(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: -)
السيرة النبوية منهجية دراستها واستعراض أحداثها   (عبد الرحمن علي الحجي)

القسم: السيرة النبوية

الكتاب: السيرة النبوية منهجية دراستها واستعراض أحداثها

المؤلف: عبد الرحمن على الحجى

(أستاذ التاريخ الإسلامي والأندلسي)

الناشر: دار ابن كثير - (دمشق، بيروت)

الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 1999 م

عدد الصفحات: 456

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সীরাতুন্নবী: অধ্যয়নের পদ্ধতি এবং ঘটনাবলির পর্যালোচনা   (আবদুর রহমান আলী আল-হাজ্জি)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী

গ্রন্থ: সীরাতুন্নবী: অধ্যয়নের পদ্ধতি এবং ঘটনাবলির পর্যালোচনা

লেখক: আবদুর রহমান আলী আল-হাজ্জি

(ইসলামী এবং আন্দালুসি ইতিহাসের অধ্যাপক)

প্রকাশক: দার ইবনে কাসীর - (দামেস্ক, বৈরুত)

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরী - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌[المدخل]

قال الله تعالى في القرآن الكريم:

بسم الله الرحمن الرحيم

لَقَدْ كانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كانَ يَرْجُوا اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيراً [الأحزاب: 21] .

هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَكَفى بِاللَّهِ شَهِيداً (28) مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَماءُ بَيْنَهُمْ تَراهُمْ رُكَّعاً سُجَّداً يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْواناً سِيماهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْراةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوى عَلى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحاتِ مِنْهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْراً عَظِيماً [الفتح: 28- 29]
[ভূমিকা]

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তার জন্য যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে। [আল-আহযাব: ২১] ।

তিনিই তাঁর রাসূলকে হিদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যেন তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন। আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। (২৮) মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর, নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু। আপনি তাদেরকে রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় দেখবেন, তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে। তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন বিদ্যমান। তাওরাতে তাদের উদাহরণ এরূপ, আর ইঞ্জিলে তাদের উদাহরণ হলো একটি চারাগাছের মতো যা থেকে অঙ্কুর বের হয়, অতঃপর তা শক্ত হয়, এরপর তা মোটা হয় এবং নিজ কাণ্ডের ওপর সোজা হয়ে উঠে, যা চাষীদের আনন্দ দেয়, যেন এর মাধ্যমে তিনি কাফিরদের ক্রোধান্বিত করেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা করেছেন। [আল-ফাতহ: ২৮- ২৯]
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الإهداء

هذا الكتاب أهديه إلى حضرة جناب المصطفى الحبيب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأنا أرجو الله عز وجل القبول، إن شاء الله سبحانه وتعالى.

كانت كلمات الإهداء شعرا. وقد جرت قصيدته هذه على اللسان، سليقة وانسيابا متناغما، والشكر والحمد لله رب العالمين.

يا سيدي يا أسوتي … هذا الكتاب هديتي

الله أنزل شرعه … أكرم بها من شرعة

أوحى إليك مبلّغا … أنت الأمين لأمّتي

بعثت للناس بها … طول الزمان وهجرة

بعثت فيها منذرا … ومبشّرا بالنّصرة

جاهدت فيها دائما … لم تعتذر من هجعة

كلّ السنين حميتها … وبذلت كلّ المهجة

وفي المسالك تلتقي … في سوقهم ومجنّة

والصحب حولك جدّهم … بادي الوفا وأصالة

أمحمد أنت الذي … أنقذتنا من تيهة

كلّ الرسالة صنتها … أدّيتها بأمانة

وحملتها في مهجة … وحميتها بالمقلة

وبالنفيس فديتها … أرخصتها سالفة

الله أرسل نعمة … أنعم بها وهديّة

قرآنه ضرب الدّجى … طاو له للظّلمة

والناس قد أحيوا بها … فكانوا خير أمّة

لا يعرفون بدونها … جاءتهم وبسمحة
উৎসর্গ

এই বইটি আমি প্রিয়তম মুস্তফা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহান দরবারে উৎসর্গ করছি এবং আমি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নিকট এর কবুলিয়ত কামনা করি, ইনশাআল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা।

উৎসর্গের শব্দগুলো ছিল কাব্যিক। এই কাসিদাটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং ছন্দময় প্রবাহে জিহ্বায় উচ্চারিত হয়েছে; সকল শোকর ও প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

হে আমার নেতা, হে আমার আদর্শ … এই বইটি আমার উপহার

আল্লাহ তাঁর শরীয়ত নাযিল করেছেন … কতই না সম্মানিত এই শরীয়ত

আপনার নিকট ওহী পাঠিয়েছেন প্রচারক হিসেবে … আপনি আমার উম্মতের জন্য পরম আমানতদার

আপনি মানুষের কাছে এটি নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন … মহাকালের দীর্ঘ সময়ে ও হিজরতের মাধ্যমে

আপনি তাতে সতর্ককারী হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন … এবং বিজয়ের সুসংবাদদাতা হিসেবে

আপনি তাতে সর্বদা সংগ্রাম করেছেন … বিশ্রামের কোনো অজুহাত পেশ করেননি

সকল বছর আপনি একে রক্ষা করেছেন … এবং আপনার সকল প্রাণশক্তি বিলিয়ে দিয়েছেন

এবং বিভিন্ন পথে আপনি সাক্ষাৎ করতেন … তাদের বাজারে ও মাজান্নাহ মেলায়

সাথীরা আপনার চারপাশে ছিলেন দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ … তাদের আনুগত্য ও আভিজাত্য ছিল সুস্পষ্ট

হে মুহাম্মদ, আপনিই সেই সত্তা যিনি … আমাদের বিভ্রান্তি থেকে উদ্ধার করেছেন

পুরো রিসালাতকে আপনি সংরক্ষণ করেছেন … এবং তা আমানতদারিতার সাথে পৌঁছে দিয়েছেন

এবং আপনি একে অন্তরে বহন করেছেন … আর চোখের মণির মতো রক্ষা করেছেন

আর মূল্যবান সবকিছুর বিনিময়ে একে রক্ষা করেছেন … যা ছিল আপনার নিকট অতি তুচ্ছ

আল্লাহ নেয়ামত পাঠিয়েছেন … কতই না চমৎকার এই নেয়ামত ও হাদিয়া

তাঁর কুরআন অন্ধকারকে আঘাত করেছে … যা অন্ধকারকে মিটিয়ে দিয়েছে

মানুষ এর মাধ্যমে সজীবতা লাভ করেছে … ফলে তারা হয়েছে শ্রেষ্ঠ উম্মত

এটি ছাড়া তারা কিছুই জানত না … এটি তাদের কাছে এসেছে অত্যন্ত সহজ ও উদারভাবে
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ৬)
كانوا شراذم قبلها … وحربهم لقبيلة

لكنهم قاموا دعاة … ولوحدة في دعوة

صاروا نجوما في الورى … منذ اهتدوا بشريعة

أهل الحضارة والنّهى … بالعدل فتح سريرة

ونحن جيل يقتدي … برسولنا ووراثة

على خطاك سيرنا … مهما بدا من قسوة

ونبتغي الله به … أسعد بها تضحية

لنرضي فيه ربّنا … وبسعدها بشرية

سعد الذين تجمعوا … في منهج ووضيئة

فيه السعادة كلّها … وهو أسّ حضارة

هذا النبيّ وصوته … متجلجلا في آية

فأقبل تراه ماثلا … متحركا في سيرة

فرح الزمان بسعده … ليضيء كلّ مسيرة

بغداد المحروسة- العامرية المعمورة- المضيفة المشهورة

الخميس: 6 رجب الخير 1418 هـ (6/ 11/ 1997 م)
তারা এর পূর্বে ছিল বিচ্ছিন্ন একদল … এবং তাদের যুদ্ধ ছিল গোত্রীয় স্বার্থে

কিন্তু তারা আহ্বায়ক হিসেবে দণ্ডায়মান হলো … এবং একটি আহ্বানে ঐক্যের তরে

তারা সৃষ্টিজগতে নক্ষত্র হয়ে উঠল … যখন থেকে তারা শরীয়তের মাধ্যমে হেদায়েত প্রাপ্ত হলো

সভ্যতা ও প্রজ্ঞার অধিকারী তারা … ইনসাফের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সত্তার বিজয়

আর আমরা এমন এক প্রজন্ম যারা অনুসরণ করি … আমাদের রাসূলকে এবং তাঁর উত্তরাধিকারকে

আপনার পদচিহ্নের উপরই আমাদের পথচলা … কঠোরতা যাই প্রকাশ পাক না কেন

আর এর মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি চাই … কতই না সৌভাগ্যের এই উৎসর্গ

যেন আমরা তাতে আমাদের প্রতিপালককে সন্তুষ্ট করতে পারি … আর তার মাধ্যমে মানবতা সুখী হয়

সৌভাগ্যবান তারা যারা একত্রিত হয়েছে … একটি আদর্শ ও উজ্জ্বল পন্থায়

তাতেই নিহিত রয়েছে পূর্ণ সুখ … আর তা-ই হলো সভ্যতার মূল ভিত্তি

ইনিই সেই নবী এবং তাঁর কণ্ঠস্বর … আয়াতের মধ্যে যা অনুরণিত হচ্ছে

অতএব এগিয়ে এসো, তুমি তাঁকে উপস্থিত দেখতে পাবে … সীরাতের মাঝে গতিশীল রূপে

কাল তাঁর সৌভাগ্যে আনন্দিত হয়েছে … যাতে প্রতিটি পথ আলোকিত হয়

সংরক্ষিত বাগদাদ— আবাদকৃত আল-আমিরিয়াহ— সুপ্রসিদ্ধ আল-মুদিফাহ (অতিথিশালা)

বৃহস্পতিবার: ৬ রজব আল-খায়র ১৪১৮ হিজরি (৬/ ১১/ ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ)
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌ملاحظات

تمثل النجمة (*) في الاستشهاد بالآيات الكريمة بداية الآية الكريمة ونهايتها. وإذا لم توضع هذه النجمة (*) ، فذلك يعني أن الاستشهاد يشير إلى جزء من الآية الكريمة.

كانت طريقة الإشارة في المصادر والمراجع- بالنسبة للجزء والصفحة- عدم ذكر كلمة جزء أو صفحة، بل يوضع خط مائل بين رقم الجزء ورقم الصفحة. فمثلا (3/ 4) تعني الجزء الثالث الصفحة 4.

وبالنسبة لكتب الحديث الشريف التي ترقم أحاديثها، كثيرا ما يذكر رقم الحديث الشريف وبعده خط مائل (/) ثم الجزء. مثلا (4964/ 3) يشير الرقم الأول- قبل الخط المائل- إلى رقم الحديث الشريف والرقم (3) - بعد الخط المائل- يشير إلى الجزء.
বিশেষ দ্রষ্টব্য

পবিত্র আয়াতের উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে তারকা চিহ্ন (*) আয়াতের শুরু এবং শেষকে নির্দেশ করে। যদি এই তারকা চিহ্ন (*) প্রদান করা না হয়, তবে এর অর্থ হলো উদ্ধৃতিটি আয়াতের একটি অংশকে নির্দেশ করছে।

উৎস এবং তথ্যসূত্রের ক্ষেত্রে—খণ্ড এবং পৃষ্ঠার জন্য—'খণ্ড' অথবা 'পৃষ্ঠা' শব্দ দুটি উল্লেখ না করে বরং খণ্ড সংখ্যা এবং পৃষ্ঠা সংখ্যার মাঝে একটি বাঁকা রেখা (স্ল্যাশ) ব্যবহার করার পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ (৩/ ৪) দ্বারা তৃতীয় খণ্ড ও চতুর্থ পৃষ্ঠাকে বোঝানো হয়েছে।

আর যেসকল হাদীস গ্রন্থের হাদীসসমূহ নম্বরকৃত, সেখানে প্রায়শই হাদীস নম্বর এবং তারপরে একটি বাঁকা রেখা (/) ও এরপর খণ্ড সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ (৪৯৬৪/ ৩) এর ক্ষেত্রে—বাঁকা রেখার আগের প্রথম সংখ্যাটি হাদীস নম্বরকে এবং বাঁকা রেখার পরের (৩) সংখ্যাটি খণ্ডকে নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌تقديم

سنوات كثيرة مرت تناهز أو تجاوز العقدين، وأنا أنادي بشعارات علمية لازمة، منها أن يعتبر التاريخ الإسلامي مادة شرعية تدرّس، واحدة من هذه المواد في أيّ موقع منها، لا سيما السّيرة النبوية الشّريفة، على صاحبها الصلاة والسلام. كما جرى النداء والعمل حثا، لاعتبار هذه السيرة المطهرة على صاحبها الصلاة والسلام- مادة أثيرة في كافة المراكز العلمية والمؤسسات، لا سيما الجامعات؛ لتكون ليس فقط مادة مستقلة بل ومتطلبا جامعيا. ولعل ذلك يتحقق يوما ما بعون الله تعالى وفضله.

هذا مهمّ جدا، ومن المهمّ كذلك: أن تقدّم هذه السيرة المطهرة بثوبها الزاهي الجليل، وبالأسلوب البحثي الجميل، وبالعلم الكريم الدليل، فهي مبدأ تاريخنا، هذا التاريخ الإسلامي وشرفه وتاجه.

وها أنا اليوم أقدّم هذه الدراسة- باكورة مؤلفات في موضوعها، لما يتلوها من بحوث ودراسات ومؤلفات، إن شاء الله تعالى- صالحة لكل مستوى، ومهمة لكل دارس، وأساسية لكل متمرس. وأرى ذلك لزاما أبديه، وواجبا أقضيه، وعملا أتعبد الله تعالى به، راجيا منه القبول، وأن يجعل- سبحانه- موضعه الإقبال ونفعه عميما. وأقدّمه هنا في بحوث أو مؤلفات متتابعة- إن شاء الله تعالى- كل منها على نسق، حتى يتم كل جانب منها بما يؤهله، شمولا وسعة وعمقا، بعونه ومنّه، وهو على ما يشاء قدير، وبالإجابة جدير.
ভূমিকা

দুই দশকের কাছাকাছি বা তারও বেশি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে, আর আমি প্রয়োজনীয় কিছু ইলমি শ্লোগান দিয়ে আসছি। তার মধ্যে অন্যতম হলো—ইসলামী ইতিহাসকে একটি শরয়ি পাঠ্য বিষয় হিসেবে গণ্য করা, যে কোনো পর্যায়েই এটি পাঠ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত, বিশেষ করে সম্মানিত সীরাতুন নবী—তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। একইভাবে এই পবিত্র সীরাতকে—তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—সকল ইলমি কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয় হিসেবে গণ্য করার জন্য জোরালো আহ্বান ও প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে; যাতে এটি কেবল একটি স্বতন্ত্র বিষয়ই না হয়ে বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবশ্যিক বিষয় হিসেবেও গণ্য হয়। আল্লাহ তাআলার সাহায্য ও অনুগ্রহে হয়তো কোনো একদিন এটি বাস্তবায়িত হবে।

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর সেই সাথে ইহাও গুরুত্বপূর্ণ যে: এই পবিত্র সীরাতকে তার উজ্জ্বল ও মহিমান্বিত রূপে, চমৎকার গবেষণা শৈলী এবং দালিলিক জ্ঞানের মাধ্যমে উপস্থাপন করা। কারণ এটিই আমাদের ইতিহাসের সূচনাবিন্দু, আমাদের এই ইসলামী ইতিহাসের গৌরব ও মুকুট।

আর আজ আমি এই গবেষণাটি পেশ করছি—যা ইনশাআল্লাহ এর পরবর্তী গবেষণা ও গ্রন্থাবলির ধারায় এই বিষয়ের প্রথম রচনা—এটি সকল স্তরের জন্য উপযোগী, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রত্যেক অভিজ্ঞ ব্যক্তির জন্য মৌলিক। আমি এটিকে একটি আবশ্যক কর্তব্য মনে করি যা আমি প্রকাশ করছি, একটি দায়িত্ব যা আমি পালন করছি এবং এমন একটি কাজ যার মাধ্যমে আমি আল্লাহ তাআলার ইবাদত করছি। আমি তাঁর কাছে এর কবুলিয়ত কামনা করি এবং প্রার্থনা করি যে তিনি—সুবহানাহু—যাতে একে সমাদৃত করেন এবং এর কল্যাণকে ব্যাপক করে দেন। আমি এটি এখানে ধারাবাহিক গবেষণা বা গ্রন্থাকারে পেশ করছি—ইনশাআল্লাহ—যার প্রতিটি একটি নির্দিষ্ট ধারায় বিন্যস্ত, যাতে আল্লাহর সাহায্য ও অনুগ্রহে এর প্রতিটি দিক তার উপযুক্ত পূর্ণতা, ব্যাপকতা, বিস্তৃতি ও গভীরতা লাভ করে। তিনি যা চান তা করতে সক্ষম এবং তিনি প্রার্থনা কবুল করার যোগ্য।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌تمهيد وتنجيد

السيرة النبوية الشّريفة- على صاحبها الصلاة والسلام- هي التي أقامت مباني هذا الدين- الذي أنزله الله تعالى، وحيا أمينا صادقا على رسوله محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم وبه أتمّ نعمته على خلقه، على قواعده الإيمانية بالله تعالى ورسالته الخاتمة، عقيدة وعبادة وشريعة. ورسمت تعاليم الإسلام في الواقع: سلوكا وتعاملا، بذلا وتضحية، احتمالا وفداء.

وهي ثمرة بناء الإسلام- قرآنا وسنّة وسيرة- وأقامت الإنسان والحياة على قواعده المتينة الرصينة الأمينة. ذلك من أجل إقامة المجتمع الفاضل والحياة الإنسانية الكريمة، في واقعية مثالية، أو مثالية واقعية، تبقى دليل الإنسانية ونهجها الميمون الفريد نحو الحياة المرجوة التي أرادها الله لعباده؛ لترسيخ معنى العبودية لله تعالى وحده، وإنجاز الفتوحات المتنوعة في آفاق النفس، وميادين الحياة، وإعمار المجتمع، بصيغة كريمة إنسانية فاضلة، لا يدركونها- صيغة وصبغة ورفعة- إلا به وحده.

ولقد قدّمت السيرة النبوية الشريفة القرآن الكريم- كتاب الله تعالى- شرحا موضّحا بالبيان والتفصيل في السّنة النبوية المطهرة، وبالسلوك والتمثيل في واقع الحياة، في كل إطار وفي أي مجال وحال، في السيرة النبوية العطرة.

