায়খ আল-কাওসারি 'তাবয়িনু কাযিবিল মুফতারি' গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেন: "সংশয়বাদীদের সন্দেহ নিরসনে যুক্তির শক্তি ও সাবলীল রচনার দিক থেকে কাজী আবদুল জাব্বারের 'তাসবিতু দালাঈলিন নুবুওয়াহ' গ্রন্থের সমতুল্য কোনো বই আমরা দেখিনি (৩)।"
সত্য কথা এই যে, আমরা এই গ্রন্থটিকে এর বিষয়ের ক্ষেত্রে স্বজাতীয় গ্রন্থগুলোর মধ্যে প্রথম হিসেবে গণ্য করতে পারি। আমাদের হাতে আসা গ্রন্থগুলোর মধ্যে এমন কোনোটি জানা নেই যা একে ছাড়িয়ে যায় বা এর সমপর্যায়ে পৌঁছায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ورد هذا الكتاب لدى المؤلفين بأسماء متعددة، فابن الملقن في طبقات الشافعية وابن العماد في شذرات الذهب وابن حجر في اللسان يذكرونه باسم «دلائل النبوة» . أما ابن شهبة في طبقاته فقد ذكر انه «تثبيت دلائل النبوة» ، أما العنوان الذي كتب على الورقة الأولى من المخطوط الذين بين أيدينا فقد كان «تثبيت دلائل نبوة سيدنا محمد» .
ومن الثابت لدينا ان «التثبيت» كتب بعد «المغني» ، يدل على ذلك ما ذكره القاضي نفسه في اكثر من موضع من الكتاب من انه كتبه سنة 385 هـ «1» ومن المعلوم لدينا انه انتهى من كتابة المغني سنة 380 هـ.
أما المخطوطة التي اعتمدنا عليها في النشر فهي مخطوطة شهيد علي باستانبول وهي النسخة الوحيدة في العالم المعروفة حتى الآن.
وقد جهدنا- قدر استطاعتنا- ان نقدم النص الصحيح لهذا الكتاب القيم، عازفين عن التعليق إلا في الحالات التي لا بد فيها منه كالتعريف بعلم من الأعلام او فكرة من الأفكار، تاركين للقارىء الكريم ان يتتبع فكر القاضي كما أراد ان يعرضه وبحرية كاملة. وحرصنا أن نثبت في هامش الكتاب ارقام اوراق المخطوط ليسهل للباحث الرجوع اليه.
واذا كان لنا ما نرجوه فهو ان نكون قد اسهمنا- بنشرنا لهذا الكتاب- بإضافة لبنة جديدة الى صرح الثقافة الاسلامية، غير طامعين إلا بثواب الله ورضاه.
عبد الكريم عثمان بيروت- 30 جمادى الاولى 1386 هـ 15 ايلول 1966 م
--------------------------------------------
এই গ্রন্থটি লেখকদের নিকট বিভিন্ন নামে এসেছে। ইবনুল মুলাক্কিন 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ' গ্রন্থে, ইবনুল ইমাদ 'শাযারাতুয যাহাব' গ্রন্থে এবং ইবনে হাজার 'আল-লিসান' গ্রন্থে একে 'দালায়িলুন নুবুওয়্যাহ' নামে উল্লেখ করেছেন। তবে ইবনে শাহবাহ তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে এর নাম হলো 'তাছবিতু দালায়িলিন নুবুওয়্যাহ'। আর আমাদের হাতে থাকা পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠায় যে শিরোনামটি লেখা ছিল, তা হলো 'তাছবিতু দালায়িলি নুবুওয়্যাতি সাইয়িদিনা মুহাম্মাদ'।
আমাদের নিকট এটি সুনিশ্চিত যে, 'আত-তাছবিত' গ্রন্থটি 'আল-মুগনি'র পরে রচিত হয়েছে। এর প্রমাণ হলো খোদ কাজী নিজেই বইটির একাধিক স্থানে উল্লেখ করেছেন যে তিনি এটি ৩৮৫ হিজরিতে লিখেছেন (১)। আর আমাদের জানা আছে যে, তিনি ৩৮০ হিজরিতে 'আল-মুগনি' রচনার কাজ সমাপ্ত করেছিলেন।
এই প্রকাশনার ক্ষেত্রে আমরা যে পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি সেটি হলো ইস্তাম্বুলের 'শহীদ আলী' পাণ্ডুলিপি, যা এখন পর্যন্ত বিশ্বে এই গ্রন্থের জানা থাকা একমাত্র অনুলিপি।
আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি এই মূল্যবান গ্রন্থটির একটি সঠিক পাঠ উপস্থাপন করতে। কোনো প্রসিদ্ধ ব্যক্তি বা বিশেষ কোনো মতাদর্শের পরিচিতি প্রদানের মতো অতি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র ছাড়া আমরা টীকা প্রদান থেকে বিরত থেকেছি; যাতে সম্মানিত পাঠক কাজীর চিন্তাধারাকে তাঁর উপস্থাপিত রূপেই পূর্ণ স্বাধীনতার সাথে অনুসরণ করতে পারেন। আমরা বইটির পার্শ্বটীকায় পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা নম্বরগুলো লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে যত্নবান হয়েছি যাতে গবেষকদের পক্ষে মূল পাণ্ডুলিপি যাচাই করা সহজ হয়।
আমাদের যদি কোনো প্রত্যাশা থাকে তবে তা হলো এই গ্রন্থটি প্রকাশের মাধ্যমে আমরা ইসলামী সংস্কৃতির বিশাল প্রাসাদে একটি নতুন ইট যুক্ত করতে পেরেছি; আল্লাহর সওয়াব ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভ ছাড়া আমাদের আর কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই।
আব্দুল কারীম ওসমান, বৈরুত— ৩০ জুমাদাল উলা ১৩৮৬ হিজরি, ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
تثبيت دلائل النبوة القسم: السيرة النبوية
الكتاب: تثبيت دلائل النبوة
المؤلف: القاضى عبد الجبار بن أحمد الهمذاني [المعتزلي] (ت 415 هـ)
حققه وقدم له: د عبد الكريم عثمان [ت 1392 هـ]
الناشر: دار العربية، بيروت - لبنان
(وصورتها دور مثل دار المصطفى - مصر)
عام النشر: 1386 هـ - 1966 م
عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নবুওয়াতের প্রমাণাদির সুদৃঢ়করণ বিভাগ: সীরাতে নববী
গ্রন্থ: নবুওয়াতের প্রমাণাদির সুদৃঢ়করণ
লেখক: আল-কাযী আব্দুল জাব্বার বিন আহমদ আল-হামাযানী [মুতাযিলী] (মৃ. ৪১৫ হিজরি)
সম্পাদনা ও ভূমিকা: ড. আব্দুল কারীম উসমান [মৃ. ১৩৯২ হিজরি]
প্রকাশক: দারুল আরাবিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন
(এবং এটি দারুল মুস্তফা - মিশরের মতো প্রকাশনীগুলো কর্তৃক পুনর্মুদ্রিত হয়েছে)
প্রকাশকাল: ১৩৮৬ হিজরি - ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক পৃষ্ঠা নম্বরযুক্ত)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
الجزء الاوّل
প্রথম খণ্ড
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
وصلى الله على سيدنا محمد وآله، الحمد لله الذي منّ على عباده بإرسال رسله، وختمهم بسيدهم محمد صلى الله وعليهم اجمعين، فأرسله بالهدى ودين الحق، «لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ «1» » .
هذا كتاب «تثبيت دلائل نبوة نبينا محمد» رسول الله صلوات الله عليه وسلامه، والادلة على معجزاته وظهور آياته، والرد على من انكر ذلك.
باب [البدء بما في القرآن من إكفار الرسول للامم والبراءة منهم وهو وحيد ضعيف]فنبدأ من ذلك بما في القرآن، وبما يجرى مجراه مما يعلمه من سمع اخباره، كالعلم بالقرآن، فقد علم كلّ من اخباره صلى الله عليه وسلم انه ظهر بمكة، فأكفر اليهود وبرىء منهم، والنصارى والروم وبرىء منهم، والفرس والمجوس وبرىء منهم، والهند وبرىء منهم، وقومه من قريش والعرب وبرىء منهم، وعاب آلهتهم، وأكفر اسلافهم، وضلل اديانهم، وفرق
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর বংশধরদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি স্বীয় রাসূলদের প্রেরণের মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং তাঁদের নেতা মুহাম্মদ—তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এর মাধ্যমে তাঁদের সমাপ্ত করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁকে হেদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, «যাতে তিনি তাকে সকল দ্বীনের ওপর জয়যুক্ত করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে «১» »।
এটি আল্লাহর রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এর নবুওয়াতের প্রমাণসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিতকরণ, তাঁর মুজিজাসমূহ ও নিদর্শনাদির প্রকাশ এবং যারা তা অস্বীকার করে তাদের জবাব সংক্রান্ত কিতাব।
পরিচ্ছেদ [রাসূল কর্তৃক বিভিন্ন জাতিকে কাফের সাব্যস্ত করা এবং তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা সংক্রান্ত কুরআনের বর্ণনা দিয়ে শুরু করা, যা ছিল একাকী ও দুর্বল অবস্থায় থাকাকালীন]সুতরাং আমরা এ বিষয়ে কুরআনে যা আছে এবং যা সেই পর্যায়ের বিষয়াদি যা তাঁর সংবাদ শ্রবণকারী ব্যক্তিমাত্রই অবগত—যেমন কুরআনের জ্ঞান—তা দিয়ে শুরু করছি। নিশ্চয়ই তাঁর (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) সংবাদ সম্পর্কে প্রত্যেকেই জানে যে, তিনি মক্কায় আবির্ভূত হয়েছিলেন। অতঃপর তিনি ইহুদিদের কাফের সাব্যস্ত করেন এবং তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেন; খ্রিস্টান ও রোমানদের কাফের সাব্যস্ত করেন ও তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেন; পারসিক ও মজুসিদের কাফের সাব্যস্ত করেন ও তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেন; এবং হিন্দুদের কাফের সাব্যস্ত করেন ও তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তিনি কুরাইশ ও আরবের মধ্য থেকে তাঁর নিজ কওমকেও কাফের সাব্যস্ত করেন ও তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেন; তাদের উপাস্যদের নিন্দা করেন, তাদের পূর্বপুরুষদের কাফের আখ্যা দেন, তাদের ধর্মগুলোকে পথভ্রষ্ট সাব্যস্ত করেন এবং পৃথক করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
آلافهم، وقال لهم: الله ارسلني واصطفاني من العالمين، وجعلني حجة على كل من بلغته دعوتي من الاولين والآخرين، وجعلني خاتم النبيين وآخر المرسلين، وإن ديني يظهر على الاديان كلها، وان كلمتي وكلمة اتباعي تعلو، وإنهم هم الغالبون القاهرون المالكون.
وهو اذ ذاك فقير وحيد، اجير معيل، قد اغضبهم وغاظهم بهذه/ الدعوة، وألبسهم الذل مع وحدته، وبالغ في إسخاطهم، فنهوه وزجروه، بعد ان عاتبوه وعذلوه؛ ثم توعدوه بالاستئصال والبوار، بعد ان رغبوه. فغلبهم على امره، وقال: إني قد قلت لربي حين ارسلني: إني ان قلت هذا لقريش رضخوا رأسي، فقال لي: قل، وبلغهم، فسيغضبهم ذلك، وسيبعثون مكروههم عليك، وسيتحزبون ويجلبون «1» في عداوتك، ويجمعون العساكر لحربك، فأعصمك منهم، وأبعث جنودا لك منهم ومن غيرهم، فتكون العقبى لك، فقال هذا وما هو اشد منه.
