(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الدليل إلى المتون العلمية   (عبد العزيز بن إبراهيم بن قاسم)

القسم: فهارس الكتب والأدلة


الكتاب: الدليل إلى المتون العلمية

المؤلف: عبد العزيز بن إبراهيم بن قاسم

الناشر: دار الصميعي للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 2000 م

عدد الصفحات: 749

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইলমি মতনসমূহের নির্দেশিকা   (আব্দুল আজীজ বিন ইবরাহীম বিন কাসিম)

বিভাগ: বইয়ের নির্ঘণ্ট ও নির্দেশিকাসমূহ


বই: ইলমি মতনসমূহের নির্দেশিকা

লেখক: আব্দুল আজীজ বিন ইবরাহীম বিন কাসিম

প্রকাশক: দারুস সুমাইয়ি প্রকাশনী ও বিতরণী, রিয়াদ - সৌদি আরব সাম্রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৪৯

[বইয়ের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الدليل إلى

المتون العلمية

تأليف فضيلة الشيخ

عبد العبد العزيز بن إبراهيم بن قاسم

القاضي بالمحكمة الكبرى بالرياض
ইলমি মতুনসমূহের

নির্দেশিকা

রচনায়: ফযীলাতুশ শাইখ

আব্দুল আযীয বিন ইব্রাহীম বিন কাসিম

রিয়াদের উচ্চ আদালতের বিচারক
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
" أقوال "

*من حفظ المتون.. … حاز الفنون.

- من حفظ الأصول.. ضمن الوصول.

- من لم يتقن الأصول.. حُرم الوصول.

- من رام العلم جملة.. ذهب عنه جملة.

- ازدحام العلم في السمع مضلة الفهم.

- قال أفلاطون:

- الفضائل مرة الأوائل حلوة العواقب

- والرذائل حلوة الأوائل مرة العواقب (1)

--------------------------------------------

(1) أدب الطب ص (104)
উক্তিমালা

*যে মূল পাঠসমূহ (মুতুন) মুখস্থ করে... … সে জ্ঞানবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় পারদর্শী হয়।

- যে মূলনীতিসমূহ (উসুল) মুখস্থ করে... সে গন্তব্যে পৌঁছানো নিশ্চিত করে।

- যে মূলনীতিসমূহ সুনিপুণভাবে আয়ত্ত করে না... সে গন্তব্যে পৌঁছানো থেকে বঞ্চিত হয়।

- যে একবারে পুরো জ্ঞান অর্জন করতে চায়... তা তার থেকে একবারে চলে যায়।

- শ্রবণে জ্ঞানের ভিড় বোধশক্তির বিভ্রান্তি ঘটায়।

- আফলাতুন (প্লেটো) বলেছেন:

- সদ্গুণাবলি শুরুতে তিক্ত কিন্তু পরিণামে মিষ্ট

- আর অসদ্গুণাবলি শুরুতে মিষ্ট কিন্তু পরিণামে তিক্ত (১)

--------------------------------------------

(১) আদাবুত তিব্ব, পৃ. (১০৪)
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌المقَدّمَة
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ভূমিকা
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:

فإن طلب العلم الشرعي من أفضل الأعمال التي يتقرب العبد بها إلى الله سبحانه وتعالى، ولما كان الطالب لهذا العلم بحاجة إلى معرفة الأصول التي يضمن بها الوصول، وإلى معرفة المتون التي يحفظها يحوز الفنون؛ أحببت أن أكتب في بيان العلوم الشرعية، والعلوم المساعدة لها، والمتون الخاصة بكل فن، حسب التدرج فيه، مع ذكر ماتيسر من شروحها، وحواشيها، وتخريج أحاديثها، وبيان لغتها، والكتب المتعلقة بها، لتكون زاداً لطالب العلم، ومساراً يسير عليه في طلبه للعلم الشرعي، لأن سلوك هذه الطريقة ـ بعد عون الله تعالى ـ هو الذي يجعل الطالب متمكناً في العلم، كما عليه طريقة أهل العلم من سنين طويلة، كما يعلم ذلك من الاطلاع على تراجمهم.

أما من طلب العلم طلباً مجرداً، من غير عناية بالأصول والمتون، فسرعان ماينسى ماتعلمه، ولا يحصّل هذا وأمثاله شيئاً يذكر من العلم، ويُعرف مقام السنفين في حالة البحث والاستفتاء.

وقد جعلت هذا الكتاب في ثلاثة أبواب:

1 ـ الباب التمهيدي: تعريفات وفوائد.
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর। অতঃপর:

নিশ্চয়ই শরয়ি ইলম অন্বেষণ করা সর্বোত্তম আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত যার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নৈকট্য লাভ করে। যেহেতু এই ইলম অন্বেষণকারীর জন্য এমন সব মূলনীতি (উসুল) জানা প্রয়োজন যার মাধ্যমে সে লক্ষ্যে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা লাভ করে এবং এমন সব মূলপাঠ (মুতুন) জানা প্রয়োজন যা হিফজ করার মাধ্যমে সে বিভিন্ন বিদ্যায় ব্যুৎপত্তি লাভ করে; তাই আমি শরয়ি ইলম এবং এর সহায়ক ইলমসমূহ বর্ণনা করার এবং প্রতিটি বিষয়ের ক্রমধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট মূলপাঠসমূহ (মুতুন) লিপিবদ্ধ করার ইচ্ছা পোষণ করেছি। সেই সাথে এগুলোর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, টীকা, হাদিসের তাখরিজ, ভাষাগত বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কিতাবসমূহের যতটুকু সম্ভব উল্লেখ করেছি, যাতে এটি ইলম অন্বেষণকারীর জন্য পাথেয় এবং শরয়ি ইলম অর্জনের একটি সুনির্দিষ্ট পথ হিসেবে কাজ করে। কারণ এই পথ অনুসরণ করাই—আল্লাহ তাআলার সাহায্যের পর—শিক্ষার্থীকে ইলমের ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত করে তোলে, যেমনটি দীর্ঘকাল ধরে আলেমগণের অনুসৃত পদ্ধতি ছিল এবং তাঁদের জীবনীসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে তা জানা যায়।

পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি উসুল ও মুতুনসমূহের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে কেবল ভাসাভাসাভাবে ইলম অন্বেষণ করে, সে যা শিখেছে তা দ্রুতই ভুলে যায়। সে এবং তার মতো ব্যক্তিরা উল্লেখ করার মতো কোনো ইলম অর্জন করতে পারে না। আর গবেষণা ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে এই দুই শ্রেণির মর্যাদা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।

আমি এই কিতাবটিকে তিনটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি:

১ — প্রাথমিক অধ্যায়: সংজ্ঞা ও কতিপয় প্রয়োজনীয় বিষয়।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
2 ـ الباب الأول: العلوم الشرعية.

3 ـ الباب الثاني: علوم العربية.

ـ الباب التمهيدي بعنوان تعريفات وفوائد: تكلمت فيه عن العلم: من حيث تعريفه، وأقسامه، وفضله.. إلخ.

ثم لما كان التدرج هاماً في هذا الباب تطرقت إلى: تعريفه، وأمثلته، وأقسامه، وفوائده … إلخ.

ثم لما كان المتبادر من ذكر المتون أنها جعلت للحفظ عرّجت على تعريف الحفظ، وأوقاته، وأماكنه، والأسباب المعينة عليه.

ثم تكلمت عن المتون: من حيث تعريفها، وأقسامها، وكلام العلماء حولها.. . إلخ.

ثم يأتي الباب الأول: العلوم الشرعية، وفيه فصول:

الفصل الأول: التفسير ومايتعلق به وفيه مايأتي:

1 ـ أصول التفسير.

2 ـ علم التفسير.

3 ـ علم القراءات.

4 ـ علم التجويد.

5 ـ علوم القرآن.
২ — প্রথম পরিচ্ছেদ: শরীয়াহ বিষয়ক জ্ঞান।

৩ — দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আরবি ভাষা বিষয়ক জ্ঞান।

— ‘সংজ্ঞা ও উপকারিতা’ শিরোনামের প্রারম্ভিক পরিচ্ছেদ: এতে আমি ইলম বা জ্ঞান সম্পর্কে আলোচনা করেছি: এর সংজ্ঞা, প্রকারভেদ এবং শ্রেষ্ঠত্ব ইত্যাদি দিক থেকে।

অতঃপর যেহেতু এই ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক ধারা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ, তাই আমি এর সংজ্ঞা, উদাহরণ, প্রকারভেদ এবং উপকারিতা … ইত্যাদি বিষয়ে আলোকপাত করেছি।

এরপর যেহেতু ‘মতন’ বা মূলপাঠের কথা উল্লেখ করলে তা মুখস্থ করার বিষয়টিই স্বতস্ফূর্তভাবে চলে আসে, তাই আমি হিফজ বা মুখস্থকরণের সংজ্ঞা, এর সময়সমূহ, স্থানসমূহ এবং এর সহায়তাকারী কারণসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি।

তারপর আমি মতনসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি: এর সংজ্ঞা, প্রকারভেদ এবং এ সম্পর্কে আলেমদের বক্তব্য ইত্যাদি বিষয়ে।

এরপর আসছে প্রথম পরিচ্ছেদ: শরীয়াহ বিষয়ক জ্ঞান, এতে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদসমূহ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাফসির এবং এ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি, যার অন্তর্ভুক্ত হলো:

১ — উসুলুত তাফসির (তাফসিরের মূলনীতি)।

২ — ইলমুত তাফসির (তাফসির বিজ্ঞান)।

৩ — ইলমুল কিরাত (কিরাত বিজ্ঞান)।

৪ — ইলমুত তাজবিদ (তাজবিদ বিজ্ঞান)।

৫ — উলুমুল কুরআন (কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানসমূহ)।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
الفصل الثاني: علم التوحيد.

والفصل الثالث: علم مصطلح الحديث.

والفصل الرابع: علم الحديث.

والفصل الخامس: علم أصول الفقه على المذاهب الأربعة.

والفصل السادس: علم الفقه على المذاهب الأربعة.

والفصل السابع: علم الفرائض على المذاهب الأربعة.

الباب الثاني: علوم العربية. وفيه فصول:

الفصل الأول: علم النحو.

الفصل الثاني: علم الصرف.

الفصل الثالث: علم الاشتقاق.

الفصل الرابع: علم اللغة.

الفصل الخامس: علوم البلاغة " البيان، المعاني، البديع ".

الفصل السادس: علما العروض والقوافي.

الفصل السابع: علم قوانين الكتابة.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহীদ শাস্ত্র।

এবং তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা।

এবং চতুর্থ পরিচ্ছেদ: হাদীস শাস্ত্র।

এবং পঞ্চম পরিচ্ছেদ: চার মাযহাবের আলোকে উসূলে ফিকহ শাস্ত্র।

এবং ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: চার মাযহাবের আলোকে ফিকহ শাস্ত্র।

এবং সপ্তম পরিচ্ছেদ: চার মাযহাবের আলোকে ফারায়েয শাস্ত্র।

দ্বিতীয় অধ্যায়: আরবী ভাষাতত্ত্ব। এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: নাহু শাস্ত্র।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সরফ শাস্ত্র।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইশতিক্বাক্ব শাস্ত্র।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ভাষাতত্ত্ব শাস্ত্র।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বালাগাত বা অলঙ্কার শাস্ত্র "আল-বায়ান, আল-মা'আনী, আল-বাদী'"।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: আরূয ও কাওয়াফী শাস্ত্র।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: লিখনশৈলীর নিয়মাবলী।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
الفصل الثامن: علم قوانين القراءة.

الفصل التاسع: علم قرض الشعر.

الفصل العاشر: علم الإنشاء ومايتعلق به.

ويحتوي على كتب " الإنشاء، الأدب، المقامات، الأمثال ".

