(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: -)
خاتم النبيين صلى الله عليه وآله وسلم القسم: السيرة النبوية
الكتاب: خاتم النبيين صلى الله عليه وآله وسلم
المؤلف: محمد أبو زهرة [ت 1394 هـ]
الناشر: دار الفكر العربي، القاهرة - مصر
عام النشر: 1425 هـ
عدد الأجزاء: 3 (متسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
খাতামুন নাবিয়্যীন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বিভাগ: সীরাতে নববী
গ্রন্থ: খাতামুন নাবিয়্যীন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)
লেখক: মুহাম্মদ আবু জাহরা [মৃত্যু ১৩৯৪ হিজরি]
প্রকাশক: দারুল ফিকর আল-আরাবি, কায়রো - মিশর
প্রকাশকাল: ১৪২৫ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ৩ (ক্রমিক সংখ্যায়ন)
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
الجزء الأولنشأته- شبابه- بعثته مصابرته المشركين اتصاله بالقبائل هجرته صلى الله عليه وسلم
প্রথম খণ্ডতাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা- তাঁর যৌবন- তাঁর নবুওয়াত লাভ, মুশরিকদের বিপরীতে তাঁর ধৈর্য ও সহনশীলতা, বিভিন্ন গোত্রের সাথে তাঁর যোগাযোগ, তাঁর হিজরত (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة
محمد رسول الله وخاتم النبيينلله الحمد على ما أنعم، وله الفضل فيما أكرم، إذ أكمل الدين، وأتم الرسالة الإلهية، بإرسال محمد صلى الله عليه وسلم بالهدى ودين الحق، ليظهره على الدين كله، فأكمل الهداية، وأبلغ الغاية، وكشف المحجة، وبين الجادة، ورفع راية الاسلام القوى العزيز، المكين، وحمل الحواريون من أصحابه ما حملهم الله، فقاموا بواجب التبليغ، وأدوا الأمانة التى حملوها، فكانوا منارا مقتبسا من نوره، فرضى عنهم، ورحم الإنسانية بما اقتبسوا من معانى الرسالة المحمدية.
يا رسول الله:إن الله خلقك بشرا سويا، ولكنك فوق سائر البشر، واثارك التى حملتها الأجيال من بعدك فوق القدر، ونحن معشر المتبعين لك إن كان فينا شرف هذا الاتباع إنما ندرك بالتصوير أمثالنا. فمن خواطرنا ومنازع نفوسنا نتعرف نفوس غيرنا، ونحكم على أحوالهم، وإن حاولنا أن ندرك من هو أعلى منا، فإنه يجب أن يكون علوه على مرأى أنظارنا، وفى مطالع افاقنا، فعندئذ نحاول وقد نصل، ولكنك يا رسول الله فى علو لا نصل إليه، وفى سماك لا نراه، وليس منا من يضاهئك حتى نتمثله ونتخيله، فأنّى لأمثالنا أن يكتب فى شأنك، وأن يعلو إلى شأوك، إن ذلك أمر فوق المنال، ويعلو على مدارك الخيال.
ومن أجل هذا نضرع إلى الله أن ينالنا بغفرانه، إن تسامينا محاولين الوصول إلى الكتابة فيك، فالمعذرة قائمة، والقصور ثابت، ولا يكلف الله نفسا إلا وسعها.
يا رسول الله:
قد كتبنا فى أئمة أعلام، قد قبسوا من نورك قبسة أو قبسات، أدركنا نورهم، ووفقنا الله تعالى إلى ما نحسب أننا وصلنا فيه إلى ما يفيد، وبمقدار ما قبسوا كنا ندرك ما به شرفوا، وما به أصابوا. واهتدوا.
فلما جئنا إلى ساحتك. وحاولنا أن ندخل إليها، غمرنا النور، وكف أبصارنا الضوء المنير، فأنّى ندرك، وأنّى نرى، وقد صرنا كذى رمد غمره ضوء الشمس، أما ما هو أعلى، فأصابتنا الحيرة، ولا هادى لنا يخرجنا منها، إلا أن تكون الهداية من الله تعالى كما أمر إذ قال سبحانه: قُلْ إِنَّ الْهُدى هُدَى اللَّهِ «1» فليس لنا إلا أن نلجأ إليه ضارعين أن يهدينا لتصوير شخصك الطاهر المطهر، أو لتقريبه إذا كان التصوير فوق طاقتنا، وأعلى من أن نصل إليه، فإن التقريب يحل عند العجز محل التسديد، والعجز مغفور، والقاصر معذور، والله عفو غفور.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকা
মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং নবীগণের সমাপ্তকারীআল্লাহরই সমস্ত প্রশংসা তিনি যা নিআমত দান করেছেন তার জন্য, এবং তাঁরই অনুগ্রহ তিনি যা দিয়ে সম্মানিত করেছেন তাতে। কারণ তিনি দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণের মাধ্যমে ঐশী রিসালাতকে সমাপ্ত করেছেন, যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন। অতঃপর তিনি হিদায়াতকে পূর্ণ করেছেন, চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছেছেন, সত্য পথ উন্মোচন করেছেন, মূল পথকে ব্যাখ্যা করেছেন এবং ইসলামের শক্তিশালী, মর্যাদাপূর্ণ ও সুপ্রতিষ্ঠিত পতাকাকে সমুন্নত করেছেন। তাঁর সাহাবীগণের মধ্য থেকে একনিষ্ঠ অনুসারীগণ (হাওয়ারীগণ) আল্লাহ তাঁদের ওপর যা অর্পণ করেছিলেন তা বহন করেছেন। তাঁরা প্রচারের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাঁদের ওপর অর্পিত আমানত আদায় করেছেন। ফলে তাঁরা তাঁর নূর থেকে গ্রহণকৃত এক একটি আলোকবর্তিকায় পরিণত হয়েছিলেন। আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের মর্মবাণী থেকে তাঁরা যা আহরণ করেছিলেন তার মাধ্যমে মানবতার ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন।
হে আল্লাহর রাসূল:নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে একজন সুঠাম মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু আপনি অন্য সকল মানুষের ঊর্ধ্বে। আপনার পরবর্তী প্রজন্মগুলো আপনার যেসব নিদর্শন বহন করেছে তা পরিমাপের ঊর্ধ্বে। আমরা আপনার অনুসারী দল, আমাদের মধ্যে যদি এই অনুসরণের গৌরব থেকে থাকে, তবে আমরা কেবল আমাদের মতো ব্যক্তিদেরই চিত্রায়নের মাধ্যমে উপলব্ধি করতে পারি। আমাদের চিন্তা ও মনের ঝোঁক থেকে আমরা অন্যের মনকে চিনতে পারি এবং তাদের অবস্থার বিচার করি। আর যদি আমরা আমাদের চেয়ে উচ্চতর কাউকে বোঝার চেষ্টা করি, তবে তাঁর সেই উচ্চতা আমাদের দৃষ্টিসীমার মধ্যে এবং আমাদের দিগন্তের উদয়স্থলে হতে হয়। তবেই আমরা চেষ্টা করি এবং হয়তো সফল হই। কিন্তু হে আল্লাহর রাসূল, আপনি এমন উচ্চতায় অবস্থান করছেন যেখানে আমরা পৌঁছাতে পারি না, এমন এক আকাশে আছেন যা আমরা দেখি না। আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে আপনার সমকক্ষ হতে পারে, যাকে আমরা আপনার নমুনা হিসেবে কল্পনা বা ধারণা করতে পারি। সুতরাং আমাদের মতো মানুষের পক্ষে আপনার শানে কিছু লেখা এবং আপনার মর্যাদার উচ্চতায় আরোহণ করা কীভাবে সম্ভব? এটি সাধ্যাতীত বিষয় এবং কল্পনার পরিধি থেকেও উচ্চতর।
এই কারণেই আমরা আল্লাহর কাছে আকুল প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ক্ষমা করেন, যদি আমরা আপনার সম্পর্কে লেখার প্রচেষ্টায় দুঃসাহস দেখিয়ে থাকি। আমাদের ওজর পেশ করা আছে, আমাদের অপূর্ণতা সুনিশ্চিত, আর আল্লাহ কোনো আত্মাকে তার সাধ্যের অতীত কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না।
হে আল্লাহর রাসূল:
আমরা প্রখ্যাত ইমামদের সম্পর্কে লিখেছি, যাঁরা আপনার নূর থেকে এক বা একাধিক স্ফুলিঙ্গ গ্রহণ করেছিলেন। আমরা তাঁদের নূর অনুভব করেছি এবং আল্লাহ তায়ালা আমাদের সেই তৌফিক দিয়েছেন যাতে আমরা মনে করি যে আমরা উপকারী কিছুতে পৌঁছেছি। তাঁরা যতটুকু নূর গ্রহণ করেছিলেন, সেই অনুপাতে আমরা বুঝতে পেরেছিলাম কিসের মাধ্যমে তাঁরা সম্মানিত হয়েছিলেন এবং কিসের মাধ্যমে তাঁরা সঠিক পথ ও হিদায়াত পেয়েছিলেন।
যখন আমরা আপনার প্রাঙ্গণে আসলাম এবং সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করলাম, তখন নূর আমাদের আচ্ছন্ন করে ফেলল এবং সেই উজ্জ্বল আলো আমাদের দৃষ্টিশক্তিকে রুদ্ধ করে দিল। আমরা কীভাবে বুঝব, আর কীভাবে দেখব? আমাদের অবস্থা এমন ব্যক্তির মতো হয়েছে যার চোখের রোগ আছে এবং সে সূর্যের তীব্র আলোতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। যা আরও উচ্চতর, তা আমাদের কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে হিদায়াত ব্যতিরেকে আমাদের এই অবস্থা থেকে উদ্ধার করার কোনো পথপ্রদর্শক নেই, যেমনটি তিনি নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: "বলুন, নিশ্চয়ই হিদায়াত হলো আল্লাহর হিদায়াত" (১)। তাই আমাদের জন্য তিনি ছাড়া কোনো আশ্রয় নেই, আমরা তাঁর কাছেই বিনয়াবনত হয়ে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের আপনার পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্বের চিত্রায়নের জন্য অথবা তাঁর নিকটবর্তী করার জন্য হিদায়াত দান করেন, যদি সেই চিত্রায়ন আমাদের সাধ্যের অতীত হয় এবং আমরা যেখানে পৌঁছাতে চাই তার চেয়ে উচ্চতর হয়। কারণ অক্ষমতার সময় লক্ষ্যভেদের পরিবর্তে নিকটবর্তী হওয়াকেই গ্রহণ করা হয়। আর অক্ষমতা মার্জনীয়, অপূর্ণতা ক্ষমাহের্, আর আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
يا رسول الله:إننا نكتب فى العظماء لنصور نواحى عظمتهم، ولكل عظيم ناحية واحدة من نواحى العظمة، فالاتجاه إلى تلك الناحية هو مفتاح عظمته، فتسهل معرفته، ولكنك يا رسول الله فوق عظمة الأشخاص، لأن وجوه عظمتك تعددت، حتى يعجز المحصى عن الإحصاء، والمستقرئ عن الاستقراء، وإذا نفدت الطاقة أقر مطمئنا بعجزه، ومؤمنا بأن وجودك فى هذا الوجود معجزة البشر، فإذا كنت من البشر، ولست فى كونك إلا بشرا، فلست إلها، ولست ملكا من الملائكة، فإنك فى مقام أعلى من سائر البشر ومن الملائكة، صانك ربك، وحفظك ورباك على عينه، حتى كنت وحيدا بين الغلمان، بما كلأك الله به وحماك، وصبيا فريدا بين الصبيان، وكنت الشاب الأمين عن رجس الجاهلية بين الشباب، فكل شىء فى حياتك الأولى كان من الخوارق التى علت عن الأسباب والمسببات، فلم تكن أثر تربية موجهة، ولا أثر بيئة حاملة، ولا أثر شرف رفيع، وإن كان محققا، ولكنك كنت صنيع الله، فكنت معجزة بشخصك وكونك ووجودك، فيك البشرية، وفيك المعجزة الإلهية اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسالَتَهُ «1» .
يا رسول الله يا خير البشر:كنت ذا الخلق القويم، والسياسى الحكيم، والقائد العظيم، والحاكم الرفيق، والمربى لأمتك بالشورى، والوحى ينزل إليك، وكنت الرؤف بأمتك، والمحارب الرحيم، وحامل لواء السلام فى مرحمة النبى، وعزة القوى، أنشأت جماعة مؤمنة ابتدأت بها بذرا صالحا، وأخذ ينمو فى بيئتك الطاهرة، مختفيا فى خلايا الإيمان، حتى أخرج شطأه، فظهر متعرضا لمقاومة الحدثان، قويا فى تكوينه حتى استغلظ واستوى على سوقه، وصار قوة الحق فى الأرض، وكنت كما قال الله تعالى مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَماءُ بَيْنَهُمْ، تَراهُمْ رُكَّعاً سُجَّداً، يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْواناً، سِيماهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ، ذلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْراةِ، وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوى عَلى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ «2» وكل ذلك بتوجيه ربك، وإلهام نفسك، وعلو فكرك، وقوة قلبك، فمن أى ناحية يدرس حياتك الدارس، وقد كان كل شىء فيك قويا عظيما، كما قال فيك ربك، وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ «3» .
اللهم ربى، ولا خالق سواك، ولا إله غيرك.. وليس كمثلك شىء، وأنت السميع البصير، خلقت محمدا من البشر، وجعلته سيد البشر، وأرسلته رحمة للعالمين، وإذا كان وجوده وما أحاط به خارقا للأسباب والمسببات فقد أرسلته بمعجزة لا تزال تتحدى الخليقة إلى يوم الدين.
--------------------------------------------
হে আল্লাহর রাসূল:আমরা মহৎ ব্যক্তিদের সম্পর্কে লিখি তাদের মহত্ত্বের দিকগুলো চিত্রায়িত করার জন্য। প্রত্যেক মহৎ ব্যক্তির মহত্ত্বের একটি নির্দিষ্ট দিক থাকে, আর সেই দিকের প্রতি ধাবিত হওয়াই হলো তার মহত্ত্বের চাবিকাঠি, ফলে তাকে চেনা সহজ হয়। কিন্তু হে আল্লাহর রাসূল, আপনি ব্যক্তিদের মহত্ত্বের ঊর্ধ্বে; কারণ আপনার মহত্ত্বের দিকগুলো বহুমুখী, এমনকি গণনাকারী তা গণনা করতে এবং অনুসন্ধানকারী তা অনুসন্ধানে অক্ষম হয়ে পড়ে। আর যখন মানুষের সামর্থ্য ফুরিয়ে যায়, তখন সে সগৌরবে নিজের অক্ষমতা স্বীকার করে এবং এই বিশ্বাস স্থাপন করে যে, এই মহাবিশ্বে আপনার উপস্থিতি মানবজাতির জন্য এক অলৌকিক বিষয়। আপনি যদিও মানুষের অন্তর্ভুক্ত এবং আপনার সত্তার দিক থেকে আপনি একজন মানুষ ব্যতীত আর কিছু নন—আপনি ইলাহ নন, ফেরেশতাদের মধ্য থেকে কোনো ফেরেশতাও নন—তথাপি আপনি অন্যান্য সমস্ত মানুষ ও ফেরেশতাদের চেয়ে উচ্চতর মাকামে আসীন। আপনার রব আপনাকে নিপুণভাবে তৈরি করেছেন, আপনাকে হেফাযত করেছেন এবং তাঁর বিশেষ তত্ত্বাবধানে আপনাকে লালন-পালন করেছেন। এমনকি আপনি যখন বালকদের মাঝে ছিলেন, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ সুরক্ষা ও হেফাযতের কারণে আপনি ছিলেন অনন্য; কিশোরদের মাঝে ছিলেন এক অতুলনীয় কিশোর; আর যুবকদের মাঝে আপনি ছিলেন জাহেলিয়াতের পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত এক বিশ্বস্ত যুবক। সুতরাং আপনার প্রাথমিক জীবনের সবকিছুই ছিল অলৌকিক ঘটনাবলি, যা জাগতিক কার্যকারণ সম্পর্কের ঊর্ধ্বে ছিল। আপনি কোনো জাগতিক লালন-পালন, কোনো পারিপার্শ্বিক পরিবেশ কিংবা উচ্চ বংশমর্যাদার ফল ছিলেন না—যদিও তা সুনিশ্চিত ছিল—বরং আপনি ছিলেন আল্লাহর বিশেষ সৃষ্টি। আপনি আপনার ব্যক্তি সত্তায়, আপনার বৈশিষ্ট্যে ও অস্তিত্বে ছিলেন এক জীবন্ত মুজিযা। আপনার মাঝে যেমন মানবীয় গুণাবলি বিদ্যমান, তেমনই বিদ্যমান ঐশী মুজিযা। আল্লাহই ভালো জানেন কোথায় তিনি তাঁর রিসালাত অর্পণ করবেন (১)।
হে আল্লাহর রাসূল, হে সৃষ্টির সেরা মানব:আপনি ছিলেন সুমহান চরিত্রের অধিকারী, প্রজ্ঞাবান রাজনীতিক, মহান সেনাপতি, দয়ালু শাসক এবং পরামর্শের ভিত্তিতে আপনার উম্মতকে পরিচালনাকারী প্রতিপালক (মুরব্বী), অথচ আপনার প্রতি ওহী নাযিল হতো। আপনি আপনার উম্মতের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু, একজন করুণাময় যোদ্ধা এবং নবীর রহমত ও শক্তিশালী সত্তার মর্যাদায় শান্তির পতাকাবাহী। আপনি একটি মুমিন জামাত গঠন করেছিলেন, যার সূচনা করেছিলেন একটি সৎ চারাগাছ হিসেবে; যা আপনার পবিত্র পরিবেশে বৃদ্ধি পেতে থাকে, ঈমানের কোষগুলোর মাঝে লুকায়িত থাকে, যতক্ষণ না তা তার অঙ্কুর বের করে। অতঃপর তা প্রতিকূলতার মুখে প্রকাশিত হয়, তার গঠনে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়, এমনকি তা স্থূল হয় এবং তার কাণ্ডের উপর সোজা হয়ে ওঠে, আর জমিনে সত্যের শক্তিতে পরিণত হয়। আপনি তেমনই ছিলেন যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফেরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু। আপনি তাদেরকে রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় দেখবেন, তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে। তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন বিদ্যমান। তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ এবং ইঞ্জিলেও তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ এক শস্যক্ষেত্রের মতো যা তার অঙ্কুর বের করল, অতঃপর তাকে শক্ত করল, ফলে তা স্থূল হলো এবং নিজ কাণ্ডের উপর সোজা হয়ে উঠল; যা কৃষকদের আনন্দিত করে, যেন তাদের মাধ্যমে তিনি কাফেরদের ক্রোধান্বিত করেন" (২)। আর এ সবকিছুই ছিল আপনার রবের নির্দেশনায়, আপনার হৃদয়ের ইলহামে, আপনার উচ্চতর চিন্তায় এবং আপনার অন্তরের শক্তিতে। সুতরাং কোনো গবেষক আপনার জীবনের কোন দিক নিয়ে গবেষণা করবে? আপনার প্রতিটি বিষয়ই তো ছিল শক্তিশালী ও মহান, যেমনটি আপনার রব আপনার সম্পর্কে বলেছেন: "আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত" (৩)।
হে আল্লাহ, আমার প্রতিপালক! আপনি ছাড়া কোনো স্রষ্টা নেই, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আপনার সদৃশ কিছুই নেই এবং আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। আপনি মুহাম্মদকে মানুষের মধ্য থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁকে মানবজাতির সরদার বানিয়েছেন, আর তাঁকে বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আর তাঁর অস্তিত্ব এবং তাঁকে ঘিরে যা কিছু আছে তা যদি জাগতিক কার্যকারণ সম্পর্কের ঊর্ধ্বে হয়ে থাকে, তবে আপনি তাঁকে এমন এক মুজিযাসহ পাঠিয়েছেন যা কিয়ামত পর্যন্ত সৃষ্টিজগতকে চ্যালেঞ্জ করে যাবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
ربى العظيم:لقد تطاولت فاعتزمت أن أكتب فى سيرة نبيك وخاتم أنبيائك محمد صلى الله عليه وسلم، فاغفر لى يا رب ذلك التطاول، إنك أنت الغفور الرحيم، وأمدنى بعونك وتوفيقك فى هذا المقام الذى يعلو عن طاقتى، وتعجز فيه قدرتى إن لم يكن منك العون.
رب لا تخزنى، فإنه لا قدرة لى إلا بتوفيقك، ولك الفضل، والمن، وَما تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ «1» .
وإنى قد اتجهت إلى القصد فى القول. فمهما يكن الإطناب، فإنه لا يصل إلى الغاية ولا يبلغ الشأو. ولذلك اجتهدنا فيما هو تحت سلطان قدرتنا، ومع ذلك استطال بنا القول، وإن لم ندرك النهاية، فهى فوق قدرة عاجر مثلى، ولقد قسمت الكتاب إلى ثلاثة أجزاء:
أولها- ذكر حياة النبى صلى الله عليه وسلم من ولادته التى حاطتها الخوارق، وحياته التى كانت كلها إرهاصات بالنبوة، حتى بعثه الله تعالى بشرا رسولا، وأوذى هو وحواريوه فى الله، وصبر وصابر، حتى كانت الهجرة التى أنشئت بها مدينة الإسلام، ودولة الإيمان.
والثانى- فى جهاده، وقمع الشرك، وفتح الطريق للدعوة المحمدية، وإزالة المحاجزات من طغيان الظالمين، وفتنة المؤمنين، حتى تسير الدعوة فى طريقها من غير عوج، وفى طريق معبد لا يحاجزه الشر، ولا يدعثره الإيذاء. وإن هذا الجزء ينتهى بصلح الحديبية، حيث يئس الشرك من أن ينال من أهل الإيمان، وعجز عن أن يغزو المؤمنين، وصارت الكلمة العليا فى الجزيرة العربية للإيمان، وسارت الدعوة فى كل مسار.
والجزء الثالث من بعد الحديبية، وفيه تجرد النبى صلى الله عليه وسلم لليهود الذين كانوا شوكة فى جنب العرب، وأخذ الإسلام يعم جزيرة العرب، ويخرج إلى أقطار الأرض، فكانت مؤتة، وكان الفتح العظيم الذى يئس فيه الشيطان أن يعبد فى هذه الأرض، وأخذ الإسلام يغزو ما حول العرب بكتب النبى ورسله، والسرايا يبثها، وبالخروج إلى الروم الذين قتلوا المؤمنين من أهل الشام فى أرضهم، فكان لابد من تأمين الدعوة، وإزالة الفتنة، وهذا الجزء ينتهى برحلة النبى صلى الله عليه وسلم من هذه الدنيا بروحه إلى السموات العلا.
اللهم انفعنا بهديه، واهدنا سبله، إنك تهدى من تشاء، وإنك على كل شىء قدير.
محمد أبو زهرة
--------------------------------------------
আমার মহান রব:আমি দুঃসাহস দেখিয়ে আপনার নবি ও আপনার শেষ নবি মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর সিরাত (জীবনী) রচনার সংকল্প করেছি। হে আমার রব, আমার এই ধৃষ্টতা ক্ষমা করুন; নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু। এই সুকঠিন কাজে আপনি আমাকে সাহায্য ও তাওফিক দান করুন, যা আমার সামর্থ্যের ঊর্ধ্বে এবং যেখানে আপনার সাহায্য ছাড়া আমার সক্ষমতা একেবারেই অক্ষম।
হে রব, আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না; কেননা আপনার তাওফিক ব্যতীত আমার কোনো শক্তি নেই। সকল অনুগ্রহ ও করুণা কেবল আপনারই। আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই; তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করি। (১)।
আমি বর্ণনার ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বনের ইচ্ছা করেছি। কারণ বর্ণনা যত দীর্ঘই হোক না কেন, তা কখনোই চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না এবং এর শেষ সীমায় উপনীত হতে পারবে না। তাই আমার সাধ্যের মধ্যে যতটুকু সম্ভব আমি প্রচেষ্টা চালিয়েছি। তা সত্ত্বেও আলোচনা দীর্ঘ হয়ে গেছে, যদিও আমি এর কূলকিনারা করতে পারিনি; কারণ তা আমার মতো অক্ষম ব্যক্তির সাধ্যাতীত। আমি এই কিতাবটিকে তিনটি খণ্ডে বিভক্ত করেছি:
প্রথম খণ্ড- এতে নবি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর জন্ম থেকে তাঁর জীবনের ঘটনাবলি আলোচিত হয়েছে; যে জন্ম ছিল অলৌকিকতায় পরিবেষ্টিত এবং যাঁর পুরো জীবনই ছিল নবুওয়াতের আগাম বার্তার সমষ্টি। আল্লাহ তাআলা তাঁকে মানুষ হিসেবে রাসুল রূপে প্রেরণ করা পর্যন্ত সময়কাল এখানে স্থান পেয়েছে। দ্বীনের পথে তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা নির্যাতিত হয়েছেন, তিনি চরম ধৈর্য ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছেন, অবশেষে হিজরতের মাধ্যমে ইসলামের নগরী ও ঈমানের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
দ্বিতীয় খণ্ড- এতে তাঁর জিহাদ, শিরক দমন, মুহাম্মাদী দাওয়াতের পথ উন্মোচন এবং জালিমদের অবাধ্যতা ও মুমিনদের ওপর আসা ফেতনারূপী প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার বিবরণ রয়েছে; যেন দাওয়াতের পথ বক্রতামুক্ত হয় এবং এটি এমন এক সুগম পথে অগ্রসর হয় যেখানে কোনো অনিষ্ট বাধা দিতে পারবে না এবং কোনো কষ্ট বিঘ্ন ঘটাতে পারবে না। এই অংশটি হুদায়বিয়ার সন্ধির মাধ্যমে শেষ হয়েছে, যখন মুশরিকরা মুমিনদের ক্ষতি করার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়েছিল এবং মুমিনদের ওপর আক্রমণ করতে অক্ষম হয়ে গিয়েছিল। ফলে আরব উপদ্বীপে ঈমানের কালেমা সুউচ্চ হয় এবং দাওয়াত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
তৃতীয় খণ্ড- হুদায়বিয়া পরবর্তী সময়কাল; এতে নবি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) ইয়াহুদিদের দমনে মনোনিবেশ করেন, যারা ছিল আরবদের পার্শ্বদেশ বিঁধে থাকা কন্টকস্বরূপ। এ সময়ে ইসলাম সমগ্র আরব উপদ্বীপে ছড়িয়ে পড়ে এবং বহির্বিশ্বে পদার্পণ করে। ফলে মুতার যুদ্ধ এবং সেই মহান বিজয় সংঘটিত হয়, যার ফলে শয়তান এই ভূমিতে পূজিত হওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে যায়। নবি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর পত্রাবলি ও দূত প্রেরণের মাধ্যমে এবং ছোট ছোট যুদ্ধাভিযান প্রেরণের মাধ্যমে ইসলাম আরবের চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এছাড়া রোমানদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয়, যারা সিরিয়ার ভূমিতে মুমিনদের হত্যা করেছিল। তাই দাওয়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ফেতনা দূর করা আবশ্যক ছিল। এই অংশটি নবি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর রূহ মুবারক নিয়ে এই পৃথিবী থেকে সুউচ্চ আসমানে মহাপ্রয়াণের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে।
হে আল্লাহ, তাঁর হেদায়েত দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন এবং আমাদের তাঁর পথে পরিচালিত করুন। নিশ্চয়ই আপনি যাকে চান তাকে হেদায়েত দান করেন এবং আপনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
মুহাম্মদ আবু জাহরা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
[تمهيد]
الاضطراب الفكرى:
1- فى القرن الخامس الميلادى وما يليه، كان العالم الإنسانى يموج بالشر، وتضطرب النفوس، واستحكمت الأهواء، وتفرق بنو الإنسان، حتى صار القانون السائد المسيطر، الحق هو القوة، والقوة هى الحق، فشاهت الأفكار، وتقطعت الأسباب. وصار ابن ادم ينقض ما أبرمته الفطرة، ويحل الرابطة الإنسانية الجامعة، وعجز العقل عن أن يحكم بين الناس، بل إنه اتخذ العقل مطية لتبرير الباطل، وتزييف الحق، والعبث بالميراث الإنسانى للنبيين من بعد إبراهيم وموسى وعيسى، وشوهت المفاسد تعاليم موسى وعيسى، وغيرهم من الأنبياء المرسلين، فالنصارى قد استسلموا لحكم الأباطرة وزكوه، بل أيدوه، وتفرقوا، وصار بأسهم بينهم شديدا، وأغرى الله سبحانه وتعالى بينهم العداوة والبغضاء إلى يوم القيامة.
فالملكانيون تحكموا فى اليعقوبيين، حتى نفروا منهم. واليهود شوهوا تعاليم موسى عليه السلام فضربت عليهم الذلة والمسكنة، وصاروا مع فساد قلوبهم، لا وجود لهم إلا بمعونة قوى يريد أن يكون غالبا لهم ولغيرهم، وتسربلوا سربال العداوة لبنى الإنسان جميعا، إذ يعطون لأنفسهم من الصفات العقلية، والمزايا الدينية ما ليس فيهم وينكرونه فى غيرهم، حتى زعموا أنهم أبناء الله وأحباؤه، وأنهم شعب الله المختار، وزعموا لغيرهم المنزلة الدون، وكانوا يقولون عن العرب الذين نكبوا بمعاشرتهم.. لَيْسَ عَلَيْنا فِي الْأُمِّيِّينَ سَبِيلٌ.. «1» ، فهم يأخذون منهم بالحق والباطل، ولا يعطونهم شيئا لأنه لا سبيل لهم بحق، ولا بغيره.
