(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: -)
أصل صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم   (ناصر الدين الألباني)

القسم: الفقه العام


الكتاب: أصل صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم

المؤلف: محمد ناصر الدين الألباني (ت 1420 هـ)

الناشر: مكتبة المعارف للنشر والتوزيع - الرياض

الطبعة: الأولى 1427 هـ - 2006 م

عدد الأجزاء: 3 (متسلسلة الترقيم)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সালাতের পদ্ধতির মূল ভিত্তি   (নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সালাতের পদ্ধতির মূল ভিত্তি

লেখক: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী (মৃত্যু: ১৪২০ হিজরী)

প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম ১৪২৭ হিজরী - ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৩ (ধারাবাহিক সংখ্যায়ন)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১)
أصلُ

صِفَةِ صَلاةِ النبيّ

صلى الله عليه وسلم

مِنَ التكبير إلى التسليم - كأنك تراها -

" صَلُّوا كَمَا رَأيتمُوُني أُصَلِّي "

رواه البخاري

وهو الكتابُ المفرد (الأصل) كما وَصَفَهُ مُؤلفُهُ الشيخُ رحمه الله،

وهو الذي خَرَّجَ فيهِ أحاديثَهُ؛ مُسْتَقْصيًا ألفاظَها وطُرُقَها؛ وتَكَلَّم على أَسَانيدِهَا

وشَوَاهِدِهَا؛ حَسْبَما تَقْتَضِيهِ عُلُوم الحَدِيثِ الشَّرِيفِ وقَواعدِه

تأليف

فضيلة الإمام الشيخ المحدث الفقيه العلامة

محمد ناصر الدين الألباني

المتوفى سنة 1420 هـ

رحمه الله تعالى

المجلد الأول

مكتبة المعارف للنشر والتوزيع

لصاحبها سعد بن عبد الرحمن الراشد

الرياض
মূল

নবীর সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি

আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক

তাকবীর থেকে তাসলিম পর্যন্ত - যেন আপনি তা সচক্ষে দেখছেন -

"তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ"

এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন

এটি সেই স্বতন্ত্র গ্রন্থ (মূল), যেমনটি এর লেখক শায়খ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বর্ণনা করেছেন,

এতে তিনি এর হাদিসগুলো সংকলন করেছেন; সেগুলোর শব্দাবলী ও বর্ণনাসূত্রগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তালাশ করে; এবং তিনি এগুলোর সনদসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন

ও সেগুলোর সমর্থক বর্ণনা নিয়ে; ইলমে হাদিসের জ্ঞান ও এর মূলনীতির দাবি অনুযায়ী

রচনায়

ফযীলাতুশ শায়খ, ইমাম, মুহাদ্দিস, ফকিহ, আল্লামা

মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী

মৃত্যু: ১৪২০ হিজরী

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন

প্রথম খণ্ড

মাকতাবাতুল মাআরিফ প্রকাশনী ও পরিবেশনী

যার স্বত্বাধিকারী সা'দ বিন আব্দুর রহমান আল-রাশিদ

রিয়াদ
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة الناشر:

الحمد لله وحدَه، والصلاة والسلام على من لا نبيَّ بعده.

أما بعدُ: فنضع بين أيدي الإخوة القراء هذا الكتابَ المفرد الأصل،

والمنهج الفصل، الذي يجعل المسلم على بيِّنة من أمره في ركن عظيم من

أركان الإسلام، فيكون مطمئنَّ القلب واثقَ الإيمان بأنه امتثل أمرَه

الشريفَ صلى الله عليه وسلم: "صَلُّوا كما رأيتموني أصلي ".

فهذا كتاب " صفة صلاة النبيّ صلى الله عليه وسلم من التكبير إلى التسليم كأنك تراها "،

لشيخنا المحدِّث الهُمَام، العلامةِ الإمام، ناصر السنة والإسلام، أبي

عبد الرحمن محمد ناصر الدين الألباني، رحمه الله وأَنزله أحسنَ المقام.

وهو أصلُ الكتاب الذي طُبع - سابقاً - حاملاً الاسمَ نفسَه، والذي نال

القَبول - بفضل الله تعالى -، وطُبع طبعاتٍ عديدةً عبر سنوات مديدة …

وهو الكتاب الذي يذكره شيخُنا في كثيرٍ من كتبه ومؤلفاته بأسماءٍ مختلفة،

فهو: الكتابُ الأصلُ، وهو: شرحٌ وتخريجٌ وتعليق … ؛ ففي فهرس مؤلفاته

ومخطوطاته ذكره باسم " أصل صفة الصلاة "، وفي " الصفة " المطبوع، كثيراً ما

يقول: " … في " الأصل " "، وفي " صحيح أبي داود " قال: " أوردتها في

كتابنا المفرد: " صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم من التكبير إلى التسليم كأنك تراها "،

ونحن الآن في صدد طبع متنه، وسيصدر قريباً إن شاء الله تعالى، ونرجو أن

نوفق لطبعه مع شرحه وتخريجه ". (3/313 ونحوه 357) .

وقال في " الإرواء " (2/9) : " وقد أوردتها في كتابنا الكبير " تخريج صفة

صلاة النبي صلى الله عليه وسلم ". ونحوه في الصفحة (10 و 16 و 34 و 62 و 70) . وفي

(ص 80) قال: " فراجع تعليقنا على " صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم ". وسمعناه

يذكره باسم: " صفة الصلاة الكبير ".
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌প্রকাশকের ভূমিকা:

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই।

অতঃপর: আমরা পাঠক ভাইদের সামনে এই অনন্য মূল গ্রন্থটি পেশ করছি,

এবং এমন এক চূড়ান্ত পদ্ধতি উপস্থাপন করছি, যা একজন মুসলিমকে ইসলামের একটি মহান রোকনের (স্তম্ভের) ব্যাপারে সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত করে,

ফলে সে প্রশান্ত হৃদয়ে এবং সুদৃঢ় ঈমানের সাথে এই বিষয়ে আশ্বস্ত হয় যে, সে তাঁর (রাসূলুল্লাহর) সম্মানিত নির্দেশ পালন করেছে

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: "তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ।"

সুতরাং এটি হলো সেই গ্রন্থ: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত আদায়ের পদ্ধতি: তাকবীর থেকে সালাম পর্যন্ত, যেন আপনি তা দেখছেন",

যা আমাদের শাইখ, মহান মুহাদ্দিস, যুগশ্রেষ্ঠ আল্লামা ও ইমাম, সুন্নাহ ও ইসলামের সাহায্যকারী আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন এবং তাঁকে সর্বোত্তম স্থানে অধিষ্ঠিত করুন)-এর রচনা।

এটিই সেই মূল গ্রন্থ যা ইতিপূর্বে একই নামে প্রকাশিত হয়েছিল এবং যা—আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহে—মকবুলিয়াত (গ্রহণযোগ্যতা) অর্জন করেছে,

এবং দীর্ঘ বছর ধরে বহুবার মুদ্রিত হয়েছে …

এটি সেই কিতাব যা আমাদের শাইখ তাঁর অনেক কিতাব ও রচনায় বিভিন্ন নামে উল্লেখ করেছেন,

যেমন: ‘মূল গ্রন্থ’ (আল-কিতাবুল আসল), এবং এটি একটি ‘ব্যাখ্যা, উৎস যাচাই (তাখরীজ) ও টীকা’ … ; তাঁর গ্রন্থ ও পাণ্ডুলিপির সূচিতে

তিনি একে ‘সালাত আদায়ের পদ্ধতির মূল’ নামে উল্লেখ করেছেন, এবং মুদ্রিত ‘সালাত আদায়ের পদ্ধতি’ গ্রন্থে তিনি প্রায়শই

বলেন: " … ‘মূল গ্রন্থে’ ", এবং ‘সহীহ আবু দাউদ’ গ্রন্থে তিনি বলেছেন: "আমি এটি আমাদের স্বতন্ত্র গ্রন্থ:

‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত আদায়ের পদ্ধতি: তাকবীর থেকে সালাম পর্যন্ত, যেন আপনি তা দেখছেন’-এ উল্লেখ করেছি,

এবং আমরা এখন এর মূল পাঠ (মাতন) মুদ্রণের প্রক্রিয়ায় রয়েছি, যা ইনশাআল্লাহ শীঘ্রই প্রকাশিত হবে। আমরা আশা করি এর ব্যাখ্যা ও তাখরীজসহ এটি মুদ্রণের তাওফীক পাব।" (৩/৩১৩ এবং অনুরূপ ৩৫৭)।

এবং তিনি ‘ইরওয়াউল গালীল’ (২/৯) গ্রন্থে বলেছেন: "আমি এটি আমাদের বড় গ্রন্থ ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত আদায়ের পদ্ধতির তাখরীজ’-এ উল্লেখ করেছি।"

অনুরূপ কথা রয়েছে ১০, ১৬, ৩৪, ৬২ ও ৭০ পৃষ্ঠায়। এবং

(৮০ পৃষ্ঠায়) তিনি বলেছেন: "অতএব ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত আদায়ের পদ্ধতি’-এর ওপর আমাদের টীকাটি দেখে নিন।" এবং আমরা তাঁকে

এটি ‘সালাত আদায়ের বৃহৎ পদ্ধতি’ নামে উল্লেখ করতে শুনেছি।
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৪)
فمقصود الشيخ رحمه الله من هذا كلِّه هو كتابه هذا الذي بين يديك - أخي

القارئ الكريم! - وقد أثبتنا اسمه كما سمَّاه (1) مؤلفه الشيخ رحمه الله تعالى.

ومن متنه وتخريجاته المختصرة استخرج الشيخ كتابه المذكور " صفة صلاة

النبي صلى الله عليه وسلم "، ومن هذا الأخير استخلص رسالته الصغيرة النافعة " تلخيص

صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم ".

وهذا الكتاب - رغم مرور سنوات طويلة على تأليفه، وقلة الإضافات

الحديثة عليه - معدودٌ ضمن أهمّ مراجع الشيخ رحمه الله في كثير من

تخريجاته؛ يلمس هذا كل من تتلمذ على كتبه، وعَرَفَ مولّفاته.

ومع هذا؛ فإننا نعرف منه رحمه الله أنه لم يكن ينشط لطباعته ونشره؛

لحاجته إلى مراجعة مطوَّلة، ودراسة مستفيضة؛ بعد تلك السنوات الطويلة،

وما طرأ فيها من أمور وأمور (2) .

هذا وقد تجلت في هذا الكتابِ العُجابِ صنعةُ الشيخ الحديثية، وظهرت ملكته

الفقهية، التي حَبَاه الله إياها منذ نعومة أظفاره، واصطفاه بها على جميع أقرانه …

ننظر في الكتاب فنرى هذا العَلَم الذي جعل قدوتَه سيدَ الأولين

والآخرين، فانتصر لسنته صلى الله عليه وسلم أشدَّ الانتصار، واستظل بأقوال سلفه الكرام

الأطهار، الذين ساروا على سنة الحبيب المختار، فحقق المسائلَ، وأجاب

السائلَ، وجعل المرء على بينة من دينه وصلاته؛ كيف لا وقد أعاد لحديث

النبي صلى الله عليه وسلم: " تركتكم على البيضاء؛ ليلها كنهارها … " رونقه بعد أن كاد

التعصب الأعمى يُكَدِّره؟! وحاشاه - ما دام الله يحفظه -.

--------------------------------------------

(1) انظر مقدمة المؤلف (ص 19) . ثم رأينا إضافة كلمة (أصل) تمييزاً وتنبيهاً.

(2) انظر مقدمة " صحيح الترغيب والترهيب " (ص 3 -9) ؛ ففيها ما يوضح عذر الشيخ مما

ينطبق على هذا الكتاب أيضاً، ويغنى عن الذكر والإطالة.
সুতরাং এই সবকিছুর মাধ্যমে শায়খের—আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন—উদ্দেশ্য হলো তাঁর এই কিতাবটি যা এখন আপনার হাতে রয়েছে—হে সম্মানিত পাঠক!—এবং আমরা এর নাম সেভাবেই বহাল রেখেছি যেভাবে এর লেখক শায়খ—আল্লাহ তাআলা তাঁর উপর রহম করুন—নামকরণ করেছিলেন (১)।

এবং এর মূল পাঠ (মতন) ও সংক্ষিপ্ত তাহকিকসমূহ থেকে শায়খ তাঁর উল্লিখিত কিতাব "সিফাতু সালাতিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম" (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সালাত আদায়ের পদ্ধতি) সংকলন করেছেন, এবং পরবর্তীটি থেকে তিনি তাঁর ছোট ও উপকারী পুস্তিকা "তালখিসু সিফাতু সালাতিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম" (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সালাত আদায়ের পদ্ধতির সংক্ষিপ্তসার) তৈরি করেছেন।

এবং এই কিতাবটি—রচনার পর দীর্ঘ বছর অতিবাহিত হওয়া এবং এতে আধুনিক সংযোজন কম থাকা সত্ত্বেও—শায়খের (আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন) অনেক গবেষণার ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র হিসেবে গণ্য; যারা তাঁর কিতাবসমূহ থেকে পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর রচনাবলি সম্পর্কে জানেন, তারা প্রত্যেকেই এটি অনুভব করেন।

তা সত্ত্বেও, আমরা তাঁর (আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন) পক্ষ থেকে জানি যে, তিনি এটি মুদ্রণ ও প্রকাশের ব্যাপারে তেমন আগ্রহী ছিলেন না; কারণ দীর্ঘ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর এবং তাতে বিভিন্ন পরিস্থিতির (২) উদ্ভব হওয়ায় এটি দীর্ঘ পর্যালোচনা ও বিস্তারিত গবেষণার মুখাপেক্ষী ছিল।

এই বিস্ময়কর কিতাবটিতে শায়খের হাদিস বিষয়ক পাণ্ডিত্য এবং তাঁর ফিকহি যোগ্যতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, যা আল্লাহ তাঁকে শৈশব থেকেই দান করেছিলেন এবং যার মাধ্যমে তিনি তাঁকে তাঁর সমসাময়কিদের ওপর বিশিষ্টতা দান করেছেন …

আমরা কিতাবটির দিকে তাকালে দেখতে পাই এমন এক ব্যক্তিত্বকে যিনি প্রথম ও শেষ সকলের সরদারকে নিজের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ফলে তিনি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর পক্ষে জোরালোভাবে দাঁড়িয়েছেন এবং তাঁর পবিত্র ও সম্মানিত পূর্বসূরিদের বাণীর ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছেন, যারা প্রিয় মনোনীত নবীর সুন্নাহর ওপর পরিচালিত ছিলেন। তিনি মাসআলাগুলো যাচাই-বাছাই করেছেন, প্রশ্নকারীর উত্তর দিয়েছেন এবং একজন ব্যক্তিকে তার দ্বীন ও সালাত সম্পর্কে সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন; কেনই বা তা হবে না, যখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিস: "আমি তোমাদেরকে এক স্বচ্ছ শুভ্রতার ওপর রেখে যাচ্ছি, যার রাতও দিনের মতো উজ্জ্বল … " এর জৌলুস ফিরিয়ে এনেছেন, অথচ অন্ধ গোঁড়ামি একে প্রায় ম্লান করে দিয়েছিল?! আর এমনটি ঘটা অসম্ভব—যতক্ষণ আল্লাহ একে রক্ষা করবেন।

--------------------------------------------

(১) লেখকের ভূমিকা দেখুন (পৃষ্ঠা ১৯)। পরবর্তীতে আমরা পার্থক্য করার জন্য এবং দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য 'আসল' শব্দটি যোগ করেছি।

(২) "সহিহুত তারগিব ওয়াত তারহিব"-এর ভূমিকা (পৃষ্ঠা ৩-৯) দেখুন; এতে শায়খের ওজর বা কারণ সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যা এই কিতাবটির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, এবং যা পুনরায় উল্লেখ করা ও দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দূর করে।
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৫)
جاء شيخنا رحمه الله ليُظْهِرَ للجميع بالدليل العِلمي العملي أن الحق

واحد في أقوال العلماء، وأنه يجب على المسلم أن يدور مع الدليل حيث دار

- مع التزام التقدير والاحترام لجميع الأئمة الأخيار -، آتياً بمقدمة ماتعة،

وطليعة رائعة، مستنيراً بأقوال الأئمة المتبوعين ذوي الألباب، في وجوب

التزام هذا الطريق السديد، والسبيل الفريد، والمنهج الرشيد، لا كحال أولئك

المتمذهبين الجامدين، المقدِّمين قولَ إمامهم على قول إمام الأئمة الربانيين،

{وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا} {وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُم مُّهْتَدُونَ} !

سار الشيخ رحمه الله على هذا المنهج العلمي المتين في جميع كتبه

ومؤلفاته؛ وبخاصةٍ في هذا الكتاب، وهو يُعلِّمُ الناسَ كيفية صلاة نبيهم صلى الله عليه وسلم

- فما أكثرَ من يجهلها! - ويربطهم بشخصه صلى الله عليه وسلم وهديهِ؛ فقد بيَّن لهم - بما

صحَّ -، ما لا مجال فيه للجدال والنقاش، فانقطع العذر عن كل أحد في ترك

سُنَّة أُثبتت في هذا الكتاب، وظهرتْ ظهورَ الشمس في رائعة النهار.

ولقد كان من فضل الله تعالى أن وفَّقَ الشيخَ رحمه الله لإتمام هذا الكتاب

النافع، حيث إنه من أوائل ما كتب، وقد انتهى من تأليفه سنة 1366 هـ

- كما جاء في خاتمة الكتاب -، وله من العمر حينئذٍ ثلاث وثلاثون سنةً

تقريباً. أي: منذ ما يزيدُ عن نصفِ قرنٍ من الزمان.

وصفحات مخطوطة الكتاب جيدة بصورة عامة، إلا بعضَ المجموعات في

أوَّلها - وهي من النوع الشفَّاف -؛ فهي تالفةُ الأطراف جدّاً، لا سيما المقدمة؛

لكنْ - بفضل الله تعالى -، وجدنا الشيخ رحمه الله قد بيَّضها بخطه الواضح

الجميل، وزاد عليها، وهي نفسها التي جعلها مقدمة كتابه المعروف " صفة

صلاة النبي صلى الله عليه وسلم " (1) .

--------------------------------------------

(1) وما قد يمر بالقارئ في هذه المقدمة من تحسينات أو إضافات تُشير إلى جِدّتِها؛ فهي مما

أضافه الشيخ عليها عبر الطبعات المختلفة.
আমাদের শায়খ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) সকলের কাছে বৈজ্ঞানিক ও ব্যবহারিক দলিলের মাধ্যমে এটি প্রকাশ করতে এসেছেন যে, সত্য

উলামায়ে কিরামের বক্তব্যের মাঝে একটিই, আর একজন মুসলিমের জন্য আবশ্যক হলো দলিলের সাথে চলা, দলিল যেখানেই আবর্তিত হয়

— সকল নেককার ইমামদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধা বজায় রেখে —। তিনি একটি মনোমুগ্ধকর ভূমিকা ও

চমৎকার প্রারম্ভিকা পেশ করেছেন; যেখানে তিনি এই সঠিক পথ, অনন্য পন্থা এবং হেদায়েতপূর্ণ মানহাজের ওপর অটল থাকার আবশ্যকতা সম্পর্কে

অনুসরণীয় প্রজ্ঞাবান ইমামদের বক্তব্যের মাধ্যমে আলোকপাত করেছেন। এটি ঐসব

স্থবির মাযহাবপন্থীদের মতো নয়, যারা তাদের ইমামের কথাকে রব্বানী ইমামদের ইমামের কথার ওপর প্রাধান্য দেয়,

{অথচ তারা মনে করে যে তারা অতি উত্তম কাজ করছে} {এবং তারা মনে করে যে তারা সঠিক পথে আছে}!