الفصل الحادي عشر: علم المحاضرات ومنه التواريخ.

وفي ختام هذه المقدمة آمل من الفقراء الكرام تزويدي بملاحظاتهم واستدراكاتهم للإستفادة منها في طبعة ثانية إن شاء الله.

هذا وأسأل الله تعالى أن يرزقنا الإخلاص في القول والعمل، وأن يوفقنا للعلم النافع، والعمل الصالح إنه على كل شئ قدير، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

 

عبد العزيز بن إبراهيم بن قاسم.

الرياض (11429) ص. ب: (36993) .
অষ্টম পরিচ্ছেদ: কিরাআতের নিয়মাবলি সংক্রান্ত ইলম।

নবম পরিচ্ছেদ: কাব্য রচনার ইলম।

দশম পরিচ্ছেদ: ইনশা (রচনাশৈলী) এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি।

এবং এতে "ইনশা, সাহিত্য, মাকামাত ও প্রবাদ-প্রবচন" বিষয়ক গ্রন্থসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

একাদশ পরিচ্ছেদ: মুহাদারাত (বক্তৃতা ও আলোচনা) সংক্রান্ত ইলম এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো ইতিহাস।

এই ভূমিকার সমাপ্তিতে আমি বিদগ্ধজনদের নিকট আশা করি যে, তারা যেন তাদের মন্তব্য ও সংশোধনীগুলো আমাকে প্রদান করেন, যাতে ইনশাআল্লাহ দ্বিতীয় মুদ্রণে সেগুলো থেকে উপকৃত হওয়া যায়।

সবশেষে আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাদের কথা ও কাজে ইখলাস দান করেন এবং আমাদের উপকারী জ্ঞান ও সৎকাজের তাওফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। আর আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

আব্দুল আজিজ বিন ইবরাহিম বিন কাসিম।

রিয়াদ (১১৪২৯) পি.ও. বক্স: (৩৬৯৯৩)।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الباب التمهيدي

تعريفات وفوائد
প্রারম্ভিক অধ্যায়

সংজ্ঞা ও উপকারিতাসমূহ
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ويشتمل على مايلي:

1 ـ العلم (تعريفه، أقسامه، فضله، … إلخ) .

2 ـ التدرج (تعريفه، أمثلته، أقسامه، فوائده ، … إلخ) .

3 ـ الحفظ (تعريفه، أوقاته، أماكنه، الأسباب المعينة عليه إلخ..) .

4 ـ المتون تعريفها، أقسامها، كلام العلماء حولها، إلخ … ) .
এটি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

১ — জ্ঞান (এর সংজ্ঞা, এর প্রকারভেদ, এর ফজিলত, … ইত্যাদি) ।

২ — ক্রমিকতা (এর সংজ্ঞা, এর উদাহরণসমূহ, এর প্রকারভেদ, এর উপকারিতা, … ইত্যাদি) ।

৩ — মুখস্থ করা (এর সংজ্ঞা, এর সময়সমূহ, এর স্থানসমূহ, এর সহায়ক কারণসমূহ ইত্যাদি..) ।

৪ — মূল পাঠ্য বা মতনসমূহ (এগুলোর সংজ্ঞা, এগুলোর প্রকারভেদ, এগুলো সম্পর্কে আলেমদের বক্তব্য, ইত্যাদি … ) ।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
"‌‌ العلم "

- تعريف العلم في اللغة.

- تعريف العلم في الإصطلاح.

- إطلاقات كلمة العلم.

- أقسام العلوم.

- العلوم الشرعية.

- علوم العربية.

- فضل العلم.

- أقوال السلف في فضل العلم.

- مايبدأ به في الطلب.
জ্ঞান

- আভিধানিক অর্থে জ্ঞানের সংজ্ঞা।

- পারিভাষিক অর্থে জ্ঞানের সংজ্ঞা।

- 'জ্ঞান' শব্দের নানাবিধ প্রয়োগ।

- জ্ঞানের প্রকারভেদ।

- শরয়ি জ্ঞানসমূহ।

- আরবি ভাষাতত্ত্ব বিষয়ক জ্ঞানসমূহ।

- জ্ঞানের মর্যাদা।

- জ্ঞানের মর্যাদা সম্পর্কে সালাফদের উক্তি।

- জ্ঞান অন্বেষণে যা দিয়ে শুরু করতে হয়।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
" العلم "

‌‌تعريف العلم في اللغة:

1 ـ قال في المصباح المنير: " العلم: اليقين، يقال علم يعلم إذا تيقن، وجاء بمعنى المعرفة أيضاً، كما جاءت بمعناه، ضُمِّن كل واحد معنى الآخر لاشتراكهما في كون كل واحد مسبوقاً بالجهل" (1)

2 ـ وقال في القاموس: " علمه كسمعه، علماً بالكسر عرفه، وعلم هو في نفسه، ورجل عالم، وعليم، جمع علماء، وعلام، كجهال.." (2)

‌‌تعريف العلم في الاصطلاح:

فد اختلف في العلم هل يُحدُّ أو لا؟

فقال بعضهم: إنه لا يحد لعسر تصوره، أو لأنه ضروري يحصل بمجرد التفات النفس إليه من غير نظر واكتساب.

وقيل: إنه يحد وعليه الأكثر، ومن الحدود التي قيلت فيه مااختاره صاحب الكوكب المنير وهو أنه: " صفة يميز المتصف بها بين الجواهر، والأجسام، والأعراض، والواجب، والممكن، والممتنع، تمييزاً جازماً مطاباً، لأي لا يحتمل النقيض " (3) .

--------------------------------------------

(1) ص (162) .

(2) ص (1471) .

(3) 1/60.
জ্ঞান

‌‌আভিধানিক সংজ্ঞায় জ্ঞানের পরিচয়:

১ ـ 'আল-মিসবাহুল মুনীর' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "ইলম বা জ্ঞান হলো: ইয়াকীন বা নিশ্চিত বিশ্বাস। বলা হয় 'আলিমা ইয়া'লামু' (সে জানল) যখন সে নিশ্চিত হয়। এটি মারিফাহ বা পরিচয়ের অর্থেও আসে, যেমনটি মারিফাহ শব্দটিও ইলম-এর অর্থে আসে। একটিকে অপরটির অর্থের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কারণ উভয়ের মধ্যে সাধারণ বিষয় হলো যে, এদের প্রত্যেকেরই পূর্বে অজ্ঞতা বিদ্যমান থাকে।" (১)

২ ـ 'আল-কামূস' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "সে এটি জানল (সামি'আ-এর ওজনে), ইলম (লাম বর্ণে কাসরা সহযোগে) অর্থাৎ সে এটি চিনল। সে নিজেও বিজ্ঞ হলো। তাকে বলা হয় আলিম এবং আলীম, এর বহুবচন হলো উলামা এবং আল্লাম..." (২)

‌‌পারিভাষিক সংজ্ঞায় জ্ঞানের পরিচয়:

জ্ঞানের কি কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা (সীমানা নির্ধারণ) দেওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: এর কোনো সংজ্ঞা দেওয়া যায় না কারণ এর রূপরেখা কল্পনা করা কঠিন, অথবা এটি একটি স্বত:সিদ্ধ বিষয় যা কোনো চিন্তা-গবেষণা বা অর্জন ছাড়াই কেবল মনের একাগ্রতার মাধ্যমেই অর্জিত হয়।

আবার বলা হয়েছে: এর সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব এবং অধিকাংশ আলিম এই মত পোষণ করেন। যে সকল সংজ্ঞা এতে প্রদান করা হয়েছে, তার মধ্যে 'আল-কাওকাবুল মুনীর' এর লেখক যা পছন্দ করেছেন তা হলো: "এটি এমন একটি গুণ যার অধিকারী ব্যক্তি মৌলিক সত্তা (জাওহার), দেহ (জিসম), আপাত গুণাবলি (আ’রাজ), অপরিহার্য (ওয়াজিব), সম্ভাব্য (মুমকিন) এবং অসম্ভব (মুমতানি’)-এর মাঝে এমন অকাট্য ও বাস্তবসম্মত পার্থক্য নিরূপণ করতে পারে, যা কোনো বৈপরীত্যের অবকাশ রাখে না।" (৩) .

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা (১৬২) ।

(২) পৃষ্ঠা (১৪৭১) ।

(৩) ১/৬০।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقال صالح الكليات: " والعلم هومعرفة الشيء على ماهو به، وبديهيه مالا يحتاج فيه إلى تقديم مقدمة، وضروريه بالعكس، ولو سلك فيه بعقله فإنه لا يسكل كالعلم الحاصل بالحواس الخمس (1) .

وقال ابن عبد البر في جامع بيان العلم وفضله: " حد العلم عند العلماء المتكلمين في هذا المعنى هو / مااستيقنته وتبينته، وكل من استيقن شيئاً وتبينه فقد علمه، وعلى هذا من لم يستيقن الشيء وقال به تقليداً فلم يعلمه، والتقليد عند جماعة العلماء غير الاتباع، لأن الاتباع هو أن تتبع القائل على مابان لك من فضل قوله وصحة مذهبه، والتقليد أن تقول بقوله وأنت لا تعرفه، ولا وجه القول، ولا معناه، وتأبى من سواه، أو أن يتبين لك خطؤه، فتتبعه مهابة خلافه، وأنت قد بان لك فساد قوله، وهذا محرم القول به في دين الله سبحانه " (2) .

إطلاقات كلمة العلم:

قال في الكوكب المنير: " اعلم أن العلم يطلق لغة وعرفاً على أربعة أمور:

أحدها: إطلاقه حقيقة على مالا يحتمل النقيض.

الأمر الثاني: أنه يطلق ويراد به مجرد الإدراك، يعني سواء كان الإدراك جازماً، أو مع احتمال راجح، أو مرجوع، أو مساوٍ، على سبيل المجاز المجاز، فشمل الأربعة قوله تعالى: {ماعلمنا عليه من سوءٍ} (يوسف ـ 51) إذ المراد نفي كل إدراك.

--------------------------------------------

(1) ص (610) .

(2) 2/787.
সালেহ আল-কুল্লিয়াত বলেছেন: "আর ইলম (জ্ঞান) হলো কোনো বস্তুকে তার প্রকৃত অবস্থায় জানা। এর মধ্যে স্বতঃসিদ্ধ (বদিহি) হলো তা-ই যার জন্য কোনো ভূমিকা উপস্থাপনের প্রয়োজন হয় না, আর আবশ্যিক (জরুরি) হলো এর বিপরীত। যদি কেউ এতে বুদ্ধিবৃত্তিক পথেও চলে, তবে তা পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানের মতো হবে না (১)।

ইবনে আবদিল বার 'জামি বায়ানেল ইলম ওয়া ফাদলিহি' গ্রন্থে বলেছেন: "এই অর্থে কালাম শাস্ত্রবিদ আলেমদের নিকট ইলমের সংজ্ঞা হলো—যা আপনি নিশ্চিতভাবে জেনেছেন এবং আপনার কাছে স্পষ্ট হয়েছে। আর যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে এবং তা তার কাছে স্পষ্ট হয়েছে, সে-ই তা জেনেছে। এই ভিত্তিতে, যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে নিশ্চিত হয়নি বরং কেবল অন্ধ অনুকরণের (তাকলিদ) ভিত্তিতে বলেছে, সে তা জানে না। আলেমদের জামাআতের নিকট তাকলিদ ও ইত্তিবা (অনুসরণ) এক নয়। কারণ ইত্তিবা হলো বক্তার বক্তব্যের শ্রেষ্ঠত্ব এবং তার মাযহাবের বিশুদ্ধতা আপনার কাছে স্পষ্ট হওয়ার পর তাকে অনুসরণ করা। আর তাকলিদ হলো আপনি তার কথা মেনে নিলেন অথচ আপনি তাকে চেনেন না, তার বক্তব্যের ভিত্তি জানেন না, তার অর্থও বোঝেন না এবং তার বিপরীত কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন; অথবা আপনার কাছে তার ভুল স্পষ্ট হয়েছে, তবুও তার বিরোধিতা করার ভয়ে আপনি তাকে অনুসরণ করছেন অথচ তার বক্তব্যের অসারতা আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। আল্লাহর দ্বীনের ক্ষেত্রে এমন কথা বলা হারাম (২)।