وكما أن كلّ ما في القرآن الكريم يشير ويؤكد ويعلن أنه من عند الله تعالى، وحيا منزّلا منه سبحانه على رسوله الكريم محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم، الصادق المصدوق «1» ، الذي تلقاه من ربه العظيم الجليل سبحانه. وبهذا

--------------------------------------------

(1) الصادق المصدوق: وصف للرسول الكريم صلى الله عليه وسلم. وهو تعبير كثر وروده عند رواة
ভূমিকা ও গৌরবগাথা

মহান নবীর পবিত্র সীরাত—তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এই দ্বীনের ইমারতসমূহকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যা মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আমানতদারী ও সত্য ওহী হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন এবং এর মাধ্যমেই তিনি তাঁর সৃষ্টির ওপর স্বীয় নেয়ামত পূর্ণ করেছেন। এটি আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমান এবং তাঁর শেষ রিসালাতের ঈমানী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত—আকিদাহ, ইবাদত ও শরীয়াহ হিসেবে। আর তা বাস্তব জীবনে ইসলামের শিক্ষাসমূহকে চিত্রায়িত করেছে: আচরণ ও লেনদেনে, দান ও আত্মত্যাগে, ধৈর্য ও জীবন উৎসর্গে।

এটিই হলো ইসলামের বিনির্মাণের ফল—কুরআন, সুন্নাহ ও সীরাত হিসেবে—যা মানুষ ও জীবনকে এর মজবুত, সুদৃঢ় ও বিশ্বস্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছে। আর এটি এক আদর্শ সমাজ এবং মর্যাদাপূর্ণ মানবিক জীবন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে, যা এক আদর্শিক বাস্তবতা অথবা বাস্তবধর্মী আদর্শবাদের মাঝে নিহিত; যা মানবতার জন্য পথপ্রদর্শক এবং তার অনন্য কল্যাণময় পন্থারূপে বিদ্যমান থাকে সেই কাঙ্ক্ষিত জীবনের দিকে যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন; যাতে একমাত্র আল্লাহ তাআলার দাসত্বের অর্থকে সুদৃঢ় করা যায় এবং আত্মার দিগন্তে, জীবনের ময়দানে ও সমাজ বিনির্মাণে বহুমুখী বিজয় অর্জন করা যায় এক মর্যাদাপূর্ণ মানবিক ও শ্রেষ্ঠ কাঠামোর মাধ্যমে। তারা—তার কাঠামো, বৈশিষ্ট্য ও উচ্চতা—একমাত্র তাঁর মাধ্যমেই অর্জন করতে পারে।

মহান নবীর পবিত্র সীরাত আল্লাহ তাআলার কিতাব কুরআনুল কারীমকে পবিত্র সুন্নাহর বর্ণনা ও বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ এক সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা হিসেবে এবং জীবন বাস্তবতায় আচরণ ও উদাহরণের মাধ্যমে প্রতিটি ক্ষেত্রে এবং যে কোনো অঙ্গনে ও অবস্থায় উপস্থাপন করেছে এই সুগন্ধিময় সীরাতুন্নবীতে।

আর যেভাবে কুরআনুল কারীমের সবকিছু এ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে, একে নিশ্চিত করে এবং ঘোষণা দেয় যে, তা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর সম্মানিত রাসূল মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ ওহী—যিনি সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ হিসেবে স্বীকৃত (আস-সাদিকুল মাসদুক) «১», যিনি তা তাঁর মহান ও মহিমান্বিত রবের নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। আর এর মাধ্যমে

--------------------------------------------

(১) আস-সাদিকুল মাসদুক: এটি সম্মানিত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একটি গুণবাচক উপাধি। আর এটি এমন এক অভিব্যক্তি যা বর্ণনাকারীদের নিকট অধিক ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ১২)
كله تماما تتضح نبوته ورسوليته ورسالته من خلاله، مضيئة كالشمس رخية كالنسيم رحبة كالفضاء وكالسماء. والله تعالى يقول: وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ (191) وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعالَمِينَ (192) نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ (193) عَلى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ (194) بِلِسانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ (195) وَإِنَّهُ لَفِي زُبُرِ الْأَوَّلِينَ (196) أَوَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ آيَةً أَنْ يَعْلَمَهُ عُلَماءُ بَنِي إِسْرائِيلَ [الشعراء: 191- 197] .

ويقول سبحانه وتعالى: وَكَذلِكَ أَوْحَيْنا إِلَيْكَ رُوحاً مِنْ أَمْرِنا ما كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتابُ وَلَا الْإِيمانُ وَلكِنْ جَعَلْناهُ نُوراً نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشاءُ مِنْ عِبادِنا وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلى صِراطٍ مُسْتَقِيمٍ [الشورى: 52] .

والرسول الكريم صلى الله عليه وسلم يقول: «ما من نبي من الأنبياء إلا أعطي من الآيات ما مثله آمن عليه البشر، وإنما كان الذي أتيته وحيا أوحاه الله إليّ، فأرجو أن أكون أكثرهم تابعا يوم القيامة» «1» .

--------------------------------------------

الأحاديث النبوية الشريفة، وعموم الصحابة الكرام ومن بعدهم على مدار الأجيال، ونحن والحمد لله إلى يوم الدين. البخاري، رقم (3036) . وكتاب العلم، باب: قول المحدث حدثنا أو أخبرنا وأنبأنا. «الصادق» : الصادق في قوله. «المصدوق» : المصدوق فيما يأتيه من الوحي الكريم، وكذلك المصدّق فيه. مسلم، رقم (2643) .

‌‌(1) البخاري: كتاب فضائل القرآن، باب كيف نزول الوحي وأول ما نزل، رقم (4696) ، مسلم، رقم (152) . جامع الأصول في أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم، (8/ 533، رقم 6333) . «آمن عليه البشر» : أي كل نبي بعثه الله تعالى أعطاه من الآيات والدلائل الواضحة والمعجزات (من خوارق العادات) التي تظهر صدقه، فتقتضي الإيمان به. «أتيته» : أراد القرآن الكريم الذي خص به رسول الله صلى الله عليه وسلم التي أعطاها الله للرسول الكريم صلى الله عليه وسلم هي القرآن الكريم الموحى به من الله تعالى لفظا ومعنى، وهو المعجزة الكبرى الباقية إلى يوم القيامة، يستمر الإيمان به من غير المسلمين فيؤمنون به ويدخلونه- على مر العصور ومن كل الأقوام، بجانب كل المعجزات الآخرى الكثيرة المتنوعة. «وحيا» : والوحي هنا هو القرآن الكريم، فإنه ليس من كتب الله المنزلة كان معجزا إلا القرآن الكريم.
এ সবকিছুর মাধ্যমেই তাঁর নবুওয়াত, রিসালাত এবং তাঁর বাণী সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট হয়ে ওঠে; যা সূর্যের ন্যায় দীপ্তিময়, স্নিগ্ধ বাতাসের ন্যায় প্রশান্তিদায়ক এবং মহাকাশ ও আসমানের ন্যায় বিস্তৃত। আর আল্লাহ তাআলা বলেন: নিশ্চয় আপনার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। (১৯১) আর নিশ্চয় এটি (কুরআন) বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। (১৯২) বিশ্বস্ত আত্মা (জিবরাঈল) তা নিয়ে অবতরণ করেছেন, (১৯৩) আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন, (১৯৪) সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়। (১৯৫) আর নিশ্চয় এর উল্লেখ পূর্ববর্তী কিতাবসমূহেও রয়েছে। (১৯৬) বনী ইসরাঈলের আলেমগণ যে এ সম্পর্কে অবগত, এটি কি তাদের জন্য একটি নিদর্শন নয়? [আশ-শুআরা: ১৯১-১৯৭]।

এবং সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেন: এভাবেই আমি আপনার প্রতি আমার নির্দেশ থেকে এক রূহ (ওহী) প্রেরণ করেছি; আপনি তো জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী? কিন্তু আমি একে করেছি একটি নূর (আলো), যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করি; আর নিশ্চয় আপনি তো সরল পথের দিকেই পথপ্রদর্শন করেন। [আশ-শূরা: ৫২]।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: "নবীগণের মধ্যে এমন কোনো নবী ছিলেন না যাকে এমন কোনো নিদর্শন (মুজিজা) দেওয়া হয়নি, যা দেখে মানুষ ঈমান এনেছে। আর আমাকে যা দেওয়া হয়েছে তা হলো ওহী, যা আল্লাহ আমার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। অতএব আমি আশা করি কিয়ামতের দিন তাদের সবার চেয়ে আমার অনুসারীর সংখ্যা বেশি হবে।" [১] ।

--------------------------------------------

শরীফ নববী হাদীসসমূহ, সাধারণ সম্মানিত সাহাবায়ে কেরাম এবং যুগের পর যুগ তাদের পরবর্তীগণ, এবং আলহামদুলিল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত আমরাও (এর অন্তর্ভুক্ত)। বুখারী, নম্বর (৩০৩৬)। এবং ইলম অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: মুহাদ্দিসের উক্তি 'হাদ্দাসানা' (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) অথবা 'আখবারানা' (আমাদের সংবাদ দিয়েছেন) এবং 'আনবাআনা' (আমাদের জানিয়েছেন)। 'আস-সাদিক': স্বীয় বাণীতে সত্যবাদী। 'আল-মাসদুক': তাঁর নিকট যে সম্মানিত ওহী আসে তাতে তিনি সত্যনিষ্ঠ বলে স্বীকৃত, এবং তাতে তিনি প্রত্যায়িতও বটে। মুসলিম, নম্বর (২৬৪৩)।

‌‌(১) বুখারী: কিতাব ফাদাইলুল কুরআন, পরিচ্ছেদ: ওহী কীভাবে নাযিল হতো এবং সর্বপ্রথম কী নাযিল হয়েছিল, নম্বর (৪৬৯৬), মুসলিম, নম্বর (১৫২)। জামিউল উসুল ফি আহাদিসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, (৮/ ৫৩৩, নম্বর ৬৩৩৩)। 'মানুষ যার ওপর ঈমান এনেছে': অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা যত নবী পাঠিয়েছেন, তাদের প্রত্যেককেই এমন সব নিদর্শন, সুস্পষ্ট দলীল এবং মুজিজা (অলৌকিক ঘটনা) দান করেছেন যা তাঁদের সত্যতাকে ফুটিয়ে তোলে, ফলে তা তাঁদের প্রতি ঈমান আনার দাবি রাখে। 'আমাকে যা দেওয়া হয়েছে': এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পবিত্র কুরআন, যা বিশেষভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যা দান করেছেন তা হলো শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহী স্বরূপ পবিত্র কুরআন। আর এটি কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকা এক মহা মুজিজা। অমুসলিমদের মধ্য থেকেও এর ওপর ঈমান আনা অব্যাহত থাকবে, ফলে যুগে যুগে সকল জাতির মধ্য থেকে মানুষ এর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং এতে প্রবেশ করবে—অন্যান্য অসংখ্য ও বিচিত্র মুজিজাগুলোর পাশাপাশি। 'ওহী': এখানে ওহী বলতে পবিত্র কুরআনকে বোঝানো হয়েছে। কেননা আল্লাহ তাআলার অবতীর্ণ কিতাবসমূহের মধ্যে পবিত্র কুরআন ব্যতীত অন্য কোনটি মুজিজা ছিল না।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ১৩)
فالقرآن الكريم كتاب الله تعالى المبارك، وشرعه المبين، وحبله المتين، أنعم به على البشرية جمعاء، فضلا منه ومنّة؛ ليبلّغه الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم إلى الناس كافة، رسالة ربانية لا غنى لأهل الأرض عنها في كل ديارهم وأعصارهم ومرتقياتهم. ولا تستريح البشرية- كما استراحت ورأت في جولة سبقت- إلا في ظله. وتلك تجربة وخبرة وشهادة، تكفيها لأخذه واعتماده والعمل به، مكتفية به وحده ومستغنية به عما سواه، حتى لو فاتتها معرفة ذلك، من خلال القرآن والسنة المطهرة والسيرة النبوية الشريفة.

وحين تتخذه البشرية منهجا تتعامل به في كل جوانب حياتها، ستنال السيادة والتكريم في الدنيا والسعادة الدائمة في الآخرة. ويوم تدركه وتعرفه وتفقهه لا ترتضي- ذاتيا، ولا يصحّ لها- أن تلتفت لغيره وبطبيعتها، اعتمادا على نظرية (أو حقيقة) التقابل والتواصل والتكامل، أو التوافق والترافق والتعانق. عندها يسقط وتسقط كل ما عداه من البرامج البشرية، والمناهج الأرضية، والمبادئ الوضعية؛ إذ لا يجب أن يحكّم المسلم في حياته كلها غير ما أنزله الله سبحانه، ولا يقبل التحاكم إلى ما يضعه الإنسان، مهما كان.

وهذا هو مفهوم العبودية لله تعالى، ومعنى شهادة ألاإله إلّا الله، الذي دعا إليه كافة الأنبياء عليهم السلام ، واستمر الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم يجاهد من أجلها عقودا، تثبيتا وتوكيدا وتحديدا بأمانة.

والله تعالى يقول في سور متعددة مثل الأنعام والأعراف وهود اعْبُدُوا اللَّهَ ما لَكُمْ مِنْ إِلهٍ غَيْرُهُ وكما يقول الرسول صلى الله عليه وسلم: «أنا أولى الناس بابن مريم في الدنيا والآخرة، ليس بيني وبينه نبي، والأنبياء أخوة، أبناء علّات، أمهاتهم شتّى، ودينهم واحد» «1» .

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري: كتاب الأنبياء، باب: وَاذْكُرْ فِي الْكِتابِ مَرْيَمَ إِذِ انْتَبَذَتْ مِنْ أَهْلِها [سورة مريم، 16] ، رقم (3259) . ومسلم: رقم (2365) . جامع الأصول، (8/ 523، رقم 6321) . «أولى الناس» : أخص الناس به وأقربهم إليه، لأنه بشّر به. «أولاد علات» : الأخوة لأب واحد، من أمّهات مختلفة. والمعنى: أن
মহাগ্রন্থ আল-কুরআন মহান আল্লাহ তাআলার বরকতময় কিতাব, তাঁর সুস্পষ্ট শরিয়ত এবং মজবুত রশি। তিনি তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও দান হিসেবে এটি সমগ্র মানবজাতিকে নিয়ামতস্বরূপ প্রদান করেছেন; যাতে সম্মানিত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। এটি একটি খোদায়ী বার্তা, যার অভাব মিটানোর মতো কোনো বিকল্প পৃথিবীর অধিবাসীদের নিকট তাদের সকল জনপদে, যুগে এবং অগ্রগতির প্রতিটি স্তরে নেই। মানবজাতি—যেমনটি তারা অতীতে স্বস্তি লাভ করেছিল এবং প্রত্যক্ষ করেছিল—এর ছায়াতল ছাড়া অন্য কোথাও প্রকৃত শান্তি পাবে না। এটি এমন এক অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সাক্ষ্য, যা একে গ্রহণ করতে, এর ওপর নির্ভর করতে এবং সে অনুযায়ী আমল করার জন্য যথেষ্ট; এবং এটিই এককভাবে যথেষ্ট এবং অন্য সব কিছু থেকে অমুখাপেক্ষীকারী, যদিও কুরআন, পবিত্র সুন্নাহ এবং মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পবিত্র জীবনী থেকে তারা এই জ্ঞান লাভে ব্যর্থ হয়।

যখন মানবজাতি একে জীবন পরিচালনার পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করবে এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ ঘটাবে, তখন তারা দুনিয়াতে শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মান এবং আখিরাতে চিরস্থায়ী সুখ লাভ করবে। যেদিন তারা একে উপলব্ধি করবে, চিনবে এবং বুঝবে, সেদিন তারা নিজের থেকেই অন্য কিছুর প্রতি ফিরে তাকানো পছন্দ করবে না এবং স্বভাবজাতভাবেই তা তাদের জন্য সমীচীন হবে না; যা সমন্বয়, যোগাযোগ, পরিপূরকতা অথবা ঐক্য, সাহচর্য ও আলিঙ্গনের তত্ত্বের (বা বাস্তবতার) ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে। তখন এর বিপরীতে থাকা সকল মানবীয় কর্মসূচি, পার্থিব পথ ও জাগতিক মূলনীতিসমূহ অসার হয়ে পড়বে; কেননা একজন মুসলিমের জন্য তার সমগ্র জীবনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যা অবতীর্ণ করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছুর শাসন মেনে নেওয়া সমীচীন নয় এবং মানুষ যা প্রবর্তন করে তার বিচারিক কর্তৃত্ব গ্রহণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আর এটাই হলো মহান আল্লাহর দাসত্বের (উবুদিয়্যাত) মূল ধারণা এবং 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) সাক্ষ্য প্রদানের প্রকৃত অর্থ, যার দিকে সকল নবী (আলাইহিমুস সালাম) আহ্বান জানিয়েছেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমানতদারিতার সাথে একে সুপ্রতিষ্ঠিত, সুনিশ্চিত ও সুনির্দিষ্ট করার জন্য কয়েক দশক ধরে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।

মহান আল্লাহ সূরা আল-আনআম, আল-আরাফ এবং হুদ-এর মতো বিভিন্ন সূরায় বলেছেন: তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই। এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেমন বলেন: «দুনিয়া ও আখিরাতে মারইয়াম-পুত্রের সবচেয়ে নিকটতম ব্যক্তি হলাম আমি। আমার ও তাঁর মধ্যে কোনো নবী নেই। নবীগণ ভ্রাতৃপ্রতিম, তারা বৈমাত্রেয় ভাইয়ের মতো, তাদের মায়েরা ভিন্ন ভিন্ন হলেও তাদের দীন এক» «১»।

--------------------------------------------

(১) বুখারী কর্তৃক বর্ণিত: নবীদের অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: কিতাবে মারইয়ামের কথা স্মরণ করো যখন সে তার পরিবার থেকে পৃথক হয়েছিল [সূরা মারইয়াম, ১৬], নম্বর (৩২৫৯)। এবং মুসলিম: নম্বর (২৩৬৫)। জামেউল উসুল, (৮/ ৫২৩, নম্বর ৬৩২১)। «আউলাস নাস» (নিকটতম ব্যক্তি): তাঁর সাথে সবচেয়ে খাস বা বিশিষ্ট এবং তাঁর সবচেয়ে নিকটতম ব্যক্তি, কারণ তিনি তাঁর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছিলেন। «আওলাদে আল্লাত»: এমন ভাই যারা একই পিতার সন্তান কিন্তু মা ভিন্ন ভিন্ন। এর অর্থ হলো:
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ১৪)
وكم من مرة حدّث القرآن الكريم، من خلال حشد ضخم من الآيات الكريمات عن الغائب عن علم الإنسان وإدراكه وآفاقه، أي عن الغيب الكائن في التاريخ والحياة، وغاب عن علم الإنسان وعن الغيب الذي سيكون في الدنيا والآخرة سواء. وكلها حقائق منظورة، والتي ستقع مثلما وقعت، فضلا عما فيه من أمور كونية ونفسية وعلمية، وغيرها كثيرة مجهولة، مما لم يدرك بعضه الإنسان إلا بعد قرون وأجيال، ومنه لا يزال خارج دائرة إدراكه، كالذي هو خارج دائرة علمه غيبا. بل ما أكثر ما حدّث القرآن الكريم عن بواطن النفوس، وأعماق السرائر، ومكنونات الضمائر، وحتى بما هو مجهول للشخص والأشخاص أنفسهم. فلنبحث كل هذا في القرآن الكريم، ونقرأه من جديد.

كل ذلك وأمثاله يدعو بقوة كلّ إنسان- فضلا عن المسلم- أن يتبع كتاب الله في حياته، ويأخذ به، وردا وإصدارا، وبه تكون النجاة لا بغيره في الدنيا والآخرة. والله تعالى يقول في كتابه العزيز القرآن الكريم: (أَفَحُكْمَ الْجاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْماً لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ [المائدة: 50] .

وكما هو الأمر هكذا بالنسبة للقرآن الكريم، فإنّ كلّ ما في السيرة الشريفة- والسّنّة الصحيحة كذلك، بعد بيان القرآن الكريم له، تجده ممهورا بطابع النبوة، وختمها الرسالات- يدل على أنه صلى الله عليه وسلم نبيّ كريم ورسول خاتم، بدعوة الله العالمية إلى أهل الأرض أجمعين وإلى يوم الدين.

ولقد أنزله الله تعالى محتويا كلّ أمورهم التي ترفعهم وتقودهم نحو الحياة الكريمة والحضارة الرشيدة، وإلى رضا الله تعالى والسعادة في الدنيا والآخرة.