يعلم ذلك كل من سمع اخباره ممن صدقه او كذّبه، وهو لا يعتصم بمخلوق، ولا يصوب ملكا من ملوك عصره، ولا يلوذ بأحد من البشر.
بل قد رماهم كلهم عن قوس واحدة بالعداوة، وأسخطهم اجمعين، وبعثهم بهذا الصنيع على عداوته. ثم ما رضي ان يجعل ذلك قولا ثم صفحا، بل خلده ودوّنه، وجعله كتابا يقرأ، وقرآنا يتلى، يسمعه عدوه وقال: ربي قال لي، وربي وربكم اوحى به اليّ، فقال: «وَإِذْ قُلْنا لَكَ إِنَّ رَبَّكَ أَحاطَ بِالنَّاسِ «2» » وقال: «يا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ ما أُنْزِلَ
--------------------------------------------
তাদের হাজার হাজার মানুষের সামনে, এবং তিনি তাদের বললেন: আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন এবং বিশ্বজগতের মধ্য থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন। আর যার কাছেই আমার দাওয়াত পৌঁছেছে—সে পূর্ববর্তী হোক বা পরবর্তী—তাদের সকলের বিরুদ্ধে আমাকে তিনি দলিল স্বরূপ বানিয়েছেন। তিনি আমাকে শেষ নবী এবং সর্বশেষ রাসূল করেছেন। আমার দ্বীন সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী হবে, আমার কথা এবং আমার অনুসারীদের কথা উচ্চকিত হবে; আর তারাই হবে বিজয়ী, পরাক্রমশালী এবং অধিপতি।
অথচ তখন তিনি ছিলেন নিঃস্ব ও একাকী, অন্যের অধীনে কাজ করা এক পরিবারের দায়িত্বশীল। তিনি এই দাওয়াতের মাধ্যমে তাদেরকে রাগান্বিত ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছিলেন এবং স্বীয় একাকীত্ব সত্ত্বেও তাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি তাদের অসন্তুষ্টি অর্জনে কোনো কার্পণ্য করেননি। ফলে প্রথমে তিরস্কার ও নিন্দা করার পর তারা তাকে বাধা প্রদান ও ধমক দিল। এরপর প্রলোভন দেখানোর পর তারা তাকে সমূলে উৎপাটন ও ধ্বংস করার হুমকি দিল। কিন্তু তিনি নিজের বিষয়ে তাদের ওপর বিজয়ী হলেন এবং বললেন: যখন আমার রব আমাকে পাঠালেন, তখন আমি তাঁকে বলেছিলাম: আমি যদি কুরাইশদের সামনে এ কথা বলি, তবে তারা আমার মাথা চূর্ণ করে দেবে। তখন তিনি আমাকে বললেন: বলো এবং তাদের কাছে পৌঁছে দাও। এতে তারা ক্রুদ্ধ হবে এবং তোমার প্রতি তাদের অপছন্দনীয় বিষয়গুলো প্রকাশ করবে। তারা তোমার শত্রুতায় দলবদ্ধ হবে এবং জোট গঠন করবে এবং তোমার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সৈন্য সমাবেশ করবে। কিন্তু আমি তোমাকে তাদের থেকে রক্ষা করব এবং তাদের মধ্য থেকে ও অন্যদের মধ্য থেকে তোমার জন্য সৈন্যদল পাঠাব। পরিশেষে শুভ পরিণাম তোমারই হবে। তিনি এগুলো এবং এর চেয়েও কঠিন কথাগুলো বলেছিলেন।
যারা তাঁর সংবাদ শুনেছে, তারা তাঁকে বিশ্বাস করুক বা অস্বীকার করুক—সকলেই এটি জানে। তিনি কোনো সৃষ্টির কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেননি, তাঁর সমসাময়িক কোনো রাজাকে খুশি করার চেষ্টা করেননি এবং কোনো মানুষের কাছে আশ্রয় নেননি।
বরং তিনি তাদের সকলকে একই ধনুকের তীরের মতো শত্রুতার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিলেন এবং তাদের সকলকে রাগান্বিত করেছিলেন। এই আচরণের মাধ্যমে তিনি তাদের সবাইকে নিজের শত্রু বানিয়ে নিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি একে কেবল মৌখিক ঘোষণা বা সাময়িক কোনো বিষয় হিসেবে রেখেই সন্তুষ্ট হননি, বরং একে চিরস্থায়ী ও লিপিবদ্ধ করেছেন। একে পাঠ করার মতো কিতাব ও তিলাওয়াত করার মতো কুরআনে পরিণত করেছেন, যা তাঁর শত্রুরাও শুনতে পায়। তিনি বলেছেন: আমার রব আমাকে বলেছেন, এবং আমার ও তোমাদের রব আমার প্রতি ওহী পাঠিয়েছেন। তিনি বলেছেন: "আর স্মরণ করো, যখন আমি তোমাকে বলেছিলাম যে, নিশ্চয় তোমার রব মানুষকে পরিবেষ্টন করে আছেন।" এবং তিনি বলেছেন: "হে রাসূল! তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দাও...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَما بَلَّغْتَ رِسالَتَهُ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ «1» » .
فانهم «2» زادوا غيظا عليه، وصاروا هم واليهود والنصارى والفرس والمجوس يدا واحدة في عداوته، وطلب نفسه، والحرص على قتله، وهم اشد الناس حقدا وأنفة وجبرية «3» وطلبا بطائله، لا يقارّون من عاب/ خيولهم وجمالهم فكيف بمن عاب آلهتهم وآباءهم وعقولهم وضلل اديانهم، فعصمه الله منهم وهو رجل فريد بينهم، وهو في مثوبة الموت، وخندق الخوف، وذل اليتم، ووحشة الوحدة، لا يعتصم منهم بمخلوق، فصرفهم الله عنه وهذه حاله، فلو لم يكن من آياته ودلائل نبوته الا هذا لكفى وأغنى وزاد على الكفاية، لأنه إخبار بغيوب كثيرة، لأنه قال لجميع قريش ولجميع العرب ولجميع اليهود ولجميع النصارى ولكل واحد منهم: لا تقتلونني، مع ما قد جاءهم به مما قد غاظهم وأغضبهم، وهو في هذا القول كالباعث لهم على نفسه، وكالحامل لهم على مكروهه وهو يذكرهم بذلك، فسلم منهم مع هذه الأحوال، فهذا باب كاف شاف.
باب آخر [سلامته صلى الله عليه وسلم مع حرصهم على إيذائه]وهذا مقام لا يقومه عاقل إلا ان يكون على غاية الثقة بالله عز وجل والسكون الى وعد الله لأنه لو لم يكن كذلك لم تلبث ان تغضب أمم
--------------------------------------------
...আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে। আর যদি আপনি তা না করেন, তবে আপনি তাঁর রিসালাত পৌঁছালেন না। আল্লাহ আপনাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন (১)।
অতঃপর তারা (২) তাঁর প্রতি ক্রোধে ফেটে পড়ল এবং তারা, ইহুদি, খ্রিস্টান, পারসিক ও মাজুসগণ তাঁর শত্রুতা, তাঁর প্রাণের অনুসন্ধান এবং তাঁকে হত্যার লালসায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেল। তারা ছিল মানুষের মধ্যে চরম বিদ্বেষপরায়ণ, অহংকারী ও উদ্ধত (৩) এবং তাঁর জীবনের সন্ধানে অত্যন্ত তৎপর। তারা এমন ছিল যে, কেউ তাদের ঘোড়া বা উটের দোষ ধরলেও তারা তা সহ্য করত না; সেখানে যে ব্যক্তি তাদের উপাস্যদের, তাদের পিতৃপুরুষদের এবং তাদের বুদ্ধি-বিবেচনাকে ত্রুটিপূর্ণ বলেছে এবং তাদের ধর্মসমূহকে পথভ্রষ্ট আখ্যা দিয়েছে, তার ব্যাপারে তাদের প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে? অতঃপর আল্লাহ তাকে তাদের থেকে রক্ষা করলেন, অথচ তিনি তাদের মাঝে ছিলেন এক নিঃসঙ্গ মানুষ। তিনি ছিলেন মৃত্যুর সন্নিকটে, ভয়ের গহ্বরে, এতিমত্বের হীনাবস্থায় এবং একাকীত্বের নিঃসঙ্গতায়। তাদের থেকে বাঁচার জন্য তিনি কোনো সৃষ্টির আশ্রয় গ্রহণ করেননি। আল্লাহই তাদের তাঁর থেকে বিমুখ করে রেখেছেন যখন তাঁর অবস্থা ছিল এই। যদি তাঁর নিদর্শনাবলি ও নবুওয়তের প্রমাণাদির মধ্যে এটি ছাড়া আর কিছু নাও থাকত, তবে এটিই পর্যাপ্ত, যথেষ্ট এবং পর্যাপ্ততার চেয়েও বেশি হতো। কারণ এটি ছিল অনেকগুলো অদৃশ্যের সংবাদ। কেননা তিনি সকল কুরাইশ, সকল আরব, সকল ইহুদি, সকল খ্রিস্টান এবং তাদের প্রত্যেকের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: ‘তোমরা আমাকে হত্যা করতে পারবে না’। অথচ তিনি তাদের নিকট এমন বিষয় নিয়ে এসেছিলেন যা তাদের ক্ষুব্ধ ও রাগান্বিত করেছিল। তাঁর এই উক্তিটি ছিল যেন তাদের তাঁর বিরুদ্ধে প্ররোচিত করার মতো এবং অপছন্দনীয় কাজের প্রতি উৎসাহ দেওয়ার মতো, যেহেতু তিনি তাদের এ কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন। তা সত্ত্বেও এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তিনি তাদের থেকে নিরাপদ থাকলেন। সুতরাং এটি একটি যথেষ্ট ও নিরাময়কারী অধ্যায়।
অন্য একটি অধ্যায় [তাঁকে কষ্ট দেওয়ার ব্যাপারে তাদের প্রবল আকাঙ্ক্ষা সত্ত্বেও তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিরাপদ থাকা]আর এটি এমন এক অবস্থান যা কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি গ্রহণ করবে না, যদি না মহান আল্লাহর প্রতি তার চূড়ান্ত আস্থা এবং আল্লাহর ওয়াদার ওপর স্থির প্রশান্তি থাকে। কারণ যদি বিষয়টি এমন না হতো, তবে বিভিন্ন জাতি ক্ষুব্ধ হতে দেরি করত না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
العرب والعجم لأديانهم، ويأنفوا لأنفسهم وآلهتهم، فيستأصلونه ويصطلمونه «1» ويقتلونه ويمحون أثره. فلما سلم مع الحرص على قتله، وآلت الامور الى ما قال، علمت وتيقنت أنه من قبل الله، لأن مثله في هذا مثل من قال اني أخوض هذه النار المضرمة فلا تحرقني، او كمن قال: أتردّى من شاهق على/ الأسنّة وانا عريان فلا تنفذ فيّ، او كمن قال: أدخل من هذه السباع الضارية الجائعة التي قد أغضبتها وقتلت اولادها وهي حريصة على افتراسي ومحتاجة الى قتلي والراحة مني فأسلم منها ولا تقتلني، فهذا باب شاف.