ইলম শব্দের প্রয়োগসমূহ:

'আল-কাওকাবুল মুনীর' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "জেনে রাখুন যে, আভিধানিক ও পারিভাষিক দিক থেকে ইলম শব্দটি চারটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:

প্রথমটি: প্রকৃত অর্থে এটি এমন বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য যা বিপরীত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা রাখে না।

দ্বিতীয় বিষয়: এটি ব্যবহৃত হয় এবং এর দ্বারা কেবল উপলব্ধি (ইদরেক) উদ্দেশ্য নেওয়া হয়। অর্থাৎ উপলব্ধিটি দৃঢ় হোক, কিংবা প্রবল সম্ভাবনা (রাজাহ), দুর্বল সম্ভাবনা (মারজু), অথবা সমপর্যায়ের (মুসাওয়ি) হোক—রূপক হিসেবে। ফলে এই চারটিকে অন্তর্ভুক্ত করে মহান আল্লাহর এই বাণী: {আমরা তাঁর ব্যাপারে কোনো মন্দ জানিনি} (ইউসুফ— ৫১); যেহেতু এখানে উদ্দেশ্য হলো সব ধরণের উপলব্ধি বা অবগতি অস্বীকার করা।

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা (৬১০)।

(২) ২/৭৮৭।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
الأمر الثالث: أنه يطلق ويراد به التصديق، قطعياً كان التصديق أو ظنياً، أما التصديق الظني فإطلاقه عليه على سبيل المجاز ومن أمثلته، قوله تعالى: {فإن علمتموهن مؤمنات} (الممتحنة ـ 10) .

الأمر الرابع: أنه يطلق ويراد به معنى المعرفة، ومن أمثلة ذلك قوله تعال: {لا تعلمهم نحن نعلمهم} (التوبة ـ 101) (1)

أقسام العلوم:

قسمت العلوم إلى أقسام كثيرة باعتبارات مختلفة، ومن هذه الأقسام مايلي:

الأول:

أـ علوم نظرية: أي غير متعلقة بكيفية عمل.

ب ـ علوم عملية: متعلق بها كيفية عمل.

الثاني:

أـ علوم آلية: وهي التي لا تقصد بنفسها، كعلم النحو والصرف.

ب ـ علوم غير آلية: وهي المقصودة بنفسها كعلم التفسير والحديث.

--------------------------------------------

(1) 1/63.
তৃতীয় বিষয়: এটি ব্যবহৃত হয় এবং এর দ্বারা সত্যায়ন (তাসদিক) উদ্দেশ্য নেওয়া হয়, চাই সেই সত্যায়নটি অকাট্য হোক বা ধারণাপ্রসূত। তবে ধারণাপ্রসূত সত্যায়নের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ রূপকার্থে হয়ে থাকে। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: "যদি তোমরা তাদেরকে মুমিন নারী হিসেবে জানতে পার" (আল-মুমতাহিনা: ১০)।

চতুর্থ বিষয়: এটি ব্যবহৃত হয় এবং এর দ্বারা পরিচয়ের (মা'রিফাত) অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: "তুমি তাদের জানো না, আমি তাদের জানি" (আত-তাওবা: ১০১) (১)

জ্ঞানসমূহের প্রকারভেদ:

বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে জ্ঞানসমূহকে অনেক প্রকারে বিভক্ত করা হয়েছে। সেই প্রকারগুলোর মধ্যে নিম্নোক্তগুলো অন্যতম:

প্রথমত:

ক— তাত্ত্বিক জ্ঞান: অর্থাৎ যা কোনো কাজ করার পদ্ধতির সাথে সম্পৃক্ত নয়।

খ — ব্যবহারিক জ্ঞান: যার সাথে কাজ করার পদ্ধতি সম্পৃক্ত।

দ্বিতীয়ত:

ক— সহায়ক জ্ঞান: এগুলো স্বয়ং উদ্দেশ্য নয়, যেমন নাহু (ব্যাকরণ) ও সরফ (রূপতত্ত্ব) শাস্ত্র।

খ — মৌলিক জ্ঞান: এগুলো স্বয়ং উদ্দেশ্য, যেমন তাফসীর ও হাদীস শাস্ত্র।

--------------------------------------------

(১) ১/৬৩।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الثالث:

أـ علوم عربية.

ب ـ علوم غير عربية.

الرابع:

أـ علوم شرعية.

ب ـ علوم غير شرعية.

الخامس:

أـ علوم عقلية، وهي التي لا يحتاج فيها إلى النقل.

ب ـ علوم نقلية.

إلى غير ذلك من التقسيمات. (1)

--------------------------------------------

(1) جامع بيان العلم وفضله 2/788، مفتاح السعادة 1/52، كشف الظنون 1/11، أبجد العلوم 1/36.
তৃতীয়:

ক- আরবি বিজ্ঞানসমূহ।

খ- অনারবি বিজ্ঞানসমূহ।

চতুর্থ:

ক- শরয়ি বিজ্ঞানসমূহ।

খ- অ-শরয়ি বিজ্ঞানসমূহ।

পঞ্চম:

ক- আকলি বা বুদ্ধিবৃত্তিক বিজ্ঞানসমূহ, আর এগুলো হলো ওইসব বিষয় যাতে বর্ণনার পরম্পরা বা স্থানান্তরের (নকল) প্রয়োজন হয় না।

খ- নাকলি বা বর্ণনামূলক বিজ্ঞানসমূহ।

এ ছাড়াও অন্যান্য বিভাজন রয়েছে। (১)

--------------------------------------------

(১) জামেউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি ২/৭৮৮, মিফতাহুস সাআদাহ ১/৫২, কাশফুজ জুনুন ১/১১, আবজাদুল উলুম ১/৩৬।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
2 ـ علم التفسير.

3 ـ علم القراءات.

4 ـ علم التجويد.

5 ـ علوم القرآن.

6 ـ علم التوحيد.

7 ـ علم الحديث.

8 ـ علم مصطلح الحديث.

9 ـ علم الفقه.

10 ـ علم أصول الفقه.

11 ـ علم الفرائض (1)

علوم العربية:

علوم العربية اثنا عشر علماً، وهي: ـ

1 ـ علم اللغة.

2 ـ علم التصريف.

3 ـ علم النحو.

--------------------------------------------

(1) المراجع السابقة، والحطة في ذكر الصحاح الستة ص (58) .
২. তাফসীর শাস্ত্র।

৩. কিরাত শাস্ত্র।

৪. তাজবীদ শাস্ত্র।

৫. উলূমুল কুরআন (কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানসমূহ)।

৬. তাওহীদ শাস্ত্র।

৭. হাদীস শাস্ত্র।

৮. হাদীসের পরিভাষা শাস্ত্র।

৯. ফিকহ শাস্ত্র।

১০. উসূলে ফিকহ শাস্ত্র।

১১. ফারায়েজ (উত্তরাধিকার) শাস্ত্র (১)

আরবি ভাষাতত্ত্বের বিজ্ঞানসমূহ:

আরবি ভাষাতত্ত্বের বিজ্ঞানসমূহ বারোটি, সেগুলো হলো: —

১. লুগাহ (ভাষা) বিজ্ঞান।

২. তাসরীফ (শব্দরূপান্তর) বিজ্ঞান।

৩. নাহু (ব্যাকরণ) বিজ্ঞান।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত তথ্যসূত্রসমূহ, এবং আল-হিত্তাহ ফী জিকরিস সিহাহ আস-সিত্তাহ, পৃষ্ঠা (৫৮)।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
4 ـ علم المعاني.

5 ـ علم البيان.

6 ـ علم البديع.

7 ـ علم العروض.

8 ـ علم القوافي.

9 ـ علم قوانين الكتابة.

10 ـ علم قوانين القراءة.

11 ـ علم إنشاء الرسائل والخطب.

12 ـ علم المحاضرات ومنه التواريخ (1)

قال العلامة السجاعي ـ في حاشيته على القطر: ـ " والعربية منسوبة للعرب، وهي علم يحترز به من الخلل في كلام العرب، وهو بهذا المعنى يشمل اثنى عشر علماً، جمعها بعض أصحابنا في قوله:

صرفٌ بيانٌ معاني النحوُ قافيةٌ … شعرٌ عروضُ اشتقاقُ الخطُّ إنشاءُ

محاضراتٌ وثاني عشرها لغة … تلك العلوم لها الآداب أسماء

 

ثم صار علماً بالغلبة على النحو " (2)

--------------------------------------------

(1) الكواكب الدرية على متممة الآجرومية ص (5)

(2) ص (7)
৪ — ইলমে মাআনি (শব্দার্থ বিজ্ঞান)।

৫ — ইলমে বয়ান (অলঙ্কার শাস্ত্র - বর্ণনাভঙ্গি)।

৬ — ইলমে বদি (অলঙ্কার শাস্ত্র - বাকসৌন্দর্য)।

৭ — ইলমে আরুজ (ছন্দ প্রকরণ)।

৮ — ইলমে কাওয়াফি (অন্ত্যমিল শাস্ত্র)।

৯ — লিখন পদ্ধতির নিয়মাবলি সংক্রান্ত বিদ্যা।

১০ — পাঠ পদ্ধতির নিয়মাবলি সংক্রান্ত বিদ্যা।

১১ — পত্র ও ভাষণ রচনা বিদ্যা।

১২ — আলোচনা ও বক্তৃতার বিদ্যা এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো ইতিহাস (১)

আল্লামা সাজায়ি—‘কাতার’-এর ওপর তার টীকাগ্রন্থে—বলেন: "আরবি ভাষা আরবদের সাথে সম্পর্কিত। এটি এমন একটি বিদ্যা যার মাধ্যমে আরবদের কথাবার্তায় ভুলভ্রান্তি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এই অর্থে এটি বারোটি বিদ্যাকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা আমাদের জনৈক সঙ্গী তার এই পঙক্তিতে সংকলিত করেছেন:

সরফ, বয়ান, মাআনি, নাহু, কাফিয়া … কবিতা, আরুজ, ইশতিকাক, লিপি, রচনা

বক্তৃতা এবং দ্বাদশটি হলো লুগাত (অভিধান বিদ্যা) … এই বিদ্যাগুলোর সমষ্টির নাম হলো আদব (সাহিত্য)

 

অতঃপর এটি প্রধানত নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের নাম হিসেবে সুপরিচিত হয়ে ওঠে।" (২)

--------------------------------------------

(১) আল-কাওয়াকিব আদ-দুররিয়্যাহ আলা মুতাম্মিমাত আল-আজরুমিয়্যাহ, পৃষ্ঠা (৫)

(২) পৃষ্ঠা (৭)
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
ونظمها بعضهم بقوله: (1)

خذ نظم آداب تضوع نشرها … فطوى شذا المنثور حين تضوع

لغة وصرف واشتقاق نحوها … علم المعاني بالبيان بديع

وعروض قافية وإنشا نظمها … وكتابة التاريخ ليس يضيع

 

كما نظمت في قول بعضهم:

نحو وصرف عروض ثم قافية … وبعدها لغة قرض وإنشاء

خط بيان معان مع محاضرة … والاشتقاق لها الآداب أسماء

قال الجاربردي في حاشيته على الشافية (2) : " وعلوم الأدب علوم يحترز بها عن الخلل في كلام العرب لفظاً أو كتابة، وهي على ماصرحوا به اثنا عشر، منها أصول، وهي العمدة في ذلك الاحتراز، ومنها فروع.