--------------------------------------------

شرائعهم متفقة في الأصول (مختلفة في الفروع) . «شتى» : متعددة. «دينهم واحد» : دين التوحيد. ويشير هذا إلى أن النسب الحقيقي هو نسب العقيدة والإيمان، وبه وحده لا بغيره يكون التفاضل والقبول والقرب من الله تعالى.
পবিত্র কুরআন কতবার বিপুল সংখ্যক মহান আয়াতের মাধ্যমে মানুষের জ্ঞান, উপলব্ধি ও দিগন্তের অগোচর বিষয় অর্থাৎ ইতিহাস ও জীবনে বিদ্যমান অদৃশ্য জগত এবং দুনিয়া ও আখিরাতে যা ঘটবে সেই অদৃশ্য জগত সম্পর্কে আলোচনা করেছে। এ সবই চাক্ষুষ বাস্তবতা, যা পূর্বেকার ঘটনাপ্রবাহের মতোই সংঘটিত হবে। এ ছাড়াও এতে রয়েছে মহাজাগতিক, মনস্তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক বিষয়াদি এবং এমন আরও অনেক অজানা বিষয়, যার কিছু অংশ মানুষ বহু শতাব্দী ও প্রজন্মের আগে উপলব্ধি করতে পারেনি এবং যার কিছু অংশ এখনো তার উপলব্ধির গণ্ডির বাইরে রয়ে গেছে, ঠিক যেমন তার অজানার গণ্ডির বাইরের অদৃশ্য বিষয়াবলি। বরং কুরআন কত বেশিই না নফসের অভ্যন্তরীণ অবস্থা, অন্তরের গভীর রহস্য এবং বিবেকের গোপন বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করেছে, এমনকি যা খোদ সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের কাছেও অজানা। অতএব আসুন আমরা পবিত্র কুরআনে এসব বিষয় অনুসন্ধান করি এবং তা নতুনভাবে পাঠ করি।

এই সবকিছু এবং এর অনুরূপ বিষয়গুলো প্রত্যেক মানুষকে—মুসলমানদের তো বটেই—প্রবলভাবে আহ্বান জানায় যেন সে তার জীবনে আল্লাহর কিতাব অনুসরণ করে এবং তার সকল কর্মতৎপরতায় একে গ্রহণ করে। আর এর মাধ্যমেই মুক্তি সম্ভব, দুনিয়া ও আখিরাতে অন্য কিছুর মাধ্যমে নয়। মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় কিতাব পবিত্র কুরআনে বলেন: “তারা কি তবে জাহিলিয়্যাতের বিধান কামনা করে? আর দৃঢ় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিধান প্রদানে আল্লাহর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কে হতে পারে?” [আল-মায়িদাহ: ৫০]।

পবিত্র কুরআনের ক্ষেত্রে বিষয়টি যেমন, তেমনি পবিত্র সীরাত এবং সহীহ সুন্নাহর ক্ষেত্রেও—কুরআনের বর্ণনার পর—আপনি সেগুলোকে নবুওয়াতের ছাপ এবং রিসালাতের মোহরাঙ্কিত পাবেন। এগুলো প্রমাণ করে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজন সম্মানিত নবী এবং সর্বশেষ রাসূল, যিনি কিয়ামত পর্যন্ত সমস্ত পৃথিবীবাসীর নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশ্বজনীন দাওয়াত নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন।

মহান আল্লাহ এটি অবতীর্ণ করেছেন তাদের এমন সকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে যা তাদেরকে উন্নত করবে এবং এক মর্যাদাপূর্ণ জীবন ও সুশৃঙ্খল সভ্যতার দিকে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দুনিয়া ও আখিরাতের সৌভাগ্যের দিকে পরিচালিত করবে।

--------------------------------------------

তাদের শরীয়তসমূহ মৌলিক বিষয়ে একমত (শাখা-প্রশাখায় ভিন্ন)। ‘শাত্তা’: বিবিধ বা নানাবিধ। ‘তাদের দ্বীন এক’: অর্থাৎ তাওহীদের দ্বীন। এটি নির্দেশ করে যে, প্রকৃত বংশধারা হলো আকিদা ও ঈমানের বংশধারা, আর এর মাধ্যমেই কেবল শ্রেষ্ঠত্ব, গ্রহণযোগ্যতা এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব, অন্য কিছুর মাধ্যমে নয়।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ১৫)
وهذا معلم واحد من معالم هذا الدّين الواضحة، دين أهل الأرض أجمعين، حالا واستقبالا، مثلما هو معلم من معالم السيرة النبوية الشريفة، ومعالمها كثيرة وقوية بينة باهرة، متلألئة مناراتها.

مثلما تلمسه وتراه وتشهده في سيرة الصحابة الكرام- رضي الله عنهم أجمعين- الذين دانوا بالعبودية الكاملة لله رب العالمين في أكمل صورها، وهم يبقون نموذجا للأجيال وعلى مدار التاريخ. فعن عبد الله بن مسعود (32 هـ) رضي الله عنه: (أن الله تعالى بعد أن اختار محمدا صلى الله عليه وسلم وبعثه برسالته، إن الله نظر في قلوب العباد فاختار محمدا صلى الله عليه وسلم فبعثه برسالته وانتخبه بعلمه، ثم نظر في قلوب الناس بعده فاختار الله له أصحابا، فجعلهم أنصار دينه ووزراء نبيّه صلى الله عليه وسلم «1» .

والكل مقتد برسول الله صلى الله عليه وسلم، الذي إن غاب اليوم عنا شخصه الكريم ووجوده الحي الوضئ وجسده الشريف، فهو باق محفوظ ماثل وقائم، بتوجيهاته وسلوكه ومواقفه وآفاق تربيته وجهاده وعبادته ودعائه، في البيت والمسجد والحياة، حربا وسلما في الرضا والغضب والانتصار والانكسار وفي دلائله وشمائله، حية متحركة متعطرة تفوح بالمسك قويا، عبقة تنشر الطيب، كأنك تراه وتشهده وترقبه أمامك قائما. وتلك هي السيرة النبوية الشريفة بشمولها وكمولها ومضامينها.

نستبين ذلك أيضا جليا من حياة الصحابة الكرام، بكل جوانبها ونواحيها وميادينها، ونراه ظاهرا جاهرا ومنظورا في سيرتهم المقتداة والمقتدية بالنبي الكريم صلى الله عليه وسلم، مهما تفاوتوا- وهم يتفاوتون- في الخير والبرّ والنصرة، لكنهم اغترفوا من هذا النبع الصافي المبارك الكريم؛ ولذلك استحقوا الأوصاف الكريمة التي وصفهم الله تعالى بها في قرآنه العظيم،

--------------------------------------------

(1) حياة الصحابة، الكاندهلوي، (1/ 46) .
এটি এই ধর্মের সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহের একটি, যা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উভয়কালেই সমগ্র পৃথিবীবাসীর ধর্ম; ঠিক যেমনটি এটি সীরাতে নববী বা নবীজির পবিত্র জীবনীর অন্যতম এক নিদর্শন। আর সীরাতের নিদর্শনসমূহ অসংখ্য, সুদৃঢ়, সুস্পষ্ট ও প্রোজ্জ্বল, যার মিনারগুলো জ্যোতির্ময়।

ঠিক যেমনটি আপনি অনুভব করেন, দেখেন এবং প্রত্যক্ষ করেন সম্মানিত সাহাবায়ে কেরাম—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—তাঁদের জীবনচরিতে। তাঁরা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর প্রতি পূর্ণাঙ্গ দাসত্বের আনুগত্য করেছেন তার সর্বোত্তমরূপে। আর তাঁরা ইতিহাসের পরিক্রমায় পরবর্তী প্রজন্মগুলোর জন্য আদর্শ হয়ে থাকবেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (৩২ হিজরি)—আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন—থেকে বর্ণিত: (নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মনোনীত করার এবং তাঁর রিসালাত দিয়ে পাঠানোর পর... আল্লাহ বান্দাদের অন্তরের দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মনোনীত করেছেন, অতঃপর তাঁকে তাঁর রিসালাত দিয়ে পাঠিয়েছেন এবং নিজ জ্ঞানে তাঁকে নির্বাচিত করেছেন। এরপর তিনি মানুষের অন্তরের দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন এবং তাঁর জন্য কিছু সাথী নির্বাচন করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁদেরকে তাঁর দ্বীনের সাহায্যকারী এবং তাঁর নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উজির বা সহযোগী বানিয়েছেন) [১]।

আর সকলেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারী। যদিও আজ তাঁর সম্মানিত সত্তা, তাঁর উজ্জ্বল জীবন্ত উপস্থিতি এবং তাঁর পবিত্র দেহ আমাদের মাঝে অনুপস্থিত, তবুও তিনি তাঁর নির্দেশনা, আচরণ, অবস্থান, শিক্ষা-দীক্ষা, জিহাদ, ইবাদত এবং দোয়ার মাধ্যমে আজও সুরক্ষিত ও দেদীপ্যমান হয়ে আছেন। ঘরে, মসজিদে ও জীবনে; যুদ্ধ ও শান্তিতে; সন্তুষ্টি ও ক্রোধে; জয় ও পরাজয়ে; এবং তাঁর নিদর্শন ও চারিত্রিক গুণাবলিতে—সবকিছুই জীবন্ত, সচল এবং কস্তুরীর সুবাসে সুবাসিত। সুগন্ধি ছড়ানো এমন এক আবেশ, যেন আপনি তাঁকে আপনার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখছেন এবং প্রত্যক্ষ করছেন। আর এটাই হলো সীরাতে নববীর ব্যাপকতা, পূর্ণাঙ্গতা এবং এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য।

আমরা এটি সম্মানিত সাহাবায়ে কেরামের জীবনের প্রতিটি দিক ও বিভাগেও অত্যন্ত স্পষ্টভাবে অনুধাবন করি। তাঁদের সেই অনুকরণীয় জীবনচরিতে আমরা এটি প্রকাশ্য ও দৃশ্যমান দেখি, যা ছিল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদাঙ্ক অনুসরণকারী। যদিও কল্যাণ, নেক কাজ ও দ্বীনের সাহায্যে তাঁদের মাঝে মর্যাদাগত পার্থক্য ছিল—আর তাঁরা ভিন্ন স্তরেরই ছিলেন—তথাপি তাঁরা সকলেই সেই স্বচ্ছ, বরকতময় ও পবিত্র ঝরনাধারা থেকে সুধা পান করেছিলেন। এ কারণেই তাঁরা সেই মহান গুণাবলির অধিকারী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁর মহান কুরআনে তাঁদের বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) হায়াতুস সাহাবা, কান্ধলভী, (১/ ৪৬)।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ১৬)
ومنها كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ [آل عمران: 110] . فكلمة «كنتم» خاصة في أصحاب محمدا صلى الله عليه وسلم وكل من صنع صنيعهم بأداء شرط الله منها «1» .

ولعل الواقع نفسه يشير إلى أبعد من ذلك، حيث يستبين أيضا في هذا المضمار المتسع أن الله تعالى قد صرّف السيرة النبوية الشريفة، آخذا بها في ماجريات (مجريات) السّيرة ومجاليها. وهي رعاية أخرى يتمّها ويتولاها ويقودها، فتسير الأحداث والأمور والناس فيما يريد الله، فكانوا دوما يقومون بما يقومون به، ومن ورائهم القدرة الإلهية وإرادتها، لتجري بنسقها الذي تضمنته، لتكون مثالا يقتدى، ودليلا يحتذى، وبها يهتدى، لكل السائرين والسالكين درب الإيمان بالله تعالى والعاكفين على دعوته، في كل زمان ومكان في كل أحوالهم ومجاليهم، أو المجاوزين لها مسلمين وغير مسلمين. فالأولون يرون فيها طريقهم وبها وحدها يهتدون، والآخرون يرون الحقائق ماثلة قوية ساطعة، فلعلهم يحسنون التعامل معها، فيهرعون إلى أحضانها ينعمون بظلالها. وفي حياة الصحابة الكرام دليل على ما أقول.

وإن الصيغ المثبتة عن الصحابة الكرام لتشي- أي: تعلن وتعلم- بقوة لا تقاوم، لتعلنها مدوّية عن روعة هذا الدين؛ كيف وماذا صنع الإسلام بهؤلاء وبأهله كافة، حيث أخذهم من سفوح الجاهلية ووهادها السحيقة بكل ضلالاتها وانحرافاتها والتواآتها- ليرفعهم إلى أعلى القمم الفاضلة، يمكن أن يرتفع إليها إنسان، لا يرتفع إليها إلا بهذا الدين، وبكل جوانبها، بتوازن وانسجام واكتمال. وهو أمر معجز في حقيقته، يشير إلى معجزة الإسلام نفسه في وجه آخر جديد، والتي يمكن أن تتكرر بعواملها.

فالقرآن الكريم بيننا وقد حفظه الله تعالى، نصّا كاملا، وحسّا عاملا،

--------------------------------------------

(1) حياة الصحابة (1/ 45- 46) .
এর মধ্যে রয়েছে: "তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য যাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজে বাধা দাও এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো।" [আল-ইমরান: ১১০]। সুতরাং "তোমরা" শব্দটি বিশেষভাবে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের ক্ষেত্রে এবং যারা আল্লাহর শর্ত পূরণ করার মাধ্যমে তাদের মতো আমল করবে তাদের জন্য প্রযোজ্য।

সম্ভবত বাস্তবতা এর চেয়েও সুদূরপ্রসারী বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে, যেখানে এই প্রশস্ত ক্ষেত্রে এটিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, আল্লাহ তাআলা সীরাতে নববীকে (নবীর জীবনী) পরিচালিত করেছেন এবং সীরাতের ঘটনাপ্রবাহ ও তার বিভিন্ন দিকের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করেছেন। এটি একটি স্বতন্ত্র অভিভাবকত্ব যা তিনি পূর্ণ করেন, পরিচালনা করেন এবং নেতৃত্ব দেন। ফলে ঘটনাবলি, বিষয়াদি এবং মানুষ সেভাবেই পরিচালিত হয় যেভাবে আল্লাহ চান। তারা যা কিছু করত তা সর্বদা ঐশ্বরিক ক্ষমতা ও ইচ্ছার অধীনেই করত, যাতে তা তার নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী আবর্তিত হয়; এবং তা হয়ে ওঠে অনুসরণের জন্য এক আদর্শ, অনুকরণের জন্য এক নিদর্শন এবং পথপ্রদর্শনের এক মাধ্যম তাদের সকলের জন্য যারা মহান আল্লাহর প্রতি ঈমানের পথে চলেন এবং তাঁর দাওয়াতের কাজে নিমগ্ন থাকেন—সকল সময়ে ও সকল স্থানে, তাদের সকল অবস্থায় ও সকল ক্ষেত্রে, অথবা যারা এর বাইরে রয়েছেন মুসলিম ও অমুসলিম নির্বিশেষে। প্রথমোক্তরা এর মধ্যে তাদের পথ খুঁজে পান এবং কেবল এর মাধ্যমেই তারা সঠিক পথের দিশা লাভ করেন। আর শেষোক্তরা সত্যকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও উজ্জ্বল রূপে উপস্থিত দেখতে পান, যাতে সম্ভবত তারা এর সাথে সঠিক আচরণ করতে পারে এবং এর আশ্রয়ে ছুটে এসে এর ছায়াতলে ধন্য হতে পারে। সম্মানিত সাহাবায়ে কেরামের জীবনে আমার এই কথার প্রমাণ বিদ্যমান।

সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে প্রমাণিত বর্ণনাগুলো এক অপরাজেয় শক্তির সাথে ঘোষণা ও জ্ঞাপন করে যে—অর্থাৎ সশব্দে জানিয়ে দেয়—এই দ্বীনের মহিমা কতটা বিস্ময়কর। ইসলাম এদের এবং এর সকল অনুসারীদের সাথে কী করেছিল এবং তাদের কোথায় নিয়ে গিয়েছিল! ইসলাম তাদের জাহেলিয়াতের পাদদেশ এবং এর গভীর গহ্বর থেকে—তার সকল পথভ্রষ্টতা, বিচ্যুতি ও কুটিলতা সহ—তুলে নিয়ে উচ্চতম মর্যাদার শিখরে আরোহণ করিয়েছে, যেখানে একজন মানুষের পক্ষে আরোহণ করা সম্ভব; আর এই দ্বীন ছাড়া সেখানে আরোহণ করা অসম্ভব। এটি ভারসাম্য, সামঞ্জস্য ও পূর্ণতার সকল দিক রক্ষা করে সম্পন্ন হয়েছে। এটি প্রকৃতপক্ষে একটি অলৌকিক বিষয়, যা ইসলামের নিজস্ব মুজিজার এক নতুন দিক নির্দেশ করে, যা এর প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো থাকলে পুনরায় ঘটা সম্ভব।

কেননা পবিত্র কুরআন আমাদের মাঝে বিদ্যমান এবং আল্লাহ তাআলা একে পূর্ণাঙ্গ পাঠ হিসেবে এবং কর্মক্ষম চেতনা হিসেবে সংরক্ষণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) হায়াতুস সাহাবা (১/ ৪৫- ৪৬)।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ১৭)
وسيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم قائمة. فهو صلى الله عليه وسلم الإنسان النبي، والنبي الإنسان، ورسول الله الخاتم. ولا فصل بين كل ذلك. ولا يجوز غير هذا الفهم، ولا تتم له حياة في دائرته بحال وبأي اعتبار ومن أي منظار، حتى لكثير من غير المسلمين، ممن كانت لهم رؤية صحيحة، ولو بعضها، فكيف بالمسلمين؟ بل كيف يصحّ له إسلام بدون ذلك؟

ولو أنصف، حتى غير المسلمين نساء ورجالا ومن كل قوم وملة كانوا، لأحبوه كما لم يحبوا أحدا غيره، ووقروه، وأدنوه من نفوسهم، سواء قادهم ذلك إلى الإسلام- وغالبا ما يقود، والمفروض أن يقود، وذلك أتم وأشم- أو لم يتم.

وهذا الذي مضى كله واضح تمام الوضوح في القرآن الكريم والسّنّة النبوية والسيرة الشريفة. وهما لا بد أن يكونا المصدر الأساس لهذه السيرة الشريفة، كتابة ودراسة وتدريسا. ولا علمية ولا منهجية ولا موضوعية بدون ذلك أبدا أبدا. بل منها يجب أن تبدأ دراسة ذلك كله، كما يجب أن يا بنى بها المنهج السليم لدراسة التاريخ الإسلامي وغيره من تواريخ الأمم الآخرى، ويكون عليه الاعتماد في قضية تفسير التاريخ بشكل شامل عام، لتجنب الوقوع في التّيه، أو الخروج منه، الذي أدخلتنا فيه التفاسير المبتسرة الفجة السطحية، والتي مازالت التعديلات والترقيعات والتجميلات تدخل عليها وهي تزداد تشويها، به أو بغيره أو بنفسه. والله تعالى يقول: بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْباطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذا هُوَ زاهِقٌ وَلَكُمُ الْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُونَ [الأنبياء: 18] .

ولقد كان هؤلاء الصحابة الكرام الصورة الوضيئة العجيبة التي رسمها القرآن الكريم، بأسلوبه البديع المعجز. إنه كلام الله الذي أراده سبحانه أن يكون معجزة هذا الدين الخالدة الدائمة على مدار الأجيال. أولئك الأخيار الأفذاذ والنماذج المثال، الذين صعدوا ذلك المرتقى العال، فكانت سموّا في الحياة، تحقّق في هذه النماذج القمة الفريدة السعيدة، التي ما كان لها أن تعرفها أبدا- فضلا عن ارتيادها- إلا بهذا الدين الذي أراده الله تعالى
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সيرة (জীবনচরিত) বিদ্যমান রয়েছে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন মানব নবী এবং নবী মানব, এবং আল্লাহর সর্বশেষ রাসূল। এসবের মাঝে কোনো বিচ্ছেদ নেই। এই উপলব্ধি ছাড়া অন্য কিছু বৈধ নয় এবং কোনো অবস্থাতেই, কোনো বিবেচনায় বা কোনো দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই তাঁর পরিমণ্ডলে তাঁর জন্য জীবন পূর্ণতা পায় না—এমনকি অনেক অমুসলিমদের ক্ষেত্রেও, যাদের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, যদিও তা আংশিক হয়; তবে মুসলমানদের অবস্থা কেমন হওয়া উচিত? বরং এটি ছাড়া কীভাবে কারো ইসলাম সহীহ হতে পারে?

