(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: -)
تنبيه الهاجد إلى ما وقع من النظر فى كتب الأماجد القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: تَنْبِيهُ الهَاجِدْ إلَى مَا وَقَعَ مِنَ النَّظَرِ فى كُتُبِ الأَمَاجِدِ
المؤلف: أبو إسحاق الحويني الأثري حجازي محمد شريف
الناشر: المحجة
عدد الأجزاء: 6 (الكتاب الإلكتروني هو الأول وبداية الثاني فقط)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
উচ্চমর্যাদাশীল ব্যক্তিবর্গের কিতাবসমূহের পর্যালোচনায় যা পরিলক্ষিত হয়েছে সে বিষয়ে সতর্কবার্তা বিভাগ: হাদিস যাচাই (তাখরিজ) ও বিন্যাস (আতরাফ)
গ্রন্থ: তানবিহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকা'আ মিনান নাজার ফি কুতুবিল আমাজিদ
লেখক: আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনি আল-আসারি হিজাজি মুহাম্মদ শরিফ
প্রকাশক: আল-মাহাজ্জাহ
খণ্ড সংখ্যা: ৬ (ই-বুকটি কেবল প্রথম এবং দ্বিতীয় খণ্ডের শুরুর অংশ মাত্র)
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: -)
تَنْبِيهُ الهَاجِدْ
إلَى مَا وَقَعَ مِنَ النَّظَرِ فى كُتُبِ الأَمَاجِدِ
صَنَّفَهُ
أَبو إِسْحَاق الحُويْنِي الأَثَرِي
তাহাজ্জুদগুজারের সতর্কতা
মহান মনীষীদের গ্রন্থসমূহে দৃষ্টিগোচর হওয়া গবেষণালব্ধ বিষয়াবলির বর্ণনায়
এটি সংকলন করেছেন
আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনি আল-আসারি
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيمالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام علي نبينا محمد أشرف المرسلين، وعلي آله وصحبه أجمعين أما بعد.
فقد سبق لي أن نشرت جزء من هذا الكتاب يحتوي علي خمسمائة تعقب، وجعلته طليعة للجزء الرابع من كتابي ((الثمر الداني في الذب عن الألباني)) وقد أبنت فيه عن مقصدي في مقدمته، التي أثبتها في هذه الطبعة.
وكنت قد أرسلت هذا الجزء إلي شيخنا أبي عبد الرحمن الألباني رحمه الله تعالي مع أحد إخواننا الكويتيين في أخر سفرة لي إليها عام (1419هـ) وإتصلت به بعدها بعدة أشهر أثناء إنعقاد أحد المؤتمرات الإسلامية بأمريكا، وكان الشيخ أيامها مريضا، فكلمته وسألته عن الكتاب. وهل قرأه، فقال: ((نعم قرأته، وهو كتاب جيد، زادك الله توفيقا)) فرحم الله شيخنا، ورفع مقامه. ثم خطر لي أن أجعله كتابا مستقلا، فجمعت مادته من مصنفاتي التي لم تطبع، ومما عرض لي أثناء تحقيقاتي وتخريجاتي، فجاء كتابا حافلا في ستة مجلدات والحمد لله. ولقد وجدتها فرصه سانحة لي أن أثبت فيه بعض مصنفاتي القديمة، والتي فقدت جزء ً منها فلم أنشط للنظر فيها، لأنها تحتاج إلى جهد جهيد، ووقت مديد، وعزم حديد لا أجد له من فراغ البال ما يمكنني من إتمام النقص الواقع فيه مثل كتابى ((إتحاف الناقم بوهم أبى عبد الله الحاكم)) . وكنت أحصيت أنواع الأواهام التي وقعت للحاكم في ((المستدرك)) فتجاوزت خمسة عشر نوعا: منها ما قال فيه: ((على شرطهما أو أحدهما ولم يخرجاه)) ويكونا قد أخرجاه. فهذه ثلاثة أنواع. ومنها ما قال فيه: ((علي شرطهما)) وهو علي شرط واحد منهما. ومنها ما قال فيه: ((علي شرط البخاري)) ويكون علي ((شرط مسلم)) والعكس. ومنها ما قال فيه: ((علي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যিনি রাসূলগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
ইতিপূর্বে আমি এই বইয়ের একটি অংশ প্রকাশ করেছি যাতে পাঁচশটি পর্যালোচনা রয়েছে, যা আমি আমার রচিত কিতাব ‘আছ-ছামারুদ দানি ফিয যাবি আনিল আলবানি’-এর চতুর্থ খণ্ডের ভূমিকা হিসেবে নির্ধারণ করেছি। এই সংস্করণেও আমি সেই ভূমিকাটি যুক্ত করেছি যাতে আমার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছি।
আমি এই অংশটি আমাদের শায়খ আবু আবদুর রহমান আল-আলবানি (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা)-এর নিকট পাঠিয়েছিলাম একজন কুয়েতি ভাইয়ের মাধ্যমে, যখন আমি ১৪১৯ হিজরীতে শেষবারের মতো সেখানে সফর করি। এরপর কয়েক মাস পর আমেরিকার একটি ইসলামি সম্মেলন চলাকালীন আমি তাঁর সাথে যোগাযোগ করি। শায়খ সেই দিনগুলোতে অসুস্থ ছিলেন। আমি তাঁর সাথে কথা বললাম এবং বইটির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি কি এটি পড়েছেন? তিনি বললেন: “হ্যাঁ, আমি এটি পড়েছি, এটি একটি উত্তম বই, আল্লাহ আপনার তাওফিক বাড়িয়ে দিন।” আল্লাহ আমাদের শায়খকে রহমত করুন এবং তাঁর মর্যাদা সমুন্নত করুন। এরপর আমার মনে হলো যে এটিকে একটি স্বতন্ত্র কিতাব হিসেবে রূপান্তর করি। ফলে আমি আমার অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপিগুলো এবং আমার তাহকিক ও তাখরিজ চলাকালীন সামনে আসা তথ্যগুলো একত্রিত করলাম। আলহামদুলিল্লাহ, এটি ছয় খণ্ডের একটি সমৃদ্ধ কিতাবে পরিণত হলো। আমি এটিকে একটি সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে পেলাম যাতে আমার কিছু পুরনো রচনা এতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারি, যার কিছু অংশ হারিয়ে গিয়েছিল বিধায় আমি সেগুলোর দিকে পুনরায় নজর দেওয়ার উদ্যম পাচ্ছিলাম না। কারণ এগুলোর জন্য প্রচুর পরিশ্রম, দীর্ঘ সময় এবং ইস্পাতকঠিন সংকল্প প্রয়োজন, যা সম্পন্ন করার মতো মানসিক প্রশান্তি আমার ছিল না, যেমন আমার কিতাব ‘ইতহাফুন নাক্বিম বি-ওয়াহমি আবি আবদিল্লাহ আল-হাকিম’। আমি ‘আল-মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে ইমাম হাকিমের পক্ষ থেকে ঘটা ভুল-ভ্রান্তিগুলোর প্রকারভেদ গণনা করেছিলাম, যা পনেরটি প্রকার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে একটি প্রকার হলো যেখানে তিনি বলেছেন: “উভয় শায়খের শর্তানুযায়ী অথবা তাদের একজনের শর্তানুযায়ী কিন্তু তারা এটি বর্ণনা করেননি”, অথচ তারা সেটি বর্ণনা করেছেন। এগুলো হলো তিন প্রকার। আবার কোনো ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন: “উভয় শায়খের শর্তানুযায়ী”, অথচ সেটি ছিল মাত্র একজনের শর্তানুযায়ী। আবার কোনো ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন: “বুখারির শর্তানুযায়ী”, অথচ সেটি ছিল “মুসলিমের শর্তানুযায়ী”, এবং এর বিপরীতটিও ঘটেছে। আবার কোনো ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন: “শর্তানুযায়ী`
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
شرطهما أو علي شرط أحدهما)) وليس كذلك، بل ليس صحيحا، وقد يكون ضعيفا أو باطلا أو موضوعا. ومنها ما يصححه مطلقا وليس بصحيح أصلا، ومنها ما قال فيه: ((أخرجاه أو أحدهما مختصرا)) ويكونا قد أخرجاه أو أحدهما بأوفي من سياقه. إلى آخر هذه الأوهام. وقد ظفرت بنحو مجلد ونصف من هذا الكتاب، فرأيت نشر ما ظفرت به. وكذلك كتابي ((الجزم بشذوذ بن حزم)) وهو من أوائل ما صنفت وقد وضعته ذبا عن رواة معروفين، زعم ابن حزم أنهم مجاهيل. ولم أتعرض فيه للرواة الذين ضعفهم ابن حزم في كتبه.
وقد ظفرت بقدر صالح من هذا الجزء. فرأيت أن أنشره أيضا. هذا، وقد رفعت من المجلد الأول عدة تعقبات، إما لأنها تكررت سهوا منى، أو لأنيي أعدت النظر فيها، ورأيت وجه التعقب فيها ضعيفا، إلى غير ذلك من الأسباب، وهاك أرقامها (8، 63، 99، 110، 143، 145، 147، 177، 217، 260، 268، 295، 368، 376، 454، 485) . وقد أضفت كثيرا من الفوائد والتخريجات علي أغلب تعقبات الجزء الأول نصيحة للمسلمين، وأداءً لحق العلم وكنت أرجو ألا أثبت حديثا إلا وأتكلم عليه بالصحة أو الضعف، وقد حاولت ذلك في مواضع شتى من الكتاب، ولكن الذى أغراني بإهمال ذلك أنني وضعت كتابي لغرض آخر، ولعلى أستدرك ذلك في طبعة قادمة إن شاء الله تعالي. وأوصى أهل العلم أن يكتبوا لى ما يجدونه من تنبيهات ستكون موضع العناية والدرس مني، ولهم شكري سلفا. ثم إنني أخيرا أشكر أخانا في الله أحمد بن عطية الوكيل علي عنايته بمراجعة تجارب الكتاب ووضع فهارسه الرائقة في خاتمة كل جزء. والحمد لله أولا وآخرا ظاهرا وباطنا.
وكتبه: أبو إسحاق الحويني الأثري
السبت 18 / ربيع الآخر / 1423 هـ - 29 / يونيو / 2002
তাদের উভয়ের শর্তানুসারে অথবা তাদের কোনো একজনের শর্তানুসারে)) অথচ বিষয়টি তেমন নয়, বরং তা সহিহ নয়; এমনকি কখনো তা জয়িফ (দুর্বল), বাতিল অথবা মাউজু (জাল) হতে পারে। আবার এমন কিছু বর্ণনাও রয়েছে যেগুলোকে তিনি নিঃশর্তভাবে সহিহ বলেছেন, অথচ সেগুলো আদৌ সহিহ নয়। আবার কোনোটির ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন: ((তারা উভয়ে বা তাদের একজন এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন)), অথচ তারা উভয়ে বা তাদের কোনো একজন তা তার (লেখকের) বর্ণিত প্রসঙ্গের চেয়েও পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন। এমন আরও অনেক বিভ্রান্তিকর ভুলভ্রান্তি রয়েছে। আমি এই কিতাবটির প্রায় দেড় খণ্ডের মতো পাণ্ডুলিপি পেয়েছি, তাই যা পেয়েছি তা-ই প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অনুরূপভাবে আমার রচিত কিতাব ((আল-জাযমু বি-শুযুযি ইবনি হাযম)) যা আমার শুরুর দিকের রচনাগুলোর একটি। এটি আমি সংকলন করেছি এমন কিছু প্রসিদ্ধ রাবিদের (বর্ণনাকারী) পক্ষ সমর্থনের জন্য, যাদেরকে ইবনে হাযম মাজহুল (অজ্ঞাত) বলে দাবি করেছেন। আমি এতে ওইসব রাবিদের নিয়ে আলোচনা করিনি যাদেরকে ইবনে হাযম তার কিতাবসমূহে জয়িফ বা দুর্বল বলেছেন।
আমি এই অংশটিরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উদ্ধার করতে পেরেছি, তাই এটিও প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তদুপরি, আমি প্রথম খণ্ড থেকে বেশ কিছু সমালোচনা বা পর্যবেক্ষণ বাদ দিয়েছি; হয় তা আমার অনিচ্ছাকৃত পুনরাবৃত্তির কারণে, অথবা আমি সেগুলোতে পুনরায় দৃষ্টিপাত করে সমালোচনার ভিত্তি দুর্বল বলে মনে করেছি, কিংবা অন্যান্য কারণে। আর সেগুলোর নম্বর হলো (৮, ৬৩, ৯৯, ১১০, ১৪৩, ১৪৫, ১৪৭, ১৭৭, ২১৭, ২৬০, ২৬৮, ২৯৫, ৩৬৮, ৩৭৬, ৪৫৪, ৪৮৫)। আমি মুসলমানদের কল্যাণ কামনায় এবং ইলমের হক আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রথম খণ্ডের অধিকাংশ পর্যবেক্ষণের ওপর অনেক ফায়দা (উপকারিতা) ও তাখরিজ (সূত্র নির্দেশ) যুক্ত করেছি। আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল যে, আমি এমন কোনো হাদিস উল্লেখ করব না যার সহিহ বা জয়িফ হওয়ার ব্যাপারে মন্তব্য করব না। আমি কিতাবটির বিভিন্ন স্থানে সেই চেষ্টাও করেছি। কিন্তু যা আমাকে এ বিষয়ে কিছুটা শিথিল হতে প্রলুব্ধ করেছে তা হলো, আমি আমার কিতাবটি অন্য একটি উদ্দেশ্যে সংকলন করেছি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে কোনো সংস্করণে আমি এ বিষয়টি সংশোধন করে নেব। আমি ইলম অন্বেষণকারীদের অনুরোধ করছি তারা যেন তাদের দৃষ্টিগোচর হওয়া যেকোনো সতর্কতা বা সংশোধনমূলক বিষয় আমাকে লিখে জানান; যা আমার পক্ষ থেকে গুরুত্ব ও পর্যালোচনার বিষয় হবে। তাদের প্রতি আমার আগাম কৃতজ্ঞতা রইল। পরিশেষে, আমি আমাদের আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে ভাই আহমদ বিন আতিয়্যাহ আল-ওয়াকিলকে ধন্যবাদ জানাই কিতাবটির পাণ্ডুলিপি সংশোধন এবং প্রতিটি খণ্ডের শেষে চমৎকার সূচিপত্র বিন্যাস করার জন্য। যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য—শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে।
লিখেছেন: আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনী আল-আসারী
শনিবার ১৮ই রবিউস সানি ১৪২৩ হিজরি - ২৯শে জুন ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الأوليإن الحمد لله نحمده، ونستعين به ونستغفره، ونعوذ بالله تعالي من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهد الله تعالي، فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
? يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ ? [آل عمران: 102] .
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاء وَاتَّقُواْ اللهَ الَّذِي تَسَاءلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا ? [النساء: 1] .
? يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا? [الأحزاب: 70، 71]
أما بعد
فإن أصدق الحديث كتاب الله تعالى، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشرالأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
প্রথম সংস্করণের ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে মহান আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ তাআলা যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। [আলে ইমরান: ১০২]।
হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট স্বীয় হক দাবি করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। [নিসা: ১]।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করল। [আহযাব: ৭০, ৭১]
অতঃপর,
নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো মহান আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নব আবিষ্কৃত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নব আবিষ্কৃত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
اللهم صلِّ على محمد وآل محمد، كما صليت على إبراهيم وآل إبراهيم، في العالمين إنك حميد مجيد، وبارك على محمد وعلى آل محمد، كما باركت على إباهيم وعلى آل إبراهيم، في العالمين إنك حميد مجيد.
((فالحمد لله الذي لا يؤدَّى شكر نعمةٍ من نعمه، إلا بنعمة منه توجب على مؤدى ماضى نعمه بأدائها: نعمةً حادثة يجبعليه شكره بها، ولا يبلغ الواصفون كُنه َ عظمته، الذي هو كما وصف نفسه، وفوق ما يصفُهُ به خلقُهُ، أحمده حمدا كما ينبغي لكرم وجهه عز وجل، وأستعينه استعانة من لا حول له ولا قوة إلا به، وأستهديه بهداه الذي لا يضل من أنعم به عليه، وأستغفره لما أزولفت وأخرت، استغفار من يُقرُّ بعبوديته، ويعلم أنه لا يغفر ذنبه، ولا ينجيه منه إلا هو، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأن محمد عبده ورسوله.
فنسأل الله المبتدئَ لنا بنعمة قبل استحقاقها، المديمها علينا مع تقصيرنا في الإتيان عليما أوجب به من شكره بها، الجاعلنا في خير أمة أخرجت للناس، أن يرزقنا فهما في كتابه، ثم سنة نبيه، وقولا وعملا يؤدي به عنا حقه، ويوجب لنا نافلة مزيدة)) (1) .
فإن الله - جل ثناؤه - لما خلق الناس، ركز في فطرهم محبة الإحسان، والخضوع له، كرِهَ لهم الكبر والعلو في الأرض بغير الحق.
فقال جل ثناؤه: ? هَلْ جَزَاء الْإِحْسَانِ إِلَّا الْإِحْسَانُ ? [الرحمن: 60] .
يعني لا ينبغى أن يكون الإحسان إلا من حنسه، فليس لمن أحسن
--------------------------------------------
হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইব্রাহীম এবং ইব্রাহীমের বংশধরদের ওপর; নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। এবং আপনি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছেন ইব্রাহীম এবং ইব্রাহীমের বংশধরদের ওপর; নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।
((সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর কোনো একটি নিআমতের শুকরিয়া আদায় করা যায় না তাঁরই পক্ষ থেকে অন্য আরেকটি নিআমত ব্যতীত—যা তাঁর পূর্ববর্তী নিআমতের শুকরিয়া আদায়কারীর ওপর আবশ্যক করে দেয় এমন এক নতুন নিআমত, যার জন্য পুনরায় তাঁর শুকরিয়া আদায় করা ওয়াজিব হয়ে পড়ে। বর্ণনাকারীরা তাঁর মহিমার প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারে না; তিনি তেমনই যেমন তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেন এবং তাঁর সৃষ্টিরা তাঁর যে বর্ণনা দেয়, তিনি তার ঊর্ধ্বে। আমি তাঁর প্রশংসা করছি এমন এক প্রশংসা দ্বারা যা তাঁর সুমহান সত্তার জন্য উপযুক্ত, এবং আমি তাঁর কাছে সাহায্য চাইছি এমন এক ব্যক্তির সাহায্য চাওয়ার ন্যায় যার কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই তাঁকে ছাড়া। আমি তাঁর কাছে তাঁর সেই হিদায়াতের মাধ্যমে পথনির্দেশ যাচনা করছি, যার দ্বারা তিনি যাকে নিআমত দান করেছেন সে পথভ্রষ্ট হয় না। আমি আমার পূর্বের ও পরের গুনাহসমূহের জন্য তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি—এমন এক ব্যক্তির ক্ষমা প্রার্থনা যে নিজের দাসত্বের স্বীকৃতি দেয় এবং জানে যে, তিনি ব্যতীত আর কেউ তার গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না এবং তা থেকে মুক্তি দিতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
সুতরাং আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি—যিনি আমাদের যোগ্য হওয়ার পূর্বেই নিআমত প্রদান শুরু করেছেন, এবং আমাদের কৃতজ্ঞতা আদায়ে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও যিনি আমাদের ওপর তা অব্যাহত রেখেছেন, যিনি আমাদের মানুষের জন্য প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে মনোনীত করেছেন—তিনি যেন আমাদের তাঁর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ বোঝার তাওফীক দান করেন, এবং এমন কথা ও কাজের তাওফীক দেন যার দ্বারা আমাদের পক্ষ থেকে তাঁর হক আদায় হয় এবং যা আমাদের জন্য আরও অধিক পুরস্কারের কারণ হয়।)) (১) ।
আল্লাহ তাআলা—যাঁর প্রশংসা অতি মহান—যখন মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তখন তাদের ফিতরতে সদাচরণের প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর প্রতি আনুগত্য ও বিনয় স্থাপন করে দিয়েছেন। আর তিনি তাদের জন্য অহংকার এবং যমীনে অন্যায়ভাবে বড়ত্ব প্রকাশ করাকে অপছন্দ করেছেন।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "সদাচরণের প্রতিদান কি সদাচরণ ছাড়া আর কিছু হতে পারে?" [আর-রাহমান: ৬০] ।
অর্থাৎ, সদাচরণের প্রতিদান কেবল তার অনুরূপ (সদাচরণ) হওয়াই বাঞ্ছনীয়। সুতরাং যে ব্যক্তি সদাচরণ করেছে তার জন্য...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
العمل في الدنيا إلا الإحسان إليه غي الآخرة.