أما الأصول: فالبحث إما عن المفردات من حيث جواهرها وموادها فعلم اللغة، أو من حيث صورها وهيئاتها فعلم التصريف، أو من حيث انتساب بعضها إلى بعض بالأصالة والفرعية فعلم الاشتقاق.

وأما عن المركبات على الإطلاق فإما باعتبار هيئاتها التركيبية وتأديها لمعانيها الأصلية فعلم النحو، أو باعتبار إفادتها لمعان مغايرة لأصل المعنى فعلم المعاني، أو باعتبار كيفية تلك الإفادة في مراتب الوضوح فعلم البيان.

--------------------------------------------

(1) المطاالع النصرية ص (3) .

(2) في مجموعة الشافية في علمي الصرف والخط (1/6) .
কিছু লোক একে নিম্নোক্তভাবে ছন্দবদ্ধ করেছেন: (১)

আদাবের এই কাব্যমালা গ্রহণ করো যার সুবাস সুদূরপ্রসারী … যা ছড়িয়ে পড়ার সময় গদ্যের সুগন্ধকেও ম্লান করে দেয়

লুগাত, সরফ, ইশতিকাক ও নাহু … ইলমুল মাআনি, বায়ান ও বাদি'

আরুয, কাফিয়া, ইনশা ও কাব্যরীতি … এবং ইতিহাস লিখন যা কখনো হারিয়ে যায় না

 

যেমনটি অন্য একজনের উক্তিতে ছন্দবদ্ধ হয়েছে:

নাহু, সরফ, আরুয এবং এরপর কাফিয়া … এরপর লুগাত, কাব্যরচনা ও ইনশা

খত, বায়ান, মাআনি ও সাহিত্য আলোচনা … এবং ইশতিকাক—এগুলোই হলো আদাব বা সাহিত্যের নামসমূহ

আল-জারবারদি 'আশ-শাফিয়া'-এর টিকায় (২) বলেছেন: "আদাব বা সাহিত্য বিষয়ক জ্ঞান হলো এমন সব শাস্ত্র যার মাধ্যমে আরবদের কথাবার্তা এবং লেখনীর ভুলত্রুটি থেকে বেঁচে থাকা যায়। আলিমরা যা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন সে অনুযায়ী এগুলো বারোটি; এর মধ্যে কিছু রয়েছে মূলনীতি (উসুল), যা ভুল থেকে বাঁচার ক্ষেত্রে প্রধান ভিত্তি, আর কিছু রয়েছে শাখা (ফুরু)।

মূলনীতিসমূহের ক্ষেত্রে: আলোচনা হয় হয় তো একক শব্দাবলি (মুফরাদ) নিয়ে—তার মূল সত্তা ও উপাদানের দিক থেকে, যা হলো ইলমুল লুগাত (ভাষাতত্ত্ব); অথবা শব্দের রূপ ও কাঠামোর দিক থেকে, যা হলো ইলমুত তাসরিফ (শব্দতত্ত্ব); অথবা একটির সাথে অন্যটির মৌলিক বা শাখা হওয়ার সম্পর্কের দিক থেকে, যা হলো ইলমুল ইশতিকাক (শব্দমূলতত্ত্ব)।

আর ঢালাওভাবে বাক্য (মুরাক্কাবাত) নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে: হয় তো তার গাঠনিক বিন্যাস এবং মূল অর্থ প্রদানের দিকটি বিবেচ্য হয়, যা হলো ইলমুন নাহু (ব্যাকরণ); অথবা মূল অর্থের অতিরিক্ত অন্য কোনো অর্থ প্রদানের বিষয়টি বিবেচ্য হয়, যা হলো ইলমুল মাআনি; অথবা অস্পষ্টতা ও স্পষ্টতার বিভিন্ন স্তরে সেই অর্থ প্রকাশের পদ্ধতিটি বিবেচ্য হয়, যা হলো ইলমুল বায়ান।

--------------------------------------------

(১) আল-মাতালিউন নাসরিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ৩।

(২) মাজমুআতুশ শাফিয়া ফি ইলমাইত তাসরিফ ওয়াল খত (১/৬)।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وأما عن المركبات الموزونة فأما من حيث وزنها فعلم العروض، أو من حيث أواخر أبياتها فعلم القافية.

وأما الفروع: فالبحث فيها إما أن يتعلق بنقوش الكتابة فعلم الخط، أو يختص بالمنظوم فالعلم المسمى بقرض الشعر، أو بالمنثور فعلم إنشاء النثر من الرسائل والخطب، أو لا يختص بشيء منها فعلم المحاضرات، ومنه التواريخ.. ".

فضل العلم:

تكاثرت الأدلة من الكتاب والسنة، الدالة على فضل العلم، وأهله ومن ذلك مايلي: ـ

1 ـ قوله تعالى: {شهد الله أنه لا إله إلا هو والملائكة وأولوا العلم قائماً بالقسط لا إله إلا هو العزيز الحكيم} (آل عمران ـ 18) . ٍٍ

حيث قرن سبحانه شهادة أولي العلم بشهادته لنفسه بالوحدانية، وشهادة الملائكة له بذلك.

2 ـ وقوله تعالى: {وقل رب زدني علماً} (طه ـ 114) .

3 ـ وقوله تعالى: {إنما يخشى الله من عباده العلماء} (فاطر ـ 28) .

4 ـ وقوله تعالى: {قل هل يستوي الذين يعملون والذين لا يعلمون إنما يتذكر أولو الألباب} (الزمر ـ 9) .

5 ـ وقوله تعالى: {يرفع الله الذين أمنوا منكم والذين أتوا العلم درجات والله بما تعملون خبير} (المجادلة ـ 11) .

6 ـ وعن عثمان بن عفان رضي الله تعالى عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:
আর ছন্দোবদ্ধ রচনার ক্ষেত্রে, রচনার ছন্দের দিক থেকে তা হলো ইলমুল আরুজ (ছন্দবিজ্ঞান), অথবা পংক্তির শেষাংশের দিক থেকে তা হলো ইলমুল কাফিয়া (অন্ত্যমিল বিজ্ঞান)।

আর শাখাসমূহ হলো: এগুলোর আলোচনা যদি লিখনশৈলী সম্পর্কিত হয় তবে তা হলো ইলমুল খত (লিপিবিদ্যা), অথবা যদি পদ্যের সাথে নির্দিষ্ট হয় তবে তাকে বলা হয় কাব্যতত্ত্ব (ইলমু কারজিশ শির), অথবা যদি গদ্যের সাথে নির্দিষ্ট হয় তবে তা হলো পত্রাবলী ও ভাষণ বিষয়ক গদ্য রচনাশৈলী, আর যদি এগুলোর কোনোটির সাথেই নির্দিষ্ট না হয় তবে তা হলো ইলমুল মুহাদারাত (বক্তৃতা বা আলোচনাশাস্ত্র), আর ইতিহাস এর অন্তর্ভুক্ত...।

জ্ঞানের মর্যাদা:

কুরআন এবং সুন্নাহ থেকে জ্ঞান এবং জ্ঞানীদের মর্যাদার ওপর প্রমাণসমূহ অগণিত, যার কিছু নিম্নরূপ: —

১ — মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, আর ফেরেশতাগণ এবং জ্ঞানীগণও (একই সাক্ষ্য দেয়); তিনি ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} (আলে ইমরান — ১৮)।

এখানে মহান আল্লাহ জ্ঞানীদের সাক্ষ্যকে তাঁর নিজের একত্ববাদের সাক্ষ্য এবং ফেরেশতাদের সাক্ষ্যের সাথে একত্রে উল্লেখ করেছেন।

২ — এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনি বলুন, হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন} (ত্বহা — ১১৪)।

৩ — এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই তাঁকে ভয় করে} (ফাতির — ২৮)।

৪ — এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে? কেবল বুদ্ধিমান লোকেরাই উপদেশ গ্রহণ করে} (আয-যুমার — ৯)।

৫ — এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেবেন; আর তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত} (আল-মুজাদালা — ১১)।

৬ — এবং উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
" خيركم من تعلم القرآن وعلمه " رواه البخاري. (1)

7 ـ وعن معاوية بن أبي سفيان رضي الله تعالى عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: " من يرد الله به خيراً يفقهه في الدين " متفق عليه. (2)

8 ـ وعن أبي موسى رضي الله تعالى عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم " مثل مابعثني الله به من الهدى، والعلم، كمثل غيث أصاب أرضاً، فكانت منها طائفة طيبة قبلت الماء، فأنبتت الكلأ، وا لعشب الكثير، فكانت منها طائفة طيبة قبلت الماء، فنفع الله بها الناس، فشربوا منها، وسقوا، وزرعوا. وأصاب طائفة منها أخرى إنما هي قيعان لا تمسك ماء، ولا تنبت كلآً، فذلك مثل من فقه في دين الله، ونفعه مابعثني الله به فعلم وعلّم، ومثل من لم يرفع بذلك رأساً، ولم يقبل هُدى الله الذي أرسلت به ". متفق عليه. (3)

9، وعن أبي الدرداء رضي الله تعالى عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: " من سلك طريقاً يبتغي فيه علماً سهل الله له طريقاً إلى الجنة، وإن الملائكة لتضع أجنحتها لطالب العلم رضاً بما يصنع، وإن العالم ليستغفر له من في السموات ومن في الأرض، حتى الحيتان في الماء، وفضل العالم على العابد، كفضل القمر على سائر الكواكب، وإن العلماء ورثة الأنبياء، وإن الأنبياء لم يورثوا ديناراً، ولا درهماً، وإنما ورثوا

--------------------------------------------

(1) البخاري مع الفتح 9/74.

(2) البخاري مع الفتح 1:164، صحيح مسلم 2/719.

(3) البخاري مع الفتح 1/175، صحيح مسلم 4/1787.
"তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে নিজে কুরআন শিখে এবং তা অন্যকে শেখায়।" বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন। (১)

৭ ـ এবং মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যে তিনি বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন।" মুত্তাফাকুন আলাইহি। (২)

৮ ـ এবং আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ আমাকে যে হিদায়াত ও ইলম দিয়ে পাঠিয়েছেন তার উদাহরণ হলো সেই বৃষ্টির মতো যা কোনো ভূমিতে পতিত হলো। তার মধ্যে একখণ্ড উর্বর ভূমি ছিল যা পানি গ্রহণ করল এবং প্রচুর ঘাস ও লতা-পাতা উৎপন্ন করল। আর তার মধ্যে একখণ্ড উত্তম ভূমি ছিল যা পানি ধরে রাখল, ফলে আল্লাহ তার দ্বারা মানুষের উপকার করলেন, তারা তা পান করল, সেচ দিল এবং চাষাবাদ করল। আর বৃষ্টির পানি অন্য এক ভূমিতে পতিত হলো যা নিছক এক চাতাল ভূমি, যা পানি ধরে রাখে না এবং কোনো ঘাসও জন্মায় না। এটি তার উদাহরণ যে আল্লাহর দ্বীনে প্রজ্ঞা অর্জন করেছে এবং আল্লাহ আমাকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তা তাকে উপকৃত করেছে, ফলে সে নিজে শিখেছে ও অন্যকে শিখিয়েছে। আর এটি তার উদাহরণ যে এ নিয়ে মস্তক উত্তোলন করেনি এবং আল্লাহর সেই হিদায়াত গ্রহণ করেনি যা দিয়ে আমাকে পাঠানো হয়েছে।" মুত্তাফাকুন আলাইহি। (৩)

৯، এবং আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণে কোনো পথে চলবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের একটি পথ সহজ করে দেবেন। আর নিশ্চয়ই ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীর কর্মে সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়। আর আলেমের জন্য আসমানসমূহে যারা আছে এবং যারা জমিনে আছে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি পানির মাছও। আর ইবাদতকারীর ওপর আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব হলো সমস্ত নক্ষত্রের ওপর চাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের মতো। আর নিশ্চয়ই ওলামাগণ নবীদের উত্তরাধিকারী। আর নবীরা কোনো দিনার বা দিরহাম উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাননি, বরং তাঁরা উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন...