শায়খ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) তাঁর সকল কিতাব

ও রচনায় এই মজবুত ইলমী মানহাজ অনুসরণ করেছেন; বিশেষ করে এই কিতাবে, যেখানে তিনি মানুষকে তাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত আদায়ের পদ্ধতি শিক্ষা দিচ্ছেন

— অথচ কত মানুষই না এ সম্পর্কে অজ্ঞ! — এবং তিনি তাদেরকে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্তা ও হিদায়াতের সাথে সম্পৃক্ত করছেন। তিনি সহীহ দলিলের মাধ্যমে তাদের কাছে এমন বিষয় বর্ণনা করেছেন

যাতে বিতর্ক বা আলোচনার কোনো অবকাশ নেই। ফলে এই কিতাবে প্রমাণিত কোনো সুন্নাত বর্জন করার ব্যাপারে

কারো কোনো ওজর অবশিষ্ট থাকল না, আর তা ভরদুপুরের সূর্যের মতো স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে।

এটি মহান আল্লাহর অনুগ্রহ যে তিনি শায়খকে (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) এই উপকারী কিতাবটি সম্পন্ন করার তাওফিক দিয়েছেন,

যেহেতু এটি তাঁর শুরুর দিকের লেখাগুলোর একটি। তিনি এর রচনা শেষ করেছিলেন ১৩৬৬ হিজরীতে

— যেমনটি কিতাবের সমাপ্তিতে উল্লেখ আছে — তখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় তেত্রিশ বছর।

অর্থাৎ আজ থেকে অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় আগে।

কিতাবটির পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠাগুলো সাধারণভাবে ভালো অবস্থায় আছে, তবে শুরুর দিকের

কিছু অংশ — যা ছিল পাতলা স্বচ্ছ কাগজের — সেগুলোর কিনারাগুলো অত্যন্ত জীর্ণ হয়ে গেছে, বিশেষ করে ভূমিকা অংশটি।

কিন্তু মহান আল্লাহর অনুগ্রহে আমরা দেখতে পেয়েছি যে, শায়খ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) তাঁর সুস্পষ্ট ও সুন্দর হাতের লেখায় তা পরিষ্কার অক্ষরে পুনরায় লিপিবদ্ধ করেছেন

এবং এতে আরও কিছু সংযোজন করেছেন। আর এটিই সেই অংশ যা তিনি তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাব "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাতের পদ্ধতি" (১) এর ভূমিকা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) পাঠক এই ভূমিকায় যেসব পরিমার্জন বা নতুন সংযোজন দেখতে পাবেন যা এর নতুনত্বের ইঙ্গিত দেয়; সেগুলো শায়খ

বিভিন্ন সংস্করণের সময় এতে যোগ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৬)
أما بقية الأوراق التالفة أطرافُها؛ فقد عملنا على تَرْميمِها وإصلاحها،

وبفضل الله تعالى كان أغلب التلف في الحواشي الخالية من الكتابة، وما

ناله التلفُ - على قِلَّته - استطعنا تداركه بطرق مختلفة؛ فلم نخسر شيئاً مما

كتبه الشيخ رحمه الله ولله الحمد -.

وأمّا الخط فهو مكتوب بالحبر السائل، دقيقٌ مقروءٌ بصفة عامة، إلا في بعض

المواضع من الصفحات الشفافة المشار إليها آنفاً، فكان يُقرأ بشيء من الصعوبة.

هذا، وقد وجدنا بعض الورقات المُبَيَّضة عن أصل الشيخ رحمه الله،

مرقمةً زوجياً من (ص 12 - 16) بورق أَحْدَثَ من الورق الأصلي - وهي تقابل

هنا (ص 58 - 77) -، وعليها بعض الملاحظات والتعديلات بخطِّ الشيخ

رحمه الله، فيبدو أنه قد كلَّف أحدَهم بتبييضها من الأصل، فعدَّلنا الأصل

بعد صَفِّه وفقاً لها، ويا للأسف! فيبدو أن ما قبلها مفقود، وما بعدها مفقود

أيضاً، أو لم يتم. والله أعلم.

وفد قمنا بدراسة المخطوطة دراسة دقيقة؛ فألحقنا الملاحق المضافة من

الشيخ في مواضعها، وتأكدنا من تتابع الأبحاث في المتون والحواشي، وقد

وجدنا ورقة ناقصة - وللأسف الشديد - هي (13) بترقيم الشيخ، ومادتها هي

المشار إليها هنا (ص 108 و 110) .

وأثناء صفِّ الكتاب راعيْنا اتباعَ أسلوبِ الشيخ في كتاباته المتأخرة، في

الجوانب الفنية؛ التحسينية والتزيينية، التي تُبْرِز المقاصدَ العلميةَ والشرعيةَ؛

كتنسيق الفقرات ببدايات واضحة، والطباعة بالحرف الأسود في مواضعَ

خاصَّةٍ، والتحلية بعلامات الترقيم … ، وغيرها مما يلمسه القارئ.

كما تجاوزنا عن الأخطاء من النوع الذي لا يسلم منه مؤلَّف، لا سيما في

عمل قديم كهذا لم يهيئه مولِّفه للطباعة والنشر، فصححناها دون تكثيرِ سوادِ

التنبيهِ عليها في الحواشي، وعدَّلنا ما وجدنا الشيخ متِّبعاً فيه لمذاهبَ قديمةٍ
অবশিষ্ট যে পাণ্ডুলিপিগুলোর প্রান্তভাগ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, আমরা সেগুলো মেরামত ও সংস্কারের কাজ করেছি।

আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে অধিকাংশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল লিখনশূন্য মার্জিনে, আর যৎসামান্য যা কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা আমরা বিভিন্নভাবে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। ফলে শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) যা লিখেছেন তার কিছুই আমরা হারাইনি, আলহামদুলিল্লাহ।

হস্তলিপির কথা বললে, তা তরল কালিতে লেখা, সূক্ষ্ম এবং সাধারণভাবে পাঠযোগ্য; কেবল পূর্বে উল্লিখিত স্বচ্ছ পৃষ্ঠাগুলোর কিছু স্থান ব্যতীত, যা পড়তে কিছুটা কষ্ট হয়েছে।

এছাড়া আমরা শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মূল কপি থেকে অনুলিপিকৃত কিছু পরিচ্ছন্ন পৃষ্ঠা পেয়েছি, যা মূল কাগজের চেয়ে তুলনামূলক নতুন কাগজে জোড় সংখ্যায় (পৃষ্ঠা ১২-১৬) নম্বর দেওয়া হয়েছে—যা এখানে (পৃষ্ঠা ৫৮-৭৭)-এর সমান্তরাল। সেখানে শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর স্বহস্তে কিছু টীকা ও সংশোধন রয়েছে। প্রতীয়মান হয় যে, তিনি কাউকে মূল থেকে এগুলো পরিষ্কার করে লিখতে বলেছিলেন; ফলে আমরা মূল পাণ্ডুলিপি বিন্যাসের পর সেই অনুযায়ী সংশোধন করেছি। হায় আফসোস! মনে হচ্ছে এর আগের এবং পরের অংশগুলো হারিয়ে গেছে অথবা তা পূর্ণ করা হয়নি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

আমরা পাণ্ডুলিপিটি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করেছি; শায়খের পক্ষ থেকে যুক্ত করা পরিশিষ্টগুলো যথাস্থানে স্থাপন করেছি এবং মূল পাঠ ও টীকায় গবেষণার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করেছি। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, আমরা একটি পৃষ্ঠা নিখোঁজ পেয়েছি যা শায়খের দেওয়া নাম্বারিং অনুযায়ী ছিল (১৩) নম্বর, যার বিষয়বস্তু এখানে (১০৮ ও ১১০ পৃষ্ঠায়) নির্দেশিত হয়েছে।

গ্রন্থটি বিন্যাস করার সময় আমরা শায়খের পরবর্তী সময়ের রচনাশৈলীর কারিগরি, আলঙ্কারিক ও সৌন্দর্যবর্ধক দিকগুলো অনুসরণের চেষ্টা করেছি, যা ইলমি ও শরয়ি উদ্দেশ্যগুলোকে প্রস্ফুটিত করে; যেমন সুস্পষ্ট সূচনার মাধ্যমে অনুচ্ছেদ বিন্যাস, বিশেষ বিশেষ স্থানে বোল্ড বা কালো অক্ষরে মুদ্রণ এবং বিরামচিহ্নের ব্যবহার … ইত্যাদি যা পাঠক নিজেই লক্ষ্য করবেন।

এছাড়াও আমরা এমন সব ভুলত্রুটি মার্জনা করেছি যা থেকে কোনো লেখকই মুক্ত থাকতে পারেন না, বিশেষ করে এমন একটি পুরনো পাণ্ডুলিপির ক্ষেত্রে যা লেখক মুদ্রণ ও প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করে যাননি। তাই আমরা টীকাগুলোতে সতর্কবার্তার বোঝা না বাড়িয়ে সেগুলো সংশোধন করেছি এবং শায়খ যেখানে পুরনো মতামতের অনুসরণ করেছেন সেখানে আমরা সংশোধন করেছি।
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৭)
في الإملاء على ما نعرفه منه اليوم.

وكل زيادة بين معقوفتين [] في التخريج والتعليق؛ فهي مما استدركناه

على الأصل، ونبهنا عليه؛ ما لم تكن هناك قرينة تدل على أنه استدراك من

الشيخ رحمه الله على غيره أحياناً.

أما ما قد يستدعيه الأمر من تعليق أو استدراك؛ فقد أثبتناه موثّقاً بعلامة

(*) ؛ تمييزاً له عن تعليقات الشيخ الموثقة بالترقيم التسلسُلي (1) ، (2) …

واضعينَ نصْبَ أعيننا عدمَ الإكثار من التعليقات والمداخلات إلا ما اضْطُررنا

إليه، مكتفين بالتذكير - هنا - أنه لم يكن من منهجنا في خدمة الكتاب

وإعداده للطباعة تحقيقُه والتعليق عليه.

إلا أننا اضْطُررْنا إلى شيء من ذلك حَسِبناه قَدْراً يسيراً؛ لكن الله تعالى

قدَّر فيه أمراً دقيقاً …

فهذا الكتاب مثْلَما هو كتاب علمي حديثي، فهو - أيضاً - كتاب فقهي

مختصٌّ بعبادةٍ عظيمةٍ؛ هي ركنٌ من أركان الإسلام، الصلاة، ممثلةً

بصلاته صلى الله عليه وسلم، فكان لابد من معرفة آخر ما وصل إليه علمُ الشيخ رحمه الله

في هذا المجال، مع الأخذ بعين الاعتبار تلك السنوات الطويلة التي مرَّت على

تأليف الأصل، وبالمقابل معرفتنا بأن الشيخ رحمه الله كان يُنقِّح ويزيد دائماً

في كتابه المطبوع " الصفة " طبعةً بعد طبعة، فلا بد إذاً من وجود فروقات

مُهمَّة يجب استدراكُها في هذا (الأصل) ، مما جعل الأمر يتأكّد عندنا أنّّنا

لسنا في صدد إخراج كتاب تراثي، وإنما مرادُنا الأوحد إخراج كتاب علمي

فقهيٍّ، يستفيد منه القارئ والباحث - ويُفيد - وهو مطمئن أن هذا ما انتهى

إليه علمُ الشيخ في كتابه هذا.

وكان من فضل الله علينا أن يسَّر لنا اتباعَ أسلوبٍ دقيقٍ يحافظ على

الأصل - كما هو - من جهة، ويكمله - علماً وفقهاً - من جهة أخرى …
আজ আমরা তাঁর থেকে যা জানি, সেই অনুযায়ী শ্রুতলিপির ক্ষেত্রে।

তাকরীজ ও টীকায় তৃতীয় বন্ধনীতে [] যা কিছু বৃদ্ধি করা হয়েছে, তা আমরা মূল পাঠের ওপর অতিরিক্ত সংযোজন হিসেবে এনেছি এবং সেদিকে ইঙ্গিত করেছি; যদি না এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় যা নির্দেশ করে যে, এটি কখনো কখনো শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক অন্যের ওপর কোনো সংশোধনী।

আর যেসব ক্ষেত্রে টীকা বা সংশোধনীর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, সেগুলোকে আমরা (*) চিহ্নের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করেছি; যাতে শাইখের নিজস্ব টীকাগুলো থেকে তা পৃথক করা যায়, যা ক্রমিক সংখ্যা (১), (২) … দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।

আমরা আমাদের দৃষ্টিতে এই বিষয়টি রেখেছি যে, প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত টীকা বা হস্তক্ষেপ করব না। এখানে এই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট যে, কিতাবটির খিদমত এবং মুদ্রণের জন্য প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আমাদের মানহাজ বা পদ্ধতি এর তাহকীক (গবেষণা) ও টীকা প্রদান করা ছিল না।

তবে আমরা এর সামান্য কিছু করতে বাধ্য হয়েছি যা আমরা তুচ্ছ মনে করেছিলাম; কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাতে এক সূক্ষ্ম বিষয় নির্ধারণ করে রেখেছিলেন …

এই কিতাবটি যেমন একটি ইলমি ও হাদিস বিষয়ক গ্রন্থ, তেমনি এটি একটি মহান ইবাদত সংশ্লিষ্ট ফিকহি কিতাবও; যা ইসলামের অন্যতম রুকন ‘সালাত’, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের প্রতিচ্ছবি। তাই এই ক্ষেত্রে শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ইলম সর্বশেষ যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিল তা জানা আবশ্যক ছিল। বিশেষ করে মূল পাণ্ডুলিপি রচনার পর দীর্ঘ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এবং আমাদের এই অবগতির ভিত্তিতে যে, শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর মুদ্রিত কিতাব "সিফাহ" এর প্রতিটি সংস্করণে সর্বদা পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করতেন। সুতরাং এই মূল পাণ্ডুলিপিতেও এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য থাকা আবশ্যক যা অবশ্যই সংশোধনযোগ্য। এ থেকে আমাদের কাছে এই বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে যে, আমরা কেবল একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন কিতাব প্রকাশের প্রক্রিয়ায় নেই, বরং আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো একটি ইলমি ও ফিকহি কিতাব প্রকাশ করা, যা থেকে পাঠক ও গবেষক উপকৃত হতে পারবেন—এবং তারা এই বিষয়ে নিশ্চিত থাকবেন যে, শাইখের ইলম তাঁর এই কিতাবে ঠিক এই সিদ্ধান্তেই শেষ হয়েছে।

এটি আমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ যে, তিনি আমাদের জন্য একটি সূক্ষ্ম পদ্ধতি অনুসরণ করা সহজ করে দিয়েছেন, যা একদিকে মূল পাঠকে অবিকল সংরক্ষণ করে এবং অন্যদিকে ইলম ও ফিকহের দিক থেকে তাকে পূর্ণতা দান করে …
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৮)
ففد قمنا بمقابلة متن " الأصل " على متن " صفة الصلاة " طبعة مكتبتنا /

مكتبة المعارف، لكونها آخرَ طبعة بإشراف الشيخ رحمه الله، وأثبتنا كلَّ

الزيادات التي انفرد بها المطبوع بين العلامتين {} مع حواشيها إن وجدت،

وتعديل العبارات التي عدَّلها الشيخ فيه خلال طبعاته المتتالية، ناظرين لهذا

النوعِ من باب ما يعدِّله الكاتب - عادة - في أسلوبه لغايات مختلفة.

فمن أمثلة النوع الأول: زيادةُ: " يقول: " لا تصل إلا إلى سُترة، ولا تَدَعْ

أحداً يمر بين يديك، فإنْ أبى؛ فلتقاتله؛ فإنَّ معه القرينَ ". و". مع حاشيتها

(ص 115/ح (1)) .

ومن أمثلة النوع الثاني: قوله (ص 114) : " وكان يقف قريباً من السُّتْرة؛

فكان بينه وبين الجدار ثلاثةُ أذرع "؛ فقد كانت في الأصل: " وكان يقف قريباً

من الجدار الذي بينه وبين القبلة، فيجعل بينه وبين الجدار قدر ثلاثة أذرع ".

وكذلك قمنا بالنظر في التعليقات والتخريجات المختصرة في " الصفة "؛

للاطلاع على ما جدّ عند الشيخ من مصادرَ وفوائدَ. وكانت لنا هنا وقفات؛

فإنه لا يخفى على الباحثِ المُجِدِّ أن الشيخ رحمه الله قد أضاف على " الصفة "

في طبعاته المختلفة مصادرَ جديدةً متعدّدة من مطبوعات أو مخطوطات متنوّعة،

وكان تخريجه للأحاديث مختصراً مجملاً، بينما هو في الأصل موسَّع

مفصَّل، فكان لا بدَّ من الرجوع إلى تلك المصادر، والنظر في الأسانيد والمتون؛

لإدراج المصادر في موضعها الصحيح. ولا نطيل الشرح هنا؛ فلقد كان الأمر دقيقاً

جدّاً، كاد أن يخرج بنا عن حدود عملنا في الكتاب؛ فما استطعنا الوصولَ

إليه بحثنا فيه ووضعناه في مكانه المناسب ضمن {} ، وما لم نستطعه

اكتفينا بالإشارة إليه في الحاشية، وقد حرصنا على الاختصار والدقة في هذا؛

فمن وجد غير ذلك؛ فليعذرنا.

وبالمناسبة نقول: إننا في كثير من الأحيان رصدنا أرقام المطبوعات الجديدة
আমরা 'আসল' (মূল)-এর পাঠকে আমাদের মাকতাবাতুল /

মাআরিফ সংস্করণের 'সিফাতুস সালাহ' পাঠের সাথে মিলিয়েছি; কারণ এটি শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত সর্বশেষ সংস্করণ। এবং আমরা সেই সব

অতিরিক্ত অংশগুলোকে তাদের টীকাসহ (যদি থাকে) {} চিহ্নের মাঝে সন্নিবেশিত করেছি যা কেবল মুদ্রিত কপিটিতেই পাওয়া যায়, এবং শায়খ তাঁর ধারাবাহিক সংস্করণগুলোতে যেসব বাক্য পরিবর্তন করেছেন তাও সংশোধন করেছি; এই

ধরনের পরিবর্তনের বিষয়টিকে আমরা লেখকের সাধারণ রীতির অন্তর্ভুক্ত মনে করেছি, যা তিনি সাধারণত বিভিন্ন উদ্দেশ্যে তাঁর রচনাশৈলীতে করে থাকেন।

প্রথম প্রকারের একটি উদাহরণ হলো এই অতিরিক্ত অংশ: "তিনি বলতেন: 'সুতরা ব্যতিরেকে সালাত আদায় করো না এবং কাউকে তোমার সামনে দিয়ে

অতিক্রম করতে দিও না, সে যদি না মানে তবে তার সাথে লড়াই করো; কারণ তার সাথে শয়তান (কারীন) রয়েছে'।" এটি তার টীকাসহ রয়েছে

(পৃষ্ঠা ১১৫, টীকা ১)।

দ্বিতীয় প্রকারের একটি উদাহরণ হলো তাঁর উক্তি (পৃষ্ঠা ১১৪): "তিনি সুতরার নিকটে দাঁড়াতেন;

ফলে তাঁর ও দেয়ালের মাঝে তিন হাতের দূরত্ব থাকত।" অথচ এটি 'আসল'-এ ছিল: "তিনি কিবলার দিকের দেয়ালের

নিকটবর্তী দাঁড়াতেন এবং নিজের ও দেয়ালের মাঝে তিন হাত পরিমাণ দূরত্ব রাখতেন।"

একইভাবে আমরা 'সিফাত' (সালাত) গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য ও তাখরিজগুলো পর্যালোচনা করেছি;

যাতে শায়খের কাছে নতুন যেসব উৎস ও ফায়দা (জ্ঞানগর্ভ বিষয়) যুক্ত হয়েছে তা সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায়। এখানে আমাদের কিছু পর্যবেক্ষণ ছিল;

কেননা কোনো নিষ্ঠাবান গবেষকের কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) 'সিফাত' গ্রন্থে

তাঁর বিভিন্ন সংস্করণে বিবিধ মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি থেকে অসংখ্য নতুন উৎস যুক্ত করেছেন,

এবং হাদীসের তাখরিজ সেখানে ছিল সংক্ষিপ্ত ও সারসংক্ষেপ, যেখানে 'আসল'-এ তা ছিল অত্যন্ত বিস্তারিত

ও বিশদ। ফলে সেই উৎসগুলোর দিকে পুনরায় ফিরে যাওয়া এবং সনদ ও মতনসমূহ পর্যালোচনা করা অপরিহার্য ছিল;

যাতে উৎসগুলোকে তাদের সঠিক স্থানে সন্নিবেশিত করা যায়। আমরা এখানে ব্যাখ্যা দীর্ঘ করব না; বিষয়টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম

ছিল, যা আমাদের এই গ্রন্থের কাজের পরিধি থেকে প্রায় আমাদের বের করে দিচ্ছিল। ফলে আমরা যা কিছু খুঁজে পেতে

সক্ষম হয়েছি তা নিয়ে গবেষণা করেছি এবং {} চিহ্নের মাঝে যথাস্থানে বসিয়েছি। আর যা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি

সেগুলোর ক্ষেত্রে টীকায় ইঙ্গিত করার ওপরই ক্ষান্ত হয়েছি। আমরা এক্ষেত্রে সংক্ষেপণ ও নির্ভুলতার বিষয়ে সচেষ্ট ছিলাম;

কাজেই কেউ যদি এর ব্যতিক্রম কিছু লক্ষ্য করেন, তবে তিনি যেন আমাদের ক্ষমা করেন।

প্রসঙ্গক্রমে আমরা বলছি: আমরা অনেক ক্ষেত্রেই নতুন মুদ্রিত সংস্করণগুলোর নম্বর লক্ষ্য করেছি।
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৯)
التي عزا الشيخ فيها إلى مخطوطات، فألحقناها بها بين معقوفين؛ حفظاً

للجهد، وتيسيراً على القارئ.