2- وكان الأقربون والأبعدون، والقاصون والدانون فى اضطراب فكرى، وعجز العقل البشرى عن أن يحل مشاكل هذا الوجود. فتاه العقل فى معرفة أصل الوجود، ولم تستطع الفلسفة الأيونية أن تحل مشكلة أصل الوجود، ولا أن تصل إلى منشئه، مما أثبت أن العقل مهما يؤت لا يستطع أن يفسر سر الظواهر، فهو يعرف مظاهر الأشياء، ولا يعرف الأسرار المستكنة الباعثة، يعرف مظاهر الحرارة والكهرباء ولا يمكن أن يعرف ما يحركها، إلا إذا اتجه إلى معرفة المؤثر من الأثر، والمنشىء مما أنشأ. ولكنه- وقد غمر بالمحسوسات، ومظاهر القوى، دون أن يعرف مصدرها، عمى عن الأصل وشغل بالفرع، فتاه فى هذه السماء، وصار فى عمياء، لا يعرف المبتدأ وإن عرف مظاهره.
ومع ظهور الأديان السماوية، واختتامها بالإسلام لا يزال العقل، وهو مأسور بما يحس، لا يعرف ماوراء المحسوس، وكل ما تراه من سيطرة العقل ونفاذه لا يتجاوز المظاهر واستخدامها، وهو يجهل باعثها، ولا يعرف منشئها إلا إذا كان ينفذ من المظهر إلى المنشئ المكون.
--------------------------------------------
[ভূমিকা]
বুদ্ধিবৃত্তিক বিশৃঙ্খলা:
১- পঞ্চম খ্রিষ্টীয় শতাব্দী এবং পরবর্তী সময়ে মানব বিশ্ব মন্দের জোয়ারে ভাসছিল, মানুষের আত্মা ছিল অস্থির, প্রবৃত্তিগুলো শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল এবং মানবজাতি বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। এমনকি তৎকালীন প্রচলিত ও আধিপত্যশীল আইন হয়ে দাঁড়িয়েছিল—সত্যই শক্তি এবং শক্তিই সত্য। ফলে চিন্তা-চেতনা বিকৃত হয়ে গিয়েছিল এবং সকল কার্যকারণ বা যোগসূত্র ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। আদম সন্তান ফিতরাত বা সহজাত স্বভাবের দৃঢ় বন্ধনগুলো ভাঙতে শুরু করেছিল এবং সার্বজনীন মানবীয় সম্পর্কগুলো ছিন্ন করছিল। মানুষের মাঝে ফয়সালা করতে বিবেক অক্ষম হয়ে পড়েছিল, বরং বিবেককে বাতিলের বৈধতা প্রদান, সত্যকে জাল করা এবং ইবরাহিম, মুসা ও ঈসা (আলাইহিমুস সালাম)-এর পরবর্তী নবীদের মানবীয় উত্তরাধিকার নিয়ে খেলতামাশা করার বাহন হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। মুসা ও ঈসা এবং প্রেরিত অন্যান্য নবীদের শিক্ষাগুলোকে বিভিন্ন অপকর্ম বিকৃত করে দিয়েছিল। খ্রিষ্টানরা সম্রাটদের শাসনের কাছে নতি স্বীকার করেছিল এবং একে পবিত্র ঘোষণা করেছিল, এমনকি একে সমর্থন করেছিল। তারা বিভক্ত হয়ে পড়েছিল এবং তাদের নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ-বিগ্রহ তীব্র আকার ধারণ করেছিল; আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কিয়ামত পর্যন্ত তাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চার করে দিয়েছিলেন।
ফলে মেলকাইটরা জ্যাকোবাইটদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল, এমনকি তারা তাদের থেকে বিমুখ হয়ে পড়েছিল। আর ইহুদিরা মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর শিক্ষাকে বিকৃত করেছিল, ফলে তাদের ওপর লাঞ্ছনা ও দারিদ্র্য আপতিত হয়েছিল। অন্তরের কলুষতা নিয়ে তারা এমন এক অবস্থায় উপনীত হয়েছিল যে, এমন কোনো শক্তিশালী পক্ষের সাহায্য ছাড়া তাদের অস্তিত্ব রক্ষা সম্ভব ছিল না, যে পক্ষ তাদের ওপর এবং অন্যদের ওপর বিজয়ী থাকতে চায়। তারা সমস্ত মানুষের বিরুদ্ধে শত্রুতার পোশাক পরিধান করেছিল। তারা নিজেদের জন্য এমন কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক গুণাবলী এবং ধর্মীয় শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করত যা তাদের মধ্যে ছিল না, অথচ অন্যের ক্ষেত্রে তা অস্বীকার করত। এমনকি তারা দাবি করেছিল যে, তারা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়ভাজন এবং তারা আল্লাহর মনোনীত জাতি। তারা অন্যদের জন্য হীন মর্যাদা নির্ধারণ করেছিল। তারা তাদের সাথে বসবাসরত আরবদের সম্পর্কে বলত, ‘উম্মি বা নিরক্ষরদের প্রতি আমাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই’। (১) তারা আরবদের থেকে সত্য ও মিথ্যা সব পন্থায় সবকিছু গ্রহণ করত, কিন্তু তাদের কিছুই দিত না; কারণ তারা মনে করত তাদের ওপর কারো কোনো অধিকার নেই, হোক তা ন্যায্য বা অন্য কিছু।
২- কাছের ও দূরের, পরিচিত ও অপরিচিত সকলেই বুদ্ধিবৃত্তিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে ছিল এবং মানুষের বিবেক এই মহাবিশ্বের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে অক্ষম হয়ে পড়েছিল। ফলে অস্তিত্বের মূল উৎস অনুসন্ধানে বিবেক পথ হারিয়ে ফেলেছিল। আয়োনীয় দর্শন অস্তিত্বের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি এবং এর সূচনালগ্নে পৌঁছাতে পারেনি। এতে এটিই প্রমাণিত হয় যে, বিবেককে যত শক্তিই দেওয়া হোক না কেন, তা বাহ্যিক ঘটনাপ্রবাহের রহস্য ব্যাখ্যা করতে সক্ষম নয়। বিবেক কেবল বস্তুর বাহ্যিক রূপ জানে, কিন্তু এর অন্তরালে নিহিত চালিকাশক্তি সম্পর্কে জানে না। সে তাপ ও বিদ্যুতের বাহ্যিক রূপ জানে, কিন্তু সেগুলোকে কী সঞ্চালিত করছে তা জানতে পারে না—যতক্ষণ না সে প্রভাব দেখে প্রভাবকের এবং সৃষ্টি দেখে স্রষ্টার পরিচয় পাওয়ার দিকে ধাবিত হয়। কিন্তু বিবেক যেহেতু বাহ্যিক ইন্দ্রিয়জাত বিষয় এবং শক্তির দৃশ্যমান প্রকাশে নিমজ্জিত ছিল, এর উৎস না জেনেই সে মূল থেকে অন্ধ হয়ে ডালপালা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। ফলে সে এই আকাশে পথ হারিয়ে ফেলেছিল এবং এমন এক অন্ধকার অবস্থায় পতিত হয়েছিল যে, সে দৃশ্যমান রূপগুলো জানলেও এর আদি উৎস সম্পর্কে অবগত হতে পারেনি।
আসমানি ধর্মগুলোর আবির্ভাব এবং ইসলামের মাধ্যমে সেগুলোর পরিসমাপ্তি ঘটা সত্ত্বেও বিবেক এখনও তার ইন্দ্রিয়জাত অনুভূতির কাছে বন্দী হয়ে আছে। সে ইন্দ্রিয়গোচর জগতের অন্তরালের বিষয়গুলো জানে না। বিবেকের আধিপত্য ও প্রভাবের যা কিছু আপনি দেখছেন, তা কেবল বাহ্যিক রূপ এবং সেগুলোর ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সে এর চালিকাশক্তি সম্পর্কে অজ্ঞ এবং এর উদ্ভবকারী সম্পর্কে অবগত নয়—যতক্ষণ না সে বাহ্যিক রূপ ভেদ করে এর মূল স্রষ্টা ও রূপকার পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
وإنه لا يمكن معرفة الكون على حقيقته إلا بالإيمان بمن أنشأه، وإن الأديان السماوية تدعو إلى معرفة المنشىء مما أنشأه، ومعرفة الخالق من المخلوق، فهى تدعو إلى دراسة الخلق لمعرفة من أنشأه. تدعو إلى دراسة الكون، وتعرّف مظاهره لمعرفة من وراء هذه المظاهر، ولم يكن ذلك شأن الدارسين للكون فى الماضى، ولا من يدرسون مظاهره المجردة فى الحاضر، وإنما يهمنا الماضى الذى كان قبل محمد صلى الله عليه وسلم، وما كان عليه الوجود.
3- تلك كانت حال العقيدة فى الفلسفة الأيونية، والفلسفة اليونانية التى ورثتها، ولما جاء سقراط زعيم هذه المدرسة وكبيرها، أراد أن ينزل بالفلسفة من السماء إلى الإنسان، ودعا إلى ترك البحث عما وراء الطبيعة ومظاهرها، وأراد أن يعمل ما يجدى وما ينفع فى السلوك الإنسانى، بدل أن يهيم فيما وراء الطبيعة من غير هاد يهدى، ولا مرشد يرشد.
أخذ يدرس نظام التعامل الإنسانى، ومقياس الفضيلة الذى يميزها عن الرذيلة، ليميز به الحق من الباطل، وخطأ السلوك واستقامته؛ ليعرف ما هو فاسد وما هو صالح.
ودعا إلى ذلك، واختلف هو وتلاميذه، فمن قائل إن القياس هو المعرفة وهو ما اختاره سقراط، ومن قائل إنه الحكمة والعدالة والشجاعة والعفة. والفضائل كلها ترجع إلى هذه العناصر، وقد اختار ذلك أفلاطون، ومن قائل إنه اللذة أو المنفعة، فما هو نافع، ولو نفعا شخصيا فهو خير، وما لا نفع فيه فهو شر، ومن قائل إن الخير وسط بين رذيلتين.
وهكذا كانت المتاهات العقلية فى إدراك أسس التعامل الإنسانى، كالحيرة فى معرفة العقيدة الصحيحة، فالعقل لم يستطع أن يصل إلى قانون التعامل المستقيم، كما لم يصل إلى إدراك سر الوجود، بل كان يهيم فى نظريات من غير أن يصل إلى حقائق ثابتة.
وفى وسط ذلك الديجور ظهرت السوفسطائية التى تشكك فى حقائق الوجود، فمنهم من أنكرها، ومنهم من شك فى كل شىء، ومنهم من قال إن الحق فى الأشياء هو ما يعتقده كل امرىء فى ذات نفسه، وتسمي العندية، فليس للأشياء حقيقة، وإنما الأمر فيها إلى اعتقاد وجودها.
وهكذا كان الضلال المبين بسبب الاعتماد على العقل المجرد فى وسط تلك الفلسفة التى لا تهدى، بل يضل فيها الفكر، كما يضل السارى فى ظلمات الليل.
المجوسية:
4- ولو غادرنا اليونان ومن سبقوهم إلى الفرس ومن وراءهم فإنا واجدون عجبا، فإنا نجد بجوار الفلسفة اليونانية التى سرت إليهم فلسفة أخرى، أرادت أن تنظم التعامل الإنسانى وتحل مشكلة أصل
মহাবিশ্বকে এর প্রকৃত রূপে চেনা সম্ভব নয় সেই সত্তার ওপর ঈমান আনা ব্যতীত যিনি এটি সৃষ্টি করেছেন। আসমানি ধর্মসমূহ সৃষ্টির নিদর্শনে স্রষ্টাকে জানার এবং মাখলুকের মাধ্যমে খালেককে চেনার আহ্বান জানায়। অতএব, ধর্মসমূহ সৃষ্টিজগত নিয়ে গবেষণার প্রতি আহ্বান জানায় যাতে এর উদ্ভবকারীকে চেনা যায়। এটি বিশ্বজগত নিয়ে গবেষণার এবং এর বাহ্যিক রূপসমূহকে জানার আহ্বান জানায় যাতে এই বাহ্যিক রূপগুলোর অন্তরালে কে আছেন তা জানা যায়। অতীতে যারা বিশ্বজগত নিয়ে গবেষণা করতেন তাদের অবস্থা এমন ছিল না, এমনকি বর্তমানে যারা এর নিছক বাহ্যিক রূপ নিয়ে গবেষণা করছেন তাদের অবস্থাও তা নয়। আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্ববর্তী সময়ের অতীত এবং সেই সময়ে অস্তিত্বের কী অবস্থা ছিল।
৩- আয়নীয় দর্শন এবং এর থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত গ্রিক দর্শনে আকিদা বা বিশ্বাসের অবস্থা এমনই ছিল। যখন এই মতবাদের নেতা ও প্রধান সক্রেটিস এলেন, তিনি দর্শনকে আকাশ থেকে মানুষের মাঝে নামিয়ে আনতে চাইলেন। তিনি পরাপ্রকৃতি ও এর বাহ্যিক বিষয়সমূহ নিয়ে অনুসন্ধান ত্যাগ করার আহ্বান জানালেন। তিনি এমন কাজ করতে চাইলেন যা মানুষের আচরণে ফলপ্রসূ ও উপকারী হয়, কোনো পথপ্রদর্শক ও দিকনির্দেশক ছাড়াই পরাপ্রকৃতির গোলকধাঁধায় ঘুরে বেড়ানোর পরিবর্তে।
তিনি মানুষের পারস্পরিক আচরণের নিয়মাবলী এবং সচ্চরিত্রের মানদণ্ড নিয়ে অধ্যয়ন শুরু করলেন যা একে অসদাচরণ থেকে পৃথক করে; যাতে এর মাধ্যমে সত্যকে মিথ্যা থেকে এবং আচরণের ভুলকে সঠিক থেকে আলাদা করা যায়; যা মন্দ এবং যা কল্যাণকর তা চেনা যায়।
তিনি এর প্রতি আহ্বান জানালেন, এবং তিনি ও তাঁর ছাত্ররা এ বিষয়ে মতভেদ করলেন। কেউ বললেন যে, মানদণ্ড হলো জ্ঞান—যা সক্রেটিস পছন্দ করেছেন। আবার কেউ বললেন যে, তা হলো প্রজ্ঞা, ন্যায়বিচার, বীরত্ব ও চারিত্রিক পবিত্রতা। সকল সচ্চরিত্র এই উপাদানগুলোর দিকেই ফিরে যায়; আর এটি প্লেটো পছন্দ করেছেন। আবার কেউ বললেন যে, তা হলো তৃপ্তি বা উপকারিতা; সুতরাং যা উপকারী, তা যদি ব্যক্তিগত উপকারও হয়, তবে তা কল্যাণ, আর যাতে কোনো উপকার নেই তা অকল্যাণ। আবার কেউ বললেন যে, কল্যাণ হলো দুটি অসদাচরণের মধ্যবর্তী অবস্থা।
এভাবেই মানবীয় আচরণের ভিত্তি উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক গোলকধাঁধা তৈরি হয়েছিল, যেমনটি ছিল সঠিক আকিদা বা বিশ্বাস নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি। বুদ্ধি যেমন অস্তিত্বের রহস্য উদঘাটনে পৌঁছাতে সক্ষম হয়নি, তেমনি এটি সঠিক আচরণের নীতিমালায় পৌঁছাতেও সক্ষম হয়নি। বরং এটি কোনো প্রতিষ্ঠিত সত্যে পৌঁছানো ছাড়াই বিভিন্ন তত্ত্বের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।
সেই অন্ধকারের মাঝে সফিস্ট মতবাদের আবির্ভাব ঘটে যারা অস্তিত্বের প্রকৃত সত্য নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করে। তাদের মধ্যে কেউ সত্যকে অস্বীকার করত, কেউ সব কিছুতেই সন্দেহ করত, আবার কেউ বলত যে বস্তুর ক্ষেত্রে সত্য সেটাই যা প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের মনে বিশ্বাস করে; একে 'ইন্দিয়্যাহ' (আপেক্ষিকতাবাদ) বলা হয়। বস্তুর কোনো ধ্রুব সত্য নেই, বরং এর অস্তিত্ব নির্ভর করে তা বিশ্বাস করার ওপর।
এভাবেই সেই দর্শনের মাঝে নিছক বুদ্ধিবৃত্তির ওপর নির্ভর করার কারণে সুস্পষ্ট বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছিল যা কোনো সঠিক পথ দেখায় না, বরং এতে চিন্তাচেতনা পথ হারায়, যেমন অন্ধকার রাতে পথচারী পথ হারিয়ে ফেলে।
মজুসিয়ত (অগ্নিপূজা):
৪- আমরা যদি গ্রিস এবং তাদের পূর্ববর্তীদের ছেড়ে পারস্য ও তাদের পশ্চাৎবর্তী দেশগুলোর দিকে যাই, তবে আমরা বিস্ময়কর কিছু দেখতে পাব। সেখানে গ্রিক দর্শনের পাশাপাশি—যা তাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল—আমরা অন্য একটি দর্শন দেখতে পাই, যা মানুষের আচরণকে সুশৃঙ্খল করতে এবং মূল সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিল...
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
الوجود بأوهام توهموها، وأساطير اكتتبوها، فكانت الزرادشتية التى تفرض أن الوجود له إلهان إله الخير وإله الشر، وأن كليهما يتنازع النفس الإنسانية والكون وما فيه.
وإن هذا- بلا ريب- باطل لا أصل له من دين، ولكن قد يقال إنه تحريف لدين سماوى، كان يدعو لعبادة الله تعالى واحده، ولا مانع من ذلك عقلا، وقد وجد فى بعض كتب ذلك بقايا تبشر بمحمد عليه الصلاة والسلام، وقد قال تعالى: وَإِنْ مِنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلا فِيها نَذِيرٌ «1» .
ولكن نجد بجوار ذلك مذهبا اجتماعيا خطيرا يدعو إلى القوة، وأنه لا عبرة بالضعفاء، وأنهم لا يصلحون للبقاء، فالحق مع القوى دائما، والباطل مع الضعيف دائما، فقانون الحياة يعمل للأقوياء على الضعفاء، ويجب أن يبقى الأقوياء، وأن يفنى الضعفاء، فلا إيمان بالعدل، وإنما الإيمان بالقوة.
المانوية:
5- ثم كان بفارس أيضا مذهب يحسب أن الوجود الإنسانى كله شر يجب ألا يبقى، بل يجب العمل على إفناء الإنسان، وهو مذهب (مانى) وعقيدته تسمى المانوية، فهو مذهب يدعو إلى الفناء. ولذلك يمنع الزواج، حتى لا يكون تناسل، وينتهى ذلك الإنسان الذى اعتبر وجوده لعنة فى الأرض، ومادام الإنسان فى الإنسال مستمرا، فإن اللعنة الإنسانية مستمرة، وكأنه يحسب أنه نزل إلى الأرض بخطأ ارتكبه أبوه، فالخطيئة باقية بوجوده.
المزدكية:
6- وبعد ذلك جاء المذهب المخرب، كان مذهبا اخر يحل الواحدة الإنسانية، والعلاقة الفاضلة، وهو مذهب (مزدك) الذى انتشر فى فارس، وأساسه إباحة النساء، فلا زواج ولا ارتباط، بل يسافد الإنسان كما يسافد الحيوان من غير أى قيد من رابطة حافظة للأنساب، وراعية للطفولة المقبلة، كما أباح الأموال، فلا ملكية تحمى إنسانا، من إنسان، بل كل الأموال مباحة للجميع من غير أى نظام، فهو يمنع القيود فيها كما يمنع القيود فى النساء.
وجملة هذا المذهب أنه يبيح الانطلاق من كل قيد، كما أن الحيوان فى البادية أو الغابة منطلق، لا يقيد إلا بقوة غير التى ترسم له حدا لا يتعداه.
والوهم الذى قام عليه ذلك المذهب أنه زعم أن الشحناء والبغضاء تتوالدان من احتياز النساء بالزواج أو نحوه، واحتياز المال بالملكية، ويحسب أنه إذا زالت روابط الزوجية، وزالت الملكية للأموال يكون الناس فى
--------------------------------------------
অস্তিত্বকে তারা তাদের কল্পনাপ্রসূত বিভ্রম এবং তাদের রচিত রূপকথা দ্বারা সংজ্ঞায়িত করেছিল। এমনই ছিল জরথুস্ত্রবাদ, যা দাবি করে যে অস্তিত্বের জন্য দুজন উপাস্য রয়েছে—একজন কল্যাণের উপাস্য এবং অন্যজন অকল্যাণের উপাস্য। তারা উভয়েই মানবাত্মা, মহাবিশ্ব এবং এর মধ্যকার সবকিছু নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত।
নিঃসন্দেহে এটি বাতিল এবং দ্বীনের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তবে বলা যেতে পারে যে, এটি কোনো আসমানী দ্বীনের বিকৃত রূপ হতে পারে, যা মূলত এক আল্লাহ তাআলার ইবাদতের দিকে আহ্বান করত। বুদ্ধিগতভাবে এতে কোনো বাধা নেই। তাদের কিছু কিতাবে এমন কিছু অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে যা মুহাম্মদ (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর আগমনের সুসংবাদ দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এমন কোনো জাতি নেই যার নিকট সতর্ককারী প্রেরিত হয়নি।" (১)
কিন্তু এর পাশাপাশি আমরা একটি বিপজ্জনক সামাজিক মতবাদ দেখতে পাই যা শক্তির দিকে আহ্বান করে। এর মতে, দুর্বলের কোনো গুরুত্ব নেই এবং তারা টিকে থাকার যোগ্য নয়। সত্য সর্বদা শক্তিমানের সাথে থাকে আর মিথ্যা সর্বদা দুর্বলের সাথে। জীবনের নিয়ম শক্তিশালীদের অনুকূলে এবং দুর্বলদের প্রতিকূলে কাজ করে। শক্তিশালীরা টিকে থাকবে এবং দুর্বলরা বিলীন হয়ে যাবে—এটাই হওয়া উচিত। সেখানে ন্যায়ের প্রতি কোনো বিশ্বাস নেই, বরং কেবল শক্তির ওপরই বিশ্বাস।
মানুবিবাদ (মানোবিয়্যাহ):
৫- এরপর পারস্যে আরও একটি মতবাদ ছিল যা মনে করত সমগ্র মানব অস্তিত্বই এক মন্দ বিষয়, যা টিকে থাকা উচিত নয়; বরং মানুষকে বিলীন করে দেওয়ার জন্য কাজ করা উচিত। এটি ছিল 'মানী'-এর মতবাদ এবং তার আকিদাকে মানুবিবাদ বলা হয়। এটি এমন এক মতবাদ যা বিনাশের দিকে আহ্বান করে। এ কারণে এটি বিবাহ নিষিদ্ধ করে, যাতে বংশবৃদ্ধি না ঘটে এবং সেই মানুষের অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায় যাকে পৃথিবীতে অভিশাপ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল। যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের বংশবিস্তার চলতে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই মানবিক অভিশাপও অব্যাহত থাকবে। যেন সে মনে করে যে, সে তার পিতার করা কোনো ভুলের কারণে পৃথিবীতে নেমে এসেছে, তাই তার অস্তিত্বের মাধ্যমেই সেই পাপ বিদ্যমান থাকছে।
মাজদাকবাদ:
৬- এরপর আসলো ধ্বংসাত্মক মতবাদ। এটি ছিল এমন এক মতবাদ যা মানবিক ঐক্য ও উন্নত সম্পর্কসমূহকে বিলীন করে দিয়েছিল। এটি হলো ‘মাজদাক’-এর মতবাদ যা পারস্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। এর মূল ভিত্তি ছিল নারীদের অবাধ ভোগযোগ্য করে তোলা। সেখানে কোনো বিবাহ বা দায়বদ্ধতা ছিল না; বরং মানুষ পশুর মতো কামাচারে লিপ্ত হতো, বংশধারা রক্ষাকারী কোনো বন্ধন বা আগামী প্রজন্মের শৈশব সুরক্ষার কোনো বালাই সেখানে ছিল না। তেমনিভাবে সে সম্পদকেও অবাধ করে দিয়েছিল। কোনো মালিকানা এক মানুষকে অন্য মানুষ থেকে সুরক্ষা দিত না, বরং সকল সম্পদ কোনো নিয়ম ছাড়াই সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। সে সম্পদের ক্ষেত্রে যেমন সব বাধা নিষেধ তুলে দিয়েছিল, তেমনি নারীদের ক্ষেত্রেও সব সীমাবদ্ধতা তুলে দিয়েছিল।
এই মতবাদের সারকথা হলো, এটি সকল প্রকার বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়ার অনুমতি দেয়; ঠিক যেমন মরুভূমি বা বনের পশুরা মুক্ত থাকে, যাদের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না এবং কোনো নির্ধারিত সীমাও থাকে না যা তারা অতিক্রম করবে না।
যে ভ্রান্ত ধারণার ওপর এই মতবাদটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা হলো—সে দাবি করত যে, বিদ্বেষ ও ঘৃণা মূলত জন্ম নেয় বিবাহ বা অনুরূপ ব্যবস্থার মাধ্যমে নারীদের ওপর একক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মালিকানার মাধ্যমে সম্পদ কুক্ষিগত করার ফলে। সে মনে করত যে, যদি বৈবাহিক সম্পর্ক এবং সম্পদের মালিকানা বিলুপ্ত হয়ে যায়, তবে মানুষ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
سلام دون خصام، وياليته اعتبر الإنسان كالحيوان لأنه مع زوال الملكية والعقود الرابطة للعلاقة بين الذكر والأنثى فى الحيوان لم تزل القوة الغالبة والافتراس بين الحيوانات المتحدة فى الجنس والأرومة والمختلفة القوة والقدرة على التسلط والعدوان.
ومهما يكن فقد انتشر ذلك المذهب فى فارس، وضاعت الأنساب، واعتنقه بعض الأكاسرة، وساد وسار مدة حكم هذا الكسرى.
ولكن زال ملكه، قبيل مبعث النبى صلى الله عليه وسلم، فانظر كيف تأذّى بهم ما سمّوه حكم العقل.
البراهمة:
7- ولو أننا تجاوزنا فارس إلى ماوراءها من أرض المشرق، فإنا واجدون الهند، وما فيها، وهنالك نجد ديانة تقوم على التفرقة الإنسانية بين الطبقات، فالناس ليسوا سواء فى الحقوق والواجبات، بل يقرر دين البراهمة التفرقة بين الناس من حيث العبادة والزلفى لبراهما، إلههم الأكبر؛ فقد انقسم الناس من حيث مهنهم التى تتوارث، والتى تصير المهنة عندهم أصلا نسبيا ينتقل من الأصول إلى الفروع، ومن الفروع إلى فروعهم فقسموا إلى أربع طبقات:
[طبقات الناس في عقيدة البراهمة في المجتمع الهندي]
الطبقة الأولي: هى أعلاها وهى طبقة البراهمة، وهم رجال الدين الذين يبينون أحكامه، ويزعمون أنهم خلقوا من رأس إلههم (براهما) ولذلك كانوا أعلى الناس، لأنهم خلقوا من أعلى الإله. وهم فى زعمهم خلاصة الجنس البشرى، وعقله المتفكر، ورأسه المدبر، لأن الرأس عنوان ذلك كله، فهم علاوة الجسم.
الطبقة الثانية: طبقة الجند، ويزعمون أنهم خلقوا من مناكب إلههم (براهما) ويديه، وهم لهذا الحماة والغزاة وموطن القوة. ومرتبتهم دون مرتبة البراهمة، وهى تليهم مباشرة.
الطبقة الثالثة: طبقة الزراع والتجار، وهم مخلوقون من ركبتى إلههم، والمسافة بينهم وبين الطبقة السابقة لها كبيرة، وهى قريبة من الطبقة التى تليها مباشرة لتقاربهما فى التكوين والخلق.
الطبقة الرابعة:طبقة الخدم والرقيق، وهؤلاء خلقوا فيما يزعمون من قدمى إلههم فهم أحط الطبقات، وأبعدها، لأنها البعيدة عن رأس (براهما) .
وهناك دون هذه الطبقات طبقة أبناء الزنى والمحرومين أو المنبوذين، والذين يتناولون الأعمال الحقيرة فى المدن، ويسمون من ليسوا من الهنود (أبليج) ومعناها أنجاس، فكل من ليس هنديا نجس.. ويلحق بتلك الطبقة من المنبوذين.