যদি অমুসলিমরাও—চাই তারা নারী হোক বা পুরুষ এবং যে কোনো জাতি ও ধর্মেরই হোক না কেন—ন্যায়নিষ্ঠ হতো, তবে তারা তাঁকে এমনভাবে ভালোবাসত যেমন তারা অন্য কাউকে ভালোবাসেনি; তারা তাঁকে সম্মান করত এবং নিজেদের হৃদয়ের অতি কাছে স্থান দিত। চাই তা তাদের ইসলামের দিকে ধাবিত করুক—যা প্রায়শই করে থাকে এবং যা করা কাম্য, যা পূর্ণাঙ্গতম ও ব্যাপকতর—কিংবা তা পূর্ণ না হোক।

ইতিপূর্বে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ এবং সীরাতে শরীফায় অত্যন্ত সুস্পষ্ট। সীরাতে শরীফার লিখন, গবেষণা ও পাঠদানের ক্ষেত্রে এই দুটিই অবশ্যই মৌলিক উৎস হতে হবে। এটি ছাড়া কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, পদ্ধতিগত সঠিকতা বা বস্তুনিষ্ঠতা কখনোই সম্ভব নয়। বরং এখান থেকেই এই সবকিছুর অধ্যয়ন শুরু হওয়া উচিত, ঠিক যেমন ইসলামী ইতিহাস এবং অন্যান্য জাতির ইতিহাস অধ্যয়নের ক্ষেত্রে এর মাধ্যমেই সঠিক পদ্ধতি বিনির্মাণ করা আবশ্যক। ইতিহাসের সামগ্রিক ও সাধারণ ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এর ওপরই নির্ভর করতে হবে, যাতে বিভ্রান্তিতে নিপতিত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায় অথবা তা থেকে বেরিয়ে আসা যায়। যে বিভ্রান্তির মধ্যে আমাদের নিক্ষেপ করেছে অপরিণত, স্থূল ও ভাসাভাসা ব্যাখ্যাসমূহ, যার ওপর প্রতিনিয়ত পরিমার্জন, তালি লাগানো এবং সৌন্দর্যমণ্ডিত করার কাজ চলছে, অথচ তা উত্তরোত্তর বিকৃতিই বৃদ্ধি করছে—চাই তা অন্য কিছুর মাধ্যমে হোক কিংবা তার নিজের কারণেই হোক। আল্লাহ তাআলা বলেন: "বরং আমি সত্যকে মিথ্যার ওপর নিক্ষেপ করি, ফলে তা তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ মিথ্যা বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর তোমরা যা বর্ণনা করছ তার জন্য তোমাদের ধ্বংস অনিবার্য।" [আল-আম্বিয়া: ১৮]।

আর এই সম্মানিত সাহাবায়ে কিরাম ছিলেন সেই উজ্জ্বল ও বিস্ময়কর প্রতিচ্ছবি যা পবিত্র কুরআন তার অতুলনীয় অলৌকিক শৈলীতে অঙ্কন করেছে। নিশ্চয়ই এটি আল্লাহর বাণী, যাকে তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এই দ্বীনের চিরন্তন ও শাশ্বত মুজিজা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তাঁরা ছিলেন সেই অনন্য শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি এবং আদর্শ স্বরূপ, যারা সেই উচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিলেন, যা ছিল জীবনের এক অনন্য উচ্চতা। এই আদর্শগুলোর মাঝে সেই অনন্য ও কল্যাণময় শীর্ষবিন্দু অর্জিত হয়েছিল, যা এই দ্বীন ছাড়া—যা আল্লাহ তাআলা চেয়েছেন—কখনো চেনা সম্ভব হতো না, তাতে পদার্পণ করা তো দূরের কথা।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ১৮)
للبشرية، ولا يقبل من أحد دينا غيره، ولا انتماء سواه.

والصحابة الكرام هم الجيل المثال الفريد، الذي تربّى على مائدة القرآن الكريم، وقادهم لذلك محمد بن عبد الله الرسول الأمين صلى الله عليه وسلم الذي علمه الله تعالى، وأعدّه، وأدّبه للقيام بهذه الدعوة، مما هو واضح من الإشارات والبشارات، حتى قبل النبوة بل وأسبق منه، ومن كل ما يحيط به. أما النبوة منذ تلقيها- فذلك واضح كل الوضوح في القرآن والسّنّة والسيرة.

فكان هؤلاء الصحابة هم أنفسهم كذلك القدوة، والذين كان الإيمان بالله تعالى ودعوته ونبيه صلى الله عليه وسلم في قلوبهم أعظم من الجبال، حتى في ضحكهم ومرحهم ومزاحهم «1» . فالاقتداء- إذا- بالرسول صلى الله عليه وسلم وبالذين اتبعوه من المهاجرين والأنصار وغيرهم هو طريق الهداية.

فالرسول صلى الله عليه وسلم هو نبيّ الله، اختاره الله لدعوته الكريمة. وكان هؤلاء الصحابة الذين عاشوا معه، وتربوا على الإسلام بين يديه بشرا ترقّى، يوم اقتدوا به، واستجابوا لدعوة الله على يديه، وعضّوا عليها بالنواجذ، مما يشير إلى الاقتداء بهم. ونتعلّم منهم كيف تلقوا هذا الدين، واستجابوا له، وارتقوا به ببشريتهم، لنأخذ نحن به مثلهم مقتدين بهم بعد الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم. وهم خير الأصحاب الذين تلقّوا عنه مباشرة، معتمدين في ذلك كله على القرآن الكريم والسّنّة الصحيحة والسّيرة الشريفة، متلمّسين كيف أن كلّ ذلك تحول في حياتهم إلى واقع عملي قوي ملموس. وفي ذلك يقول عبد الله بن عمر رضي الله عنهما (74 هـ) : (من كان مستنّا فليستنّ بمن قد مات، أولئك أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم كانوا خير هذه الأمّة، أبرّها قلوبا، وأعمقها علما، وأقلّها تكلّفا، قوم اختارهم الله لصحبة نبيه صلى الله عليه وسلم ونقل دينه، فتشبّهوا بأخلاقهم وطرائقهم؛ فهم أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم كانوا على

--------------------------------------------

(1) حياة الصحابة (1/ 48) .
মানবতার জন্য, আর তিনি কারো নিকট থেকে এটি ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন কবুল করবেন না এবং এটি ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত হওয়াকেও গ্রহণ করবেন না।

আর সম্মানিত সাহাবীগণ হলেন সেই অনন্য দৃষ্টান্তমূলক প্রজন্ম, যারা আল-কুরআনুল কারীমের দস্তরখানে প্রতিপালিত হয়েছেন। আর তাঁদেরকে এই পথে নেতৃত্ব দিয়েছেন আমানতদার রাসূল মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), যাঁকে আল্লাহ তাআলা এই দাওয়াহর কাজ আঞ্জাম দেওয়ার জন্য শিক্ষা দিয়েছেন, প্রস্তুত করেছেন এবং শিষ্টাচার শিখিয়েছেন। বিষয়টি বিভিন্ন ইঙ্গিত ও সুসংবাদ থেকে সুস্পষ্ট, যা এমনকি নবুওয়াতের পূর্ব থেকেই, বরং তাঁরও আগে থেকে তাঁর চারপাশের সবকিছুর মধ্যে বিদ্যমান ছিল। আর নবুওয়াত প্রাপ্তির পর থেকে বিষয়টি কুরআন, সুন্নাহ এবং সীরাতের মধ্যে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বিদ্যমান।

সুতরাং এই সাহাবীগণ নিজেরাও ছিলেন তেমনি আদর্শ, যাঁদের অন্তরে মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর দাওয়াহ ও তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ভালোবাসা পাহাড়ের চেয়েও মহান ছিল, এমনকি তাঁদের হাসি, আনন্দ এবং কৌতুকের মধ্যেও (১)। অতএব, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং মুহাজির, আনসার ও অন্যান্যদের মধ্য থেকে যারা তাঁকে অনুসরণ করেছেন, তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করাই হলো হিদায়াতের পথ।

কেননা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন আল্লাহর নবী, আল্লাহ তাঁকে তাঁর সম্মানিত দাওয়াতের জন্য মনোনীত করেছেন। আর সেই সাহাবীগণ যারা তাঁর সাথে বসবাস করেছেন এবং তাঁর সান্নিধ্যে ইসলামের ওপর গড়ে উঠেছেন, তাঁরা ছিলেন এমন মানুষ যারা শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছিলেন, যখন তাঁরা তাঁর অনুসরণ করেছিলেন এবং তাঁর মাধ্যমে আল্লাহর দাওয়াতে সাড়া দিয়েছিলেন এবং তা মাড়ির দাঁত দিয়ে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরেছিলেন, যা তাঁদের অনুসরণের আবশ্যকতা নির্দেশ করে। আমরা তাঁদের কাছ থেকে শিখি যে কীভাবে তাঁরা এই দ্বীন গ্রহণ করেছিলেন, এতে সাড়া দিয়েছিলেন এবং তাঁদের মানবিক গুণাবলি নিয়ে এর মাধ্যমে উন্নত স্তরে পৌঁছেছিলেন, যাতে আমরাও সম্মানিত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরে তাঁদের অনুসরণ করে তাঁদের মতোই এই দ্বীনকে গ্রহণ করতে পারি। তাঁরাই হলেন সেই সর্বোত্তম সঙ্গী যারা সরাসরি তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন, আর এই সবকিছুর ক্ষেত্রে তাঁরা আল-কুরআনুল কারীম, সহীহ সুন্নাহ এবং পবিত্র সীরাতের ওপর নির্ভর করেছেন এবং অন্বেষণ করেছেন কীভাবে এই সবকিছু তাঁদের জীবনে এক শক্তিশালী ও দৃশ্যমান বাস্তবতায় রূপান্তর লাভ করেছিল। এই প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) (৭৪ হিজরী) বলেন: (যে ব্যক্তি কোনো পথ অনুসরণ করতে চায়, সে যেন তাদের অনুসরণ করে যারা ইন্তেকাল করেছেন। তাঁরা হলেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ। তাঁরা ছিলেন এই উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম, অন্তরের দিক থেকে সবচাইতে পুণ্যবান, জ্ঞানের দিক থেকে সবচাইতে গভীর এবং কৃত্রিমতার দিক থেকে সবচাইতে মুক্ত। তাঁরা এমন এক কওম যাদেরকে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম) সাহচর্যের জন্য এবং তাঁর দ্বীন প্রচারের জন্য মনোনীত করেছিলেন। অতএব তোমরা তাঁদের চরিত্র ও পদ্ধতির সাদৃশ্য গ্রহণ করো; কারণ তাঁরা ছিলেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথী, তাঁরা ছিলেন সঠিক পথের ওপর...)

--------------------------------------------

(১) হায়াতুস সাহাবাহ (১/ ৪৮)।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ১৯)
الهدى المستقيم والله ربّ الكعبة) «1» .

وبذلك كانوا هداة هذه الأمة والإنسانية، ومبلغي دعوة الله إليهم، حملوها أمانة وصيانة وديانة، بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم، دعوة وسلوكا وحياة.

ملؤوا الدنيا ضياء وهداية وعدلا، فكانوا ينابيع صافية يستقي منها الآخرون.

من الوجوه المصابيح الذين هم … كأنهم من نجوم حية صنعوا

أخلاقهم نورهم من أي ناحية … أقبلت تنظر في أخلاقهم سطعوا

وقد وصفهم أحد التابعين مبيّنا بعض أوصافهم، وهو التابعي الجليل مسروق بن الأجدع (63 هـ 683 م) : (شاممت أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم فوجدتهم أشبه بالإخاذ، تكفي الإخاذة الراكب، وتكفي الإخاذة الراكبين، وتكفي الإخاذة الفئام من الناس، والإخاذة لو صدر عنها الناس جميعا لكفتهم) «2» .

فلنحاول العيش ابتداء- ولو لحظات، وحتى من بعيد- بقربهم، نتذوق ما تذوقوه، ونرى حلاوة الإيمان الذي يعمر القلوب، ويأخذ إلى باحة الإسلام ومجاليه وميادينه. وبذلك يكون إعادة الموكب الكريم، وتنطلق به الحياة، مستقيمة رضية وضيئة. وبها يرى الناس عجائب هذا الدين ومعجزاته، مما لم يخطر لهم على بال. فهل نطيق عن ذلك انفكاكا منها، أو ابتعادا عنها، أو إهمالا لها؟

ولعلك وجدت بعض ذلك في أتباع الأنبياء السابقين- صلوات الله وسلامه عليهم- كالحواريّين. ويقول الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم: «ما من نبي بعثه الله في أمة قبلي، إلا كان له من أمته حواريّون وأصحاب يأخذون بسنّته

--------------------------------------------

(1) حياة الصحابة (1/ 46) . ولعبد الله بن مسعود (كلام قريب من هذا. جامع الأصول، (1/ 292) . «المستن» : الذي يعمل بالسنة.

‌‌(2) «شاممت» : عرفت. «الإخاذ» : جمع إخاذة، وهي غدير الماء. «الفئام» : الجماعة من الناس.
সরল পথ এবং কাবার রবের কসম।) «১» ।

আর এভাবেই তারা ছিলেন এই উম্মত ও মানবতার পথপ্রদর্শক এবং তাদের নিকট আল্লাহর দাওয়াত প্রচারকারী। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে এই দাওয়াতকে আমানতদারিতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও দ্বীনদারির সাথে বহন করেছিলেন—দাওয়াত, আচরণ ও জীবনযাত্রার মাধ্যমে।

তারা পৃথিবীকে আলো, হেদায়েত ও ইনসাফ দ্বারা পূর্ণ করেছিলেন, ফলে তারা ছিলেন স্বচ্ছ ঝর্ণাধারার মতো যেখান থেকে অন্যরা পিপাসা নিবারণ করত।

প্রদীপের মতো উজ্জ্বল সেই সব চেহারা সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ, যারা … যেন জীবন্ত নক্ষত্ররাজি দ্বারা নির্মিত

তাদের চরিত্রই তাদের নূর, যে কোনো দিক থেকেই … তুমি তাদের চরিত্রের দিকে তাকাতে আসবে, তারা উজ্জ্বল হয়ে ভাসবে

জনৈক তাবেয়ী তাদের কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে তাদের প্রশংসা করেছেন, তিনি হলেন মহান তাবেয়ী মাসরুক ইবনুল আজদা (৬৩ হি. ৬৮৩ খ্রি.): (আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের সান্নিধ্য লাভ করেছি এবং তাদের পরীক্ষা করে দেখেছি; আমি তাদের পেয়েছি ছোট জলাশয়ের মতো; কোনো জলাশয় একজন আরোহীর জন্য যথেষ্ট হয়, কোনো জলাশয় দুইজন আরোহীর জন্য যথেষ্ট হয়, কোনো জলাশয় একদল মানুষের জন্য যথেষ্ট হয়, আবার কোনো জলাশয় এমন যে যদি সমস্ত মানুষ সেখান থেকে পানি গ্রহণ করত, তবে তা তাদের সবার জন্য যথেষ্ট হতো) «২»।

আসুন আমরা অন্তত কিছু মুহূর্তের জন্য হলেও—এমনকি দূর থেকে হলেও—তাদের সান্নিধ্যে বেঁচে থাকার চেষ্টা করি, তারা যা আস্বাদন করেছিলেন আমরাও তা আস্বাদন করি, এবং ঈমানের সেই মাধুর্য প্রত্যক্ষ করি যা অন্তরকে আবাদ করে এবং ইসলামের প্রাঙ্গণ, তার দিগন্ত ও কর্মক্ষেত্রে নিয়ে যায়। এর মাধ্যমেই সেই মহিমান্বিত কাফেলার পুনর্জাগরণ ঘটবে এবং এর মাধ্যমে জীবন সরল, সন্তোষজনক ও দীপ্তিময় হয়ে উঠবে। আর এর মাধ্যমেই মানুষ এই দ্বীনের এমন সব বিস্ময় ও অলৌকিকতা দেখতে পাবে যা তাদের কল্পনাতেও আসেনি। তবে কি আমরা তা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া, দূরে থাকা কিংবা তাকে অবহেলা করা সহ্য করতে পারি?

সম্ভবত আপনি পূর্ববর্তী নবীদের—তাদের উপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—অনুসারীদের মাঝেও এর কিছু উদাহরণ খুঁজে পাবেন, যেমন হাওয়ারীগণ। মহান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমার পূর্বে আল্লাহ এমন কোনো নবীকে কোনো উম্মতের নিকট পাঠাননি, যার উম্মতের মধ্য থেকে তার এমন কিছু হাওয়ারী ও সঙ্গী ছিল না যারা তার সুন্নাহকে গ্রহণ করত

--------------------------------------------

(১) হায়াতুস সাহাবা (১/ ৪৬)। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকেও এর কাছাকাছি কথা বর্ণিত আছে। জামিউল উসুল, (১/ ২৯২)। «আল-মুসতান»: যে সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করে।

‌‌(২) «শামামতু»: আমি জেনেছি বা সান্নিধ্য পেয়েছি। «আল-ইখায»: ইখাযাহ-এর বহুবচন, আর তা হলো পানির ছোট জলাশয়। «আল-ফিয়াম»: মানুষের দল।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ২০)
ويقتدون بأمره … » «1» .

لكن الصحابة الكرام- وكلهم عدول- أولياء الله تعالى وأصفياؤه وخيرته من خلقه، بعد أنبيائه ورسله، خير من الحواريين «2» . ولقد جاء هذا الوصف على لسان بعض النصارى الذين أسلموا في عهد النبي صلى الله عليه وسلم.

ولقد كرّم الله صحابة الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم في آياته الكثيرة «3» ، مما يعرفه المسلم، الأمر الذي يدعو إلى توقيرهم وتقديرهم ومحبتهم جميعا، وهو شأن كل المسلمين، لا ينفكّ عنهم، ولا يتحول، ولا يستبدل.

ومن صفة صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم في القرآن الكريم، والكتب السّابقة- مما يجعل البشارة بهم ثابتة مع البشارة برسول الله صلى الله عليه وسلم، ما ذكره الله تعالى في القرآن الكريم: هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَكَفى بِاللَّهِ شَهِيداً (28) مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَماءُ بَيْنَهُمْ تَراهُمْ رُكَّعاً سُجَّداً يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْواناً سِيماهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْراةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوى عَلى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحاتِ مِنْهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْراً عَظِيماً [الفتح: 28- 29] «4» .

كذلك ذكر الله تعالى في آية أخرى، أنّ صفة الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم ونعته

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم: كتاب الإيمان- باب: بيان كون النهي عن المنكر من الإيمان رقم (50) .

‌‌(2) تفسير القرطبي (16/ 299) .

‌‌(3) حياة الصحابة (1/ 35- 40) .

‌‌(4) المعنى: هذا الوصف الوارد في الآية الكريمة، إنه لمحمد صلى الله عليه وسلم بأنه رسول الله. ووصف الصحابة الكرام بهذه الصفات. وكل تلك الصفات مذكورة في التوراة والإنجيل، ومبشّر فيهما بالرسول الكريم صلى الله عليه وسلم وبالصحابة. وما دام أن الله قد ذكر ذلك في القرآن الكريم (وقل مثل هذا في السنة الصحيحة الثابتة) ، فهو لا بدّ حقا مذكور فيهما، مهما بلغ التحريف والإخفاء والادعاء. ولا نحتاج بعده إلى أي دليل- مهما كان- والأمور كلها تستمد الدليل من القرآن الكريم.
এবং তারা তাঁর আদেশ অনুসরণ করে … » «১» ।

কিন্তু সম্মানিত সাহাবীগণ—যাঁরা সকলেই ন্যায়নিষ্ঠ—হলেন আল্লাহ তাআলার অলি, তাঁর মনোনীত এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে নবী ও রাসূলদের পর সর্বোত্তম; তাঁরা হাওয়ারীদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ «২»। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ইসলাম গ্রহণকারী কিছু খ্রিস্টানের মুখেও এই বর্ণনা এসেছে।

আল্লাহ তাআলা তাঁর বহু আয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে সম্মানিত করেছেন «৩», যা একজন মুসলিমের জানা আছে। এই বিষয়টি তাঁদের সকলকে সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার আহ্বান জানায়; আর এটিই সকল মুসলিমের বৈশিষ্ট্য, যা তাঁদের থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হয় না, পরিবর্তিত হয় না এবং অন্য কিছু দ্বারা স্থলাভিষিক্ত হয় না।

পবিত্র কুরআন এবং পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে—যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুসংবাদের সাথে তাঁদের সুসংবাদকেও সুপ্রতিষ্ঠিত করে—তা হলো যা আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন: তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। (২৮) মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; আর তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফেরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর দয়ালু। আপনি তাদের রুকু ও সিজদারত অবস্থায় দেখবেন; তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে। তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন রয়েছে। তওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ এবং ইঞ্জিলে তাদের দৃষ্টান্ত হলো একটি চারাগাছের মতো, যা থেকে অঙ্কুর বের হয়, অতঃপর তা একে শক্তিশালী করে, পরে তা পুষ্ট হয় এবং নিজের কাণ্ডের ওপর সোজা হয়ে উঠে, যা চাষীকে আনন্দ দেয়—যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফেরদের অন্তরজ্বালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহা প্রতিদানের ওয়াদা করেছেন। [আল-ফাতহ: ২৮-২৯] «৪»।

একইভাবে আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে উল্লেখ করেছেন যে, সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণ ও বৈশিষ্ট্য

--------------------------------------------

(১) মুসলিম বর্ণনা করেছেন: কিতাবুল ঈমান—অধ্যায়: মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে, নম্বর (৫০)।

‌‌(২) তাফসিরে কুরতুবি (১৬/২৯৯)।

‌‌(৩) হায়াতুস সাহাবা (১/৩৫-৪০)।

‌‌(৪) অর্থ: এই সম্মানিত আয়াতে বর্ণিত বর্ণনাটি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য যে তিনি আল্লাহর রাসূল। আর সাহাবীগণকে এই সকল গুণে গুণান্বিত করা হয়েছে। এই সকল বৈশিষ্ট্য তওরাত ও ইঞ্জিলে বর্ণিত হয়েছে এবং তাতে সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবীগণের ব্যাপারে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু আল্লাহ তাআলা তা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন (এবং প্রমাণিত সহীহ সুন্নাহর ক্ষেত্রেও অনুরূপ কথা বলা যায়), তাই তা অবশ্যই সেখানে সত্য হিসেবে বিদ্যমান, বিকৃতি, গোপন করা বা মিথ্যা দাবি যাই করা হোক না কেন। এরপর আমাদের আর অন্য কোনো প্রমাণের প্রয়োজন নেই—তা যাই হোক না কেন—এবং সকল বিষয়ই পবিত্র কুরআন থেকে প্রমাণ গ্রহণ করে।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ২১)
يجدونه مكتوبا في التوراة والإنجيل: وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ فَسَأَكْتُبُها لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ وَيُؤْتُونَ الزَّكاةَ وَالَّذِينَ هُمْ بِآياتِنا يُؤْمِنُونَ (156) الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوباً عِنْدَهُمْ فِي التَّوْراةِ وَالْإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّباتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلالَ الَّتِي كانَتْ عَلَيْهِمْ فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ أُولئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ [الأعراف: 156- 157] .