وكذلك ألحقنا الفوائد الزائدة والمضافة في مواضعها حسبما وجدناه

مناسباً، وكذلك الردود العلمية التي في مقدمة " الصفة " ألحقنا كلاً منها في

موضعه المناسب. كما صححنا بعض أرقام العزو التي وجدناها خطأ، أو أرقامٍ

لطبعات قديمة جعلناها تُطابق الطبعات الجديدة لكتب الشيخ غالباً - دون تتبع

لها جميعاً -.

هذا، وقد تيسر لنا الاطلاع على نسخة الشيخ الخاصة من " صفة الصلاة "

طبعة المعارف، ووجدنا فيها بعض التصحيحات والإضافات، فألحقناها،

ونبهنا على بعضها، وبقيتها جعلناها بين {} ؛ فكل ما بينهما مما ليس في

" الصفة " المطبوعة، فهو من نسخة الشيخ الخاصة.

وهناك ثلاثة مباحثَ لم يتناولها الشيخ رحمه الله في هذا الأصل،

فأضفناها - بتمامها - من المطبوع، وأشرنا إلى ذلك تحت كل مبحث، وهي:

مبحث (الصلاة على المنبر - ص 113) ، و (النية - ص 174) ، و (جواز الاقتصار

على {الفَاتِحَة} - ص 411) .

ومقابل هذا وجدنا مبحثاً زائداً في الأصل على " الصفة " المطبوع، وهو:

مبحث (اللباس في الصلاة - ص 145) . فأحببنا الإشارة إلى ذلك هنا.

وننبه هنا إلى أن الشيخ رحمه الله كثيراً ما يعزو في كتابه هذا إلى مواضعَ

سبق أو يأتي ذكرُها؛ فإن بعض هذه الواضع ليس بالضرورة عناوينَ بارزةً؛ انظر

مثلاً: (الرفع عند الركوعِ - ص 708) ، وغيرها، فليكن القارئ من هذا على

ذكر حتى لا يتكلفَ عناءَ البحث؛ فإنه قد لا يجد عنواناً بتلك الصيغة؛ لكنه

سيعرفه حتماً من العناوين الرئيسة.

ولتيسير هذا الأمر على القارئ بَيَّنَّا له الصفحة بين []- حيثما وجدنا
যেখানে শাইখ পাণ্ডুলিপির উদ্ধৃতি দিয়েছেন, পরিশ্রম লাঘব ও পাঠকের সুবিধার্থে আমরা সেগুলোকে সেখানে থার্ড ব্র্যাকেটের মধ্যে যুক্ত করেছি।

অনুরূপভাবে আমরা অতিরিক্ত ও সংযোজিত ফায়দাগুলো যথোপযুক্ত স্থানে যুক্ত করেছি এবং শাইখের "সিফাত" গ্রন্থের ভূমিকায় থাকা ইলমি খণ্ডনগুলোকেও

আমরা যথাস্থানে সংযোজন করেছি। তেমনিভাবে আমরা কিছু ভুল উদ্ধৃতি নম্বর সংশোধন করেছি অথবা পুরাতন

মুদ্রণের নম্বরগুলোকে শাইখের বইয়ের নতুন মুদ্রণগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছি - তবে সবগুলোর ক্ষেত্রে

তা করা হয়নি -।

এছাড়া, আল-মাআরিফ প্রকাশনীর "সিফাতুস সালাত" গ্রন্থের শাইখের নিজস্ব কপিটি দেখার সুযোগ আমাদের হয়েছে

এবং সেখানে আমরা কিছু সংশোধন ও সংযোজন পেয়েছি, যা আমরা মূল পাঠে যুক্ত করেছি এবং কিছু বিষয়ে

সতর্ক করেছি। আর অবশিষ্ট অংশগুলো আমরা { } ব্র্যাকেটের মধ্যে রেখেছি; সুতরাং এই ব্র্যাকেটের মধ্যে এমন যা কিছু আছে যা

মুদ্রিত "সিফাত" গ্রন্থে নেই, তা শাইখের নিজস্ব কপি থেকে নেওয়া হয়েছে।

এবং এমন তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে যা শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) এই মূল পাণ্ডুলিপিতে আলোচনা করেননি,

তাই আমরা সেগুলো মুদ্রিত সংস্করণ থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে যোগ করেছি এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদের নিচে তা উল্লেখ করেছি, সেগুলো হলো:

পরিচ্ছেদ: (মিম্বারের উপর সালাত - পৃ. ১১৩), (নিয়ত - পৃ. ১৭৪), এবং (শুধুমাত্র {ফাতিহা} পড়ার

বৈধতা - পৃ. ৪১১)।

এর বিপরীতে, আমরা মূল পাণ্ডুলিপিতে একটি অতিরিক্ত পরিচ্ছেদ পেয়েছি যা মুদ্রিত "সিফাত" গ্রন্থে নেই, তা হলো:

পরিচ্ছেদ: (সালাতে পোশাক-পরিচ্ছদ - পৃ. ১৪৫)। আমরা এখানে বিষয়টি উল্লেখ করা সমীচীন মনে করেছি।

আমরা এখানে সতর্ক করছি যে, শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর এই গ্রন্থে প্রায়ই এমন সব স্থানের উদ্ধৃতি দেন যা

আগে চলে গেছে বা সামনে আসবে; এই স্থানগুলোর কোনো কোনোটি স্পষ্ট বা বড় কোনো শিরোনাম নয়;

উদাহরণস্বরূপ দেখুন: (রুকুর সময় হাত তোলা - পৃ. ৭০৮) ইত্যাদি। পাঠক যেন এ বিষয়টি স্মরণে

রাখেন যাতে তাকে খোঁজাখুঁজিতে কষ্ট করতে না হয়; কারণ তিনি হয়তো ঠিক ওই শব্দের কোনো শিরোনাম পাবেন না;

তবে প্রধান শিরোনামগুলো থেকে তিনি তা অবশ্যই চিনে নিতে পারবেন।

পাঠকের জন্য বিষয়টি সহজ করতে আমরা যেখানেই পেয়েছি সেখানে [ ]-এর মধ্যে পৃষ্ঠা নম্বর স্পষ্ট করে দিয়েছি।
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১০)
ضرورة لذلك - حتى يجد مقصوده بسرعة ودون عناء.

وأخيراً؛ نذكر القارئ أننا وبسبب طبيعة هذا الكتاب وتقسيمه إلى متون

- مختصرة - وحواشٍ - مبسوطة -؛ رأينا تجميع متنه في ملحق خاص وضعناه

بُعيد خاتمة الكتاب؛ ليكون عوناً له على تصور صفة صلاته صلى الله عليه وسلم من التكبير

إلى التسليم -، وكان بودنا أن نضيف إلى كتابنا هذا؛ ما في رسالة الشيخ

" تلخيص صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم " من فوائدَ زوائدَ، لا سيما ما صرح به من أحكام

على كثير من أعيان مسائلها من ركن أو واجب أو سنة … لولا أنَّ التنبُّه إلى هذا

الأمر جاء في آخرِ مراحلِ عملنا؛ بحيث لم نستطع استدراكه في مواضعهِ.

وحسبُنا - ها هُنا - التذكيرُ بالرجوع إليها؛ فإنها نافعة في بابها، متممة

لهذا الأصل، وذاك الفرع.

ثم إننا ختمنا عملنا في هذا الكتاب بصنع فهارسَ علميةٍ، على نحو ما

كانت تُصنع في حياة الشيخ رحمه الله، وعلى عينه.

هذا ما وفّقنا الله تعالى إليه - بفضله وكرمه -، ونسأله سبحانه أن يَجْزيَ

خيراً كلَّ من شارك معنا في إخراج هذا الكتاب إعْداداً وصفاً وتصحيحاً

وتَدْقيقاً …

ونسأله تعالى أن يتغمدَ شيخَنا المؤلفَ برحمته، ويُنعمَ عليه بغفرانه، وأن

ينفع بكتابه هذا، ويجعلَه من الأعمال التي لا ينقطع أجرُها عنه بإذن الله؛ إنه

ولي ذلك وهو المستعان، وهو ربنا وعليه التُّكْلان.

27 رمضان 1424 هـ

21 تشرين 2 2003م الناشر
এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে - যাতে পাঠক তার উদ্দেশ্য দ্রুত এবং বিনা পরিশ্রমে খুঁজে পায়।

পরিশেষে; আমরা পাঠককে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে, এই বইটির বিশেষ প্রকৃতি এবং একে সংক্ষিপ্ত মূলপাঠ ও বিস্তারিত টীকাসমূহে বিভক্ত করার কারণে; আমরা এর মূলপাঠকে একটি বিশেষ পরিশিষ্টিতে একত্রিত করা সমীচীন মনে করেছি, যা আমরা

বইটির সমাপ্তির ঠিক পরেই যুক্ত করেছি; যাতে তাকবীর থেকে

তাসলিম পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের পদ্ধতির একটি সামগ্রিক রূপরেখা অনুধাবনে তা তার জন্য সহায়ক হয়। আমাদের একান্ত ইচ্ছা ছিল যে, শাইখের

"তালখীস সিফাত সালাতিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম" (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের পদ্ধতির সংক্ষিপ্তসার) নামক পুস্তিকাটিতে থাকা অতিরিক্ত ফায়দাগুলোও এই বইটিতে যোগ করব; বিশেষ করে সালাতের রুকন, ওয়াজিব বা সুন্নাত সংক্রান্ত বহু মাসআলার ক্ষেত্রে তিনি যে সব আহকামের স্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন … কিন্তু সমস্যা হলো এই বিষয়টির প্রতি আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে আমাদের কাজের একেবারেই শেষ পর্যায়ে;

যার ফলে আমরা তা যথাস্থানে অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম হইনি।

এখানে আমাদের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, আমরা সেই পুস্তিকাটির দিকে ফিরে যাওয়ার জন্য স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি; কেননা এটি এ বিষয়ে অত্যন্ত উপকারী এবং এই মূল বিষয় ও তার আনুষঙ্গিক শাখার পরিপূরক।

এরপর আমরা শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবদ্দশায় এবং তাঁরই প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে যেভাবে বৈজ্ঞানিক নির্ঘণ্ট তৈরি করা হতো, সেই আদলেই নির্ঘণ্ট তৈরির মাধ্যমে এই বইটির কাজ সম্পন্ন করেছি।

আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় আমাদের যতটুকু তাওফীক দিয়েছেন এটি তারই প্রতিফলন। আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই বইটি প্রস্তুত করা, কম্পোজ করা, সংশোধন এবং নিরীক্ষণ করার কাজে আমাদের সাথে যারা অংশ নিয়েছেন তাদের প্রত্যেককে উত্তম প্রতিদান দান করেন …

আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের শাইখ ও লেখককে তাঁর রহমতের চাদরে আবৃত করেন, তাঁকে তাঁর ক্ষমার নেয়ামত দ্বারা ধন্য করেন এবং তাঁর এই বইটির মাধ্যমে যেন মানুষকে উপকৃত করেন এবং একে এমন আমল হিসেবে কবুল করেন আল্লাহর অনুমতিতে যার সাওয়াব কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না; নিশ্চয়ই তিনি

এর অভিভাবক এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয়; তিনিই আমাদের রব এবং তাঁর ওপরই সকল নির্ভরতা।

২৭ রমাদান ১৪২৪ হিজরি

২১ নভেম্বর ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ প্রকাশক
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১১)
صورة الصفحة الأولى من مخطوطة الكتاب
কিতাবের পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠার ছবি
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১২)
صورة الصفحة الأخيرة من مخطوطة الكتاب
গ্রন্থের পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার চিত্র।
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة الكتاب

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور

أنفسنا، ومن سيِّئات أعمالنا، من يهده الله؛ فلا مُضِلَّ له، ومن يضلل؛ فلا

هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده

ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إلَّا وَأَنتُم مُسْلِمُونَ}

[آل عمران: 102] .

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا

زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إنَّ

اللَّهَ كَانَ عَلَيْكَمْ رَقِيبًا} [النساء: 11] .

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا. يُصْلحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ

وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيماً} [الأحزاب: 70 - 71] .

الحمد لله الذي فرض الصلاة على عباده، وأمرهم بإقامتها وحسن أدائها،

وعلَّق النجاح والفلاح بالخشوع فيها، وجعلها فرقاناً بين الإيمان والكفر، وناهية

عن الفحشاء والمنكر.

والصلاة والسلام على نبينا محمد المخاطب بقوله تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ

الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} (النحل: 44) ، فقام صلى الله عليه وسلم بهذه الوظيفة حق

القيام، وكانت الصلاة من أعظم ما بيَّنه للناس قولاً وفعلاً؛ حتى إنه صلى

مرة على المنبر؛ يقوم عليه ويركع، ثم قال لهم:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌গ্রন্থের ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা

এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে

পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা

ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}

[আলে ইমরান: ১০২] ।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন

এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই

আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [নিসা: ১১] ।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন

এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আহযাব: ৭০ - ৭১] ।

সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর বান্দাদের ওপর সালাত ফরজ করেছেন এবং তা প্রতিষ্ঠা ও উত্তমরূপে আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।

আর তিনি সালাতে খুশু বা একাগ্রতা অবলম্বনের ওপর সফলতা ও কামিয়াবিকে নির্ভরশীল করেছেন। তিনি একে ঈমান ও কুফরের মাঝে পার্থক্যকারী এবং অশ্লীল

ও গর্হিত কাজ থেকে বাধা প্রদানকারী করেছেন।

আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যাকে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে সম্বোধন করা হয়েছে: {আর আমি তোমার প্রতি

যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে তুমি মানুষের জন্য তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে দাও যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে} (নাহল: ৪৪)। ফলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যথাযথভাবে এই

দায়িত্ব পালন করেছেন। আর সালাত ছিল সেই সকল বিষয়ের মধ্যে অন্যতম যা তিনি কথা ও কাজের মাধ্যমে মানুষের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন; এমনকি তিনি একদা

মিম্বারের ওপর সালাত আদায় করেছিলেন; তিনি তার ওপর দাঁড়িয়েছিলেন এবং রুকু করেছিলেন, অতঃপর তাঁদেরকে বলেছিলেন:
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
" إنما صنعتُ هذا؛ لتأتموا بي، ولِتَعلَّموا صلاتي " (1) .

وأوجب علينا الاقتداء به فيها، فقال:

" صلوا كما رأيتموني أصلي " (2) .

وبَشَّرَ من صلاها كصلاته أن له عند الله عهداً أن يدخله الجنة، فقال:

" خمس صلوات افترضهن الله عز وجل، من أحسن وضوءهن، وصلاهن

لوقتهن، وأتم ركوعهن وسجودهن وخشوعهن؛ كان له على الله عهد أن يغفر

له، ومن لم يفعل؛ فليس له على الله عهدٌ، إن شاء؛ غفر له، وإن شاء؛

عذبه " (3) .

وعلى آله وصحبه الأتقياء البررة، الذين نقلوا إلينا عبادته صلى الله عليه وسلم وصلاته

وأقواله وأفعاله، وجعلوها - وحدها - لهم مذهباً وقدوة، وعلى من حذا

حذوهم، وسلك سبيلهم إلى يوم الدين.

وبعد؛ فإني لمَّا انتهيت من قراءة (كتاب الصلاة) من " الترغيب والترهيب "

للحافظ المنذري رحمه الله وتدريسه على بعض إخواننا السلفيين - وذلك منذ أربع

سنين -؛ تبين لنا جميعاً ما للصلاة من المنزلة والمكانة في الإسلام، وما لمن

أقامها وأحسن أداءها من الأجر، والفضل، والإكرام، وأن ذلك يختلف - زيادة

ونقصاً - بنسبة قربها أو بعدها من صلاة النبي صلى الله عليه وسلم؛ كما أشار إلى ذلك بقوله:

--------------------------------------------

(1) [رواه] البخاري، ومسلم. وسيأتي في (القيام) بتمامه.

(2) [رواه] البخاري، وأحمد. وهو مخرج في " إرواء الغليل " تحت الحديث (213) .

(3) قلت: وهو حديث صحيح، صححه غير واحد من الأئمة. وقد خرجته في " صحيح

أبي داود " (452 و 1276) .
"আমি এটি কেবল এজন্যই করেছি যেন তোমরা আমাকে অনুসরণ করতে পারো এবং আমার সালাত শিখে নিতে পারো।" (১) ।

এবং তিনি এতে তাঁর অনুসরণ করা আমাদের ওপর অপরিহার্য করে দিয়েছেন, তিনি বলেছেন:

"তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ।" (২) ।

আর যে ব্যক্তি তাঁর সালাতের মতো করে সালাত আদায় করবে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর জন্য আল্লাহর নিকট থেকে একটি অঙ্গীকার রয়েছে বলে তিনি সুসংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন:

"পাঁচটি সালাত আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ফরয করেছেন। যে ব্যক্তি এগুলোর জন্য সুন্দরভাবে ওযু করবে এবং এগুলোকে

ঠিক সময়ে আদায় করবে, আর এগুলোর রুকু, সাজদাহ ও একাগ্রতা পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন করবে; তার জন্য আল্লাহর জিম্মায় এই অঙ্গীকার থাকে যে, তিনি তাকে ক্ষমা

করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি তা করবে না, তার জন্য আল্লাহর নিকট কোনো অঙ্গীকার নেই; তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করতে পারেন, আর চাইলে তাকে

শাস্তি দিতে পারেন।" (৩) ।

এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও পুণ্যবান মুত্তাকি সাহাবীদের ওপর (সালাম বর্ষিত হোক), যাঁরা আমাদের কাছে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইবাদত, সালাত,

কথা ও কাজসমূহ পৌঁছে দিয়েছেন এবং এগুলোকেই—একমাত্র এগুলোকেই—নিজেদের আদর্শ ও পথ হিসেবে গ্রহণ করেছেন; আর কিয়ামত পর্যন্ত যাঁরা তাঁদের

পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন এবং তাঁদের পথে চলবেন তাঁদের ওপরও (সালাম বর্ষিত হোক)।

অতঃপর; যখন আমি হাফেয মুনযিরি (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত "আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব" থেকে (সালাত অধ্যায়) পাঠ করা এবং আমাদের কিছু

সালাফি ভাইদের কাছে তা অধ্যাপনা করা শেষ করলাম—আর তা ছিল চার বছর আগে—; তখন আমাদের সকলের কাছে ইসলামে সালাতের

মর্যাদা ও অবস্থান এবং যে ব্যক্তি এটি কায়েম করে ও উত্তমরূপে আদায় করে তার জন্য সওয়াব, ফযিলত ও সম্মানের বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হলো। আরও স্পষ্ট হলো যে, এই প্রাপ্তি—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাতের সাথে নৈকট্য বা দূরত্বের অনুপাতে—কম বা বেশি হয়ে থাকে;

যেমনটি তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন:

--------------------------------------------

(১) [বর্ণনা করেছেন] বুখারি ও মুসলিম। (সালাতে) দাঁড়ানো অধ্যায়ে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে আসবে।

(২) [বর্ণনা করেছেন] বুখারি ও আহমাদ। এটি "ইরওয়াউল গালিল" গ্রন্থের ২১৩ নম্বর হাদিসের অধীনে তাহকিক করা হয়েছে।

(৩) আমি (লেখন) বলছি: এটি একটি সহিহ হাদিস, একাধিক ইমাম একে সহিহ বলেছেন। আমি এটি "সহিহ

আবু দাউদ" (৪৫২ ও ১২৭৬) গ্রন্থে তাহকিক করেছি।
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
" إن العبدَ ليصلي الصلاةَ؛ ما يُكْتَبُ له منها إلا عُشْرُها، تُسْعُها، ثُمْنُها،

سُبْعُها، سُدْسُها، خُمْسها، رُبْعُها، ثُلْثُها، نِصْفُها " (1) .