বিবাদহীন এক শান্তি; আর তিনি যদি মানুষকে পশুর সমতুল্য মনে করতেন তবে কতই না ভালো হতো। কারণ প্রাণিজগতে পুরুষ ও মাদি প্রাণীর মধ্যকার মালিকানা ও সম্পর্কের বন্ধন বিলুপ্ত হয়ে গেলেও, একই বংশ ও মূলের হওয়া সত্ত্বেও অধিক শক্তি ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পন্ন এবং আক্রমণাত্মক প্রাণীদের মাঝে পারস্পরিক আধিপত্য বিস্তার ও শিকারি মনোভাবের বিলুপ্তি ঘটেনি।
যাই হোক না কেন, সেই মতবাদ পারস্যে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং বংশ পরিচয় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। কিছু পারস্য সম্রাট এটি গ্রহণ করেছিলেন এবং এই সম্রাটের শাসনামল জুড়ে তা প্রচলিত ও কার্যকর ছিল।
কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়ত প্রাপ্তির কিছুকাল পূর্বেই তার রাজত্ব খতম হয়ে যায়। অতএব দেখুন, তারা যাকে 'বিবেকের শাসন' বলে অভিহিত করেছিল, তা দ্বারা তারা কীভাবে নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়:
৭- আমরা যদি পারস্য অতিক্রম করে প্রাচ্যের ভূমির দিকে অগ্রসর হই, তবে আমরা হিন্দুস্তান ও সেখানে যা কিছু আছে তা দেখতে পাই। সেখানে আমরা এমন এক ধর্ম খুঁজে পাই যা মানুষের বিভিন্ন শ্রেণির মাঝে বিভাজনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সেখানে অধিকার ও কর্তব্যের ক্ষেত্রে সকল মানুষ সমান নয়; বরং ব্রাহ্মণদের ধর্ম তাদের প্রধান উপাস্য ব্রহ্মার উপাসনা ও নৈকট্য লাভের ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে পার্থক্যের বিধান দেয়। বংশপরম্পরায় প্রাপ্ত পেশার ভিত্তিতে সেখানে মানুষ বিভক্ত ছিল, আর এই পেশাই তাদের নিকট বংশগত মূল ভিত্তিতে পরিণত হয়েছিল যা পূর্বপুরুষ থেকে উত্তরসূরিদের মাঝে এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে স্থানান্তরিত হতো। ফলে তারা চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল:
[ভারতীয় সমাজে ব্রাহ্মণদের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী মানুষের শ্রেণিবিন্যাস]
প্রথম শ্রেণি: এটি সর্বোচ্চ শ্রেণি এবং তা হলো ব্রাহ্মণ শ্রেণি। তারা হলেন ধর্মীয় যাজক যারা ধর্মের বিধিবিধান বর্ণনা করেন। তারা দাবি করে যে তারা তাদের উপাস্য (ব্রহ্মা)-এর মাথা থেকে সৃষ্টি হয়েছে। এই কারণেই তারা মানুষের মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদাবান, কারণ তারা উপাস্যের দেহের সর্বোচ্চ অংশ থেকে সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, তারা মানবজাতির নির্যাস, তার চিন্তাশীল বিবেক এবং পরিচালক মস্তিষ্ক; যেহেতু মস্তিষ্কই হলো এই সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু। তাই তারা দেহের ঊর্ধ্বাংশ।
দ্বিতীয় শ্রেণি: যোদ্ধা শ্রেণি। তারা দাবি করে যে তারা তাদের উপাস্য (ব্রহ্মা)-এর কাঁধ ও তার হাত থেকে সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে তারাই হলো রক্ষক, যোদ্ধা এবং শক্তির আধার। তাদের মর্যাদা ব্রাহ্মণদের নিচে এবং তাদের অবস্থান ব্রাহ্মণদের ঠিক পরেই।
তৃতীয় শ্রেণি: কৃষক ও ব্যবসায়ী শ্রেণি। তারা তাদের উপাস্যের হাঁটু থেকে সৃষ্টি হয়েছে। তাদের এবং পূর্ববর্তী শ্রেণির মধ্যকার ব্যবধান অনেক বেশি, তবে তাদের পরবর্তী শ্রেণির সাথে তাদের নৈকট্য রয়েছে; কারণ সৃষ্টি ও গঠনের দিক থেকে তারা কাছাকাছি।
চতুর্থ শ্রেণি:সেবক ও দাস শ্রেণি। তাদের দাবি অনুযায়ী এরা তাদের উপাস্যের পা থেকে সৃষ্টি হয়েছে। তাই তারা হীনতম ও দূরবর্তী শ্রেণি; কারণ তারা (ব্রহ্মা)-এর মাথা থেকে সবচাইতে দূরে অবস্থিত।
এই শ্রেণিগুলোর বাইরে আরও একদল রয়েছে যারা অবৈধ সন্তান, অধিকারবঞ্চিত বা অস্পৃশ্য (দলিত)। তারা শহরগুলোতে অত্যন্ত নীচ ও তুচ্ছ কাজগুলো সম্পাদন করে থাকে। যারা হিন্দুস্তানি বা ভারতীয় নয়, তাদেরকে তারা 'ম্লেচ্ছ' বলে অভিহিত করে, যার অর্থ হলো অপবিত্র। সুতরাং যে ব্যক্তি ভারতীয় নয় সে-ই অপবিত্র... এবং সে এই অস্পৃশ্যদের দলের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ونجاسة أولئك ليست نجاسة معنوية فقط، بل هى نجاسة حسية فى زعمهم، حتى أن الأجنبى لو شرب من كوب ماء حطموه، وألقوا بحطامه فى الأرض.
ويلاحظ فى هذه الطبقات أنها تتوارث، فلا يرتقى ابن طبقة إلى أعلى منها، ولا ينحدر من هو فى الأعلى إلى الأدنى.
والفضائل تتفاوت بتفاوت الطبقات، ففضائل البرهمى أن يكون وافر العقل ساكن القلب صادق اللهجة، ظاهر الاحتمال، ضابطا لنفسه، مقيما للعدل، بادى النظافة، مقبلا على العبادة، مصروف الهمة إلى التدين.
ويجب أن يكون الجندى مهيبا شجاعا، ذلق اللسان، سمح اليد، غير مبال بالشدائد، حريصا على لقاء الخطوب، وتيسيرها.
ويجب أن يكون الزراع والتجار عاكفين عليها، يرعى الزراع شئون السوائم وتربيتها، ويقوم التاجر بشئون التجارة، ومعرفة الأسواق، وما تتقاضاه الخبرة من صفق فى البياعات والتمرس بشئونها وتعرف أحوالها.
ويجب أن يكون الخدم والأسارى والأنجاس مجتهدين فى الخدمة، والتحبب إلى الناس، لأن ذلك أليق بما ينبغى أن يكونوا عليه من اداب، وهذا الذى يتفق مع أعمالهم فى الجماعات.
ويقول أبو الريحان البيرونى فى كتابه (ما للهند من مقولة، مقبولة فى العقل أو مرذولة) بعد بيان الطبقات ما نصه: «وكل من هؤلاء إذا ثبت على رسمه وعادته نال الخير فى إرادته إذا كان غير مقصر فى عبادته غير ناس فى جل أعماله، وإذا انتقل عما عهد إليه إلى ما عهد إلى طبقة أخرى- كان اثما بالتعدى» .
هذه نظم وعبادة فيها وثنية، وإذا ضربنا صفحا عن الوثنية فيها واتجهنا إلى النظم العملية، فعجب كيف يقبل شعب مهما تكن درجة التفكير فيه تلك الطبقية المقيتة، ويسير عليها على دين واجب الطاعة، ومن أجل هذه الطبقية كان التأخر النفسى والاجتماعى.
هل للبرهمية أصل سماوى:
8- لا شك أنه لا يوجد فى دين سماوى التفرقة الطبقية التى يعتبرها البراهمة فى القديم فى ضمن دينهم الذى انتشر بها قبل المسيح، ولا تزال بقاياها قائمة، وإن خفت حدتها بفعل الزمان، وبطبيعة الاتصالات الإنسانية العامة، وشيوع فكرة المساواة بين الناس علما، وإن كان العمل لا يزال يتخاذل عن تعميم المساواة بين الناس بحكم الخضوع المزعوم لقضايا العقل الذى يحسبون أنهم يطبقونه.
এবং তাদের অপবিত্রতা কেবল কোনো আধ্যাত্মিক অপবিত্রতা নয়, বরং তাদের ধারণায় এটি একটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অপবিত্রতা; এমনকি কোনো বিদেশি যদি একটি পানির পাত্র থেকে পান করে, তবে তারা সেটি ভেঙে ফেলে এবং তার চূর্ণবালি মাটিতে ছুড়ে ফেলে।
এই বর্ণপ্রথাগুলোতে লক্ষ্য করা যায় যে, এগুলো উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়। ফলে নিম্নবর্ণের কোনো সন্তান উচ্চবর্ণে উন্নীত হতে পারে না, আবার উচ্চবর্ণের কেউ নিম্নবর্ণে নেমে আসে না।
বর্ণভেদে সদ্গুণাবলিও ভিন্ন ভিন্ন হয়। যেমন—একজন ব্রাহ্মণের গুণ হলো, সে প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন হবে, স্থির হৃদয়ের অধিকারী হবে, সত্যভাষী হবে, সহনশীলতা প্রকাশকারী হবে, আত্মসংযমী হবে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকারী হবে, প্রকাশ্য পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখবে, ইবাদতে মনোযোগী হবে এবং ধর্মানুরাগের প্রতি ঐকান্তিক মনোনিবেশ করবে।
আর সৈনিককে হতে হবে প্রতাপশালী, সাহসী, বাগ্মী, দানশীল এবং বিপদাপদের পরোয়া না করা ব্যক্তি; সে দুর্যোগ মোকাবিলা করতে এবং তা সহজ করতে সচেষ্ট থাকবে।
কৃষক ও ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ কাজে নিয়োজিত থাকা আবশ্যক। কৃষক গবাদি পশুর দেখাশোনা ও লালন-পালন করবে এবং ব্যবসায়ী ব্যবসা সংক্রান্ত কার্যাবলি, বাজার পরিস্থিতি এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাসম্মত কার্যাদি সম্পাদন করবে এবং এ সংক্রান্ত বিষয়ে পারদর্শী হবে ও সেগুলোর অবস্থা জানবে।
আর সেবক, যুদ্ধবন্দী ও অস্পৃশ্যদের উচিত সেবাকার্যে এবং মানুষের প্রিয় হওয়ার ক্ষেত্রে পরিশ্রমী হওয়া; কারণ তাদের জন্য যে আদব বা শিষ্টাচার নির্ধারিত রয়েছে, তার সঙ্গে এটিই অধিক মানানসই এবং এটিই সমাজে তাদের কাজের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
আবু রায়হান আল-বিরুনি তাঁর (ভারতের বিষয়াদি, যা যুক্তিতে গ্রহণযোগ্য অথবা বর্জনীয়) গ্রন্থে এই বর্ণপ্রথার বর্ণনার পর লিখেছেন: «তাদের প্রত্যেকে যখন নিজের প্রথা ও অভ্যাসের ওপর অটল থাকে, তখন সে তার সংকল্পে কল্যাণ লাভ করে—যদি সে তার ইবাদতে অবহেলা না করে এবং তার অধিকাংশ কাজে তা বিস্মৃত না হয়। কিন্তু যখন সে নিজের জন্য নির্ধারিত দায়িত্ব ত্যাগ করে অন্য বর্ণের জন্য নির্ধারিত দায়িত্বে প্রবেশ করে, তখন সে সীমা লঙ্ঘনের দায়ে অপরাধী হিসেবে গণ্য হয়»।
এগুলো এমন এক ব্যবস্থা ও ইবাদত যাতে পৌত্তলিকতা রয়েছে। আমরা যদি এতে বিদ্যমান পৌত্তলিকতাকে এড়িয়ে কেবল ব্যবহারিক ব্যবস্থার দিকে নজর দিই, তবে এটি আশ্চর্যজনক যে, কোনো জাতি—তার চিন্তাশক্তি যাই হোক না কেন—কীভাবে এই ঘৃণ্য বর্ণবাদকে গ্রহণ করে নেয় এবং একে একটি অবশ্যপালনীয় ধর্ম হিসেবে অনুসরণ করে চলে! আর এই বর্ণবাদের কারণেই তাদের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক পশ্চাৎপদতা সৃষ্টি হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাদের কি কোনো আসমানি ভিত্তি আছে:
৮- এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো আসমানি ধর্মে এমন বর্ণবৈষম্য নেই যা প্রাচীনকালে ব্রাহ্মণরা তাদের ধর্মের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচনা করত—যে ধর্মটি খ্রিস্টপূর্ব সময়ে বিস্তৃত হয়েছিল। যদিও সময়ের পরিক্রমায়, সাধারণ মানবিক যোগাযোগ এবং মানুষের মাঝে তাত্ত্বিকভাবে সাম্যের ধারণা প্রসারের ফলে এর তীব্রতা কমে এসেছে, তবুও এর অবশিষ্টাংশ এখনও বিদ্যমান রয়েছে। যদিও মানুষের মাঝে সাম্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাস্তব প্রয়োগ এখনও পিছিয়ে আছে—যুক্তির তথাকথিত দাবির নিকট নতিস্বীকারের কারণে, যা তারা প্রয়োগ করছে বলে মনে করে।
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ولكن يفيد كلام أبى الريحان البيرونى احتمال أن يكون لأصل البرهمية رسالة سماوية، ويرجح هذا الاحتمال بدليلين ينشأ عنهما، وبهما يكون احتمالا ناشئا عن دليل، ولمثل هذا الاحتمال قوة فى الاستدلال.
[الأدلة على سماوية الأصل البرهمي]
أولهما:أن الرسل المذكورين فى التوراة والقران ليسوا هم الرسل واحدهم، بل يوجد غيرهم، فقد قال تعالى: مِنْهُمْ مَنْ قَصَصْنا عَلَيْكَ، وَمِنْهُمْ مَنْ لَمْ نَقْصُصْ عَلَيْكَ «1» ويقول سبحانه وتعالى: وَإِنْ مِنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلا فِيها نَذِيرٌ «2» فوجود ديانة سماوية بين الهنود الذين كانت فيهم ثقافة وإدراك أمر راجح، بل أمر يقارب المقطوع به بمقتضى النصوص القرانية.
ثانيهما:ما يذكره أبو الريحان البيرونى فى كتابه (ما للهند من مقولة، مقبولة فى العقل أو مرذولة) من أن خواص الهنود مواحدون، وأن عوامهم هم الذين دخلت الوثنية فى مزاعمهم، فهو يقول فى هذا المقام:
«اعتقاد الهند فى الله سبحانه وتعالى أنه الواحد الأزلى، من غير ابتداء ولا انتهاء، المختار فى فعله القادر، الحكيم المحيى المدبر المنفرد فى ملكوته عن الأضداد، لا يشبه شيئا ولا يشبهه شىء. ولنورد لك شيئا من كتبهم لئلا تكون حكايتنا كالشىء المسموع فقط: قال السائل فى كتاب ياتنجل: من هذا المعبود القوى؟ قال المجيب: هو المستعالى بأزليته وواحدانيته عن فعل لمكافأة عليه براحة تؤمل وترتجى، أو شدة تخاف وتتقى، والبرىء من الأفكار، لتعاليه عن الأضداد المكروهة، والأنداد المحبوبة، والعالم بذاته سرمدا. إذ العلم الطارئ يكون لما لم يكن بمعلوم، وليس الجهل بحجة عليه فى وقت ما أو حال.
ثم يقول السائل بعد ذلك: فهل له من صفات غير ما ذكرت؟ فيقول المجيب: العلو التام فى القدر لا فى المكان، فإنه يجل عن التمكن، وهو الخير المحض التام، وهو العلم الخالص عن دنس الهوى والجهل. قال السائل: أفتصفه بالكلام أم لا. قال المجيب: إذا كان عالما فهو لا محالة متكلم.. قال السائل: فإذا كان متكلما لأجل علمه فما الفرق بينه وبين العلماء الذين تكلموا من أجل علومهم. قال المجيب: الفرق بينهم وبينه هو الزمان، فإنهم تعلموا فيه وتكلموا بعد أن لم يكونوا عالمين ولا متكلمين، ونقلوا بالكلام علومهم إلى غيرهم، فكلامهم وإفادتهم فى زمان، إذ ليس للأمور الأزلية بالزمان اتصال، فالله سبحانه وتعالى عالم متكلم فى الأزل، وهو الذى كلم براهما وغيره من الأوائل على أشكال شتى، فمنهم من ألقى إليه كتابا، ومنهم من فتح الواسطة بابا، ومنهم من أوحى إليه، فقال بالفكر ما أفاض عليه. قال السائل: فمن أين هذا العلم؟ قال المجيب: علمه على حاله فى الأزل، وإذ لم
--------------------------------------------
কিন্তু আবু রাইহান আল-বিরুনির কথা থেকে এই সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ব্রাহ্মণ্যবাদের মূল উৎস হতে পারে কোনো আসমানি কিতাব। এই সম্ভাবনা দুটি প্রমাণের মাধ্যমে জোরালো হয় যা থেকে এটি উদ্ভূত, আর এর মাধ্যমে এটি দালিলিক সম্ভাবনায় পরিণত হয়। এই ধরনের সম্ভাবনার ক্ষেত্রে যুক্তিনির্ভর প্রমাণের শক্তি থাকে।
[ব্রাহ্মণ্যবাদের মূল উৎস ঐশী হওয়ার প্রমাণসমূহ]
প্রথমত:তাওরাত ও কুরআনে বর্ণিত রাসূলগণই একমাত্র রাসূল নন, বরং তাঁদের বাইরে আরও অনেকে রয়েছেন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "তাদের মধ্য থেকে কারও কথা আমি তোমার কাছে বর্ণনা করেছি এবং কারও কথা আমি তোমার কাছে বর্ণনা করিনি।" (১) মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন: "এমন কোনো জাতি নেই যার কাছে সতর্ককারী আসেনি।" (২) সুতরাং ভারতীয়দের মাঝে—যাদের সংস্কৃতি ও প্রজ্ঞা ছিল—একটি আসমানি ধর্ম বিদ্যমান থাকার বিষয়টি প্রবল, বরং কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী এটি নিশ্চিত হওয়ার কাছাকাছি একটি বিষয়।
দ্বিতীয়ত:আবু রাইহান আল-বিরুনি তাঁর 'মা লিল-হিন্দ মিন মাকুলাতিল মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারজুলাহ' (ভারতের বর্ণনা) গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন যে, ভারতীয়দের অভিজাত ও শিক্ষিত শ্রেণি একেশ্বরবাদী ছিল এবং তাদের সাধারণ মানুষের মধ্যেই মূলত মূর্তিপূজার ভ্রান্ত ধারণা অনুপ্রবেশ করেছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন:
«আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সম্পর্কে ভারতীয়দের বিশ্বাস হলো—তিনি অনাদি একক সত্তা, যাঁর কোনো শুরু বা শেষ নেই; স্বীয় কাজে তিনি স্বাধীন ও ক্ষমতাশালী, প্রজ্ঞাময়, জীবনদানকারী, নিয়ন্ত্রক এবং স্বীয় রাজত্বে প্রতিদ্বন্দ্বীহীন। কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয় এবং তিনিও কোনো কিছুর সদৃশ নন। এখন আমরা তাদের কিতাব থেকে কিছু উদ্ধৃতি পেশ করছি যাতে আমাদের বর্ণনাটি কেবল শুনে বলা কোনো বিষয়ের মতো না হয়: 'পাতঞ্জল' গ্রন্থে প্রশ্নকারী জিজ্ঞাসা করেছেন: এই শক্তিশালী উপাস্য কে? উত্তরদাতা বলেন: তিনি তাঁর অনাদিত্ব ও একত্বের কারণে এমন কাজ থেকে পবিত্র যার বিনিময়ে কোনো সুখের আশা করা যায় বা কোনো কষ্টের ভয় করা যায়। তিনি চিন্তা-ভাবনা থেকে মুক্ত, কারণ তিনি অপছন্দনীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এবং প্রিয় অংশীদারদের ঊর্ধ্বে এবং তিনি আপন সত্তায় চিরকাল জ্ঞানী। কেননা অর্জিত জ্ঞান কেবল তখনই হয় যখন কোনো বিষয় আগে অজ্ঞাত ছিল, আর কোনো সময়ই বা কোনো অবস্থায় তাঁর ওপর অজ্ঞতা আরোপ করা যায় না।
অতঃপর প্রশ্নকারী বলেন: আপনি যা উল্লেখ করেছেন তা ছাড়া কি তাঁর আরও কোনো গুণাবলি আছে? উত্তরদাতা বলেন: পূর্ণ শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা, যা স্থানের দিক থেকে নয়। কেননা তিনি কোনো স্থানে জায়গা নেওয়া বা সীমাবদ্ধ হওয়া থেকে পবিত্র। তিনি নিছক পূর্ণ কল্যাণ এবং প্রবৃত্তি ও অজ্ঞতার কলুষতামুক্ত বিশুদ্ধ জ্ঞান। প্রশ্নকারী বললেন: আপনি কি তাঁকে কথা বলার (কালাম) গুণে গুণান্বিত করবেন নাকি করবেন না? উত্তরদাতা বললেন: যেহেতু তিনি জ্ঞানী, তাই তিনি অবশ্যই কথা বলেন... প্রশ্নকারী বললেন: যদি তিনি তাঁর জ্ঞানের কারণে কথা বলেন, তবে তাঁর এবং সেই জ্ঞানীদের মধ্যে পার্থক্য কী যারা তাঁদের জ্ঞানের কারণে কথা বলেন? উত্তরদাতা বললেন: তাঁদের ও তাঁর মাঝে পার্থক্য হলো সময়। কারণ তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং এক সময় অজ্ঞ ও বাকহীন থাকার পর কথা বলেছেন, এবং কথা বলার মাধ্যমে তাঁদের জ্ঞান অন্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সুতরাং তাঁদের কথা বলা ও জ্ঞান দান সময়ের সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু অনাদি বিষয়াবলির সাথে সময়ের কোনো সংযোগ নেই। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অনাদিকাল থেকেই জ্ঞানী ও কথা বলেন। তিনিই ব্রহ্মা এবং অন্যান্য পূর্ববর্তীদের সাথে বিভিন্ন রূপে কথা বলেছেন। তাঁদের কাউকে তিনি কিতাব প্রদান করেছেন, কারো জন্য মধ্যবর্তী মাধ্যম খুলে দিয়েছেন এবং কারো কাছে ওহী পাঠিয়েছেন, ফলে তিনি তাঁর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা চিন্তা-গবেষণার মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন। প্রশ্নকারী বললেন: এই জ্ঞান কোথা থেকে এল? উত্তরদাতা বললেন: তাঁর জ্ঞান অনাদিকাল থেকেই বর্তমান ছিল, এবং যখন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
يجهل قط فذاته عالمة، لم تكتب علما لم يكن له، كما قال فى فيد الذى أنزل على براهما: احمدوا وامدحوا من تكلم بفيد. وكان قبل فيد، قال السائل: كيف نعبد من لم يلحقه الإحساس؟ قال المجيب:
تسميته تثبت إنيته، فالخبر لا يكون إلا عن شىء.. والاسم لا يكون إلا لمسمى، وهو إن غاب عن الحواس فلم تدركه، فقد عقلته النفس، وأحاطت بصفاته الفكرة، وهذه هى عبادته الخالصة» .
هذه نقول البيرونى فى كتابه عن الكتب المقدسة الهندية، وهو يدل على ثلاثة أمور:
أولها:أن هذه الكتب تدل على واحدانية الله سبحانه وتعالى، وتنزهه عن مشابهة الحوادث، فهو ليس كمثله شىء وهو السميع البصير العالم المتكلم، والمتصف بكل كمال، لا يتلاقى فيه مع صفات أحد من البشر. فواحدانيته سبحانه وتعالى فى الخلق والتكوين، وصفاته العلية، وخلوصه سبحانه بالعبودية لا ريب فيها فى كتب البرهمية الأصلية.
الأمر الثانى:أن الرسل جاءت إليهم، وقد ذكر أن النصوص الدينية فى التوراة والإنجيل والقران، لا تمنع ذلك بل إنها تؤيده، كما تكون من الايات الكريمات.
وإن براهما- لم يكن إلها، ولا شىء فيه من الألوهية إلا أنه كان رسولا من عند الله تعالى.
والعبارات التى نقلها لنا البيرونى من
كتبهم صريحة فى ذلك صراحة مطلقة.
الأمر الثالث:أن هناك كتابا منزلا تلقاه براهما من ربه، من غير نظر إلى كون ذلك الكتاب حرف فيه الكلم عن مواضعه كما حدث للتوراة والإنجيل، أم لم يحرف، والراجح أنه حرف لتقادم العهد، بدليل أنه وجد عندهم تشبيه ونحل لبراهما وصف فيها بالإله، لا وصف الرسول عند عامتهم.
كتبهم:
9- للبراهمة كتب كما دلت على ذلك عبارات البيرونى، وأقدم ما عرف من كتبهم الفيدا، ولم يعرف المؤرخون عصره على وجه التحقيق والضبط، وأقصى ما تأكد لديهم أن الفيدا كانت موجودة قبل القرن الخامس عشر قبل ميلاد المسيح عليه السلام، فقد كانت مع الفاتحين الاريين على أنها من أصول ديانتهم..
والفيدا مجموعة من الأشعار ليس فى كلام الناس ما يماثلها فى نظرهم، ويقول جماهيرهم:
«إن البشر يعجزون عن أن يأتوا بمثلها» ويقول البيرونى أن خاصتهم يقولون أن فى مقدورهم أن يأتوا بمثلها ولكنهم ممنوعون من ذلك احتراما لها. ولم يبين البيرونى وجه المنع: أهو منع بمعنى التحريم، بمعنى أن فى استطاعتهم أن يأتوا بمثلها ويتجهوا إلى ذلك، ولكنهم كلفوا ألا يأتوا، أم أن هذا المنع إنما
তিনি কখনো অজ্ঞ হন না, বরং তাঁর সত্তা চিরজ্ঞানী। তিনি এমন কোনো জ্ঞান অর্জন করেননি যা তাঁর আগে ছিল না, যেমনটি ব্রহ্মার ওপর অবতীর্ণ বেদে বলা হয়েছে: তোমরা তাঁর প্রশংসা ও গুণগান করো যিনি বেদের মাধ্যমে কথা বলেছেন। আর তিনি বেদেরও পূর্বে বিদ্যমান ছিলেন। জনৈক প্রশ্নকারী জিজ্ঞেস করলেন: আমরা কীভাবে তাঁর ইবাদত করব যাকে ইন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধি করা যায় না? উত্তরদাতা বললেন:
তাঁর নামকরণ তাঁর অস্তিত্বকে প্রমাণ করে, কারণ সংবাদ কেবল কোনো বস্তুর ব্যাপারেই হতে পারে.. আর নাম কেবল কোনো নামধারী (সত্তা)-র জন্যই হতে পারে। তিনি যদি ইন্দ্রিয় থেকে অদৃশ্য হন এবং তা তাঁকে উপলব্ধি করতে না পারে, তবে নফস (আত্মা) তাঁকে অনুধাবন করেছে এবং চিন্তা তাঁর গুণাবলিকে বেষ্টন করেছে। আর এটাই হলো তাঁর একনিষ্ঠ ইবাদত।
এগুলো হলো ভারতীয় পবিত্র গ্রন্থসমূহ সম্পর্কে আল-বিরুনীর তাঁর কিতাবে উদ্ধৃত বর্ণনা, যা তিনটি বিষয় নির্দেশ করে:
প্রথমত:এই গ্রন্থগুলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার একত্ববাদ এবং সৃষ্টি জগতের সাদৃশ্য থেকে তাঁর পবিত্রতার প্রমাণ দেয়। তাঁর মতো কোনো কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, সর্বজ্ঞ ও কথা বলেন। তিনি সকল পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত, যা মানুষের কোনো গুণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয় না। সৃষ্টি ও জগতের বিন্যাসে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার একত্ববাদ, তাঁর সুউচ্চ গুণাবলি এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁর একচ্ছত্র অধিকারের বিষয়টি মূল ব্রাহ্মণ্য গ্রন্থসমূহে নিঃসন্দেহে বিদ্যমান।
দ্বিতীয় বিষয়:তাদের নিকট রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছিলেন। উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনের ধর্মীয় পাঠ্যসমূহ একে বাধা দেয় না, বরং একে সমর্থন করে, যেমনটি পবিত্র আয়াতসমূহ থেকে প্রতিভাত হয়।
আর ব্রহ্মা কোনো উপাস্য ছিলেন না এবং তাঁর মধ্যে উলুহিয়্যাত বা উপাস্য হওয়ার কোনো ছিটেফোঁটাও ছিল না, বরং তিনি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একজন রাসূল ছিলেন।
আল-বিরুনী তাদের
কিতাবসমূহ থেকে আমাদের জন্য যে বক্তব্যগুলো উদ্ধৃত করেছেন, তা এ বিষয়ে একেবারেই সুস্পষ্ট।
তৃতীয় বিষয়:সেখানে একটি অবতীর্ণ কিতাব ছিল যা ব্রহ্মা তাঁর রবের পক্ষ থেকে লাভ করেছিলেন। সেই কিতাবটির শব্দসমূহ তার স্বস্থান থেকে বিকৃত করা হয়েছে কি হয়নি (যেভাবে তাওরাত ও ইঞ্জিলে হয়েছে) সেটা না দেখলেও চলে। তবে প্রবল ধারণা হলো, দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার কারণে এটি বিকৃত হয়েছে। এর প্রমাণ হলো, তাদের কাছে সাদৃশ্য প্রদান করা এবং ব্রহ্মার ওপর এমন কিছু আরোপ করা দেখা যায় যেখানে তাদের সাধারণ মানুষের কাছে তাঁকে রাসূলের পরিবর্তে উপাস্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
তাদের কিতাবসমূহ:
৯- আল-বিরুনীর বক্তব্য অনুযায়ী ব্রাহ্মণদের কিতাব রয়েছে। তাদের কিতাবসমূহের মধ্যে প্রাচীনতম যা জানা যায় তা হলো 'বেদ'। ঐতিহাসিকগণ নিশ্চিতভাবে এর সময়কাল নির্ণয় করতে পারেননি। তাদের কাছে সর্বাধিক নিশ্চিত বিষয় হলো, ঈসা আলাইহিস সালামের জন্মের পনেরো শতাব্দী পূর্বেও বেদের অস্তিত্ব ছিল। আর্য বিজেতাদের নিকট এটি ছিল তাদের ধর্মের অন্যতম মূল ভিত্তি।
বেদ হলো এমন কিছু কবিতার সংকলন যার সদৃশ মানুষের কথায় নেই বলে তারা মনে করে। তাদের সাধারণ মানুষ বলে:
«মানুষ এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে অক্ষম»। আল-বিরুনী বলেন, তাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বলে যে, এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসা তাদের সাধ্যের মধ্যে রয়েছে, কিন্তু এর সম্মানে তারা তা করা থেকে বিরত থাকে। আল-বিরুনী এই বাধার ধরনটি স্পষ্ট করেননি: এটি কি হারামের অর্থে বাধা হওয়া, অর্থাৎ তারা এর অনুরূপ কিছু করতে সক্ষম এবং সেদিকে অগ্রসর হতেও পারে কিন্তু তাদের না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নাকি এই বাধা অন্য কোনো কারণে।
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
هو صرف لهم عن أن يأتوا بمثلها، فهم قادرون على أن يأتوا، ولكنهم صرفوا عن ذلك كما يقول بعض الجهلاء فى إعجاز القران منحرفين فى دينهم؟ لم يبين لنا البيرونى أى الوجهين أراد بالمنع. لئن أراد الأول، وهو منع بالتحريم وذلك لا يقتضى الامتناع، فقد يكون من بعض المكلفين من يعصى، فيأتى بمثلها، أو يزيد عليها، لأن الناس ليسوا معصومين عن المخالفة، ولا أحد من البراهمة يعتقد جواز وجود أمثالها، ولذلك نرجح أن يكون الامتناع فى زعمهم بصرفه، ونكتفى من الإشارة إلى كتبهم بهذا القدر.