وباب آخر [وعده وهو في وحدته اته سيكون في جماعات كثيرة]وهو ما كان وعد وقال وهو في وحدته، إني سأصير في جماعات وعساكر فكان كما قال وأخبر، لأنه حين دعاهم أنكروا قوله وأكفروه وتلقوه بالردّ والتكذيب، ثم ما زال والنفر بعد النفر يجيبونه، حتى صار في عساكر، فاعتقدوا بصدقه ونبوته، وصاررا له جندا مطيعين، وحزبا متفقين، ينفقون أموالهم ويسفكون دماءهم في طاعته، ويفرّون من آبائهم ويقتلون أبناءهم ويفارقون أوطانهم لأجله وامتثالا لأوامره، وأزكى الأعمال عندهم ما أرضاه بلا دنيا بسطها فيهم، ولا اموال دفعها اليهم، ولا لرئاسة كانت له عليهم، بل كان يتيما فقيرا وحيدا معيلا محتاجا.
ثم جاءهم مجيئا ما جاء نبي قبله في مثل حاله، فان موسى صلى الله عليه وسلم أتى قومه من بني إسرائيل، وهم أولاد الأنبياء، قد اعتقدوا الربوبية وعرفوا
--------------------------------------------
আরব ও অনারবরা তাদের ধর্মের কারণে, এবং তাদের নিজেদের ও তাদের উপাস্যদের আত্মসম্মান রক্ষার্থে তাকে সমূলে উৎপাটন ও নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করবে, তাঁকে হত্যা করবে এবং তাঁর নাম-নিশানা মুছে ফেলবে। তাঁকে হত্যা করার প্রবল আকাঙ্ক্ষা সত্ত্বেও যখন তিনি নিরাপদ থাকলেন এবং বিষয়গুলো তাঁর ভাষ্য অনুযায়ীই সমাপ্ত হলো, তখন আমি জানলাম এবং নিশ্চিত হলাম যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকেই। কারণ এক্ষেত্রে তাঁর উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে বলে যে, আমি এই প্রজ্বলিত আগুনের মধ্যে দিয়ে যাব অথচ তা আমাকে পোড়াবে না। অথবা সেই ব্যক্তির মতো যে বলে: আমি উলঙ্গ অবস্থায় সুউচ্চ পাহাড় থেকে বর্শাগুলোর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ব অথচ তা আমাকে বিদ্ধ করবে না। অথবা সেই ব্যক্তির মতো যে বলে: আমি এই হিংস্র ক্ষুধার্ত পশুদের মধ্যে প্রবেশ করব যাদেরকে আমি ক্ষুব্ধ করেছি এবং যাদের শাবকদের আমি হত্যা করেছি, যারা আমাকে ছিঁড়ে খাওয়ার জন্য উদগ্রীব এবং আমাকে হত্যা করে শান্তি পেতে উন্মুখ, অথচ আমি তাদের থেকে নিরাপদ থাকব এবং তারা আমাকে হত্যা করবে না। এটি একটি সন্তোষজনক ও পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ।
অন্য একটি অধ্যায় [একাকী থাকা অবস্থায় তাঁর এই প্রতিশ্রুতি যে অচিরেই তিনি এক বিশাল জনসমষ্টির মাঝে থাকবেন]এটি তা-ই যা তিনি একাকী থাকা অবস্থায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে, অচিরেই আমি এক বিশাল দল ও বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হব। অতঃপর তা সেভাবেই ঘটল যেভাবে তিনি বলেছিলেন ও সংবাদ দিয়েছিলেন। কারণ যখন তিনি তাদের দাওয়াত দিলেন, তারা তাঁর কথা অস্বীকার করল, তাঁকে কাফির প্রতিপন্ন করল এবং প্রত্যাখ্যান ও মিথ্যারোপের মাধ্যমে তাঁর মুখোমুখি হলো। তারপর একের পর এক মানুষ তাঁর আহ্বানে সাড়া দিতে থাকল, যতক্ষণ না তিনি এক বিশাল বাহিনীর অধিকারী হলেন। তারা তাঁর সত্যতা ও নবুওয়তের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করল, এবং তাঁর অনুগত সৈন্য ও ঐক্যবদ্ধ দলে পরিণত হলো। তারা তাঁর আনুগত্যে নিজেদের ধন-সম্পদ ব্যয় করত এবং রক্ত বিসর্জন দিত; তাঁর জন্য এবং তাঁর আদেশ পালনের উদ্দেশ্যে তারা নিজ পিতৃপুরুষদের ত্যাগ করত, নিজ সন্তানদের হত্যা করত এবং স্বদেশ ছেড়ে চলে যেত। তাদের কাছে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ কাজ ছিল তাঁকে সন্তুষ্ট করা; কোনো পার্থিব প্রতিদান ছাড়াই যা তিনি তাদের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছিলেন, কোনো ধন-সম্পদ ছাড়াই যা তিনি তাদের প্রদান করেছিলেন, অথবা তাদের ওপর তাঁর কোনো (পার্থিব) নেতৃত্বের কারণে নয়। বরং তিনি ছিলেন এতিম, দরিদ্র, একাকী, পরিবার-পরিজনের ভারগ্রস্ত ও অভাবী।
অতঃপর তিনি তাদের কাছে এমন এক অবস্থায় আসলেন যা তাঁর পূর্ববর্তী কোনো নবী তাঁর মতো অবস্থায় আসেননি। কেননা মূসা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সম্প্রদায় বনী ইসরাঈলের কাছে এসেছিলেন, যারা ছিল নবীদের বংশধর, তারা রুবুবিয়্যাতে (আল্লাহর প্রভুত্বে) বিশ্বাসী ছিল এবং চিনত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الطريق اليها واعتقدوا النبوة وعرفوا الأنبياء قبل موسى، كادم ونوح، ثم الى ابراهيم واسحق ويعقوب والأسباط، وألفوا عبادة/ الله، واعتقدوا المعاد وعرفوه. ثم جاءهم في ذل وأسر وقهر في أيدي الجبابرة من القبط والفراعنة، يقتلون أبناءهم، ويستحيون نساءهم، ويمنعونهم الصنائع الشريفة والاحتراف، ويقصرونهم على ضرب اللبن وقطع الأحطاب والاعمال الشاقة المؤلمة، فجاءهم موسى بما يعتقدون من الربوبية والنبوة، ثم أخرجهم من الذلّ الى العزّ، ومن الشقاء الى الرفاهية والدعة، ومن الفقر الى الغنى.
ثم جاءهم من بعد موسى من الأنبياء بما جاءهم به موسى، الى أن انتهت النبوة الى المسيح عيسى بن مريم صلى الله عليه وسلم، فأتى بني اسرائيل بسنن موسى، وشرائع التوراة.
فقدم هو والأنبياء قبله على أمر ممهد مألوف معروف، وعلى قوم قد ألفوا وعرفوا، وجاء محمد صلى الله عليه وسلم قوما لا يعرفون الربوبية، ويعبدون الأصنام، وينكرون البعث والمعاد أشد الإنكار، لا يعرفون نبوة ولا طهارة ولا صلاة ولا صياما ولا زكاة، أشد الناس نخوة وجبرية وأنفة، قاة جفاة، معاشهم من شن الغارات، يسفكون دماءهم ويئدون ذريتهم فرارا من العار.
ودعاهم صلى الله عليه وسلم الى الربوبية، والى الاقرار بالنبوة والبعث والقيامة، وأخذهم بالصدق والوفاء وأداء الأمانة والخضوع للحق، وبالطهارة والصلاة والصيام والاعتكاف والزكاة، وصلات الأرحام، وقطع السارق، وجلد/ القاذف والزاني وشارب الخمر، ومساواة الموالي والفقراء والأعاجم والضعفاء في الدماء، وأخذهم بالبراءة من آلهتهم التي يعبدونها من دون الله، ومن
সেখানে পৌঁছানোর পথ এবং তারা নবুওয়াতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং মূসার পূর্ববর্তী নবীগণকে চিনত, যেমন আদম ও নূহ, অতঃপর ইবরাহীম, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরগণ। তারা আল্লাহর ইবাদতে অভ্যস্ত ছিল এবং পরকাল সম্পর্কে বিশ্বাস রাখত ও জানত। অতঃপর তিনি (মূসা) তাদের নিকট এমন এক লাঞ্ছনা, বন্দিত্ব ও নিপীড়নের মধ্যে আসলেন যা কিবতি ও ফেরাউনদের মতো স্বৈরাচারীদের হাতে ছিল; তারা তাদের পুত্রসন্তানদের হত্যা করত, কন্যাদের জীবিত রাখত এবং তাদেরকে সম্মানজনক শিল্প ও পেশা থেকে বিরত রাখত। তারা তাদেরকে কাঁচা ইঁট তৈরি, কাঠ কাটা এবং যন্ত্রণাদায়ক কঠিন পরিশ্রমে বাধ্য করত। অতঃপর মূসা তাদের নিকট সেই রুবুবিয়াত ও নবুওয়াত নিয়ে আসলেন যা তারা বিশ্বাস করত। এরপর তিনি তাদেরকে লাঞ্ছনা থেকে সম্মানের দিকে, কষ্ট থেকে স্বাচ্ছন্দ্য ও সুখের দিকে এবং দারিদ্র্য থেকে সচ্ছলতার দিকে বের করে আনলেন।
অতঃপর মূসার পর নবীগণের মধ্য থেকে যারা আসলেন তারা মূসা যা নিয়ে এসেছিলেন তা-ই নিয়ে আসলেন, যতক্ষণ না নবুওয়াত মাসীহ ঈসা ইবনে মারইয়াম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছাল। তিনি বনী ইসরাঈলের নিকট মূসার সুন্নাহ এবং তাওরাতের শরীয়ত নিয়ে আসলেন।
সুতরাং তিনি এবং তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণ একটি প্রস্তুত, পরিচিত ও সুপরিচিত বিষয়ের ওপর এবং এমন এক জাতির নিকট আসলেন যারা ইতঃপূর্বেই অভ্যস্ত ও পরিচিত ছিল। কিন্তু মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন এক জাতির নিকট আসলেন যারা রুবুবিয়াত সম্পর্কে জানত না, মূর্তিপূজা করত এবং পুনরুত্থান ও পরকালকে চরমভাবে অস্বীকার করত। তারা নবুওয়াত, পবিত্রতা, সালাত, সিয়াম কিংবা জাকাত সম্পর্কে জানত না। তারা ছিল মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আত্মমর্যাদাশীল, প্রতাপশালী ও অহংকারী; কঠোর ও রুক্ষ। অতর্কিত লুণ্ঠনই ছিল তাদের জীবিকা। তারা নিজেদের রক্তপাত করত এবং লজ্জার ভয়ে নিজেদের সন্তানদের জীবন্ত কবর দিত।
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে রুবুবিয়াত, নবুওয়াতের স্বীকৃতি, পুনরুত্থান ও কিয়ামতের প্রতি আহ্বান জানালেন। তিনি তাদেরকে সত্যবাদিতা, অঙ্গীকার পূর্ণ করা, আমানত রক্ষা করা এবং সত্যের আনুগত্য করার শিক্ষা দিলেন। এছাড়া পবিত্রতা, সালাত, সিয়াম, ইতিকাফ, জাকাত, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা, চোরের হাত কাটা, অপবাদদানকারী, ব্যভিচারী ও মদ্যপায়ীকে বেত্রাঘাত করা এবং রক্তের বিনিময়ের ক্ষেত্রে মাওয়ালি, দরিদ্র, অনারব ও দুর্বলদের মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিলেন। আর তিনি তাদেরকে আল্লাহ ব্যতীত তারা যেসব উপাস্যের পূজা করত তা বর্জন করা এবং... থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দিলেন।
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