--------------------------------------------

(১) বুখারি মাআল ফাতহ ৯/৭৪।

(২) বুখারি মাআল ফাতহ ১:১৬৪, সহিহ মুসলিম ২/৭১৯।

(৩) বুখারি মাআল ফাতহ ১/১৭৫, সহিহ মুসলিম ৪/১৭৮৭।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
العلم، فمن أخذه أخذ بحظ وافر " رواه أبو داود، والترمذي، وابن ماجه، وغيرهم. (1)

10 ـ وعن أبي هريرة رضي الله تعالى عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " إذا مات الإنسان انقطع عنه عمله إلا من ثلاثة: إلا من صدقة جارية، أو علم ينتفع به، أو ولد صالح يدعو له " رواه مسلم (2)

أقوال السلف في فضل العلم:

جاء عن الصحابة ومن بعدهم من السلف أقوال كثيرة في فضل العلم فمن ذلك مايلي: ـ

1 ـ قال علي رضي الله تعالى عنه: " كفى بالعلم شرفاً أن يدعيه من لايحسنه، ويفرح به إذا نسب إليه، وكفى بالجهل ذمّاً أن يتبرأ منه من هو فيه " (3)

2 ـ وقال ابن عباس رضي الله تعالى عنهما: " تذاكر العلم بعض ليلة أحب إليّ من إحيائها " (4)

3 ـ وقال الزهري رحمه الله تعالى: " ماعُبد الله بمثل العلم ". (5)

4 ـ وقال سفيان الثوري رحمه الله تعالى: " مامن عمل أفضل من

--------------------------------------------

(1) سنن أبي داود 4/57، والترمذي 5/48، وا بن ماجه 1/81.

(2) صحيح مسلم 3/1255.

(3) تذكرة السامع والمتكلم ص (34) .

(4) جامع بيان العلم وفضله 1/24.

(5) المرجع السابق 1/255.
জ্ঞান; সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে এক মহা অংশ লাভ করল।" আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। (১)

১০ — আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন মানুষ মারা যায়, তখন তিনটি কাজ ব্যতীত তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়: সদকায়ে জারিয়া, অথবা এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, অথবা এমন সৎ সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।" মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। (২)

ইলমের (জ্ঞানের) ফযিলত সম্পর্কে সালাফদের উক্তি:

সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী সালাফদের থেকে ইলমের ফযিলত সম্পর্কে অনেক উক্তি বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিম্নরূপ: —

১ — আলী (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) বলেছেন: "জ্ঞানের মর্যাদার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, যে ব্যক্তি তা ভালোভাবে জানে না সেও তা দাবি করে এবং যখন তার দিকে তা সম্বন্ধ করা হয় তখন সে আনন্দিত হয়। আর মূর্খতার নিন্দার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, যে ব্যক্তি মূর্খতার মাঝে লিপ্ত সেও তা থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করতে চায়।" (৩)

২ — ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমা) বলেছেন: "রাতের কিছু অংশ জ্ঞানচর্চা করা আমার কাছে সারা রাত জেগে ইবাদত করার চেয়ে বেশি প্রিয়।" (৪)

৩ — যুহরী (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেছেন: "জ্ঞানের মতো অন্য কোনো বিষয়ের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা হয়নি।" (৫)

৪ — সুফিয়ান আস-সাওরী (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেছেন: "এমন কোনো আমল নেই যা শ্রেষ্ঠতর...

--------------------------------------------

(১) সুনানে আবু দাউদ ৪/৫৭, তিরমিযী ৫/৪৮, ইবনে মাজাহ ১/৮১।

(২) সহীহ মুসলিম ৩/১২৫৫।

(৩) তাজকিরাতুস সামি ওয়াল মুতাকাল্লিম, পৃষ্ঠা (৩৪)।

(৪) জামে বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি ১/২৪।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস ১/২৫৫।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
طلب العلم إذا صحّت النية " (1)

5 ـ وقال الإمام الشافعي رحمه الله تعالى: " طلب العلم أفضل من الصلاة النافلة " (2)

كما أكثر الشعراء من النظم في فضل العلم، ومن ذلك: ـ

كما أكثر الشعراء من النظم في فضل العلم، ومن ذلك: ـ

1 ـ قول صالح بن جناح:

تعلم إذا ماكنت ليس بعالم … فما العلم إلا عند أهل التعلم

تعلم فإن العلم زين لأهله … ولن تستطيع العلم إن لم تعلم

تعلم فإن العلم أزين بالفتى … من الحلة الحسناء عند التكلم

ولا خير فيمن راح ليس بعالم … بصير بما يأتي ولا متعلم (3)

 

2 ـ وقال بعضهم:

الناس في جهة التمثيل أكفاء … أبوهم آدم والأم حواء وأعظُم خلقت فيهم وأعضاء

نفس كنفس وأرواح مشاكلة … يفاخرون به فالطين والماء

فإن يك لهم من أصلهم حسب … على الهدى لمن استهدى أدلاء

ماالفضل إلا لأهل العلم إنهم … وللرجل على الأفعال أسماء

وقدر كل امرئ ماكان يحسنه … والجاهلون لأهل العلم أعداء (4)

وضد كل امرئ ماكان يجهله

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق 1/25.

(2) المرجع السابق 1/123.

(3) جامع بيان العلم وفضله 1/147.

(4) جامع بيان العلم وفضله 1/218.
“[...] ইলম অন্বেষণ করা, যদি নিয়ত সঠিক থাকে।” (১)

৫ — এবং ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন: “নফল সালাতের চেয়ে ইলম অন্বেষণ করা অধিক উত্তম।” (২)

কবিগণও ইলমের ফযিলত সম্পর্কে অনেক কাব্য রচনা করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে: —

কবিগণও ইলমের ফযিলত সম্পর্কে অনেক কাব্য রচনা করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে: —

১ — সালিহ ইবনে জুনাহ-এর উক্তি:

শিক্ষা গ্রহণ করো যখন তুমি জ্ঞানী নও … কেননা জ্ঞান কেবল জ্ঞানান্বেষণকারীদের নিকটই থাকে

শিক্ষা গ্রহণ করো, কেননা জ্ঞান এর অধিকারীদের জন্য অলঙ্কার … আর তুমি জ্ঞান অর্জন করতে সমর্থ হবে না যদি না তুমি শিক্ষা গ্রহণ করো

শিক্ষা গ্রহণ করো, কেননা জ্ঞান একজন যুবকের জন্য কথা বলার সময় … সুন্দর পোশাকের চেয়েও অধিক সৌন্দর্যমণ্ডিত

আর সেই ব্যক্তির মাঝে কোনো কল্যাণ নেই যে জ্ঞানী হয়ে পথ চলে না … যে আগত বিষয় সম্পর্কে দূরদর্শী নয় এবং যে শিক্ষার্থীও নয় (৩)

 

২ — এবং তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন:

মানুষ সাদৃশ্যের বিচারে পরস্পর সমকক্ষ … তাদের পিতা আদম ও মাতা হাওয়া, আর তাদের মাঝে হাড় ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সৃষ্টি করা হয়েছে

একটি প্রাণ অন্য প্রাণের মতো এবং আত্মাসমূহ সদৃশ … তারা যা নিয়ে গর্ব করে তা তো কেবল মাটি ও পানি

যদি তাদের মূলে কোনো আভিজাত্য থেকে থাকে … তবে তা হিদায়াত প্রত্যাশীদের জন্য সঠিক পথের দিশারি

মর্যাদা কেবল জ্ঞানীদের জন্যই, কেননা তারা … আর মানুষের কর্ম অনুসারে তার পরিচয় নির্ধারিত হয়

প্রত্যেক ব্যক্তির মূল্য ততটুকুই যা সে সুন্দরভাবে সম্পাদন করতে পারে … আর মূর্খরা হলো জ্ঞানীদের শত্রু (৪)

আর প্রত্যেক ব্যক্তির প্রতিপক্ষ হলো তাই যা সে জানে না

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস ১/২৫।

(২) পূর্বোক্ত উৎস ১/১২৩।

(৩) জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি ১/১৪৭।

(৪) জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি ১/২১৮।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
3 ـ وقال أحمد بن عمر بن عصفور:

مع العلم فاسلك حيث ماسلك العلم … وعنه فكاشف كل من عنده فهم

ففيه جلاء للقلوب من العمى … وعون على الدين الذي أمره حتم

فإني رأيت الجهل يزري بأهله … وذو العلم في الأقوام يرفعه العلم

يعد كبير القوم وهو صغيرهم … وينفذ منه فيهم القول والحكم

وأي رجاء في امرئ شاب رأسه … وأفنى سنيه وهو مستعجم فدم

يروح ويغدو الدهر صاحب بطنة … تركب في أحضانها اللحم والشحم

إذا سئل المسكين عن أمر دينه … بدت رحضاء العي في وجهه تسمر

وهل أبصرت عيناك أقبح منظر … من اشيْبَ لاعلم لديه ولا حكم

هو السوءة السوءاء فاحذر شماتها … فأولها خزي وآخرها ذم

فخالط رواة العلم واصحب خيارهم … فصحبتهم زين وخلطتهم غنم
৩ - এবং আহমাদ ইবন উমার ইবন উসফুর বলেছেন:

ইলমের (জ্ঞানের) সাথেই চলো যেদিকে ইলম চলে … আর ইলম সম্পর্কে তাদের সাথেই আলোচনা করো যাদের বোধশক্তি আছে

কেননা ইলমের মধ্যেই রয়েছে অন্ধত্ব থেকে হৃদয়ের মুক্তি … আর সেই দ্বীনের উপর সাহায্য যার আদেশ সুনিশ্চিত

নিশ্চয়ই আমি দেখেছি যে অজ্ঞতা তার অধিকারীকে তুচ্ছ করে … আর জাতির মাঝে জ্ঞানী ব্যক্তিকে ইলমই উচ্চমর্যাদায় আসীন করে

সে বয়সে ছোট হওয়া সত্ত্বেও জাতির বড় হিসেবে গণ্য হয় … এবং তাদের মধ্যে তার কথা ও সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়

সেই ব্যক্তির মাঝে কী বা আশা থাকতে পারে যার মাথা পেকে সাদা হয়ে গেছে … আর যে নিজের জীবন অতিবাহিত করে দিয়েছে মূর্খ ও নির্বোধ হিসেবে

সে সকাল-সন্ধ্যা সর্বদা উদরপূর্তিতেই মগ্ন থাকে … যার শরীরের ভাঁজে ভাঁজে কেবল গোশত আর চর্বি স্তূপ হয়েছে

যখন সেই অসহায় ব্যক্তিকে তার দ্বীনের কোনো বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় … তখন তার চেহারায় অক্ষমতাজনিত ঘাম ফুটে ওঠে

তোমার চোখ কি এর চেয়ে কুৎসিত কোনো দৃশ্য দেখেছে … যে একজন বৃদ্ধ অথচ তার কাছে কোনো জ্ঞান নেই, কোনো প্রজ্ঞা নেই

সে তো এক নিকৃষ্ট মন্দাবস্থা, সুতরাং তার অপদস্থ হওয়া থেকে সতর্ক থাকো … কারণ এর শুরু হলো লাঞ্ছনা আর শেষ হলো নিন্দা

অতএব ইলম বর্ণনাকারীদের সাথে মেলামেশা করো এবং তাদের মধ্যে যারা শ্রেষ্ঠ তাদের সাহচর্যে থাকো … কেননা তাদের সাহচর্য হলো সৌন্দর্য আর তাদের সাথে মেলামেশা হলো মহা সম্পদ
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ولا تعدون عيناك عنهم فإنهم … نجوم إذا ماغاب نجم بدا نجم

فو الله لولا العلم مااتضح الهدى … ولا لاح من غيب الأمور لنا رسم (1)

 

4 ـ وقال أبو بكر قاسم بن مروان الوراق:

والعلم زين وتشريف لصاحبه … أتت إلينا بذا الأنباء والكتب

والعلم يرفع أقواماً بلاحسب … فكيف من كان ذا علم له حسب

فاطلب بعلمك وجه الله محتسباً … فما سوى العلم فهو اللهو واللعب (2)

 

وقال بعض المحدثين:

العلم زين وكنز لانفاد له … نعم القرين إذا ماعاقلاً صحبا

قد يجمع المرء مالاً ثم يسلبه … عما قليل فيلقى الذل والحربا

وجامع العلم مغبوطٌ به أبدا … فلا يحاذر فوتا لا ولا هربا

ياجامع العلم نعم الذخر تجمعه … لا تعدلن به ذُرّاً ولا ذهبا (3)

--------------------------------------------

(1) جامع بيان العلم وفضله 1/219 ـ 220.