البوذية:
10- بعد أن حرفت البرهمية وجعل الناس فى عقيدتها طبقات كان لابد أن يكون من بينهم من يغيّر، ولا يرضى بهذه الطبقات، ولذلك ظهر من بينهم من لا يرضى وهو من رجال الطبقة الأولى، وبلغ أقصى الغاية فيها، وهو بوذا، الذى ولد سنة 560 قبل المسيح عليه السلام، وكانت دعاية بوذا تخفيف ويلات الإنسانية التى أرهقها نظام الطبقات.
ولقد اتجه فى سبيل تخفيف ويلات الإنسانية إلى الدعوة لتخفيف الحاجات وكف النفس عن الشهوات، وهذه الشهوات هى التى تشقى، فإذا كانت ويلات الناس تجىء إليهم من ناحية أهوائهم وشهواتهم، واتساع مطالبهم، والرغبة فى المزيد منها، فإن تخفيف ويلات الحياة يكون بتربية النفس على الاستغناء عن أكثر مطالبها. والاكتفاء بالقليل ومجانبة الأهواء والشهوات. فإنها هى التى تجعل النفس طلعة، تحب اللذائذ وإن كانت عاقبتها سيئة، فكان من الواجب السيطرة على الأهواء.
وقد وضع منهاجا للتربية النفسية، الخط الأول منه يبدأ باجتناب الأهواء، والاتجاه إلى الأمور بقلب سليم منها، فإن النفس تشرق، ويكون إدراكها سليما، ثم يكون من بعد ذلك الاعتقاد سليما، ومن بعد الإدراك يكون النطق الصادق. ثم العمل القويم، ثم السلوك الحسن، ثم الجماعة التى تقوم على الأخلاق.
[مبادىء بوذا الخلقية]ويقرر مبادىء خلقية، فهو يقول فى النهى عن أمور عشرة:
1- لا تقتل أحدا.
2- لا تسرق ولا تغضب، ولا تأخذ ما لا لم يقدم إليك.
3- لا تكذب، ولا تقل قولا غير صحيح.
4- لا تشرب خمرا، ولا تتناول مخدرا.
5- لا تزن ولا تأت بأى أمر يتصل بالحياة الجنسية يكون محرما.
এটি কি তাদের এ জাতীয় কিছু আনতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও তা থেকে ফিরিয়ে রাখা—অর্থাৎ তারা এটি আনতে সক্ষম, কিন্তু তাদের তা থেকে ফিরিয়ে রাখা হয়েছে—যেমনটি কুরআনের অলৌকিকত্বের ক্ষেত্রে একদল মূর্খ তাদের ধর্মে বিচ্যুত হয়ে বলে থাকে? আল-বিরুনি আমাদের কাছে স্পষ্ট করেননি যে, 'প্রতিবন্ধকতা' (মান'অ) দ্বারা তিনি কোন বিষয়টি বুঝিয়েছেন। যদি তিনি প্রথমটি অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে বারণ করা উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে তা তো অলঙ্ঘনীয় হওয়া আবশ্যক করে না। কারণ দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (মুকাল্লাফ) মধ্যে এমন কেউ থাকতে পারে যে অবাধ্য হয়ে অনুরূপ কিছু নিয়ে আসবে বা তার চেয়েও বেশি কিছু করবে; কারণ মানুষ ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। অথচ ব্রাহ্মণদের কেউ এর সদৃশ কিছু থাকা সম্ভব বলে বিশ্বাস করে না। তাই আমরা এই মতকেই প্রাধান্য দিচ্ছি যে, তাদের দাবি অনুযায়ী এই অসমর্থতা হচ্ছে তাদের ফিরিয়ে রাখার (সারফাহ) কারণে। তাদের গ্রন্থসমূহ সম্পর্কে এই সামান্য ইঙ্গিত প্রদানই আমরা যথেষ্ট মনে করছি।
বৌদ্ধধর্ম:
১০- যখন ব্রাহ্মণবাদ বিকৃত হয়ে গেল এবং তাদের আকিদায় মানুষকে বিভিন্ন বর্ণে বা স্তরে বিভক্ত করা হলো, তখন তাদের মধ্য থেকে এমন কারও আবির্ভাব অনিবার্য ছিল যে পরিবর্তন আনবে এবং এই বর্ণপ্রথা মেনে নেবে না। ফলে তাদের মধ্য থেকেই এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে যিনি এতে সন্তুষ্ট ছিলেন না; তিনি প্রথম বর্ণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং সেখানে চরম উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন। তিনি হলেন বুদ্ধ, যিনি ঈসা আলাইহিস সালামের জন্মের ৫৬০ বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন। বুদ্ধের প্রচারের মূল লক্ষ্য ছিল বর্ণপ্রথার যাতাকলে পিষ্ট মানবজাতির দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করা।
তিনি মানবজাতির দুঃখ লাঘবের পথে মানুষের জাগতিক প্রয়োজন কমিয়ে আনার এবং নফসকে কামনা-বাসনা থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানান। এই কামনা-বাসনাই মানুষকে দুর্দশাগ্রস্ত করে। সুতরাং মানুষের দুঃখ-দুর্দশা যদি তাদের খেয়াল-খুশি, লালসা, চাহিদার ব্যাপকতা এবং আরও পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে জন্ম নেয়, তবে জীবনের দুঃখ লাঘব করা সম্ভব আত্মাকে অধিকাংশ চাহিদা থেকে বিমুখ হওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে। আর অল্পে তুষ্টি এবং খেয়াল-খুশি ও কামনা-বাসনা থেকে দূরে থাকার মাধ্যমেই এটি সম্ভব। কারণ এগুলোই নফসকে প্রলুব্ধ করে, যা মন্দ পরিণতি সত্ত্বেও স্বাদ আস্বাদন করতে চায়। তাই প্রবৃত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা ছিল অপরিহার্য।
তিনি আত্মিক প্রশিক্ষণের জন্য একটি কর্মপদ্ধতি প্রণয়ন করেন, যার প্রথম ধাপ শুরু হয় খেয়াল-খুশি বর্জন এবং কলুষমুক্ত হৃদয়ে সত্যের দিকে অগ্রসর হওয়ার মাধ্যমে। এর ফলে আত্মা আলোকিত হয় এবং তার উপলব্ধি সঠিক হয়; এরপর তার বিশ্বাস সঠিক হয়, আর সঠিক উপলব্ধির পর আসে সত্যনিষ্ঠ বাক্য। এরপর আসে সঠিক কর্ম, তারপর সুন্দর আচরণ এবং পরিশেষে নৈতিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত সমাজ।
[বুদ্ধের নৈতিক নীতিমালা]তিনি কিছু নৈতিক মূলনীতি নির্ধারণ করেন; তিনি দশটি বিষয় থেকে নিষেধ করে বলেন:
১- কাউকে হত্যা করো না।
২- চুরি করো না, ক্রোধ করো না এবং যা তোমাকে দেওয়া হয়নি তা গ্রহণ করো না।
৩- মিথ্যা বলো না এবং অসত্য কথা উচ্চারণ করো না।
৪- মদ পান করো না এবং কোনো মাদক গ্রহণ করো না।
৫- ব্যভিচার করো না এবং যৌন জীবন সংশ্লিষ্ট নিষিদ্ধ কোনো কাজে লিপ্ত হয়ো না।
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
6- لا تأكل طعاما لم ينضج.
7- لا تتخذ طيبا، ولا تكلل رأسك بالزهر.
8- لا ترقص، ولا تحضر مرقصا، ولا حفل غناء.
9- لا تقتن فراشا وثيرا، فلا تقتن أرائك وطنافس، ولا وسائد ولا حشايا رافهة.
10- لا تأخذ ذهبا ولا فضة.
وإن هذه المبادىء البوذية فيها عيب، وهى ناقصة.
أما عيبها، فإنها لا تعتمد على عقيدة موجهة، بل يروج عن بوذا أنه أنكر أن يكون ثمة إله منشىء للوجود، ولهذا شاعت عبادة الأوثان فيمن جاؤا بعده، فلم تنق قلوبهم، لأنه لم تسلم عقيدتهم، وكانت وهما من الأوهام ضل فيها العقل، ولم يهتد إلى سواء السبيل.
ويضاف إلى هذا عيب اخر، وهى أنها تزهد فى الحياة، وتمنع الانتفاع بخيراتها. فكأنما مباهج هذه الحياة، إنما خلقت لكى ترى وتشتاق النفوس لها، ثم تحرم على الإنسان.
وأما النقص فلأن فضائلها سلبية، هى نهى لا طلب، ومنع لا التزام، فالخير فيها لا يطالب به، ولكن يتجنب الشر.
إن الفضائل الإنسانية تتكون من عنصرين، عنصر إيجابى وهو تقديم النفع الإنسانى والقيام بحق الإنسان على أخيه الإنسان، والاتصال بالتعاون بين الناس بعضهم مع بعض، وذلك هو العنصر القوى فى الفضيلة، والعنصر الثانى الامتناع عن الإيذاء، وهذا هو العنصر السلبى، وهو الأدنى، والأول هو اللباب، وهو الخير الحقيقى، بل إنه يمنع غيره، فإن النفع يمنع بعض الأذى، فإذا اقتصرت البوذية على السلب نقص معنى الكمال فيها.
وإن تكاليف البوذية قد يستطيع تنفيذها الخواص، ولا يمكن أن يكون تنفيذها عاما، والمذاهب لا يلاحظ فى تطبيقها الخاصة، بل لابد أن يكون تطبيقها عاما، وهى كالمذاهب الصوفية يطبقها الشيوخ، ويقاربهم المريدون، ولا يمكن أن تكون نظاما عاما يطبقه الجميع.
[أقسام البوذيين]ولهذا لم يطبقها الجميع، بل انقسم البوذيون أنفسهم إلى قسمين:
(أحدهما) البوذيون الذين أخذوا أنفسهم بالتعاليم السابقةلا يحيدون عنها، وقيدوا أنفسهم بأنواع من الأطعمة، وحرموا غيرها، ولا يختارون للباسهم إلا الخشن من الثياب، لما راضوا أنفسهم عليه من ترك لذات الحياة لتكون الحياة تحت سيطرتهم، ولا يخضعوا لسلطانها.
৬- অপক্ব খাদ্য ভক্ষণ করো না।
৭- সুগন্ধি গ্রহণ করো না এবং তোমার মস্তক পুষ্পমাল্যে সুশোভিত করো না।
৮- নৃত্য করো না, নৃত্যশালায় উপস্থিত হয়ো না এবং গানের আসরে যেও না।
৯- কোমল শয্যা গ্রহণ করো না; সুতরাং সোফা, গালিচা, বালিশ বা বিলাসবহুল গদি গ্রহণ করবে না।
১০- স্বর্ণ বা রৌপ্য গ্রহণ করো না।
এই বৌদ্ধ মূলনীতিগুলোর মাঝে ত্রুটি রয়েছে এবং এগুলো অসম্পূর্ণ।
এগুলোর ত্রুটির কারণ হলো, এগুলো কোনো সুনির্দিষ্ট আকিদার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত নয়; বরং বুদ্ধের ব্যাপারে এটি প্রচলিত যে, তিনি মহাবিশ্বের কোনো স্রষ্টা ইলাহ থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। এই কারণে তাঁর পরবর্তীদের মাঝে মূর্তিপূজা ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে তাদের অন্তরসমূহ পরিশুদ্ধ হয়নি, কারণ তাদের আকিদা সঠিক ছিল না। এটি ছিল নিছক কিছু বিভ্রম যাতে বুদ্ধি পথ হারিয়েছিল এবং সঠিক পথের দিশা পায়নি।
এর সাথে আরও একটি ত্রুটি যুক্ত হয়েছে, আর তা হলো—এটি জীবনবিমুখতা তৈরি করে এবং জীবনের কল্যাণকর বস্তুসমূহ থেকে উপকৃত হতে বাধা প্রদান করে। মনে হয় যেন এই জীবনের সৌন্দর্যসমূহ কেবল দেখার জন্য এবং মনের আকাঙ্ক্ষা জাগানোর জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, অতঃপর তা মানুষের জন্য নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আর অসম্পূর্ণতার কারণ হলো, এর গুণাবলীগুলো নেতিবাচক; এগুলো কেবল নিষেধ, কোনো সদর্থক আহ্বান নয়; এটি বর্জন করার নির্দেশ, কোনো দায়বদ্ধতা নয়। এতে কল্যাণের দাবি করা হয় না, বরং কেবল মন্দ থেকে বেঁচে থাকার কথা বলা হয়।
নিশ্চয়ই মানবিক গুণাবলী দুটি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত: একটি ইতিবাচক উপাদান—তা হলো মানবিক কল্যাণ সাধন করা এবং এক মানুষের প্রতি অন্য মানুষের অধিকারসমূহ আদায় করা, আর মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক তৈরি করা। এটিই হলো গুণের শক্তিশালী দিক। দ্বিতীয় উপাদানটি হলো কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা, আর এটি হলো নেতিবাচক উপাদান এবং এটি নিম্নস্তরের। প্রথমটিই হলো মূল নির্যাস এবং প্রকৃত কল্যাণ; এমনকি এটি অন্যটিকেও অন্তর্ভুক্ত করে, কারণ উপকার করা কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিকেও প্রতিহত করে। সুতরাং বৌদ্ধধর্ম যখন কেবল নেতিবাচক দিকের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে, তখন এতে পূর্ণতার অর্থ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
বৌদ্ধধর্মের এই বিধানগুলো কেবল বিশেষ ব্যক্তিরাই পালন করতে সক্ষম হতে পারে, এটি সর্বজনীনভাবে পালন করা সম্ভব নয়। আর কোনো মতাদর্শের প্রয়োগ কেবল বিশেষ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয় না, বরং তার প্রয়োগ হতে হয় সাধারণ। এগুলো অনেকটা সুফি তরীকার মতো যা শায়েখগণ পালন করেন এবং মুরিদগণ তাদের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেন; এটি এমন কোনো সাধারণ ব্যবস্থা হতে পারে না যা সবাই পালন করবে।
[বৌদ্ধদের প্রকারভেদ]এই কারণে সবাই এটি পালন করেনি, বরং বৌদ্ধরা নিজেরাই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে:
(এক) ঐসব বৌদ্ধ যারা নিজেদের ওপর পূর্বোক্ত শিক্ষাগুলোকে গ্রহণ করেছেতারা এগুলো থেকে বিচ্যুত হয় না। তারা নিজেদের বিভিন্ন প্রকার খাদ্যের মাঝে সীমাবদ্ধ করেছে এবং অন্যগুলো নিষিদ্ধ করেছে। তারা পরিধানের জন্য কেবল স্থূল বা মোটা কাপড় নির্বাচন করে। কারণ তারা জীবনের স্বাদ বর্জন করার মাধ্যমে নিজেদের নফসকে এমনভাবে প্রশিক্ষিত করেছে যেন জীবন তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং তারা জীবনের ক্ষমতার কাছে নতি স্বীকার না করে।
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
(ثانيهما) البوذيون المدنيون، وأولئك لم يطبقوا المنهاج الشاق، فاختاروا لأنفسهم طريقا وسطا ليس فيه إفراط فى اللذائذ، ولا شدة فى تركها.
أخذوا ببعض الأخلاق البوذية من تواضع وصدق وأمانة، ونالوا بعض الملاذ التى لا تعقب ألما، ولم يندفعوا فى اجتراح الشهوات، حتى لا يصابوا بالام الحرمان إن لم يستطيعوا.
وخلاصة القول أنهم أخذوا من المبادىء السلبية المبادىء الخمسة الأولى، وهى ألا يقتلوا، ولا يسكروا، ولا يكذبوا، ولا يزنوا، وتركوا الباقيات من المنهيات، فلم يحرموها على أنفسهم.
ولقد كان ذلك الانقسام سبيلا لأن يكثر المدنيون، ولأن يوجد فريق لا يأخذون بشىء من هذه المبادىء بل يتركونها وراءهم ظهريا. وبذلك ضعف العقل واحده عن أن ينشىء دينا امرا وناهيا.
الكونفوشيوسية:
11- وإن البوذية التى ولدت فى الهند كان أكثر تابعيها فى الصين لا فى الهند، وقد انتقلت إليها وثنية، كما كانت فى الهند، واقترن بها ما ليس منها، وانحرفت العقول.
ولكنها إذا انتقلت إلى الصين قد احتضنتها بيئة امتازت من بين البيئات بالوثنية والتمسك بكثير من المبادىء العملية التى تتفق مع قانون الأخلاق إلى حد كبير، ولكن لعدم اعتمادها على عقيدة قوية، كانت فى قلوب شاغرة، وإذا سكنت المبادىء فى قلوب شاغرة عن الإيمان جف عودها، ولم تقو على البقاء.
كان فى الصين فيلسوف يسمى فى لغة الفرنجة كونفوشيوس، وهو تحريف لاسمه الأصلى فى الصين، وهو «كونج فوتس» ، وقد أخذ ذلك الفيلسوف بالمذهب البوذى، ولكنه أخذ بمبدأ البوذيين المدنيين، وكان مذهبه ليس دينا يتبعه، ولكنه إصلاح يدعو إليه.
ومع وجود المنهج العلمى فى إصلاح كونج فوتس نجد بجواره فيلسوفا كان أسنّ من كونج فوتس إذ أن هذا ولد سنة 551 قبل الميلاد، أى أنه يعاصر بوذا، والفيلسوف الاخر واسمه لوتس، كان يكبر الأول بنحو خمسين عاما، ومذهبه هو الاعتزال أو أن ينجو بنفسه ومن يتابعه من المفاسد.
وقد التقى الفيلسوف الشاب كونفوشيوس الذى يرى أن مبادىء الأخلاق يكون أساسها النفع الإيجابى، لا الاعتزال السلبى، بالشيخ لوتس الذى لا يرى إلا الاعتزال السلبى، فتحاورا.
(দ্বিতীয়টি হলো) নাগরিক বৌদ্ধগণ; তারা সেই কঠোর নিয়মাবলি প্রয়োগ করেনি। তাই তারা নিজেদের জন্য এমন এক মধ্যপন্থা বেছে নিয়েছিল, যাতে ভোগবিলাসের আতিশয্য নেই, আবার তা বর্জনের ক্ষেত্রেও কঠোরতা নেই।
তারা বিনয়, সত্যবাদিতা ও আমানতদারিতার ন্যায় কিছু বৌদ্ধ নৈতিকতা গ্রহণ করেছিল এবং এমন কিছু স্বাদ আস্বাদন করেছিল যা কোনো কষ্টের কারণ হয় না। তারা প্রবৃত্তির লালসায় গা ভাসিয়ে দেয়নি, যাতে তারা সক্ষম না হলে বঞ্চনার যন্ত্রণায় আক্রান্ত না হয়।
সারকথা হলো, তারা নেতিবাচক নীতিমালার মধ্য থেকে প্রথম পাঁচটি নীতি গ্রহণ করেছিল। সেগুলো হলো: হত্যা না করা, মদ্যপান না করা, মিথ্যা না বলা এবং ব্যভিচার না করা। তারা নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর অবশিষ্টগুলো ছেড়ে দিয়েছিল এবং সেগুলো নিজেদের ওপর হারাম করেনি।
এই বিভাজনই নাগরিক বৌদ্ধদের সংখ্যা বৃদ্ধির পথ তৈরি করেছিল এবং এমন এক দলের উদ্ভব ঘটিয়েছিল যারা এই নীতিমালার কোনোটিই গ্রহণ করত না, বরং সেগুলোকে পেছনে ফেলে দিয়েছিল। এর ফলে কেবল বিচারবুদ্ধি একাকী এমন কোনো ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে অক্ষম হয়ে পড়ল যা আদেশ ও নিষেধ প্রদান করে।
কনফুসীয়বাদ:১১- ভারতে জন্ম নেওয়া বৌদ্ধধর্মের অনুসারী ভারতেই নয়, বরং চীনে বেশি ছিল। এটি মূর্তিপূজা হিসেবেই সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছিল, যেমনটি ভারতে ছিল। এর সাথে এমন বিষয়গুলো যুক্ত হয়েছিল যা এর অন্তর্ভুক্ত ছিল না এবং মানুষের বিচারবুদ্ধি বিচ্যুত হয়ে পড়েছিল।
কিন্তু যখন এটি চীনে স্থানান্তরিত হলো, তখন এমন এক পরিবেশ একে গ্রহণ করে নিল যা অন্যান্য পরিবেশের তুলনায় মূর্তিপূজা এবং অনেক ব্যবহারিক নীতিমালার অনুসরণের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র ছিল, যা নৈতিক আইনের সাথে বহুলাংশে সংগতিপূর্ণ। তবে একটি শক্তিশালী আকিদার ওপর ভিত্তি না থাকার কারণে এটি ছিল শূন্য হৃদয়ে। আর যখন ঈমানশূন্য হৃদয়ে কোনো আদর্শ স্থিতি লাভ করে, তখন তার শাখা-প্রশাখা শুকিয়ে যায় এবং তা টিকে থাকার শক্তি হারায়।
চীনে একজন দার্শনিক ছিলেন যাকে পাশ্চাত্য ভাষায় কনফুসিয়াস বলা হয়, যা তার মূল চীনা নাম 'কুং ফু-ৎসু' এর বিকৃত রূপ। সেই দার্শনিক বৌদ্ধ মতবাদ গ্রহণ করেছিলেন, তবে তিনি নাগরিক বৌদ্ধদের মূলনীতি গ্রহণ করেছিলেন। তার মতবাদ কোনো অনুসরণযোগ্য ধর্ম ছিল না, বরং তা ছিল একটি সংস্কার যার দিকে তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
কুং ফু-ৎসু-এর সংস্কারের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির পাশাপাশি আমরা তার কাছাকাছি সময়ে আরও একজন দার্শনিককে পাই যিনি কুং ফু-ৎসু-এর চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন। কুং ফু-ৎসু খ্রিস্টপূর্ব ৫৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন, অর্থাৎ তিনি বুদ্ধের সমসাময়িক ছিলেন। আর অন্য দার্শনিকের নাম ছিল লাও-ৎসু, যিনি প্রথমজনের চেয়ে প্রায় পঞ্চাশ বছরের বড় ছিলেন। তার মতবাদ ছিল নির্জনবাস বা বৈরাগ্য অবলম্বন করা অথবা নিজেকে এবং তার অনুসারীদের ফিতনা-ফ্যাসাদ থেকে রক্ষা করা।
তরুণ দার্শনিক কনফুসিয়াস, যিনি মনে করতেন নৈতিকতার ভিত্তি হওয়া উচিত ইতিবাচক উপকারিতা, নেতিবাচক নির্জনবাস নয়; তার সাথে বৃদ্ধ লাও-ৎসু-এর সাক্ষাৎ হয়েছিল, যিনি নেতিবাচক নির্জনবাস ছাড়া অন্য কিছু দেখতেন না। এরপর তাদের মধ্যে কথোপকথন হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قال الشيخ للشاب: «إن الخير ليس في محاولة إصلاح المجتمع الفاسد بالعمل والاختلاط، إذ أن الاختلاط يفسده، بل الخير كل الخير في الزهادة والقناعة والاعتزال، والتسامح، ومقابلة السيئة بالحسنة، وهي العفو» .
قال الشاب للشيخ: «إذا كان واجب كل شخص من احاد الأمة أن يعتزل في كهف من الكهوف فمن الذي يبقي في المدن يعتمرها، وفي الأرض يفلحها ويزرعها، وفي الصنائع يمهر فيها، ومن الذي ينسل ويعمل ليبقي الكون عامرا ببني الإنسان؟ وإذا كان الاعتزال مقصورا علي الحكماء، والفضلاء، فمن الذي يربي الإنسان ويؤدبه، أم يترك الناس حائرين بائرين لا هادي ولا مرشد» .
عقيدة الصين القديمة:
12- ومهما تكن اراء كونغ فوتس من الحكمة والصواب فقد اختلط بها ما ليس سائغا، فقد كان يعتقد بالهة، وبأن السماء مرتبطة بالأرض، فيصلح الكون إذا صلح الإنسان، ويفسد بفساده، لقد كان كونج فوتس يعتقد ما يعتقده الصينيون القدماء.
وأساس هذا الاعتقاد أنهم يعبدون ثلاثة أشياء: السماء، والأرواح المسيطرة على ظواهر الأشياء، (الملائكة) ، وأرواح الاباء.
والسماء التى يعبدونها لا يقصدون بها تلك القبة الزرقاء، بل يقصدون الأفلاك ومداراتها، والقوى المسيطرة التى تسيطر عليها وتسيرها فى مدارتها. وباتصالها بالأرض والرياح والأمطار تنبت الأرض، وكانت عبادتهم للسماء لاعتقادهم أنها عالم حى يتحرك حسب نظام دقيق محكم، وللسماء السلطان الأكبر على العالم، إذ أن كل ما فيه من قوى مسيرة خاضع لسلطان السماء.
وظاهر كلامهم أنهم لا يفرضون للكون- سمائه وأرضه- قوة منشئة مغايرة هى المدبرة والتى تحفظ العالم، وتحول قواه، فهم بذلك يعدون منكرين لله الواحد الأحد الفرد الصمد، وعلى ذلك يكون الأساس الذى بنيت عليه عقيدتهم باطلا.
وهم يعتبرون التحول والتغير فى الكون على حسب مداركهم، وعلى أساس عقيدتهم السقيمة، فهم يرون أن العالم قسمان مادى وروحى وأن الروحى، هو الذى يسير المادي، فهم بهذا يرون أن المنشيء من ذات الكون لا من قوة فوقهم، وبذلك يتقاربون من الفلسفة الأيونية.
ومع أنهم لا يؤمنون بالواحد الأحد المنفرد بذاته عن المشابهة يؤمنون بالقضاء والقدر، ويرون أن السماء هى التى تقدر وتقضي، فلا مفر من حكمها فى زعمهم، ولا خلاص من سلطانها فى اعتقادهم.
শেখ যুবককে বললেন: «নিশ্চয়ই কল্যাণ কর্মতৎপরতা ও মেলামেশার মাধ্যমে কলুষিত সমাজ সংস্কারের প্রচেষ্টার মধ্যে নেই, কারণ মেলামেশা একে আরও কলুষিত করে; বরং প্রকৃত কল্যাণ নিহিত রয়েছে দুনিয়াবিমুখতা, অল্পেতুষ্টি, নির্জনবাস, সহিষ্ণুতা এবং মন্দের বিপরীতে ভালোর প্রয়োগ তথা ক্ষমার মাঝে»।
যুবক শেখকে বললেন: «যদি উম্মাহর প্রতিটি ব্যক্তির জন্য কোনো এক গুহায় নির্জনবাস অবলম্বন করা কর্তব্য হয়, তবে নগরগুলোতে কারা অবস্থান করবে এবং তা আবাদ করবে? কারা জমিনে লাঙল চালাবে ও চাষাবাদ করবে? শিল্পকর্মে কারা দক্ষতা অর্জন করবে? আর কেইবা বংশবৃদ্ধি করবে ও কাজ করবে যাতে বিশ্ব চরাচর মানবজাতির মাধ্যমে আবাদ থাকে? আর যদি নির্জনবাস কেবল প্রজ্ঞাবান ও গুণীজনদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে মানুষকে কে শিক্ষিত ও আদব সম্পন্ন করবে? নাকি মানুষকে লক্ষ্যহীন ও ধ্বংসোন্মুখ অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হবে, যাদের কোনো পথপ্রদর্শক বা দিকনির্দেশক থাকবে না?»