وبعض هذه الصفات التي وصف الله تعالى بها الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم في القرآن العظيم، منها: يا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْناكَ شاهِداً وَمُبَشِّراً وَنَذِيراً (45) وَداعِياً إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِراجاً مُنِيراً (46) وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ بِأَنَّ لَهُمْ مِنَ اللَّهِ فَضْلًا كَبِيراً [الأحزاب: 45- 47] ، وردت في الكتب السابقة، منها التوراة والإنجيل، كما أشارت إليه الآيات السابقة. روى البخاري أن عبد الله بن عمرو بن العاص حين سئل عن صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم في التوراة، قال: (أجل، والله إنه لموصوف في التوراة ببعض صفته في القرآن: يا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْناكَ شاهِداً وَمُبَشِّراً وَنَذِيراً [الأحزاب: 45] . وحرزا للأميين، أنت عبدي ورسولي، سمّيتك المتوكل، ليس بفظّ ولا غليظ ولا سخّاب في الأسواق، ولا يدفع بالسيئة السيئة، ولكن يعفو ويغفر (ويصفح) ، ولن يقبضه الله حتى يقيم به الملة العوجاء، بأن يقولوا: لا إله إلّا الله، ويفتح بها أعينا عميا، وآذانا صمّا، وقلوبا غلفا) «1» .

--------------------------------------------

(1) البخاري: رقم (2018) ، ورقم (4558) . «حرزا للأميين» : حصنا للعرب (ولغيرهم) ، وقد بعثه الله فيهم منهم أولا، فدعاهم إليه أولا. «سخاب» : رفع صوته على الناس. «يقيم به الملة العوجاء» : ينفي الشرك عنها ويثبت التوحيد فيها. «غلف» : غطتها ظلمة الشرك، فهي به مغلفة مظلمة قاتمة.
তারা তাঁকে তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়: "আর আমার দয়া তা প্রতিটি বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। সুতরাং আমি তা তাদের জন্য নির্ধারিত করব যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, যাকাত প্রদান করে এবং যারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান আনে। (১৫৬) যারা অনুসরণ করে সেই রাসূলের, যিনি উম্মী নবী, যার কথা তারা তাদের কাছে রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়; তিনি তাদেরকে সৎকাজের আদেশ দেন ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন, তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন এবং তাদের ওপর থাকা তাদের বোঝা ও শৃঙ্খলসমূহ অপসারণ করেন যা তাদের ওপর ছিল। সুতরাং যারা তাঁর প্রতি ঈমান আনে, তাঁকে সম্মান করে, তাঁকে সাহায্য করে এবং তাঁর সাথে অবতীর্ণ নূরের অনুসরণ করে, তারাই সফলকাম।" [আল-আরাফ: ১৫৬-১৫৭]।

মহান আল্লাহ মহা কুরআনে সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে সকল গুণাবলিতে গুণান্বিত করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে: "হে নবী! আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। (৪৫) আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে। (৪৬) আর আপনি মুমিনদের সুসংবাদ দিন যে, তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে মহা অনুগ্রহ।" [আল-আহযাব: ৪৫-৪৭]। এগুলোর কিছু পূর্ববর্তী কিতাবসমূহেও বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে তাওরাত ও ইঞ্জিল রয়েছে, যেমনটি পূর্ববর্তী আয়াতসমূহে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস যখন তাওরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলি সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলেন, তখন তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! কুরআনে তাঁর যে সকল গুণ বর্ণিত হয়েছে, তার কিছু দিয়ে তিনি তাওরাতেও গুণান্বিত হয়েছেন: 'হে নবী! আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে' [আল-আহযাব: ৪৫]। আর উম্মীদের (নিরক্ষরদের) জন্য আশ্রয়স্থল হিসেবে। আপনি আমার বান্দা ও আমার রাসূল, আমি আপনার নাম রেখেছি 'মুতাওয়াক্কিল' (নির্ভরকারী)। তিনি রূঢ় স্বভাবের নন, কঠোর মেজাজের নন এবং বাজারে শোরগোলকারী নন। তিনি মন্দের মোকাবিলা মন্দ দিয়ে করেন না, বরং ক্ষমা ও মার্জনা করেন (এবং উপেক্ষা করেন)। আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু ঘটাবেন না, যতক্ষণ না তাঁর মাধ্যমে বক্র মিল্লাতকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন এই বলানোর মাধ্যমে যে: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই', এবং এর মাধ্যমে তিনি অন্ধ চোখ, বধির কান ও মোহরাঙ্কিত হৃদয়সমূহ খুলে দেবেন।" (১)।

--------------------------------------------

(১) বুখারী: নম্বর (২০১৮) এবং নম্বর (৪৫৫৮)। "উম্মীদের জন্য আশ্রয়স্থল": আরবদের (এবং অন্যদের) জন্য দুর্গ স্বরূপ; আল্লাহ তাঁদের মধ্য থেকেই প্রথমে তাঁকে পাঠিয়েছেন এবং তাঁদেরকেই প্রথমে দাওয়াত দিয়েছেন। "সাখ্খাব": মানুষের ওপর উচ্চস্বরে চিৎকার করা। "বক্র মিল্লাতকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা": তা থেকে শিরক দূর করা এবং তাতে তাওহীদ সুপ্রতিষ্ঠিত করা। "গুলফ": শিরকের অন্ধকারে আচ্ছন্ন, ফলে তা দ্বারা তা আবৃত, অন্ধকার ও নিষ্প্রভ হয়ে আছে।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ২২)
هذه السيرة الشريفة التي عاشت الصورة القرآنية، وائتسى بها الصحابة الكرام خير ائتساء، فكانوا خير مؤتسين لأحسن أسوة، تبقى النموذج الأفضل والقدوة الأمثال لبني الإنسان، وخصوصا للمسلمين في كل وقت وحال. استمدت كلّ ما فيها من هذا الدين الذي أوحاه الله تعالى إلى الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم ليكون المبلّغ بالنص، تشرحه السّنّة، وتمثيله بالسيرة.

وهذه السيرة الشريفة مليئة بالذخائر والكنوز واللآلئ والدرر، ولا بد من الغوص وراء أصدافها الحافظة لها، واستخراج دررها الفريدة من داخلها. عجائبها غزيرة، وعقودها باهرة، أتت بالعجائب والنجائب والمراتب في كل باب، وأنتجت الفتوحات متنوعات في كل درب، وقدمت الصيغ الإنسانية التي تربت على مائدة القرآن الكريم، في أحضانها وأجوائها في كل موقع وصوب وحدب، مقتدية في ذلك كله بالرسول الكريم صلى الله عليه وسلم، كيف وقد جاء للتطبيق العملي القائم في الحياة الواقعية والمجتمع، بلا تجاهل ولا تماهل ولا تساهل أبدا بحال؟!

ذلك لأنها مستمدّة وقائمة على القرآن الكريم. فهي عجب من عجائبه، ومعجزات من إعجازاته؛ التي لا تفنى ولا تنضب. ويبقى لكل زمان وأحد وجيل كذلك، ما ادّخره الله سبحانه وتعالى له برحمته.

ومن هنا فلا بدّ من منهجية جديدة مستقلة ومتساوقة ومتعانقة مع هذا التاريخ الإسلامي وبقيته وتوابعه، ابتداء من السيرة النبوية الشريفة، فهي تاجه الرفيع، وعزه المنيع، وقوامه البديع.

وقد احتوت السيرة الشريفة ذلك كلّه، ولذلك فكلما عاشها الإنسان، وعاشت به، عرفها أكثر، وأدركها أعمق، واقترب من مضامينها وأسرارها، وأحسن التعبير عنها وتمثّلها، بمقدار العيش فيها، قدرا ومقدارا وإصرارا.

وأحسّ- والحمد لله وبفضله- أنني كل يوم أتقدم وأتفهم وأتعلم
এই মহান সীরাত, যা কুরআনী রূপকে ধারণ করেছে এবং যা অনুসরণ করে সম্মানিত সাহাবায়ে কিরাম সর্বোত্তম অনুসরণ প্রদর্শন করেছেন—ফলে তাঁরা শ্রেষ্ঠতম আদর্শের শ্রেষ্ঠতম অনুসারী হয়েছিলেন—তা মানবজাতির জন্য, বিশেষত মুসলমানদের জন্য সর্বাবস্থায় ও সর্বকালে সর্বোত্তম নমুনা এবং অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে থাকবে। এর অন্তর্নিহিত সকল কিছু সেই দ্বীন থেকে উৎসারিত, যা মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি নাযিল করেছেন, যাতে তিনি মূল পাঠ পৌঁছে দিতে পারেন, যা সুন্নাহ দ্বারা ব্যাখ্যায়িত এবং সীরাত দ্বারা রূপায়িত।

এই সম্মানিত সীরাত জ্ঞানভাণ্ডার, গুপ্তধন, মুক্তা ও মণি-মাণিক্যে পরিপূর্ণ। এর সংরক্ষণকারী ঝিনুকগুলোর অন্তরালে ডুব দেওয়া এবং এর ভেতর থেকে অনন্য মুক্তাগুলো আহরণ করা অপরিহার্য। এর বিস্ময়গুলো প্রচুর, এর বিন্যাসগুলো চমকপ্রদ। এটি প্রতিটি ক্ষেত্রে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য, আভিজাত্য ও উচ্চ মর্যাদা নিয়ে এসেছে, প্রতিটি পথে বৈচিত্র্যময় বিজয়ের সূচনা করেছে এবং সেই সব মানবিক রূপ তুলে ধরেছে যা পবিত্র কুরআনের দস্তরখানে এবং এর ছত্রছায়ায় ও পরিবেশে প্রতিটি জনপদে ও প্রান্তরে লালিত হয়েছে। এ সব কিছুর মূলে রয়েছে সম্মানিত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ। আর তা কেনই বা হবে না, যেখানে তিনি এসেছিলেন বাস্তব জীবন ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত প্রায়োগিক বাস্তবায়নের জন্য—কোনো প্রকার অবজ্ঞা, বিলম্ব বা শিথিলতা ব্যতিরেকেই!

এর কারণ হলো, এটি পবিত্র কুরআনের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং তা থেকেই উৎসারিত। এটি কুরআনের বিস্ময়সমূহের অন্যতম এক বিস্ময় এবং এর মুজিযাসমূহের মধ্য থেকে এক মুজিযা, যা কখনো শেষ হবে না বা ফুরিয়ে যাবে না। তেমনিভাবে মহান আল্লাহ তাঁর রহমতে প্রতিটি যুগ ও প্রজন্মের জন্য যা গচ্ছিত রেখেছেন, তা অবশিষ্ট থাকবে।

এখান থেকেই একটি নতুন, স্বতন্ত্র এবং এই ইসলামী ইতিহাস ও এর আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও নিবিড় পদ্ধতির প্রয়োজন অনুভূত হয়; যার সূচনা হবে সম্মানিত সীরাতুন্নবী থেকে। কেননা এটিই হলো ইতিহাসের সুউচ্চ মুকুট, অজেয় সম্মান এবং অপূর্ব কাঠামো।

আর সম্মানিত সীরাত এই সব কিছুই ধারণ করেছে। তাই মানুষ যখনই সীরাতকে নিজের জীবনে ধারণ করে এবং সীরাত তার মাঝে মূর্ত হয়ে ওঠে, সে একে আরও বেশি জানতে পারে, গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারে এবং এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ও রহস্যের নিকটবর্তী হতে পারে। এমনকি এর যথাযথ বহিঃপ্রকাশ ও রূপায়ণও সার্থক হয় সীরাত চর্চার পরিমাণ, গভীরতা ও একাগ্রতার ওপর ভিত্তি করে।

আর আমি অনুভব করি—সকল প্রশংসা আল্লাহর এবং এটি তাঁরই অনুগ্রহ—যে প্রতিদিন আমি অগ্রগামী হচ্ছি, অনুধাবন করছি এবং শিখছি।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ২৩)
لاستشراف هذه المعاني والمشاهد والأجواء في هذا المجال وفي غيره سواء بسواء، متعرّفا على جديد من ذلك كله، وأقطف مزيدا من ثمارها الكريمة، فهما وإدراكا وتحصيلا، وكلما تفيأت ظلالها كلما أدركت أبعادها، واقتربت، ووعيت من آفاقها، دراسة ومتابعة وتعمقا.

وكل هذا نعمة ومنّة وبركة من الله تعالى رب العالمين، فالحمد لله على نعمه الكثيرة، ونسأله سبحانه الدوام وحسن الختام في ظل الإسلام.

والحمد لله رب العالمين، وصلى الله على محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
এই ক্ষেত্রে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সমানভাবে এই অর্থসমূহ, দৃশ্যপট এবং পরিবেশসমূহকে নিবিড়ভাবে অবলোকন করার জন্য, এই সবকিছুর নতুন নতুন দিক সম্পর্কে পরিচিত হতে এবং এর কল্যাণময় ফলসমূহ থেকে আরও বেশি আহরণ করতে—যা বুঝা, উপলব্ধি এবং অর্জনের অন্তর্ভুক্ত; আর যতই আমি এর ছায়াতলে ছায়া গ্রহণ করেছি, ততই আমি এর ব্যাপ্তি উপলব্ধি করেছি, নিকটবর্তী হয়েছি এবং অধ্যয়ন, অনুসরণ ও গভীর জ্ঞান অন্বেষণের মাধ্যমে এর দিগন্ত সম্পর্কে সচেতন হয়েছি।

আর এই সব কিছুই বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক নিয়ামত, অনুগ্রহ এবং বরকত। সুতরাং আল্লাহর অগণিত নিয়ামতের জন্য তাঁরই সকল প্রশংসা। আমরা তাঁর পবিত্র সত্তার কাছে ইসলামের ছায়াতলে এর স্থায়িত্ব এবং শুভ পরিণাম প্রার্থনা করি।

আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহ মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। আর আমাদের শেষ কথা হলো যে, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المبحث الأول السيرة النبوية ظلالها وآفاق دراستها

* استهلال وإطلال وإجلال

* التخصص العام والدقيق

* المقوم الأول المهم

* اتساع السيرة النبوية والاقتداء بها

* السيرة مرآة ومهماز

* مصادر دراسة السيرة

* صلحاء الأمة وحماتها

* كتابة السيرة الشريفة

* العيش في جو السيرة عمقا وتعلقا

* كتابة السيرة بين الفقه والتاريخ

* دراسة وكتابة السيرة الشريفة وآفاقها

* دوام حفظ الله سبحانه لأهل دعوته ونوعيتهم

* أسلوب هذه الدراسة

* أثر السيرة في المجتمع قوة ودعوة

* السيرة وكتابة التاريخ

* السيرة وجيل الصحابة

هذه الدراسة والكتابة
প্রথম পরিচ্ছেদ: সীরাত আন-নববী, এর ছায়া ও অধ্যয়নের দিগন্ত

* ভূমিকা, সংক্ষিপ্ত আলোকপাত ও শ্রদ্ধা নিবেদন

* সাধারণ ও নিবিড় বিশেষায়িত জ্ঞান

* প্রথম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান

* সীরাত আন-নববীর ব্যাপকতা ও এর অনুসরণ

* সীরাত এক দর্পণ ও প্রেরণা

* সীরাত অধ্যয়নের উৎসসমূহ

* উম্মতের নেককার ও রক্ষকগণ

* মহিমান্বিত সীরাত রচনা

* গভীরতা ও আসক্তির সাথে সীরাতের পরিবেশে বসবাস

* ফিকহ ও ইতিহাসের আলোকে সীরাত রচনা

* মহিমান্বিত সীরাত অধ্যয়ন, রচনা ও এর দিগন্তসমূহ

* দাওয়াতের ধারক-বাহকদের জন্য মহান আল্লাহর নিরবচ্ছিন্ন সুরক্ষা ও তাঁদের বৈশিষ্ট্য

* এই অধ্যয়নের পদ্ধতি

* শক্তি ও দাওয়াত হিসেবে সমাজে সীরাতের প্রভাব

* সীরাত ও ইতিহাস রচনা

* সীরাত ও সাহাবী প্রজন্ম

এই অধ্যয়ন ও রচনা
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ২৬)
السيرة النبوية ظلالها وآفاق دراستها

 

*‌‌ استهلال وإطلال وإجلال:

هذه مباحث وفصول في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم تقدّم تصورا، وترسم منظرا، تكاد ترقبه وتشهده، حتى لكأنك ترى أحداثه، متحركة أمامك ماثلة نصب بصرك.

وبتمعّنك فيها، تتبيّن من خلالها حياة الرسول الكريم، والنبي العظيم صلى الله عليه وسلم قائدنا وقدوتنا وأسوتنا إلى خيري الدنيا والآخرة.

تتبين حياة رائعة، وسيرة ساطعة لامعة متماسكة، ترى فيها الكمال الإنساني بالرسالة الربانية، حمّلها إياه الله سبحانه وتعالى المنعم الرحيم بعباده؛ لهداية البشرية الى طريق الخير الوحيد والسعادة الفريدة والحضارة الإنسانية الأكيد.

فهي تظهر أهميتها، ودقائق تفاصيلها، وفقهها المتعمق، للعمل بها، والاستظلال بظلها. وهي حصيلة أصيلة، وخبرة مستنيرة، ومتعلّق عاشق، قام بتدريسها لقرابة ثلاثين دورة تدريسية جامعية- سنوية أو فصلية- في العديد من الجامعات في البلاد العربية.

وهي تطبيق لمنهج، ودراسة لأحداث، واستقراء لمضامين، ضمّها هذا الجهد في كتاب، مقدّمة لدراسات تالية، ترى هذه المعاني أكثر نورا، وأشد ظهورا، وأشمل حبورا.