ولذلك فإني نبهت الإخوان إلى أنه لا يمكننا أداؤها حق الأداء - أو قريباً

منه - إلا إذا علمنا صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم مفصَّلَةً، وما فيها من واجبات،

وآداب، وهيئات، وأدعية، وأذكار، ثم حرصنا على تطبيق ذلك عملياً؛

فحينئذٍ نرجو أن تكون صلاتنا تنهانا عن الفحشاء والمنكر، وأن يُكتب لنا ما

ورد فيها من الثواب والأجر.

ولما كان معرفة ذلك على التفصيل يتعذر على أكثر الناس - حتى على

كثير من العلماء -؛ لتقيدهم بمذهب معين، وقد عَلِمَ كل مشتغل بخدمة

السنة المطهرة - جمعاً وتفقهاً - أن في كل مذهب من المذاهب سُنَناً لا توجد

في المذاهب الأخرى، وفيها جَميعِها ما لا يصح نسبته إلى النبي صلى الله عليه وسلم؛ من الأقوال

والأفعال، وأكثر ما يوجد ذلك في كتب المتأخرين (2) ، وكثيراً ما نراهم يجزمون

--------------------------------------------

(1) صحيح. رواه ابن المبارك في " الزهد " (10/21/1- 2) ، وأبو داود، والنسائي بسند

جيد. وقد خرجته في " الصحيح " المذكور (761) .

(2) قال أبو الحسنات اللكنوي في كتابه " النافع الكبير لمن يطالع الجامع الصغير " - بعد أن

ذكر مراتب كتب الفقه الحنفي، وما يُعتمد عليه منها، وما لا يُعتمد - قال (ص 122 - 123) :

" كل ما ذكرنا من ترتيب المصنفات؛ إنما هو بحسب المسائل الفقهية، وأما بحسب ما فيها

من الأحاديث النبوية؛ فلا، فكم من كتاب معتمد - اعتمد عليه أجلَّةُ الفقهاء - مملوء من

الأحاديث الموضوعة! ولا سيما الفتاوى؛ فقد وضح لنا بتوسيع النظر أن أصحابها وإن كانوا من

الكاملين؛ لكنهم في نقل الأخبار من المتساهلين ".

قلت: ومن هذه الأحاديث الموضوعة؛ بل الباطلة - التي وردت في بعض كتب الأجِلَّة - حديث: =
"নিশ্চয়ই বান্দা সালাত আদায় করে; কিন্তু তার জন্য সেই সালাতের মাত্র দশ ভাগের এক ভাগ, নয় ভাগের এক ভাগ, আট ভাগের এক ভাগ, সাত ভাগের এক ভাগ, ছয় ভাগের এক ভাগ, পাঁচ ভাগের এক ভাগ, চার ভাগের এক ভাগ, তিন ভাগের এক ভাগ অথবা অর্ধেক লেখা হয়।" (১)।

আর এই কারণেই আমি ভাইদের সতর্ক করেছি যে, আমরা সালাত যথাযথভাবে আদায় করতে পারব না—কিংবা তার কাছাকাছিও যেতে পারব না—যতক্ষণ না আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে জানতে পারব এবং তাতে কী কী ওয়াজিব, আদব, নিয়মাবলি, দোয়া ও জিকির রয়েছে তা শিখতে পারব এবং এরপর সেগুলো বাস্তবে প্রয়োগে যত্নবান হতে পারব;

তখনই আমরা আশা করতে পারি যে, আমাদের সালাত আমাদের অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে এবং আমাদের জন্য সালাতের যে সওয়াব ও প্রতিদানের কথা বর্ণিত হয়েছে তা লিপিবদ্ধ করা হবে।

যেহেতু এসবের বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করা অধিকাংশ মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য—এমনকি অনেক আলিমের জন্যও—একটি নির্দিষ্ট মাযহাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কারণে; অথচ পবিত্র সুন্নাহর সেবায় নিয়োজিত (সংকলন ও ফিকহী গবেষণায়) প্রত্যেক ব্যক্তিই জানেন যে, প্রতিটি মাযহাবের মধ্যেই এমন কিছু সুন্নাহ রয়েছে যা অন্য মাযহাবগুলোতে পাওয়া যায় না, এবং সব কটি মাযহাবের মধ্যেই এমন কিছু কথা ও কাজ রয়েছে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্পৃক্ত করা সহীহ নয়; আর এটি পরবর্তী যুগের আলিমদের কিতাবসমূহে অধিকহারে পাওয়া যায় (২), এবং প্রায়ই দেখা যায় যে তারা দৃঢ়তার সাথে বর্ণনা করেন...

--------------------------------------------

(১) সহীহ। ইবনুল মুবারক এটি তাঁর 'আয-যুহদ' (১০/২১/১-২) গ্রন্থে, আবু দাউদ এবং নাসায়ী উত্তম সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আমি এটি উল্লিখিত 'সহীহ' গ্রন্থে (৭৬১) তাখরীজ করেছি।

(২) আবুল হাসানাত আল-লখনবী তাঁর 'আন-নাফেউল কাবীর লিমান ইউতালিউল জামিউস সাগীর' গ্রন্থে—হানাফী ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহের স্তর বিন্যাস এবং সেগুলোর মধ্যে কোনটি নির্ভরযোগ্য আর কোনটি নির্ভরযোগ্য নয় তা উল্লেখ করার পর—বলেছেন (পৃ. ১২২-১২৩):

"গ্রন্থসমূহের যে বিন্যাস আমরা উল্লেখ করেছি, তা কেবল ফিকহী মাসআলার বিচারে; কিন্তু তাতে বর্ণিত নববী হাদীসসমূহের বিচারে নয়। কেননা কত নির্ভরযোগ্য কিতাব রয়েছে—যাকে মহান ফকীহগণ নির্ভরযোগ্য মনে করেছেন—অথচ তা জাল হাদীসে পরিপূর্ণ! বিশেষ করে ফতোয়ার কিতাবসমূহ; গভীর পর্যালোচনার মাধ্যমে আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, যদিও সেগুলোর লেখকরা পূর্ণজ্ঞানী ছিলেন, তবে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে তারা শিথিলতা প্রদর্শনকারী ছিলেন।"

আমি বলছি: এই সমস্ত জাল বরং বাতিল হাদীসসমূহের মধ্যে—যা কতিপয় মহান আলিমের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে—একটি হাদীস হলো: =
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
..............................................................................

--------------------------------------------

= " من قضى صلوات من الفرائض في آخر جمعة من رمضان؛ كان ذلك جابراً لكل صلاة

فاتته في عمره إلى سبعين سنة ". قال اللكنوي رحمه الله في " الآثار المرفوعة في الأخبار

الموضوعة " - بعد أن ساق الحديث - (ص 315) :

" قال علي القاري في " موضوعاته الصغرى "، و " الكبرى ": باطل قطعاً؛ لأنه مناقض

للإجماع، على أن شيئاً من العبادات لا يقوم مقام فائتة سنوات، ثم لا عبرة بنقل صاحب

" النهاية "، ولا بقية شراح " الهداية "؛ لأنهم ليسوا من المحدثين، ولا أسندوا الحديث إلى أحد

من المخرجين ".

وذكره الشوكاني في " الفوائد المجموعة في الأحاديث الموضوعة " بنحو هذا اللفظ، وقال:

" هذا موضوع بلا شك، ولم أجده في شيء من الكتب التي جمع مصنفوها فيها الأحاديث

الموضوعة، ولكنه اشتهر عند جماعة من المتفقهة بمدينة (صنعاء) في عصرنا هذا، وصار كثير

منهم يفعلون ذلك، ولا أدري من وضعه لهم! فقبح الله الكذابين ". انتهى. (الصفحة 54) .

ثم قال اللكنوي:

" وقد ألَّفتُ لإثبات وضع هذا الحديث - الذي يوجد في كتب الأوراد والوظائف بألفاظ

مختلفة، مختصرة ومطولة بالدلائل العقلية والنقلية - رسالة مسماة: " ردع الإخوان عن

محدثات آخر جمعة رمضان "، وأدرجتُ فيها فوائد تنشط بها الأذهان، وتصغي إليها الآذان.

فلتطالع؛ فإنها نفيسة في بابها، رفيعة الشان ".

قلت: وورود مثل هذا الحديث الباطل في كتب الفقه؛ مما يسقط الثقة بما فيها من

الأحاديث التي لا يعزونها إلى كتاب معتبر من كتب الحديث، وفي كلام علي القاري إشارة

إلى هذا المعنى؛ فالواجب على المسلم أن يأخذ الحديث عن أهله المختصين به، فقديماً قالوا:

" أهل مكة أدرى بشعابها "، و " صاحب الدار أدرى بما فيها ".
..............................................................................

--------------------------------------------

= "যে ব্যক্তি রমজানের শেষ জুমায় ফরজ সালাতসমূহ কাজা আদায় করবে; তা তার জীবনের সত্তর বছর পর্যন্ত ছুটে যাওয়া সমস্ত সালাতের পরিপূরক হবে।" আল-লাখনভী (রাহিমাহুল্লাহ) 'আল-আসারুল মারফুআ ফিল আখবারিল মাওদুআ' গ্রন্থে—হাদিসটি উল্লেখ করার পর—বলেন (পৃষ্ঠা ৩১৫):

"মোল্লা আলী আল-ক্বারী তাঁর 'মাওদুআতে সুগরা' ও 'মাওদুআতে কুবরা' গ্রন্থে বলেছেন: এটি নিশ্চিতভাবেই বাতিল; কেননা এটি ইজমার পরিপন্থী যে, কোনো ইবাদতই কয়েক বছরের ছুটে যাওয়া ইবাদতের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না। অতঃপর 'আন-নিহায়া'-র লেখক বা 'আল-হিদায়া'-র অন্যান্য ব্যাখ্যাকারদের বর্ণনার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই; কারণ তাঁরা হাদিস বিশারদ নন এবং তাঁরা এই হাদিসটিকে কোনো সংকলনকারীর দিকে সম্বন্ধ করেননি।"

আশ-শাওকানী 'আল-ফাওয়ায়েদুল মাজমুআ ফিল আহাদিসিল মাওদুআ' গ্রন্থে অনুরূপ শব্দে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন:

"এটি নিঃসন্দেহে জাল, আর জাল হাদিস নিয়ে রচিত গ্রন্থসমূহের কোথাও আমি এটি পাইনি। তবে বর্তমান যুগে (সানা) শহরের একদল ফিকহ চর্চাকারীর মাঝে এটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং তাদের অনেকেই এটি আমল করতে শুরু করেছে। আমি জানি না কে তাদের জন্য এটি উদ্ভাবন করেছে! আল্লাহ মিথ্যাবাদীদের লাঞ্ছিত করুন।" সমাপ্ত। (পৃষ্ঠা ৫৪)।

এরপর আল-লাখনভী বলেন:

"আমি এই হাদিসটির জাল হওয়ার প্রমাণে—যা বিভিন্ন ওজিফা ও আমলের বইয়ে সংক্ষিপ্ত ও দীর্ঘাকারে ভিন্ন ভিন্ন শব্দে পাওয়া যায়—যুক্তি ও বর্ণনানির্ভর প্রমাণের ভিত্তিতে একটি পুস্তিকা রচনা করেছি, যার নাম: 'রাদ্দুল ইখওয়ান আন মুহদাসাতে আখিরি জুমুআতি রমাদান'। এতে আমি এমন কিছু জ্ঞানগর্ভ আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করেছি যা মনকে প্রফুল্ল করে এবং শ্রবণে আগ্রহ তৈরি করে। অতএব এটি পড়া উচিত; কেননা এটি নিজ বিষয়ে অত্যন্ত মূল্যবান ও উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ।"

আমি (গ্রন্থকার) বলি: ফিকহ গ্রন্থসমূহে এ ধরনের বাতিল হাদিসের অনুপ্রবেশ সেসব হাদিসের প্রতি আস্থা কমিয়ে দেয় যেগুলোকে কোনো নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থের দিকে সম্বন্ধ করা হয়নি। মোল্লা আলী আল-ক্বারীর বক্তব্যে এই অর্থের দিকেই ইঙ্গিত রয়েছে। সুতরাং একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো হাদিসকে তার সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে গ্রহণ করা। পূর্ববর্তীরা যথার্থই বলেছেন:

"মক্কার অলিগলি সম্পর্কে মক্কাবাসীরাই অধিক অবগত" এবং "ঘরের ভেতর কী আছে তা গৃহকর্তাই ভালো জানেন।"
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
بعزو ذلك إلى النبي صلى الله عليه وسلم (1) ؛ ولذلك وضع علماء الحديث - جزاهم الله خيراً - على

بعض ما اشتهر منها كتبَ التخريجات؛ التي تبين حال كل حديث - مما ورد فيها -

من صحة، أو ضعف، أو وضع؛ ككتاب " العناية بمعرفة أحاديث الهداية "،

و" الطرق والوسائل في تخريج أحاديث خلاصة الدلائل "؛ كلاهما للشيخ

عبد القادر بن محمد القرشي الحنفي، و " نصب الراية لأحاديث الهداية " للحافظ

الزيلعي، ومختصره " الدراية " للحافظ ابن حجر العسقلاني، و " التلخيص الحبير

في تخريج أحاديث الرافعي الكبير " له أيضاً، وغيرها؛ مما يطول الكلام بإيرادها.

أقول: لما كان معرفة ذلك على التفصيل يتعذر على أكثر الناس؛ ألَّفْتُ

لهم هذا الكتاب؛ ليتعلموا كيفية صلاة النبي صلى الله عليه وسلم، فيهتدوا بهديه فيها، راجياً

من المولى سبحانه وتعالى ما وَعَدَنا به على لسان نبيه صلى الله عليه وسلم:

" من دعا إلى هدى؛ كان له من الأجر مثل أجور من تبعه، لا ينقص

ذلك من أجورهم شيئاً … " الحديث.

رواه مسلم وغيره. وهو مخرج في " الأحاديث الصحيحة " (863) .

--------------------------------------------

(1) قال الإمام النووي رحمه الله في " المجموع شرح المهذب " (1/60) ما مختصره:

" قال العلماء المحققون - من أهل الحديث وغيرهم -: إذا كان الحديث ضعيفاً؛ لا يقال

فيه: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو فعل، أو أمر، أو نهى، وغير ذلك من صيغ الجزم. وإنما يقال في

هذا كله: رُوِيَ عنه، أو نُقلَ عنه، أو يُرْوَى، وما أشبه ذلك من صيغ التمريض. قالوا: فصيغ

الجزم موضوعة للصحيح والحسن. وصيغ التمريض لما سواهما؛ وذلك أن صيغة الجزم تقتضي

صحته عن المضاف إليه؛ فلا ينبغي أن يُطْلَق إلا فيما صح، وإلا؛ فيكون الإنسان في معنى

الكاذب عليه، وهذا الأدب أخَلَّ به المصنف، وجماهير الفقهاء من أصحابنا وغيرهم، بل

جماهير أصحاب العلوم مطلقاً، ما عدا حذَّاق المحدثين، وذلك تساهل قبيح؛ فإنهم يقولون

كثيراً في الصحيح: روي عنه. وفي الضعيف: قال، وروى فلان. وهذا حَيْدٌ عن الصواب ".
এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে সম্বন্ধ করার মাধ্যমে (১); আর একারণেই হাদীস বিশারদগণ—আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন—সেগুলোর মধ্যে প্রসিদ্ধ কিছু গ্রন্থের ওপর 'তাখরীজাত' (উৎস বিশ্লেষণ) গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন; যা সেগুলোতে বর্ণিত প্রতিটি হাদীসের অবস্থা বর্ণনা করে—তা বিশুদ্ধ (সহীহ), দুর্বল (যয়ীফ) নাকি জাল (মাওযু); যেমন: "আল-ইনায়া বিমা'রিফাতি আহাদীসিল হিদায়া" এবং "আত-তুরুকু ওয়াল ওয়াসাইল ফী তাখরীজি আহাদীসি খুলাসাতিল দালায়েল" গ্রন্থদ্বয়; উভয়টি শায়খ আবদুল কাদির বিন মুহাম্মদ আল-কুরশী আল-হানাফীর লেখা, এবং হাফেজ যাইলায়ীর "নাসবুর রায়াহ লি-আহাদীসিল হিদায়া", এর সংক্ষেপিত রূপ হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানীর "আদ-দিরায়াহ", এবং তাঁরই "আত-তালখীসুল হাবীর ফী তাখরীজি আহাদীসির রাফেয়িল কাবীর" এবং আরও অন্যান্য গ্রন্থ; যা উল্লেখ করতে গেলে আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে।

আমি বলি: যেহেতু এর বিস্তারিত জ্ঞান অধিকাংশ মানুষের জন্য দুঃসাধ্য ছিল, তাই আমি তাদের জন্য এই কিতাবটি রচনা করেছি; যাতে তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামাযের পদ্ধতি শিখতে পারে এবং এর মাধ্যমে তাঁর প্রদর্শিত পথে পরিচালিত হতে পারে। আমি মহান প্রভুর (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) নিকট সেই পুরস্কারের আশা করছি, যার ওয়াদা তিনি তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুখে আমাদের দিয়েছেন:

"যে ব্যক্তি হেদায়েতের দিকে আহ্বান জানাবে, তার জন্য ওই ব্যক্তিদের সমান সওয়াব রয়েছে যারা তার অনুসরণ করবে, এতে তাদের সওয়াবের কোনো কমতি হবে না …" হাদীস।

এটি মুসলিম ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। এবং এটি "আল-আহাদীসুস সহীহা" (৮৬৩)-তে উদ্ধৃত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর "আল-মাজমু শরহুল মুহাযযাব" (১/৬০) গ্রন্থে সংক্ষেপে বলেছেন:

"মুহাক্কিক উলামাগণ—হাদীস বিশারদ ও অন্যান্যরা—বলেছেন: যখন কোনো হাদীস দুর্বল হয়, তখন সে সম্পর্কে 'রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন' অথবা 'করেছেন', 'আদেশ করেছেন' বা 'নিষেধ করেছেন'—এমন দৃঢ়তাসূচক শব্দ (সিগায়ে জজম) ব্যবহার করা যাবে না। বরং এ সব ক্ষেত্রে বলতে হবে: 'তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে' বা 'উদ্ধৃত হয়েছে' বা 'বলা হয়' এবং এই জাতীয় সংশয়সূচক শব্দ (সিগায়ে তামরীদ)। তাঁরা বলেন: দৃঢ়তাসূচক শব্দগুলো সহীহ ও হাসান হাদীসের জন্য নির্ধারিত। আর সংশয়সূচক শব্দগুলো এই দুটি ব্যতীত অন্য সব হাদীসের জন্য। কারণ দৃঢ়তাসূচক শব্দ ব্যবহার করার দাবি হলো যার প্রতি সম্বন্ধ করা হচ্ছে তাঁর থেকে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়া; সুতরাং যা সহীহ তা ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। অন্যথায় মানুষ তাঁর নামে মিথ্যা বলার সংজ্ঞায় পড়বে। আর এই আদবটি গ্রন্থকার এবং আমাদের ও অন্যান্য মাযহাবের অধিকাংশ ফকীহগণ লঙ্ঘন করেছেন, বরং দক্ষ হাদীস বিশারদগণ ব্যতীত জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রায় সকল শাখার অধিকাংশ পণ্ডিতরাই এটি করেছেন। এটি একটি কুৎসিত শিথিলতা; কেননা তারা অনেক সময় সহীহ হাদীসের ক্ষেত্রে বলেন: 'তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে', আর দুর্বল হাদীসের ক্ষেত্রে বলেন: 'অমুক বলেছেন' বা 'বর্ণনা করেছেন'। এটি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি।"
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌سَبَبُ تأليفِ الكتابِ

 

ولما كنت لم أقف على كتاب جامع في هذا الموضوع؛ فقد رأيت من

الواجب عليَّ أن أضع لإخواني المسلمين - ممن هَمُّهُم الاقتداء في عبادتهم

بهدي نبيهم صلى الله عليه وسلم كتاباً مستوعباً - ما أمكن - لجميع ما يتعلق بصفة صلاة

النبي صلى الله عليه وسلم من التكبير إلى التسليم؛ بحيث يُسَهِّل على من وقف عليه - من

المحبين للنبي صلى الله عليه وسلم حبّاً صادقاً - القيام بتحقيق أمره في الحديث المتقدم:

" صلوا كما رأيتموني أصلي ".