প্রাচীন চীনের আকিদাহ:
১২- কনফুসিয়াসের মতাদর্শে প্রজ্ঞা ও সঠিকতা যেটুকুই থাকুক না কেন, তার সাথে এমন অনেক কিছু মিশে গেছে যা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বহু দেবদেবী এবং আসমান ও জমিনের পারস্পরিক সংযোগে বিশ্বাস করতেন। তার মতে, মানুষ সংশোধন হলে বিশ্ব সংশোধন হয়, আর মানুষের বিপর্যয়ে বিশ্ব বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। কনফুসিয়াস প্রাচীন চীনবাসীদের বিশ্বাসের অনুরূপ বিশ্বাস পোষণ করতেন।
এই বিশ্বাসের মূল ভিত্তি হলো তারা তিনটি জিনিসের ইবাদত করে: আসমান, বিভিন্ন বস্তুর বাহ্যিক রূপ নিয়ন্ত্রণকারী রূহসমূহ (ফেরেশতামণ্ডলী) এবং পূর্বপুরুষদের রূহ।
আর তারা যে আসমানের ইবাদত করে, তা দ্বারা তারা এই নীল গম্বুজকে বোঝায় না; বরং তারা নক্ষত্রজগত, তাদের কক্ষপথ এবং সেই সব নিয়ন্ত্রণকারী শক্তিকে বোঝায় যা এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে ও নিজ নিজ কক্ষপথে পরিচালিত করে। জমিন, বায়ু ও বৃষ্টির সাথে আসমানের সংযোগের মাধ্যমেই জমিন থেকে ফসল উৎপন্ন হয়। তারা আসমানের ইবাদত করত এই বিশ্বাস থেকে যে, এটি একটি জীবন্ত জগৎ যা একটি সূক্ষ্ম ও সুশৃঙ্খল নিয়মে আবর্তিত হয়। বিশ্বের ওপর আসমানেরই সর্বশ্রেষ্ঠ আধিপত্য বিদ্যমান, কারণ জগতের সকল পরিচালিত শক্তি আসমানের আধিপত্যের অধীন।
তাদের কথাবার্তার বাহ্যিক দিক থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তারা এই মহাবিশ্বের—আসমান ও জমিন—জন্য এমন কোনো ভিন্ন সৃষ্টিকারী শক্তিকে স্বীকার করে না, যিনি এর পরিচালক, বিশ্ব চরাচরের হেফজকারী এবং এর শক্তিসমূহকে পরিবর্তনকারী। এর মাধ্যমে তারা মূলত এক, অদ্বিতীয়, অংশীদারহীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকারকারী হিসেবে গণ্য। ফলশ্রুতিতে, যে ভিত্তির ওপর তাদের আকিদাহ বা বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত, তা বাতিল।
তারা মহাবিশ্বের রূপান্তর ও পরিবর্তনকে তাদের নিজস্ব বোধশক্তি এবং তাদের ভ্রান্ত আকিদাহর ভিত্তিতে বিবেচনা করে। তারা মনে করে যে জগৎ দুটি অংশে বিভক্ত: বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক; এবং আধ্যাত্মিক জগতই বস্তুগত জগতকে পরিচালিত করে। এর মাধ্যমে তারা মনে করে যে, সৃষ্টিকারী শক্তি মহাবিশ্বের নিজস্ব সত্তার অন্তর্ভুক্ত, তাদের ঊর্ধ্বে কোনো উচ্চতর শক্তি নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে তারা আয়োনীয় দর্শনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
যদ্যপি তারা এমন এক ও অদ্বিতীয় সত্তার প্রতি বিশ্বাস রাখে না যিনি সদৃশমুক্ত, তবুও তারা ফয়সালা ও ভাগ্যে বিশ্বাস করে। তারা মনে করে যে আসমানই সবকিছু নির্ধারণ ও ফয়সালা করে। তাদের দাবি অনুযায়ী এর বিধান থেকে পালানোর কোনো পথ নেই এবং তাদের বিশ্বাস মতে এর আধিপত্য থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার কোনো উপায় নেই।
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
ويؤمنون بأن الأحكام القدرية مرتبطة هى والأمور الكونية، بالأخلاق الإنسانية، فإذا كانت الأخلاق مستقيمة استقام الكون، وإذا فسدت اضطرب، فكلما كان الاعتدال والانسجام والعدالة بين الناس استقام الكون ولا يضطرب. وما الزلازل وما خسف الأرض وكسوف الشمس وخسوف القمر إلا من فساد الأخلاق، وعدم استقامتها. وهى أمارات على ذلك، وإذا كان السلوك غير القويم يحدث الاضطراب، فالسلوك القويم يجلب الخير، والبركات، ويجعل كل ما فى الكون يجيء على ما يحبه الإنسان ويرضاه.
وعلى ذلك يكون المؤثر فى الكون ثلاثة:
أولها: السماء بسلطانها، والأرض بقبولها لحكم السماء، والإنسان بإرادته الخلقية. فإن اختار خير الأخلاق وأفضلها واتجه إليها فإن مظاهر الكون تكون لخير الإنسان. فالجو يمتليء بالنسيم العليل، والحرارة المنعشة غير اللافحة، والغيث المحيى لموات الأرض من غير أن يخرب العمران، ويصير غيثا، وتكون الشمس المشرقة، والنهار المبصر والليل الساجى.
13- وبذلك نجد أن العقيدة الصينية فاسدة، والخلق الصينى قوي، والإرادة الصينية قويمة ولكنها قائمة على عقائد فاسدة، وما يقوم على الفاسد لابد أن ينهار، إذ هو قائم على شفا جرف هار، غير مستقر ولا ثابت الدعائم.
وإذا كانت الفلسفة اليونانية ووليدتها الرومانية قد عجزتا عن تكوين حكم خلقى له مقياس ثابت لا يتغير بتغير الأعراف ولا بتغير الأماكن والأزمان، فإن الصين قد وصلت إلى حكم عملى حسن فى جملته يتجه إلى الخير فى غايته. ولكنه لم يقم على دعائم ثابتة من إيمان، خالية من الأوهام، وعقيدة بعيدة عن الأخيلة غير المحققة ولا الثابتة.
إن العقيدة الصالحة هى التى توجد الأخلاق الثابتة، وهى التى توجد المجتمع الفاضل الذى يريد الخير بدافع من إيمان ثابت الدعائم قوى الأركان.
14- وننتهى من هذا السياق الذى انتقلنا فيه من اليونان والرومان سائرين إلى الشرق الأدنى فالشرق الأقصى- إلى أن العالم كله فى الفترة التى كانت قبل المسيح وخاتم النبيين محمد صلى الله عليه وسلم، كان يموج فى مضطرب فسيح من الاراء والمنازع المتناحرة.
وإنه فى الوقت الذى كانت الوثنية تضيق فيه ذرعا بالواحدانية التى جاء بها موسى وخلائفه، وجاء بها عيسى وحملها حواريوه- كان الشرق الأقصى بعيدا عن هذه الدعوات إلى الواحدانية، فكانت فيه
তারা বিশ্বাস করে যে, তাকদিরি ফয়সালাসমূহ এবং মহাজাগতিক বিষয়াদি মানবীয় চরিত্রের সাথে সম্পৃক্ত। যদি চরিত্র সঠিক থাকে তবে মহাবিশ্বও সঠিক থাকে, আর যদি তা কলুষিত হয় তবে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। যখনই মানুষের মধ্যে ভারসাম্য, সংহতি ও ন্যায়বিচার বজায় থাকে, মহাবিশ্ব স্থিতিশীল থাকে এবং তাতে কোনো বিপর্যয় ঘটে না। ভূমিকম্প, ভূমিধস, সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ মানুষের চরিত্রের স্খলন এবং তার বক্রতারই প্রতিফলন মাত্র। এগুলো তারই নিদর্শন। যদি অসদাচরণ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তবে সদাচরণ কল্যাণ ও বরকত বয়ে আনে এবং মহাবিশ্বের প্রতিটি উপাদানকে মানুষের পছন্দ ও সন্তুষ্টি অনুযায়ী পরিচালিত করে।
আর সে হিসেবে মহাবিশ্বের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান তিনটি:
প্রথমত: আকাশ তার কর্তৃত্ব নিয়ে, দ্বিতীয়ত: জমিন আকাশের হুকুম মেনে নেওয়ার মাধ্যমে, এবং তৃতীয়ত: মানুষ তার নৈতিক ইচ্ছাশক্তি নিয়ে। সে যদি সর্বোত্তম ও শ্রেষ্ঠ চরিত্র বেছে নেয় এবং সেদিকে ধাবিত হয়, তবে মহাবিশ্বের প্রতিটি দিক মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত হবে। আবহাওয়া স্নিগ্ধ সমীরণে ভরে উঠবে, উত্তাপ হবে আরামদায়ক ও দাহনহীন, আর বৃষ্টি হবে মৃত জমিনকে পুনরুজ্জীবিতকারী এবং তা জনপদ ধ্বংস না করে রহমতের বৃষ্টিতে পরিণত হবে; সূর্য হবে দীপ্তিময়, দিন হবে উজ্জ্বল এবং রাত হবে শান্ত।
১৩- এর মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে, চীনা আকিদাহ বা বিশ্বাস ত্রুটিপূর্ণ, তবে চীনাদের চরিত্র শক্তিশালী এবং তাদের ইচ্ছাশক্তি সুদৃঢ়, কিন্তু তা ভ্রান্ত বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর যা ভ্রান্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত তা অবশ্যই ভেঙে পড়বে; কারণ তা একটি পতনোন্মুখ গর্তের কিনারায় অবস্থিত, যার কোনো স্থায়িত্ব নেই এবং যার ভিত্তি সুদৃঢ় নয়।
যদি গ্রীক দর্শন এবং তার উত্তরসূরি রোমান দর্শন এমন কোনো নৈতিক বিধান তৈরি করতে ব্যর্থ হয়ে থাকে যার মানদণ্ড স্থির এবং যা প্রথা, স্থান ও কালের পরিবর্তনে পরিবর্তিত হয় না, তবে চীন সামগ্রিকভাবে একটি উত্তম ব্যবহারিক বিধানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে যা তার চূড়ান্ত লক্ষ্যে কল্যাণের দিকে ধাবিত হয়। কিন্তু এটি ভ্রান্তিহীন ঈমানের সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর এবং অপ্রমাণিত ও ভিত্তিহীন কল্পনাপ্রসূত চিন্তামুক্ত আকিদাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল না।
প্রকৃতপক্ষে সঠিক আকিদাহই অটল চরিত্র গঠন করে এবং এটিই সেই আদর্শ সমাজ বিনির্মাণ করে যা সুদৃঢ় স্তম্ভ ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত ঈমানের অনুপ্রেরণায় কল্যাণ কামনা করে।
১৪- আমরা এই প্রেক্ষাপট—যেখানে আমরা গ্রীক ও রোমান থেকে শুরু করে নিকট প্রাচ্য এবং দূর প্রাচ্য পর্যন্ত ভ্রমণ করেছি—তা থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, মসীহ এবং সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর পূর্ববর্তী সময়ে সমগ্র বিশ্ব পরস্পরবিরোধী মতবাদ ও প্রবণতার এক বিশাল আবর্তে দুলছিল।
এবং যখন পৌত্তলিকতা মূসা ও তাঁর উত্তরসূরিগণ এবং ঈসা ও তাঁর শিষ্যদের আনীত একত্ববাদের প্রতি অত্যন্ত বিরক্ত ও অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছিল, তখন দূর প্রাচ্য একত্ববাদের এই দাওয়াত থেকে অনেক দূরে ছিল, ফলে সেখানে ছিল
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
مجوسية الفرس، ووثنية الهندوس، وظلم الطبقات، ثم كان من وراء ذلك عبادة الأفلاك والنجوم والأرواح فى الصين.
كان العالم إذن يموج بفساد الفكر، وفساد العمل، واضطراب الحكم، وانقطاع الصلة بين الحاكم والمحكوم، وسيطرة الأقوياء على الضعفاء، وقد اشتد الطغيان.
وثنية اليونان والرومان:
15- وبجوار تلك كانت أوروبا تعيش فى ظلمات الوثنية، وكان غربها من الوندال والسكسون قبل المسيح يعيشون فى جاهلية عمياء، لم يكن فيها هاد ولا مرشد، كما تعيش بعض القبائل فى مجاهل أفريقية، ولا فرق بينهم إلا فى اللون، فأولئك بيض وهؤلاء سود ولكن الفعل واحد، والوحشية متقاربة، ولعل البيض أغلظ أكبادا، وأقسى قلوبا.
16- ولما جاءت المسيحية جاءت إليهم بعد أن شاهت، واعتراها التغيير والتبديل، وذلك لأن الفلسفتين اليونانية والرومانية من بعدها عجزتا عن إصلاح الأخلاق، وبث الاطمئنان فى القلوب، والرضا فى النفوس، فكان لابد من دين يقود العقل إلى ما فيه خير العباد.
وقد فقدت الأوثان قوة تأثيرها فى الجماعات، إذ أن الفلسفة قد أيقظت العقول، وإن لم تهدها، وحركت الأفهام ودفعتها إلى التفكير، وإن لم تهدها إلى الصراط السوى الذى يسلكه من يستضيء بنورها واحدها، فكان لابد من دين بجوارها، وخصوصا أن المدائن الرومانية لم يكن فيها التناسق الاجتماعى الذى يجعل كل إنسان يرضى بما قسم له من حظ.
إن التاريخ يحكى أن توزيع الثروة فى الدولة الرومانية لم يتحقق فيه العدل الاجتماعي، فبينما ترى الترف فيمن أفاءت عليهم الدولة بالغنائم والأسلاب من الفتوح الرومانية ترى ألوف الألوف من الناس قد حرموا ما يتبلغون به فى حياتهم، فاستولى عليهم الإحساس بالظلم، والناس لا يشقون بالام ذاتية وحرمان ذاتى بمقدار ما يشقون لسعادة غيرهم التى امتنعت عليهم، وكذلك كانت الالام فى سواد الرومان، ولولا بقايا من الصبر عندهم لانفجروا فى ثورات ما حقة لا تبقى ولا تذر.
مزج الفلسفة بالدين:
17- وفى هذا الوقت أرادوا أن يمزجوا الفلسفة بالدين أو يحلوا الفلسفة محل الدين، إذ أخذت التماثيل تفقد قوتها، ولم يعد لها سلطان فى التأثير فى نفوس الشعوب، وفقدت معابد الأوثان ما كان لها من روعة، ولقد كان يعتور النفس الرومانية حينئذ عاملان قويان كلاهما فيه شدة وبأس، فشعورهم بالبأساء
পারস্যের মাজুসিয়্যাত (অগ্নিপূজা), হিন্দুদের মূর্তিপূজা এবং শ্রেণীগত জুলুম; আর এর পেছনে ছিল চীনে গ্রহ-নক্ষত্র ও আত্মার উপাসনা।
ফলত পৃথিবী তখন চিন্তা ও কর্মের কলুষতা, শাসনের বিশৃঙ্খলা, শাসক ও শাসিতের মধ্যকার সম্পর্কের বিচ্ছেদ, দুর্বলের ওপর প্রবলের আধিপত্য এবং চরম খোদাদ্রোহিতায় টালমাটাল ছিল।
গ্রিক ও রোমানদের মূর্তিপূজা:
১৫- এর পাশাপাশি ইউরোপ মূর্তিপূজার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। মসিহ (আ.)-এর পূর্ববর্তীকালে পশ্চিম ইউরোপের ভ্যান্ডাল ও স্যাক্সনরা এক অন্ধ জাহিলিয়াতের মধ্যে অতিবাহিত করছিল, যেখানে কোনো পথপ্রদর্শক বা হিদায়েতকারী ছিল না। তারা আফ্রিকার গহীন অরণ্যে বসবাসকারী কতিপয় গোত্রের মতোই জীবনযাপন করত; বর্ণ ছাড়া তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। তারা ছিল শ্বেতাঙ্গ আর এরা কৃষ্ণাঙ্গ, কিন্তু কাজ ছিল অভিন্ন এবং বর্বরতা ছিল কাছাকাছি। সম্ভবত শ্বেতাঙ্গরা অধিক কঠোর এবং পাষাণ হৃদয়ের অধিকারী ছিল।
১৬- যখন খ্রিষ্টধর্ম তাদের নিকট আসলো, তখন তা বিকৃত হয়ে গিয়েছিল এবং তাতে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন সাধিত হয়েছিল। এর কারণ হলো গ্রিক দর্শন এবং পরবর্তীতে রোমান দর্শন চরিত্র সংশোধন, অন্তরে প্রশান্তি সঞ্চার এবং আত্মার তুষ্টি অর্জনে ব্যর্থ হয়েছিল। ফলে এমন এক দ্বীনের প্রয়োজন ছিল যা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিকে এমন পথে পরিচালিত করবে যাতে বান্দাদের কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
মূর্তিসমূহ জনসমষ্টির ওপর তাদের প্রভাবের শক্তি হারিয়ে ফেলেছিল, কারণ দর্শন মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিকে জাগ্রত করেছিল যদিও তা সঠিক পথ দেখাতে পারেনি। এটি বোধশক্তিকে নাড়া দিয়েছিল এবং চিন্তার খোরাক যুগিয়েছিল, যদিও তা মানুষকে সেই সরল পথের দিশা দিতে পারেনি যাতে চলে সেই ব্যক্তি যে নিজের নূর বা একত্ববাদের আলোতে উদ্ভাসিত হয়। তাই এর পাশাপাশি একটি দ্বীনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল, বিশেষ করে যখন রোমান নগরীগুলোতে এমন কোনো সামাজিক সামঞ্জস্য ছিল না যা প্রত্যেক মানুষকে তার জন্য বরাদ্দকৃত ভাগ্যে সন্তুষ্ট রাখতে পারে।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, রোমান সাম্রাজ্যে সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। একদিকে রোমান বিজয়গুলো থেকে অর্জিত গনিমত ও লুণ্ঠিত সম্পদের প্রাচুর্যে একদল বিলাসবহুল জীবনযাপন করছিল, অন্যদিকে লাখ লাখ মানুষ জীবন ধারণের নূন্যতম উপকরণ থেকেও বঞ্চিত ছিল। ফলে তাদের মধ্যে জুলুমের অনুভূতি জেঁকে বসেছিল। মানুষ নিজস্ব দুঃখ বা বঞ্চনায় যতটা না কষ্ট পায়, তার চেয়ে বেশি কষ্ট পায় অন্যের সেই সুখ দেখে যা তাদের জন্য নিষিদ্ধ। সাধারণ রোমানদের মধ্যে এমন যন্ত্রণাই বিদ্যমান ছিল। যদি তাদের মধ্যে ধৈর্যের লেশমাত্র না থাকত, তবে তারা এমন বিধ্বংসী বিপ্লবে ফেটে পড়ত যা কিছুই অবশিষ্ট রাখত না।
ধর্মের সাথে দর্শনের মিশ্রণ:
১৭- এই সময়ে তারা দর্শনকে ধর্মের সাথে মিশ্রিত করতে চাইল অথবা ধর্মের স্থলাভিষিক্ত করতে চাইল। কারণ মূর্তিগুলো তাদের প্রভাব হারাতে শুরু করেছিল এবং জনগণের অন্তরে তাদের কোনো কর্তৃত্ব অবশিষ্ট ছিল না। মূর্তিপূজার উপাসনালয়গুলো তাদের জৌলুস হারিয়ে ফেলেছিল। সেই সময়ে রোমানদের মনে দুটি শক্তিশালী বিষয় ক্রিয়াশীল ছিল যার উভয়টিই ছিল তীব্র ও কঠোর; একটি হলো তাদের দুঃখ-কষ্টের অনুভূতি...
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
والالام يجعلهم فى حاجة إلى عزاء من الدين، وسلوى بالجزاء فى يوم اخر غير يوم الشقاء الذين يعيشون فيه، والعامل الثانى الذى أضعف هذه السلوى هو أن الالهة التى تمثلوها فى الأوثان فى زعمهم قد فقدت قوة تأثيرها.
وقد أرادت الفلسفة أن تحل محل الأديان، ولكنها لم يكن لها تأثيرها، فاتصلت بالأديان والتقت بها التقاء تعاون، وليس التقاء تخاصم وتناحر، كما كان الشأن بينهما.
جاء فى كتاب (المباديء الفلسفية) «إن الفلسفة استخدمت نظريات علوم اليونان لتهذيب الاراء الدينية، وترتيبها والتقدم بها إلى الشعور الدينى اللجوج بفكرة فى العالم قد تقنعه. فأوجدت نظما دينية تتفق مع الأديان فى النظر فيما وراء المادة اتفاقا يختلف قلة وكثرة» .
وهنا نجد الفلسفة اليونانية التى تسمى الأفلاطونية الحديثة تحاول الالتقاء بالديانتين اللتين كانتا بارزتين فى ذلك الإبان، وقد تخاذلت وثنية اليونان والرومان عن أن تقف واحدها فى الميدان، فأتى باراء فى خلق العالم تقرر أن منشيء الكون الجدير بالعبادة فى نظرها يشتمل على ثلاثة أمور:
أولها- أن الكون صدر عن منشيء أزلى دائم لا تدركه الأبصار ولا تحده الأفكار ولا تصل إلى معرفة كنهه الأفهام.
ثانيها- أن جميع الأرواح شعب لروح واحدة، وتتصل بالمنشيء الأول بواسطة العقل الذى صدر عن المنشيء صدور المعلول عن علته، فهما متلاقيان فى القدم. ويصبح التعبير عن المنشيء الأول بالاب وعن العقل بالابن، وإن كان أحدهما ليس متخلفا عن الاخر فى الزمان.
ثالثها- أن العالم فى تدبيره وتكوينه خاضع لهذه الثلاثة.
التثليث فى الفلسفة:
18- وخلاصة القول أن المنشيء الأول هو مصدر كل شيء، وإليه معاده لا يتصف بوصف من أوصاف الحوادث، فليس بجوهر، ولا بعرض، فليس بفكر كفكرنا، ولا إرادة كإرادتنا، ولا وصف له إلا أنه واجب الوجود، يتصف بكل ما يليق به، يفيض على كل الأشياء بنعمة الوجود، ولا يحتاج هو إلى موجد له.
وأول شيء صدر عن هذا المنشيء فى نظر صاحب تلك المدرسة- وهو أفلوطين- هو العقل، صدر عنه كأنه متولد منه، ولهذا العقل قوة الإنتاج، ولكن ليس كمن تولد عنه.
যাতনা ও কষ্টসমূহ তাদেরকে ধর্মের নিকট থেকে সান্ত্বনা লাভের এবং তারা যে দুঃখ-কষ্টের দিনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছে তা ছাড়া অন্য এক দিনে প্রতিদানের মাধ্যমে প্রবোধ পাওয়ার মুখাপেক্ষী করে তোলে। আর দ্বিতীয় কারণটি যা এই প্রবোধকে দুর্বল করে দিয়েছিল তা হলো, তাদের ধারণায় মূর্তির মাধ্যমে তারা যে দেব-দেবীদের চিত্রায়ন করেছিল, সেগুলো তাদের প্রভাবের শক্তি হারিয়ে ফেলেছিল।
দর্শন ধর্মের স্থলাভিষিক্ত হতে চেয়েছিল, কিন্তু এর সেই প্রভাব ছিল না। ফলে এটি ধর্মের সাথে যুক্ত হয় এবং একে অপরের সাথে দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতার ভিত্তিতে মিলিত হয়, যেমনটি পূর্বে তাদের মধ্যে বিদ্যমান ছিল।
‘দার্শনিক মূলনীতিসমূহ’ নামক গ্রন্থে এসেছে: "দর্শন গ্রীক বিজ্ঞানের তত্ত্বসমূহকে ধর্মীয় মতামতসমূহ সংস্কার ও বিন্যস্ত করার জন্য এবং জগতের এমন এক ধারণার মাধ্যমে নাছোড়বান্দা ধর্মীয় অনুভূতির সামনে অগ্রসর হওয়ার জন্য ব্যবহার করেছে যা তাকে আশ্বস্ত করতে পারে। ফলে এটি এমন কিছু ধর্মীয় ব্যবস্থা তৈরি করেছে যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতের অতীত বিষয়াবলির প্রতি দৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে ধর্মের সাথে ঐকমত্য পোষণ করে, যদিও এই ঐকমত্যের মাত্রা কম-বেশি হয়ে থাকে।"
এখানে আমরা গ্রীক দর্শনকে দেখতে পাই যা নব্য-প্লাতোবাদ নামে পরিচিত; এটি সেই সময়ে প্রচলিত প্রধান দুটি ধর্মের সাথে মিলিত হওয়ার চেষ্টা করে। গ্রীক ও রোমান পৌত্তলিকতা তখন ময়দানে একা টিকে থাকতে ব্যর্থ হয়েছিল। ফলে এটি জগতের সৃষ্টি সম্পর্কে এমন কিছু মতবাদ নিয়ে আসে যা সাব্যস্ত করে যে, তাদের দৃষ্টিতে মহাবিশ্বের স্রষ্টা—যিনি ইবাদতের যোগ্য—তিনটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেন:
প্রথমত— মহাবিশ্ব একজন অনাদি ও চিরন্তন স্রষ্টা থেকে উদ্ভূত হয়েছে, দৃষ্টিসমূহ যাকে প্রত্যক্ষ করতে পারে না, চিন্তা-গবেষণা যাকে সীমাবদ্ধ করতে পারে না এবং জ্ঞান-বুদ্ধি তাঁর সত্তার প্রকৃত স্বরূপ উদ্ঘাটন করতে পারে না।
দ্বিতীয়ত— সমস্ত আত্মা একটিমাত্র আত্মার শাখা-প্রশাখা এবং তা ‘প্রথম স্রষ্টা’র সাথে ‘আকল’ বা বুদ্ধিবৃত্তির মাধ্যমে যুক্ত, যা স্রষ্টা থেকে সেভাবেই নির্গত হয়েছে যেভাবে কারণ থেকে কার্যের উদ্ভব ঘটে। সুতরাং তারা উভয়ে অনাদিত্বের ক্ষেত্রে পরস্পর মিলিত। ফলে প্রথম স্রষ্টাকে ‘পিতা’ এবং আকল বা বুদ্ধিবৃত্তিকে ‘পুত্র’ হিসেবে প্রকাশ করা হয়, যদিও সময়ের দিক থেকে একজন অন্যজনের চেয়ে পিছিয়ে নয়।
তৃতীয়ত— জগৎ তার পরিচালনা ও গঠনের ক্ষেত্রে এই তিনটির অনুগত।
দর্শনে ত্রিত্ববাদ:
১৮- সারকথা হলো, প্রথম স্রষ্টাই হলেন সবকিছুর উৎস এবং তাঁর দিকেই সবকিছুর প্রত্যাবর্তন। তিনি সৃষ্টিজগতের কোনো গুণের মাধ্যমে গুণান্বিত নন। তিনি কোনো মৌলিক সত্তা (জওহর) নন, আবার কোনো আপতিক গুণ (আরয) নন। তাঁর চিন্তা আমাদের চিন্তার মতো নয়, আর তাঁর ইচ্ছাও আমাদের ইচ্ছার মতো নয়। তাঁর কোনো বিশেষণ নেই কেবল এটি ছাড়া যে, তিনি ‘ওয়াজিবুল উজুদ’ (অবশ্যম্ভাবী অস্তিত্ব)। তিনি তাঁর শান অনুযায়ী সকল উপযুক্ত গুণের অধিকারী। তিনি সকল বস্তুর ওপর অস্তিত্বের নেয়ামত বর্ষণ করেন এবং তাঁর নিজের জন্য কোনো অস্তিত্বদাতার প্রয়োজন নেই।
সেই মতবাদের প্রবক্তা—অর্থাৎ প্লটিনাস—এর মতে, এই স্রষ্টা থেকে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি নির্গত হয়েছে তা হলো ‘আকল’ বা বুদ্ধিবৃত্তি। এটি তাঁর থেকে এমনভাবে নির্গত হয়েছে যেন তা তাঁর থেকেই উৎপন্ন। আর এই আকলের সৃজনী শক্তি রয়েছে, তবে তা যা থেকে এটি উৎপন্ন হয়েছে তার মতো নয়।
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ومن العقل انبثقت الروح التى هى واحدة الأرواح، وعن هذا الثالوث يصدر كل شيء، ومنه يكون التدبير والخلق.
ويلاحظ أمران:
أولهما- أنه التقت الأفلاطونية الحديثة مع الدين، وصارا يضربان على نغمة واحدة هى نغمة ذلك التثليث، وهو ما اشتملت عليه النصرانية التى حالت إليها المسيحية التى تزعمها من تركوا ما دعا إليه المسيح عليه السلام.
وبها تلتقى الفلسفة مع ذلك الدين، وتلتقى الوثنية التى تتعدد فيها الالهة وتكوّن منهما تلفيق متناسق أو غير متناسق، من غير نظر إلى كون هذا الامتزاج مزيجا قد اختفت فيه ظواهر العناصر الممتزجة فى مزاج واحد، أم لم تختف.
الأمر الثانى- أن شيخ هذه المدرسة هو أمنيوس المتوفى سنة 242 ميلادية، اعتنق الديانة المسيحية الأولى التى جاء بها أتباع المسيح عليه السلام فيما نظن، ثم ارتد عنها إلى وثنية اليونان الأقدمين.
وجاء من بعده أفلوطين المتوفى سنة 270 م. وقد تعلم فى مدرسة الإسكندرية أولا، ثم رحل إلى فارس والهند، وهناك استقى ينابيع الصوفية الهندية واطلع على اراء بوذا ومذهبه، وبراهمة الهند وديانتهم، وعرف اراء البوذيين فى بوذا، وقد رفعوه إلى مرتبة الإله، والبراهمة فى كرشنة، وقد رفعوه أيضا إلى مرتبة الإله، وقد عاد من بعد هذه الرحلة التى تزود منها بالزاد البرهمى والبوذى إلى الإسكندرية التى كانت مهد مدرسته المثلاثة على النحو الذى بيناه.
19- فى هذه الموجة الفكرية كان يعيش العالم فى القرن الثالث من مولد المسيح عليه السلام، وقد استمر ذلك الاضطراب الفكرى أمدا بعده، حتى جاء القرن السادس، وقد زادت المنازع وتخالفت المناهج، وانحل الفكر انحلالا شديدا فيما يتعلق بالاعتقاد.
وانشقت النصرانية التى انحرفت عن تعاليم المسيح عيسى بن مريم على نفسها، فكان منها الملكانية وكان منها اليعقوبية، واشتد الخلاف بينهما، حتى انتقل الخلاف إلى عداوة فكرية ثم إلى عداوة تشبه العداوة الجنسية، وأغرى الله تعالى بينهم بالعداوة والبغضاء، وتفرقت النفوس والأفكار، وضعف الاعتقاد، وانحل الإيمان، فإنه كلما انتقلت العقائد إلى أن تكون موضع مجادلات تضعف، ويعرض لها الشك، وينتهى اليقين، وكذلك كان الأمر فى الأرض التى كانت تعتنق النصرانية فى القرن السادس، فى البلاد التى كانت تجاور الجزيرة العربية وفى الجزيرة نفسها.