آبائهم ومن أديانهم، وبالإقرار بضلالهم، والتدين بالبراءة منهم، وببذل دمائهم وأموالهم في طاعته، وبمجاهدة الأمم ومعاداة الجبابرة والملوك في طاعته «1» ، فأخذهم بكل شدة، وأخرجهم من الراحة الى الكدّ ومن المسالمة الى العداوة، وألزمهم ما لم يكونوا ألفوا ولا عاهدوا، وألزمهم الكلف والمؤن، فأجابوه بهذه الشرائط، فكان مجيئه على الوجوه التي قدمنا ذكرها من آياته ودلائل نبوته صلى الله عليه، ولم نجعل طاعة اصحابه له وتصديق القوم له ومصيره في عساكر وجماعات من دلائل نبوتة إلا لأنه اخبر قبل ذلك ان هذا سيكون فكان كما اخبر وكما قال على تلك الوجوه التي شرحناها وبيّناها. لأنه دعاهم الى امور وشرائط ظاهر التدبير وموجب الرأي واقتضاء الحزم ألا يجيبوه ولا يتبعوه إلا ان يكون من قبل الله، وواثقا بوعد الله، فان سبيله في ذلك سبيل من قال: هذه النملة الضعيفة تهزم هذه العساكر المعدة، او هذه الزجاجة الرقيقة ترض هذه الجبال الصلبة الشديدة، لأنه قد كان في الضعف
--------------------------------------------
তাদের পিতৃপুরুষ এবং তাদের ধর্মসমূহ থেকে, তাদের পথভ্রষ্টতা স্বীকার করার মাধ্যমে, তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করাকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করার মাধ্যমে, আল্লাহর আনুগত্যে তাদের রক্ত ও সম্পদ উৎসর্গ করার মাধ্যমে এবং বিভিন্ন জাতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও তাঁর আনুগত্যে স্বৈরাচারী ও রাজাদের সাথে শত্রুতা করার মাধ্যমে; তিনি তাদের অত্যন্ত কঠোরভাবে গ্রহণ করলেন এবং তাদের আরাম-আয়েশ থেকে কঠোর পরিশ্রমে এবং সন্ধি থেকে শত্রুতার দিকে বের করে আনলেন। তিনি তাদের ওপর এমন বিষয়সমূহ অপরিহার্য করে দিলেন যা তাদের পরিচিত ছিল না এবং যার প্রতিশ্রুতি তারা দেয়নি। তিনি তাদের ওপর বিভিন্ন দায়-দায়িত্ব ও ব্যয়ভার অর্পণ করলেন। তারা এই সকল শর্ত মেনেই তাঁর ডাকে সাড়া দিল। সুতরাং তাঁর আগমন ছিল সেই সকল পন্থায় যা আমরা ইতিপূর্বে তাঁর নিদর্শনসমূহ ও নবুওয়াতের প্রমাণাদির মধ্যে উল্লেখ করেছি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। আমরা তাঁর সাহাবীদের তাঁর প্রতি আনুগত্য, জনগণের তাঁকে সত্যয়ন করা এবং সৈন্যবাহিনী ও জনসমষ্টির অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে তাঁর নবুওয়াতের দলিল হিসেবে গণ্য করিনি; বরং তা এই কারণে যে, তিনি ইতিপূর্বে সংবাদ দিয়েছিলেন যে অচিরেই এমনটি ঘটবে, আর তা ঠিক সেভাবেই ঘটেছে যেভাবে তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন এবং যেভাবে আমরা ব্যাখ্যা ও বর্ণনা করেছি। কারণ তিনি তাদের এমন কিছু বিষয় ও শর্তের দিকে আহ্বান করেছিলেন, যেখানে বাহ্যিক জাগতিক পরিকল্পনা, যুক্তির দাবি এবং বিচক্ষণতার দাবি ছিল তাঁর আহ্বানে সাড়া না দেওয়া এবং তাঁর অনুসরণ না করা—যদি না তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত হতেন এবং আল্লাহর প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থাশীল হতেন। এ বিষয়ে তাঁর দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির মতো যে বলে: এই দুর্বল পিঁপড়াটি এই সুসজ্জিত বাহিনীকে পরাজিত করবে, অথবা এই ভঙ্গুর কাঁচটি এই সুদৃঢ় ও শক্তিশালী পাহাড়গুলোকে চূর্ণ করবে। কারণ তিনি দুর্বল অবস্থায় ছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
والوحدة على ما قد علمه الناس، ثم دعاهم الى ما يكرهون، وأخذهم بكل شدة، وفرض عليهم الامور الغليظة الصعبة على ما تقدم من شرح ذلك، فعلمت وتيقنت/ أنه نور الله ومن قبل الله.
فإن قيل: أو ليس قد اباحهم الغنائم، فما تنكرون ان تكون اجابتهم له لهذه العلة؟ قيل له: هذا لا يسأل عنه من يعقل ولا من يفكر لأن القوم قد اعتقدوا صدقه ونبوته فكانت إجابتهم له لهذا وعلى هذا القربى الى الله عن رضى بذلك، فمن ادعى غير هذا فقد أنكر المعلوم، او يكون لم يسمع الاخبار. فهم إنما أجابوه على ان ينفقوا أموالهم ويسفكوا دماءهم ويقتلوا آباءهم وأبناءهم في طاعته ولأجله، فكيف يسوغ لعاقل فكّر وتدبّر ان يقول إنما اجابوه طلبا للدنيا ورغبة في الراحة والدعة والأمر بالضد من ذلك. وبعد فان لم يكن تبعوه «1» إلا للغارة وللغنائم لكانوا يقولون له: حاجتنا اليك في الغارة والغنائم ونحن أعلم بها منك، وهي صناعتنا نحن وعادتنا، وما الذي يدعونا الى اتباعك وما معك وما تبعك إلا ان تبعثنا على الغارة والغنائم؟ أمن أجل سعة أموالك وكثرة كنوزك ومروج خيولك واصطبلات دولك؟ أم لخزائن سلاحك. ومن أخذنا بأن نكفر آباءنا ونشهد بضلالهم ونسخف أجلاءهم، ونسوء اختيارهم، ونعادي الأمم وجبابرة الملوك، ونسفك دماءنا في طاعتك، ونقتل كل من عاداك وخالفك وإن كانوا آباءنا وأبناءنا أو إخواننا، ونفارق اوطاننا وأزواجنا، ونهجر اللذات من شرب الخمور ولبس الحرير وشفاء الغيظ بقتل/ من سبّنا أو عاب آباءنا كعاداتنا في ذلك، ثم لا نحصل إلا على شيء اذا غنمناه بقوتنا وغلبنا عليه بأسيافنا بعد المخاطرة بدمائنا
--------------------------------------------
এবং ঐক্য যেমনটি মানুষ অবগত ছিল, অতঃপর তিনি তাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহ্বান জানালেন যা তারা অপছন্দ করত, তাদের প্রতি কঠোরতা অবলম্বন করলেন এবং তাদের ওপর এমন কঠিন ও দুঃসাধ্য বিষয়সমূহ ফরজ করলেন যার ব্যাখ্যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। ফলে আমি জানলাম এবং নিশ্চিত হলাম যে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা নূর এবং আল্লাহর পক্ষ থেকেই প্রেরিত।
যদি বলা হয়: তিনি কি তাদের জন্য যুদ্ধলব্ধ মাল (গনিমত) হালাল করেননি? তবে আপনারা কেন অস্বীকার করছেন যে, তাদের তাঁকে মেনে নেওয়াটা এই কারণেই ছিল? এর উত্তরে বলা হবে: বুদ্ধিমান বা চিন্তাশীল কোনো ব্যক্তি এমন প্রশ্ন করতে পারে না। কারণ, সেই কওম তাঁর সত্যবাদিতা ও নবুওয়তের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিল; ফলে তাদের তাঁকে মেনে নেওয়া ছিল এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে এবং সন্তুষ্ট চিত্তে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে। যে ব্যক্তি এর ব্যতিক্রম দাবি করবে, সে হয় সুনিশ্চিত বিষয়কে অস্বীকার করল অথবা সে ইতিবৃত্ত শোনেনি। তারা তো কেবল তাঁর ডাকে এই শর্তে সাড়া দিয়েছিল যে, তারা তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করবে, নিজেদের রক্ত প্রবাহিত করবে এবং তাঁর আনুগত্যে ও তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের পিতা ও সন্তানদের হত্যা করবে। এমতাবস্থায় কোনো বিবেকবান ব্যক্তি চিন্তা ও গবেষণা করে কীভাবে এটা বলতে পারে যে, তারা কেবল দুনিয়া অর্জনের লোভে এবং আরাম-আয়েশের আশায় তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছিল, অথচ বিষয়টি ছিল এর সম্পূর্ণ বিপরীত? তদুপরি, যদি তারা কেবল লুণ্ঠন ও গনিমতের জন্যই তাঁর অনুসরণ করত, তবে তারা তাঁকে বলত: ‘লুণ্ঠন ও গনিমতের বিষয়েই আমাদের আপনার প্রয়োজন, আর এ বিষয়ে আমরা আপনার চেয়ে অধিক অভিজ্ঞ। এটিই আমাদের পেশা ও অভ্যাস। আপনার অনুসরণে আমাদের কী স্বার্থ আছে, অথচ আপনার কাছে কিছুই নেই এবং যারা আপনার অনুসরণ করছে তারা কেবল লুণ্ঠন ও গনিমতের উদ্দেশ্যেই করছে? তা কি আপনার অঢেল ধন-সম্পদ, প্রচুর ধনভাণ্ডার, ঘোড়ার চারণভূমি এবং আপনার রাষ্ট্রের আস্তাবলের কারণে? নাকি আপনার অস্ত্রভাণ্ডারের লোভে?’ আর কে আমাদের বাধ্য করেছে যে, আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের কুফরির ঘোষণা দেব, তাদের গোমরাহির সাক্ষ্য দেব, তাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের তুচ্ছজ্ঞান করব, তাদের পছন্দকে মন্দ বলব, বিভিন্ন জাতি ও প্রতাপশালী রাজাদের সাথে শত্রুতা করব এবং আপনার আনুগত্যে নিজেদের রক্ত ঝরাব? আর যে আপনার শত্রুতা ও বিরোধিতা করবে তাকে হত্যা করব, যদিও তারা আমাদের পিতা, সন্তান কিংবা ভাই হোক না কেন? আর কে আমাদের বাধ্য করেছে নিজ দেশ ও স্ত্রীদের ত্যাগ করতে এবং মদপান, রেশম পরিধান ও আমাদের প্রথা অনুযায়ী যারা আমাদের গালি দেয় বা আমাদের পিতৃপুরুষদের নিন্দা করে তাদের হত্যার মাধ্যমে ক্রোধ প্রশমিত করার মতো স্বাদসমূহ বর্জন করতে? অথচ এর বিনিময়ে আমরা কিছুই পাই না, কেবল সেটুকুই পাই যা আমরা আমাদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নিজ শক্তিবলে গনিমত হিসেবে লাভ করি এবং তলোয়ারের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে আনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
أن نسلمه إليك فتعطينا بعضه، هذا لا يختاره بله النساء فكيف بالمهاجرين والانصار الذين أجابوه فصار بهم في عز ومنعة، وصبروا على تلك الشرائط التي شرطها.
وبعد فإن لم يكن نبيّا فهم لا يدرون هل يصل الى غنيمة؟ ولعله لا يتم له شيء مما يعدّ، فما كانوا ليتبعوه لما يظنه الخصم، ولولا أن هذا قد كان في أهل الذمة وطبقات الزنادقة، وتعدوا الى قوم زعموا أنهم من المسلمين لما ذكرناه، ولكنه شيء يستزلون به المسلمين الذين لا ينظرون فيما هذا سبيله، ويغترون بالظاهر.
