(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: -)
الرحيق المختوم القسم: السيرة النبوية
الكتاب: الرحيق المختوم
المؤلف: صفي الرحمن المباركفوري [ت 1427 هـ]
الناشر: دار الفكر (طبعة خاصة بدار ومكتبة الهلال) - بيروت
عام النشر: 2002 م
عدد الصفحات: 459
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আর-রাহীকুল মাখতূম বিভাগ: সীরাতুন্নবী
গ্রন্থ: আর-রাহীকুল মাখতূম
লেখক: সফিউর রহমান মোবারকপুরী [মৃত্যু ১৪২৭ হিজরি]
প্রকাশক: দারুল ফিকর (দার ও মাকতাবাতুল হিলাল-এর বিশেষ সংস্করণ) - বৈরুত
প্রকাশকাল: ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫৯
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ১)
المدخلبحث في السّيرة النّبويّة على صاحبها أفضل الصّلاة والسّلام
تأليف فضيلة الشيخ صفي الرحمن المباركفوري الجامعة السلفيّة- الهند
البحث الفائز بالجائزة الأولى لمسابقة السيرة النبويّة التي نظمتها رابطة العالم الاسلامي
دار الفكر: طبعة خاصة بدار ومكتبة الهلال بيروت- لبنان
সূচনানবি করীম (যাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর সীরাত বিষয়ক একটি গবেষণা
রচনা: শায়খ সফিউর রহমান মুবারকপুরী, জামিয়া সালাফিয়্যাহ- ভারত
রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামী আয়োজিত সীরাতুন্নবী প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষণা
দারুল ফিকর: দার ও মাকতাবাতুল হিলাল বৈরুত- লেবাননের বিশেষ সংস্করণ
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ৩)
كلمة معالي الشيخ محمد علي الحركان الأمين العام لرابطة العالم الإسلاميالحمد لله رب العالمين، خالق السموات والأرض، وجاعل الظلمات والنور، وصلى الله على سيدنا محمد خاتم الأنبياء والرسل أجمعين، بشّر وأنذر، ووعد وأوعد، أنقذ الله به البشر من الضلالة، وهدى الناس إلى صراط مستقيم، صراط الله الذي له ما في السموات وما في الأرض ألا إلى الله تصير الأمور، وبعد:
فلما أعطى الله سبحانه وتعالى لرسوله صلى الله عليه وسلم الشفاعة والدرجة الرفيعة، وهدى المسلمين إلى محبته، وجعل اتباعه من محبته تعالى فقال تعالى: قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ، فكان هذا من الأسباب التي صيرت القلوب تهفو إلى محبته صلى الله عليه وسلم، وتتلمس الأسباب التي توثق الصلة فيما بينها وبينه صلى الله عليه وسلم، فمنذ فجر الإسلام والمسلمون يتسابقون إلى إبراز محاسنه، ونشر سيرته العطرة صلى الله عليه وسلم، وسيرته صلى الله عليه وسلم هي أقواله وأفعاله وأخلاقه الكريمة، فقد قالت السيدة عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم رضي الله عنها:
«كان خلقه القرآن، والقرآن كتاب الله وكلماته التامة، ومن كان كذلك كان أحسن الناس وأكملهم وأحقهم بمحبة خلق الله جميعا» .
ولم يزل المسلمون متمسكين بهذه المحبة الغالية التي انبثق عنها المؤتمر الإسلامي الأول للسيرة النبوية الشريفة الذي عقد بباكستان سنة 1396 هـ، حيث أعلنت الرابطة في هذا المؤتمر عن جوائز مالية مقدارها مائة وخمسون ألف ريال سعودي، توزع على أحسن خمسة بحوث في السيرة النبوية بالشروط الآتية:
1- أن يكون البحث متكاملا مع ترتيب الحوادث التاريخية حسب وقوعها.
2- أن يكون جيدا ولم يسبق نشره من قبل.
মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের জেনারেল সেক্রেটারি মহামান্য শাইখ মুহাম্মদ আলী আল-হারাকানের বাণীসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি আসমান ও জমিনের স্রষ্টা এবং অন্ধকার ও আলোর প্রবর্তক। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, যিনি সকল নবী ও রাসূলগণের পরিসমাপ্তি দানকারী, তিনি সুসংবাদ দিয়েছেন ও সতর্ক করেছেন এবং প্রতিশ্রুতি ও হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে মানবজাতিকে পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করেছেন এবং মানুষকে সরল পথের দিকে পরিচালিত করেছেন; সেই আল্লাহর পথ, যাঁর মালিকানায় আসমান ও জমিনের সবকিছু রয়েছে। জেনে রেখো, সকল বিষয় আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। অতপর:
যেহেতু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শাফাআত ও উচ্চ মর্যাদা দান করেছেন এবং মুসলিমদের তাঁর ভালোবাসার দিকে হেদায়াত করেছেন, আর তাঁর অনুসরণকে স্বয়ং মহান আল্লাহর ভালোবাসার মাধ্যম করেছেন—যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "বলো, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।" এটিই ছিল অন্যতম কারণ যা হৃদয়গুলোকে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভালোবাসায় ব্যাকুল করেছে এবং তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাথে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার মাধ্যমগুলো অন্বেষণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই মুসলিমরা তাঁর গুণাবলী প্রকাশে এবং তাঁর সুগন্ধিযুক্ত সীরাত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচারে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে আসছে। আর তাঁর সীরাত হলো মূলত তাঁর বাণী, কর্ম ও মহৎ চরিত্র। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিনী সায়্যিদাহ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন:
«তাঁর চরিত্র ছিল আল-কুরআন। আর কুরআন আল্লাহর কিতাব ও তাঁর পরিপূর্ণ বাণী। যাঁর অবস্থা এমন ছিল, তিনি মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম, সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ এবং আল্লাহর সকল সৃষ্টির নিকট ভালোবাসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি হকদার ছিলেন।»
মুসলিমরা সর্বদা এই মহামূল্যবান ভালোবাসাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে, যার ফলশ্রুতিতে সীরাতে নবীর ওপর প্রথম আন্তর্জাতিক ইসলামী সম্মেলনটি ১৩৯৬ হিজরি সনে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে রাবেতা (মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ) এই সম্মেলনে সীরাতে নবীর ওপর শ্রেষ্ঠ পাঁচটি গবেষণার জন্য এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার সৌদি রিয়াল আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করে, যা নিম্নলিখিত শর্তসাপেক্ষে প্রদান করা হবে:
১- গবেষণাটি ঐতিহাসিক ঘটনাসমূহ সংঘটিত হওয়ার কালানুক্রম অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ হতে হবে।
২- গবেষণাটি উন্নত মানের হতে হবে এবং ইতিপূর্বে প্রকাশিত হওয়া যাবে না।
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ৪)
3- أن يذكر الباحث جميع المخطوطات والمصادر العلمية التي اعتمد عليها في كتابة البحث.
4- أن يكتب الباحث ترجمة كاملة ومفصلة عن حياته، مع ذكر مؤهلاته العلمية ومؤلفاته إن وجدت.
5- أن يكتب البحث بخط واضح، ويستحسن نسخه على الآلة الكاتبة.
6- تقبل البحوث باللغة العربية واللغات الحية الآخرى.
7- يبدأ قبول البحوث من غرة ربيع الثاني 1396 هـ، وينتهي موعد القبول بغرة محرم 1397 هـ.
8- تسلم البحوث إلى الأمانة العامة لرابطة العالم الإسلامي بمكة المكرمة في ظرف مختوم، وتضع الأمانة عليه رقما تسلسليا خاصا.
9- تقوم بفحص البحوث لجنة عليا من كبار العلماء في هذا الشأن.
فكان هذا الإعلان حافزا لتسابق العلماء الذين وهبهم الله حب رسوله صلى الله عليه وسلم، واستعدت رابطة العالم الإسلامي لاستقبال هذه البحوث باللغات العربية والإنجليزية والأردية وأية لغة أخرى.
وبدأ الإخوان الكرام في إرسال بحوثهم بهذه اللغات، وقد بلغ عددها واحدا وسبعين ومائة بحث منها:
84 بحثا باللغة العربية، 64 بحثا باللغة الأردية، 21 بحثا باللغة الإنجليزية، وبحث واحد فقط باللغة الفرنسية، وبحث واحد فقط باللغة الهوساوية.
وقد كونت الرابطة لجنة من كبار العلماء لدراسة هذه البحوث وترتيبها حسب استحقاق الفائز للجائزة، وقد كان الفائزون بالجوائز حسب الترتيب الآتي:
1- الفائز بالجائزة الأولى الشيخ صفي الرحمن المباركفوري من الجامعة السلفية بالهند، ومقدار جائزته خمسون ألف ريال سعودي.
2- الفائز بالجائزة الثانية الدكتور مجيد علي خان من الجامعة المحلية الإسلامية نيودلهي الهند، ومقدار جائزته أربعون ألف ريال سعودي.
৩- গবেষক তার গবেষণাপত্র লিখনে ব্যবহৃত সকল পাণ্ডুলিপি ও বৈজ্ঞানিক উৎস উল্লেখ করবেন।
৪- গবেষক তার জীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত জীবনী লিখবেন, সাথে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কোনো রচনা থাকলে তা উল্লেখ করবেন।
৫- গবেষণাপত্রটি স্পষ্ট অক্ষরে লিখতে হবে, এবং টাইপরাইটারে টাইপ করা উত্তম।
৬- গবেষণাপত্রসমূহ আরবি এবং অন্যান্য জীবন্ত ভাষায় গ্রহণ করা হবে।
৭- গবেষণাপত্র গ্রহণ ১৩৯৬ হিজরির রবিউস সানি মাসের ১ তারিখ থেকে শুরু হবে এবং ১৩৯৭ হিজরির মহররম মাসের ১ তারিখে শেষ হবে।
৮- গবেষণাপত্রসমূহ মক্কা মুকাররমায় রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামীর সাধারণ সচিবালয়ে সিলমোহরকৃত খামে জমা দিতে হবে এবং সচিবালয় তাতে একটি বিশেষ ক্রমিক নম্বর প্রদান করবে।
৯- এই বিষয়ে জ্যেষ্ঠ আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চতর কমিটি গবেষণাপত্রগুলো যাচাই করবে।
এই ঘোষণাটি সেই সকল আলেমদের প্রতিযোগিতার উদ্দীপক হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যাদেরকে আল্লাহ তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ভালোবাসা দান করেছেন। রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামী আরবি, ইংরেজি, উর্দু এবং অন্য যেকোনো ভাষায় এই গবেষণাপত্রগুলো গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
আর সম্মানিত ভাইয়েরা এই ভাষাসমূহে তাঁদের গবেষণাপত্র পাঠাতে শুরু করেন। সেগুলোর সংখ্যা একশত একাত্তরটিতে পৌঁছেছিল, যার মধ্যে ছিল:
৮৪টি গবেষণা আরবি ভাষায়, ৬৪টি গবেষণা উর্দু ভাষায়, ২১টি গবেষণা ইংরেজি ভাষায়, মাত্র ১টি গবেষণা ফরাসি ভাষায় এবং মাত্র ১টি গবেষণা হাউসা ভাষায়।
রাবেতা এই গবেষণাপত্রগুলো পর্যালোচনা করার জন্য এবং পুরস্কার বিজয়ীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে ক্রমানুসারে সাজাতে জ্যেষ্ঠ আলেমদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে। পুরস্কার বিজয়ীদের ক্রমতালিকা ছিল নিম্নরূপ:
১- প্রথম পুরস্কার বিজয়ী হলেন ভারতের জামিয়া সালাফিয়্যার শায়খ সফিউর রহমান মোবারকপুরী, এবং তাঁর পুরস্কারের পরিমাণ ছিল পঞ্চাশ হাজার সৌদি রিয়াল।
২- দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ী হলেন ভারতের নয়া দিল্লির জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়া থেকে ডক্টর মজিদ আলী খান, এবং তাঁর পুরস্কারের পরিমাণ ছিল চল্লিশ হাজার সৌদি রিয়াল।
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ৫)
3- الفائز بالجائزة الثالثة الدكتور نصير أحمد ناصر رئيس الجامعة الإسلامية بباكستان، ومقدار جائزته ثلاثون ألف ريال سعودي.
4- الفائز بالجائزة الرابعة الأستاذ حامد محمود محمد منصور ليمود من جمهورية مصر العربية، ومقدار جائزته عشرون ألف ريال سعودي.
5- الفائز بالجائزة الخامسة الأستاذ عبد السلام هاشم حافظ من المدينة المنورة المملكة العربية السعودية، ومقدار جائزته عشرة آلاف ريال سعودي.
وقد أعلنت الرابطة أسماء الفائزين في المؤتمر الإسلامي الآسيوي الأول الذي عقد في كراتشي في شهر شعبان سنة 1398 هـ. كما أعلن عن ذلك في جميع الصحف.
وبهذه المناسبة أقامت الأمانة العامة للرابطة بمقرها بمكة المكرمة حفلا كبيرا، تحت إشراف صاحب السمو الملكي الأمير سعود بن عبد المحسن بن عبد العزيز، وكيل إمارة منطقة مكة المكرمة، نيابة عن صاحب السمو الملكي الأمير فواز بن عبد العزيز أمير منطقة مكة المكرمة، حيث تفضل سموه بتوزيع الجوائز على أصحابها، وذلك صباح يوم السبت الموافق 12 ربيع الأول سنة 1399 هـ. وفي هذا الحفل أعلنت الأمانة العامة أنها ستقوم بطبع البحوث الفائزة ونشرها بعدة لغات، وتنفيذا لذلك ها هي ذي تضع بين يدي القارئ الكريم باكورة طبعات تلك البحوث، وهو بحث الشيخ صفي الرحمن المباركفوري، من الجامعة السلفية بالهند لأنه الفائز بالجائزة الأولى، وستوالي طبع بقية البحوث الفائزة حسب ترتيبها، سائلين الله سبحانه وتعالى أن يتقبل منا جميعا أعمالنا خالصة لوجهه الكريم، إنه نعم المولى ونعم النصير. وصلّى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
الأمين العام لرابطة العالم الإسلامي محمد بن علي الحركان
৩- তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী হলেন পাকিস্তানের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর নাসির আহমদ নাসির, এবং তাঁর পুরস্কারের পরিমাণ ত্রিশ হাজার সৌদি রিয়াল।
৪- চতুর্থ পুরস্কার বিজয়ী হলেন আরব প্রজাতন্ত্র মিশরের উস্তাদ হামিদ মাহমুদ মুহাম্মদ মানসুর লিমুদ, এবং তাঁর পুরস্কারের পরিমাণ বিশ হাজার সৌদি রিয়াল।
৫- পঞ্চম পুরস্কার বিজয়ী হলেন সৌদি আরব রাজ্যের মদীনা মুনাওয়ারার উস্তাদ আবদুস সালাম হাশেম হাফিজ, এবং তাঁর পুরস্কারের পরিমাণ দশ হাজার সৌদি রিয়াল।
রাবিতা (মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ) ১৩৯৮ হিজরি সনের শাবান মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত প্রথম এশীয় ইসলামি সম্মেলনে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে। একইভাবে সকল সংবাদপত্রেও এটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এই উপলক্ষে রাবিতার সাধারণ সচিবালয় মক্কা মুকাররমায় তার সদর দপ্তরে এক বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি মক্কা অঞ্চলের আমির হিজ রয়্যাল হাইনেস প্রিন্স ফাওয়াজ বিন আবদুল আজিজের প্রতিনিধিত্বকারী মক্কা অঞ্চলের ডেপুটি গভর্নর হিজ রয়্যাল হাইনেস প্রিন্স সাউদ বিন আবদুল মুহসিন বিন আবদুল আজিজের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হিজ রয়্যাল হাইনেস ১২ই রবিউল আউয়াল ১৩৯৯ হিজরি মোতাবেক শনিবার সকালে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। এই অনুষ্ঠানে সাধারণ সচিবালয় ঘোষণা করে যে, তারা বিজয়ী গবেষণাগুলো মুদ্রণ করবে এবং বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশ করবে। সেই ঘোষণা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে, তারা সম্মানিত পাঠকের হাতে এই গবেষণাগুলোর প্রথম সংস্করণ পেশ করছে। এটি ভারতের জামিয়া সালাফিয়া-এর শাইখ সফিউর রহমান মুবারকপুরীর গবেষণা, কারণ তিনি প্রথম পুরস্কার বিজয়ী। বিজয়ী অবশিষ্ট গবেষণাগুলোও ধারাবাহিকভাবে মুদ্রণ করা হবে। আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সকলের আমলসমূহকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী। আর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সাথীদের ওপর।
রাবিতা আল-আলম আল-ইসলামী-এর মহাসচিব মুহাম্মদ বিন আলী আল-হারকান
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ৭)
كلمة المؤلفالحمد لله الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، فجعله شاهدا ومبشرا ونذيرا، وداعيا إلى الله بإذنه وسراجا منيرا، وجعل فيه أسوة حسنة لمن كان يرجو الله واليوم الآخر وذكر الله كثيرا. اللهم صل وسلم وبارك عليه وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وفجر لهم ينابيع الرحمة والرضوان تفجيرا.
وبعد، فإن من دواعي الغبطة والسرور أن رابطة العالم الإسلامي أعلنت عقب مؤتمر السيرة النبوية الذي انعقد في باكستان في شهر ربيع الأول من سنة 1396 هـ بإقامة مسابقة على مستوى العالم الإسلامي، للبحث حول موضوع السيرة النبوية- على صاحبها ألف ألف صلاة وسلام- تنشيطا للكاتبين، وتنسيقا لجهودهم الفكرية، وإني أرى أن هذا العمل له قيمة كبيرة ربما لا يحيط بوصفها البيان. فإن السيرة النبوية والأسوة المحمدية على صاحبها ما يستحق من الصلاة والسلام- إذا لا حظناها بعين الدقة والإعتبار- هي المنبع الوحيد الذي تتفجر منه ينابيع حياة العالم الإسلامي وسعادة المجتمع البشري.
وإن من سعادتي وحسن حظي أني أساهم في تلك المسابقة المباركة، ولكن أين أنا حتى ألقي ضوآ على حياة سيد الأولين والآخرين صلى الله عليه وسلم. وإنما أنا رجل يرى لنفسه كل السعادة والفلاح أن يقتبس من نوره، حتى لا يتهالك في دياجير الظلمات، بل يحيا وهو من أمته، ويموت وهو من أمته، ويغفر الله له ذنوبه بشفاعته.
وكلمة بسيطة أرى أن أقدمها عن منهجي في مقالتي هذه: إني قبل أن آخذ في كتابة المقالة رأيت أن أضعها في حجم متوسط متجنبا التطويل الممل والإيجاز المخل، ولكني كثيرا ما رأيت في المصادر اختلافا كبيرا في ترتيب الوقائع، أو في تفصيل جزئياتها، وفي مثل هذه المواقع قمت بالتحقيق البالغ، وأدرت النظر في جميع جوانب البحث. ثم أثبت في صلب المقالة ما ترجح لدي بعد التحقيق. ولكن احترزت عن إيراد الدلائل والبراهين؛
লেখকের কথাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন যাতে তাঁকে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন। অতঃপর তাঁকে সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও প্রদীপ্ত প্রদীপ হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। আর তাঁর মধ্যে এক উত্তম আদর্শ রেখেছেন তাদের জন্য, যারা আল্লাহ ও পরকাল আশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে। হে আল্লাহ! আপনি তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাঁদের সবার ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত নাযিল করুন এবং তাঁদের জন্য রহমত ও সন্তুষ্টির ঝরনাধারা প্রবাহিত করে দিন।
অতঃপর, এটি অত্যন্ত আনন্দ ও খুশির বিষয় যে, রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামী ১৩৯৬ হিজরী সনের রবিউল আউয়াল মাসে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সীরাতুন্নবী সম্মেলনের পর মুসলিম বিশ্ব জুড়ে সীরাতুন্নবী—তাঁর ওপর অজস্র দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—বিষয়ের ওপর একটি গবেষণা প্রতিযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে। লেখকদের উৎসাহিত করতে এবং তাঁদের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টাকে সমন্বিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি, এই কাজের গুরুত্ব এত বেশি যে তা বর্ণনায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। কেননা, সীরাতুন্নবী এবং মুহাম্মদী আদর্শ—যার অধিকারীর ওপর যথাযথ দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—যদি আমরা সূক্ষ্ম ও গভীর দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করি, তবে দেখা যায় এটিই একমাত্র উৎস যেখান থেকে মুসলিম বিশ্বের জীবন ও মানবসমাজের সৌভাগ্যের ঝরনাধারা উৎসারিত হয়।
এই বরকতময় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। তবে পূর্বাপর সকলের সরদার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের ওপর আলোকপাত করার যোগ্যতা আমার কোথায়? আমি তো কেবল এমন একজন মানুষ, যে তাঁর নূর থেকে আলো গ্রহণ করাকেই নিজের পরম সৌভাগ্য ও মুক্তি মনে করে, যাতে অন্ধকারের অতল গহ্বরে সে ধ্বংস হয়ে না যায়; বরং তাঁর উম্মত হিসেবেই বেঁচে থাকে, তাঁর উম্মত হিসেবেই মৃত্যুবরণ করে এবং তাঁর শাফায়াতের মাধ্যমে আল্লাহ যেন তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।
আমার এই প্রবন্ধের পদ্ধতি সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত কথা পেশ করা প্রয়োজন মনে করছি: প্রবন্ধটি লিখতে শুরু করার আগে আমি এটিকে একটি মাঝারি অবয়বে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে বিরক্তিকর দীর্ঘায়ন এবং অসম্পূর্ণ সংক্ষিপ্তকরণ—উভয়ই পরিহার করা যায়। তবে আমি লক্ষ্য করেছি যে, উৎস গ্রন্থগুলোতে ঘটনাবলির বিন্যাস বা বিস্তারিত বিবরণে অনেক ক্ষেত্রে বড় ধরণের মতপার্থক্য রয়েছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে আমি গভীর অনুসন্ধান চালিয়েছি এবং গবেষণার সকল দিক খতিয়ে দেখেছি। অতঃপর পর্যালোচনার পর যা আমার নিকট অগ্রগণ্য মনে হয়েছে, তা-ই আমি মূল প্রবন্ধে লিপিবদ্ধ করেছি। তবে এর সপক্ষে দলিল ও প্রমাণাদি উপস্থাপন করা থেকে বিরত থেকেছি;
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ৮)
لأن ذلك يفضي إلى طول غير مطلوب. نعم! ربما أشرت إلى الدلائل حين خفت الإستغراب ممن يقرأ المقالة، أو حين رأيت عامة الكاتبين ذهبوا إلى خلاف الصحيح.
اللهم قدر لي الخير في الدنيا والآخرة، إنك أنت الغفور الودود ذو العرش المجيد.
الجمعة المباركة 24/ 7/ 1396 هـ 23/ 7/ 1976 م صفي الرحمن المباركفوري الجامعة السلفية بنارس الهند
কারণ এটি অনাকাঙ্ক্ষিত দীর্ঘায়নের দিকে নিয়ে যাবে। হ্যাঁ! হয়তো আমি দলীল-প্রমাণের দিকে ইঙ্গিত করেছি যখন আমি প্রবন্ধটি পাঠকের নিকট বিস্ময়কর মনে হওয়ার আশঙ্কা করেছি, অথবা যখন দেখেছি যে সাধারণ লেখকগণ সঠিকের বিপরীতে চলে গেছেন।
হে আল্লাহ! আপনি আমার জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ নির্ধারণ করুন; নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল, পরম প্রেমময় এবং মহান আরশের অধিকারী।
বরকতময় শুক্রবার, ২৪/ ০৭/ ১৩৯৬ হিজরি, ২৩/ ০৭/ ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দ, সফিউর রহমান মোবারকপুরী, জামিয়া সালাফিয়া, বেনারস, ভারত।
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ৯)
موقع العرب وأقوامهاإن السيرة النبوية- على صاحبها الصلاة والسلام- عبارة في الحقيقة عن الرسالة التي حملها رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى المجتمع البشري، وأخرج بها الناس من الظلمات إلى النور، ومن عبادة العباد إلى عبادة الله. وإذن فلا يمكن إحضار صورتها الرائعة بتمامها إلا بعد المقارنة بين خلفيات هذه الرسالة وآثارها. ونظرا إلى ذلك نقدم فصلا عن أقوام العرب وتطوراتها قبل الإسلام، وعن الظروف التي بعث فيها محمد صلى الله عليه وسلم.
موقع العرب
العرب لغة: الصحاري والقفار، والأرض المجدبة التي لا ماء فيها ولا نبات. وقد أطلق هذا اللفظ منذ أقدم العصور على جزيرة العرب. كما أطلق على قوم قطنوا تلك الأرض، واتخذوها موطنا لهم.
وجزيرة العرب يحدها غربا البحر الأحمر وشبه جزيرة سيناء، وشرقا الخليج العربي وجزء كبير من بلاد العراق الجنوبية، وجنوبا بحر العرب الذي هو امتداد لبحر الهند، وشمالا بلاد الشام وجزء من بلاد العراق على اختلاف في بعض هذه الحدود، وتقدر مساحتها ما بين مليون ميل مربع إلى مليون وثلاثمائة ألف ميل مربع.
والجزيرة لها أهمية بالغة من حيث موقعها الطبيعي والجغرافي؛ فأما باعتبار وضعها الداخلي فهي محاطة بالصحاري والرمال من كل جانب، ومن أجل هذا الوضع صارت الجزيرة حصنا منيعا لا يسمح للأجانب أن يحتلوها ويبسطوا عليها سيطرتهم ونفوذهم.
ولذلك نرى سكان الجزيرة أحرارا في جميع الشؤون منذ أقدم العصور، مع أنهم كانوا مجاورين لإمبراطوريتين عظيمتين لم يكونوا يستطيعون دفع هجماتهما لولا هذا السد المنيع.
وأما بالنسبة إلى الخارج فإنها تقع بين القارات المعروفة في العالم القديم. وتلتقي بها برا وبحرا. فإن ناحيتها الشمالية الغربية باب للدخول في قارة أفريقية، وناحيتها
আরব ভূখণ্ডের অবস্থান ও এর জাতিসমূহসীরাত-এ-নবী—এর মূল বাহকের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—মূলত সেই রিসালাতের সারকথা যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানবসমাজের নিকট বহন করে নিয়ে এসেছিলেন এবং যার মাধ্যমে তিনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে এবং বান্দার ইবাদত থেকে আল্লাহর ইবাদতের দিকে বের করে নিয়ে এসেছিলেন। অতএব, এই রিসালাতের প্রেক্ষাপট ও এর প্রভাবের মধ্যে তুলনা করা ছাড়া এর চমৎকার স্বরূপ পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব নয়। সেই দিকটি বিবেচনা করে আমরা ইসলামের পূর্বে আরব জাতিসমূহ ও তাদের ক্রমবিকাশ এবং যে পরিস্থিতিতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হয়েছিলেন, সে সম্পর্কে একটি পরিচ্ছেদ পেশ করছি।
আরব ভূখণ্ডের অবস্থান
শাব্দিক অর্থে 'আরব' বলতে মরুভূমি, প্রান্তর এবং এমন অনুর্বর ভূমিকে বোঝায় যেখানে পানি ও উদ্ভিদ নেই। প্রাচীনকাল থেকেই এই শব্দটি আরব উপদ্বীপের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। একইভাবে এটি এমন এক জাতির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়েছে যারা এই ভূমিতে বসবাস করত এবং একে নিজেদের আবাসস্থল বানিয়ে নিয়েছিল।
আরব উপদ্বীপের পশ্চিমে লোহিত সাগর ও সিনাই উপদ্বীপ, পূর্বে পারস্য উপসাগর ও দক্ষিণ ইরাকের বিশাল অংশ, দক্ষিণে আরব সাগর যা ভারত মহাসাগরেরই বর্ধিত অংশ এবং উত্তরে সিরিয়া ও ইরাকের কিছু অংশ অবস্থিত—যদিও এই সীমানাগুলোর কিছু ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। এর আয়তন প্রায় দশ লক্ষ বর্গমাইল থেকে তেরো লক্ষ বর্গমাইলের মধ্যে বলে ধারণা করা হয়।
প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে এই উপদ্বীপের অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে। এর অভ্যন্তরীণ অবস্থার কথা বিবেচনা করলে দেখা যায়, এটি চারদিক থেকে মরুভূমি ও বালুকা রাশি দ্বারা বেষ্টিত। এই অবস্থানের কারণেই এই উপদ্বীপটি একটি দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছে, যা বিদেশিদের পক্ষে এটি দখল করা এবং সেখানে নিজেদের আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তার করা অসম্ভব করে তুলেছে।
একারণেই আমরা প্রাচীনকাল থেকেই উপদ্বীপের অধিবাসীদের সকল বিষয়ে স্বাধীন দেখতে পাই, যদিও তারা দুটি বিশাল সাম্রাজ্যের প্রতিবেশী ছিল। এই মজবুত প্রাকৃতিক দেয়াল না থাকলে তারা সেই সাম্রাজ্যগুলোর আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম হত না।
আর বাহ্যিক অবস্থানের দিক থেকে এটি প্রাচীন বিশ্বের পরিচিত মহাদেশগুলোর মাঝে অবস্থিত। স্থলপথ ও জলপথে এটি সেগুলোর সাথে সংযুক্ত। এর উত্তর-পশ্চিম দিকটি আফ্রিকা মহাদেশে প্রবেশের দ্বার হিসেবে কাজ করে এবং এর ناحية (দিকটি)...
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ১০)
الشمالية الشرقية مفتاح لقارة أوروبا، والناحية الشرقية تفتح أبواب العجم والشرق الأوسط والأدنى. وتفضي إلى الهند والصين، وكذلك تلتقي كل قارة بالجزيرة بحرا، وترسي سفنها وبواخرها على ميناء الجزيرة رأسا.
ولأجل هذا الوضع الجغرافي كان شمال الجزيرة وجنوبها مهبطا للأمم ومركزا لتبادل التجارة، والثقافة، والديانة، والفنون.
أقوام العربوأما أقوام العرب فقد قسمها المؤرخون إلى ثلاثة أقسام بحسب السلالات التي ينحدرون منها:
1- العرب البائدة:وهم العرب القدامى الذين لم يمكن الحصول على تفاصيل كافية عن تاريخهم، مثل: عاد وثمود وطسم وجديس وعملاق وسواها.
2- العرب العاربة: وهم العرب المنحدرة من صلب يعرب بن يشجب بن قحطان، وتسمى بالعرب القحطانية.
3- العرب المستعربة: وهي العرب المنحدرة من صلب إسماعيل، وتسمى بالعرب العدنانية.
[2- العرب العاربة:]
أما العرب العاربة- وهي شعب قحطان- فمهدها بلاد اليمن، وقد تشعبت قبائلها وبطونها فاشتهرت منها قبيلتان:
أ- حمير، وأشهر بطونها زيد الجمهور، وقضاعة، والسكاسك.
ب- كهلان، وأشهر بطونها همدان، وأنمار، وطيء، ومذحج، وكندة، ولخم، وجذام، والأزد، والأوس، والخزرج، وأولاد جفنة ملوك الشام.
وهاجرت بطون كهلان عن اليمن، وانتشرت في أنحاء الجزيرة، وكانت هجرة معظمهم قبيل سيل العرم حين فشلت تجارتهم؛ لضغط الرومان وسيطرتهم على طريق التجارة البحرية، وإفسادهم طريق البر بعد احتلالهم بلاد مصر والشام.
ولا غرو فقد كانت منافسة بين بطون كهلان وبطون حمير أدت إلى جلاء كهلان، ويشير إلى ذلك بقاء حمير مع جلاء كهلان.
ويمكن تقسيم المهاجرين من بطون كهلان إلى أربعة أقسام:
উত্তর-পূর্ব দিক ইউরোপ মহাদেশের প্রবেশপথ, এবং পূর্ব দিক অনারব বিশ্ব, মধ্যপ্রাচ্য ও নিকট প্রাচ্যের দ্বার উন্মোচন করে। এটি ভারত ও চীন পর্যন্ত বিস্তৃত। একইভাবে প্রতিটি মহাদেশ সমুদ্রপথে জাযিরাতুল আরবের সাথে মিলিত হয় এবং তাদের জাহাজ ও বাষ্পীয় পোত সরাসরি জাযিরাতুল আরবের বন্দরে নোঙর করে।
এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে জাযিরাতুল আরবের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চল বিভিন্ন জাতির অবতরণস্থল এবং বাণিজ্য, সংস্কৃতি, ধর্ম ও শিল্পকলা বিনিময়ের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।
আরব জাতিসমূহআর আরব জাতিসমূহকে ঐতিহাসিকগণ তাদের বংশপরম্পরার ভিত্তিতে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন:
১- বিলুপ্ত আরব:তারা হচ্ছে প্রাচীন আরব যাদের ইতিহাস সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি, যেমন: আদ, সামুদ, তাসম, জাদিস, ইমলাক এবং অন্যান্য।
২- বিশুদ্ধ আরব: তারা হচ্ছে সেই আরব যারা ইয়ারুব বিন ইয়াশজুব বিন কাহতানের বংশধর। এদের কাহতানি আরব বলা হয়।
৩- আরবায়িত আরব: এরা হলো সেই আরব যারা ইসমাইল-এর বংশধর। এদের আদনানি আরব বলা হয়।
[২- বিশুদ্ধ আরব:]
বিশুদ্ধ আরব—যারা কাহতান জাতি—তাদের আদি নিবাস ছিল ইয়েমেন। তাদের গোত্র ও শাখাগুলো বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল, যার মধ্যে দুটি গোত্র প্রসিদ্ধি লাভ করে:
ক- হিমইয়ারএর প্রসিদ্ধ শাখাগুলো হলো যায়েদ আল-জুমহুর, কুযাআহ এবং সাকাসিক।
খ- কাহলানএর প্রসিদ্ধ শাখাগুলো হলো হামদান, আনমার, তাই, মাজহিজ, কিনদাহ, লাখম, জুজাম, আযদ, আওস, খাজরাজ এবং শামের রাজবংশ জাফনাহর সন্তানরা।
কাহলানের শাখাগুলো ইয়েমেন থেকে হিজরত করে জাযিরাতুল আরবের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল। তাদের অধিকাংশের হিজরত ছিল সায়লুল আরিম বা বাঁধভাঙা বন্যার কিছুকাল আগে, যখন রোমানদের চাপ ও সমুদ্রপথে তাদের আধিপত্যের কারণে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং মিশর ও শাম দখলের পর তারা স্থলপথকেও বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।
এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, কাহলান ও হিমইয়ার গোত্রগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল যা কাহলানদের দেশত্যাগে বাধ্য করেছিল। কাহলানদের প্রস্থান এবং হিমইয়ারদের সেখানে থেকে যাওয়া এই পরিস্থিতির দিকেই ইঙ্গিত করে।
কাহলান গোত্র থেকে যারা হিজরত করেছিল তাদের চার ভাগে বিভক্ত করা যায়:
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ১১)
1- الأزد:وكانت هجرتهم على رأي سيدهم وكبيرهم عمران بن عمرو مزيقباء فساروا يتنقلون في بلاد اليمن ويرسلوها الرواد، ثم ساروا بعد ذلك إلى الشمال. وهاك تفصيل الأماكن التي سكنوا فيها بعد الرحلة نهائيا: عطف ثعلبة بن عمرو من الأزد نحو الحجاز، فأقام بين الثعلبية وذي قار، ولما كبر ولده وقوي ركنه سار نحو المدينة، فأقام بها واستوطنها. ومن أبناء ثعلبة هذا: الأوس والخزرج، ابنا حارثة بن ثعلبة.
وانتقل منهم حارثة بن عمرو- وهو خزاعة- وبنوه في ربوع الحجاز، حتى نزلوا بمر الظهران، ثم افتتحوا الحرم فقطنوا مكة وأجلوا سكانها الجراهمة.
ونزل عمران بن عمرو في عمان، واستوطنها هو وبنوه، وهم أزد عمان، وأقامت قبائل لفر بن الأزد بتهامة، وهم أزد شنوءة.
وسار جفنة بن عمرو إلى الشام فأقام بها وهو وبنوه، وهو أبو الملوك الغساسنة. نسبة إلى ماء في الحجاز يعرف بغسان كانوا قد نزلوا بها أولا قبل تنقلهم إلى الشام.
2- لخم وجذام:وكان في اللخميين نصر بن ربيعة أبو الملوك المناذرة بالحيرة.
3- بنو طيء:ساروا بعد مسير الأزد نحو الشمال حتى نزلوا بالجبلين أجا وسلمى، وأقاموا هناك، حتى عرف الجبلان بجبلي طيء.
4- كندة:نزلوا بالبحرين، ثم اضطروا إلى مغادرتها فنزلوا بحضر موت، ولاقوا هناك ما لاقوا بالبحرين، ثم نزلوا نجد، وكونوا هناك حكومة كبيرة الشأن ولكنها سرعان ما فنيت وذهبت آثارها.
وهناك قبيلة من حمير مع اختلاف في نسبتها إليه- وهي قضاعة- هجرت اليمن واستوطنت بادية السماوة من مشارف العراق «1» .
[3- العرب المستعربة:]وأما العرب المستعربة فأصل جدهم الأعلى- وهو سيدنا إبراهيم عليه السلام من بلاد العراق، ومن بلدة يقال لها: «أر» على الشاطئ الغربي من نهر الفرات، بالقرب من الكوفة، وقد جاءت الحفريات والتنقيبات بتفاصيل واسعة عن هذه البلدة وعن أسرة إبراهيم عليه السلام، وعن الأحوال الدينية والإجتماعية في تلك البلاد» .
--------------------------------------------
১- আল-আযদি:তাদের হিজরত সংঘটিত হয়েছিল তাদের সরদার ও প্রধান ব্যক্তি ইমরান বিন আমর মুজাইকিয়ার মতানুসারে। তারা ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করতেন এবং সেখানে অনুসন্ধানী দল পাঠাতেন, অতঃপর তারা উত্তর দিকে যাত্রা করেন। তাদের স্থায়ী বসবাসের স্থানগুলোর বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো: আযদি গোত্রের সা'লাবাহ বিন আমর হেজাজের দিকে মোড় নিলেন এবং সা'লাবিয়্যাহ ও যি-কার এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করলেন। যখন তার সন্তানরা বড় হলো এবং তার শক্তি বৃদ্ধি পেল, তখন তিনি মদীনার দিকে যাত্রা করলেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করলেন। এই সা'লাবাহর সন্তানদের মধ্যে রয়েছে আউস ও খাযরাজ, যারা হারিসাহ বিন সা'লাবাহর দুই পুত্র।
তাদের মধ্য থেকে হারিসাহ বিন আমর—যিনি খুযা'আ নামে পরিচিত—এবং তার সন্তানরা হেজাজের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানান্তরিত হলেন, শেষ পর্যন্ত তারা মাররুজ জাহরানে অবতরণ করলেন। অতঃপর তারা হারাম এলাকা জয় করে মক্কায় বসবাস শুরু করলেন এবং সেখানকার আদি বাসিন্দা জুরহুম গোত্রকে বহিষ্কার করলেন।
ইমরান বিন আমর ওমানে অবতরণ করেন এবং তিনি ও তার সন্তানরা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন, তারা হলেন ওমানের আযদি। আর লাফির বিন আযদি গোত্রের শাখাগুলো তিহামায় অবস্থান করল, তারা হলো আযদি শানুআহ।
জাফনাহ বিন আমর শামের দিকে যাত্রা করেন এবং তিনি ও তার সন্তানরা সেখানে বসবাস শুরু করেন। তিনি হলেন গাসসানী রাজাদের আদিপুরুষ। এই নাম হেজাজের 'গাসসান' নামক একটি পানির কূপের সাথে সম্পর্কিত, শামে যাওয়ার আগে তারা প্রথমে সেখানে অবস্থান করেছিলেন।
২- লাখম ও জুযাম:লাখমীয়দের মধ্যে ছিলেন নাসর বিন রাবিয়াহ, যিনি হিরার মানাযিরা রাজাদের আদিপুরুষ।
৩- বানু তায়্যি:তারা আযদি গোত্রের প্রস্থানের পর উত্তরের দিকে যাত্রা করেন এবং আজা ও সালমা নামক দুটি পাহাড়ে অবতরণ করেন। তারা সেখানে বসবাস করতে থাকেন, এমনকি পাহাড় দুটি তায়্যি গোত্রের পাহাড় হিসেবে পরিচিতি পায়।
৪- কিনদাহ:তারা বাহরাইনে অবতরণ করেন, কিন্তু পরবর্তীতে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হন এবং হাজরামাউতে অবতরণ করেন। সেখানেও তারা বাহরাইনের মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। এরপর তারা নজদে অবতরণ করেন এবং সেখানে একটি প্রভাবশালী শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলেন, কিন্তু অচিরেই তা বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং এর চিহ্নসমূহ মুছে যায়।
হিমইয়ার গোত্রের একটি শাখা রয়েছে—যাদের হিমইয়ারের অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে মতভেদ আছে—তারা হলো কুযা'আ। তারা ইয়েমেন ছেড়ে হিজরত করে এবং ইরাকের সীমান্তবর্তী সামাওয়া মরুভূমিতে বসতি স্থাপন করে।
[৩- আরবকৃত আরব:]আর আরবকৃত আরবদের মূল পূর্বপুরুষ হলেন আমাদের নেতা ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম। তিনি ইরাক ভূখণ্ডের ফোরাত নদীর পশ্চিম তীরে কুফার নিকটবর্তী 'উর' নামক শহর থেকে এসেছিলেন। খননকার্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে এই শহর, ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের পরিবার এবং তৎকালীন দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ১২)
ومعلوم أن إبراهيم عليه السلام هاجر منها إلى حاران أو حران، ومنها إلى فلسطين، فاتخذها قاعدة لدعوته، وكانت له جولات في أرجاء هذه البلاد وغيرها «1» وقدم مرة إلى مصر، وقد حاول فرعون مصر كيدا وسوآ بزوجته سارة ولكن الله ردّ كيده في نحره، وعرف فرعون ما لسارة من الصلة القوية بالله، حتى أخدمها ابنته «2» هاجر؛ اعترافا بفضلها، وزوّجتها سارة إبراهيم «3» .
ورجع إبراهيم إلى فلسطين، ورزقه الله من هاجر إسماعيل، وغارت سارة حتى ألجأت إبراهيم إلى نفي هاجر مع ولدها الصغير- إسماعيل- فقدم بهما إلى الحجاز، وأسكنهما بواد غير ذي زرع عند بيت الله المحرم الذي لم يكن إذ ذاك إلا مرتفعا من الأرض كالرابية، تأتيه السيول فتأخذ عن يمينه وشماله، فوضعهما عند دوحة فوق زمزم في أعلى المسجد، وليس بمكة يومئذ أحد، وليس بها ماء. فوضع عندهما جرابا فيه تمر، وسقاء فيه ماء، ورجع إلى فلسطين، ولم تمض أيام حتى نفد الزاد والماء، وهناك تفجرت بئر زمزم بفضل الله، فصارت قوتا لهما وبلاغا إلى حين. والقصة معروفة بطولها «4» .
وجاءت قبيلة يمانية- وهي جرهم الثانية- فقطنت مكة بإذن من أم إسماعيل يقال:
إنهم كانوا قبل ذلك في الأودية التي بأطراف مكة. وقد صرحت رواية البخاري أنهم نزلوا مكة بعد إسماعيل، وقبل أن يشب، وأنهم كانوا يمرون بهذا الوادي قبل ذلك «4» .
وقد كان إبراهيم يرحل إلى مكة بين آونة وأخرى ليطالع تركته، ولا يعلم كم كانت هذه الرحلات، إلا أن المصادر التاريخية حفظت أربعة منها.
فقد ذكر الله تعالى في القرآن أنه أرى إبراهيم في المنام أنه يذبح إسماعيل، فقام بامتثال هذ الأمر فَلَمَّا أَسْلَما وَتَلَّهُ لِلْجَبِينِ. وَنادَيْناهُ أَنْ يا إِبْراهِيمُ. قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيا، إِنَّا كَذلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ. إِنَّ هذا لَهُوَ الْبَلاءُ الْمُبِينُ. وَفَدَيْناهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ [الصافات:
103- 107] .
وقد ذكر في سفر التكوين أن إسماعيل كان أكبر من إسحاق بثلاث عشرة سنة،
--------------------------------------------
এটি সুবিদিত যে, ইবরাহিম আলাইহিস সালাম সেখান থেকে হারান বা হুররানে হিজরত করেন, এবং সেখান থেকে ফিলিস্তিনে গমন করেন। তিনি একে তাঁর দাওয়াতের কেন্দ্র হিসেবে গ্রহণ করেন। এই ভূখণ্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং অন্যান্য স্থানে তাঁর পরিভ্রমণ ছিল «১»। তিনি একবার মিশরে আগমন করেছিলেন। মিশরের ফেরাউন তাঁর স্ত্রী সারার বিরুদ্ধে মন্দ ও কুচক্রের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আল্লাহ তার ষড়যন্ত্র তার নিজের ওপরেই ফিরিয়ে দেন। আল্লাহর সাথে সারার যে শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে তা ফেরাউন বুঝতে পারে, এমনকি সে তাঁর মর্যাদা স্বীকার করে নিজের কন্যা হাজেরাকে তাঁর সেবায় নিয়োজিত করে «২»। এরপর সারা হাজেরাকে ইবরাহিমের সাথে বিয়ে দেন «৩»।
ইবরাহিম ফিলিস্তিনে ফিরে আসেন এবং আল্লাহ তাঁকে হাজেরার গর্ভে ইসমাইলকে দান করেন। সারা ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়লে তিনি হাজেরাকে তাঁর শিশু সন্তান ইসমাইলসহ নির্বাসনে দিতে ইবরাহিমকে বাধ্য করেন। ইবরাহিম তাঁদেরকে নিয়ে হিজাজে আসেন এবং আল্লাহর পবিত্র ঘরের কাছে এক শস্যহীন প্রান্তরে তাঁদেরকে বসতি স্থাপন করান। তখন সেটি কেবল উঁচু ঢিবির মতো ভূমির সামান্য উপরে ছিল, যার ডানে ও বামে ঢল বয়ে যেত। তিনি তাঁদেরকে মসজিদের উপরিভাগে জমজমের উপরে একটি বড় গাছের নিচে রেখে যান। তখন মক্কায় কেউ ছিল না এবং সেখানে পানিও ছিল না। তিনি তাঁদের কাছে একটি খেজুরের থলে এবং পানিভর্তি একটি মশক রেখে ফিলিস্তিনে ফিরে যান। অল্প কয়েক দিন না যেতেই পাথেয় ও পানি শেষ হয়ে গেল। সেখানে আল্লাহর অনুগ্রহে জমজম কূপের উদগিরণ ঘটে, যা তাঁদের জন্য খাদ্য এবং সময়ের প্রয়োজনে জীবনের সম্বল হয়ে দাঁড়ায়। এই কাহিনী তার দৈর্ঘ্যসহ সুবিদিত «৪»।
একটি ইয়ামানি গোত্র—যা বনু জুরহুমের দ্বিতীয় অংশ—ইসমাইলের মাতার অনুমতি নিয়ে মক্কায় বসবাস শুরু করে। বলা হয়:
তারা এর আগে মক্কার পার্শ্ববর্তী উপত্যকাগুলোতে ছিল। বুখারির বর্ণনায় স্পষ্টভাবে এসেছে যে, তারা ইসমাইলের সেখানে অবস্থানের পর এবং তাঁর কিশোর হওয়ার আগে সেখানে অবতরণ করেছিল। তারা ইতিপূর্বেও এই উপত্যকা দিয়ে যাতায়াত করত «৪»।
ইবরাহিম তাঁর রেখে আসা পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য মাঝে মাঝে মক্কায় যেতেন। এই সফরগুলো কতটি ছিল তা জানা না গেলেও ঐতিহাসিক উৎসসমূহ এর মধ্যে চারটি সফর সংরক্ষণ করেছে।
মহান আল্লাহ কুরআনে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইবরাহিমকে স্বপ্নে দেখালেন যে তিনি ইসমাইলকে জবেহ করছেন। তিনি এই আদেশ পালনে সচেষ্ট হলেন: অতঃপর তারা উভয়ে যখন আত্মসমর্পণ করল এবং সে তাকে কপালে উপুড় করে শুইয়ে দিল। এবং আমরা তাকে ডাক দিয়ে বললাম, হে ইবরাহিম! তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। নিশ্চয়ই আমরা এভাবেই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল একটি সুস্পষ্ট পরীক্ষা। এবং আমরা এক মহান জবেহযোগ্য পশুর বিনিময়ে তাকে মুক্ত করলাম। [আস-সাফফাত:
১০৩- ১০৭]।
সফরুত তাকউইন (আদিপুস্তক)-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসমাইল ইসহাকের চেয়ে তেরো বছরের বড় ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وسياق القصة يدل على أنها وقعت قبل ميلاد إسحاق، لأن البشارة بإسحاق ذكرت بعد سرد القصة بتمامها.
وهذه القصة تتضمن رحلة واحدة- على الأقل- قبل أن يشب إسماعيل، أما الرحلات الثلاث الآخر فقد رواها البخاري بطولها عن ابن عباس مرفوعا «1» وملخصها أن إسماعيل لما شب وتعلم العربية من جرهم، وأنفسهم وأعجبهم زوجوه امرأة منهم، وماتت أمه، وبدا لإبراهيم أن يطالع تركته فجاء بعد هذا التزوج، فلم يجد إسماعيل فسأل امرأته عنه وعن أحوالهما، فشكت إليه ضيق العيش فأوصاها أن تقول لإسماعيل أن يغير عتبة بابه، وفهم إسماعيل ما أراد أبوه، فطلق امرأته تلك وتزوج امرأة أخرى، وهي ابنة مضاض بن عمرو، كبير جرهم وسيدهم «2» .
وجاء إبراهيم مرة أخرى بعد هذا التزوج الثاني فلم يجد إسماعيل فرجع إلى فلسطين بعد أن سأل زوجته عنه وعن أحوالهما فأثنت على الله، فأوصى إلى إسماعيل أن يثبت عتبة بابه.
وجاء مرة ثالثة فلقي إسماعيل وهو يبري نبلا له تحت دوحة قريبا من زمزم فلما رآه قام إليه فصنع كما يصنع الوالد بالولد والولد بالوالد، وكان لقاؤهما بعد فترة طويلة من الزمن، قلما يصبر فيها الأب الكبير الأواه العطوف عن ولده، الولد البار الصالح الرشيد عن أبيه وفي هذه المرة بنيا الكعبة، ورفعا قواعدها، وأذّن إبراهيم في الناس بالحج كما أمره الله.
وقد رزق الله إسماعيل من ابنة مضاض اثني عشر ولدا ذكرا «3» وهم: نابت أو بنالوط، قيدار، وأدبائيل، ومبشام، ومشماع، ودوما، وميشا، وحدد، ويتما، ويطور، ونفيس، وقيدمان، وتشعبت من هؤلاء اثنتا عشرة قبيلة، سكنت كلها في مكة مدة، وكانت جل معيشتهم التجارة من بلاد اليمن إلى بلاد الشام ومصر ثم انتشرت هذه القبائل في أرجاء الجزيرة بل وإلى خارجها. ثم أدرجات أحوالهم في غياهب الزمان، إلا أولاد نابت وقيدار.
وقد ازدهرت حضارة الأنباط في شمال الحجاز، وكوّنوا حكومة قوية دان لها من بأطرافها، واتخذوا البطراء عاصمة لهم، ولم يكن يستطيع مناوأتهم أحد حتى جاء الرومان فقضوا عليهم، وقد رجح السيد سليمان الندوي بعد البحث الأنيق والتحقيق الدقيق أن
--------------------------------------------
গল্পের প্রেক্ষাপট নির্দেশ করে যে এটি ইসহাকের জন্মের পূর্বে ঘটেছিল, কারণ গল্পের সম্পূর্ণ বর্ণনার পরেই ইসহাকের সুসংবাদ উল্লেখ করা হয়েছে।
এই কাহিনীতে ইসমাইলের যুবক হওয়ার আগে অন্তত একটি সফরের কথা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাকি তিনটি সফর সম্পর্কে ইমাম বুখারী ইবনে আব্বাস থেকে মারফু সূত্রে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন (১)। এর সারসংক্ষেপ হলো, যখন ইসমাইল যুবক হলেন এবং জুরহুম গোত্রের কাছ থেকে আরবি শিখলেন এবং তারা তাকে অত্যন্ত পছন্দ ও সমাদর করল, তখন তারা নিজেদের গোত্রের এক মহিলার সাথে তাঁর বিয়ে দিল। ইতিমধ্যে তাঁর মা মারা যান। এরপর ইব্রাহিমের মনে হলো যে তাঁর রেখে আসা পরিবারটি দেখে আসা প্রয়োজন। তাই তিনি এই বিয়ের পর আসলেন, কিন্তু ইসমাইলকে পেলেন না। তিনি তাঁর স্ত্রীর কাছে ইসমাইল এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। স্ত্রী তাঁর কাছে জীবনধারণের সংকটের অভিযোগ করলেন। তখন তিনি তাকে এই অসিয়ত করলেন যেন সে ইসমাইলকে বলে যে সে যেন তার দরজার চৌকাঠ পরিবর্তন করে। ইসমাইল তাঁর পিতার উদ্দেশ্য বুঝতে পারলেন এবং সেই স্ত্রীকে তালাক দিয়ে অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করলেন, যিনি ছিলেন জুরহুম গোত্রের প্রধান ও সরদার মুদাদ ইবনে আমরের কন্যা (২)।
এই দ্বিতীয় বিয়ের পর ইব্রাহিম পুনরায় আসলেন কিন্তু ইসমাইলকে পেলেন না। তিনি তাঁর স্ত্রীর কাছে ইসমাইল এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পর ফিলিস্তিনে ফিরে গেলেন। তবে এবার স্ত্রী আল্লাহর প্রশংসা করলেন। তখন তিনি ইসমাইলের কাছে এই অসিয়ত রেখে গেলেন যে তিনি যেন তাঁর দরজার চৌকাঠ অটুট রাখেন।
তিনি তৃতীয়বার আসলেন এবং ইসমাইলকে পেলেন। তখন ইসমাইল জমজমের নিকটবর্তী একটি বিশাল বৃক্ষের নিচে তাঁর তীর মেরামত করছিলেন। যখন তিনি তাঁকে দেখলেন, তখন তাঁর দিকে উঠে দাঁড়ালেন এবং পিতা ও পুত্র একে অপরের সাথে যেমন আচরণ করে তেমনটিই করলেন। দীর্ঘকাল পর তাঁদের এই সাক্ষাৎ হয়েছিল, যে দীর্ঘ বিরহে একজন বয়োবৃদ্ধ, অতীব কোমলপ্রাণ ও স্নেহশীল পিতার পক্ষে তাঁর সৎ, যোগ্য ও অনুগত পুত্র থেকে এবং পুত্রের পক্ষে পিতা থেকে ধৈর্যধারণ করা ছিল প্রায় অসম্ভব। এই সফরেই তাঁরা কাবা নির্মাণ করেন এবং এর ভিত্তি স্থাপন করেন। আর ইব্রাহিম আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী মানুষের মাঝে হজের ঘোষণা দেন।
আল্লাহ ইসমাইলকে মুদাদের কন্যার গর্ভে বারোজন পুত্র সন্তান দান করেছিলেন (৩)। তাঁরা হলেন: নাবিত বা বুনালুত, কায়দার, আদবাইল, মিবশাম, মিশমা, দুমা, মিশা, হাদাদ, ইয়াতমা, ইয়াতুর, নাফিস এবং কাইদমান। তাঁদের থেকে বারোটি গোত্র বিস্তৃত হয়। তারা সবাই দীর্ঘকাল মক্কায় বসবাস করে। তাদের প্রধান জীবিকা ছিল ইয়ামেন থেকে শাম (সিরিয়া) ও মিশরের সাথে বাণিজ্য। পরবর্তীতে এই গোত্রগুলো আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন প্রান্তে এমনকি এর বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর কালের আবর্তে নাবিত ও কায়দারের বংশধরগণ ব্যতীত অন্যদের অবস্থা বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যায়।
উত্তর হিজাজে নাবতি সভ্যতার চরম উন্নতি ঘটেছিল এবং তারা একটি শক্তিশালী সরকার গঠন করেছিল যার আনুগত্য তাদের পার্শ্ববর্তী সকলে স্বীকার করে নিয়েছিল। তারা পেত্রাকে তাদের রাজধানী হিসেবে গ্রহণ করেছিল। রোমানরা এসে তাদের উচ্ছেদ করার আগ পর্যন্ত কেউ তাদের বিরোধিতা করার সামর্থ্য রাখত না। সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী অত্যন্ত নিপুণ গবেষণা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের পর এই মতটিকেই প্রধান্য দিয়েছেন যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ملوك آل غسان وكذا الأنصار من الأوس والخزرج لم يكونوا من آل قحطان، وإنما كانوا من آل نابت بن إسماعيل، وبقاياهم في تلك الديار «1» .
وأما قيدار بن إسماعيل فلم يزل أبناؤه بمكة يتناسلون هناك حتى كان منه عدنان وولده معد، ومنه حفظت العرب العدنانية أنسابها. وعدنان هو الجد الحادي والعشرون في سلسلة النسب النبوي، وقد ورد أنه صلى الله عليه وسلم كان إذا انتسب فبلغ عدنان يمسك ويقول: كذب النسّابون، فلا يتجاوزه «2» . وذهب جمع من العلماء إلى جواز رفع النسب فوق عدنان، مضعّفين للحديث المشار إليه، وقالوا إن بين عدنان وبين إبراهيم عليه السلام أربعين أبا بالتحقيق الدقيق «3» .
وقد تفرقت بطون معد من ولده نزار- قيل لم يكن لمعد ولد غيره- فكان لنزار أربعة أولاد، تشعبت منهم أربعة قبائل عظيمة: إياد وأنمار وربيعة ومضر، وهذان الأخيران هما اللذان كثرت بطونهما واتسعت أفخاذهما، فكان من ربيعة: أسد بن ربيعة، وعنزة، وعبد القيس، وابنا وائل- بكر، وتغلب- وحنيفة وغيرها.
وتشعبت قبائل مضر إلى شعبتين عظيمتين: قيس عيلان بن مضر، وبطون إلياس بن مضر. فمن قيس عيلان: بنو سليم، وبنو هوازن، وبنو غطفان، ومن غطفان: عبس وذبيان، وأشجع وغني بن أعصر.
ومن إلياس بن مضر: تميم بن مرة، وهذيل بن مدركة، وبنو أسد بن خزيمة وبطون كنانة بن خزيمة، ومن كنانة: قريش، وهم أولاد فهر بن مالك بن النضر بن كنانة.
وانقسمت قريش إلى قبائل شتى، من أشهرها: جمح، وسهم، وعدي، ومخزوم، وتيم، وزهرة، وبطون قصي بن كلاب، وهي عبد الدار بن قصي، وأسد بن عبد العزي بن قصي، وعبد مناف بن قصي.
وكان من عبد مناف أربع فصائل: عبد شمس، ونوفل، والمطلب، وهاشم وبيت هاشم هو الذي اصطفى الله منه سيدنا محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم صلى الله عليه وسلم «4» .
قال صلى الله عليه وسلم «إن الله اصطفى من ولد إبراهيم إسماعيل، واصطفى من ولد إسماعيل
--------------------------------------------
গাসসানি বংশের রাজন্যবর্গ এবং আউস ও খাজরাজ গোত্রের আনসারগণ কাহতান বংশোদ্ভূত ছিলেন না, বরং তারা ছিলেন ইসমাইল (আ.)-এর পুত্র নাবিদ-এর বংশধর; এবং সেই জনপদসমূহে তাদের উত্তরসূরিরা বিদ্যমান রয়েছে «১»।
আর ইসমাইল (আ.)-এর পুত্র কায়দার-এর কথা বলতে গেলে, তার বংশধরেরা মক্কাতেই বসবাস করতে থাকে এবং সেখানেই তাদের বংশবৃদ্ধি হতে থাকে, শেষ পর্যন্ত তাদের মধ্য থেকে আদনান এবং তার পুত্র মা’আদ-এর আবির্ভাব ঘটে। আর এই আদনান থেকেই আদনানি আরবরা তাদের বংশধারা সংরক্ষণ করেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বংশপরম্পরায় আদনান হলেন একুশতম পূর্বপুরুষ। বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নিজের বংশপরিচয় বর্ণনা করতেন এবং আদনান পর্যন্ত পৌঁছাতেন, তখন তিনি থেমে যেতেন এবং বলতেন: ‘বংশলতিকা বর্ণনাকারীরা মিথ্যা বলেছে’; ফলে তিনি এর ঊর্ধ্বে যেতেন না «২»। তবে একদল আলেম আদনানের ঊর্ধ্বে বংশপরম্পরা বর্ণনা করা বৈধ মনে করেছেন এবং তারা উল্লিখিত হাদিসটিকে দুর্বল বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলেছেন যে, সূক্ষ্ম গবেষণায় দেখা যায় যে আদনান ও ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের মধ্যবর্তী স্তরে চল্লিশ জন পিতৃপুরুষ রয়েছেন «৩»।
মা’আদ-এর শাখা-গোত্রসমূহ তার পুত্র নিজার থেকে বিভক্ত হয়েছে—বলা হয় যে মা’আদ-এর নিজার ব্যতীত অন্য কোনো সন্তান ছিল না—ফলে নিজারের চার সন্তান ছিল, যাদের থেকে চারটি বিশাল গোত্রের উদ্ভব হয়: ইয়াদ, আনমার, রাবিয়াহ এবং মুদার। এই শেষোক্ত দুই গোত্রেরই শাখা-প্রশাখা সর্বাধিক বৃদ্ধি ও বিস্তৃতি লাভ করেছে। রাবিয়াহ গোত্র থেকে এসেছে: আসাদ বিন রাবিয়াহ, আনাযাহ, আবদুল কাইস, এবং ওয়াইলের দুই পুত্র—বাকর ও তাগলিব—হানিফাহ এবং অন্যান্য।
মুদার গোত্র দুইটি প্রধান শাখায় বিভক্ত হয়েছে: কাইস আয়লান বিন মুদার এবং ইলিয়াস বিন মুদার-এর বংশধরগণ। কাইস আয়লান থেকে উদ্ভূত হয়েছে: বনু সুলাইম, বনু হাওয়াযিন এবং বনু গাতফান। আর গাতফান থেকে এসেছে: আবস, জুবইয়ান, আশজা’ এবং গানি বিন আসুর।
ইলিয়াস বিন মুদার থেকে এসেছে: তামিম বিন মুররাহ, হুযাইল বিন মুদরিকাহ, বনু আসাদ বিন খুযাইমাহ এবং কিনানাহ বিন খুযাইমাহ-এর শাখাগুলো। কিনানাহ থেকে এসেছে: কুরাইশ; তারা হলো ফিহর বিন মালিক বিন নাজর বিন কিনানাহ-এর সন্তানাদি।
কুরাইশ বংশ বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত হয়েছে, যার মধ্যে প্রসিদ্ধ হলো: জুমাহ, সাহাম, আদি, মাখজুম, তাইম, জুহরাহ এবং কুসাই বিন কিলাব-এর বংশধরগণ; আর তারা হলো—আবদুদ্দার বিন কুসাই, আসাদ বিন আবদুল উযযা বিন কুসাই এবং আবদ মানাফ বিন কুসাই।
আবদ মানাফের চারটি শাখা ছিল: আবদু শামস, নাওফাল, মুত্তালিব এবং হাশিম। আর হাশিম পরিবারটিই হলো সেই পরিবার যেখান থেকে আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব বিন হাশিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে মনোনীত করেছেন «৪»।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিমের সন্তানদের মধ্য থেকে ইসমাইলকে মনোনীত করেছেন এবং ইসমাইলের সন্তানদের মধ্য থেকে...’
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
كنانة، واصطفى من بني كنانة قريشا، واصطفى من قريش بني هاشم، واصطفاني من بني هاشم» «1» .
وعن العباس بن عبد المطلب قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الله خلق الخلق فجعلني من خير فرقهم وخير الفريقين، ثم تخيّر القبائل، فجعلني من خير القبيلة، ثم تخير البيوت فجعلني من خير بيوتهم، فأنا خيرهم نفسا وخيرهم بيتا» «2» .
ولما تكاثر أولاد عدنان تفرقوا في أنحاء شتى من بلاد العرب، متتبعين. مواقع القطر ومنابت العشب.
فهاجرت عبد القيس، وبطون من بكر بن وائل، وبطون من تميم إلى البحرين فأقاموا بها.
وخرجت بنو حنيفة بن صعب بن علي بن بكر إلى اليمامة فنزلوا بحجر، قصبة اليمامة. وأقامت سائر بكر بن وائل في طول الأرض من اليمامة إلى البحرين إلى سيف كاظمة إلى البحر، فأطراف سواد العراق، فالأبلة فهيت.
وأقامت تغلب بالجزيرة الفراتية، ومنها بطون كانت تساكن بكرا. وسكنت بنو تميم ببادية البصرة.
وأقامت بنو سليم بالقرب من المدينة، من وادي القرى إلى خيبر إلى شرقي المدينة إلى حد الجبلين، إلى ما ينتهي إلى الجرة.
وسكنت ثقيف بالطائف، وهوازن في شرقي مكة بنواحي أوطاس، وهي على الجادة بين مكة والبصرة.
وسكنت بنو أسد شرقي تيماء وغربي الكوفة، بينهم وبين تيماء ديار بحتر من طيء، وبينهم وبين الكوفة خمس ليال.
وسكنت ذبيان بالقرب من تيماء إلى حوران.
وبقي بتهامة بطون كنانة، وأقام بمكة وضواحيها بطون قريش، وكانوا متفرقين لا تجمعهم جامعة حتى نبغ فيهم قصي بن كلاب، فجمعهم، وكون لهم وحدة شرفتهم ورفعت من أقدارهم «3» .
--------------------------------------------
কিনানাহ, এবং বনু কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, এবং কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন, আর বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন।
আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মাখলুক সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে তাদের সর্বোত্তম দলের ও সর্বোত্তম দুই দলের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তারপর গোত্রসমূহ নির্বাচন করেছেন এবং আমাকে সর্বোত্তম গোত্রের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, অতঃপর তিনি পরিবারসমূহ নির্বাচন করেছেন এবং আমাকে তাদের সর্বোত্তম পরিবারের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সুতরাং আমি সত্তার দিক থেকে তাদের শ্রেষ্ঠ এবং পরিবারের দিক থেকেও তাদের শ্রেষ্ঠ।"
যখন আদনানের সন্তানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন তারা বৃষ্টিপাতের স্থান এবং চারণভূমির সন্ধানে আরব ভূখণ্ডের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ল।
আব্দুল কায়েস, বকর বিন ওয়ায়িলের কিছু শাখা এবং তামীমের কিছু শাখা বাহরাইনের দিকে হিজরত করল এবং সেখানে বসবাস শুরু করল।
বনু হানিফা বিন সা’ব বিন আলী বিন বকর ইয়ামামার দিকে বেরিয়ে পড়ল এবং ইয়ামামার প্রধান শহর হাজারে অবতরণ করল। আর বকর বিন ওয়ায়িলের অবশিষ্টাংশ ইয়ামামা থেকে বাহরাইন, কাযিমাহর উপকূল থেকে সমুদ্র পর্যন্ত এবং ইরাকের সাওয়াদ অঞ্চলের প্রান্তভাগ থেকে উবাল্লাহ ও হীত পর্যন্ত দীর্ঘ এলাকা জুড়ে অবস্থান গ্রহণ করল।
তাগলিব গোত্র আল-জাজিরা আল-ফুরাতিয়্যাহতে (মেসোপটেমিয়া) অবস্থান করল এবং তাদের কিছু শাখা বকর গোত্রের সাথে একত্রে বসবাস করত। আর বনু তামীম বসরার মরু অঞ্চলে বসবাস শুরু করল।
বনু সুলাইম মদিনার নিকটবর্তী ওয়াদিউল কুরা থেকে খায়বার, মদিনার পূর্ব দিক থেকে জাবালায়ন (দুই পাহাড়) এর সীমানা এবং জুররাহ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় অবস্থান করল।
সাকীফ তায়েফে এবং হাওয়াযিন মক্কার পূর্ব দিকে আওতাসের আশেপাশে বসবাস করতে শুরু করল, যা মক্কা ও বসরার মধ্যবর্তী প্রধান সড়কের উপর অবস্থিত।
বনু আসাদ তায়মার পূর্ব এবং কুফার পশ্চিম দিকে বসবাস করল; তাদের এবং তায়মার মাঝে তাই গোত্রের বুহতারের আবাসস্থল ছিল এবং তাদের ও কুফার মধ্যে পাঁচ রাতের দূরত্ব ছিল।
দুবইয়ান তায়মার নিকটবর্তী এলাকা থেকে হাওরান পর্যন্ত বসবাস করল।
তিহামায় কিনানাহর শাখাগুলো অবশিষ্ট থাকল এবং মক্কা ও এর আশেপাশে কুরাইশদের শাখাগুলো অবস্থান করল। তারা বিচ্ছিন্ন ছিল, তাদের মধ্যে কোনো ঐক্যবদ্ধকারী সংস্থা ছিল না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে কুসাই বিন কিলাবের আবির্ভাব ঘটল। তিনি তাদের একত্রিত করেন এবং তাদের জন্য একটি ঐক্য প্রতিষ্ঠা করেন যা তাদের সম্মানিত করেছিল এবং তাদের মর্যাদাকে সমুন্নত করেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الحكم والإمارة في العربحينما أردنا أن نتكلم عن أحوال العرب قبل الإسلام؛ رأينا أن نضع صورة مصغرة من تاريخ الحكومة والإمارة والملل والأديان في العرب، حتى يسهل علينا فهم الأوضاع الطارئة عند ظهور الإسلام.
كان حكام الجزيرة حين بزغت شمس الإسلام قسمين: قسم منهم ملوك متوجون، إلا أنهم في الحقيقة كانوا غير مستقلين، وقسم هم رؤساء القبائل والعشائر، لهم ما للملوك من الحكم والإمتياز، ومعظم هؤلاء كانوا على تمام الإستقلال. وربما كانت لبعضهم تبعية لملك متوج، والملوك المتوجون هم ملوك اليمن، وملوك آل غسان، وملوك الحيرة، وما عدا هؤلاء من حكام الجزيرة فلم تكن لهم تيجان.
الملك باليمنمن أقدم الشعوب التي عرفت باليمن من العرب العاربة قوم سبأ، وقد عثر على ذكرهم في حفريات «أور» بخمسة وعشرين قرنا قبل الميلاد. ويبدأ ازدهار حضارتهم ونفوذ سلطانهم وبسط سيطرتهم بأحد عشر قرنا قبل الميلاد.
ويمكن تقسيم أدوارهم حسب التقدير الآتي:
1- القرون التي خلت قبل سنة 650 ق. م، وكان ملوكهم يلقبون في هذا الزمن ب «مكرب سبأ» وكانت عاصمتهم بلدة «صرواح» التي توجد أنقاضها على مسافة يوم إلى الجانب الغربي من بلدة «مأرب» وتعرب باسم «خريبة» وفي زمنهم بدأ بناء السد الذي عرف بسد مأرب، والذي له شأن كبير في تاريخ اليمن، ويقال إن سبأ بلغوا من بسط سلطتهم إلى أن اتخذوا المستعمرات في داخل العرب وخارجها.
2- منذ سنة 650 ق. م إلى سنة 115 ق. موفي هذا الزمن تركوا لقب «مكرب» وعرفوا بملوك سبأ، واتخذوا «مأرب» عاصمة لم بدل «صرواح» وتوجد أنقاضها على بعد ستين ميلا من صنعاء إلى جانبها الشرقي.
আরবের শাসন ও নেতৃত্বআমরা যখন ইসলাম-পূর্ব আরবের অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করার ইচ্ছা পোষণ করেছি, তখন আমরা ভেবেছি যে, আরবের শাসন, নেতৃত্ব, ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর ইতিহাসের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা প্রয়োজন, যাতে ইসলাম আবির্ভাবের সময়ের উদ্ভূত পরিস্থিতি আমাদের জন্য বোঝা সহজ হয়।
ইসলামের সূর্য যখন উদিত হলো, তখন আরব উপদ্বীপের শাসকরা দুই ভাগে বিভক্ত ছিলেন: একদল ছিলেন মুকুটধারী রাজা, তবে প্রকৃতপক্ষে তারা স্বাধীন ছিলেন না। অপর দল ছিলেন গোত্র ও বংশের প্রধানগণ, যাদের শাসন ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে রাজাদের ন্যায় ক্ষমতা ছিল; এবং তাদের অধিকাংশই ছিলেন পূর্ণ স্বাধীন। তবে সম্ভবত তাদের মধ্যে কেউ কেউ কোনো মুকুটধারী রাজার অনুগত ছিলেন। মুকুটধারী রাজারা ছিলেন ইয়েমেনের রাজা, গাসসানি বংশের রাজা এবং হীরা-র রাজা। এরা ব্যতীত আরব উপদ্বীপের অন্যান্য শাসকদের কোনো মুকুট ছিল না।
ইয়েমেনের রাজতন্ত্রইয়েমেনে পরিচিত প্রাচীনতম খাঁটি আরব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম হলো সাবা জাতি। খ্রিস্টপূর্ব পঁচিশ শতাব্দী আগের 'উর' খননকার্যে তাদের উল্লেখ পাওয়া গেছে। খ্রিস্টপূর্ব এগারো শতাব্দী থেকে তাদের সভ্যতার বিকাশ, ক্ষমতার প্রভাব এবং আধিপত্য বিস্তার শুরু হয়।
তাদের পর্যায়গুলোকে নিচের হিসাব অনুযায়ী বিভক্ত করা যেতে পারে:
১- খ্রিস্টপূর্ব ৬৫০ অব্দের পূর্ববর্তী শতাব্দীসমূহএই সময়ে তাদের রাজাদের উপাধি ছিল 'মাকরাব সাবা'। তাদের রাজধানী ছিল 'সারওয়াহ' শহর, যার ধ্বংসাবশেষ 'মারিব' শহরের পশ্চিম দিকে একদিনের দূরত্বে পাওয়া যায় এবং যা 'খুরাইবাহ' নামে পরিচিত। তাদের সময়েই সেই বাঁধ নির্মাণ শুরু হয় যা 'মারিব বাঁধ' নামে পরিচিত এবং ইয়েমেনের ইতিহাসে যার বিশাল গুরুত্ব রয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, সাবা জাতি তাদের আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে আরবের ভেতরে ও বাইরে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল।
২- খ্রিস্টপূর্ব ৬৫০ অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১১৫ অব্দ পর্যন্তএই সময়ে তারা 'মাকরাব' উপাধি ত্যাগ করেন এবং 'সাবার রাজা' হিসেবে পরিচিত হন। তারা 'সারওয়াহ'-এর পরিবর্তে 'মারিব'-কে রাজধানী হিসেবে গ্রহণ করেন। এর ধ্বংসাবশেষ সান'আ থেকে ষাট মাইল পূর্ব দিকে অবস্থিত।
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
3- منذ سنة 115 ق. م إلى سنة 300 م، وفي هذا العهد غلبت قبيلة حمير على مملكة سبأ، واتخذت بلدة «ريدان» عاصمة لها بدل «مأرب» . ثم سميت بلدة «ريدان» باسم ظفار، وتوجد أنقاضها على جبل مدور بالقرب من «يريم» وفي هذا العهد بدأ فيهم السقوط والإنحطاط، فقد فشلت تجارتهم إلى حد كبير؛ لبسط سيطرة الأنباط في شمال الحجاز أولا، ثم لغلبة الرومان على طرق التجارة البحرية بعد نفوذ سلطانهم على مصر وسوريا وشمالي الحجاز ثانيا، ولتنافس القبائل فيما بينها ثالثا. وهذه العناصر هي التي سببت في تفرق آل قحطان وهجرتهم إلى البلاد الشاسعة.
4- منذ سنة 300 م إلى أن دخل الإسلام في اليمن.
وفي هذا العهد توالت عليهم الإضطرابات والحوادث، وتتابعت الإنقلابات، والحروب الأهلية التي جعلتهم عرضة للأجانب حتى قضت على استقلالهم. ففي هذا العهد دخل الرومان في عدن، وبمعونتهم احتلت الأحباش اليمن لأول مرة سنة 340 م، مستغلين التنافس بين قبيلتي همدان وحمير، واستمر احتلالهم إلى سنة 378 م. ثم نالت اليمن استقلالها، ولكن بدأت تقع الثلمات في سد مأرب، حتى وقع السيل العظيم الذي ذكره القرآن بسيل العرم في سنة 450 م أو 451 م. وكانت حادثة كبرى أدت إلى خراب العمران وتشتت الشعوب.
وفي سنة 523 م قاد ذو نواس اليهودي حملة منكرة على المسيحيين من أهل نجران، وحاول صرفهم عن المسيحية قسرا. ولما أبوا خد لهم الأخدود وألقاهم في النيران، وهذا الذي أشار إليه القرآن في سورة البروج بقوله: قُتِلَ أَصْحابُ الْأُخْدُودِ الآيات، وكان من جراء ذلك نقمة النصرانية الناشطة إلى الفتح والتوسع تحت قيادة أمبراطور الرومان على بلاد العرب، فقد حرضوا الأحباش، وهيأوا لهم الأسطول البحري، فنزل سبعون ألف جندي من الحبشة، واحتلوا اليمن مرة ثانية، بقيادة أرياط سنة 525 م، وظل أرياط حاكما من قبل ملك الحبشة حتى اغتاله أبرهة- أحد قواد جيشه- وحكم بدله بعد أن استرضى ملك الحبشة، وأبرهة هذا هو الذي جند الجنود لهدم الكعبة، وعرف هو وجنوده بأصحاب الفيل.
وبعد وقعة الفيل استنجد اليمانيون بالفرس، وقاموا بمقاومة الحبشة حتى أجلوهم عن البلاد، ونالوا الإستقلال في سنة 575 م بقيادة معد يكرب بن سيف ذي يزن الحميري، واتخذوه ملكا لهم، وكان معد يكرب أبقى معه جمعا من الحبشة يخدمونه ويمشون في ركابه، فاغتالوه ذات يوم، وبموته انقطع الملك عن بيت ذي يزن، وولى كسرى عاملا
৩- ১১৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। এই যুগে হিমইয়ার গোত্র সাবা রাজ্যের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে এবং ‘ম্যারিব’-এর পরিবর্তে ‘রায়দান’ শহরকে তাদের রাজধানী হিসেবে গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ‘রায়দান’ শহরটি ‘যাফার’ নামে পরিচিত হয় এবং এর ধ্বংসাবশেষ ‘য়ারিম’-এর নিকটবর্তী মুদাওয়ার পাহাড়ে বিদ্যমান। এই যুগেই তাদের মধ্যে পতন ও অবনতি শুরু হয়। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য অনেকাংশেই স্থবির হয়ে পড়ে; কারণ প্রথমত, উত্তর হিজাজে নাবাতীয়দের আধিপত্য বিস্তার। দ্বিতীয়ত, মিশর, সিরিয়া এবং উত্তর হিজাজে প্রভাব বিস্তারের পর সমুদ্রপথের বাণিজ্যিক রুটে রোমানদের প্রাধান্য লাভ। তৃতীয়ত, গোত্রগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল। এই কারণগুলোই কাহতান বংশের মানুষের বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এবং দূরদূরান্তের দেশগুলোতে দেশান্তরের প্রধান কারণ ছিল।
৪- ৩০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ইয়ামেনে ইসলামের আগমন পর্যন্ত.
এই যুগে তাদের ওপর একের পর এক অস্থিরতা ও দুর্ঘটনা নেমে আসে এবং বারবার অভ্যুত্থান ও গৃহযুদ্ধ চলতে থাকে, যা তাদের বিদেশিদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের স্বাধীনতা খর্ব হয়। এই যুগেই রোমানরা এডেনে প্রবেশ করে এবং তাদের সহযোগিতায় হাবশীরা (ইথিওপিয়ানরা) ৩৪০ খ্রিস্টাব্দে প্রথমবারের মতো ইয়ামেন দখল করে। তারা হামদান ও হিমইয়ার গোত্রের মধ্যকার দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়েছিল। তাদের এই দখলদারিত্ব ৩৭৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। এরপর ইয়ামেন স্বাধীনতা ফিরে পায়, কিন্তু ম্যারিব বাঁধে ফাটল দেখা দিতে শুরু করে, যতক্ষণ না সেই মহাপ্রলয়ঙ্কারী বন্যা আসে যা কুরআন মাজিদে ‘সায়লুল আরিম’ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে (৪৫০ বা ৪৫১ খ্রিস্টাব্দে)। এটি ছিল একটি বিশাল দুর্ঘটনা যা জনপদ ধ্বংস এবং জাতিগুলোর বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণ হয়েছিল।
৫২৩ খ্রিস্টাব্দে ইহুদি শাসক যু-নুওয়াস নাজরানের খ্রিস্টানদের ওপর এক নৃশংস অভিযান চালায় এবং তাদের জোরপূর্বক খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। যখন তারা অস্বীকার করল, তখন সে তাদের জন্য পরিখা খনন করল এবং তাদের আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করল। এই ঘটনার দিকেই কুরআন মাজিদে সূরা বুরুজের ‘অভিশপ্ত হয়েছে গর্তওয়ালারা’ (আসহাবুল উখদুদ) আয়াতগুলোর মাধ্যমে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এর ফলে রোমান সম্রাটের নেতৃত্বে বিজয় ও প্রসারে আগ্রহী খ্রিস্টান শক্তির মধ্যে ক্রোধের সৃষ্টি হয়। তারা হাবশীদের প্ররোচিত করে এবং তাদের জন্য নৌবহর প্রস্তুত করে দেয়। ফলে হাবশা থেকে সত্তর হাজার সৈন্য অবতরণ করে এবং ৫২৫ খ্রিস্টাব্দে আরইয়াতের নেতৃত্বে দ্বিতীয়বারের মতো ইয়ামেন দখল করে। আরইয়াত হাবশার রাজার প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে শাসক হিসেবে বহাল থাকেন, যতক্ষণ না তার সেনাবাহিনীর অন্যতম সেনাপতি আবরাহা তাকে হত্যা করে। আবরাহা হাবশার রাজাকে সন্তুষ্ট করে নিজে ক্ষমতায় বসেন। এই সেই আবরাহা যে কাবাঘর ধ্বংস করার জন্য সৈন্য সমাবেশ করেছিল এবং সে ও তার সৈন্যরা ‘আসহাবুল ফীল’ (হস্তীবাহিনী) হিসেবে পরিচিত।
হস্তীবাহিনীর ঘটনার পর ইয়ামেনবাসীরা পারসিকদের সাহায্য প্রার্থনা করে এবং হাবশীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে যতক্ষণ না তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করে। ৫৭৫ খ্রিস্টাব্দে মা'দী কারিব বিন সাইফ যু-ইয়াযান আল-হিমইয়ারীর নেতৃত্বে তারা স্বাধীনতা লাভ করে এবং তাকে তাদের রাজা হিসেবে গ্রহণ করে। মা'দী কারিব তার খিদমত এবং সাথে চলার জন্য কিছু হাবশীকে রেখে দিয়েছিলেন। একদিন তারা তাকে হত্যা করে ফেলে। তার মৃত্যুর সাথে সাথে যু-ইয়াযান পরিবারের রাজত্বের অবসান ঘটে এবং কিসরা (পারস্য সম্রাট) সেখানে একজন গভর্নর নিযুক্ত করেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فارسيا على صنعاء، وجعل اليمن ولاية فارسية فلم تزل الولاة من الفرس تتعاقب على اليمن حتى كان آخرهم باذان الذي اعتنق الإسلام سنة 638 م. وبإسلامه انتهى نفوذ فارس على بلاد اليمن «1» .
الملك بالحيرةكانت الفرس تحكم على العراق وما جاورها منذ أن جمع شملهم قوروش الكبير (557- 529 ق. م) ولم يكن أحد يناوئهم، حتى قام الإسكندر المقدوني سنة 326 ق. م فهزم ملكهم دارا الأول، وكسر شوكتهم، حتى تجزأت بلادهم وتولاها ملوك يعرفون بملوك الطوائف، واستمروا يحكمون البلاد مجزأة إلى سنة 230 م. وفي عهد هؤلاء الملوك هاجر القحطانيون، واحتلوا جزآ من ريف العراق ثم لحقهم من هاجر من العدنانيين فزاحموهم حتى سكنوا جزآ من الجزيرة الفراتية.
وعادت القوة مرة ثانية إلى الفرس في عهد أردشير- مؤسس الدولة الساسانية منذ سنة 226 م- فإنه جمع شمل الفرس، واستولى على العرب المقيمين على تخوم ملكه، وكان هذا سببا في رحيل قضاعة إلى الشام، ودان له أهل الحيرة والأنبار.
وفي عهد أردشير كانت ولاية جذيمة الوضاح على الحيرة وسائر من ببادية العراق والجزيرة من ربيعة ومضر، وكان أردشير رأى أنه يستحيل عليه أن يحكم العرب مباشرة، ويمنعهم من الإغارة على تخوم ملكه، إلا أن يملك عليهم رجلا منهم له عصبية تؤيده وتمنعه، ومن جهة أخرى يمكنه الإستعانة بهم على ملوك الرومان الذين كان يتخوفهم، وليكون عرب العراق أمام عرب الشام الذين اصطنعهم ملوك الرومان، وكان يبقي عند ملك الحيرة كتيبة من جند الفرس؛ ليستعين بها على الخارجين على سلطانه من عرب البادية، وكان موت جذيمة حوالي سنة 268 م.
وبعد موت جذيمة ولي الحيرة عمرو بن عدي بن لفر اللخمي، أول ملوك اللخميين- في عهد كسرى سابور بن أردشير- ثم لم تزل الملوك من اللخميين تتوالى على الحيرة حتى ولي الفرس قباذ بن فيروز، وفي عهده ظهر مزدك، وقام بالدعوة إلى الإباحية، فتبعه
--------------------------------------------
সানআ-এর ওপর পারসিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি ইয়েমেনকে একটি পারসিক প্রদেশে পরিণত করেন। এরপর পারস্যের পক্ষ থেকে একের পর এক পারসিক গভর্নর ইয়েমেনে নিযুক্ত হতে থাকেন, যতক্ষণ না তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন বাযান, যিনি ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে ইয়েমেন ভূখণ্ডে পারস্যের প্রভাব শেষ হয় «১»।
হীরায় রাজত্বপারসিকরা ইরাক এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে শাসন করছিল সেই সময় থেকে যখন মহান সাইরাস (৫৫৭-৫২৯ খ্রি.পূ.) তাদের একত্রিত করেছিলেন। কেউ তাদের মোকাবিলা করার মতো ছিল না, যতক্ষণ না ৩২৬ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে আলেকজান্ডার মেসিডোনীয়র উত্থান ঘটে। তিনি তাদের রাজা প্রথম দারাকে পরাজিত করেন এবং তাদের শক্তি চূর্ণ করেন, ফলে তাদের দেশ খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যায় এবং 'মুলুকুত তাওয়াইফ' (ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোত্রপতি রাজা) হিসেবে পরিচিত রাজারা এর শাসনভার গ্রহণ করেন। তারা ২৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই বিভক্ত দেশটি শাসন করতে থাকেন। এই রাজাদের শাসনামলে কাহ্তানিরা হিজরত করে এবং ইরাকের পল্লী অঞ্চলের একটি অংশ দখল করে নেয়। এরপর আদনানিদের মধ্য থেকে যারা হিজরত করেছিল তারা তাদের সাথে যোগ দেয় এবং তাদের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে ফোরাত উপদ্বীপের (জাজিরাতুল ফুরাত) একটি অংশে বসবাস শুরু করে।
সাসানীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা আরদাশিরের আমলে—যিনি ২২৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে শাসন করেন—পারসিকদের ক্ষমতা পুনরায় ফিরে আসে। তিনি পারসিকদের একত্রিত করেন এবং তাঁর রাজ্যের সীমান্তে বসবাসকারী আরবদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন। এটাই ছিল কুযাআ গোত্রের সিরিয়ায় চলে যাওয়ার কারণ এবং হীরা ও আনবারের অধিবাসীরা তাঁর বশ্যতা স্বীকার করে।
আরদাশিরের শাসনামলে হীরা এবং ইরাকের মরুভূমি ও জাজিরা অঞ্চলে বসবাসকারী রাবিআ ও মুযার গোত্রগুলোর ওপর জাযিমা আল-ওয়াজ্জাহ-এর শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল। আরদাশির মনে করেছিলেন যে, আরবদের সরাসরি শাসন করা এবং তাঁর রাজ্যের সীমান্তে তাদের আক্রমণ ঠেকানো তাঁর পক্ষে অসম্ভব, যদি না তাদেরই মধ্য থেকে এমন একজনকে তাদের ওপর রাজা করা হয় যার নিজস্ব গোত্রীয় শক্তি তাকে সমর্থন ও সুরক্ষা প্রদান করবে। অন্যদিকে, তিনি তাদের মাধ্যমে রোমান রাজাদের বিরুদ্ধে সাহায্য নিতে পারতেন, যাদের তিনি ভয় পেতেন। এর ফলে ইরাকের আরবরা সিরিয়ার আরবদের মোকাবিলা করবে, যাদের রোমান রাজারা নিজেদের অনুগত হিসেবে গড়ে তুলেছিল। তিনি হীরার রাজার কাছে একদল পারসিক সৈন্য রাখতেন; যাতে মরুভূমির আরবদের মধ্য থেকে যারা তাঁর অবাধ্য হবে তাদের বিরুদ্ধে তিনি সেই সৈন্যদের সাহায্য নিতে পারেন। জাযিমার মৃত্যু ঘটে আনুমানিক ২৬৮ খ্রিস্টাব্দে।
জাযিমার মৃত্যুর পর লাখমি বংশের প্রথম রাজা আমর ইবনে আদি ইবনে লাফর আল-লাখমি হীরার শাসনভার গ্রহণ করেন—কিসরা শাপুর ইবনে আরদাশিরের শাসনামলে। এরপর থেকে লাখমি রাজবংশের রাজারা পর্যায়ক্রমে হীরার শাসন করতে থাকেন, যতক্ষণ না পারস্যের সিংহাসনে কাবাদ ইবনে ফিরোজ আসীন হন। তাঁর শাসনামলে মাজদাক আবির্ভূত হয় এবং সে অবাধ ভোগবাদের দাওয়াত দিতে শুরু করে, ফলে সে তাকে অনুসরণ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قباذ كما تبعه كثير من رعيته، ثم أرسل قباذ إلى ملك الحيرة- وهو المنذر بن ماء السماء- يدعوه إلى أن يختار هذا المذهب ويدين به، فأبى عليه ذلك حمية وأنفة، فعزله قباذ، وولى بدله الحارث بن عمرو بن حجر الكندي بعد أن أجاب دعوته إلى المذهب المزدكي.
وخلف قباذ كسرى أنوشروان، وكان يكره هذا المذهب جدا، فقتل المزدك وكثيرا ممن دان بمذهبه، وأعاد المنذر إلى ولاية الحيرة، وطلب الحارث بن عمرو لكنه أفلت إلى دار كلب، فلم يزل فيهم حتى مات.
واستمر الملك بعد المنذر بن ماء السماء في عقبة، حتى كان النعمان بن المنذر، وهو الذي غضب عليه كسرى بسبب وشاية دبرها زيد بن عدي العبادي، وأرسل كسرى إلى النعمان يطلبه، فخرج النعمان حتى نزل سرا على هانئ بن مسعود سيد آل شيبان، فأودعه أهله وماله، ثم توجه إلى كسرى، فحبسه كسرى حتى مات وولي على الحيرة بدله إياس بن قبيصة الطائي، وأمره أن يرسل إلى هانئ بن مسعود يطلب منه تسليم ما عنده، فأبى ذلك هانئ حمية، وآذن الملك بالحرب، ولم تلبث أن جاءت مرازبة كسرى وكتائبه في موكب إياس، وكانت بين الفريقين موقعة هائلة عند ذي قار، وانتصر فيها بنو شيبان، وانهزمت الفرس هزيمة منكرة. وهذا أول يوم انتصرت فيه العرب على العجم، وهو بعد ميلاد الرسول صلى الله عليه وسلم بقليل، فإنه عليه السلام ولد لثمانية أشهر من ولاية إياس ابن قبيصة على الحيرة.
وولّى كسرى على الحيرة بعد إياس حاكما فارسيا، وفي سنة 632 م عاد الملك إلى آل لخم، فتولى منهم المنذر الملقب بالمعرور، ولم تزد ولايته على ثمانية أشهر حتى قدم عليه خالد بن الوليد بعساكر المسلمين «1» .
الملك بالشامفي العهد الذي ماجت فيه العرب بهجرات القبائل صارت بطون من قضاعة إلى مشارف الشام وسكنت بها، وكانوا من بني سليح بن حلوان الذين منهم بنو ضجعم بن سليح المعروفون باسم الضجاعمة، فاصطنعهم الرومان ليمنعوا عرب البرية من العبث، وليكونوا عدة ضد الفرس، وولوا منهم ملكا، ثم تعاقب الملك فيهم سنين، ومن أشهر ملوكهم زياد بن الهبولة، ويقدر زمنهم من أوائل القرن الثاني الميلادي إلى نهايته تقريبا، وانتهت
--------------------------------------------
কুবাজকে তার প্রজাদের অনেকেই অনুসরণ করল। এরপর কুবাজ হীরা-র রাজা—যিনি মুনজির বিন মা-উস সামা—তার কাছে এই মতবাদ গ্রহণ ও তা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে লোক পাঠালেন। মুনজির আত্মমর্যাদাবোধ ও অনীহার কারণে তা অস্বীকার করলেন। ফলে কুবাজ তাকে পদচ্যুত করলেন এবং তার পরিবর্তে হারিস বিন আমর বিন হুজর আল-কিন্দিকে নিযুক্ত করলেন, যিনি মাজদাকি মতবাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন।
কুবাজের স্থলাভিষিক্ত হলেন কিসরা আনুশিরওয়ান। তিনি এই মতবাদকে অত্যন্ত ঘৃণা করতেন। ফলে তিনি মাজদাক এবং যারা এই মতবাদ গ্রহণ করেছিল তাদের অনেককে হত্যা করলেন। তিনি মুনজিরকে হীরা-র শাসনকর্তা হিসেবে পুনর্বহাল করলেন এবং হারিস বিন আমরকে তালাশ করলেন, কিন্তু সে কাল্ব গোত্রের এলাকায় পালিয়ে গেল এবং মৃত্যু পর্যন্ত তাদের মাঝেই অবস্থান করল।
মুনজির বিন মা-উস সামার পর তার বংশধরদের মধ্যে রাজত্ব অব্যাহত থাকে, এমনকি নুমান বিন মুনজির পর্যন্ত। যায়িদ বিন আদি আল-আবাদির ষড়যন্ত্রের কারণে কিসরা তার ওপর রাগান্বিত হয়েছিলেন। কিসরা নুমানকে তলব করলেন। নুমান বের হয়ে সংগোপনে আল-শাইবান বংশের নেতা হানি বিন মাসউদের কাছে আশ্রয় নিলেন এবং তার নিকট নিজ পরিবার ও সম্পদ গচ্ছিত রাখলেন। অতঃপর তিনি কিসরার কাছে গেলেন। কিসরা তাকে মৃত্যু পর্যন্ত বন্দি করে রাখলেন এবং তার পরিবর্তে ইয়াস বিন কাবিলা আত-তায়িকে হীরা-র শাসনকর্তা নিযুক্ত করলেন। তিনি তাকে আদেশ দিলেন যেন হানি বিন মাসউদের কাছে থাকা আমানতগুলো সোপর্দ করার দাবি জানায়। হানি আত্মমর্যাদাবোধ থেকে তা অস্বীকার করলেন এবং রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন। শীঘ্রই ইয়াস বিন কাবিলার নেতৃত্বে কিসরার সেনাপতি ও সেনাদল সেখানে উপস্থিত হল। দুই পক্ষের মধ্যে ‘জি কার’ নামক স্থানে এক ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হল। এতে বনু শাইবান বিজয়ী হল এবং পারস্য বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হল। এটিই ছিল প্রথম দিন যখন আরবরা অনারবদের ওপর বিজয় লাভ করেছিল। এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মের অল্পকাল পরের ঘটনা; কেননা ইয়াস বিন কাবিলা হীরা-র শাসনভার গ্রহণ করার আট মাস পর তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
ইয়াসের পর কিসরা হীরা-র ওপর একজন পারসিক গভর্নর নিযুক্ত করেন। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে রাজত্ব পুনরায় লাখম বংশের হাতে ফিরে আসে। তাদের মধ্য থেকে মুনজির, যার উপাধি ছিল আল-মা'রুর, ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তার শাসনকাল আট মাসের বেশি স্থায়ী হয়নি, এর মধ্যেই খালিদ বিন ওয়ালিদ মুসলিম বাহিনী নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন।
সিরিয়ার রাজত্বযে যুগে আরবদের মাঝে গোত্রীয় হিজরতের জোয়ার এসেছিল, তখন কুযা’আহ গোত্রের কিছু শাখা সিরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় গিয়ে বসবাস শুরু করে। তারা ছিল সালিহ বিন হুলওয়ানের বংশধর, যাদের মধ্যে যুজ’উম বিন সালিহ-এর বংশধররা ‘যাজাজিমাহ’ নামে পরিচিত ছিল। রোমানরা তাদের মিত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিল যাতে তারা মরুচারী আরবদের বিশৃঙ্খলা রোধ করতে পারে এবং পারসিকদের বিরুদ্ধে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। তারা তাদের মধ্য থেকে একজনকে রাজা হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর দীর্ঘ বছর ধরে তাদের মধ্যে রাজত্ব চলতে থাকে। তাদের বিখ্যাত রাজাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন যিয়াদ বিন আল-হাবূলা। তাদের সময়কাল আনুমানিক দ্বিতীয় খ্রিস্টীয় শতাব্দীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধরা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ২০)
ولايتهم بعد قدوم آل غسان، الذي غلبوا الضجاعمة على ما بيدهم وانتصروا عليهم، فولتهم الروم ملوكا على عرب الشام، وكانت قاعدتهم دومة الجندل، ولم تزل تتوالى الغساسنة على الشام بصفتهم عمالا لملوك الروم حتى كانت وقعة اليرموك سنة 13 هـ، وانقاد للإسلام آخر ملوكهم جبلة بن الأيهم في عهد أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه «1» .
الامارة بالحجازولي إسماعيل عليه السلام زعامة مكة وولاية البيت طول حياته «2» . وتوفي وله 137 سنة «3» . ثم ولي إثنان من أبنائه نابت ثم قيدار، ويقال العكس، ثم ولي أمر مكة بعدهما جدّهما مضاض بن عمرو الجرهمي، فانتقلت زعامة مكة إلى جدهم، وظلت في أيديهم، وكان لأولاد إسماعيل مركز محترم؛ لما لأبيهم من بناء البيت، ولم يكن لهم من الحكم شيء «4» .
ومضت الدهور والأيام ولم يزل أمر أولاد إسماعيل عليه السلام ضئيلا لا يذكر، حتى ضعف أمر جرهم قبيل ظهور بختنصر، وأخذ نجم عدنان السياسي يتألق في أفق سماء مكة منذ ذلك العصر، بدليل ما جاء بمناسبة غزو بختنصر للعرب في ذات عرق، فإن قائد العرب في الموقعة لم يكن جرهميا «5» .
وتفرقت بنو عدنان إلى اليمن عند غزوة بختنصر الثانية (سنة 587 ق. م) ، وذهب برمياه النبي بمعد إلى الشام، فلما انكشف ضغط بختنصر رجع معد إلى مكة فلم يجد من جرهم إلا جرشم بن جلهمة، فتزوج بابنته معانة فولدت له نزارا «6» .
وساء أمر جرهم بمكة بعد ذلك، وضاقت أحوالهم، فظلموا الوافدين إليها، واستحلوا مال الكعبة «7» ، الأمر الذي كان يغيظ العدنانيين، ويثير حفيظتهم، ولما نزلت خزاعة بمر الظهران، ورأت نفور العدنانيين من الجراهمة استغلت ذلك، فقامت بمعونة من
--------------------------------------------
আল-গাসসানের আগমনের পর তাদের রাজত্ব শুরু হয়, যারা দজাইমাদের পরাজিত করে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলো দখল করে নেয় এবং তাদের ওপর বিজয় লাভ করে। ফলে রোমানরা তাদেরকে সিরিয়ার আরবদের ওপর রাজা হিসেবে নিযুক্ত করে। তাদের রাজধানী ছিল দুমাতুল জান্দাল। রোমান সম্রাটদের প্রতিনিধি হিসেবে গাসসানিরা ধারাবাহিকভাবে সিরিয়ার শাসনভার পরিচালনা করতে থাকে, যতক্ষণ না ১৩ হিজরীতে ইয়ারমুকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। তাদের শেষ রাজা জাবালা বিন আল-আইহাম আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাজিয়াল্লাহু আনহু) «১»-এর যুগে ইসলামের অনুগত হন।
হিজাজের নেতৃত্বইসমাঈল (আলাইহিস সালাম) আজীবন মক্কার নেতৃত্ব এবং পবিত্র কাবাঘরের অভিভাবকত্ব পালন করেন «২»। তিনি ১৩৭ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন «৩»। এরপর তাঁর দুই পুত্র নাবিত এবং কাইদার (কারো মতে এর উল্টো) দায়িত্ব লাভ করেন। এরপর মক্কার নেতৃত্বের দায়িত্বভার তাঁদের মাতামহ মুদাদ বিন আমর আল-জুরহুমি গ্রহণ করেন। ফলে মক্কার নেতৃত্ব তাঁদের মাতামহের বংশে স্থানান্তরিত হয় এবং তাদের হাতেই থেকে যায়। কাবাঘর নির্মাণে তাঁদের পিতার অবদানের কারণে ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর সন্তানদের একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান ছিল; তবে শাসনকার্যে তাঁদের কোনো অংশ ছিল না «৪»।
দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হওয়ার পরও ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর সন্তানদের অবস্থা ছিল নগণ্য যা আলোচনার বাইরে ছিল, পরিশেষে বুখত নসরের আবির্ভাবের কিছুকাল আগে জুরহুম গোত্রের প্রভাব হ্রাস পেতে থাকে এবং সেই যুগ থেকেই মক্কার রাজনৈতিক আকাশে আদনানের সৌভাগ্য-নক্ষত্র উজ্জ্বল হতে শুরু করে। এর প্রমাণ পাওয়া যায় ‘জাতু ইরক’ নামক স্থানে আরবদের বিরুদ্ধে বুখত নসরের যুদ্ধের ঘটনায়, কারণ সেই যুদ্ধে আরবদের সেনাপতি কোনো জুরহুমি ছিলেন না «৫»।
বুখত নসরের দ্বিতীয় আক্রমণের সময় (৫৮৭ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে) বনু আদনান ইয়ামেনে ছড়িয়ে পড়ে। ইরামিয়া নবী মা’য়াদকে সিরিয়ায় নিয়ে যান। যখন বুখত নসরের চাপ প্রশমিত হলো, মা’য়াদ মক্কায় ফিরে এলেন। সেখানে তিনি জুরহুম গোত্রের কেবল জুশাম বিন জালহামাহকে পেলেন। অতঃপর তিনি তাঁর কন্যা মুআনাকে বিবাহ করেন এবং তাঁর গর্ভে নিজার জন্মগ্রহণ করেন «৬»।
এরপর মক্কায় জুরহুমদের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে এবং তাদের জীবনযাত্রা সংকীর্ণ হয়ে যায়। তারা আগন্তুকদের ওপর জুলুম করতে শুরু করে এবং কাবার সম্পদ আত্মসাৎ করা বৈধ মনে করে নেয় «৭», যা আদনানিদের ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত করে তোলে। যখন খুযাআ গোত্র মাররুজ জাহরানে অবতরণ করল এবং জুরহুমদের প্রতি আদনানিদের বিরাগ লক্ষ্য করল, তখন তারা এর সুযোগ গ্রহণ করল এবং সহযোগিতার মাধ্যমে রুখে দাঁড়ালো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ২১)
بطون عدنان- وهم بنو بكر بن عبد مناف بن كنانة- بمحاربة جرهم، حتى أجلتهم عن مكة، واستولت على حكمها، في أواسط القرن الثاني للميلاد.
ولما لجأت جرهم إلى الجلاء سدوا بئر زمزم، ودرسوا موضعها، ودفنوا فيها عدة أشياء، قال ابن إسحاق: فخرج عمرو بن الحارث بن مضاض الجرهمي «1» بغزالي الكعبة «2» ، وبحجر الركن الأسود فدفنهما في بئر زمزم، وانطلق هو ومن معه من جرهم إلى اليمن، فحزنوا على ما فارقوا من أمر مكة وملكها حزنا شديدا، وفي ذلك قال عمرو «3» :
كأن لم يكن بين الحجون إلى الصفا
… أنيس ولم يسمر بمكة سامر
بلى نحن كنا أهلها فأبادنا
… صروف الليالي والجدود العواثر
ويقدر زمن إسماعيل عليه السلام بعشرين قرنا قبل الميلاد، فتكون إقامة جرهم في مكة واحدا وعشرين قرنا تقريبا، وحكمهم على مكة زهاء عشرين قرنا. واستبدت خزاعة بأمر مكة دون بني بكر،
[خلال قبائل مضر]إلا أنه كان إلى قبائل مضر ثلاث خلال:
الأولى: الدفع بالناس من عرفة إلى المزدلفة، والإجازة بهم يوم النفر من منى، وكان يلي ذلك بنو الغوث بن مرة من بطون إلياس بن مضر، وكانوا يسمون: صوفة ومعنى هذه الإجازة أن الناس كانوا لا يرمون يوم النفر حتى يرمي رجل من صوفة، ثم إذا فرغ الناس من الرمي، وأرادوا النفر من منى أخذت صوفة بجانبي العقبة، فلم يجز أحد حتى يمروا، ثم يخلون سبيل الناس، فلما انقرضت صوفة ورثهم بنو سعد بن زيد مناة من تميم.
الثانية: الإفاضة من جمع غداة النحر إلى منى، وكان ذلك في بني عدوان.
الثالثة: إنساء الأشهر الحرم.
وكان ذلك إلى بني تميم بن عدي من بني كنانة «4» .
واستمرت ولاية خزاعة على مكة ثلاثمائة سنة «5» . وفي وقت حكمهم انتشر
--------------------------------------------
আদনান বংশের শাখাসমূহ—যারা বকর বিন আব্দ মানাফ বিন কিনানাহ—জুরহুমদের সাথে যুদ্ধ করল, শেষ পর্যন্ত তারা তাদের মক্কা থেকে বিতাড়িত করল এবং খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে মক্কার শাসনের ক্ষমতা দখল করল।
যখন জুরহুম গোত্র দেশত্যাগে বাধ্য হলো, তখন তারা জমজম কূয়টি বন্ধ করে দিল এবং এর অবস্থান চিহ্ন মিটিয়ে দিল। তারা তাতে বেশ কিছু জিনিস দাফন করে রাখল। ইবনে ইসহাক বলেন: আমর বিন হারিস বিন মুদাদ আল-জুরহুমি (১) কাবার দুটি হরিণ (২) এবং হাজরে আসওয়াদের কোণের পাথরটি নিয়ে বের হলেন এবং সে দুটিকে জমজম কূয়ায় দাফন করে দিলেন। তারপর তিনি এবং তার সাথে থাকা জুরহুম গোত্রের লোকেরা ইয়ামানের দিকে চলে গেলেন। মক্কার কর্তৃত্ব ও রাজত্ব হারানোর কারণে তারা অত্যন্ত শোকার্ত হলেন। এই প্রসঙ্গে আমর (৩) বলেছিলেন:
মনে হচ্ছে হাজুন থেকে সাফা পর্যন্ত যেন কোনো বন্ধু ছিল না
... এবং মক্কায় কোনো গল্পকার রাত জেগে গল্প করেনি।
হ্যাঁ, আমরাই ছিলাম এর অধিবাসী, কিন্তু রজনীর আবর্তন
... এবং দুর্ভাগ্য আমাদের ধ্বংস করে দিয়েছে।
ইসমাঈল আলাইহিস সালামের সময়কাল খ্রিস্টপূর্ব বিশ শতাব্দী আগে বলে ধারণা করা হয়। সে হিসেবে মক্কায় জুরহুমদের অবস্থানের সময়কাল ছিল প্রায় একুশ শতাব্দী এবং মক্কার ওপর তাদের শাসনকাল ছিল প্রায় বিশ শতাব্দী। এরপর খুজাআহ গোত্র বনু বকরকে বাদ দিয়ে মক্কার কর্তৃত্ব একচ্ছত্রভাবে দখল করে নেয়।
[মুদার গোত্রসমূহের বৈশিষ্ট্য]তবে মুদার গোত্রগুলোর নিকট তিনটি বৈশিষ্ট্য (দায়িত্ব) ছিল:
প্রথম: আরাফা থেকে মুজদালিফার দিকে মানুষকে নিয়ে যাত্রা করাএবং নাফরের দিন (মিনা থেকে প্রস্থানের দিন) তাদের অনুমতি প্রদান করা। ইলিইয়াস বিন মুদারের শাখা গোত্র বনু গাওস বিন মুররাহ এই দায়িত্ব পালন করত। তাদের 'সুফাহ' বলা হতো। এই অনুমতির অর্থ ছিল যে, সুফাহ গোত্রের কোনো ব্যক্তি কঙ্কর নিক্ষেপ না করা পর্যন্ত মানুষ নাফরের দিন কঙ্কর নিক্ষেপ করত না। তারপর যখন মানুষ কঙ্কর নিক্ষেপ শেষ করত এবং মিনা থেকে প্রস্থান করতে চাইত, তখন সুফাহ গোত্র আকাবার দুই পাশে অবস্থান নিত। তারা অতিক্রম না করা পর্যন্ত কেউ সেখান দিয়ে পার হতে পারত না। তারা পথ ছেড়ে দিলে তবেই অন্য মানুষ যেতে পারত। যখন সুফাহ গোত্র বিলুপ্ত হয়ে গেল, তখন তামিমে গোত্রের বনু সাদ বিন যায়েদ মানাত তাদের উত্তরাধিকারী হিসেবে এই দায়িত্ব লাভ করে।
দ্বিতীয়: নহরের দিন সকালে মুজদালিফা থেকে মিনার দিকে রওয়ানা হওয়াএবং এই দায়িত্ব ছিল বনু আদওয়ান গোত্রের ওপর।
তৃতীয়: পবিত্র মাসগুলোকে পিছিয়ে দেওয়া (নাসি).
আর এই দায়িত্ব ছিল বনু কিনানাহর অন্তর্গত বনু তামিম বিন আদি গোত্রের ওপর (৪)।
মক্কার ওপর খুজাআহ গোত্রের কর্তৃত্ব তিনশ বছর স্থায়ী ছিল (৫)। তাদের শাসনকালে ছড়িয়ে পড়েছিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ২২)
العدنانيون في نجد وأطراف العراق والبحرين، وبقي بأطراف مكة بطون من قريش وهم حلول وحرم، وبيوتات متفرقون في قومهم من بني كنانة، وليس لهم من أمر مكة ولا البيت الحرام شيء حتى جاء قصي بن كلاب «1» .
ويذكر من أمر قصي أن أباه مات وهو في حضن أمه، ونكحت أمه رجلا من بني عذرة- وهو ربيعة بن حرام- فاحتملها إلى بلاده بأطراف الشام، فلما شب قصي رجع إلى مكة، وكان واليها إذ ذاك حليل بن حبشة من خزاعة، فخطب قصي إلى حليل ابنته حبي، فرغب فيه حليل وزوجه إياها «2» فلما مات حليل قامت حرب بين خزاعة وقريش أدت أخيرا إلى تغلب قصي على أمر مكة والبيت.
[روايات في بيان سبب اندلاع الحرب بين خزاعة وقريش]وهناك ثلاث روايات في بيان سبب هذه الحرب.
الأولى:أن قصيا لما انتشر ولده وكثر ماله وعظم شرفه وهلك حليل رأى أنه أولى بالكعبة وبأمر مكة من خزاعة وبني بكر، وأن قريشا رؤوس آل إسماعيل وصريحهم، فكلم رجالا من قريش وبني كنانة في إخراج خزاعة وبني بكر عن مكة فأجابوه «3» .
الثانية:أن حليلا- فيما تزعم خزاعة- أوصى قصيا بالقيام على الكعبة وبأمر مكة» .
الثالثة:أن حليلا أعطى ابنته حبى ولاية البيت، واتخذ أبا غبشان الخزاعي وكيلا لها، فقام أبو غبشان بسدانة الكعبة نيابة عن حبى، فلما مات حليل اشترى قصي ولاية البيت من أبي غبشان بزق من الخمر، ولم ترض خزاعة بهذا البيع، وحاولوا منع قصي عن البيت، فجمع قصي رجالا من قريش وبني كنانة لإخراج خزاعة من مكة، فأجابوه.
وأيا ما كان، فلما مات حليل وفعلت صوفة ما كانت تفعل أتاهم قصي بمن معه من قريش وكنانة عند العقبة فقال: نحن أولى بهذا منكم، فقاتلوه فغلبهم قصي على ما كان بأيديهم، وانحازت عند ذلك خزاعة وبنو بكر عن قصي، فبدأهم قصي، وأجمع لحربهم،
--------------------------------------------
আদনানিরা নজদ, ইরাকের প্রান্তীয় অঞ্চল এবং বাহরাইনে অবস্থান করছিল। মক্কার আশেপাশে কুরাইশের কিছু শাখা অবশিষ্ট ছিল যারা সেখানে বসবাসকারী ও হারামের অধিবাসী হিসেবে গণ্য হতো। তারা বনু কিনানা গোত্রের বিভিন্ন শাখার মধ্যে বিচ্ছিন্ন পরিবার হিসেবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। কুসাই বিন কিলাব আসার আগ পর্যন্ত মক্কার শাসনকাজ কিংবা বাইতুল হারামের কোনো বিষয়েই তাদের কোনো অধিকার ছিল না।
কুসাইয়ের ব্যাপারে উল্লেখ করা হয় যে, তিনি যখন তাঁর মায়ের কোলে দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিলেন তখনই তাঁর পিতা মারা যান। অতঃপর তাঁর মা বনু উযরা গোত্রের এক ব্যক্তিকে বিবাহ করেন—যিনি ছিলেন রাবিআ বিন হারাম। তিনি তাঁকে সিরিয়ার সীমান্তবর্তী নিজ এলাকায় নিয়ে যান। কুসাই যখন যুবক হলেন তখন তিনি মক্কায় ফিরে আসেন। তৎকালীন মক্কার গভর্নর ছিলেন খুযাআ গোত্রের হুলাইল বিন হুবশিয়্যাহ। কুসাই হুলাইলের নিকট তাঁর কন্যা হুব্বার বিয়ের প্রস্তাব দিলে হুলাইল তা পছন্দ করেন এবং তাঁর সাথে বিয়ে দেন। যখন হুলাইল মারা গেলেন, তখন খুযাআ এবং কুরাইশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলো, যার পরিণতিতে কুসাই মক্কা ও কাবার কর্তৃত্ব লাভে সফল হলেন।
[খুযাআ ও কুরাইশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণ সম্পর্কে বর্ণিত বিবরণসমূহ]এই যুদ্ধের কারণ বর্ণনায় তিনটি বিবরণ পাওয়া যায়।
প্রথম:যখন কুসাইয়ের সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি পেল, তাঁর ধন-সম্পদ প্রচুর হলো এবং তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ হলো, আর হুলাইল মৃত্যুবরণ করলেন, তখন তিনি মনে করলেন যে খুযাআ ও বনু বকরের চেয়ে তিনিই কাবা ও মক্কার শাসনের অধিক যোগ্য। কেননা কুরাইশরাই হলো ইসমাঈল (আ.)-এর বংশধরদের প্রধান ও খাঁটি শাখা। ফলে তিনি মক্কা থেকে খুযাআ ও বনু বকরকে বের করে দেওয়ার বিষয়ে কুরাইশ ও বনু কিনানার কিছু লোকের সাথে আলোচনা করলে তারা তাতে সম্মতি প্রদান করল।
দ্বিতীয়:খুযাআ গোত্রের দাবি অনুযায়ী, হুলাইল কাবার রক্ষণাবেক্ষণ এবং মক্কার দায়িত্ব পরিচালনার জন্য কুসাইকে অসিয়ত করে গিয়েছিলেন।
তৃতীয়:হুলাইল তাঁর কন্যা হুব্বাকে কাবার কর্তৃত্ব প্রদান করেছিলেন এবং আবু গুবশান আল-খুযাঈকে তাঁর প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছিলেন। আবু গুবশান হুব্বার পক্ষ থেকে কাবার খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। হুলাইল মারা গেলে কুসাই এক মশক মদের বিনিময়ে আবু গুবশানের কাছ থেকে কাবার কর্তৃত্ব কিনে নেন। খুযাআ গোত্র এই ক্রয়-বিক্রয় মেনে নিতে রাজি হলো না এবং তারা কুসাইকে কাবার দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করল। তখন কুসাই খুযাআকে মক্কা থেকে বের করে দেওয়ার জন্য কুরাইশ ও বনু কিনানার লোকদের একত্রিত করলেন এবং তারা তাঁর ডাকে সাড়া দিল।
যাই হোক না কেন, হুলাইল যখন মারা গেলেন এবং সুফা সম্প্রদায় তাদের প্রথা অনুযায়ী কাজ শুরু করল, তখন কুসাই কুরাইশ ও কিনানার লোকজন নিয়ে আকাবার নিকট তাদের কাছে উপস্থিত হলেন এবং বললেন: "আমরা তোমাদের চেয়ে এর অধিক যোগ্য।" ফলে তারা তাঁর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হলো এবং কুসাই তাদের কর্তৃত্বাধীন বিষয়গুলো দখল করে নিলেন। সেই সময়ে খুযাআ ও বনু বকর কুসাইয়ের পক্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। অতঃপর কুসাই তাদের আক্রমণের উদ্যোগ নিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فالتقوا واقتتلوا قتالا شديدا، صار جمع من الفريقين فريسة له، ثم تداعوا إلى الصلح فحكموا يعمر بن عوف أحد بني بكر، فقضى بأن قصيا أولى بالكعبة وبأمر مكة من خزاعة، وكل دم أصابه قصي منهم موضوع بشدخة تحت قدميه، وما أصابت خزاعة وبنو بكر ففيه الدية، وأن يخلي بين قصي وبين الكعبة- فسمي يعمر يومئذ الشداخ «1» - وكان استيلاء قصي على مكة والبيت في أواسط القرن الخامس للميلاد سنة 440 م «2» وبذلك صارت لقصي، ثم لقريش السيادة التامة، والأمر النافذ في مكة، وصار الرئيس الديني لذلك البيت الذي كانت تفد إليه العرب من جميع أنحاء الجزيرة.
ومما فعله قصي بمكة أنه جمع قومه من منازلهم إلى مكة، وقطعها رباعا بين قومه، وأنزل كل قوم من قريش منازلهم التي أصبحوا عليها، وأقر النسأة وآل صفوان، وعدوان ومرة بن عوف على ما كانوا عليه من المناصب؛ لأنه كان يراه دينا في نفسه لا ينبغي تغييره «3» .
ومن ماثر قصي أنه أسس دار الندوة بالجانب الشمالي من مسجد الكعبة، وجعل بابها إلى المسجد، وكانت مجمع قريش، وفيها تفصل مهام أمورها، ولهذه الدار فضل على قريش؛ لأنها ضمنت اجتماع الكلمة وفض المشاكل بالحسنى «4» .
[رئاسة قصي]وكان لقصي من مظاهر الرئاسة والتشريف:
1- رئاسة دار الندوة، ففيها كانوا يتشاورون فيما نزل بهم من جسام الأمور، ويزوجون فيها بناتهم.
2- اللواء، فكانت لا تعقد راية الحرب إلا بيده.
3- الحجابةوهي حجابة الكعبة، لا يفتح بابها إلا هو، وهو الذي يلي أمر خدمتها وسدانتها.
4- سقاية الحاج، وهي أنهم كانوا يملأون للحجاج حياضا من الماء، يحلونها بشيء من التمر والزبيب، فيشرب الناس منها إذا وردوا مكة «5» .
--------------------------------------------
অতঃপর তারা মুখোমুখী হলো এবং এক ভয়াবহ যুদ্ধে লিপ্ত হলো, উভয় পক্ষের এক বিশাল দল এই যুদ্ধের শিকারে পরিণত হলো। এরপর তারা সন্ধির আহ্বান জানালো এবং বনু বকরের ইয়ামুর বিন আউফকে সালিশ নিযুক্ত করলো। তিনি ফয়সালা দিলেন যে, খুযাআ’র চেয়ে কুসাই-ই কাবা এবং মক্কার শাসনের অধিক হকদার। আর কুসাই তাদের যে রক্তপাত ঘটিয়েছেন তা তার পদতলে পিষ্ট (বিবেচনা বহির্ভূত) বলে গণ্য হবে, কিন্তু খুযাআ ও বনু বকর যে রক্তপাত ঘটিয়েছে তার রক্তপণ দিতে হবে। আর কুসাই ও কাবার মধ্যবর্তী পথ উন্মুক্ত করে দিতে হবে। ইয়ামুরকে সেদিন ‘শাদদাখ’ উপাধি দেওয়া হয়। মক্কা ও বাইতুল্লাহর ওপর কুসাইয়ের এই আধিপত্য পঞ্চম শতাব্দীর মাঝামাঝি অর্থাৎ ৪৪০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর মাধ্যমে কুসাই এবং পরবর্তীতে কুরাইশদের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব ও মক্কায় কার্যকর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি সেই পবিত্র ঘরের ধর্মীয় প্রধান হন, যেখানে সমগ্র আরব উপদ্বীপ থেকে আরবরা আসত।
কুসাই মক্কায় যা করেছিলেন তা হলো, তিনি তার কওমকে তাদের আবাসস্থল থেকে মক্কায় একত্রিত করেন এবং মক্কার ভূমিকে তার কওমের মাঝে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে দেন। কুরাইশদের প্রতিটি গোত্রকে তাদের নির্ধারিত স্থানে বসবাস করান। আর নাসাআহ (মাস পিছিয়ে দেওয়ার প্রথা), সাফওয়ান পরিবার, আদওয়ান এবং মুররাহ বিন আউফকে তাদের পূর্ববর্তী পদমর্যাদায় বহাল রাখেন; কারণ তিনি একে নিজের অন্তরে এক ধর্মীয় বিধান মনে করতেন যা পরিবর্তন করা সমীচীন নয়।
কুসাইয়ের অন্যতম কীর্তি হলো তিনি কাবা মসজিদের উত্তর পাশে ‘দারুন নদওয়া’ (পরামর্শ সভা) প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর প্রবেশপথ মসজিদের দিকে রাখেন। এটি ছিল কুরাইশদের মিলনস্থল, যেখানে তাদের গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলীর ফয়সালা হতো। কুরাইশদের ওপর এই গৃহের বিশেষ অবদান রয়েছে; কারণ এটি তাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধানের নিশ্চয়তা দিয়েছিল।
[কুসাইয়ের নেতৃত্ব]কুসাইয়ের নেতৃত্ব ও সম্মানের বহিঃপ্রকাশগুলো ছিল নিম্নরূপ:
১- দারুন নদওয়ার নেতৃত্ব। এখানে তারা তাদের ওপর আপতিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ করতেন এবং এখানে তাদের কন্যাদের বিবাহ সম্পন্ন করতেন।
২- আল-লিওয়া (পতাকা)। তার হাত ছাড়া যুদ্ধের পতাকা বাঁধা হতো না।
৩- আল-হিজাবাহ। এটি হলো কাবার রক্ষণাবেক্ষণ; তিনি ছাড়া কেউ এর দরজা খুলত না এবং তিনিই এর সেবা ও দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করতেন।
৪- হজযাত্রীদের পানি পান করানো। তারা হাজীদের জন্য পানির চৌবাচ্চাগুলো পূর্ণ করে রাখতেন এবং তাতে কিছু খেজুর ও কিসমিস মিশিয়ে মিষ্টি করতেন, যাতে মক্কায় আগত লোকজন তা পান করতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
5- رفادة الحاج، وهي طعام كان يصنع للحاج على طريقة الضيافة، وكان قصي فرض على قريش خرجا تخرجه في الموسم من أموالها إلى قصي، فيضع به طعاما للحاج، يأكله من لم يكن له سعة ولا زاد «1» .
وكان كل ذلك لقصي، وكان ابنه عبد مناف قد شرف وساد في حياته، وكان عبد الدار بكرة، فقال له قصي: لألحقنك بالقوم وإن شرفوا عليك، فأوصى له بما كان يليه من مصالح قريش، فأعطاه دار الندوة والحجابة واللواء والسقاية والرفادة، وكان قصي لا يخالف ولا يرد عليه شيء صنعه، وكان أمره في حياته وبعد موته كالدين المتبع، فلما هلك أقام بنوه أمر لا نزاع بينهم، ولكن لما هلك عبد مناف نافس أبناؤه بني عمهم عبد الدار في هذه المناصب، وافترقت قريش فرقتين، وكاد يكون بينهم قتال، إلا أنهم تداعوا إلى الصلح، واقتسموا هذه المناصب، فصارت السقاية والرفادة إلى بني عبد مناف، وبقيت دار الندوة واللواء والحجابة بيد بني عبد الدار، ثم حكم بنو عبد مناف القرعة فيما أصابهم فخرجت لهاشم بن عبد مناف، فكان هو الذي يلي السقاية والرفادة طول حياته، فلما مات خلفه أخوه المطلب بن عبد مناف، وولي بعده عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف جد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وبعده أبناؤه حتى جاء الإسلام والولاية إلى العباس بن عبد المطلب «2» .
[مناصب أخرى لقريش]وكانت لقريش مناصب سوى ذلك وزعوها فيما بينهم، وكونوا بها دويلة- بل بتعبير أصح: شبه دويلة ديمقراطية. وكانت لها من الدوائر والتشكيلات الحكومية ما يشبه في عصرنا هذا دوائر البرلمان ومجالسها، وهاك لوحة من تلك المناصب:
1- الإيسار:أي تولية قداح الأصنام للإستقسام، كان ذلك في بني جمح.
2- تحجير الأموال، أي نظم القربات والنذور التي تهدي إلى الأصنام، وكذلك فصل الخصومات والمرافعات. كان ذلك في بني سهم.
3- الشورى، كانت في بني أسد.
4- الأشناق، أي نظم الديات والغرامات، كان ذلك في بني تيم.
5- العقاب، أي حمل اللواء القومي، كانت ذلك في بني أمية.
--------------------------------------------
৫. হাজীদের মেহমানদারি (রিফাদাহ)এটি ছিল এক প্রকার খাদ্য ব্যবস্থা যা মেহমানদারির নিয়ম অনুযায়ী হাজীদের জন্য তৈরি করা হতো। কুসাই কুরাইশদের ওপর এই বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছিলেন যে, তারা হজের মৌসুমে তাদের সম্পদ থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ কুসাইকে প্রদান করবে। তিনি সেই অর্থ দিয়ে হাজীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতেন, যা থেকে সামর্থ্যহীন এবং পাথেয়হীন হাজীরা আহার করতেন। «১»
এই সকল দায়িত্ব কুসাইয়ের হাতে ছিল। তাঁর জীবদ্দশাতেই তাঁর পুত্র আবদে মানাফ বিশেষ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন। তবে আবদুদ দার ছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান। কুসাই তাঁকে বলেছিলেন, "আমি তোমাকে অবশ্যই অন্যদের স্তরে নিয়ে যাব, যদিও তারা তোমার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে।" অতঃপর তিনি কুরাইশদের জনকল্যাণমূলক যে সকল দায়িত্ব তাঁর অধীনে ছিল, সেগুলোর ব্যাপারে আবদুদ দারের অনুকূলে অসিয়ত করে যান। তিনি তাঁকে দারুন নদওয়া (পরামর্শ সভা), হিজাবাহ (কাবাগৃহের চাবি রক্ষা), লিওয়া (পতাকা), সিকাবাহ (হাজীদের পানি পান করানো) এবং রিফাদাহ (হাজীদের মেহমানদারি) প্রদান করেন। কুসাইয়ের কোনো সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা হতো না এবং তাঁর কোনো কাজ কেউ প্রত্যাখ্যান করত না। তাঁর জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর তাঁর আদেশ ছিল অনুসরণযোগ্য ধর্মের মতো। যখন কুসাই ইন্তেকাল করলেন, তখন তাঁর পুত্ররা কোনো বিবাদ ছাড়াই সেই নিয়মগুলো বহাল রাখলেন। কিন্তু যখন আবদে মানাফ মারা গেলেন, তখন তাঁর সন্তানরা এই পদমর্যাদাগুলো নিয়ে তাদের চাচাতো ভাই আবদুদ দারের বংশধরদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করল। কুরাইশরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়ল এবং তাদের মধ্যে যুদ্ধের উপক্রম হলো। পরিশেষে তারা সন্ধিতে সম্মত হলো এবং পদগুলো নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নিল। ফলে সিকাবাহ এবং রিফাদাহ পদ দুটি বনু আবদে মানাফের ভাগে পড়ল, আর দারুন নদওয়া, লিওয়া এবং হিজাবাহ বনু আবদুদ দারের হাতেই থেকে গেল। অতঃপর বনু আবদে মানাফ তাদের প্রাপ্ত পদগুলোর ব্যাপারে লটারি করল এবং তা হাশিম বিন আবদে মানাফের ভাগে পড়ল। ফলে তিনি সারা জীবন সিকাবাহ এবং রিফাদাহর দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ভাই মুত্তালিব বিন আবদে মানাফ তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাদা আবদুল মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আবদে মানাফ এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর পর তাঁর সন্তানরা এর দায়িত্ব পালন করেন, এমনকি ইসলাম আসার সময় এই কর্তৃত্ব আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিবের হাতে ছিল। «২»
[কুরাইশদের অন্যান্য পদসমূহ]কুরাইশদের আরও কিছু পদ ছিল যা তারা নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নিয়েছিল এবং এর মাধ্যমে তারা একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র—বরং আরও সঠিক শব্দে বললে একটি আধা-গণতান্ত্রিক ক্ষুদ্র রাষ্ট্র গঠন করেছিল। তাদের প্রশাসনিক কাঠামো ও বিভাগগুলো বর্তমান যুগের পার্লামেন্ট এবং এর পরিষদগুলোর মতো ছিল। সেই পদগুলোর একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. আল-ইসার:অর্থাৎ ভাগ্য পরীক্ষার জন্য মূর্তিদের কাছে রক্ষিত তীরের দায়িত্ব পালন করা; এটি বনু জুমাহ গোত্রের দায়িত্বে ছিল।
২. তাহজীরুল আমওয়াল:অর্থাৎ মূর্তিদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত হাদিয়া ও মানতের সম্পদের ব্যবস্থাপনা, সেইসাথে বিবাদ ও মামলা-মোকাদ্দমার ফয়সালা করা। এটি বনু সাহম গোত্রের দায়িত্বে ছিল।
৩. আশ-শূরা (পরামর্শ সভা):এটি বনু আসাদ গোত্রের দায়িত্বে ছিল।
৪. আল-আশনাক:অর্থাৎ রক্তপণ (দিয়ত) এবং জরিমানা নির্ধারণের ব্যবস্থা। এটি বনু তাইম গোত্রের দায়িত্বে ছিল।
৫. আল-উক্বাব:অর্থাৎ জাতীয় পতাকা বহন করা। এটি বনু উমাইয়া গোত্রের দায়িত্বে ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
6- القبة،
أي نظم المعسكر، وكذلك قيادة الخيل، كانت في بني مخزوم.
7- السفارة، كانت في بني عدي «1» .
الحكم في سائر العربقد سبق لنا أن ذكرنا هجرات القبائل القحطانية والعدنانية، وأن البلاد العربية اقتسمت فيما بينها، فما كان من هذه القبائل بالقرب من الحيرة كانت تبعا لملك العرب بالحيرة، وما كان منها في بادية الشام كانت تبعا للغساسنة، إلا أن هذه التبعية كانت اسمية لا فعلية. وأما ما كان منها في البوادي في داخل الجزيرة فكانت حرة مطلقة.
وفي الحقيقة كان لهذه القبائل رؤساء تسودهم القبيلة، وكانت القبيلة حكومة مصغرة، أساس كيانها السياسي: الوحدة العصبية، والمنافع المتبادلة في حماية الأرض، ودفع العدوان عنها.
وكانت درجة رؤساء القبائل في قومهم كدرجة الملوك، فكانت القبيلة تبعا لرأي سيدها في السلم والحرب، لا تتأخر عنه بحال، وكان له من الحكم والإستبداد بالرأي ما يكون لدكتاتور قوي، حتى كان بعضهم إذا غضب غضب له ألوف من السيوف لا تسأله فيما غضب، إلا أن المنافسة في السيادة بين أبناء العم كانت تدعوهم إلى المصانعة بالناس، من بذل الندى، وإكرام الضيف، والكرم، والحلم وإظهار الشجاعة، والدفاع عن الغير؛ حتى يكسبوا المحامد في أعين الناس، ولا سيما الشعراء الذين كانوا لسان القبيلة في ذلك الزمان، وحتى تسمو درجتهم عن مستوى المنافسين.
وكان للسادة والرؤساء حقوق خاصة، فكانوا يأخذون من الغنيمة المرباع والصفي والنشيطة والفضول، يقول الشاعر:
لك المرباع فينا والصفايا
… وحكمك والنشيطة والفضول
والمرباع: ربع الغنيمة، والصفي: ما يصفيه الرئيس لنفسه قبل القسمة، والنشيطة:
ما أصاب الرئيس في الطريق قبل أن يصل إلى بيضة القوم. والفضول: ما فضل من القسمة مما لا تصح قسمته على عدد الغزاة، كالبعير والفرس ونحوهما.
--------------------------------------------
৬- আল-কুব্বা,
অর্থাৎ সামরিক শিবিরের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং একইভাবে অশ্বারোহী বাহিনীর নেতৃত্ব প্রদান বনু মাখজুম গোত্রের দায়িত্বে ছিল।
৭- আস-সিফারা (দূতগিরি), এটি বনু আদি গোত্রের দায়িত্বে ছিল «১»।
অন্যান্য আরবদের শাসন ব্যবস্থাআমরা ইতিপূর্বে কাহতানি ও আদনানি গোত্রসমূহের হিজরত বা দেশান্তরের কথা উল্লেখ করেছি এবং আরব ভূখণ্ড যে তাদের নিজেদের মধ্যে বিভক্ত ছিল তাও আলোচনা করেছি। এই গোত্রগুলোর মধ্যে যারা হীরার নিকটবর্তী ছিল, তারা হীরার আরব রাজাদের অনুগত ছিল। আর যারা সিরিয়ার মরুপ্রান্তে ছিল, তারা গাসসানিদের অনুসারী ছিল। তবে এই আনুগত্য ছিল নামমাত্র, বাস্তব নয়। কিন্তু আরব উপদ্বীপের অভ্যন্তরে মরুভূমিতে বসবাসকারী গোত্রগুলো ছিল সম্পূর্ণ স্বাধীন ও মুক্ত।
প্রকৃতপক্ষে এই গোত্রগুলোর এমন সব গোত্রপতি ছিল যারা গোত্রের ওপর কর্তৃত্ব করত। প্রতিটি গোত্রই ছিল একটি ক্ষুদ্র সরকার বা রাষ্ট্রের মতো, যার রাজনৈতিক কাঠামোর ভিত্তি ছিল বংশীয় সংহতি (আসাবিয়্যাহ) এবং ভূখণ্ড রক্ষা ও শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা।
নিজেদের কওমের মধ্যে গোত্রপতিদের মর্যাদা ছিল রাজাদের মর্যাদার ন্যায়। যুদ্ধ ও সন্ধি—উভয় ক্ষেত্রেই গোত্র তাদের নেতার মতামতের অনুসারী ছিল, কোনো অবস্থাতেই তারা তার অবাধ্য হতো না। সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও একক কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে তার ক্ষমতা ছিল একজন শক্তিশালী একনায়কের মতো; এমনকি তাদের কেউ রাগান্বিত হলে তার সমর্থনে হাজার হাজার তলোয়ার কোষমুক্ত হতো, অথচ তারা তাকে জিজ্ঞেসও করত না যে তিনি কেন রাগান্বিত হয়েছেন। তবে নেতৃত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লড়াইয়ে চাচাতো ভাইদের মধ্যে যে প্রতিযোগিতা বিদ্যমান ছিল, তা তাদের মানুষের প্রতি সৌজন্য প্রদর্শনে উদ্বুদ্ধ করত; যেমন—অকাতরে দান করা, মেহমানদারি, মহানুভবতা, সহনশীলতা, বীরত্ব প্রদর্শন এবং অন্যের প্রতিরক্ষা করা; যাতে তারা মানুষের দৃষ্টিতে প্রশংসিত হতে পারে, বিশেষ করে কবিদের নিকট—যারা সেই যুগে গোত্রের মুখপত্র ছিল—এবং যাতে তাদের মর্যাদা প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় উচ্চতর হয়।
নেতা ও গোত্রপতিদের কিছু বিশেষ অধিকার ছিল। তারা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বা গণিমত থেকে মিরবা‘, সাফি, নাশিতাহ এবং ফুজুল গ্রহণ করতেন। কবি বলেন:
আমাদের মাঝে মিরবা‘ এবং সাফায়া আপনারই প্রাপ্য ... আর আপনার সিদ্ধান্ত এবং নাশিতাহ ও ফুজুলও আপনার জন্য।
মিরবা‘ হলো গণিমতের এক-চতুর্থাংশ। সাফি হলো যা নেতা বণ্টনের পূর্বেই নিজের জন্য পছন্দ করে নিতেন। নাশিতাহ হলো:
শত্রুর মূল জনপদে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে নেতা যা অর্জন করতেন। আর ফুজুল হলো বণ্টনের পর অবশিষ্ট অংশ যা যোদ্ধাদের সংখ্যার অনুপাতে ভাগ করা সম্ভব হতো না, যেমন উট, ঘোড়া বা এই জাতীয় কিছু।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الحالة السياسيةقد ذكرنا حكام العرب، والآن آن لنا أن نذكر جملة من أحوالهم السياسية، فالأقطار الثلاثة التي كانت مجاورة للأجانب كانت حالتها السياسية في تضعضع وانحطاط لا مزيد عليه، فقد كان الناس بين سادة وعبيد، أو حكام وحكومين، فالسادة- ولا سيما الأجانب- لهم كل الغنم، والعبيد عليهم كل الغرم، وبعبارة أوضح إن الرعايا كانت بمثابة مزرعة تورد المحصولات إلى الحكومات، فتستخدمها في ملذاتها وشهواتها، ورغائبها، وجورها، وعدوانها. أما الناس فهم في عمايتهم يتخبطون، والظلم ينحط عليهم من كل جانب وما في استطاعتهم التذمر والشكوى، بل هم يسامون الخسف، والجور، والعذاب ألوانا ساكتين، فقد كان الحكم استبداديا، والحقوق ضائعة مهدورة، والقبائل المجاورة لهذه الأقطار مذبذبون تتقاذفهم الأهواء والأغراض، مرة يدخلون في أهل العراق، ومرة يدخلون في أهل الشام، وكانت أحوال القبائل داخل الجزيرة مفككة الأوصال، تغلب عليها المنازعات القبلية والاختلافات العنصرية والدينية حتى قال ناطقهم:
وما أنا إلا من غزية إن غوت
… غويت، وإن ترشد غزية أرشد
ولم يكن لهم ملك يدعم استقلالهم، أو مرجع يرجعون إليه، ويعتمدون عليه وقت الشدائد.
وأما حكومة الحجاز، فقد كانت تنظر إليها العرب نظرة تقدير واحترام، ويرونها قادة وسدنة المركز الديني، وكانت تلك الحكومة في الحقيقة خليطا من الصدارة الدنيوية والحكومية والزعامة الدينية، حكمت بين العرب باسم الزعامة الدينية، وحكمت في الحرم وما والاه بصفتها حكومة تشرف على مصالح الوافدين إلى البيت، وتنفذ حكم شريعة إبراهيم، وكانت لها من الدوائر والتشكيلات ما يشابه دوائر البرلمان- كما أسلفنا- ولكن هذه الحكومة كانت ضعيفة لا تقدر على حمل العبء كما وضح يوم غزو الأحباش.
রাজনৈতিক অবস্থাআমরা আরবদের শাসকদের কথা উল্লেখ করেছি, আর এখন আমাদের জন্য সময় হয়েছে তাদের সামগ্রিক রাজনৈতিক অবস্থা বর্ণনা করার। বিদেশিদের সীমান্তবর্তী তিনটি অঞ্চলের রাজনৈতিক অবস্থা এমন চরম দুর্বলতা ও অবনতির শিকার ছিল যে তার আর কোনো সীমা ছিল না। সেখানে মানুষ প্রভু ও দাস অথবা শাসক ও শাসিত—এই দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। প্রভুরা—বিশেষ করে বিদেশিরা—সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত, আর দাসদের ওপর ছিল সব ধরনের দায় ও দণ্ড। আরো স্পষ্টভাবে বললে, প্রজারা ছিল একটি খামারের মতো যা সরকারের কাছে ফসল সরবরাহ করত; আর সরকার তা তাদের ভোগবিলাস, প্রবৃত্তির লালসা, আকাঙ্ক্ষা, জুলুম ও অন্যায়-অবিচারে ব্যবহার করত। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ তাদের অজ্ঞতায় হাবুডুবু খাচ্ছিল, চারপাশ থেকে তাদের ওপর জুলুম নেমে আসছিল, অথচ তাদের কোনো প্রতিবাদ বা অভিযোগ করার ক্ষমতা ছিল না। বরং তারা নীরবে লাঞ্ছনা, অন্যায় ও নানা প্রকারের শাস্তি সহ্য করে যাচ্ছিল। কেননা শাসন ব্যবস্থা ছিল স্বৈরাচারী, অধিকার ছিল লুণ্ঠিত ও পদদলিত, আর এই অঞ্চলগুলোর পার্শ্ববর্তী গোত্রগুলো ছিল লক্ষ্যহীন ও অস্থির, যাদের খেয়ালখুশি ও হীন উদ্দেশ্যগুলো এদিক-ওদিক তাড়িয়ে বেড়াত; কখনো তারা ইরাকবাসীদের দলে ভিড়ত, আবার কখনো সিরিয়াবাসীদের দলে। আর আরব উপদ্বীপের অভ্যন্তরের গোত্রগুলোর অবস্থা ছিল বিচ্ছিন্ন; তাদের মধ্যে গোত্রীয় কলহ এবং জাতিগত ও ধর্মীয় বিভেদ এমন চরম আকার ধারণ করেছিল যে, তাদের একজন মুখপাত্র বলেছিলেন:
আমি তো গাযিয়াহ গোত্রেরই একজন সদস্য; তারা যদি পথভ্রষ্ট হয়
… তবে আমিও পথভ্রষ্ট হই, আর যদি গাযিয়াহ সঠিক পথ পায় তবে আমিও সঠিক পথ পাই।
তাদের এমন কোনো রাজা ছিল না যে তাদের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখবে, অথবা এমন কোনো আশ্রয়স্থল ছিল না যার কাছে তারা প্রতিকার চাইবে এবং কঠিন সময়ে যার ওপর নির্ভর করবে।
আর হিজাজ সরকারের প্রতি আরবরা শ্রদ্ধা ও সম্মানের দৃষ্টিতে তাকাত এবং তাদেরকে ধর্মীয় কেন্দ্রের নেতা ও খাদেম হিসেবে দেখত। প্রকৃতপক্ষে সেই সরকার ছিল পার্থিব শ্রেষ্ঠত্ব, শাসন ক্ষমতা এবং ধর্মীয় নেতৃত্বের এক সংমিশ্রণ। তারা ধর্মীয় নেতৃত্বের নামে আরবদের মধ্যে শাসন পরিচালনা করত এবং কাবাঘরে আগতদের স্বার্থ তত্ত্বাবধানকারী ও ইব্রাহিমী শরীয়তের বিধান বাস্তবায়নকারী সরকার হিসেবে হারাম শরিফ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় শাসন করত। তাদের এমন কিছু বিভাগ ও প্রশাসনিক কাঠামো ছিল যা বর্তমানকালের পার্লামেন্টারি ব্যবস্থার সদৃশ—যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি—কিন্তু এই সরকার ছিল অত্যন্ত দুর্বল এবং কোনো বড় সংকট মোকাবিলায় অক্ষম, যা হাবশীদের আক্রমণের সময় স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ديانات العرب
كان معظم العرب اتبعوا دعوة إسماعيل- عليه السلام حين دعاهم إلى دين أبيه إبراهيم- عليه السلام فكانت تعبد الله وتوحده وتدين بدينه، حتى طال عليهم الأمد ونسوا حظا مما ذكروا به، إلا أنهم بقي فيهم التوحيد وعدة شعائر من دين إبراهيم، حتى جاء عمرو بن لحي رئيس خزاعة، وكان قد نشأ على أمر عظيم من المعروف والصدقة والحرص على أمور الدين، فأحبه الناس، ودانوا له ظنا منهم أنه من أكابر العلماء وأفاضل الأولياء، ثم إنه سافر إلى الشام، فرآهم يعبدون الأوثان، فاستحسن ذلك وظنه حقا، لأن الشام محل الرسل والكتب، فقدم معه بهبل وجعله في جوف الكعبة، ودعا أهل مكة إلى الشرك بالله، فأجابوه. ثم لم يلبث أهل الحجاز أن تبعوا أهل مكة، لأنهم ولاة البيت وأهل الحرم «1» .
ومن أقدم أصنامهم مناة، كانت بالمشلل على ساحل البحر الأحمر بالقرب من قديد، ثم اتخذوا اللات في الطائف، ثم اتخذوا العزى بوادي نخلة، هذه الثلاث أكبر أوثانهم «2» ، ثم كثر الشرك، وكثرت الأوثان في كل بقعة من الحجاز، ويذكر أن عمرو بن لحي كان له رئى من الجن، فأخبره بأن أصنام قوم نوح- ودا وسواعا ويغوث ويعوق ونسرا- مدفونة بجدة فأتاها فاستثارها، ثم أوردها إلى تهامة، فلما جاء الحج دفعها إلى القبائل، فذهبت بها إلى أوطانها، حتى صار لكل قبيلة ثم في كل بيت صنم. وقد ملأوا المسجد الحرام بالأصنام، ولما فتح رسول الله صلى الله عليه وسلم مكة وجد حول البيت ثلاثمائة وستين صنما، فجعل يطعنها حتى تساقطت، ثم أمر بها فأخرجت من المسجد وحرقت «3» .
وهكذا صار الشرك وعبادة الأصنام أكبر مظهر من مظاهر دين أهل الجاهلية، الذين كانوا يزعمون أنهم على دين إبراهيم.
--------------------------------------------
আরবদের ধর্মসমূহ
অধিকাংশ আরব ইসমাইল আলাইহিস সালামের দাওয়াত অনুসরণ করত, যখন তিনি তাদের তাঁর পিতা ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের ধর্মের প্রতি আহ্বান করেছিলেন। তারা আল্লাহর ইবাদত করত, তাঁকে এক মানত এবং তাঁর দ্বীন মেনে চলত; যতক্ষণ না তাদের ওপর দীর্ঘকাল অতিবাহিত হলো এবং তাদের যা উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তার একটি অংশ তারা ভুলে গেল। তবে তাদের মধ্যে তাওহিদ এবং ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের ধর্মের বেশ কিছু নিদর্শন অবশিষ্ট ছিল, যতক্ষণ না খুজাআ গোত্রের প্রধান আমর ইবনে লুহাইয়ের আবির্ভাব ঘটল। সে সৎকাজ, দানশীলতা এবং দ্বীনের প্রতি আগ্রহের ন্যায় মহান গুণের ওপর বেড়ে উঠেছিল, ফলে মানুষ তাকে ভালোবাসল এবং তাকে মহান আলেম ও শ্রেষ্ঠ ওলী মনে করে তার অনুগত হলো। এরপর সে সিরিয়া সফর করল এবং দেখল তারা মূর্তিপূজা করছে। সেটিকে সে উত্তম মনে করল এবং সত্য বলে গণ্য করল, কারণ সিরিয়া ছিল নবী ও কিতাবসমূহের অবতরণস্থল। সে নিজের সাথে হুবাল মূর্তিকে নিয়ে এল এবং সেটিকে কাবার অভ্যন্তরে স্থাপন করল। সে মক্কাবাসীদের আল্লাহর সাথে শিরক করার আহ্বান জানাল এবং তারা তাতে সাড়া দিল। এরপর বিলম্ব না করেই হিজাজবাসীরা মক্কাবাসীদের অনুসরণ করল, কারণ তারা ছিল কাবাগৃহের তত্ত্বাবধায়ক এবং হারামের বাসিন্দা (১)।
তাদের প্রাচীনতম মূর্তিগুলোর মধ্যে ছিল মানাত, যা কুদাইদের নিকটবর্তী লোহিত সাগরের তীরে মুশাল্লাল নামক স্থানে ছিল। এরপর তারা তায়েফে লাত এবং নাখলা উপত্যকায় উজ্জা গ্রহণ করল। এই তিনটি ছিল তাদের সবচেয়ে বড় মূর্তি (২)। এরপর শিরক বৃদ্ধি পেল এবং হিজাজের প্রতিটি স্থানে মূর্তির সংখ্যা বেড়ে গেল। উল্লেখ করা হয় যে, আমর ইবনে লুহাইয়ের অনুগত এক জিন ছিল। সে তাকে খবর দিল যে নূহ আলাইহিস সালামের কওমের মূর্তিগুলো—ওয়াদ্দ, সুওয়া, ইয়াগুস, ইয়াউক এবং নাসর—জেদ্দায় সমাহিত আছে। সে সেখানে গিয়ে সেগুলো খুঁড়ে বের করল এবং তিহামায় নিয়ে এল। যখন হজের মৌসুম এল, সে সেগুলো বিভিন্ন গোত্রের মাঝে বণ্টন করে দিল। তারা সেগুলো নিজ নিজ বাসস্থানে নিয়ে গেল, ফলে প্রতিটি গোত্রের জন্য এবং এমনকি প্রতিটি ঘরে একটি করে মূর্তি হয়ে গেল। তারা মসজিদুল হারামকে মূর্তিতে পূর্ণ করে ফেলেছিল। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা জয় করলেন, তখন তিনি কাবাগৃহের চারপাশে তিনশ ষাটটি মূর্তি দেখতে পেলেন। তিনি সেগুলোকে আঘাত করতে শুরু করলেন যতক্ষণ না সেগুলো পড়ে গেল। এরপর তাঁর নির্দেশে সেগুলো মসজিদ থেকে বের করে পুড়িয়ে ফেলা হলো (৩)।
এভাবেই শিরক ও মূর্তিপূজা জাহেলিয়াত যুগের লোকদের ধর্মের সবচেয়ে বড় বহিঃপ্রকাশে পরিণত হলো, যারা দাবি করত যে তারা ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وكانت لهم تقاليد ومراسم في عبادة الأصنام، ابتدع أكثرها عمرو بن لحي، وكانوا يظنون أن ما أحدثه عمرو بن لحي بدعة حسنة، وليس بتغيير لدين إبراهيم
[مراسم عبادة العرب للأصنام]فكان من مراسم عبادتهم للأصنام أنهم:
1- كانوا يعكفون عليها، ويلتجئون إليها… ويهتفون بها، ويستغيثونها في الشدائد، ويدعونها لحاجاتهم، معتقدين أنها تشفع عند الله، وتحقق لهم ما يريدون.
2- وكانوا يحجون إليهاويطوفون حولها، ويتذللون عندها، ويسجدون لها.
3- وكانوا يتقربون إليها بأنواع من القرابين، فكانوا يذبحون وينحرون لها وبأسمائها.
وهذان النوعان من الذبح ذكرهما الله تعالى في قوله: وَما ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ [المائدة: 3] ، وفي قوله: وَلا تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ [الأنعام: 121] .
4- وكان من أنواع التقربأنهم كانوا يخصون للأصنام شيئا من ماكلهم ومشاربهم حسبما يبدو لهم، وكذلك كانوا يخصون لها نصيبا من حرثهم وأنعامهم. ومن الطرائف أنهم كانوا يخصون من ذلك جزآ لله أيضا، وكانت عندهم أسباب كثيرا ما كانوا ينقلون لأجلها إلى الأصنام ما كان لله، ولكن لم يكونوا ينقلون إلى الله ما كان لأصنامهم بحال. قال تعالى: وَجَعَلُوا لِلَّهِ مِمَّا ذَرَأَ مِنَ الْحَرْثِ وَالْأَنْعامِ نَصِيباً، فَقالُوا هذا لِلَّهِ بِزَعْمِهِمْ وَهذا لِشُرَكائِنا، فَما كانَ لِشُرَكائِهِمْ فَلا يَصِلُ إِلَى اللَّهِ، وَما كانَ لِلَّهِ فَهُوَ يَصِلُ إِلى شُرَكائِهِمْ، ساءَ ما يَحْكُمُونَ [الأنعام: 136] .
5- وكان من أنواع التقرب إلى الأصنام النذرفي الحرث والأنعام، قال تعالى:
وَقالُوا هذِهِ أَنْعامٌ وَحَرْثٌ حِجْرٌ لا يَطْعَمُها إِلَّا مَنْ نَشاءُ بِزَعْمِهِمْ، وَأَنْعامٌ حُرِّمَتْ ظُهُورُها، وَأَنْعامٌ لا يَذْكُرُونَ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهَا افْتِراءً عَلَيْهِ [الأنعام: 138] .
6- وكانت منها البحيرة والسائبة والوصيلة والحامي. قال ابن إسحاق: البحيرة بنت السائبة، هي الناقة إذ تابعت بين عشر إناث ليس بينهم ذكر سيبت، فلم يركب ظهرها، ولم يجز وبرها، ولم يشرب لبنها إلا ضيف، فما نتجت بعد ذلك من أنثى شقت أذنها، ثم خلى سبيلها مع أمها، فلم يركب ظهرها، ولم يجز وبرها، ولم يشرب لبنها إلا ضيف، كما فعل بأمها. فهي البحيرة بنت السائبة. والوصيلة: الشاة إذا أثأمت عشر إناث متتابعات في خمسة أبطن ليس بينهن ذكر جعلت وصيلة. قالوا: قد وصلت، فكان ما ولد بعد ذلك للذكور منهم دون إناثهم إلا أن يموت شيء فيشترك في أكله ذكورهم وإناثهم. والحامي: الفحل إذا نتج
মূর্তি পূজায় তাদের কিছু ঐতিহ্য ও আচার-অনুষ্ঠান ছিল, যার অধিকাংশ প্রবর্তন করেছিল আমর বিন লুহাই। তারা মনে করত আমর বিন লুহাই যা উদ্ভাবন করেছে তা একটি উত্তম বিদআত (নবপ্রথা), এবং এটি ইবরাহিমের দ্বীনের কোনো পরিবর্তন নয়।
[আরবদের মূর্তি পূজার আচার-অনুষ্ঠান]তাদের মূর্তি পূজার আচার-অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল:
১- তারা মূর্তির সামনে অবস্থান করত এবং সেগুলোর শরণাপন্ন হতো… এবং সেগুলোকে উচ্চস্বরে ডাকত, বিপদে সেগুলোর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করত এবং নিজেদের প্রয়োজনের জন্য সেগুলোর নিকট দোয়া করত; তারা বিশ্বাস করত যে, এগুলো আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে এবং তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে।
২- তারা সেগুলোর উদ্দেশ্যে তীর্থযাত্রা করতসেগুলোর চারদিকে তওয়াফ করত, সেগুলোর সামনে অনুনয়-বিনয় প্রকাশ করত এবং সেগুলোকে সিজদা করত।
৩- তারা বিভিন্ন প্রকার বলিদানের মাধ্যমে সেগুলোর নৈকট্য লাভ করতে চাইততারা সেগুলোর উদ্দেশ্যে এবং সেগুলোর নামে পশু জবেহ ও নহর করত। এই দুই প্রকারের জবেহ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীতে উল্লেখ করেছেন: ‘যা পূজাবেদীর ওপর জবেহ করা হয়েছে’ [আল-মায়িদাহ: ৩], এবং তাঁর এই বাণীতে: ‘যে পশুর ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি তা তোমরা খেয়ো না’ [আল-আনআম: ১২১]।
৪- নৈকট্য লাভের অন্যতম প্রকার ছিলতারা তাদের খেয়ালখুশি মতো মূর্তিদের জন্য তাদের পানাহারের কিছু অংশ নির্দিষ্ট করত। একইভাবে তারা তাদের ফসল ও গবাদি পশুর একটি অংশও মূর্তিদের জন্য বরাদ্দ করত। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, তারা এর মধ্যে একটি অংশ আল্লাহর জন্যও নির্দিষ্ট করত। তবে তাদের কাছে এমন অনেক কারণ বা অজুহাত থাকত যার ফলে তারা আল্লাহর জন্য নির্ধারিত অংশকে মূর্তিদের অংশে স্থানান্তরিত করে দিত, কিন্তু মূর্তিদের জন্য নির্ধারিত কোনো অংশকে তারা কখনোই আল্লাহর জন্য বরাদ্দ করত না। আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘আল্লাহ যে শস্য ও গবাদিপশু সৃষ্টি করেছেন, তা থেকে তারা আল্লাহর জন্য এক অংশ নির্দিষ্ট করে এবং নিজেদের ধারণা অনুযায়ী বলে, ‘এটি আল্লাহর জন্য এবং এটি আমাদের শরিকদের জন্য।’ অতঃপর যা তাদের শরিকদের জন্য তা আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, কিন্তু যা আল্লাহর জন্য তা তাদের শরিকদের কাছে পৌঁছায়। তাদের বিচার কতই না নিকৃষ্ট!’ [আল-আনআম: ১৩৬]।
৫- মূর্তিদের নৈকট্য লাভের আরেকটি উপায় ছিল মানত করাফসল ও গবাদিপশু সম্পর্কে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
‘তারা তাদের ধারণা অনুযায়ী বলে, ‘এসব গবাদিপশু ও শস্য নিষিদ্ধ; আমরা যাকে ইচ্ছা করি সে ছাড়া কেউ এগুলো খেতে পারবে না।’ আর কিছু গবাদিপশু এমন রয়েছে যাদের পিঠে চড়া হারাম করা হয়েছে এবং কিছু গবাদিপশুর ওপর তারা আল্লাহর নাম নেয় না—আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করার উদ্দেশ্যে।’ [আল-আনআম: ১৩৮]।
৬- এগুলোর মধ্যে ছিল বাহিরাহ, সায়েবাহ, ওয়াসিলাহ এবং হামি। ইবনে ইসহাক বলেন: ‘বাহিরাহ’ হলো সায়েবাহ-এর বাচ্চা। সায়েবাহ হলো সেই উটনী, যেটি মাঝখানে কোনো পুরুষ বাচ্চা ছাড়াই টানা দশটি মাদী বাচ্চা প্রসব করার কারণে তাকে মুক্ত ছেড়ে দেওয়া হতো। ফলে তার পিঠে চড়া হতো না, তার পশম কাটা হতো না এবং মেহমান ছাড়া অন্য কেউ তার দুধ পান করত না। এরপর সে যে মাদী বাচ্চা প্রসব করত তার কান চিরে দেওয়া হতো এবং তার মায়ের মতো তাকেও মুক্ত ছেড়ে দেওয়া হতো; ফলে তার পিঠেও চড়া হতো না, পশম কাটা হতো না এবং মেহমান ছাড়া কেউ তার দুধ পান করত না। এটিই হলো সায়েবাহ-এর বাচ্চা বাহিরাহ। আর ‘ওয়াসিলাহ’ হলো সেই বকরি, যেটি পাঁচ গর্ভে টানা দশটি মাদী বাচ্চা প্রসব করত যাদের মাঝে কোনো পুরুষ বাচ্চা থাকত না। তারা বলত: ‘সে তার বোনের সাথে মিলে গেছে (ওয়াসিলাত)।’ এরপর যে বাচ্চা হতো তা কেবল পুরুষদের জন্য নির্ধারিত হতো, নারীদের জন্য নয়; তবে যদি কোনো বাচ্চা মৃত হতো তবে নারী-পুরুষ সকলে মিলে তা ভক্ষণ করত। আর ‘হামি’ হলো সেই পুরুষ উট, যেটি টানা দশটি বাচ্চার জন্ম দিলে...
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
له عشر إناث متتابعات ليس بينهن ذكر حمي ظهره، فلم يركب، ولم يجز وبره، وخلي في إبله يضرب فيها، لا ينتفع منه بغير ذلك، وفي ذلك أنزل الله تعالى: ما جَعَلَ اللَّهُ مِنْ بَحِيرَةٍ وَلا سائِبَةٍ، وَلا وَصِيلَةٍ، وَلا حامٍ، وَلكِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ، وَأَكْثَرُهُمْ لا يَعْقِلُونَ [المائدة: 103] ، وأنزل: وَقالُوا ما فِي بُطُونِ هذِهِ الْأَنْعامِ خالِصَةٌ لِذُكُورِنا وَمُحَرَّمٌ عَلى أَزْواجِنا، وَإِنْ يَكُنْ مَيْتَةً فَهُمْ فِيهِ شُرَكاءُ [الأنعام: 139] ، وقيل في تفسير هذه الأنعام غير ذلك «1» .
وقد صرح سعيد بن المسيب أن هذه الأنعام كانت لطواغيتهم «2» وفي الصحيح مرفوعا: أن عمرو بن لحي أول من سيب السوائب «3» .
كانت العرب تفعل كل ذلك بأصنامهم، معتقدين أنها تقربهم إلى الله وتوصلهم إليه، وتشفع لديه كما في القرآن: ما نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونا إِلَى اللَّهِ زُلْفى [الزمر: 3] ، وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ ما لا يَضُرُّهُمْ وَلا يَنْفَعُهُمْ، وَيَقُولُونَ هؤُلاءِ شُفَعاؤُنا عِنْدَ اللَّهِ [يونس: 18] .
وكانت العرب تستقسم بالأزلام، والزلم: القدح الذي لا ريش عليه، وكانت الأزلام ثلاثة أنواع: نوع فيه «نعم» و «لا» كانوا يستقسمون بها فيما يريدون من العمل من نحو السفر والنكاح وأمثالها. فإن خرج «نعم» عملوا به وإن خرج «لا» أخروه عامه ذلك حتى يأتوه مرة أخرى، ونوع فيه المياه والدية، ونوع فيه «منكم» أو «من غيركم» أو «ملصق» فكانوا إذا شكوا في نسب أحدهم ذهبوا به إلى هبل، وبمائة جزور، فأعطوها صاحب القداح. فإن خرج «منكم» كان منهم وسيطا، وإن خرج عليه «من غيركم» كان حليفا، وإن خرج عليه «ملصق» كان على منزلته فيهم، لا نسب ولا حلف «4» .
ويقرب من هذا الميسر والقداح، وهو ضرب من ضروب القمار، وكانوا يقتسمون به لحم الجزور التي يذبحونها بحسب القداح.
وكانوا يؤمنون بأخبار الكهنة والعرافين والمنجمين؛ والكاهن: هو من يتعاطى الاخبار عن الكوائن في المستقبل، ويدعي معرفة الأسرار، ومن الكهنة من يزعم أن له تابعا من
--------------------------------------------
যখন কোনো উটের পরপর দশটি মাদী সন্তান হতো এবং তাদের মাঝে কোনো পুরুষ সন্তান থাকতো না, তখন তার পিঠকে সংরক্ষিত (হামি) ঘোষণা করা হতো। ফলে তাকে সওয়ারি হিসেবে ব্যবহার করা হতো না, তার পশম কাটা হতো না এবং তাকে অন্য উটগুলোর মধ্যে প্রজননের জন্য ছেড়ে দেওয়া হতো; এ ছাড়া অন্য কোনোভাবে তাকে কাজে লাগানো হতো না। এই বিষয়েই আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেছেন: "আল্লাহ বাহিরাহ, সাইবাহ, ওয়াসিলাহ এবং হাম-এর কোনো বিধান দেননি; বরং যারা কুফরি করে তারা আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ করে এবং তাদের অধিকাংশ লোকই অনুধাবন করে না।" [আল-মায়িদাহ: ১০৩]। আর তিনি অবতীর্ণ করেছেন: "তারা বলে, এই সব গবাদি পশুর পেটে যা আছে তা কেবল আমাদের পুরুষদের জন্য এবং আমাদের নারীদের জন্য তা হারাম। আর যদি তা মৃত হয়, তবে তারা সবাই তাতে অংশীদার হয়।" [আল-আনআম: ১৩৯]। এই সব চতুষ্পদ পশুর তাফসিরে অন্য কথাও বলা হয়েছে।
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব স্পষ্ট করেছেন যে, এই সব গবাদি পশু তাদের মূর্তিদের জন্য নিবেদিত ছিল। সহীহ গ্রন্থে মারফু হিসেবে বর্ণিত আছে যে: "আমর ইবনে লুহাই সর্বপ্রথম সাইবাহ প্রথা চালু করেছিল।"
আরবরা এই সবকিছু তাদের মূর্তিদের জন্য করত এই বিশ্বাসে যে, এগুলো তাদের আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেবে এবং তাদের আল্লাহর সাথে যুক্ত করবে এবং তাঁর কাছে সুপারিশ করবে; যেমনটি কুরআনে বর্ণিত হয়েছে: "আমরা তো তাদের ইবাদত করি কেবল এই জন্য যে, তারা আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে।" [আয-যুমার: ৩]। আর (আল্লাহ আরও বলেন): "তারা আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুর ইবাদত করে যা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না এবং কোনো উপকারও করতে পারে না; আর তারা বলে যে, এরাই আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী।" [ইউনুস: ১৮]।
আরবরা আযলামের (ভাগ্য নির্ধারক তীর) মাধ্যমে ভাগ্য নির্ধারণ করত। আযলাম হলো এমন তীর যাতে কোনো পালক থাকে না। আযলাম ছিল তিন প্রকার: এক প্রকার যাতে 'হ্যাঁ' এবং 'না' লেখা থাকত। সফর, বিবাহ এবং এই জাতীয় কোনো কাজ করতে চাইলে তারা এর মাধ্যমে ভাগ্য পরীক্ষা করত। যদি 'হ্যাঁ' আসত তবে তারা কাজটি করত, আর যদি 'না' আসত তবে সেই বছরের জন্য তারা তা পিছিয়ে দিত যতক্ষণ না পুনরায় ভাগ্য পরীক্ষা করত। দ্বিতীয় প্রকার ছিল পানি ও রক্তপণ সংক্রান্ত। তৃতীয় প্রকার ছিল যাতে লেখা থাকত 'তোমাদের মধ্য থেকে' অথবা 'অন্যদের থেকে' অথবা 'সংযুক্ত'। যখন তারা কারো বংশ পরিচয় নিয়ে সন্দেহ করত, তখন তাকে হুবাল মূর্তির কাছে নিয়ে যেত এবং একশটি উট নিয়ে তীরের দায়িত্বশীলের হাতে অর্পণ করত। যদি 'তোমাদের মধ্য থেকে' বের হতো তবে সে তাদের মধ্যে গণ্য হতো। যদি 'অন্যদের থেকে' বের হতো তবে সে মিত্র হিসেবে গণ্য হতো। আর যদি 'সংযুক্ত' বের হতো তবে সে তাদের মাঝে তার পূর্বাবস্থাতেই থাকত—বংশও নয়, মিত্রও নয়।
এর কাছাকাছি আরেকটি বিষয় ছিল মাইসির ও কিদাহ (জুয়া), যা ছিল এক প্রকার জুয়া। এর মাধ্যমে তারা জবাইকৃত উটের মাংস তীরের ফলাফলের ভিত্তিতে নিজেদের মধ্যে বণ্টন করত।
তারা গণক, জ্যোতিষী এবং নক্ষত্রবিশারদদের সংবাদের ওপর বিশ্বাস রাখত। কাহিন (গণক) হলো সেই ব্যক্তি যে ভবিষ্যতে ঘটবে এমন বিষয় সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করে এবং গোপন রহস্য জানার দাবি করে। গণকদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করত যে, তার একজন অনুসারী (জ্বিন) আছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الجن يلقي عليه الأخبار، ومنهم من يدعي إدراك الغيب بفهم أعطيه، ومنهم من يدعي معرفة الأمور بمقدمات وأسباب يستدل بها على مواقعها من كلام من يسأله أو فعله أو حاله، وهذا القسم يسمى عرافا، كمن يدعي معرفة المسروق ومكان السرقة والضالة ونحوهما.
والمنجّم: من ينظر في النجوم أي الكواكب، ويحسب سيرها ومواقيتها، ليعلم بها أحوال العالم وحوادثه التي تقع في المستقبل «1» والتصديق بأخبار المنجمين هو في الحقيقة إيمان بالنجوم، وكان من إيمانهم بالنجوم الإيمان بالأنواء، فكانوا يقولون: مطرنا بنوء كذا وكذا «2» .
وكانت فيهم الطّيرة (بكسر ففتح) وهي التشاؤم بالشيء، وأصله أنهم كانوا يأتون الطير أو الظبي فينفرونه، فإن أخذ ذات اليمين مضوا إلى ما قصدوا، وعدوه حسنا، وإن أخذ ذات الشمال انتهوا عن ذلك وتشاءموا، وكانوا يتشاءمون كذلك إن عرض الطير أو الحيوان في طريقهم.
ويقرب من هذا تعليقهم كعب الأرنب، والتشاؤم ببعض الأيام والشهور والحيوانات والدور والنساء، والاعتقاد بالعدوى والهامة، فكانوا يعتقدون أن المقتول لا يسكن جأشه ما لم يؤخذ بثأره، وتصير روحه هامة أي بومة تطير في الفلوات وتقول: صدى صدى أو أسقوني أسقوني، فإذا أخذ بثأره سكن واستراح «3» .
كان أهل الجاهلية على ذلك وفيهم بقايا من دين إبراهيم ولم يتركوه كله، مثل تعظيم البيت والطواف به، والحج، والعمرة، والوقوف بعرفة، والمزدلفة وإهداء البدن، نعم ابتدعوا في ذلك بدعا.
منها أن قريشا كانوا يقولون: نحن بنو إبراهيم وأهل الحرم، وولاة البيت وقاطنو مكة، وليس لأحد من العرب مثل حقنا ومنزلتنا- وكانوا يسمون أنفسهم الحمس- فلا ينبغي لنا أن نخرج من الحرم إلى الحل، فكانوا لا يقفون بعرفة، ولا يفيضون منها وإنما كانوا يفيضون من المزدلفة وفيهم أنزل: ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفاضَ النَّاسُ [البقرة:
199] «4» .
--------------------------------------------
জিন তাকে সংবাদ দেয়, এবং তাদের কেউ কেউ তাকে দেওয়া বিশেষ বুঝের মাধ্যমে অদৃশ্যের বিষয়সমূহ অবগত হওয়ার দাবি করে, আর তাদের কেউ কেউ এমন কিছু ভূমিকা ও কারণের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় জানার দাবি করে যা দিয়ে সে প্রশ্নকারীর কথা, কাজ বা অবস্থা থেকে সেগুলোর পরিণতির ওপর প্রমাণ গ্রহণ করে। এই শ্রেণিকে 'আররাফ' (গণক) বলা হয়, যেমনটি এমন ব্যক্তি দাবি করে যে চুরি হওয়া মাল, চুরির স্থান ও হারানো বস্তু এবং এই জাতীয় বিষয়ের হদিস জানে।
আর জ্যোতিষী (মুনাজ্জিম): যে নক্ষত্র বা গ্রহমণ্ডলীর দিকে দৃষ্টিপাত করে এবং সেগুলোর গতিপথ ও সময় গণনা করে, যাতে সেগুলোর মাধ্যমে বিশ্বের অবস্থা এবং ভবিষ্যতে ঘটবে এমন ঘটনাবলি সম্পর্কে জানতে পারে। জ্যোতিষীদের সংবাদের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা প্রকৃতপক্ষে নক্ষত্রের ওপরই ঈমান আনা। নক্ষত্রের ওপর তাদের বিশ্বাসের একটি অংশ ছিল 'আনোয়া' (নক্ষত্রপুঞ্জের উদয়-অস্ত)-এর ওপর বিশ্বাস রাখা; তারা বলত: অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে।
তাদের মধ্যে 'তিয়ারা' (অশুভ লক্ষণ গ্রহণ) প্রচলিত ছিল, যা হলো কোনো বস্তুকে কুলক্ষণ মনে করা। এর মূল ছিল এই যে, তারা কোনো পাখি বা হরিণের কাছে যেত এবং সেটিকে তাড়িয়ে দিত; যদি সেটি ডান দিকে যেত তবে তারা তাদের উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে যাত্রা করত এবং একে কল্যাণকর মনে করত, আর যদি সেটি বাম দিকে যেত তবে তারা তা থেকে বিরত থাকত এবং একে অশুভ মনে করত। তেমনিভাবে তাদের পথে কোনো পাখি বা পশু সামনে পড়লেও তারা অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করত।
এরই কাছাকাছি ছিল খরগোশের পায়ের হাড় ঝুলিয়ে রাখা এবং বিশেষ কিছু দিন, মাস, প্রাণী, ঘরবাড়ি ও নারীর মাধ্যমে অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করা। সেইসাথে ছোঁয়াচে রোগ ও 'হামা'-এর ওপর বিশ্বাস রাখা। তারা বিশ্বাস করত যে, নিহত ব্যক্তির আত্মা শান্তি পায় না যতক্ষণ না তার প্রতিশোধ নেওয়া হয়। তার আত্মা একটি 'হামা' অর্থাৎ পেঁচায় পরিণত হয় যা নির্জন প্রান্তরে উড়ে বেড়ায় এবং বলতে থাকে: "প্রতিধ্বনি দাও, প্রতিধ্বনি দাও" অথবা "আমাকে পান করাও, আমাকে পান করাও"। যখন তার প্রতিশোধ নেওয়া হতো, তখন সে শান্ত হতো এবং বিশ্রাম পেত।
জাহেলি যুগের লোকেরা এই অবস্থার ওপর ছিল, তবে তাদের মাঝে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের দ্বীনের কিছু অবশিষ্টাংশও ছিল যা তারা পুরোপুরি বর্জন করেনি। যেমন—কাবা ঘরের সম্মান প্রদর্শন, তাওয়াফ করা, হজ, উমরাহ, আরাফায় অবস্থান, মুজদালিফায় অবস্থান এবং হজের পশু কোরবানি করা। তবে হ্যাঁ, তারা এতে অনেক নতুন প্রথা (বিদআত) তৈরি করেছিল।
তার মধ্যে একটি হলো— কুরাইশরা বলত: "আমরা ইব্রাহিমের সন্তান, হারাম শরীফের অধিবাসী, কাবা ঘরের তত্ত্বাবধায়ক এবং মক্কার বাসিন্দা। আরবদের অন্য কারো আমাদের মতো অধিকার ও মর্যাদা নেই।" তারা নিজেদেরকে 'হুমস' (কঠোর ধর্মনিষ্ঠ) বলে অভিহিত করত। তারা বলত, "আমাদের জন্য হারাম এলাকা থেকে হিল (হারামের বাইরের এলাকা)-এ বের হওয়া সমীচীন নয়।" তাই তারা আরাফায় অবস্থান করত না এবং সেখান থেকে প্রত্যাবর্তনও করত না; বরং তারা মুজদালিফা থেকে প্রত্যাবর্তন করত। তাদের ব্যাপারেই নাযিল হয়েছে: "অতঃপর তোমরা প্রত্যাবর্তন করো যেখান থেকে মানুষ প্রত্যাবর্তন করে।" [সূরা আল-বাকারাহ: ১৯৯]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাহীকুল মাখতূম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ومنها أنهم قالوا: لا ينبغي للحمس أن يغطوا الأقط ولا يسلئوا السمن، وهم حرم، ولا يدخلوا بيتا من شعر، ولا يستظلوا إن استظلوا إلا في بيوت الأدم ما داموا حرما «1» .
ومنها أنهم قالوا: لا ينبغي لأهل الحل أن يأكلوا من طعام جاؤوا به من الحل إلى الحرم إذا جاؤوا حجاجا أو عمارا «2» .
ومنها أنهم أمروا أهل الحل ألايطوفوا بالبيت إذا قدموا أول طوافهم إلا في ثياب الحمس، فإن لم يجدوا شيئا فكان الرجال يطوفون عراة، وكانت المرأة تضع ثيابها كلها إلا درعا مفرجا ثم تطوف فيه وتقول:
اليوم يبدو بعضه أو كله
… وما بدا منه فلا أحله
وأنزل الله في ذلك: يا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ [الأعراف: 31] ، فإن تكرم أحد من الرجل والمرأة فطاف في ثيابه التي جاء بها من الحل ألقاها بعد الطواف، ولا ينتفع بها هؤلاء ولا أحد غيره «3» .
ومنها أنهم كانوا لا يأتون بيوتهم من أبوابها في حال الإحرام، بل كانوا ينقبون في ظهور البيوت نقبا يدخلون ويخرجون منه، وكانوا يحسبون ذلك الجفاء برا وقد منعه القرآن:
كانت هذه الديانة- ديانة الشرك وعبادة الأوثان، والاعتقاد بالوهميات والخرافيات- ديانة معظم العرب، وقد وجدت اليهودية، والمسيحية، والمجوسية والصابئية سبيلا للدخول في ربوع العرب.
ولليهود دوران- على الأقل- مثلوهما في جزيرة العرب:
الأول: هجرتهم في عهد الفتوح البابلية والأشورية في فلسطين، فقد نشأ عن الضغط على اليهود، وعن تخريب بلادهم وتدمير هيكلهم على يد الملك بختنصر سنة 587 ق. م.
وسبي أكثرهم إلى بابل أن قسما منهم هجر البلاد الفلسطينية إلى الحجاز، وتوطن في ربوعها الشمالية «4» .
الدور الثاني: يبدأ من احتلال الرومان لفلسطين بقيادة بتطس الروماني سنة 70 م، فقد نشأ عن ضغط الرومان على اليهود، وعن تخريب الهيكل وتدميره أن قبائل عديدة من
--------------------------------------------
এর মধ্যে একটি ছিল যে তারা বলত: হুমসদের (কুরাইশ ও তাদের মিত্রদের) জন্য সমীচীন নয় যে তারা শুকনা দই (আকত) জমা করবে বা ঘি তৈরি করবে যতক্ষণ তারা ইহরাম অবস্থায় থাকবে। তারা পশমের তৈরি ঘরে প্রবেশ করত না এবং তারা যদি ছায়া গ্রহণ করত তবে তা চামড়ার তৈরি ঘর ছাড়া অন্য কিছুতে করত না যতক্ষণ তারা ইহরাম অবস্থায় থাকত «১»।
এর মধ্যে আরেকটি ছিল যে তারা বলত: হিল (হারামের বাইরের এলাকা) বাসীদের জন্য সমীচীন নয় যে তারা হিল থেকে নিয়ে আসা কোনো খাবার খাবে যখন তারা হজ বা ওমরাহর জন্য হারামে আসবে «২»।
এর মধ্যে একটি ছিল যে তারা হিল বাসীদের নির্দেশ দিত যেন তারা যখন তাদের প্রথম তাওয়াফের জন্য আসে, তখন তারা হুমসদের পোশাক ছাড়া যেন তাওয়াফ না করে। যদি তারা কোনো পোশাক না পেত, তবে পুরুষরা উলঙ্গ অবস্থায় তাওয়াফ করত এবং মহিলারা তাদের সমস্ত পোশাক খুলে ফেলত শুধু একটি চেরা কামিজ ছাড়া, এরপর সে তাওয়াফ করত এবং বলত:
আজ শরীরের কিছু অংশ বা পুরোটা প্রকাশ পাবে
… আর যা এর থেকে প্রকাশ পাবে আমি তাকে কারো জন্য বৈধ করি না
আর আল্লাহ এ বিষয়ে নাযিল করেন: হে আদম সন্তান! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় তোমাদের সুন্দর পোশাক গ্রহণ করো [আরাফ: ৩১]। যদি কোনো পুরুষ বা মহিলা সম্মানিত বোধ করে তার সেই পোশাকেই তাওয়াফ করত যা সে হিল থেকে নিয়ে এসেছিল, তবে তাওয়াফের পর সে তা ছুড়ে ফেলে দিত। এই পোশাকগুলো তারা নিজেরাও ব্যবহার করত না এবং অন্য কেউও ব্যবহার করত না «৩»।
এর মধ্যে একটি ছিল যে তারা ইহরাম অবস্থায় তাদের ঘরে সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করত না, বরং তারা ঘরের পেছনের দিকে ছিদ্র করত যেখান দিয়ে তারা যাতায়াত করত। তারা এই রূঢ়তাকে পুণ্য মনে করত, অথচ কুরআন তা নিষেধ করেছে:
এই ধর্ম—শিরকের ধর্ম এবং মূর্তি পূজা, আর অমূলক ধারণা ও কুসংস্কারের বিশ্বাস—ছিল অধিকাংশ আরবের ধর্ম। তবে ইহুদি ধর্ম, খ্রিস্টধর্ম, মাজুসি (অগ্নিপূজক) এবং সাবেয়ি ধর্মও আরব ভূখণ্ডে প্রবেশের পথ খুঁজে নিয়েছিল।
আরব উপদ্বীপে ইহুদিদের অন্তত দুটি পর্যায় ছিল যা তারা সেখানে উপস্থাপন করেছিল:
প্রথমটি: ফিলিস্তিনে ব্যাবিলনীয় ও আশারীয় বিজয়ের যুগে তাদের অভিবাসন। ইহুদিদের ওপর চাপ এবং খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৭ অব্দে রাজা বুখত নাসর কর্তৃক তাদের দেশ ধ্বংস ও তাদের উপাসনালয় (হায়কাল) গুঁড়িয়ে দেওয়ার ফলে এর সূত্রপাত হয়েছিল।
এবং তাদের অধিকাংশকে বন্দি হিসেবে ব্যাবিলনে নিয়ে যাওয়ার ফলে তাদের একটি অংশ ফিলিস্তিন ভূখণ্ড ছেড়ে হিজাজের দিকে চলে যায় এবং এর উত্তর প্রান্তে বসতি স্থাপন করে «৪»।
দ্বিতীয় পর্যায়: এটি ৭০ খ্রিস্টাব্দে রোমান সেনাপতি তিতুসের নেতৃত্বে রোমানদের ফিলিস্তিন দখলের মাধ্যমে শুরু হয়। ইহুদিদের ওপর রোমানদের চাপ এবং উপাসনালয় ধ্বংস ও বিনাশের ফলে অনেকগুলো গোত্র...
--------------------------------------------