এবং বুদ্ধিবৃত্তি থেকে আত্মার উদ্ভব হয়েছে যা আত্মাসমূহের একক উৎস, আর এই ত্রিত্ববাদ থেকেই সবকিছু নিঃসৃত হয় এবং তা থেকেই সৃষ্টি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হয়।
দুটি বিষয় লক্ষণীয়:
প্রথমত- নব্য-প্লেটোবাদ ধর্মের সাথে মিলিত হয়েছেএবং তারা উভয়ে একই সুরে সুর মেলাতে শুরু করেছে যা হলো সেই ত্রিত্ববাদের সুর। এটিই সেই নাসরানিয়াতের অন্তর্ভুক্ত যা সেই খ্রিস্টধর্মে রূপান্তর লাভ করেছে যার নেতৃত্ব দিয়েছিল তারা, যারা ঈসা আলাইহিস সালাম-এর আহব্বান পরিত্যাগ করেছিল।
এর মাধ্যমে দর্শন সেই ধর্মের সাথে মিলিত হয় এবং সেই পৌত্তলিকতার সাথেও মিলিত হয় যেখানে বহু দেবতার অস্তিত্ব বিদ্যমান। এগুলোর সমন্বয়ে একটি সংগতিপূর্ণ বা অসংগতিপূর্ণ সংমিশ্রণ তৈরি হয়, যেখানে এই মিশ্রণের ফলে উপাদানগুলোর বাহ্যিক রূপ একই প্রকৃতির মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে কি না, তা বিবেচনা করা হয়নি।
দ্বিতীয় বিষয়- এই মতবাদের গুরু হলেন আমোনিয়াস, যিনি ২৪২ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। আমাদের ধারণা মতে, তিনি ঈসা আলাইহিস সালাম-এর অনুসারীদের আনীত আদি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, অতঃপর তা থেকে বিচ্যুত হয়ে প্রাচীন গ্রিক পৌত্তলিকতায় ফিরে যান।
তার পরে আসেন প্লোটিনাস, যিনি ২৭০ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি প্রথমে আলেকজান্দ্রিয়া বিদ্যাপীঠে শিক্ষা গ্রহণ করেন, অতঃপর পারস্য ও ভারতে ভ্রমণ করেন। সেখানে তিনি ভারতীয় আধ্যাত্মিকতার উৎসসমূহ থেকে জ্ঞান আহরণ করেন এবং বুদ্ধের মতবাদ ও দর্শন এবং ভারতের ব্রাহ্মণ ও তাদের ধর্ম সম্পর্কে অবগত হন। তিনি বুদ্ধ সম্পর্কে বৌদ্ধদের ধারণাগুলো জানেন—যারা তাকে উপাস্যের স্তরে উন্নীত করেছিল, এবং কৃষ্ণ সম্পর্কে ব্রাহ্মণদের ধারণাগুলোও জানেন—যাকে তারাও উপাস্যের স্তরে উন্নীত করেছিল। এই ভ্রমণ থেকে ব্রাহ্মণ্যবাদী ও বৌদ্ধ ভাবধারা গ্রহণ করার পর তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় ফিরে আসেন, যা ছিল তাঁর বর্ণিত ত্রিত্ববাদী মতবাদের সূতিকাগার।
১৯- ঈসা আলাইহিস সালাম-এর জন্মের পর তৃতীয় শতাব্দীতে বিশ্ব এই বুদ্ধিবৃত্তিক তরঙ্গের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছিল। এই বুদ্ধিবৃত্তিক বিশৃঙ্খলা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, এমনকি ষষ্ঠ শতাব্দী পর্যন্ত তা স্থায়ী হয়। সেই সময়ে বিবাদ বৃদ্ধি পায়, পদ্ধতিসমূহ ভিন্ন ভিন্ন রূপ নেয় এবং বিশ্বাসের ক্ষেত্রে চিন্তাধারার চরম বিপর্যয় ঘটে।
মারইয়াম তনয় ঈসা আলাইহিস সালাম-এর শিক্ষা থেকে বিচ্যুত নাসরানিয়াতের মধ্যে বিভেদ তৈরি হয় এবং তা মেলকাইট ও জ্যাকোবাইট গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যকার বিরোধ এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে, তা বুদ্ধিবৃত্তিক শত্রুতা থেকে চরম জাতিগত শত্রুতার মতো রূপ নেয়। আল্লাহ তাআলা তাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেন; ফলে মন ও চিন্তাধারার মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি হয়, বিশ্বাস দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ঈমান ভেঙে যায়। কারণ যখনই আকিদা বা বিশ্বাস তর্কের বিষয়ে পরিণত হয়, তখন তা দুর্বল হয়ে যায়, তাতে সংশয় দেখা দেয় এবং দৃঢ় বিশ্বাস নিঃশেষ হয়ে যায়। ষষ্ঠ শতাব্দীতে আরব উপদ্বীপের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ এবং খোদ উপদ্বীপের ভেতরে যেসব স্থানে নাসরানিয়াত প্রচলিত ছিল, সেখানকার অবস্থা এমনই ছিল।
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
20- فالمسيحية إبان القرن السادس الميلادى قد ضعف الإيمان بها، لكثرة الجدل فيها، ولم تكن قد استقرت الأفكار حولها، واقتصرت على اتجاه معين من اتجاهاتها.
فابتدأت أولا باضطهاد الوثنية لها، وتجسس اليهود على النصاري، واختفى المسيحيون فى أكنان من أرض الروم وفلسطين مستسرين بعقائدهم. وكلما ظهر فريق منهم قوبل بالاضطهاد، والأذى المرير، وتبارى فى ذلك ملوك الرومان، وقد جعلوا عمل أمرائهم الذين يرسلونهم هو ذلك الأذى ليئدوا ذلك الدين الجديد فى مهده، ويقبروه فى حجر ولادته.
وقد تكاثرت المصادر الدالة على ذلك الاضطهاد، وقد جاء فى كتاب (تاريخ الحضارة) ما نصه «قد كتب بلين وكان واليا فى اسيا إلى الإمبراطور تراجان كتابا يدل على الطريقة التى كان يعامل بها المسيحيين قال: «جريت مع من اتهموا بأنهم نصارى على الطريقة الاتية، وهو أنى أسألهم إذا كانوا مسيحيين، فإذا أقروا أعيد عليهم السؤال ثانية وثالثة مهددا بالقتل، فإن أصروا أنفذ فيهم عقوبة الإعدام مقتنعا بأن غلطهم الشنيع، وعنادهم الشديد يستحقون بهما هذه العقوبة، وقد وجهت التهم إلى الكثيرين بكتب لم تذيل بأسماء من كتبوها، فأنكر المتهمون أنهم نصاري، وكرروا الصلاة على الأديان الذين ذكرت أسماءهم أمامهم، وقدموا الخمور والبخور لتمثال أتيت به عمدا مع تماثيل الأديان، بل إنهم شتموا المسيح، ويقال إنه من الصعب إكراه النصرانى الحقيقى على شتم المسيح، ومنهم من اعترفوا بأنهم نصاري، وكانوا يقرون بأنهم يجتمعون فى بعض الأيام قبل طلوع الشمس على العبادة، وعلى إنشاد الأناشيد إكراما للمسيح، وتعاهدوا بينهم لا على ارتكاب جرم بل على ألا يسرقوا ولا يقتلوا ولا يزنوا وأن يوفوا بعهداهم، ورأيت من الضرورى أن أعذب امرأتين ذكرتا أنهما خادمتا الكنيسة، بيد أنى لم أقف على شيء سوى خرافة سخيفة» .
وقد كثر الاضطهاد، وكان نيرون يجعل من النصارى مشاعل تسير فى موكبه، إذ يطليهم بالقار، ويشعل فيهم النار. وتسير تلك الشعلة فى احتفاله بنفسه.
وأوقع دقلديانوس بنصارى مصر أشد الاضطهاد، وأنزل بهم العذاب، وقتل فى مصر المسيحية التقتيل الذربع الماحق، حتى أنه اعتبر تاريخ ذلك العذاب هو ابتداء التاريخ القبطى.
21- وبعد زوال الاضطهاد ظهرت الخلافات على أشدها، فكانت بقايا الواحدانية تظهر على لسان أريوس، ومعه أكثر كنائس الشرق، وأكثر الكنائس فى فلسطين، وكثير من كنائس مصر.
ولما أراد قسطنطين أن يدخل فى النصرانية جمع مجمع نيقية سنة 325 م وأعلن ثمانية عشر وثلاثمائة من المجتمعين ألوهية المسيح، فأخذ بقولهم مع أن المجتمعين ابتداء فى المجمع كانوا يبلغون 2048 أو يزيدون، ولكن أراد أن تتغير المسيحية إلى ما يقرب من الفلسفة والوثنية على أن يبقى اسم المسيحية وإن خلت من لبها، وهى الواحدانية التى تحارب الوثنية.
20- ষষ্ঠ খ্রিস্টীয় শতাব্দীতে খ্রিস্টধর্মের প্রতি বিশ্বাস দুর্বল হয়ে পড়েছিল, কারণ এতে বিতর্ক ছিল প্রচুর। এ ধর্ম সম্পর্কে ধারণাগুলো তখনও সুস্থিত হয়নি এবং তা নির্দিষ্ট কিছু মতবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
এটি প্রথমত পৌত্তলিকদের পক্ষ থেকে নিপীড়নের শিকার হওয়ার মাধ্যমে শুরু হয় এবং ইহুদিরা খ্রিস্টানদের ওপর গোয়েন্দাগিরি করতে থাকে। খ্রিস্টানরা রোমান সাম্রাজ্য ও ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডের নিভৃত স্থানে লুকিয়ে তাদের বিশ্বাস গোপন রাখত। যখনই তাদের কোনো দল আত্মপ্রকাশ করত, তখনই তাদের ওপর নেমে আসত অবর্ণনীয় নির্যাতন ও তিক্ত কষ্ট। রোমান সম্রাটরা এক্ষেত্রে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতেন। তারা যে সব শাসনকর্তাদের পাঠাতেন, তাদের প্রধান কাজই ছিল এই নতুন ধর্মকে আঁতুড়ঘরেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা এবং তার জন্মলগ্নই তাকে সমাহিত করা।
এই নির্যাতনের প্রমাণবাহী উৎসের সংখ্যা অনেক। 'ইতিহাসের সভ্যতা' (তারিখুল হাদারাহ) নামক গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে: "পিলিনি, যিনি এশিয়ার গভর্নর ছিলেন, সম্রাট ট্রাজানকে একটি চিঠি লিখেছিলেন যা খ্রিস্টানদের সাথে তার আচরণের পদ্ধতি প্রকাশ করে। তিনি বলেন: 'যাদের বিরুদ্ধে খ্রিস্টান হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল, তাদের ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করেছি: আমি তাদের জিজ্ঞাসা করতাম তারা খ্রিস্টান কি না। যদি তারা স্বীকার করত, তবে আমি তাদের দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার জিজ্ঞাসা করতাম এবং হত্যার হুমকি দিতাম। যদি তারা তাদের অবস্থানে অটল থাকত, তবে আমি তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতাম; কারণ আমি নিশ্চিত ছিলাম যে, তাদের এই জঘন্য ভুল ও চরম হঠকারিতা এই শাস্তির যোগ্য। এমন অনেক লোকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছিল যাদের নাম চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি। অভিযুক্তরা অস্বীকার করেছিল যে তারা খ্রিস্টান। তারা আমার সামনে সেই সব ধর্মীয় দেবতাদের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা পুনরাবৃত্তি করেছিল যাদের নাম আমি উল্লেখ করেছিলাম। তারা এমন এক মূর্তির সামনে মদ ও ধূপ উৎসর্গ করেছিল যা আমি দেবতাদের মূর্তির সাথে ইচ্ছাকৃতভাবে আনিয়েছিলাম। এমনকি তারা যিশুর নিন্দা করেছিল। বলা হয়ে থাকে যে, কোনো প্রকৃত খ্রিস্টানকে যিশুর নিন্দা করতে বাধ্য করা অত্যন্ত কঠিন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ স্বীকার করেছিল যে তারা খ্রিস্টান। তারা স্বীকার করত যে, তারা নির্দিষ্ট কিছু দিনে সূর্যোদয়ের পূর্বে ইবাদত করার জন্য এবং যিশুর সম্মানে সংগীত গাওয়ার জন্য সমবেত হত। তারা নিজেদের মধ্যে কোনো অপরাধ করার জন্য নয়, বরং চুরি না করা, হত্যা না করা, ব্যভিচার না করা এবং অঙ্গীকার পূর্ণ করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হত। আমি দুইজন নারীকে নির্যাতন করা প্রয়োজনীয় মনে করলাম যাদের সম্পর্কে বলা হয়েছিল যে তারা গির্জার সেবিকা। তবে আমি একটি হাস্যকর উপকথা ছাড়া আর কিছুই জানতে পারিনি'।"
নির্যাতন চরম আকার ধারণ করেছিল। নিরো খ্রিস্টানদের তার শোভাযাত্রার মশাল বানাতেন। তিনি তাদের শরীরে আলকাতরা মাখিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দিতেন এবং সেই জ্বলন্ত মশাল তার উৎসবের মিছিলে সারিবদ্ধভাবে চলত।
ডায়োক্লেটিয়ান মিশরের খ্রিস্টানদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছিলেন এবং তাদের ওপর আজাব নামিয়ে এনেছিলেন। তিনি মিশরের খ্রিস্টানদের এমন নির্মম ও নির্মূলকারী হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিলেন যে, সেই নির্যাতনের সূচনালগ্নকেই কিবতি বা কপ্টিক ইতিহাসের সূচনা হিসেবে গণ্য করা হয়।
21- নির্যাতনের অবসান ঘটার পর মতবিরোধগুলো চরমভাবে আত্মপ্রকাশ করে। তখন আরিয়াসের মুখে একত্ববাদের অবশিষ্টাংশ ধ্বনিত হতে থাকে এবং তার সাথে ছিল প্রাচ্যের অধিকাংশ গির্জা, ফিলিস্তিনের অধিকাংশ গির্জা এবং মিশরের অনেক গির্জা।
যখন কনস্টানটাইন খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি ৩২৫ খ্রিস্টাব্দে নাইসিয়া কাউন্সিল আহ্বান করলেন। সমবেতদের মধ্য থেকে ৩১৮ জন খ্রিস্টের ঈশ্বরত্ব ঘোষণা করলেন। তিনি তাদের মতকেই গ্রহণ করলেন, যদিও শুরুতে সম্মেলনে উপস্থিতদের সংখ্যা ছিল ২০৪৮ বা তারও বেশি। কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন খ্রিস্টধর্ম এমনভাবে পরিবর্তিত হোক যা দর্শন ও পৌত্তলিকতার কাছাকাছি হয়, যাতে খ্রিস্টধর্ম নামটুকু অবশিষ্ট থাকে কিন্তু তার মূল নির্যাস বা সারবস্তু হারিয়ে যায়—আর তা হলো সেই একত্ববাদ যা পৌত্তলিকতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে।
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ثم توالت بعد ذلك المجمع الذى مال بالمسيحية عن معناها مجامع أخري، وأول مجمع عام انعقد بعد ذلك كان المجمع القسطنطينى الأول سنة 381 ميلادية وفيه أضيفت إلى مناصب الألوهية روح القدس لتتم عناصر الأفلاطونية الحديثة التى أشرنا إليها انفا.
ولكن يظهر أن ألوهية المسيح التى قررها مجمع نيقية لم تكن قد استقرت فى الأذهان، فقد جاء من بعد ذلك نسطورس، واعتقد أن المسيح ابنا للإله بالحقيقة، إنما البنوة مجازية، إذ هو ابن بالنعمة والمحبة، لا بالألوهية، فاجتمع مجمع أفسس الأول سنة 431، ليبطل قوله، ويكفروه كشأنهم فى كل من يجهر برأى.
توالت من بعد ذلك الخلافات المفرقة، فمنهم من قرر أن مريم ولدت المسيح الإنسان ثم فاضت عليه البنوة الإلهية التى هى اللاهوت، فيقولون أن فى المسيح صفتين هما اللاهوت والناسوت، أو الإنسان والإله، والابن هو مجموع الاثنين، وهو الأقنوم.
والاخرون يقولون إنه طبيعة واحدة تجسد فيها العنصر اللاهوتي، ومريم ولدت الناسوت واللاهوت معا، فقد ولدت الإنسان والإله.
وقد اعتنقت الكنيسة المصرية واحدة الطبيعتين وولادة مريم لهما معا.
وكان الخلاف الشديد بينهما، وكان النزاع وكان الجدل، وكل جدل يحل الاعتقاد، ويضعف قوته، ويخضد شوكته، ولا يجعل له قوة دافعة مانعة.
وقد اشتد ذلك كله فى القرن الخامس والسادس.
وبذلك نقول مقررين أمرين:
أولهما- أن القرن السادس كانت العقائد فيه غير قارة فى النفوس، والاراء تخلق وتعتنق ثم يتعصب لها، وليس التعصب دليلا على قوة الاعتقاد، بل التعصب دليل على الانحراف النفسي، والنظر الجانبي، وكذلك كان تعصب الملكانيين ضد اليعقوبيين، إذ كان فى جملته إدراكا جانبيا منحرفا.
العصبية هى المسيطرة فيه، وليست قوة اليقين هى المسيطرة.
ثانيهما- أن النفوس فى القرن السادس كانت مهيأة للعقيدة الصحيحة تعتنقها إذا ظهرت بيناتها، وقام الاستدلال المنطقى عليها، وخصوصا أن الأفكار المرددة كانت أوهاما، أو أقوالا غير متميزة تميزا عقليا، ولم تكن قد استقرت استقرارا يجعل التعصب لها يشبه الطائفية، كما حدث من بعد بين النصاري، وبين اليهود.
এরপর খ্রিস্টধর্মকে তার প্রকৃত অর্থ থেকে বিচ্যুতকারী সেই কাউন্সিলের পর আরও অন্যান্য কাউন্সিল একে একে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর প্রথম যে সাধারণ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল তা ছিল ৩৮১ খ্রিস্টাব্দের প্রথম কনস্টান্টিনোপল কাউন্সিল, যেখানে আমরা পূর্বে যে নব-প্লেটোবাদের উপাদানগুলোর কথা উল্লেখ করেছি, সেগুলো পূর্ণ করার লক্ষ্যে পবিত্র আত্মাকে ঈশ্বরত্বের মর্যাদায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
কিন্তু দেখা যায় যে, নিসিয়া কাউন্সিলে মসীহের যে ঈশ্বরত্ব নির্ধারিত হয়েছিল তা মানুষের মনে স্থির হয়নি। এর পরে নেস্টোরিয়াস এলেন এবং তিনি বিশ্বাস করতেন যে মসীহ প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের পুত্র নন, বরং এই পুত্রত্ব ছিল রূপক; কেননা তিনি অনুগ্রহ ও ভালোবাসার কারণে পুত্র, ঈশ্বরত্বের কারণে নয়। ফলে ৪৩১ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ইফেসাস কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় তার বক্তব্য বাতিল করতে এবং তাদের প্রথা অনুযায়ী যে কেউ কোনো স্বতন্ত্র মত প্রকাশ করলে তাকে যেভাবে কাফির ঘোষণা করা হয়, তাকেও তেমনিভাবে কাফির ঘোষণা করতে।
এরপর বিভিন্ন বিভেদ সৃষ্টিকারী মতপার্থক্য তৈরি হতে থাকে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই সিদ্ধান্ত নিলেন যে, মারইয়াম মানুষ মসীহকে জন্ম দিয়েছেন, অতঃপর তার ওপর ঐশ্বরিক পুত্রত্ব তথা লাহুত (ঈশ্বরত্ব) অর্পিত হয়েছে। তারা বলে যে, মসীহের মধ্যে দুটি বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি বিদ্যমান: লাহুত ও নাসুত, অথবা মানুষ ও ঈশ্বর। আর 'পুত্র' হলো এই দুইয়ের সমষ্টি, যা একটি আকনুম।
অন্যরা বলেন যে, তিনি এক প্রকৃতি যাতে ঐশ্বরিক উপাদান দেহধারণ করেছে। আর মারইয়াম নাসুত ও লাহুত উভয়কে একত্রে জন্ম দিয়েছেন; অর্থাৎ তিনি একই সাথে মানুষ ও ঈশ্বরের জন্ম দিয়েছেন।
মিসরীয় গির্জা এই এক-প্রকৃতিবাদ এবং মারইয়ামের মাধ্যমে উভয়ের একত্রে জন্মের আকিদাহ গ্রহণ করেছিল।
তাদের মধ্যে ছিল তীব্র মতবিরোধ, বিবাদ ও বিতর্ক। প্রতিটি বিতর্কই বিশ্বাসকে শিথিল করে দেয়, এর শক্তি হ্রাস করে, এর প্রভাবকে খর্ব করে এবং এর মধ্যে কোনো প্রতিরোধমূলক বা চালিকা শক্তি অবশিষ্ট রাখে না।
পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতাব্দীতে এই পরিস্থিতি আরও চরম আকার ধারণ করেছিল।
এর মাধ্যমে আমরা দুটি বিষয় নিশ্চিত করছি:
প্রথমত- ষষ্ঠ শতাব্দীতে আকিদাহসমূহ মানুষের হৃদয়ে স্থির ছিল না। সেখানে নানা মতবাদ তৈরি হতো এবং মানুষ তা গ্রহণ করত, অতঃপর সেগুলোর পক্ষে গোঁড়ামি করত। আর এই গোঁড়ামি বিশ্বাসের দৃঢ়তার প্রমাণ নয়, বরং গোঁড়ামি হলো মানসিক বিচ্যুতি ও একদেশদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির প্রমাণ। জ্যাকোবাইটদের বিরুদ্ধে মেলকাইটদের গোঁড়ামিও ঠিক তেমনই ছিল, যা মূলত ছিল একটি ভ্রান্ত ও একপাক্ষিক উপলব্ধি।
সেখানে গোঁড়ামিই ছিল প্রভাবশালী, দৃঢ় বিশ্বাসের শক্তি নয়।
দ্বিতীয়ত- ষষ্ঠ শতাব্দীতে মানুষের আত্মা সঠিক আকিদাহ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত ছিল, যদি তার সুস্পষ্ট প্রমাণাদি প্রকাশিত হতো এবং তার স্বপক্ষে যৌক্তিক দলিল প্রতিষ্ঠিত হতো। বিশেষ করে তৎকালীন প্রচলিত ধারণাগুলো ছিল নিছক কল্পনাপ্রসূত অথবা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অস্পষ্ট কথাবার্তা। সেগুলো এমনভাবে স্থায়িত্ব লাভ করেনি যে তার প্রতি গোঁড়ামি কোনো সাম্প্রদায়িক রূপ ধারণ করবে, যেমনটি পরবর্তীতে খ্রিস্টান ও ইহুদিদের মধ্যে ঘটেছিল।
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وهكذا نرى المسيحية التى خلفت المسيحية الحقيقية التى جاء بها المسيح رسول الله صلى الله عليه وسلم، جاءت إلى النفوس قلقة غير مستقرة، بل إنها مضطربة غير ثابتة.
فإذا كانت أوثان الرومان قد فقدت قوة تأثيرها، وحل فى ربوع الوثنية ديانة تأخذ من اليهودية طرفا بأخذها بأحكام التوراة إلا ما خالف الأناجيل، وتأخذ من الوثنية بأطراف، ولا تكاد تأخذ من الدين الحقيقى شيئا- فإن ذلك المزيج الجديد لم يستقر، بل جاء مضطربا واهنا حتى نهاية القرن السادس الهجري، فكانت النفوس مهيأة لدين جديد هو الدين الحق.
العرب
22- طفنا بتفكيرنا حول العالم من غربه القريب والبعيد، إلى شرقه الأدنى والأوسط والأقصي، ولم نعرج على البلاد العربية، ونحسب أنها القلب، وأنها ذؤابة الفكر الأدبي، فإليها تأرز الحقائق الدينية قديما وحديثا، ومنها خرجت أصوات الأنبياء، خرجت ابتداء من أطرافها، ثم ختمت الرسالة الإلهية فى قلبها، ولقد هاجر إبراهيم أبو الأنبياء إلى بلاد العرب وولد فيها ولده إسماعيل الذى كان أول البشرى وحمد الله على ولادته ومن بعده إسحاق، والأول من جاريته هاجر. والثانى من زوجته سارة، وقال من بعدهما الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَهَبَ لِي عَلَى الْكِبَرِ إِسْماعِيلَ وَإِسْحاقَ.
وقد كان من ولده اسماعيل قريش الذين كانوا ذؤابة العرب، ولهم مكانة الزعامة فيهم، كما سنبين عند الكلام عن الكعبة المكرمة، فإليهم يأرزون، وإلى تلك البنية يحجون.
وكانت قريش ومن يتبعونها على الدين الذى جاء به أبو الأنبياء إبراهيم عليه الصلاة والسلام، فكانوا فى أصلهم مواحدين لا يعبدون غير الله تعالي، فلا يعبدون صنما، ولا حجرا، ولا حيوانا، وليس فيهم ألوهية لمخلوق إلا ما كان ممن وفدوا إليهم من النصارى كنصارى نجران ونصارى تغلب وغيرهم.. وقد كان يقوى توحيدهم صلتهم بإبراهيم عليه السلام، وشرفهم فى الانتساب إليه عن طريق ولده إسماعيل عليه السلام، ولكن طرأ عليهم ما حالت به أحوالهم، وتغيرت بسببه عقائدهم، وذلك لتقادم الزمن بينهم وبين إسماعيل عليه السلام حتى نسوا ما عرفوا.
دخول الوثنية أرض العرب:
23- تواردت عبادة الأوثان على النفس العربية، والتفكير العربى من نواح ثلاث:
أولاها- أن بقايا من الديانات القديمة كانت فيها وثنية، وإن لم تكن سائدة فى البلاد، فقوم نوح كان فيهم وثنية، وقيل إنه كان عربيا، أو خاطب العرب، وقد قص الله خبر أوثانهم فقال تعالى:
এভাবে আমরা দেখি যে খ্রিষ্টধর্ম, যা আল্লাহর রাসূল মাসীহ (সা.)-এর আনীত প্রকৃত খ্রিষ্টধর্মের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল, তা মানুষের মনে অস্থিরতা ও অশান্তি নিয়ে এসেছিল; বরং তা ছিল বিশৃঙ্খল ও অস্থিতিশীল।
রোমানদের মূর্তিসমূহ যখন তাদের প্রভাব হারিয়েছিল এবং পৌত্তলিকতার চত্বরে এমন এক ধর্মের আবির্ভাব ঘটেছিল যা ইয়াহুদি ধর্ম থেকে তাওরাতের বিধানসমূহ গ্রহণের মাধ্যমে কিছু অংশ গ্রহণ করেছিল (ইঞ্জিলের পরিপন্থী বিষয়গুলো ছাড়া), আবার পৌত্তলিকতা থেকেও কিছু অংশ গ্রহণ করেছিল, অথচ প্রকৃত ধর্ম থেকে প্রায় কিছুই গ্রহণ করেনি—তখন সেই নতুন সংমিশ্রণটি স্থিতিশীল হতে পারেনি। বরং ষষ্ঠ হিজরি শতকের শেষভাগ পর্যন্ত তা বিশৃঙ্খল ও দুর্বল অবস্থায় ছিল। ফলে মানুষের অন্তর একটি নতুন সত্য ধর্মের জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠেছিল।
আরবগণ
২২- আমরা আমাদের চিন্তাধারা নিয়ে বিশ্বের নিকট ও দূর প্রাচ্য থেকে শুরু করে নিকট, মধ্য ও সুদূর প্রাচ্য পর্যন্ত পরিভ্রমণ করেছি, কিন্তু আরব ভূখণ্ড নিয়ে আলোচনা করিনি। আমরা মনে করি যে এটিই হলো কেন্দ্রবিন্দু এবং এটিই হলো সাহিত্যিক চিন্তাধারার শিখর। প্রাচীন ও বর্তমান উভয় কালেই ধর্মীয় সত্যসমূহ এখানেই আশ্রয় গ্রহণ করে। এখান থেকেই নবীগণের কণ্ঠস্বর উচ্চারিত হয়েছে; প্রথমে এর প্রান্তসীমা থেকে শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তীতে এর কেন্দ্রস্থলে খোদায়ী বার্তার সমাপ্তি ঘটেছিল। নবীদের পিতা ইব্রাহিম আরব দেশে হিজরত করেছিলেন এবং সেখানেই তাঁর সন্তান ইসমাইল জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যিনি ছিলেন প্রথম সুসংবাদ। তাঁর জন্মের পর তিনি আল্লাহর প্রশংসা করেছিলেন এবং এরপর ইসহাক জন্মগ্রহণ করেন। প্রথমজন তাঁর দাসী হাজেরার গর্ভে এবং দ্বিতীয়জন তাঁর স্ত্রী সারাহর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁদের উভয়ের ব্যাপারে বলেছিলেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে বার্ধক্যে ইসমাইল ও ইসহাককে দান করেছেন।
তাঁর সন্তান ইসমাইলের বংশধরের মধ্য থেকেই কুরাইশদের উদ্ভব হয়েছিল, যারা ছিল আরবদের শ্রেষ্ঠ শাখা এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্বের আসনে আসীন ছিল, যা আমরা সম্মানিত কাবা সম্পর্কে আলোচনার সময় ব্যক্ত করব। তাদের কাছেই সবাই আশ্রয় নিত এবং সেই পবিত্র ঘরের দিকেই তারা হজ করতে আসত।
কুরাইশ এবং তাদের অনুসারীরা নবীদের পিতা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) আনীত ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। তারা মূলত একেশ্বরবাদী ছিল এবং আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত করত না। তারা কোনো মূর্তি, পাথর বা প্রাণীর পূজা করত না। নাজরানের খ্রিষ্টান, তাগলিবের খ্রিষ্টান এবং অন্যান্য যারা তাদের কাছে আসত, তারা ছাড়া অন্য কারও মধ্যে কোনো সৃষ্টির প্রভুত্বে বিশ্বাস ছিল না। ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে তাদের সম্পর্ক এবং তাঁর সন্তান ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-এর মাধ্যমে তাঁর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার গৌরব তাদের একত্ববাদকে আরও শক্তিশালী করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের মধ্যে এমন কিছু পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে যার ফলে তাদের অবস্থার পরিবর্তন হয় এবং তাদের আকিদাহ বদলে যায়। এর কারণ ছিল ইসমাইল (আলাইহিস সালাম) এবং তাদের মধ্যবর্তী সুদীর্ঘ সময়ের ব্যবধান, যার ফলে তারা যা জানত তা ভুলে গিয়েছিল।
আরব ভূখণ্ডে পৌত্তলিকতার প্রবেশ:
২৩- তিনটি দিক থেকে আরব মানস এবং আরব চিন্তাধারায় মূর্তিপূজার অনুপ্রবেশ ঘটেছিল:
প্রথমত- প্রাচীন ধর্মগুলোর কিছু অবশিষ্টাংশে পৌত্তলিকতা বিদ্যমান ছিল, যদিও তা দেশে প্রচলিত ছিল না। নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর কওমের মধ্যে মূর্তিপূজা ছিল। বলা হয় যে, তিনি আরব ছিলেন অথবা আরবদের সম্বোধন করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাদের মূর্তিপূজার সংবাদ বর্ণনা করে বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وَقالُوا لا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلا سُواعاً وَلا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْراً، وَقَدْ أَضَلُّوا كَثِيراً «1» .