هؤلاء الذين ادعوا أنهم من المسلمين، وأنهم من خاصة الخاصة «1» ، وممن قد عرف ما لا يعرفه غيره، وأن للأمور غوامض وبواطن قد عرفها، فيعتقد من يسمعه في المهاجرين والأنصار الغافلة والبله وقلة العقل، ومن تدبّر، يعلم أنهم أوفر عالم الله عقولا، وأحسنهم تحصيلا، وأسرعهم استدراكا لخفيات الامور وغوامضها، لا فرق بين من رمى المهاجرين والأنصار بذلك، وبين من رمى رسول الله صلى الله عليه وسلم بذلك. فإن آثار عقول المهاجرين والانصار معروفة في أفعالهم، وتدبيرهم الدنيا، وسياسة أهلها، وترتيب خواصهم وعوامهم، وأخذها من أيدي دهاة الملوك وعقلاء الناس، وتفصيل ذلك يطول.
فإن قيل: ومن سلم لكم عقل صاحبكم حتى تقولوا إن من دفعنا عن عقول المهاجرين والانصار كمن دفعنا عن عقل رسول الله صلى الله عليه وسلم؟
--------------------------------------------
আমাদের উচিত এটি আপনার কাছে সোপর্দ করা যাতে আপনি আমাদের এর কিছু অংশ প্রদান করেন; নির্বোধ মহিলারাও এটি বেছে নেবে না, তাহলে মুহাজির ও আনসাররা কেন তা করবেন, যারা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন এবং যাঁদের মাধ্যমে তিনি সম্মান ও সুরক্ষা লাভ করেছিলেন? এবং তিনি যে শর্তগুলো আরোপ করেছিলেন সেগুলোর ওপর তাঁরা ধৈর্য ধারণ করেছিলেন।
অতঃপর, তিনি যদি নবী না হতেন, তবে তাঁরা জানতেন না যে তিনি গনীমত লাভ করবেন কি না। সম্ভবত তিনি যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন তার কিছুই বাস্তবায়িত হতো না। সুতরাং শত্রুপক্ষ যা ধারণা করে, সেই কারণে তাঁরা তাঁর অনুসরণ করেননি। যদি এই বিষয়টি যিম্মি এবং যিন্দিক শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত, এবং তারা এমন এক কওমের প্রতি সীমা লঙ্ঘন না করত যারা নিজেদের মুসলিম বলে দাবি করে, তবে আমরা এটি উল্লেখ করতাম না। কিন্তু এটি এমন এক বিষয় যা দিয়ে তারা সেই সব মুসলিমদের পদস্খলন ঘটায় যারা বিষয়ের গভীরে তাকাতে পারে না এবং বাহ্যিক রূপ দেখে প্রতারিত হয়।
এরাই তারা যারা দাবি করে যে তারা মুসলিম, এবং তারা অতি উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন বিশেষ ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভুক্ত «১», এবং তারা এমন সব বিষয় জানে যা অন্য কেউ জানে না, আর বিষয়াবলির যে সব গোপন ও রহস্যময় দিক রয়েছে তা তারা চিনে নিয়েছে। ফলে যে ব্যক্তি তাদের কথা শোনে, সে মুহাজির ও আনসারদের ব্যাপারে উদাসীনতা, নির্বুদ্ধিতা ও অল্পবুদ্ধির ধারণা পোষণ করে। অথচ যে ব্যক্তি চিন্তা-গবেষণা করবে, সে জানতে পারবে যে তাঁরা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ বিবেকের অধিকারী, জ্ঞান অর্জনের দিক থেকে সর্বোত্তম এবং বিষয়াবলির লুকায়িত ও জটিল দিকগুলো অনুধাবনে সবচেয়ে দ্রুতগামী ছিলেন। যে ব্যক্তি মুহাজির ও আনসারদের প্রতি এই অপবাদ আরোপ করে, আর যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি এই অপবাদ আরোপ করে, তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কেননা মুহাজির ও আনসারদের প্রজ্ঞা ও বিবেকের প্রভাব তাঁদের কার্যাবলি, পার্থিব ব্যবস্থাপনা, প্রজাশাসন, এবং অভিজাত ও সাধারণ মানুষের শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সুপরিচিত। এছাড়া ধূর্ত রাজা-বাদশাহ ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের হাত থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁদের দক্ষতা স্পষ্ট; যার বিস্তারিত বর্ণনা দীর্ঘ হবে।
যদি বলা হয়: আপনাদের সঙ্গীর প্রজ্ঞাকে কে স্বীকার করেছে যে, আপনারা বলছেন—মুহাজির ও আনসারদের প্রজ্ঞাকে অস্বীকার করা মানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রজ্ঞাকে অস্বীকার করার শামিল?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قيل له: إن أعداءه لا يدفعونه عن ذلك، فإنهم قالوا: ما جمع المهاجرين والانصار وهو فقير وحيد أجير معيل وقد دعاهم الى ما قدمنا وعلى الشرائط التي ذكرنا إلا بعقل وافر، وحلم واسع، وبلطف في التدبير، وحسن تأتّ وعلم بالعواقب، وسعة في الفطن، وهذا قول عدوّه فيه.
فأما وليّه فيقول: هذا لا يبلغه عاقل بعقله، ولو كان أتم الناس عقلا، وأوسعهم علما وحلما، وأكثرهم مالا، ولا يكون هذا على تلك الشرائط إلا بتدبير الله عز وجل، الذي يملك العقول، ويقلّب القلوب، وبوحي منه عز وجل.
فإن زعم الأعداء أن الذي تم له كان مع قلة العقل وبالعجز فيه والخبط فقد خرجوا من كل معقول، وتبرؤوا من كل تمييز ومحصول، وجعلوا أنفسهم ضحكة وأحلوا بها المكاره، وأعطوا خصمهم اكثر مما طلب، وشهدوا بأن الله قد نقض له العادات اكثر مما نقضها لأحد من الناس كلهم ممن ادعى النبوة والحكمة وغيرهم لأنهم زعموا أنه تم له ما تم بتلك الشرائط وعلى تلك بعقل ضعيف وخلق سخيف وبالذهاب عن الحزم والحلم ومع طول الغافلة، فاذا تبيّن عقله لمن تفكر من/ عدوّه، علم أن عقول المهاجرين والانصار مثل عقله أو قريب منه، وكذا عقول قريش ثم العرب؛ فإن العقلاء والحكماء يقولون: الأمم العاقلة هم:
العرب والفرس والهند والروم، ثم قالوا: أعقل الاربع العرب والفرس، ثم اختلفوا أيهما أعقل وأحكم وأفطن، الفرس أم العرب؟ وخاضوا في ذلك، وذكروا ما لكل أمة من وصية وحكمة، وتدبير وسياسة، وهذا ما لا يدفعه العاقل المتفكر المتدبر.
فإذا كان عقل رسول الله صلى الله عليه وسلم قد عرفه عدوه ووليّه، فمن هذا عقله
তাকে বলা হয়েছিল: তার শত্রুরাও তাকে এ থেকে বিচ্যুত করতে পারে না। কারণ তারা বলেছে: তিনি মুহাজির ও আনসারদের একত্রিত করেছেন এমন অবস্থায় যখন তিনি ছিলেন দরিদ্র, একাকী, অন্যের কর্মচারী এবং পরিবারের ভরণপোষণকারী। অথচ তিনি তাদের সেই সব বিষয়ের দিকে আহ্বান করেছেন যা আমরা আগে উপস্থাপন করেছি এবং সেই সব শর্তের ভিত্তিতে যা আমরা উল্লেখ করেছি—যা কেবল এক পরিপূর্ণ বুদ্ধিমত্তা, প্রশস্ত সহনশীলতা, সূক্ষ্ম ব্যবস্থাপনা, উত্তম কর্মপন্থা, পরিণামদর্শিতা এবং প্রখর মেধার মাধ্যমেই সম্ভব। আর এটিই তার সম্পর্কে তার শত্রুদের উক্তি।
পক্ষান্তরে তার অনুসারীরা বলেন: কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি কেবল নিজের বুদ্ধি দিয়ে এই স্তরে পৌঁছাতে পারে না, এমনকি তিনি যদি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন, সর্বাধিক জ্ঞান ও সহনশীলতার অধিকারী এবং বিপুল সম্পদের মালিকও হন। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র ব্যবস্থাপনা ব্যতীত সেই সব শর্তাবলির ওপর এমন সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়, যিনি বুদ্ধিবৃত্তির অধিপতি এবং অন্তরসমূহকে পরিবর্তনকারী, এবং এটি কেবল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহী বা প্রত্যাদেশের মাধ্যমেই সম্ভব।
শত্রুরা যদি দাবি করে যে, তার এই সাফল্য বুদ্ধির স্বল্পতা, অক্ষমতা এবং বিভ্রান্তির মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে, তবে তারা সমস্ত যুক্তিগ্রাহ্য বিষয়ের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে গেল এবং যাবতীয় বিচারবুদ্ধি ও সারবস্তু থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে নিল। তারা নিজেদের হাস্যস্পদ করল এবং নিজেদের ওপর লাঞ্ছনা বয়ে আনল। তারা তাদের প্রতিপক্ষকে তার দাবির চেয়েও বেশি দিয়ে দিল এবং এই সাক্ষ্য দিল যে, আল্লাহ তার জন্য প্রাকৃতিক নিয়মকে এমনভাবে ভঙ্গ করেছেন যা নবুওয়াত বা হিকমতের দাবিদার অন্য কোনো মানুষের জন্য করেননি। কারণ তারা দাবি করেছে যে, তার জন্য যা কিছু সম্পন্ন হয়েছে তা সেই কঠিন শর্তাবলির মাঝে দুর্বল বুদ্ধি, তুচ্ছ চরিত্র, দূরদর্শিতা ও সহনশীলতার অভাব এবং দীর্ঘ অসতর্কতা সত্ত্বেও অর্জিত হয়েছে। অতএব যখন কোনো চিন্তাশীল শত্রুর কাছে তার বুদ্ধিমত্তা স্পষ্ট হয়, তখন সে বুঝতে পারে যে মুহাজির ও আনসারদের বুদ্ধিমত্তা ছিল তার বুদ্ধিমত্তার মতো বা তার কাছাকাছি, এবং একইভাবে কুরাইশ ও আরবদের বুদ্ধিমত্তাও। কেননা বিবেকবান ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ বলেন: বুদ্ধিমান জাতিসমূহ হলো:
আরব, পারস্য, ভারত ও রোম। এরপর তারা বলেছেন: এই চারটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হলো আরব ও পারস্য। অতঃপর তারা মতভেদ করেছেন যে, এদের মধ্যে কে বেশি বুদ্ধিমান, প্রাজ্ঞ ও মেধাবী—পারস্য নাকি আরব? তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং প্রতিটি জাতির উপদেশ, প্রজ্ঞা, ব্যবস্থাপনা ও রাজনীতি বিষয়ক বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করেছেন। আর এটি এমন এক সত্য যা কোনো চিন্তাশীল ও বিবেচক ব্যক্তি অস্বীকার করতে পারে না।
সুতরাং যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বুদ্ধিমত্তাকে তার শত্রু ও বন্ধু উভয়েই স্বীকৃতি দিয়েছে, তবে যাঁর বুদ্ধি এরূপ—
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
لا يأتي تلك الامم ويستقبلها بتلك المكاره التي فصلنا وحاله في الوحدة ما ذكرنا ثم يقول: لا تقتلونني مع حرصهم على قتله، ويقول:
ستصيرون أنصاري مع شدة ما دعوتكم إليه وهو غير واثق بما قال، ولا ساكن الى ما أخبر، ثم لا يرضى او يجعل ذلك كتابا يقرأ، وقرآنا يتلى، ويجعله في يد عدوه فيقول: «سَنُرِيهِمْ آياتِنا فِي الْآفاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ» «1» .