ولهذا فإني شَمَّرت عن ساعد الجدّ، وتتبعت الأحاديث المتعلقة بما إليه

قصدت من مختلف كتب الحديث؛ فكان من ذلك هذا الكتاب الذي بين

يديك، وقد اشترطت على نفسي أن لا أورد فيه من الأحاديث النبوية إلا ما

ثبت سنده؛ حسبما تقتضيه قواعد الحديث الشريف وأصولُه، وضربت صفحاً

عن كل ما تفرد به مجهول، أو ضعيف؛ سواء كان في الهيئات، أو الأذكار،

أو الفضائل وغيرها؛ لأنني أعتقد أن فيما ثبت من الحديث (1) غُنيةً عن

الضعيف منه؛ لأنه لا يفيد - بلا خلاف - إلا الظن؛ والظن المرجوح، وهو كما

قال تعالى: {لَا يُغْنِي مِنَ الحَقِّ شَيْئًا} [النجم: 28] . وقال صلى الله عليه وسلم:

" إياكم والظنَّ! فإن الظنَّ أكذبُ الحديث " (2) .

فلم يتعبدْنا اللهُ تعالى بالعمل به، بل نهانا رسول الله صلى الله عليه وسلم عنه؛ فقال:

--------------------------------------------

(1) الحديث الثابت يشمل الصحيح والحسن عند المحدثين بقسميهما: الصحيح لذاته،

والصحيح لغيره، والحسن لذاته، والحسن لغيره.

(2) البخاري، ومسلم. وهو مخرج في كتابي " غاية المرام تخريج الحلال والحرام " (رقم 412) .
বই রচনার কারণ

 

যেহেতু আমি এই বিষয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ বইয়ের সন্ধান পাইনি; তাই আমি আমার মুসলিম ভাইদের জন্য—যাদের মূল লক্ষ্য হলো তাদের ইবাদতে তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হেদায়াত বা পদ্ধতির অনুসরণ করা—তকবির থেকে সালাম পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয় যথাসম্ভব অন্তর্ভুক্ত করে একটি সুব্যাপ্ত বই প্রস্তুত করা নিজের ওপর আবশ্যক মনে করেছি; যাতে এটি সেই সকল ব্যক্তির জন্য সহজ হয়—যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসেন—পূর্বোক্ত হাদিসে বর্ণিত তাঁর নির্দেশটি বাস্তবায়ন করা:

"তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ।"

একারণে আমি কোমর বেঁধে সচেষ্ট হয়েছি এবং বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থ থেকে আমার উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট হাদিসগুলো অনুসন্ধান করেছি; তারই ফলশ্রুতিতে আপনার হাতে থাকা এই বইটির সংকলন হয়েছে। আর আমি নিজের ওপর এই শর্ত আরোপ করেছি যে, এতে আমি কেবল সেই সব নববী হাদিসই উল্লেখ করব যার সনদ বা সূত্র প্রমাণিত; ইলমে হাদিসের নিয়ম ও মূলনীতিসমূহ যা দাবি করে সেই অনুযায়ী। আর আমি এমন সব বর্ণনা এড়িয়ে গিয়েছি যা কেবল কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তি বা কোনো দুর্বল বর্ণনাকারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন; চাই তা সালাতের পদ্ধতি, জিকির, ফজিলত বা অন্য কোনো বিষয়েই হোক না কেন। কারণ আমি বিশ্বাস করি যে, প্রমাণিত হাদিসের (১) মধ্যে দুর্বল হাদিসের তুলনায় যথেষ্ট অমুখাপেক্ষিতা বা প্রাচুর্য রয়েছে; কেননা দুর্বল হাদিস—কোনো মতভেদ ছাড়াই—কেবল ধারণা বা সংশয়ই প্রদান করে; আর তা হলো এক প্রকার নিকৃষ্ট ধারণা, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই ধারণা সত্যের বিপরীতে কোনো কাজে আসে না} [আন-নাজম: ২৮]। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"তোমরা ধারণা (সংশয়) থেকে বেঁচে থাকো! কেননা ধারণা হলো সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা" (২)।

সুতরাং আল্লাহ তাআলা এর ওপর আমল করার মাধ্যমে আমাদের ইবাদত করার নির্দেশ দেননি, বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এ থেকে নিষেধ করেছেন; তিনি বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) প্রমাণিত হাদিস বলতে মুহাদ্দিসগণের নিকট সহিহ এবং হাসান—উভয় প্রকার হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করে যার প্রত্যেকটি আবার দুই প্রকার: সহিহ লি-যাতিহি,

সহিহ লি-গাইরিহি, হাসান লি-যাতিহি এবং হাসান লি-গাইরিহি।

(২) বুখারি ও মুসলিম। এটি আমার "গায়াতুল মারাম তাখরিজুল হালাল ওয়াল হারাম" (নম্বর ৪১২) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
" اتقوا الحديث عني؛ إلا ما علمتم " (1) .

فإذا نهى عن رواية الضعيف؛ فبالأحرى أن ينهى عن العمل به.

هذا، وقد سميت الكتاب:

" صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم من التكبير إلى التسليم كأنك تراها ".

وقد جعلته على شطرين: أعلى، وأدنى:

أما الأول: فهو كالمتن؛ أوردت فيه متون الأحاديث، أو الجمل اللازمة

منها، ووضعتها في أماكنها اللائقة بها، مؤلِّفاً بين بعضها؛ بحيث يبدو

الكتاب منسجماً من أوله إلى آخره، وحرصت على المحافظة على نص

الحديث، ولفظه الذي ورد في كتب السنة، وقد يكون له ألفاظ؛ فأوثر منها

لفظاً لفائدة التأليف، أو غيره، وقد أضم إليه غيره من الألفاظ؛ فأنبه على

ذلك بقولي: (وفي لفظ: كذا وكذا) ، أو: (وفي رواية: كذا وكذا) . ولم أعزُها

إلى رواتها من الصحابة إلا نادراً، ولا بينت من رواها من أئمة الحديث؛

تسهيلاً للمطالعة والمراجعة.

--------------------------------------------

(1) صحيح. أخرجه الترمذي، وأحمد، وابن أبي شيبة. وعزاه الشيخ محمد سعيد

الحلبي في " مسلسلاته " (1/2) للبخاري؛ فوهم.

ثم تبين لي أن الحديث ضعيف، وكنت اتبعت المناوي في تصحيحه لإسناد ابن أبي

شيبة فيه، ثم تيسر لي الوقوف عليه؛ فدا هو بَيِّن الضعف، وهو نفس إسناد الترمذي وغيره.

راجع كتابي " سلسلة الأحاديث الضعيفة " (1783) ، وقد يقوم مقامه قوله صلى الله عليه وسلم:

" من حدث عني بحديث يرى أنه كذب؛ فهو أحد الكاذبين ".

رواه مسلم وغيره. راجع مقدمة كتابي " سلسلة الأحاديث الضعيفة " (المجلد الأول) . بل

يغني عنه قوله صلى الله عليه وسلم: =
"আমার পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনা করা হতে বিরত থাকো; তবে তোমরা যা জানো তা ব্যতীত।" (১) ।

সুতরাং যখন দুর্বল (যইফ) হাদিস বর্ণনা করা হতে নিষেধ করা হয়েছে; তখন তার ওপর আমল করা হতে নিষেধ করা তো আরও সঙ্গত।

আর এই বিষয়ে আমি কিতাবটির নাম রেখেছি:

"নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত আদায়ের পদ্ধতি; তাকবির থেকে তাসলিম পর্যন্ত, যেন আপনি তা দেখছেন।"

আমি একে দুই ভাগে বিন্যস্ত করেছি: উচ্চ এবং নিম্ন:

প্রথম অংশটি হলো মূল পাঠের (মতন) মতো; এতে আমি হাদিসসমূহের মূল পাঠ অথবা সেগুলোর প্রয়োজনীয় বাক্যগুলো উল্লেখ করেছি এবং সেগুলোকে তাদের উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করেছি। সেগুলোর মাঝে এমনভাবে সমন্বয় সাধন করেছি যাতে কিতাবটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুসংগত মনে হয়। আমি সুন্নাহর কিতাবসমূহে বর্ণিত হাদিসের মূল পাঠ ও শব্দের বিশুদ্ধতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। একটি হাদিসের একাধিক শব্দ থাকতে পারে; সেক্ষেত্রে আমি সংকলনের সুবিধার্থে বা অন্য কোনো কারণে কোনো একটি শব্দকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। কখনও কখনও আমি এর সাথে অন্যান্য শব্দও যোগ করেছি; সেক্ষেত্রে আমি তা এই বলে নির্দেশ করেছি যে: (অন্য একটি শব্দে: এমন এবং এমন) অথবা (অন্য একটি বর্ণনায়: এমন এবং এমন)। পঠন ও পর্যালোচনার সুবিধার্থে আমি খুব অল্প সংখ্যক ক্ষেত্র ব্যতীত সাহাবী রাবিদের (বর্ণনাকারীদের) দিকে তা সম্বন্ধ করিনি এবং হাদিসের ইমামদের মধ্য থেকে কে তা বর্ণনা করেছেন তাও উল্লেখ করিনি।

--------------------------------------------

(১) সহিহ। এটি তিরমিজি, আহমাদ এবং ইবনে আবি শাইবাহ বর্ণনা করেছেন। শেখ মুহাম্মদ সাঈদ আল-হালাবি তাঁর "মুসালসালাত" (১/২) গ্রন্থে একে বুখারির দিকে সম্বন্ধ করেছেন; যা একটি ভুল।

পরবর্তীতে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে হাদিসটি দুর্বল (যইফ)। ইবনে আবি শাইবাহর সনদের ক্ষেত্রে আমি আল-মুনাউয়ির সহিহ হওয়ার মতের অনুসরণ করেছিলাম। অতঃপর যখন আমি এর ওপর পর্যালোচনার সুযোগ পেলাম, তখন এটি স্পষ্ট দুর্বল প্রমাণিত হলো; আর এটি তিরমিজি ও অন্যদের সনদের অনুরূপ।

দেখুন আমার কিতাব "সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-দাইফাহ" (১৭৮৩)। আর এর পরিবর্তে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীটি স্থলাভিষিক্ত হতে পারে:

"যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করে যা সে মিথ্যা মনে করে; তবে সে মিথ্যাবাদীদের একজন।"

এটি মুসলিম ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন। দেখুন আমার কিতাব "সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-দাইফাহ" (প্রথম খণ্ড)-এর ভূমিকা। বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীটিই এর জন্য যথেষ্ট: =
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২০)
وأما الشطر الآخر: فهو كالشرح لما قبله؛ خرّجت فيه الأحاديث الواردة في

الشطر الأعلى، مستقصياً ألفاظه وطرقه، مع الكلام على أسانيدها وشواهدها،

تعديلاً وتجريحاً، وتصحيحاً وتضعيفاً؛ حسبما تقتضيه علوم الحديث الشريف

وقواعده، وكثيراً ما يوجد في بعض الطرق من الألفاظ والزيادات ما لا يوجد

في الطرق الأخرى؛ فأضيفها إلى الحديث الوارد في القسم الأعلى إذا أمكن

انسجامها مع أصله، وأشرت إلى ذلك بجعلها بين قوسين مستطيلين

هكذا: [] ، دون أن أنصَّ على من تفرَّد بها من المخرجين لأصله، هذا إذا كان

مصدر الحديث ومخرجه عن صحابي واحد، وإلا؛ جعلته نوعاً آخر مستقلاً

بنفسه - كما تراه في أدعية الاستفتاح وغيره -، وهذا شيء عزيز نفيس؛ لا

تكاد تجده هكذا في كتاب. والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات.

ثم أذكر فيه مذاهب العلماء حول الحديث الذي خرجناه، ودليل كل

منهم مع مناقشتها، وبيان ما لها، وما عليها، ثم نستخلص من ذلك الحق

الذي أوردناه في القسم الأعلى، وقد أُورِدُ فيه بعض المسائل التي ليس عليها

نص في السنة؛ إنما هي من المجتهد فيها، ولا تدخل في موضوع كتابنا هذا.

أسأل الله تعالى أن يجعله خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفع به إخواني

المؤمنين، إنه سميع مجيب.

--------------------------------------------

= " إياكم وكثرة الحديث عني! من قال عليّ؛ فلا يقولن إلا حقّاً، أو صدقاً، فمن قال عليّ

ما لم أقل؛ فليتبوأ مقعده من النار ".

أخرجه ابن أبي شيبة (8/760) ، وأحمد وغيرهما. وهو مخرج في " الصحيحة "

(1753) .
আর অপর অংশটি হলো: এটি তার পূর্ববর্তী অংশের ব্যাখ্যার মতো; এতে আমি উপরের অংশে উল্লেখিত হাদিসসমূহ সংকলন করেছি,

এর শব্দ এবং সূত্রসমূহ বিস্তারিতভাবে অনুসন্ধান করে। সাথে এগুলোর সনদ এবং সাক্ষী (শাওয়াহিদ) নিয়ে আলোচনা করেছি—

গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ (তাদিল) ও ত্রুটি বর্ণনা (জারহ), এবং সহিহ ও জয়িফ সাব্যস্তকরণ সাপেক্ষে; যা হাদিস বিজ্ঞান

এবং এর মূলনীতিসমূহ দাবি করে। অনেক সময় কিছু সূত্রে এমন সব শব্দ এবং অতিরিক্ত অংশ পাওয়া যায় যা অন্য

সূত্রে পাওয়া যায় না; তাই আমি সেগুলোকে উপরের অনুচ্ছেদে উল্লেখিত হাদিসের সাথে যুক্ত করে দিয়েছি যদি

মূল পাঠের সাথে সেগুলোর সমন্বয় করা সম্ভব হয়। আর আমি এই অতিরিক্ত অংশগুলোকে বর্গাকার বন্ধনী

অর্থাৎ: []-এর মধ্যে রেখে নির্দেশ করেছি, তবে মূল হাদিসের বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে কে এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন তার নাম উল্লেখ করিনি—এটি তখন করা হয়েছে যখন

হাদিসের উৎস এবং বর্ণনাকারী একজন সাহাবী হয়েছেন। অন্যথায়; আমি একে স্বতন্ত্র একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করেছি

—যেমনটি আপনি সালাত শুরুর দোয়া (ইস্তিফতাহ) এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে দেখতে পাবেন। এটি অত্যন্ত দুর্লভ এবং মূল্যবান একটি বিষয়; যা আপনি

কোনো কিতাবে সচরাচর এভাবে পাবেন না। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সম্পন্ন হয়।

অতঃপর আমি এতে আমাদের সংকলিত হাদিস সম্পর্কে আলেমগণের অভিমতসমূহ এবং তাদের প্রত্যেকের

স্বপক্ষে দলিল ও তার ওপর পর্যালোচনাসহ তাদের অনুকূল ও প্রতিকূল বিষয়সমূহ বর্ণনা করেছি। এরপর আমরা তা থেকে সেই সত্যটি

নিরূপণ করেছি যা আমরা উপরের অংশে উপস্থাপন করেছি। কখনো কখনো আমি এতে এমন কিছু মাসআলা উল্লেখ করেছি যে ব্যাপারে সুন্নাহতে কোনো

সরাসরি পাঠ (নস) নেই; বরং সেগুলো ইজতিহাদি বিষয় এবং আমাদের এই বইয়ের মূল বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন একে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে আমার মুমিন

ভাইদের উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।

--------------------------------------------

= "আমার পক্ষ থেকে অনেক বেশি হাদিস বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকো! যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে কিছু বলবে, সে যেন কেবল সত্য বা সঠিক কথাই বলে। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে

এমন কিছু বলবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"

এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি শায়বাহ (৮/৭৬০), আহমাদ এবং অন্যান্যরা। এটি "আস-সহিহাহ"

(১৭৫৩) -এ সংকলিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌منهج الكتاب

 

ولما كان موضوع الكتاب إنما هو بيان هدي النبي صلى الله عليه وسلم في الصلاة؛ كان من

البدهي أن لا أتقيد فيه بمذهب معين؛ للسبب الذي مرَّ ذكرُه، وإنما أُورد فيه ما

ثبت عنه صلى الله عليه وسلم كما هو مذهب المحدِّثين (1) قديماً وحديثاً (2) -، وقد أحسن من قال:

--------------------------------------------

(1) قال أبو الحسنات اللكنوي في " إمام الكلام فيما يتعلق بالقراءة خلف الإمام "

(ص 156) ما نصه:

" ومن نظر بنظر الإنصاف، وغاص في بحار الفقه والأصول متجنباً الاعتساف؛ يعلم علماً

يقينياً أن أكثر المسائل الفرعية والأصلية التي اختلف العلماء فيها؛ فمذهب المحدِّثين فيها أقوى

من مذاهب غيرهم، وإني كلما أسير في شُعَب الاختلاف؛ أجد قول المحدِّثين فيه قريباً من

الإنصاف، فلله دَرُّهم، وعليه شكرهم - كذا الأصل -، كيف لا؛ وهم ورثة النبي صلى الله عليه وسلم حقاً،

ونواب شرعه صدقاً؟! حشرنا الله في زمرتهم، وأماتنا على حبهم وسيرتهم ".

(2) قال السبكي في " الفتاوى " (1/148) :

" وبعد؛ فإن أهم أمور المسلمين الصلاة، يجب على كل مسلم الاهتمام بها، والمحافظة على

أدائها، وإقامة شعائرها، وفيها أمور مُجْمَعٌ عليها؛ لا مندوحة عن الإتيان بها، وأمور اختلف

العلماء في وجوبها، وطريق الرشاد في ذلك أمران: إما أن يتحرى الخروج من الخلاف إن

أمكن، وإما ينظر ما صح عن النبي صلى الله عليه وسلم؛ فيتمسك به، فإذا فعل ذلك؛ كانت صلاته صواباً

صالحة داخلة في قوله تعالى: {فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا} .