ولا شك أن هذه الأثارة من بقايا الوثنية تبقي، وإن لم تكن سائدة مسيطرة، وإنك لترى أن بعض المتدينين بديانات سماوية يبقى فى نفوسهم بعد اعتناقها بقايا أشربت بها نفوسهم، وتجرى اثارها فى بعض ارائهم، وإذا لم تصل إلى أن تكون رأيا يقنع، فإنها قد تكون تقليدا يتبع.
الثانية من جيرانهم الرومان. فإن الوثنية الرومانية كانت على مقربة من العرب من قبل المسيح ومن بعده، فعدوى العقائد تسرى كعدوى الأمراض، ومن الاختلاط الذى كان بين بعض العرب والرومان فى الاتجار كانت العقائد الدينية تجيء إليهم، وخصوصا أن دولة الرومان كانت أقوى سلطانا من الجماعات العربية، وأن بعض القبائل العربية كانت تخضع لسلطان الروم، كالغساسنة، فإنهم كانوا تحت سلطان الرومان، وكانت لهم تبعية للرومان، ووراء هذه التبعية الاختلاط، ووراء الاختلاط العدوى.
والناحية الثالثة ذكرها ابن إسحاق صاحب السيرة فقال:
«يزعمون أن أول ما كانت عبادة الأحجار في بني إسماعيل أنه كان لا يظعن من مكة ظاعن منهم حين ضاقت والتمسوا الفسيح في البلاد إلا حمل معه حجرا من حجارة الحرم تعظيما للحرم، فحيثما حلوا وضعوه وطافوا به كطوافهم بالكعبة، حتي أدي ذلك إلي أن كانوا يعبدون ما استحسنوه من الحجارة وأعجبهم، حتي خلفت من بعدهم خلوف ونسوا ما كانوا عليه واستبدلوا بدين إبراهيم وإسماعيل غيره، فعبدوا الأوثان، وصاروا أبعد ما كانت عليه الأمم من الضلالات» .
ويذكر الحافظ ابن كثير في تاريخه أن ابن هشام قال: «حدثني أهل العلم أن عمرو بن لحي خرج من مكة إلي الشام، فلما قدم ماب من أرض البلقاء وبها يومئذ العماليق راهم يعبدون الأصنام فقال لهم: ما هذه الأصنام التي أراكم تعبدون؟ قالوا له: هذه أصنام نعبدها، فتمطرنا، ونستنصر بها فتنصرنا. فقال لهم: ألا تعطونني منها صنما، فأسير به إلي أرض العرب فيعبدونه، فأعطوه صنما يقال له هبل، فقدم به مكة ونصبه وأمر الناس بعبادته» .
وعمرو بن لحي هذا كان سيد خزاعة، وكانت لخزاعة سدانة البيت الحرام، فكان لها بهذا سلطان في التوجيه. يعظمون ما تعظمه.
وإن هذا يدل علي مقدار العدوي التي جاءت من الرومان، فما كان في الشام إنما هو من أثر وثنية الرومان، وإن ذلك يؤكد أن وثنية العرب كان للعدوى أثر فيها وإن كان ثمة أسباب قوتها.
ومهما تكن الأسباب فقد توافرت، حتى دخلت الوثنية الأرض العربية، وبين ذرية إبراهيم حاطم الأوثان الذي جعلها جذاذا.
--------------------------------------------
এবং তারা বলেছিল, "তোমরা তোমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করো না এবং তোমরা 'ওয়াদ্দ', 'সুওয়া', 'ইয়াগুস', 'ইয়াউক' ও 'নাসর'কে বর্জন করো না।" আর তারা অনেককেই বিভ্রান্ত করেছিল (১)।
নিঃসন্দেহে মূর্তিপূজার এই রেশ বা অবশিষ্টাংশ টিকে থাকে, যদিও তা সর্বত্র বিজয়ী বা প্রভাবশালী না হয়। আপনি দেখবেন যে, আসমানি ধর্মের অনুসারীদের কারো কারো মনে তা গ্রহণের পরও পূর্বের কিছু অবশিষ্টাংশ থেকে যায় যা তাদের অন্তরে গেঁথে গিয়েছিল এবং তাদের কিছু মতামতের মধ্যে এর প্রভাব প্রকাশ পায়। আর যদি তা কোনো সন্তোষজনক মত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নাও হয়, তবে তা এমন এক প্রথা হিসেবে থেকে যেতে পারে যা অনুসরণ করা হয়।
দ্বিতীয় কারণটি হলো তাদের প্রতিবেশী রোমানদের থেকে। কেননা রোমান মূর্তিপূজা খ্রিষ্টের জন্মের পূর্বে এবং পরে আরবদের সন্নিকটেই ছিল। আর আকিদাহ বা বিশ্বাসের সংক্রমণ ব্যাধির সংক্রমণের মতোই ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আরব ও রোমানদের মধ্যে যে মেলামেশা ছিল, তার মাধ্যমে ধর্মীয় বিশ্বাসগুলো তাদের কাছে আসতে থাকে। বিশেষ করে রোমান রাষ্ট্র ছিল আরব গোষ্ঠীগুলোর তুলনায় অধিক শক্তিশালী। কিছু আরব গোত্র রোমানদের কর্তৃত্বের অধীন ছিল, যেমন গাসসানিরা; তারা রোমানদের শাসনের অধীনে ছিল এবং তাদের প্রতি আনুগত্য পোষণ করত। আর এই আনুগত্যের পেছনে ছিল মেলামেশা, আর মেলামেশার পেছনে ছিল সংক্রমণের প্রভাব।
তৃতীয় দিকটি সীরাত বিশেষজ্ঞ ইবনে ইসহাক উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন:
«তারা ধারণা করে যে, বনী ইসমাইলের মধ্যে পাথর পূজার সূচনা হয়েছিল এভাবে যে, যখন মক্কা জনাকীর্ণ হয়ে পড়ল এবং তারা প্রশস্ত ভূমির সন্ধানে মক্কা ত্যাগ করতে শুরু করল, তখন তাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তিই বের হতো, সে হারামের প্রতি সম্মান প্রদর্শনস্বরূপ হারামের একটি পাথর সঙ্গে নিয়ে যেত। যেখানেই তারা অবস্থান করত, সেই পাথরটি সেখানে স্থাপন করত এবং কাবার তওয়াফের মতো তা তওয়াফ করত। শেষ পর্যন্ত এটি তাদের এমন স্তরে নিয়ে গেল যে, তারা যেসব পাথরকে সুন্দর মনে করত এবং পছন্দ করত, সেগুলোরই ইবাদত করতে শুরু করল। পরবর্তীতে তাদের পরবর্তী প্রজন্ম এলো এবং তারা তাদের পূর্বসূরিদের আদর্শ ভুলে গেল এবং ইব্রাহিম ও ইসমাইল (আলাইহিমাস সালাম)-এর ধর্মের পরিবর্তে অন্য ধর্ম গ্রহণ করল। ফলে তারা মূর্তিপূজা শুরু করল এবং পথভ্রষ্টতার ক্ষেত্রে অন্যান্য জাতির চেয়েও অনেক দূরে চলে গেল»।
হাফিজ ইবনে কাসির তাঁর ইতিহাসে উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে হিশাম বলেছেন: «জ্ঞানীরা আমাকে বলেছেন যে, আমর ইবনে লুহাই মক্কা থেকে শামে (সিরিয়া) গিয়েছিলেন। যখন তিনি বালকা অঞ্চলের মআবে পৌঁছালেন—সেখানে তখন আমালেক সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল—তিনি তাদের মূর্তিপূজা করতে দেখলেন। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন: এই মূর্তিগুলো কী, যেগুলোকে আমি তোমাদের ইবাদত করতে দেখছি? তারা বলল: এগুলো এমন মূর্তি যাদের আমরা ইবাদত করি, ফলে তারা আমাদের জন্য বৃষ্টি বর্ষণ করে এবং আমরা তাদের কাছে সাহায্য চাইলে তারা আমাদের সাহায্য করে। তিনি তাদের বললেন: তোমরা কি আমাকে এগুলোর মধ্য থেকে একটি মূর্তি দেবে, যাতে আমি তা আরব দেশে নিয়ে যেতে পারি এবং তারা তার ইবাদত করতে পারে? তখন তারা তাকে 'হুবাল' নামক একটি মূর্তি দিল। তিনি তা নিয়ে মক্কায় এলেন এবং তা স্থাপন করে মানুষকে সেটির ইবাদত করার নির্দেশ দিলেন»।
এই আমর ইবনে লুহাই ছিলেন খুজাআ গোত্রের নেতা। আর বাইতুল হারামের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল খুজাআ গোত্রের কাছে। ফলে জনমত গঠনে তাদের এক ধরনের প্রভাব ছিল। খুজাআ যা সম্মান করত, মানুষও তাকেই সম্মান করত।
এটি রোমানদের কাছ থেকে আসা সংক্রমণের মাত্রাকে নির্দেশ করে। কেননা শামে যা ছিল তা মূলত রোমান মূর্তিপূজারই প্রভাব। এটি নিশ্চিত করে যে, আরবদের মূর্তিপূজার পেছনে সংক্রমণের প্রভাব ছিল, যদিও সেখানে অন্য শক্তিশালী কারণও বিদ্যমান ছিল।
কারণ যাই হোক না কেন, তা একীভূত হয়েছিল, যার ফলে আরব ভূমিতে মূর্তিপূজা প্রবেশ করে, এমনকি মূর্তি চূর্ণকারী ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)—যিনি মূর্তিকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছিলেন—তাঁর বংশধরদের মধ্যেও তা প্রবেশ করল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وقد سيطرت الوثنية على أعمالهم حتى لقد ورد عن أبى رجاء العطاردى أنه قال: «كنا فى الجاهلية إذا لم نجد حجرا جمعنا حثية من التراب فحلبنا عليها ثم طفنا بها» .
لم ينسوا الله فى وثنيتهم:
24- لقد أغرم العرب بعبادة الأوثان إغراما شديدا، حتى صارت جزا من مداركهم وعقولهم، وأصبحوا يستنصرون بالأحجار، ويظنون أنها تجيب سؤلهم، ولكنهم مع ذلك لم ينسوا الله تعالى خالق هذا الوجود ومنشئه، وكانوا كما قال تعالى عنهم: وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّماواتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ «1» .
وهنا تفترق الوثنية الرومانية واليونانية عن وثنية العرب، إذ أن وثنية العرب فيها إيمان بالله، وإن لم يكن واحدانية، بل كانوا يشركون مع الله تعالى غيره، أما الاخرون فقد كانت نظرية الحلول تسرى فيهم، ولا يجيء فى وثنيتهم ذكر الله تعالى قط.
والسبب الجوهرى فى هذه التفرقة أن الأصل عندهم هو التوحيد، كما تلقوه عن إسماعيل وإبراهيم عليهما السلام، فكان بقية مما وصى به إبراهيم بنيه ويعقوب، كما قال تعالى فى كتابه الكريم وَوَصَّى بِها إِبْراهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يا بَنِيَّ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفى لَكُمُ الدِّينَ، فَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ «2» .
الأمر الثانى- هو احترام الكعبة والبيت الحرام، وهو ما ورثوه عن إبراهيم عليه السلام، فقد كانوا مع وثنيتهم فيهم بقايا من عهد إبراهيم من تعظيم البيت والطواف والحج والعمرة والوقوف على عرفات والمزدلفة وهدى البدن، والإهلال بالحج والعمرة مع إدخالهم فيه ما ليس منه، ويقول ابن إسحاق فى سيرته: كانت كنانة قريش إذا أهلوا قالوا: لبيك اللهم لبيك لا شريك لك، إلا شريكا هو لك، تملكه وما ملك. فيواحدونه بالتلبية، ثم يدخلون معه أصنامهم، ويجعلون ملكها بيده، ويقول تعالى لمحمد وَما يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ. «3»
ومن أجل أن العرب كانوا يحاولون الجمع بين إيمانهم بالله تعالى وإيمانهم بالأوثان نقول أن إيمانهم بالأوثان لم يكن قويا مستغرقا كما ال إليه أمرها عند الرومان، وخصوصا قبل البعث المحمدي، كما أن إيمانهم بالله تعالى لم يكن صحيحا، لأن الإيمان بالله لا يتحقق إلا إذا كان المؤمن يؤمن بواحدانيته لا يشرك به أحدا فى ذاته ولا فى الخلق والتكوين، ولا فى العبادة، فلا عبادة إلا لله تعالى واحده.
--------------------------------------------
মূর্তিপূজা তাদের কার্যাবলীর ওপর এমনভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল যে, আবু রাজা আল-আতারিদী থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমরা জাহেলি যুগে যখন কোনো পাথর পেতাম না, তখন এক মুঠো মাটি একত্রিত করতাম, তারপর তার ওপর দুধ দোহন করতাম এবং এরপর তাকে কেন্দ্র করে তাওয়াফ করতাম।"
তাদের মূর্তিপূজার মধ্যেও তারা আল্লাহকে ভুলে যায়নি:
২৪- আরবগণ মূর্তিপূজায় অত্যন্ত গভীরভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছিল, এমনকি এটি তাদের উপলব্ধি ও বিবেকের অংশে পরিণত হয়েছিল। তারা পাথরের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতে শুরু করেছিল এবং ধারণা করত যে সেগুলো তাদের প্রার্থনা কবুল করে। তবে তা সত্ত্বেও তারা এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা ও প্রবর্তক মহান আল্লাহকে ভুলে যায়নি। তারা তেমনই ছিল যেমনটি মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বলেছেন: "আর যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন? তবে তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ।" (১)।
আর এখানেই রোমান ও গ্রীক মূর্তিপূজা থেকে আরবদের মূর্তিপূজার পার্থক্য স্পষ্ট হয়। কারণ আরবদের মূর্তিপূজার মধ্যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ছিল, যদিও তা একত্ববাদ ছিল না, বরং তারা মহান আল্লাহর সাথে অন্যদের অংশীদার করত। অন্যদিকে অন্যদের ক্ষেত্রে 'হুলুল' (সৃষ্টবস্তুর মধ্যে স্রষ্টার অনুপ্রবেশ) তত্ত্ব কার্যকর ছিল এবং তাদের মূর্তিপূজায় মহান আল্লাহর কোনো উল্লেখই আসত না।
এই পার্থক্যের মৌলিক কারণ হলো, তাদের মূল ভিত্তি ছিল তাওহীদ বা একত্ববাদ, যা তারা ইসমাইল ও ইব্রাহিম (আলাইহিমাস সালাম)-এর নিকট থেকে লাভ করেছিল। ফলে এটি ছিল ইব্রাহিম কর্তৃক তাঁর সন্তানদের এবং ইয়াকুব কর্তৃক তাঁর সন্তানদের করা সেই ওসিয়তের অবশিষ্টাংশ, যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র গ্রন্থে বলেছেন: "আর ইব্রাহিম তার সন্তানদেরকে এর নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং ইয়াকুবও (একই নির্দেশ দিয়েছিলেন যে), হে আমার সন্তানেরা, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দ্বীনকে মনোনীত করেছেন। সুতরাং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।" (২)।
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো— কাবা ও বাইতুল হারামের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, যা তারা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছিল। মূর্তিপূজা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর যুগের কিছু অবশিষ্টাংশ ছিল, যেমন: কাবা ঘরের সম্মান করা, তাওয়াফ, হজ ও উমরাহ পালন, আরাফাত ও মুজদালিফায় অবস্থান, উট কোরবানি করা এবং হজের জন্য তালবিয়া পাঠ করা। যদিও তারা এর মধ্যে এমন কিছু প্রবেশ করিয়েছিল যা হজের অংশ নয়। ইবনে ইসহাক তাঁর সিরাত গ্রন্থে বলেন: কুরাইশ ও কিনানা গোত্র যখন ইহরাম বাঁধত, তখন বলত: "আমি হাজির হে আল্লাহ, আমি হাজির। আপনার কোনো শরিক নেই, তবে এমন এক শরিক ছাড়া যে আপনারই; আপনি তার মালিক এবং সে যার মালিক তারও আপনি মালিক।" এভাবে তারা তালবিয়াতে তাঁকে এক হিসেবে স্বীকার করত, কিন্তু এরপর তাঁর সাথে তাদের মূর্তিসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করত এবং সেগুলোর মালিকানা তাঁর হাতে ন্যস্ত করত। আর মহান আল্লাহ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি বলেন: "তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না; তবে তারা শিরককারী।" (৩)
আরবগণ মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এবং মূর্তির প্রতি বিশ্বাসের মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করত বলেই আমরা বলি যে, মূর্তির প্রতি তাদের বিশ্বাস রোমানদের মতো অতোটা প্রবল ও সর্বগ্রাসী ছিল না, বিশেষ করে মুহাম্মাদী নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে। আবার মহান আল্লাহর প্রতি তাদের বিশ্বাসও সঠিক ছিল না। কারণ আল্লাহর প্রতি ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হয় না, যতক্ষণ না মুমিন তাঁর একত্ববাদে বিশ্বাস করে এবং তাঁর সত্তায়, সৃষ্টি ও নির্মাণে এবং ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক না করে। সুতরাং ইবাদত একমাত্র মহান আল্লাহর জন্যই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ولكن الذى يدل عليه الجمع بين الإيمان بالله تعالي، والإيمان بالأوثان هو أن اعتقادهم فى الأوثان لم يكن قويا مكينا، بل هو اضطراب فى الاعتقاد، ولا استقرار فيه، بحيث تستقر النفس وتطمئن، وكيف يستقر عقل، يجمع قبضة من التراب أو يقتطع قطعة من الحجر يجعله معبوده، ويعبده أطراف النهار وزلفا من الليل، وهو مع ذلك يجزم بأنه ليس بخالق، ولكنه مخلوق.
وإذا كانت الوثنية قد ضعفت فى اخر أمرها قوة الأوثان، فإن أوثان العرب خلقت فكرتها ضعيفة يوجد ما ينازعها، أو يجعلها قلقة غير مستقرة إذ هى فى نفسها تحمل عوامل ضعفها وردها، ولكنه التقليد الأعمي، الذى سد مسالك الإدراك على العقل.
القلوب فارغة من إيمان:
25- إن الذى ذكرناه أن القلوب والعقول كانت فارغة تحتاج إلى ما يملؤها ويسد فراغها، ولا يتركها شاغرة فى شرق الأرض وغربها، يستوى فى ذلك قاصى الأرض ودانيها، فالشرق الأقصى كما يعبر رجال السياسة لم يكن فيه إيمان بشيء، وقد كانت الأوهام هى التى تسيطر، والأوهام وإن استحكمت فى نفوس من تسيطر عليهم غير صالحة للبقاء، إنما الذى يصلح للبقاء مما يسيطر على النفوس هو ما يكون متفقا مع حكم العقل، والتفكير السليم. والأوهام وإن قويت لا تستطيع مقاومة العقل، ومثل الأوهام كمثل الضباب يبدده ضوء الشمس، فكذلك العقل يبدد ضباب الأوهام، ويشكف عن المدارك غمتها.
والهنود تسيطر عليهم أوهام أشد، وظلم اجتماعى غير صالح للبقاء، والفرس ظهر عندهم مذاهب هدامة تهدم الإنسانية. فتجتثها من جذورها أو تهدم أخلاقها التى يتماسك بها احادها.
والرومان وما كان تحت ظلهم قد فقدوا الإيمان، فاستبدلوا بالوثنية النصرانية التى ابتدعوها، ولكن لم يثبت بها إيمان إلى القرن السادس.
وليس فقد الإيمان كان خاصا بالعقيدة فيما وراء الطبيعة، بل كان مفقودا فى القيم الإنسانية الخلقية كما هو مفقود فى العبادة والألوهية، فلم يكن ثمة خلق إنسانى سليم، بل كان كل شعب ينظر إلى الاخر نظرة العداء، وأصبح التفكير الخلقى مقصورا على معاملة أبناء الوطن الواحد، لا أبناء الإنسانية عامة. وعم ذلك ولم يخص، حتى كان الفلاسفة لا يؤمنون بحق الشعوب، فأفلاطون قد كان يعتبر ما عدا اليونان من الناس برابرة، وكل من يبعد عن وطنه فرسخا أو دونه يسترقه من يلقفه من غيره، وقد وقع الرق على أفلاطون نفسه، حتى افتدى، وهكذا قد فقد الإيمان بالقيم الإنسانية كما فقد الإيمان بالألوهية.
কিন্তু আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমান এবং মূর্তিপূজার সমন্বয় যা নির্দেশ করে তা হলো, মূর্তিদের প্রতি তাদের বিশ্বাস সুদৃঢ় ও মজবুত ছিল না, বরং তা ছিল বিশ্বাসের অস্থিরতা। এতে এমন কোনো স্থিরতা ছিল না যার মাধ্যমে আত্মা প্রশান্তি পায়। সেই বুদ্ধি কীভাবে স্থির থাকতে পারে, যা এক মুঠো মাটি সংগ্রহ করে বা পাথরের টুকরো কেটে তাকে উপাস্য বানায় এবং দিনের প্রান্তভাগ ও রাতের প্রথমাংশে তার উপাসনা করে, অথচ সে নিশ্চিত জানে যে এটি স্রষ্টা নয় বরং সৃষ্টি।
মূর্তিপূজার শেষ পর্যায়ে যদি মূর্তিদের শক্তি দুর্বল হয়ে থাকে, তবে আরবদের মূর্তিপূজার ধারণাটিই দুর্বলভাবে সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে এমন বিষয় বিদ্যমান ছিল যা একে বিতর্কিত করত অথবা একে অস্থির ও অস্থিতিশীল করে তুলত। কেননা তা নিজ সত্তাতেই নিজের দুর্বলতা ও প্রত্যাখ্যানের উপাদানসমূহ বহন করত। কিন্তু এটি ছিল অন্ধ অনুকরণ, যা বুদ্ধির উপলব্ধির পথগুলোকে রুদ্ধ করে দিয়েছিল।
অন্তরসমূহ ঈমানশূন্য:
২৫- আমরা যা উল্লেখ করেছি তা হলো, অন্তর ও মস্তিষ্ক ছিল রিক্ত, যা পূর্ণ করার জন্য এবং এর শূন্যতা পূরণের জন্য এমন কিছুর প্রয়োজন ছিল যা একে পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত কোথাও আর শূন্য রাখবে না। এক্ষেত্রে পৃথিবীর দূর ও নিকটবর্তী স্থানসমূহ সমান ছিল। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা যাকে দূরপ্রাচ্য বলে অভিহিত করেন, সেখানে কোনো কিছুর প্রতিই ঈমান ছিল না। সেখানে কেবল কুসংস্কার ও বিভ্রমেরই আধিপত্য ছিল। আর বিভ্রম বা অমূলক ধারণা যাদের ওপর কর্তৃত্ব করে তাদের হৃদয়ে তা গেঁথে থাকলেও তা টিকে থাকার উপযুক্ত নয়। মানুষের হৃদয়ে যা আধিপত্য বিস্তার করে, তার মধ্যে কেবল সেটিই টিকে থাকার যোগ্য যা বিচারবুদ্ধি এবং সুস্থ চিন্তার সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। কুসংস্কার বা বিভ্রম যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তা বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তির মোকাবিলা করতে পারে না। কুসংস্কারের উদাহরণ কুয়াশার মতো যা সূর্যের আলোতে দূরীভূত হয়; তেমনি বুদ্ধিও কুসংস্কারের কুয়াশা দূর করে এবং বোধশক্তির ওপর থেকে অন্ধকারের পর্দা উন্মোচন করে।
আর ভারতীয়দের ওপর আরও চরম কুসংস্কার এবং সামাজিক অবিচার জেঁকে বসেছিল যা টিকে থাকার অযোগ্য ছিল। পারসিকদের মধ্যে এমন সব ধ্বংসাত্মক মতবাদের উদ্ভব ঘটেছিল যা মানবতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছিল। ফলে তা হয় একে এর মূল থেকে উৎপাটন করছিল অথবা এর নৈতিকতাকে ধ্বংস করছিল যার মাধ্যমে এর ব্যক্তিবর্গ সংহতি বজায় রাখত।
আর রোমান এবং তাদের প্রভাবাধীন অঞ্চলসমূহ ঈমান হারিয়ে ফেলেছিল। তারা মূর্তিপূজার পরিবর্তে তাদের উদ্ভাবিত খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিল, কিন্তু ষষ্ঠ শতাব্দী পর্যন্ত তাতে কোনো ঈমান স্থির হয়নি।
ঈমানের এই অভাব কেবল অতীন্দ্রিয় বা আধিভৌতিক বিশ্বাসের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ইবাদত ও উলুহিয়্যাতের মতো মানবিক নৈতিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রেও অনুপস্থিত ছিল। সেখানে সুস্থ কোনো মানবিক চরিত্র ছিল না, বরং প্রতিটি জাতি অন্যকে শত্রুর নজরে দেখত। নৈতিক চিন্তা কেবল নিজ স্বদেশবাসীদের সাথে আচরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল, সাধারণ মানবতার ক্ষেত্রে নয়। এটি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল এবং কোনো বিশেষ স্থানে সীমাবদ্ধ ছিল না, এমনকি দার্শনিকগণও জাতিসমূহের অধিকারে বিশ্বাস করতেন না। প্লেটো গ্রিক ব্যতীত অন্য সকল মানুষকে বর্বর মনে করতেন। নিজ মাতৃভূমি থেকে এক ফারসাখ বা তার কম দূরত্বে অবস্থানকারী যে কাউকে যে কেউ পাকড়াও করে দাসে পরিণত করতে পারত। এমনকি স্বয়ং প্লেটোও দাসত্বের শিকার হয়েছিলেন এবং পরে মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত হন। এভাবেই উলুহিয়্যাত বা ঈশ্বরত্বের প্রতি বিশ্বাসের মতো মানবিক মূল্যবোধের প্রতি বিশ্বাসও হারিয়ে গিয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فكانت أماكن الإيمان شاغرة من القلوب، فلابد أن يكون من يملؤها، لابد من محمد رسول الله رب العالمين، ولابد أن يقوم فى وسط الأرض يدعو أهل الأرض فى ال
أرض النبوة الأولي.
أرض النبوة الأولى
26- قرأت لبعض كتاب الفرنجة كلاما يتحدث فيه عن أورشليم وبيت المقدس، يقول فيه إن أورشليم وما حولها البقعة المباركة كانت مدرسة الأنبياء، ففى وسطها تربى الأنبياء، وعلت أصواتهم بالرسالة، وأنه لا مدرسة للنبوة غير هذه المدرسة، ففيها ظهر داود وسليمان وعيسي، وهى التى أرادها موسي، ودعا بنى إسرائيل لأن يدخلوها، فقالوا إِنَّ فِيها قَوْماً جَبَّارِينَ وَإِنَّا لَنْ نَدْخُلَها حَتَّى يَخْرُجُوا مِنْها «1» .
وذلك القول فيه حق، وفيه باطل، أما الحق فهو ما ينبيء عنه من مكانة أورشليم التى بها المسجد الأقصى مسرى النبي، وثالث المساجد التى تشد إليها الرحال، والتى كان منها المعراج، والقبلة الأولى للإسلام، وهى بهذا وبغيره سميت فى القران الكريم والمصادر الدينية السماوية الأرض المقدسة.
أما الباطل فى كلام ذلك الكاتب فهو:
أولا- فى قصره النبوة على أورشليم وما حولها، فإن القصر ليس بسليم، فإنه ما من أمة إلا خلا فيها نذير، وبعد أن قص الله تعالى قصص عدد من الأنبياء قال تعالى فى كتابه الكريم: مِنْهُمْ مَنْ قَصَصْنا عَلَيْكَ، وَمِنْهُمْ مَنْ لَمْ نَقْصُصْ عَلَيْكَ «2» وإننا لا نذهب بعيدا عن أورشليم فإنه بجوارها الجزيرة العربية وأطرافها كان فيها الأنبياء أصحاب الرسالات التى جاءت بها كتب سماوية وذكرتها التوراة والقران، مما سنذكره فى هذا الموضوع قريبا إن شاء الله تعالي.