تراها روائع ومواقع، تنصهر في كتاب جامعي شامل- إن شاء الله تعالى
সীরাতুন্নবী: এর প্রভাব ও অধ্যয়নের দিগন্ত

 

*‌‌ প্রারম্ভিকা, দৃশ্যপট এবং শ্রদ্ধাঞ্জলি:

এগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত বা জীবনীর ওপর কিছু গবেষণা ও অধ্যায়, যা একটি বিশেষ ধারণা উপস্থাপন করে এবং এমন এক দৃশ্য অঙ্কন করে যা আপনি প্রায় পর্যবেক্ষণ ও প্রত্যক্ষ করেন; এমনকি মনে হয় যেন আপনি এর ঘটনাবলি আপনার চোখের সামনে সচল ও দণ্ডায়মান অবস্থায় দেখছেন।

এতে গভীরভাবে মনোনিবেশ করলে এর মাধ্যমে আমাদের নেতা, আমাদের আদর্শ এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের পথে আমাদের অনুসরণীয় মহান নবী ও সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন আপনার সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

এক চমৎকার জীবন এবং সুসংহত উজ্জ্বল ও দীপ্যমান সীরাত পরিস্ফুট হবে, যাতে আপনি রব্বানী রিসালাতের মাধ্যমে মানবীয় পূর্ণতা দেখতে পাবেন। বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহকারী ও দয়ালু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মানবজাতিকে একমাত্র কল্যাণের পথ, অনন্য সুখ এবং নিশ্চিত মানবিক সভ্যতার দিকে হেদায়েত প্রদানের জন্য তাঁর ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করেছেন।

এটি এর গুরুত্ব, সূক্ষ্ম খুঁটিনাটি বিষয় এবং এর গভীর প্রজ্ঞা ফুটিয়ে তোলে, যেন তদনুযায়ী আমল করা যায় এবং এর ছায়াতলে আশ্রয় নেয়া যায়। এটি একটি মৌলিক নির্যাস, এক আলোকিত অভিজ্ঞতা এবং এক অনুরাগী মনের সম্পৃক্ততা; যা আরব দেশগুলোর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ত্রিশটি বার্ষিক বা সেমিস্টার ভিত্তিক শিক্ষাবর্ষে অধ্যাপনা করা হয়েছে।

এটি একটি পদ্ধতির বাস্তবায়ন, ঘটনাবলির অধ্যয়ন এবং বিষয়বস্তুর বিশ্লেষণ, যা এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। এটি পরবর্তী অধ্যয়নগুলোর জন্য একটি ভূমিকা হিসেবে কাজ করবে, যেখানে এই অর্থগুলো আরও বেশি আলোকোজ্জ্বল, অধিকতর স্পষ্ট এবং আরও ব্যাপক আনন্দদায়ক হিসেবে প্রতীয়মান হবে।

আপনি এগুলোকে চমৎকার নিদর্শন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে দেখতে পাবেন, যা একটি পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যপুস্তকে একীভূত হয়েছে—ইনশাআল্লাহ তায়ালা।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ২৭)
وبعونه- تقرّبا إليه، وحبّا لرسوله الكريم صلى الله عليه وسلم وخدمة لهذا الدين، من خلال رعاية تاريخه، وبيان حقائقه المنيرة.

أستهلّ ذلك بهذا المبحث الأول، عن (السيرة النبوية الشريفة- ظلالها وآفاق دراستها) تتلوها مباحث أخرى، إن شاء الله تعالى وبفضله.

 

*‌‌ التخصص العام والدقيق:

حقيقة إنّ تخصّصي الدقيق هو التاريخ الأندلسي، وليس السيرة النبوية الشريفة، على صاحبها الصلاة والسلام، لكن دراسة السيرة والبحث فيها وهي فخر وشرف- هواية قديمة، وما زالت جديدة ومتجددة والحمد لله وهي كذلك مستمرة إن شاء الله تعالى- بجانب كونها جزآ من التاريخ الإسلامي، التخصّص العام.

ولكن طول صحبتي للسيرة الشريفة- على صاحبها الصلاة والسلام- وعمق محبتي لها- والحمد لله- وكثرة قراآتي فيها، ومجموعة كتاباتي عنها، والإعداد، وجمع المعلومات لأجلها، كل ذلك يجعلها كالتخصص الدقيق، فشكرا وحمدا لله رب العالمين.

وإذا كان موضوع التخصص- رغم أهميته- طريقا وعاملا للكتابة والبحث والدراسة، لكنه- وبالنسبة للتاريخ الإسلامي والدراسات الإسلامية ليس المقوّم الأول، الذي لولاه لما كان لهذا التخصص تلك الأهمية، أو المستوى، أو نوع النّتاج.

 

*‌‌ المقوّم الأول المهم:

وأعني بالمقوم الأول- لكل دراسة، لا سيما في فروع الدراسات الإسلامية، وأخصّ التاريخ الإسلامي، وبالذات السيرة النبوية الشريفة- حسن التوجه إلى الله سبحانه وتعالى، والارتباط به عقيدة وعبادة، وشريعة
এবং তাঁর সাহায্যে- তাঁর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে, তাঁর সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসায় এবং এই দ্বীনের ইতিহাস রক্ষা ও এর উজ্জ্বল সত্যসমূহ প্রকাশের মাধ্যমে এই দ্বীনের সেবায়।

আমি প্রথম এই পরিচ্ছেদের মাধ্যমে এটি শুরু করছি, যা (মর্যাদাপূর্ণ সীরাতে নববী- এর ছায়া এবং এর অধ্যয়নের দিগন্তসমূহ) সম্পর্কে; ইনশাআল্লাহ তাআলা এবং তাঁর অনুগ্রহে অন্যান্য পরিচ্ছেদগুলো এরপর আসবে।

 

*‌‌ সাধারণ এবং বিশেষায়িত ক্ষেত্র:

প্রকৃতপক্ষে, আমার বিশেষায়িত ক্ষেত্র হলো আন্দালুসিয়ার ইতিহাস, সীরাতে নববী নয়- যাঁর অধিকারীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। তবে সীরাত অধ্যয়ন ও গবেষণা করা—যা এক গৌরব ও সম্মানের বিষয়—আমার একটি পুরোনো শখ, এবং আলহামদুলিল্লাহ এটি এখনও সতেজ ও নবায়নযোগ্য রয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা এটি অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি এটি আমার সাধারণ ক্ষেত্র ইসলামি ইতিহাসেরও একটি অংশ।

কিন্তু সীরাতের সাথে দীর্ঘ সাহচর্য- যাঁর অধিকারীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক- এর প্রতি গভীর ভালোবাসা- আলহামদুলিল্লাহ- এ বিষয়ে আমার প্রচুর অধ্যয়ন, এ নিয়ে আমার লেখাসমূহ, প্রস্তুতি এবং তথ্য সংগ্রহ—এ সবকিছুই এটিকে একটি বিশেষায়িত বিষয়ের পর্যায়ে নিয়ে গেছে; সুতরাং রব্বুল আলামীন আল্লাহর যাবতীয় প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা।

যদিও কোনো বিষয়ের বিশেষায়ন—এর গুরুত্ব সত্ত্বেও—লেখালেখি, গবেষণা ও অধ্যয়নের একটি পথ ও মাধ্যম, তবে ইসলামি ইতিহাস ও ইসলামি গবেষণার ক্ষেত্রে এটিই প্রথম উপাদান নয়, যা ছাড়া এই বিশেষায়িত বিষয়ের সেই গুরুত্ব, মান বা অর্জনের ধরন তৈরি হতো না।

 

*‌‌ গুরুত্বপূর্ণ প্রথম উপাদান:

আর আমি প্রথম উপাদান বলতে বোঝাচ্ছি—প্রতিটি অধ্যয়নের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ইসলামি গবেষণার শাখাগুলোতে, বিশেষত ইসলামি ইতিহাসে এবং নির্দিষ্টভাবে সীরাতে নববীর ক্ষেত্রে—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার দিকে উত্তমভাবে মনোনিবেশ করা এবং আকিদা, ইবাদত ও শরিয়তের মাধ্যমে তাঁর সাথে সম্পৃক্ত হওয়া।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ২৮)
وسلوكا، يكون مستمدا على الدوام، من هذا النهر الفياض، الذي يملأ الحياة بكل جوانبها خيرا وبركة، فيوفر ذلك صحّة في القصد، وصفاء في الفهم، ودقة في التصور، وجودة في الاستكناه والاستجلاء، وبغير ذلك فالدراسة هزيلة بخيلة نحيلة، وشاحبة ناحبة، وأمرها يغيض ولا يفيض، ينحدر نضوبها، ويتبعثر هروبا، ثم تذهب أدراج العواصف هشيما تذروه الرياح.

وإذا كانت بداية الاهتمام بالسيرة هواية- وما زالت- محببة إلى النفس، وسلوى وقوة لها وأنسا، وغذاء وإطرابا لأركانها، وندى وظلالا تستظل أفياءها، فإنها قد تعمّقت بمرور السّنين وتوالي تدريسها، حتى أصبحت تخصّصا آخر، بعد أن جرى الاستمرار في هذا الاهتمام، وتدريسها في الجامعات لأكثر من بلد، ولما يزيد على خمسة عشر عاما، أكثرها ذات فصلين.

ثم فوق ذلك، إن لكل أمر دوافع، ودوافع هذه الدراسة تنبع من عقيدتنا الإسلامية، فان معرفة السيرة الشريفة تاريخا وتفسيرا والتزاما، والسنة المطهرة حديثا وفعلا وتقريرا، مهمة أساسية؛ إذ أنها ترتبط بعقيدة المسلم، وهي جزء من إسلامه. وعلى هذا النسق يجب أن تكون دراستها.

 

*‌‌ اتساع السيرة النبوية والاقتداء بها:

فدراسة السيرة النبوية الشريفة- والتاريخ الإسلامي عموما- بالنسبة لكل مسلم، مهمة أساسية، وإذا كان ذلك مهما لغير المتخصصين والباحثين في أية صيغة وهدف- دراسة وقراءة وحديثا وتدريسا وكتابة عن السيرة الشريفة، فلا بد من العيش في موكبها والسعي لمثلها، فهي لأهل التخصص وأمثالهم أهمّ وألزم وأوجب وأرغب، متابعة وتجلية وحثا وتأليفا، بصيغة تتناسب- قوة ودقة- وموقعها ذاك.

وإني كلما سرت، وتقدمت في المتابعة، وتعمقت فيها، فرحت
এবং আচরণগতভাবে, এটি সর্বদা এই প্রবহমান ঝর্ণাধারা থেকে উৎসারিত হওয়া উচিত, যা জীবনের প্রতিটি দিককে কল্যাণ ও বরকতে পরিপূর্ণ করে তোলে। ফলে তা সংকল্পে সঠিকতা, উপলব্ধিতে স্বচ্ছতা, চিন্তায় নির্ভুলতা এবং নিগূঢ় রহস্য উদ্ঘাটন ও ব্যাখ্যায় উৎকর্ষ প্রদান করে। এটি ছাড়া অধ্যয়ন হয়ে পড়ে দুর্বল, অনুদার ও শীর্ণ এবং ফ্যাকাসে ও ক্রন্দনরত। এর আবেদন হ্রাস পায় কিন্তু বৃদ্ধি পায় না, এর প্রাণশক্তি শুকিয়ে যায় এবং পলায়নপর হয়ে তা বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। অতঃপর ঝোড়ো হাওয়ায় খড়কুটোর মতো তা বাতাসের সাথে উড়ে যায়।

যদি সীরাতের প্রতি অনুরাগের সূচনাটি একটি শখ হিসেবে হয়ে থাকে—যা এখনও আত্মার কাছে প্রিয়, সান্ত্বনাদায়ক, শক্তিদায়ক ও নির্ভরতা এবং এর সত্তার জন্য পুষ্টি ও আনন্দের উৎস এবং স্নিগ্ধ ছায়া যার তলে আশ্রয় নেওয়া যায়—তবে বছরের পর পরিক্রমায় এবং ধারাবাহিক অধ্যাপনার ফলে তা আরও গভীর হয়েছে। এমনকি এই নিরবচ্ছিন্ন অনুরাগ এবং একাধিক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পনেরো বছরেরও বেশি সময় ধরে (যার অধিকাংশ ছিল দুই সেমিস্টার বিশিষ্ট) পাঠদানের মাধ্যমে এটি একটি স্বতন্ত্র বিশেষত্বে পরিণত হয়েছে।

তদুপরি, প্রতিটি বিষয়েরই কিছু প্রেষণা থাকে। এই অধ্যয়নের প্রেষণা আমাদের ইসলামি আকীদা থেকে উৎসারিত। কেননা ইতিহাস, ব্যাখ্যা ও অনুসরণের বিচারে পবিত্র সীরাত সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং কথা, কাজ ও মৌন সম্মতির বিচারে পবিত্র সুন্নাহর জ্ঞান অর্জন করা একটি মৌলিক কাজ; যেহেতু এটি মুসলিমের আকীদার সাথে সম্পৃক্ত এবং এটি তার ইসলামের অংশ। আর এই পদ্ধতিতেই এর অধ্যয়ন হওয়া আবশ্যক।

 

*‌‌ সীরাতুন্নবীর ব্যাপকতা এবং এর অনুসরণ:

প্রত্যেক মুসলিমের জন্য পবিত্র সীরাতুন্নবী—এবং সাধারণভাবে ইসলামি ইতিহাস—অধ্যয়ন করা একটি মৌলিক দায়িত্ব। অ-বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের জন্য যে কোনো আঙ্গিকে বা উদ্দেশ্যে—অধ্যয়ন, পাঠ, আলোচনা, শিক্ষাদান বা পবিত্র সীরাত সম্পর্কে রচনার ক্ষেত্রে—যদি এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়, তবে অবশ্যই এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে জীবন অতিবাহিত করা এবং তদ্রূপ হওয়ার চেষ্টা করা অপরিহার্য। বিশেষজ্ঞদের জন্য এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের জন্য সীরাত অনুসরণ করা, একে স্পষ্ট করা, এর প্রতি উৎসাহিত করা এবং এ বিষয়ে গ্রন্থনা করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, আবশ্যক, জরুরি ও বাঞ্ছনীয়; যা সীরাতের গুরুত্ব ও অবস্থানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শক্তি ও নির্ভুলতা বজায় রেখে হতে হবে।

আমি যতই পথ চলেছি, অনুসরণে অগ্রসর হয়েছি এবং এর গভীরে প্রবেশ করেছি, ততই আনন্দিত হয়েছি।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ২৯)
بالجديد، كما اكتشفت جهلي بالكثير والكثير منها ومن جوانبها، وازددت علما ومعرفة وفقها وإقبالا وتعمقا.

والذي يتولى القراءة والدراسة لها- فضلا عن التأليف فيها- لا بد أن يقوم بكل ذلك، اقتداء واهتداء، وتقرّبا إلى الله، تمثّلا والتزاما وسلوكا، وارتقاء بإنسانيته، وإعلاء لتقواه.

فالسيرة النبوية الشريفة وصاحبها صلى الله عليه وسلم الأسوة الحسنة والقدوة الكريمة، واتّباعها ملزم للمسلم لَقَدْ كانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كانَ يَرْجُوا اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيراً [الأحزاب: 21] .

وهذا كله يقوم على المحبة المتشوقة المتعطشة، إلى حدّ كان بعض الصحابة- رضوان الله عليهم أجمعين- يتحرّون اتّباع الرسول صلى الله عليه وسلم في المندوبات والنوافل والأمور الاعتيادية، تقرّبا الى الله سبحانه وتعالى، وحبّا بالرسول الكريم صلى الله عليه وسلم قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ [آل عمران: 31] .

بل إن عبد الله بن عمر بن الخطاب- رضي الله عنهما الصحابي الجليل (74 هـ 693 م) »

، كان يتحرى أن يتمثّل أسلوب الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم وأحواله ومشيته، ويترسّم مواطئ أقدامه، في طرقات المدينة وخارجها وغيرها، بل لعله يدفع ناقته لتنطلق في طريق سلكته القصواء، ناقة

--------------------------------------------

(1) عن الصحابي الجليل عبد الله بن عمر رضي الله عنهما ، انظر: الاستيعاب في معرفة الأصحاب، ابن عبد البر، 3/ 950 (رقم 1612) . أسد الغابة في معرفة الصحابة، ابن الأثير، 3/ 340 (رقم 3080) . الإصابة في تمييز الصحابة، ابن حجر، 2/ 347 (رقم 4834) . سير أعلام النبلاء، شمس الدين الذهبي، 3/ 203 (رقم 45) . شذرات الذهب في أخبار من ذهب، ابن العماد الحنبلي، 1/ 310. الوافي بالوفيات، الصفدي، 17/ 362 (رقم 297) . الطبقات الكبرى، محمد بن سعد، 4/ 142. أخبار عمر وأخبار عبد الله بن عمر، علي وناجي الطنطاويين، 431 وبعدها. عبد الله بن عمر (الصحابي المؤتسي برسول الله صلى الله عليه وسلم ، سلسلة أعلام المسلمين رقم (6) ، محيي الدين مستو (129- 133) .
নতুনের সাথে, যেমন আমি এর অনেক অনেক বিষয় ও দিক সম্পর্কে আমার অজ্ঞতা আবিষ্কার করেছি এবং আমার জ্ঞান, পরিচিতি, প্রজ্ঞা, আগ্রহ ও গভীরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আর যে ব্যক্তি এটি পাঠ ও অধ্যয়নের দায়িত্ব গ্রহণ করবে—তাতে রচনার তো কথাই নেই—তাকে অবশ্যই এই সবকিছু করতে হবে অনুসরণ ও হেদায়েত প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে, আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য, আদর্শ গ্রহণ, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া ও আচরণের মাধ্যমে এবং তার মানবিকতাকে উন্নত করতে ও তার তাকওয়াকে উচ্চমর্যাদায় আসীন করতে।

কারণ সম্মানিত সীরাতুন নবী এবং এর অধিকারী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন সর্বোত্তম আদর্শ ও মহান অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। আর তাঁর অনুসরণ করা মুসলিমের জন্য বাধ্যতামূলক: "তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" [সূরা আল-আহযাব: ২১]।

আর এই সমস্ত কিছু প্রতিষ্ঠিত এক ব্যাকুল ও তৃষ্ণার্ত ভালোবাসার ওপর, যা এমন পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছিল যে, সাহাবায়ে কেরাম—রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন—মুস্তাহাব, নফল এবং সাধারণ বিষয়গুলোতেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের অন্বেষণ করতেন; মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে এবং প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসার খাতিরে। "বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।" [সূরা আলে ইমরান: ৩১]।

এমনকি মহান সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব—রাদিয়াল্লাহু আনহুমা (৭৪ হিজরি ৬৯৩ খ্রিস্টাব্দ) »

তিনি প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদ্ধতি, অবস্থা এবং হাঁটার ভঙ্গি অনুসরণ করতে সচেষ্ট থাকতেন। তিনি মদিনার রাস্তায়, মদিনার বাইরে এবং অন্যান্য স্থানে তাঁর পদচিহ্ন অনুসরণ করতেন। এমনকি সম্ভবত তিনি তাঁর উটনীকে সেই পথেই হাঁটার জন্য চালিত করতেন যে পথে আল-কাসওয়া চলেছিল; সেই উটনী

--------------------------------------------

(১) মহান সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সম্পর্কে দেখুন: আল-ইসতিয়াব ফি মা'রিফাতিল আসহাব, ইবনে আবদুল বার, ৩/৯৫০ (নং ১৬১২)। আসাদুল গাবাহ ফি মা'রিফাতিল সাহাবাহ, ইবনুল আসির, ৩/৩৪০ (নং ৩০৮০)। আল-ইসাবাহ ফি তাময়িযিস সাহাবাহ, ইবনে হাজার, ২/৩৪৭ (নং ৪৮৩৪)। সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, শামসুদ্দিন আয-যাহাবি, ৩/২০৩ (নং ৪৫)। শাযারাতুয যাহাব ফি আখবারি মান যাহাব, ইবনুল ইমাদ আল-হানবালি, ১/৩১০। আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত, আস-সাফাদি, ১৭/৩৬২ (নং ২৯৭)। আত-তাবাকাতুল কুবরা, মুহাম্মদ ইবনে সাদ, ৪/১৪২। আখবারু উমর ওয়া আখবারু আবদুল্লাহ ইবনে উমর, আলী ও নাজি তান্তাভিদ্বয়, ৪৩১ ও পরবর্তী পৃষ্ঠা। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একনিষ্ঠ অনুসারী সাহাবী), আলামুল মুসলিমিন সিরিজ নং (৬), মুহিউদ্দিন মিস্তু (১২৯-১৩৩)।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ৩০)
رسول الله صلى الله عليه وسلم آملا أن (لعل خفّا يقع على خف) «1» . وكان يقول: (بعث الله نبيّه ونحن أجفى الناس، فنصنع كما صنع رسول الله صلى الله عليه وسلم «2» .

وكم حبّب إليّ أخوة كرام- لا سيما من طلبة درّستهم السيرة النبوية الشريفة- أن أكتب السيرة بنفس الطريقة التي أدرّسهم بها، يوم كانوا طلابا يحضرون ويجلسون في قاعات ومدرجات الجامعة، للاستماع الى فصول من السيرة الشريفة. وها أنذا أبدأ اليوم «3» (وقد بدأت ذلك بشكل محدود نحو سنة 1981 م) ، مسرورا ومتشرفا ومتشوقا ومتبرعا ومهتديا ومقتديا، إن شاء الله تعالى.

 

*‌‌ السيرة مرآة ومهماز:

والحق أن (أو كأن) الله تعالى، أراد لهذه السيرة الشريفة أن تكون نموذجا، ولأن هذا الدين اكتمل تطبيقا، بكل شمول وكمال وجمال، لكافة الأعمار والمراحل والأشخاص، نساء ورجالا وأطفالا، فردا وجماعة، ومجتمعا ودولة، صغرت أو كبرت، في السلم والحرب. والجميع أصبح مجتمعا، فيه من غير المسلمين، أو هو خاصّ للمسلمين، تعاملوا مع غير المسلمين داخل المجتمع المسلم وخارجه، ودعوهم ملوكا وشعوبا وزعماء، كل ألوان التعامل في حالاتهم جميعا، في الاضطهاد، ومخلصين

--------------------------------------------

(1) حياة الصحابة، محمد يوسف الكاندهلوي (2/ 374- 375) . أخبار عمر، (438) . عبد الله بن عمر (130) .

‌‌(2) حياة الصحابة (2/ 375) .

‌‌(3) تشير هذه البداية إلى ما بعد سنة (1981 م) ، حيث كتب أصل هذا البحث، الذي نشر في مجلة منار الإسلام (التي تصدرها شهريا وزارة الأوقاف في أبو ظبي) ، العدد الرابع، السنة السابعة، ربيع الثاني 1402 (فبراير 1982) . وهنا الآن فقد نقح وحسن وزيد متضاعفا مرات عن مقداره ذاك، حتى لكأنه بحث جديد، ومثل هذا شمل المباحث الآخرى المماثلة في بقية هذا الكتاب، وبعضها قد زيد إلى بضع عشرة مرة من أصل البحث، مثل المبحث الثالث.
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে অনুসরণ করতেন এই আশায় যে, (হয়তো এক পায়ের ছাপ অন্য পায়ের ছাপের ওপর পড়বে) «১»। এবং তিনি বলতেন: (আল্লাহ তাঁর নবীকে পাঠিয়েছেন এমতাবস্থায় যে আমরা ছিলাম সবচেয়ে রুক্ষ স্বভাবের মানুষ, তাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা করেছেন আমরাও ঠিক তাই করি) «২»।

অনেক সম্মানিত ভাই—বিশেষ করে সেই সব ছাত্ররা যাদেরকে আমি পবিত্র সীরাতে নববী পড়িয়েছি—আমার কাছে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন যেন আমি সীরাতটি ঠিক সেই পদ্ধতিতেই লিখি যেভাবে আমি তাদের পড়াতাম, যখন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরুম ও গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে পবিত্র সীরাতের বিভিন্ন অধ্যায় শোনার জন্য বসত। আর আজ আমি তা শুরু করছি «৩» (যদিও আমি ১৯৮১ সালের দিকে সীমিত আকারে তা শুরু করেছিলাম), আনন্দিত চিত্তে, সম্মানিত বোধ করে, ব্যাকুল হয়ে, স্বেচ্ছায়, হেদায়েত প্রাপ্ত হয়ে এবং অনুসরণকারী হিসেবে, ইনশাআল্লাহ তায়ালা।

 

*‌‌ সীরাত: একটি আয়না ও চালিকাশক্তি:

সত্য কথা এই যে (অথবা যেন) আল্লাহ তায়ালা চেয়েছেন এই পবিত্র সীরাত একটি আদর্শ হোক, কারণ এই দ্বীন তার প্রয়োগের ক্ষেত্রে পূর্ণতা পেয়েছে; সর্বজনীনতা, পূর্ণতা ও সৌন্দর্যের সাথে, সকল বয়স, স্তর ও ব্যক্তির জন্য—তা সে নারী হোক বা পুরুষ কিংবা শিশু, একক ব্যক্তি হোক বা গোষ্ঠী, এবং সমাজ ও রাষ্ট্র—চাই তা ছোট হোক বা বড়, শান্তি কিংবা যুদ্ধের সময়। এবং সকলে মিলে একটি সমাজে পরিণত হয়েছে, যেখানে অমুসলিমরাও রয়েছে, অথবা তা কেবল মুসলমানদের জন্য বিশেষায়িত; তারা মুসলিম সমাজের ভেতরে ও বাইরে অমুসলিমদের সাথে লেনদেন করেছে, এবং তাদেরকে—রাজা, জাতি ও নেতাদের—দাওয়াত দিয়েছে; তাদের সকল অবস্থায় সব ধরণের আচার-ব্যবহারের ক্ষেত্রে, নিপীড়নের সময় এবং একনিষ্ঠ থাকাকালীন...

--------------------------------------------

(১) হায়াতুস সাহাবাহ, মুহাম্মদ ইউসুফ কান্ধলভী (২/ ৩৭৪-৩৭৫)। আখবারু উমর, (৪৩৮)। আবদুল্লাহ বিন উমর (১৩০)।

‌‌(২) হায়াতুস সাহাবাহ (২/ ৩৭৫)।

‌‌(৩) এই সূচনাটি ১৯৮১ সালের পরবর্তী সময়কে নির্দেশ করে, যখন এই গবেষণার মূল অংশটি লিখিত হয়েছিল, যা মাসিক ‘মানারুল ইসলাম’ (আবুধাবির আওকাফ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত) পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল, চতুর্থ সংখ্যা, সপ্তম বর্ষ, রবিউস সানি ১৪০২ (ফেব্রুয়ারি ১৯৮২)। আর এখন একে পরিমার্জিত, উন্নত এবং পূর্বের তুলনায় বহুগুণ বর্ধিত করা হয়েছে, এমনকি মনে হতে পারে এটি একটি নতুন গবেষণা। অনুরূপভাবে এই গ্রন্থের অবশিষ্ট গবেষণার ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে, যার মধ্যে কিছু অংশ মূল গবেষণার তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যেমন তৃতীয় গবেষণাটি।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ৩১)
أو مخادعين، جادين أو لاهين لاعبين.

وبذلك فالمسلمون يجدون في السيرة الشريفة، في كل الظروف ما يرتوون منه وينظرون فيه، علاجا وغذاء وارتقاء؛ لأنها صورة هذا الدين، ووحي الله المنزّل على رسوله الكريم صلى الله عليه وسلم قرآنا عمليا في واقع الحياة، وتلك إرادة الله وحكمته.

إن السيرة الشريفة- على صاحبها الصلاة والسلام- مستودع مترع، متكامل شامل. فهي مليئة بكل هذا، كأن الله تعالى أراد- بعد أن كانت للإسلام صورة طبق الأصل في كل حال- أن تكون قدوة في كل شيء للناس، في كل جيل وحال، لتكون معالم عامة وعلاجا ومثالا وأسوة لكل أحد، وهي في الحق كذلك. فهي مستودع غنيّ بكل ذلك، بما مرّ به ويمرّ.

لقد هيأ الله تعالى لهذا الدّين- في كل العصور وفي عصرنا- من خدمه بكل سبيل، وخدم أحداثه وسيرة نبيه صلى الله عليه وسلم بكل تفاصيلها ودقائقها وجوانبها.

والحمد لله تعالى أن اعتنت الدراسات الحديثة، ورعت، وخدمت السيرة النبوية الشريفة والسنة المطهرة، سواء بتحقيق ونشر مؤلفات السلف الأمهات عنها، أو بالتأليف الكثير المتنوع فيها، وجيّده غير قليل.

 

*‌‌ مصادر دراسة السيرة:

وكتب السنة المطهرة- وأولها الحديث الشريف- مصدر ثرّ أصيل، بعد القرآن الكريم. وإن قول رسول الله صلى الله عليه وسلم في حجّة الوداع شامل للتأليف والكتابة، للدعوة والقدوة: «فإني تركت فيكم ما إن أخذتم به لن تضلّوا بعده: كتاب الله وسنة نبيه، ألا هل بلغت؟ اللهم فاشهد» «1» .

فالقرآن الكريم ملئ بأحداث السيرة وأحوالها وأخبارها، وهو الحقّ

--------------------------------------------

(1) مجموعة الوثائق السياسية في العهد النبوي والخلافة الراشدة، محمد حميد الله، (362) .
অথবা প্রতারক, সিরিয়াস বা খেলতামাশায় লিপ্ত।

এর ফলে মুসলমানরা মহান সীরাতের মাঝে প্রতিটি পরিস্থিতিতে এমন কিছু খুঁজে পায় যা থেকে তারা পরিতৃপ্ত হয় এবং যাতে তারা লক্ষ্য করে প্রতিকার, পাথেয় ও উন্নতি; কেননা এটি হলো এই দ্বীনের বাস্তব রূপ এবং তাঁর সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ আল্লাহর ওহীর জীবন-বাস্তবতায় এক ফলিত কুরআন। আর এটিই আল্লাহর ইচ্ছা ও হিকমত।

নিশ্চয়ই মহান সীরাত—এর অধিকারীর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—একটি পরিপূর্ণ, সুসংহত ও ব্যাপক ভাণ্ডার। এটি এই সবকিছুতে পরিপূর্ণ, যেন মহান আল্লাহ চেয়েছেন—প্রতিটি অবস্থায় ইসলামের হুবহু প্রতিচ্ছবি হওয়ার পর—এটি যেন প্রতিটি প্রজন্মের ও প্রতিটি স্তরের মানুষের জন্য সব বিষয়ে একটি আদর্শ হয়; যাতে তা সবার জন্য সাধারণ দিকনির্দেশনা, প্রতিকার, উদাহরণ ও অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে থাকে। আর প্রকৃতপক্ষে এটি তেমনই। এটি অতীতের ও বর্তমানের সেই সব বিষয়ের এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার।

মহান আল্লাহ সকল যুগে এবং আমাদের এই যুগেও এই দ্বীনের জন্য এমন সব খাদেম প্রস্তুত করেছেন যারা একে সম্ভাব্য সকল উপায়ে সেবা করেছেন এবং এর ঘটনাবলি ও তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতকে এর সকল খুঁটিনাটি, সূক্ষ্ম বিষয় ও দিকসহ খেদমত করেছেন।

আর সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর, যিনি আধুনিক গবেষণাকে এমন তাওফিক দিয়েছেন যে তা মহান সীরাতুন্নবী ও পবিত্র সুন্নাহর প্রতি যত্নবান হয়েছে, তা লালন করেছে এবং এর সেবা করেছে; চাই তা সালাফদের রচিত মূল কিতাবসমূহের তাহকীক ও প্রকাশের মাধ্যমেই হোক অথবা এর ওপর রচিত বহুমুখী ও প্রচুর পাণ্ডুলিপির মাধ্যমেই হোক। আর এগুলোর মধ্যে মানসম্মত কাজ মোটেও কম নয়।

 

*‌‌ সীরাত অধ্যয়নের উৎসসমূহ:

কুরআনুল কারীমের পর পবিত্র সুন্নাহর কিতাবসমূহ—যার মধ্যে প্রধান হলো হাদীস শরীফ—এক সমৃদ্ধ ও মৌলিক উৎস। বিদায় হজের ভাষণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী সংকলন ও রচনা এবং দাওয়াত ও আদর্শের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ব্যাপক: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ। শোনো, আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন।" (১)।

কুরআনুল কারীম সীরাতের ঘটনাবলি, অবস্থা ও সংবাদে ভরপুর, আর এটিই হলো ধ্রুব সত্য

--------------------------------------------

(১) মাজমুআতুল ওয়াসাইক আস-সিয়াসিয়াহ ফিল আহদিন নববী ওয়াল খিলাফাতির রাশিদাহ, মুহাম্মাদ হামিদুল্লাহ, (৩৬২)।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ৩২)
المبين، والصدق الأصيل المتين، أصدق وأوثق وأحق كتاب على الأرض وَإِنَّهُ لَكِتابٌ عَزِيزٌ (41) لا يَأْتِيهِ الْباطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ [فصلت: 41- 42] .

ثم كتب السنة المطهرة والسيرة الشريفة، وبعدها المؤلفات الأمهات، والأصول الموثوقات، وهي كثيرة شاملة، توفر فيها الحفظ والصدق والرواية والدراية والرعاية والدراسة، وهي خاضعة للموازين الدقيقة في التمحيص، متنا وسندا.

والتاريخ الإسلامي- ابتداء من السيرة الشريفة، التي تلاحمت مع الحديث الشريف وعموم السنة المطهرة- نشأ ونشأت في أحضان السنة وعلومها، ذات الشروط الدقيقة، والتي قامت لخدمتها عدة علوم وثيقة «1» . ولفهم هذه الحقيقة الكبرى يمكن- بسهولة- أن تراجع أمهات الكتب الموثقة في التاريخ الإسلامي.

--------------------------------------------

(1) ويمكن فهم بعض جوانب هذه الحقيقة الكبرى من المقارنة بين أمهات كتب التاريخ الإسلامي لمؤرخينا الثّقات- بعد معرفة طريقتهم، وأسلوب تدوينهم، واحتمالهم عبء الرواية في جهودهم- وبين المؤلفات التاريخية لآية أمة أخرى في أي عصر من العصور وحضارة من الحضارات حتى العصر الحاضر، سواء في سرد تاريخهم، أو الكتابة عن تواريخ الأمم الآخرى، لا سيما الإسلامية. وانظر ما يفعله كثرة من المستشرقين في الدسّ والتحريف قصدا وعمدا وعملا، مع سبق إصرار وترتيب مجهد، بل من أجل ذلك اهتموا بالدراسات الإسلامية وألفوا فيها، خاصة أساتذة الجامعات وزعماء ورعاة الكنيسة فيهم، وكثرة من الأساتذة هم كنسيون. والفرق بين مؤرخينا وهؤلاء يكاد يتعانق والفرق بين سيرتهما وتدينهما وعقيدة كل منهما. وهو فرق بين أهل الحق والباطل. فالأوائل يستمدون من الإسلام، وانظر ما قالوا في تواريخ الأمم الآخرى وكيف أنصفوهم، على علم ودراسة أمينة. وبالإمكان أن يكون هذا موضوع بحث مستقل، وراجع ما قدم الآخرون من تاريخنا، رغم وضوحه وتوفر مراجعه وتساوقه مع الحقائق ومع الدلائل والفضائل. ورغم ادعائهم العلمية والموضوعية والمنهجية البحثية التي يزعمون نسبتها إليهم، فكتاباتهم أشبه بالأساطير، لا يعرفون صدقا، ولا يتحرون عدلا، ولا ينصفون حقا، بل على العكس تماما يتعمّدون الإساءة والتشويه. ولكن لا غرابة، فكل ينفق مما عنده، وما أكثر أتباعهم!. راجع: نظرات في دراسة التاريخ الإسلامي (27) وبعدها.
স্পষ্টকারী, সুদৃঢ় আদি সত্য, জমিনের ওপর সর্বাধিক সত্য, নির্ভরযোগ্য ও যথার্থ কিতাব। "নিশ্চয়ই এটি একটি সম্মানিত কিতাব। এতে সম্মুখ বা পশ্চাৎ থেকে মিথ্যা প্রবেশ করতে পারে না; এটি প্রজ্ঞাময় ও প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।" [ফুসসিলাত: ৪১-৪২]।

এরপর পবিত্র সুন্নাহ ও সম্মানিত সিরাতের কিতাবসমূহ, এবং তারপর মূল নির্ভরযোগ্য সংকলন ও প্রধান উৎসসমূহ। এগুলো সংখ্যায় প্রচুর ও ব্যাপক, যাতে সংরক্ষণ, সত্যবাদিতা, বর্ণনাধারা (রেওয়ায়েত), বিচার-বুদ্ধি (দারায়েত), তত্ত্বাবধান ও গবেষণার সমন্বয় ঘটেছে। এগুলো মত্ন (মূল পাঠ) ও সনদ (বর্ণনাসূত্র) যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম মানদণ্ডের অধীন।

আর ইসলামি ইতিহাস—সম্মানিত সিরাত থেকে শুরু করে, যা শরিফ হাদিস ও পবিত্র সুন্নাহর সাধারণ রূপের সাথে মিশে আছে—সুন্নাহ ও এর সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রসমূহের ক্রোড়েই জন্ম নিয়েছে। এটি সেই সব সূক্ষ্ম শর্তাবলির অনুসারী যা বাস্তবায়নের জন্য নির্ভরযোগ্য অনেকগুলো শাস্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে «১»। এই বিশাল সত্যটি বোঝার জন্য ইসলামি ইতিহাসের মূল নির্ভরযোগ্য গ্রন্থাবলি অত্যন্ত সহজেই পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

--------------------------------------------

(১) আমাদের নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিকদের মৌলিক ইসলামি ইতিহাস গ্রন্থগুলোর—তাদের পদ্ধতি, সংকলনশৈলী এবং বর্ণনার ভার বহনে তাদের প্রচেষ্টাকে জানার পর—যেকোনো যুগের বা যেকোনো সভ্যতার অন্য যেকোনো জাতির ঐতিহাসিক রচনার সাথে তুলনা করার মাধ্যমে এই মহান সত্যের কিছু দিক বোঝা সম্ভব, চাই তা বর্তমান সময়েরই হোক না কেন; হোক তা তাদের নিজেদের ইতিহাসের বর্ণনা কিংবা অন্য জাতির বিশেষ করে মুসলিমদের ইতিহাস সম্পর্কে লেখা। দেখুন, বহু প্রাচ্যবিদরা কীভাবে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এবং কঠোর প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যাচার ও বিকৃতি সাধন করে থাকে। বরং এই উদ্দেশ্যেই তারা ইসলামি শিক্ষা বা গবেষণার প্রতি আগ্রহী হয়েছে এবং তাতে গ্রন্থ রচনা করেছে, বিশেষ করে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ এবং গির্জার নেতা ও পৃষ্ঠপোষকগণ; কেননা তাদের শিক্ষকদের একটি বড় অংশই যাজক শ্রেণির। আমাদের ঐতিহাসিক ও এদের মধ্যে পার্থক্য প্রায় তাদের জীবনপ্রণালী, ধার্মিকতা ও প্রত্যেকের আকিদার পার্থক্যের মতোই। এটি সত্যের অনুসারী ও মিথ্যার অনুসারীদের মধ্যকার পার্থক্য। পূর্বসূরিরা ইসলাম থেকে নির্যাস গ্রহণ করেন। দেখুন, তারা অন্যান্য জাতির ইতিহাস সম্পর্কে কী বলেছেন এবং জ্ঞান ও বিশ্বস্ত গবেষণার ভিত্তিতে তাদের প্রতি কতটা সুবিচার করেছেন। এটি একটি স্বতন্ত্র গবেষণার বিষয় হতে পারে। অন্যরা আমাদের ইতিহাস থেকে কী উপস্থাপন করেছে তা পর্যালোচনা করে দেখুন, যদিও আমাদের ইতিহাস অত্যন্ত স্পষ্ট, এর প্রচুর উৎস বিদ্যমান এবং যা সত্য, প্রমাণ ও শ্রেষ্ঠত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, বস্তুনিষ্ঠতা এবং গবেষণা পদ্ধতির যে দাবি করে, তা সত্ত্বেও তাদের লেখাগুলো উপকথার মতো। তারা সত্য চেনে না, ন্যায়বিচার অনুসরণ করে না এবং হকের প্রতি ইনসাফ করে না; বরং ঠিক এর বিপরীতে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতি সাধন ও বিকৃতি ঘটিয়ে থাকে। তবে এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ প্রত্যেকে তা-ই ব্যয় করে যা তার কাছে থাকে; আর তাদের অনুসারীদের সংখ্যা কতই না বেশি! দেখুন: নাজারাত ফি দিরাসাতিত তারিখিল ইসলামি (২৭) এবং পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
*‌‌ صلحاء الأمة وحماتها:

وإنّ الذين خدموا هذا الأمر، هم من خيار الأمة الإسلامية وصالحي أجيالها وأعلامها ورجالها ونسائها، خلقا ومكانة، وأعلاهم ذكاء، وأعرفهم صدقا، والتزاما، وتضحية، وفداء، وأكرم عند الناس حالا ومالا ونفسا، وكان هذا عندهم بمنزلة الجهاد.

ومثلما كانت هذه الصفات ضرورية وأساسية للمسلم، عضوا في المجتمع والأسرة وفردا في الحياة، مشغولا بإعلائها، كان كلّ ذلك لازما بجانب مواصفات إضافية، إلى هذه الأساسية- تكون جميعا مرجوة ومطلوبة وملزمة للتأليف والكتابة.

ومثلما كان الالتزام بالسلوك الإسلامي ومواصفاته خصيصة أولى أساسية لازمة لازبة، كذلك كان توفّر العلم والمعرفة العميقة الجادة الغزيرة الوفيرة قاعدة قرينة بداهة؛ ليكون كلّ على علم وأهلية للتخصّص الذي يعمل فيه، وكلاهما لا غنى عنهما بحال، إلّا أن الأولى هي الأرضية الصّلبة تقوم عليها القاعدة العلمية الأصيلة القوية المتينة.

وانعدام تلك الخصيصة الأساس قد يعصف بما عداها، ويورث ضررا، ويوقع خطرا، يودي بصاحبها وبالآخرين وبالعلم نفسه. كما إن انعدامها يجعل المواصفات التالية والباقية منفردة لا قيمة لها، ولو ملك صاحبها أي مقدار، ولا يكون في العداد، على عكس اليوم. ولأمور بسيطة جرّح البعض ابن إسحاق (151 هـ 768 م) ، وهو تابعيّ ثقة صدوق، ومؤلّفه الشهير (السيرة النبوية) خير دليل «1» .

--------------------------------------------

(1) انظر: الطبقات الكبرى (7/ 321) . تاريخ بغداد (1/ 139، 214) . وفيات الأعيان، ابن خلكان (4/ 276، رقم 612) . سير أعلام النبلاء، الذهبي (7/ 33) .
উম্মাহর সৎকর্মশীল ব্যক্তি ও এর রক্ষকবৃন্দ:

নিশ্চয়ই যারা এই বিষয়ের সেবা করেছেন, তারা ইসলামি উম্মাহর সর্বোত্তম ব্যক্তি এবং এর বিভিন্ন প্রজন্মের সৎকর্মশীল, খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব এবং এর নারী ও পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত; তারা ছিলেন উন্নত চরিত্র ও সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, প্রখর মেধা সম্পন্ন এবং সত্যবাদিতা, অঙ্গীকার, আত্মত্যাগ ও উৎসর্গের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুপরিচিত। মানুষের নিকট তারা জীবন যাপন, অর্থ-সম্পদ ও মানসিকতার দিক থেকে ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত এবং এই কাজটিকে তারা জিহাদের মর্যাদায় গণ্য করতেন।

সমাজ ও পরিবারের সদস্য এবং ব্যক্তিগত জীবনে একজন মুসলিমের জন্য এই গুণাবলি যেমন অপরিহার্য ও মৌলিক ছিল—যিনি এই আদর্শকে সমুন্নত রাখতে সদা সচেষ্ট—তেমনি এই মৌলিক গুণাবলির পাশাপাশি অতিরিক্ত কিছু যোগ্যতার উপস্থিতিও আবশ্যক ছিল। গ্রন্থ সংকলন ও রচনার জন্য এই সকল গুণাবলি ও যোগ্যতা কাঙ্ক্ষিত, কাম্য এবং বাধ্যতামূলক ছিল।

ইসলামি জীবনাচরণ ও এর বৈশিষ্ট্যসমূহের প্রতি অবিচল থাকা যেমন ছিল প্রথম ও মৌলিক অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য, তেমনি গভীর, ঐকান্তিক ও প্রচুর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার উপস্থিতি ছিল স্বতঃসিদ্ধ ও সহগামী ভিত্তি; যাতে প্রত্যেকে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে জ্ঞান ও যোগ্যতার অধিকারী হতে পারেন। কোনো অবস্থাতেই এই দুটির কোনোটিই অপরিহার্য নয় এমন নয়, তবে প্রথমটি হলো সেই সুদৃঢ় ভূমি যার ওপর মৌলিক, শক্তিশালী ও মজবুত ইলমী বুনিয়াদ দণ্ডায়মান।

আর সেই মৌলিক বৈশিষ্ট্যের অনুপস্থিতি অন্য সব কিছুকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে, ক্ষতির কারণ হতে পারে এবং এমন বিপদ ডেকে আনতে পারে যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, অন্য মানুষ এবং স্বয়ং ইলমকেও ধ্বংস করে দেয়। তদুপরি, এর অনুপস্থিতি পরবর্তী ও অবশিষ্ট যোগ্যতাগুলোকে একাকী মূল্যহীন করে দেয়, যদিও সেই ব্যক্তি যে কোনো পরিমাণের জ্ঞানেরই অধিকারী হোক না কেন; বর্তমান সময়ের বিপরীত চিত্র অনুযায়ী তাকে হিসেবেই ধরা হবে না। অত্যন্ত সামান্য কিছু কারণে কেউ কেউ ইবনে ইসহাককে (১৫১ হিজরি/৭৬৮ খ্রিষ্টাব্দ) সমালোচনা করেছিলেন, অথচ তিনি ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী তাবিঈ এবং তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ (আস-সিরাত আন-নাবাবিয়্যাহ) এর সর্বোত্তম প্রমাণ «১»।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আত-তাবাকাতুল কুবরা (৭/৩২১); তারিখু বাগদাদ (১/১৩৯, ২১৪); ওয়াফায়াতুল আ’ইয়ান, ইবনে খাল্লিকান (৪/২৭৬, নং ৬১২); সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, আয-যাহাবি (৭/৩৩)।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ৩৪)
*‌‌ كتابة السيرة الشريفة:

إن كتابة السيرة الشريفة- على صاحبها أفضل الصلاة وأتمّ السلام- وقراءتها، ثمرة لتطبيق وأسوة لحياة. ولا يتولى كتابتها وتدريسها إلا أهل هذا اللون من الفهم والاتجاه. ولا بد من النظر إلى السيرة الشريفة في كل ذلك، باستيعاب ليس عقليا فحسب، بل كيانيا متلاحما، يهيمن ويستبطن ويجنّد كافة الجوانب والطاقات، ويستأهلها ويؤهّلها في الإنسان، للتلقي الفاضل؛ لأن الإسلام خاطبها، واهتم بكافة الجوانب في هذا الإنسان، وتناولها، واعتمدها.

--------------------------------------------

وله: تذكرة الحفاظ (1/ 172) . وله: العبر (1/ 216) . شذرات الذهب، ابن العماد (2/ 235) . الوافي بالوفيات (2/ 188) . الأعلام (6/ 28) . ولقد أثنى العديد على ابن إسحاق. وقد وصف بأنه بحر في معرفته بالسيرة النبوية الشريفة- على الرسول الصلاة والسلام- وإنه أمير المؤمنين في الحديث، ووثقه العديد من العلماء، وإن لم يعتبره بعضهم حجة في الحديث الشريف. ويقول الذهبي (تاريخ الإسلام، حوادث وفيات 141- 160، ص 591) : (الذي استقر عليه الأمر أن ابن إسحاق صالح الحديث وأنه في المغازي أقوى منه في الأحكام) . أي: إنه مؤرخ ومحدّث وليس فقيها، مع علمه بالحديث، وتحريه له، واستفادته منه، واقتفائه رواياته، واعتماده عليه، فهو محدّث ومؤرخ، استفاد من كل ذلك في كتابته سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم. ويقول الحافظ ابن كثير (774 هـ) في البداية والنهاية (10/ 109) : (صاحب السيرة النبوية التي جمعها وجعلها علما يهتدى به وفخرا يستجلى به، والناس كلهم عيال عليه في ذلك كما قال الشافعي وغيره من الأئمة) . ويقول ابن خلكان (681 هـ) في وفيات الأعيان، 4/ 276: (وكان محمد المذكور ثبتا في الحديث عند أكثر العلماء، وأما في المغازي والسير فلا تجهل إمامته فيها) . وقال ابن العماد الحنبلي (1089 هـ) صاحب شذرات الذهب (2/ 235) ، بأنه: (كان بحرا من بحور العلم، ذكيا، حافظا، طلّابة للعلم، أخباريا، نسابة، علامة … لا تجهل أمانته (إمامته) ووثقه الأكثرون في الحديث) . ولقد روى له أكثر أهل الصحاح. انظر مقدمة السيرة النبوية الشريفة لابن هشام. والسيرة النبوية، أبو شهبة (1/ 30) .
পবিত্র সীরাত লিখন:

পবিত্র সীরাত—তার অধিকারীর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক—লিখন ও পঠন হলো একটি জীবনের অনুসৃতি ও বাস্তবায়নেরই ফসল। আর এ ধরনের উপলব্ধি ও চিন্তাধারার অধিকারীরা ব্যতীত অন্য কেউ এর লিখন ও পাঠদানের দায়িত্ব গ্রহণ করে না। এই সবকিছুর ক্ষেত্রে পবিত্র সীরাতকে কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক অনুধাবন দিয়ে নয়, বরং একটি সুসংহত আত্মিক সত্তা দিয়ে অবলোকন করা অপরিহার্য; যা মানুষের সমস্ত দিক ও শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে, আত্মস্থ করে ও নিয়োজিত করে এবং তাকে এক শ্রেষ্ঠ গ্রহণের উপযুক্ত ও যোগ্য করে তোলে। কেননা ইসলাম মানুষের এই প্রতিটি দিকের প্রতি সম্বোধন করেছে, গুরুত্বারোপ করেছে, আলোচনা করেছে এবং এর ওপর নির্ভর করেছে।

--------------------------------------------

তাঁর আরও রয়েছে: তাযকিরাতুল হুফফাজ (১/১৭২)। তাঁর আরও রয়েছে: আল-ইবার (১/২১৬)। শাযারাতুয যাহাব, ইবনুল ইমাদ (২/২৩৫)। আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত (২/১৮৮)। আল-আ’লাম (৬/২৮)। এবং অনেকে ইবনে ইসহাকের প্রশংসা করেছেন। তাঁকে পবিত্র নববী সীরাত—রাসূলের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—সম্পর্কিত জ্ঞানে এক সমুদ্র হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং তিনি হাদিসশাস্ত্রে আমিরুল মুমিনিন। অনেক আলেম তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, যদিও তাঁদের কেউ কেউ তাঁকে পবিত্র হাদিসের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত প্রমাণ (হুজ্জত) হিসেবে গণ্য করেননি। যাহাবি বলেন (তারিখুল ইসলাম, ১৪১-১৬০ হিজরির মৃত্যু ও ঘটনাবলি, পৃ. ৫৯১): "বিষয়টি যে সিদ্ধান্তের ওপর স্থির হয়েছে তা হলো, ইবনে ইসহাক হাদিসের বর্ণনায় গ্রহণযোগ্য এবং তিনি বিধানের চেয়ে যুদ্ধবিগ্রহের ইতিহাস (মাগাজি) বর্ণনায় অধিক শক্তিশালী।" অর্থাৎ: তিনি একজন ইতিহাসবিদ ও মুহাদ্দিস, ফকিহ নন; তবে হাদিসশাস্ত্রে তাঁর জ্ঞান, হাদিস অনুসন্ধান, এর থেকে উপকৃত হওয়া, এর বর্ণনা অনুসরণ এবং এর ওপর নির্ভরতা সত্ত্বেও তিনি একজন মুহাদ্দিস ও ইতিহাসবিদ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত লিখনে তিনি এ সবকিছুর সুফল লাভ করেছেন। হাফেজ ইবনে কাসির (৭৭৪ হি.) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে (১০/১০৯) বলেন: "তিনি নববী সীরাতের সংকলক, যা তিনি সংগ্রহ করেছেন এবং একে একটি দিশারি জ্ঞান ও সুস্পষ্ট গৌরবে পরিণত করেছেন। ইমাম শাফেয়ি ও অন্যান্য ইমামগণের মতে, এ বিষয়ে সকল মানুষ তাঁর মুখাপেক্ষী।" ইবনে খাল্লিকান (৬৮১ হি.) ওয়াফায়াতুল আইয়ান গ্রন্থে (৪/২৭৬) বলেন: "উল্লিখিত মুহাম্মদ অধিকাংশ আলেমের নিকট হাদিস বর্ণনায় সুদৃঢ় ছিলেন। আর মাগাজি ও সীরাত শাস্ত্রে তাঁর ইমামতি অনস্বীকার্য।" শাযারাতুয যাহাব-এর লেখক ইবনুল ইমাদ হাম্বলি (১০৮৯ হি.) (২/২৩৫) বলেন যে: "তিনি ছিলেন ইলমের সমুদ্রগুলোর মধ্যে এক সমুদ্র, মেধাবী, হাফেজ, জ্ঞানপিপাসু, ঐতিহাসিক, বংশবিদ্যাবিশারদ, আল্লামা... তাঁর ইমামতি অজ্ঞাত নয় এবং অধিকাংশ আলেম তাঁকে হাদিসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।" অধিকন্তু সিহাহ সিত্তার অধিকাংশ সংকলক তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। দেখুন ইবনে হিশামের পবিত্র সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ-এর ভূমিকা এবং আবু শাহবার সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (১/৩০)।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ মানহাজিয়্যাতু দিরাসাতাহা ওয়াসতিরাদু আহদাসিহা (পৃষ্ঠা: ৩৫)
فلا بدّ من توفر التلقي، بكل هذه الوسائل التي تعهّدتها السيرة، ليصفو العطاء زلالا، بالتلازم والاستواء والوفاء.

فالسيرة الشريفة بفصولها، هي قصة الهداية الإنسانية والإنسان المثال، قصة الإنسان في هذه الأرض وقصة حضارته، قصة السعادة في الدارين، وقصة الموكب السّائر نحو الله بمنهجه سبحانه وتعالى، عبر القرون والأجيال إلى أن يرث الله الأرض ومن عليها. وكذلك قصة ما يحفّ ذلك كله من طبيعة وحقيقة ووسائل الصراع بين الحق والباطل، حتى يبقى الأخير أسيرا ومنهزما حسيرا، مثلما هي كذلك تحمل كيفية الإيصال والإبلاغ للحق، والإقامة والإدامة والبناء خلال الأجيال. فيبقى الإنسان سيدا في الدنيا وسيدا في الآخرة، حين يتأهّل بمنهج الله تعالى، استحقاقا للخلافة في أرض الله تعالى، بل وكذلك حتى يلقاه سبحانه وتعالى.

فالإسلام وحده- من خلال السيرة الشريفة والاقتداء بها- رفع الإنسان، وأهّله لكلّ ذلك. وعندها وبه- لا بغيره- يستطيع أن يا بني الحضارة الفاضلة والإنسانية الكريمة. والإسلام يفعل كلّ ذلك وأمثاله وغيره دوما، وقد فعل.

رفع الإسلام قدر الإنسان، وحقّق إنسانيته، بعد أن طهّر نفسه من الأرجاس، وابتناها على الإيمان المستنير بالله وحده لا شريك له، سبحانه وتعالى.

فحرّرها من كل ألوان العبوديات والوثنيات والجاهليات، في العقيدة والعبادة والنوايا والأقوال والأفعال، وفي أمور الحياة كافة، وخلوص ذلك كله لله تعالى وحده جلت قدرته، وأعلى مكانتها بذلك، فتحقّقت إنسانيتها المؤمنة المطمئنّة، الراضية بالله تعالى ربا وبالإسلام دينا وبمحمد صلى الله عليه وسلم نبيا ورسولا.

وبه استحق الخلافة في أرض الله، يرعاها بدين الله القويم، وينيرها بمنهجه، ويسير به مضيئا، ويتحرك مشرقا، ويحمل راياته، داعيا له بلسانه، متحركا به بسلوكه. يرى ويعلم أنّ تلك مهمته، إنقاذ البشرية وهدايتها. وهكذا كان المسلمون، لا سيما الصحابة الكرام ومن بعدهم.
সুতরাং সীরাত বা নবী-জীবনী কর্তৃক গৃহীত এসকল উপায়ের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ থাকা অপরিহার্য, যাতে নিরবচ্ছিন্নতা, সমতা ও বিশ্বস্ততার মাধ্যমে এই জ্ঞানদান স্বচ্ছ ও নির্মল হয়।

কেননা মহান সীরাত তার সকল অধ্যায়সহ হলো মানবীয় হিদায়াত ও আদর্শ মানবের জীবনগাথা, এই পৃথিবীতে মানুষের এবং তার সভ্যতার ইতিহাস, ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্যের কাহিনী এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রবর্তিত জীবনবিধানের মাধ্যমে তাঁরই দিকে ধাবমান কাফেলার কাহিনী, যা শতাব্দী ও প্রজন্ম ধরে বয়ে চলবে যতক্ষণ না আল্লাহ পৃথিবী ও তার উপরস্থ সকলের উত্তরাধিকারী হবেন। তেমনিভাবে এটি সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার লড়াইয়ের প্রকৃতি, বাস্তবতা ও উপায়সমূহের কাহিনী, যাতে শেষ পর্যন্ত মিথ্যা বন্দী, পরাজিত ও লাঞ্ছিত থাকে। ঠিক যেভাবে এটি সত্যের প্রচার ও প্রসারের পদ্ধতি এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তার প্রতিষ্ঠা ও স্থায়িত্বের উপায় বহন করে। ফলে মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে, যখন সে আল্লাহর জমিনে খেলাফতের যোগ্য হওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলার বিধানের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করে, এমনকি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হওয়া পর্যন্ত।

একমাত্র ইসলামই—মহান সীরাত এবং তার অনুসরণের মাধ্যমে—মানুষকে উচ্চ মর্যাদায় আসীন করেছে এবং তাকে এই সবকিছুর যোগ্য করে তুলেছে। আর তখনই এর মাধ্যমে—অন্য কিছু দিয়ে নয়—সে এক মহৎ সভ্যতা ও সম্মানিত মানবতা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। ইসলাম সবসময়ই এসকল কাজ ও এর অনুরূপ বিষয়গুলো করে থাকে, আর তা সে করেছেও।

ইসলাম মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে এবং তার মানবতাকে বাস্তব রূপ দিয়েছে, তার আত্মাকে সকল পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র করার পর এবং কেবলমাত্র এক অদ্বিতীয় আল্লাহর প্রতি সুদীপ্ত ঈমানের ওপর তা গড়ে তোলার পর, যাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি অতি পবিত্র ও মহান।

অতঃপর ইসলাম তাকে আকিদা, ইবাদত, নিয়ত, কথা ও কাজের ক্ষেত্রে এবং জীবনের সকল বিষয়ে সব ধরনের দাসত্ব, মূর্তিপূজা ও জাহিলিয়াত থেকে মুক্ত করেছে এবং এই সবকিছুকে একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য একনিষ্ঠ করেছে যাঁর ক্ষমতা অতি মহান। এর মাধ্যমে ইসলাম মানুষের মর্যাদাকে সুউচ্চ করেছে, ফলে তার মুমিন ও প্রশান্ত মানবতা অর্জিত হয়েছে, যা আল্লাহ তাআলাকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী ও রাসূল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।

আর এর মাধ্যমেই সে আল্লাহর জমিনে খেলাফতের যোগ্য হয়েছে; সে আল্লাহর সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনের মাধ্যমে একে পরিচালনা করে, তাঁর জীবনবিধানের মাধ্যমে একে আলোকিত করে, এর দ্বারা আলোকোজ্জ্বল পথে চলে, দীপ্তিমান হয়ে অগ্রসর হয় এবং এর ঝাণ্ডা বহন করে—মুখ দিয়ে এর দিকে আহ্বান জানায় এবং আচরণের মাধ্যমে এর দ্বারা পরিচালিত হয়। সে উপলব্ধি করে এবং জানে যে, এটাই তার দায়িত্ব—মানবতাকে রক্ষা করা ও হিদায়াত দেওয়া। মুসলিমগণ এমনই ছিলেন, বিশেষ করে সম্মানিত সাহাবায়ে কেরাম এবং তাঁদের পরবর্তীগণ।