يريد بالآفاق: ظهور الاسلام عليها، وبلوغ دعوته إليها، لأنه قد كان وعد بذلك وهو بمكة، وحين ادّعى النبوة، فكانوا يقولون: أيطمع محمد أن يظهر على الآفاق؟ لا، ولا على مكة، ولا على دار من دور مكة؛ «وفي أنفسهم» يريد: في اسلام من يسلم منهم بعد الردّ والتكذيب/ ومن يقيم على تكذيبه ويموت على شركه على ما لعلّه ان يرد تفصيله عليك.
وفي هذا المعنى قوله عز وجل: «خُلِقَ الْإِنْسانُ مِنْ عَجَلٍ، سَأُرِيكُمْ آياتِي فَلا تَسْتَعْجِلُونِ» «2» لأنه صلى الله عليه وسلم كان اذا ذكر ظهور دينه، وغلبة اصحابه، وقتلهم لأعدائه، استبعدوا هذا بل أحالوه، وقطعوا الشهادة بأن هذا لا يكون أبدا، فيقول في جواب ذلك: «خلق الانسان من عجل سأريكم آياتي فلا تستعجلون» .
وفي هذا المعنى قوله عز وجل: «فَإِنْ يَكْفُرْ بِها هؤُلاءِ فَقَدْ وَكَّلْنا بِها قَوْماً لَيْسُوا بِها بِكافِرِينَ» «3» يعني هؤلاء: مثل أبي جهل، وأبي لهب،
--------------------------------------------
তিনি সেই জাতিগুলোর কাছে যাননি এবং আমরা যে সকল প্রতিকূলতার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছি তার সম্মুখীন হননি এমতাবস্থায় যে একাকীত্বে তাঁর অবস্থা ছিল তেমন যা আমরা উল্লেখ করেছি; অতঃপর তিনি বলেন: ‘তোমরা আমাকে হত্যা করতে পারবে না’, অথচ তারা তাঁকে হত্যার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিল এবং তিনি বলেন:
‘আমি তোমাদের যে বিষয়ের দিকে আহ্বান জানিয়েছি তার কঠোরতা সত্ত্বেও শীঘ্রই তোমরা আমার সাহায্যকারী হয়ে যাবে’—অথচ তিনি যা বলছেন সে ব্যাপারে তিনি আস্থাহীন ছিলেন না এবং যা সংবাদ দিচ্ছেন সে সম্পর্কে তিনি বিচলিত ছিলেন না; অতঃপর তিনি এতেই সন্তুষ্ট হননি যতক্ষণ না তিনি সেটিকে পাঠযোগ্য একটি কিতাব এবং তিলাওয়াতযোগ্য একটি কুরআনে পরিণত করেছেন এবং তা তাঁর শত্রুর হাতে তুলে দিয়েছেন, অতঃপর তিনি বলেছেন: “শীঘ্রই আমি তাদের দিগন্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে আমার নিদর্শনাবলী দেখাব, যাতে তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে এটিই সত্য।” (১)।
‘দিগন্তসমূহ’ বলতে তিনি উদ্দেশ্য করেছেন: তার ওপর ইসলামের বিজয় এবং সেখানে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে যাওয়া। কারণ মক্কায় থাকাকালীন এবং যখন তিনি নবুওয়াতের দাবি করেছিলেন, তখন তাঁকে এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তখন তারা বলত: মুহাম্মদ কি আশা করেন যে তিনি দিগন্তসমূহের ওপর বিজয়ী হবেন? না, এমনকি মক্কার ওপরও নয়, মক্কার কোনো একটি ঘরের ওপরও নয়। ‘এবং তাদের নিজেদের মধ্যে’ বলতে তিনি বুঝিয়েছেন: প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকারের পর তাদের মধ্যে যারা ইসলাম গ্রহণ করবে তাদের ইসলাম গ্রহণ, আর যারা তাদের অস্বীকারের ওপর অটল থাকবে এবং তাদের শিরকের ওপর মৃত্যুবরণ করবে তাদের অবস্থা, যার বিস্তারিত বিবরণ সম্ভবত আপনার কাছে পেশ করা হবে।
আর এই অর্থেই মহান আল্লাহর বাণী: “মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে ত্বরপ্রবণ করে; শীঘ্রই আমি তোমাদের আমার নিদর্শনাবলী দেখাব, সুতরাং তোমরা তাড়াহুড়ো করো না।” (২) কারণ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখনই তাঁর দ্বীনের বিজয়, তাঁর সাহাবীদের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে তাঁদের বিজয়ের কথা উল্লেখ করতেন, তারা একে সুদূরপরাহত মনে করত, বরং একে অসম্ভব বলে গণ্য করত এবং নিশ্চিতভাবে সাক্ষ্য দিত যে এটি কখনোই ঘটবে না। তার উত্তরে আল্লাহ বলেন: “মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে ত্বরপ্রবণ করে; শীঘ্রই আমি তোমাদের আমার নিদর্শনাবলী দেখাব, সুতরাং তোমরা তাড়াহুড়ো করো না।”
এই অর্থেই মহান আল্লাহর বাণী: “যদি তারা এতে কুফরি করে, তবে আমি এর জন্য এমন এক জাতিকে নিযুক্ত করেছি যারা একে অস্বীকারকারী নয়।” (৩) অর্থাৎ ‘তারা’ বলতে আবু জাহল এবং আবু লাহাবের মতো ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وعقبة بن أبي معيط، والوليد بن المغيرة، والعاص بن وائل وأشباههم وأمثالهم من اعداء رسول الله صلى الله عليه وسلم. فعزّى الله نبيه، وبشّره بقوم يطيعونه ويتبعونه، فيسّر له المهاجرين والأنصار كما وعده.
وقد أذكره بإنجاز هذا الوعد ووقوع الوفاء به، فقال عز وجل:
«وَإِنْ يُرِيدُوا أَنْ يَخْدَعُوكَ فَإِنَّ حَسْبَكَ اللَّهُ هُوَ الَّذِي أَيَّدَكَ بِنَصْرِهِ وَبِالْمُؤْمِنِينَ. وَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ لَوْ أَنْفَقْتَ ما فِي الْأَرْضِ جَمِيعاً ما أَلَّفْتَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ وَلكِنَّ اللَّهَ أَلَّفَ بَيْنَهُمْ إِنَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ» «1» لأن اجتماع المهاجرين والأنصار له، واعتقادهم نبوته، وإخلاصهم في طاعته على تلك الشرائط التي تقدم ذكرها، وعلى الوجوه التي/ قرر دعوته عليها لا يكون ولا يتم باتفاق جميع ما في الارض، ولا يكون ذلك إلا بتدبير الله وصنعه، وهو من آياته التي نقض العادات بها.
ومثله قوله: وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْداءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ إِخْواناً. وَكُنْتُمْ عَلى شَفا حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ فَأَنْقَذَكُمْ مِنْها. كَذلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آياتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ «2» » وهم قد كانوا عقلاء قد عرفوا هذا «3» ، ولا يجوز في العقل ان يقول رئيس قوم لأتباعه: قد كنتم اعداء يعادي بعضكم بعضا ثم صرتم اخوانا يخلص بعضكم لبعض المودة وبي هداكم الله وجمعكم
--------------------------------------------
এবং উকবা বিন আবি মুআইত, ওয়ালিদ বিন মুগিরা, আস বিন ওয়াইল এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তাদের মত ও সদৃশ অন্যান্য শত্রুরা। অতঃপর আল্লাহ তাঁর নবীকে সান্ত্বনা দিলেন এবং তাঁকে এমন এক কওমের সুসংবাদ দিলেন যারা তাঁর আনুগত্য করবে ও অনুসরণ করবে। ফলে তিনি তাঁর জন্য মুহাজির ও আনসারদের সহজ করে দিলেন, যেমনটি তিনি তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
আর তিনি তাঁকে এই ওয়াদা পূরণ হওয়া এবং তার বাস্তবায়নের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললেন (মহান ও পরাক্রমশালী):
«আর যদি তারা আপনাকে প্রতারিত করতে চায়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনার জন্য যথেষ্ট। তিনিই আপনাকে তাঁর সাহায্য ও মুমিনদের দ্বারা শক্তিশালী করেছেন। আর তিনি তাদের অন্তরের মধ্যে প্রীতি স্থাপন করেছেন। যদি আপনি জমিনের সবকিছুও ব্যয় করতেন, তবুও তাদের অন্তরে প্রীতি স্থাপন করতে পারতেন না। কিন্তু আল্লাহ তাদের মধ্যে প্রীতি স্থাপন করেছেন; নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।» «১» কারণ মুহাজির ও আনসারদের তাঁর নিকট একত্রিত হওয়া, তাঁর নবুওয়াতের প্রতি তাদের বিশ্বাস স্থাপন এবং পূর্বে বর্ণিত শর্তসমূহ ও যে পন্থায় তিনি তাঁর দাওয়াত প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তার ভিত্তিতে তাঁর আনুগত্যে তাদের একনিষ্ঠতা—জমিনের সমস্ত কিছুর বিনিময়েও সম্ভব হতো না এবং পূর্ণ হতো না। আর এটি আল্লাহর তদবির ও সৃষ্টিতত্ত্ব ছাড়া হওয়া সম্ভব নয়; এটি তাঁর নিদর্শনসমূহের অন্যতম, যার মাধ্যমে তিনি সাধারণ নিয়ম বা অভ্যাসকে ছিন্ন করেছেন।
এবং এরই সদৃশ হলো তাঁর বাণী: আর তোমরা তোমাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামতকে স্মরণ করো, যখন তোমরা ছিলে একে অপরের শত্রু, অতঃপর তিনি তোমাদের অন্তরে প্রীতি স্থাপন করলেন, ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে। আর তোমরা ছিলে আগুনের গর্তের কিনারে, অতঃপর তিনি তোমাদের তা থেকে রক্ষা করলেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করেন যাতে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হও। «২» আর তারা বুদ্ধিমান লোক ছিলেন যারা এটি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন «৩» , এবং যুক্তির বিচারে এটি অসম্ভব যে, কোনো কওমের নেতা তাঁর অনুসারীদের বলবেন: তোমরা শত্রু ছিলে, একে অপরের সাথে শত্রুতা করতে, অতঃপর তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে এবং একে অপরের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করলে, আর আমার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদের হেদায়েত দিলেন ও ঐক্যবদ্ধ করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وهو يعلم انهم يعلمون انه قد كذبهم؛ هذا في رئيس لا يدعي النبوة فكيف بمن يدعي الصدق والنبوة؟ وهذا قول قد سمعه عدو النبي صلى الله عليه وسلم من اليهود والنصارى وقريش والعرب، وأخرسهم صدقه، وبهر عقولهم تمامه والوفاء به، لأنهم اجتمعوا له بتلك الشرائط التي قد تقدمت، وهو بخلاف اجتماع الاتباع لخطّاب الملك وطلاب الدنيا.
فان قيل: أفليس عليّ بن عبد الله ابن العباس ابن عبد المطلب عم رسول الله صلى الله عليه وسلم، وابنه محمد وبنو محمد، كإبراهيم الامام وإخوته، كأبي العباس، وأبي جعفر، وغيرهما، قد كانوا مقهورين ومغلوبين ببني امية، فدعوا الى انفسهم بخراسان فأجيبوا، وصاروا في عساكر وجماعات، فغلبوا بني امية على الملك، وقتلوهم وأخذوا كل ما في ايديهم الا بلاد الاندلس من ارض المغرب، فلم لا يكون سبيل نبيكم وغلبته هذه السبيل؟ وإلا فقد لزمكم ان تقولوا بنبوة بني العباس كما قلتم بنبوة صاحبكم.