ثانيا- لأنه فهم أن للنبوة مدرسة يتربى فيها الأنبياء، وذلك باطل لأن النبوة رسالة من الله تعالى لخلقه، لا تكون بمدرسة يتخرج فيها الأنبياء، ولكن تكون بوحى من الله تعالي، وتكليف منه سبحانه وتعالي، سواء أكان ذلك الوحى بخطاب أوحى به إليه، أو بكلام الله تعالى من وراء حجاب، كما كان الشأن بالنسبة لموسى عليه السلام، أو برسول من الملائكة ينقل عن الله تعالى لمن اصطفاه من خلقه نبيا أو رسولا، فاعتبار أورشليم مدرسة للنبوة كلام ليس دينيا وليس علميا، ولا يتفق مع تاريخ الأنبياء المرسلين عليهم الصلاة والسلام.
27- وإذا سأل سائل: لماذا بعث محمد صلى الله عليه وسلم فى الجزيرة العربية وفى الحجاز منها، ولم يبعث فى أورشليم كما بعث داود وسليمان وعيسى عليهم الصلاة والسلام؟
--------------------------------------------
ঈমানের স্থানসমূহ অন্তর থেকে শূন্য ছিল, তাই এমন কারো প্রয়োজন ছিল যিনি তা পূর্ণ করবেন। বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগমনের আবশ্যকতা ছিল, এবং পৃথিবীর কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর অধিবাসীদেরকে
প্রথম নবুওয়তের ভূমিতে আহ্বান করার প্রয়োজন ছিল।
প্রথম নবুওয়তের ভূমি
২৬- আমি কিছু পাশ্চাত্য লেখকের লেখায় জেরুজালেম ও বায়তুল মাকদিস সম্পর্কে কিছু বক্তব্য পড়েছি, যেখানে বলা হয়েছে যে, জেরুজালেম ও এর চারপাশের বরকতময় এলাকা ছিল নবীদের পাঠশালা। এর কেন্দ্রে নবীরা লালিত-পালিত হয়েছেন এবং তাঁদের দাওয়াতের আওয়াজ সেখানে উচ্চকিত হয়েছে। আর এই পাঠশালা ছাড়া নবুওয়তের অন্য কোনো পাঠশালা নেই। সেখানেই দাউদ, সুলাইমান ও ঈসা আবির্ভূত হয়েছিলেন। এটিই সেই ভূমি যা মূসা (আলাইহিস সালাম) চেয়েছিলেন এবং বনী ইসরাঈলকে সেখানে প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তারা বলেছিল: ‘সেখানে এক শক্তিশালী জাতি রয়েছে, তারা সেখান থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত আমরা কখনোই সেখানে প্রবেশ করব না’ (১)।
এই বক্তব্যের মধ্যে যেমন সত্যতা রয়েছে, তেমনি ভ্রান্তিও রয়েছে। সত্য হলো সেই অংশ যা জেরুজালেমের মর্যাদাকে ব্যক্ত করে, যেখানে মসজিদে আকসা অবস্থিত—যা নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইসরার স্থান, যে তিনটি মসজিদের উদ্দেশ্যে সফরের প্রস্তুতি নেওয়া হয় তার তৃতীয়টি, যেখান থেকে মিরাজ সংঘটিত হয়েছিল এবং যা ছিল ইসলামের প্রথম কিবলা। এসব কারণে এবং আরও অনেক কারণে পবিত্র কুরআনে ও আসমানী ধর্মীয় উৎসসমূহে একে ‘পবিত্র ভূমি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
আর ঐ লেখকের কথার মধ্যে যে অংশটি ভ্রান্ত তা হলো:
প্রথমত—নবুওয়তকে শুধুমাত্র জেরুজালেম ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সীমাবদ্ধ করে ফেলা। এই সীমাবদ্ধকরণ সঠিক নয়। কারণ এমন কোনো জাতি নেই যাদের নিকট কোনো সতর্ককারী পাঠানো হয়নি। আল্লাহ তাআলা বেশ কয়েকজন নবীর কাহিনী বর্ণনা করার পর তাঁর কিতাবে বলেছেন: ‘তাদের মধ্যে কারো কারো কথা আমি তোমার কাছে বর্ণনা করেছি এবং কারো কারো কথা তোমার কাছে বর্ণনা করিনি’ (২)। আমরা যদি জেরুজালেম থেকে খুব বেশি দূরে নাও যাই, তবে এর নিকটবর্তী আরব উপদ্বীপ ও এর প্রান্তসীমায় এমন নবীদের আগমন ঘটেছিল যারা এমন সব রিসালাতের বাহক ছিলেন যা আসমানী কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে এবং তাওরাত ও কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে; এ সম্পর্কে আমরা শীঘ্রই ইনশাআল্লাহ আলোচনা করব।
দ্বিতীয়ত—কারণ তিনি মনে করেছেন যে নবুওয়তের জন্য কোনো পাঠশালা আছে যেখানে নবীরা লালিত-পালিত হন। এটি ভুল, কারণ নবুওয়ত হলো সৃষ্টির প্রতি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রেরিত বার্তা। এটি কোনো পাঠশালার মাধ্যমে অর্জিত হয় না যেখানে নবীরা শিক্ষা গ্রহণ করে বের হন। বরং এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওহী এবং তাঁর পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্বের মাধ্যমে হয়ে থাকে। চাই সেই ওহী সরাসরি ভাষণের মাধ্যমে হোক, অথবা পর্দার অন্তরাল থেকে আল্লাহ তাআলার কালামের মাধ্যমে হোক—যেমনটি মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর ক্ষেত্রে হয়েছিল, অথবা ফেরেশতাদের মধ্য থেকে কোনো দূতের মাধ্যমে হোক যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীত নবী বা রাসূলের কাছে বার্তা পৌঁছে দেন। সুতরাং জেরুজালেমকে ‘নবুওয়তের পাঠশালা’ হিসেবে গণ্য করা কোনো ধর্মীয় বা বৈজ্ঞানিক কথা নয় এবং এটি প্রেরিত নবী ও রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) ইতিহাসের সাথেও সংগতিপূর্ণ নয়।
২৭- এখন যদি কেউ প্রশ্ন করে: কেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আরব উপদ্বীপে, বিশেষ করে হিজাজে পাঠানো হলো, কেন তাঁকে জেরুজালেমে পাঠানো হলো না, যেমনিভাবে দাউদ, সুলাইমান ও ঈসা (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম)-কে সেখানে পাঠানো হয়েছিল?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
نقول فى الجواب عن ذلك: إن أكثر الأنبياء وخصوصا أصحاب الرسالات كموسى وإبراهيم ونوح وإسماعيل وإسحاق لم ينشئوا بأورشليم كما توهم ذلك الكاتب الفرنجى الذى لم يعرف معنى الرسالة والرسل، ولم تكن الجزيرة العربية خالية، بل هى كانت مبتعث الأنبياء أصحاب الرسالات من القديم، والذين كانوا فى أورشليم إن استثنينا عيسى عليه السلام وداود وسليمان لم يكونوا أصحاب كتب يعمل بها أقوامهم وإنما كان يعمل أكثرهم بكتب نزلت على غيرهم، وأكثرهم كان يعمل على إقامة توراة موسي.
أما الرسل الذين جاؤا فى الجزيرة العربية فقد كانوا أصحاب رسالات، ينفذونها بأنفسهم، ولم يكن عملهم مقصورا على بيان الرسالات لمن سبقوهم، ولقد بين الله واحدة الرسالة الإلهية التى اختلفت كتبها، ولم يختلف معناها، فذكرها فى قوله تعالى شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ ما وَصَّى بِهِ نُوحاً، وَالَّذِي أَوْحَيْنا إِلَيْكَ، وَما وَصَّيْنا بِهِ إِبْراهِيمَ وَمُوسى وَعِيسى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ، كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ ما تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ، اللَّهُ يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَنْ يَشاءُ «1» .
وأولئك هم أولو العزم من الرسل، ولم ينشأ فى أورشليم منهم إلا عيسى عليه السلام، والاخرون كانوا تابعين من البلاد العربية، أو مما حولها من أرض كنعان، أو من أطراف الجزيرة كأرض سيناء.
فالبلاد العربية هى موطن الرسالات الأولي، بها ابتدأت الرسائل الإلهية، وبها ختمت، فلم يكن غريبا أن يبعث محمد صلى الله عليه وسلم فى تلك البلاد، وينبثق نوره فى الافاق من أهل المدر، وأهل الوبر فيها.
هذا إجمال نعرج إليه ببعض التفصيل:
إدريس عربى:
28- إن الحقيقة أن البلاد العربية كانت مهد النبوة، فإدريس عليه السلام الذى رفعه الله تعالى مكانا عليا، والذى تقول الأخبار، أنه كان فى البطن الثالث لادم أبى الخليقة، قالوا أنه كان عربيا وفى أرض العرب، وليس لدينا دليل يجعلنا نؤمن بأنه البطن الثالث لادم، ولذلك نطرح القول فى ذلك غير مكاذبين ولا مصادقين، ولا نحسب أنه من أساطير الأولين.
وإنما الذى نتمسك به هو أنه صديق من الأنبياء الذين وصفهم الله تعالى بذلك الوصف الكريم.
فقد قال تعالى: وَاذْكُرْ فِي الْكِتابِ إِدْرِيسَ إِنَّهُ كانَ صِدِّيقاً نَبِيًّا. وَرَفَعْناهُ مَكاناً عَلِيًّا «2» ، فهو صديق، وهو رفيع المكانة عند الله تعالي، لأنه سبحانه رفعه مكانا عليا.
ويغلب على الظن أنه لم تكن نشأته بأورشليم، لأن أورشليم أنشأها يعقوب بن إسحاق عليهما الصلاة وأتم التسليم.
--------------------------------------------
এর উত্তরে আমরা বলি: অধিকাংশ নবী, বিশেষত শরীয়তপ্রাপ্ত রাসুলগণ যেমন মুসা, ইবরাহিম, নূহ, ইসমাইল এবং ইসহাক জেরুজালেমে বেড়ে ওঠেননি, যেমনটি সেই ইউরোপীয় লেখক ধারণা করেছেন যিনি রিসালাত এবং রাসুলের প্রকৃত অর্থ বোঝেননি। আরব উপদ্বীপ জনশূন্য ছিল না, বরং প্রাচীনকাল থেকেই এটি ছিল শরীয়তপ্রাপ্ত রাসুলদের প্রেরণের স্থল। ঈসা আলাইহিস সালাম, দাউদ ও সুলাইমানকে বাদ দিলে যারা জেরুজালেমে ছিলেন, তারা এমন কোনো কিতাবধারী ছিলেন না যা তাদের সম্প্রদায় অনুসরণ করত; বরং তাদের অধিকাংশই পূর্ববর্তীদের ওপর নাযিলকৃত কিতাব অনুযায়ী আমল করতেন এবং তাদের বেশিরভাগই মুসার তাওরাত কায়েমের জন্য কাজ করতেন।
আর যেসকল রাসুল আরব উপদ্বীপে এসেছিলেন, তারা ছিলেন স্বতন্ত্র শরীয়তের অধিকারী, যা তারা নিজেরাই বাস্তবায়ন করতেন। তাদের কাজ কেবল পূর্ববর্তীদের শরীয়ত বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আল্লাহ তাআলা সেই এক ঐশী দ্বীনকে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যার কিতাবগুলো ভিন্ন হলেও মর্মার্থ এক। আল্লাহ তাআলা তা উল্লেখ করে বলেন, "তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন নূহকে এবং যা আমি আপনার প্রতি ওহি করেছি এবং যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইবরাহিম, মুসা ও ঈসাকে এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীন কায়েম করো এবং তাতে মতভেদ করো না। আপনি মুশরিকদের যেদিকে দাওয়াত দিচ্ছেন তা তাদের কাছে গুরুভার মনে হয়। আল্লাহ যাকে চান নিজের দিকে মনোনীত করেন।" (১)।
আর তারাই হলেন উলুল আযম (দৃঢ়সংকল্পধারী) রাসুলগণ। তাদের মধ্যে ঈসা আলাইহিস সালাম ব্যতীত আর কেউ জেরুজালেমে বেড়ে ওঠেননি। অন্যেরা ছিলেন আরব ভূখণ্ড অথবা এর আশপাশের কানআন ভূমি কিংবা আরব উপদ্বীপের প্রান্তভাগ যেমন সিনাই অঞ্চলের।
সুতরাং আরব ভূখণ্ডই হলো আদি শরীয়তসমূহের আবাসস্থল, এখান থেকেই ঐশী বাণীর সূচনা হয়েছিল এবং এখানেই তার সমাপ্তি ঘটেছে। তাই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই জনপদে প্রেরিত হওয়া এবং তাঁর নূর দিগন্তের শহরবাসী ও পল্লীবাসীদের মধ্যে বিচ্ছুরিত হওয়া কোনো বিস্ময়কর বিষয় ছিল না।
এটি একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ, যা আমরা কিছুটা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করছি:
ইদ্রিস একজন আরব:
২৮- প্রকৃত সত্য হলো, আরব ভূখণ্ডই ছিল নবুওয়াতের দোলনা। ইদ্রিস আলাইহিস সালাম, যাকে আল্লাহ তাআলা উচ্চ আসনে উন্নীত করেছেন এবং বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী যিনি ছিলেন মানবজাতির আদি পিতা আদমের তৃতীয় বংশধর, তাঁকে তারা আরবীয় এবং আরব ভূখণ্ডের অধিবাসী বলে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি আদমের তৃতীয় বংশধর—এটি বিশ্বাস করার মতো কোনো অকাট্য দলিল আমাদের কাছে নেই। তাই আমরা এই বক্তব্যকে অস্বীকার বা সমর্থন না করে কেবল উপস্থাপন করছি, এবং আমরা মনে করি না যে এটি প্রাচীনদের রূপকথা।
বরং আমরা যা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি তা হলো, তিনি সেই নবীগণের অন্তর্ভুক্ত একজন সত্যনিষ্ঠ (সিদ্দিক) ব্যক্তি যাদেরকে আল্লাহ তাআলা এই মহৎ উপাধিতে ভূষিত করেছেন।
মহান আল্লাহ বলেছেন: "এবং এই কিতাবে ইদ্রিসের কথা স্মরণ করুন, তিনি ছিলেন একজন সত্যনিষ্ঠ নবী। এবং আমি তাঁকে উচ্চ স্থানে উন্নীত করেছিলাম।" (২)। সুতরাং তিনি একজন সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং আল্লাহর কাছে উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ, কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁকে উচ্চ স্থানে উঠিয়েছেন।
প্রবল ধারণা এই যে, তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা জেরুজালেমে ছিল না, কারণ জেরুজালেমের পত্তন করেছিলেন ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وقد جاء فى كتاب قصص الأنبياء لأبى الفداء أن إدريس فى سلسلة نسب النبى صلى الله تعالى عليه وسلم، فقد جاء فيه ما نصه:
«إدريس عليه السلام قد أثنى الله تعالى عليه بالنبوة والصديقية وهو فى عمود نسب النبى صلى الله تعالى عليه وسلم» .
ومادام فى عمود نسب النبى صلى الله تعالى عليه وسلم يعد عربيا، ولا يعد من أورشليم، ولا شك أن الحكم فى هذه المسألة الموغلة فى التاريخ لا يعد حكما قاطعا، ولكنه حكم راجح، وأكثر مسائل التاريخ الحكم فيها ظنى لا قطعى.
نوح عربى:
29- تضاربت الروايات عن منشأ نوح عليه السلام أكان ببابل أم كان بالجزيرة العربية، ولكن الثابت أنه من البلاد العربية، وذكروا أن سفينته مرت فى مقابل الكعبة أربعين مرة، ولقد أكد ابن كثير أنه دفن فى البلاد العربية، فقد قال ابن كثير فى قبره: وأما قبره عليه السلام، فروى ابن جرير والأزرق عن عبد الرحمن بن ساباط مرسلا أن قبر نوح بالمسجد الحرام أى بالموضع الذى بنى فيه المسجد الحرام.
ويقول ابن كثير: «وهذا أقوى وأثبت من الذى يذكره كثير من المؤرخين من أنه ببلدة بالبقاع تعرف اليوم (أى فى القرن الثامن الهجري) بكرك نوح، وهناك جامع قد بنى بسبب ذلك» .
والحق أنا نميل إلى أنه طوف بالافاق. فإذا كان منشؤه ببابل، فهو قد اوى إلى بلاد العرب حصن الديانات الأولي، ومنابع النبوة.
هود نبى الله كان عربيا:
30- هود أقدم من إبراهيم عليه السلام، كان من قوم عاد، وكانوا عربا يسكنون بالأحقاف، وكثيرا ما كانوا يسكنون الخيام ذوات الأعمدة الضخام.
ويذكر ابن كثير أنه يقال إن هودا أول من تكلم بالعربية، ويقول ابن كثير.. «وزعم وهب بن منبه أن أباه (أى أبا هود) أول من تكلم بها، وقال غيره: أول من تكلم بها نوح عليه السلام، ويقال للعرب الذين كانوا قبل إسماعيل العرب العاربة، وهم قبائل كثيرة منهم عاد، وثمود وجرهم، وغيرهم، وأما ولد إسماعيل، فيسمون العرب المستعربة.
আবুল ফিদার 'কাসাসুল আম্বিয়া' (নবীদের কাহিনী) গ্রন্থে এসেছে যে, ইদ্রিস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশধারায় রয়েছেন। তাতে নিম্নোক্ত পাঠ্যটি এসেছে:
«মহান আল্লাহ ইদ্রিস আলাইহিস সালামের প্রশংসা নবুওয়াত ও সত্যবাদিতা দ্বারা করেছেন এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশধারার মূলস্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত»।
যেহেতু তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশধারার মূলে রয়েছেন, তাই তাকে আরবীয় হিসেবে গণ্য করা হয়, জেরুজালেমের অধিবাসী হিসেবে নয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইতিহাসের গভীরে প্রোথিত এই বিষয়ের সিদ্ধান্তটি কোনো অকাট্য সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি একটি অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত। আর ইতিহাসের অধিকাংশ বিষয়ের সিদ্ধান্তই হলো ধারণাভিত্তিক, অকাট্য নয়।
নুহ আরবীয়:
২৯- নুহ আলাইহিস সালামের জন্মস্থান নিয়ে বর্ণনাগুলো পরস্পরবিরোধী—তিনি কি বাবেলে ছিলেন নাকি আরব উপদ্বীপে ছিলেন? তবে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, তিনি আরব ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, তার নৌকা কাবার মুখোমুখি হয়ে চল্লিশ বার অতিক্রম করেছিল। ইবনে কাসীর দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, তাকে আরব ভূখণ্ডেই দাফন করা হয়েছে। কবরের বিষয়ে ইবনে কাসীর বলেছেন: আর তার কবরের বিষয়ে ইবনে জারীর ও আল-আযরাকী, আবদুর রহমান ইবনে সাবাত থেকে মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, নুহ আলাইহিস সালামের কবর মসজিদে হারামে অর্থাৎ যেখানে মসজিদে হারাম নির্মিত হয়েছে সেই স্থানে অবস্থিত।
ইবনে কাসীর বলেন: «এটি অনেক ঐতিহাসিকের বর্ণনার তুলনায় অধিক শক্তিশালী ও সুপ্রমাণিত, যারা বলেন যে তিনি বেকা অঞ্চলের একটি শহরে দাফনকৃত যা বর্তমানে (অর্থাৎ হিজরি অষ্টম শতাব্দীতে) 'কারাকে নুহ' নামে পরিচিত এবং সেখানে এ কারণে একটি জামে মসজিদ নির্মিত হয়েছে»।
প্রকৃতপক্ষে আমরা এই মতের প্রতি ঝুঁকেছি যে, তিনি বিশ্বজুড়ে পরিভ্রমণ করেছেন। সুতরাং যদি তার জন্মস্থান বাবেলেও হয়ে থাকে, তবুও তিনি আদি ধর্মসমূহের দুর্গ এবং নবুওয়াতের উৎসস্থল আরব ভূখণ্ডে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
আল্লাহর নবী হুদ আরবীয় ছিলেন:
৩০- হুদ আলাইহিস সালাম ইবরাহিম আলাইহিস সালামের পূর্ববর্তী ছিলেন। তিনি আদ জাতির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তারা ছিল আরব যারা আহকাফ অঞ্চলে বসবাস করত। তারা প্রায়ই বিশাল স্তম্ভবিশিষ্ট তাঁবুতে বসবাস করত।
ইবনে কাসীর উল্লেখ করেছেন যে, বলা হয়ে থাকে হুদই সর্বপ্রথম আরবি ভাষায় কথা বলেছিলেন। ইবনে কাসীর বলেন.. «ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ দাবি করেছেন যে, তার পিতা (অর্থাৎ হুদের পিতা) সর্বপ্রথম আরবিতে কথা বলেছিলেন। অন্যরা বলেছেন: সর্বপ্রথম আরবিতে কথা বলেছেন নুহ আলাইহিস সালাম। আর ইসমাইল আলাইহিস সালামের পূর্ববর্তী আরবদের 'আরবে আরিবা' (বিশুদ্ধ আরব) বলা হয়, তারা অনেকগুলো গোত্র ছিল যাদের মধ্যে আদ, সামুদ, জুরহুম ও অন্যান্যরা অন্তর্ভুক্ত। আর ইসমাইল আলাইহিস সালামের বংশধরদের 'আরবে মুসতারিবা' (আরবীয়করণকৃত আরব) বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
খাতামুন নাবীয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وقد قالوا إن هودا كان أول نبى بعد نوح عليه السلام، وربما يوميء إلى ذلك ما حكاه الله تعالى فى خطابه لقومه: وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفاءَ مِنْ بَعْدِ قَوْمِ نُوحٍ وَزادَكُمْ فِي الْخَلْقِ بَصْطَةً، فَاذْكُرُوا آلاءَ اللَّهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ. قالُوا أَجِئْتَنا لِنَعْبُدَ اللَّهَ وَحْدَهُ، وَنَذَرَ ما كانَ يَعْبُدُ آباؤُنا فَأْتِنا بِما تَعِدُنا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ «1» .
ونرى من هذا النص أنه يوميء إلى أن هودا جاء من بعد نوح، وأن قومه كانوا خلفاء من بعد نوح ثم يؤتى بالإشارة من جهة أخرى أن قوم نوح كانوا فى أرض العرب، كما كان خلفاؤهم، والله أعلم.
وإن عادا كانوا من أقوى قبائل العرب منعة، وأقواها شكيمة، ولكن كانوا أشدها غرورا، كما قال الله تعالى عنهم: فَأَمَّا عادٌ فَاسْتَكْبَرُوا فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ، وَقالُوا مَنْ أَشَدُّ مِنَّا قُوَّةً، أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَهُمْ هُوَ أَشَدُّ مِنْهُمْ قُوَّةً، وَكانُوا بِآياتِنا يَجْحَدُونَ. فَأَرْسَلْنا عَلَيْهِمْ رِيحاً صَرْصَراً فِي أَيَّامٍ نَحِساتٍ لِنُذِيقَهُمْ عَذابَ الْخِزْيِ فِي الْحَياةِ الدُّنْيا، وَلَعَذابُ الْآخِرَةِ أَخْزى وَهُمْ لا يُنْصَرُونَ «2» .
وهكذا نرى هودا عليه السلام يجادل قومه بالحسنى أو التى هى أحسن، وهم يجادلونه بالعنف أو الطغيان حتى أهلكهم الله تعالى بريح صرصر عاتية.
صالح عربى:
31- صالح عليه السلام هو نبى ثمود، وكانوا عربا من العاربة يسكنون الحجر الذى بين الحجاز وتبوك، وقد مر بديارهم رسول الله محمد صلى الله تعالى عليه وسلم وهو ذاهب إلى تبوك فى الغزوة التى قد غزاها.
كان يدعوهم إلى التوحيد، وكانت بينته ناقة لا يمسوها بسوء، وإلا كانوا خاسرين كما قال تعالى حكاية عن سيدنا صالح وقومه: وَإِلى ثَمُودَ أَخاهُمْ صالِحاً، قالَ يا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ ما لَكُمْ مِنْ إِلهٍ غَيْرُهُ، قَدْ جاءَتْكُمْ بَيِّنَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ، هذِهِ ناقَةُ اللَّهِ لَكُمْ آيَةً، فَذَرُوها تَأْكُلْ فِي أَرْضِ اللَّهِ وَلا تَمَسُّوها بِسُوءٍ فَيَأْخُذَكُمْ عَذابٌ أَلِيمٌ «3»
ولقد كان قوم صالح من بعد عاد قوم هود. إذ كانوا خلفاءهم، وكانوا أقوى وأكثر عددا كما قال تعالى: وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفاءَ مِنْ بَعْدِ عادٍ، وَبَوَّأَكُمْ فِي الْأَرْضِ تَتَّخِذُونَ مِنْ سُهُولِها قُصُوراً، وَتَنْحِتُونَ الْجِبالَ بُيُوتاً، فَاذْكُرُوا آلاءَ اللَّهِ وَلا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ «4» .
--------------------------------------------
তারা বলেছেন যে, নূহ আলাইহিস সালামের পরে হূদ ছিলেন প্রথম নবী। সম্ভবত মহান আল্লাহ তাঁর কওমের প্রতি তাঁর ভাষণে যা বর্ণনা করেছেন তা সেই দিকেই ইঙ্গিত করে: "আর স্মরণ করো, যখন তিনি তোমাদেরকে নূহের কওমের পরে স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং সৃষ্টিতে তোমাদের শারীরিক গঠন ও শক্তি বৃদ্ধি করেছেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর নেয়ামতসমূহ স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।" তারা বলল: "তুমি কি আমাদের কাছে এজন্য এসেছ যে, আমরা যেন কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করি এবং আমাদের পিতৃপুরুষরা যার ইবাদত করত তা পরিত্যাগ করি? তবে তুমি আমাদের যে (শাস্তির) ওয়াদা দিচ্ছ তা নিয়ে এসো, যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও।" (১)
আমরা এই পাঠ থেকে দেখতে পাই যে, এটি ইঙ্গিত দেয় যে হূদ নূহের পরে এসেছিলেন, এবং তাঁর কওম নূহের পরে স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল। এরপর অন্য দিক থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে, নূহের কওম আরব ভূমিতে ছিল, যেমনটি ছিল তাদের উত্তরসূরিরাও, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
আর আদ ছিল আরবের গোত্রগুলোর মধ্যে সুরক্ষার দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং স্বভাবের দিক থেকে সবচেয়ে কঠোর, কিন্তু তারা ছিল অত্যন্ত অহংকারী। যেমন মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বলেছেন: "অতঃপর আদ গোত্র, তারা জমিনে অন্যায়ভাবে অহংকার করল এবং বলল: 'আমাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী আর কে আছে?' তারা কি দেখেনি যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ, যিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী? আর তারা আমাদের নিদর্শনাবলী অস্বীকার করত। ফলে আমি তাদের ওপর এক অশুভ সময়ে প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়া পাঠিয়েছিলাম, যাতে দুনিয়ার জীবনে তাদেরকে লাঞ্ঞ্ছনাকর আজাব আস্বাদন করাতে পারি; আর আখেরাতের আজাব তো অধিকতর লাঞ্ঞ্ছনাকর, এবং তাদেরকে সাহায্য করা হবে না।" (২)
এভাবে আমরা দেখি যে, হূদ আলাইহিস সালাম তাঁর কওমের সাথে উত্তম পন্থায় বা যা শ্রেষ্ঠতর তা দিয়ে বিতর্ক করছেন, আর তারা তাঁর সাথে বিতর্ক করছে উগ্রতা বা সীমালঙ্ঘনের মাধ্যমে, অবশেষে মহান আল্লাহ তাদেরকে প্রচণ্ড শক্তিশালী বিধ্বংসী বায়ু দ্বারা ধ্বংস করে দেন।
সালেহ একজন আরব:
৩১- সালেহ আলাইহিস সালাম হলেন সামূদ জাতির নবী। তারা ছিল বিশুদ্ধ আরবদের অন্তর্ভুক্ত যারা হিজাজ ও তাবুকের মধ্যবর্তী হিজর নামক স্থানে বসবাস করত। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাবুক যুদ্ধে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তাদের বাসভূমির পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছিলেন।
তিনি তাদেরকে তাওহীদের দিকে আহ্বান জানাতেন এবং তাঁর নিদর্শন ছিল একটি উটনী, যা তারা মন্দভাবে স্পর্শ করবে না; অন্যথায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যেমন মহান আল্লাহ হযরত সালেহ ও তাঁর কওমের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "আর সামূদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালেহকে (পাঠিয়েছি), তিনি বললেন: 'হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই। তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ এসেছে। আল্লাহর এই উটনীটি তোমাদের জন্য একটি নিদর্শন। সুতরাং একে আল্লাহর জমিনে চরে খেতে দাও এবং একে কোনো মন্দভাবে স্পর্শ করো না, অন্যথায় তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আজাব পাকড়াও করবে।'" (৩)
আর সালেহের কওম ছিল হূদের কওম আদের পরবর্তী জাতি। যেহেতু তারা তাদের স্থলাভিষিক্ত ছিল এবং তারা অধিকতর শক্তিশালী ও সংখ্যায় অধিক ছিল। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর স্মরণ করো, যখন তিনি তোমাদেরকে আদের পরে স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং তোমাদেরকে জমিনে আবাস দান করেছেন, তোমরা তার সমতল ভূমিতে প্রাসাদ নির্মাণ করছ এবং পাহাড় কেটে ঘর তৈরি করছ। সুতরাং তোমরা আল্লাহর নেয়ামতসমূহ স্মরণ করো এবং জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করে ঘুরে বেড়িয়ো না।" (৪)
--------------------------------------------