(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: -)
الرسول القائد   (محمود شيت خطاب)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: الرسول القائد

المؤلف: محمود شيت خطاب (ت 1419هـ)

الناشر: دار الفكر - بيروت

الطبعة: السادسة - 1422 هـ

عدد الصفحات: 542

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

রাসূলুল্লাহ: একজন সেনাপতি   (মাহমুদ শিত খাত্তাব)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


বই: রাসূলুল্লাহ: একজন সেনাপতি

লেখক: মাহমুদ শিত খাত্তাব (মৃত্যু ১৪১৯ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল ফিকর - বৈরুত

সংস্করণ: ষষ্ঠ - ১৪২২ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৪২

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌المقدّمة

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ (إِنَّ اللَّهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ.

يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيماً)

الطبعة السادسة 1422 هـ- 2002 م
ভূমিকা

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন।

হে ঈমানদারগণ! তোমরা তাঁর প্রতি দরূদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো।)

ষষ্ঠ সংস্করণ ১৪২২ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ৩)
(وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْناً يَعْبُدُونَنِي لا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئاً، وَمَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذلِكَ فَأُولئِكَ هُمُ الْفاسِقُونَ) «1» .

(القرآن الكريم)

فكّرت في وضع هذا الكتاب، بعد أن قرأت كثيرا من المؤلفات العسكرية الباحثة في تاريخ حروب القادة العظام، الذين لمعت أسماؤهم قديما وحديثا.

لقد أبرزت تلك المؤلفات بكل وصوح أعمال أولئك القادة، ووصفت معاركهم بتسلسل منطقي سهل، ووضّحت تلك المعارك بالخرائط والمخطّطات والأشكال، وأظهرت الدروس المفيدة منها، فأضفت بذلك كلّه الخلود على حياة أولئك الرجال.

وعدت لأقارن بين هذا الأسلوب في البحث، وبين أسلوب المؤرخين عندنا

--------------------------------------------

(1) - الآية الكريمة من سورة النور 24: 55.
(তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদের পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের দান করেছিলেন; এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ের পর অবশ্যই তাদের নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করবেন। তারা আমার ইবাদত করবে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না। আর এরপর যারা কুফরি করবে, তারাই তো পাপাচারী) «১»।

(আল-কুরআনুল কারীম)

আমি এই গ্রন্থটি রচনার কথা চিন্তা করেছি, প্রাচীন ও আধুনিক যুগে যাদের নাম উজ্জ্বল হয়েছে, এমন মহান সেনাপতিদের যুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে রচিত অনেক সামরিক গ্রন্থ পাঠ করার পর।

সেই গ্রন্থগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ঐ সকল সেনাপতিদের কর্মকাণ্ড ফুটিয়ে তুলেছে, তাদের যুদ্ধসমূহকে সহজ ও যৌক্তিক ধারাক্রমের মাধ্যমে বর্ণনা করেছে, মানচিত্র, নকশা ও চিত্রের সাহায্যে সেই যুদ্ধসমূহকে স্পষ্ট করেছে এবং তা থেকে শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ প্রকাশ করেছে; ফলে এ সবকিছুর মাধ্যমে ঐ সকল ব্যক্তির জীবন অমরত্ব লাভ করেছে।

অতঃপর আমি গবেষণার এই পদ্ধতির সাথে আমাদের ঐতিহাসিকদের পদ্ধতির তুলনা করতে ফিরে এলাম।

--------------------------------------------

(১) - আয়াতটি সূরা আন-নূর ২৪: ৫৫ থেকে গৃহীত।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ৪)
في الحديث عن معارك قادة المسلمين، فعرفت كيف أضاء الأسلوب الأول معالم الطريق للباحثين، وحقق قيمة جديدة لأعمال بعض القادة، بينما طمس الأسلوب الثاني أعمالا خالدة تستحق أعظم التقدير والإعجاب.

لقد قرأت أكثر كتب السيرة في تدبر وإمعان، وحاولت أن أستشف منها كل نواحي العظمة التي تتسم بها شخصية الرسول صلى الله عليه وسلم، ولكني وجدت أن عبقريته العسكرية التي لا تتطاول إليها أية عبقرية أخرى لأي قائد في القديم أو الحديث تكاد تكون متوارية محجوبة لم يتح لها من يكشف أسرارها ويجلي عظمتها بأسلوب حديث يجنح الى الكشف والتحليل وإبراز المواهب النادرة خاصة من عسكري يستطيع أن يلم بنواحي العظمة العسكرية التي تكمن فيها ويظهرها جلية للعيان، ومن هنا بقي الجانب العسكري من حياة الرسول صلى الله عليه وسلم يشوبه الغموض حتى اليوم.

لقد تحدّث مؤرخو السيرة عن معارك الرسول صلى الله عليه وسلم بإسهاب أو باقتضاب، ومع ذلك يخرج الباحث من دراسة كل معركة دون أن يلمّ بكل تفاصيلها ووقائعها ودوافعها، ويعود ليسأل نفسه: ما هو موقف الطرفين قبل المعركة؟

كيف جرى القتال؟ ما هي الدروس التي نستفيدها من المعركة؟ إلى غير ذلك من الأسئلة الحيوية الملحّة.

إنّ وصف معارك القواد المسلمين وعلى رأسهم الرسول صلى الله عليه وسلم بهذا الأسلوب الذي لا يقنع باحثا ولا يشفي غلّة دارس، جعل تاريخ الحرب الحديث يورد أمثلة من أعمال القواد غير المسلمين، كهنبال وقيصر ونابليون ومولتكه … الخ.

ولا يورد أمثلة من أعمال القواد المسلمين كالرسول صلى الله عليه وسلم وخالد وسعد بن أبي وقاص رضي الله عنهم … الخ، بينما يدرّس هذا التاريخ للمسلمين وفي بلاد المسلمين!! إنّ سبب ذلك هو (جناية) الأسلوب، هذه الجناية التي جعلتني أفكرّ في تأليف هذا الكتاب عن أعمال الرسول صلى الله عليه وسلم العسكرية، متوخيا تنسيق
মুসলিম সেনাপতিদের যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমি দেখেছি কীভাবে প্রথম পদ্ধতিটি গবেষকদের জন্য পথের দিশা উন্মোচিত করেছে এবং কিছু সেনাপতির কার্যাবলিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে দ্বিতীয় পদ্ধতিটি এমন কিছু অক্ষয় কীর্তিকে আড়াল করে ফেলেছে যা সর্বোচ্চ সম্মান ও প্রশংসার দাবি রাখে।

আমি গভীর মনোযোগ ও অভিনিবেশ সহকারে অধিকাংশ সিরাত গ্রন্থ পাঠ করেছি এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যক্তিত্বের অনন্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিদ্যমান শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিটি দিক উপলব্ধি করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমি দেখতে পেয়েছি যে, তাঁর সামরিক প্রতিভা—যার সমকক্ষ প্রাচীন বা আধুনিক কালের কোনো সেনাপতির প্রতিভা হতে পারে না—তা প্রায় প্রচ্ছন্ন ও আবৃত রয়ে গেছে। এমন কাউকে পাওয়া যায়নি যে আধুনিক পদ্ধতিতে এর রহস্য উন্মোচন করবে এবং এর মাহাত্ম্যকে স্পষ্ট করবে, যা হবে বিশ্লেষণধর্মী এবং বিরল প্রতিভাকে ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস। বিশেষ করে এমন একজন সামরিক ব্যক্তির প্রয়োজন ছিল, যিনি এর মধ্যে নিহিত সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের দিকগুলো অনুধাবন করতে পারবেন এবং তা সবার সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন। একারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের সামরিক দিকটি আজ পর্যন্ত অস্পষ্টতায় আচ্ছন্ন রয়ে গেছে।

সিরাত ঐতিহাসিকগণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুদ্ধগুলো নিয়ে বিস্তারিত বা সংক্ষেপে আলোচনা করেছেন, তবুও একজন গবেষক প্রতিটি যুদ্ধের অধ্যয়ন শেষ করে এর সকল খুঁটিনাটি, ঘটনাপ্রবাহ এবং কারণগুলো পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারেন না। তিনি পুনরায় নিজেকে প্রশ্ন করেন: যুদ্ধের আগে উভয় পক্ষের অবস্থান কী ছিল?

যুদ্ধ কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল? যুদ্ধ থেকে আমরা কী শিক্ষা লাভ করি? এছাড়া আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি প্রশ্ন।

মুসলিম সেনাপতিদের যুদ্ধসমূহের—যাঁদের শীর্ষে রয়েছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—বর্ণনা এমন এক পদ্ধতিতে দেওয়া হয়েছে যা কোনো গবেষককে তুষ্ট করতে পারে না এবং কোনো শিক্ষার্থীর তৃষ্ণা মেটাতে পারে না। এর ফলে আধুনিক সামরিক ইতিহাস অমুসলিম সেনাপতিদের কার্যাবলির উদাহরণ পেশ করে, যেমন হ্যানিবাল, সিজার, নেপোলিয়ন এবং মোল্টকে ... ইত্যাদি।

কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, খালিদ এবং সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম ... প্রমুখ মুসলিম সেনাপতিদের কার্যাবলির উদাহরণ দেওয়া হয় না; অথচ এই ইতিহাস মুসলিমদের কাছে এবং মুসলিম দেশগুলোতেই পড়ানো হয়!! এর মূল কারণ হলো বর্ণনার এই 'ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতি'। এই অপরাধতুল্য ত্রুটিই আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে এই কিতাবটি রচনার বিষয়ে চিন্তা করতে বাধ্য করেছে, যার লক্ষ্য হলো বিন্যস্ত করা...
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ৫)
المعلومات التي جاءت في كتب السيرة بأسلوب علمي بسيط، تطرّقت فيه الى الموقف العام للطرفين قبل المعركة، وأهداف المعركة، وقوات الطرفين، وسير الحوادث قبل القتال وأثناءه وبعده، ونتائج المعركة، ودروسها المفيدة، تلك الدروس التي لم تقتصر على أعمال الرسول صلى الله عليه وسلم، بل أظهرت أعمال المشركين أيضا؛ وحاولت إيضاح كل ذلك بالخرائط والمخططات والأشكال، لمعرفة مواقع المعركة وأسلوبها وأسلحتها الغريبة عنا الآن، وبهذا الإيضاح أمكن أن يعيش القارىء في جو المعركة الأصيل، ويطّلع على تفاصيلها، ليحصل من ذلك على معلومات وافية عن المعركة من كل الوجوه.

ولكني أغفلت بعض الظواهر الخارقة التي لا يمكن أن تحدث في الحروب العادية بين المتطاحنين من البشر، والتي يرجع بعض المؤرخين إليها وحدها السر الأكبر في انتصار الرسول صلى الله عليه وسلم على خصومه وأعدائه.

لقد أيد الله نبيه وثبت قدمه ونصره على أعدائه بالملائكة المنزلة: (وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ بِبَدْرٍ وَأَنْتُمْ أَذِلَّةٌ فَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ، إِذْ تَقُولُ لِلْمُؤْمِنِينَ: أَلَنْ يَكْفِيَكُمْ أَنْ يُمِدَّكُمْ رَبُّكُمْ بِثَلاثَةِ آلافٍ مِنَ الْمَلائِكَةِ مُنْزَلِينَ، بَلى إِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا وَيَأْتُوكُمْ مِنْ فَوْرِهِمْ هذا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُمْ بِخَمْسَةِ آلافٍ مِنَ الْمَلائِكَةِ مُسَوِّمِينَ، وَما جَعَلَهُ اللَّهُ إِلَّا بُشْرى لَكُمْ وَلِتَطْمَئِنَّ قُلُوبُكُمْ بِهِ وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ) «1» .

ووعده بالنصر حين أذن له في القتال دفاعا عن النفس وردا لعادية المعتدين:

(أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ) «2» .

ولكنّ الخوارق لم تكن وحدها أداة النصر والعامل الذي غلب به الرسول صلى الله عليه وسلم، والذين يذهبون إلى هذا يسلبونه قوته قائدا. ثم كيف يحتذي

--------------------------------------------

(1) - آل عمران الآيات 122، 123، 124، 125، 126.

(2) - الحج الآية 39.
সীরাত গ্রন্থসমূহে যে তথ্যগুলো একটি সহজ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এসেছে, তাতে যুদ্ধের আগে উভয় পক্ষের সাধারণ অবস্থান, যুদ্ধের উদ্দেশ্য, উভয় পক্ষের বাহিনী এবং যুদ্ধের আগে, চলাকালীন ও পরের ঘটনাবলি, যুদ্ধের ফলাফল এবং এর শিক্ষণীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই শিক্ষাগুলো কেবল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মুশরিকদের কর্মকাণ্ডকেও ফুটিয়ে তুলেছে। মানচিত্র, নকশা ও চিত্রের মাধ্যমে এই সব বিষয় স্পষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে যাতে যুদ্ধের স্থান, রণকৌশল এবং বর্তমানে আমাদের কাছে অপরিচিত যুদ্ধাস্ত্রগুলো সম্পর্কে জানা যায়। এই ব্যাখ্যার ফলে পাঠকের পক্ষে যুদ্ধের মূল পরিবেশে থাকা এবং এর বিস্তারিত বিবরণ জানা সম্ভব হবে, যাতে যুদ্ধের সকল দিক থেকে পর্যাপ্ত তথ্য লাভ করা যায়।

তবে আমি কিছু অতিপ্রাকৃত ঘটনা এড়িয়ে গেছি যা মানুষের পারস্পরিক সাধারণ যুদ্ধে ঘটা সম্ভব নয় এবং কোনো কোনো ঐতিহাসিক যেগুলোকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তাঁর বিপক্ষ ও শত্রুদের ওপর বিজয়ী হওয়ার একমাত্র প্রধান রহস্য বলে মনে করেন।

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর নবীকে সমর্থন করেছেন, তাঁর পা স্থির রেখেছেন এবং অবতীর্ণ ফেরেশতাদের মাধ্যমে শত্রুদের ওপর তাঁকে সাহায্য করেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ বদরের যুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করেছেন যখন তোমরা হীনবল ছিলে। অতএব আল্লাহকে ভয় করো যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। যখন আপনি মুমিনদের বলছিলেন: তোমাদের জন্য কি এটা যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের রব তোমাদের তিন হাজার অবতীর্ণ ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য করবেন? হ্যাঁ, যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, আর তারা যদি দ্রুত গতিতে তোমাদের ওপর চড়াও হয়, তবে তোমাদের রব পাঁচ হাজার চিহ্নিত ফেরেশতা দিয়ে তোমাদের সাহায্য করবেন। আর আল্লাহ একে কেবল তোমাদের জন্য সুসংবাদ করেছেন যাতে তোমাদের অন্তর এর মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করে। আর সাহায্য তো কেবল পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।) «১»।

আর যখন আত্মরক্ষা ও আক্রমণকারীদের প্রতিহত করার জন্য যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হলো, তখন তিনি তাঁকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন:

(যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে তাদেরকে অনুমতি দেওয়া হলো, কারণ তাদের ওপর জুলুম করা হয়েছে। আর আল্লাহ নিশ্চয়ই তাদের সাহায্য করতে সক্ষম।) «২»।

কিন্তু অলৌকিক ঘটনাবলিই কেবল বিজয়ের হাতিয়ার এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিজয়ী হওয়ার একমাত্র কারণ ছিল না। যারা এই মত পোষণ করেন, তারা একজন সেনাপতি হিসেবে তাঁর শক্তিকে ছিনিয়ে নেন। অতঃপর কীভাবে অনুসরণ করা যাবে...

--------------------------------------------

(১) - আল-ইমরান, আয়াত ১২২, ১২৩, ১২৪, ১২৫, ১২৬।

(২) - আল-হজ্জ, আয়াত ৩৯।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ৬)
المسلمون سيرته، ويتّبعون في الحروب نهجه وسنته، إذا لم يكن لفنه الحربي الأصيل ومواهبه العسكرية النادرة، الأثر العظيم في ظفره ونصره؟ إن الخوارق كانت إيذانا للنبي صلى الله عليه وسلم بأن الله معه لا يتخلى عنه، حتى يشحذ همته ويثير عزيمته، وينبهه بكل ما فيه من حواس اليقظة والحذر إلى أعدائه المحاربين.

ولست أحاول في هذا الكتاب أن أعرض لهذه الخوارق والمعجزات التي أيد الله بها نبيه وثبت رسوله عليه أفضل الصلاة والسلام، فذلك أمر يؤمن به كل مسلم، وقد أثبته القرآن الكريم بما لا يدع فيه مجالا لشك أو ريبة، وإنما أريد أن أبرز للعيان سمات قيادة الرسول صلى الله عليه وسلم التي يمكن أن تكون أسوة حسنة في الحروب لأتباعه.

لقد عمل الرسول صلى الله عليه وسلم بكل مبادىء الحرب المعروفة، بالإضافة الى مزاياه الشخصية الأخرى في القيادة، لهذا انتصر على أعدائه، ولو أغفل شيئا من الحذر والحيطة والاستعداد، لتبدّل الحال غير الحال، ولكن الله سلّم.

لماذا كان إذا أراد غزوة ورّى بغيرها؟ ولماذا كان يأخذ بمبدأ: «الحرب خدعة» ؟

ماذا كان يحدث لو تردّد قبل معركة (بدر) ، عندما رأى المشركين متفوّقين على أصحابه بالعدد والعدد؟

ماذا كان يحدث لو استسلم لليأس في معركة (أحد) بعد أن طوّقته قوات المشركين المتفوّقة من كل جانب؟

ماذا كان يحدث لو ضعفت مقاومته للأحزاب في غزوة الخندق، وبخاصة بعد خيانة يهود، حين أصبح مهددا من خارج المدينة المنوّرة ومن داخلها؟

ماذا كان يحدث لو لم يثبت الرسول صلى الله عليه وسلم مع عشرة فقط من آل بيته والمهاجرين بعد فرار المسلمين في غزوة (حنين) ؟
মুসলিমরা তাঁর জীবনী অনুসরণ করেন এবং যুদ্ধে তাঁর কর্মপন্থা ও সুন্নাহ অনুসরণ করেন; যদি তাঁর মৌলিক সমরকলা এবং বিরল সামরিক মেধা তাঁর বিজয় ও সাহায্যের ক্ষেত্রে মহান প্রভাব বিস্তার না করত তবে কি তা সম্ভব হতো? অলৌকিক ঘটনাবলি ছিল নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য একটি ইঙ্গিত যে, আল্লাহ তাঁর সাথে আছেন, তিনি তাঁকে পরিত্যাগ করবেন না; যাতে এটি তাঁর হিম্মতকে শাণিত করে ও সংকল্পকে সুদৃঢ় করে এবং তাঁর সকল জাগ্রত ইন্দ্রিয় ও সতর্কতা দিয়ে তাঁকে যুদ্ধরত শত্রুদের ব্যাপারে সচেতন করে।

আমি এই বইটিতে সেই সব অলৌকিক ঘটনা ও মোজেজা বর্ণনা করার চেষ্টা করছি না যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর নবিকে সাহায্য করেছেন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবিচল রেখেছেন, কারণ এটি এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক মুসলিম বিশ্বাস করে এবং পবিত্র কুরআন তা এমনভাবে প্রমাণ করেছে যাতে সন্দেহ বা সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই। বরং আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নেতৃত্বের সেই বৈশিষ্ট্যগুলো জনসমক্ষে ফুটিয়ে তুলতে চাই যা তাঁর অনুসারীদের জন্য যুদ্ধে একটি উত্তম আদর্শ হতে পারে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধের সমস্ত পরিচিত নীতি অনুযায়ী কাজ করেছিলেন, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তাঁর অন্যান্য ব্যক্তিগত গুণাবলির পাশাপাশি; এই কারণেই তিনি তাঁর শত্রুদের ওপর বিজয়ী হয়েছিলেন। যদি তিনি সতর্কতা, সাবধানতা এবং প্রস্তুতির কোনো একটি দিকও অবহেলা করতেন, তবে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়ে যেত, কিন্তু আল্লাহ রক্ষা করেছেন।

কেন তিনি যখন কোনো যুদ্ধের ইচ্ছা করতেন তখন অন্য কোনো গন্তব্যের কথা বলে তা গোপন রাখতেন? এবং কেন তিনি এই নীতি গ্রহণ করতেন যে: «যুদ্ধ হলো এক প্রকার কৌশল»?

বদর যুদ্ধের আগে তিনি যদি দ্বিধাগ্রস্ত হতেন, যখন তিনি দেখলেন যে মুশরিকরা সংখ্যা এবং যুদ্ধ সরঞ্জাম উভয় দিক থেকেই তাঁর সাহাবিদের চেয়ে বহুগুণ শ্রেষ্ঠ, তখন কী হতো?

উহুদ যুদ্ধে মুশরিকদের শ্রেষ্ঠ বাহিনী চারপাশ থেকে তাঁকে ঘিরে ফেলার পর তিনি যদি হতাশায় আত্মসমর্পণ করতেন তবে কী হতো?

খন্দক যুদ্ধে আহযাব বাহিনীর বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিরোধ যদি দুর্বল হয়ে পড়ত, বিশেষ করে ইহুদিদের বিশ্বাসঘাতকতার পর যখন তিনি মদিনা মুনাওয়ারার ভেতর ও বাহির উভয় দিক থেকেই হুমকির মুখে পড়েছিলেন, তখন কী হতো?

হুনাইন যুদ্ধে মুসলিমদের পলায়নের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তাঁর পরিবারবর্গ এবং মুহাজিরদের মধ্য থেকে মাত্র দশজনকে নিয়ে অটল না থাকতেন তবে কী হতো?
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ৭)
كيف نفسّر إصابة الرسول صلى الله عليه وسلم بجروح خطرة في معركة (أحد) ، فقد كسرت رباعيّته «1» وشجّ في جبهته حتى سال الدم على وجهه الكريم، عندما خالف الرماة أمره وتركوا مواضعهم لجمع الغنائم، فخسر سبعين من أبطال المسلمين في هذه المعركة؟

وأي استعدادات بلغت من الإحكام والدقة في التفاصيل، ما بلغته استعدادات الرسول صلى الله عليه وسلم لتجهيز جيش العسرة «2» ؟

ولماذا تصلي طائفة من المسلمين في ساعات القتال، وتأخذ طائفة أخرى أسلحتها حذرا من مباغتة العدو؟

لماذا كل هذا الحذر الشديد والاستعدادات الدقيقة، إذا كان انتصار الرسول صلى الله عليه وسلم بالخوارق غير العادية لا بالأعمال العسكرية والمواهب الحربية؟

إن النصر من عند الله، ما في ذلك شك، ولكنّ الله لا يهب نصره لمن لا يعدّ كل متطلبات القتال.

إنّ المسلم حقّا، هو الذي يقدّر الرسول صلى الله عليه وسلم حق قدره، فيعترف بأن كفاية الرسول صلى الله عليه وسلم قائدا متميّزا، وكفاية أصحابه جنودا متميزين، هي التي أمّنت لهم النصر العظيم.

أما أن نستند على الخوارق وحدها في الحرب، ونجعلها السبب المباشر لانتصار المسلمين، فذلك يجعل هذا النصر لا قيمة له من الناحية العسكرية،

--------------------------------------------

(1) - الرّباعية: السن بين الثنيّة والناب، وهي أربع: رباعيتان في الفك الأعلى، ورباعيتان في الفك الأسفل.

(2) - جيش العسرة هو الذي خاص غزوة تبوك كما سيرد ذلك في محله.
ওহুদ যুদ্ধে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার বিষয়টি আমরা কীভাবে ব্যাখ্যা করব? সেই যুদ্ধে তাঁর সামনের দাঁত (রুবাইয়াহ) «১» ভেঙে গিয়েছিল এবং তাঁর কপালে জখম হয়েছিল, এমনকি তাঁর পবিত্র চেহারা দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হয়েছিল; যখন তিরন্দাজরা তাঁর নির্দেশ অমান্য করেছিল এবং গনিমত সংগ্রহের জন্য নিজেদের অবস্থান ত্যাগ করেছিল, যার ফলে এই যুদ্ধে সত্তর জন মুসলিম বীরকে হারাতে হয়েছিল?

আর জাইশে উসরাত (সংকটকালীন বাহিনী) «২» প্রস্তুত করার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ব্যাপক প্রস্তুতি ও খুঁটিনাটি বিষয়ের সূক্ষ্মতা অবলম্বন করেছিলেন, তার চেয়ে বড় কোনো সুশৃঙ্খল ও নিখুঁত প্রস্তুতি আর কী হতে পারে?

যুদ্ধের সময় কেন মুসলিমদের একটি দল সালাত আদায় করে এবং অন্য দলটি শত্রুর আকস্মিক আক্রমণ থেকে সতর্ক থাকতে অস্ত্র ধারণ করে?

যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিজয় কেবল অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমেই অর্জিত হতো, সামরিক কর্মকাণ্ড ও যুদ্ধবিদ্যার দক্ষতার মাধ্যমে না হতো, তবে কেন এই চরম সতর্কতা ও নিখুঁত প্রস্তুতির প্রয়োজন হতো?

নিশ্চয়ই সাহায্য আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে—এতে কোনো সন্দেহ নেই; কিন্তু আল্লাহ তাকে বিজয় দান করেন না যে যুদ্ধের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করে না।

প্রকৃত মুসলিম তিনিই, যিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যথাযথ মর্যাদা প্রদান করেন; ফলে তিনি স্বীকার করেন যে, একজন অনন্য সেনাপতি হিসেবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দক্ষতা এবং শ্রেষ্ঠ সৈনিক হিসেবে তাঁর সাহাবীগণের যোগ্যতাই তাঁদের সেই মহান বিজয় নিশ্চিত করেছিল।

পক্ষান্তরে, আমরা যদি যুদ্ধে কেবল অলৌকিক ঘটনার ওপর নির্ভর করি এবং সেগুলোকে মুসলিমদের বিজয়ের প্রত্যক্ষ কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করি, তবে সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিজয়ের আর কোনো গুরুত্ব থাকে না।

--------------------------------------------

(১) - রুবাইয়াহ: এটি হলো সামনের মাঝখানের দাঁত ও ছেদন দাঁতের (ক্যানাইন) মধ্যবর্তী দাঁত। এ জাতীয় দাঁত চারটি: দুটি ওপরের পাটিতে এবং দুটি নিচের পাটিতে।

(২) - জাইশে উসরাত (সংকটকালীন বাহিনী) হলো সেই বাহিনী যারা তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল, যেমনটি যথাস্থানে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হবে।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ৮)
بالإضافة الى أن ذلك غير منطقي وغير معقول: (وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ وَمِنْ رِباطِ الْخَيْلِ) «1» .

إن أعمال الرسول صلى الله عليه وسلم ومنها العسكرية- سنّة متبعة في كل زمان ومكان، فهل يبقى أتباعه ينتظرون الخوارق لينتصروا على أعدائهم، أم يعدّون ما استطاعوا من قوة، كما قرر القرآن الكريم، لينالوا هذا النصر؟

إن سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم العسكرية، تثبت بشكل جازم لا يتطرّق إليه الشك، أن انتصاره كان لشجاعته الشخصية وسيطرته على أعصابه في أحلك المواقف، ولقراراته السريعة الجازمة في أخطر الظروف، ولعزمه الأكيد في التشبث بأسباب النصر، ولتطبيقه كل مبادىء الحرب المعروفة في كل معاركه، تلك العوامل الشخصية التي جعلته يتفوّق على أعدائه في الميدان، ولو لم تكن تلك الصفات الشخصية المدعومة بقوة الإيمان بالله، لما كتب له النصر.

يمتاز الرسول صلى الله عليه وسلم عن غيره من القادة في كل زمان ومكان بميزتين مهمتين:

الأولى، أنه كان قائدا عصاميا. والثانية، أن معاركه كانت للدفاع عن الدعوة ولحماية حرية نشر الإسلام ولتوطيد- أركان السلام لا للعدوان والاغتصاب والاستغلال.

إن غيره من القادة العظام وجدوا أمما تؤيدهم وقوات جاهزة تساندهم؛ ولكن الرسول صلى الله عليه وسلم لم تكن له أمة تؤيده، ولا قوات تسانده، فعمل على نشر دعوته، وتحمّل أعنف المشقات والصعاب، حتى كوّن له قوة بالتدريج ذات عقيدة واحدة وهدف واحد، هو التوحيد وإعلاء كلمة الله.

--------------------------------------------

(1) - الآية الكريمة من سورة الأنفال 8: 60.
তদুপরি এটি অযৌক্তিক ও বোধাতীত: (আর তোমরা তাদের মোকাবেলার জন্য তোমাদের সাধ্যানুযায়ী শক্তি ও যুদ্ধের ঘোড়া প্রস্তুত রাখ) [১]।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কার্যাবলি—যার অন্তর্ভুক্ত তাঁর সামরিক কার্যক্রম—সকল কাল ও স্থানের জন্য অনুসরণযোগ্য সুন্নাহ। এমতাবস্থায় তাঁর অনুসারীরা কি তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হতে অলৌকিক ঘটনার প্রতীক্ষায় থাকবে, নাকি তারা এই বিজয় অর্জনের জন্য পবিত্র কুরআন কর্তৃক নির্ধারিত সাধ্যমতো শক্তি সঞ্চয় করবে?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামরিক সীরাত অকাট্যভাবে এবং সন্দেহের অতীতরূপে প্রমাণ করে যে, তাঁর বিজয় অর্জিত হয়েছিল তাঁর ব্যক্তিগত সাহসিকতা, কঠিনতম মুহূর্তে স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ, বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সুনিশ্চিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বিজয়ের উপায়সমূহ অবলম্বনে তাঁর সুদৃঢ় সংকল্প এবং তাঁর প্রতিটি যুদ্ধে পরিচিত সকল সমরনিতির প্রয়োগের মাধ্যমে। এই ব্যক্তিগত গুণাবলিই তাঁকে ময়দানে শত্রুদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিল। আর আল্লাহর প্রতি ঈমানের শক্তিতে সমৃদ্ধ এই ব্যক্তিগত গুণসমূহ যদি না থাকত, তবে তাঁর জন্য এই বিজয় নির্ধারিত হতো না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল কাল ও স্থানের অন্যান্য সেনাপতিদের তুলনায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের কারণে অনন্য:

প্রথমত, তিনি ছিলেন একজন স্বনির্ভর নেতা। দ্বিতীয়ত, তাঁর যুদ্ধসমূহ ছিল দাওয়াতের প্রতিরক্ষা, ইসলাম প্রচারের স্বাধীনতা সুরক্ষা এবং শান্তির ভিত্তি সুদৃঢ় করার জন্য; আগ্রাসন, জবরদখল বা শোষণের জন্য নয়।

অন্যান্য মহান সেনাপতিগণ এমন জাতি পেয়েছিলেন যারা তাঁদের সমর্থন করেছিল এবং এমন সুসজ্জিত বাহিনী পেয়েছিলেন যারা তাঁদের সহযোগিতা করেছিল; কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এমন কোনো জাতি ছিল না যারা তাঁকে সমর্থন করত, কিংবা এমন কোনো বাহিনীও ছিল না যারা তাঁকে সাহায্য করত। ফলে তিনি তাঁর দাওয়াত প্রসারে ব্রতী হলেন এবং চরম প্রতিকূলতা ও কাঠিন্য সহ্য করলেন, যতক্ষণ না তিনি পর্যায়ক্রমে একটি অভিন্ন আকিদা ও অভিন্ন লক্ষ্যসম্পন্ন এক শক্তি গঠন করলেন, যার মূলভিত্তি হলো তাওহীদ এবং আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করা।

--------------------------------------------

(১) - পবিত্র আয়াতটি সূরা আল-আনফাল ৮: ৬০ থেকে।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ৯)
وعلى ذلك يمكن تقسيم حياة الرسول صلى الله عليه وسلم من الناحية العسكرية الى أربعة أدوار: دور الحشد، ودور الدفاع عن العقيدة، ودور الهجوم، ودور التكامل.

أما دور الحشد: فمن بعثته الى هجرته الى المدينة المنوّرة واستقراره هناك، وفي هذا الدور اقتصر الرسول صلى الله عليه وسلم على الحرب الكلامية: يبشّر وينذر ويحاول جاهدا نشر الإسلام، وبذلك كوّن النواة الأولى لقوات المسلمين، وحشدهم في المدينة المنورة (بالهجرة) إليها، وعاهد بعض يهود ليأمن جانبهم عند بدء الصراع.

أما دور الدفاع عن العقيدة: فمن بدء الرسول صلى الله عليه وسلم بإرسال سراياه وقواته للقتال، الى انسحاب الأحزاب عن المدينة المنورة بعد غزوة الخندق، وبهذا الدور ازداد عدد المسلمين، فاستطاعوا الدفاع عن عقيدتهم ضدّ أعدائهم الأقوياء.

أما دور الهجوم: فهو من بعد غزوة (الخندق) الى بعد غزوة (حنين) ، وبهذا الدور انتشر الإسلام في الجزيرة العربية كلها، وأصبح المسلمون قوة ذات اعتبار وأثر في بلاد العرب، فاستطاعوا سحق كل قوة تعرّضت للاسلام.

والدور الرابع هو دور التكامل: وهو من بعد غزوة (حنين) الى أن التحق الرسول صلى الله عليه وسلم بالرفيق الأعلى؛ فقد تكاملت قوات المسلمين بهذا الدور، فشملت شبه الجزيرة العربية كلها، وأخذت تحاول أن تجد لها متنفسا خارج شبه الجزيرة العربية، فكانت غزوة (تبوك) إيذانا بمولد الإمبراطورية الإسلامية.

بهذا التطوّر المنطقي، تدرّج هذا القائد العصامي بقواته من الضعف الى القوة، ومن الدفاع الى الهجوم، ومن الهجوم الى التعرّض، وبذلك بزّ كل
সেই ভিত্তিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনকে সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে চারটি পর্বে ভাগ করা যেতে পারে: সমবেত হওয়ার পর্ব, আকিদা বা বিশ্বাসের প্রতিরক্ষার পর্ব, আক্রমণের পর্ব এবং পূর্ণতার পর্ব।

আর সমবেত হওয়ার পর্বটি হলো: তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তি থেকে শুরু করে মদিনা মুনাওয়ারায় হিজরত এবং সেখানে স্থিতি লাভ পর্যন্ত। এই পর্বে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল বাচনিক যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন: তিনি সুসংবাদ দিতেন, সতর্ক করতেন এবং ইসলাম প্রচারের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতেন। এর মাধ্যমে তিনি মুসলিম বাহিনীর প্রথম কেন্দ্র গঠন করেন এবং মদিনা মুনাওয়ারায় (হিজরতের মাধ্যমে) তাদের একত্রিত করেন। আর সংঘাত শুরু হওয়ার সময় যাতে তাদের পক্ষ থেকে নিরাপদ থাকা যায়, সেজন্য তিনি কিছু ইহুদির সাথে চুক্তিবদ্ধ হন।

আর আকিদা বা বিশ্বাসের প্রতিরক্ষার পর্বটি হলো: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক যুদ্ধের জন্য ছোট ছোট সেনাদল ও বাহিনী প্রেরণের শুরু থেকে খন্দকের যুদ্ধের পর মদিনা মুনাওয়ারা থেকে সম্মিলিত বাহিনীর পিছু হটা পর্যন্ত। এই পর্বে মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, ফলে তারা তাদের শক্তিশালী শত্রুদের বিরুদ্ধে নিজেদের আকিদা বা বিশ্বাস রক্ষা করতে সক্ষম হন।

আর আক্রমণের পর্বটি হলো: খন্দকের যুদ্ধের পর থেকে হুনাইনের যুদ্ধের পর পর্যন্ত। এই পর্বে পুরো আরব উপদ্বীপে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে এবং মুসলিমরা আরব ভূখণ্ডে এক মর্যাদাশীল ও প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়। ফলে তারা ইসলামের বিরোধিতাকারী প্রতিটি শক্তিকে চূর্ণ করতে সক্ষম হন।

চতুর্থ পর্বটি হলো পূর্ণতার পর্ব: এটি হুনাইনের যুদ্ধের পর থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রফীকে আলা বা মহান বন্ধুর সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত। এই পর্বে মুসলিম বাহিনী পূর্ণতা লাভ করে এবং পুরো আরব উপদ্বীপ এর অন্তর্ভুক্ত হয়। তারা আরব উপদ্বীপের বাইরেও বিস্তারের পথ খুঁজতে শুরু করে; ফলে তাবুক যুদ্ধ ছিল ইসলামি সাম্রাজ্যের সূচনার বারতাবাহী।

এই যৌক্তিক বিবর্তনের মাধ্যমে, এই আত্মনির্ভরশীল নেতা তাঁর বাহিনীকে দুর্বলতা থেকে শক্তিতে, প্রতিরক্ষা থেকে আক্রমণে এবং আক্রমণ থেকে সরাসরি সমাভিমুখে উন্নীত করেন। আর এর মাধ্যমে তিনি সবাইকে ছাড়িয়ে যান...
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ১০)
قائد في كل أدوار التاريخ، لأنه أوجد قوة كبيرة ذات عقيدة واحدة وهدف واحد من لا شيء …

تلك هي الميزة الأولى للرسول القائد عليه أفضل الصلاة والسلام.

والميزة الثانية لقيادته: هي أن معاركه كانت حرب فروسية بكل معنى الكلمة، الغرض منها حماية حرية نشر الإسلام وتوطيد أركان السلام؛ فلم ينقض عهدا، ولم يمثّل بعدو، ولم يقتل ضعيفا، ولم يقاتل غير المحاربين. لذلك فإن إطلاق تعبير: (الفتح الإسلامي على عهد الرسول) ليس صحيحا، وإنما الصحيح أن يقال: (انتشار الإسلام على عهد الرسول) ، لأنه لم يفتح بلدا لغاية الفتح، بل لغرض حماية حرّية نشر الإسلام فيه وتوطيد أركان السلام في أرجائه.

ولا عجب في ذلك، فقد كان محمد صلى الله عليه وسلم قائدا ورسولا، ومبشرا ونذيرا، (وداعيا الى الله بإذنه وسراجا منيرا) .

وربما يتبادر الى الأذهان، أن القيادة في العصور الغابرة كانت سهلة التكاليف بالنسبة للقيادة في الحرب الحديثة لقلّة عدد القوات حينذاك بالنسبة الى ضخامة عددها وكثرة أسلحتها ووسائلها في الجيوش الحديثة، ولكن العكس هو الصحيح.

إن مهمة القائد في العصور الغابرة كانت أصعب من مهمته في العصر الحديث، لأن سيطرة القائد ومزاياه الشخصية، كانت العامل الحاسم في الحروب القديمة؛ بينما يسيطر القائد في الحرب الحديثة على قواته الكبيرة بمعاونة عدد ضخم من ضباط الركن الذين يعاونونه في مهمته ويراقبون تنفيذ أوامره في الوقت والمكان المطلوبين، كما يسيطر القائد على قواته بوسائط المواصلات الداخلية الدقيقة من
তিনি ইতিহাসের সকল পর্যায়ের একজন নেতা, কারণ তিনি শূন্য থেকে এক আদর্শ ও এক লক্ষ্যের এক বিশাল শক্তি তৈরি করেছেন ...

এটিই হলো সেনাপতি রাসূলের (তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) প্রথম বৈশিষ্ট্য।

তাঁর নেতৃত্বের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো: তাঁর যুদ্ধসমূহ ছিল আক্ষরিক অর্থেই বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধ, যার উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম প্রচারের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং শান্তির ভিত্তি সুদৃঢ় করা; তিনি কখনও চুক্তি ভঙ্গ করেননি, শত্রুর মৃতদেহ বিকৃত করেননি, কোনো দুর্বলকে হত্যা করেননি এবং যোদ্ধাদের বাইরে অন্য কারো সাথে যুদ্ধ করেননি। এই কারণেই 'রাসূলের যুগে ইসলামী বিজয়' পরিভাষাটি ব্যবহার করা সঠিক নয়, বরং সঠিক হলো 'রাসূলের যুগে ইসলামের প্রসার' বলা, কারণ তিনি নিছক বিজয়ের উদ্দেশ্যে কোনো দেশ জয় করেননি, বরং সেখানে ইসলাম প্রচারের স্বাধীনতা রক্ষা করতে এবং এর সর্বত্র শান্তির ভিত্তি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই তা করেছিলেন।

এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন একাধারে নেতা ও রাসূল, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এবং (আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ)।

সম্ভবত মনে হতে পারে যে, আধুনিক যুদ্ধের নেতৃত্বের তুলনায় অতীতকালের নেতৃত্ব প্রদান সহজ ছিল, কারণ আধুনিক সেনাবাহিনীর বিশাল সংখ্যা এবং প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র ও উপকরণের তুলনায় তখন সৈন্য সংখ্যা ছিল অল্প; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি এর উল্টো।

আধুনিক যুগের তুলনায় অতীত যুগে একজন নেতার দায়িত্ব ছিল অনেক বেশি কঠিন, কারণ প্রাচীন যুদ্ধগুলোতে নেতার নিয়ন্ত্রণ এবং তাঁর ব্যক্তিগত গুণাবলীই ছিল চূড়ান্ত ফয়সালাকারী উপাদান; পক্ষান্তরে আধুনিক যুদ্ধে একজন নেতা তাঁর বিশাল বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন বিপুল সংখ্যক স্টাফ অফিসারদের সহায়তায়, যারা তাঁর কাজে সহযোগিতা করেন এবং নির্দিষ্ট সময়ে ও স্থানে তাঁর আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়টি তদারকি করেন। এছাড়া নেতা তাঁর বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন সূক্ষ্ম অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে...
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ১১)
أجهزة لا سلكية وسلكية ورادار وطيارات وأقمار إصطناعية ووسائط آلية … الخ.

بل إن هيئات الركن مسؤولة حتى عن تهيئة خطط القتال قبل الوقت المناسب، ولا يقوم القائد إلا بمهمة الإشراف على التنفيذ.

إن القائد في الحرب الحديثة يحتاج الى العقل وحده، والقائد في الحرب القديمة يحتاج الى العقل والشجاعة.

بقي علينا أن نلفت النظر في هذا المكان الى إنتقاد قسم من المستشرقين لقسم من أعمال الرسول صلى الله عليه وسلم العسكرية، لأننا لا نعود الى الكلام على هذا النقد مرة أخرى في غير هذا المكان.

إن الرسول صلى الله عليه وسلم عند قسم من المستشرقين صاحب رقّة تحرمه القدرة على القتال، ودليلهم على ذلك أنه اشترك في حرب الفجار بتجهيز السهام فقط ولم يشترك في الطعان. وهو عند قسم من المستشرقين صاحب قسوة تغريه بالقتل وإهدار الدماء من غير جريرة، وحجّتهم على ذلك قتل أسيرين بعد (بدر) وقتل قسم من يهود بعد غزوة الأحزاب.

ولو لم يكن الهوى وحده هو الذي يثير هذا النقد المغرض، لما حدث مثل هذا التناقض بين أقوال المستشرقين.

إنّ المستشرقين لا يريدون وجه الحق في نقدهم، ولو أرادوا الحق لوجدوا أن الرسول صلى الله عليه وسلم لم يقاتل أبدا إلا مضطرا، ولم يأمر أبدا بقتل أحد إلا عقابا له على جريمة نكراء أضرّت أشد الضرر بمصالح المسلمين.

ومن العجيب أن ينتقده هؤلاء لقتله بضعة أشخاص؛ لأنهم حالوا بطرق
ওয়্যারলেস এবং ওয়্যার্ড সরঞ্জাম, রাডার, বিমান, কৃত্রিম উপগ্রহ এবং স্বয়ংক্রিয় মাধ্যম … ইত্যাদি।

এমনকি স্টাফ বডি বা সেনাদল উপযুক্ত সময়ের আগেই যুদ্ধের পরিকল্পনা তৈরির জন্য দায়ী থাকে, আর সেনাপতি কেবল তা বাস্তবায়নের তদারকি করেন।

আধুনিক যুদ্ধে সেনাপতির কেবল বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন হয়, আর প্রাচীন যুদ্ধে সেনাপতির বুদ্ধিমত্তা ও সাহস উভয়েরই প্রয়োজন হতো।

আমাদের এখন এই স্থানে একদল প্রাচ্যবিদের পক্ষ থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রতি যে সমালোচনা করা হয়েছে, সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রয়োজন; কারণ আমরা এই স্থান ব্যতিরেকে অন্য কোথাও এই সমালোচনার বিষয়ে পুনরায় আলোচনা করব না।

একদল প্রাচ্যবিদের মতে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতটাই কোমল হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন যা তাঁকে যুদ্ধ করার ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করেছিল। তাদের কাছে এর প্রমাণ হলো, তিনি ফিজারের যুদ্ধে কেবল তীর প্রস্তুত করে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হননি। আবার অন্য একদল প্রাচ্যবিদের মতে, তিনি এমন কঠোরতার অধিকারী ছিলেন যা তাঁকে কোনো অপরাধ ছাড়াই হত্যা ও রক্তপাতে প্ররোচিত করত। তাদের যুক্তি হলো বদর যুদ্ধের পর দুজন বন্দীকে হত্যা করা এবং আহযাব যুদ্ধের পর একদল ইহুদিকে হত্যা করা।

যদি কেবল কুপ্রবৃত্তিই এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সমালোচনাকে উসকে না দিত, তবে প্রাচ্যবিদদের বক্তব্যের মধ্যে এমন বৈপরীত্য সৃষ্টি হতো না।

প্রাচ্যবিদরা তাদের সমালোচনার মাধ্যমে সত্য অন্বেষণ করতে চান না। তারা যদি সত্য চাইতেন তবে দেখতে পেতেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিরুপায় হওয়া ব্যতীত কখনোই যুদ্ধ করেননি এবং কোনো জঘন্য অপরাধের শাস্তি ব্যতিরেকে কাউকে হত্যার নির্দেশ দেননি, যা মুসলমানদের স্বার্থের চরম ক্ষতি সাধন করেছিল।

এবং এটি আশ্চর্যের বিষয় যে, এই লোকেরা তাঁকে মাত্র কয়েকজন ব্যক্তিকে হত্যার জন্য সমালোচনা করে; কারণ তারা বিভিন্ন উপায়ে...
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ১২)
غير شريفة دون حرية انتشار الإسلام، وعملوا بطرق غير شريفة لإثارة الحرب، وخانوا عهودهم بعد توكيدها في مواقف حرجة كادت تقضي على المسلمين، بينما لا ينتقدون قومهم في القرن العشرين على إفناء شعوب كاملة لأنهم قاوموا الظلم والعدوان.

ولهم أن يدرسوا قوانين الحرب والحياد في القرن العشرين، ليروا بأنفسهم أين تكون هذه القوانين الدولية بالنسبة الى ما طبّقه الرسول صلى الله عليه وسلم عمليا في القتال قبل أربعة عشر قرنا! …

لقد درست حياة الرسول العسكرية بروح علمية محايدة، توخيّت منها إظهار الواقع العملي من قيادة النبي صلى الله عليه وسلم، ذلك الواقع الذي يستحق التقدير كلّ التقدير.

ولم أنس المواقف التي تستحق التقدير من أعمال المشركين، لأن قيادتهم وقواتهم قامت بأعمال ذات قيمة عسكرية في قتالها المسلمين، مما يجعلنا نلمس ما لاقاه الرسول صلى الله عليه وسلم من مصاعب في القضاء على اعتداءات المشركين.

إن دراستي لحياة الرسول صلى الله عليه وسلم العسكرية بهذا الأسلوب، مجهود متواضع، لعلّ فيه فائدة للمسلمين في مشارق الأرض ومغاربها، ليأخذوا عبرة من حياة قائدهم الأول في إعداد القوة وحماية الإسلام، لأن العزة لله ولرسوله وللمؤمنين.

فأن استطعت بهذا المجهود أن أضيف صفحة نيّرة الى صفحات التاريخ العسكري الاسلامي، أستثير بها نفوس العرب والمسلمين، فقد بلغت غاية أمنيتي؛ وإلا فإنما الأعمال بالنيات …

ولله كل الفضل فيما فعلت، وله كل الشكر على ما أنتجت، وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وإليه أنيب.
অসম্মানজনক উপায়ে তারা ইসলাম প্রচারের স্বাধীনতার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল এবং যুদ্ধ বাঁধানোর জন্য তারা অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করেছিল। তারা অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে নিজেদের অঙ্গীকারগুলো দৃঢ় করার পর তা ভঙ্গ করেছিল, যা মুসলমানদের প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার উপক্রম হয়েছিল। অথচ তারা বিংশ শতাব্দীতে নিজেদের জাতির সেইসব কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে না, যারা স্রেফ জুলুম ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কারণে গোটা জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

বিংশ শতাব্দীর যুদ্ধ ও নিরপেক্ষতার আইনগুলো তাদের অধ্যয়ন করা উচিত, যাতে তারা নিজেরাই দেখতে পায় যে, চৌদ্দশ বছর আগে যুদ্ধের ময়দানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা বাস্তবিকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন, তার তুলনায় এই আন্তর্জাতিক আইনগুলোর অবস্থান কোথায়! …

আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামরিক জীবন একটি নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে অধ্যয়ন করেছি। এর মাধ্যমে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নেতৃত্বের বাস্তব চিত্রটি ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস পেয়েছি—এমন এক বাস্তবতা যা সর্বতোভাবে উচ্চ প্রশংসার দাবিদার।

মুশরিকদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে যে বিষয়গুলো প্রশংসার যোগ্য, সেগুলোও আমি উপেক্ষা করিনি। কারণ তাদের নেতৃত্ব ও বাহিনী মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে উচ্চ সামরিক মানসম্পন্ন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল। এটি আমাদের উপলব্ধিতে আনতে সাহায্য করে যে, মুশরিকদের আগ্রাসন নির্মূল করতে গিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কতটা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল।

এই পদ্ধতিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামরিক জীবনের ওপর আমার এই গবেষণা একটি বিনম্র প্রচেষ্টা। আশা করা যায়, এতে পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মুসলমানদের জন্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে, যেন তারা শক্তি সঞ্চয় ও ইসলাম রক্ষায় তাদের প্রথম নেতার জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। কেননা সমস্ত সম্মান কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং মুমিনদের জন্য।

যদি এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমি ইসলামী সামরিক ইতিহাসের পাতায় একটি উজ্জ্বল অধ্যায় যুক্ত করতে পারি, যার দ্বারা আরব ও মুসলমানদের হৃদয়ে উদ্দীপনা জাগ্রত হয়, তবে আমি আমার পরম আকাঙ্ক্ষায় পৌঁছে গেছি। অন্যথায়, সমস্ত কাজ তো নিয়তের ওপরই নির্ভরশীল …

আমার এই কর্মে যা কিছু কল্যাণ হয়েছে তার সমস্ত কৃতিত্ব আল্লাহরই, আর আমি যা কিছু সম্পাদন করেছি তার জন্য সকল শুকরিয়া তাঁরই প্রাপ্য। আমার সফলতা কেবল আল্লাহর সাহায্যেই সম্ভব; আমি তাঁর ওপরই ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই আমি প্রত্যাবর্তন করি।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌مقدمة الطبعة الثانية

لم تسمح ظروف خاصة بانتشار الطبعة الأولى من هذا الكتاب في البلدان العربية والإسلامية، بل لم تسمح تلك الظروف بانتشاره حتى في معظم المدن العراقية نفسها إلا في نطاق ضيّق جدا للقراء وإلا ما وصل منه هدايا لبعض القادة والمفكرين والصحف في العراق وفي خارجه.

وما كنت أتوقع أن يقابل هذا الجهد المتواضع، بمثل ما قوبل به من تشجيع لا أملك أن أقابله الآن بغير الشكر الجزيل، ذلك لأنني أعلم ما تستحقه مثل هذه الدراسة عن رسول الانسانية صلى الله عليه وسلم من جهد وعلم وإيمان لا تتيسّر في أمثالي؛ ومن أكون حتى أو في حقّ دراسة حياة الرسول صلى الله عليه وسلم العسكرية، وقد عجز من قبلي عن إيفاء حقها أكابر العلماء والمفكرين؟!

ولكن الله يعلم أنني لم أرد بهذا الكتاب إلا وجهه الكريم، وأن أقضي واجبا كنت ولا أزال أشعر بثقل مسؤوليته الجسمية على كاهلي الضعيف خدمة للرسول القائد عليه أفضل الصلاة والسلام باظهار ناحية الجهاد في الاسلام مبسّطة في جهاد النبي العربي العظيم، لهذا وافقت على إعادة طبعه ليتيسّر اقتناؤه في أوسع نطاق من بلاد المسلمين.

وسيجد القراء الكرام، أن الحرب في الاسلام حرب دفاعية بكل ما في الكلمة من معنى، لا يبدأ المسلمون فيها بالإعتداء على أحد، ولا يريدون من ورائها إلا حماية حرية نشر الدعوة وتوطيد أركان السلام في العالم؛ لأنّ الاسلام جاء للناس كافة لا لأمة من الأمم ولا لشعب من الشعوب، ولكنه جاء للعالم كله أملا في تحقيق فكرة سامية، هي فكرة وحدة الانسانية جمعاء؛ لهذا شجّع
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এই বইটির প্রথম সংস্করণ আরব ও মুসলিম দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া সম্ভব হয়নি। এমনকি সেই পরিস্থিতি ইরাকের অধিকাংশ শহরেও এর প্রচারকে অত্যন্ত সীমিত পরিসরের বাইরে যেতে দেয়নি; কেবল কিছু নেতা, চিন্তাবিদ এবং ইরাক ও ইরাকের বাইরের সংবাদপত্রের কাছে উপহার হিসেবে যা পৌঁছেছিল তা ব্যতীত।

আমার এই বিনম্র প্রচেষ্টাটি এমন উৎসাহের সাথে সমাদৃত হবে তা আমি প্রত্যাশা করিনি, যার বিনিময়ে আমি এখন আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছি না। কারণ আমি জানি যে, মানবতার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে এই ধরনের একটি গবেষণার জন্য যে পরিমাণ শ্রম, জ্ঞান ও ঈমানের প্রয়োজন, তা আমার মতো ব্যক্তির পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামরিক জীবনের গবেষণার হক আদায় করার মতো আমি কে-ই বা, যেখানে আমার পূর্ববর্তী বড় বড় আলেম ও চিন্তাবিদগণই এর হক আদায়ে অক্ষম ছিলেন?!

তবে আল্লাহ জানেন যে, এই বইটির মাধ্যমে আমি কেবল তাঁর সন্তুষ্টিই চেয়েছি এবং এমন একটি দায়িত্ব পালন করতে চেয়েছি যার বিশাল দায়বদ্ধতা আমি আমার দুর্বল কাঁধে সর্বদা অনুভব করে আসছি। তা হলো সেনাপতি রাসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালামের খিদমতে ইসলামের জিহাদী দিকটিকে মহান আরব নবীর জিহাদের আলোকে সহজভাবে ফুটিয়ে তোলা। এই কারণেই আমি এর পুনঃমুদ্রণে সম্মত হয়েছি যাতে মুসলিম বিশ্বের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এটি সংগ্রহ করা সহজ হয়।

সম্মানিত পাঠকগণ দেখতে পাবেন যে, ইসলামে যুদ্ধ হলো শব্দের প্রকৃত অর্থেই একটি আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধ। এতে মুসলমানরা আগে কাউকে আক্রমণ করে না এবং এর মাধ্যমে তারা দাওয়াত প্রচারের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং বিশ্বে শান্তির ভিত্তি মজবুত করা ছাড়া অন্য কিছু চায় না। কারণ ইসলাম এসেছে সমস্ত মানুষের জন্য, কোনো নির্দিষ্ট জাতি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়। বরং এটি পুরো বিশ্বের জন্য এসেছে একটি মহৎ লক্ষ্য অর্জনের আশায়, আর তা হলো সমগ্র মানবজাতির ঐক্যের ধারণা। এই কারণেই তিনি উৎসাহিত করেছেন...
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
الإسلام كل طلب للصلح يعرضه العدو: (وَإِنْ جَنَحُوا لِلسَّلْمِ فَاجْنَحْ لَها) «1» …

وقد يكون هذا العدو غير مخلص في طلبه هذا أو يقصد به كسب الوقت استعدادا لحرب أخرى، أو يكون يريد أن يخدع المسلمين مبيتا الغدر بهم أو إلحاق الاضرار بمصالحم العليا، ومع كل ذلك يحتم الاسلام النزول عند رغبات العدو السلمية: (وَإِنْ يُرِيدُوا أَنْ يَخْدَعُوكَ، فَإِنَّ حَسْبَكَ اللَّهُ) «2» …

ولست أعلم مبدءا ساميا غير الإسلام يجيز الموافقة على إقرار السلام فورا دون قيد أو شرط بمجرد إقدام العدو على طلب إقراره مهما تكن الظروف والأحوال، ولكن السلام في الإسلام مادة وروح فهو لخير البشر على اختلاف أقطارهم وألوانهم ومللهم ونحلهم، بينما السلام عند أدعياء السلام مادة، لذلك فالسلام في غير الاسلام عرقلة لتسليح غيرهم وزيادة لتسليحهم من جهة، وقتل وسحل وتشريد وتعذيب وفتك بأعدائهم من جهة أخرى.

بل إنّ السلام في الإسلام نور يضيء للناس كافة، والسلام عند أدعياء السلام لا يراد منه إلا نار تحرق وتدمر غيرهم من الناس … (يُخادِعُونَ اللَّهَ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَما يَخْدَعُونَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَما يَشْعُرُونَ) «3» .

ومتى انتشرت فكرة السلام الإسلامي في العالم، ساده السلام الحقيقي وانتشرت في ربوعه السعادة والاطمئنان؛ وإلا فسيبقى في حرب باردة تارة وفي حرب دامية تارة أخرى، وستبقى البشرية في هلع دائم من ويلات الفتن والحروب.

لقد كانت خسائر الشعوب في الحرب العالمية الأولى أقل من عشرة ملايين

--------------------------------------------

(1) - الآية الكريمة من سورة الأنفال 8: 61.

(2) - الآية الكريمة من سورة الأنفال 8: 62.

(3) - الآية الكريمة من سورة البقرة 2: 9.
ইসলাম শত্রুর পক্ষ থেকে পেশ করা সন্ধির প্রতিটি প্রস্তাবকে গ্রহণ করে: (আর যদি তারা শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে আপনিও তার দিকে ঝুঁকে পড়ুন) «১» …

হতে পারে এই শত্রু তার এই আহবানে একনিষ্ঠ নয় অথবা এর মাধ্যমে সে অন্য যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য সময়ক্ষেপণ করতে চায়, কিংবা সে মুসলিমদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা বা তাদের উচ্চতর স্বার্থের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করে তাদের প্রতারিত করতে চায়। এসব সত্ত্বেও ইসলাম শত্রুর শান্তিকামী আকাঙ্ক্ষায় সাড়া দেওয়া অপরিহার্য করে দিয়েছে: (আর যদি তারা আপনাকে প্রতারিত করতে চায়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনার জন্য যথেষ্ট) «২» …

আমি ইসলাম ব্যতীত এমন কোনো সুমহান আদর্শ সম্পর্কে জানি না, যা পরিস্থিতি যাই হোক না কেন শত্রুর পক্ষ থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব আসামাত্রই কোনো শর্ত বা সীমাবদ্ধতা ছাড়াই অবিলম্বে তা অনুমোদন করার অনুমতি দেয়। কিন্তু ইসলামের শান্তি হলো বস্তু ও রুহ (প্রাণ) উভয়ই; এটি বিভিন্ন অঞ্চল, বর্ণ, ধর্ম ও মতাদর্শ নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতির কল্যাণের জন্য। পক্ষান্তরে শান্তির দাবিদারদের কাছে শান্তি হলো নিছক বস্তুগত। তাই ইসলাম বহির্ভূত শান্তি একদিকে যেমন অন্যের অস্ত্রসজ্জায় বাধা এবং নিজেদের অস্ত্রসজ্জা বৃদ্ধি করা, অন্যদিকে তেমনি তাদের শত্রুদের হত্যা, লাঞ্ছিতকরণ, উচ্ছেদ, নির্যাতন ও বিনাশ করার নামান্তর।

বরং ইসলামের শান্তি হলো একটি নূর যা সমস্ত মানুষের জন্য আলোকিত হয়, আর শান্তির দাবিদারদের শান্তি বলতে কেবল এমন আগুনকেই বোঝানো হয় যা অন্যদের পুড়িয়ে দেয় ও ধ্বংস করে … (তারা আল্লাহকে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের সাথে প্রতারণা করতে চায়, অথচ তারা কেবল নিজেদের সাথেই প্রতারণা করছে আর তারা তা বুঝতে পারছে না) «৩» .

যখনই বিশ্বে ইসলামি শান্তির ধারণা ছড়িয়ে পড়বে, সেখানে প্রকৃত শান্তি বিরাজ করবে এবং তার চারদিকে সুখ ও প্রশান্তি বিস্তৃত হবে; অন্যথায় পৃথিবী কখনও শীতল যুদ্ধে আবার কখনও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত থাকবে এবং মানবজাতি ফিতনা ও যুদ্ধের ভয়াবহতায় স্থায়ী আতঙ্কে নিমজ্জিত থাকবে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জাতিসমূহের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল দশ মিলিয়নেরও কম

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-আনফালের পবিত্র আয়াত ৮: ৬১।

(২) - সূরা আল-আনফালের পবিত্র আয়াত ৮: ৬২।

(৩) - সূরা আল-বাকারার পবিত্র আয়াত ২: ৯।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
نسمة فضلا عن الخراب والدمار الذي لحق بالممتلكات، ولكن خسائر الشعوب في الحرب العالمية الثانية بلغت أكثر من ستين مليونا من القتلى المدنيين والعسكريين كما قتل سبعة عشر مليون طفل بالغارات الجوية ودمّر ثلاثون مليونا من الأبنية واثنان وعشرون مليونا من المساكن عدا المآسي المروّعة التي صاحبت الحرب. فكم ستكون خسائر الإنسانية في حرب عالمية ثالثة، وقد أصبحت الأسلحة التي استخدمت في الحرب العالمية الثانية قديمة جدا وكأنها لعب أطفال بالنسبة للأسلحة النووية والصواريخ عابرة القارات … ونحوهما مما سيستخدم إذا نشبت حرب جديدة «1» ؟

إن الإسلام وحده هو الذي يستطيع نشر السلام في ربوع العالم ويشيع فيه الثقة والاطمئنان، أما دعاة السلام الذين هم في الحقيقة أعداء السلام، فقد عرف الناس ماذا يعني سلامهم من فتك وتدمير يشمل الأبرياء وغير الأبرياء على حد سواء … هؤلاء الأدعياء يجب أن يتواروا الى الأبد خجلا من الكرامة الإنسانية التي عفروها بالتراب ويفتشوا عن أحبولة أخرى لا يعرفها الناس غير الادّعاء بأنهم أنصار السلام «2» !!!

والله أسأل أن يهدي الإنسانية الى طريق الإسلام: طريق المحبة والخير والسلام.

--------------------------------------------

(1) - يقدر خبراء العسكريين المعتمدين، أن خسائر الحرب النووية ستكون ثلثي العالم قتلى ومشوهين وعاجزين. أما الثلث الباقي فسيبقى يعاني من آثار الاشعاع الذري. وسيكون من نتائج الحرب النووية القضاء على الحضارة العالمية والعودة الى حضارات العهود السحيقة في التاريخ.

(2) - كتبت هذه المقدمة في عهد قاسم العراق، ونشرت في ذلك العهد، يوم كانت أعمال أدعياء السلام المزيفين مائلة للعيان في الموصل وفي كركوك.
জনমানুষের প্রাণহানি ছাড়াও সম্পদের যে ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংসলীলা সাধিত হয়েছে তা তো আছেই, কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাতিসমূহের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেসামরিক ও সামরিক মিলিয়ে ছয় কোটিরও বেশি নিহতে পৌঁছেছিল। এর পাশাপাশি বিমান হামলায় এক কোটি সত্তর লক্ষ শিশু নিহত হয় এবং তিন কোটি অট্টালিকা ও দুই কোটি বিশ লক্ষ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়, এছাড়াও ছিল যুদ্ধের সাথে সংশ্লিষ্ট ভয়াবহ সব ট্র্যাজেডি। তাহলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে মানবজাতির কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হবে, যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র ও আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এতটাই সেকেলে হয়ে পড়েছে যে সেগুলোকে শিশুদের খেলনা মনে হয় … এবং এ জাতীয় যা কিছু নতুন যুদ্ধ শুরু হলে ব্যবহৃত হবে «১» ?

নিশ্চয়ই একমাত্র ইসলামই বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে শান্তি ছড়িয়ে দিতে এবং সেখানে আস্থা ও প্রশান্তি বিস্তার করতে সক্ষম। পক্ষান্তরে শান্তির সেই সব দাবিদার, যারা প্রকৃতপক্ষে শান্তির শত্রু, মানুষ জেনে গেছে তাদের শান্তির মানে কী—যা নিরপরাধ এবং অপরাধী নির্বিশেষে সকলকে সমানভাবে হত্যা ও ধ্বংসের শামিল করে … এই সব ভণ্ড দাবিদারদের উচিত মানব মর্যাদাকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার লজ্জায় চিরতরে আত্মগোপন করা এবং অন্য কোনো প্রতারণার জাল তালাশ করা যা মানুষের জানা নেই, কেবল তারা শান্তির সমর্থক—এই মিথ্যা দাবি করা ছাড়া «২» !!!

আর আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন মানবজাতিকে ইসলামের পথের দিশা দেন: যা ভালোবাসা, কল্যাণ ও শান্তির পথ।

--------------------------------------------

(১) - নির্ভরযোগ্য সামরিক বিশেষজ্ঞদের অনুমান অনুযায়ী, পারমাণবিক যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি হবে বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যু, বিকলাঙ্গতা ও অক্ষমতা। আর বাকি এক-তৃতীয়াংশ পারমাণবিক বিকিরণের প্রভাবে ভুগতে থাকবে। পারমাণবিক যুদ্ধের অন্যতম ফলাফল হবে বিশ্ব সভ্যতার বিনাশ এবং ইতিহাসের সুদূর প্রাচীন যুগের সভ্যতায় প্রত্যাবর্তন।

(২) - এই ভূমিকাটি ইরাকের কাসেমের শাসনামলে লেখা হয়েছিল এবং সেই যুগে প্রকাশিত হয়েছিল, যখন মসুল ও কিরকুুকে ভণ্ড শান্তি-দাবিদারদের কর্মকাণ্ডগুলো সবার সামনে জাজ্বল্যমান ছিল।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌مقدمة الطبعة الثالثة «1»

الحمد لله والصلاة والسلام على سيد القادات وقائد السادات.

رجل الرجال وبطل الأبطال.

إمام المجاهدين الصادقين.

وقدوة الموحدين الوحدويين.

وعلى آله وصحبه وقادته الفاتحين.

ما أعظم حياة النبي الكريم صلوات الله وتسليمه عليه، وما أكثر ما توحي به من عبر ودروس!

فماذا توحيه للعرب في هذه الأيام (بخاصة) من عبر، وماذا تزجيه لهم- وهم على ما هم عليه الآن- من دروس؟

حياته الغالبة في جوهرها، توحيد وجهاد: توحيد الله وتوحيد الناس، وجهاد لتوحيد الله وتوحيد الناس.

بدأ حياته العملية بالدعوة سرا منذ نزول الوحي عليه: يدعو الناس الى توحيد الله، وتزكية نفوسهم وتطهيرها، ويدعوهم الى توحيد الصفوف ونكر ان مصلحة الفرد في حدود مصلحة الجماعة.

--------------------------------------------

(1) - خطاب ألقي بمناسبة المولد النبوي الشريف في قاعة الشعب ببغداد عام 1963، يوم كنت في الوزارة، وقد شهد الاحتفال رئيس الجمهورية وأعضاء الحكومة العراقية.
তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকা «১»

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সকল নেতার নেতা ও প্রধানদের পথপ্রদর্শকের ওপর।

পুরুষদের মাঝে শ্রেষ্ঠ পুরুষ এবং বীরদের মাঝে শ্রেষ্ঠ বীর।

সত্যনিষ্ঠ মুজাহিদদের ইমাম।

একত্ববাদী ও ঐক্যপ্রয়াসীদের আদর্শ।

এবং তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং তাঁর বিজয়ী সেনাপতিদের ওপর।

সম্মানিত নবীর (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) জীবন কতই না মহান, আর তা থেকে কতই না শিক্ষা ও উপদেশ লাভ করা যায়!

বর্তমান দিনগুলোতে বিশেষভাবে আরবদের জন্য তাঁর জীবনে কী শিক্ষা রয়েছে, আর তারা এখন যে অবস্থায় রয়েছে তাতে তাদের জন্য কী উপদেশ তিনি পেশ করছেন?