قلت: والوجه الثاني أولى؛ بل هو الواجب؛ لأن الوجه الأول - مع عدم إمكانه في كثير

من المسائل - لا يتحقق به أمره صلى الله عليه وسلم:

" صلوا كما رأيتموني أصلي "؛ لأنه في هذه الحالة ستكون صلاته - حتماً - على خلاف

صلاته صلى الله عليه وسلم، فتأمل.
‌‌কিতাবটির পদ্ধতি

 

যেহেতু এই কিতাবটির মূল বিষয়বস্তু হলো সালাতের ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদর্শ বর্ণনা করা; তাই এটি

স্বাভাবিক যে আমি এতে কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব না; ইতিপূর্বে বর্ণিত কারণের প্রেক্ষিতে। বরং আমি এতে তা-ই উল্লেখ করব যা

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সাব্যস্ত হয়েছে, যেমনটি প্রাচীন ও বর্তমান মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি (১) (২) — এবং যিনি এটি বলেছেন তিনি চমৎকার বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) আবু হাসানাত আল-লাখনবী ‘ইমামুল কালাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিল-কিরাআতি খালফাল ইমাম’

(পৃ. ১৫৬) গ্রন্থে বলেন, যার ভাষ্য নিম্নরূপ:

“যে ব্যক্তি ইনসাফের দৃষ্টিতে তাকাবে এবং গোঁড়ামি পরিহার করে ফিকহ ও উসূলের সমুদ্রে ডুব দেবে; সে নিশ্চিতভাবে

জানতে পারবে যে, অধিকাংশ শাখা ও মূল মাসআলা যাতে আলেমগণ ইখতিলাফ করেছেন, তাতে মুহাদ্দিসগণের মাযহাব

অন্যদের মাযহাবের চেয়ে অধিক শক্তিশালী। আমি যখনই ইখতিলাফের শাখা-প্রশাখা দিয়ে অতিক্রম করি, তখনই তাতে মুহাদ্দিসগণের

বক্তব্যকে ইনসাফের কাছাকাছি পাই। আল্লাহ তাঁদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁদের কৃতজ্ঞতা তাঁরই কাছে—মূল পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী—কীভাবেই বা তা হবে না; অথচ তাঁরাই প্রকৃত অর্থে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উত্তরসূরি এবং

সত্যনিষ্ঠভাবে তাঁর শরীয়তের প্রতিনিধি?! আল্লাহ আমাদের তাঁদের দলভুক্ত হয়ে হাশর করার তৌফিক দিন এবং তাঁদের ভালোবাসা ও আদর্শের ওপর মৃত্যু দান করুন।”

(২) সুবকী ‘আল-ফাতাওয়া’ (১/১৪৮) গ্রন্থে বলেন:

“অতঃপর, মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সালাত। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত এর প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা, তা আদায়ে যত্নবান হওয়া এবং এর বিধানগুলো প্রতিষ্ঠিত করা। এতে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা সর্বসম্মত; যা পালন করা ব্যতিরেকে কোনো উপায় নেই। আবার এমন কিছু বিষয় রয়েছে যার ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে আলেমগণ ইখতিলাফ করেছেন। এক্ষেত্রে সঠিক পথের পাথেয় হলো দুটি: হয়তো সম্ভব হলে ইখতিলাফ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করা, অথবা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়েছে তা দেখা; অতঃপর তা আঁকড়ে ধরা। যখন সে এটি করবে, তখন তার সালাত সঠিক ও নেক আমল হিসেবে গণ্য হবে যা মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হবে: {যে তার রবের সাথে সাক্ষাতের আশা করে, সে যেন নেক আমল করে}।

আমি (গ্রন্থকার) বলব: দ্বিতীয় পদ্ধতিটিই অধিক উত্তম; বরং এটিই ওয়াজিব। কারণ প্রথম পদ্ধতিটি—অধিকাংশ

মাসআলায় অসম্ভব হওয়ার পাশাপাশি—তার মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই নির্দেশ বাস্তবায়িত হয় না:

“তোমরা সেভাবে সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ।” কারণ এমতাবস্থায় তার সালাত নিশ্চিতভাবেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাতের বিপরীত হতে পারে, সুতরাং চিন্তা করুন।
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২২)
أهلُ الحديث هُمُ أهلُ النبيّ وإنْ … لم يَصْحبوا نَفْسَهُ أنفاسَهُ صَحِبوا (1)

ولذلك فإن الكتاب سيكون - إن شاء الله تعالى - جامعاً لشتات ما تفرق

في بطون كتب الحديث والفقه - على اختلاف المذاهب مما له علاقة بموضوعه -،

بينما لا يجمع ما فيه من الحق أيُّ كتاب أو مذهب، وسيكون العامل به - إن

شاء الله - ممن قد هداه الله {لِمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ مِنَ الحَقِّ بِإِذْنِهِ وَاللَّهُ يَهْدِي مَنْ

يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [البقرة: 213] .

ثم إني حين وضعت هذا المنهج لنفسي - وهو التمسك بالسنة الصحيحة -،

وجريت عليه في هذا الكتاب وغيره - مما سوف ينتشر بين الناس إن شاء الله

تعالى -؛ كنت على علم أنه سوف لا يُرْضِي ذلك كلَّ الطوائف والمذاهب، بل

سوف يوجه بعضهم - أو كثير منهم - ألسنة الطعن، وأقلام اللوم إليَّ، ولا بأس

من ذلك عليَّ؛ فإني أعلم أيضاً أن إرضاء الناس غاية لا تدرك، وأن:

" من أرضى الناس بسخط الله؛ وكَلَه الله إلى الناس "؛ كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (2)

ولله دَرُّ من قال:

ولست بناجٍ من مقالةِ طاعِنٍ … ولو كنتُ في غارٍ على جبلٍ وعرِ

ومن ذا الذي ينجو من الناسِ سالماً … ولو غابَ عنهم بين خافِيَتَي نسرِ (3)

--------------------------------------------

(1) من إنشاد الحسن بن محمد النَّسَوي؛ كما رواه الحافظ ضياء الدين المقدسي في جزء

له في " فضل الحديث وأهله ".

(2) [أخرجه] الترمذي، والقُضَاعي، وابن بِشْران وغيرهم. وقد تكلمت على الحديث

وطرقه في تخريج أحاديث " شرح العقيدة الطحاوية "، ثم في " الصحيحة " (2311) ، وبينت أنه

لا يضره وقف من أوقفه، وأنه صححه ابن حبان.

(3) الخوافي: ريشات إذا ضم الطائر جناحيه؛ خفيت، وتكون وراء القوادم.
আহলুল হাদিসগণই হলেন নবীর আপনজন, যদিও তারা … তাঁর শরীরের সান্নিধ্য লাভ করেননি, তবে তাঁরা তাঁর নিশ্বাসের (বাণীর) সান্নিধ্য লাভ করেছেন। (১)

আর সেকারণেই এই কিতাবটি—ইনশাআল্লাহ তাআলা—হাদিস ও ফিকহের কিতাবসমূহের উদরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিষয়গুলোর—

মাযহাবের ভিন্নতা সত্ত্বেও যা এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট—একটি সংকলন হবে।

যেখানে অন্য কোনো একক কিতাব বা মাযহাব এতে বিদ্যমান সত্যকে একত্রে ধারণ করে না; আর এর ওপর আমলকারী—ইনশাআল্লাহ—

তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে যাদের আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন {সে সত্য বিষয়ে যাতে তারা মতভেদ করেছিল তাঁর অনুমতিক্রমে। আর আল্লাহ যাকে

ইচ্ছা করেন সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন} [আল-বাকারাহ: ২১৩]।

অতঃপর যখন আমি নিজের জন্য এই মানহাজ বা পদ্ধতি নির্ধারণ করেছি—আর তা হলো সহিহ সুন্নাহকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরা—,

এবং আমি এই কিতাবে ও অন্যান্য কিতাবে—যা ইনশাআল্লাহ তাআলা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়বে—তা অনুসরণ করেছি;

তখন আমি জানতাম যে এটি সমস্ত দল ও মাযহাবকে সন্তুষ্ট করবে না, বরং তাদের মধ্যে কেউ কেউ—বা তাদের অনেকে—

আমার প্রতি বিদ্রূপের জিহ্বা এবং নিন্দার কলম ছুড়ে দেবে। এতে আমার কোনো পরোয়া নেই;

কেননা আমি এও জানি যে, মানুষের সন্তুষ্টি এমন এক লক্ষ্য যা অর্জন করা সম্ভব নয়, আর নিশ্চয়ই:

“যে ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টির বিনিময়ে মানুষকে সন্তুষ্ট করতে চায়, আল্লাহ তাকে মানুষের ওপরই সপে দেন”; যেমনটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। (২)

এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক সেই ব্যক্তির ওপর যিনি বলেছেন:

আমি কোনো বিদ্রূপকারীর কথা থেকে মুক্তি পাব না … যদিও আমি কোনো দুর্গম পাহাড়ের গুহায় অবস্থান করি।

আর মানুষের হাত থেকে কে-ই বা নিরাপদে মুক্তি পায় … যদিও সে ঈগলের ডানার নিচে তাদের দৃষ্টির আড়ালে থাকে। (৩)

--------------------------------------------

(১) হাসান ইবনে মুহাম্মাদ আন-নাসাওয়ী-এর আবৃত্তি থেকে; যেমনটি হাফেজ জিয়াউদ্দিন আল-মাকদিসি তাঁর

"হাদিস ও এর অনুসারীদের মর্যাদা" নামক পুস্তিকায় বর্ণনা করেছেন।

(২) তিরমিজি, আল-কুদায়ী, ইবনে বিশরান এবং অন্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। আমি এই হাদিস এবং এর সনদসমূহ নিয়ে

"শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ"-এর তাহরিজে এবং এরপর "আস-সহিহাহ" (২৩১১) এ আলোচনা করেছি, এবং স্পষ্ট করেছি যে

একে যারা মাওকুফ (সাহাবীর উক্তি) বলেছেন তা এর কোনো ক্ষতি করে না এবং ইবনে হিব্বান একে সহিহ বলেছেন।

(৩) আল-খাওয়াফি: পাখির পালকসমূহ যা তার ডানা গুটিয়ে রাখলে ঢাকা পড়ে যায়; এবং তা বড় পালকগুলোর পেছনে থাকে।
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
فحسبي أنني معتقد إن ذلك هو الطريق الأقوم، الذي أمر الله تعالى به المؤمنين،

وبيَّنه نبينا محمد سيد المرسلين، وهو الذي سلكه السلف الصالح من الصحابة

والتابعين ومن بعدهم، وفيهم الأئمة الأربعة - الذين ينتمي اليوم إلى مذاهبهم

جمهور المسلمين -، وكلهم متفق على وجوب التمسك بالسنة، والرجوع إليها، وترك

كل قول يخالفها، مهما كان القائل عظيماً؛ فإن شأنه صلى الله عليه وسلم أعظم، وسبيله أقوم.

ولذلك فإني اقتديت بهداهم، واقتفيت آثارهم، وتبعت أوامرهم

بالتمسك بالحديث؛ وإن خالف أقوالهم، ولقد كان لهذه الأوامر أكبر الأثر في

نهجي هذا النهج المستقيم، وإعراضي عن التقليد الأعمى. فجزاهم الله تعالى

عني خيراً.

‌‌أقوال الأئمة في اتِّباعِ السُّنَّةِ وتَركِ أقوالِهم المخالفَةِ لَها

ومن المفيد أن نسوق هنا ما وقفنا عليه منها أو بعضها، لعلَّ فيها عظةً

وذكرى لمن يقلدهم - بل يقلد من دونهم بدرجات - تقليداً أعمى (1) ، ويتمسك

بمذاهبهم وأقوالهم؛ كما لو كانت نزلت من السماء، والله عز وجل يقول: {اتَّبِعُوا

مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُم مِنْ رَبِّكُمْ وَلا تَتَّبِعُوا مِن دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ} [الأعراف: 3] .

‌‌1- أبو حَنِيفة رحمه الله:

فأولهم الإمام أبو حنيفة النعمان بن ثابت رحمه الله، وقد روى عنه

أصحابه أقوالاً شتى، وعبارات متنوعة؛ كلها تؤدي إلى شيء واحد وهو:

وجوب الأخذ بالحديث، وترك تقليد آراء الأئمة المخالفة له:

--------------------------------------------

(1) وهذا التقليد هو الذي عناه الإمام الطحاوي حين قال:

" لا يقلد إلا عصبي أو غبي ". نقله ابن عابدين في " رسم المفتي " (ص 32 ج 1) من

" مجموعة رسائله ".
আমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে আমি বিশ্বাস করি এটিই হলো সেই সঠিকতম পথ, যার নির্দেশ মহান আল্লাহ তাআলা মুমিনদের দিয়েছেন এবং আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যিনি রাসুলগণের সর্দার, তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। এটিই সেই পথ যা সাহাবী, তাবিঈন এবং তাঁদের পরবর্তী সলফে সালেহীনগণ অনুসরণ করেছেন। তাঁদের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন চার ইমাম—যাঁদের মাযহাবের সাথে বর্তমান অধিকাংশ মুসলিম সম্পৃক্ত। তাঁরা সকলেই সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা, সেদিকে ফিরে আসা এবং সুন্নাহর বিরোধী সকল কথা বর্জন করার আবশ্যকতা সম্পর্কে একমত পোষণ করেছেন, সেই কথাটি যে মহান ব্যক্তিরই হোক না কেন। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদা সবচাইতে মহান এবং তাঁর পথই হলো সর্বাধিক সঠিক।

আর এ কারণেই আমি তাঁদের হেদায়াতের অনুসরণ করেছি, তাঁদের পদচিহ্ন অনুসরণ করেছি এবং হাদিসকে আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে তাঁদের নির্দেশনাবলি মেনে চলেছি; যদিও তা তাঁদেরই বক্তব্যের বিপরীত হয়। এই সঠিক পথ অনুসরণে এবং অন্ধ অনুকরণ বর্জনের ক্ষেত্রে তাঁদের সেই নির্দেশাবলি আমার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। মহান আল্লাহ তাআলা আমার পক্ষ থেকে তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।

‌‌সুন্নাহর অনুসরণ এবং ইমামদের বক্তব্যের মধ্যে যা সুন্নাহ বিরোধী তা বর্জনের ব্যাপারে তাঁদের উক্তি

এখান থেকে তাঁদের সংগৃহীত কিছু উক্তি বা তার কিছু অংশ তুলে ধরা উপকারী হবে, সম্ভবত এতে তাঁদের জন্য উপদেশ ও শিক্ষা রয়েছে যাঁরা তাঁদের—বরং তাঁদের চেয়ে অনেক নিম্নস্তরের লোকেদের—অন্ধভাবে অনুকরণ করে (১) এবং তাঁদের মাযহাব ও বক্তব্যগুলোকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরে যেন তা আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। অথচ মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো অভিভাবকের অনুসরণ করো না। তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো।" [সূরা আল-আরাফ: ৩] ।

‌‌১- আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ):

তাঁদের মধ্যে প্রথম হলেন ইমাম আবু হানিফা নুমান ইবনে সাবিত (রহিমাহুল্লাহ)। তাঁর ছাত্ররা তাঁর থেকে বহুবিধ উক্তি ও বিভিন্ন বক্তব্য বর্ণনা করেছেন; যার সবকটি একটি বিষয়ের দিকেই ধাবিত করে, আর তা হলো: হাদিস গ্রহণ করা ওয়াজিব এবং ইমামদের সেই সব রায় বা মতের অনুকরণ বর্জন করা যা হাদিসের পরিপন্থী।

--------------------------------------------

(১) আর এই সেই অনুকরণ যা ইমাম ত্বহাবী উদ্দেশ্য করেছেন যখন তিনি বলেছিলেন: "অন্ধ পক্ষপাতি বা নির্বোধ ছাড়া আর কেউ অন্ধ অনুকরণ করে না।" ইবনে আবিদীন তাঁর 'মাজমুআতু রাসাইল' গ্রন্থের অন্তর্গত 'রাসমুল মুফতি' (পৃষ্ঠা ৩২, খণ্ড ১) নামক অংশে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
1- " إذا صح الحديث؛ فهو مذهبي " (1) .

2- " لا يحل لأحد أن يأخذ بقولنا؛ ما لم يعلم من أين أخذناه " (2) .

وفي رواية: " حرام على مَن لم يعرف دليلي أن يُفتي بكلامي ".

--------------------------------------------

(1) ابن عابدين في " الحاشية " (1/63) وفي رسالته " رسم المفتي " (1/4 من مجموعة

رسائل ابن عابدين) ، والشيخ صالح الفُلاني في " إيقاظ الهمم " (ص 62) وغيرهم، ونقل ابن

عابدين عن " شرح الهداية " لابن الشَّحْنَة الكبير- شيخ ابن الهُمَام - ما نصه:

" إذا صح الحديث، وكان على خلاف المذهب؛ عُمِل بالحديث، ويكون ذلك مذهبه، ولا

يخرج مقلده عن كونه حنفيّاً بالعمل به؛ فقد صح عن أبي حنيفة أنه قال:

إذا صح الحديث؛ فهو مذهبي. وقد حكى ذلك الإمام ابن عبد البر عن أبي حنيفة،

وغيره من الأئمة ".

قلت: وهذا من كمال علمهم وتقواهم؛ حيث أشاروا بذلك إلى أنهم لم يحيطوا بالسنة

كلها - وقد صرح بذلك الإمام الشافعي؛ كما يأتي -؛ فقد يقع منهم ما يخالف السنة التي لم

تبلغهم؛ فأمرونا بالتمسك بها، وأن نجعلها من مذهبهم رحمهم الله تعالى أجمعين.

(2) ابن عبد البر في " الانتقاء في فضائل الثلاثة الأئمة الفقهاء " (ص 145) ، وابن القيم

في " إعلام الموقعين " (2/309) ، وابن عابدين في " حاشيته " على " البحر الرائق " (6/293)

وفي " رسم المفتي " (ص 29 و 32) ، والشعراني في " الميزان " (1/55) بالرواية الثانية، والرواية

الثالثة رواها عباس الدوري في " التاريخ " لابن معين (6/77/1) بسند صحيح عن زُفَر، وورد

نحوه عن أصحابه: زُفَر، وأبي يوسف، وعافية بن يزيد - كما في " الإيقاظ " (ص 52) -، وجزم

ابن القيم (2/344) بصحته عن أبي يوسف، والزيادة في التعليق على " الإيقاظ " (ص 65)

نقلاً عن ابن عبد البر، وابن القيم وغيرهما.

قلت: فإذا كان هذا قولهم فيمن لم يَعلم دليلَهم؛ فليت شعري! ماذا يقولون فيمن علم أن =
১- "যখন কোনো হাদীস সহীহ হিসেবে প্রমাণিত হয়, তখন সেটিই আমার মাযহাব" (১)।

২- "কারো জন্য আমাদের কথা গ্রহণ করা বৈধ নয়, যতক্ষণ না সে জানতে পারে যে আমরা তা কোথা থেকে গ্রহণ করেছি" (২)।

অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "যে ব্যক্তি আমার দলীল জানে না, তার জন্য আমার কথা দ্বারা ফতোয়া প্রদান করা হারাম।"

--------------------------------------------

(১) ইবনে আবিদীন 'আল-হাশিয়া' (১/৬৩) গ্রন্থে এবং তাঁর রিসালাহ 'রাসমুল মুফতি' (ইবনে আবিদীনের সংকলিত পত্রাবলীর ১/৪) এ এটি উল্লেখ করেছেন; এবং শায়খ সালিহ আল-ফুলানি 'ইক্বাযুল হিমাম' (পৃষ্ঠা ৬২) ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবিদীন ইবনে আল-হুমামের উস্তাদ ইবনে আশ-শিহনাহ আল-কাবীরের 'শারহুল হিদায়াহ' থেকে উদ্ধৃত করেছেন, যার ভাষ্য হলো:

"যখন কোনো হাদীস সহীহ সাব্যস্ত হয় এবং তা মাযহাবের পরিপন্থী হয়, তবে হাদীস অনুযায়ী আমল করা হবে এবং সেটিই হবে তাঁর মাযহাব। হাদীসের ওপর আমল করার কারণে তাঁর মুকাল্লিদ (অনুসারী) হানাফী হওয়া থেকে বিচ্যুত হবে না। কেননা ইমাম আবু হানিফা থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: যখন কোনো হাদীস সহীহ হিসেবে প্রমাণিত হয়, তখন সেটিই আমার মাযহাব। ইমাম ইবনে আব্দুল বার আবু হানিফা ও অন্যান্য ইমামদের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।"

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এটি তাঁদের ইলমের পূর্ণতা এবং তাকওয়ার বহিঃপ্রকাশ; এর মাধ্যমে তাঁরা ইঙ্গিত করেছেন যে তাঁরা সমস্ত সুন্নাহর পূর্ণ জ্ঞান রাখতেন না — যেমনটি ইমাম শাফেয়ী স্পষ্টভাবে বলেছেন, যা সামনে আসবে — ফলে তাঁদের থেকে এমন কিছু প্রকাশ পেতে পারে যা সুন্নাহর পরিপন্থী হতে পারে, কারণ সেই সুন্নাহ হয়তো তাঁদের কাছে পৌঁছেনি। তাই তাঁরা আমাদের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেটাকেই তাঁদের মাযহাব হিসেবে গণ্য করতে বলেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁদের সবার ওপর রহম করুন।

(২) ইবনে আব্দুল বার 'আল-ইনতিক্বা ফি ফাদায়িলিস সালাসা আল-আইম্মাহ আল-ফুক্বাহা' (পৃষ্ঠা ১৪৫) গ্রন্থে; ইবনুল কাইয়্যিম 'ইলামুল মুওয়াক্কিঈন' (২/৩০৯) গ্রন্থে; ইবনে আবিদীন 'আল-বাহরুর রাইক্ব' এর ওপর তাঁর হাশিয়া (৬/২৯৩) এবং 'রাসমুল মুফতি' (পৃষ্ঠা ২৯ ও ৩২) গ্রন্থে; এবং আশ-শারানি 'আল-মিজান' (১/৫৫) গ্রন্থে দ্বিতীয় বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন। আর তৃতীয় বর্ণনাটি আব্বাস আদ-দুরি ইবনে মাঈনের 'তারিখ' (৬/৭৭/১) গ্রন্থে ইমাম যুফার থেকে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ছাত্র যুফার, আবু ইউসুফ এবং আফিয়া বিন ইয়াযিদ থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে — যেমনটি 'আল-ইক্বায' (পৃষ্ঠা ৫২) গ্রন্থে রয়েছে। ইবনুল কাইয়্যিম (২/৩৪৪) ইমাম আবু ইউসুফ থেকে এর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে দৃঢ়তা প্রকাশ করেছেন। 'আল-ইক্বায' (পৃষ্ঠা ৬৫) এর টীকায় ইবনে আব্দুল বার, ইবনুল কাইয়্যিম এবং অন্যদের উদ্ধৃতিতে অতিরিক্ত অংশটি বর্ণিত হয়েছে।

আমি বলছি: যারা তাঁদের দলীল জানে না তাদের সম্পর্কেই যদি তাঁদের উক্তি এমন হয়, তবে হায় আফসোস! তারা কী বলত তাদের সম্পর্কে যারা জানে যে =
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
زاد في رواية: " فإننا بَشَر؛ نقول القول اليوم، ونرجع عنه غداً ".