(2) المرجع السابق 1/245.

(3) المرجع السابق 1/250.
তাদের থেকে তোমার দুই চোখ সরিয়ে নিও না, কারণ তারা হলো … নক্ষত্র সদৃশ; যখন একটি নক্ষত্র অদৃশ্য হয়ে যায়, অন্য একটি নক্ষত্র উদিত হয়।

আল্লাহর শপথ, যদি জ্ঞান না থাকত তবে হেদায়েত স্পষ্ট হতো না … আর অদৃশ্যের বিষয়াবলির কোনো চিহ্ন আমাদের সামনে উদ্ভাসিত হতো না (১)।

 

৪ — এবং আবু বকর কাসিম বিন মারওয়ান আল-ওয়াররাক বলেছেন:

জ্ঞান তার অধিকারীর জন্য অলংকার ও সম্মান … আমাদের কাছে এই বার্তাই নিয়ে এসেছে সংবাদ ও কিতাবসমূহ।

জ্ঞান কোনো বংশীয় মর্যাদা ছাড়াই বহু কওমকে উচ্চাসীন করে … তবে যার জ্ঞান এবং বংশীয় মর্যাদা উভয়ই আছে তার মর্যাদা কতই না মহান!

অতএব তোমার জ্ঞানের মাধ্যমে সওয়াবের আশায় আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করো … কারণ জ্ঞান ছাড়া অন্য সব কিছুই তো কেবল খেল-তামাশা ও ক্রীড়া মাত্র (২)।

 

এবং জনৈক মুহাদ্দিস বলেছেন:

জ্ঞান হলো অলংকার এবং এমন এক ভাণ্ডার যার কোনো শেষ নেই … এটি কতই না উত্তম সঙ্গী যখন কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি একে সহচর হিসেবে লাভ করে।

মানুষ সম্পদ জমা করতে পারে, কিন্তু অচিরেই তা তার থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় … ফলে সে লাঞ্ছনা ও বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়।

আর জ্ঞান আহরণকারী সর্বদা ঈর্ষণীয় মর্যাদাপ্রাপ্ত … সে এর হারিয়ে যাওয়া বা পলায়নের ভয় করে না।

হে জ্ঞান আহরণকারী! তুমি কতই না উত্তম সম্পদ জমা করছ … এর বিনিময়ে তুমি মুক্তা বা স্বর্ণ কিছুই গ্রহণ করো না (৩)।

--------------------------------------------

(১) জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি ১/২১৯ — ২২০।

(২) পূর্বোক্ত উৎস ১/২৪৫।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস ১/২৫০।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
قال ابن القيم رحمه الله تعالى: " أفضل مااكتسبته النفوس وحصلته القلوب ونال به العبد الرفعة في الدنيا والآخرة هو العلم والإيمان، ولهذا قرن بينهما سبحانه في قوله: {وقال الذين أوتوا العلم والإيمان لقد لبثتم في كتاب الله إلى يوم البعث فهذا يوم البعث} (الروم ـ 56) .

وقوله: {يرفع الله الذين آمنوا منكم والذين أوتوا العلم درجات} (المجادلة ـ 11) .

وهؤلاء خلاصة الوجود ولُبّه والمؤهلون للمراتب العالية.

ولكن أكثر الناس غالطون في حقيقة مسمى العلم والإيمان اللذين بهما السعادة والرفعة وفي حقيقتهما، حتى أن كل طائفة تظن أن مامعها من العلم والإيمان هوهذا الذي تنال به السعادة وليس كذلك بل أكثرهم ليس معهم إيمان ينجي ولا علم يرفع، بل قد سدوا على نفوسهم طرق العلم والإيمان اللذين جاء بهما الرسول صلى الله عليه وسلم ودعا إليهما الأمة وكان عليهما هو وأصحابه من بعده وتابعوهم على مناهجهم وآثارهم " (1)

مايبدأ به في الطلب:

قال الحافظ الخطيب البغدادي رحمه الله تعالى: " ينبغي للطالب أن يبدأ بحفظ كتاب الله عز وجل، إذ كان أجل العلوم وأولاها بالسبق والتقديم … فإذا رزقه الله تعالى حفظ كتابه فليحذر أن يشتغل عنه بالحديث، أوغيره من العلوم اشتغالاً يؤدي إلى نسيانه … ثم الذي يتلو القرآن من العلوم، أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وسننه، فيجب على

--------------------------------------------

(1) الفوائد ص (191) .
ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ তায়ালা বলেছেন: "আত্মা যা কিছু অর্জন করেছে, অন্তর যা কিছু হাসিল করেছে এবং যার মাধ্যমে বান্দা দুনিয়া ও আখিরাতে উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছে, তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো ইলম (জ্ঞান) ও ঈমান। এই কারণেই আল্লাহ সুবহানাহু তাঁর বাণীতে এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করেছেন: {আর যাদেরকে ইলম ও ঈমান প্রদান করা হয়েছে তারা বলবে, তোমরা তো আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছ, সুতরাং এটাই সেই পুনরুত্থান দিবস} (আর-রুম: ৫৬)।

এবং তাঁর বাণী: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে ইলম দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদাকে অনেক ধাপ উঁচুতে তুলে ধরবেন} (আল-মুজাদালাহ: ১১)।

এরাই হলো অস্তিত্বের নির্যাস ও মজ্জা এবং উচ্চ মর্যাদার যোগ্য অধিকারী।

কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ইলম ও ঈমানের প্রকৃত নামকরণের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিতে রয়েছে যার মাধ্যমে সৌভাগ্য ও উচ্চ মর্যাদা অর্জিত হয়; এমনকি প্রতিটি দলই মনে করে তাদের কাছে থাকা ইলম ও ঈমানই হলো সেই জিনিস যার মাধ্যমে সৌভাগ্য লাভ হবে। কিন্তু বিষয়টি এমন নয়, বরং তাদের অধিকাংশের কাছেই এমন ঈমান নেই যা মুক্তি দেবে এবং এমন ইলম নেই যা মর্যাদা বৃদ্ধি করবে। বরং তারা নিজেদের নফসের ওপর ইলম ও ঈমানের সেই পথগুলো রুদ্ধ করে দিয়েছে যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়ে এসেছিলেন এবং উম্মতকে যার দিকে আহ্বান করেছিলেন, আর যার ওপর তিনি নিজে, তাঁর পরবর্তী সাহাবীগণ এবং তাঁদের মানহাজ ও পদাঙ্ক অনুসরণকারীগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।" (১)

জ্ঞান অন্বেষণে যা দিয়ে শুরু করতে হবে:

হাফিজ আল-খতিব আল-বাগদাদী রহিমাহুল্লাহ তায়ালা বলেছেন: "শিক্ষার্থীর উচিত মহান আল্লাহর কিতাব হিফজ করার মাধ্যমে শুরু করা, যেহেতু এটি সমস্ত জ্ঞানের মধ্যে সুমহান এবং অগ্রগণ্য হওয়ার সবচেয়ে বেশি দাবিদার... সুতরাং আল্লাহ তায়ালা যখন তাকে তাঁর কিতাব হিফজ করার তাওফিক দান করেন, তখন সে যেন কুরআন বাদ দিয়ে হাদীস বা অন্যান্য জ্ঞানে এমনভাবে নিমগ্ন হওয়া থেকে সতর্ক থাকে যা কুরআন ভুলে যাওয়ার কারণ হয়... অতঃপর কুরআনের পরবর্তী স্তরের জ্ঞান হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীসসমূহ ও তাঁর সুন্নাহসমূহ। সুতরাং কর্তব্য হলো...

--------------------------------------------

(১) আল-ফাওয়াইদ, পৃষ্ঠা (১৯১)।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الناس طلبها إذ كانت أسّ الشريعة، وقاعدتها، قال الله تعالى: {وماآتاكم الرسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا} (الحشر ـ 7) ، وقال تعالى: {من يطع الرسول فقد أطاع الله} (النساء ـ 80) وقال: {وماينطق عن الهوى} (النجم ـ 3) " (1) .

وقال ابن عبد البر رحمه الله تعالى: " فأول العلم حفظ كتاب الله جل وعز وتفههمه، وكل مايعين على فهمه فواجب طلبه معه.." (2)

وقال: " القرآن أصل العلم، فمن حفظه قبل بلوغه، ثم فرغ إلى مايستعين به على فهمه من لسان العرب كان ذلك له عوناً كبيراً على مراده منه، ومن سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم ينظر في ناسخ القرآن ومنسوخه وأحكامه، ويقف على اختلاف العلماء واتفاقهم في ذلك، وهو أمر قريب على من قربه الله عز وجل عليه، ثم ينظر في السنن المأثورة الثابتة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فبها يصل الطالب إلى مراد الله عز وجل في كتابه، وهي تفتح له أحكام القرآن فتحاً " (3)

وقال: " واعلم ـ رحمك الله ـ أن طلب العلم في زماننا هذا وفي بلدنا، قد حاد أهله عن طريق سلفهم، وسلكوا في ذلك مالم يعرفه أئمتهم، وابتدعوا في ذلك مابان به جهلهم، وتقصيرهم عن مراتب العلماء قبلهم، فطائفة منهم تروي الحديث وتسمعه، قد رضيت بالدؤوب في جمع مالا تفهم، وقنعت بالجهل في حمل مالا تعلم،

--------------------------------------------

(1) الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع 1/106 ـ 111.

(2) جامع بيان العلم وفضله 2/1129.

(3) المرجع السابق 2/130.
মানুষ এটি অন্বেষণ করত কারণ এটি ছিল শরীয়তের মূল ভিত্তি ও তার মূলনীতি। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (আল-হাশর: ৭), এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} (আন-নিসা: ৮০) এবং তিনি বলেছেন: {আর তিনি মনগড়া কথা বলেন না} (আন-নাজম: ৩)। (১) .

ইবনে আব্দুল বার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: "জ্ঞানের সূচনা হলো মহিমান্বিত ও প্রতাপশালী আল্লাহর কিতাব মুখস্থ করা এবং তা অনুধাবন করা। আর যা কিছু তা বোঝার ক্ষেত্রে সাহায্য করে, তার অন্বেষণ করাও এর সাথে আবশ্যক (ওয়াজিব)..." (২)

তিনি আরও বলেছেন: "কুরআন হলো জ্ঞানের মূল। সুতরাং যে ব্যক্তি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে এটি মুখস্থ করল, এরপর আরবী ভাষা থেকে যা কিছু তা বুঝতে সাহায্য করে সেদিকে মনোনিবেশ করল, তবে তা তার জন্য কুরআন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে এক বিরাট সহায়ক হবে। এরপর সে কুরআনের নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসূখ (রহিত) এবং এর বিধানাবলির দিকে দৃষ্টি দেবে। আর এ বিষয়ে আলেমদের মতপার্থক্য ও ঐকমত্য সম্পর্কে অবগত হবে। আর এটি সেই ব্যক্তির জন্য সহজ, যার জন্য প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ এটি সহজ করে দিয়েছেন। এরপর সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত ও প্রমাণিত সুন্নাহসমূহের দিকে দৃষ্টি দেবে, কারণ এর মাধ্যমেই জ্ঞানান্বেষী ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবে প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর উদ্দেশ্য পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে এবং এটি তার জন্য কুরআনের বিধানসমূহকে স্পষ্টভাবে উন্মোচিত করে দেবে।" (৩)

তিনি আরও বলেছেন: "জেনে রেখো—আল্লাহ তোমার ওপর রহমত বর্ষণ করুন—আমাদের বর্তমান সময়ে এবং আমাদের ভূখণ্ডে জ্ঞান অন্বেষণকারীরা তাদের সালাফদের (পূর্বসূরিদের) পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তারা এমন পথে পরিচালিত হয়েছে যা তাদের ইমামগণ জানতেন না। তারা এক্ষেত্রে এমন বিষয় উদ্ভাবন করেছে যার মাধ্যমে তাদের অজ্ঞতা এবং তাদের পূর্ববর্তী আলেমদের মর্তবার তুলনায় তাদের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে। তাদের একদল হাদীস বর্ণনা করে এবং শ্রবণ করে, অথচ তারা যা বোঝে না তা সংগ্রহ করার অবিরাম প্রচেষ্টাতেই সন্তুষ্ট হয়ে গেছে এবং যা তারা জানে না তা বহন করার অজ্ঞতাতেই তুষ্ট রয়েছে,"

--------------------------------------------

(১) আল-জামি লি-আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি ১/১০৬-১১১।

(২) জামি বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি ২/১১২৯।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস ২/১৩০।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
فجمعوا الغث والسمين، والصحيح والسقيم، والحق والكذب، في كتاب واحد، وربما في ورقة واحد، ويدينون بالشيء وضده، ولا يعرفون مافي ذلك عليهم، قد شغلوا أنفسهم بالاستكثار، عن التدبر والاعتبار، فألسنتهم تروي العلم، وقلوبهم قد خلت من الفهم، غاية أحدهم معرفة الكنية الغريبة، والاسم الغريب والحديث المنكر، وتجده قد جهل مالا يكاد يسع أحداً جهله من علم صلاته، وحجّه، وصيامه، وزكاته.

وطائفة هي في الجهل كتلك، أو أشد، لم يعنوا بحفظ سنة، ولا الوقوف على معانيها، ولا بأصل من القرآن، ولا اعتنوا بكتاب الله عز وجل فحفظا تنزيله، ولا عرفوا ماللعلماء في تأويله، ولا وقفوا على أحكامه، ولا ت فقهوا في حلاله وحرامه، قد اطرحوا علم السنن والآثار وزهدوا فيها وأضربوا عنها فلم يعرفوا الإجماع من الاختلاف، ولا فرقوا بين التنازع والائتلاف، بل عولوا على حفظ مادون لهم من الرأي والاستحسان الذي كان عند العلماء آخر العلم والبيان، وكان الأئمة يبكون على م اسلف وسبق لهم ـ من الفتوى ـ فيه ويودن أن حظهم السلامة منه " (1) .

وقال: " فعليك ياأخي بحفظ الأصول والعناية بها، واعلم أن من عني بحفظ السنن والأحكام المنصوصة في القرآن، ونظر أقاويل الفقهاء، فجعله عوناً له على اجتهاده، ومفتاحاً لطرائق النظر، وتفسير الجمل المحتمله للمعاني، ولم يقلد أحداً منهم تقليد السنن التي يجب الانقياد إليها على كل حال دون نظر، ولم يرح نفسه مما أخذ العلماء به أنفسهم من حفظ السنن، وتدبرها، واقتدى بهم في البحث

--------------------------------------------

(1) جامع بيان العلم وفضله 2/1135.
সুতরাং তারা অসার ও সারগর্ভ, বিশুদ্ধ ও ত্রুটিযুক্ত এবং সত্য ও মিথ্যাকে এক কিতাবে, এমনকি কখনো একই পাতায় একত্র করেছে। তারা কোনো বিষয় এবং তার বিপরীত—উভয়টিকেই ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করে, অথচ এতে তাদের ওপর কী দায় বর্তাবে তা তারা জানে না। তারা গবেষণামূলক চিন্তা ও শিক্ষা গ্রহণের পরিবর্তে কেবল আধিক্য লাভের নেশায় নিজেদের ব্যস্ত রেখেছে। ফলে তাদের রসনা জ্ঞান বর্ণনা করে ঠিকই, কিন্তু তাদের অন্তর অনুধাবন থেকে শূন্য। তাদের একেকজনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো অপরিচিত উপনাম (কুনিয়াত), অপরিচিত নাম এবং মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) হাদিস সম্পর্কে জানা। অথচ আপনি তাকে দেখবেন যে, সে সালাত, হজ, সিয়াম ও জাকাত সংক্রান্ত এমন সব জ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞ যা না জানা কারোর জন্যই সঙ্গত নয়।

আর অন্য একটি দল মূর্খতায় তাদের মতোই অথবা তাদের চেয়েও অধম। তারা সুন্নাহর হিফজ কিংবা তার অর্থ অনুধাবনের প্রতি কোনো গুরুত্ব দেয়নি এবং কুরআনের কোনো মূলনীতির প্রতিও কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি। তারা মহান আল্লাহর কিতাবের প্রতি যত্নশীল হয়নি যে তার অবতীর্ণ বাণীগুলো মুখস্থ করবে, কিংবা তারা তার ব্যাখ্যায় উলামায়ে কেরামের অভিমতগুলোও জানল না। তারা তার বিধানগুলোর ওপর স্থির থাকেনি এবং তার হালাল ও হারাম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেনি। তারা সুন্নাহ ও আসার (সাহাবী ও তাবিঈদের বর্ণনা) সংক্রান্ত জ্ঞান ছুড়ে ফেলেছে এবং এর প্রতি বিমুখতা ও অনাগ্রহ প্রদর্শন করেছে। ফলে তারা ইজমা (ঐকমত্য) ও ইখতিলাফের (মতভেদ) মধ্যে পার্থক্য করতে পারেনি এবং বিরোধ ও মিলের মাঝেও পার্থক্য করতে শেখেনি। বরং তারা তাদের জন্য লিপিবদ্ধ করা ব্যক্তিগত অভিমত (রায়) এবং ইসতিহসানের (পছন্দমাফিক সিদ্ধান্ত) ওপর নির্ভর করেছে, যা উলামায়ে কেরামের নিকট ছিল জ্ঞান ও ব্যাখ্যার সর্বশেষ স্তরের বিষয়। এমনকি ইমামগণ তাঁদের দেওয়া পূর্ববর্তী ফতোয়াগুলোর জন্য ক্রন্দন করতেন এবং এই কামনা করতেন যেন তা থেকে মুক্তি পেয়ে নিরাপদে থাকতে পারেন। (১)

তিনি বলেন: "হে আমার ভাই! তোমার কর্তব্য হলো মূলনীতিসমূহ (উসুল) মুখস্থ করা ও সেগুলোর প্রতি যত্নশীল হওয়া। জেনে রেখো, যে ব্যক্তি সুন্নাহ এবং কুরআনে বর্ণিত সুস্পষ্ট বিধানসমূহ সংরক্ষণের প্রতি যত্নশীল হয় এবং ফকিহদের মতামতগুলো পর্যালোচনা করে সেগুলোকে তার ইজতিহাদের জন্য সহায়ক, পর্যালোচনার পদ্ধতির চাবিকাঠি এবং বিভিন্ন অর্থের সম্ভাবনাপূর্ণ বাক্যগুলোর ব্যাখ্যা হিসেবে গ্রহণ করে; এবং সে তাদের কাউকেও সেভাবে অন্ধ অনুসরণ করে না যেভাবে কোনো প্রকার বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই সুন্নাহর অনুসরণ করতে হয়; এবং উলামায়ে কেরাম সুন্নাহর হিফজ ও তা নিয়ে গভীর চিন্তার ক্ষেত্রে যে শ্রম স্বীকার করেছেন তা থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রাখে না, বরং গবেষণার ক্ষেত্রে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে—"

--------------------------------------------

(১) জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি ২/১১৩৫।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
والتفهم، والنظر، وشكر لهم سعيهم فيما أفادوه، ونبهوا عليه، وحمدهم على صوابهم الذي هو أكثر أقوالهم، ولم يبرئهم من الذلل، كما لم يبرؤوا أنفسهم منه، فهذا هو الطالب المتمسك بما عليه السلف الصالح، وهو المصيب لحظه، والمعاين لرشده، والمتبع سنة نبيه صلى الله عليه وسلم، وهدي صحابته رضي الله عنهم، وعمن اتبع بإحسان آثارهم، ومن أعفى نفسه من النظر، وأضرب عما ذكرنا، وعارض السنن برأيه، ورام أن يردها في إلى مبلغ نظره، فهو ضال مضل، ومن جهل ذلك كله أيضاً وتقحم في الفتوى بلا علم، فهو أشد عمى وأضل سبيلاً.

لقد أسمعت لو ناديت حياً … ولكن لا حياة لمن تنادي

وقد علمت أنني لا أسلم من جاهل معاند لا يعلم " (1)

وقال ابن الجوزي رحمه الله تعالى: " فينبغي لذي الهمة أن يترقى إلى الفضائل، فيتشاغل بحفظ القرآن وتفسيره، وبحديث الرسول صلى الله عليه وسلم، وبمعرفة سيره وسير أصحابه، والعلماء بعدهم، ليتخير مرتبة الأعلى فالأعلى، ولابد من معرفة مايقيم به لسان من النحو، ومعرفة طرف مستعمل من اللغة، والفقه أصل العلوم والتذكير حلواؤها وأعمها نفعاً " (2)

وقال النووي رحمه الله تعالى: " وأول مايبتدئ به حفظ القرآن العزيز، فهو أهم العلوم، وكان السلف لا يعملون الحديث والفقه إلا لمن يحفظ القرآن، وإذا حفظه فليحذر من الاشتغال عنه بالحديث والفقه وغيرهما، اشتغالاً يؤدي إلى نسيان شيء منه، أو تعريضه للنسيان،

--------------------------------------------

(1) جامع بيان العلم وفضله 2/1139.

(2) لفتة الكبد ص (30) .
এবং অনুধাবন ও অন্তর্দৃষ্টির সাথে, তারা যা উপকার করেছেন এবং যে বিষয়ে সচেতন করেছেন তার জন্য তাদের প্রচেষ্টার শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন। তাদের সঠিক মতামতের জন্য তাদের প্রশংসা করেন যা তাদের অধিকাংশ কথাতেই বিদ্যমান, তবে তিনি তাদের ভুলভ্রান্তি থেকে মুক্ত মনে করেন না, যেমনটা তারা নিজেরাও নিজেদের মুক্ত মনে করেননি। সুতরাং এটিই সেই জ্ঞানপিপাসু ব্যক্তি যে সালাফে সালেহীনের (সৎ পূর্বসূরিদের) আদর্শকে আঁকড়ে ধরে রাখে, এবং সেই সঠিক পথপ্রাপ্ত, নিজের হেদায়াতের প্রত্যক্ষকারী এবং তার নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাত ও তার সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) পথ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে তাদের অনুসারী। আর যে ব্যক্তি নিজেকে এই অন্তর্দৃষ্টি থেকে বিরত রাখে এবং যা আমরা উল্লেখ করেছি তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, এবং নিজ রায়ের (মতামতের) মাধ্যমে সুন্নাতসমূহের বিরোধিতা করে এবং সেগুলোকে নিজের চিন্তার সীমানায় ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, সে পথভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী। আর যে এই সব বিষয়ে অজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও জ্ঞান ছাড়া ফতোয়া প্রদানের দুঃসাহস দেখায়, সে আরও বেশি অন্ধ এবং অধিকতর পথভ্রষ্ট পথ অবলম্বনকারী।

তুমি যদি কোনো জীবিত ব্যক্তিকে ডাকতে তবে সে অবশ্যই শুনত … কিন্তু তুমি যাকে ডাকছ তার তো প্রাণই নেই

আমি নিশ্চিত যে আমি এমন কোনো একগুঁয়ে মূর্খ থেকে রেহাই পাব না যে কিছুই জানে না" (১)

ইবনুল জাওযী (রহমাতুল্লাহি তাআলা) বলেছেন: "উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তির উচিত শ্রেষ্ঠত্বের সোপানে উন্নীত হওয়া। সে যেন কুরআন হিফজ করা ও এর তাফসীর, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস এবং তাঁর সীরাত ও সাহাবীদের সীরাত এবং পরবর্তী উলামায়ে কেরামের জীবনচরিত্র সম্পর্কে জানার মাধ্যমে উচ্চ থেকে উচ্চতর মর্যাদা অন্বেষণ করে। আর ভাষা ঠিক রাখার জন্য প্রয়োজনীয় নাহু (ব্যাকরণ) এবং আরবী ভাষার বহুল ব্যবহৃত অংশগুলো জানাও অপরিহার্য। আর ফিকহ হলো সকল ইলমের মূল, এবং নসীহত বা উপদেশ প্রদান হলো এগুলোর মিষ্টান্ন ও সর্বাধিক কল্যাণকর দিক।" (২)

ইমাম নববী (রহমাতুল্লাহি তাআলা) বলেছেন: "শিক্ষা শুরুর প্রথম ধাপই হলো মহাগ্রন্থ আল-কুরআন হিফজ করা, কারণ এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইলম। সালাফে সালেহীন কুরআন হাফেজ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে হাদীস ও ফিকহ শিক্ষা দিতেন না। আর কুরআন হিফজ করার পর হাদীস, ফিকহ বা অন্য কোনো ইলমে এমনভাবে মগ্ন হওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত যা কুরআনের কোনো অংশ ভুলে যাওয়ার কারণ হয় বা ভুলে যাওয়ার ঝুঁকিতে ফেলে,

--------------------------------------------

(১) জামেউ বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি ২/১১৩৯।

(২) লাফাতুল কাবদ পৃষ্ঠা (৩০)।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وبعد حفظ القرآن يحفظ من كل فن مختصراً ويبدأ بالأهم، ومن أهمها الفقه والنحو، ثم الحديث والأصول، ثم الباقي على ماتيسر، ثم يشتغل باستشراح محفوظاته، ويعتمد من الشيوخ في كل فن أكملهم.." (1)

وقال ابن جَماعة ـ في تعداد آداب الطالب في دروسه: ـ

" النوع الأول: أن يبتدئ أولاً بكتاب الله العزيز فيتقنه حفظاً، ويجتهد على إتقان تفسيره، وسائر علومه، فإنه أصل العلوم وأمها وأهمها.

ثم يحفظ من كل فن مختصراً يجمع فيه بين طرفيه، من الحديث وعلومه، والأصولين، والنحو، والتصريف.

ولا يشتغل بذلك كله عن دراسة القرآن، وتعهده، وملازمة ورده منه، في كل يوم، أو أيام، أو جمعة، كما تقدم، وليحذر من نسيانه بعد حفظه، فقد ورد فيه أحاديث تزجر عنه، ويشتغل بشرح تلك المحفوظات على المشايخ.

وليحذر من الاعتماد في ذلك على الكتب أبداً، بل يعتمد في كل فن من هو أحسن تعليماً له، وأكثر تحقيقاً فيه، وتحصيلاً منه، وأخبرهم بالكتاب الذي قرأه ، وذلك بعد مراعاة الصفات المقدمة من الدين، والصلاح، والشفقة … وغيرها " (2)

وقال ابن مفلح رحمه الله تعالى: " قال الميموني: سألت أبا عبد الله: أيهما أحب إليك: أبدأ ابني بالقرآن، أو بالحديث؟ قال:

--------------------------------------------

(1) المجموع 1/69.

(2) تذكرة السامع والمتكلم ص (167) .
"কুরআন হিফজ করার পর প্রত্যেকটি শাস্ত্র থেকে একটি করে সংক্ষিপ্ত সার (মতন) মুখস্থ করবে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দিয়ে শুরু করবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ফিকহ এবং নাহু (ব্যাকরণ), এরপর হাদিস ও উসুল (মূলনীতি), অতঃপর অবশিষ্ট বিষয়সমূহ যা সহজসাধ্য হয়। এরপর সে তার মুখস্থকৃত বিষয়গুলোর ব্যাখ্যার কাজে আত্মনিয়োগ করবে এবং প্রতিটি শাস্ত্রে শিক্ষকদের মধ্যে যিনি সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও পারদর্শী তাঁর ওপর নির্ভর করবে।.." (১)

ইবনে জামাআহ শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণের আদব বর্ণনায় বলেন:

"প্রথম প্রকার: সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর কিতাব দিয়ে শুরু করবে এবং তা হিফজ করার মাধ্যমে সুচারুভাবে আয়ত্ত করবে। এর তাফসির এবং অপরাপর সকল জ্ঞান আয়ত্ত করতে কঠোর সাধনা করবে; কেননা এটিই সকল জ্ঞানের মূল, উৎস এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এরপর প্রতিটি শাস্ত্র থেকে একটি করে সংক্ষিপ্ত সার (মতন) মুখস্থ করবে যা উক্ত বিষয়ের মৌলিক দিকগুলোকে একত্রিত করে; যেমন হাদিস ও উলুমুল হাদিস, উসুলাইন (উসুলে দ্বীন ও উসুলে ফিকহ), নাহু এবং তাসরিফ।

আর এই সমস্ত বিষয়ে মগ্ন হওয়া যেন তাকে কুরআন অধ্যয়ন, এর নিয়মিত চর্চা এবং প্রতিদিনের, কয়েক দিনের অথবা প্রতি সপ্তাহের তিলাওয়াতের নির্দিষ্ট রুটিন (অজিফা) পালন করা থেকে বিমুখ না করে, যা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। কুরআন হিফজ করার পর তা ভুলে যাওয়া থেকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে; কেননা এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবাণী সম্বলিত হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আর সে মুখস্থকৃত মতনগুলোর ব্যাখ্যার জন্য শাইখদের নিকট পাঠ গ্রহণ করবে।

এক্ষেত্রে সে যেন কখনোই কেবল কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর না করে, বরং প্রতিটি শাস্ত্রে এমন শিক্ষকের ওপর নির্ভর করবে যিনি পাঠদানে অধিক দক্ষ, অধিক সূক্ষ্মদর্শী, অধিক জ্ঞান অর্জনকারী এবং পঠিত কিতাব সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ। তবে তা হতে হবে ইতিপূর্বে বর্ণিত দ্বীনদারিতা, নেককারিতা, মায়া-মমতা … ইত্যাদি গুণাবলি বিবেচনা করার পর।" (২)

ইবনে মুফলিহ রহমাতুল্লাহি তাআলা বলেন: "মায়মুনি বলেছেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলাম: আপনার নিকট কোনটি অধিক পছন্দনীয়: আমি কি আমার সন্তানকে কুরআন দিয়ে শুরু করাব, নাকি হাদিস দিয়ে? তিনি বললেন:

--------------------------------------------

(১) আল-মাজমু ১/৬৯।

(২) তাজকিরাতুস সামি ওয়াল মুতাকাল্লিম পৃষ্ঠা (১৬৭)।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
لا، بالقرآن. قلت: أعلمه كله؟ قال: إلا أن يعسر، فتعلمه منه.

ثم قال لي: إذا قرأ أولاً تعود القراءة ثم لزمها. وعلى هذا أتباع الإمام أحمد إلى زمننا هذا " (1)

بعض أسباب حرمان العلم:

قال السفاريني ـ في غذاء الألباب ـ: وحرمان العلم يكون بستة أوجه:

أحدها: ترك السؤال.

الثاني: سوء الإنصات وعدم إلقاء السمع.

الثالث: سوء الفهم.

الرابع: عدم الحفظ.

الخامس: عدم نشره وتعليمه، فمن خزن علمه ولم ينشره، ابتلاه الله بنسيانه جزاء وفاقاً.

السادس: عدم العمل به، فإن العمل به، يوجب تذكره، وتدبره، ومراعاته، والنظر فيه، فإذا أهمل العمل به نسيه.

قال بعض السلف: كنا نستعين على حفظ العلم بالعمل به.

وقال بعضهم: العلم يهتف بالعمل، فإن أجابه وإلا ارتحل، فما استُدر العلم، واستُجلب بمثل العمل به (2) .

--------------------------------------------

(1) الآداب الشرعية 2/35.

(2) غذاء الألباب 1/42.
না, কুরআনের মাধ্যমে। আমি বললাম: আমি কি এর পুরোটা শিখব? তিনি বললেন: যদি কষ্টসাধ্য না হয়, তবে তা থেকে শিখবে।

তারপর তিনি আমাকে বললেন: যখন কেউ প্রথমে পাঠ করে, তখন পাঠের অভ্যাস হয়ে যায় এবং তা আবশ্যক হয়ে পড়ে। আমাদের এই সময় পর্যন্ত ইমাম আহমদের অনুসারীগণ এর উপরেই রয়েছেন। (১)

ইলম বা জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হওয়ার কিছু কারণ:

আস-সাফারিনি —গিজাউল আলবাব গ্রন্থে— বলেছেন: ইলম থেকে বঞ্চিত হওয়া ছয়টি কারণে হয়ে থাকে:

প্রথমটি: প্রশ্ন করা বর্জন করা।

দ্বিতীয়টি: মনোযোগ দিয়ে না শোনা এবং কর্ণপাত না করা।

তৃতীয়টি: বোধশক্তির অভাব বা ভুল বুঝা।

চতুর্থটি: হিফজ বা মুখস্থ না করা।

পঞ্চমটি: তা প্রচার ও শিক্ষা না দেওয়া। সুতরাং যে ব্যক্তি তার ইলমকে সঞ্চয় করে রাখল এবং তা প্রচার করল না, আল্লাহ তাকে উপযুক্ত বিনিময় হিসেবে তা ভুলিয়ে দেওয়ার পরীক্ষায় নিপতিত করেন।

ষষ্ঠটি: সে অনুযায়ী আমল না করা। কেননা আমল করলে তা স্মরণ থাকে, তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা হয়, তার প্রতি যত্নশীল হওয়া যায় এবং তাতে গভীর দৃষ্টি বজায় থাকে। কিন্তু যখনই সে আমল করতে অবহেলা করে, তখনই তা ভুলে যায়।

জনৈক সালাফ বলেছেন: আমরা আমল করার মাধ্যমে ইলম সংরক্ষণে সাহায্য নিতাম।

এবং তাদের কেউ কেউ বলেছেন: ইলম আমলকে আহ্বান করে; যদি সে সাড়া দেয় তবে ইলম থাকে, অন্যথায় তা প্রস্থান করে। সুতরাং আমলের মতো অন্য কিছু দিয়ে ইলমকে এমনভাবে ফলপ্রসূ ও অর্জিত করা যায় না (২)।

--------------------------------------------

(১) আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ ২/৩৫।

(২) গিজাউল আলবাব ১/৪২।