তাঁর বিজয়ী জীবনের মূল নির্যাস হলো তাওহীদ ও জিহাদ: আল্লাহর একত্ববাদ ও মানুষের ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং আল্লাহর একত্ববাদ ও মানুষের ঐক্যের জন্য সংগ্রাম করা।

তিনি তাঁর কর্মময় জীবন শুরু করেছিলেন ওহী নাযিল হওয়ার পর থেকে গোপনে দাওয়াতের মাধ্যমে: তিনি মানুষকে আল্লাহর একত্ববাদের দিকে এবং তাদের আত্মার সংশোধন ও পবিত্রতার দিকে আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং সমষ্টিগত স্বার্থের বলয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ বিসর্জন দেওয়ার আহ্বান জানান।

--------------------------------------------

(১) - ১৯৬৩ সালে বাগদাদের পিপলস হলে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে প্রদত্ত একটি ভাষণ; সে সময় আমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম। এই অনুষ্ঠানে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি এবং ইরাকি সরকারের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
واستمرت دعوته سرا ثلاث سنين، حتى نزل قوله تعالى: (وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ) «1» ، فأعلن دعوته.

وابتدأت قريش تظهر خصومتها لدعوته السّمحة، وأخذت هذه الخصومة تشتد وتعنف، فاستباحوا في الحرم الآمن دماء وأموال المسلمين، وحرّضوا القبائل على الدعوة وصاحبها، وقاطعوا المسلمين ومن يعطف عليهم: لا يبيعونهم ولا يبتاعون منهم شيئا، ولا يزوجونهم أو يتزوجون منهم.

ولكن الرسول صلى الله عليه وسلم صمد صمود الرواسي: لا يلين ولا يتردد، ولا يخشى أحدا إلا الله، وتحمل التكذيب والتعذيب والأذى والجوع والحرمان، مصرا إصرارا عنيدا على تحقيق أهدافه كاملة.

كان يذهب الى الحجيج في مجامعهم، ويطلب منهم النصرة على مسمع ومرأى من جبابرة قريش وأحلافهم.

وتكلّلت إحدى محاولاته البطولية بالنجاح، وذلك بانبثاق بيعة (العقبة الأولى) ، ثم تلتها بيعة (العقبة الثانية) ، فكانت البيعة الأولى أول انتصار عسكري له خارج مكة المكرمة، وكانت البيعة الثانية انتصارا عسكريا آخر له، وأدى كل ذلك الى انتشار الإسلام في المدينة المنورة، وأصبح له فيها جنود يعتمد عليهم في الملمات.

إن حياته المباركة في مكة المكرمة، كانت مكرّسة للتوحيد من أجل الجهاد.

وأمر النبي صلى الله عليه وسلم مسلمي مكة ومن حولها بالهجرة الى المدينة المنورة للانضمام الى إخوانهم هناك، فهاجر المسلمون تباعا تاركين أموالهم وأهليهم،

--------------------------------------------

(1) - الآية الكريمة من سورة الشعراء 26: 214.
এবং তাঁর দাওয়াত তিন বছর গোপন ছিল, যতক্ষণ না মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হলো: "আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন" (১), এরপর তিনি তাঁর দাওয়াত প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেন।

কুরাইশরা তাঁর এই উদার দাওয়াতের প্রতি শত্রুতা প্রকাশ করতে শুরু করল এবং এই শত্রুতা তীব্র ও কঠোর হতে থাকল। তারা নিরাপদ হারামে মুসলমানদের রক্ত ও ধন-সম্পদ বৈধ করে নিল এবং গোত্রগুলোকে এই দাওয়াত ও দাওয়াত দাতার বিরুদ্ধে প্ররোচিত করল। তারা মুসলমানদের এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিশীলদের বয়কট করল: তারা তাদের কাছে কিছু বিক্রি করত না, তাদের থেকে কিছু কিনত না এবং তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করত না।

কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদৃঢ় পাহাড়ের ন্যায় অটল থাকলেন: তিনি নমনীয় হলেন না এবং দ্বিধা করলেন না, আর আল্লাহ ব্যতীত কাউকে ভয় করলেন না। তিনি তাঁর লক্ষ্যসমূহ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের সংকল্পে অবিচল থেকে মিথ্যারোপ, নির্যাতন, কষ্ট, ক্ষুধা ও বঞ্চনা সহ্য করলেন।

তিনি হাজীদের সমবেত হওয়ার স্থানগুলোতে যেতেন এবং কুরাইশের প্রতাপশালী ও তাদের মিত্রদের সামনেই তাদের কাছে সাহায্য ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করতেন।

তাঁর বীরত্বপূর্ণ প্রচেষ্টাগুলোর একটি সফলতায় রূপ নিল, আর তা হলো 'প্রথম আকাবার বায়আত' এর উদ্ভব। এরপর 'দ্বিতীয় আকাবার বায়আত' অনুষ্ঠিত হলো। প্রথম বায়আতটি ছিল মক্কা মুকাররমার বাইরে তাঁর জন্য প্রথম সামরিক বিজয় এবং দ্বিতীয় বায়আতটি ছিল তাঁর জন্য অপর একটি সামরিক বিজয়। আর এই সবকিছুই মদিনা মুনাওয়ারায় ইসলাম প্রসারের পথ সুগম করল এবং সেখানে তাঁর এমন একদল বাহিনী তৈরি হলো যাদের ওপর কঠিন বিপদে নির্ভর করা যেত।

মক্কা মুকাররমায় তাঁর বরকতময় জীবন ছিল জিহাদের প্রস্তুতির লক্ষ্যে তাওহীদের জন্য উৎসর্গীকৃত।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা ও এর আশেপাশের মুসলমানদের মদিনা মুনাওয়ারায় হিজরত করার নির্দেশ দিলেন যাতে তারা সেখানে তাদের ভাইদের সাথে যোগ দিতে পারে। ফলে মুসলমানরা একে একে তাদের ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজন ত্যাগ করে হিজরত করলেন।

--------------------------------------------

(১) - পবিত্র কুরআনের সূরা আশ-শুয়ারা ২৬:২১৪ এর আয়াত।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
فكانت هجرة الرسول القائد عليه أفضل الصلاة والسلام الى المدينة المنورة معناها: اجتماع القائد بجنوده في قاعدتهم الأمينة.

وفي دار الهجرة، أنجز النبي الكريم صلى الله عليه وسلم حشد قواته: بنى المسجد وهو الثكنة الأولى للإسلام، وآخى بين المهاجرين والأنصار حتى يتعاونوا على أسباب العيش وليكونوا جبهة واحدة لتحقيق هدف واحد، وعقد المعاهدات بين المسلمين وخصومهم في المدينة المنورة ليطمئن الى سلامة جبهته الداخلية، فلما نزلت أول آية من آيات الجهاد: (أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ. الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيارِهِمْ بِغَيْرِ حَقٍّ إِلَّا أَنْ يَقُولُوا: رَبُّنَا اللَّهُ) «1» ، كان الرسول القائد عليه أفضل الصلاة والسلام قد أكمل حشد جيش يؤمن بعقيدة واحدة، وله هدف واحد، وقائد واحد، يستند الى قاعدة أمينة واحدة.

ونشب القتال بين المسلمين وبين قريش بعد إنجاز دور الحشد، فبدأ دور الدفاع عن العقيدة، وهو من إرسال السرايا الأولى للقتال الى انسحاب (الأحزاب) عن المدينة المنورة بعد غزوة (الخندق) ؛ وفي هذا الدور ازداد عدد المسلمين، فصمدوا دفاعا عن عقيدتهم ضد أعدائهم الأقوياء.

وبعد غزوة (الخندق) بدأ دور (الهجوم) وانتهى هذا الدور بعد غزوة (حنين) ، وبهذا الدور انتشر المسلمون في أرجاء الجزيرة العربية كلها، وأصبحوا قوّة ذات مكانة وكيان.

وكان الدور الأخير من أدوار جهاد الرسول القائد عليه أفضل الصلاة والسلام في سبيل التوحيد، هو دور (التكامل) ، وهو من بعد غزوة (حنين) إلى أن التحق النبي صلى الله عليه وسلم بالرفيق الأعلى، فتكاملت قوات المسلمين بهذا الدور،

--------------------------------------------

(1) - الآيتان الكريمتان من سورة الحج 22: 39- 40.
সেনাপতি রাসূলের (তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) মদিনা মুনাওয়ারায় হিজরতের অর্থ ছিল: তাঁর নিরাপদ ঘাঁটিতে নিজ সৈন্যদের সাথে সেনাপতির মিলিত হওয়া।

আর হিজরতের আলয়ে সম্মানিত নবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) তাঁর বাহিনী সমাবেশের কাজ সম্পন্ন করেন: তিনি মসজিদ নির্মাণ করেন যা ছিল ইসলামের প্রথম সেনানিবাস; মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন যাতে তাঁরা জীবনধারণের উপায়গুলোর ক্ষেত্রে পরস্পরকে সহযোগিতা করতে পারেন এবং একটি অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে একটি ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট হতে পারেন; আর মদিনা মুনাওয়ারায় মুসলিম ও তাদের প্রতিপক্ষদের মধ্যে চুক্তি সম্পাদন করেন যাতে তিনি তাঁর অভ্যন্তরীণ ফ্রন্টের নিরাপত্তার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেন। অতঃপর যখন জিহাদের প্রথম আয়াত অবতীর্ণ হলো: "যাদের সাথে যুদ্ধ করা হচ্ছে তাদের (যুদ্ধের) অনুমতি প্রদান করা হলো, কারণ তারা নির্যাতিত; আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে পূর্ণ সক্ষম। যারা তাদের ঘরবাড়ি থেকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত হয়েছে শুধু এই কারণে যে তারা বলে: আমাদের রব আল্লাহ" (১), তখন সেনাপতি রাসূল (তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) এমন এক সেনাবাহিনী সমাবেশ করার কাজ সম্পন্ন করেছিলেন যারা একটি একক আকিদায় বিশ্বাসী ছিল, যাদের লক্ষ্য ছিল এক, সেনাপতি ছিল এক এবং যারা একটি একক নিরাপদ ঘাঁটির ওপর নির্ভরশীল ছিল।

বাহিনী সমাবেশের পর্যায় সম্পন্ন হওয়ার পর মুসলিম ও কুরাইশদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়, ফলে আকিদা রক্ষার (প্রতিরক্ষার) পর্যায় শুরু হয়; যা যুদ্ধের জন্য প্রথম সারিয়াহসমূহ প্রেরণের মাধ্যমে শুরু হয়ে খন্দকের যুদ্ধের পর মদিনা মুনাওয়ারা থেকে (আহজাব বা সম্মিলিত বাহিনীর) পিছু হটার মাধ্যমে শেষ হয়। এই পর্যায়ে মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, ফলে তাঁরা তাঁদের শক্তিশালী শত্রুদের বিরুদ্ধে নিজেদের আকিদা রক্ষায় অবিচল থাকেন।

খন্দকের যুদ্ধের পর (আক্রমণের) পর্যায় শুরু হয় এবং এই পর্যায়টি হুনাইনের যুদ্ধের পর সমাপ্ত হয়। এই পর্যায়ে মুসলিমরা সমগ্র আরব উপদ্বীপের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েন এবং তাঁরা এক মর্যাদাবান ও সুসংগঠিত শক্তিতে পরিণত হন।

তাওহীদের পথে সেনাপতি রাসূলের (তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) জিহাদের পর্যায়গুলোর মধ্যে সর্বশেষ পর্যায়টি ছিল (পূর্ণতার) পর্যায়। এটি হুনাইনের যুদ্ধের পর থেকে নবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) উর্ধ্বলোকে মহান বন্ধুর সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী ছিল; ফলে এই পর্যায়ে মুসলিম বাহিনী পূর্ণতা লাভ করে।

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-হজ্জ ২২: ৩৯-৪০ এর দুটি সম্মানিত আয়াত।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
واستطاعت إن توحّد شبه الجزيرة العربية كلها؛ فكانت غزوة (تبوك) نهاية جهاد النبي صلى الله عليه وسلم في توحيد شبه الجزيرة العربية، تحت راية الإسلام.

إن حياة النبي الكريم صلى الله عليه وسلم في المدينة المنورة كانت مكرّسة للجهاد من أجل التوحيد.

وكانت حياة خلفائه الراشدين رضي الله عنهم من بعده تطبيقا عمليا لأهداف النبي صلى الله عليه وسلم التي نذر لها حياته الكريمة: جهاد من أجل التوحيد، وتوحيد من أجل الجهاد.

كانت حروب الردّة في أيام الصديق أبي بكر رضي الله عنه حروبا لإعادة وحدة شبه الجزيرة العربية تحت لواء الإسلام، وحين عادت وحدة العرب بعد انتصار المسلمين على المرتدين أصبحوا قوة هائلة، وجدت لها (متنفسا) في الفتح، فخفقت رايات العرب المسلمين من الصين شرقا الى حدود سيبريا شمالا، الى فرنسا غربا، الى المحيط الهندي جنوبا.

وكان من فضل الإسلام على العرب، أنه وحّد صفوفهم، وجمع كلمتهم، ووجّههم للفتح، فكان الإسلام بحق عقيدة منشئة بناءة ذاد عنها حماة قادرون، هم العرب الموحدون الذين أصبحوا بفضل وحدتهم وتوحيدهم قوة جبارة، ولن يعيدوا سيرتهم الأولى بغير الوحدة والتوحيد.

واليوم فإن الوحدة العربية هدف حتمي، يستمد مقوماته من وحدة (اللغة) التي هي قوام الثقافة والفكر، ووحدة (التاريخ) التي تصنع الوجدان والضمير ووحدة (الجهاد) الشعبي الذي يقرر ويحدد المصير، ووحدة (القيم) الروحية النابعة من رسالات السماء! فلمصلحة من تبقى السدود والقيود بين البلاد العربية؟ ألمصلحة الشعب العربي، وهو شعب واحد في تفرقه الوهن وفي اتحاده القوة؟ أم لمصلحة المسلمين بكل مكان، والعرب إذا اتحدوا يعيدون لهم سابق عزهم
এবং এটি সমগ্র আরব উপদ্বীপকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছিল; ফলে ইসলামের পতাকাতলে আরব উপদ্বীপকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে (তাবুক) যুদ্ধ ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জিহাদের সমাপ্তি।

মদীনা মুনাওয়ারায় সম্মানীয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন তাওহীদের জন্য জিহাদে উৎসর্গিত ছিল।

আর তাঁর পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীন রাযিয়াল্লাহু আনহুম-এর জীবন ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই লক্ষ্যসমূহের এক বাস্তব প্রয়োগ, যার জন্য তিনি তাঁর সম্মানীয় জীবন উৎসর্গ করেছিলেন: তাওহীদের জন্য জিহাদ এবং জিহাদের জন্য তাওহীদ।

সিদ্দিক আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর যুগে রিদ্দার যুদ্ধগুলো ছিল ইসলামের পতাকাতলে আরব উপদ্বীপের ঐক্য পুনপ্রতিষ্ঠার যুদ্ধ। মুরতাদদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের বিজয়ের পর যখন আরবদের ঐক্য ফিরে এল, তখন তারা এক বিশাল শক্তিতে পরিণত হলো, যা বিজয়ের মাধ্যমে (বিকাশের পথ) খুঁজে পেল। ফলে মুসলিম আরবদের পতাকা পূর্বে চীন থেকে উত্তরে সাইবেরিয়ার সীমান্ত পর্যন্ত, পশ্চিমে ফ্রান্স এবং দক্ষিণে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত উড্ডীন হলো।

আর আরবদের প্রতি ইসলামের অন্যতম অনুগ্রহ ছিল যে, এটি তাদের কাতারকে ঐক্যবদ্ধ করেছে, তাদের বাক্যকে এক করেছে এবং তাদেরকে বিজয়ের পথে পরিচালিত করেছে। ফলে ইসলাম প্রকৃতপক্ষে একটি গঠনমূলক ও সৃজনশীল আকিদা ছিল, যা সক্ষম রক্ষকগণ রক্ষা করেছেন; তারা হলেন সেই একত্ববাদী আরবগণ, যারা তাদের ঐক্য ও তাওহীদের বদৌলতে এক অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। আর ঐক্য ও তাওহীদ ব্যতীত তারা তাদের সেই গৌরবময় অতীত পুনরায় ফিরিয়ে আনতে পারবে না।

আজ আরব ঐক্য একটি অনিবার্য লক্ষ্য, যা (ভাষার) ঐক্য থেকে তার উপাদানসমূহ গ্রহণ করে যা সংস্কৃতি ও চিন্তার মূল ভিত্তি; এবং (ইতিহাসের) ঐক্য যা আবেগ ও বিবেক গঠন করে; এবং জনতাভিত্তিক (জিহাদের) ঐক্য যা ভাগ্য নির্ধারণ ও সুনির্দিষ্ট করে; আর আসমানী রিসালাত থেকে উৎসারিত আধ্যাত্মিক (মূল্যবোধের) ঐক্য! তাহলে কার স্বার্থে আরব দেশগুলোর মাঝে এই সব প্রতিবন্ধকতা ও বাধ্যবাধকতা টিকে থাকবে? এটা কি আরব জনগণের স্বার্থে, যারা এক জাতি হওয়া সত্ত্বেও বিচ্ছিন্নতায় দুর্বল এবং ঐক্যে শক্তিশালী? নাকি সর্বস্থানের মুসলমানদের স্বার্থে, কারণ আরবরা ঐক্যবদ্ধ হলে তাদের পূর্বতন মর্যাদা ও সম্মান ফিরিয়ে আনবে?
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ২০)
ومجدهم؟ أم لمصلحة الحضارة العالمية، وهذه الحضارة تحقق كسبا عظيما في رجوع الحضارة العربية الى سابق عزها؟

إن حياة رسول التوحيد والجهاد عليه أفضل الصلاة والسلام هي أسوة حسنة للعرب والمسلمين في كل مكان وكل زمان.

إنها تناديهم من وراء الغيب عبر القرون: وحدوا صفوفكم وجاهدوا أعداءكم.

صمموا على تحقيق أهدافكم كاملة.

ضحوا من أجل مثلكم العليا بكل ما تملكون.

تخطوا العقبات والصعاب من أجل تحقيق وحدتكم وتوحيدكم.

لتكن مصالحكم الشخصية تحت أقدامكم في سبيل المصالح العامة.

أقولها كلمة صريحة حاسمة موجهة لقادة العرب خاصة ولقادة المسلمين عامة.

إن التاريخ لم يخلد غير الذين وحّدوا وجاهدوا: وحدوا الصفوف، ولموا الشعب، وكونوا قوة موحدة من قوى متفرقة وجاهدوا في سبيل مثل عليا لمصلحة أمتهم، ولمصلحة عقيدتهم، فالحياة تافهة إذا خلت من مثل عليا.

وهذه البلاد العربية متفرقة، فيها ميدان واسع لمن يريد العمل حقا لتوحيدها.

وهذه فلسطين وعمان والمحميات، فيها ميدان واسع لمن يجاهد لإنقاذها.

وهذا التاريخ يفتح أنصع صفحاته لتخليد من يوحّد ويجاهد.

إن القائد الذي يقدم على توحيد العرب وجهاد أعدائهم، سيجد القلوب
...এবং তাদের গৌরব? নাকি বিশ্ব সভ্যতার স্বার্থে? আর এই সভ্যতা এক মহান অর্জন লাভ করবে যখন আরব সভ্যতা তার পূর্বের গৌরবে ফিরে আসবে।

নিশ্চয়ই তাওহীদ ও জিহাদের রাসূল—তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—এর জীবন প্রতিটি স্থানে ও প্রতিটি সময়ে আরব ও মুসলিমদের জন্য এক উত্তম আদর্শ।

তা শতকের পর শতক ধরে অদৃশ্যের অন্তরাল থেকে তাদের ডাক দিয়ে বলছে: তোমাদের কাতারগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করো এবং তোমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো।

তোমাদের লক্ষ্যসমূহ পূর্ণাঙ্গভাবে অর্জনে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হও।

তোমাদের সুউচ্চ আদর্শের জন্য তোমাদের যা কিছু আছে তা দিয়ে কুরবানি দাও।

তোমাদের ঐক্য ও তাওহীদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল বাধা-বিপত্তি ও কাঠিন্য অতিক্রম করো।

সাধারণ স্বার্থের পথে তোমাদের ব্যক্তিগত স্বার্থগুলো তোমাদের পায়ের নিচে থাকুক।

আমি এই কথাটি স্পষ্টভাবে ও চূড়ান্তভাবে বিশেষ করে আরব নেতৃবৃন্দের প্রতি এবং সাধারণভাবে মুসলিম নেতৃবৃন্দের প্রতি বলছি।

ইতিহাস কেবল তাদেরকেই অমর করে রেখেছে যারা ঐক্যবদ্ধ করেছে ও জিহাদ করেছে: কাতারগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করেছে, জনগণকে সমবেত করেছে, বিচ্ছিন্ন শক্তিগুলো থেকে একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তি গঠন করেছে এবং তাদের উম্মাহর স্বার্থে ও তাদের আকিদার স্বার্থে সুউচ্চ আদর্শের পথে জিহাদ করেছে; কেননা জীবন তুচ্ছ, যদি তা সুউচ্চ আদর্শশূন্য হয়।

আর এই আরব দেশগুলো আজ বিচ্ছিন্ন, এতে তাদের জন্য বিশাল ক্ষেত্র রয়েছে যারা প্রকৃতপক্ষে একে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করতে চায়।

আর এই ফিলিস্তিন, ওমান ও সংরক্ষিত অঞ্চলসমূহ—এগুলোতে তাদের জন্য বিশাল ক্ষেত্র রয়েছে যারা এগুলোকে মুক্ত করার জন্য জিহাদ করবে।

আর এই ইতিহাস তার সবচেয়ে উজ্জ্বল পাতাগুলো উন্মোচন করছে তাদের অমর করে রাখার জন্য যারা ঐক্যবদ্ধ করে ও জিহাদ করে।

নিশ্চয়ই যে নেতা আরবদের ঐক্যবদ্ধ করতে এবং তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে এগিয়ে আসবে, সে অন্তরসমূহকে...
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ২১)
في الوطن العربي تهوى إليه، وسيجد النفوس في دار الإسلام تبارك خطواته، وسيجد الذين يقاومون جهوده يتهاوون تحت أقدامه كما تتهاوى أوراق الشجر في الخريف.

وأخيرا سيجد أن الضعف أصبح قوة، وأن الفقر أصبح غنى، وأن الجهل أصبح علما، وأن المرض أصبح صحة، وحينذاك سيكون للعرب قوة لها شأن في العالم كله، تعيد للمسلمين عزهم ومجدهم.

إن النبي العربي صلوات الله عليه وتسليمه عليه يطالبكم اليوم جميعا، أن تجاهدوا من أجل الوحدة، وتوحدوا من أجل الجهاد.

وصدق الله العظيم: (وَكَذلِكَ جَعَلْناكُمْ أُمَّةً وَسَطاً لِتَكُونُوا شُهَداءَ عَلَى النَّاسِ، وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيداً) «1» .

--------------------------------------------

(1) - الآية الكريمة من سورة البقرة 2: 143.
আরব বিশ্বে (অন্তরসমূহ) তার প্রতি ধাবিত হবে, এবং সে ইসলামের ভূখণ্ডে এমন সব আত্মা খুঁজে পাবে যারা তার প্রতিটি পদক্ষেপকে বরকতময় মনে করবে। যারা তার প্রচেষ্টায় বাধা দেবে, সে দেখবে তারা তার পদতলে এমনভাবে লুটিয়ে পড়ছে যেমনভাবে শরতের পাতারা ঝরে পড়ে।

পরিশেষে সে দেখবে যে, দুর্বলতা শক্তিতে পরিণত হয়েছে, দারিদ্র্য ঐশ্বর্যে রূপান্তরিত হয়েছে, অজ্ঞতা জ্ঞানে পরিণত হয়েছে এবং অসুস্থতা সুস্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। সেই সময়ে সমগ্র বিশ্বে আরবদের এমন এক প্রভাবশালী শক্তির উদ্ভব হবে, যা মুসলিমদের হারানো সম্মান ও গৌরব ফিরিয়ে আনবে।

নিশ্চয়ই সেই আরব নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) আজ আপনাদের সকলের কাছে এই দাবি জানাচ্ছেন যে, আপনারা ঐক্যের জন্য সংগ্রাম করুন এবং সংগ্রামের উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ হোন।

মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: (আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির উপর সাক্ষী হতে পারো এবং রাসূল তোমাদের উপর সাক্ষী হতে পারেন।) «১» ।

--------------------------------------------

(১) - সম্মানিত আয়াতটি সূরা বাকারার ২: ১৪৩ নম্বর আয়াত।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌مقدمة الطبعة الرابعة إرادة القتال في الجهاد الإسلامي 1

أ- بعث النبي صلى الله عليه وسلم من (الحديبية) عثمان بن عفان رضي الله تعالى عنه إلى مكة المكرمة، ليبلغ أشراف قريش: أن المسلمين لم يأتوا للحرب، وإنما جاءوا زائرين للبيت الحرام ومعظمين لحرمته.

وبلغ عثمان أبا سفيان بن حرب وعظماء قريش عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ما أرسله به. فقالوا لعثمان حين فرغ من تبليغ رسالته الى قريش: (إن شئت أن تطوف بالبيت فطف) ، فقال عثمان: ما كنت لأفعل حتى يطوف به رسول الله صلى الله عليه وسلم.

واحتبست قريش عثمان عندها، فبلغ رسول الله صلى الله عليه وسلم والمسلمين، أن عثمان ابن عفان قد قتل، فقال الرسول القائد عليه أفضل الصلاة والسلام: (لا نبرح حتى نناجز القوم) .

ودعا النبي صلى الله عليه وسلم الناس الى البيعة، فكانت بيعة الرضوان تحت الشجرة، وكانت هذه البيعة على الموت.

قال الصحابة الذين شهدوا بيعة الرضوان: (كنا نبايع يومئذ على الموت) .

ب- واستشهد في معركة (اليرموك) الحاسمة عكرمة بن أبي جهل وسهل ابن عمرو والحارث بن هشام، فأتوا بماء وهم صرعى في النزع الأخير، ولكنهم تدافعوا، كلما دفع الى رجل منهم قال: اسق فلانا، حتى ماتوا ولم يشربوه! فقد طلب عكرمة الماء، فرأى سهيلا ينظر إليه، فقال: (ادفعوا الى سهيل) .
চতুর্থ সংস্করণের ভূমিকা: ইসলামি জিহাদে যুদ্ধের সংকল্প ১

ক- নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হুদায়বিয়া থেকে উসমান ইবন আফফান (রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু)-কে মক্কায় পাঠান, যাতে তিনি কুরাইশ নেতাদের অবহিত করেন যে: মুসলিমরা যুদ্ধের জন্য আসেনি, বরং তারা বাইতুল্লাহর যিয়ারতকারী এবং এর মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শনকারী হিসেবে এসেছে।

উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আবু সুফিয়ান ইবন হারব ও কুরাইশের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পাঠানো বার্তা পৌঁছে দেন। যখন তিনি কুরাইশদের কাছে বার্তা পৌঁছানো শেষ করলেন, তখন তারা উসমানকে বলল: "আপনি চাইলে কাবা ঘর তওয়াফ করতে পারেন।" উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তওয়াফ না করা পর্যন্ত আমি তা করতে পারি না।"

কুরাইশরা উসমানকে তাদের কাছে আটকে রাখে। ফলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও মুসলিমদের কাছে সংবাদ পৌঁছায় যে, উসমান ইবন আফফান নিহত হয়েছেন। তখন সেনাপতি রাসূল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বললেন: "আমরা এই স্থান ত্যাগ করব না যতক্ষণ না এই কওমের সাথে চূড়ান্ত ফয়সালা করছি।"

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষকে বাইয়াত বা আনুগত্যের শপথের জন্য ডাকলেন। তখন গাছের নিচে বাইয়াতে রিদওয়ান অনুষ্ঠিত হয়, আর এই বাইয়াত ছিল মৃত্যুর ওপর।

বাইয়াতে রিদওয়ানে উপস্থিত সাহাবীগণ বলেন: "সেদিন আমরা মৃত্যুর ওপর বাইয়াত গ্রহণ করেছিলাম।"

খ- ইয়ারমুকের চূড়ান্ত যুদ্ধে ইকরিমাহ ইবন আবি জাহল, সুহাইল ইবন আমর এবং আল-হারিস ইবন হিশাম শাহাদাত বরণ করেন। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে আহত অবস্থায় যখন তাদের কাছে পানি আনা হলো, তখন তারা একে অপরকে অগ্রাধিকার দিলেন। যখনই তাদের একজনের কাছে পানি দেওয়া হতো, তিনি বলতেন: "অমুককে পান করাও", এভাবে তারা পানি পান না করেই মৃত্যুবরণ করেন! ইকরিমাহ পানি চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সুহাইলকে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বললেন: "সুহাইলকে পানি দাও।"
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ورأى سهيل الحارث ينظر إليه، فقال: (ادفعوه الى الحارث) ، فلم يصل إليه حتى ماتوا.

ج- وكان خالد بن الوليد رضي الله عنه قائدا عاما على المسلمين في أرض الشام فقاد المسلمين في معركة (اليرموك) الفاصلة الى النصر، تلك المعركة التي فتحت أبواب فلسطين والأردن وسورية ولبنان للمسلمين.

وعزله عمر بن الخطاب رضي الله عنه وهو في أوج انتصاراته، ولكن خالدا لم يأنف بهذا العزل، وقال قولته المشهورة: (لا أقاتل من أجل عمر، بل أقاتل من أجل إعلاء كلمة الله) .

د- وشهدت الخنساء الشاعرة المشهورة معركة القادسية الحاسمة، ومعها بنوها أربعة رجال، فحرضتهم على القتال.

وباشر أولاد الخنساء القتال، وقتلوا واحدا بعد واحد، فلما علمت باستشهادهم قالت: (الحمد لله الذي شرفني بقتلهم، وأرجو من ربي أن يجمعني بهم في مستقر رحمته) .

لم تجزع الخنساء على استشهاد أولادها الأربعة تحت لواء الإسلام، وهي التي جزعت أشد الجزع وأعظمه على أخيها صخر بن عمرو السلمي الذي قتل تحت لواء الجاهلية، وبكته أحر البكاء وأغزره، ولا يزال شعرها في (صخر) مضرب الأمثال في العاطفة المتأججة وصدق الرثاء.

2 أ- تلك أمثلة نابضة بالحياة من تاريخنا المجيد، وهي غيض من فيض …

ولكنها تعطي الجواب العملي الواضح لمعنى: (إرادة القتال) ، كما فهمها وتشرب بها وطبقها السلف الصالح من أجدادنا العرب المسلمين.
সুহাইল দেখলেন যে হারিস তাঁর দিকে তাকাচ্ছেন, তখন তিনি বললেন: (তাঁকে হারিসের কাছে পৌঁছে দাও), কিন্তু তাঁরা পৌঁছানোর আগেই সকলে মৃত্যুবরণ করলেন।

গ- আর খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) শাম ভূখণ্ডে মুসলিমদের প্রধান সেনাপতি ছিলেন; তিনি 'ইয়ারমুক' এর চূড়ান্ত যুদ্ধে মুসলিমদেরকে বিজয়ের দিকে পরিচালিত করেছিলেন। এটি সেই যুদ্ধ যা মুসলিমদের জন্য ফিলিস্তিন, জর্ডান, সিরিয়া এবং লেবাননের দরজা খুলে দিয়েছিল।

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে তাঁর বিজয়ের চরম শিখরে থাকাবস্থায় পদচ্যুত করেন, কিন্তু খালিদ এই পদচ্যুতির কারণে কোনো হীনম্মন্যতা বোধ করেননি এবং তিনি তাঁর বিখ্যাত উক্তিটি করেছিলেন: (আমি উমরের জন্য যুদ্ধ করি না, বরং আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করার জন্য যুদ্ধ করি)।

ঘ- বিখ্যাত কবি খানসা ঐতিহাসিক কادسিয়ার যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন, তাঁর সাথে তাঁর চার পুত্র ছিল, তিনি তাঁদেরকে যুদ্ধের জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।

এরপর খানসার সন্তানরা যুদ্ধে লিপ্ত হলেন এবং একে একে সবাই শহীদ হলেন। যখন তিনি তাঁদের শাহাদাতের সংবাদ পেলেন, তখন বললেন: (সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁদের শাহাদাতের মাধ্যমে আমাকে সম্মানিত করেছেন এবং আমি আমার রবের কাছে আশা করি যে তিনি তাঁর রহমতের আলয়ে আমাদের সকলকে একত্র করবেন)।

ইসলামের পতাকাতলে তাঁর চার সন্তানের শাহাদাতে খানসা মোটেই বিচলিত বা অধৈর্য হননি, অথচ তিনিই তাঁর ভাই সাখর বিন আমর আস-সুলামির মৃত্যুতে চরমভাবে বিলাপ ও আর্তনাদ করেছিলেন, যে জাহিলিয়াতের পতাকাতলে নিহত হয়েছিল। তাঁর জন্য তিনি অঝোর ধারায় ক্রন্দন করেছিলেন। আজও 'সাখর' সম্পর্কে তাঁর রচিত কবিতাগুলো উত্তাল আবেগ এবং শোকগাঁথার সত্যনিষ্ঠার অনন্য উদাহরণ হিসেবে গণ্য হয়।

২ ক- এগুলো আমাদের গৌরবময় ইতিহাসের জীবন্ত উদাহরণ, যা বিশাল ভাণ্ডারের অতি সামান্য অংশ মাত্র …

তবে এগুলো 'যুদ্ধের সংকল্প' এর অর্থের একটি স্পষ্ট বাস্তব জবাব প্রদান করে, যেভাবে আমাদের পূর্বসূরি আরব মুসলিম সলফে সালেহীনগণ তা বুঝেছিলেন, আত্মস্থ করেছিলেন এবং বাস্তবায়ন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
فقد رفض عثمان بن عفان رضي الله عنه، أن يطوف بالبيت العتيق وحده دون المسلمين، وهو الذي كان في شوق غامر لهذا الذي دعته إليه قريش طائعة مبادرة، مما يدل على تشبعه بالضبط المتين، فلا يفعل شيئا حتى إذا صادف ذلك الشيء هوى في نفسه، إلا إذا تلقى أوامر قائده صريحة واضحة.

وهو- فوق ذلك- يدل على تشبعه بروح الجماعة وخضوعه لمصالحها العليا، ونبذ مصالحه الذاتية وراءه ظهريا.

وتدافع عكرمة وصحبه الماء وهم في الرمق الأخير، يدل على الإيثار بأروع صوره في أحرج الظروف والأحوال.

وموقف الخنساء عند علمها باستشهاد أولادها الأربعة وهي شيخ رهمة يدل على التضحية بأغلى وأعز شيء في الحياة من أجل المبدأ والعقيدة.

وقولة خالد بن الوليد بعد عزله، تدل على أنه لم يكن يجاهد في سبيل أمجاد شخصية ولا مصالح ذاتية، بل كان يجاهد في سبيل إعلاء كلمة الله.

وكل تلك المواقف، تدل بوضوح، على الإصرار الفذ والعزم الأكيد، على التضحية بكل غال ورخيص، وبكل ما في الدنيا من متاع، من أجل مجد الإسلام.

ب- فما معنى إرادة القتال إذن؟

هي الرغبة الأكيدة في الصمود والثبات في ميدان القتال من أجل مثل عليا وأهداف سامية، وإيمان لا يتزعزع بهذه المثل والأهداف. وثقة بأنها أحب وأعز وأغلى من كل شيء في الحياة، وتحمل أعباء الحرب بذلا للأموال والأنفس واستهانه بالأضرار والشدائد وصبرا في البأساء والضراء وحين البأس، حتى يتم تحقيق تلك المثل العليا والأهداف السامية، مهما طال الأمد وبعد الشوط وكثر العناء وازدادت المصاعب وتضاعفت التضحيات.
উসমান ইবন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মুসলমানদের ছাড়া একাকী প্রাচীন গৃহ (কাবা) তাওয়াফ করতে অস্বীকার করেছিলেন, অথচ তিনি এর জন্য অত্যন্ত ব্যাকুল ছিলেন যার জন্য কুরাইশরা তাকে স্বেচ্ছায় আহ্বান জানিয়েছিল। এটি তার সুদৃঢ় শৃঙ্খলার প্রতি পূর্ণ অনুগত হওয়ার প্রমাণ দেয়; ফলে তিনি নিজের প্রবৃত্তির অনুকূল হওয়া সত্ত্বেও কোনো কাজ করেন না যতক্ষণ না তিনি তার নেতার কাছ থেকে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট আদেশ পান।

এর বাইরেও এটি তার জামাআতের বা দলবদ্ধতার আদর্শে উজ্জীবিত হওয়ার এবং এর উচ্চতর স্বার্থের কাছে অনুগত থাকার প্রমাণ বহন করে, যেখানে তিনি নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থকে সম্পূর্ণরূপে বর্জন করেছিলেন।

ইকরিমা এবং তার সঙ্গীদের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার মুহূর্তে একে অপরের দিকে পানি এগিয়ে দেওয়া অত্যন্ত সংকটময় পরিস্থিতিতে আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করে।

খানসা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) যখন তার বার্ধক্যে চার সন্তানের শাহাদাতের সংবাদ পান, তখন তার যে অবস্থান ছিল তা আদর্শ ও আকিদাহর খাতিরে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান ও প্রিয় বস্তুকে বিসর্জন দেওয়ার প্রমাণ দেয়।

পদচ্যুতির পর খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের বক্তব্য প্রমাণ করে যে, তিনি ব্যক্তিগত মর্যাদা বা ব্যক্তিস্বার্থের জন্য জিহাদ করছিলেন না, বরং তিনি আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার জন্যই জিহাদ করছিলেন।

এই সমস্ত অবস্থানগুলো ইসলামের গৌরবের জন্য মূল্যবান ও তুচ্ছ সবকিছু এবং দুনিয়ার সমস্ত ভোগবিলাস বিসর্জন দেওয়ার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃঢ়তা ও সুনিশ্চিত সংকল্পকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।

খ- তাহলে যুদ্ধের সংকল্পের অর্থ কী?

এটি হলো মহান আদর্শ ও উচ্চতর লক্ষ্যের জন্য রণক্ষেত্রে অটল ও অবিচল থাকার সুদৃঢ় আকাঙ্ক্ষা এবং এই আদর্শ ও লক্ষ্যের প্রতি এক অবিচল বিশ্বাস। আর এই বিশ্বাস রাখা যে, এগুলো জীবনের যেকোনো কিছুর চেয়ে অধিক প্রিয়, সম্মানিত ও মূল্যবান। আর জান ও মালের বিনিময়ে যুদ্ধের বোঝা বহন করা, ক্ষয়ক্ষতি ও প্রতিকূলতাকে তুচ্ছজ্ঞান করা এবং দারিদ্র্য, দুঃখ-কষ্ট ও যুদ্ধের তীব্রতার সময় ধৈর্য ধারণ করা; যতক্ষণ না সেই মহান আদর্শ ও উচ্চতর লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়িত হয়, তা সময় যতই দীর্ঘ হোক, পথ যতই দূর হোক, কষ্ট যতই বাড়ুক এবং বিপদ ও ত্যাগের পরিমাণ যতই বৃদ্ধি পাক না কেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ذلك هو مفهوم: (إرادة القتال في الجهاد الإسلامي) ، وهو مفهوم لا تطمع في إدراك شأوه مفاهيم: إرادة القتال في العقيدتين العسكريتين الشرقية أو الغربية على حد سواء.

مفهوم: إرادة القتال في الجهاد الإسلامي، مادة وروح، فيه الدعوة الى الخير والسلام، وفيه الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وفيه الإعراض عن الاستغلال والاستعباد.

ومفهوم: إرادة القتال في الشرق والغرب مادة فقط. فيه الدعوة الى التسلط والاستعمار وفيه إشاعة المنكر والفساد، وفيه حب الحرب وكراهية السلام.

3 أ- فكيف غرس الإسلام مفاهيم إرادة القتال في نفوس المسلمين وعقولهم معا؟

حث الإسلام على (الطاعة) . والطاعة هي الضبط والنظام: (وَقالُوا:

سَمِعْنا وَأَطَعْنا غُفْرانَكَ رَبَّنا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ) «1» .

وأشاع الإسلام معاني الخلق الكريم، ومنه الصبر الجميل: (ثُمَّ جاهَدُوا وَصَبَرُوا إِنَّ رَبَّكَ مِنْ بَعْدِها لَغَفُورٌ رَحِيمٌ) «2» ، وقال تعالى: (اصْبِرُوا وَصابِرُوا

--------------------------------------------

(1) - الآية الكريمة من سورة البقرة 2: 285. وقد وردت (طاع) ومشتقاتها في تسع وعشرين ومائة من آيات الذكر الحكيم، أنظر التفاصيل في المعجم المفهرس 426- 431.

(2) - الآية الكريمة من سورة النحل 16: 110.
এটিই হলো সেই ধারণা: (ইসলামী জিহাদে যুদ্ধের ইচ্ছা), যা এমন এক উচ্চমার্গের ধারণা যার সমকক্ষ হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রাচ্য বা পাশ্চাত্য উভয় সামরিক মতাদর্শের যুদ্ধের ইচ্ছার ধারণাই সমানভাবে পোষণ করতে পারে না।

ধারণা: ইসলামী জিহাদে যুদ্ধের ইচ্ছা হলো বস্তু এবং রূহ (চেতনা)-র এক সমন্বিত রূপ, যাতে রয়েছে কল্যাণ ও শান্তির আহ্বান, রয়েছে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ এবং রয়েছে শোষণ ও দাসত্বের প্রতি বিমুখতা।

পক্ষান্তরে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে যুদ্ধের ইচ্ছার ধারণাটি কেবলই বস্তুবাদী। এতে রয়েছে আধিপত্য ও সাম্রাজ্যবাদের প্রতি আহ্বান, রয়েছে মন্দ ও ফাসাদের বিস্তার এবং এতে রয়েছে যুদ্ধের প্রতি আসক্তি ও শান্তির প্রতি ঘৃণা।

৩ ক- ইসলাম কীভাবে মুসলমানদের অন্তরে ও মস্তিষ্কে একই সাথে যুদ্ধের ইচ্ছার ধারণাসমূহ প্রোথিত করেছে?

ইসলাম (আনুগত্যের) প্রতি উৎসাহিত করেছে। আর আনুগত্য হলো শৃঙ্খলা ও নিয়ম-পরায়ণতা: (এবং তারা বলল:

আমরা শুনেছি ও আনুগত্য করেছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল) «১»।

এবং ইসলাম মহান চরিত্রের মাহাত্ম্য প্রচার করেছে, যার অন্যতম হলো সুন্দর ধৈর্য: (অতঃপর তারা জিহাদ করেছে এবং ধৈর্য ধারণ করেছে; নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক এরপর অবশ্যই পরম ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু) «২», এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: (হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো এবং ধৈর্যের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকো...

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-বাকারার ২: ২৮৫ নং আয়াত। পবিত্র কুরআনের একশত উনত্রিশটি আয়াতে 'ত্বা-আ' (আনুগত্য) ও এর বিভিন্ন রূপ বর্ণিত হয়েছে, বিস্তারিত দেখুন আল-মু'জাম আল-মুফাহরাস ৪২৬-৪৩১ পৃষ্ঠায়।

(২) - সূরা আন-নাহল ১৬: ১১০ নং আয়াত।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَرابِطُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ) «1» ، وقال تعالى: (وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْساءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ) «2» .

وغرس الإسلام روح الشجاعة والإقدام: (يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا زَحْفاً فَلا تُوَلُّوهُمُ الْأَدْبارَ. وَمَنْ يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَهُ إِلَّا مُتَحَرِّفاً لِقِتالٍ أَوْ مُتَحَيِّزاً إِلى فِئَةٍ فَقَدْ باءَ بِغَضَبٍ مِنَ اللَّهِ، وَمَأْواهُ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ) «3» .

والتولي يوم الزحف من الكبائر، كما نص على ذلك حديث رسول الله عليه أفضل الصلاة والسلام.

وأمر الإسلام بالثبات في ميدان القتال: (يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا) «4» .

ودعا الإسلام الى الجهاد بالأموال والأنفس لإعلاء كلمة الله: (إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتابُوا وَجاهَدُوا بِأَمْوالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، أُولئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ) «5» ، وقال تعالى: (انْفِرُوا خِفافاً وَثِقالًا، وَجاهِدُوا بِأَمْوالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ) «6» .

--------------------------------------------

(1) - الآية الكريمة من آل عمران 3: 200.

(2) - الآية الكريمة من سورة البقرة 3: 177. وقد وردت (صبر) ومشتقاتها في ثلاث آيات ومائة آية من آيات الذكر الحكيم، أنظر التفاصيل في المعجم المفهرس 399- 401.

(3) - الآيتان الكريمتان من سورة الأنفال 8: 15- 16.

(4) - الآية الكريمة من سورة الأنفال 8: 45.

(5) - الآية الكريمة من سورة الحجرات 49: 51.

(6) - الآية الكريمة من سورة التوبة 9: 41، أنظر تفسير هذه الآية في (الكشاف) للإمام الزمخشري، لتجد أن المسلمين سبقوا العالم الى مفهوم الحرب الشاملة التي تنص على: (إعداد الأمة بكل طاقاتها المادية والمعنوية للحرب) ، والتي زعم المشير لو دندروف بعد الحرب العالمية الأولى في كتابه: (الأمة في الحرب) ، بأنه أول من فكر في الحرب الشاملة، بينما أرسى الإسلام أسسها قبل أربعة عشر قرنا.
...এবং ধৈর্যধারণ করো ও আল্লাহকে ভয় করো) (১), এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: (এবং যারা বিপদে, দুঃখ-কষ্টে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্যধারণকারী) (২)।

ইসলাম সাহসিকতা ও বীরত্বের চেতনা রোপণ করেছে: (হে মুমিনগণ, তোমরা যখন কাফেরদের সাথে যুদ্ধের ময়দানে মুখোমুখী হবে, তখন তাদের সামনে থেকে পিঠ ফিরিয়ে পলায়ন করো না। আর সেদিন কেউ যদি লড়াইয়ের কৌশল অবলম্বন বা নিজ দলের সাথে মিলিত হওয়া ছাড়া তাদের সামনে থেকে পিঠ ফিরিয়ে নেয়, তবে সে আল্লাহর ক্রোধ নিয়ে ফিরে আসবে এবং তার আবাস হবে জাহান্নাম, আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য) (৩)।

যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

আর ইসলাম যুদ্ধের ময়দানে অটল থাকার নির্দেশ দিয়েছে: (হে মুমিনগণ, তোমরা যখন কোনো বাহিনীর মুখোমুখি হও, তখন অবিচল থাকো) (৪)।

এবং ইসলাম আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার জন্য ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদের আহ্বান জানিয়েছে: (মুমিন তো তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, অতঃপর কোনো সন্দেহ পোষণ করেনি এবং আল্লাহর পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদ করেছে; এরাই সত্যবাদী) (৫), মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: (তোমরা অভিযানে বের হও হালকা অবস্থায় এবং ভারী অবস্থায় এবং আল্লাহর পথে তোমাদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করো) (৬)।

--------------------------------------------

(১) - পবিত্র আল-ইমরান ৩: ২০০ এর আয়াত।

(২) - সূরা বাকারাহ ২: ১৭৭ এর পবিত্র আয়াত। পবিত্র কুরআনের ১০৩টি আয়াতে 'সবর' (ধৈর্য) ও এর বিভিন্ন রূপ উল্লেখ করা হয়েছে; বিস্তারিত দেখুন আল-মু'জাম আল-মুফাহরাস ৩৯৯-৪০১ পৃষ্ঠায়।

(৩) - সূরা আল-আনফাল ৮: ১৫-১৬ এর পবিত্র আয়াত দুটি।

(৪) - সূরা আল-আনফাল ৮: ৪৫ এর পবিত্র আয়াত।

(৫) - সূরা আল-হুজুরাত ৪৯: ১৫ এর পবিত্র আয়াত।

(৬) - সূরা আত-তাওবাহ ৯: ৪১ এর পবিত্র আয়াত। ইমাম যামাখশারীর 'আল-কাশশাফ' গ্রন্থে এই আয়াতের তাফসীর দেখুন, যাতে আপনি দেখতে পাবেন যে মুসলমানরা 'সর্বাত্মক যুদ্ধ' (টোটাল ওয়ার) ধারণায় বিশ্বকে ছাড়িয়ে গেছে, যা নির্দেশ করে: (উম্মতকে তার সমস্ত বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক শক্তি দিয়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা)। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ফিল্ড মার্শাল লুডেনডর্ফ তার 'দ্য নেশন অ্যাট ওয়ার' বইয়ে দাবি করেছিলেন যে তিনিই প্রথম সর্বাত্মক যুদ্ধের চিন্তা করেছিলেন, অথচ ইসলাম এর ভিত্তি স্থাপন করেছে চৌদ্দ শতাব্দী আগে।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وبين الإسلام أن المثل العليا لا بد أن تكون لها الأسبقية على كل شيء في الدنيا:

(قُلْ: إِنْ كانَ آباؤُكُمْ وَأَبْناؤُكُمْ وَإِخْوانُكُمْ وَأَزْواجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوالٌ اقْتَرَفْتُمُوها وَتِجارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسادَها وَمَساكِنُ تَرْضَوْنَها أَحَبَّ إِلَيْكُمْ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ، وَاللَّهُ لا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفاسِقِينَ) «1» .

وجعل الإسلام مقام الشهداء من أعظم المقامات: (فَأُولئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَداءِ وَالصَّالِحِينَ) «2» ، وقال تعالى:

(وَلا تَقُولُوا لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْواتٌ بَلْ أَحْياءٌ وَلكِنْ لا تَشْعُرُونَ) «3» ، وقال تعالى: (وَمَنْ يُقاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُقْتَلْ أَوْ يَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْراً عَظِيماً) «4» .

ب- فاذا تذكرنا أن الجهاد في الإسلام، يهدف الى حماية حرية نشر الدعوة الإسلامية والى نشر السلام، والى الدفاع عن دار الإسلام.

وإذا تذكرنا أن تعاليم القتال في الإسلام، تنص على الوفاء بالعهود، واحترام المواثيق، والترفع عن الظلم والعدوان، وإقرار السلام.

وإذا تذكرنا أهداف القتال في الاسلام وتعاليمه، علمنا بأن: إرادة القتال، التي تتغلغل في أعماق المسلم الحق، مبنية على أسس سليمة رصينة، لأن هذا المسلم يؤمن إيمانا عميقا بأنه يخوض (حربا عادلة) ، وهذه الحرب هي (حافز) جديد تجعل من المؤمن مقاتلا رهيبا، كما عبر ذلك العسكريون المحدثون.

--------------------------------------------

(1) - الآية الكريمة من سورة التوبة 9: 24.

(2) - الآية الكريمة من سورة النساء 4: 69.

(3) - الآية الكريمة من سورة البقرة 2: 154.