قيل له: قد فرغنا من هذا مرة وتبيّنا الجواب فيه، وهو أنا لم نقل بنبوة محمد صلى الله عليه وسلم لأنه صارت له رئاسة وصار متبوعا وصارت له عساكر، ولكن لأنه أخبر بالأمور قبل كونها على غير مجرى العادة، بل على ما هو نقض للعادات، لأنه أتى الناس وهو وحيد فقير أجير، فأغضبهم وغاظهم وجادلهم وعادوه، وأخبر أنهم سيغلبون، وأنه يغلبهم ويقهرهم، وقالوا: بل نحن نغلبك وندبرك، وكان موجب التدبير ومقتضى الحزم أن تكون الغلبة لهم لا له، إلا أن يكون من قبل الله ورسولا لله، لأنهم واليهود والنصارى والفرس والمجوس يد واحدة في عداوته والقصد
আর তিনি জানেন যে তারা জানে তিনি তাদের প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছেন; এটি এমন এক নেতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে নবুওয়াতের দাবি করে না, তাহলে তার অবস্থা কেমন হবে যে সত্যবাদিতা ও নবুওয়াতের দাবি করে? এটি এমন এক কথা যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শত্রু ইহুদি, খ্রিস্টান, কুরাইশ এবং আরবরা শুনেছিল। তাঁর সত্যবাদিতা তাদের বাকরুদ্ধ করে দিয়েছিল এবং এর পূর্ণতা ও সত্যতা রক্ষা তাদের বুদ্ধিকে হতবাক করে দিয়েছিল। কারণ তারা তাঁর কাছে সেই শর্তাবলি নিয়েই সমবেত হয়েছিল যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এটি রাজত্ব অন্বেষণকারী ও দুনিয়া পূজারীদের অনুসারীদের সমাবেশের মতো নয়।
যদি বলা হয়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের পুত্র আলি ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব এবং তাঁর পুত্র মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের বংশধরগণ—যেমন ইব্রাহিম ইমাম এবং তাঁর ভাই আবুল আব্বাস, আবু জাফর ও অন্যান্যরা—কি উমাইয়াদের দ্বারা নিপীড়িত ও বিজিত ছিলেন না? এরপর তারা খুরাসানে নিজেদের প্রতি দাওয়াত দিলেন এবং তাতে সাড়া পেলেন। তারা বিশাল বাহিনী ও গোষ্ঠীতে পরিণত হলেন এবং উমাইয়াদের পরাজিত করে রাজত্ব কেড়ে নিলেন। তারা তাদের হত্যা করলেন এবং মাগরিব ভূখণ্ডের আন্দালুস ব্যতীত তাদের হাতে যা কিছু ছিল সব কেড়ে নিলেন। তবে কেন আপনাদের নবীর পথ এবং তাঁর বিজয় এই পথটির মতো হবে না? নতুবা আপনাদের জন্য আব্বাসীয়দের নবুওয়াতের কথা বলা অপরিহার্য হয়ে পড়বে, যেমনটি আপনারা আপনাদের সঙ্গীর নবুওয়াতের ব্যাপারে বলেছেন।
তাকে বলা হবে: আমরা ইতিপূর্বে একবার এই বিষয়ে আলোচনা শেষ করেছি এবং এর উত্তর স্পষ্ট করেছি। তা হলো, আমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতের প্রবক্তা এই কারণে হইনি যে তিনি নেতৃত্ব লাভ করেছিলেন, অনুসারী পেয়েছিলেন এবং তাঁর সেনাবাহিনী হয়েছিল। বরং এই কারণে যে, তিনি বিষয়গুলো ঘটার পূর্বেই সে সম্পর্কে এমনভাবে সংবাদ দিয়েছিলেন যা জাগতিক নিয়মের বাইরে, বরং যা প্রচলিত প্রথার পরিপন্থী। কারণ তিনি যখন মানুষের কাছে এসেছিলেন তখন তিনি ছিলেন একাকী, দরিদ্র ও সাধারণ শ্রমজীবী। তিনি তাদের রাগান্বিত করেছিলেন, তাদের ক্ষুব্ধ করেছিলেন এবং তাদের সাথে বিতর্ক করেছিলেন। ফলে তারা তাঁর চরম শত্রুতা শুরু করেছিল। তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন যে তারা অচিরেই পরাজিত হবে এবং তিনি তাদের ওপর বিজয়ী ও পরাক্রমশালী হবেন। তারা বলেছিল: বরং আমরাই তোমার ওপর বিজয়ী হব এবং তোমার দফারফা করব। অথচ জাগতিক কৌশল ও দূরদর্শিতার দাবি ছিল বিজয় তাদেরই হবে, তাঁর নয়; যদি না তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত হতেন এবং আল্লাহর রাসূল হতেন। কারণ তারা এবং ইহুদি, খ্রিস্টান, পারসিক ও অগ্নিপূজকরা তাঁর শত্রুতা ও লক্ষ্য হাসিলের পথে একজোট ছিল।
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
لقتله وإطفاء نوره ولمنع اتباعه، والرجال والكراع «1» والسلاح مع عدوه لا معه، فالت الأمور الى ما قاله، وكما أخبر، وعلى ما فسر.
ولم تكن هذه سبيل بني العباس؛ فإنهم ما ادعوا نبوة ولا رسالة، ولا أتوا مثل ما أتى من الإخبار بالغيوب.
وأخرى ان بني العباس قصدوا، المسلمين من اهل خراسان، الذين قد اعتقدوا نبوة محمد صلى الله عليه وسلم، فتدينوا باقامة شريعته وحد حدوده، بانكار ما أنكره وباكرام من اكرمه، وإجلال من اجله، وباهانة من ارتكب الكبائر فشكوا اليهم ما نزل ببني هاشم خاصة ثم بالمسلمين عامة من بني أمية. وبنو هاشم اذ ذاك كلمة واحدة، ما اختلفوا ولا تباينوا. فكان ولد العباس وولد علي وولد جعفر وولد عقيل «2» وسائر بني هاشم متفقين، وانما اختلفوا بعد مصير الدولة والملك الى بني العباس أيام أبي جعفر المنصور، فجرى بينه وبين بني عمه من ولد الحسن ما هو معروف، فحينئذ اختلفوا، فذكر بنو هاشم لأهل خراسان ما صنعه بسر بن أرطاة بعبيد الله بن العباس بن عبد المطلب، وانه قصده وهو عامل امير المؤمنين علي بن ابي طالب رضي الله عنه، فهرب من يده، ووجد له ابنين طفلين فقتلهما وقتل جماعة من اصحابه «3» . وأذكروهم بقتل حجر بن عدي
--------------------------------------------
তাকে হত্যা করার, তাঁর নূর নিভিয়ে দেওয়ার এবং তাঁর অনুসারীদের বাধা দেওয়ার জন্য; অথচ জনবল, যুদ্ধের পশু «১» এবং অস্ত্রশস্ত্র ছিল তাঁর শত্রুর সাথে, তাঁর সাথে নয়। তবুও বিষয়গুলো সেভাবেই পর্যবসিত হয়েছে যেভাবে তিনি বলেছিলেন, যেভাবে তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন এবং যেভাবে তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
আর বনু আব্বাসের পথ এমন ছিল না; কারণ তারা নবুয়ত বা রিসালাতের দাবি করেননি, আর তাঁর মতো অদৃশ্যের সংবাদও প্রদান করেননি।
অন্য বিষয়টি হলো, বনু আব্বাস খোরাসানের সেই সব মুসলিমদের লক্ষ্য করেছিলেন যারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুয়তের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন। ফলে তারা তাঁর শরিয়ত প্রতিষ্ঠা এবং তাঁর হদসমূহ কায়েমের মাধ্যমে দ্বীন পালন করতেন; তিনি যা অস্বীকার করেছেন তা বর্জন করার মাধ্যমে, যাকে তিনি সম্মানিত করেছেন তাকে সম্মান করার মাধ্যমে, যাকে তিনি মর্যাদা দিয়েছেন তাকে শ্রদ্ধা করার মাধ্যমে এবং যারা কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়েছে তাদের লাঞ্ছিত করার মাধ্যমে। অতঃপর তারা বনু হাশেমের ওপর বিশেষভাবে এবং সাধারণ মুসলিমদের ওপর বনু উমাইয়ার পক্ষ থেকে যে বিপদ নেমে এসেছিল সে সম্পর্কে তাদের কাছে অভিযোগ করল। তখন বনু হাশেম একতাবদ্ধ ছিল, তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ বা বিচ্ছিন্নতা ছিল না। আব্বাসের সন্তানগণ, আলীর সন্তানগণ, জাফরের সন্তানগণ এবং আকিলের «২» সন্তানগণসহ বনু হাশেমের বাকি সবাই একমত ছিল। তারা কেবল তখনই মতভেদে লিপ্ত হয় যখন রাষ্ট্র ও রাজত্ব আবু জাফর আল-মনসুরের আমলে বনু আব্বাসের হস্তগত হয়। তখন তাঁর এবং হাসানের বংশধরদের মধ্য থেকে তাঁর চাচাতো ভাইদের মধ্যে যা ঘটেছিল তা সর্বজনবিদিত; সেই সময়েই তারা মতভেদে লিপ্ত হয়। অতঃপর বনু হাশেম খোরাসানবাসীদের কাছে বর্ণনা করল বুসর ইবনে আরতাহ উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সাথে কী আচরণ করেছিল। তিনি যখন আমিরুল মুমিনিন আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর গভর্নর ছিলেন, তখন বুসর তাঁকে আক্রমণ করে। তিনি তার হাত থেকে পালিয়ে যান, কিন্তু বুসর তাঁর দুই শিশুপুত্রকে পেয়ে তাদের হত্যা করে এবং তাঁর একদল সঙ্গীকেও হত্যা করে «৩»। আর তারা তাদের হুজর ইবনে আদির হত্যার কথা স্মরণ করিয়ে দিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وأصحابه «1» ، وبكربلاء ومن قتل من بني هاشم بها، وبقتل مسلم بن عقيل «2» ، وبالحرة «3» ، وبعسكر التوابين «4» من اهل عين الوردة، وبما أنزلوه بالكعبة في قتال آل الزبير «5» ، ثم بمن قتلوه من القراء او الفقهاء الذين ثاروا مع عبد الرحمن بن محمد بن الاشعث «6» في الانكار على الحجاج وعبد الملك بن مروان، وبقتل زيد بن علي ويحيى بن زيد «7» ، وبصنيع
--------------------------------------------
এবং তাঁর সঙ্গীগণ «১», কারবালা এবং সেখানে বনী হাশিমের নিহত ব্যক্তিবর্গ, মুসলিম বিন আকীলকে «২» হত্যা, হাররাহ্ «৩» এর ঘটনা, আইনুল ওয়ারদাহর অধিবাসীদের সমন্বয়ে গঠিত তাওয়াবুন বাহিনী «৪», এবং যুবায়ের বংশের «৫» বিরুদ্ধে যুদ্ধে কাবা শরীফের প্রতি তারা যা ঘটিয়েছিল, অতঃপর হাজ্জাজ এবং আব্দুল মালিক বিন মারওয়ানের বিরোধিতায় আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন আশআস-এর «৬» সাথে বিদ্রোহকারী সেইসব ক্বারী ও ফকীহগণ যাদেরকে তারা হত্যা করেছিল, এবং যায়েদ বিন আলী ও ইয়াহইয়া বিন যায়েদকে «৭» হত্যা, এবং সেই কর্মকাণ্ড...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الوليد بن يزيد/ بن عبد الملك «1» وما اتى من شرب الخمور والمجاهرة بذلك.
فأثار بنو العباس ودعاتهم اهل خراسان بذلك، فقدم بنو العباس على امر ممهد وجند مجند، وعلى قوم مسلمين قد صدّقوا رسول الله صلى الله عليه وسلم، ورضوا بما رضي رسول الله، وغضبوا مما يغضب منه رسول الله صلى الله عليه وسلم. فبنو العباس الى رسول الله نحوا، وبأمته والمصدقين به استجاروا، فالذي تم لهم فبرسول الله صلى الله عليه وسلم تم، وبظله تفيئوا، وبه تستروا، وهذه سبيل كل من ادعى بعده صلى الله عليه وسلم الامامة من بني هاشم ومن جميع قريش او ادعى انه من قريش.
وكلهم برسول الله صلى الله عليه وسلم تشبثوا، وبه تستروا واستعاذوا ولاذوا، ولأجله تم لهم ما تم. وأنت تجد ذلك في واحد واحد منهم في مشارق الارض ومغاربها، وتعرف الحق منهم من المبطل، والدّعيّ من الصريح، فأين هذا من دعوة رسول الله صلى الله عليه وسلم وسبيلها ما قدمنا وشرحنا.
فإن قيل: أو ليس مع ادعائه النبوة قد حمل السيف على من خالفه، وحارب بمن أطاعه من عصاه، فما تنكرون ان يكون الذي تم له من اوله الى آخره انما تم بالسيف وبالمكابرة، لا بالآيات والمعجزات؟
قيل له: ما انكرنا انه حمل السيف، وانما كلامنا في الذين صاروا سيوفا له وعساكر/ وبهم استطال على عدوه، فإن هؤلاء قد أجابوه بلا دنيا ولا سيف كما قد قدّمنا وبينا، وبمصيرهم الى طاعته صحت نبوته فظهرت دلائل رسالته، لأنه ما خلق قوما حملوا السلاح معه، وانما أجابه المهاجرون
--------------------------------------------
আল-ওয়ালিদ ইবন ইয়াযিদ ইবন আবদিল মালিক (১) এবং তার মদ্যপান ও তা প্রকাশ্য করার বিষয়টি।
এর মাধ্যমে বনু আব্বাস ও তাদের প্রচারকরা খুরাসানবাসীকে উত্তেজিত করেছিলেন। ফলে বনু আব্বাস এক অনুকূল পরিস্থিতি এবং সুসংগঠিত সেনাবাহিনী লাভ করেন। তারা এমন এক মুসলিম কওমের নিকট উপস্থিত হন যারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সত্য বলে বিশ্বাস করেছিলেন, আল্লাহর রাসূল যা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন তাতেই সন্তুষ্ট ছিলেন এবং আল্লাহর রাসূল যা নিয়ে রাগান্বিত হতেন তাতেই রাগান্বিত হতেন। বনু আব্বাস আল্লাহর রাসূলের প্রতি সম্পর্কযুক্ত হয়েছেন এবং তাঁর উম্মত ও তাঁর প্রতি বিশ্বাসীদের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের যা কিছু অর্জিত হয়েছে তা আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর ছায়াতেই তারা আশ্রয় নিয়েছেন এবং তাঁকে দিয়েই তারা নিজেদের আবৃত করেছেন। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরে বনু হাশিম বা সামগ্রিকভাবে কুরাইশ বংশের কিংবা যারা কুরাইশ বলে দাবি করেছে, তাদের মধ্যে যারাই ইমামতের দাবি করেছে, এটিই ছিল তাদের সকলের পথ।
তাদের প্রত্যেকেই আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাধ্যমে সংলগ্ন হয়েছেন, তাঁর দ্বারা নিজেদের আবৃত করেছেন এবং তাঁরই আশ্রয় ও সাহায্য প্রার্থনা করেছেন। আর তাঁর কারণেই তাদের জন্য যা অর্জিত হওয়ার তা অর্জিত হয়েছে। আপনি পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমে তাদের প্রত্যেকের মধ্যেই এটি দেখতে পাবেন। তাদের মধ্যে কে সত্যবাদী আর কে বাতিলপন্থী, এবং কে মিথ্যা দাবিদার আর কে প্রকৃত বংশজাত তা আপনি চিনতে পারবেন। আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাওয়াত ও তাঁর অনুসৃত পথের তুলনায় এর অবস্থান কোথায়, যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করেছি?
যদি বলা হয়: নবুওয়াতের দাবির সাথে সাথে তিনি কি তাঁর বিরোধীদের বিরুদ্ধে তলোয়ার ধারণ করেননি এবং যারা তাঁর আনুগত্য করেছে তাদের নিয়ে কি তিনি অবাধ্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেননি? সুতরাং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যা কিছু অর্জিত হয়েছে তা যে কেবল তলোয়ার এবং শক্তির মাধ্যমে হয়েছে, মোজেজা বা নিদর্শনের মাধ্যমে নয়—এ কথাটি আপনারা কেন অস্বীকার করছেন?
তাকে উত্তরে বলা হবে: তিনি তলোয়ার ধারণ করেছেন তা আমরা অস্বীকার করি না। তবে আমাদের কথা হলো তাদের বিষয়ে যারা তাঁর তলোয়ার এবং তাঁর সেনাবাহিনীতে পরিণত হয়েছিল এবং যাদের মাধ্যমে তিনি শত্রুর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছিলেন। তারা তো দুনিয়াবি স্বার্থ বা তলোয়ারের চাপ ছাড়াই তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উপস্থাপন ও বর্ণনা করেছি। তাঁর প্রতি তাদের আনুগত্য স্বীকার করার মাধ্যমেই তাঁর নবুওয়াত সত্য প্রমাণিত হয়েছে এবং তাঁর রিসালতের নিদর্শনসমূহ প্রকাশিত হয়েছে। কারণ, তিনি তো অস্ত্রধারী এমন কোনো কওম সৃষ্টি করেননি যারা তাঁর সাথে অস্ত্র ধরবে, বরং মুহাজিরগণই তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসবিতু দলাইলিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
والأنصار الذين هم من قريش وغيرهم من العرب وقد أتاهم بإكفارهم وإكفار آبائهم على ما شرحنا وبينا، وهو من الوحدة والفقر على ما ذكرنا، فمكث بمكة بعد ادعائه النبوة خمسة عشر سنة يدعو الى دينه، فيجيبه النفر بعد النفر على خوف شديد، وقد تجردت قريش وغيرهم من اعدائه له صلى الله عليه وسلم ولمن اتبعه وأطاعه، فيقصدونهم بالضرب والتعذيب الشديد، ويمنعونهم الأقوات، ويتعاهدون على ان لا يبايعوهم ولا يشاروهم ولا يناكحوهم، وقد كتبوا في ذلك الصحف «1» ، وقد قتلوا منهم قبل الهجرة رجالا ونساء وكانوا يرصدون لرسول الله صلى الله عليه وسلم ولدعاته إذا خرج الى الموسم لدعاء الناس وإظهار ما معه وتلاوة القرآن، فيقولون للعرب: هذا منا وقد صبأ وهو ساحر كذاب، فلا تطيعوه ولا تسمعوا لما معه، فنحن اعلم به، وقد سفه احلامنا، وضلل ادياننا، واكفر آباءنا، وفرق آلافنا، وأفسد أحداثنا وعبيدنا ونساءنا.
ثم كان هو صلى الله عليه وسلم يرجم ويضرب الضرب المبرح، ويداس ويطرح على رأسه الفرث والتراب/ ويلقى من المكاره هو ومن اتبعه ما يطول شرحه «2» . فلم يكن لأصحابه مع شرفهم وشرف أهلهم قرار، ولا أمكنهم المقام للشدائد التي تنالهم، حتى فروا بأديانهم في الأمصار والبلدان حتى عبروا البحار وصاروا الى ارض الحبشة «3» ، فتعرف قريش أخبارهم
--------------------------------------------
আনসার তথা সাহায্যকারীগণ, যারা কুরাইশ ও আরবদের অন্যান্য গোত্র থেকে এসেছিলেন এবং তিনি তাদের ও তাদের পিতৃপুরুষদের কুফর বা অবিশ্বাসের সংবাদ নিয়ে আসছিলেন যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা ও বর্ণনা করেছি। তিনি তখন একাকীত্ব ও দারিদ্রের মধ্যে ছিলেন যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। নবুওয়াত দাবির পর তিনি মক্কায় পনেরো বছর অবস্থান করে স্বীয় দ্বীনের দিকে দাওয়াত দেন। একে একে অল্প কিছু মানুষ অত্যন্ত ভীতির সাথে তাঁর ডাকে সাড়া দেন। কুরাইশ এবং তাঁর অন্যান্য শত্রুরা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি এবং যারা তাঁর অনুসরণ ও আনুগত্য করেছিল তাদের প্রতি মারমুখী হয়ে ওঠে। তারা তাদের প্রহার ও কঠোর নির্যাতনে লক্ষ্যবস্তু বানায়, তাদের খাদ্যসামগ্রী থেকে বঞ্চিত করে এবং এই মর্মে অঙ্গীকারবদ্ধ হয় যে, তারা তাদের কাছে কিছু বিক্রি করবে না, তাদের সাথে কোনো কেনাবেচা করবে না এবং তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না। এ বিষয়ে তারা একটি চুক্তিপত্রও লিখেছিল (১)। হিজরতের আগে তারা তাদের মধ্য থেকে অনেক পুরুষ ও নারীকে হত্যা করেছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর দাঈরা যখন হজের মৌসুমে লোকদের দাওয়াত দিতে, তাঁর নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রকাশ করতে এবং কুরআন তিলাওয়াত করতে বের হতেন, তখন তারা ওত পেতে থাকত। তারা আরবদের বলত: এ লোক আমাদেরই একজন, সে ধর্মত্যাগী হয়েছে এবং সে একজন জাদুকর ও চরম মিথ্যাবাদী; সুতরাং তোমরা তার আনুগত্য করো না এবং তার কথা শুনো না, আমরাই তাকে সবচেয়ে ভালো জানি। সে আমাদের জ্ঞানীদের নির্বোধ প্রতিপন্ন করেছে, আমাদের ধর্মসমূহকে ভ্রান্ত বলেছে, আমাদের পূর্বপুরুষদের কাফির বলেছে, আমাদের ঐক্য বিনষ্ট করেছে এবং আমাদের যুবক, দাস ও নারীদের কলুষিত করেছে।
অতঃপর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর পাথর নিক্ষেপ করা হতো, তাঁকে প্রচণ্ড প্রহার করা হতো, তাঁকে মাড়িয়ে দেওয়া হতো এবং তাঁর মাথায় পশুর বিষ্ঠা ও মাটি ঢেলে দেওয়া হতো। তিনি এবং তাঁর অনুসারীরা এমন সব দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হয়েছিলেন যার বর্ণনা অনেক দীর্ঘ (২)। তাঁর সাহাবীগণ তাদের এবং তাদের বংশের মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও কোনো স্বস্তি পাননি। তাদের ওপর নেমে আসা চরম কষ্টের কারণে তাদের পক্ষে সেখানে অবস্থান করা আর সম্ভব ছিল না। অবশেষে তারা নিজেদের দ্বীন রক্ষার জন্য বিভিন্ন জনপদ ও দেশে পালিয়ে যান, এমনকি তারা সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আবিসিনিয়া (হাবশা) অভিমুখে যাত্রা করেন (৩)। এরপর কুরাইশরা তাদের সংবাদ জানতে পারল।
--------------------------------------------