وما أجمل فول القائل: ليس هناك حمل أثقل من البر، من برًكَ فقد اوثقك، ومن جفاك فقد أطلقك. فإن أردت إسترقاق إنسان، فأحسن إليه، فيكون ذلك مانعا إياه أن يوصل السيئة إليك.
ومما يدلُّك علي صحة ما أقول من أن محبة الإحسان، والخضوع لأهله مركوزٌ في فطر الناس، حتي الكافر، ما أخرجه البخاري (5/329-333) ، وأحمد (4/324، 329) وغيرهما من حديث المسور بن مخرمة رضي الله عنه، وذكر حديثه في ((صلح الحديبية)) وفيه:
((فَقَامَ عُرْوَةُ بْنُ مَسْعُودٍ الثقفي، فَقَالَ: أَيْ قَوْمِ أَلَسْتُمْ بِالْوَالِدِ؟ قَالُوا: بَلَى،
قَالَ: أَوَلَسْتُ بِالْوَلَدِ؟ قَالُوا: بَلَى. قَالَ: فَهَلْ تَتَّهِمُونِي؟ قَالُوا: لا، قَالَ: أَلَسْتُمْ تَعْلَمُونَ أَنِّي اسْتَنْفَرْتُ أَهْلَ عُكَاظَ، فَلَمَّا بَلَّحُوا عَلَيَّ جِئْتُكُمْ بِأَهْلِي وَوَلَدِي وَمَنْ أَطَاعَنِي؟ قَالُوا: بَلَى. قَالَ: فَإِنَّ هَذَا قَدْ عَرَضَ لَكُمْ خُطَّةَ رُشْدٍ، اقْبَلُوهَا وَدَعُونِي آتِهِ. قَالُوا: ائْتِهِ. فَأَتَاهُ، فَجَعَلَ يُكَلِّمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم نَحْوًا مِنْ قَوْلِهِ لِبُدَيْلٍ (1) ، فَقَالَ عُرْوَةُ عِنْدَ ذَلِكَ: أَيْ مُحَمَّدُ! أَرَأَيْتَ إِنِ اسْتَأْصَلْتَ أَمْرَ قَوْمِكَ، هَلْ سَمِعْتَ بِأَحَدٍ مِنَ الْعَرَبِ اجْتَاحَ أَهْلَهُ قَبْلَكَ؟ وَإِنْ تَكُنِ الأُخْرَى فَإِنِّي - وَاللَّهِ! - لا أرَى وُجُوهًا، وَإِنِّي لأَرَى أَشَوابًا- وفي رواية: أوباشا - مِنَ النَّاسِ، خَلِيقًا أَنْ يَفِرُّوا وَيَدَعُوكَ.
--------------------------------------------
দুনিয়াতে আমল করার প্রতিদান পরকালে তার প্রতি ইহসান (দয়া) প্রদর্শন ছাড়া আর কিছু নয়।
আর কোনো এক বক্তার এই কথাটি কতই না চমৎকার: 'উত্তম আচরণের চেয়ে ভারী কোনো বোঝা নেই; যে তোমার প্রতি সদাচরণ করল সে তোমাকে (কৃতজ্ঞতাপাশে) আবদ্ধ করল, আর যে তোমার প্রতি রূঢ়তা প্রদর্শন করল সে তোমাকে মুক্ত করে দিল। সুতরাং তুমি যদি কোনো মানুষকে দাসে পরিণত করতে চাও, তবে তার প্রতি ইহসান করো; কেননা তা তাকে তোমার প্রতি কোনো মন্দ আচরণ করা থেকে বিরত রাখবে।'
আর আমি যা বলছি তার সত্যতার প্রমাণ যে—ইহসানের প্রতি ভালোবাসা এবং এর অধিকারীদের প্রতি আনুগত্য মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তিতে (ফিতরাত) নিহিত রয়েছে, এমনকি কাফেরদের মাঝেও—তা হলো যা ইমাম বুখারি (৫/৩২৯-৩৩৩) এবং ইমাম আহমাদ (৪/৩২৪, ৩২৯) ও অন্যান্যরা মিসওয়ার বিন মাখরামাহ (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে সংকলন করেছেন। তিনি 'হুদায়বিয়ার সন্ধি' প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে:
অতঃপর উরওয়া ইবন মাসউদ আস-সাকাফী দাঁড়িয়ে বললেন: 'হে আমার কওম! আমি কি তোমাদের পিতার সমতুল্য নই?' তারা বলল: 'অবশ্যই।'
তিনি বললেন: 'তোমরা কি আমার সন্তানের সমতুল্য নও?' তারা বলল: 'অবশ্যই।' তিনি বললেন: 'তবে তোমরা কি আমাকে কোনো বিষয়ে অভিযুক্ত করছ?' তারা বলল: 'না।' তিনি বললেন: ' তোমরা কি জানো না যে, আমি উকাযবাসীদের সাহায্যের জন্য আহ্বান করেছিলাম, কিন্তু যখন তারা বিমুখতা দেখাল, তখন আমি আমার পরিবার, সন্তান এবং যারা আমার আনুগত্য করেছে তাদের নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছি?' তারা বলল: 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন: 'নিশ্চয়ই এই ব্যক্তি তোমাদের কাছে একটি সঠিক প্রস্তাব পেশ করেছেন, তোমরা তা গ্রহণ করো এবং আমাকে তাঁর কাছে যেতে দাও।' তারা বলল: 'আপনি তাঁর কাছে যান।' অতঃপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আসলেন এবং তাঁর সাথে কথা বলতে লাগলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বুদাইলকে যা বলেছিলেন অনুরূপ কথা বললেন। তখন উরওয়া বললেন: 'হে মুহাম্মাদ! আপনি কি ভেবে দেখেছেন যদি আপনি আপনার কওমকে সমূলে ধ্বংস করে দেন, তবে আপনার আগে কি কোনো আরব সম্পর্কে শুনেছেন যে সে তার নিজ জাতিকে ধ্বংস করেছে? আর যদি বিষয়টি অন্যরকম হয় (অর্থাৎ কুরাইশরা বিজয়ী হয়), তবে আল্লাহর শপথ! আমি এখানে (আপনার চারপাশের) চেহারাগুলো দেখছি না, বরং আমি এক মিশ্র জনতাকে দেখছি—অন্য বর্ণনায়: উচ্ছৃঙ্খল জনতা—যাদের চরিত্র হলো যুদ্ধের সময় আপনাকে ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া এবং আপনাকে একাকী ফেলে যাওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
فَقَالَ لَهُ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه: امْصُصْ بِبَظْرِ اللاتِ، أَنَحْنُ نَفِرُّ وَنَدَعُهُ؟
فَقَالَ عروة: مَنْ ذَا؟
قَالُوا: أَبُو بَكْرٍ!
قَالَ: أَمَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ! لَوْلا يَدٌ كَانَتْ لَكَ عِنْدِي لَمْ أَجْزِكَ بِهَا لأَجَبْتُكَ.. الحديث)) .
وأخرج بعضه: أبو داوود (2765) ، والنسائي في ((الكبرى)) . كما في ((أطراف المزي)) (8/383) . وغيرهما.
فانظر - يرحمك الله من مُنصف - قول عروة لأبي بكر، فما منعه من الرد عليه وقد بالغ في عيب آلهتهم، إلا أنه كان أسير الإحسان المتقدم من أبي بكر له.
وقد ورد في رواية ابن إسحاق عن الزهري في هذا الحديث أن عروة قال لأبي بكر: ((لولا يد لم أجزك بها، ولكن هذه بها)) كأنه قال له: هذه الإساءة منك إلي آلهتنا قد استوفيت بها جميلك السابق عندي، فلم يبق لك حسنة تمنعني من الرد فى قابل إذا أسأت إلىَّ.
وأما من جفاك، وأساء إليك فما استودع يداً تمنعه من رد السيئة بمثلها وزيادة، لذلك كان طليقا لا يوقفه شئ.
وإذ الأمر كذلك، والوفاء سجيةٌ وخُلُقٌ، فما أعلم أحد - بعد والديّ - له عليّ يد مثل شيخنا الشيخ الإمام، حسنة الأيام، وريحانة بلاد الشام، أبى عبد الرحمن محمد ناصر (1) الدين الألبانى، ألبسه الله حُلل السعادة وكافأه
--------------------------------------------
আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বললেন: "তুমি লাতের ভগাঙ্কুর চোষণ করো! আমরা কি তাঁকে ছেড়ে পালিয়ে যাব?"
উরওয়া বলল: "ইনি কে?"
তারা বললেন: "আবু বকর!"
তিনি বললেন: "শোনো! যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ! তোমার যদি আমার ওপর এমন কোনো অনুগ্রহ না থাকত যার প্রতিদান আমি দিইনি, তবে অবশ্যই আমি তোমার জবাব দিতাম।" .. (হাদীস)।
এর কিছু অংশ আবু দাউদ (২৭৬৫) এবং নাসাঈ 'আল-কুবরা' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। যেমনটি 'আতরাফুল মিযযী' (৮/৩৮৩) ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
সুতরাং হে ন্যায়নিষ্ঠ পাঠক—আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন—আবু বকরের প্রতি উরওয়ার উক্তিটি লক্ষ করুন। আবু বকর তাদের উপাস্যদের অত্যন্ত কঠোরভাবে সমালোচনা করা সত্ত্বেও উরওয়াকে তাঁর প্রতিবাদ করা থেকে কিসে বাধা দিয়েছিল? কেবল এটিই যে, সে আবু বকরের পূর্বের উপকারের ঋণে আবদ্ধ ছিল।
ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় যুহরী থেকে এই হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে যে, উরওয়া আবু বকরকে বলেছিলেন: "যদি তোমার এমন কোনো অনুগ্রহ না থাকত যার প্রতিদান আমি এখনো দিইনি, তবে আমি অবশ্যই জবাব দিতাম; কিন্তু এই গালমন্দটি সেই অনুগ্রহের বিনিময় হয়ে গেল।" অর্থাৎ তিনি তাকে বোঝাতে চাইলেন: আমাদের উপাস্যদের প্রতি আপনার এই দুর্ব্যবহারের মাধ্যমে আমার প্রতি আপনার পূর্বের সেই সৌজন্য ও অনুগ্রহের পাওনা শোধ হয়ে গেছে। ফলে ভবিষ্যতে আপনি যদি আমার সাথে কোনো মন্দ আচরণ করেন, তবে আপনার এমন কোনো সদাচরণ আর অবশিষ্ট নেই যা আমাকে আপনার প্রতিবাদ করা থেকে বিরত রাখবে।
আর যে ব্যক্তি আপনার প্রতি রূঢ়তা প্রদর্শন করে এবং মন্দ আচরণ করে, সে তো আপনার কাছে এমন কোনো অনুগ্রহ গচ্ছিত রাখেনি যা তাকে অনুরূপ বা ততোধিক মন্দের মাধ্যমে জবাব দেওয়া থেকে বিরত রাখবে। এই কারণেই তিনি (আবু বকর) ছিলেন স্বাধীন, কোনো কিছুই তাঁকে বাধা দিচ্ছিল না।
বিষয়টি যখন এইরকম, আর কৃতজ্ঞতা যখন একটি মহৎ গুণ ও চরিত্র, তখন আমি আমার পিতামাতার পর এমন কাউকে জানি না যার আমার ওপর আমাদের শাইখ, ইমাম, বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, শাম দেশের সুগন্ধি ফুল আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানীর মতো অনুগ্রহ রয়েছে। আল্লাহ তাঁকে সৌভাগ্যের ভূষণে ভূষিত করুন এবং তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
بالحسني وزيادة، إذ الإطلاع علي كتبه كان فاتحة الخير العميم لي، وأبدأ الحديث أسوقه من أوًلِهِ.
ففي صيف عام (1395هـ) كنت أصلي الجمعة في مسجد ((عين الحياة)) ، وكان إمام إذ ذاك، الشيخ عبد الحميد كشك (1) -حفظه الله تعالي -، وكان تجار الكتب يعرضون ألواناً شتى من الكتب الدينية أمام المسجد، فكنت أطوف عليهم وأنتقي ما يعجبني عنوانه، فوقعت عيني يوما علي كتاب عنوانه ((صفة صلاة النبي صلي الله عليه وسلم من التكبير إلى التسليم كأنك تراها)) . تأليف محمد ناصر الدين الألبانى. فراقني اسمه. فتناولته بيدي، وقلبت صفحاته، ثم أرجعته إلي مكانه، لأنه كان باهظ الثمن لمثلي، وكان إذ ذاك بثلاثين قرشا! ومضيت أتجول بين بائعي الكتب، فوقفت علي كتاب لطيف الحجم بعنوان ((تلخيص صفة صلاة النبي صلي الله عليه وسلم)) . ففرحت به فرحة طاغية، ولم أتردد في شرائه وكان ثمنه خمسة قروش، ولم أشتري غيره، لأنه أتي علي كل ما في جيبى! ومن فرحتي وإغتباطي به قرأته وأنا أمشى في طريقي إلي مسكني مع خطورة هذا المسلك علي من يمشي في شوارع القاهرة، ولما أويت إلي غرفتي تصفحت الكتاب بإمعان، فوجدته يدق بعنف ما ورثته من الصلاة عن آبائي إذ أن كثيرا من هيئتها لا يمت إلي السنة بصلة، فندمت ندامة الكُسعِيِّ (2) اننى لم أشتر الأصل، وظللت
--------------------------------------------
উত্তম প্রতিদান ও তার চেয়েও বেশি, কারণ তাঁর বইগুলো দেখা আমার জন্য ব্যাপক কল্যাণের সূচনা ছিল। আমি এখন প্রথম থেকে কথা শুরু করছি।
১৩৯৫ হিজরীর গ্রীষ্মকালে আমি 'আইনুল হায়াত' মসজিদে জুমার সালাত আদায় করতাম। তখন সেখানকার ইমাম ছিলেন শেখ আব্দুল হামিদ কিশক (১) -আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাযত করুন-। বই বিক্রেতারা মসজিদের সামনে বিভিন্ন ধরণের ধর্মীয় বই প্রদর্শন করত। আমি তাদের চারপাশ ঘুরে দেখতাম এবং যেগুলোর শিরোনাম আমার ভালো লাগত সেগুলো নির্বাচন করতাম। একদিন আমার নজর পড়ল 'তাকবির থেকে তাসলিম পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের পদ্ধতি, যেন আপনি তা দেখছেন' নামক একটি বইয়ের ওপর। লেখক মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী। বইটির নাম আমার খুব পছন্দ হলো। আমি এটি হাতে নিলাম, পাতা উল্টালাম, তারপর আবার যথাস্থানে রেখে দিলাম। কারণ আমার মতো একজনের জন্য এর দাম ছিল অনেক বেশি, তখন এর দাম ছিল ত্রিশ কির্শ (পয়সা)! আমি বই বিক্রেতাদের মাঝে ঘুরতে থাকলাম এবং 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের পদ্ধতির সংক্ষিপ্ত সার' শিরোনামের একটি ছোট আকারের বই পেলাম। এতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হলাম এবং এটি কিনতে মোটেও দ্বিধা করলাম না। এর দাম ছিল পাঁচ কির্শ। আমি এটি ছাড়া আর কিছুই কিনিনি, কারণ এতেই আমার পকেটের সব টাকা শেষ হয়ে গিয়েছিল! অত্যন্ত আনন্দ ও উল্লাসের সাথে আমি আমার আবাসের পথে হাঁটতে হাঁটতে এটি পড়ছিলাম, যদিও কায়রোর রাস্তায় এভাবে হাঁটা বিপজ্জনক। যখন আমি আমার কামরায় ফিরলাম, গভীর মনোযোগ দিয়ে বইটি পড়লাম। আমি দেখলাম, এটি আমার বাপ-দাদার কাছ থেকে শেখা সালাতের প্রচলিত পদ্ধতির ওপর প্রচণ্ড আঘাত হানছে, কারণ এর অনেক নিয়মই সুন্নাহর সাথে সম্পৃক্ত নয়। তখন আমি 'কুসায়ীর অনুশোচনা'র (২) মতো অনুতপ্ত হলাম যে কেন আমি মূল বইটি কিনলাম না। আমি রয়ে গেলাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
أحلم بيوم الجمعة المقبل - وأدبِّر ثمن الكتاب طوال الأسبوع -، وأنا خائفٌ وجلٌ أن لا أجده عند البائع، وكنت أدعو الله أن يطيل في عمرى حتى أقراه، ومَنَّ الله علىَّ بشرائه فلما تصفحته؛ ألقيت الألواح، ولاح لي المصباح ُ من الصباح! وهزَّنى هزَّا عنيفاً، لكنه كان لطيفاً؛ مقدمته الرائعة الماتعة في وجوب اتباع السُّنة، ونبذ ما يخالفها تعظيماً لصاحبها صلي الله عليه وسلم، ثُمَّ نقوله الوافيه عن ائمة المسلمين، إذ تبرأوا من مخالفة السنة أحياء وأمواتا، فرضي الله عنهم جميعا، وحشرنا وإياهم مع الصادق المصدوق - بأبى هو وأمى - وقد لفت إنتباهى جدا حواشى الكتاب - مع جهلى التام آنذاك بكتب السنة المشهورة فضلا عن غيرها من المسانيد والمعاجم والمشيخات وكتب التواريخ، بل لقد ظللت فترة فى مطلع حياتى - لا أدرى طالت أم قصرت - أظن أن البخاريُّ صحابيُّ، لكثرة ترضى الناس عنه.
وعلى الرغم من عدم فهمى لما فى حواشى الكتاب، إلا اننى أحسستُ بفحولة وجزالة لم أعهدها فى كل ما قرأتُهُ، فملك الكتاب على حواسّي، وصرت فى كلِّ جمعة أبحث عن مؤلفات الشيخ ناصر الدين الألبانى، ولم تكن مشهورةً عندنا في ذلك الوقت، لكساد الحركة العلمية، فوقفت بعد شهرٍ تقريبا على جزء من " سلسلة الأحاديث الضعيفة " - المائة حديث الأولى، فاشتريته في الجمعة التى تليها لأتمكن من تدبير ثمنه.
أمَّا هذا الكتاب فكان قاسمة الظهر التى لا شوى لها! ، وهو الذى رغَّبنى فى دراسة علوم الحديث.
আমি আগামী জুমাবারের প্রতীক্ষায় স্বপ্ন দেখতাম—এবং সারা সপ্তাহ ধরে বইটির মূল্য সঞ্চয় করতাম—আর আমি অত্যন্ত শঙ্কিত থাকতাম যে বিক্রেতার কাছে হয়তো এটি আর পাব না। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করতাম যেন তিনি আমার আয়ু দীর্ঘ করেন যাতে আমি এটি পাঠ করতে পারি। অতঃপর আল্লাহ আমাকে বইটি ক্রয়ের তাওফিক দান করে অনুগ্রহ করলেন। যখন আমি এটি নেড়েচেড়ে দেখলাম, তখন পূর্বের সকল অযৌক্তিক চিন্তাভাবনা বিসর্জন দিলাম এবং প্রভাতের আলোকচ্ছটা আমার সম্মুখে উদ্ভাসিত হলো! এটি আমাকে প্রবলভাবে আন্দোলিত করল, তবে সেই আন্দোলন ছিল অত্যন্ত সুখদায়ক। সুন্নাহ অনুসরণ এবং সুন্নাহর প্রবর্তক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সম্মানার্থে এর পরিপন্থী বিষয়সমূহ বর্জনের আবশ্যকতা নিয়ে এর ভূমিকাটি ছিল অত্যন্ত চমৎকার ও জ্ঞানগর্ভ। এরপর এতে মুসলিম ইমামগণের পর্যাপ্ত উদ্ধৃতি পেশ করা হয়েছে, যেখানে তাঁরা জীবন ও মরণ উভয় অবস্থায় সুন্নাহর বিরোধিতা থেকে নিজেদের দায়মুক্ত ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং আমাদের ও তাঁদেরকে সেই ‘সাদিকুল মাসদুক’ (সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ)—যাঁর চরণে আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোন—তাঁর সাথে হাশর নসিব করুন। বইটির টীকাগুলো আমার দৃষ্টি বিশেষভাবে আকর্ষণ করেছিল—যদিও সে সময় প্রসিদ্ধ সুন্নাহর কিতাবসমূহ তো বটেই, এমনকি মাসানিদ, মাআ’জিম, মাশিখাত ও ইতিহাসের কিতাবাদি সম্পর্কেও আমার বিন্দুমাত্র জ্ঞান ছিল না। বরং জীবনের শুরুর দিকে একটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত—আমি জানি না তা কত দীর্ঘ ছিল—আমি ধারণা করতাম যে বুখারী একজন সাহাবী, কারণ মানুষের মুখে তাঁর জন্য প্রচুর ‘রাদিয়াল্লাহু আনহু’ শুনতাম।
বইটির টীকাভাষ্য বুঝতে না পারা সত্ত্বেও, আমি এর মাঝে এমন এক বলিষ্ঠতা ও সাবলীলতা অনুভব করলাম যা ইতিপূর্বে পঠিত কোনো কিছুতেই দেখিনি। ফলে বইটি আমার চেতনাকে আচ্ছন্ন করে ফেলল। অতঃপর প্রতি জুমাবারে আমি শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানীর রচনাবলি অনুসন্ধান করতে লাগলাম। জ্ঞানচর্চার স্থবিরতার কারণে তখন আমাদের মাঝে তাঁর কিতাবগুলো খুব একটা পরিচিত ছিল না। প্রায় মাসখানেক পর আমি ‘সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-দয়িফাহ’-এর একটি অংশ (প্রথম ১০০ হাদিস) খুঁজে পেলাম এবং প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থান করে এর পরবর্তী জুমাবারে সেটি ক্রয় করলাম।
বস্তুত এই কিতাবটিই ছিল আমার জীবনের মোড় পরিবর্তনকারী এক চরম আঘাত, যা আমাকে ইলমে হাদিস তথা হাদিস শাস্ত্র অধ্যয়নে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
قلتُ: إنَّ الحركة العلمية كانت هامدةً في ذلك الوقت، وكل من تصدَّر لوعظ الناس فهو عندنا عالمٌ، فما بالك بأشهر الواعظين عندنا في ذلك الزمان - وهو الشيخ كشك - الذي كان له بالغ التأثير في الناس بحسن وعظه، ومتانة لفظه، وجرأته في الصدع بالحق، لم ينجُ منحرفٌ من نقدهِ مهما كان منصبه، وكان فى صوته - مع جزالته - نبرة حُزن، ينتزع بها الدمع من المآقى إنتزاعاً، حتي من غلاظ الأكباد وقساة القلوب، فكان هذا الشيخ العالم الأول والأخير عندي، لا أجاوز قوله. وقد انتفعت به كثيرا في بداية حياتى، كما انتفع به خلقٌ، لكننى لما طالعت " السلسلة الضعيفة " وجدت أن كثيراً من الأحاديث التى يحتج بها الشيخ منها، حتى خيل إِلىَّ أنه يحضر مادَّة خطبه من هذه " السلسلة "، وسبب ذلك فيما أرى أن الشيخ حفظ أحاديثه من كتاب " إحياء علوم الدين " لأبى حامد الغزالى، وكان الغزالى رحمه الله مزجى البضاعة فى الحديث، تام الفقر فى هذا الباب!
فعكَّر علىَّ كتاب الشيخ ما كنت أجدهُ من المتعة في سماع خطب الشيخ كشك حتى كان يومٌ، فذكر الشيخ على المنبر حديثا عن النبى صلي الله عليه وسلم قال: ((إن الله يتجلي يوم القيامة للناس عامة، ويتجلي لأبى بكر الصديق خاصة (1)) ) . فلأول مرة أشك فى حديث أسمعه، وأسأل نفسى: ترى! هل هو صحيح أم لا؟ ومع شكى هذا فقد انفعلت له وتأثرت به بسبب صراخ الجماهير من حولى، استحساناً وإعجاباً! .
ولما رجعت الى منزلى، قلبت " السلسلة الضعيفة " حديثا حديثا أبحث عن الحديث الذي ذكره الشيخ كشك فلم أجده فواصلت بحثي، فبينما كنت
--------------------------------------------
আমি বলেছিলাম: সেই সময়ে জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলন ছিল স্থবির, এবং মানুষের মাঝে যারা ওয়াজ-নসিহত করতে এগিয়ে আসতেন, আমাদের নিকট তারাই আলেম হিসেবে গণ্য হতেন। তাহলে সেই সময়ের আমাদের সবচেয়ে প্রখ্যাত ওয়ায়েজ — অর্থাৎ শায়খ কিশক — এর অবস্থা কী হতে পারে তা ভেবে দেখুন! তার সুন্দর নসিহত, বাচনভঙ্গির দৃঢ়তা এবং সত্য প্রকাশে সাহসিকতার কারণে মানুষের ওপর তার গভীর প্রভাব ছিল। পদমর্যাদা যাই হোক না কেন, কোনো বিচ্যুত ব্যক্তিই তার সমালোচনা থেকে রক্ষা পেত না। তার কণ্ঠস্বরের গাম্ভীর্যের পাশাপাশি তাতে এমন এক করুণ সুর ছিল, যা এমনকি কঠোর চিত্ত ও পাষাণ হৃদয়ের মানুষের চোখের কোণ থেকেও অশ্রু ঝরিয়ে ছাড়ত। ফলে এই শায়খই ছিলেন আমার কাছে প্রথম এবং শেষ আলেম, আমি তার কথা অতিক্রম করতাম না। আমার জীবনের শুরুতে আমি যেমন তার মাধ্যমে অনেক উপকৃত হয়েছি, তেমনি বহু মানুষও উপকৃত হয়েছে। তবে যখন আমি "সিলসিলাতুদ দাঈফাহ" (দুর্বল হাদিসের সংকলন) পাঠ করলাম, তখন দেখলাম যে শায়খ যেসব হাদিস দিয়ে দলিল পেশ করেন তার অনেকগুলোই এতে রয়েছে। এমনকি আমার মনে হতে লাগল যে, তিনি হয়তো এই "সিলসিলা" থেকেই তার খুতবার উপাদান প্রস্তুত করেন। আমার দৃষ্টিতে এর কারণ ছিল এই যে, শায়খ তার হাদিসগুলো আবু হামিদ আল-গাজালির "ইহয়াউ উলুমিদ্দীন" কিতাব থেকে মুখস্থ করেছিলেন। আর গাজালি (রাহিমাহুল্লাহ) হাদিস শাস্ত্রে স্বল্প পুঁজির অধিকারী এবং এই ক্ষেত্রে তিনি পুরোপুরি রিক্তহস্ত ছিলেন!
শায়খের কিতাবটি শায়খ কিশকের খুতবা শোনার সেই আনন্দকে আমার কাছে বিষিয়ে তুলল। অবশেষে একদিন শায়খ মিম্বরে দাঁড়িয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করলেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহ কিয়ামতের দিন সাধারণভাবে সকল মানুষের নিকট আত্মপ্রকাশ করবেন এবং আবু বকর সিদ্দিকের নিকট বিশেষভাবে আত্মপ্রকাশ করবেন (১)"। এই প্রথমবারের মতো আমার শোনা কোনো হাদিস নিয়ে আমি সন্দেহে পড়লাম এবং নিজেকে প্রশ্ন করলাম: এটি কি সহিহ নাকি নয়? আমার এই সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও, চারপাশের মানুষের প্রশংসা ও মুগ্ধতার চিৎকারের কারণে আমিও এতে আবেগপ্রবণ ও প্রভাবিত হলাম!
যখন আমি বাড়ি ফিরলাম, শায়খ কিশকের উল্লেখ করা সেই হাদিসটির সন্ধানে আমি "সিলসিলাতুদ দাঈফাহ" কিতাবটির প্রতিটি হাদিস একে একে উল্টে দেখতে লাগলাম, কিন্তু তা পেলাম না। ফলে আমি আমার অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে থাকলাম। এমতাবস্থায় আমি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
فى بعض المكتبات وقفت على كتاب " المنار المنيف " لابن القيم رحمه الله بتحقيق الشيخ محمد حامد الفقى رحمه الله فوجدتُ الحديث فيه، وقد حكمَ الإمامُ عليهِ بالوضع فيما أذكرُ، فعزمت على إبلاغ الشيخ بذلك نصيحة لله تعالى، وقد كان رسخ عندى أن التحذير من هذه الأحاديث واجبٌ أكيدٌ.
وكان للشيخ جلساتٌ فى مسجده بين المغرب والعشاء، فذهبتُ فى وقتٍ مبكرٍ لألحق بالصف الأول حتي أتمكن من لقائه فى أوائل الناس، فلما صلينا جلس الشيخُ على كرسيه فى قبلة المسجد، وكان له عادة غريبةٌ وهي أنه يمدُّ يده، فيقفُ الناس طابوراً طويلاً، فيصافحونه، ويقبِّلون يده وجبهته، ويُسُّر إليه كل واحد بما يريد، وكنت العاشرَ فى هذا الطابور، فقلت في نفسى: وما عاشر عشرة من الشيخ ببعيد!
فلما جاء دوري، قبَّلتُ يده وجبهته، وقلت له: إنَّ الحديث الذى ذكرتموه في الجمعة الماضية - وسميتُه - قال عنه ابن القيم أنه موضوع.
فقال لى: بل هو صحيح، فلما أعدت عليه القول، قال كلاماً لا أضبطه الأن لكن معناه أن ابن القيم لم يُصِب في حكمه هذا، ولم يكن هناك وقت للمجادلة، لأن من فى الطابور ينتظرون دورهم!
ومما حزَّ فى نفسى أن الشيخ سألنى عن العلة فى وضع الحديث فلم يكن عندى جواب، فقال لى: يابنى! تعلم قبل أن تعترض، فمشيت من أمامه مستخذياً؛ كأنما ديكٌ نقرنى!
وخرجت من مسجد ((عين الحياة)) ولدىَّ من الرغبة في دراسة علم الحديث ما يجلُّ عن تسطير وصفه بنانى، ويضيق عطنى، ويكُّل عن نعته لسانى،
আমি কোনো এক লাইব্রেরিতে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) রচিত এবং শাইখ মুহাম্মাদ হামিদ আল-ফিকি (রহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক সম্পাদিত ‘আল-মানার আল-মুনিফ’ গ্রন্থটি দেখতে পাই। সেখানে আমি উক্ত হাদিসটি খুঁজে পাই এবং আমার যতটুকু স্মরণে পড়ে, ইমাম সেটিকে ‘মওজু’ (জাল) হিসেবে হুকুম প্রদান করেছিলেন। তাই আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নসিহত স্বরূপ শাইখকে বিষয়টি অবহিত করার সংকল্প করি। আর এই জাতীয় হাদিসগুলো সম্পর্কে সতর্ক করা যে একটি সুনিশ্চিত ওয়াজিব কাজ, তা আমার হৃদয়ে বদ্ধমূল ছিল।
মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে শাইখের নিজ মসজিদে তাঁর নিয়মিত মজলিস হতো। আমি প্রথম কাতারে শামিল হওয়ার জন্য একটু দ্রুতই সেখানে গেলাম, যাতে প্রথম সারির লোকেদের সাথেই তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারি। আমরা যখন সালাত শেষ করলাম, তখন শাইখ মসজিদের কিবলার দিকে তাঁর কুরসিতে বসলেন। তাঁর একটি বিচিত্র অভ্যাস ছিল; তিনি হাত বাড়িয়ে দিতেন এবং মানুষ দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে যেত। তারা তাঁর সাথে মুসাফাহা করত এবং তাঁর হাত ও কপালে চুমু খেত। প্রত্যেকেই যার যার মনের কথা তাঁর কাছে গোপনে নিবেদন করত। আমি সেই সারিতে দশম ব্যক্তি ছিলাম; মনে মনে ভাবলাম, ‘শাইখের কাছে পৌঁছাতে দশজনের সারি আর কতটুকুই বা দূরে!’
যখন আমার পালা এল, আমি তাঁর হাত ও কপালে চুমু খেলাম এবং তাঁকে বললাম: ‘গত জুমায় আপনি যে হাদিসটি উল্লেখ করেছিলেন—আমি তার নামও বললাম—ইবনুল কাইয়্যিম সেটিকে ‘মওজু’ (জাল) বলেছেন।’
তিনি আমাকে বললেন: ‘বরং এটি সহিহ।’ যখন আমি পুনরায় তাঁর কাছে কথাটি আরজ করলাম, তখন তিনি এমন কিছু কথা বললেন যা এই মুহূর্তে আমার পুরোপুরি স্মরণে নেই, তবে তার মর্মার্থ ছিল এই যে, ইবনুল কাইয়্যিম এই হুকুমের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। তখন তর্কের কোনো অবকাশ ছিল না, কারণ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিরা তাদের পালার জন্য অপেক্ষা করছিলেন!
আমার মনে যেটি চরম ব্যথার উদ্রেক করেছিল তা হলো, শাইখ আমাকে হাদিসটি জাল হওয়ার কারণ (ইল্লাত) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কিন্তু আমার কাছে কোনো উত্তর ছিল না। তিনি আমাকে বললেন: ‘হে বৎস! আপত্তি করার আগে জ্ঞান অর্জন করো।’ আমি অত্যন্ত লজ্জিত ও কুণ্ঠিত হয়ে তাঁর সামনে থেকে সরে এলাম; মনে হচ্ছিল কোনো মোরগ যেন আমাকে ঠোকর দিয়েছে!
আমি ‘আইনুল হায়াত’ মসজিদ থেকে বের হলাম এমতাবস্থায় যে, আমার হৃদয়ে ইলমে হাদিস চর্চার এমন এক প্রবল আকাঙ্ক্ষা জন্ম নিল, যার বিবরণ লিখে প্রকাশ করা আমার লেখনীর সামর্থ্যের বাইরে, যা ধারণ করার সামর্থ্য আমার নেই এবং যার বর্ণনা দিতে আমার জিহ্বা অক্ষম।
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وكان هذ العلم آنذاك شديد الغربة، ولست أبالغ اذا قلت: إنه كان أغرب من فرس بهماء بغلس!!
وطفقت اسأل كل من ألقاه من إخوانى عن أحد من الشيوخ يشرح هذا العلم، أو يدلني عليه، فأشار على بعض إخوانى - وكان طالبا في كلية الهندسة - أن أحضر مجالس الشيخ محمد نجيب المطيعى رحمه الله تعالى وكان شيخنا رحمه الله يلقى دروسه فى (بيت طلبة ماليزيا) بالقرب من ميدان (عبده باشا) ناحية العباسية، وكان يشرح أربع كتب، وهي (صحيح البخارى) و (المجموع) للنووى، و (الاشباه والنظائر) للسيوطى، (إحياء علوم الدين) للغزالى، فوجدت في هذه المجالس ضالتى المنشودة، ودرتى المفقودة، فلزمته نحو أربع سنوات حتى توقفت دروسه بعد الإعتقالات الجماعية التى أمر بها أنور السادات وأنتهي الامر بمقتله في حادث المنصة الشهير، ورحل الشيخ رحمه الله إلى السودان، وظل هناك حتى توفى رحمه الله بالمدينه ودفن فى البقيع كما قيل لى. رحمه الله تعالي.
وأتاحت لى هذه المجالس دراسة نبذ كثيرة من علمى أصول الحديث وأصول الفقه، ووالله! لا أشطط إذا قلت: إننى أبصرت بعد العمى لما درست هذين العلمين الجليلين، وأقرر هنا أن الجاهل بهذين العلمين لا يكون عالما مهما حفظ من كتب الفروع، لأن تقرير الحق في موارد النزاع لا يكون الا بهما، فعلم الحديث يصحح لك الدليل، وعلم أصول الفقه يسدد لك الفهم، فهما كجناحى الطائر.
ولم يكدر علي متعتي بدروس الشيخ المطيعي رحمه الله إلا حطه علي الشيخ الالباني صاحب الفضل على بعد الله عز وجل، وكان ذلك بعد حادثة طويلة الزيل ملخصها: أمن شيخنا المطيعى رحمه الله كان يتكلم عن قضاء
সেই সময় এই বিদ্যাটি ছিল অত্যন্ত অপরিচিত। আমি যদি বাড়িয়ে না বলি তবে বলব: এটি ছিল শেষ রাতের অন্ধকারে একটি নিকষ কালো ঘোড়ার চেয়েও অধিক অপরিচিত!!
আমি আমার পরিচিত ভাইদের মধ্য থেকে যার সাথেই দেখা হতো তাকেই এমন কোনো শাইখের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে শুরু করলাম যিনি এই বিদ্যাটি ব্যাখ্যা করবেন অথবা আমাকে এর পথ দেখাবেন। অতঃপর আমার জনৈক ভাই—যিনি প্রকৌশল অনুষদের ছাত্র ছিলেন—আমাকে শাইখ মুহাম্মাদ নাজীব আল-মুতিয়ী (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা)-এর মজলিসগুলোতে উপস্থিত হওয়ার পরামর্শ দিলেন। আমাদের শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) আব্বাসিয়া অঞ্চলের 'আবদুহ পাশা' চত্বরের নিকটবর্তী 'মালয়েশিয়ান ছাত্রাবাসে' তাঁর পাঠদান করতেন। তিনি চারটি কিতাব ব্যাখ্যা করতেন, সেগুলো হলো— (সহীহ আল-বুখারী), নববীর (আল-মাজমু), সুয়ূতী-র (আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর) এবং গাজালীর (ইহয়াউ উলুমিদ্দীন)। আমি এই মজলিসগুলোতে আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য এবং আমার হারিয়ে যাওয়া মুক্তা খুঁজে পেলাম। আমি প্রায় চার বছর তাঁর সংশ্রবে ছিলাম, পরিশেষে আনোয়ার সাদাত কর্তৃক নির্দেশিত গণ-গ্রেপ্তারের পর যখন তাঁর পাঠদান বন্ধ হয়ে গেল এবং প্রসিদ্ধ 'মঞ্চ হত্যাকাণ্ড'-এর মাধ্যমে বিষয়টির পরিসমাপ্তি ঘটল। এরপর শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) সুদানে চলে যান এবং সেখানে অবস্থান করেন, পরিশেষে মদিনায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং আমাকে যেমনটি জানানো হয়েছে যে তাঁকে বাকীতে দাফন করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন।
এই মজলিসগুলো আমাকে উসূলে হাদীস এবং উসূলে ফিকহ শাস্ত্রের অনেক সারসংক্ষেপ অধ্যয়নের সুযোগ করে দিয়েছিল। আল্লাহর কসম! আমি যদি বলি যে, এই দুটি মহান শাস্ত্র অধ্যয়ন করার পর আমি অন্ধত্বের পর দৃষ্টি ফিরে পেয়েছি, তবে আমি মোটেও বাড়িয়ে বলব না। আমি এখানে সুনিশ্চিতভাবে বলছি যে, এই দুটি শাস্ত্র সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তি কখনো আলেম হতে পারে না, সে ফروع বা শাখা-প্রশাখার যত কিতাবই মুখস্থ করুক না কেন। কারণ মতভেদের স্থানগুলোতে সত্য প্রতিষ্ঠা করা কেবল এই দুটির মাধ্যমেই সম্ভব। কেননা ইলমে হাদীস আপনার দলিলকে বিশুদ্ধ করে দেয় এবং উসূলে ফিকহ আপনার বুঝকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। সুতরাং এ দুটি হলো পাখির দুটি ডানার ন্যায়।
শাইখ মুতিয়ী (রহিমাহুল্লাহ)-এর পাঠদান থেকে প্রাপ্ত আমার আনন্দ কেবল একটি বিষয়ের কারণেই বিষাদগ্রস্ত হয়েছিল, আর তা হলো শাইখ আলবানীর প্রতি তাঁর আক্রমণাত্মক সমালোচনা; অথচ মহান আল্লাহর পর আমার ওপর শাইখ আলবানীর অনেক অনুগ্রহ ও অবদান রয়েছে। এটি ছিল এক দীর্ঘ ঘটনার প্রেক্ষাপটে যার সারকথা হলো: আমাদের শাইখ মুতিয়ী (রহিমাহুল্লাহ) যখন কাজা নামাজ আদায় সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন...
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الفوائت، وأن من لم يصل ولو لسنوات، فيجب عليه القضاء، وأطال البحث في ذلك. فقلت له - ولم يكن عندي علم بمن يقول بغير هذا المذهب من القدماء - قلت: إن الشيخ الألبانى يقول: ليس هناك دليل على وجوب القضاء. فقال لى بلهجة. علمت بعد ذلك بزمانٍ انه كان يقولها تهكماً: من الألباني؟ فقلت له: أحد علماء الحديث.
قال: لعله أحد أصحابنا الشافعية؟
قلت: لا أدري، لكنه معاصر لنا، وقد علمت انه لا يزال حيا.
فقال لي حينئذٍ: دعك من المعاصرين.
وكانت هذه أول مرة أسمعه يتكلم عن الألباني، ثمَّ توالي السيلُ.
ثم جاء الشيخ الألباني الى مصر فى حدود سنه (1396هـ) أو بعدها بقليل، وألقى محاضرة في المركز العام لجماعة أنصار السنة في عابدين، وكانت محاضرته عن تخصيص السنة لعام القرآن، وتقيدها لمطلقه، وذكر من أمثلة ذلك الذهب المحلَّق.
ولم يكن عندي علم بمحاضرة الشيخ ولا وجوده، فرحل ولم أره، وكان إحدى أمانىَّ الكبار أن ألتقى به، ولم يتحقق لى ذلك إلَاّ بعد زمان طويل وذلك فى أول المحرم سنة (1407 هـ) وكان قد طبع لى بعض الكتب منها " فصل الخطاب بنقد المغنى عن الحفظ والكتاب " وكنت فى هذه الفترة أتتبع كل أخبار الشيخ فكانت تصلنى أخبارٌ عن شدته على الطلبة وقسوته عليهم، واعتذاره عن التدريس بسبب ضيق الوقت وارهاق الدوله له، فكدتُ أفقدُ الأملُ حتى قيَّض الله لى أن ألتقي بصهر الشيخ - الأخ نظام سكجّها - فى فندق بحيّ الحسين بالقاهرة، فسألتُه عن الشيخ وإمكان التتلمُذ
ছুটে যাওয়া সালাতসমূহ, এবং যে ব্যক্তি কয়েক বছর সালাত আদায় করেনি, তার উপর তা কাযা করা ওয়াজিব—তিনি এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। আমি তাকে বললাম—আর প্রাচীন আলিমদের মধ্যে কে এই মাযহাবের বিপরীতে মত পোষণ করতেন সে সম্পর্কে তখন আমার জ্ঞান ছিল না—আমি বললাম: শাইখ আলবানী বলেন, কাযা ওয়াজিব হওয়ার কোনো দলিল নেই। তিনি এমন এক সুরে আমাকে বললেন—দীর্ঘদিন পর আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে তিনি তা বিদ্রূপের ছলে বলেছিলেন: আলবানী কে? আমি তাকে বললাম: হাদিস বিশারদদের একজন।
তিনি বললেন: সম্ভবত তিনি আমাদের শাফিঈ আলিমদের একজন?
আমি বললাম: আমি জানি না, তবে তিনি আমাদের সমসাময়িক, আর আমি জেনেছি যে তিনি এখনো জীবিত আছেন।
তখন তিনি আমাকে বললেন: সমসাময়িকদের কথা বাদ দাও।
শাইখ আলবানী সম্পর্কে তাঁকে কথা বলতে শোনার এটাই ছিল আমার প্রথম অভিজ্ঞতা, এরপর তো স্রোতের মতো কথা আসতেই থাকল।
এরপর শাইখ আলবানী ১৩৯৬ হিজরি বা তার কিছুকাল পরে মিসরে আসলেন এবং আবেদীনে অবস্থিত জামাআতে আনসারুস সুন্নাহর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি ভাষণ দিলেন। তাঁর ভাষণের বিষয়বস্তু ছিল কুরআনের সাধারণ (আম) বিধানকে সুন্নাহর মাধ্যমে নির্দিষ্টকরণ (খাস করা) এবং এর নিরঙ্কুশ (মুতলাক) বিধানকে সীমাবদ্ধ করা। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি গোলাকার স্বর্ণালঙ্কারের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
শাইখের ভাষণ কিংবা তাঁর উপস্থিতির বিষয়ে আমার কোনো জানা ছিল না, ফলে তিনি চলে গেলেন এবং আমি তাঁকে দেখতে পেলাম না। তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করা ছিল আমার অন্যতম বড় তামান্না বা আকাঙ্ক্ষা। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর ১৪০৭ হিজরির মুহাররাম মাসের শুরুতে তা বাস্তবায়িত হয়। ঐ সময়ের মধ্যে আমার কিছু বই প্রকাশিত হয়েছিল, যার মধ্যে একটি ছিল "ফাসলুল খিতাব বি-নাকদিল মুগনি আনিল হিফজি ওয়াল কিতাব"। আমি সে সময় শাইখের সকল খবরাখবর অনুসরণ করতাম। আমার কাছে তাঁর ছাত্রদের প্রতি কঠোরতা ও রুক্ষতা এবং সময়ের স্বল্পতা ও রাষ্ট্রীয় চাপের কারণে পাঠদান থেকে তাঁর বিরত থাকার খবর আসত। আমি প্রায় নিরাশ হয়ে পড়েছিলাম, অবশেষে আল্লাহ কায়রোতে হুসাইন এলাকায় একটি হোটেলে শাইখের জামাতা ভাই নিযাম সাকাজ্জাহার সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দিলেন। আমি তাঁকে শাইখ সম্পর্কে এবং তাঁর ছাত্রত্ব গ্রহণের সম্ভাবনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম।
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
عليه، فأخبرنى أن ذلك متعذرٌ، ولكن تعال وجرِّبْ!
فكان من خبرى أن سطَّرتُ رسالة للشيخ قلتُ له فيها: إننى علمتُ أنكم تطردون الطلبة عن بابكم، ولدىَّ أكثر من مائتى سؤال فى علل الأحاديث ومعانيها، ولا أقنع إلَاّ بجوابكم دون غيركم، فسأجمع همتى وأسافر إليكم فلا تطردونا عن بابكم، أو كلاماًَ نحو هذا.
وأخبرنى الأخ نظامٌ بعد ذلك أن الشيخ تألمَّ لما قرأ حكاية " الطرد " هذه.
وسافرت إلى الشيخ فى أول المحرم سنة (1407 هـ) ، واستخرجتُ تصريح العمل الذي يُخوِّل لى السفر بأعجوبةٍ عجيبةٍ، وأُمضيت ثلاثة أيامٍ فى الطريق كان هوانى فيها شديداً، ومع ذلك لم أكترث له، لما كان يحدوني من الأمل الكبير في لقاء الشيخ.
ولما نزلت عمَّان استقبلنى الأخ الكريم أبو الفداء سمير الزهيري جزاه الله خيراً، إذ أعانني في غربتى، وآوانى فى داره، وبعد الوصل بقليلٍ، كلَّمنا الشيخ بالهاتف، فرحَّب بى غاية الترحيب، وقال لى: حللت أهلاً ونزلت سهلاً، ولم أصدق أذنى! ، فأنا ذاهبٌ اليه وقد هيأت نفسى تماماً على الرضا بالطرد، إذا فعل الشيخ ذلك.
وقد بدأنى بالسلام، فرددتُ عليه السلام بمثل ما قال. فقال لى: ما أحسنت الردَّ! فقلتُ: لما يا شيخنا؟
فقال لى: إجعل هذا بحثاً بينى وبينك إذا التقينا غداً!
وظللتُ ليلتى أُُفكر فى هذا الأمر؛ ترى: ما وجهُ إساءتى الردَّ، حتى خمنت أن الرادَّ ينبغى له أن يزيد شيئاً في ردِّه نحو: ((وعفوه، ورضوانه)) ولم أكن وقفتُ على الحديث الذى قوى الشيخ فيه زيادة ((ومغفرته)) في الرد.
তাঁর নিকট প্রার্থনা করলাম, তখন তিনি আমাকে জানালেন যে এটি অসম্ভব, তবে বললেন, "আসুন এবং চেষ্টা করে দেখুন!"
আমার পক্ষ থেকে যা ঘটল তা হলো, আমি শায়খের নিকট একটি পত্র লিখলাম। তাতে আমি তাকে বললাম: আমি জানতে পেরেছি যে আপনারা আপনাদের দ্বার থেকে ছাত্রদের তাড়িয়ে দেন। অথচ হাদীসের ত্রুটি ও সেগুলোর অর্থ সম্পর্কে আমার নিকট দুইশোরও বেশি প্রশ্ন রয়েছে এবং আপনাদের উত্তর ব্যতীত অন্য কারও উত্তরে আমি তুষ্ট হতে পারছি না। সুতরাং আমি পূর্ণ সংকল্প নিয়ে আপনাদের নিকট সফর করব; তাই আমাদের আপনাদের দ্বার থেকে ফিরিয়ে দেবেন না—বা এই জাতীয় কিছু কথা।
ভাই নিজাম আমাকে পরবর্তীতে জানালেন যে, শায়খ যখন এই 'বিতাড়নের' কাহিনীটি পড়লেন, তখন তিনি ব্যথিত হলেন।
আমি ১৪০৭ হিজরী সনের মহররম মাসের শুরুতে শায়খের উদ্দেশে সফর করলাম। এক বিস্ময়কর অলৌকিক উপায়ে আমি কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করলাম যা আমাকে সফরের সুযোগ করে দিল। পথে তিন দিন অতিবাহিত হলো যাতে আমার কষ্ট ও লাঞ্ছনা ছিল চরম, তবুও আমি সেদিকে ভ্রূক্ষেপ করিনি; কারণ শায়খের সাথে সাক্ষাতের এক সুমহান আশা আমাকে চালিত করছিল।
যখন আমি আম্মানে অবতরণ করলাম, তখন শ্রদ্ধেয় ভাই আবু আল-ফিদা সামির আল-জুহাইরি—আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন—আমাকে অভ্যর্থনা জানালেন। তিনি আমার প্রবাস জীবনে আমাকে সাহায্য করলেন এবং তাঁর গৃহে আমাকে আশ্রয় দিলেন। পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরেই শায়খ টেলিফোনে আমাদের সাথে কথা বললেন এবং আমাকে অত্যন্ত উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন। তিনি আমাকে বললেন: 'আপনার আগমন শুভ হোক, আপনি আপনজনের মাঝেই এসেছেন'। আমি যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না! কারণ আমি তো শায়খের নিকট যাচ্ছিলাম এমতাবস্থায় যে, শায়খ যদি আমাকে তাড়িয়ে দেন তবে তাতেও সন্তুষ্ট থাকার জন্য আমি নিজেকে পূর্ণ প্রস্তুত করে রেখেছিলাম।
তিনি আমাকে সালাম দিয়ে কথা শুরু করলেন, আমিও তাঁর কথার অনুরূপ উত্তর দিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: 'আপনি তো উত্তমরূপে উত্তর প্রদান করেননি!' আমি বললাম: 'হে আমাদের শায়খ, কেন?'
তিনি আমাকে বললেন: 'আগামীকাল যখন আমাদের সাক্ষাৎ হবে, তখন এটিকে আমার ও আপনার মাঝে একটি আলোচনার বিষয় হিসেবে রাখুন!'
আমি সারা রাত এই বিষয়টি নিয়ে ভাবতে থাকলাম; ভাবছিলাম: আমার সালামের উত্তরে কী ত্রুটি ছিল? এমনকি আমি অনুমান করলাম যে, উত্তরদাতার উচিত তার উত্তরে কিছুটা বর্ধিত করা, যেমন: "তাঁর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি"। তখন পর্যন্ত আমি সেই হাদীসটি সম্পর্কে অবগত ছিলাম না, যার ভিত্তিতে শায়খ সালামের উত্তরে "তাঁর ক্ষমা" শব্দটির সংযোজনকে শক্তিশালী সাব্যস্ত করতেন।
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وكان الشيخ يصلى الغداة فى ((مسجد الفالوجا)) بجوار منزل أبى الفداء، ولم أذق طعم النوم ليلتى بسبب تأمُّلى المسألة التي طرحها الشيخ، ولم تكتحل عينى بنومٍ إلَاّ قبيل الفجر، وراح علىَّ بسبب ذلك لقاء الفجر مع الشيخ، وكلمناه فى الصباح، فأعطانا موعداً عقب صلاة العشاء في منزل أبى الفداء.
وكان لقاءً حاراًّ، بدأنى الشيخ بالعناق، لأننى لا يمكن أن أبدأه بذلك هيبةً له، وكان معنا في هذا اللقاء الأخ الفاضل أبو الحارث على الحلبى حفظه الله، وجلسنا نحو ساعةٍ ونصف الساعة نسألُ، والشيخ يجيبُ، فلما تصرمت الجلسة، وخرجنا من الدار، إنتحيتُ بالشيخ جانباً، وشرحتُ له باختصارٍ ما كابدتهُ فى السفر إليه، ولم يخرجنى من بلدى إلَاّ طلبُ العلم، فلو أذن لى الشيخ أن أخدمه وأساعده لأتمكن من ملازمته، فشكرنى واعتذر لى، نظراً لضيق وقته. فقلت له: أعطنى ساعة كل يوم أسألك فيها. فاعتذر
فقلت له: أعطنى ما يسمح به وقتك ولو كان قصيراً، فاعتذر!
فأحسست برغبة حارَّة ٍفى البكاء، وتمالكت نفسى بعناء بالغٍ، وأطرقتُ قليلاً ثم قلت للشيخ: قد علم الله أنه لم يكن لى مأربٌ قطُّ إلَاّ لقاؤكم والإستفادةُ منكم، فإن كنتُ أخلصتُ نيتى فسيفتح الله لى، وانْ كانت الأخرى؛ فحسبى عقاباً عاجلاً أن ارجع إلى بلدى بخفى حنين!
وانا سأدعو الله أن يفتح قلبك لى.
ولست أنسى هذا الموقف ما حييت.
ثم التقيت بالشيخ فى صلاة الغداة من اليوم التالى، فقبلتُ يده - وهذا دأبى معه - فقال لي: لعلَّ الله استجاب دعاءك؛ وكان فاتحة الخير. وكنت أكاد
শায়খ আবু আল-ফিদার বাড়ির পাশে অবস্থিত 'ফালুজা মসজিদে' ফজরের সালাত আদায় করতেন। শায়খের উত্থাপিত মাসয়ালাটি নিয়ে চিন্তাভাবনা করার কারণে সে রাতে আমার চোখে ঘুমের লেশমাত্র ছিল না। ফজরের ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আমার চোখে ঘুম আসেনি। এর ফলে শায়খের সাথে ফজরের সাক্ষাতটি আমার হাতছাড়া হয়ে গেল। সকালে আমরা তাঁর সাথে কথা বললাম এবং তিনি এশার সালাতের পর আবু আল-ফিদার বাড়িতে আমাদের সময় দিলেন।
সেটি ছিল এক উষ্ণ সাক্ষাৎ। শায়খ নিজেই আমাকে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করলেন, কারণ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাবোধের কারণে আমি নিজে থেকে তা করার সাহস পেতাম না। এই মজলিসে আমাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন শ্রদ্ধেয় ভাই আবু আল-হারিস আলি আল-হালাবি (আল্লাহ তাকে হেফাযত করুন)। আমরা প্রায় দেড় ঘণ্টা বসে থাকলাম, আমরা প্রশ্ন করছিলাম আর শায়খ উত্তর দিচ্ছিলেন। যখন মজলিস শেষ হলো এবং আমরা ঘর থেকে বের হলাম, আমি শায়খকে একটু নির্জনে ডেকে নিলাম এবং তাঁর কাছে আসার জন্য যে কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করেছি তা সংক্ষেপে বর্ণনা করলাম। ইলম অন্বেষণ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য আমাকে দেশ থেকে বের করেনি। শায়খ যদি আমাকে তাঁর খিদমত ও সাহায্য করার অনুমতি দিতেন যাতে আমি নিয়মিত তাঁর সান্নিধ্যে থাকতে পারি। তিনি আমাকে ধন্যবাদ জানালেন এবং সময়ের সংকীর্ণতার কারণে অপারগতা প্রকাশ করলেন। আমি তাঁকে বললাম: আমাকে প্রতিদিন এক ঘণ্টা সময় দিন যাতে আমি আপনাকে প্রশ্ন করতে পারি। তিনি অপারগতা জানালেন।
আমি তাঁকে বললাম: আপনার সময় যতটুকু অনুমতি দেয় ততটুকুই আমাকে দিন, যদিও তা অল্প সময়ের জন্য হয়, কিন্তু তিনি অপারগতা প্রকাশ করলেন!
তখন আমার প্রচণ্ড কান্নার বেগ এল, আমি অতি কষ্টে নিজেকে সংবরণ করলাম। কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে থাকার পর শায়খকে বললাম: আল্লাহ জানেন যে, আপনার সাথে সাক্ষাৎ করা এবং আপনার থেকে উপকৃত হওয়া ছাড়া আমার অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। যদি আমার নিয়ত একনিষ্ঠ হয়ে থাকে, তবে আল্লাহ অবশ্যই আমার জন্য পথ খুলে দেবেন। আর যদি অন্য কিছু হয়, তবে আমার জন্য তাৎক্ষণিক শাস্তি হিসেবে এটাই যথেষ্ট যে, আমি রিক্ত হস্তে দেশে ফিরে যাব!
আর আমি আল্লাহর কাছে দুআ করব যাতে তিনি আমার জন্য আপনার অন্তর খুলে দেন।
আমি যতদিন বেঁচে থাকব, এই মুহূর্তটির কথা ভুলব না।
এরপর পরদিন ফজরের সালাতে শায়খের সাথে আমার দেখা হলো, আমি তাঁর হাত চুম্বন করলাম—যা ছিল তাঁর সাথে আমার প্রথাগত আচরণ। তখন তিনি আমাকে বললেন: হয়তো আল্লাহ তোমার দুআ কবুল করেছেন; আর এটিই ছিল কল্যাণের সূচনা। আর আমি প্রায়
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أوقن أن الله سيستجيبُ لى، وأن الشيخ سيقبلنى عنده، لا سيما بعد أن قابلت الأستاذ أحمد عطية - وكان من معظمى الشيخ قبلُ -، فاستضافنى فى داره وقال لى: لما طبع كتابك ((فصل الخطاب بنقد المغنى عن الحفظ والكتاب)) اشتريت منه نسخة وقرأته فأعجبنى أنه على طريقة الشيخ، وكان الشيخ يقول: ليس لى تلاميذ - يعنى على طريقته فى التخريج والنقد - قال: فأرسلت هذا الكتاب الى الشيخ وقلت له: وجدنا لك تلميذا، وراجعتُ الشيخ بعد ثلاثة أيام فقال: نعم.
قلت: لمَّا قصَّ علىَّ الأستاذ أحمد عطية هذه الحكاية ضاعف من أملى أن يقبلنى الشيخ عنده.
ووالله! لقد عاينت من لطف الشيخ بى، وتواضعه معى شيئا عظيما، حتى أنه قال لى يوماً: صحَّ لك ما لم يصحُّ لغيرك، فحمدت الله عز وجل على جسيم منته، وبالغ فضله ونعمته.
فمن ذلك أننى كلما التقيتُ به قبلت يده، فكان ينزعها بشدَّة، ويأبى علىَّ، فلما أكثر قلتُ له: قد تلقينا منكم فى بعض أبحاثكم فى " الصحيحة " أن تقبيل يد العالم جائز.
فقال لى: هل رأيت بعينيك عالماً قطُّ؟
قلت: نعم، أرى الآن.
فقال: إنما أنا " طويلبُ علمٍ "، إنما مثلى ومثلكم كقول القائل:
إن البُغَاثَ بِأَرْضنَا يَسْتَنْسِرُ!
আমি সুনিশ্চিত বিশ্বাস করি যে আল্লাহ আমার ডাকে সাড়া দেবেন এবং শায়খ আমাকে তাঁর সান্নিধ্যে গ্রহণ করবেন, বিশেষ করে যখন আমি উস্তাদ আহমাদ আতিয়্যাহর সাথে সাক্ষাৎ করলাম—যিনি ইতিপূর্বে শায়খকে অত্যন্ত সম্মান করতেন—তখন তিনি আমাকে তাঁর বাড়িতে আতিথেয়তা প্রদান করলেন এবং আমাকে বললেন: যখন আপনার কিতাব "ফাসলুল খিতাব বি-নাকদিল মুগনি আনিল হিফজি ওয়াল কিতাব" মুদ্রিত হলো, তখন আমি এর একটি কপি কিনলাম এবং তা পাঠ করলাম। এটি শায়খের পদ্ধতি অনুসরণ করে রচিত হওয়ায় আমার কাছে অত্যন্ত চমৎকার লেগেছে। আর শায়খ বলতেন: "আমার কোনো ছাত্র নেই"—অর্থাৎ হাদিস তাহরিজ এবং সমালোচনার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতিতে। তিনি বললেন: এরপর আমি কিতাবটি শায়খের কাছে পাঠালাম এবং তাঁকে বললাম: আমরা আপনার জন্য একজন ছাত্র পেয়েছি। তিন দিন পর আমি শায়খের সাথে পুনরায় যোগাযোগ করলে তিনি বললেন: হ্যাঁ।
আমি বললাম: উস্তাদ আহমাদ আতিয়্যাহ যখন আমার কাছে এই কাহিনী বর্ণনা করলেন, তখন শায়খ আমাকে তাঁর সান্নিধ্যে গ্রহণ করবেন—এই প্রত্যাশা আমার মনে বহুগুণ বৃদ্ধি পেল।
আল্লাহর কসম! আমি আমার প্রতি শায়খের মহানুভবতা এবং আমার সাথে তাঁর বিনয়ের এমন এক মহান নির্দশন প্রত্যক্ষ করেছি যে, এমনকি তিনি একদিন আমাকে বলেছিলেন: "আপনার জন্য যা সাব্যস্ত হয়েছে, তা অন্য কারো জন্য হয়নি।" এরপর আমি মহান আল্লাহর অসীম অনুগ্রহ ও তাঁর মহান দান ও নিআমতের জন্য তাঁর প্রশংসা জ্ঞাপন করলাম।
এর মধ্যে একটি বিষয় ছিল এই যে, আমি যখনই তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতাম, তাঁর হাতে চুমু খেতাম। তিনি অত্যন্ত কঠোরভাবে হাত সরিয়ে নিতেন এবং আমাকে বাধা দিতেন। যখন আমি বারবার এমনটি করলাম, তখন আমি তাঁকে বললাম: আপনার "আস-সহীহাহ" এর কোনো কোনো গবেষণায় আমরা আপনার নিকট থেকেই শিক্ষা লাভ করেছি যে, আলেমের হাতে চুমু খাওয়া জায়েজ।
তখন তিনি আমাকে বললেন: আপনি কি আপনার নিজের চোখে কখনো কোনো আলেম দেখেছেন?
আমি বললাম: হ্যাঁ, এখন দেখছি।
তখন তিনি বললেন: আমি তো কেবল একজন "ক্ষুদ্র ইলম অন্বেষী" মাত্র। আমার এবং আপনাদের উদাহরণ তো কবির সেই বাণীর মতো:
আমাদের জমিনে ক্ষুদ্র দুর্বল পাখিও শিকারি ঈগলের রূপ ধারণ করে!
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وبدأت جلساتى مع الشيخ بعد كل صلاة غداةٍ فى سيارته، ولمدة ساعة، ثم زادت المدة حتى وصلت الى ثلاث ساعات.
واستمر هذا الأمر، حتى جاء يومٌ ولم يُصلِّ الشيخ معنا صلاة الغداة، فحزنت لذلك لضياع هذا اليوم علىَّ بلا استفادة، واستشرت من أثق برأيه من إخوانى: هل أذهب الى الشيخ فى بيته أم لا؟
فكان إجماعهم أن لا أذهب، لأنك لا تعلم ما ينتظرك هناك، ولا يذهب أحد الى الشيخ فى بيته إلَّا بموعدٍ سابقٍ، فلربما ردَّك، فلا يكون بك لائقًا، لا سيما بعد المكانة التى صارت لك عند الشيخ.
وتهيبتُ الذهاب، ولكن قوى من عزمى أمران:
الأول: أن رفيقى آنذاك والذى كان يصحبنى بسيارته الأخ الفاضل الباذل أبو حمزة القيسى جزاه الله خيراً - قد أيدنى فى الذهاب.
الثانى: أننى استحضرت قصةً لابن حبان مع شيخه ابن خزيمة ذكرها ياقوتُ بسنده إلى أبى حامد أحمد بن محمد بن سعيد النيسابورى قال: كنا مع أبى بكر محمد بن إسحاق بن خزيمة فى بعض الطريق من نيسابور، وكان معنا أبو حاتم البُستى، وكان يسألُه ويؤذيه، فقال له محمد بن إسحاق بن خزيمة: يا بارد! تنحَّ عنى ولا تؤذينى! أو كلمة نحوها، فكتب أبو حاتم مقالته، فقيل له: تكتب هذا؟ قال: أكتب كل شىء يقوله الشيخ)) اهـ.
فقلتُ فى نفسى: ومالى لا أفعل مثلما فعل ابن حبان؟ وحتى لو قال لى الشيخ مقالة ابن خزيمة لعددتها من فوائد ذلك اليوم.
وانطلقنا اليه، وكان من أفضل أيامى التى أمضيتُها فى هذه الرحلة، فقد استقبلنى الشيخ استقبالا كريما، وأمضيت معه أكثر من ساعتين، وكان
শায়খের সাথে আমার মজলিসগুলো প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর তাঁর গাড়িতে শুরু হয়েছিল, এক ঘণ্টার জন্য; তারপর সময় বৃদ্ধি পেতে পেতে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
এভাবেই চলতে থাকল, যতক্ষণ না এমন এক দিন এল যখন শায়খ আমাদের সাথে ফজরের নামাজ আদায় করলেন না। এই দিনটি কোনো উপকারিতা ছাড়াই আমার জন্য নষ্ট হয়ে যাবে ভেবে আমি ব্যথিত হলাম। আমি আমার ভাইদের মধ্যে যাঁদের মতামতের ওপর আস্থা রাখি, তাঁদের সাথে পরামর্শ করলাম: আমি কি শায়খের বাড়িতে যাব, নাকি যাব না?
তাঁদের সবার ঐকমত্য ছিল যেন আমি না যাই; কারণ সেখানে তোমার জন্য কী অপেক্ষা করছে তা তুমি জানো না, আর পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাৎসূচি ছাড়া কেউ শায়খের বাড়িতে যায় না। সম্ভবত তিনি তোমাকে ফিরিয়ে দিতে পারেন, যা তোমার জন্য শোভন হবে না, বিশেষ করে শায়খের কাছে তোমার যে মর্যাদা তৈরি হয়েছে তার পরে।
আমি যাওয়ার ব্যাপারে দ্বিধান্বিত ছিলাম, কিন্তু দুটি বিষয় আমার সংকল্পকে দৃঢ় করল:
প্রথমত: সেই সময়ে আমার সফরসঙ্গী, যিনি আমাকে তাঁর গাড়িতে নিয়ে যেতেন—মর্যাদাবান ও ত্যাগী ভাই আবু হামজাহ আল-কাইসি (আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন)—যাওয়ার ব্যাপারে আমাকে সমর্থন জানালেন।
দ্বিতীয়ত: ইবনে হিব্বানের সাথে তাঁর উস্তাদ ইবনে খুজাইমাহর একটি ঘটনা আমার স্মরণে এল, যা ইয়াকুত তাঁর সনদসহ আবু হামিদ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সাঈদ আন-নাইসাবুরির বরাতে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আমরা নিশাপুরের কোনো এক পথে আবু বকর মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন খুজাইমাহর সাথে ছিলাম। আমাদের সাথে আবু হাতিম আল-বুস্তিও ছিলেন। তিনি শায়খকে প্রশ্ন করে বিরক্ত করছিলেন। তখন মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন খুজাইমাহ তাঁকে বললেন: "হে নীরস ব্যক্তি! আমার থেকে দূরে সরো এবং আমাকে বিরক্ত করো না!" অথবা এই জাতীয় কোনো কথা। তখন আবু হাতিম তাঁর সেই উক্তিটিও লিখে নিলেন। তাঁকে বলা হলো: "আপনি এটিও লিখছেন?" তিনি বললেন: "শায়খ যা কিছু বলেন, আমি তার সবকিছুই লিখি।"
আমি মনে মনে বললাম: ইবনে হিব্বান যা করেছেন, আমি কেন তা করব না? এমনকি শায়খ যদি আমাকে ইবনে খুজাইমাহর সেই উক্তির মতো কিছু বলেনও, তবে আমি সেটাকেও সেই দিনের অন্যতম প্রাপ্তি হিসেবে গণ্য করব।
এরপর আমরা তাঁর উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। এটি ছিল এই সফরে কাটানো আমার শ্রেষ্ঠ দিনগুলোর একটি। শায়খ আমাকে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে অভ্যর্থনা জানালেন এবং আমি তাঁর সাথে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় অতিবাহিত করলাম। আর তিনি ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
يخدمُنا بنفسه، ويأتينا بالطعام يضعه أمامنا، فكلما هممت أن أساعده أبى علىَّ، ويشيُر أن أجلس، ويقول: ((الإمتثالُ هو الأدبُ بل خيرٌ من الأدبِ))
ويعنى به: أن الإمتثال لرغبته فى الجلوس خير من سلوكى الذى أظنُّه أدباً، لأن طاعتى له هى الأدب. وكان يوماً حافلا قص على الشيخ فيه ما جرى بينه وبين الشيخ محمد نسيب (1) الرفاعى حفظه الله.
ولا يفوتنى أن أقول: كنت قابلت الشيخ نسيب الرفاعى بصحبة الأستاذ أحمد عطية المتقدم ذكره فى بيته بحى الهاشمى فى عمان البلقاء، ولقلما رأت عيناى مثله فى تواضعه وأدبه وحسن خلقه، وكان معظم كلامه عن الشيخ الألبانى، وبرغم تقاربهما فى السن الا أنه كان يبالغ فى تعظيم الشيخ، وقال لى: أنا مدينٌ بالفضل لرجلين: الأول: ابن تيمية، والثانى: الألبانى.
وقال لى: لقد تآزرنا فى نشر الدعوة السلفية فى سوريا، وكان الشيخ يزورنا فى حلب، فدخلت على ابنتى " عائشة " وكانت صغيرة، فقال لى الشيخُ: لو كانت كبيرة لتزوجتها وكنت منى بمنزلة أبى بكر من محمدٍ صلى الله عليه وسلم، فانظر ما كان بينى وبينه من الآصرة.
وقرأ علينا أبو غزوان مقدمته لكتابه: ((التوصل الى حقيقة التوسل)) وقصَّ علىَّ أشياء ذكرتها فى ((طليعة الثمر الدانى فى الذب عن الألبانى)) .
وهو القسم الخاص بترجمة الشيخ الألبانى حفظه الله تعالى.
وقد أمضيت نحو شهر فى هذه الرحلة، ولما علم الشيخ بموعد سفرى دعانى
--------------------------------------------
তিনি নিজেই আমাদের খিদমত করতেন এবং খাবার এনে আমাদের সামনে রাখতেন। যখনই আমি তাঁকে সাহায্য করার ইচ্ছা করতাম, তিনি আমাকে বাধা দিতেন এবং বসার ইশারা করে বলতেন: "আদেশ পালনই হলো আদব, বরং আদবের চেয়েও উত্তম।"
এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, বসার ব্যাপারে তাঁর ইচ্ছার প্রতি আনুগত্য করা আমার সেই আচরণের চেয়ে উত্তম ছিল যেটিকে আমি আদব মনে করছিলাম; কারণ তাঁর প্রতি আমার আনুগত্যই হলো প্রকৃত আদব। সেটি ছিল একটি ঘটনাবহুল দিন, যেদিন শায়খ আমার কাছে তাঁর এবং শায়খ মুহাম্মদ নাসীব (১) আল-রিফায়ী (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)-এর মধ্যে যা ঘটেছিল তা বর্ণনা করেছিলেন।
আমি এ কথা উল্লেখ করতে ভুলে যাব না যে, আমি উস্তাদ আহমদ আতিয়্যাহর সাথে—যার কথা পূর্বে আলোচিত হয়েছে—আম্মানের বালাকার আল-হাশিমী মহল্লায় শায়খ নাসীব আল-রিফায়ীর নিজ বাসভবনে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলাম। বিনয়, আদব ও সচ্চরিত্রের দিক থেকে আমার চোখ তাঁর মতো মানুষ খুব কমই দেখেছে। তাঁর আলোচনার অধিকাংশ জুড়েই থাকত শায়খ আলবানী সম্পর্কে। বয়সে কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও তিনি শায়খকে অতিশয় সম্মান করতেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন: "আমি দুই ব্যক্তির নিকট কৃতজ্ঞ: প্রথমজন ইবনে তাইমিয়া এবং দ্বিতীয়জন আলবানী।"
তিনি আমাকে আরও বলেছিলেন: "আমরা সিরিয়ায় সালাফী দাওয়াত প্রসারে একে অপরকে সাহায্য করেছি। শায়খ হালবে আমাদের এখানে আসতেন। একদা আমি আমার মেয়ে 'আয়িশা'র নিকট প্রবেশ করলাম, সে তখন ছোট ছিল। তখন শায়খ আমাকে বললেন: 'যদি সে বড় হতো তবে আমি তাকে বিবাহ করতাম এবং আপনি আমার কাছে তেমন মর্যাদায় থাকতেন যেমন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আবু বকর ছিলেন।' সুতরাং লক্ষ্য করুন, আমার ও তাঁর মধ্যে কী গভীর আত্মিক সম্পর্ক ছিল।"
আবু গাজওয়ান আমাদের সামনে তাঁর 'আত-তাওয়াসসুল ইলা হাকীকাতিত তাওয়াসসুল' (তাওয়াসসুলের হাকীকত অন্বেষণ) গ্রন্থের ভূমিকা পাঠ করেছিলেন এবং আমার কাছে এমন কিছু বিষয় বর্ণনা করেছিলেন যা আমি 'তালীআতুস সামারিদ দানী ফিয যাব্বি আনিল আলবানী' গ্রন্থে উল্লেখ করেছি।
এটি শায়খ আলবানী (আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাযত করুন)-এর জীবনীর জন্য নির্ধারিত অংশ।
আমি এই সফরে প্রায় এক মাস সময় কাটিয়েছি। যখন শায়খ আমার প্রত্যাবর্তনের সময়ের কথা জানতে পারলেন, তিনি আমাকে দাওয়াত দিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
على الغداء عنده فى يوم الرحيل، وسألنى عن حال السلفيين فى مصر، وسألته عن الطريقة المثلى لنشرة الدعوة، وكيف نواجة المخالفين لنا، وكان يوما حافلا أمضيته مع (عميد السلفيين) فى العالم الإسلامى حفظه الله وبارك
فى عمره.
اعلم - أيها المسترشد - أننى قدَّمت هذا الكلام لأبيِّن الدافع إلى تصنيفى كتاب (الثمر الدانى فى الذب عن الألبانى) ، وهو ذبٌّ على وجه الإنصاف، وحمية محمودة لا تعد بحمد الله من حمية الجاهلية، فإن حرب " إسقاط الرموز " قائمة على قدم وساق، وهى حرب خسيسة خبيثة، يستخدم فيها أصحابها ما لا يخطر علي بالك من الكذب، والنفاق، وسوء الأخلاق.
وحرب " إسقاط الرموز " حرب قديمة وما حديث الإفك منك ببعيد. ولم يمر بالمسلمين محنة قط هى أعظم وأشد عليهم من حادث الإفك. ودعنى أبين لك الأمر.
فقد أخرج البخاري فى (كتاب النكاح) (9/278 - 279) ، ومسلم في (الطلاق) (1479/ 34) من طريق الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُاللَّهِ بْنُ عَبْدِاللَّهِ بْنِ أَبِي ثَوْرٍ، عَنْ عَبْدِاللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِي اللَّهم عَنْهمَا قَالَ: " لَمْ أَزَلْ حَرِيصًا عَلَى أَنْ أَسْأَلَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَنِ الْمَرْأَتَيْنِ مِنْ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهم عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللَّتَيْنِ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى ? إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا ? فقال عمر فى هذا الحديث: " قَالَ كُنْتُ أَنَا وَجَارٌ لِي مِنَ الْأَنْصَارِ فِي بَنِي أُمَيَّةَ ابْنِ زَيْدٍ، وَهُمْ مِنْ عَوَالِي الْمَدِينَةِ، وَكُنَّا نَتَنَاوَبُ النُّزُولَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهم عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَنْزِلُ يَوْمًا وَأَنْزِلُ يَوْمًا، فَإِذَا نَزَلْتُ جِئْتُهُ بِمَا حَدَثَ مِنْ خَبَرِ ذَلِكَ الْيَوْمِ مِنَ الْوَحْيِ أَوْ غَيْرِهِ، وَإِذَا نَزَلَ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ. . . ثم قال عمر: " وَكُنَّا قَدْ تَحَدَّثْنَا أَنَّ غَسَّانَ تُنْعِلُ الْخَيْلَ لِغَزْوِنَا، فَنَزَلَ صَاحِبِي الْأَنْصَارِيُّ يَوْمَ نَوْبَتِهِ فَرَجَعَ إِلَيْنَا عِشَاءً فَضَرَبَ بَابِي ضَرْبًا
বিদায়ের দিনে তাঁর কাছে মধ্যাহ্নভোজের সময় তিনি আমাকে মিশরের সালাফিদের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, আর আমি তাঁকে দাওয়াত প্রসারের সর্বোত্তম পদ্ধতি এবং আমাদের বিরোধীদের আমরা কীভাবে মোকাবিলা করব সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। দিনটি ছিল অত্যন্ত ঘটনাবহুল, যা আমি মুসলিম বিশ্বের ‘সালাফিদের প্রধান’-এর (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন এবং তাঁর হায়াতে বরকত দান করুন) সাথে কাটিয়েছিলাম।
হে দিশারি! জেনে রাখুন যে, আমি এই কথাগুলো পেশ করেছি ‘আস-সামারুদ দানি ফিয যাব্বি আনিল আলবানি’ (আলবানিকে রক্ষার ক্ষেত্রে নিকটবর্তী ফলসমূহ) গ্রন্থটি রচনার কারণ বর্ণনা করার জন্য। এটি একটি ইনসাফপূর্ণ প্রতিরক্ষা এবং একটি প্রশংসনীয় আত্মমর্যাদাবোধ যা আল্লাহর প্রশংসায় জাহেলি গোঁড়ামির অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা ‘ব্যক্তিত্বদের পদচ্যুত করার’ যুদ্ধ পূর্ণোদ্যমে চলছে। এটি এক নীচ ও জঘন্য যুদ্ধ, যাতে এর হোতারা মিথ্যাচার, নিফাক ও কুরুচিপূর্ণ আচরণের এমন সব পথ অবলম্বন করে যা আপনার কল্পনারও অতীত।
আর ‘ব্যক্তিত্বদের পদচ্যুত করার’ যুদ্ধ এক প্রাচীন যুদ্ধ; ইফক বা অপবাদের ঘটনা আপনার অজানা নয়। মুসলিমদের ওপর দিয়ে ইফকের ঘটনার চেয়ে বড় ও কঠিন কোনো পরীক্ষা আর কখনো অতিবাহিত হয়নি। আমাকে বিষয়টি আপনার কাছে স্পষ্ট করতে দিন।
ইমাম বুখারী (বিবাহ অধ্যায়) (৯/২৭৮ - ২৭৯) এবং ইমাম মুসলিম (তালাক অধ্যায়) (১৪৭৯/ ৩৪) যুহরির সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি সাওর খবর দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে, তিনি বলেন: “আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের মধ্যে সেই দুই নারী সম্পর্কে উমর ইবনুল খাত্তাবকে জিজ্ঞাসা করতে সর্বদা আগ্রহী ছিলাম, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: ‘তোমরা উভয়ে যদি আল্লাহর কাছে তওবা করো, তবে তোমাদের অন্তরসমূহ তো বিচ্যুত হয়েছেই।’ অতঃপর উমর এই হাদিসে বলেন: ‘আমি এবং বনী উমাইয়া ইবনে যাইদ গোত্রের একজন আনসারী প্রতিবেশী—যারা মদীনার উচ্চভূমির বাসিন্দা ছিল—আমরা পালাক্রমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যেতাম। সে একদিন যেত এবং আমি একদিন যেতাম। আমি যখন যেতাম, তখন ওহী বা অন্য যা কিছু সেদিন সংবাদ আসত, তা নিয়ে তার কাছে ফিরে আসতাম। আর সে যখন যেত, তখন সে-ও অনুরূপ করত... এরপর উমর বলেন: ‘আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলাম যে, গাসসান গোত্র আমাদের আক্রমণ করার জন্য ঘোড়ার খুর তৈরি করছে। আমার আনসারী সঙ্গীটি তার পালার দিনে নবীজির কাছে গেল এবং এশার সময় আমাদের কাছে ফিরে এসে আমার দরজায় সজোরে আঘাত করল...’
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
شَدِيدًا وَقَالَ أَثَمَّ هُوَ؟ فَفَزِعْتُ فَخَرَجْتُ إِلَيْهِ فَقَالَ: قَدْ حَدَثَ الْيَوْمَ أَمْرٌ عَظِيمٌ قُلْتُ مَا هُوَ أَجَاءَ غَسَّانُ قَالَ لَا بَلْ أَعْظَمُ مِنْ ذَلِكَ وَأَهْوَلُ طَلَّقَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهم عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نِسَاءَهُ
… "
إلى أن قال عمر: " فَخَرَجْتُ فَجِئْتُ إِلَى الْمِنْبَرِ فَإِذَا حَوْلَهُ رَهْطٌ يَبْكِي بَعْضُهُمْ فَجَلَسْتُ مَعَهُمْ. . . الحديث ".
قُلْتُ: فأنت تري فى هذا الحديث أن من الصحابة من كان يعتقد أن استيلاء غسَّان على المدينة أهون من تطليق النبى صلى الله عليه وسلم نساءه مع أن الطلاق مباح، بل جلس بعضهم يبكى حول المنبر لتكدُّر خاطره صلى الله عليه وسلم مع أنه لو طلقت بنت أحدهم لما بكى، فإذا كان الأمر كذلك، فكيف إذا اتهمت زوجة نبيهم صلى الله عليه وسلم بالزنى؟!
وهذا يدلك على ما كان الصحابة عليه من مراعاة النبي صلى الله عليه وسلم إلى الغاية القصوى.
فإذا نظرتَ الى ما حدث فى الإفك من رَمْى العفيفة المؤمنة أمِّ المؤمنين، حبيبة رسول الله صلى الله عليه وسلم وآثر نسائه عنده بهذه الداهية الدهياء، والفاقرة العظيمة، علمت ما حلَّ بالمجتمع المسلم كلِّه من البلاء العظيم والخطب الفادح، حتى أن النبى صلى الله عليه وسلم كرُب له، وطفق يستشير خاصته فى أمر عائشة بعد أن استلبث الوحى فسأل أسامة بن زيد فأشار على النبى صلى الله عليه وسلم بالذى يعلم من براءة عائشة وقال: يا رسول الله! أهلُك، وما نعلمُ إلا خيراً، وأما على بن أبى طالب فقال: يا رسول الله! لم يضيق الله عليك، والنساء سواها كثير وإن تسأل الجارية تصدقك. فدعا رسول الله صلى الله عليه وسلم بريرة، فقال: أى بريرةُ! هل رأيت من شىء يريبُك؟ قالت بريرة: لا والذى بعثك بالحق، ما رأيت عليها أمراً
জোরে এবং বললেন: তিনি কি সেখানে আছেন? তখন আমি আতঙ্কিত হয়ে তাঁর নিকট বেরিয়ে গেলাম। তিনি বললেন: আজ এক মহান ঘটনা ঘটে গিয়েছে। আমি বললাম: সেটি কী? গাসসান কি এসে পড়েছে? তিনি বললেন: না, বরং সেটি এর চেয়েও গুরুতর এবং ভয়াবহ; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন
... উমর (রা.)-এর এই কথা পর্যন্ত যে: "অতঃপর আমি বেরিয়ে মিম্বরের নিকট এলাম। সেখানে দেখলাম একদল লোক মিম্বরের চারপাশে বসে আছে এবং তাদের কেউ কেউ কাঁদছে। আমি তাদের সাথে বসলাম... হাদীস।"
আমি বলি: আপনি এই হাদীসে দেখছেন যে, সাহাবীগণের মাঝে এমন কেউ ছিলেন যারা মনে করতেন মদীনার ওপর গাসসানীদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়া নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীদের তালাক দেওয়ার চেয়েও সহজতর বিষয়, যদিও তালাক একটি বৈধ কাজ। বরং তাদের কেউ কেউ মিম্বরের চারপাশে বসে কাঁদছিলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মনোকষ্টের কারণে, অথচ তাদের নিজেদের কারো মেয়েকে তালাক দেওয়া হলে তারা কাঁদতেন না। বিষয়টি যদি এমন হয়, তবে যখন তাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অপবাদ দেওয়া হলো, তখন পরিস্থিতি কেমন হয়েছিল?!
এটি আপনাকে সাহাবীগণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি যে চরম পর্যায়ের শ্রদ্ধা ও খেয়াল রাখতেন, তা নির্দেশ করে।
অতঃপর আপনি যখন ইফকের (অপবাদ) ঘটনায় পবিত্রা মুমিন নারী, উম্মুল মুমিনীন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রিয়তমা এবং তাঁর নিকট সর্বাধিক প্রিয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে আরোপিত এই চরম বিপর্যয় ও ভয়াবহ সংকটের দিকে তাকাবেন, তখন বুঝতে পারবেন সমগ্র মুসলিম সমাজের ওপর কী কঠিন পরীক্ষা ও মহান বিপদ আপতিত হয়েছিল। এমনকি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেও এর ফলে অত্যন্ত ব্যথিত ও বিমর্ষ হয়ে পড়েছিলেন এবং ওহী আসতে বিলম্ব হওয়ায় আয়েশার ব্যাপারে তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের সাথে পরামর্শ করতে শুরু করলেন। তিনি উসামা ইবনে যায়েদকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আয়েশা (রা.)-এর পবিত্রতা সম্পর্কে যা জানতেন সে অনুযায়ী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে পরামর্শ দিলেন এবং বললেন: 'হে আল্লাহর রাসূল! আপনার পরিবার; আমরা তাঁর সম্পর্কে কল্যাণ ব্যতীত অন্য কিছুই জানি না।' আর আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) বললেন: 'হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আপনার ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি, তিনি ছাড়াও অনেক নারী রয়েছে। আপনি যদি দাসীকে জিজ্ঞাসা করেন তবে সে আপনার নিকট সত্য কথা বলবে।' তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বারীরাহকে ডাকলেন এবং বললেন: 'হে বারীরাহ! তুমি কি এমন কিছু দেখেছ যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে?' বারীরাহ বললেন: 'না, সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি তাঁর মধ্যে এমন কোনো আপত্তিকর বিষয় দেখিনি'
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
أغِمصُه عليها أكثر من أنها جارية حديثة السن، تنام عن عجين أهلها فتأتى الداجن تأكلُهُ. فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستعذر يومئذ من عبد الله بن أبى بن سلول، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو على المنبر: يا معشر المسلمين! من يَعْذرُنى من رجل بلغنى أذاه فى أهل بيتى؟ فوالله ما علمتُ على أهلى إلا خيرا، ولقد ذكروا رجلا ما علمت عليه إلَاّ خيراً، وما كان يدخل بيتى إلَاّ معى. فقام سعد بن معاذ الأنصارىُّ، فقال: يا رسول الله! أنا أعذرك منه، إن كان من الأوس ضربت عنقه، وإن كان من إخواننا من الخزرج أمرتنا ففعلنا أمرك. فقام سعد بن عبادة وهو سيِّدُ الخزرج فاحتملته الحمية، فقال لسعد ابن معاذ: كذبت لعمر الله! لا تقتلُهُ، ولا تقدر على قتله، فقام أسيد بن حضيرٍ - وهو ابن عم سعد بن معاذ - فقال لسعد بن عبادة: كذبت لعمر الله! لنقتلنَّهُ، فإنك منافق تجادل عن المنافقين، فتساور الحيًّان الأوس والخزرج حتى همُّوا أن يقتتلوا ورسول الله صلى الله عليه وسلم قائم على المنبر، فلم يزل رسول الله صلى الله عليه وسلم يخَفِّضُهم حتى سكتوا وسكت..)) . وفى حديث ابن عمر: " وقام سعد بن معاذ فسلَّ سيفه ".
قُلْتُ: فهذا التوتر الشديد الذى وقع بين الصحابة حتى كادوا أن يقتتلوا - مع أنهم ضربوا أروع الأمثلة فى المحبة والوفاء والإثار- يدلك على حجم المحنة التى عانوها، ولم يكن المقصود الأوَّل فى هذه المحنة هو إتهام عائشة رضى الله عنها، بقدر ما كان طعنا على النبى صلى الله عليه وسلم، وأن تحته امرأة يزن بها، ومع أن الزنى دون الشرك فى الإثم، إلا أن الزنا عار، ولذلك لا يعير أحد بأن أباه كافر، أو ابنه، فقد كان والد إبراهيم عليه السلام كافراً، ولم يعير به، وكان ابنُ نوح وامرأته كافرين، ولم يعير بهما، وكانت امرأة لوط كافرة، ولم يعير بها، بخلاف الزنى فإنه عار وشنار على أهله فى الدنيا قبل الآخرة. إن إسقاط ((الرمز)) أقلُّ مؤنةٍ على المنافقين من إحداث الشَّغَبِ فى المجتمع كلِّه،
আমি তাঁর মাঝে এর চেয়ে বেশি কোনো ত্রুটি দেখি না যে, তিনি একজন অল্পবয়সী কিশোরী; তিনি তাঁর পরিবারের আটার খামির রেখে ঘুমিয়ে পড়েন, আর গৃহপালিত পশু এসে তা খেয়ে ফেলে। সেদিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুলের ব্যাপারে বিচার চাইলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে দাঁড়িয়ে বললেন: হে মুসলিম সমাজ! এমন এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কে আমাকে সাহায্য করবে, যার কষ্টদায়ক কথা আমার পরিবার পর্যন্ত পৌঁছেছে? আল্লাহর কসম, আমি আমার পরিবার সম্পর্কে কেবল কল্যাণই জানি। আর তারা এমন এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছে, যার সম্পর্কেও আমি কেবল কল্যাণই জানি। সে তো কেবল আমার সাথেই আমার ঘরে প্রবেশ করত। তখন সাদ ইবনে মুয়াজ আনসারী দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে তার থেকে নিষ্কৃতি দেব। সে যদি আউস গোত্রের হয়, তবে আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেব। আর সে যদি আমাদের খাযরাজী ভাইদের কেউ হয়, তবে আপনি আমাদের নির্দেশ দিন, আমরা আপনার নির্দেশ পালন করব। তখন খাযরাজ গোত্রের নেতা সাদ ইবনে উবাদাহ দাঁড়ালেন। কিন্তু গোত্রীয় আবেগ তাকে উত্তেজিত করে তুলল। তিনি সাদ ইবনে মুয়াজকে বললেন: আল্লাহর কসম, তুমি মিথ্যা বলছ! তুমি তাকে হত্যা করবে না এবং তাকে হত্যা করার সামর্থ্যও তোমার নেই। এরপর উসাইদ ইবনে হুদাইর—যিনি সাদ ইবনে মুয়াজের চাচাতো ভাই—দাঁড়িয়ে সাদ ইবনে উবাদাহকে বললেন: আল্লাহর কসম, তুমিই মিথ্যা বলছ! আমরা অবশ্যই তাকে হত্যা করব। তুমি একজন মুনাফিক, তাই মুনাফিকদের পক্ষ নিয়ে বিতর্ক করছ। তখন আউস ও খাযরাজ—উভয় গোত্রই উত্তেজিত হয়ে উঠল, এমনকি তারা পরস্পর লড়াই করতে উদ্যত হলো। অথচ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের শান্ত করতে থাকলেন যতক্ষণ না তারা শান্ত হলো এবং তিনিও নীরব হলেন। আর ইবনে ওমরের বর্ণনায় রয়েছে: "সাদ ইবনে মুয়াজ দাঁড়িয়ে তাঁর তলোয়ার কোষমুক্ত করলেন।"
আমি বলছি: সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে এই যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল—যার ফলে তারা প্রায় মারামারিতে লিপ্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছিলেন—অথচ তারা ভালোবাসা, আনুগত্য ও ত্যাগের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন; এটি আপনাকে সেই পরীক্ষার ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে সাহায্য করে যা তারা ভোগ করেছিলেন। এই পরীক্ষার মূল লক্ষ্য কেবল আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ওপর অপবাদ দেওয়া ছিল না, বরং তার চেয়েও বড় উদ্দেশ্য ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর আঘাত হানা। অর্থাৎ (নাউজুবিল্লাহ) তাঁর অধীনে এমন একজন নারী রয়েছেন যিনি ব্যভিচারে লিপ্ত। যদিও পাপের দিক থেকে ব্যভিচার শিরকের চেয়ে ছোট, তবুও ব্যভিচার হলো একটি কলঙ্ক। এ কারণেই কারও পিতা কিংবা পুত্র কাফের হলে তাকে সেভাবে লজ্জিত করা হয় না। যেমন ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের পিতা কাফের ছিলেন, কিন্তু সেজন্য তাঁকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়নি। নূহ আলাইহিস সালামের পুত্র ও স্ত্রী কাফের ছিলেন, সেজন্য তাঁকে লজ্জিত করা হয়নি। লুত আলাইহিস সালামের স্ত্রী কাফের ছিল, তাকেও সেজন্য অপদস্থ করা হয়নি। কিন্তু ব্যভিচারের বিষয়টি ভিন্ন; এটি পরকালের আগে দুনিয়াতেই পরিবারের জন্য চরম লজ্জা ও অপমানের বিষয়। গোটা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেয়ে ‘আদর্শ ব্যক্তিত্ব’ বা ‘প্রতীকী পুরুষকে’ বিতর্কিত করা মুনাফিকদের জন্য অনেক সহজ ও কার্যকর কাজ।
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
لأن إسقاط الرمز فيه إهدارٌ لكل المبادىء التى يدعو اليها والمثل العليا التى يدندن حولها. وبعد هذا المعنى الذى جلًّيتُه لك، تستطيع أن تدرك لما ثار علماءُ المسلمين فى تركيا لما فرض كمال أتاتورك - قاتله الله - القبعة بدلا من العمامة؟ وقد جرت محاكمات لعلماء المسلمين، فكان مما حدث أن قاضى المحكمة قال لأحد العلماء: ما أتفهكم يا علماء الدين، لم هذه الثورة؟ أمن أجل أننا استبدلنا القبعة بالعمامة؟ وما الفرق بينهما، فهذا قماش وهذا قماشٌ. فقال له العالم: أيها القاضى! إنك تحكم علىَّ وخلفك علم تركيا، فهل تستطيع أن تستبدله بعلم إنجلترا وهذا قماش، وهذا قماش؟! فبهت القاضى الظالم، ولم يُحِرْ جواباً. ولو تأملت الطواف حول الكعبة، والسعى بين الصفا والمروة ورمى الجمار، فهذا كلُّه إحياءٌ للرمز، لنأخذ منه العبرة. ومما يجدر أن نلفت النظر اليه، وهو يتعلق بقضية ((الرمز)) ، وفيه عبرةٌ - أيما عبرة - أن شيخنا الألبانى حفظه الله كان قد سئل منذ سنتين من بعض شباب فلسطين، قالوا له: إننا نلقى شدة وعنتا فى عبادة الله مع وجود اليهود فى أرضنا، حتى أن الواحد منا لا يكاد يصلى من الخوف على نفسه، فما الحلُّ؟ قال الشيخ: اخرجوا من بلادكم إلى أماكن أخرى تقيمون فيها دين الله عز وجل، وأعدوا أنفسكم لترجعوا إلى بلادكم فاتحين فاستغلَّ جماعة من أهل الأهواء هذه الإجابة وأشاعوا بين العوام الطغام أن الشيخ يوجب على أهل فلسطين من العرب المسلمين أن يخرجوا ويتركوا أرضهم لليهود، وقا مت الدنيا ولم تقعد زماناً طويلاً، وكاد الشيخ أن يطرد من " عمان " بسبب هذه الفتوى التى حرفوها، وتلقفت هذه الفتوى المحرفة إذاعة إسرائيل، فقدم المذيع ترجمة للشيخ الألبانى وذكر أنه أكبر محدث فى العالم الإسلامى وقد أفتى بكذا وكذا، فسمع بعض إخواننا ممن كنت أظنه من أهل التحرى هذا الثناء والفتوى من إذاعة إسرائيل ثم جاءنى وقال
أنا عاتبٌ على الشيخ الألبانى
কারণ প্রতীকের পতন বা অবমূল্যায়ন হলো সেই সমস্ত মূলনীতি ও উচ্চাদর্শের অবমাননা যেগুলোর দিকে সে আহ্বান জানায় এবং যার চারপাশে সে আবর্তিত হয়। আমি আপনার সামনে যে বিষয়টি স্পষ্ট করলাম, এরপর আপনি বুঝতে সক্ষম হবেন যে কেন তুরস্কের মুসলিম আলেমগণ বিদ্রোহ করেছিলেন যখন কামাল আতাতুর্ক—আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন—পাগড়ির পরিবর্তে টুপির (হ্যাট) বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছিল? আলেমদের বিচারকার্য শুরু হয়েছিল; সেই সময় যা ঘটেছিল তা হলো, আদালতের বিচারক একজন আলেমকে বলেছিলেন: "হে দ্বীনি আলেম সমাজ, আপনারা কতই না তুচ্ছ! কেন এই বিদ্রোহ? আমরা পাগড়ির বদলে হ্যাট চালু করেছি বলেই কি এই হাঙ্গামা? এ দুটির মধ্যে পার্থক্যই বা কী? এটাও কাপড়, ওটাও তো কাপড়।" তখন সেই আলেম তাকে বললেন: "হে বিচারক! আপনি আমার বিচার করছেন এমতাবস্থায় যে আপনার পেছনে তুরস্কের পতাকা শোভা পাচ্ছে; আপনি কি এই পতাকাকে ইংল্যান্ডের পতাকা দিয়ে পরিবর্তন করতে পারবেন? এটাও তো কাপড়, ওটাও তো কাপড়!" তখন সেই জালেম বিচারক কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লেন এবং কোনো উত্তর দিতে পারলেন না। আপনি যদি কাবার চারদিকে তাওয়াফ করা, সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ী করা এবং জামারাতে পাথর নিক্ষেপের বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করেন, তবে দেখবেন এগুলো সবই হচ্ছে প্রতীকের পুনরুজ্জীবন, যেন আমরা তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি। প্রতীকের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং যাতে বিরাট শিক্ষা রয়েছে এমন একটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা জরুরি; তা হলো, আমাদের শাইখ আলবানী (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) আজ থেকে দুই বছর আগে ফিলিস্তিনের কিছু যুবকের দ্বারা জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন। তারা বলেছিল: "আমাদের জমিনে ইহুদিদের উপস্থিতিতে আমরা আল্লাহর ইবাদত করার ক্ষেত্রে চরম কাঠিন্য ও কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছি। এমনকি আমাদের কেউ কেউ নিজের জীবনের ভয়ে ঠিকমতো সালাত আদায় করতে পারছে না; এমতাবস্থায় এর সমাধান কী?" শাইখ বলেছিলেন: "তোমরা তোমাদের ভূখণ্ড থেকে এমন সব জায়গায় চলে যাও যেখানে তোমরা মহান আল্লাহর দ্বীন কায়েম করতে পারবে এবং নিজেদের এমনভাবে প্রস্তুত করো যেন তোমরা বিজয়ী হিসেবে পুনরায় নিজ দেশে ফিরে আসতে পারো।" এরপর একদল প্রবৃত্তি পূজারী এই উত্তরকে পুঁজি করে সাধারণ ও নিম্নশ্রেণীর মানুষের মাঝে রটিয়ে দিল যে, শাইখ ফিলিস্তিনি আরব মুসলিমদের জন্য দেশ ত্যাগ করা এবং ইহুদিদের জন্য তাদের ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়াকে ওয়াজিব বা আবশ্যক করে দিয়েছেন। এ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রচণ্ড তোলপাড় শুরু হয়। এমনকি এই বিকৃত ফতোয়ার কারণে শাইখকে প্রায় 'আম্মান' থেকে বহিষ্কার করার উপক্রম হয়েছিল। ইসরায়েলের রেডিও এই বিকৃত ফতোয়াটি লুফে নেয় এবং উপস্থাপক শাইখ আলবানীর একটি পরিচিতি তুলে ধরে উল্লেখ করেন যে, তিনি ইসলামি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুহাদ্দিস এবং তিনি এই এই ফতোয়া দিয়েছেন। আমাদের কিছু ভাই—যাদের আমি সত্যানুসন্ধানী মনে করতাম—তারা ইসরায়েলি রেডিও থেকে এই প্রশংসা ও ফতোয়া শোনার পর আমার কাছে এসে বললেন:
আমি শাইখ আলবানীর ওপর রাগান্বিত ও ক্ষুব্ধ।
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
كيف أفتى بكذا وكذا؟ فقلت له: ومن أين سمعت الفتوى؟ قال: من إذاعة إسرائيل!
قلت: سبحان الله! أيتهم الشيخ الثقة العدل عندك بنقل يهودىّ؟ ما لكم، وأين ذهبت عقولكم؟ وكان ينبغى ألَاّ تتوقف فى تكذيب اليهودى، ثم تنظر الى حقيقة الأمر، هذا هو الأصل، وقد قال الله تعالى: ? إن جاءكم فاسق بنبأ فتبينوا? فكيف بالكافر المحارب، الذى يستغل مثل هذا التحريف الذى تولى كبره نفرٌ ممن ينتسبون إلى بعض الأحزاب الإسلامية، ليسقط ((الرمز)) ؟
وماذا يكون لو أسقطنا الشيخ الألبانى، والشيخ ابن باز ومن على شاكلتهما من العلماء العاملين، هل يريدون أن تكون أمَّتُنَا ثُلَّةً من الغلمان بلا رُءوس؟ ويرحم الله أبا حنيفة إذ مر على جماعة يتفقهون، فقال: ألهم رأسٌ؟ قالوا: لا. قال: إذن لا يفلحون أبدا.
أخرجه الخطيب فى " الفقيه والمتفقه " (790)
ولله درُّ القاضى عبد الوهاب بن على المالكى رحمه الله إذ يقول:
متى يصلُ العِطاشُ الى ارتواءٍ
… إذا استَقَتِ البحارُ من الرَّكايَا
ومن يُثْنِى الأصاغِرَ عن مُرادٍ
… إِذا جلس الأكابرُ فى الزَّوايَا
وإنَّ ترفع الوضَعَاء يوماً
… على الرُّفَعَاء من إحدى الرَّزَايَا
إذا استوتِ الأسافلُ والأعالى
… فقد طابت مُنَادَمَةُ المَنَايا
কীভাবে তিনি এই এই বিষয়ে ফতোয়া দিলেন? আমি তাকে বললাম: আপনি এই ফতোয়া কোত্থেকে শুনেছেন? সে বলল: ইসরায়েল রেডিও থেকে!
আমি বললাম: সুবহানাল্লাহ! আপনার কাছে একজন নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ শায়খ কি একজন ইহুদির সংবাদের ভিত্তিতে অভিযুক্ত হবেন? আপনাদের কী হয়েছে, আর আপনাদের বুদ্ধি কোথায় হারিয়ে গেল? ইহুদিকে মিথ্যা সাব্যস্ত করতে আপনাদের বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করা উচিত ছিল না, অতঃপর বিষয়টির বাস্তবতা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন ছিল—এটাই মূল নীতি। আর মহান আল্লাহ তো বলেছেন: "যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করে দেখ।" তাহলে সেই যুদ্ধরত কাফেরের অবস্থা কেমন হবে, যে এই ধরণের বিকৃতিকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে—যার মূল দায়ভার গ্রহণ করেছে এমন কিছু লোক যারা নিজেদের কিছু ইসলামি দলের অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করে—যাতে তারা উম্মাহর "প্রতীক" বা ব্যক্তিত্বদের পতন ঘটাতে পারে?
আর কী-ই বা হবে যদি আমরা শায়খ আলবানি, শায়খ ইবনে বাজ এবং তাঁদের মতো আমলকারী আলেমদের পতন ঘটাই? তারা কি চায় আমাদের উম্মাহ হবে এমন একদল যুবক যাদের কোনো শীর্ষস্থানীয় অভিভাবক নেই? আল্লাহ ইমাম আবু হানিফার প্রতি রহম করুন; তিনি একদল লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা ফিকহ চর্চা করছিল, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তাদের কি কোনো প্রধান আছে?" তারা বলল: "না।" তিনি বললেন: "তবে তারা কখনোই সফল হবে না।"
খতিব এটি বর্ণনা করেছেন ‘আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ’ গ্রন্থে (৭৯০)।
আর কাজী আব্দুল ওয়াহাব বিন আলী আল-মালিকি (রহিমাহুল্লাহ) কতই না চমৎকার বলেছেন যখন তিনি বলেন:
তৃষ্ণার্তরা কখন তৃপ্তি লাভ করবে
… যদি সমুদ্রগুলো ছোট কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করে?
আর ছোটদের তাদের সংকল্প থেকে কে ফেরাবে
… যখন বড়রা কোণঠাসা হয়ে নির্জনে বসে থাকবে?
আর একদিন নীচ লোকেদের উচ্চমর্যাদাবানদের উপরে উঠে যাওয়া
… এক ভয়াবহ বিপদের অন্তর্ভুক্ত।
যখন অধম এবং উত্তমরা সমান হয়ে যায়
… তখন মৃত্যুর সাথে মিতালি করাই সুখকর হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وأخرج قاسم بنُ أصبغُ فى " مصنفه " (1) بسندٍ صحيح - كما قال الحافظ فى " الفتح " (1/ 301 - 302) عن عمر بن الخطاب قال: " فسادُ الدين إذا جاء العلمُ من قبل الصغير، استعصى عليه الكبيرُ، وصلاحُ الناس إذا جاء العلم من قِبَل الكبير، تابعه عليه الصغير ".
وأخرج ابن عبد البر فى " جامع العلم " (1 / 159) عن ابن مسعود قال: " إنكم لن تزالوا بخيرٍ ما دام العلم فى كباركم، فإذا كان العلم فى صغاركم سفَّه الصغير الكبير "، وجاء هذا المعنى عن غير واحد من الصحابة. وقد حدث ما توقَّعه هؤلاء الصحابة الكرام، وهاك بيان ذلك:
فلقد ظلَّ علم الحديث زماناً طويلاً علماً مرغوباً عنه لصعوبته، ولأنه يحتاج الى ملكةٍ لا تستقيم لصاحبها إلا بالدربة وإدمان النظر مع إمكان الوصول إلى الأسانيد التى هى روح هذا العلم، ومن المعلوم أن رأس مال المحدث هو الإسناد، وليس له ديوانٌ جامعٌ حافظٌ، بل هو مفرقٌ فى عشرات الألوف من الصحاح، والمسانيد، والمعاجم، والمشيخات، وكتب التواريخ، والأجزاء الحديثية وغير ذلك، ولو قدرنا أن رجلاً ملك هذا العدد من الكتب فلابد من تقريبه وفهرسته على أطراف الأحاديث حتى يتسنى له الانتفاع بها، وهذا جهد على جهد، قد يستغرق عمره كله أو أكثره، فمتى يحقق ويُخرِّجُ ويوفق بين الأقوال المتعارضة؟ ، ثم يسأل الدارس نفسه سؤالا: وماذا بعد هذا، فلا وظيفة ولا كَسْبَ، ولذلك أقبل الناس على دراسة الفقه، لأن دارسه يحصل وظيفةً، فيعمل مفتياً أو واعظاً أو مدرساً، أو إمام مسجدٍ، ونحو ذلك.
--------------------------------------------
কাসিম ইবন আসবাগ তাঁর "মুসান্নাফ"-এ (১) একটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন—যেমনটি হাফিয ইবন হাজার "আল-ফাতহ" (১/৩০১-৩০২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "দ্বীনের বিপর্যয় ঘটে যখন ছোটদের (স্বল্পজ্ঞানী বা অল্পবয়স্ক) পক্ষ থেকে ইলম আসে, তখন বড়রা (প্রাজ্ঞ বা বয়োজ্যেষ্ঠরা) তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। আর মানুষের সংশোধন হয় যখন বড়দের পক্ষ থেকে ইলম আসে, তখন ছোটরা তাদের অনুসরণ করে।"
ইবন আবদিল বার তাঁর "জামি'উল ইলম" (১/১৫৯) গ্রন্থে ইবন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "তোমরা ততক্ষণ কল্যাণের ওপর থাকবে যতক্ষণ ইলম তোমাদের বড়দের মাঝে থাকবে। যখন ইলম তোমাদের ছোটদের মাঝে চলে আসবে, তখন ছোটরা বড়দের মূর্খ প্রতিপন্ন করবে।" একাধিক সাহাবী থেকে এই একই মর্ম বর্ণিত হয়েছে। এই সম্মানিত সাহাবীদের আশঙ্কাটি বর্তমানে বাস্তবে পরিণত হয়েছে, আর তার বর্ণনা নিম্নরূপ:
দীর্ঘ সময় ধরে ইলমে হাদীস ছিল একটি অনাগ্রহের বিষয় এর কঠিন হওয়ার কারণে। কারণ এর জন্য এমন এক যোগ্যতার প্রয়োজন যা অর্জিত হয় কেবল দীর্ঘ অনুশীলন এবং গভীর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে, সাথে সনদের নিকট পৌঁছানোর সুযোগ থাকাও জরুরি, যা এই ইলমের প্রাণ। এটি সর্বজনবিদিত যে, একজন মুহাদ্দিসের মূল পুঁজি হলো সনদ, আর এর কোনো একটি সংকলিত দিওয়ান বা সংকলন নেই যা সব কিছু সংরক্ষণ করে; বরং এটি দশ হাজারেরও বেশি সহীহ গ্রন্থ, মুসনাদ, মু'জাম, মাশায়াখাত, ইতিহাসের কিতাব এবং হাদীসের বিভিন্ন ছোট ছোট অংশ (আযজা) ও অন্যান্যের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। যদি আমরা ধরি যে কোনো এক ব্যক্তি এত অধিক সংখ্যক কিতাবের মালিক হয়েছেন, তবুও হাদীস থেকে উপকৃত হওয়ার উপযোগী করার জন্য সেগুলোকে বিন্যস্ত করা এবং হাদীসের শুরুর অংশের (আতরাফ) ভিত্তিতে সূচিবদ্ধ করা অপরিহার্য। এটি পরিশ্রমের ওপর চরম পরিশ্রম, যা তার পুরো জীবন বা জীবনের অধিকাংশ সময় কেড়ে নিতে পারে। তাহলে কখন সে তাহকীক করবে, তাখরীজ করবে এবং বিরোধপূর্ণ বক্তব্যগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে? এরপর শিক্ষার্থী নিজেকে প্রশ্ন করে: এত কিছুর পর কী হবে? না আছে কোনো চাকরি, না আছে উপার্জনের পথ। এই কারণেই মানুষ ফিকহ অধ্যয়নের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল, কারণ এর শিক্ষার্থী কর্মসংস্থান লাভ করে—সে মুফতী, ওয়ায়েজ, শিক্ষক অথবা মসজিদের ইমাম হিসেবে কাজ করতে পারে এবং অনুরূপ আরও অনেক কিছু।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وأما دارس الحديث فلا ينتظره شىءٌ. وتستطيع أن تدرك هذا الأمر إذا نظرت إلى غالب المدارس التى بُنيتْ فى بلاد المسلمين قديما مثل مدرسة نظام الملك فى بغداد، فتجد عنايتهم كانت بعلم الكلام والفقه وأصوله. وأنت ترى هذا الإهمال لعلم الحديث واضحا جليا فى مناهج الأزهر، وهو امتداد للمدارس القديمة التى أشرتُ إليها، فلم نر فى عصرنا ولا قبله رجلا أزهريا نبغ فى علوم الحديث إلا الشيخ أبا الأشبال أحمد شاكر رحمه الله، ولم يكن نبوغُهُ بسبب دراسته فى الأزهر، بل بسبب توجُّهه الشخصى إلى هذا العلم.
وفى السنوات العشر الأخيرة حدثت نهضةٌ حديثيةٌ، من أهم سماتها طبع مئات الكتب المسندة والأجزاء الحديثية، بحيث يحق لى أن أزعم أنه طبع فى هذه السنوات العشر ما لم يطبع مثله فى مائة عامٍ مضت، وصحب ذلك نهضة أخرى فى تقريب هذه الكتب وهى عمل موسوعات لأطراف الأحاديث، فصار هذا العلم قريب المنال، سهل المأخذ لأى طالب حتى لو كان بليداً غبىًّ الذهن، أبعد الخلق من هذا العلم !
وكان الأمر قبْل ثلاثين سنةً مختلفًا تمام الإختلاف عنه اليوم، وخذ مثلاً: فمسند الإمام أحمد رحمه الله مطبوعٌ فى ستة أجزاء كبارٍ، وبخطٍ دقيقٍ، وهو مرتبٌ على مسانيد الصحابة وليس على الأبواب، فلو أراد أفحلُ محدِّثٍ فى الدنيا - ولا يعتمد على حفظه - أن يتأكد من عزو حديث مَّا إلى " المسند " فإن هذا يكلفُهُ مراجعة مسند الصحابىِّ راوى الحديث وقد يكون من المكثرين مثلَ أبى هريرة وابن عمر وعائشة وغيرهم، فكم من الوقت ينفقُهُ ليتأكد من عزو حديثٍ واحدٍ إلى كتابٍ واحدٍ؟ وقد لا يظفرُ بطِلْبتَه بعد هذا المجهود ويكون الإمام أدرج الحديث فى مسند صحابىِّ آخر لغرضٍ طرأ
আর হাদিস অধ্যয়নকারীর জন্য বিশেষ কিছু অপেক্ষা করে থাকে না। আপনি এই বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারবেন যদি মুসলিম ভূখণ্ডে প্রাচীনকালে নির্মিত অধিকাংশ মাদরাসার দিকে লক্ষ্য করেন, যেমন বাগদাদের নিযামুল মুলক মাদরাসা; তবে দেখবেন যে তাদের মনোযোগ নিবদ্ধ ছিল ইলমুল কালাম, ফিকহ এবং উসূলে ফিকহের প্রতি। আপনি হাদিস শাস্ত্রের প্রতি এই অবহেলা আল-আজহারের পাঠ্যক্রমেও স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন, যা আমি ইতোপূর্বে উল্লিখিত প্রাচীন মাদরাসাগুলোরই একটি সম্প্রসারিত রূপ। তাই আমাদের যুগে বা তার আগে শেখ আবুল আশবাল আহমদ শাকির (রহিমাহুল্লাহ) ব্যতীত আমরা এমন কোনো আজহারি ব্যক্তিকে দেখিনি যিনি হাদিস শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছেন। আর তার এই ব্যুৎপত্তি আল-আজহারে পড়াশোনার কারণে ছিল না, বরং এই শাস্ত্রের প্রতি তার ব্যক্তিগত ঝোঁকের কারণেই ছিল।
গত দশ বছরে একটি হাদিস ভিত্তিক পুনর্জাগরণ ঘটেছে, যার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শত শত মুসনাদ গ্রন্থ এবং হাদিসের ক্ষুদ্র সংকলন (আজজা) মুদ্রিত হওয়া। এমতাবস্থায় আমার জন্য এটি দাবি করা সঙ্গত হবে যে, এই দশ বছরে যা মুদ্রিত হয়েছে তা গত একশ বছরেও হয়নি। এর পাশাপাশি এই গ্রন্থগুলোকে সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে আরেকটি জাগরণ সূচিত হয়েছে, আর তা হলো হাদিসের আদ্যাক্ষর বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের (আতরাফ) ওপর বিশ্বকোষ তৈরি করা। ফলে এই শাস্ত্রটি এখন যেকোনো শিক্ষার্থীর নিকট নিকটবর্তী এবং সহজলভ্য হয়ে উঠেছে, এমনকি সে যদি স্থবির ও নির্বুদ্ধিসম্পন্ন এবং এই শাস্ত্র থেকে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে দূরবর্তী ব্যক্তিও হয়ে থাকে!
ত্রিশ বছর আগে বিষয়টি বর্তমান সময়ের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। উদাহরণস্বরূপ ধরুন: ইমাম আহমদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর মুসনাদ গ্রন্থটি ছয়টি বড় খণ্ডে এবং অতি ক্ষুদ্র হরফে মুদ্রিত ছিল। আর এটি অধ্যায়ভিত্তিক নয়, বরং সাহাবিদের মুসনাদ অনুযায়ী বিন্যস্ত। সুতরাং দুনিয়ার সবচেয়ে বড় মুহাদ্দিসও যদি তার মুখস্থ শক্তির ওপর নির্ভর না করে কোনো একটি হাদিস "মুসনাদ"-এর অন্তর্ভুক্ত কি না তা নিশ্চিত করতে চাইতেন, তবে তাকে হাদিসের বর্ণনাকারী সাহাবির মুসনাদটি খুঁজে বের করতে হতো। আর সেই সাহাবি যদি আবু হুরাইরা, ইবনে উমর বা আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মতো অধিক হাদিস বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতেন, তবে একটি হাদিসকে একটি নির্দিষ্ট গ্রন্থের সাথে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তাকে কতটুকু সময় ব্যয় করতে হতো? এমনকি এত প্রচেষ্টার পরেও হয়তো তিনি তার কাঙ্ক্ষিত হাদিসটি খুঁজে পেতেন না, কারণ ইমাম হয়তো কোনো আকস্মিক বিশেষ কারণে হাদিসটিকে অন্য কোনো সাহাবির মুসনাদে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
له، مثل اتحاد المتن، أو بيان الاختلاف فى سنده (1) أو نحو ذلك.
فلو أن هذا الحديث رواه أئمةٌ آخرون، ويريد المحدث أن ينظر فى ألفاظه، أو متابعات الرواة فكم من الوقت يحتاجه ليتم له ما يريد فى حديث واحدٍ؟ !
ولذلك فرح المشتغلون بالحديث أيَّما فرح لما طُبع كتاب " مفتاح كنوز السنة " فكتب الشيخ محمد رشيد رضا رحمه الله مقدمة له، أذاع فيها اغتباطه بطبعه، وكان مما قاله (ص 8) : " ولو وُجد بين يدىَّ مثل هذا المفتاح لسائر كتب الحديث، لوفر على أكثر من نصف عمرى الذى أنفقته فى المراجعة " اهـ.
وقال الشيخ أبو الأشبال أحمد شاكر رحمه الله فى مقدمته لهذا الكتاب (ص 23 - 24) بعد أن ذكر بعض صعوبات الكشف فى الكتب عن الأحاديث قال: " وما لنا نضرب المثل بهما - يعنى: بمسند أحمد وطبقات
--------------------------------------------
তার জন্য, যেমন মতন (মূল পাঠ) এক হওয়া, অথবা এর সনদের (বর্ণনাসূত্র) পার্থক্য বর্ণনা করা (১) অথবা অনুরূপ কিছু।
যদি এই হাদিসটি অন্য ইমামগণও বর্ণনা করে থাকেন, আর কোনো মুহাদ্দিস যদি এর শব্দাবলি অথবা বর্ণনাকারীদের মুতাবা'আত (অনুসরণকারী বর্ণনা) দেখতে চান, তবে একটি মাত্র হাদিসের ক্ষেত্রে যা তিনি চাচ্ছেন তা সম্পন্ন করতে তার কতটুকু সময়ের প্রয়োজন হবে?!
এ কারণেই হাদিস নিয়ে চর্চাকারীরা অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন যখন "মিফতাহু কুনুযিস সুন্নাহ" কিতাবটি মুদ্রিত হলো। শেখ মুহাম্মদ রশিদ রিদা (রহিমাহুল্লাহ) এর একটি ভূমিকা লিখেছিলেন, যাতে তিনি এর মুদ্রণে নিজের গভীর আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি যা বলেছিলেন (পৃ. ৮) তার মধ্যে ছিল: "যদি আমার সামনে হাদিসের অন্যান্য কিতাবসমূহের জন্য এমন কোনো চাবিকাঠি থাকত, তবে এটি আমার জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় সাশ্রয় করত যা আমি তালাশ ও পর্যালোচনায় ব্যয় করেছি।" সমাপ্ত।
শেখ আবু আল-আশবাল আহমদ শাকির (রহিমাহুল্লাহ) এই কিতাবের ভূমিকায় (পৃ. ২৩ - ২৪) কিতাবসমূহ থেকে হাদিস খুঁজে বের করার কিছু অসুবিধার কথা উল্লেখ করার পর বলেন: "আমাদের কী হয়েছে যে আমরা এই দুটির উদাহরণ দিচ্ছি - অর্থাৎ: মুসনাদে আহমাদ এবং তাবাকাত..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ابن سعد - والصعوبات فيها معروفة؟ وأمامنا الكتب الأخرى المرتبة على الأبواب، كالكتب الستة وغيرها، فكثيراً ما يعجز الممارس لها عن الوصول إلى حديث بعينه يبغيه فيها. وها أنا اشتغل بعلوم الحديث منذ خمس وعشرون سنةً، وقد تلقيت منها سماعاً وقراءةً عن أعلام وكبار من الشيوخ، وفي مقدمتهم والدى الأستاذ الجليل السيد محمد شاكر وكيل الجامع الأزهر سابقا حفظه الله، والحافظ الكبير العلَاّمة السيد عبد الله بن إدريس السنوسى، عالم مراكش، وشيخ شيوخها رحمه الله، ومع ذلك فإنى طالما أعيانى تطلب بعض الأحاديث فى مظانها، وأغرب من هذا أنى لبثت نحو خمس سنين وانا أطلب حديثا معينا في " سنن الترمذى "، وهو كتاب تلقيته كله عن والدي سماعاً، ولى به شبهُ إختصاصٍ، وكبير عناية، فهذه الكتب كانت بين يدىْ من لم تطلْ مدارستُه لها كالصناديق المغلقة، لا يعلم من أين يصل إلى ما فيها. . .)) انتهى
ولا يفوتنى أن أقول إن كتاب " مفتاح كنوز السنة " يعد الأن من الفهارس (المتواضعة) بالنسبة لما ظهر من الفهارس، فكيف بعد استخدام الحاسب الآلى " الكمبيوتر" فى هذا الأمر؟!
وقد أدرك شيخنا الألباني حفظه الله هذا الإعواز، فهداه الله عز وجل إلى عمل معجمٍ لأطراف الأحاديث من الكتب المخطوطة والمطبوعة، يشى بهمةٍ عاليةٍ وصبرٍ نافذٍ، ولذلك كان له من الحظوة والشهرة في هذا العلم مالم يكن لأبى الأشبال ولا للشيخ عبد الرحمن بن يحيى المعلمى اليمانى، وهما من نوابغ علماء الحديث فى هذا العصر.
فقرَّب الشيخ الألبانى السُّنة بكثرة تخاريجه، والكلام على الأسانيد ومناقشة العلماء فى عللها، وهو صاحب مدرسة فى التخريج جمع فيها بين القديم
ইবনে সাদ—এবং এতে যে অসুবিধাগুলো রয়েছে তা কি সবারই জানা নয়? আমাদের সামনে অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত অন্যান্য কিতাব রয়েছে, যেমন কুতুবুস সিত্তাহ ও অন্যান্য; কিন্তু অনেক সময় এগুলোতে নিয়মিত চর্চাকারী ব্যক্তিও তার কাঙ্ক্ষিত নির্দিষ্ট কোনো হাদিস খুঁজে পেতে ব্যর্থ হন। আমি পঁচিশ বছর ধরে হাদিস শাস্ত্র নিয়ে কাজ করছি এবং প্রখ্যাত ও বড় বড় শায়খদের থেকে শ্রবণ ও পাঠের মাধ্যমে তা গ্রহণ করেছি। তাঁদের অগ্রভাগে ছিলেন আমার শ্রদ্ধেয় পিতা আল-উস্তায আস-সাইয়্যেদ মুহাম্মদ শাকির, যিনি জামে আজহারের প্রাক্তন ওয়াকিল (ডেপুটি) ছিলেন, আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন; এবং বড় হাফেজ আল্লামা সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ ইবনে ইদ্রিস আস-সানুসি, যিনি মরক্কোর আলেম এবং সেখানকার শায়খদেরও শায়খ ছিলেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন। তা সত্ত্বেও, অনেক সময় কোনো হাদিস তার সম্ভাব্য উৎস থেকে খুঁজে বের করতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। এর চেয়েও বিস্ময়কর বিষয় হলো, আমি প্রায় পাঁচ বছর ধরে ‘সুনানে তিরমিজি’তে একটি নির্দিষ্ট হাদিস খুঁজছিলাম, অথচ এই পুরো কিতাবটিই আমি আমার পিতার নিকট থেকে শ্রবণের মাধ্যমে পাঠ করেছি এবং এর ওপর আমার বিশেষ বুৎপত্তি ও গভীর মনোযোগ রয়েছে। সুতরাং যাদের এই কিতাবগুলো নিয়ে দীর্ঘ পাঠ-অভ্যাস নেই, তাদের কাছে এগুলো তালাবদ্ধ সিন্দুকের মতো; তারা জানে না এর ভেতরে যা আছে তা কীভাবে আয়ত্ত করতে হবে... সমাপ্ত।
আর আমি একথা উল্লেখ না করে পারছি না যে, ‘মিফতাহ কুনুজুস সুন্নাহ’ কিতাবটি বর্তমানে প্রকাশিত নির্ঘণ্টগুলোর (ইনডেক্স) তুলনায় অত্যন্ত সাধারণ বা নগণ্য বিবেচিত হয়; তাহলে এই ক্ষেত্রে কম্পিউটার বা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের পর পরিস্থিতি কেমন হবে?!
আমাদের শায়খ আলবানি (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন) এই অভাবটি উপলব্ধি করেছিলেন। অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁকে পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত কিতাবসমূহ থেকে হাদিসের প্রারম্ভিক অংশের একটি নির্ঘণ্ট (মুজামু আতরাফিল হাদিস) তৈরির তাওফিক দিয়েছেন, যা তাঁর সুউচ্চ হিম্মত ও প্রখর ধৈর্যের প্রমাণ দেয়। একারণেই এই শাস্ত্রে তিনি এমন গ্রহণযোগ্যতা ও প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন যা আবুল আশবাল কিংবা শায়খ আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমি আল-ইয়ামানির ভাগ্যে জোটেনি, যদিও তাঁরা উভয়েই এই যুগের হাদিস শাস্ত্রের প্রতিভাবান আলেম ছিলেন।
শায়খ আলবানি তাঁর প্রচুর পরিমাণে হাদিসের উৎস অনুসন্ধান (তাখরিজ), সনদ নিয়ে আলোচনা এবং ইল্লাত বা সূক্ষ্ম ত্রুটি নিয়ে আলেমদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সুন্নাহকে সহজবোধ্য করে দিয়েছেন। তিনি তাখরিজের ক্ষেত্রে এমন এক স্বতন্ত্র ঘরানার অধিকারী ছিলেন যেখানে তিনি প্রাচীন পদ্ধতির সাথে...
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والحديث. ولا أعلم أحد له مساس بهذا العلم إلَاّ وللشيخ عليه فضلٌ دقَّ أو جلَّ، حتى أنَّ حاسديه يستفيدون من علمه ويحطون عليه، وأغلب تخاريجهم مسروقةٌ من كتبه، ويعلم هذه الحقيقة من له ممارسهٌ لكتب الشيخ وقد ظلَّ الشيخ مُعَظَّمَا معافى حتى انتشر هذا العلم، وكثرت فهارس الكتب، واستطاع أصغر الطلبة أن يعزو الحديث - بدلالة الفهرس - إلى كتب لم يطلع عليها كثيرٌ من الحفاظ القدامى فضلاً عن المحدثين وبان لهذه الظاهرة الإيجابية - وهى الاقبال على دراسة الحديث - وجهٌ سلبى بغيضٌ.
قُلتُ قبل ذلك: إنَّ رأس مال المحدث هو الإسناد، وهو مبعثر ٌ في عشرات الألوف من الكتب والأجزاء، ومن المستحيل على رجلٍ واحدٍ أن يستحضر كلَّ ما فى هذه الكتب حال تحقيقه للحديث، فربما ضعَّف الحديث ولم يقف له علة شاهد، أو يجزم بتفرُّد أحد رواته به، ويكون له متابعون، أو يغفلُ فيُبرمُ فى موضعٍ ما ينقضه فى موضع آخر، لبعد ما بين الموضعين فى التدوين، أو يَتَغيَّرُ اجتهاده، وهذا كان يقع لكبار الحفاظ والأئمة الفضلاء الذين هم معدنُ العلم، فلما انتشرت الفهارس العلمية، وتمكن صغار الطلبة من الوصول إلى مواضع الحديث فيها، كثر تعقبهم للعلماء، مع إساءة الأدب معهم، واتهامهم بالغفلة والتقصير والجهل والتجاهل، إلى آخر هذه الألفاظ التى كثرت فى السنوات العشر الأخيرة.
وقد ذكَّرنى انتشار الفهارس ومضرتها بكلمةٍ قالها التابعىُّ الجليل محمد بن سيرين رحمه الله لما انتشرت الكتابه فقال: " وددت أن الأيدى قطعت فى الكتابة " قيل له: لم؟ قال: لأنها ضيعت الحفظ! ولست أجحدُ فائدة الفهارس، وأنَّها سهَّلت على أهل العلم مهمتهم، وأشاعت بين العامة الاهتمام بالسنة، والبحث عن صحيحها وسقيمها ولكن: ((لكل شىء إذا
...এবং হাদিস। আমি এমন কাউকে জানি না যার এই শাস্ত্রের সাথে সামান্যতম সম্পর্ক রয়েছে অথচ তাঁর ওপর শাইখের কোনো না কোনো অবদান নেই, চাই তা ছোট হোক বা বড়। এমনকি তাঁর প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ ব্যক্তিরাও তাঁর জ্ঞান থেকে উপকৃত হয় এবং তাঁর সমালোচনা করে। তাদের অধিকাংশ তাখরিজ (হাদিসের সূত্র বিশ্লেষণ) শাইখের কিতাবসমূহ থেকে চুরি করা। যারা শাইখের কিতাবসমূহ চর্চা করেছেন তারা এই সত্যটি জানেন। এই শাস্ত্র (হাদিস) ছড়িয়ে পড়া এবং কিতাবসমূহের নির্ঘণ্ট (ইন্ডেক্স) বৃদ্ধি পাওয়া পর্যন্ত শাইখ অত্যন্ত সম্মানিত ও নিরাপদ অবস্থায় ছিলেন। এর ফলে সর্বকনিষ্ঠ ছাত্রটিও নির্ঘণ্টের সাহায্যে হাদিসকে এমন সব কিতাবের উদ্ধৃতি দিতে সক্ষম হয়েছে যা প্রাচীন অনেক হাফেজ, এমনকি আধুনিক মুহাদ্দিসদেরও নজরে আসেনি। এই ইতিবাচক প্রবণতার—যা হলো হাদিস চর্চার প্রতি আগ্রহ—একটি নেতিবাচক ও ঘৃণ্য দিকও প্রকাশ পেয়েছে।
আমি ইতিপূর্বে বলেছি: একজন মুহাদ্দিসের মূল পুঁজি হলো ইসনাদ (বর্ণনাপরম্পরা), যা দশ সহস্রাধিক কিতাব ও খণ্ডে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কোনো একজন ব্যক্তির পক্ষে হাদিস তাহকিক করার সময় এই সব কিতাবে যা আছে তা স্মৃতিতে উপস্থিত রাখা অসম্ভব। ফলে কখনো তিনি হয়তো একটি হাদিসকে যয়িফ (দুর্বল) বলেন কারণ তিনি সেটির কোনো শাহেদ (সমর্থনমূলক বর্ণনা) খুঁজে পাননি, অথবা কোনো রাবির (বর্ণনাকারীর) ক্ষেত্রে এটি তাঁর একক বর্ণনা বলে নিশ্চিত করেন অথচ তাঁর মুতাবী’ (সমর্থক বর্ণনাকারী) বিদ্যমান থাকে। কিংবা কখনো অসতর্কতাবশত এক স্থানে কোনো বিষয় সাব্যস্ত করেন এবং অন্য স্থানে তার বিপরীতটি বলেন, যেহেতু সংকলনের ক্ষেত্রে স্থান দুটির দূরত্ব অনেক। অথবা তাঁর ইজতিহাদ (গবেষণা) পরিবর্তিত হতে পারে। এই ধরনের বিষয় সেই বড় বড় হাফেজ ও শ্রেষ্ঠ ইমামদের ক্ষেত্রেও ঘটত যারা ছিলেন ইলমের আধার। কিন্তু যখন ইলমি নির্ঘণ্টসমূহ (ইন্ডেক্স) ছড়িয়ে পড়ল এবং কনিষ্ঠ ছাত্ররা সেখানে হাদিসের অবস্থানগুলো খুঁজে পেতে সক্ষম হলো, তখন আলেমদের ভুল ধরার প্রবণতা বেড়ে গেল। সেই সাথে তাঁদের প্রতি শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ এবং তাঁদেরকে অসতর্কতা, অবহেলা, অজ্ঞতা ও জেনেও না জানার ভান করার অপবাদ দেওয়া শুরু হলো—এই জাতীয় শব্দাবলি গত দশ বছরে প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
নির্ঘণ্টের প্রসার ও এর ক্ষতিকর দিকটি আমাকে মহান তাবেয়ি মুহাম্মদ ইবনে সিরিন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর একটি উক্তির কথা মনে করিয়ে দেয়। যখন লিখন পদ্ধতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ল, তখন তিনি বলেছিলেন: "আমি কামনা করি যে, লেখার কারণে হাতগুলো কেটে ফেলা হতো।" তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: কেন? তিনি বললেন: "কারণ এটি মুখস্থ করার গুণকে নষ্ট করে দিয়েছে।" আমি নির্ঘণ্টের উপকারিতাকে অস্বীকার করছি না; এটি আলেমদের দায়িত্বকে সহজ করে দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে সুন্নাহর প্রতি গুরুত্বারোপ এবং সহিহ ও যয়িফ অনুসন্ধানের চর্চা ছড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু: "প্রত্যেক জিনিসেরই যখন..."
(খণ্ড: ১)
তানবীহুল হাজিদ ইলা মা ওয়াকাআ মিনান নাযারি ফী কুতুবিল আমাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ما تم نقصانُ)) .
فظاهرةُ التعالمُ هى التى شوهت جمالَ هذه النهضة، وأتاحت هذه الفهارسُ لكل متنفخٍ أن يتطاول على الشوامخ، وكم لهذا التعالم من مضارٍّ، من أهوانها- مع فداحته - أن يختلط العالم بشبيه العالم، ولا يميز الناس بينهما، فيستفتون شبيه العالم فيقع الخبط والخلط ومما يدل على صحة ما أقول ما أخرجه الشيخان من حديث أبى سعيد الخدرى رضى الله عنه في قصة الذى قتل مائة نفس. وفى الحديث أن القاتل سأل عن أعلم أهل الأرض، فدلوه على راهب فسأله، فقال: إنى قتلت تسعة وتسعين نفسا فهل لى توبة؟ قال: نعم، ومن يحجب عنك باب التوبة، اخرج الى أرض كذا وكذا.. إلى آخر الحديث المشهور، فما دلت الناس القاتل على الراهب الأول إلا لأنها تظنه عالما لتشابه أزيائهم ووجوههم، وهكذا كل من لبس جبة وعمامة، وأرخى لحيته فهو عند العوام عالم.
ويذكرنى هذا التشابه بين العالم وشبيهه مع البون الشاسع بينهما فى الجوهر بقصة ذكرها أبو الفرج فى " الأغانى " (8 / 211) فقد ذكر أن الشاعر ثابت بن جابر، المعروف بـ ((تأبَّط شرَّا)) لقى ذات مرة رجلا من " ثقيف" يقال له: " أبو وهب "، وكان رجلا أهوج، وعليه حُلَّةٌ جيِّدةٌ، فقال أبو وهب لتأبَّط شرا: بم تغلب الرجال يا ثابت، وأنت كما ترى دميم وضئيل؟! قال: باسمى!! إنما أقول ساعة ألقى الرَّجل: أنا تأبَّط شرًّا، فينخلع قلبه، حتى أنال منه ما أردت! فقال له الثقفى: أبهذا فقط؟! قال: قط! قال: فهل لك أن تبيعنى اسمك؟ قال: نعم، فبم تبتاعه؟ قال: بهذه الحُلَّة،
(যা পূর্ণ হয়েছে, তার হ্রাস শুরু হয়েছে))।
পাণ্ডিত্যের ভান করার এই প্রবণতাই এই জাগরণের সৌন্দর্যকে কলঙ্কিত করেছে এবং এই সূচিপত্রগুলো প্রতিটি দাম্ভিক ব্যক্তিকে সুউচ্চ ব্যক্তিত্বদের ওপর আস্ফালন করার সুযোগ করে দিয়েছে। পাণ্ডিত্যের এই ভান করার কত যে ক্ষতি রয়েছে! এর মধ্যে সবচেয়ে হালকা ক্ষতি—যদিও তা অত্যন্ত গুরুতর—হলো আলিমের সাথে আলিম-সদৃশ ব্যক্তির সংমিশ্রণ ঘটে যাওয়া, ফলে মানুষ তাদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। তখন তারা আলিম-সদৃশ ব্যক্তির কাছে ফতোয়া চায়, যার ফলে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। আমি যা বলছি তার সত্যতার প্রমাণ হলো সেই হাদিস যা শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সেই ব্যক্তির ঘটনায় বর্ণনা করেছেন যে একশ জন মানুষকে হত্যা করেছিল। হাদিসে আছে যে, সেই হত্যাকারী পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আলিম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল। তখন লোকেরা তাকে একজন রাহিবের (ধর্মপ্রাণ সন্ন্যাসী) কথা বলে দেয়। সে তাকে জিজ্ঞাসা করল: "আমি নিরানব্বই জন মানুষকে হত্যা করেছি, আমার কি তওবা করার সুযোগ আছে?" সে বলল: "হ্যাঁ, কে তোমার আর তওবার দরজার মাঝে বাধা হতে পারে? তুমি অমুক অমুক জনপদে চলে যাও..."—প্রসিদ্ধ হাদিসটির শেষ পর্যন্ত। মানুষ সেই হত্যাকারীকে প্রথম রাহিবের কাছে কেবল এই কারণেই পাঠিয়েছিল যে, তারা তাকে আলিম মনে করেছিল তাদের লেবাস-পোশাক ও বাহ্যিক অবয়বের সাদৃশ্যের কারণে। এভাবেই বর্তমানে যারা জুব্বা ও পাগড়ি পরিধান করে এবং দাড়ি লম্বা রাখে, সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে তারাই আলিম।
আলিম ও আলিম-সদৃশ ব্যক্তির বাহ্যিক সাদৃশ্য কিন্তু তাদের মৌলিক সত্তায় বিশাল ব্যবধানের বিষয়টি আমাকে আবুল ফারাজ কর্তৃক 'আল-আগানি' (৮/২১১) গ্রন্থে বর্ণিত একটি গল্পের কথা মনে করিয়ে দেয়। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কবি সাবিত ইবনে জাবির, যিনি 'তাবেআতা শাররান' নামে পরিচিত ছিলেন, একদা 'সাকিফ' গোত্রের 'আবু ওয়াহাব' নামক এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেন। সে ছিল একজন নির্বোধ লোক এবং তার পরনে ছিল একটি চমৎকার পোশাক। তখন আবু ওয়াহাব তাবেআতা শাররানকে বলল: "হে সাবিত! তুমি কীভাবে বীর পুরুষদের ওপর বিজয় লাভ করো, অথচ তুমি দেখতেই পাচ্ছ যে তুমি কদাকার ও ক্ষুদ্রাকৃতির?" তিনি বললেন: "আমার নামের মাধ্যমে!! আমি যখনই কোনো লোকের সাথে সাক্ষাৎ করি, তখনই বলি: আমি 'তাবেআতা শাররান', অমনি তার কলিজা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়, ফলে আমি তার থেকে যা চাই তা ছিনিয়ে নিই!" তখন সাকিফী তাকে বলল: "কেবল এই দিয়েই?" তিনি বললেন: "কেবল এই দিয়েই!" সে বলল: "তুমি কি তোমার নামটি আমার কাছে বিক্রি করবে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, কিসের বিনিময়ে তুমি তা কিনবে?" সে বলল: "এই পোশাকের বিনিময়ে।"