(4) - الآية الكريمة من سورة النساء 4: 74.
ইসলাম এটি স্পষ্ট করেছে যে, দুনিয়ার অন্য সব কিছুর তুলনায় আদর্শিক মূল্যবোধেরই অগ্রাধিকার থাকা আবশ্যক:

(বলো: তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের গোষ্ঠী, তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা মন্দা হওয়ার ভয় করো এবং তোমাদের পছন্দের ঘরবাড়ি—আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং তাঁর পথে জিহাদের চেয়ে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা করো আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত। আর আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হেদায়েত দান করেন না) «১»।

ইসলাম শহীদদের মর্যাদাকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ মর্যাদা হিসেবে নির্ধারণ করেছে: (তবে তারা তাদের সাথে থাকবে যাদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং নেককারগণের সাথে) «২», এবং আল্লাহ তাআলা বলেন:

(যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না; বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারো না) «৩», এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: (যে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, অতঃপর সে নিহত হোক কিংবা বিজয়ী হোক, শীঘ্রই আমি তাকে মহা পুরস্কার দান করব) «৪»।

খ- সুতরাং আমরা যদি স্মরণ করি যে, ইসলামে জিহাদের লক্ষ্য হলো ইসলামি দাওয়াত প্রচারের স্বাধীনতা রক্ষা করা, শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এবং দারুল ইসলামকে (ইসলামি ভূখণ্ড) প্রতিরক্ষা করা।

এবং আমরা যদি স্মরণ করি যে, ইসলামে যুদ্ধের শিক্ষাগুলো অঙ্গীকার পূরণ, চুক্তি রক্ষা, জুলুম ও সীমালঙ্ঘন থেকে দূরে থাকা এবং শান্তি স্থাপনের নির্দেশ দেয়।

এবং আমরা যদি ইসলামে যুদ্ধের লক্ষ্য ও এর শিক্ষাগুলো স্মরণ করি, তবে আমরা জানতে পারব যে: যুদ্ধের সেই ইচ্ছা, যা একজন প্রকৃত মুসলমানের অন্তরের গভীরে প্রোথিত থাকে, তা সুদৃঢ় ও সঠিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। কারণ এই মুসলমান গভীরভাবে বিশ্বাস করে যে সে একটি (ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধে) লিপ্ত রয়েছে, আর এই যুদ্ধ হলো একটি নতুন (প্রেরণা) যা একজন মুমিনকে এক অপ্রতিরোধ্য যোদ্ধায় পরিণত করে, যেমনটি আধুনিক সামরিক বিশেষজ্ঞরা ব্যক্ত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) - সম্মানীত আয়াতটি সূরা আত-তাওবাহ ৯: ২৪ থেকে।

(২) - সম্মানীত আয়াতটি সূরা আন-নিসা ৪: ৬৯ থেকে।

(৩) - সম্মানীত আয়াতটি সূরা আল-বাকারা ২: ১৫৪ থেকে।

(৪) - সম্মানীত আয়াতটি সূরা আন-নিসা ৪: ৭৪ থেকে।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ولكن (إرادة القتال في الجهاد الإسلامي) ، تسيطر على المسلم في ميدان القتال أيام الحرب، كما تسيطر عليه في أيام السلام.

وإن الهدف الحيوي من الحرب هو تحطيم الطاقات المادية والمعنوية للعدو فإذا انتصر عليه في ميدان الحرب، واستطاع أن يحطم طاقاته المادية، فلا بد من جهود أخرى لتحطيم طاقاته المعنوية، ليكون النصر كاملا يؤدي الى الاستسلام.

وهنا تبدأ الحرب النفسية، التي تستهدف الطاقات المعنوية بالدرجة الأولى.

وفي تاريخ الحروب أمثلة لا تعد ولا تحصى، عن انتصارات استطاعت القضاء على الطاقات المادية، ولكنها لم تستطع القضاء على المعنوية، فكانت انتصارات ناقصة استمرت فترة من الزمن ثم أصبح المهزوم منتصرا وأصبح لمنتصر مهزوما.

فكيف يصاول الاسلام الحرب النفسية، ليصون معنويات المسلمين من الانهيار؟

كيف يحافظ الإسلام على إرادة القتال، في أيام السلام؟

لعل أهم أهداف الحرب النفسية هي التخويف من الموت والفقر ومن القوة الضاربة للمنتصر، ومجاولة جعل النصر حاسما والدعوة الى الاستسلام، وبث الاشاعات والأراجيف، وإشاعة الاستعمار الفكري بالغزو الحضاري، وإشاعة اليأس والقنوط.

المؤمن حقا لا يخشى الموت: (إِذا جاءَ أَجَلُهُمْ فَلا يَسْتَأْخِرُونَ ساعَةً وَلا
কিন্তু (ইসলামী জিহাদে যুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা) যুদ্ধের দিনগুলোতে যেমন যুদ্ধক্ষেত্রে মুসলিমকে নিয়ন্ত্রণ করে, তেমনি শান্তির দিনগুলোতেও তাকে নিয়ন্ত্রণ করে।

যুদ্ধের অত্যাবশ্যকীয় লক্ষ্য হলো শত্রুর বস্তুগত ও মানসিক শক্তিকে ধ্বংস করা। সুতরাং যদি কেউ রণক্ষেত্রে শত্রুর ওপর বিজয় লাভ করে এবং তার বস্তুগত শক্তি ধ্বংস করতে সক্ষম হয়, তবে বিজয়কে পূর্ণাঙ্গ করতে এবং তাকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে তার মানসিক শক্তি ধ্বংস করার জন্য অন্যান্য প্রচেষ্টাও প্রয়োজন।

আর এখান থেকেই শুরু হয় মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, যা প্রাথমিকভাবে মানসিক শক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করে।

যুদ্ধের ইতিহাসে এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে যেখানে বিজয়গুলো বস্তুগত শক্তি নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছিল, কিন্তু মানসিক শক্তি নির্মূল করতে পারেনি। ফলে সেগুলো ছিল অসম্পূর্ণ বিজয় যা কেবল কিছুকাল স্থায়ী হয়েছিল, তারপর পরাজিত পক্ষ বিজয়ী হয়ে ওঠে এবং বিজয়ী পক্ষ পরাজিত হয়।

তাহলে ইসলাম কীভাবে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মোকাবিলা করে, যাতে মুসলিমদের মনোবল ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করা যায়?

শান্তির দিনগুলোতে ইসলাম কীভাবে যুদ্ধের সংকল্প বা স্পৃহা ধরে রাখে?

সম্ভবত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্যগুলো হলো—মৃত্যু ও দারিদ্র্যের ভয় দেখানো, বিজয়ীর আঘাত হানার ক্ষমতা সম্পর্কে আতঙ্ক সৃষ্টি করা, বিজয়কে চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা, আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো, গুজব ও আতঙ্ক ছড়ানো, সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক সাম্রাজ্যবাদ বিস্তার করা এবং নিরাশা ও হতাশা ছড়িয়ে দেওয়া।

প্রকৃত মুমিন মৃত্যুকে ভয় পায় না: (যখন তাদের নির্ধারিত সময় আসে, তখন তারা এক মুহূর্তও পিছিয়ে যেতে পারে না এবং...
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
يَسْتَقْدِمُونَ) «1» . وقال تعالى: (فَإِذا جاءَ أَجَلُهُمْ لا يَسْتَأْخِرُونَ ساعَةً وَلا يَسْتَقْدِمُونَ) «2» ، وقال تعالى: (وَما كانَ لِنَفْسٍ أَنْ تَمُوتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ) «3» ، وقال تعالى: (أَيْنَما تَكُونُوا يُدْرِكْكُمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنْتُمْ فِي بُرُوجٍ مُشَيَّدَةٍ) «4» ، وقال تعالى: (قُلْ لَوْ كُنْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ لَبَرَزَ الَّذِينَ كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقَتْلُ) «5» .

إن المؤمن حقا يعتقد اعتقادا راسخا، بأن الآجال بيد الله سبحانه وتعالى، وما أصدق قولة خالد بن الوليد رضي الله عنه: (ما في جسمي شبر إلا وفيه طعنة رمح أو سيف، وها أنا أموت على فراشي كما يموت البعير، فلا نامت أعين الجبناء) .

والمؤمن حقا لا يخاف الفقر، لأنه يعتقد اعتقادا راسخا، بأن الأرزاق بيد الله سبحانه وتعالى: (وَاللَّهُ يَرْزُقُ مَنْ يَشاءُ بِغَيْرِ حِسابٍ) «6» ، وقال تعالى:

(وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجاً وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لا يَحْتَسِبُ) «7» ، وقال تعالى:

(فَآواكُمْ وَأَيَّدَكُمْ بِنَصْرِهِ وَرَزَقَكُمْ مِنَ الطَّيِّباتِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ) «8» .

والمؤمن حقا لا يخشى قوات العدو الضاربة، فما انتصر المسلمون في أيام الرسول القائد عليه أفضل الصلاة والسلام وفي أيام الفتح الإسلامي العظيم، لعدد أو عدد، بل كان انتصارهم انتصار عقيدة لامراء. قال تعالى: (قالَ الَّذِينَ

--------------------------------------------

(1) - الآية الكريمة من سورة يونس 10: 49.

(2) - الآية الكريمة من سورة الأعراف 7: 34، ومن سورة النحل 16: 61.

(3) - الآية الكريمة من سورة آل عمران 3: 145.

(4) - الآية الكريمة من سورة النساء 4: 78.

(5) - الآية الكريمة من سورة آل عمران 3: 154.

(6) - الآية الكريمة من سورة البقرة 2: 212.

(7) - الآية الكريمة من سورة الطلاق 15: 20.

(8) - الآية الكريمة من سورة الأنفال 8: 26.
এগিয়ে আসতে পারে না) «১»। আর মহান আল্লাহ বলেন: (অতঃপর যখন তাদের নির্ধারিত সময় উপস্থিত হয়, তখন তারা এক মুহূর্ত দেরিও করতে পারে না এবং এক মুহূর্ত এগিয়েও আসতে পারে না) «২», আর মহান আল্লাহ বলেন: (আর আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারো পক্ষে মৃত্যুবরণ করা সম্ভব নয়) «৩», আর মহান আল্লাহ বলেন: (তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, মৃত্যু তোমাদের স্পর্শ করবেই, যদিও তোমরা সুদৃঢ় উচ্চ দুর্গের অভ্যন্তরে অবস্থান করো) «৪», আর মহান আল্লাহ বলেন: (বলুন, তোমরা যদি তোমাদের ঘরের ভেতরেও থাকতে, তবুও যাদের ভাগ্যে মৃত্যু নির্ধারিত ছিল তারা তাদের মৃত্যুস্থানে অবশ্যই বেরিয়ে আসত) «৫»।

একজন প্রকৃত মুমিন দৃঢ়ভাবে এই বিশ্বাস পোষণ করেন যে, হায়াত বা জীবনের সময়কাল মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার হাতে। খালেদ বিন ওয়ালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কথাটি কতই না সত্য: (আমার শরীরে এক ইঞ্চি জায়গাও অবশিষ্ট নেই যেখানে বর্শার আঘাত বা তরবারির ক্ষত নেই, অথচ আজ আমি আমার বিছানায় মৃত্যুবরণ করছি যেমনটি একটি উট মারা যায়। কাপুরুষদের চোখ যেন কখনোই না ঘুমায়)।

আর একজন প্রকৃত মুমিন দারিদ্র্যকে ভয় পান না, কারণ তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, রিজিক মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার হাতে: (এবং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন হিসাবহীন রিজিক দান করেন) «৬», এবং মহান আল্লাহ বলেন:

(আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য নিষ্কৃতির পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না) «৭», এবং মহান আল্লাহ বলেন:

(অতঃপর তিনি তোমাদের আশ্রয় দান করেছেন, স্বীয় সাহায্যের মাধ্যমে তোমাদের শক্তিশালী করেছেন এবং তোমাদেরকে পবিত্র বস্তুসমূহ থেকে রিজিক প্রদান করেছেন যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো) «৮»।

আর একজন প্রকৃত মুমিন শত্রুর ধ্বংসাত্মক শক্তিকে ভয় পান না। রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) এবং মহান ইসলামী বিজয়ের দিনগুলোতে মুসলিমরা সৈন্য সংখ্যা বা যুদ্ধ সরঞ্জামের কারণে বিজয় লাভ করেনি, বরং তাদের বিজয় ছিল নিঃসন্দেহে আকিদার বিজয়। মহান আল্লাহ বলেন: (তারা বলেছিল যারা...

--------------------------------------------

(১) - সূরা ইউনুস ১০: ৪৯ এর পবিত্র আয়াত।

(২) - সূরা আল-আরাফ ৭: ৩৪ এবং সূরা আন-নাহল ১৬: ৬১ এর পবিত্র আয়াত।

(৩) - সূরা আল-ইমরান ৩: ১৪৫ এর পবিত্র আয়াত।

(৪) - সূরা আন-নিসা ৪: ৭৮ এর পবিত্র আয়াত।

(৫) - সূরা আল-ইমরান ৩: ১৫৪ এর পবিত্র আয়াত।

(৬) - সূরা আল-বাকারাহ ২: ২১২ এর পবিত্র আয়াত।

(৭) - সূরা আত-তালাক ১৫: ২০ এর পবিত্র আয়াত।

(৮) - সূরা আল-আনফাল ৮: ২৬ এর পবিত্র আয়াত।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূলুল কায়িদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
يَظُنُّونَ أَنَّهُمْ مُلاقُوا اللَّهِ: كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللَّهِ، وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ) «1» ، وقال تعالى: (يا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتالِ، إِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صابِرُونَ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ، وَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِائَةٌ يَغْلِبُوا أَلْفاً مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لا يَفْقَهُونَ) «2» .

والمؤمن حقا لا يقر بانتصار أحد عليه ما دام في حماية عقيدته، لذلك فهو يعرف أن الانتصار في معركة قد يدوم ساعة ولكنه لا يدوم الى قيام الساعة:

(إِنْ يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ، وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُداوِلُها بَيْنَ النَّاسِ) «3» .

والمؤمن حقا لا يستسلم بعد هزيمته، لأنه يعلم بأن بعد العسر يسرا: (وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ، وَلكِنَّ الْمُنافِقِينَ لا يَعْلَمُونَ) «4» ، وقال تعالى: (وَلا يَحْزُنْكَ قَوْلُهُمْ إِنَّ الْعِزَّةَ لِلَّهِ جَمِيعاً هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ) «5» .

والمؤمن حقا لا يصدق الإشاعات والأراجيف: (يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جاءَكُمْ فاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا) «6» ، وقال تعالى: (لَئِنْ لَمْ يَنْتَهِ الْمُنافِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ وَالْمُرْجِفُونَ فِي الْمَدِينَةِ لَنُغْرِيَنَّكَ بِهِمْ) «7» ، وقال تعالى: (وَإِذا جاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ، لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ) «8» .

--------------------------------------------

(1) - الآية الكريمة من سورة البقرة 2: 249.

(2) - الآية الكريمة من سورة الأنفال 8: 65.

(3) - الآية الكريمة من سورة آل عمران 3: 140.

(4) - الآية الكريمة من سورة المنافقين 63: 80.

(5) - الآية الكريمة من سورة يونس 10: 65.

(6) - الآية الكريمة من سورة الحجرات 49: 60.

(7) - الآية الكريمة من سورة الأحزاب 32: 60.

(8) - الآية الكريمة من سورة النساء 4: 83.
তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করত যে তারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে: (আল্লাহর ইচ্ছায় কত ক্ষুদ্র দল কত বিশাল দলের ওপর বিজয়ী হয়েছে! আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন) «১», আর মহান আল্লাহ বলেন: (হে নবী! মুমিনদের যুদ্ধের জন্য উৎসাহিত করুন। যদি তোমাদের মধ্যে বিশ জন ধৈর্যশীল থাকে, তবে তারা দুইশ জনের ওপর বিজয়ী হবে। আর যদি তোমাদের মধ্যে একশ জন থাকে, তবে তারা কাফিরদের এক হাজার জনের ওপর বিজয়ী হবে, কারণ তারা এমন এক কওম যাদের বোধশক্তি নেই) «২»।

আর প্রকৃত মুমিন যতক্ষণ তার আকিদার আশ্রয়ে থাকে, ততক্ষণ সে নিজের ওপর কারো বিজয় স্বীকার করে না। তাই সে জানে যে, কোনো যুদ্ধে বিজয় হয়তো সাময়িক হতে পারে, কিন্তু তা কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী হয় না:

(যদি তোমাদের ওপর কোনো আঘাত এসে থাকে, তবে সেই কওমের ওপরও তো অনুরূপ আঘাত এসেছে। আর এই দিনগুলোকে আমি মানুষের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আবর্তন করি) «৩»।

আর প্রকৃত মুমিন পরাজয়ের পর আত্মসমর্পণ করে না, কারণ সে জানে যে কষ্টের পরেই স্বস্তি রয়েছে: (আর সম্মান তো আল্লাহর জন্য, তাঁর রাসুলের জন্য এবং মুমিনদের জন্য; কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না) «৪», আর মহান আল্লাহ বলেন: (তাদের কথা যেন আপনাকে ব্যথিত না করে। নিশ্চয়ই সমস্ত সম্মান আল্লাহর জন্য। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ) «৫»।

আর প্রকৃত মুমিন গুজব ও ভিত্তিহীন খবরে বিশ্বাস করে না: (হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করে নাও) «৬», আর মহান আল্লাহ বলেন: (যদি মুনাফিকরা, যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং যারা মদিনায় গুজব ছড়িয়ে বেড়ায় তারা বিরত না হয়, তবে আমি অবশ্যই আপনাকে তাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেব) «৭», আর মহান আল্লাহ বলেন: (যখন তাদের কাছে নিরাপত্তা বা ভয়ের কোনো খবর আসে, তখন তারা তা প্রচার করে দেয়। যদি তারা তা রাসুলের কাছে এবং তাদের কর্তৃত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দিত, তবে তাদের মধ্যে যারা গবেষণাকারী তারা অবশ্যই তা অনুধাবন করতে পারত) «৮»।

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-বাকারা ২: ২৪৯ এর সম্মানিত আয়াত।

(২) - সূরা আল-আনফাল ৮: ৬৫ এর সম্মানিত আয়াত।

(৩) - সূরা আলি ইমরান ৩: ১৪০ এর সম্মানিত আয়াত।

(৪) - সূরা আল-মুনাফিকুন ৬৩: ৮০ এর সম্মানিত আয়াত।

(৫) - সূরা ইউনুস ১০: ৬৫ এর সম্মানিত আয়াত।

(৬) - সূরা আল-হুজুরাত ৪৯: ৬০ এর সম্মানিত আয়াত।

(৭) - সূরা আল-আহজাব ৩২: ৬০ এর সম্মানিত আয়াত।

(৮) - সূরা আন-নিসা ৪: ৮৩ এর সম্মানিত আয়াত।