وفي أخرى: " ويحك يا يعقوب! - وهو أبو يوسف - لا تكتب كل ما

تسمع مني؛ فإني قد أرى الرأي اليوم، وأتركه غداً، وأرى الرأي غداً، وأتركه

بعد غد " (1) .

--------------------------------------------

= الدليل خلاف قولهم، ثم أفتى بخلاف الدليل؟! فتأمل في هذه الكلمة؛ فإنها وحدها كافية

في تحطيم التقليد الأعمى؛ ولذلك أنكر بعض المقلدة من المشايخ نسبتها إلى أبي حنيفة؛

حين أنكرتُ عليه إفتاءه بقولٍ لأبي حنيفة لم يعرف دليله!

(1) قلت: وذلك لأن الإمام كثيراً ما يبني قوله على القياس، فيبدو له قياس أقوى، أو

يبلغه حديث عن النبي صلى الله عليه وسلم؛ فيأخذ به، ويترك قوله السابق. قال الشعراني في " الميزان "

(1/62) ما مختصره:

" واعتقادنا واعتقاد كل منصف في الإمام أبي حنيفة رضي الله عنه؛ أنه لو عاش حتى

دُوِّنَت الشريعة، وبعد رحيل الحفاظ في جَمْعِها من البلاد والثغور، وظفر بها؛ لأخذ بها، وترك

كل قياس كان قاسه، وكان القياس قلَّ في مذهبه، كما قل في مذهب غيره بالنسبة إليه،

لكن لما كانت أدلة الشريعة مفرقة في عصره مع التابعين وتابعي التابعين في المدائن والقرى

والثغور؛ كثر القياس في مذهبه بالنسبة إلى غيره من الأئمة ضرورةً؛ لعدم وجود النص في

تلك المسائل التي قاس فيها؛ بخلاف غيره من الأئمة؛ فإن الحفاظ كانوا قد رحلوا في طلب

الأحاديث وجمعها في عصرهم من المدائن والقرى، ودوّنوها؛ فجاوبت أحاديث الشريعة

بعضها بعضاً، فهذا كان سبب كثرة القياس في مذهبه، وقلته في مذاهب غيره ".

ونقل القسم الأكبر منه أبو الحسنات في " النافع الكبير" (ص 135) ، وعلق عليه بما يؤيده

ويوضحه. فليراجعه من شاء.

قلت: فإذا كان هذا عذر أبي حنيفة فيما وقع منه من المخالفة للأحاديث الصحيحة دون

قصد - وهو عذر مقبول قطعاً؛ لأن الله تعالى لا يكلف نفساً إلا وسعها -؛ فلا يجوز الطعن =
একটি বর্ণনায় বর্ধিত অংশ রয়েছে: "নিশ্চয়ই আমরা মানুষ; আজ আমরা এক কথা বলি, আর আগামীকাল তা থেকে ফিরে আসি।"

অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: "হে ইয়াকুব (তিনি হলেন আবু ইউসুফ)! তোমার প্রতি আফসোস! তুমি আমার কাছ থেকে যা শোনো তার সবকিছুই

লিখো না; কেননা আমি আজ একটি মত পোষণ করি এবং আগামীকাল তা বর্জন করি, আবার আগামীকাল একটি মত গ্রহণ করি এবং পরশু দিন তা

বর্জন করি" (১)।

--------------------------------------------

= দলিল তাদের কথার বিপরীত, এরপরও কি তিনি দলিলের বিপরীতে ফতোয়া দিলেন?! সুতরাং এই কথাটির ব্যাপারে চিন্তা করুন; কেননা এটি একাই

অন্ধ তাকলিদ ভেঙে চুরমার করার জন্য যথেষ্ট; আর একারণেই কতিপয় মুকাল্লিদ শাইখ এই উক্তিটি আবু হানিফার দিকে নিসবত করা অস্বীকার করেছেন;

যখন আমি তাঁর একটি ফতোয়ার প্রতিবাদ করেছিলাম যা তিনি আবু হানিফার এমন একটি উক্তির ভিত্তিতে দিয়েছিলেন যার দলিল তাঁর জানা ছিল না!

(১) আমি বলছি: এর কারণ হলো, ইমাম প্রায়শই তাঁর বক্তব্য কিয়াসের (যৌক্তিক অনুমান) ওপর ভিত্তি করে প্রদান করতেন, এরপর তাঁর নিকট কোনো শক্তিশালী কিয়াস প্রকাশ পেত, অথবা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো হাদিস তাঁর নিকট পৌঁছাত; তখন তিনি সেটি গ্রহণ করতেন এবং তাঁর আগের বক্তব্যটি বর্জন করতেন। শা'রানি "আল-মিজান"

(১/৬২) গ্রন্থে সংক্ষেপে বলেছেন:

"ইমাম আবু হানিফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে আমাদের এবং প্রতিটি ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তির বিশ্বাস হলো এই যে, তিনি যদি

শরিয়ত লিপিবদ্ধ হওয়া পর্যন্ত জীবিত থাকতেন এবং দেশ-দেশান্তর ও সীমান্ত থেকে হাফেজদের মাধ্যমে হাদিস সংগ্রহের কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত বেঁচে থাকতেন এবং সেগুলো লাভ করতেন; তবে তিনি অবশ্যই সেগুলো গ্রহণ করতেন এবং

নিজের করা সকল কিয়াস বর্জন করতেন। তাঁর মাযহাবে কিয়াসের পরিমাণ কম থাকত, যেমনটি অন্যান্যদের মাযহাবে তাঁর তুলনায় কম ছিল।

কিন্তু যেহেতু তাঁর যুগে শরিয়তের দলিলগুলো তাবিঈ এবং তাবে-তাবিঈদের কাছে বিভিন্ন শহর, গ্রাম

ও সীমান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল, তাই যেসব মাসআলায় সরাসরি নস (দলিল) পাওয়া যায়নি, সেগুলোতে বাধ্য হয়েই অন্যান্য ইমামদের তুলনায় তাঁর মাযহাবে কিয়াসের আধিক্য ঘটেছে। অন্যান্য ইমামদের বিষয়টি ছিল ভিন্ন; কেননা তাঁদের যুগে হাফেজগণ বিভিন্ন শহর ও গ্রাম থেকে হাদিস তালাশ ও সংগ্রহের জন্য সফর করেছিলেন এবং সেগুলো সংকলন করেছিলেন। ফলে শরিয়তের হাদিসগুলো একে অপরের পরিপূরক হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। এটাই ছিল তাঁর মাযহাবে কিয়াসের আধিক্য এবং অন্যান্যদের মাযহাবে তা কম হওয়ার কারণ।"

আবুল হাসানাত এর বড় একটি অংশ "আল-নাফে আল-কাবীর" (পৃ. ১৩৫) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন এবং এর সমর্থনে ও ব্যাখ্যায় টীকা প্রদান করেছেন।

যার ইচ্ছা সে তা দেখে নিতে পারে।

আমি বলছি: অনিচ্ছাকৃতভাবে সহিহ হাদিসের পরিপন্থী কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে যদি আবু হানিফার ওজর এটিই হয়ে থাকে—যা অবশ্যই একটি গ্রহণযোগ্য ওজর; কারণ আল্লাহ তাআলা কোনো সত্তার ওপর তার সাধ্যের অতীত বোঝা চাপিয়ে দেন না—তবে তাঁর সমালোচনা করা বৈধ নয়। =
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
3- " إذا قلتُ قولاً يخالف كتاب الله تعالى، وخبر الرسول صلى الله عليه وسلم؛ فاتركوا

قولي " (1) .

‌‌2- مالك بن أنس رحمه الله:

وأما الإمام مالك بن أنس رحمه الله؛ فقال:

1- " إنما أنا بشر أخطئ وأصيب، فانظروا في رأيي؛ فكل ما وافق الكتاب

--------------------------------------------

= فيه - كما قد يفعل بعض الجهلة -، بل يجب التأدب معه؛ لأنه إمام من أئمة المسلمين

الذين بهم حُفِظ هذا الدين، ووصل إلينا ما وصل من فروعه، وأنه مأجور على كل حال؛

أصاب أم أخطأ، كما أنه لا يجوز لمعظِّميه أن يظلوا متمسكين بأقواله المخالفة للأحاديث؛ لأنها

ليست من مذهبه - كما رأيت نصوصه في ذلك -، فهؤلاء في واد، وأولئك في واد، والحق بين

هؤلاء وهؤلاء، {رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًا لِلَّذِينَ

آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ} .

(1) الفلاني في " الإيقاظ " (ص 50) ، ونسبه للإمام محمد أيضاً، ثم قال:

" هذا ونحوه ليس في حق المجتهد؛ لعدم احتياجه في ذلك إلى قولهم؛ بل هو في حق المقلد ".

قلت: وبناءً على هذا قال الشعراني في " الميزان " (1/26) :

" فإن قلت: فما أصنع بالأحاديث التي صحت بعد موت إمامي، ولم يأخذ بها؟

فالجواب: الذي ينبغي لك: أن تعمل بها؛ فإن إمامك لو ظفر بها، وصحت عنده؛ لربما كان

أَمَرَك بها؛ فإن الأئمة كلهم أسرى في يد الشريعة، ومن فعل ذلك؛ فقد حاز الخير بكلتا يديه،

ومن قال: (لا أعمل بحديث إلا إن أخذ به إمامي) ؛ فاته خير كثير؛ كما عليه كثير من

المقلدين لأئمة المذاهب، وكان الأولى لهم العمل بكل حديث صح بعد إمامهم؛ تنفيذاً لوصية

الأئمة؛ فان اعتقادنا فيهم أنهم لو عاشوا، وظفروا بتلك الأحاديث التي صحت بعدهم؛

لأخذوا بها، وعملوا بما فيها، وتركوا كلَّ قياس كانوا قاسوه، وكلَّ قول كانوا قالوه ".
৩- "যখন আমি এমন কোনো কথা বলি যা মহান আল্লাহর কিতাব এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের বিরোধী হয়; তবে তোমরা আমার কথা বর্জন করো" (১)।

‌‌২- মালিক ইবনে আনাস রহিমাহুল্লাহ:

আর ইমাম মালিক ইবনে আনাস রহিমাহুল্লাহ-এর ব্যাপারে বলা যায়, তিনি বলেছেন:

১- "নিশ্চয়ই আমি একজন মানুষ, আমি ভুল করি এবং সঠিকও বলি। তাই তোমরা আমার মতামতের দিকে তাকাও (পর্যালোচনা করো); সুতরাং যা কিছু কিতাবের (কুরআনের) সাথে মিলবে...

--------------------------------------------

= তাতে —যেমনটি কিছু মূর্খরা করে থাকে—, বরং তাঁর প্রতি আদব রক্ষা করা ওয়াজিব; কারণ তিনি মুসলিমদের ইমামগণের মধ্যে একজন যাঁদের মাধ্যমে এই দ্বীন সংরক্ষিত হয়েছে এবং আমাদের নিকট এর শাখা-প্রশাখাগুলোর যা কিছু পৌঁছানোর তা পৌঁছেছে। আর তিনি সকল অবস্থাতেই সওয়াব পাবেন; চাই তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন বা ভুল করেন। তদ্রূপ, তাঁর প্রতি অতি ভক্তি প্রদর্শনকারীদের জন্য জায়েয নয় যে, তারা তাঁর সেইসব বক্তব্যের ওপর অটল থাকবে যা হাদীসের পরিপন্থী; কারণ সেগুলো তাঁর মাযহাব নয় —যেমনটি আপনি এ বিষয়ে তাঁর উদ্ধৃতিসমূহ দেখেছেন—। সুতরাং এরা এক প্রান্তরে আর তারা অন্য প্রান্তরে, আর সত্য এই উভয়ের মাঝামাঝি। {হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে এবং মুমিনদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত দয়ালু ও পরম করুণাময়।}।

(১) আল-ফুলানী 'আল-ইক্বায' (পৃ. ৫০)-এ এটি উল্লেখ করেছেন এবং একে ইমাম মুহাম্মাদ-এর দিকেও নিসবত করেছেন। এরপর তিনি বলেন:

"এটি এবং এই জাতীয় কথা মুজতাহিদের ক্ষেত্রে নয়; কারণ সে ক্ষেত্রে তাদের কথার প্রতি তার মুখাপেক্ষিতা নেই; বরং এটি মুকাল্লিদ (অনুসারী)-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।"

আমি (লেখক) বলছি: এর ওপর ভিত্তি করেই আশ-শা'রানী 'আল-মিযান' (১/২৬)-এ বলেছেন:

"যদি আপনি বলেন: আমি সেইসব হাদীসের ক্ষেত্রে কী করব যা আমার ইমামের মৃত্যুর পর সহীহ হয়েছে এবং তিনি তা গ্রহণ করেননি?

তবে উত্তর হলো: আপনার জন্য যা করা উচিত তা হলো সেগুলোর ওপর আমল করা; কারণ আপনার ইমাম যদি সেগুলো পেতেন এবং তাঁর কাছে তা সহীহ সাব্যস্ত হতো, তবে সম্ভবত তিনি আপনাকে সেটিরই নির্দেশ দিতেন। কারণ সকল ইমামই শরীয়তের হাতের বন্দি (অধীন)। আর যে ব্যক্তি এটি করবে, সে উভয় হাতে কল্যাণ অর্জন করবে। আর যে ব্যক্তি বলবে: (আমি কোনো হাদীসের ওপর আমল করব না যতক্ষণ না আমার ইমাম তা গ্রহণ করেন); সে অনেক কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হবে; যেমনটা মাযহাবের ইমামগণের অনেক মুকাল্লিদ করে থাকেন। তাদের জন্য সমীচীন ছিল ইমামগণের ওসিয়ত পালনার্থে তাঁদের পরে সহীহ হওয়া প্রতিটি হাদীসের ওপর আমল করা; কেননা তাঁদের ব্যাপারে আমাদের বিশ্বাস এই যে, তাঁরা যদি বেঁচে থাকতেন এবং তাঁদের পরে সহীহ হওয়া সেই হাদীসগুলো পেতেন, তবে অবশ্যই তাঁরা সেগুলো গ্রহণ করতেন এবং সে অনুযায়ী আমল করতেন, আর তাঁদের করা প্রতিটি কিয়াস ও বলা প্রতিটি কথা বর্জন করতেন।"
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
والسنة؛ فخذوه، وكل ما لم يوافق الكتاب والسنة؛ فاتركوه " (1) .

2- " ليس أحد - بعد النبي صلى الله عليه وسلم إلا ويؤخذ من قوله ويترك؛ إلا

النبي صلى الله عليه وسلم " (2) .

3- قال ابن وهب:

سمعت مالكاً سئل عن تخليل أصابع الرجلين في الوضوء؟ فقال:

" ليس ذلك على الناس ".

قال: فتركته حتى خفَّ الناس، فقلت له: عندنا في ذلك سنة. فقال:

" وما هي؟ ".

قلت: حدثنا الليث بن سعد وابن لهيعة وعمرو بن الحارث عن يزيد بن

عمرو المعافري عن أبي عبد الرحمن الحُبُلي عن المستورد بن شداد القرشي قال:

--------------------------------------------

(1) ابن عبد البر في " الجامع " (2/32) ، وعنه ابن حزم في " أصول الأحكام " (6/149) ،

وكذا الفلاني (ص 72) .

(2) نسبةُ هذا إلى مالك هو المشهور عند المتأخرين، وصححه عنه ابن عبد الهادي في

" إرشاد السالك " (227/1) ، وقد رواه ابن عبد البر في " الجامع " (2/91) ، وابن حزم في

" أصول الأحكام " (6/145 و 179) من قول الحكم بن عُتَيبة ومجاهد، وأورده تقي الدين

السبكي في " الفتاوى " (1/148) من قول ابن عباس - متعجباً من حسنه -، ثم قال:

" وأخذ هذه الكلمة من ابن عباسٍ مجاهدٌ، وأخذها منهما مالك رضي الله عنه،

واشتهرت عنه ".

قلت: ثم أخذها عنهم الإمام أحمد؛ فقد قال أبو داود في " مسائل الإمام أحمد "

(ص 276) :

" سمعت أحمد يقول: ليس أحد إلا ويؤخذ من رأيه ويترك؛ ما خلا النبي صلى الله عليه وسلم ".
এবং সুন্নাহ; তবে তা গ্রহণ করো। আর যা কিছু কিতাব ও সুন্নাহর সাথে মিলবে না, তা বর্জন করো।" (১)।

২- "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে এমন কেউ নেই যার কথা গ্রহণ করাও হয় এবং বর্জনও করা হয়; কেবল

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত।" (২)।

৩- ইবনে ওয়াহাব বলেন:

আমি মালিককে ওযুর সময় পায়ের আঙ্গুল খিলাল করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি। তিনি বললেন:

"লোকদের জন্য এটি আবশ্যক নয়।"

তিনি (ইবনে ওয়াহাব) বলেন: অতঃপর আমি তাকে ছেড়ে দিলাম যতক্ষণ না মানুষজন কমে গেল, এরপর আমি তাকে বললাম: আমাদের কাছে এই বিষয়ে একটি সুন্নাহ রয়েছে। তিনি বললেন:

"সেটি কী?"

আমি বললাম: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন লাইস বিন সাদ, ইবনে লাহিয়াহ এবং আমর বিন হারিস; ইয়াজিদ বিন আমর আল-মাআফিরি থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলি থেকে, তিনি মুস্তাওরিদ বিন শাদ্দাদ আল-কুরাশি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

--------------------------------------------

(১) ইবনে আবদিল বার 'আল-জামে' গ্রন্থে (২/৩২), এবং তার থেকে ইবনে হাযম 'উসুলুল আহকাম' গ্রন্থে (৬/১৪৯),

অনুরূপভাবে আল-ফুলানি (পৃ. ৭২)।

(২) ইমাম মালিকের দিকে এটি নিসবত (সম্পর্কিত) করা পরবর্তী আলেমদের নিকট প্রসিদ্ধ, এবং ইবনে আবদিল হাদি 'ইরশাদুস সালিক' গ্রন্থে (১/২২৭) তাঁর পক্ষ থেকে এটিকে সহীহ বলেছেন। ইবনে আবদিল বার 'আল-জামে' গ্রন্থে (২/৯১) এবং ইবনে হাযম 'উসুলুল আহকাম' গ্রন্থে (৬/১৪৫ এবং ১৭৯) এটি হাকাম বিন উতাইবা ও মুজাহিদের উক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাক্বিউদ্দিন সুবকী 'আল-ফাতাওয়া' গ্রন্থে (১/১৪৮) ইবনে আব্বাসের উক্তি হিসেবে এটি উল্লেখ করেছেন—এর সৌন্দর্যে বিস্ময় প্রকাশ করে—অতঃপর তিনি বলেন:

"এই কথাটি ইবনে আব্বাস থেকে মুজাহিদ গ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের থেকে ইমাম মালিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এটি গ্রহণ করেছেন, আর এটি তাঁর পক্ষ থেকেই প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।"

আমি (লেখক) বলছি: অতঃপর ইমাম আহমাদ তাঁদের থেকে এটি গ্রহণ করেছেন; আবু দাউদ 'মাসায়িলুল ইমাম আহমাদ' গ্রন্থে

(পৃ. ২৭৬) বলেছেন:

"আমি আহমাদকে বলতে শুনেছি: এমন কেউ নেই যার মত গ্রহণ করা হয় না আবার বর্জনও করা হয় না; কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত।"
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يدلُك بخنصره ما بين أصابع رجليه. فقال:

" إن هذا الحديث حسن، وما سمعت به قط إلا الساعة ".

ثم سمعته بعد ذلك يُسأل، فيأمر بتخليل الأصابع (1) .

‌‌3- الشافعي رحمه الله:

وأما الإمام الشافعي رحمه الله؛ فالنقول عنه في ذلك أكثر وأطيب (2) ،

وأتباعه أكثر عملاً بها وأسعد؛ فمنها:

1- " ما من أحد إلا وتذهب عليه سنة لرسول الله صلى الله عليه وسلم وتعزُبُ عنه،

فمهما قلتُ من قول، أو أصّلت من أصل، فيه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم خلاف ما

قلت؛ فالقول ما قال رسولُ الله صلى الله عليه وسلم، وهو قولي " (3) .

2- " أجمع المسلمون على أن من استبان له سنة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ لم

يَحِلَّ له أن يَدَعَهَا لقول أحد " (4) .

--------------------------------------------

(1) مقدمة " الجرح والتعديل " لابن أبي حاتم (ص 31 - 32) ، ورواها تامة البيهقي في

" السنن " (1/81) .

(2) قال ابن حزم (6/118) :

" إن الفقهاء الذين قُلِّدوا مبطلون للتقليد، وإنهم نهوا أصحابهم عن تقليدهم، وكان

أشدهم في ذلك الشافعي؛ فإنه رحمه الله بلغ من التأكيد في اتباع صحاح الآثار، والأخذ بما

أوجبته الحجة، حيث لم يبلغ غيره، وتبرَّأ من أن يُقَلَّدَ جملة، وأعلن بذلك، نفع الله به،

وأعظم أجره؛ فلقد كان سبباً إلى خير كثير ".

(3) رواه الحاكم بسنده المتصل إلى الشافعي؛ كما في " تاريخ دمشق " لابن عساكر

(15/1/3) ، و " إعلام الموقعين " (2/363 و 364) ، و " الإيقاظ " (ص 100) .

(4) ابن القيم (2/361) ، والفلاني (ص 68) .
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর কনিষ্ঠ আঙুল দিয়ে তাঁর পায়ের আঙুলগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে মালিশ করতে দেখেছি। তিনি বলেন:

"নিশ্চয়ই এই হাদীসটি হাসান, আর আমি এই মুহূর্তের আগে এটি কখনো শুনিনি।"

এরপর আমি তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি, তখন তিনি আঙুল খিলাল করার নির্দেশ দিচ্ছিলেন (১)।

‌‌৩- ইমাম শাফিঈ রাহিমাহুল্লাহ:

আর ইমাম শাফিঈ রাহিমাহুল্লাহর কথা বলতে গেলে, এ বিষয়ে তাঁর থেকে বর্ণিত উক্তিগুলো অধিকতর এবং অত্যন্ত চমৎকার (২),

আর তাঁর অনুসারীরাও এগুলোর ওপর আমল করার ক্ষেত্রে অধিক অগ্রগামী এবং সৌভাগ্যবান; সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১- "এমন কেউ নেই যার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো না কোনো সুন্নাত অজানার কারণে বাদ পড়ে যায়নি বা তা থেকে বিচ্যুত হয়নি,

সুতরাং আমি যা-ই বলি না কেন অথবা যে মূলনীতিই নির্ধারণ করি না কেন, যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমার কথার বিপরীতে কোনো কিছু

প্রমাণিত হয়; তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন সেটিই আমার কথা, আর সেটিই আমার অভিমত" (৩)।

২- "মুসলিমগণ এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সুন্নাত স্পষ্ট হয়ে যায়;

তার জন্য অন্য কারো কথার খাতিরে তা পরিত্যাগ করা বৈধ নয়" (৪)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আবি হাতিমের 'আল-জারহু ওয়াত তা'দীল'-এর ভূমিকা (পৃ. ৩১-৩২), এবং বায়হাকী এটি পূর্ণাঙ্গভাবে

'আস-সুনান'-এ (১/৮১) বর্ণনা করেছেন।

(২) ইবনে হাজম (৬/১১৮) বলেন:

"নিশ্চয়ই যে সকল ফকীহদের অন্ধ অনুসরণ (তাকলীদ) করা হয়, তাঁরা তাকলীদকে বাতিল ঘোষণা করেছেন এবং তাঁরা তাঁদের অনুসারীদের তাঁদের অন্ধ অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। তাঁদের মধ্যে এ বিষয়ে সবচেয়ে কঠোর ছিলেন ইমাম শাফিঈ; কেননা তিনি রাহিমাহুল্লাহ সহীহ আসার (বর্ণনা) অনুসরণ এবং দলিলের মাধ্যমে যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয় তা গ্রহণ করার ওপর এমন গুরুত্বারোপ করেছেন যা অন্য কেউ করেননি। তিনি তাঁকে নির্বিচারে অনুসরণ করার বিষয়টি থেকে নিজেকে দায়মুক্ত ঘোষণা করেছেন এবং তা প্রকাশ্যে ব্যক্ত করেছেন। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে উম্মতকে উপকৃত করুন এবং তাঁর প্রতিদান বৃদ্ধি করুন; কেননা তিনি অনেক কল্যাণের চাবিকাঠি ছিলেন।"

(৩) ইমাম হাকেম ইমাম শাফিঈ পর্যন্ত তাঁর নিরবচ্ছিন্ন সনদে এটি বর্ণনা করেছেন; যেমনটি ইবনে আসাকিরের 'তারীখে দিমাশক'

(১৫/১/৩), 'ই'লামুল মুয়াক্কিঈন' (২/৩৬৩ ও ৩৬৪) এবং 'আল-ইক্বায' (পৃ. ১০০)-এ বর্ণিত হয়েছে।

(৪) ইবনুল কায়্যিম (২/৩৬১) এবং আল-ফুলানী (পৃ. ৬৮)।
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
3- " إذا وجدتم في كتابي خلاف سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ فقولوا بسنة رسول

الله صلى الله عليه وسلم، وَدَعُوا ما قلت ".

وفي رواية: " فاتبعوها، ولا تلتفتوا إلى قول أحد " (1) .

4- " إذا صح الحديث؛ فهو مذهبي " (2) .

--------------------------------------------

(1) الهروي في " ذم الكلام " (3/47/1) ، والخطيب في " الاحتجاج بالشافعي " (8/2) ،

وابن عساكر (15/9/1) ، والنووي في " المجموع " (1/63) ، وابن القيم (2/361) ، والفلاني (ص 100) .

والرواية الأخرى لأبي نعيم في " الحلية " (9/107) ، وابن حبان في " صحيحه "

(3/284 - الإحسان) بسنده الصحيح عنه نحوه.

(2) النووي في المصدر السابق، والشعراني (1/57) ، وعزاه للحاكم، والبيهقي،

والفلاني (ص 107) ، وقال الشعراني:

" قال ابن حزم: أي: صح عنده، أو عند غيره من الأئمة ".

قلت: وقوله الآتي عقب هذا صريح في هذا المعنى، قال النووي رحمه الله ما مختصره:

" وقد عمل بهذا أصحابنا في مسألة التثويب، واشتراط التحلل من الإحرام بعذر المرض

وغيرهما مما هو معروف في كتب المذهب، وممن حُكي عنه أنه أفتى بالحديث من أصحابنا:

أبو يعقوب البُويطي، وأبو القاسم الدَّارَكي، وممن استعمله من أصحابنا المحدثين: الإمام أبو بكر

البيهقي وآخرون، وكان جماعة من متقدمي أصحابنا إذا رأوا مسألة فيها حديث، ومذهب

الشافعي خلافه؛ عملوا بالحديث، وأفتوا به قائلين:

مذهب الشافعي ما وافق الحديث.

قال الشيخ أبو عمرو:

فمن وجد من الشافعية حديثاً يخالف مذهبه؛ نظر: إن كملت آلات الاجتهاد فيه

مطلقاً - أو في ذلك الباب، أو المسألة -؛ كان له الاستقلال بالعمل به، وإن لم تكمل - وشَقَّ

عليه مخالفة الحديث بعد أن بحث فلم يجد لمخالفه عنه جواباً شافياً -؛ فله العمل به، إن =
৩- "যদি তোমরা আমার কিতাবে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর পরিপন্থী কিছু পাও; তবে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী কথা বলো এবং আমি যা বলেছি তা বর্জন করো।"

অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "কাজেই তোমরা তারই অনুসরণ করো এবং অন্য কারও কথার দিকে ভ্রুক্ষেপ করো না" (১)।

৪- "যখন হাদিস সহিহ প্রমাণিত হবে; সেটিই আমার মাযহাব" (২)।

--------------------------------------------

(১) আল-হারওয়ী ‘যাম্মুল কালাম’ (৩/৪৭/১) গ্রন্থে, আল-খতিব ‘আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ’ (৮/২) গ্রন্থে,

ইবনে আসাকির (১৫/৯/১), আন-নববী ‘আল-মাজমু’ (১/৬৩), ইবনুল কাইয়্যিম (২/৩৬১) এবং আল-ফুলানি (পৃষ্ঠা ১০০)।

অন্য বর্ণনাটি আবু নুআইম ‘আল-হিলয়াহ’ (৯/১০৭) গ্রন্থে এবং ইবনে হিব্বান তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে

(৩/২৮৪ - আল-ইহসান) তাঁর থেকে তাঁর সহিহ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

(২) আন-নববী পূর্বোক্ত উৎস হতে, আশ-শারাানি (১/৫৭); তিনি একে আল-হাকিম, আল-বায়হাকি

এবং আল-ফুলানি (পৃষ্ঠা ১০৭) এর দিকে নিসবত করেছেন। আশ-শারাানি বলেন:

"ইবনে হাজম বলেছেন: অর্থাৎ, যা তাঁর নিকট অথবা অন্যান্য ইমামদের নিকট সহিহ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।"

আমি বলি: এর পরেই তাঁর যে উক্তিটি আসছে তা এই অর্থটি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) সংক্ষেপে বলেন:

"আমাদের সাথীরা ‘তাসউইব’ (আযানে নির্দিষ্ট বাক্য বৃদ্ধি)-এর মাসআলায় এবং অসুস্থতার ওজরের কারণে ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার শর্তারোপের মাসআলায়

সহ অন্যান্য মাসআলায় যা মাযহাবের কিতাবগুলোতে পরিচিত—এই মূলনীতির ওপর আমল করেছেন। আমাদের সাথীদের মধ্যে যাদের সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে তারা হাদিস অনুযায়ী ফতোয়া দিয়েছেন,

তারা হলেন: আবু ইয়াকুব আল-বুইতি, আবু কাসিম আদ-দারাকি। আমাদের মুহাদ্দিস সাথীদের মধ্যে যারা এটি প্রয়োগ করেছেন তারা হলেন: ইমাম আবু বকর

আল-বায়হাকি ও অন্যান্যরা। আমাদের পূর্ববর্তী সাথীদের এক জামাত যখন কোনো মাসআলায় হাদিস দেখতেন এবং দেখতেন যে

ইমাম শাফিঈর মাযহাব তার বিপরীত; তারা হাদিসের ওপর আমল করতেন এবং এই বলে ফতোয়া দিতেন যে:

হাদিসের সাথে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ সেটিই ইমাম শাফিঈর মাযহাব।

শাইখ আবু আমর বলেন:

শাফিঈপন্থীদের মধ্যে কেউ যদি এমন কোনো হাদিস পায় যা তার মাযহাবের বিপরীত; তবে সে দেখবে: যদি তার মাঝে ইজতিহাদের যোগ্যতা পূর্ণভাবে বিদ্যমান থাকে

—চাই তা সাধারণভাবে হোক অথবা ওই নির্দিষ্ট অধ্যায় বা মাসআলায়—তবে তার জন্য স্বতন্ত্রভাবে হাদিস অনুযায়ী আমল করার অধিকার থাকবে। আর যদি সেই যোগ্যতা পূর্ণ না থাকে—এবং হাদিসের বিরোধিতা করা তার জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে অথচ সে অনুসন্ধান করে

হাদিসের বিপক্ষে কোনো সন্তোষজনক উত্তর খুঁজে পায়নি—তবে তার জন্য হাদিসের ওপর আমল করা বৈধ হবে, যদি =
(খণ্ড: ১) আসলু সিফাতি সালাতিন নবিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
5- " أنتم أعلم بالحديث والرجال مني، فإذا كان الحديث الصحيح؛

فَأَعْلِموني به - أي شيء يكون: كوفيّاً، أو بصرياً، أو شامياً -؛ حتى أذهب إليه

إذا كان صحيحاً ".

--------------------------------------------

= كان عَمِل به إمام مستقل غير الشافعي، ويكون هذا عذراً له في ترك مذهب إمامه هنا.

وهذا الذي قاله حسن متعين. والله أعلم ".

قلت: هناك صورة أخرى لم يتعرض لذكرها ابن الصلاح، وهي فيما إذا لم يجد من

عمل بالحديث؛ فماذا يصنع؟ أجاب عن هذا تقي الدين السبكي في رسالة " معنى قول

الشافعي … إذا صح الحديث … " (ص 102 ج 3) ؛ فقال:

" والأولى عندي اتباع الحديث، وليفرض الإنسان نفسه بين يدي النبي صلى الله عليه وسلم، وقد سمع

ذلك منه؛ أيسعه التأخر عن العمل به؟ لا والله! … وكل واحد مكلف بحسب فهمه ".

وتمام هذا البحث وتحقيقه تجده في " إعلام الموقعين " (2/302 و 370) ، وكتاب الفلاني

المسمى " إيقاظ همم أولي الأبصار، للاقتداء بسيد المهاجرين والأنصار، وتحذيرهم عن

الابتداع الشائع في القرى والأمصار، من تقليد المذاهب مع الحمية والعصبية بين فقهاء

الأعصار "، وهو كتاب فَذّ في بابه، يجب على كل محبٍّ للحق أن يدرسه دراسة تفهم وتدبر.

(1) الخطاب للإمام أحمد بن حنبل رحمه الله. رواه ابن أبي حاتم في " آداب الشافعي "

(ص 94 - 95) ، وأبو نعيم في " الحلية " (9/106) ، والخطيب في " الاحتجاج بالشافعي "

(8/1) ، وعنه ابن عساكر (15/9/1) ، وابن عبد البر في " الانتقاء " (ص 75) ، وابن الجوزي

في " مناقب الإمام أحمد " (ص 499) ، والهروي (2/47/2) من ثلاثة طرق عن عبد الله بن

أحمد بن حنبل عن أبيه: أن الشافعي قال له: … فهو صحيح عنه؛ ولذلك جزم بنسبته

إليه ابن القيم في " الإعلام " (2/325) ، والفلاني في " الإيقاظ " (ص 152) ، ثم قال:

" قال البيهقي: ولهذا كَثُر أخذه - يعني: الشافعي - بالحديث، وهو أنه جمع علم أهل

الحجاز، والشام، واليمن، والعراق، وأخذ بجميع ما صح عنده من غير محاباة منه، ولا ميل

إلى ما استحلاه من مذهب أهل بلده؛ مهما بان له الحق في غيره، وفيمن كان قبله من =
৫- "আপনারা হাদীস ও রিজাল (বর্ণনাকারী) সম্পর্কে আমার চেয়ে অধিক পরিজ্ঞাত, তাই হাদীসটি যদি সহীহ হয়;

তবে আমাকে তা জানাবেন—তা যেখানকারই হোক না কেন: কূফা, বসরা বা শামের—যাতে আমি সেটির দিকে (তা অনুসরণের জন্য) যেতে পারি

যদি তা সহীহ হয়।"

--------------------------------------------

= এমন কোনো স্বতন্ত্র ইমাম যদি সেটির ওপর আমল করে থাকেন যিনি শাফিঈ নন, তবে এটি এখানে তার জন্য নিজ ইমামের মাযহাব পরিত্যাগের ক্ষেত্রে একটি ওজর বা গ্রহণযোগ্য কারণ হিসেবে গণ্য হবে।

তিনি যা বলেছেন তা উত্তম ও সুনির্দিষ্ট। আর আল্লাহই ভালো জানেন।"

আমি বলছি: এখানে অন্য একটি সুরত বা অবস্থা রয়েছে যা ইবনুল সালাহ উল্লেখ করেননি, আর তা হলো—যখন তিনি হাদীসটির ওপর আমল করেছেন এমন কাউকে

পাবেন না; তখন তিনি কী করবেন? এর উত্তর দিয়েছেন তাকীউদ্দীন সুবকী তার "মা’না কওলুশ শাফিঈ … ইযা সাহহাল হাদীস …" (৩য় খণ্ড, ১০২ পৃষ্ঠা) নামক রিসালায়; তিনি বলেছেন:

"আমার মতে, হাদীসের অনুসরণ করাই শ্রেয়। মানুষ যেন নিজেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে কল্পনা করে, এমতাবস্থায় যে সে এটি তাঁর নিকট থেকে সরাসরি শুনেছে; তার পক্ষে কি আমল করা থেকে পিছিয়ে থাকা সম্ভব হবে? আল্লাহর কসম, না! … এবং প্রত্যেকেই তার বোধশক্তি অনুযায়ী দায়বদ্ধ।"

এই আলোচনার পূর্ণতা ও এর তাহকীক আপনি পাবেন "ই'লামুল মুয়াক্কিঈন" (২/৩০২ ও ৩৭০) গ্রন্থে এবং আল-ফুলানীর কিতাবে

যার নাম "ইক্বাযু হিমামি উলিল আবসার, লিল ইক্তিদাই বি সাইয়্যিদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার, ওয়া তাহযিরুহুম আনিল

ইবতিদা’ইশ শা’ই ফিল কুরা ওয়াল আমসার, মিন তাকলীদিল মাযাহিবি মা’আল হামিয়্যাতি ওয়াল আসাবিয়্যাতি বাইনা ফুকাহাইল

আসার"। এটি তার নিজ বিষয়ে এক অনন্য কিতাব; সত্যের প্রত্যেক পিপাসুর উচিত এটি অনুধাবন ও চিন্তার সাথে অধ্যয়ন করা।

(১) এই সম্বোধন ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর প্রতি। এটি বর্ণনা করেছেন ইবনু আবী হাতিম "আদাবুশ শাফিঈ"

(পৃ. ৯৪-৯৫) গ্রন্থে, আবু নুয়াইম "আল-হিলয়াহ" (৯/১০৬) গ্রন্থে, খতীব "আল-ইহতিজাজু বিশ শাফিঈ"

(৮/১) গ্রন্থে এবং তার সূত্রে ইবনু আসাকির (১৫/৯/১), ইবনু আবদিল বার "আল-ইনতিক্বা" (পৃ. ৭৫) গ্রন্থে, ইবনুল জাওযী

"মানাকিবি ইমাম আহমাদ" (পৃ. ৪৯৯) গ্রন্থে এবং আল-হারাবী (২/৪৭/২) তিনটি সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে

আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে তার পিতার সূত্রে: ইমাম শাফিঈ তাকে বলেছিলেন: … সুতরাং এটি তার থেকে বিশুদ্ধভাবে সাব্যস্ত; এই কারণেই ইবনুল কায়্যিম "আল-ই'লাম" (২/৩২৫) গ্রন্থে

এবং আল-ফুলানী "আল-ইক্বায" (পৃ. ১৫২) গ্রন্থে এটি নিশ্চিতভাবে তার দিকে নিসবত করেছেন। এরপর তিনি বলেন:

"বায়হাকী বলেন: এই কারণেই তিনি—অর্থাৎ ইমাম শাফিঈ—অধিক মাত্রায় হাদীস গ্রহণ করতেন। আর বিষয়টি হলো তিনি হিজায,

শাম, ইয়ামান ও ইরাকের ইলম একত্রিত করেছিলেন এবং যা কিছু তার নিকট সহীহ বলে প্রমাণিত হয়েছে তিনি তার সবটুকুই গ্রহণ করেছেন—এতে তার কোনো পক্ষপাত ছিল না, আর তিনি নিজ দেশের অধিবাসীদের মাযহাবের প্রতিও ঝুঁকে পড়েননি; যখনই তার সামনে অন্য কোথাও সত্য স্পষ্ট হয়েছে, এমনকি তার পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকেও ="